অনুপ নন্দী-আবু সাঈদ প্যানেলের নির্বাচনী সভা জনসভায় পরিণত

৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করলো কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাত পোহালেই জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচণ। শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় মাঠে সরব প্রার্থীরা। জয়ী হতে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছে সবাই। নানান প্রতিশ্র“তিও দিচ্ছে প্রার্থীরা। এদিকে গতকাল রবিবার বিকেলে নির্বাচনী সভা করে অ্যাডভোকেট অনুপ নন্দী- আবু সাঈদ প্যানেলের প্রার্থীরা। আইনজীবীদের সভা অনেকটা ছোট-খাট নির্বাচন জনসভায় রূপ নেয়। এদিকে বিগত সময়ের ৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করেছে বর্তমান কমিটির নেতারা। এ নিয়ে আইনজীবীরা বর্তমান কমিটির নেতাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।  আইনজীবীরা বিষয়টিকে মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

আইনজীবীরা জানান, বিগত সময়ের জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সেই জিম্মি দশা থেকে আইনজীবী সমিতিকে মুক্ত করতে বর্তমান নেতৃত্ব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকটা জবাবদিহিতা তৈরি হয়েছে সমিতিতে। আইনজীবীদের কল্যানে বেশ কিছু ভাল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে সমিতির নেতারা কাজ করছে। আইনজীবীরা তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে। আগে এ অবস্থা ছিল না।

জানা গেছে, নির্বাচনে জয়ী হতে সব প্রার্থী মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছে। কৌশল নির্ধাধরনের কাজ করছে প্রার্থীরা। তবে সাধারন আইনজীবীদের মাঝে সমিতির বর্তমান নেতাদের অবস্থান সুদৃঢ় বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা। তবে আগের সেই চক্র ফের ষড়যন্ত্র করছে যাতে বর্তমান কমিটির নেতারা ক্ষমতায় আসতে না পারে।

এদিকে নির্বাচনের একদিন আগে গতকাল আদালত প্রাঙ্গন সরগরম ছিল নির্বাচনী সভায়। অনুপ নন্দী-আবু সাঈদ তাদের প্রার্থীদের নিয়ে টেন্টে বিশাল নির্বাচনী সভা করে। সেখানে সর্বস্তরের আইনজীবীরা যোগ দেন। তাদের মতামত ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। অনেকেই নানা সুপারিশ করেন।

বক্তব্য দেন সভাপতি প্রার্থী অনুপ ন্দী, সাধারন সম্পাদক প্রাথী আবু সাঈদ ছাড়াও তাদের সমর্থিত অন্য আইনজীবীরা। সভা শেষ হলে বিভিন্ন চেম্বারে গিয়ে ভোট চান প্রার্থীরা। এ সময় সাধারন সম্পাদক প্রার্থী খাদিমুল ইসলামকে দেখা গেছে তার কয়েকজন সমর্থক দিয়ে টেন্টে গোশ গল্পে। পাশাপাশি আরেক সভাপতি প্রার্থী আব্দুল জলিল-সাধারন সম্পাদক প্রার্থী আকরাম হোসেন দুলালও নির্বাচনী প্রচারনা চালান। তারাও সভা-সমাবেশ করে ভোট চান।

তরুণ জনপ্রিয় আইনজীবী হাসানুল আসকর হাসু বলেন, আইনজীবীদের অধিকার রক্ষাসহ যারা সবার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে পারবে এমন প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। অতীতে অনেক কিছু হয়েছে সমিতিতে। সেই অবস্থার নিরসন হয়েছে। বিগত একটি বছর সমিতি অনেক ভাল চলেছে বলে আমার মনে হয়। তাই আমি করব প্রার্থী বাছাই করতে কেউ ভুল করবে না। সাধারন আইনজীবীরা তাদের স্বার্থেই অনুপ নন্দী- আবু সাঈদ প্যানেলকে বিজয়ী করবে।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে ৮০ লক্ষ টাকা দেনা ছিল আইনজীবী সমিতি। সেই টাকা সকলকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।’

সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন,‘ আমার সময়ে সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি সমিতির অভ্যন্তরে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। সেটা সাধারন আইনজীবীরা জানে। পাশাপাশি নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি দুর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। এখানে নিজের কোন স্বার্থ দেখিনি। আইনজীবীদের স্বার্থ দেখেছি। বিগত সময়ের ৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করেছি। তাই নির্বাচনে সাধারন আইনজীবীরা যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে ভুল করবে না। আর আগের সেই চক্রান্ত থেমে নেই। তবে চক্রান্তকারিদের সকল চক্রান্ত মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবে আইনজীবী সমিতির কর্মকান্ড।

আরো খবর...