অসুস্থ শিশুদের সমন্বিত চিকিসা ব্যবস্থায় (আইএমসিআই) পাল্স অক্সিমিটার সংযোজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আইসিডিডিআর, বি’র গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দিকনির্দেশনায় এবং ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গ এর রেসপায়ার গ্র“পের কারিগরী সহায়তায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)/ কলেরা হাসপাতাল, কুষ্টিয়া জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দুই বছর মেয়াদী একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাল্স অক্সিমিটার সংযোজনের মাধ্যমে  ছোট শিশুদের (২-৫৯ মাস) সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার (আইএমসিআই) মান উন্নয়নের কার্যকারিতা যাচাই করা এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্প কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ নভেম্বর কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একটি উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাঃ নুরুন নাহার বেগম, উপ-পরিচালক, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল; মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, কুষ্টিয়া; ডাঃ জহুরুল ইসলাম, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এমএনএইচ এন্ড আইএমসিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডাঃ সুপ্রিয় সরকার, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডাঃ জিয়াউল আহসান, সদস্য, এনটিডব্লিউসি-এনএইচ এবং আইএমসিআই টেকনিক্যাল কমিটি; জ্যানেট পারকিন্স, পিএইচডি গবেষক, এবং ডাঃ আহমেদ এহসানুর রহমান, সহযোগী বিজ্ঞানী, আইসিডিডিআর,বি এবং সদস্য, এনটিডব্লিউসি-এনএইচ ও আইএমসিআই টেকনিক্যাল কমিটি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সকল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ, মেডিকেল অফিসার- মা ও শিশু স্বাস্থ্য (প:প:), আইসিডিডিআর,বি’র কর্মকর্র্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অত:পর, ডাঃ জিয়াউল আহসান কুষ্টিয়ায় বাস্তবায়িত ‘সিএনসিপি মডেল’ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন। উক্ত মডেল থেকে উদ্ভাবিত ‘সংক্রমণ ব্যবস্থাপনার মূলনীতি’ জাতীয় পর্যায়ের আইএমসিআই গাইডলাইনে অন্তর্ভূক্তকরণের পর্যায়, কর্মকান্ড এবং অর্জন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন ডাঃ জহুরুল ইসলাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৪ সালে দুই মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়া ব্যবস্থাপনা গাইডলাইনে পাল্স অক্সিমিটারের অন্তর্ভূক্তকরণের পরামর্শ প্রদান করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের যথাপযুক্ততা, গ্রহণযোগ্যতা এবং কার্যকরী প্রতিবন্ধকতাসমূহ যাচাই করা, এবং একটি ‘বাস্তবায়নযোগ্য মডেল’ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়াকে মডেল হিসেবে বিবেচনা করার কারণ এবং কর্মপরিকল্পনা আলোচনা করেন ডাঃ আহমেদ এহসানুর রহমান। পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ নিরূপণের ক্ষেত্রে তিনটি দৃষ্টিকোণ (স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, স্বাস্থ্যসেবাগ্রহণকারী এবং পরিচর্যাকারীর) থেকে নিরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি উপস্থাপন করেন যাতে করে এটিকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা যায়। তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে উপস্থিত সকলে তাদের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। উক্ত লক্ষ্য অর্জনকল্পে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে তাঁরা আইসিডিডিআর, বি-কে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ^াস প্রদান করেন। সভাপতি উদ্বোধনী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং গবেষণা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

আরো খবর...