গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক

গ্যাসের দাম আবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ দফায় সব ধরনের গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে তিতাসসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে দাম বাড়ানোর গণশুনানি আগামী মাসে করার পরিকল্পনা করছে বিইআরসি। অল্প সময়ের মধ্যে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ার খবরে গ্রাহকরা শঙ্কিত হবেন এটাই স্বভাবিক। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হবে সরকারকে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আগে বিষয়গুলো সরকারকে ভাবতে হবে। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে সরকার। জাতীয় নির্বাচনের কারণে সরকার তখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করেছে সরকার। প্রতি ইউনিট ৩২ টাকা দরে আমদানি করে ওই গ্যাস সাত টাকা ১৭ পয়সা দরে বিক্রি করার কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে সরকার। গত বছর শুধু অক্টোবরে সরকার এলএনজিতে ভর্তুকি দিয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসসহ অন্য সব বিতরণ কোম্পানিও তাদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করে এতদিন ভর্ভুকি দিয়ে সরকার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এ ভর্তুকি কমাতে সব ধরনের গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়লে বাসাবাড়িতে দুই বার্নার চুলার দাম ৮৫০ থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা করা হবে। আর এক বার্নারের দাম ৮০০ থেকে বেড়ে ১০০০ টাকা করা হবে। দেশে গ্যাস সম্পদ সীমিত। কিন্তু গ্যাসের চাহিদা বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে চলছে গ্যাসের অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। পরিবহন খাতে অবাধে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শিল্পকারখানায় গ্যাস চুরি এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঠেকানোর কোনো চেষ্টা নেই। অন্যদিকে গৃহস্থালিতে সরবরাহকৃত গ্যাসেরও অপচয় হচ্ছে। কিন্তু এসব ঠেকাতে গ্যাসের মিটারিং ব্যবস্থার প্রচলন কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস সুলভ করার কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। গ্যাসের অপচয় বন্ধ করা, সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিতের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে স্রেফ দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক চিন্তা নয়। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না ঘটিয়ে শুধু দাম বাড়িয়ে লাভ-লোকসানের হিসাব মেলানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা উচিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর। গ্যাস উৎপাদন-বিতরণ-সঞ্চালন কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ-সুবিধার নিরিখে গ্যাসের দাম দুইগুণ-আড়াইগুণ করার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। কমিশনকে এসব প্রস্তাবের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যদিকে অপর পক্ষ অর্থাৎ ভোক্তাদের কথাও আমলে নিতে হবে। বিবেচনায় নিতে হবে ভোক্তাদের সামর্থ্য এবং সর্বোপরি দেশের সার্বিক স্বার্থ।

প্রসঙ্গ – এনবিআরের অনুসন্ধান

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দুর্নীতিবাজ চক্র চিহ্নিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অনুসন্ধান শুরু করেছে। এটি একটি সুখবর নিঃসন্দেহে। স্মর্তব্য, দু’বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি তদন্ত দল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পরিদর্শনে গেলে তারা সেখানে নানা ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের খোঁজ পেয়েছিলেন। সে সময় দুদক কমিশনার বলেছিলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে। গত দু’বছরে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বল মনে হয় না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বেপরোয়া দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্প খাত, বিশেষত উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা। এ দুর্নীতি-অনিয়ম রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করি আমরা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতি হচ্ছে নানা প্রক্রিয়ায়। এর একটি হল ডাটাবেজ পরীক্ষার নামে ইচ্ছামতো আমদানি পণ্যের উচ্চ শুল্ক আদায়। এ ক্ষেত্রে মানা হয় না কোনো নিয়ম-কানুন। যাচাই করা হয় না আমদানি পণ্যের বাজারমূল্য। অথচ অনলাইনে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম দেখে নেয়া যায়। বস্তুত বিদ্যমান শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এর ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা। হয়রানির অপর একটি ধরন হল পণ্য খালাসে বিলম্বসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে পণ্যভর্তি কনটেইনারের ওপর ডেমারেজ চার্জ আরোপ বা বৃদ্ধি। দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের স্বার্থে এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হতে হবে সহজ ও যৌক্তিক শুল্কায়নের মধ্যদিয়ে এবং তা দ্রুততম সময়ে। এজন্য বিদ্যমান শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালার সংশোধন ও সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। তবে সবার আগে প্রয়োজন দুর্নীতির মূলোৎপাটন। কেননা বিধিমালা সংশোধন করা হলেও দুর্নীতির সুবিধাভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও নানা কৌশলে আমদানিকারদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বস্তুত এই শুল্ক স্টেশনে পোস্টিং পেয়েই অনেকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় মেতে ওঠে। ফলে সেখানে দুর্নীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। সম্প্রতি কাস্টম হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন দুদকের অভিযান টিমের হাতে। এ সংস্থার দুর্নীতি রোধে দুদকের এমন অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করি আমরা। দুর্নীতিবাজদের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি মেনে নেয়া যায় না। আমরা আশা করব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুসন্ধানী দল তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সব ধরনের দুর্নীতি চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যবান্ধব’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও দিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের উচিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে এ সংস্থার দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হোক অবিলম্বে।

প্রসঙ্গ – কর্মস্থলে ডাক্তার অনুপস্থিত

দেশের আট জেলার সরকারি ১১ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। গত সোমবার চালানো অভিযানের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ চিকিৎসককে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে সাতটি হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসকের হার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে থাকেন না কিংবা যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন না- এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রীও ইতোপূর্বে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে থেকে মানুষকে সেবা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও যে সুফল মেলেনি, একদিনের দুদকের অভিযানে সেই চিত্র সাক্ষ্য বহন করছে। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক জানায়, ঢাকাসহ আট জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার সময় চিকিৎসকদের কাজের সময়ের রোস্টার পর্যালোচনা করে দেখা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৩০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৯২ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের ৪০ শতাংশ। ঢাকার বাইরের সাত জেলার যে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালানো হয়, সেখানকার অবস্থা আরো খারাপ। দেখা গেছে, ১৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮১ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন। তাদের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক। তাই মানুষের সেবাদানের শপথ নিয়ে কর্মস্থলে এভাবে অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। আর চিকিৎসাসেবা পেশাটা আর অন্য আট দশটা পেশার মতো নয়। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয় হাসপাতালে চিকিৎসক না পাওয়া। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো নানা রকম সংকট অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। তাই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষগুলো প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে। আবার সেখানে যদি চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকেন এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। দেশের তৃণমূলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে সরকারের উদ্যোগগুলোর কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছেন না দরিদ্র মানুষ। এজন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ দায়িত্বপালন নিশ্চিত করা, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি দরকার। আমরা আশা করব তৃণমূলসহ দেশের সব হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই তৎপর হবেন।

ভর্তি নীতিমালা উপেক্ষিত কেন?

দেশের নামি-দামি স্কুলগুলোতে নতুন বছরে ভর্তির সময়টাতে বাড়তি ফি আদায়ের নৈরাজ্য দেখা যায়। কোনো কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নানা ধরনের ফি আদায়েরও উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগরীর স্কুলগুলোতে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দিয়ে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০১৮’ প্রণয়ন করেছে। এর আগে বেসরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়েছিল। দুটি নীতিমালার ভেতর সঙ্গত সামঞ্জস্য ও সমন্বয় লক্ষণীয়। সরকারি স্কুলে ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালায় ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সব মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা সদরেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তি করা হবে। এটাই যথাযথ। এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন  শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। নীতিমালা অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। তবে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতনভাতার জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয়া যাবে। সরকারের এই নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজধানীর নামি-দামি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ফি আদায় করছে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য উন্নয়ন ফি বাবদই নেয়া হচ্ছে বাড়তি ২৫ হাজার টাকার মতো। অন্যান্য শ্রেণিতে আদায় করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর আগেও আমরা দেখেছি প্রতি বছর ভর্তি ফি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা জারি করেন। কিন্তু এই নির্দেশনা কেউ মানে না। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ বাড়তি ফি আদায় নিয়ে নানা অজুহাত দাঁড় করায়। তাদের অজুহাতের কাছে অভিভাবকরা এক প্রকার অসহায়। উদ্বেগের ব্যাপার হলো- দেশে আইনকানুন আছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আইনকানুন, বিধিবিধান মেনে চলছে কিনা তা দেখার জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আমরা দেখছি সেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কাজ করে না। অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা কোথায়? এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার শক্তির উৎসই বা কোথায়? আমরা চাই, স্কুল কর্তৃপক্ষ যাতে ইচ্ছেমতো বাড়তি বেতন-ফি আদায় না করতে পারে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে সরকার কঠোর হোক। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সেবা রফতানি বাড়ছে

পণ্যের তুলনায় সেবা রফতানি বাড়ছে বেশি হারে। রফতানিখাতে প্রায়ই যুক্ত হচ্ছে নতুন সেবা। বাংলাদেশ রফতানি বাণিজ্য খাতে নতুন দিগন্তেরই উন্মোচন করেছে। এক দশক আগেও যা ছিল অভাবনীয়, অকল্পনীয়, শেখ হাসিনা সরকারের দক্ষতা ও দূরদর্শিতার কল্যাণে এ খাত নতুনত্বের সন্ধান দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-১৯) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তথা প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন ধরনের সেবা রফতানি বেড়েছে রেকর্ড ৫৬ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে রফতানি বেশি হয়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থ বছরের (২০১৭-১৮) একই সময়ের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। গত অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে আয় হয়েছিল ৯০ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন ধরনের সেবাখাতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৫ কোটি ডলার। যার বিপরীতে আয় হয়েছিল ১৪০ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। সেবা রফতানির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা, পর্যটন, ব্যাংক-বীমা, টেলিযোগাযোগ সেবা। এ তালিকায় নির্মাণ, কম্পিউটার ও তথ্য সেবা, মেধাস্বত্ব ইত্যাদিও রয়েছে। বছরের কম বেশি চার শ’ কোটি ডলারের  বেশি আয় আসছে এখন সেবা রফতানি থেকে। মোট রফতানি আয়ে সেবার অংশ দশ শতাংশের মতো। পণ্যের মতো সেবা রফতানিও অনেক সম্ভাবনাময়। তবে সেবা রফতানিতে মানের উন্নয়ন খুব বেশি জরুরী। এটা আসলে জ্ঞাননির্ভর বিষয়। সেবা রফতানিতে বাংলাদেশ এখনও খুব সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পেরেছে তা বলা যাচ্ছে না। দেশের চিকিৎসা সেবা উন্নত হলে এ দেশে সেবা নিতে আসত বিদেশীরা। এতে সেবা রফতানি বাড়ত। এখন হচ্ছে তার উল্টো। দেশের লোক বিদেশে যায় চিকিৎসা নিতে। শিক্ষাসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে সেবা রফতানিতে খুব বেশি কিছু করার  নেই। ব্যবসায়িক স্বার্থে বেসরকারী খাতকেই এ বিষয়ে এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। যদি হয় তাহলে সেবা রফতানি অনেকদূর এগিয়ে যাবে। চলতি অর্থবছরে পরিবহনখাতে প্রথম এই তিন মাস রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যার বিপরীতে আয় হয়েছে ১৯  কোটি এক লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয় এক দশমিক তিন শতাংশ। নির্মাণ সেবা খাতে একই সময় রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তিন কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আয় হয় নয় কোটি ২৬ লাখ ডলার। আয় বেশি হয় ১৩৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ভ্রমণ সেবা খাত থেকে অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৬২ লাখ ডলার। যার বিপরীতে আয় হয় আট কোটি ১৬ লাখ ডলার। আয় কম হয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি সেবা রফতানি হয়েছে টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি সেবাখাতে। এ খাতে প্রথম তিন মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আয় হয় ১৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার। আয় বেশি হয় ১৩ দশমিক দুই শতাংশ। আকাশ পরিবহন থেকে আয় হয়েছে সাড়ে চার  কোটি ডলার। আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। সমুদ্র পরিবহন সেবা রফতানি বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। আয় এসেছে ৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি। পর্যটন  সেবা রফতানি থেকে আয় এসেছে পাঁচ কোটি ডলারের মতো। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। তবে অর্থ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সেবা কমেছে। আগের একই সময়ের তুলনায় এই তিন মাসে রফতানি কম হয়েছে ৬০ শতাংশ। আয় এসেছে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি। বিভিন্ন ব্যবসাখাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। আয় হয় ২৪  কোটি ৭০ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয় ১৯ দশমিক ছয় শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সেবা রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি ডলার। গত অর্থ বছরে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৪৩৪ কোটি ডলার। সেবা খাতগুলোকে আরও বেশি উন্নত করা গেলে রফতানি আয় বাড়বে। কর্তৃপক্ষ যদি এই খাতের বিষয়ে আরও সুদৃষ্টি প্রদান করে তবে আয়ের পরিমাণ বাড়তে বাধ্য।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চশ্লিশোর্ধ্ব এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় এখন দেশজুড়েই আলোচনা চলছে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। জানা যায়, সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ওই নারীর বসতঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ করে ও পিটিয়ে আহত করে। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরাধ ছিল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়া। এ ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এ পর্যন্ত (সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত) মূল হোতা রুহুলসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রুহুল সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না। তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমরা সেই বিচার দেখার অপেক্ষায় রইলাম। নষ্ট রাজনীতির এই জঘন্য প্রকাশের সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ের পরপরই। সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় নির্যাতন। সে দিন মহিমা-পূর্ণিমার মতো বহু যুবতি মেয়েকে মা-বাবার সামনেই ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। প্রায় বছরব্যাপী চলেছিল সেই নির্যাতনের নিষ্ঠুরতম ঘটনাগুলো। মূলত গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় দলের মধ্যে যে বৈরীমূলক সম্পর্ক চলছে, তারই কুফল ভোগ করছে জনগণ। দুই দলের মধ্যকার বৈরিতার প্রভাব পড়ায় উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বেড়ে চলেছে সংঘাত-সহিংসতা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হলো দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। দুই বড় দল যদি প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করতে পারে, তাহলে দেশে কোনো সংকট দানা বাঁধবে না। সাধারণত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে গড়িমসি লক্ষ করা যায়; সুবর্ণচরের ঘটনায় মূল হোতাসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাদের বিচার করার জন্য যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষত রাজনৈতিক সহিংসতা এড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা কোনোভাবেই আর যাতে ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক এমন প্রত্যাশা করছি।

প্রসঙ্গ – ব্যাংকিং খাতের সমস্যা

দেশে শিগগিরই নতুন যে সরকারটি গঠিত হতে যাচ্ছে, তাদের কাছে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বস্তুত এ প্রত্যাশা অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তা এবং দেশের আর্থিক খাতের শুভাকাঙ্খিসহ প্রত্যেকেরই চাওয়া। ব্যাংক দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। সবাই জানেন, এ খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে নানা সমস্যা। দুর্নীতি-অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা তো আছেই, সেই সঙ্গে এ খাতের একটি বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপির প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়। ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে এ সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বটে, তবে তাতে কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, বরং এসব পদক্ষেপ খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও প্রলম্বিত করেছে। তাই খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বস্তুত মূলধন সংকটসহ ব্যাংকিং খাতের সমস্যা নিরসনে এ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপই নেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে সংকট কাটেনি। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংকট নিরসনের স্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে এ খাতটিকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাত সংস্কারে একটি কমিশন গঠন করতে হবে দ্রুত। ব্যাংক কোম্পানি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। ব্যাংকগুলোর, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকা- সূক্ষ্মভাবে তদারক করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং দেউলিয়া আইন বাস্তবায়নের টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি নির্ণয় করা হবে।’ সরকারের বিগত ও বর্তমান মেয়াদে ব্যাংকিং খাত নানা সমস্যায় পড়েছে। নতুন মেয়াদে প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাই আমরা আশা করব, ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধানে নতুন সরকার অধিকতর দৃষ্টি দেবে।

প্রকৃত সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করতে হবে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি)- এই চার পরীক্ষার ফল সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। এসব পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো। তবে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এ নিয়ে কোনো কোনো অভিভাবক হতাশ হলেও প্রকৃত তথ্য হল, আগে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়ের নম্বর ধরে ফলাফল হিসাব করা হতো; কিন্তু এবার চতুর্থ বিষয় বাদ দেয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। জেএসসিতে সারা দেশে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ হাজার ১০৮ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৭। বিভিন্ন পরীক্ষায় এবার পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে; শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে- এসব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক খবর। দেশে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে চারটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়; একসময় একজন শিক্ষার্থীকে দুটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো। পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামুখী হলেও শিক্ষার মান কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কেন নোটবই ও গাইডবই থেকে মুখ ফেরাচ্ছে না, এটাও এক বড় প্রশ্ন। বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মূল চিন্তা থাকে কী করে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। দুর্ভাগ্যজনক, কোনো কোনো অভিভাবকও শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করেন। ফলে সারা দেশে কোচিং সেন্টারের প্রভাব বাড়ছে। এই ব্যাধি শিক্ষার্থীদের কী ক্ষতি করছে, তা তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এনসিটিবি নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়ার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আগের মতো দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বস্তুত বারবার পাবলিক পরীক্ষা দেয়ার কারণে অনেক শিশু-কিশোরের মনে পরীক্ষা ভীতিও সৃষ্টি হয়। এ পরীক্ষাভীতি শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের গবেষণার বিষয়। তবে সাধারণভাবে এটা স্পষ্ট যে, বারবার পাবলিক পরীক্ষার পরিবর্তে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থ পাঠে যত বেশি সময় নির্ধারণ করা যাবে, শেখার ক্ষেত্রে তারা তত বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। এ আগ্রহ তাদের বইমুখী হতে উৎসাহিত করবে। এটিই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি বড় লক্ষ্য। কাজেই যে পদ্ধতি শিশু-কিশোরদের প্রকৃত সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে, তাদের জন্য সেই পদ্ধতিই চালু করা দরকার। এই সৃজনশীলতার পথেই তারা আগামীতে জাতিকে ব্যতিক্রমী ও বড় কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গ ঃ পোশাক খাতে ষড়যন্ত্র

নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। জানা যায়, জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন পাওয়ার কথা পোশাক শ্রমিকদের। তবে এর মধ্যে একটি মহল ছড়িয়ে দেয়, অনেক কারখানার মালিকপক্ষ বর্ধিত হারে বেতন দেবে না। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। গত সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মিরপুরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এতে মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় এমনিতেই ওই সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে তা তীব্র আকার ধারণ করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী সবসময় পোশাক খাতকে অস্থির করার সুযোগ খোঁজে। তারাই নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিরতার চেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা একই দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। এই সময় কমপক্ষে ৭০টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সরকার এবং তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএর সহযোগিতায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলা যায়। অধিকাংশ বন্ধ কারখানাও চালু হয়েছে। তারপরও নির্বাচন সামনে রেখে দাবি আদায়ের পাঁয়তারার পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বা শ্রমিক সংগঠনের ইন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ইতোমধ্যেই তৈরি পোশাক খাত অধ্যুষিত অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, চট্টগ্রাম ও টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাক খাতের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শ্রমিকদের ৩৮১ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে বলে বিজিএমইএ ঘোষণা দিয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে এ মজুরি পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে অসন্তোষ কেন? পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলছে তা নয়, সে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অসচ্ছল ও দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। সরকারও জাতীয় স্বার্থে এই শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ খাতকে চলমান রাখতে হলে রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে রাখা উচিত। বর্তমানে এই খাতকে যারা অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি মনে করছি।

সুষ্ঠু ভোটের জন্য নিরপেক্ষদের নিয়োগ দিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন প্রভাবান্বিত করার উদ্দেশ্যে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা তথা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে নানা কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষদের বাদ দিয়ে সরকারদলীয় পরিচয়ধারী এবং নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রভাবান্বিত করতে পারে এমন ব্যক্তিদের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পছন্দের প্রার্থীকে জনগণের দেয়া ভোট নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আমরা মনে করি, দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিধায় এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া ও চিহ্নিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দক্ষ ও নিরপেক্ষদের নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। অন্যথায় মানুষের ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠতে পারে, তেমনি নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের পদ্ধতিটিও সমালোচনার মুখে পড়বে। জানা যায়, নির্বাচন কমিশন তথা ইসির নীতিমালা অনুযায়ী কর্মদক্ষ, নিরপেক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেয় ইসি। একইসঙ্গে সাহস, সততা, পদমর্যাদা ও জ্যেষ্ঠতা ইত্যাদি বিবেচনায় নেয়ার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপরিহার্য পূর্বশর্ত এগুলো। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রস্তাবিত তালিকার প্রত্যেকের বিষয়ে গোপনে খোঁজখবর নিয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয় নিশ্চিত করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তারপর সেখান থেকে সরকারদলীয় প্রার্থীর প্রতি সহনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতাধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নিরপেক্ষ এবং সৎ কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানির বিভিন্ন খবর থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। এ অবস্থায় নির্বাচিত সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির তৈরির কথা যেভাবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কঠিন বৈকি। ভোটের বাকি আর বেশি দিন নেই। ফলে ইসি ও সরকারের উচিত যেসব আসনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, খতিয়ে দেখে সেখানে দক্ষ ও নিরপেক্ষদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্রের মূলকথা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ তথা প্রতিনিধি নির্বাচনের রায় মেনে নেয়া ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে এখনও সে সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি। নিজেদের উন্নয়ন ও অতীত কর্মকান্ডের কারণে জনগণ তাদের পক্ষে- সরকারি ও বিরোধী সব পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হয়ে থাকে। অথচ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষ যাকে চায় এবং যিনি সত্যিকারার্থে জনগণের পক্ষে ও উন্নয়নের পক্ষে কাজ করেন, নির্বাচন প্রভাবান্বিত করার প্রচেষ্টা তো দূরের কথা; তার তো জনরায় নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাবে সৎ, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ কোনো প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং পছন্দের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দিয়ে কারচুপির ব্যবস্থা করা না যায়, ইসিকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ইসির কোনো ধরনের শৈথিল্য কাম্য নয়

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দায়েরের ধুম লেগেছে যেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই ইসিতে লিখিত অভিযোগ করছেন বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় শতাধিক হামলা-সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইসি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তদন্তের নির্দেশ দিলেও কাজের কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা মনে করি, যেসব এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি ব্যাপকভাবে লংঘিত হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে ইসিরও শক্ত ভূমিকা থাকা উচিত। নির্বাচনে সহিংসতার ব্যাপারেও কঠোর হতে হবে ইসিকে। এবারের নির্বাচনের মনোনয়ন সংগ্রহ এবং প্রচার-প্রচারণার শুরুতে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী মারা গেছেন। এটা দুঃখজনক। এখনই যদি সহিংসতা বন্ধ না হয় তাহলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে সহিংসতা ততই বাড়বে, প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। নির্বাচনের আগে সহিংসতা হতে পারে, এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হচ্ছে। অথচ আগাম সতর্কতা জানানোর পরও সহিংসতা রোধ করা যায়নি। অর্থাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল না। এটা ঠিক, দেশজুড়ে নির্বাচনের যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে, তার প্রতিটির শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ। তারপরও আমরা বলব, নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি কর্মতৎপর থাকেন, প্রশাসন যদি নির্বাচন কমিশনকে পরিপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে, তাহলে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা রোধ করা কঠিন কিছু হবে না। আমরা অতীতে দেখেছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনকে বরাবরই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি যখন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, তখনো অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বের অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশনকে এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, নির্বাচন কমিশনকে এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে, যাতে কোনো দলই তার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলতে না পারে। বলা বাহুল্য, এবারের নির্বাচনটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে দেশ রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়তে পারে। এতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দেশের এই অগ্রযাত্রাকে মসৃণ রাখতে এবারের নির্বাচনটি অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমরা আশা করব, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবেন। এ ক্ষেত্রে ইসিকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। যেসব অভিযোগ দায়ের হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করুন

নির্বাচনী প্রচারণায় যেভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘাত ও সহিংসতার খবর আসছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন মারা গেছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক প্রার্থী, আহত হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের কয়েকশ নেতাকর্মী। এরই মধ্যে নোয়াখালীতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় মির্জা আব্বাস ও সুব্রত চৌধুরী, নরসিংদী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. মঈন খানসহ বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের অন্তত ৭ প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও গত রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইকেল, গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ ভাঙচুর হয়েছে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়। উপজেলার কয়েকটি স্থানে হামলায় আওয়ামী লীগের অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নোয়াখালীর সেনবাগে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ জন এবং ফরিদপুরের সদরপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফর উল¬াহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের কর্মীদের মধ্য সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩০ জন। চট্টগ্রামে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমানের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় শোভাযাত্রা এবং সিলেট-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ২৪ জন। লক্ষ্মীপুরে আ স ম আবদুর রবের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করে তালা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়বে। নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে না। অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন সামনে রেখে এমন সহিংস পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা যতটুকু না প্রশাসনের দায়িত্ব তার চাইতে অনেক বেশি দায়িত্ব প্রার্থী কিংবা সমর্থকদের। কারণ যত আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে তা কোনো না কোনো প্রার্থীর সমর্থনে অথবা অন্য কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়ে থাকে। প্রার্থীরা যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেকে ও কর্মী-সমর্থকদের এই আচরণবিধি লঙ্ঘন থেকে বিরত না রাখেন তবে প্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা দুরূহ কাজ হয়ে যাবে। নির্বাচন ঘিরে যে কোনো সংঘর্ষ ও সংঘাতের ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনকে শূন্য-সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাতে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করা তথা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে সব প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবেন। প্রার্থীরাও বিধিবদ্ধ আচরণ করবেন। এ ক্ষেত্রে ইসির কঠোর ভূমিকা ও সংশি¬ষ্ট সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সব মহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

স্কুলে ভর্তি হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ হতে হবে

সারা দেশের ৪ শতাধিক সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার পর ২০ ডিসেম্বর প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি  নেয়া হবে। রাজধানীর ৪১টি সরকারি হাইস্কুলের মধ্যে ১৭টিতে ১ হাজার ৯৬০ জনকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নেয়া হবে এবং এ জন্য আবেদন পড়েছে ২২ হাজার ১৭৯টি। প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ১২ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে লড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে এ ১৭টিসহ রাজধানীর ৪১টি সরকারি স্কুলের অন্যান্য শ্রেণীতে ১২ হাজার ৩৬৬ আসনের প্রতিটির বিপরীতে ৭ জন করে ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এটি মোটেও সুখের খবর নয়। মানসম্মত স্কুল ও শিক্ষার অভাবেই যে এমনটি হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশে পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলো ভালো মানের শিক্ষা দিতে না পারায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে নিজের ক্ষুদে সন্তানকে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই অসম একটি প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিতে বাধ্য হন। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর জন্য বছর লস, স্কুল দেখার আগেই কোচিংয়ে নামিয়ে দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীর জীবন বিষিয়ে তোলার মতো ন্যক্কারজনক বিষয় তো রয়েছেই। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় প্রতিবছরই। এ অবস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের অহেতুক হয়রানি থেকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প নেই। রাজধানীসহ বড় শহরের নামি স্কুলগুলোতেও খুব যে মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে তা নয়। এগুলোতেও কোচিং, ভর্তি, টিসি বাণিজ্য এবং ক্লাসে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। কিছুদিন আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে টিসি-সংক্রান্ত জটিলতায় এক ছাত্রীর আত্মহত্যার পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। আমরা মনে করি, ‘ভর্তিযুদ্ধ’ নামের হয়রানি থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া দরকার। সব স্কুলের শিক্ষার মান যদি কাছাকাছি হয়, তবে এ ধরনের হয়রানির মুখে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা পড়তে যাবেন না, এটাই স্বাভাবিক।

 

 

 

মহান বিজয় দিবস

আজ মহান বিজয় দিবস। একাত্তরের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশেরই স্বাধীনতা দিবস আছে। কিন্তু বিজয় দিবস নেই। আমরা একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের উত্তরাধিকারী। যে অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল, আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। তাই বিজয় দিবস আমাদের জন্য আরও বেশি অর্থবহ। বিজয় দিবস যেমন আমাদের আনন্দের দিন, তেমনি আত্মজিজ্ঞাসারও। স্বাধীনতার যে ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল কিংবা শহীদদের রক্তের অক্ষরে রচিত সংবিধানে যেসব মূলনীতি ও চেতনার কথা বিবৃত হয়েছিল, সেসব আমরা কতটা ধারণ করছি সেই প্রশ্নও আমাদের করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা ছিল ধর্ম-বর্ণ-জাতি ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সম–অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু সেই প্রত্যয় থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। তবে এ কথা সত্য যে গেল ৪৭ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য আছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকেও আমাদের অগ্রগতি অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বেশি। তা সত্ত্বেও স্বীকার করতে হবে যে প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এখনো দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। এখনো বহু মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টির শিকার। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আরও অনেক কিছু করণীয় আছে। সর্বোপরি যে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, সহিষ্ণু ও সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন শহীদেরা দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে, এটাই প্রত্যাশিত। রাজনীতিতে পথ ও মতের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেটি কখনোই সংঘাত সৃষ্টির কারণ হতে পারে না। প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারবে; দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেÑ এটাই হোক এবারের বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।

 

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হয়রানি

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নাজেহাল করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া শুধু ‘ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়া যায়নি- এ ধোয়া তুলে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট রিলিজ করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের প্রধান বিমানবন্দরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সম্মুখীন হওয়াদের মধ্যে অনেক সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন) মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও রয়েছেন। ভুলে গেলে চলবে না, সিআইপি মর্যাদা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত। এ মর্যাদা হচ্ছে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকা-ে একজন ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতি। রাষ্ট্র যাদের মূল্যায়ন করে বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে, তারা বিদেশ গমনের সময় দেশের একটি বিমানবন্দরে কারও ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছার’ ক্রীড়নক হয়ে অসম্মানিত হবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নত দেশগুলোয় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে আসার আগেই সাধারণত নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স পেয়ে যান। অথচ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এর বিপরীত চিত্র বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, এ বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানে ওঠার পর সেখান থেকে নামিয়ে আনার ঘটনাও ঘটছে। মূলত দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এর বাইরে ঢালাওভাবে অন্যদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে যাদের অংশগ্রহণ ও অবদান রয়েছে তথা রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কোনো একটি অজুহাত তুলে হয়রানি করা অনুচিত। বিদেশগামী সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে এমন আচরণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের আওতায় কারা পড়বেন- এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকা উচিত। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি এ গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তাহলে এ অব্যবস্থা দূর হবে বলে মনে করি আমরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মানও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরে দুর্বল ও দুর্নীতিপ্রবণ ব্যবস্থাপনা শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। যত দ্রুত এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে, ততই মঙ্গল। শুধু যাত্রী হয়রানি নয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বছরের পর বছর ধরে নানা ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে, যা রোধ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের তেমন জোরালো কোনো পদক্ষেপও চোখে পড়ছে না। সরকার যদি বিরাজমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তরিকরতার পরিচয় দেয়, তবে অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে

বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চলতি হিসাব পরিচালনা করে। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে ওই হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৩৪৪ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এ সময়ে ঘাটতি ছিল ৩৪২ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ হিসাবে কোনো ঘাটতি ছিল না। দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়। টাকার মান কমলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যেসব খাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে তা মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। বৈদেশিক অনুদান এবং রেমিটেন্স প্রবাহ যে কোনো সময় কমে যেতে পারে।এ অবস্থায় রফতানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় যাতে আমাদের দেশের রফতানিকারকরা টিকে থাকতে পারেন সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রফতানির ক্ষেত্রে নানারকম সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেসব সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাঙ্খিত মাত্রায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। রফতানি খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকের সুদের হার বেশি হলে ঋণ নিয়ে কোনো উদ্যোক্তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দেশে শিল্পের প্রয়োজনে মানবসম্পদ তৈরি না হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রফতানির ক্ষেত্রে নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।কারণ এ ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের দেশগুলো যেসব সুবিধা পায়, উন্নতির পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হলে সেসব সুবিধা পায় না। দেশের প্রধান বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত।সেসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রফতানি খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার ধরে রাখার জন্য পণ্যের গুণগত মান বাড়াতেও উদ্যোগ নিতে হবে। রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। রফতানি খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি অল্প সময়ে নিশ্চিত করা কঠিন। এর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হয়।

প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা দেশের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় গত কয়েক দশক ধরে এ শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে অতি দ্রুত হারে। রাজধানীমুখী জন¯্রােতের ধারা আগামী দিনগুলোতে কমবে এমনটি লক্ষ করা যাচ্ছে না।কাজেই এ শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আট এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, নয়াবাজার, সূত্রাপুর, গুলিস্তান, খিলগাঁও, মুগদা ও বাসাবো এসব এলাকায়। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উল্লিখিত প্রকল্পভুক্ত নানারকম পরামর্শক ব্যয়সহ বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। উল্লিখিত সভায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যয় কমানো বা বাদ দেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সঠিক ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে কঠিন শর্তে প্রাপ্ত ঋণের মাধ্যমে। তাই এসব অর্থ ব্যয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। যেসব প্রকল্প কারিগরি দিক থেকে জটিল সেগুলোর পরামর্শক ব্যয় বেশি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু যে ধরনের প্রকল্প আগেও বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে, তেমন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় বেশি হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শুধু তাই নয়, এ ধরনের প্রকল্পে পরামর্শক আদৌ দরকার আছে কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে। পরামর্শক ব্যয়ের নামে প্রকল্পের অর্থ খরচে অনিয়ম হয় কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। যে কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পের এক বা একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া দরকার, যিনি বা যারা ব্যয় কমাতে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আট এলাকার উন্নয়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

ব্যাংক খাত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করুন

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আমরা কী করব’ শীর্ষক সংলাপে দেশের ব্যাংক খাতে বিরাজমান দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা তাদের মতে, ব্যাংক খাত ঠিক রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকা উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ অনুমোদন, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও ব্যাংকারদের পেশাদারিত্বের অভাবে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে ব্যাংক খাত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা, পরিচালকদের দুর্বৃত্তায়ন, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ভঙ্গুর হচ্ছে দেশের ব্যাংকগুলো। বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিবর্গের দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা না কমে বরং দিন দিন বাড়ছে। এটি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং অপরাধমুক্ত, স্থিতিশীল ও দক্ষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছাড়াও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংক নতুন নতুন অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমগ্র ব্যাংকিং খাতে। ব্যাংকিং খাতে অরাজকতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমানতকারীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস বইবে বলে মনে করেন ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংশিক্ষষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সময়ের প্রয়োজনে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের ব্যাংক খাত। ক্রমপ্রসারমান ব্যাংক খাতকে অবশ্যই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ব্যাংক খাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে একটি কমিশন গঠনের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি এ খাতে আদর্শ ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা উচিত। আশঙ্কার বিষয় হল, ব্যাংকগুলোয় যোগ্য ও সৎ লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। ফলে তারা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করছে, যা পরে খেলাপি ঋণে পরিণত হচ্ছে। ব্যাংকগুলোয় বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রাস করে ফেলছে, এতে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই। ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আর্থিক খাতে বেশকিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়েছিল। সেখানে আমাদের ব্যাংক খাতে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হলেও দুঃখজনক হল, আজ পর্যন্ত তা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। এছাড়া এ বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত ‘আর্টিকেল ফোর মিশন’ সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। মিশনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ নিয়ে পরে সংস্থাটি যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে ব্যাংকগুলোয় আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী প্রবিধান, কঠোর নজরদারি ও সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিরাজমান দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

জনগণের সেবাই হতে হবে আদর্শ

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি ছিল বেশ উদ্দীপনাময়। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তাকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। সততাই শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যবোধ ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির কবল থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে বলেও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। জনপ্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও অনেক কথা বলেছেন এবং তার বক্তব্যের প্রতিটি কথাই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তারা আসলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, দলীয় কেউ নন। সুতরাং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের তথা মানুষের সেবা করাই তাদের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত। আমাদের জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যা পান, তাকে সন্তোষজনকই বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই বৃদ্ধি এজন্যই যে, যাতে তারা দেশের সেবাটা ভালোভাবে করতে পারেন। এই যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাদের সন্তোষজনক হারে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে, তা প্রকৃতপক্ষে জনগণেরই অর্থ। সুতরাং জনগণের সেবা করাটাই সরকারি কর্মচারীদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। এই কাজে ফাঁকি দেয়া মানে দেশবাসীকে ফাঁকি দেয়া। বস্তুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা আমলাতন্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের অনেক কিছুই নির্ভর করে। আমলাতন্ত্র যদি গণমুখী হয়, গতিশীল হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের চেহারায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য। আমলাতন্ত্র সম্পর্কে ব্রিটিশ আমল থেকে একটা ধারণা চালু রয়েছে। সেটা হল, তারা চরিত্রগতভাবে একটি জাত্যাভিমানী শ্রেণী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে থাকেন। এ ধারণাটি অবশ্য দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে। বর্তমানে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে যারা নিযুক্ত হন, তাদের আওতাধীন জনগণের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়। এ সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি প্রশাসনকে রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রশাসন হিসেবেই দেখতে চান, দলীয় প্রশাসন হিসেবে নয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই উপলব্ধি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন ঠিকই; কিন্তু তাদের থাকা চলবে না কোনো ধরনের দলীয় আনুগত্য। সরকারি কর্মকর্তারা দেশের উচ্চশিক্ষিত মেধাবী অংশের অন্তর্ভুক্ত একটি শ্রেণী। তাদের এই মেধার সঙ্গে যদি সততা যুক্ত হয়, তাহলে তা এক বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এই শক্তি রাষ্ট্রের প্রভূত উন্নতি করতে পারে সন্দেহ নেই। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলব, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তারা কাজ করবেন এবং সেভাবেই এ রাষ্ট্রের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটাতে ভূমিকা রাখবেন।

 

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডই মোদ্দা কথা

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ‘শান্তিতে বিজয়’ পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নির্বাচনী পরিবেশে কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে তা ঐক্যবদ্ধভাবে দূর করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। অন্যদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশন ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে, ‘শান্তিতে বিজয়’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বক্তারা মনে করছেন না দেশে নির্বাচনী পরিবেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে রয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টাও নির্বাচনী পরিবেশে কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বস্তুত সমগ্র জাতিই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন দেখতে চায় না। একটি অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই জরুরি নয়, অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তা সম্পর্কিত। অতঃপর নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সবার জন্য  লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার মাধ্যমে জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্খা পূরণ করা। আমরা দীর্ঘদিন থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে আসছিলাম। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এখন বাকি থাকল শুধু নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এ গুরুদায়িত্ব পালনের ভার প্রধানত নির্বাচন কমিশনের। এ প্রতিষ্ঠানকে মনে রাখতে হবে নির্বাচন মানে জনগণকে তাদের শাসক নির্বাচনের অধিকার দেয়া। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এমন এক শৃঙ্খলা বজায় থাকতে হবে, যেন সমাজে সব ধরনের সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনা দানা বাঁধতে না পারে। এ ব্যাপারে অবশ্য সরকারের দায়িত্বও অনেক। দেশে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার ক্ষেত্রে সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। কয়েকদিন আগে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনায় মিলিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুলিশ বাহিনীকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা মনে করি সেসব নির্দেশনা পুলিশ সদস্যদের অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত। বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নির্বাচনের প্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এটা অস্বীকার করা যাবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনটি যেহেতু একটি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই এ ধরনের আশঙ্কা বা সন্দেহ অমূলক নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বশক্তি দিয়ে জনমনের এই আশঙ্কা দূর করতে হবে। সবশেষ যে কথা তা হল, নির্বাচনের মাঠে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন প্রধান নিয়ামক। তারা জাতিকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার ব্যাপারে দায়বদ্ধও বটে। ফলে এই কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত বা আচরণ একতরফা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই কমিশন বিশেষত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর দায়িত্ব কমিশনেরই। ইতিপূর্বে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোয় নির্বাচন কমিশন শতভাগ নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সুস্থ ও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করবে- জাতি এটাই দেখতে চায়।

প্রতিবন্ধীদের অধিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল হলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশের প্রতিবন্ধীসহ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে, সন্দেহ নেই। এ নীতিমালা যত দ্রুত প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয় ততই মঙ্গল। প্রতিবন্ধীরা এ সমাজে সবচেয়ে অনগ্রসর ও অবহেলিত জনগোষ্ঠী। সমাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্ব নেই। রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সুবিধার জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা, স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড প্রণয়নের কাজও হয়নি। তাই বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। আমাদের সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ ও ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা-২০১৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন-২০০১। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিও প্রবর্তন করা হয়েছে। এসবের যথাযথ বাস্তবায়ন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে এবং তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রতিভা। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে তারা সমাজে ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বটে; তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় এ জনগোষ্ঠী সেভাবে অগ্রসর হতে পারছে না। বিশেষ করে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে তারা। দেশে প্রতিব›দ্ধীদের জন্য আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সরকার যে স্কুলগুলো চালু করেছে, সেগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বিদ্যমান সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তোলা গেলে এসব প্রতিষ্ঠানেও তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হন না। প্রতিবন্ধীদের অনগ্রসরতার এটিও একটি কারণ। এ ক্ষেত্রে সরকার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতা আরও বাড়াতে পারে। সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াটাও জরুরি। তাদের বুঝতে হবে, কোনো শিক্ষিত মানুষই দেশের জন্য বোঝা নয়, বরং সম্পদ। কাজেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল ভাতাভোগী করে রাখলে চলবে না, তাদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধীরাও অবদান রাখতে পারে। যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদেরও দেশের সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এ সত্য রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকসহ সবাইকেই অনুধাবন করতে হবে।