অভিযান জটিল সমীকরণের বহিঃপ্রকাশ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চলমান অভিযান বড় কোনো অপকর্মের পূর্বাভাস। এই অভিযান প্রতিহিংসা, ঈর্ষা, চাঁদাবাজী ও স্বজনপোষণের রাজনীতির জটিল সমীকরণের বহিঃপ্রকাশ। গতকাল বুধবার  দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, দুর্নীতির নামে কথিত অভিযান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যমূলক। ফলে গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের ঝুড়ি থেকে মহাদুর্নীতির বাতাসা নয় বরং যখন বড় বড় চমচম বের হতে শুরু করেছে তখন সেটির দায় চাপানোর জন্য তারা লন্ডনের রাস্তা খুঁজে বেড়াচ্ছে। রিজভী বলেন, দুর্নীতিধর্মী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগ। তাই চলমান সন্দেহজনক অভিযানে ধৃত আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের চুনোপুটিদের সাথে বিএনপি’র নাম জড়াতে সরকার জনগণের কোন সাড়া পাচ্ছে না। তিনি বলেন, খোদ রাজধানীতে গত ১৩ বছর যাবত ডজন ডজন ক্যাসিনো গড়েছে যুবলীগ ও তাদের গডফাদাররা, এই সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে দুর্বৃত্তরা টাকার কুমির হয়েছে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের চাঁদাবাজী ও দুর্নীতির বৃত্তান্ত শুনে দেশবাসী বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। দুর্নীতির ইতিহাসে এ এক স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, সেলিম প্রধান, খালেদ ভূঁইয়া, শামীম, ফিরোজরা সরকারে থাকা তাদের গডফাদারদের ইচ্ছাতেই টাকা পাচার করেছে। গডফাদার পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকেই তারা দীক্ষা পেয়েছে। দুর্নীতি, অনাচার, আর অনিয়মে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই একটা ছোট মাছ ধরে এই সরকারের রোগ সারানো সম্ভব নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যালকুলেটেড এই অভিযানেও টাকার স্তুপের যে ছবি দেখা গেছে তা এই মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারের আসল প্রতিচ্ছবি। সুতরাং নিরপেক্ষ ও সুুবিস্তৃত অভিযানে কত মনিমানিক্য ও স্বর্ণখনি পাওয়া যেতো তা সহজেই অনুমান করা যায়। রিজভী বলেন, আমরা এতোদিন বলে আসছিলাম দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী এই তথাকথিত অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বিএনপি এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান। সেই থলের বিড়ালটা এবার বের করলো। সেটাই আওয়ামী মন্ত্রী-নেতারা ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করলো। আওয়ামী লীগ অসততা ও নীতি পঙ্গুত্বতায় ভুগছে বলেই নিজেদের কালিমা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চাচ্ছে। এখন আওয়ামী লীগের কতিপয় দলদাস পত্রিকা ও মিডিয়া জনাব তারেক রহমানকে ক্যাসিনোর সাথে যুক্ত করতে কাছা মেরে সপ্তসুরে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। রিজভী আরো বলেন,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্রিফিংয়ে বলেছেন, সেলিম প্রধান এককালে মামুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেটিতো এক যুগ আগের কথা। মামুনের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর গত এক দশক ধরে সেলিম প্রধান কার সাথে সংসার করে অনলাইন ক্যাসিনোর ডন হয়েছে তাতো র‌্যাব বললো না। বর্তমানে সেলিম প্রধানের কোন কোন নেতা ঘনিষ্ঠ তা কোন গণমাধ্যমে দেখলাম না। কোন কোন নেতা তার গডফাদার তা তো বললেন না ? সেলিমের আগের সংসারে কি হয়েছে তাই নিয়েই চলছে টানাটানি-যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই।

কেবল সেলিম প্রধানই নয়, যাদের এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে সবাই নাকি এক দশক আগে ছিলেন বিএনপির লোক। সেই সময় তারা কি করেছে সেই কিচ্ছাই চলছে দলদাস মিডিয়াগুলোতে। গত বারো বছর তারা যে আওয়ামী লীগের গডফাদারের মাধ্যমে হরিলুট করেছে তার কাহিনী কই? আর এখন জনগণের টাকায় পরিচালিত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও নামানো হয়েছে বিএনপি ও জনাব তারেক রহমানের চরিত্র হননের অপপ্রচারণায়।

আরো খবর...