অনেক তথ্য পাচ্ছি, সতর্ক হন – হুঁশিয়ারি দুদক কর্মকর্তাদের

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে হুঁশিয়ার করলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার বিভাগীয় পরিচালক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, প্রধান কার্যালয়ের সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালকদের নিয়ে ‘জরুরি’ এক সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।সব কর্মকর্তাদের মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণের আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “টেলিফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেকের রূঢ় আচরণের তথ্য আমরা পাই, সতর্ক হন।”সম্প্রতি পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় ইকবাল মাহমুদ বলেন, “অনুসন্ধান বা তদন্তে কোনো প্রকার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব, শৈথিল্য, যা কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে, কর্মকর্তাদের এমন কোনো আচরণ কমিশন ন্যূনতম সহ্য করবে না।” তিনি বলেন, “প্রতিটি কর্মকর্তা আমাদের ঠিক ততক্ষণই প্রিয় থাকবেন , যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার সাথে পালন করবেন। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তারা কোনো প্রকার অনুকম্পা পাবেন না।” কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমি বার বার আপনাদেরকে সতর্ক করি, তারপরও যখন অভিযোগ আসে, তখন ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ থাকে না।” দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “অনুসন্ধানের টাইমলাইন নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। এখন থেকে যারা টাইম লাইন অনুসরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের উচিত হবে অপশন দিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ করা। কারণ এ সুযোগ দুদকের বিধিতে রয়েছে।” অনুসন্ধান বা তদন্ত দেরিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “এখন থেকে পরিচালক বা মহাপরিচালক পর্যায়ে কোয়ারি দিয়ে নথি নিচে নামিয়ে দেওয়া যাবে না। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো কোয়ারি দেওয়া যাবে না। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে মানুষের আস্থার প্রতীক বানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কারও গাফলতি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার কাছে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেওয়া হবে না।” ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম উপস্থিতও ছিলেন।

 

ঝিনাইদহে গণধর্ষন মামলার আসামী রুহুল আমিন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে স্কুল ছাত্রী গণর্ধষন মামলার অন্যতম আসামী রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার  রামনগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন খাজুরা মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে স্কুল ছাত্রী গণধর্ষন মামলার আসামী রুহুল আমিন কালীগঞ্জের রামনগর গ্রামে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুজতে বের হয়। এসময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মন্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গনধর্ষন করে। ধর্ষনের পর ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনের কারাদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আল¬ারদর্গা-তাজপুর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাদের এ দন্ড দেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, মাদক বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত আল¬ারদর্গা-তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ তাজপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলাম এবং তুফানসহ অপর দুই মাদক সেবীকে আটক করে। পরে তাদের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) উপ-ধারার সারণি ২১ মতে মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলামকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয় এবং মাদক সেবী দুইজনকে একই আইনের ২৬ ধারার ৫ উপ-ধারা ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়।

একুশে আগস্টের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হলে পিলখানার দায় আ’লীগের – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এর জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তা হলে পিলখানা হত্যাকান্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না? বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বলেছেন- ‘সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।’তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য- প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না। রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকুপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। সমসাময়িক ইতিহাসে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। পরে গবেষণামূলক গ্রন্থেও এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে দেশে দখলদার সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের স্থানীয় অনুচররা সবকালে প্রহসন, মিথ্যাচার ও অন্তর্ঘাতকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি-আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হলো- কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ¬্যানের ফসল। রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই। তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটির প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধু বিএনপি নেতাদের বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা পূরণের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূরণ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দেয়া। তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারকে জড়িত করার ক্ষমতাসীনদের সুস্পষ্ট নীলনকশা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, যা দুঃখজনক। তিনি বলেন, ১/১১-এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই। পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়। মুফতি হান্নানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরস্কারস্বরূপ কাহার আকন্দের বারবার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। একুশে আগস্ট জড়িত থাকলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাতেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত তা হলে এত বড় ঘটনার পর তাদের তো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ দেশনেত্রীর পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কতিপয় নেতা নির্জলা মিথ্যাচার প্রপাগান্ডায় জনগণকে বিভ্রান্ত করার নিস্ফল চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সত্য চেপে রাখা যায় না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৪ চিকিসকসহ ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় নিয়োজিত তিনশ স্বাস্থ্যকর্মী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের ৯৪ জনই চিকিৎসক।সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা। একক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী সামলানো এই সরকারি হাসপাতালের ২৫ জন চিকিৎসকসহ ৬২ জন কর্মী এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুয়ায়ী, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয়জন চিকৎসক এবং ১২ জন নার্স রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এদের বাইরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে দুইজন করে হাসপাতাল কর্মী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা বেড়েছে। সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গু তে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৯২ জন।এই ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীরা ৩০০ জন বলে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪ জন চিকিৎসক, ১৩০ জন নার্স এবং ৭৬ জন হাসপাতাল কর্মী ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।রাজধানীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৫১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসকসহ ৬২ জন কর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।পুরাণ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে শুধু চারজন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই হাপসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজার ৮৪৯ জন মানুষ।শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজার ৪৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এই হাসপাতালের ১১ জন চিকিৎসক এবং ১৪ জন নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।৯২৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন চিকিৎসক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন চিকিৎসক এবং ২২ জন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই হাসপাতালে আড়াই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩৪ জন চিকিৎসক, নার্স ৫৮ এবং অন্যান্য হাসপাতাল কর্মী ৪০- সব মিলিয়ে ১৩২ জন এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে স্কয়ার হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসক ও ২৭ জন নার্স, সেন্ট্রাল হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক ও ১৭ জন নার্স এবং শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ জন চিকিৎসক ও চারজন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

কুমারখালীতে ভিক্ষুকদের মাঝে গরু বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ভিক্ষুক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের চলমান ভিক্ষুক পুর্নবাসন কর্মসূচীর আওতায় তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভিক্ষুকদের নিকট গরু হস্তান্তর করেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ নূর-এ আলমসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এ পর্যায়ে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের মধ্যে ৬ জনকে গরু এবং ৫ জনকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য দোকানসহ মুদি মালামাল প্রদান করা হবে।

অস্বাভাবিক মামলার জট কমিয়ে আনতে হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অস্বাভাবিক মামলার জট কমিয়ে আনতে হবে।তিনি বলেন, দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩১ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা অস্বাভাবিক সংখ্যা। তাই এটিকে অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে।রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘ন্যাশনাল জাস্টিস অডিট বাংলাদেশ : ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।আইন মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস রিফর্ম অ্যান্ড করাপশন প্রিভেনশন (জেআরসিপি) যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানে সারা দেশের সকল জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন।সরকার চায় জনগণ বিচার পাক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাস্টিস অডিটের তথ্যানুযায়ী দেশের শতকরা ৮৭ ভাগ মানুষের বিচার বিভাগের উপর আস্থা আছে। তিনি বলেন, আজকের যে ৩১ লাখ মামলার জট সেটা যদি ১০ বছর পর ৬২ লাখে দাঁড়ায় তাহলে কিন্তু এই ৮৭ ভাগ আস্থা কমে ৩৭ ভাগে নেমে আসবে।তিনি বলেন, মামলা জট কমানোর জন্য সরকার বিদ্যমান আইন সংশোধনসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদক মামলার বিচারের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য এ সম্পর্কিত আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই সংশোধন করার চেষ্টা করা হবে। তা নাহলে অধ্যাদেশ আকারে পাস করে এটা চালু করা হবে। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে যুগ্ম জেলা জজের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজকে এসব মামলার বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হবে। সেজন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা খুব শিগগিরই সংসদে পাস হয়ে যাবে।মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা পৃথিবীর যেকোনো সরকারের জন্য সবচাইতে পবিত্র এবং সম্ভবত সবচাইতে কঠিন দায়িত্ব। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য যে বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয় তার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। এটি সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি সদিচ্ছা, দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার উপরে নির্ভর করে।আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জার্মানির ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর বুর্কহার্ড দুকফে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন, জিআইজেড বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, জার্মান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের ‘রুল অব ল’ প্রোগ্রামের প্রধান প্রমিতা সেনগুপ্ত ও জাস্টিস রিফর্ম প্রকল্পের ম্যানেজার এটিএম মোর্শেদ আলম।

 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে বেগম জিয়া ভালভাবেই জানতেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভালভাবেই সব জানতেন। ফলে এই হত্যাকান্ডের বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের প্ররোচনায় এই হামলা হয় এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়া এই হামলার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবকিছুই জানতেন। তিনি বলেন, এই জঘন্য হামলার জন্য বেগম জিয়াকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।হাছান মাহমুদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ডিপে¬ামা ইঞ্জিনিয়ার ইনিষ্টিটিউট (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সে সময়ে ডিজিএফআই এ ঘটনার তদন্ত করতে চেয়েছিল, বেগম জিয়া তাদেরকে তদন্ত করতে দেননি। ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। আইডিইবি’র সভাপতি একেএমএ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম জাকির হোসেন ভূইয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লা অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। যশোর সরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ আবদুল আজিজ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সেমিনারে পৃথক দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার পর হামলাকারিরা যাতে নির্বিগ্নে পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য পুলিশ এ ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার না করে বরং আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের ওপর টিয়ারগ্যাস সেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। ড.হাছান বলেন, সে সময়ে এ ঘটনার জন্য আওয়ামীলীগকে দায়ি করে বিএনপি নেতা রিজভীর উস্কানিমুলক বক্তব্য দেয়ার জন্য তাকে আইনের আওতায় আনতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি আহবান জানান। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বিএনপি ও তার সহযোগীরা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে খতম করে রাজনীতি থেকে সরাতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাথাপিছু আয় গত ১০ বছরে ৬শ’ ডলার থেকে প্রায় দুই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ থেকে দেশের ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এককালের খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখন খাদ্র রপ্তানির দেশ। তিনি আরো বলেন, অনেক সূচকেই এখন বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির আত্ম নিয়ন্ত্রণ ও আত্ম মর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দীর্ঘদিন স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছিলেন এবং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য একটা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সকল বৈরিতা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে এ জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এ দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। মন্ত্রী এ দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের প্রতি একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ অপরাধে বরকে এক বছর কারাদন্ড

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাল্যবিবাহ অপরাধে, শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ১৩ বছর বয়সী মেয়ে শামীমার বাবা ও বর নুরআলম এবং ইমাম এনামুলকে। বর ও কনের বাড়ী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী কয়ার গাছি আবাসন প্রকল্পে । শামীমার বাবার নাম হারুন অর রশিদ। বর নুরআলমকে ১ বছরের কারাদন্ড বরের মামা হায়দারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, ইমাম এনামুলকে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলাম । এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানার এসআই রফিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঝিনাইদহে ঈদের দিন গণধর্ষণের প্রধান আসামিকে গুলি করে ধরল পুলিশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বাদশাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খাজুরা গ্রামের জোয়ারদারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাদশা ওই এলাকার বাসিন্দা। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, ঈদের দিন রাতে খাজুরা গ্রামে এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়। সে শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে এ মামলার প্রধান আসামি জোয়ারদার পাড়া এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাদশা ছোরা হাতে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি করলে তার পায়ে লাগে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় পাশের বাড়িতে তার মাকে খুঁজতে বের হয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই ছাত্রী। তার চাচা সাংবাদিকদের জানান, ঈদের দিন সন্ধ্যায় পৌর এলাকার খাজুরা গ্রামের মুন্তাজ আলীর ছেলে বাদশা, মন্টু মন্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও একই গ্রামের জাফরের ছেলে মুন্নু তার ভাতিজিকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় তাকে ফেলে যায়। এক পর্যায়ে ভূমিহীনপাড়ার এক ব্যক্তি তাকে (ভাতিজি) বাড়ি পৌঁছে দেন। এরপর সে অভিভাবকদের কাছে এ ঘটনা জানায়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

একুশে আগষ্ট উপলক্ষে বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কমর্চারী ইউনিয়ন ঢাকা  মেট্রোপলিটন সার্কেলের উদ্দ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কমর্চারী ইউনিয়ন ঢাকা  মেট্রোপলিটন সার্কেলের উদ্দ্যোগে শোকাবহ ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন  কেন্দ্রীয় কমিটির  সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মো আমজাদ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন  কেন্দ্রীয় কার্যকরি  সভাপতি মো হালিম  মোল্লা, মো ইদ্রীস মজমুদার। সভাপতিত্ব করেন জাকির  হোসেন। পরিচালনা করেন সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান।  সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ-œসাধারন  সম্পাদক বজলুর রশিদ সরকার,  সাইদুল ইসলাম পিপলু, আলী আহমেদ রাজ, ঢাকা জিপিও সভাপতি মো মাসুদ মিয়া,  সম্পাদক মাসুদুজ্জামান, ঢাকা নগরী উওর বিভাগের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার, আব্দুস সালাম, ঢাকা নগরী দক্ষিন বিভাগের সভাপতি নবীর হোসেন, সম্পাদক আঃ আজিজ, ঢাকা সদর প্রধান ডাকঘর জেলা শাখার সভাপতি সুলতান আহামেদ,  নায়েব আলী, কেন্দ্রীয় সার্কেলের সম্পাদক  আঃ আওয়াল  মেট্রোপলিটন ইউনিট সম্পাদক শফি মোহাম্মদ রেজা। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন-২০০৪ সালে ২১আগস্ট  জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা করে হ্ত্যা করার চেষ্টা করা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমত তিনি প্রাণে  বেচে যান। জামাত-বিএনপি জোট যখন ক্ষমতায়  ছিল ১৭আগস্ট সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা চালাই। এদের বিচার করিতে হবে। ২১আগস্ট বিচারের রায় দ্রুত ‘বাস্তবায়নের দাবী জানায়। আইভি রহমানসহ ২৪জন শহীদে স্বরণে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জিপিও মসজিদের  ঈমাম মাহবুবুল হক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের দ্বিতীয় সভা

কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের ২য় সভা একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. ইসমত আরার পরিচালনায় সভায় ৫টি অনুষদের ডিনসহ ৮ টি বিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বহি: সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবির আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। বহি: সদস্য হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ইবি আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. আবুসাঈদ মোহাম্মদ আলী এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না

ঢাকা অফিস ॥ মশা নিধনে তৎপরতা বাড়লেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্য কমছে না। প্রায় প্রতিদিনই দেড় হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৬২৬ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের দুই দিন নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল মঙ্গলবার এক হাজার ৫৭২ এবং সোমবার এক হাজার ৬১৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ব্যাপকতা বাড়ে জুলাইয়ে, সরকারি হিসাবেই রেকর্ড ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে ওঠে, ৭ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই অবস্থা চলতে থাকে সপ্তাহখানেক, প্রতিদিনই দুই হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে যান। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমে ঈদের পরদিন, ১৩ আগস্ট মাত্র এক হাজার ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে তার পরের দিন থেকেই আবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরমধ্যে একদিন এক হাজার ৪৬০ জন হলেও বাকি দিনগুলোতে সংখ্যাটি দেড় হাজারের বেশিই রয়েছে। ঈদের আগেই এই রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশা নিধনে বিদেশ থেকে নতুন ওষুধ আনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। সেই ওষুধ নিয়মিত ছিটানোও হচ্ছে ঢাকা শহরজুড়ে। মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। মশার প্রজননস্থলগুলো ধ্বংসে সফলতা না এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে বলে গত মাসে সতর্ক করেছিলেন তিনি।সেই সফলতা কতটুকু জানতে চাইলে রোববার সেব্রিনা বলেন, “এখন পর্যন্ত মনে হয় ভালোই কন্ট্রোল হচ্ছে। যদিও এখনও অনেক এরিয়া আছে যেখানে আমাদের কাজ করতে হবে। তবে কার্যক্রম আগের তুলনায় জোরদার হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।”এরমধ্যেও নতুন করে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে থাকায় অগাস্টের এই ২১ দিনে সারা দেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৩৪ জন। আর এ বছর এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৯৯৫ জন।এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে সেরকারি হিসেবে এই সংখ্যা ১৭৪।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানীতে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমলেও সারা দেশে বেড়ে গেছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭১১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল সাড়ে সাতশ। এদিন ঢাকার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯১৫ জন।তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছে।বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ছয় হাজার ২৭৮ জন। রাজধানীতে তিন হাজার ৩৬০ জন এবং ঢাকার বাইরে দুই হাজার ৯১৮ জন।এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৭০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ঢাকায় তিন হাজার ৪১৩ জন এবং দেশের অন্যান্য হাসপাতালে তিন হাজার ৫৭ জন ভর্তি ছিলেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে যত রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার থেকে বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।রাজধানীতে ভর্তি হয়েছেন ৭১১ জন। আর, সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন ৭৬৪ জন। দেশের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১৫ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এক হাজার ৫৪ জন।রাজধানী বাইরে ঢাকা বিভাগে ২৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫২ জন, রংপুর বিভাগে ৪০ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

দুর্নীতির মামলা – গোয়ালন্দের সাবেক ওসি এবং স্ত্রীর সাজা

ঢাকা অফিস ॥ আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের দুই মামলায় গোয়ালন্দ থানার সাবেক ওসি সাইফুল এবং তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছে ঢাকার আদালত।গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় সাইফুল ইসলামকে সাত বছর ও জাকিয়া ইসলাম অনুকে দুই বছর কারাদন্ড দওয়া হয়েছে।পাশাপাশি সাইফুল ইসলামকে তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আর তার স্ত্রীকে কারাদ-ের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাস কারাগারে থাকতে হবে।এছাড়া সম্পদ গোপন ও আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের আরেক মামলায় সাইফুল ইসলামকে পৃথক দুই ধারায় আরও সাত বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।এ মামলায় দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় দুই বছর কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদ- এবং ২৭(১) ধারায় পাঁচ বছর কারাদ-, দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদ- দিয়েছেন বিচারক। পৃথক তিন ধারায় সাইফুল ইসলামের দন্ডাদেশ একসাথে কার্যকর হবে। সে হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাত বছর কারাভোগ করতে হবে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া ইসলাম অনুকে আসামি করে ২০১০ সালের ২২ জুন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোজাহার আলী সরদার।এই মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, দুদক সাইফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণীর নোটিস দিয়েছিল। ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাইফুল ইসলাম নিজের, স্ত্রী ও পোষ্যদের নামে অর্জিত সর্বমোট ৪২ লাখ ৫৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদ গোপন করে কমিশনে তথ্য দেন।আর জাকিয়া ইসলাম ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার তথ্য কমিশনে জমা দেন। ২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ৭৮৬ টাকার উৎস না থাকায় এবং বিপুল পরিমান জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ নিজ দখলে রাখার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।এছাড়া ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৯২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাইফুলের ইসলামের বিরুদ্ধে একই দিন মোজাহার আলী সরদার অন্য মামলাটি দায়ের করেন।২০১১ সালের ৪ আগস্ট আদালত দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

জেলের তালা ভাঙব খালেদা জিয়াকে আনব – দুদু

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিবকে বের করতে ¯ে¬াগান দেয়া হতো- জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনব। তেমনি বর্তমানে স্লোগান দিতে হবে- জেলের তালা ভাঙব খালেদা জিয়াকে আনব।’ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলন আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে, স্লোগান দিতে হবে। দুর্বার আন্দোলন ছাড়া তাকে মুক্ত করার কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, জনগণের নেত্রী খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন, তা হলে তিনি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাদের অধিকারের কথা বলতেন। জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতেই খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে দুদু বলেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে নির্যাতন করায় তিনি বিদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করছে সরকার এবং তাকে দেশে আসতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার জানে জিয়া পরিবারকে শেষ করে দিতে পারলে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যাবে। সেই লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে। তিনি বলেন, গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। তারেক রহমানকে দেশে ফেরাব। মানববন্ধনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এবার জাকির নায়েকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের আলোচিত ধর্মীয় আলোচক ড. জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় এক মন্তব্যের জেরে বিপাকে পড়েছেন। মালয়েশিয়ায় সভা-সমাবেশে তার বক্তৃতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। খবর মালয় মেইলের। বুধবার মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি আব্দুল হামিদ জানান, সামাজিক মাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকেই সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাকির নায়েককে। পুলিশ মহাপরির্দশক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে যেকোনো ধরনের বক্তব্য দেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জাকির নায়েককে। বিষয়টি নিয়ে যেন আমরা পূর্ণ তদন্ত সম্পন্ন করতে পারি সে লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন প্রত্যেক রাজ্যের পুলিশ প্রধান জাকির নায়েকের বক্তব্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিষয়গুলো দেখবে। আইজিপি বলেন, কেলানতানের ঘটনার পর জনমনে দ্বিধা ও অস্বস্তি কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঝামেলা এড়াতে তার বক্তব্য প্রদানে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে এই নির্দেশনা এসেছে। এটি অস্থায়ী। তবে পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন না হয় তবে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি বলেন, এটা স্পষ্ট যে আমরা এমন ধর্মীয় বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিষয় চাইছি না। রাজনৈতিক বিষয়ে ধর্মীয় বক্তব্য দেয়া ঠিক নয়। সেটা জাতীয় পর্যায় হোক কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। ইতোমধ্যে মালায়েশিয়ায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার। সম্প্রতি জাকির নায়েককে উদ্ধৃতি দিয়ে মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম সংবাদ ছেপেছে, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছেন। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেন বেশি। জাকির নায়েক এ ধরনের খবরের প্রতিবাদ করেছেন। তার দাবি, সংবাদমাধ্যম তার বক্তব্য ভুলভাবে তুলে ধরেছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকির নায়কের এ মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে সত্যতা পেলে জাকির নায়ককে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এ বিষয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, জাকির নায়েকের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি রয়েছে। তবে যদি তিনি জাতির জন্য ক্ষতিকর কিছু করে থাকেন, আমরা তার এ অনুমতি বাতিল করতে পারি। তিনি বলেন, জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এ মুহূর্তে পুলিশ তদন্ত করছে। যদি প্রমাণিত হয় তা হলে তার স্থায়ী আবাসিকতা বাতিল করা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়বে। প্রসঙ্গত ভারতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

 

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে কমিশন ঃ দুদক চেয়ারম্যান

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিকাশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে কমিশন। তিনি গতকাল রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকেকালে এ কথা বলেন।ইউএনডিপি’র তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফিলিয়াট ম্যাটসেজা।বৈঠকে কমিশনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমসহ সাবির্ক কার্যক্রম ফিলিয়াট ম্যাটসেজাকে অবহিত করা হয়।এ সময় ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে জাগ্রত করার লক্ষ্যে দেশের স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৮ হাজার “সততা সংঘ” গঠন।তিনি বলেন, এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা, নগর ও মহানগর পর্যায়ের স্বচ্ছ এবং সৎ মানুষদের নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিও দুর্নীতি প্রেিতেরাধে স্ব স্ব উদ্যোগে উত্তম চর্চার বিকাশে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি, দীঘসূত্রিতা এবং জনহয়রানি লাঘবের লক্ষ্যে কমিশন ২৮ টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে। এসব টিম সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপচয়ের দিকসমূহ পর্যবেক্ষণ এবং বিশে¬ষণ করে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণসমূহ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদনসমূহ সরকারের নিকট পেশ করা হচ্ছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন বিজনেস প্রসেস রিইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করছে দুদক।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি অন্যতম কৌশল হচ্ছে গণশুনানি। গণশুনানিকে সরকারি সেবা প্রত্যাশী জনগণ এবং সেবা প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি প্রক্রিয়াও বলা যেতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাদিহতা নিশ্চিতে কাজ করছে।তিনি বলেন, কমিশনের এনফোনর্সমেন্ট ইউনিট প্রায় প্রতিদিনই একাধিক স্থান বা সংস্থায় দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছে। এমনকি আজই কমপক্ষে ১০ টি স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।তিনি বলেন, কমিশনের প্রায় ৭০ ভাগ মামলায় অপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। কমিশন শতভাগ মামলায় শাস্তি প্রত্যাশা করে। তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা এখনও কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছায়নি উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিগত তিন বছরে প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তাকে (একই কর্মকর্তাকে একাধিক বিষয়ে একাধিক বার) প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা টেকনিক্যাল সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।ফিলিয়াট ম্যাটসেজা দুদকের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুর্নীতি বৈশি^ক সমস্যা। দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কাজে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে।

একুশ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেকের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ঃ ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে হওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অবশ্যই উচ্চ আদালতে যাব। এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের জবানবান্দিতে আছে তারেক রহমানের নির্দেশ মেনেই তারা সেদিন অপারেশন চালিয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের যেমন বিচার হয়েছে, হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ডদেরও সর্বোচ্চ সাজা হতে হবে।’ গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সে দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মূল টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছিলো। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি যখন বেঁচে আছেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে ২১ আগস্ট হত্যাকান্ডেরও বিচার হবে এ বাংলার মাটিতে। বাংলার মানুষ এর জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের দিনে আমাদের শপথ রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও সম্প্রদায়িকতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোকাবিলা করবো।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্টের হত্যাকান্ড একই সুত্রে গাঁথা। ২০০৪ সালের এই দিনে তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান টার্গেট করে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে সন্ত্রাসীদের দিয়ে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে রক্ত¯্রােত বইয়ে দিয়েছিল বিএনপি-জামাত সরকার। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে কর্মসম্পর্ক থাকা দরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে সেটা চিরদিনের জন্য শেষ করে দিয়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরেও খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া কি ব্যবহার করেছিলো সেটা দেশের মানুষ জানে। খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর শেখ হাসিনা পুত্র হারা মাকে সান্তনা দিতে তার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংলাপের দরজাও বন্ধ করে দিয়েছে বিএনপি।

কুষ্টিয়া চিনিকলের সাবেক শ্রমিক নেতা ইস্কার আলী মীরের ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক নেতা, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি ফারুক হোসেনের বাবা ইস্কার আলী মীর ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না এলাহে রাজিউন)। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত কারনে ৪/৫দিন আগে ভর্তি হন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া চিনিকল প্রধান ফটকে প্রথম নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরওয়ার মুর্শেদ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মীর রেজাউল ইসলাম বাবু, চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানসহ সকল কর্মকর্তা, শ্রমিক ও কর্মচারী ও তাদের প্রতিনিধি, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে বাদ যোহর ঝালুপাড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাযা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। ইস্কার আলী মীর স্ত্রী, ৭পুত্র ও ৪কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

গ্রেনেড হামলা দিবসে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের দোয়া মাহফিল ও প্রতিতবাদ সমাবেশ

আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধায় কুষ্টিয়া জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের মিলপাড়াস্থ অফিসে এ দোয়া ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন  নেসা বিউটি। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মিন্টি, সহ-সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীর, সদস্য আসাদুল হক, ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুল, সদস্য খোমীনি আহমেদ, কুষ্টিয়া শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেওয়ান মাসুদুর রহমান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, শহর শ্রমিক লীগের মহিলা সম্পাদিকা সুমিতা রানী শাহা, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সদস্য আফসানা মিমি, সদস্য ডালিয়া ইসলাম, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম সহ শ্রমিক লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এসময় বক্তারা প্রথমেই ১৫ আগস্টের নির্মমভাবে হত্যার শিকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নিহত সকল সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর ও একুশে আগস্ট হামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের  বিচারের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গায় ৪৮ প্রহরব্যাপি মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান পরিদর্শন করলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় ৪৮ প্রহরব্যাপি মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান পরিদর্শন করলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস ও পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান (পিপিএম)। গতকাল সন্ধ্যার পর আলমডাঙ্গা রথতলার হরিবাসর আঙ্গিনায় মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অতিথি ছিলেন মহানামযজ্ঞানুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি গিরিধারী লাল মোদী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কলিমুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ হাসান কাদির গনু, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি, দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ^াস, পাবনা ঈশ^রদী শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকার। এছাড়াও ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি বিজয় লাল মোদী, গণেশ লাল মোদী, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি প্রশান্ত অধিকারী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি খন্দকার প্রেসক্লাব সভাপতি শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, পৌর কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা পূজা উদযাপন  কমিটির সভাপতি ডা. অমল কুমার বিশ^াস, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনীন্দ্রনাথ দত্ত, সম্পাদক বিশ^জিৎ সাধুখাঁ,  সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন সরকার, পৌর পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি পরিমল কুমার ঘোষ কালু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের পৌর সভাপতি পলাশ আচ্যার্জ, সহসভাপতি মদন সাহা, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা গোপাল মজুমদার, বিদ্যুৎ কুমার সাহা, অপূর্ব কুমার সাহা, রাজ কুমার, জয় কুমার, পবন কুমার ভৌতিকা, জয় বিশ্বাস, লিপন বিশ্বাস, অপুর্ব সাহা, রাজ কুমার জালান, কৃষ্ণপদ গোস্বামি, সুশান্ত কুমার রায়, রাজ কুমার রমেকা, হারান অধীকারি, নিমাই রায়, অজিত ভারতি, শুনিল অধিকারি, উৎপল দত্ত,  প্রসেনজিৎ দ্বীপ প্রমুখ।