দুটি আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনলেন কাদের সিদ্দিকী

ঢাকা অফিম ॥ টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। দলটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও তার ছোট ভাই সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি আজাদ সিদ্দিকীও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক ও জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেত্রী লিপি বেগম টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে এবং জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী), টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে ও টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে উপজেলা শাখার সভাপতি বাবুল দেওয়ান মনোনয়নপত্র কিনেছেন। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এবং ২০০১ সালে নিজের প্রতিষ্ঠিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।

মামলা-গ্রেপ্তার

ইসির হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপির চিঠি

ঢাকা অফিস ॥ নয়া পল্টনে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘বানোয়াট’ আখ্যায়িত করে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি শুক্রবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পৌঁছে দেন দলটির কেন্দ্রীয় মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন খান। গত ৮ নভেম্বর নির্বাচনের পুনঃতফসিলের পর সারা দেশে ৪৭২ জন নেতাকর্মীকে ‘মিথ্যা ও গায়েবি মামলায়’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়। নাম-পরিচয়সহ গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের একটি তালিকাও চিঠির সঙ্গে দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে লেখা ওই চিঠিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে মনোনয়ন কার্যক্রম চলার মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতাকর্মীরা। সে সময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ পল্টন থানায় তিনটি মামলা দায়ের করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীসহ ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, রুহুল কবির রিজভী, আফরোজা আব্বাস, নবী উল¬াহ নবী, আকতারুজ্জামান ও কফিল উদ্দিনসহ সে সময় দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের আসামি করা হয়েছে এসব মামলায়। বিএনপি মহাসচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, “এ ধরনের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনগণের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।” পল্টনের ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, ফরম তুলতে এসে বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।তারা বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের চিঠিতে উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফরম ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজ চার দিন ধরে নয়াপল্টনের আশপাশে যত লিঙ্ক রোড আছে সেখানে পাহারা বসিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের দিকে আগমন ও প্রস্থানরত নেতাকর্মীদের তল¬াশি করছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনোনয়ন ফরম কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে।”

মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতিবাদে ব্রিটিশ মন্ত্রীদের পদত্যাগ

ঢাকা অফিস ॥ ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) খসড়া চুক্তির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডোমিনিক র‌্যাবসহ আরো কয়েকজন মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার চুক্তির প্রতিবাদে প্রথম পদত্যাগ করেন ডোমিনিক র‌্যাব। এর এক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন কর্সংস্থান ও পেনসন মন্ত্রী এস্টার ম্যাকভে। জনগণ মে’র ব্রেক্সিট চুক্তিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসাবেই প্রত্যক্ষ করবে মন্তব্য করে পদত্যাগ করেন র‌্যাবের জুনিয়র ব্রেক্সিট মন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান। এছাড়া, জুনিয়র উত্তর আয়ারল্যান্ড মন্ত্রী শাইলেশ ভারা এবং পারলামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি অ্যান মারিয়ে ট্রেভেলিয়ানও পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। পদত্যাগের এ হিড়িকে টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়ল টেরিজা মে’র সরকার। কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তারা বুধবার ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে একমত হন।এদিন দুপুরেই মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে খসড়া নথিটির বিষয়ে মন্ত্রীদের সমর্থন চাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র। চুক্তিটির ব্যাপক বিরোধিতা হয়েছে এদিনই। মন্ত্রিসভায় ৫ ঘণ্টার উত্তপ্ত অধিবেশনে সিনিয়র বেশ কয়েকজন মন্ত্রী মে’র ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আপত্তি তোলেন। ব্রেক্সিট মন্ত্রী র‌্যাব বলেন, “উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে চুক্তিতে যে বিধান রাখা হয়েছে তা যুক্তরাজ্যের অখন্ডতার জন্য হুমকিস্বরূপ।” ওদিকে, মন্ত্রী এস্টার ম্যাকভে আপত্তি জানিয়ে বলেন, চুক্তিটিতে তহবিল, আইন, সীমান্ত এবং বাণিজ্য নীতির ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণের অভাব আছে। এতে করে যুক্তরাজ্য ব্রাসেলসের সঙ্গে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থেকে যাবে বলেই তার আশঙ্কা। এর আগে জুনিয়র উত্তর আয়ারল্যান্ড মন্ত্রী শাইলেশ ভারাও একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মে’র ব্রেক্সিট চুক্তিটিতে যুক্তরাজ্য কখন সারবভৌম দেশ হবে তার কোনো সময়সীমা আঁচ করা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে হাউজ অব কমন্সকে বলছেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় এ চুক্তির কাজ শেষ হোক। তবে বিরোধীদলের নেতা জেরেমি করবিন এ চুক্তিকে একটি বাজে চুক্তি আখ্যা দিয়েছেন। মে বুধবার সন্ধ্যায় খসড়া ব্রেক্সিট চুক্তি ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। ইইউ এরই মধ্যে সতরক করে বলেছে, ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে খসড়া চুক্তি হলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো অনেক কাজ বাকী। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য ইইউ বেশ কয়েকটি বৈঠকেরও দিন নিরধারণ করেছে। এরই একটি হতে পারে ২৫ নভেম্বরে। ওই বৈঠকে ব্রেক্সিট চুক্তিটি অনুমোদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মে চুক্তিটিতে তার মন্ত্রিসভার সমর্থন পেলেও পারলামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন করাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিএনপির অভিযোগ ‘জনসমর্থন হারানোর’ হতাশা থেকে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনসমর্থন হারানোর হতাশা থেকেই দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা দলটি এ ধরনের অভিযোগ করছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। আসলে জনসমর্থনের যে পারদ, তাতে তাদের অবস্থান নিচের দিকে। তারা অনুধাবন করতে পেরেছে, তারা হতাশা থেকে বেপরোয়া হয়ে গেছে এবং বেপরোয়া বক্তব্য দিচ্ছে।” ভোট সামনে রেখে কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসছেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবারও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিচ্ছে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সরকারি দলের লোকজন ‘অবাধে বিচরণ করছে’। ওই ভবন এখন ‘আওয়ামী লীগের অফিসে’ পরিণত হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি’ এখন বিএনপির ধানের শীষে ভিড়েছে। “যারা এতদিন গণতন্ত্রের বেশে ছিল, তারা ছদ্মবেশী। তারা এতদিন মুক্তিযুদ্ধের নানা বুলি ছড়িয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধেও ছিল, তারা ছদ্মবেশী মুক্তিযোদ্ধা।  নির্বাচনে জেতার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করতে থাকে। তাদের সবার পরিচয় সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এটার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।” বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মোট ১১টি নিবন্ধিত দল তাদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। এর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত দলগুলো হল- এলডিপি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও জোটগতভাবে প্রতীক ‘ধানের শীষ’ প্রতীক ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ভোট সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলবে, ভাঙচুর করবে, ২০ জন পুলিশকে আহত করে হাসপাতালে পাঠাবে, এই অপকর্ম সন্ত্রাস, সহিংসতার কাজ কি বিনা শাস্তিতে ঢাকা পড়ে যাবে?” নয়া পল্টনে দুদিন আগে পুলিশের সঙ্গে বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর এই দুঃসাহস তারা কীভাবে দেখায়? অপরাধ করলে কী অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া অপরাধ? এটা ক্রিমিনাল অফেন্স, অ্যাক্ট অব টেররিজম। এ ধরনের অপরাধ বিনা শাস্তিতে যাবে না।”

নির্বাচন ভবনটি এখন আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সব দলকে সমান সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল শুক্রবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তাদেরকে নানা ধরনের তথ্য দিয়ে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সরকারি দলের লোকজন অবাধে বিচরণ করছে। এই ভবনটি এখন আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে।” আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবলা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘নিয়মিত অফিস করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। ইসি সচিবসহ কমিশনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাবলার কয়েকটি আলোকচিত্র সংবাদ সম্মেলনে দেখিয়ে রিজভী বলেন, “কমিশনের কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির এই সদস্য। তার ভয়ে তটস্থ কমিশনের বিভিন্ন স্তরের মেধাবী কর্মকর্তারা। “গোপনে তথ্য না দিলে সরকারবিরোধী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে বদলিসহ নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন বাবলা। আমাদের কাছে এরকম অনেক অকাট্য তথ্য প্রমাণ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের সাথেও তার বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। “ গত দেড় বছরে এ রকম ‘অসংখ্য ঘটনা’ কমিশনের নজরে আনা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিজভী। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খানের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততারও অভিযোগ আনেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক  আরিফা সুলতানা রুমাসহ গ্রেপ্তার ৬৮ নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন ও শাহীন শওকত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গা কালেজিয়েট স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় ও অভিভাবক সমাবেশ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা ঐতিহ্যবাহী কালেজিয়েট স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজীয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ সাংবাদিক জামসিদুল হক মুনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবীর, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুজ্জোহা, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মীর শফিকুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ্ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, রয়েল পার্সেলের এজেন্ট বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক হামিদুর রহমান সন্টু, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত সাধুখা, দৌলতপুর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান। প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজার উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন সৌখিন আলমঙ্গীর হোসেন, বেলগাছী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসান সাজিদ হাবিব, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মালেকা আরজুমান বানু, সুমাইয়া মুক্তা, জুবিরিয়া বেগম, ডালিয়া খাতুন তনিমা আফরিন, সাবরিনা লাইজু, রিমি, পিংকী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সঙ্গীত অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন রুদ্র ও তৌফিকা। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ¯িপ্রং টাচ, আলমডাঙ্গা।

নরসিংদীতে আ’লীগের দুপক্ষের পৃথক সংঘর্ষে পরীক্ষার্থীসহ নিহত ৪

ঢাকা অফিস ॥ নরসিংদীতে পৃথক স্থানে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, তারা ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ও নীলক্ষায় পৃথক এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ১০ জন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত দুজন হলেন- বাঁশগাড়ি গ্রামের আবদুল¬াহ ফকিরের ছেলে ও স্থানীয় বাঁশগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থী তোফায়েল রানা (১৬), বীরগাও কান্দাপাড়া গ্রামের ওসামান মিয়ার ছেলে সোহরাব মিয়া (৩০) ও নীলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের সোবান মিয়ার ছেলে স্বপন (২৭)। অপর নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানা স্থানীয় রাজনীতিতে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সিরাজুল হকের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের হামলা ও পাল্টা হামলায় চেয়ারম্যান সিরাজুল হকসহ একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে শুক্রবার সকালে বাঁশগাড়ি গ্রামের বালুমাঠ এলাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও বাবুল মেম্বারের সমর্থক এবং প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক জামাল, জাকির ও সুমনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানা নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন পেয়েরাকান্দী গ্রামের সফর আলীর দুই ছেলে সুমন মিয়া (২৮), মামুন মিয়া (২৫) ও মির্জাচর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে সুমনসহ (২৬) ৬ জন। তাদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানার বাবা আবদুল¬াহ ফকির বলেন, ঝগড়া-বিবাদের জন্য এলাকা ছেড়ে পরিবার নিয়ে নরসিংদী চলে এসেছি। ছেলে পরীক্ষার খোঁজখবর নিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এভাবে আর কত বাবার বুক খালি হলে থামবে বাঁশগাড়ির এই রক্তক্ষয়ী বিবাদন্ড তা আমাদের জানা নেই। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। এদিকে পৃথক ঘটনায় শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নীলক্ষার গোপীনাথপুর বীরগাও কান্দাপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে সোহরাব মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৪০ জন। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নীলক্ষা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এরই জের ধরে শুক্রবার দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আবদুল হক সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় তাজুল ইসলাম সরকারের সমর্থকরা। আবদুল হক সরকার ও তাজুল ইসলাম সরকার দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় সদস্য। হামলার একপর্যায়ে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব মিয়া ও স্বপন নিহত হন। এতে করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে নিলক্ষা ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম জানান, বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হত্যার পর তার হত্যাকারীরা গাঢাকা দেয় এবং তারা নিজ এলাকা ছেড়ে সফি মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মূলত সিরাজুল ইসলাম ও সাহেদ সরকারের সমর্থকদের ঝগড়া নিলক্ষা ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়ে। রায়পুরা থানার ওসি মহসিন উল কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পৃথক দুটি ঘটনাই আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাশঁগাড়ী, নিলক্ষাসহ কয়েকটি গ্রামে বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

গাংনীর সীমান্তবর্তি খাসমহল গ্রামে মহিলার লাশ উদ্ধার – স্বামী আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তি খাসমহল গ্রামের মাঠের একটি পুকুর পাড় থেকে জাহান্নারা খাতুন (৪২) নামের এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জাহান্নারা খাসমহল গ্রামের রেজাউল হকের স্ত্রী ও একই গ্রামের আহম্মদ আলীর মেয়ে। এ ঘটনায় তার স্বামী রেজাউল হককে আটক করেছে গাংনী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে গাংনী থানা পুলিশের  একটিদল জাহান্নারা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, ৩ সন্তানের জননী জাহান্নারা খাতুনের সাথে স্বামী রেজাউল হকের সাংসারিক কাজ-কর্ম নিয়ে  প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে জাহান্নারা খাতুনের সাথে স্বামী রেজাউল হকের ঝগড়াও হয়েছিল। এ কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে জাহান্নারা তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। গতকাল শুক্রবার সকালে গ্রামের ধলার বিল নামক মাঠের একটি পুকুরপাড়ে স্থানীয় কৃষকরা জাহান্নারার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। স্থানীয় কয়েকজন জানান- জাহান্নারার  পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে স্বামীর সাথে ঝগড়া হওয়ার কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহান্নারা খাতুনের বড় ছেলে মিলন হোসেন জানান- রাতে আমার মা নানার বাড়িতে ছিল। আমার বাবাই তাকে মোবাইলফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান, জাহান্নারা খাতুনের মুখে ও চোখে রক্তের দাগ রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে-শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ভাবে জাহান্নার স্বামী রেজাউল হককে আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে গতকালই বিকেলে তার বাবার পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।

শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সভা

নিজ সংবাদ ॥ শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর-ই- আলম। সভা পরিচালনা করেন শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার বিশ্বাস। সভায় বক্তব্য রাখেন শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি নন্দ গোপাল বিশ্বাস, নিতাই কুন্ডু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস, সজিব কুমার রায়, সাধন কুমার কর্মকার, কোষাধ্যক্ষ এ্যাডঃ নীল রতন কুন্ডু, সহ-কোষাধ্যক্ষ অশোক কুমার দত্ত, নিলয় কুমার সরকার, মহিলা সম্পাদক নমিতা বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক সুনীল দত্ত, ধর্মীয় সম্পাদক রাম কৃষ্ণ রায়, সহ-ধর্মীয় সম্পাদক বট কৃষ্ণ পাল, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, সহ-প্রচার সম্পাদক সুপ¬ব কুমার ঘোষ,  পাঁচু গোপাল বিশ্বাস, রমেশ চন্দ্র ঘোষ, নিতাই বিশ্বাস প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন বিষয় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গাংনীর বামন্দী শহরে আ.লীগ নেতা এমএ খালেকের গণসংযোগ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বামন্দী শহরে গণসংযোগ করেছেন মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। গতকাল শুক্রবার তিনি বামন্দী শহরের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কুশলবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল ইসলাম রিন্টু চৌধুরী, গাংনী পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ।

আ.লীগের কাছে ১০টি আসন চায় সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট

ঢাকা অফিস ॥ সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের সভা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে ১০টি আসন চায় সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) জোটের পক্ষ থেকে ১০টি আসন চেয়ে প্রস্তাব জানানো হলেও তাদেরকে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি আওয়ামী লীগ। সাতটি দল নিয়ে ১৩ দিন আগে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে এ জোট গঠিত হয়। পরবর্তীতে আরও দুটি দল এ জোটে যুক্ত হয়। জোটের দলগুলো অনিবন্ধিত হলেও আওয়ামী লীগের আনুকূল্য নিয়ে ক্ষমতায় যেতে তৎপর এ জোটের নেতারা। জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির ওলানা জাফরুল্লাহ খান। তিনিই একই সঙ্গে হেফাজতে সলামেরও শীর্ষ নেতা। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যদের প্রতিনিধি দল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ভাপতির কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জোটের ১০ নেতার জন্য ১০টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে ফের বৈঠকে করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে লিখিতভাবে   সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের কাক্ষিত আসনের তালিকা দেওয়া হয়। তালিকায়  জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের জন্য নেত্রকোনা-২ (সদর), জোটের মহাসচিব ও ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আহসানের জন্য কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী), বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলামের জন্য নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া), রিভারেল পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইরফান বিন তুরাব আলীর জন্য কুমিল্লা-৮ (বরুড়া),ইসলামী ডেমোক্রেটিক ফোরামের চেয়ারম্যান মাওলানা হারিসুল হকের জন্য নরসিংদী-৪,ন্যাশনাল উলামা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমীনের জন্য ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল),বাংলাদেশ মুসলিম জনতা পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমানের জন্য হবিগঞ্জ-৪,  বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কাজী মাসউদুর রহমানের জন্য কুষ্টিয়া-১, বাংলাদেশ গণ কাফেলা’র সভাপতি হাকিম গোলাম মোস্তফার জন্য শেরপুর-৩, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (একাংশ) মহাসচিব মাওলানা মুহিব্বুল্লা আশরাফের জন্য ঢাকা-২  (কামরাঙ্গীরচর) আসনের জন্য প্রস্তাব দেয়। এপ্রসঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আহসান বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত। আমরা নৌকা প্রতীকে ভোট করতে আগ্রহের কথা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। তারা আমাদের সঙ্গে আবারও বসবেন বলে জানিয়েছেন।’ সূত্র জানায়, ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে সাতটি দলের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোট’ নামে নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ হয়। এ জোটের শরিক সাতটি দল হচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন, ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ, লিবারেল পার্টি, ইসলামী ডেমোক্রেটিক ফোরাম, ন্যাশনাল উলামা ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ মুসলিম জনতা পার্টি। পরবর্তীতে এজোটে যোগ দেয় বাংলাদেশ গণ-কাফেলা ও  বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি। এদিকে, ১৩ দিন আগে জোট গঠিত হলেও ৩০০ আসনে নির্বাচনে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম। তিনি  বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জনসেবা আন্দোলনের কার্যক্রম শুরু করেন। মুফতি ফখরুল একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন। মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জোট থেকে ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তিুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে এ জোটের ১৭২৪টি মনোনয়ফরম বিক্রি হয়েছে। ৩০০ আসনে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার কথাই আজকে (শনিবার) বেঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমরা ১০টি আসনের নিশ্চয়তাও চেয়েছি।

রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন লায়ন এ্যাড: আ: রাজ্জাক খান

কালুখালী প্রতিনিধি \ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ আসন (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক লায়ন এ্যাড: আব্দুর রাজ্জাক খান। তিনি গতকাল বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এসময় বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান জিরু, শাহাদত হোসেন সাইফুল, এ্যাড: মোজাম্মেল হক ছাত্রদল নেতা আজমির হোসেন, জাবিউল­াহ খান জাবের, শরিফুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে লায়ন এ্যাড: আব্দুর রাজ্জাক খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনেক দিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করে আসছি এবং কেন্দ্র ঘোষিত সকল কার্যক্রম নিষ্ঠার সাথে পালন করেছি। সে কারণে তৃণম‚ল নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন দল থেকে মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হতে পারবো বলে আশা রাখি।

জামিন পেলেন আলোকচিত্রী শহিদুল

ঢাকা অফিস \ নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে এক মাস আগে অন্য একটি বেঞ্চের দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন ও জ্যেতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জামিন পাওয়ায় শহিদুল আলমের মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না। হাই কোর্ট থেকে আজ বলা হল, যেহেতু উনাকে অনেকদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে, ১০২ দিন হয়ে গেছে এবং রিমান্ডে নেওয়ার পরও কোথাও তিনি কখনও স্বীকার করেননি যে এরকম কোনো বক্তব্য তিনি দিয়েছেন; আজ উনাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। এই আইনজীবী বলেন, শহিদুলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে আর পুলিশ প্রমাণ হিসেবে যা দিয়েছে, সেগুলোর ‘মিল নেই’। যেহেতু তিনি এই উপমহাদেশে এমনকি সারা বিশ্বের একজন নামকরা আলোকচিত্রী, এই বিষয়টাও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। এই মুহূর্তে উনার মুক্তি পেতে বাধা নাই। সরকার যদি আবারও বিরোধিতা করে সেটা পরে দেখা যাবে।” জামিন আদেশের পর শহীদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি খুবই খুশি। বাংলাদেশের বিচারালয়ের ওপর আস্থা ফিরে পেয়েছি। এটা (জামিন) হওয়ারই কথা ছিল।” অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ বলেন, এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিলে যাবেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৩ ও ৪ অগাস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে এসেছিলেন অধিকারকর্মী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন। এরপর ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা করে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠায়। ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করলে ৩ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে গত ৭ অক্টোবর হাই কোর্ট শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের ওপর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও গত ১ নভেম্বর মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।এরপর সহিদুল আলমের আইনজীবীরা বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পেলেন।

হেলমেটধারীরা ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার’ ঃ রিজভী

ঢাকা অফিস \ নয়া পল্টনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। আবারও একতরফা নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘বিরোধী দল শূন্য’ করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর এবং পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন হেলমেট পরিহিত। এই হেলমেটধারীরা ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার’ দাবি কওে গতকাল বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে। যারা আগুন দিয়েছে তারা পুলিশের প্রটেকশনে এই নাশকতার কাজ করেছে, এরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের মহানগরের নেতা, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে ম্যাচের কাঠি নিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছে যে ছেলে, সে গুলশান থানা ছাত্রলীগের নেতা। নাম তার অপু। রিজভী তার এই পরিচয় দিলেও পুলিশ বলছে, ওই যুবক বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের পল্টন এলাকার আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহজালাল খন্দকার কবীর। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও এক ফেইসবুক পোস্টে অগ্নিসংযোগকারীকে ছাত্রদল নেতা ‘অপু’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ফেইসবুক পোস্টে তাকে গুলশান থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু বলে প্রচার করার প্রেক্ষাপটে তাদের দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, তাদের  গুলশান থানা কমিটির ওই নেতার নাম মাহবুবুর রহমান মিথুন। দুজনের ছবিও দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে, যাতে তাদের চেহারা ভিন্ন বলে প্রতীয়মাণ হয়। ওই ছাত্রদল নেতাকে ধরতে অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, নাশকতায় জড়িত অন্তত ১০জনের পরিচয় সম্পর্কে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়াও থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। ঘটনার সময় এবং পরে প্রায় ৬৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মিশু বিশ্বাস বলেন, “এরা প্রত্যেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।” এই ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় মীর্জা অব্বাসসহ প্রায় পৌনে দুইশত নেতাকর্মীর নাম উলে¬খ করে মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, “পুলিশের গাড়ি, সেখান থেকে পুলিশ সরে গেল কেন? এটা তো পুলিশেরই কাজ। পুলিশের গাড়ির ওপর এই হেলমেট ধারী কে? আপনাদের মনে আছে এই হেলমেটধারী কী তান্ডব করেছিল?” ওই ঘটনার যে সব ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে স¤প্রচারিত হয়েছে তাতে দেখা যায় লাঠি উঁচিয়ে বাড়ি দিতে উদ্যত এক হামলাকারীর সামনে গাড়ি থেকে নেমে উল্টো দিকে পালিয়ে যান একজন চালক। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবিতে হেলমেট পরা এক যুবককে দেখা গেছে বিক্ষব্ধ ভঙ্গিতে, যার কথা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে। ওই যুবকের পরিচয় এখনও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস। নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর এখনও নির্বাচন কমিশন থেকে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা না আসায় উদ্বেগ জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “বিগত ১০ বছর আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে প্রচুর পরিমাণ বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমাদান অত্যন্ত জরুরি হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এতেই প্রমাণিত হয়, ইসি বিশেষ দলের পক্ষেই নির্বাচনী মাঠ সমতল করতে ব্যস্ত রয়েছে।” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “কমিশন স্ববিরোধী বক্তব্য রাখছে। গতকাল তারা বলেছে যে, নয়া পল্টনে শোডাউন আচরণ বিধি লঙ্ঘন নয়। তাহলে কোন সাহসে পুলিশ বিএনপির উচ্ছ¡াসমুখর উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ওপর সহিংস আক্রমণি চালিয়েছে? এটা কার নির্দেশে এই পৈশাচিক আক্রমণ চালানো হয়েছে? “জনগণ বিশ্বাস করে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত করার নির্দেশদাতা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তিনি ইসিকে দিয়ে এই কাজটি করিয়েছেন। একতরফা নির্বাচনে জয়লাভ করতে বিরোধী দল শূন্য করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের দিয়ে এই নাশকতা করা হয়েছে।” রিজভী বলেন, “প্রথমেই পুলিশ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত করে। এই গাড়িচাপায় অন্তত ২০ জনের অধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ কীভাবে জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিল, সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই।” বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন বলে ওবায়দুল কাদের যে প্রশ্ন তুলেছেন সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা বলতে চাই, জনগণ এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। তারপরে বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর কে হবে, তা তারাই নির্ধারণ করবেন। গণতন্ত্রের লড়াই করে করে গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ান হয়েছে, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াই এদেশের প্রধানমন্ত্রী, জনগণের প্রধানমন্ত্রীর হবেন। এটা জনগণ স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে খুলনা, কক্সবাজার, বগুড়া, বরগুনা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে ধরে তাদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গা চুরি মামলায় নারী গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা অফিস \ আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ চুরি মামলার অভিযোগে কলেজপাড়ার জাহানারা ওরফে জাহানকে গ্রেফতার করেছে। আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার মৃত গোপাল মন্ডলের ছেলে খরশেদ আলী বাদি হয়ে একই পাড়ার মৃত আলম চৌধুরীর স্ত্রী জাহানারা ওরফে জাহানের নামে চুরি মামলা করলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ আটক করে জাহানারাকে থানায় নিয়ে আসে। আজ শুক্রবার তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলা নং ১৩, তারিখঃ ১৪/১১/২০১৮ইং। মামলার এজাহারে উলে­খ করা হয়েছে আমি মোঃ খরশেদ আলী (৬৫), পিতাঃ মৃত গোপাল মন্ডল, সাং-কলেজপাড়া, আলমডাঙ্গা, জেলাঃ চুয়াডাঙ্গা এই মর্মে থানায় আসিয়া আসামী মোছাঃ জাহানারা ওরফে জাহান (৫৫), স্বামীঃ মৃত আলম চৌধুরী, সাং- কলেজপাড়া, আলমডাঙ্গা, জেলাঃ চুয়াডাঙ্গাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, উপরোক্ত আসামীর সহিত আমার পারিবারিকভাবে দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর সুসম্পর্ক এবং ইতিপূর্বে আসামী আমার বাড়িতে আড়াই বছর যাবৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করিতো। বর্তমানে সে কলেজপাড়ার সজিরুদ্দিন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করিতেছে। বতর্মানে সে উলে­খিত ব্যক্তির বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও পূর্বের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় আসামী আমার বাড়িতে যাতায়াত করে। আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়া তাহার যাহায়াতের মধ্যে ইতিপূর্বে কোন সন্দেহ ছিলো না। আমার বসত ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতো এবং আমার বসত ঘরের কোথায় কি থাকতো তাহা আসামীর জানাছিল। ইতিপূর্বে আমার স্ত্রী শাহানাজ বেগম আলমারী থেকে আসামীর সামনে একাধিকবার গহনা বের করতো। গত ১০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১১ ঘটিকার সময় আসামী জাহানারা ওরফে জাহান আমার বাসায় আসিয়া সাংসারিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমার স্ত্রীর সহিত আলোচনা করতে থাকে। আলোচনার ফাঁকে আসামী আমার বসত ঘরে থাকা অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে আমার স্ত্রী আমার সাথে পশ্চিম পার্শ্বের রান্না ঘরে রান্নার কাজে যায়। দুপুর অনুমান সোয়া ১২টার দিকে আলোচনার স্থানে আসিয়া আমার স্ত্রী আসামীকে দেখতে পায় নাই ও পাশের ঘরের আলমারী ও ড্রয়ার খোলা এবং উক্ত ড্রয়ারে রক্ষিত আমার স্ত্রী, আমার পুত্রবধু ও দুই মেয়ের ব্যবহারের স্বর্ণ অলংকার ৭ ভরি ওজনের ৭টি বালা, ২টি চিকন ও ৩টি মোটা চেইন যার ওজন অনুমান ২ ভরি ১৫ আনা, গলার ২টি চিক হার ওজন অনুমান ২ ভরি আট আনা, ১টি কণ্ঠ হার যার ওজন ২ ভরি চার আনা, ২ জোড়া কানের দুল যার ওজন ১ ভরি, ৩টি আংটি যার ওজন ৩ আনা, সর্বমোট ১৫ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ যার মুল্য ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আসামী জাহানারা ওরফে জাহান অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহায়তায় ১০ নভেম্বর দুপুরে যে কোন সময়ে আসামী জাহানারা ওরফে জাহানসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা আমার বসত ঘর হইতে উলে­খিত স্বর্ণ অলংকার চুরি করে নিয়েগেছে। মামলা নং ১৩, তারিখঃ ১৪/১১/২০১৮ইং।

 

দৌলতপুর আসনে বিএনপি প্রার্থী বাচ্চু মোল­ার মনোনয়ন উত্তোলন

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল­ার পক্ষে মনোনয়ন উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেন বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা। দৌলতপুর নির্বাচন অফিসার মো. গোলাম আজম জানান, বিএনপি নেতা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল­ার পক্ষে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। এরআগে সোমবার বিকেলে জাসদ (ইনু)-এর পক্ষ থেকে শরিফুল কবীর স্বপন মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেন। বুধবার মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. নাজমূল হুদা। এনিয়ে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন।

আমবাড়ীয়া ইউপির ৩ ওয়ার্ড যুবলীগের বর্ধিত সভা

মিলন আলী \ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুব লীগের উদ্যোগে ৩ নং ওয়ার্ড গ্রাম হালসায় যুব লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রাকিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক  আশরাফুল ইসলাম মিলন চৌধুরি। বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারন সস্পাদক  মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান বাবু মেম্বর, আব্দুল হামেদ  মেম্বর, আশরাফ আলী মেম্বর, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীরাজ কুমার ঘোষ, হালসা কলেজ শাখা ছাত্র লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সুমন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, মুকবুল হোসেন, মাহফুজ আহমেদ, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী লিপি খাতুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুব লীগের সাধারন সম্পাদক মুকেশ মেম্বর।

বিএনপির ‘ধানের শীষ’ নিয়েই নির্বাচন করবে ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা অফিস \ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। মতিঝিলে কামাল হোসেনের চেম্বারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জোটের নেতাদেও বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্ত জানান ফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, “আজকে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা যতগুলো দল মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছি, আমরা সকলে একটি কমন প্রতীকে নির্বাচন করব। সেই কমন প্রতীক হবে ধানের শীষ।” বিএনপিসহ কয়েকটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দল নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সাত দফা দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ছিল তাদের ওই সাত দফার মধ্যে। এসব দাবি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফা সংলাপে বসেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখানে কোনো সমঝোতা না হলেও তারা ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচন পোছানোর জন্য বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্ট। ওই বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মূল নেতা কামাল হোসেন আশ্বস্ত হওয়ার কথা বললেও ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির সংশয় কাটেনি।

এই নির্বাচনে ইসির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই – অলি

ঢাকা অফিস \ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পাটির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব। কারণ, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সে বিষয়ে ২০ দল যথাসময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যত ধরনের অন্তরায় আছে, সেটা সরাতে হবে। সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় কখনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ মনোনীত সভাপতিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্য অপসারণ করতে ইসির প্রতি আহŸানও জানান তিনি। অলি আহমদ বলেন, সরকার লেভেল পে¬য়িং ফিল্ডের কথা বলে, কিন্তু মাঠে ময়দানে দেখি মন্ত্রী-এমপিরা এখনো পুলিশ পাহারায় চলে। তাহলে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। না হলে এজন্য নির্বাচন কমিশনকে এক সময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমদ বলেন, মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় কোনো মিছিল যেন না হয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। পরদিন বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখ নেতা-কর্মীর ওপর পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এতে নারী কর্মীসহ বিএনপির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন মারাত্মক আহত হন। তিনি বলেন, ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য, তখন একদল হেলমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হেলমেট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল। গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর যে ছবি পাওয়া গেছে, সে ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। তারা ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল করেছে। নির্বাচন কমিশন তখন কোনো নির্দেশনা বা কোনো আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অন্যদিকে, বিএনপির জনসমাগম দেখে সরকার শঙ্কিত। সরকার মনে করল, এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হলো। শান্তিপূর্ণ নেতা-কর্মীর ওপর হামলা করা হয়েছে অভিযোগ করে অলি আহমদ বলেন, দুদিন আগে লাখ লাখ নেতা-কর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কী হলো যে বুধবার হামলা চালাতে হলো? আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনে মাঠে থাকার বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা অলি আহমদ বলেন, কেউ যদি মনে করেন, আমরা মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাব, তাহলে ভুল করবেন। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে মোকাবিলা করব। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মতো ভোটযুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে অংশগ্রহণ করতে হবে। এটা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মাঠ ছেড়ে যায় না। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী-এমপি-মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে কয়েক মাস ধরে সরকারী ব্যয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে মূল প্রতিদ্ব›িদ্ব দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও সরকারী প্রভাবে নিম্ন আদালত তাকে জামিন না দেয়ায় তিনি মুক্ত হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। এটা লেভেল পে¬য়িং ফিল্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত। অলি আহমদ বলেন, রাজতন্ত্র কিংবা স্বৈরাচারীরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশ কিংবা প্রচার করা যাবে না এমন দৃষ্টান্ত আমাদের জানা নেই। অথচ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তৃতা-বিবৃতি প্রচার ও প্রকাশের উপর বিধি নিষেধ আরোপের ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। আসন্ন নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের কথা শোনার অধিকার থেকে দেশবাসীকে বঞ্চিত করা ও নির্বাচনে লেভেল পে¬য়িং ফিল্ড ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসমিয়া প্রধান, জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির লিটা রহমান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, জমিয়তের উলামায়ে ইসলামের একাংশের সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, অপর অংশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী, জাতীয় দলের অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির আমিনুর রহমান প্রমুখ।

 

নিশ্চিন্তপুর লালনবাগ দরবার শরীফে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে লালনবাগ দরবার শরীফে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপি সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানটি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী লালন ভক্ত মোঃ আকবর আলী সাঁই-এর নিজ বাড়ীতে লালন বাগ দরবার শরীফে এই সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়। সাধুসঙ্গে উপস্থিত ছিল বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধুরা। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালনবাগ দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা লালন ভক্ত গুরু মোঃ আকবর আলী সাঁই। উদ্বোধনী গান পরিবেশন করেন সালাম ফকির। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুর রহমানসহ  বিভিন্ন শিল্পীবৃন্দ। আজ সাধু সঙ্গের পরিসমাপ্তি হবে।

মিরপুরে বর্তমান সরকারের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়ন

আমলা অফিস \ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বর্তমান সরকারের সময়ে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহনির্মান, মাসিক সম্মানিভাতা বৃদ্ধি, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, মুক্তিযোদ্ধারা মারা গেলে তাদের সৎকারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মান করা হয়েছে। এ উপজেলায় ৫০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত ২৪ জন, যুদ্ধাহত ২৪ জন ও ৪৬৫ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। সরকার জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ৯ লক্ষ টাকা করে ১৯জন দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে গৃহনির্মান, ২ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মাণ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ গুণ বৃদ্ধি করে ৩ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ২ হাজার ৫শ টাকা থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি করে  ২৫ হাজার টাকা ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ৫শ টাকার সম্মানি ২০ গুণ বৃদ্ধি করে ১০ হাজার টাকায় উন্নিত করেছেন। কোনরুপ জামানত ছাড়াই ব্যাংকে থেকে স্বল্প সুদে ৩ লক্ষ টাকা করে ৩৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। কোন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে তার সৎকারের জন্য পরিবারকে তাৎক্ষণিক সরকারি ভাবে ৫ হাজার ও উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয়ভাবে সংগৃহিত কল্যাণ তহবিল হতে আরো ১০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যে প্রদান করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধরে জন্য নিদ্দিষ্ট বেড সংরক্ষণসহ বিনামূল্যে সর্বোচ্চ  ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও  দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকারভাবে বাসগৃহ প্রদান করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল করিম ও আফতাব উদ্দিন খান জানান, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব সরকার। এ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানামুখি কাজ করে যাচ্ছে। মিরপুর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ছিদ্দিকুর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্ণবাসনের লক্ষে সরকার ১৯টি বাসগৃহ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এস এম জামাল আহমেদ জানান, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পুর্ণবাসনের জন্য পৌর এলাকার নওপাড়াপুরান মৌজার বরিশাল খালের উপর বহুতলভবন নির্মান করা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দলমতের উর্দ্ধে উঠে এ উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা বর্জায় থাকলে মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সকল জনগণ তাদের অধিকার প্রাপ্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।