আবরার নেইতো কি, সব বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল কলেজের ছাত্ররা এখন আমার ছেলে

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন

সাজ্জাদ রানা ॥ আমিতো চাইছিলাম বেটা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে মানুষের মত মানুষ হোক, আমি যদি চাইতাম বেটা লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করুক তাহলে তো বেটাকে মেডিকেলে পড়াতাম। আমি শুধু চাইছিলাম বেটা সৎ মানুষ হয়ে আমার বুকে ফিরে আসুক। আজ আমার সন্তানকে যারা মেরেছে তাদের শাস্তি চাই। যারা আমার বেটাকে মেরেছে তাদের বহিস্কার করা হোক। যেখানে আমার বেটা পড়তে পারলো না সেখানে খুনিরাতো পড়তে পারে না।

প্রিয় সন্তান হারিয়ে ব্যাথিত আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সাথে আলাপ হলে তিনি তার মনের কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে নানা বিষয়ে কথা বলে সাংবাদিকদের সাথে। এসময় সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। গ্রামের বাড়ি কয়ার রায়ডাঙ্গায় তার সাথে আলাপ হয় নানা বিষয় নিয়ে। স্কুল শিক্ষিকা রোকেয়া সন্তানদের খুবই ভালবাসতেন। আবরার ফাহাদ ছিল মায়ের প্রচন্ড ভক্ত। বাড়িতে আসলেই নারিকেলের নাড়–, মুড়কি বানিয়ে দিত মা। এবারো যাওয়ার সময় মাংস ও রুটি বানিয়ে দেন রোকেয়া। তবে সেই মাংস ও রুটি বরাতে জোটেনি আবরার ফাহাদের।

তিনি কান্নাজড়িত হয়ে বলেন, একজন মা-বাবা স্কুল কলেজ পর্যন্ত ছেলেদের আগলে রাখে। এরপর যখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় তখন সে একজন ভিসির সংস্পর্শে থাকে। আমি সেই ভিসিকেই অভিভাবক ভেবে রেখে আসছিলাম। আমার বেটা যখন মারা গেছে ভিসি দেখতে আসেনি, যখন জানাযা হয়েছে তখন অংশ নেয়নি। যখন কুষ্টিয়ায় আসলো আমি সন্তান হারা মা আমার সাথে দেখা না করেই ফিরে গেছে এতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।

আমার কষ্ট আমার নিরীহ ছেলের মত ছেলেকে যে নিরাপত্তা দিতে পারলো না সে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েকে কিভাবে নিরাপত্তা দিবি, আমি বুঝতে পারিনা।

আবরারের মা রোকেয়া বলেন, আমার ছেলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছেলেরা আন্দোলন করছে। আমি চাই আমার মত আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের ছেলেরায় এখন আমার ছেলে। আমি বলব এসব ছেলেদের ওপর যেন কোন অত্যাচার না হয়।

আমি চাই দেশবাসী যেন আমার ছেলের জন্য সবাই দু’আ করে। আমার আরেকটা ছেলে আছে, সেই ছেলের জন্য আমি নিরাপত্তা চাই। আমার ছেলেকে বড় ডিগ্রী নেয়ার জন্য বুয়েটে পাঠিয়েছিলাম। আমার ছোট ছেলেকে (আবরার ফায়াজ সাব্বির) দিয়ে যেন আমার মনে আশা পুরণ করতে পারি ও যেন উচ্চ শিক্ষায় আদর্শ মানুষের মত মানুষ করতে পারি আপনারা সেই দুআ করবেন।

আমি চেয়েছিলাম বড় ছেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এক সময় বাইরের দেশে যাবে, আমি তাকে বলেছিলাম আব্বু তুমি বিসিএস দিয়ে ডিসি হবা। সে বলছিল আম্মু তুমি আমার কাছে কম চাও কেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলবেন, দুআ করবেন আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করে।

আবারের মা আরো বলেন, আল্লাহ জানে কে ভাল আর মন্দ, আমি চাই সবাই যেন ছেলের জন্য দুআ করে। আমি দুনিয়ায় কিছু পেলাম, পরকালে যেন আমার ছেলেকে কাছে পাই। আর কি বলব, কিছু বলার নেই।

আমি তিলে তিলে ২২টি বছর ধরে ছেলেকে গড়ে তুলেছিলাম। সে কারোর মুখে দিকে তাকিয়ে কথা বলতো না, কারো সাথে ঝগড়া তর্ক করেনাই। তাকে বুয়েটে দিয়ে আসছিলাম, তার কোন নিরাপত্তা পেলাম না। যারা তাকে মারেছে, তাদেরতো আত্মীয়-স্বজন সব আছে।

আমি আমার পরিবারসহ ছোট ছেলের নিরাপত্তা চাই। আমি আমার ছোট ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই, নিরাপত্তা চাই যেন আমার মনে ইচ্ছা পুরণ করতে পারব।

আরো খবর...