আলমডাঙ্গায় পাঠ্যপুস্তক উৎসব অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, এবতেদায়ী ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯২ হাজার ১২১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৮টি বই দেওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন- উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৭ হাজার ৫০০জন শিক্ষার্থীকে ৪ লাখ ৪৮ হাজারটি বই। মাদ্রাসার ৯ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থীকে ১লাখ ৫০ হাজারটি বই। মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার ৯ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে ৬৭ হাজার ৬০০টি বই ও ভোকেশনালে অধ্যায়নরত ৬৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার ৮১৫টি বই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা বলেন- উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ৩৭ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থীকে ১লাখ ৯০ হাজার ৪৫৩টি বই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে দেওয়া হয়েছে। মাদরাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাঠে জমে ওঠে বই উৎসবে। গতকাল আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী, প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, সহকারি প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামান। উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার ইমরুল হকের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক হাসিনুর রহমান, রওশনারা খাতুন, মজনুর রহমান প্রমুখ। অন্যদিক কুমারি ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ভাইস চেয়ারম্যান সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী, একাডেমিক সুপার ভাইজার ইমরুল হক, প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব রাবিবুস সালেহীন। এ সময় প্রধান অতিথি বলেন- আজ বই বিতরন অন্য রকম এক উত্তেজনা। শিক্ষার্থীরা বসে আছে নিজ নিজ আসনে। উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বই তুলে দেন শিক্ষার্থীদের হাতে। অনুষ্ঠানে তিনি তার ছেলেবেলার শিক্ষাজীবনের কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন- আগে বড় ভাইয়ের পুরোনো বই পড়ত ছোট ভাইয়েরা। সময়ের সঙ্গে এখন এই ধারার পরিবর্তন হয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের হাতে আসছে নতুন বই। এই বই পড়ে তারা দেশ ও জাতির ঐতিহ্য-ইতিহাস জানবে। নতুন বইয়ের গন্ধে ফুলের মতো ফুটে উঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ এক অভিনব এবং বিস্ময়কর ব্যাপার বলে মনে করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। সরকারের অনেক ভালো কাজের মধ্যে বই বিতরণ কর্মসূচি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তার আশা অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি এগিয়ে যাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা হাতে নতুন বই পাবে। ঘড়ির কাটার সাথে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে তারা পেয়েও গেল। বই বিতরণ শুরু হলে উৎসবে মেতে ওঠে তারা। সেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অলিতে গলিতে। অভিভাবক ও তাদের সন্তানদের আনন্দেই আনন্দ। সময়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখার মতো একটি দিন ছিলো ১ জানুয়ারির বই উৎসব।

আরো খবর...