অনিশ্চয়তায় দেশে ফেরা প্রবাসীরা

করোনা পরিস্থিতি সবকিছুকেই বিপর্যস্ত করেছে। এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতেই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে জানা যাচ্ছে যে, অনেকেই যারা একটু ভালো করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা দেশে এসে করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে আটকা পড়েন। আবার যে দেশ থেকে এসেছেন সেই দেশে ফেরার সম্ভাবনাও দিন দিন কমছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রবাসী কর্মীদের আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিদেশে থাকা এমন কর্মীর সংখ্যা ১ কোটির বেশি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাবে কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে গত ৪ মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন অথবা তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। যদিও এপ্রিলের আগে যারা ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন, তাদের সংখ্যা ধরলে এই সংখ্যা  পৌনে ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এমনটিও উঠে আসছে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে। ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ২৩টি দেশ থেকে ৭৮ হাজার ৪৩ জন কর্মী বাংলাদেশে ফিরেছেন। যাদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৩১১ জন পুরুষ এবং ৪ হাজার ৭৩২ জন নারী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি কর্মী ফিরেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। সেখানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকার কথা বলে ২৫ হাজার ৬৫৩ জন বাংলাদেশিকে ‘ছুটিতে’ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে দেশে এসেছেন ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, যাদের মধ্যে নারীকর্মী রয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। ওমান থেকে ৩ হাজার ৮৮৪ জন, বাহরাইন থেকে ৭৪৬ জন কর্মী আউটপাস নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এভাবে মহামারির মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রবাসীকর্মীদের অনেকেই। অনেককে দেশে ফেরতও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনও ঘটেছে যে, কাজের চুক্তি শেষ হওয়ার পর মেয়াদ না বাড়িয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আমরা মনে করি, সার্বিক এই পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট হচ্ছে, দেশে ফেরা প্রবাসীদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। বলা দরকার, এর আগেও খবরে এমনটি প্রকাশিত হয়েছিল যে, কোভিড ১৯-এর কারণে উপার্জন ব্যবস্থা, সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্কের অভাবে হাজারও অভিবাসীকর্মী প্রবাস থেকে বাংলাদেশে তাদের জেলায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। আমরা বলতে চাই, যখন ফেরত আসা অভিবাসীরা জীবিকা, আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়সহ পুনরেকত্রীকরণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এমনটিও আলোচনায় এসেছিল- তখন বিষয়টি এড়ানোর সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এটা বিবেচনায় রাখতে হবে যে, অপরিকল্পিত ও বৃহৎসংখ্যক জীবিকাহীন অভিবাসীকর্মী ফেরত আসায় সারাদেশে রেমিট্যান্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, কোভিড ১৯-এর কারণে উপার্জন ব্যবস্থা, সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্কের অভাবে হাজারও অভিবাসীকর্মী প্রবাসে যে দেশে কাজ করছিলেন সেখান  থেকে বাংলাদেশে তাদের জেলায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, একদিকে দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, বিভিন্ন খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে দেশে ফেরা প্রবাসীরা নানামুখী সংকটে পড়ছেন, এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সর্বাত্মক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি বলতে চাই, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এমনিতেই সারা বিশ্বে অস্থিরতা ও বিপর্যস্ত পরিস্থিতি বিরাজমান। দেশেও নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রহণযোগ্য ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। এটাও বলা দরকার, দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকেই নিম্ন আয়ের বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। ক্রমে ক্রমে বেকার হচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তদেরও অনেকে। ফলে এই বিষয়গুলোকে যেমন আমলে নিতে হবে, তেমনি সংশ্লিষ্টদের এটা পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে দেশে  ফেরা প্রবাসীদের। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক, এমনটি কাম্য।

আরো খবর...