অযাচিত চলাচল রুখতে কুষ্টিয়ায় কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই

জনগনকে ঘরে থাকার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসন
করোনামুক্ত রাখতে জোড়ালো হচ্ছে লকডাউনের দাবী

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা জনগনকে ঘরে থাকার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। করোনার ভয়াবহতার দিকে লক্ষ্য রেখে সকল জনগনকে কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিলেও তা অনেকে কর্ণপাত করছে না। করোনার ভয়াবহতা রক্ষার প্রধান হাতিয়ার মানুষকে ঘরে অবস্থান করা কিন্তু কুষ্টিয়ার চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় শহর ও শহরতলীর পাশাপাশি গ্রামে মানুষ কারনে অকারনে ঘর থেকে বাইরে এসে নির্দিষ্ট পরিমাপকে উপেক্ষা করে জনগন মেলামেশা করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাটবাজারের সময়সীমার মধ্যে বন্ধ করা হলেও হাটবাজারে দুরত্ব রক্ষায় কোন রকমের ফল আসছে না। ফলে সাধারন জনগন সকলের মঙ্গলের জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। অনেকে প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোর হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে। কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন- কুষ্টিয়ার প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে সাধারন জনগনকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়ে যাচ্ছেন এতে কিছু ফল আসলেও অধিকাংশ মানুষের মাঝে নিজ উদ্যোগে ঘরমুখি হওয়ার প্রবনতা নেই। প্রশাসনের ভয়ে ঘরে না ঢুকে নিজেদের থেকে ঘরে থাকা প্রয়োজন এই বিষয়টি মানুষের মাঝে উপলব্ধি না হলে কোন কাজ হবে না। আর এই জন্য প্রয়োজনে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে লাঠিপেটা করতে হবে। তিনি জনগনকে স্বেচ্ছায় ঘরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সেভ থাকি আর দেশকে সেভ রাখি।

গণউন্নয়ন গ্রন্থগার কুষ্টিয়ার সমন্বয়কারী ও সিডিএল নারী ফোরামের সমন্বয়ক আক্তারী সুলতানা বলেন, সারাদেশে করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। ক্রমেক্রমে ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে এর থেকে পরিত্রান পেতে আমাদের ঘরে থাকার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। মানুষ বুঝতে না চাইলে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, শহরের মধ্যে এখন অবৈধ যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । এসব যানবাহন বালু বহন শব্দ দুষন ও পরিবেশ দুষন করছে কিন্তু প্রশাসন এদের ব্যাপারে নির্বিকার। তিনি বলেন, মানুষকে ঘরে ঢুকানোর জন্য যা প্রয়োজন প্রশাসনকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী দ্বীপ জুয়েলার্সের স্বত্তাধিকারী এস.এম আতিকুর রশিদ আতিক জানান- সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও মানুষজন সরকারের কথা শুনছে না। যারা আইন মেনে ঘরে যাচ্ছে না প্রয়োজনে তাদের জন্য প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। তিনি বলেন, যারা কথা না মেনে ঘরের বাইরে আসবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজধানী এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী পরিবহন ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান- করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের সরকারের কথা শুনতে হবে। করোনাকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিনই এর ভয়াবহতা বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহতা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আর এর জন্য প্রয়োজনে পুরো জেলা লক ডাউন করা উচিত। যারা কথা মানবে না তাদের জন্য আর কোন দয়া নয় এখন শাষন করার সময় এসে গেছে।

গতকালও দেখা গেছে প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে প্রাইভেট গাড়ি ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি। অবৈধ যানবাহন চলাচল এখন বন্ধ হয়নি। প্রতি নিয়ত চলছে কিন্তু এদের প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রশাসনের এতো নজরদারীর পরেও  মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট গাড়ি কোন কারন ছাড়াই চলাচল করছে। গত রবিবার থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের তৎপরতা প্রশসংনীয় ছিল। পুলিশের তৎপরতায় দেখা গেছে এসব গাড়ি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা হয় কিন্তু পুলিশের নাগালের বাইরে গেলে আবার একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। রবিার ও সোমবার দুপুরের পর থেকে মানুষজনের চলাচল কমে আসে আর সন্ধার পর থেকে একেবারেই শুন্যে নেমে আসে জনগনের চলাচল। তারপরেও অলিতে গলিতে মানুষজন ঘর থকে বের হয়ে বাইরে আসছে ধুমপান করতে। অনেক দোকান বন্ধ রেখেও ধুমপান সামগ্রীর বেচাকেনা রমরমা চলছে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। বিড়ি সিগারেটের দোকানের দিকে বিশেষ নজর রাখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন অনেকে।

 

আরো খবর...