বিএনপির গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেশের জন্য হুমকি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি’র গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। দলটি আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা ছুড়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে গতকাল শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশবাসী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি’র গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেখেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের জনগণ তাদেরকে আর তা করতে দেবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজি (এমসিটি) বিভাগ ‘এমসিটি ক্যারিয়ার এক্সপো-২০১৯’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর এসএম মাহবুব উল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা মনোয়ার। এমসিটি বিভাগের প্রধান ড. শেখ মুহাম্মদ আলেয়ার ও ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। হাছান বলেন, অগণতান্ত্রিকভাবে বিএনপি’র জন্ম হয়েছে। জিয়াউর রহমান কতিপয় সুযোগ সন্ধানীকে সঙ্গে নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। তারা গণতন্ত্রকে কলুষিত করেছেন। জিয়া অগণাতান্ত্রিক ভাবে সুযোগ সন্ধানীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি গঠন করেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে জিয়ার সব কর্মকান্ডই অবৈধ হয়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতি মূলত মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ জন্যই দেশের জনগণ আর তাদের (বিএনপি) বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, গণতন্ত্র রক্ষায় একটি শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। আমরা যুক্তি-ভিত্তিক গঠনমূলক সমালোচনা চাই। কিন্তু বিএনপি সব সময় অন্ধভাবে সমালোচনা করে। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

মিরপুরে নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠির জীবন মানন্নোয়নে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে পৌরসভার খন্দকবাড়ীয়ায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী, স্বাস্থ্য উপকরণ, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি উপকরণ বিতরণ করা হয়। নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠু ব্যাধের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সামাজের একটি অংশ। তাদের ব্যতিরেকে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবন মানন্নোয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোহাগ রানা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পেশকার আব্দুর রহমান, পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আনসার-ভিডিপি কর্মান্ডার আব্দুল মোতালেব প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার ব্যাধ। এ সময়ে অতিথিবৃন্দ ৮৬ হাজার টাকা  শিক্ষাবৃত্তি, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরির জন্য ৮৮ হাজার টাকা ও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করেন।

কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে বিএনপি – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এক সঙ্কটকাল অতিক্রমের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্ততি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জেলা ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে।” ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন পদে পুর্ননির্বাচিত হন। পাশাপাশি দ্বিতীয় শীর্ষ পদ জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আসেন তারেক রহমান। ওই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্য থাকলেও সেই আশা পূরণ হয়নি বিএনপির। এরমধ্যে গত বছর দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে; যদিও বিএনপির অভিযোগ, ‘ভোট ডাকাতি’ করে গণরায় ‘ছিনিয়ে নিয়েছে’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  ফখরুল বলেন, “আমরা শপথ গ্রহণ করেছি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে অগণতান্ত্রিক ও বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রামকে আরও বেগবান করা হবে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।” শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে, যাতে নতুন অন্তর্ভুক্ত সেলিমা ও টুকু থাকবেন। স্থায়ী কমিটির যে পদগুলো এখনও শূন্য, তা কবে নাগাদ পূরণ করা হবে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “যথাসময়ে সেগুলো সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গত ১৯ জুন স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া হয় ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা ও টুকুকে। তাদের নেওয়ার পর ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১৭। জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে সেলিমা সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আজকে বড় চ্যালেঞ্জ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। “আমরা স্থায়ী কমিটিতে এমন কিছু কৌশল নির্ধারণ করব, যাতে আমাদের দলটা সুসংগঠিত থাকে, ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করে আনতে পারি।” টুকু বলেন, “আমরা একটা ক্রান্তিকালে এই পদে এসেছি। আমাদের চেয়ারপারসন বিনা কারণে জেলে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা কারণে দেশের বাইরে। “আমাদের যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যেন আন্দোলন শুরু করতে পারি, সে চেষ্টা করব।” এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিশেষ সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নাদিম মোস্তফা, সেলিম রেজা হাবিব, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মাহবুব্লু হক নান্নু, টিএস আইয়ুব, সাইফুল আলম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, হেলেন জেরিন খান, আহসানুল্লাহ হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

 

বয়সসীমা তুলে দেওয়ার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ছাত্র সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতারা। তাদের তোপে মুখে পড়তে হল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও। নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের নিচ তলায় গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা ছাত্রদলের নেতারা। সঙ্কটের আপাত সমাধান হিসেবে তারা আগের নিয়মেই স্বল্পকালীন একটি কমিটি গঠনের দাবি জানান। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমার শর্ত আরোপের বিরোধিতা করে তারা বলেন, একটি ‘সিন্ডিকেট’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘ভুল বুঝিয়ে’ এই কাজটি করিয়েছে। তাদের সংবাদ সম্মেলনের আগে ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি মিছিলে যোগ দিতে নয়া পল্টনের কার্যালয় থেকে নেমে তোপের মুখে পড়েন রিজভী। রিজভী ওই মিছিল করে কার্যালয়ে ঢোকার পথে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধদের কয়েকজন নেতা অন্যদের শান্ত করে রিজভীকে কার্যালয়ে ঢুকিয়ে দেন। গত ৩ জুন ঈদের আগের দিন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। তাতে আরও বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাবে। এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা গত ১০ জুন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভেতরে রিজভীকেও তারা অবরুদ্ধ করে রাখে। সেদিন লন্ডনে থাকা তারেকের সঙ্গে কথা বলার পর বিক্ষুব্ধরা শান্ত হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তারা। এতে সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সহসভাপতি এখতিয়ার রহমান কবির, সহসভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়জিদ আরেফিন, ওমর ফারুক মুন্নাসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করে যারা নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় ছিলেন, এখন আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের পদ পাওয়ার সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এর ফলে ছাত্রদলের আগের কমিটির সব সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্যরা বাদ পড়বেন। শুধু তাই নয়, ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ২৪ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ২১ জনও বাদ পড়বেন। সাবেক সহসভাপতি তুহিন বলেন, “আমাদের অনেকেই ছাত্রদলের শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু একটা পরিচয় চায় যে, আমি এই সংগঠনের ওমুক পদে ছিলাম।” তিনি তুহিন বলেন, “আমাদের মধ্যে বাদ পড়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ বছরের নেতারা। এটাকে এখন ৪৭/৪৮ বছরের ‘বুড়ো’  নেতাদের আন্দোলন বলে চালানো হচ্ছে, এটা ঠিক না। এখন ৩৫/৩৬ বছরের কমিটি দেবে। বাদ পড়েছে ৩৮ বছরের নেতারা সহসভাপতি-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ সম্পাদকরা। শুধু ২ বছরের জন্য তারা যুক্ত হতে পারছে না।” লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০০ সালের এসএসসি পাস করা একজন ছাত্রের আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর ধরা যেতে পারে। তার মাত্র ২/৩ বছর আগে ১৯৯৮/৯৭/৯৬ সালে পাস করা সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকরা যারা রয়েছেন, তারা যুক্ত হলে হবে ৩৭-৩৮ বছর। “২০০০ সাল এসএসসি পাস ধরলে বয়স দাঁড়ায় ৩৫-৩৬ বছর। আমাদের প্রশ্ন ৩৫-৩৬ বছর দিয়ে কমিটি করলে কি সমালোচনা হবে না? নিয়মিত ছাত্রের বাইরে সিন্ডিকেটের দেওয়া ৩৫-৩৬ থেকে ৩৭-৩৮ এর পার্থক্য কি খুব বেশি?” “এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে,” বলা হয় লিখিত বক্তব্যে। তুহিন বলেন, “আমি মনে করি, সরকারের একটা এজেন্ট জড়িত এই সিন্ডিকেটের সাথে। তারা ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চায়। আমাদের শেষ জায়গা হচ্ছে দেশনায়ক তারেক রহমান। তার উদ্যোগ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ আমরা দেখছি না।” সিন্ডিকেট কারা আছে- প্রশ্ন করা হলে পাইলট বলেন, “একটা গানের কথা বলতে হয়। সব কথা বলে না হৃদয়, কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। রাজনীতিতে অনেক কথা বলা যায় না স্পষ্টভাবে। এটা আপনাদের বুঝে নিতে হবে।” কবির বলেন, “তারেক রহমান নিয়মিত ছাত্র দিয়ে ছাত্রদল সাজানোর যে স্বপ্ন দেখেন, সেই ছাত্রদলের সাথে স্বার্থান্বেষী মহলের ২০০০ সালের এসএসসি ধরে ছাত্রদল সাজানো পুরোপুরি উল্টো। “স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিশেষ লক্ষ্য পূরণে দেশনায়ককে ভুল উপস্থাপনা দিয়ে একদিকে যেমন আমাদের সাথে প্রতারণা করছে, তেমনি তারা দেশনায়ক তারেক রহমানের সাথে প্রতারণা করে তার স্বপ্নের নিয়মিত ছাত্রদলে কমিটি গঠনের সদিচ্ছাকে লুণ্ঠন করেছে।” বর্তমান সমস্যা সমাধানে ২০০০ সালে এসএসসি পাসের শর্ত তুলে দিয়ে ৬ মাসের জন্য ছাত্রদলের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব তারেক রহমানকে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। “আমরা স্বল্পকালীন কমিটির প্রস্তাব করেছি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের বয়সসীমা নির্ধারণ তুলে দিয়ে নির্বাচন দেওয়া হোক বা প্রিয় নেতা তারেক রহমান নিজে কমিটি করুক। নিশ্চয়ই সেটা সবার কাছে সমাদৃত হবে।”

নারী বিক্ষোভকারীকে ঘাড় ধাক্কা, বরখাস্ত ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশবাদী এক নারী বিক্ষোভকারীকে ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ল্যান্ডমার্ক ম্যানশন হাউস ভবনে এ ঘাড় ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ল্যান্ডমার্ক ম্যানশন হাউসে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডের বক্তৃতার সময় পরিবেশবাদী নারীদের একটি দল সেখানে ঢুকে মাইকে স্লোগান বাজিয়ে বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করলে ফিল্ড দলটির এক সদস্যের ঘাড় ধরে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র এক মুখপাত্র ফিল্ডকে বরখাস্তের খবর নিশ্চিত করেন, জানিয়েছে রয়টার্স। প্রধানমন্ত্রী ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন বলেও মুখপাত্র জানিয়েছেন। ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। ফিল্ড এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও বলেছেন, পরিস্থিতিই তাকে এমন কাজ করতে বাধ্য করেছে। বিরোধীদল লেবার পার্টির নারী ও সমতা বিষয়ক মুখপাত্র ডন বাটলার পরিবেশবাদী নারী বিক্ষোভকারীকে ঘাড় ধাক্কা দেয়ার ঘটনার কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ফিল্ডকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার গ্রিনপিস ইউকের রাজনীতি বিষয়ক কর্মকান্ডের প্রধান রেবেকা নিউসম বলেছেন, “গত রাতে তার (ফিল্ড) কাছ থেকে যে ধরনের সহিংস ব্যবহার দেখেছি আমরা, এর কোনো ব্যাখ্যাই হয় না।” ফিল্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস – স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের রয়েছে বিজয়গাথার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সে কারণেই এগিয়ে গেছে সভ্যতা ও সমাজ। স্পিকার গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের ৪৯তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ ইতিহাসে ‘নারী: দক্ষিণ এশিয়া প্রসঙ্গ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ইতিহাস সম্মেলন আয়োজন করে। তিনি বলেন, ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান’,৭১ এর মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে বাধা অতিক্রম করে নারীরা এগিয়ে এসেছে। শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তারা সফলতার দৃষ্টান্ত রাখছে। যা অনুসরণযোগ্য এবং অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্পিকার বলেন, কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নারীর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। আবার অনেক নারী অবদান রাখা সত্ত্বেও কাজের স্বীকৃতি পাননি। এ সকল নারীর অবদান চিহ্নিত করতে হবে। এসময় তিনি নারীর গৌরবোজ্জ্বল অবদান তুলে ধরতে ইতিহাস গবেষকদের গবেষণা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। বাঙালি জাতির ইতিহাস-সংগ্রাম ও শোষিত হওয়ার ইতিহাস। আর বঙ্গবন্ধু জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এ সকল ক্ষেত্রেই বাঙালির রয়েছে বিজয়গাথা-বীরত্বের ইতিহাস। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান এতে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এর আগে স্পিকার অতিথিদের নিয়ে ইতিহাস পরিষদের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

 

আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফটকের উদ্বোধন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ফটকের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে এ ফটকের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। পরে এ উপলক্ষে আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ, জেলা পরিষদের সদস্য মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোর্দ্দার, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার প্রমুখ। এসময় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না – ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে ‘পরিণতি ভয়াবহ হবে’ বলেও সতর্ক করেছেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “আমি যুদ্ধ চাই না; কিন্তু যদি বেধেই যায় তাহলে এমন ধ্বংসযজ্ঞ হবে যা আপনারা আগে দেখেননি। আমি তা করতে চাই না,” বলেছেন তিনি। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পাল্টায় ইরানে হামলার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ মুহুর্তে পিছু হটার একদিনের মাথায় ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধে তার অনাগ্রহের বিষয়টি ফের ব্যক্ত করলেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ‘ড্রোন’ (চালকবিহীন বিমান) গুলি করে ভূপাতিত করে বলে জানানো হয় । আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশে কুহমোবারকের কাছে আকাশসীমা লংঘন করেছিল বলে অভিযোগ তেহরানের। যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ অস্বীকার করে। গুলির সময় ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ছিল, ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ এ হামলা করেছে বলেও দাবি তাদের। ওই অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এমনিতেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান গুলি করে ড্রোন নামানোর পর তা নতুন মাত্রা পায়। ড্রোনটি ভূপাতিত করে ইরান ‘চরম ভুল’ করেছে বলে বৃহস্পতিবারই এক টুইটে হুঁশিয়ার করেন ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো পরে ড্রোন ভূপাতিতর পাল্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিয়েও, শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে বলে জানায়। হামলায় ইরানের অন্তত দেড়শ লোকের মৃত্যু হবে, এমনটা জানতে পেরে নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১০ মিনিট আগে আক্রমণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান ট্রাম্পও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, একটি মনুষ্যবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করার বদলায় দেড়শ মানুষের মৃত্যু যুক্তিযুক্ত হতো না। শুক্রবার সকালে একের পর এক টুইটে ট্রাম্প জানান, ইরানে হামলা চালাতে তাড়াহুড়া নেই তার।  ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ওয়াশিংটন নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর পুরনো সব নিষেধাজ্ঞাও চাপিয়ে দিয়েছে। ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে অনেক দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেত, ওয়াশিংটন সম্প্রতি তাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইরান এসব পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাগুলোর জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

গাংনীতে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে তালা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফিস নেয়ার অভিযোগে স্কুলে তালা মেরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে  স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ত্রিমুখী অবস্থানে রয়েছে। সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে একাধিক পুলিশ সদস্য তাৎক্ষনিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকদের সন্তানদের নামী-দামি স্কুলে পড়াবে আর আমরা গরীব মানুষের সন্তান ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসের নামে আমাদের উপর জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে। ৫শত টাকার পরিবর্তে সেশন চার্জ ৬শত টাকা ধার্য করা হয়েছে।  বাইরের ৪ জন শিক্ষক দিয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে (কোচিং ফিস) অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষক না থাকায় ইংলিশ বিষয়ে কোন ক্লাস নেয়া হয় না। সরকারী বই সরবরাহ করা হয়না। টেষ্ট পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়না। ইতোপূর্বে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করলেও আবারো সিসি ক্যামেরা সংস্কারের নামে শিক্ষার্থী প্রতি ১শত টাকা করে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তি ও পরীক্ষার ফিসের হার লাগাম ছাড়া। শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাদের নিকট থেকে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা করে নিয়ে পরীক্ষায় সুযোগ দেয়। এর মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী পাশ করে।  শিক্ষার্থীর জানায়, শনিবার সাময়িক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীকে প্রবেশপত্র দেয়া হচ্ছেনা। আবার যেসব শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করছে। এসব অনিয়ম রোধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে, মাঝে মাঝে নানা শ্লোগান দিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। এসময় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করে বলে, সেশন চার্জ কমাতে হবে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়ে নমনীয় হতে হবে, অতিরিক্ত ফিস ও ভর্তি ফিস নেয়া বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত ক্লাসের নামে অর্থ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এদিকে প্রধান শিক্ষক মু: আলম হুসাইন বলেন, কিছু অসাধু লোকের উসকানির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভূল বুঝেছে। ছাত্ররা কোন অভিযোগ আমাদের না দিয়ে অযথা আন্দোলন করছে। তাদের সাথে কথা বলে কোন সমস্যা থাকলে সমাধান করা হবে। প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এমপি পত্মী লাইলা আরজুমান আরা শিলা ঘটনার ৫ ঘন্টা পরে স্কুল ক্যাম্পাসে আসলে শিক্ষার্থীরা ১৬টি অভিযোগ লিখিত আকারে তার হাতে দেয়। সভাপতি কমিটির সাথে বসে অভিযোগ খতিয়ে দেখে  ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন-সার্বিক বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে। কেউ দোষী থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হল খুলনা বিভাগীয় চলচ্চিত্র সম্মেলন

সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হল দিনব্যাপী খুলনা বিভাগীয় চলচ্চিত্র কর্মীদের সম্মেলন। গতকাল শনিবার ফকির লালন শাহ মাজার অডিটরিয়ামে বেলায়েত হোসেন মামুনের সভাপতিত্বে ও শৈবাল আদিত্য ও হোসেন হীরকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সংস্কৃতি কর্মীদের নিবন্ধন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৫টি জেলার চলচ্চিত্র কর্মী, নির্মাতা ও পরিচালকদের প্রত্যক্ষ ভোটে ১১ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা বিভাগীয় কমিটি গঠিত হয়। আহবায়ক নির্বাচিত হন কবি  শৈবাল আদিত্য, যুগ্ম আহবায়ক লিজা হাসান ও সদস্য সচিব মুহাইমিনুর রহমান পলল। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কর্মসূচি ও জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাত আটটায় সম্মেলন সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিমুল বিশ্বাস। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় ৩টি মহিষ উদ্ধার 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত থেকে ভারতীয় ৩টি মহিষ উদ্ধার করেছে সীমান্ত রক্ষী বিজিবি। গতকাল শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মোহাম্মদপুর মাঠ থেকে মহিষ ৩টি উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, ১৫২/২-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন ৫০গজ বাংলাদেশ ভূ-খন্ডের মোহাম্মদপুর সীমান্তে ভারতীয় ৩টি মহিষ অবস্থানের সংবাদ পেয়ে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল ঘটনাস্থল থেকে মহিষ ৩টি উদ্ধার করে। তবে কারা এ মহিষ ভারত থেকে পাচার করেছে তা জানাতে পারেনি বিজিবি।

দৌলতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৩৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ ২জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে রশিদুর রহমান লিটন (৫২) ও শেখ মহিউদ্দিন শরীফ (৪৫) কে ৩৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ীরা দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর গ্রামের মজিবর রহমান এবং কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া মধ্যঅংশের মৃত শেখ বদরুদ্দোজার ছেলে। র‌্যাব সূত্র জানায়, মাদক ক্রয় বিক্রয়ের গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল আল্লারদর্গা বাজারে রবিন কনফেকশনারী দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে রশিদুর রহমান লিটনকে ২৭০ পিস ইয়াবা এবং শেখ মহিউদ্দিন শরীফকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে একজন নিহত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) পরিচয়ের এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর বিজিবি সেক্টর এর পশ্চিমে রেলগেটের সন্নিকটে এ দূর্ঘটনা ঘটে। মিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার রুহুল আমিন জানান, সকালে ট্রেনে কাটা পড়া একটি মরদেহ দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করি। তবে ধারনা করা হচ্ছে সকালে ঈশ্বরদী থেকে খুলনাগামী সাগরদাড়ী এক্সপ্রেক্স ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।

ইবি প্রশাসনের শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ উপ-হিসাব পরিচালক মোঃ আব্দুল মান্নানের মা জাহানারা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক-পৃথক শোক-বার্তায় তাঁরা মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়াও, শোক জানিয়েছেন হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ছিদ্দিক উল্যা, বিশ^বিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম (জোহা) এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আন্তঃবিশ^বিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র কেনা-বেচার সময় আটক ৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে  সহকারি  প্রাথমিক  শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র কেনা-বেচার সময় ৬ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শহরের আরাপপুরের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো-ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর গ্রামের অরুন কুমার দাসের ছেলে প্রশান্ত কুমার দাস, শহরের আরাপপুরের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুল মজিদ, শৈলকুপা উপজেলার রানীনগর গ্রামের রোজদার মিয়ার ছেলে  আল মাউন, একই উপজেলা সিদ্ধি গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে তাইনুর আলম, উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে হাসান ইকবাল ও রানীনগর গ্রামের সৈয়দ আলির ছেলে রিপন হোসেন। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান জানান, শহরের আরাপপুরে আব্দুল মজিদের বাসায় সহকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেনা বেচা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। মোবাইল ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আসা প্রশ্ন ও উত্তরপত্র বিক্রি করে জন প্রতি ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক ও মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নপত্র কেনা বেচার ৬০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষা শেষে জেলা প্রশাসনের  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল ইসলাম আসল প্রশ্নপত্রের সাথে বিক্রি হওয়া প্রশ্নপত্রের যাচাই করে কোন মিল পাননি। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মিরপুরে ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  মিরপুর থানা শাখার উদ্যোগে থানা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। থানা সভাপতি আলহাজ্ব জুলহাস বিশ্বাসের এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মু. আব্দুল মোমিনের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহাম্মদ আলী। এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার সেক্রেটারী আলহাজ্ব শেখ মু. এনামুল হক,  প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মু. গোলাম তাওহিদ, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওঃ আব্দুল জলিল প্রমূখ। অনুষ্ঠান শেষে আগামী ২০১৯-২০ সেশনের জন্য সভাপতিঃ আলহাজ্ব জুলহাস বিশ্বাস, সহ-সভাপতিঃ আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতিঃ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল জলিল, সেক্রেটারীঃ মু. আব্দুল মোমিন সহ ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আদা-রসুনের দাম লাগামহীন

ঢাকা অফিস ॥ রমজানের ঈদের আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম ছিল মানভেদে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই আদার দাম এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। পেঁয়াজ, রসুনের দামও বাড়ছে। প্রতি কেজি রসুনের দাম মানভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার এ তথ্য পাওয়া যায়। এদিকে হঠাৎ করে দাম বাড়ায় ভোক্তারা শংকিত। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ৮০ টাকার আদা ১৬০ টাকা হলো কেন? আগামী কোরবানির ঈদ আসতে আসতে এটা আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু, কেন এটা হবে? বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর, সিটি গ্র“পের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গ্র“পের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, বাবুবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আড়তদার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বৈঠকের পরও আদা, রসুনের দামে হেরফের হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদে এই পণ্যগুলোর চাহিদা আরো বাড়ে। তাই এখন দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বাবুবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, এবার দেশে আদার উৎপাদন কম হয়েছে। শুধু তাই নয়, যেসব দেশ থেকে আদা আমদানি করা হয়। বিশেষ করে ভারত, চীন ও মিয়ানমার, সেসব দেশেরও একই অবস্থা। উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে আদার দাম বেশি। শুক্রবার বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেশি আদার সরবরাহ বেশ কম। কোন কোন দোকানী মিয়ারমারের আদাকে দেশি আদা বলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এছাড়া মিয়ানমারের আদা ১৭০ টাকা ও চীনা আদা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমার থেকে আদা আনতে ধাপে ধাপে পয়সা খরচ করতে হয়। ফলে আমদানি খরচ বেশি পড়ে। ফলে দাম বেড়ে যায়। কাওরানবাজারের এক পাইকারী মশলা ব্যবসায়ী বলেন, দেশে এবার আদার আবাদ ভালো হয় নাই। দামতো বাড়বেই। আদার পাশাপাশি দাম বেড়েছে রসুনের। শুক্রবার রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অথচ গত রোজার ঈদের সময় মানভেদে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝাঁজ বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজেরও। খুচরাবাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ মানভেদে ২৫ থেকে ২৭ টাকায় বিক্রি হয়। তবে হলুদ, মরিচের দাম বাড়েনি। প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ও হলুদ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক আমের ওজন চার কেজি!

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বাস করুন আর নাই করুন একেকটি আমের ওজন চার কেজিরও বেশি। ব্র“নাই কিং নামের এই আম ফলছেও বাংলাদেশে। তবে এই জাতের আমটি পাকতে সময় লাগে। আষাঢ়ের পরে শ্রাবণ মাসের শেষদিকে পাকা শুরু করবে এই আম। ওজনে যেমন বেশি তেমনি এটি খেতেও সুস্বাদু। জানা যায়, ২০১১ সালে ব্র“নাই রাজপরিবার থেকে ‘ব্রুনাই কিং’ নামের বিশাল আকৃতির আমের জাতটি সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে মাগুরার শালিখার শতখালী গ্রামের আতিয়ার রহমান এই জাতের আমের চাষ করছেন। কলম পদ্ধতির মাধ্যমে এ জাতের পাঁচ শতাধিক চারা তৈরি করেছেন তিনি।। প্রতিটি চারা ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ‘ব্র“নাই কিং’ আমের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- এ জাতের আম গাছের উচ্চতা ৮-১০ ফুট; বৈশাখ-আষাঢ় মাসের মধ্যে এ জাতের চারা রোপণ করতে হয়, চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যেই আম ধরে; শ্রাবণের শেষদিকে আম পাকে; প্রতিটি আমের ওজন সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার কেজি; প্রতিটি আম আঁশমুক্ত, মিষ্টি ও সুস্বাদু। এছাড়াও দেখতে অনেকটা কলার মতো লম্বা হয়ে থাকে; কাঁচা আম খেতে কিছুটা টক, মিষ্টি স্বাদ; কাঁচা আমের রং হয়ে থাকে কালচে সবুজ; পাকা আমের স্বাদ অনেকটা ফজলি আমের মতো; আমের আঁটি (বিচি) একদম ছোট এবং মাতৃগাছে প্রতিবছর ২০-৩০টি পর্যন্ত আম হয়ে থাকে। এই আমটি আতিয়ার রহমানের কাছ থেকে কলম নিয়ে মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে রোপণ করা হয়েছে। সেখানে কলম লাগানো গাছ আছে, যা থেকে সংক্রায়নের মাধ্যমে নতুন চারা তৈরি করে তা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলার উপজেলা কৃষি অফিস, সিরাজদিখানে যোগাযোগ করলেও এ জাতের আমের চারা পাওয়া যাবে।

 

‘সুবিধাভোগী বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার বাজেট’

ঢাকা অফিস ॥ সরকার সুবিধাভোগী বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার জন্য বাজেট ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে নাগরিক প্রতিনিধিদের ভাবনা নিয়ে সুজনের এই গোলটেবিল আলোচনা। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, সাবেক সচিব ও গবেষক আবদুল লতিফ মন্ডল, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আনু আহমেদসহ অন্যান্যরা। এ সময় বক্তারা খেলাপি ঋণসহ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন। উন্নয়ন প্রকল্প নির্বাচন ও খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। বাজেট নিয়ে আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ আর খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না। এ ব্যাপারে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, লুটপাটের ধারাবাহিকতা এই বাজেটের মধ্যে অব্যাহত আছে শুধু তাই নয়, সেটাকে আরো খোলাখুলিভাবে একটা পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার নীতি নেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার বাজেট উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার জনগণকে তোয়াক্কা করেনা; বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। যে কারণে পুলিশ এবং সরকারি আমলাদের ওপর ভর করে তারা ক্ষমতায় আছে। আমাদের নাগরিকদের অর্থ সেই তাদের পেছনে ব্যয় হয়। এ বাজেট বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার বাজেট। সরকারের ব্যয়ের মাধ্যমে আমাদের জনগণের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে তার পূর্ণ জবাবদিহিতা থাকা দরকার। প্রয়োজনে সরকারি ব্যয় হিসাব-নিকাশ সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বলতে যা বোঝায়, সেটা আমরা কার্যকরভাবে দেখতে পারছি না। এক টাকার কাজ দশ টাকা দিয়ে হচ্ছে। জিডিপিতেও আমরা সেটার একটা ইমপ্যাক্ট দেখতে পারছি। তার মানে, জিডিপির প্রবৃদ্ধিটা এখানে একটা ফাঁপা জায়গায় পরিণত হচ্ছে। অধ্যাপক ড. আনু আহমেদ অর্থবছরের সময়সীমা জুলাই-জুনের বদলে জানুয়ারি-ডিসেম্বর বা এপ্রিল-মার্চ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন থেকে সরকারকে বলছি অর্থবছরের সময়সীমা জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর অথবা বাংলা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে এপ্রিল-মার্চ করার জন্য। কিন্তু সরকার তা করছে না। পাকিস্তান এবং কয়েকটি দেশ ছাড়া কোনো দেশে অর্থবছরের জুলাই-জুনে নেই। জুন মাসে আবহাওয়ার যে বিরূপ থাকে তার উসিলায় অনেক অর্থ এদিক-সেদিক করার সুযোগ থাকে; দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়। যে কারণে এ সরকার অর্থবছর পরিবর্তন করছে না। সরকারের ব্যয়ের ধরনের সমালোচনা করে এ শিক্ষাবিদ বলেন, বড় অঙ্কের প্রকল্পের সরকারের অনেক আগ্রহ কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম অংকের প্রকল্পের সরকারের আগ্রহ নেই। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকার ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ব্যয়বহুল সেতুভবন সড়ক নির্মাণের বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের রেকর্ড করেছে। অথচ এ টাকাগুলো জনগণ নিজেদের পকেট থেকে দেয়। তার বিনিময় সরকার এবং সরকারি আমলারা কতটুকু সেবা দিচ্ছে সেই সার্ভিস রেশিও নিয়ে জনগণের প্রশ্ন তোলা উচিত। দারিদ্র্য কমার হার কমে গেছে উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আগে যে হারে দারিদ্র্য কমত, এখন সেই দারিদ্র্য কমার হার কমে গেছে। তার মানে, আমাদের যদি উন্নয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয় দারিদ্র্য বিমোচন, তাহলে সেখানেও আমরা কিন্তু ভালো কাজ করছি না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। এ ছাড়া সমাজে যে আয়বৈষম্য বাড়ছে, তা কমাতে প্রস্তাবিত বাজেটে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও মত দেওয়া হয় আলোচনায়। এ ব্যাপারে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যে প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের জিডিপি বাড়ছে, এতে কিন্তু একশ্রেণির মানুষ আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। কিন্তু যেসব কিছু সাধারণ মানুষের জীবনমানে প্রভাব ফেলবে, এগুলোতে কিন্তু আমরা ভালো করছি না। আমরা পুষ্টির দিক থেকে ভালো করছি না, আমরা শিক্ষার মানের দিক থেকে ভালো করছি না, আমরা স্বাস্থ্যের মানের দিক থেকে ভালো করছি না। অর্থনীতিবিদ ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, এত কিছুর উন্নয়ন হলো, ৫ পার্সেন্ট হোক, ৮ পার্সেন্ট হোক, গ্রোথ হলে আমার আয়বৈষম্য কেন হচ্ছে? এটার ব্যাখ্যায় সরকারকে আসতে হবে। ব্যাখ্যা না হোক, সেটার প্রচেষ্টায় আসতে হবে। এ ছাড়া বাজেটে কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রণোদনা না দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা করেন বক্তারা। সরকারের ব্যয়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের নেতারা। জনগণের টাকা কোথায় এবং কেন ব্যয় হচ্ছে তার সব বিস্তারিত জনগণের জানার অধিকার রয়েছে বলেও মনে করেন তারা। একইসঙ্গে প্রদত্ত করের বিপরীতে কাক্সিক্ষত সেবা সরকার দিতে পারছে কি না সেই প্রশ্নও নাগরিকদের তোলা উচিত বলে জানান আলোচকরা। এদিক রামপাল এবং রূপপুর প্রকল্পকে দেশের জন্য সবথেক ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে রামপাল রূপপুরের মতো প্রকল্পগুলোতে। অথচ এগুলো দেশের জন্য সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প। দেশের সব নাগরিকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব থেকে যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে তা মোকাবেলায় কি করা হবে সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। বদিউল আরও বলেন, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে উন্নয়ন হচ্ছে তাদের অবস্থা ও অবস্থানের উন্নয়ন। যতই উন্নয়ন বলা হোক না কেন, বাস্তবে সেই উন্নয়ন এই দেশে হচ্ছে না। এক শ্রেণির মানুষ আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ আরো গরীব হচ্ছে। আলোচনা সভায় মূলপ্রবন্ধ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অন্বেষণ বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এর আগে ড. বদিউল আলম মজুমদারের জীবন, কর্ম ও চিন্তা নিয়ে লেখক নেসার আমিনের লেখা বই ‘একান্ত আলাপচারিতায় ড. বদিউল আলম মজুমদার’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয।

কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারন সভা গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক আ.ফ.ম নুরুল কাদের। সমিতির গত বার্ষিক সভার প্রতিবেদন পাঠ করেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, সাধারন সম্পাদকের প্রতিবদন পাঠ করেন সমিতির সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান। সভায় গত বার্ষিক সাধারন সভার প্রতিবেদন, বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিল, নিরীক্ষা রিপোর্ট ও  প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হলে সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে তা অনুমোদন হয়। বার্ষিক সাধারন সভায় উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি হাফিজুর রহমান কাল্টু, নির্বাহী সদস্য নিলুফা রহমান এ্যানি, এ্যাড, নজরুল ইসলাম সরকার, হামিদুর রহমান, এ্যাড, আব্দুর রশিদসহ সমিতির সদস্যবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে মতিউর রহমান লাল্টু বলেন-কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির মাধ্যমে ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশের চিকিৎসা সেবাই বিরল। তিনি বলেন, জেলার মানুষের ভালবাসা এবং সার্বিক সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে সেবার মান বৃদ্ধিকল্পে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে যা অচিরেই আমরা সুফল পাবো। মতিউর রহমান লাল্টু বলেন, কুষ্টিয়া মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালে রেজিষ্ট্রেশনকৃত রোগীর সংখ্যা ৬২ হাজারের অধিক, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে আসছে। ইতিমধ্যে শিশুদের ফিজিওথেরাপি দেয়ার লক্ষ্যে একটি সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রুম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চক্ষু বিভাগের সরঞ্জামাদী থাকা সত্বেও চিকিৎসকের অভাবে চক্ষু বিভাগ চালু সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি চিকিৎসক পেলেই চালু করা সম্ভব। এখানে উন্নতমানের ইসিজি,এক্্র-রে ও আলট্রাসনো মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইনডোর ও ওটির রোগীর সংখ্যা কম হওয়াতে বছরে ৬লক্ষ টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারো বারডেম কর্তৃপক্ষের অনুদানের টাকা পাওয়ায় আমরা তাদের প্রতি  কৃতজ্ঞ। তিনি আরো বলেন-ইতিমধ্যে ডেন্টাল সার্জন দ্বারা দন্ত রোগীদের কম মুল্যে আধুনিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতে ২০এর স্থলে হাসপাতালটিকে ১০০ বেডে রূপান্তরের পরিকল্পনাসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়মিত ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ও বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মতিউর রহমান লাল্টু বলেন, উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দোতলায়। হরমোন টেষ্টসহ এক সাথে ৬শত স্যাম্পুল রিপোর্ট করা হয়। এছাড়া শিশু কিশোর  ও প্রতিবন্ধীদের বিনামুল্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বিনামুল্যে ইনসুলিন ইনজেকশন সেই সাথে ফ্রি বেডের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, এতবড় একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হাসপাতালের চিকিৎসক, ষ্টাফ, রোগীসহ জেলাবাসীর অনেক সহযোগিতায় সম্ভব হয়ে উঠেছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পেয়ে আসছি। তিনি হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মৌলিক গবেষণায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে

ঢাকা অফিস ॥ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মৌলিক গবেষণায় ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাই হচ্ছে না। আর যেটুকু হচ্ছে তাও মানসম্মত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক জার্নালে ছাপা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য কম বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। আবার যেটুকু বরাদ্দ রাখা হচ্ছে তাও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় খরচ করতে পারছে না। ফলে মৌলিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা কমে যাওয়ায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি ১৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তার মধ্যে সরকারি ১০টি আর বেসরকারি ৩১টি। ২০১৭ সালে সরকারি- বেসরকারি ১৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৭টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ছিল। তার মধ্যে ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টিতে এবং ৯০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭টিতে কোনো গবেষণা প্রকল্পই ছিল না। পিএইচডি ও এমফিল ফেলোশিপ গ্রহণেও অনাগ্রহ দেখা গেছে। ইউজিসির ১০০টি পিএইচডি ফেলোশিপ থাকলেও ২০১৭ সালে মাত্র ৫৮ জন শিক্ষক তা গ্রহণ করেন। তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ২৫ জন ও কলেজ শিক্ষক ৩৩ জন। সমাপ্ত করেন ৩৪ জন। ৫০টি এমফিল ফেলোশিপ থাকলেও গ্রহণ করেন ৬ জন। সবাই কলেজ শিক্ষক। সমাপ্ত করেন ৫ জন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে এমফিলে ১১৬ ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ৫১ জন গবেষক ভর্তি হন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিলে ভর্তিকৃত গবেষকের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৯ ও পিএইচডিতে ২২। এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে গবেষণায় অংশগ্রহণের হার কমেছে ৫৮ শতাংশ।সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা প্রকল্প প্রদানে স্বজনপ্রীতি, ভালো ল্যাব না থাকা, গবেষণায় বরাদ্দে অপ্রতুলতা, ভালো গবেষণার স্বীকৃতি না পাওয়া, পদোন্নতিতে গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেয়ায় মেধাবী শিক্ষকরা গবেষণাবিমুখ হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শুধু ডিগ্রি প্রদান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আরো করুণ। অর্ধেকের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণাই হচ্ছে না। বাকিগুলো নামমাত্র বরাদ্দ রেখে দায় সারছে। সূত্র আরো জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অনুন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয় ৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা (১.৪৮%)। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয় ৪ হাজার ৮৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ৬২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা গবেষণা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা অনুন্নয়ন বাজেটের ১.২৯ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয় ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তার মধ্যে অনুন্নয়ন বাজেট ৫ হাজার ৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা অনুন্নয়ন বাজেটের ১.২৬ শতাংশ। প্রতি বছরই গবেষণায় বরাদ্দের হার কমেছে। আবার ওই বরাদ্দও খরচ করতে পারছে না অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১৪ কোটি টাকা। বছর শেষে দেখা যায়, খাতটিতে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৪২ টাকা। বরাদ্দের ৪০ শতাংশই ব্যয় করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পরের বছর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ কমিয়ে ৯ কোটি করা হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বরাদ্দ ছিল এক কোটি টাকা। টাকাটা অব্যয়িত থেকে যায়। প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রই এক।

এদিকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী জানান, গবেষণা করতে না পারলে স্কুল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তিনটি। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান উৎপাদন, বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে সেই জ্ঞান সংরক্ষণ ও পাঠদানের মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণ। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুধু পুরনো জ্ঞান বিতরণ হচ্ছে, নতুন জ্ঞানের আবিষ্কার হচ্ছে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয় তার বেশিরভাগই খরচ হয় বেতন-ভাতা ও অবকাঠামো নির্মাণে। গবেষণায় বরাদ্দ নামমাত্র। পর্যাপ্ত সরঞ্জামসহ গবেষণা ল্যাব নেই। ভালো গবেষণার জন্য পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা নেই। পদোন্নতি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে গবেষণা মূল্যায়ন করা হয় না। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে পদোন্নতি পাচ্ছেন। ওই কারণে মেধাবীদের কেউ কেউ অর্থের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম শিক্ষকতায় যুক্ত হচ্ছেন, কেউ পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধার জন্য রাজনীতিতে সময় দিচ্ছেন। ফলে মেধাবী গবেষক পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া কম বরাদ্দের মধ্যেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ অর্থ খরচ করতে পারছে না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। কেউ পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। আবার যারা গবেষণা করছেন, সঠিক মান বজায় না রাখায় আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করতে পারছে না। যেহেতু কোনোরকমে গবেষণা একটা করে অনলাইনে বা ফ্যাকাল্টি জার্নালে প্রকাশ হলেই পদোন্নতি হচ্ছে, তাই মৌলিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তা প্রকাশের চেষ্টাও করা হচ্ছে না। ওসব কারণে গবেষণার সংস্কৃতিই গড়ে উঠছে না। অন্যদিকে এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সদ্য-সাবেক ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ড. রাহমান নাসির উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় যে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও সেটা আমরা শিক্ষা-দর্শনে কখনোই বিবেচনায় নেই না। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। বেসরকারিভাবে গবেষণার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা নেই। অথচ বিশ্বের অনেক দেশেই বেসরকারি খাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটের বড় অংশ আসে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মৌলিক গবেষণা তেমন একটা হচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণায় কিছু বরাদ্দ রাখে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক তাই গবেষণার চেয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়ে অধিক অর্থ উপার্জনে আগ্রহী। আবার গবেষণা বরাদ্দ অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্পের গুণগত মানের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে দেয়া হয়। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষক হয়তো গবেষণা করতে চেয়েও প্রকল্প পাচ্ছে না। এভাবে সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা, বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, বরাদ্দ অর্থের যথাযথ বণ্টন-মনিটরিং-মূল্যায়নের অভাব এবং সর্বোপরি শিক্ষকদেরও গবেষণায় ক্রমবর্ধমান অনাগ্রহের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যতটা এবং যে মানের গবেষণা হওয়া উচিত সেটা হচ্ছে না। ফলে উচ্চশিক্ষার মানও ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। কিন্তু জ্ঞান উৎপাদন না করে জ্ঞান বিতরণের চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়।