আজ থেকে খুলছে কুষ্টিয়া শহরের দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

করোনা রোগি বাড়লেও উঠে গেল লকডাউন
হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড এখন রোগিতে ঠাসা

নিজ সংবাদ ॥ করোনা রোগি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকলেও তুলে নেওয়া হল কুষ্টিয়া শহরের লকডাউন। টানা ১৫ দিন পর এ লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ বুধবার থেকে শহরের সমস্ত দোকানপাট-বিপনী বিতান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কুষ্টিয়া শহরের করোনা রোগির সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে গত ২৪ জুন গোটা পৌর এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন ২৫ জুন থেকে কুষ্টিয়া শহর তথা পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওষুধসহ কিছু নিত্যপণ্যের দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে পুলিশ প্রশাসন শহরে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করে দেয়। টানা ১৫ দিন লকডাউন চলার পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভার্চ্যুয়াল জরুরী বৈঠক করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা, এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালের জেষ্ঠ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. মুসা কবির। দীর্ঘ  দেড় ঘন্টার আলোচনা শেষে করোনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন- এই আলোচনার বিষয়টি কানাডায় অবস্থানরত কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সাথে কথা বলে সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরের লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ বুধবার থেকে শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া যেসব বাড়িতে করোনা রোগি রয়েছে  শুধুমাত্র সেসব বাড়ি আগের মতই লকডাউন থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে ১৫ দিন ধরে চলা এ লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ লকডাউন চলাকালে করোনা রোগি কমার চেয়ে বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত ২৫ জুন থেকে গতকাল ৭ জুলা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ হার লকডাউন শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড এখন রোগিতে ঠাসা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডে আর মাত্র ৩টি শয্যা খালি আছে। যে হারে রোগির সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামীতে তাদের চিকিৎসা দেওয়ায় মুসকিল হয়ে পড়বে। এ দিকে লকডাউন চলাকালে শহরের মারা গেছে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগি। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন প্রত্যাহার করায় শহরে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে মনে করছে সচেতন মহল।

আরো খবর...