আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে চাই

ইবিতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনায় ভিসি ড. রশিদ আসকারী

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোরওয়ার্দী উদ্যানের তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এর যে ঐতিহাসিক ভাষণ, তা ছিল বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। দীর্ঘ নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে। ৭, ১৭, ২৫ ও ২৬ মার্চ উদ্যাপন কমিটি-২০২০ এর  আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমানের  পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী আরো বলেন, আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  কর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এ দেশ কখনই স্বাধীন হতো না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুথান, ৭০ এর নির্বাচন সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের  ঐতিহাসিক ভাষণ এর মাধ্যমে বাংলার সর্বশ্রেণীর মানুষকে স্বতঃস্ফুতভার্বে দেশ স্বাধীনের স্বশস্ত্র সংগ্রামে যার যার অবস্থান থেকে ঝাপিয়ে পড়তে প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভুদ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ সালে মুজিববর্ষে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বের সকল নিপীড়িত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষকে মুক্তির সংগ্রাম করবার অনুপ্রেরণা যোগায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, এই বারের ৭ মার্চের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা এই বছরে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে মুজিববর্ষ পালন করতে চলেছি। তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার সনদ। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশের দিশেহারা মানুষেরা এমন একটি দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন। জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোরওয়ার্দী উদ্যানে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে যখন বললেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তখন লোকে লোকারণ্য পুরো রেসকোর্স ময়দান উদ্বেলিত। তিনি আরো বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ আজ শুধু জাতীয় সম্পদ নয় বরং এটি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তিনি সকলকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল একটি ঐতিহাসিক ভাষণ কারণ বিশে^র প্রতিটি মহান নেতাদের ভাষন ছিল লিখিত ভাষণ কিন্তুু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল অলিখিত। মহান মুক্তিসংগ্রামের সর্বাধিনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। পৃথিবীর প্রতিটি বঞ্চিত মানুষের কথা আছে এই ভাষণে। তিনি সকলকে এই স্বীকৃতিকে ধরে রাখবার এবং ৭ মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবার আহবান জানান। এর আগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর নেতৃত্বে প্রশাসন ভবনের সামনে হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের  শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে এক র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যালের পাদদেশে সমাবেশ স্থলে গিয়ে শেষ হয়।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. মোঃ আকতার হোসেন, প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, প্রফেসর ড. দীপক কুমার পাল, প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারঃ) এ কে আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের  পরিচালক (ভারঃ) এ এইচ এম আলী হাসান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারঃ) ড. নওয়াব আলী খান, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্রাহাম লিংকন, সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী ও ছাত্রলীগ ইবি শাখার নেতা-কর্মীবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরো খবর...