আতঙ্কের মধ্যে সরকার ব্যস্ত মুজিববর্ষ নিয়ে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ দেশে নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের সময় ‘মুজিববর্ষ’ নিয়ে সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনা করেছেন বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ে দেশজুড়ে আতংকজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও সরকার এ নিয়ে রীতিমত চরম উদাসীনতা ও খামখেয়ালীপনা প্রদর্শন করছে। তাদের সমস্ত মনোযোগ ও ব্যস্ততা মুজিববর্ষ পালন নিয়ে।” গত রোববার বিকালে বাংলাদেশে প্রথম নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালির দুটি শহর থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তাদের একজনের সংস্পর্শে আসায় পরিবারের এক সদস্য আক্রান্ত হন। বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ‘করোনাভাইরাস মুক্তি সার্টিফিকেট’ বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। “করোনাভাইরাস নিয়ে কেউ দেশে প্রবেশ করলে শনাক্তের কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেই। বিমানবন্দরে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস মুক্তি সার্টিফিকেট বিক্রি করছে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। এটা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। “যে কারণে বিমানবন্দরে ইতালি থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে যারা দেশে এসেছেন তাদের রোগ শনাক্ত হয়নি। দেশে ফেরার চারদিন পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা নিজেরাই চিকিৎসকের কাছে গেলে সরকার তাদেরকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ইতিমধ্যে তাদের একজনের স্ত্রীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।” রিজভী বলেন, “দেশের সীমান্ত, স্থলবন্দর অরক্ষিত, বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্যানার মেশিন নেই, যাও দুই-একটা ছিল তাও আবার নষ্ট হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন বসানো হলেও তা নষ্ট হয়ে গেছে।” “দেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই, ভেন্টিলেটন মেশিন নেই, চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল মাস্ক ও ইউনিফর্ম নেই। ভাইরাস প্রতিরোধী পোশাকও নেই। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের কোনো কার্যকর প্রস্তুতিই নেই।” মাস্ক ও স্যানিটাইজার যথেষ্ট পরিমানে আমদানি বা উৎপাদনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেগুলো কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের চালু করা হটলাইনে কল করে কাউকে পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “আমরা মানুষকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলছি, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় কী কী তা নিয়ে লিফলেট ছাপিয়ে ব্যাপকভাবে সারা দেশে বিতরণের কর্মসূচি নিয়েছি। “মানুষকে সচেতন করার যে পদ্ধতিগুলো নেওয়া দরকার সেগুলোর আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

আরো খবর...