অপারেশন করাকালীন এক ভুয়া চিকিসককে আটক করে কারাদন্ড

খোকসায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
হাসপাতালের মালিককে অর্থদন্ড ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালের মালিককে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এই রায় দেন। এ ছাড়া ‘আইডিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার’ নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০দিনের কারাদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন ভূয়া চিকিৎসক নোমাজ্জেল হক। আইডিয়াল হাসপাতালের মালিক কাউসার উল আলমকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে প্রশিক্ষণবিহীন এক সেবিকা রেশমাকে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ডও করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবিএম আরিফুল ইসলাম। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আইডিয়াল হাসপাতালটি অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার খোকসা উপজেলায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। মূলত উপজেলায় প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, জন সমাবেশ বন্ধকরণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছিল।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্তান সম্ভাবা শ্রাবন্তী (২৫) প্রসব বেদনা দেখা দিলে বুধবার সকালে পরিবারের লোকরা তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্থানীয় এক দালালের খপ্পরের পরে বৃহস্পতিবার ভোরে সন্তান সম্ভাবা শ্রাবন্তীকে স্থানীয় আইডিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। জেলা সদর থেকে ডাক্তার আসছে বলে ক্লিনিক মালিক সন্তান সম্ভাবার পরিবার কে জানায়। অবশেষে রাত নটার দিকে প্রসূতির অবস্থা খারাপ হলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় নোমান (৩০) ও নার্স রেশমা (২২) প্রসূতির সিজার অপারেশন শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালত গোপন খবর পান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের বাড়ি ভাড়া করা হাসপাতালে সনদবিহীন ভুয়া চিকিৎসক এক রোগীর অস্ত্রোপচার (সিজার) করছেন।  গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবিএম আরিফুল ইসলাম ও  খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা ওই হাসপাতালে অভিযানে যান। সেখানে অস্ত্রোপচার কক্ষে নোমাজ্জেল হককে অস্ত্রোপচার করা অবস্থায় আটক করা হয়। এসময় হাসপাতালের মালিক ও এক সেবিকাও উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চিকিৎসা সনদ ছাড়াই অস্ত্রপচার করায়  নোমাজ্জেল হককে ২০দিনের কারাদন্ড দেন। হাসপাতালের মালিককে ১ লাখ টাকা ও এক সেবিকাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া আদালত হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেবার জন্য ভবনের মালিককের কাছে জিম্মায় দেন। চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা বলেন, চিকিৎসা সনদ দেখতে চাইলে নোমাজ্জেল কোনো সনদ দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি কোন চিকিৎসকই নন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকদের করা অস্ত্রোপচার দেখে দেখে তিনি নিজেই অস্ত্রোপচার করা শুরু করে দেন।

আরো খবর...