পরিবারের চেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর কোথাও নাই – আরেফিন সিদ্দিক

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, পরিবারের চেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর কোথাও নাই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় হলো পরিবার। যে পরিবারে সুশিক্ষা দেওয়া হয়েছে, সে পরিবারের সন্তান কোনদিনও খারাপ পথে যায়নি, যাবেও না। কিন্তু যে খারাপ হয়েছে, খোঁজ নিয়ে দেখেন, তার পরিবার তাকে ভালো শিক্ষা দিতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস অ্যাসোসিয়েশন (বাচকা) ও জেরিয়াট্রিক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের অভিষেক ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য আরও বলেন, ক্রমান্বয়ে আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দিন দিন আত্মস্বার্থ নিয়ে চিন্তা করছে। প্রত্যেক পরিবারেই প্রবীণ মানুষ রয়েছেন। আমাদের দেশ ও সংস্কৃতি যৌথ পরিবারের সংস্কৃতি। তাই প্রতিটি পরিবারে ছোট সদস্যদের এ ব্যাপারে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। নাট্য ব্যক্তিত্ব ইনামুল হক বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম। আমরা বিশেষ সময়ে যখন একসঙ্গে সমবেত হই, তখন সবাই যার যার সন্তানের খোঁজ খবর নেই। আমি যখন কাউকে বলি, আপনার ছেলেমেয়ে কোথায়? তারা গর্বের সঙ্গে বলেন, ছেলে আমেরিকাতে ও মেয়ে অস্ট্রেলিয়াতে। এরপরই তাদের গৌরবটা ভেঙে যায়। পরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা বলেন, নাহ্, আমরা বড় একা। তিনি নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতমনা করে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী আখতার হোসেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রাশিদুল হাসান আজাদ প্রমুখ।

বন্যা থেকে বাঁচতে গৃহস্থের বিছানায় ঠাঁই নিল বাঘ!

ঢাকা অফিস ॥ অনেকটা রূপকথার গল্পে বাঘের কবলে পড়াদের মানুষদের মতোই অবস্থা হয়েছিল ভারতের আসামের এক ব্যক্তির। কাজিরাঙা জঙ্গলের কাছেই তাঁর বাড়ি। নিজের ঘরে ঢুকতে গিয়ে হঠাৎই দেখতে পান যে বিছানার ওপরে দিব্যি আরাম করে বসে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বিছানায় গুছিয়ে বসে থাকা বাঘের ছবি বৃহস্পতিবার ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আসামে প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে কাজিরাঙা অভয়ারণ্য। বন্যায় মারা গিয়েছে বহু পশু। এই অবস্থায় বন্যার থেকে বাঁচতে এক গৃহস্থের বাড়ি আশ্রয় নেয় বাঘটি। বাঘটিকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বনকর্মীরা। নিরাপদে তাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। বাঘটি আহত কিনা, তাও বোঝার চেষ্টা করছেন বন দফতরের কর্মীরা। উল্লেখ্য, ভারতের আসাম রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বন্যায় আসামের ৫২ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এছাড়া এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ধর্ষক-নিপীড়ক ও হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তির দাবি মহিলা ফোরামের

ঢাকা অফিস ॥ নারী ও শিশু ধর্ষক, নিপীড়ক ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটি সমাবেশের আয়োজন করে এ দাবি জানায়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। একটি নির্যাতনের ঘটনার বর্বরতা আরেকটিকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই হাজার ৮৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণসহ উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৩ জন এবং ধর্ষণ করা হয়েছে ৭৩১ জনকে। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা ঘটলেও প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। ফেনীর নুসরাত অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, তাকে পুড়িয়ে মারা হলো। বরগুনায় হত্যায় বাধা দেওয়ায় মিন্নিকে রিমান্ডে নেওয়া হলো। অথচ যারা প্রকাশ্যে খুন করলো, তারা এখনও সবাই গ্রেফতার হয়নি। এসব খুনিদের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই। এসব ধর্ষক, নিপীড়ক ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যদি দেওয়া হতো, তাহলে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হতো না। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শম্পা বসুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিলরুবা নূরী, নারীনেত্রী ডা. মনিষা চক্রবর্তী, জেসমিন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নগর সাধারণ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ।

দুদক চেয়ারম্যানের ‘সরল বিশ্বাস’ কী, পরিষ্কার নয় – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি পরিষ্কার হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যেকোনো দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখবে। গতকাল শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। ঢাকায় ডিসি সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এ কথা বলেন। ডিসি সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ফৌজদারি আইনে সরল বিশ্বাসে অপরাধ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। তবে তিনি এও বলেন, সরল বিশ্বাস বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে। অবশ্য ওবায়দুল কাদের এও বলেন, দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এইচ এম এরশাদ পরবর্তী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, সংসদে জাতীয় পার্টির অনেক আসন আছে। এরশাদের অবর্তমানে তাদের দলীয় রাজনীতি কেমন হবে, সেটা দলটির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তিনি বলেন, রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে, যারা সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী রাজনীতি করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরোধী হিসেবে কাজ করা দলীয় নেতারা কী ধরনের শাস্তি পেতে পারেন, এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এখন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁদের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকর্তা পরিচালনায় কোথাও বাধা দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির সাংগঠনিক কাজে সরকারি বাধার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপির কোথাও কোনো সভায় পুলিশ বাধা দেয়নি। সবখানে তারা সভার অনুমতি পেয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বিএনপির কল্পিত।’ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নিধনে নিজেদের যার যার অবস্থান থেকে আগে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করতে র‌্যালির আগে তিনি এমন মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গেল বছরের আগ পর্যন্ত এটি (ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া) নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু এখন চিন্তার বিষয় আছে। আর তাই এই এডিস মশা নিধনে সরকারের যেসব প্রচেষ্টা ছিল, সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে কোথাও পানি জমে থাকলে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। আমাদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই রোগ ও মশা থেকে আমরা মুক্তি পাব। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সমালোচনার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিলের ঘোষণা দেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। শোভাযাত্রার শুরুতে মেয়র বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুটি বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে। যারা মশক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত আছেন এবং যারা পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত আছেন তাদের সকল ছুটি আমি ক্যান্সেল করেছি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া যতদিন নিয়ন্ত্রণে না আসবে, মৌসুম যতদিন থাকবে এ আদেশ ততদিন বলবৎ থাকবে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। সে সময় পর্যন্ত দুজন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ১৭ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ১৬৬ জনে দাঁড়ায়। অর্থাৎ এক মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে চার হাজার ৬০৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুর কারণে এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিলেও সংবাদমাধ্যমে ১৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ২ জুলাই উষ্মা প্রকাশ করে হাই কোর্ট। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিস্কার রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম। ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল জমে থাকা স্বচ্ছ পানি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব তিনদিন জমে থাকা স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে ডেঙ্গুর জন্ম হয়। আপনারা এ ধরনের পানি জমতে দেবেন না। বাড়ির আঙ্গিনায়, ফুলের টবে, পরিত্যক্ত টায়ারে, জমে থাকলে তা পরিষ্কার করুন। আমাদের স্ব-উদ্যোগে এসব কাজ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাংসদ আসলামুল হক, সাদেক খান, সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান, ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ, চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস, রিয়াজ, অরুণা বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর, রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

বন্যার্ত কেউই সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবে না – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি বলেছেন, সরকারের ত্রাণ ভান্ডারে যথেষ্ট পরিমাণের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। কোনও বন্যার্ত মানুষ সরকারি ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না। পর্যায়ক্রমে বন্যার্ত এলাকার সব মানুষই ত্রাণ পাবে। আওয়ামী লীগ সরকার বন্যার্ত মানুষের পাশে অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গাইবান্ধার বানভাসী মানুষের জন্য ৫০০ বান্ডিল টিন, ১৫ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন চাল ও শিশুখাদ্য, গো-খাদ্যের জন্য আরও ৫ লাখ টাকা, বিশুদ্ধ পানির ২ হাজার জেরিক্যান ও ৫০০ তাবু (ত্রিপল) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে আরও চাল, নগদ টাকা বরাদ্দে প্রক্রিয়া চলছে। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বন্যা আক্রান্ত এলাকা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যে গাইবান্ধা শহর রক্ষায় একটি বেড়ি বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ২৫০ কোটি টাকার ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে। এই বাঁধটি নির্মাণ হলে একদিকে যেমন গাইবান্ধা শহর রক্ষা হবে, তেমনি বর্ন্যাত মানুষও ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে। সভা শেষে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুরে বর্ন্যাত এলাকা পরির্দশন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী এমানুর রহমান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী এমপি, হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিণি এমপি, গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গাইবান্ধা পৌর মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন উপস্থিত ছিলেন। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত, রুটিন দায়িত্ব) রোকসানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাদুল্যাপুর, পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

খালেদার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি – ফারুক

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমি আশা করবো সরকার তার আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দেশের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে যে দলটি ক্ষমতাসীন তাদের অত্যাচার-নির্যাতন ও গুম, খুনে জর্জড়িত বিএনপি এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যিনি দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। তার মুক্তির দাবিতে আমরা রাজপথে দাঁড়িয়েছি। তিনি বলেন, কার কাছে আমরা দাবি করবো। একটি কাল্পনিক ও অসত্য মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। যদি সত্যিকার অর্থেই এ সরকার মানবিক হতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হতো তাহলে খালেদা জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। আমরা বারবার সরকারের কাছে এ দাবি করে আসছি। তিনি আরও বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের অত্যাচার ও নির্যাতন করছে। ২৫ লাখের অধিক নেতাকর্মী মামলা নিয়ে জীবন-যাপন করছে। আমাদের নেত্রী অসুস্থ তার চিকিৎসার জন্য কেন আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বারবার দাবি জানাতে হবে। আপনি যদি একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি হয়ে থাকেন মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়ার স্বামীর (জিয়াউর রহমান) কথা যদি স্মরণ করতেন তাহলে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি থাকতে হতো না। সরকারের সমালোচনা করে ফারুক বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে দাবি করে লাভ কি? যে সরকার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। যে সরকার পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না, একটু বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রাম শহর তলিয়ে যায়, সে খবরও রাখে না। তারা কি করে খালেদা জিয়ার খবর রাখবে। তারা কোনোভাবেই চায় না খালেদা জিয়ার মুক্তি হোক, দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হোক। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাস্তায় নামি। আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, ওলামা দলের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

ফেইসঅ্যাপ

এফবিআইকে তদন্ত করতে বললেন মার্কিন সিনেটর

ঢাকা অফিস ॥ ব্যবহারকারীদের বৃদ্ধ অথবা তরুণ দেখানোর ফেইসঅ্যাপের বিষয়ে এফবিআইকে তদন্ত করে দেখতে বলেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার। টুইটারে পোস্ট করা এক চিঠিতে তিনি মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ‘শক্রভাবাপন্ন বিদেশি শক্তির’ হাতে চলে যেতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন, জানিয়েছে বিবিসি। রাশিয়ার একটি কোম্পানির তৈরি করা অ্যাপটি সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। তবে আগেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেইন্ট পিটার্সবার্গভিত্তিক ওয়্যারলেস ল্যাব কোম্পানি জানিয়েছে, প্রায় আট কোটি ব্যবহারকারী তাদের অ্যাপটি ব্যবহার করছে। কিন্তু তারা ব্যবহারকারীদের ছবি স্থায়ীভাবে জমা রাখে না এবং মূল্যবান তথ্যও সংগ্রহ করে না, ব্যবহারকারীরা যেসব ছবি এডিটিংয়ের জন্য নির্বাচন করে শুধু সেগুলো আপলোড করে তারা। “মূল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট টিমের অবস্থান রাশিয়ায় হলেও ব্যবহারকারীদের তথ্য রাশিয়ায় পাঠানো হয় না,” সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে কোম্পানিটি। কিন্তু কোম্পানিটির এসব বক্তব্য সত্বেও এফবিআই ও মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনকে (এফটিসি) ফেইসঅ্যাপের বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছেন সিনেটর শুমার। “যে সব তথ্য জড়ো করা হচ্ছে সেগুলোর সুরক্ষার পাশাপাশি কারা এ তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারবে সে বিষয়ে ব্যবহারকারীরা সচেতন কি না, এই উভয় বিষয় নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,” চিঠিতে বলেছেন তিনি। ডেমোক্রেট পার্টির জাতীয় কমিটি ২০২০ সালের নির্বাচনে তাদের দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের ও তাদের প্রচারণা কর্মকর্তাদের ফেইসঅ্যাপ ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করার পর শুমার এ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

মালেশিয়া থেকে লাশ হয়ে ফিরেছে দৌলতপুরের কামরুল ইসলাম 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ মালেশিয়া থেকে লাশ হয়ে ফিরেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কামরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ময়রামপুর নতুনপাকুড়িয়া গ্রামে তার লাশ পৌঁছায়। সে একই গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে। জয়পুর গ্রামের আনারুল ইসলাম টেংগর নামে এক আদম ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জুন মাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কামরুল ইসলামকে মালেশিয়ায় পাঠায়। কিন্তু তাকে মালেশিয়ায় না নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে কামরুল ইসলামসহ অনেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মালেশিয়ায় প্রবেশের সময় মালেশিয়ার সীমান্তরক্ষীদের হাতে পড়ে। এসময় তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে একমাস পূর্বে কামরুল ইসলাম মারা যায়। এমন বর্ণনা দিয়ে কামরুল ইসলামের বাবা আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে বাদ আছর নামাজে জানাযা শেষে জয়পুর কবর স্থানে কামরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

লিভার প্রতিস্থাপন

রোগী-চিকিৎসকদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফল যকৃৎ প্রতিস্থাপনে রোগী ও চিকিৎসকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৪ জুন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা ১৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ২০ বছরের তরুণ সিরাতুল ইসলামের দেহে তার মায়ের দেওয়া যকৃতের অংশ প্রতিস্থাপন করেন। সিরাতুল ও তার মা সুস্থ হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনের কথা জানান। এই হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খান জানান, রোগী ও দাতা দুজনেই সুস্থ আছেন। এই অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জুলফিকার খান। মা ও ছেলে পরে আবার তাদের কাছে এসে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাবেন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে পুরোদমে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু করতে চায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। সে লক্ষ্যে বিনা খরচে এই অস্ত্রোপচার করে দিয়েছে তারা। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এই লিভার প্রতিস্থাপনকে ‘যুগান্তকারী’ সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। লিভার প্রতিস্থাপনে বাংলাদেশি চিকিৎসক দলকে সহযোগিতা করেছেন ভারতের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. বালাচন্দ্র মেননসহ তার চিকিৎসক দল। বাংলাদেশে এর আগে ২০১০ সালে বারডেম হাসপাতাল দেশে প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন করে। তবে এরপর তারা এই উদ্যোগ চালু রাখতে পারেনি। পূর্ণ বয়স্ক একজন ব্যক্তি তার যকৃতের অংশ বিশেষ অপর একজনকে দিতে পারেন। কারণ যকৃতই শরীরের একমাত্র অঙ্গ যেটা নিজেই ক্ষতপূরণ করে পুনর্গঠিত হয়। দেশে কত সংখ্যক রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি, তা নিয়ে সরকারি- বেসরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেছিলেন, প্রতি বছর প্রায় ৫০০ রোগী বিদেশে গিয়ে লিভার প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

চির নিদ্রায় শায়িত হলেন শিক্ষক নেতা সিদ্দিক মোল্লা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন শিক্ষক নেতা আব্দুস সিদ্দিক মোল্লা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে তারাগুনিয়া কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। এরাগে বিকেল ৬টায় তারাগুনিয়া ফুটবল মাঠে তার নামাজে জানাযা করা হয়। জানাযায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। তারাগুনিয়া এলাকার অতিপরিচিত প্রিয়মুখ মরহুম আব্দুস সিদ্দিক মোল্লা (৭০) দীর্ঘদিন দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান।

 

আমলায় এমআরএ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষনার্থীদের নবীনবরণ ও বিদায়

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে এমআরএ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষনার্থীদের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এমআরএ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে এমআরএ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক আক্তারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া ডাক ঘরের পোস্ট মাস্টার কাজেম আলী। অনুষ্ঠানে এমআরএ কম্পিউটারট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক শামীম আহম্মেদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গাংনী কলেজের প্রভাষক শামীম আহম্মেদ, ডাক্তার মতিয়ার রহমান, আমলাসদরপুর কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষক ফজলুর রহমান, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, এমআরএ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক হাসিবুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবাগত জুলাই-ডিসেম্বর’১৯ সেশনের ২০জন প্রশিক্ষনার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এবং শেষে বিদায়ী জানুয়ারী-জুন’১৯ সেশনের ৪০জন প্রশিক্ষনার্থীকে প্রবেশপত্র প্রদান করা হয়।

জিপিএ-৫ পেয়েছে দরিদ্র ঘরের মেয়ে বৈশাখী

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ একদিকে দারিদ্র পরিবারে জন্ম অপরদিকে জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বৈশাখীর। অর্থনৈতিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, কোন বাধায় আটকাতে পারেনি তাকে। অধ্যাবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে এবার এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলা ও অর্থনীতি বাদে প্রত্যেকটি বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে। সে এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র ৫নম্বরের জন্য জিপিএ ৫ পেয়েছিল না। কিন্ত এবার তার আশা পূরণ হয়েছে। দরিদ্র্যতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার এই ভালো ফলাফলে বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার পল্লী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিজেএম ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী। একমাত্র সেই উক্ত কলেজ  থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার  ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রি সাইদুর রহমান ও গৃহবধূ বিউটি খাতুনের দ¤পতির ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মোছাঃ জান্নতুুন নাহার বৈশাখী। তামান্নার খুব ইচ্ছা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব হবে, এই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ে মেধাবী মেয়েটি। কারণ তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চেয়ে তার বাবার আর্থিক দুরবস্থার বাধা অনেক বড়। ভালো ফল সম্পর্কে বৈশাখী জানায়, “নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং মা-বাবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় নিয়মিত পড়ালেখা করেছি। আর্থিক কারণে নিয়মিত প্রাইভেটও পড়তে পারিনি। শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে আমার এই ভালো ফলাফল।” কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আসলাম উদ্দীন বলেন, বৈশাখীর হাতের লেখা খুব সুন্দর। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে সে ভালো ফল করে তার বাবা-মা ও কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা তার জন্য গর্বিত। মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী সকলের নিকট সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থী।

দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে উন্নয়নের নামে বর্তমান সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আজ বরিশালে আমাদের মহাসমাবেশ হবে। জনসমুদ্রে পরিণত হবে সমাবেশ। সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বরিশালে এক সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তায় রেখে গত বুধবার শেষ মুহূর্তে পুলিশ ঈদগাহ মাঠে মহাসমাবেশের অনুমতি দিলেও বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা বরিশালের বেলস পার্কে সমাবেশের জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ মাঠে; যার পরিসর অত্যন্ত ছোট। এটা সরকারের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রবাদ আছে, মিথ্যা বলা মহাপাপ। আর এখন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সত্য বলা মহাভয়। মিথ্যা বলা যদি কোনো ‘শিল্প’ হতো, তাহলে অনর্গল মিথ্যা বলা এই সরকারের মন্ত্রী-নেতারা হতেন সেই শিল্পের নায়ক-মহানায়ক। এরা তাদের রাজনৈতিক পাঠশালায় সত্য কথা বলার শিক্ষা অর্জন করেননি।’ খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ মহামারি আকারে বেড়েই চলছে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে উন্নয়নের নামে বর্তমান সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। আইনের শাসন অনুপস্থিত। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। দেশে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়ার নামে সব সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃঙ্খলিত করেছে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন। …প্রকৃত বাস্তবতা হলো, এই উন্নয়ন হলো ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আর তাদের সহযোগিতাকারীদের পকেটের উন্নয়ন। আর নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর উন্নয়ন।’ খালেদা জিয়াকে কারাবন্ধি করা হয়ে অভিযোগ এনে রিজভী বলেন, ক্ষমতা নিরুপদ্রব রাখতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে গত দেড় বছর। গুরুতর অসুস্থ নেত্রীকে জামিনে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। বিএনপি পর্যায়ক্রমে সব বিভাগে এই মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা আমাদের আন্দোলনের একটি ধাপ।’

মেক্সিকোর মাদক সম্রাট গুজমানের যাবজ্জীবন

ঢাকা অফিস ॥ মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ অতিরিক্ত ৩০ বছরের জেল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। গত ফেব্র“য়ারিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল কোর্টে মাদক ও অর্থ পাচারসহ মোট ১০ টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ৬২ বছর বয়সী গুজমান। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর সুরক্ষিত কারাগার থেকে টানেল খুঁড়ে পালিয়েছিলেন গুজমান। পরে তিনি আবার ধরা পড়েন। ২০১৭ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ মাদক সম্রাটের মাদক পাচার ও অপরাধ চক্র ‘সিনালোয়া কার্টেল’ মেক্সিকো ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে কোকেন, হেরোইন, মারিজুয়ানা ও মেথাম্ফেটামাইন পাচারের জন্য কুখ্যাত। বিবিসি জানায়, গুজমান তার কার্টেলের শক্রদের নির্যাতনও করতেন বলে বিচার চলাকালে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বুধবার ব্র“কলিনের আদালত কক্ষে সাজার রায় ঘোষণার আগে এক দোভাষীর মাধ্যমে গুজমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাকে আটকে রাখা দিনে ২৪ ঘন্টাই মানসিক নিপীড়ন এবং মানবেতর অবস্থায় রাখার সামিল। তিনি ন্যায়বিচার পাননি এবং তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলেও গুজমান অভিযোগ করেছেন। গুজমান যে সব অপরাধ করেছেন তার বিচারে ন্যূনতম সাজা হিসাবেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বাড়তি ৩০ বছরের সাজা তিনি পেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের বেআইনি ব্যবহারের কারণে। তাকে প্রায় তেরশ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানও গুনতে হবে। গুজমানকে কলোরাডোর ফ্লোরেন্সে দেশটির সবচেয়ে সুরক্ষিত ফেডারেল কারাগারে রাখা হবে। এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, গুজমান ‘টন টন স্টিলের পেছনে’ কারাভোগ করবেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গুজমান আবেদন করবেন কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর আগে ২০০১ ও ২০১৫ সালেও মেক্সিকোর কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গিয়েছিলেন  ‘এল চ্যাপো’ বা ‘পিচ্চি’ নামে পরিচিত গুজমান। গত কয়েক দশকে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুগঠিত ও অন্যতম ক্ষমতাশালী অপরাধী চক্রের ‘বস’ হয়ে উঠেছিলেন, এমনকি ফোর্বস সাময়িকীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোটিপতিদের তালিকায় তার নামও উঠেছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে গুজমানকে মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় শহর লস মোচিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছরে মেক্সিকো সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে।

ঝিনাইদহ সরকারী বালক বিদ্যালয়ে নীতিমালা বহির্ভুত ভর্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেনীতে অর্থের বিনিময়ে নীতিমালা বহির্ভুত ছাত্রভর্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে সচেতন মহল ও দুর্নীতি বিরোধী অভিভাবকবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার ও ফেষ্টুন হাতে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামানের শাস্তির দাবীতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন কর্মসুচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসুচিতে অভিভাবকদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, বশির উদ্দীন, আসলাম হোসেন, কেসি কলেজের ছাত্র ইমরান হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও শাহিন রহমান বক্তব্য রাখেন।  অভিভাবকদের অভিযোগ সরকারের ভর্তি নীতিমালা উপেক্ষা করে ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামান ছাত্র প্রতি আড়াই লাখ টাকা করে নিয়ে শহরের ধর্ণাঢ্য পরিবারের সদস্যদের ভর্তি করেছে। এভাবে তিনি ২৮ জনকে বিভিন্ন শ্রেনীতে ভর্তি করেছেন যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ সরেজমিন তদন্ত করে তৃতীয় শ্রেণীতে ৫ জনের অবৈধভাবে ভর্তির সত্যতা পেয়েছে। অভিভাবকবৃন্দ প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামানের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।

দৌলতপুরে পুলিশ হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ ২মাদক সেবী পালানোর পর হ্যান্ডকাফসহ ১জন উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশ হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ ২ মাদকসেবী পালানোর পর ৪ঘন্টা পর ১জন হ্যান্ডকাফসহ উদ্ধার হয়েছে। অপরজন পলাতক রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার মহিষকুন্ডি ডাকপাড়া এলাকা থেকে মাদক সেবন অবস্থায় ২জন মাদক সেবীসহ ৩জনকে আটক করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাদের থানায় নেওয়ার সময় হ্যান্ডকাফসহ ২জন পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যার সময় ১জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি ডাকপাড়া গ্রামের মৃত তুফান হালসানার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সুমন হালসানার বাড়িতে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেফুল (২৬) ও কনক (২৫) নামে মাদক সেবী দু’যুবক ইয়াবা সেবন করছিল। মাদক সেবীদের মাদক সেবনের খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু মাদক ব্যবসায়ী সুমন হালসানার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবী সেফুল ও কনক এবং মাদক ব্যবসায়ী সুমন হালসানাকে আটক করে। পরে সেফুল ও কনকের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এবং মাদক ব্যবসায়ী সুমন হালসানাকে বিনা হ্যান্ডকাফে ভ্যানে উঠিয়ে দৌলতপুর থানায় নেওয়ার পথে মোটরসাইকেল নিয়ে এস আই খসরু পেছন পড়েন। এসময় মহিষকুন্ডি বাজারে ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে হ্যান্ডকাফসহ মাদক সেবী সেফুল ও কনক পালিয়ে যায়। তবে মাদক ব্যবসায়ী সুমন হালসানা পুলিশ হেফাজতে রয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় সেফুলের পরিবার সেফুলকে হ্যান্ডকাফসহ এস আই খসরুর হাতে সোপর্দ করে। তবে দৌলতপুরের মাদক সেবী কনক পলাতক রয়েছে। উদ্ধার সেফুল মহিষকুন্ডি ক্যাম্পের পেছন এলাকার মোস্তফার ছেলে। হ্যান্ডকাফসহ মাদক সেবী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু বলেন, ৩জন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নেওয়ার পথে হ্যান্ডকাফসহ ২জন পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একজনকে হ্যানকাফসহ উদ্ধার করা হয়। সেফুল ও মাদক ব্যবসায়ী সুম হালসানাকে থানা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

কুর্শা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুর্শা তারাচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাগ্যবান আলীর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয় সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য হাসমত আলী, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সোহাগ আহম্মেদ, কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহন জোয়ার্দ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ। সম্মেলন শেষে আজগার আলী মেম্বর সভাপতি ও তারাচাঁদ আলী সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল করীমকে সহ-সভাপতি, আনারুল ইসলামকে যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

আজ ডাঃ আকবর আলী আহম্মদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিশিষ্ট সমাজসেবক দি কো-অপারেটিভ ইন্ডাষ্ট্রিজ ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সাবেক সভাপতি ও কুমারখালীর সাওতা হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অফিসার এবং কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ কে সিদ্দিকের পিতা মরহুম ডাঃ আকবর আলী আহম্মদের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ নফরসা মাজার সংলগ্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত  দোয়া মাহফিলে সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে  অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহ  ক্যাডেট  কলেজ  থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৬ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন পেয়েছে জিপিএ- এ। অন্যান্য বারের ন্যায় এ বছরও ফলাফলে শতভাগ পাশের গৌরব অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাডেট কলেজটি। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আতিকুর রহমান জানান, ক্যাডেটদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাবকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

বামন্দী বি সি ডি সি’র সভাপতির স্বেচ্ছাচারীতা ও অর্থ বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারীতা, অসদাচারনসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি (বি সি ডি সি) বামন্দী শাখার সভাপতি মিলনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বি সি ডি সি’র সভাপতির পরিচয় দিয়ে মিলন দীর্ঘদিন ধরেই সুকৌশলে নানা ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে আসছেন। কোন বাধাঁ না পেয়ে ইদানিংকালে মিলন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জানা যায় মিলন বামন্দী বাজারের ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক। তবে ব্যবসায়ী তিনি কোন দিনই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেন নি। বেচা-কেনা তেমন একটা হয় না কখনই। প্রচুর অবসর মিলনের। তাই তিনি নিজের দোকান ঘর ফেলে রেখে এ দোকান সে দোকানে ঘোরাঘুরি করে সময় কাটাতেন। অন্যান্য ফার্মেসী মালিকগণ ব্যবসা নিয়ে দারুন ব্যস্ততার কারনে বি সি ডি সি গঠনের সময় তাই মিলনকে সভাপতির দ্বায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে চেয়েছিলেন। মিলনও এ সুযোগটি লুফে নিয়ে এর সদব্যবহার শুরু করে। পিয়ন, দারোয়ান, সেক্রেটারী, সভাপতির দ্বায়িত্ব একাই সামলিয়ে মিলন অল্পদিনেই হয়ে উঠে বি সি ডি সি-র সর্বসেরা। মিলনই চাঁদা তোলে, মিলনই মিটিং ডাকে, মিলনই ঘর পরিস্কার করে, মিলনই রান্না করে,মিলনই মিটিংএ খাবার পরিবেশন করে। মাসে মাসে চাঁদা, মাসে মাসে মিটিং, মাসে মাসে ভোজ, সবই মিলনের দায়িত্বে সম্পন্ন হয়। প্রতি মাসের আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাসেই খরচ দেখিয়ে দেয় মিলন। হিসাব দেবার প্রয়োজন পড়ে না। মিলনের হয় পোয়াবারো। মিলনের অর্থ পিপাসা বাড়ে, এবারে নজর দেয় ঔষধ কোম্পানীর দিকে। কখনো পিকনিক, কখনো মিটিং খরচ, কখনও অন্য কোন অজুহাতে বি সি ডি সি’র নামে মিলন চাঁদা বা অনুদানের নামে নিয়মিত হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। এ অর্থের পরিমান অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে রাখে বি সি ডি সি সভাপতি মিলন। বামন্দীতে ওষধ ব্যবসা করতে হলে মিলনের শর্ত না মানলে কোম্পানীর লোকদের বিপদের আশংকা প্রবল। ফলে হাতিয়ে  নেয়া মোটা অংকের সামান্য অংশের খবর পায় সদস্যরা। সিংহ ভাগ অর্থ নিরবে নিভৃতে মিলনের পকেটে চলে যায়। এখানেই শেষ নয়, মিলনের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে প্রতিমাসে মিলনের নানা চাহিদা পূরন করে আসছে কোম্পানী প্রতিনিধিরা। অবৈধ বা অনিয়ম হলেও ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দের সিংহভাগ ওষধ স্যাম্পল এবং গিফট অত্যান্ত নিভৃতে পৌছে যায় মিলনের কাছে। এছাড়াও প্রতিমাসে  কোম্পানীর লোকেরা নগদ অর্থ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখে মিলনকে। কারন সকলের মধ্যে একটি আশংকা প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যে, কোনভাবে মিলন কোন প্রতিনিধির উপর রুষ্ট হয়ে গেলে যে কোন পথে তার বিপদ নেমে আসবে। বামন্দী মার্কেটে তার ব্যবসা বন্ধ হবে, এমনকি তাকে কোম্পানীর চাকরী হারাতে হতে পারে। এই ভয়ে ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তটস্থ থাকে। মিলনের চাহিদা পূরন করে চলে। অন্যথা হলে মিলন তার সভাপতির পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অপছন্দের লোকের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সাংগঠনিক অভিযোগ রচনা করে। মনগড়া অভিযোগ বি সি ডি সি’র জেলা, উপজেলা নেতৃবৃন্দের নিকট সু-কৌশলে উপস্থাপন করে এবং তাদের সমর্থন আদায় করে নেয়। মিলনের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির বিষয়টি তখন হয়ে যায় সাংগঠনিক। নিরীহ-নিরাপরাধ ব্যক্তির উপর নেমে আসে প্রতিহিংসার খড়গ। আর এভাবেই আতংক, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বামন্দী বাজারের ওষধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের একছত্র অধিপতি সেজেছেন এই মিলন। ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক বি সি ডি সি’র সভাপতি সেজে নিজ দোকানে চালিয়ে আসছেন অবৈধ ব্যবসা। নূন্যতম ডাক্তারী কোন যোগ্যতা না থাকলেও তিনি করেন ডাক্তারী। ফার্মেসীতেই তিনি রক্ত পরীক্ষাগারের অবৈধ বাণিজ্য করছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে বামন্দী বাজারের কয়েকজন ফার্মেসী মালিক জানালেন, একনায়কতন্ত্রও বলতে পারেন স্বৈরতন্ত্রও বলতে পারেন, যা চলছে আমাদের এখানে। তারা বলেন, অখ্যাত কয়েকটি ইউনানী কোম্পানীর ভিটামিন আছে যা আমরা ৪০/৫০ টাকায় কিনি। ওষধের গায়ে বিক্রয় মুল্যে লেখা থাকে ৪০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। মিলনের নির্দেশ বিক্রয় মূল্যতেই ওটা বিক্রি করতে হবে, কমে নয়। আমার আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধবের কাছেও কিছু কম মুল্যে বেচতে পারবো না। যদি বিক্রি করি এবং তা মিলন জানতে পারে তবে আমাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য আছেন, যারা মিলনের অবৈধ উপার্জনের ভাগ পেয়ে থাকেন। তারাই মিলনের সকল অনৈতিক কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং মিলনকে টিকিয়ে রাখছে। বামন্দী বাজার কমিটির নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি বলেন, মিলনের অবৈধ, অনৈতিক এবং বেপরোয়া কার্যক্রম সম্পর্কে হাজারো অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ইতোপূর্বে সে আমাদেরকে না জানিয়ে একটি পিকনিক উপলক্ষে ২৪ ঘন্টা বাজারের সকল ফার্মেসী বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে মাইকিং করেছিল। একক সিদ্ধান্তে সে আরো ঘোষনা করেছিল কোন ফার্মেসী খোলা পাওয়া গেলে তিন হাজার টাকা জরিমানা হবে। আমরা তার দায়িত্বহীনতা এবং ঔদ্ধত্য দেখে বিস্মিত হয়েছি। তবে বর্ত্তমানে তার কার্যক্রম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বি সি ডি সি’র বামন্দীর সদস্যরা কোন পদক্ষেপ না নিলে বাজারের স্বার্থে বাজারের কমিটির পক্ষ থেকে মিলনের সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।