কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলী’র শোক

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদ গত ৯ অক্টোবর আমেরিকার নিউইয়র্কের নর্থ সেন্টাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে  গভীর  শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। প্রেরিত শোকবার্তায় মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, নাসিম এর মৃত্যুতে আমরা একজন বীর সন্তানকে হারালাম। মেয়র আনোয়ার আলী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আবরারের কবর জিয়ারত , পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও দলীয় সভা

পুলিশের বাঁধায় ভেড়ামারা থেকেই ফিরে গেল বিএনপি নেতা আমান

নিজ সংবাদ ॥  পুলিশি বাঁধায় নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে গেলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল¬াহ আমান। গতকাল রোববার সকালে ভেড়ামারায় লালন শাহ সেতু পার হয়ে কুষ্টিয়ায় ঢুকলে পুলিশী বাঁধার মুখে পড়েন। এ সময় পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেন।

এ সময় আমানউল¬াহ আমান বলেন-  ম্যাডামের ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা আবরার ফাহাদের বাড়িতে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাত করতে চেয়েছিলাম, কবর জিয়ারত করে দলের সভায় যোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই স্বৈরাচার সরকার আমাদের বাঁধা দিল। পুলিশের বাঁধায় আমরা যেতে পারলাম না। আমরা পুলিশের এ আচরনের তীব্র নিন্দা জানায়।

আমানউল¬াহ আমান বলেন,‘ এভাবে দেশ ও গণতন্ত্র চলতে পারে না। আমরা ৯ বছর ধরে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি। গণতন্ত্র একদিন মুক্ত হবেই। এ জিম্মি দশার অবসান হবেই। এ সময় তিনি সংবিধান ধারা দেখিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিকের অবাধ যাতায়াত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আপনারা পুলিশের লোক, আপনাদের সাথে আমাদের কোন ঝামেলা নেই। আপনারা আমাদের নিরাপত্তা দেন, আমাদের কাজে সহযোগিতা করেন। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) আল বেরুনী, ভেড়ামারা থানার ওসি আব্দুল আলিমসহ গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, স্যার আপনারা চলে যান। আবারের বিষয়টি আমরা দেখব।

এ সময় বিএনপি নেতা আমান পুলিশ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন,  ভারত আপনাদের পোষাকের প্রতি সম্মান দেখায়নি। র‌্যাবের সদস্যদের তারা পিটিয়েছে। আবরার ফাহাদ একজন মেধাবী ছাত্র, সে শহীদ হয়েছে। ছাত্রলীগের হামলায় সে নিহত হয়। এ সরকারে  আমলে কেউ নিরাপদ নয়।

পরে তিনি ঢাকায় ফিরে যান। এ সময় জেলা বিএপির সভাপতি  সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইবির ভর্তি পরীক্ষা ৪ থেকে ৬ নভেম্বর

ইবি প্রতিনিধি ॥  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৬ নভেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে প্রতিদিন চার শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম শিফট সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা, দ্বিতীয় শিফট সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা, তৃতীয় শিফট দুপুর ২টা থেকে ৩টা এবং চতুর্থ শিফট বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবছর ৪টি ইউনিটের অধীনে ৮টি অনুষদে মোট ৩৪টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৩০৫টি আসনের জন্য আবেদন করেছে ৬১ হাজার ৯৪২ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষার প্রথম দিন ৪ নভেম্বর প্রথম শিফটে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিফটে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন ৫ নভেম্বর ৪ শিফটে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও পরীক্ষার তৃতীয় দিন ৬ নভেম্বর চার শিফটে বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তিচ্ছুরা আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ১লা নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে প্রবেশপত্র উত্তোলন করতে পারবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (িি.িরঁ.ধপ.নফ) থেকে জানা যাবে।

দৌলতপুরে গাঁজাসহ স্কুল ছাত্র আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গাঁজাসহ তানভির হোসেন বাহাদুর (১৫) নামে দশম শ্রেনীর এক স্কুলছাত্র আটক হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া থেকে তাকে গাঁজাসহ আটক করে বিজিবি। আটক বাহাদুর সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে এবং পাকুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে মহিষকুন্ডি বিজিবি’র টহল দল মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ স্কুলছাত্র তানভির হোসেন বাহাদুরকে আটক করে। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন

কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদের দাফন সম্পন্ন

নিজ সংবাদ ॥ হাজার হাজার মানুষের ভালবাসা আর শ্রদ্ধার মধ্যে দিয়ে চিরশায়িত হলেন কুষ্টিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৪ বারের নির্বাচিত জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিম উদ্দিন আহমেদ। কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম। এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। চৌকস পুলিশ দলের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত সালাম গ্রহন করেন। জানাজা নামাজের পূর্বে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা  সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হাজী রফিকুর রহমান, মরহুম নাছিম উদ্দিনের ভাই মেধা কুষ্টিয়ার সদস্য সচিব শামীম আহমেদ, মেজ জামাই যুক্তরাষ্ট প্রবাসী আবু হাসান মিয়া। জানাযার পুর্বে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদের মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসন, কুষ্টিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা কমান্ড, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর শাজাহান আলী, মীর আইনুল ইসলাম শিক্ষা ফাউন্ডেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সন্তান মিরপুর, বাসদ, চারণ সাংস্কৃতিক সংগঠন, কাজী আরেফ আহমেদ সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখা, খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দৌলতপুর ইউনিট, খোকসা ইউনিট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, আহত  ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিঃ। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জাফর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসগর আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মানিক ঘোষ, বিএমএ কুষ্টিয়ার সাধারন সম্পাদক  ডাঃ আমিনুল হক রতন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফরউল্লাহ খান চৌধুরী লাহরী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়ার সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক দুদু, মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুল আল, কুষ্টিয়া চেম্বারের সাবেক সভাপতি যদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন মৃধাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা জানাজা নামাজে শরীক হন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় কপি জনসাধারনের জন্য কফিন উম্মুক্ত করা হয়।  এর আগে শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশ্যে এ্যামিরাতের এ্কটি বিমানে রওনা দিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মরহুমের লাশের কপিন পৌছায়। মরহুম নাছিম উদ্দিনের স্ত্রী ও মেঝ জামাই লাশের সাথে ছিল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিমান বন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মরহুমের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুরা অংশ নেয়।  মরহুম  নাছিম উদ্দিন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে ৪র্থবারের মত নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের একজন কান্ডারী ও সহায়ক বন্ধু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। দলবল নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা নাছিম উদ্দিনের অতি আপন জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিম উদ্দিন আহমেদ (৬৫) গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায়  যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী কন্যা, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। মরহুমের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়-বুধবার সকালে ৮টার দিকে তিনি নিউইয়র্ক শহরের ব্র“কলিন এলাকায় মেঝ মেয়ের বাসার সামনে হাটাহাটি করার মুহুর্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সাথে সাথে তাকে নিউইয়র্কের নথ সেন্টার হসপিটালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান।  মুক্তিযোদ্ধা নাছিম উদ্দিন শহরের থানাপাড়া খোদাদাদ সড়কের মরহুম সুজাউদ্দিন আহমেদের ৪ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে  সবার বড় ছিলেন। তিনি কয়েক দফায়  দীর্ঘ দিন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত নিউইয়র্ক শহরে মেঝ  মেয়ের কাছে সস্ত্রীক সেখানে থাকতেন। সর্ব শেষে আগষ্টের ২০ তিনি সেখানে যান। মরহুমার তিন কন্যার মধ্য বড় মেয়ে ঢাকায় মেঝ মেয়ে নিউইয়র্কে এবং ছোট মেয়ে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করেন।  মরহুম নাছিম উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ডধারী।

দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে স্কুলছাত্র নিখোঁজ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে জাকির হোসেন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদীতে সে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ স্কুলছাত্র জাকির হোসেন ধর্মদহ ফরাজিপাড়া গ্রামের সাহারুল ইসলামের ছেলে এবং ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র। স্থানীয়রা জানায়, স্কুলছাত্র জাকির হোসেন বাড়ির পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করার সময় প্রবল স্রোতে সে তলিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী নদীতে সন্ধান চালিয়ে তার খোঁজ মেলাতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। রাতে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে পোঁছানোর কথা রয়েছে। ডুবুরি দল আসার পর ্উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীতে ডুবে স্কুলছাত্র নিখোঁজের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান এখনও নিখোঁজ স্কুলছাত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয় – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়। রাজনীতিবিদদের অধিকাংশেরই হাতেখড়ি ছাত্র রাজনীতি থেকে। কাজেই মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়। রোববার দুপুরে রাজশাহী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় অংশ নিতে রাজশাহী এসেছেন তিনি। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যারা ছাত্র রাজনীতির নামে অপকর্ম করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চলছে। মাদক, জুয়া, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে এই শুদ্ধি অভিযান। প্রথমে ঘর থেকে শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবখানে এ অভিযান চালানো হবে। যুবলীগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে সব যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা প্রত্যেকেই নজরদারিতে আছেন।’ এ সময় সাংবাদিকরা যুবলীগ চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুবলীগের চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছে কি-না তা পরে জানা যাবে। তবে তিনি আত্মগোপনে নেই।’

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনারও রোল মডেল 

ঢাকা অফিস ॥ দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন কেবল উন্নয়নেরই নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও বিশ্বে একটি রোল মডেল দেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে এখন আমরা শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতেও রোল মডেল হিসেবে একটা সম্মান পেয়েছি।’ শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বন্যা, খরা, ঘুর্ণিঝড়, অগ্নিকান্ড এসবে ক্ষয়ক্ষতি যাতে হ্রাস পায় তার জন্য যা ব্যবস্থা নেয়ার ইতোমধ্যে আমরা তা নিয়েছি। যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং সবাই মনে করে এটাও বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার রয়েছে। অনেকে আমাদের কাছ থেকে এটা এখন জানতে চায়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর জুলাই মাসে ঢাকায় গে¬াবাল কমিশন অন এ্যাডাপ্টেশন’র সভা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্ব অভিযোজন কেন্দ্র- ঢাকা অফিস’ স্থাপনের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী যে কোন ধরনের দুর্যোগের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোন মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ আসুক আর প্রাকৃতিব দুর্যোগই আসুক সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত থাকবে সেটাই আমি চাই। আমাদের ভলান্টিয়াররা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে, সেটারই আমি আশা পোষণ করি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় যেকোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণেও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁর একটা স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। আমরা সেই সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ বি তাজুল ইসলাম এবং সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।‘দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় দুজন ‘দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ’ প্রাপ্ত ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শিউলী রানী শিল এবং কুড়িগ্রামের মো.শহীদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সেরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এ বছর ৮২ জনকে ‘সিপিপি’ পুরস্কার দেয়া হয়। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তিন জনের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।তারা হচ্ছেন- কক্সবাজারের চকোরিয়ার বুলবুল জান্নাত, ভোলার লালমোহনের এ কে এম কামরুল ইসলাম এবং খুলনার মোংলার সুস্মিতা মন্ডল।অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী- ১৯৯৭ প্রণয়ন করেছিলাম। পরবর্তীতে আমরাই আবার ২০১০ সালে এটি হালনাগাদ করি। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন করি। ২০১২ সালে তাঁর সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করে একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আইনের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে, যা দুর্যোগ মোকাবেলা, ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’ তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে ২০১৫ সালে আমরা একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করি এবং জাতীয় রিজিলিয়েন্স পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যা সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ও এসডিজি’র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি) প্রতিষ্ঠা করেছে। বড় ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পূর্বাচলে একটি স্টেজিং এরিয়া নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে, যেন জরুরি অবস্থায় এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোরও প্রয়োজন মিটাতে পারে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সিভিল মিলিটারী সমন্বয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিজিওনাল কন্সালটেটিভ গ্র“পের (আরসিজি) মাধ্যমে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করেছি,বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন (ইউএনডিআরআর) প্রণীত ¯ে¬াগান ‘বিল্ড টু লাস্ট’ এর আলোকে এ বছরের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘নিয়ম মেনে অবকাঠামো গড়ি, জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি হ্রাস করি,’ আমাদের সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ও কর্ম কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি প্রণয়নের পথিকৃৎ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি ঘূর্ণিঝড় থেকে জানমাল রক্ষায় ‘মুজিব কিল্লা’ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)’ প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্তমানে ৫৫ হাজার ৫১৫ জন সে¦চ্ছাসেবকের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়াও,৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, প্রায় ২৪ লক্ষ আনসার-ভিডিপি, ১৭ লক্ষ স্কাউটস, ৪ লাখ বিএনসিসি এবং গালর্স গাইডের ৪ লাখ সদস্য যে কোন দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার আরও ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করছে। এছাড়া, সরকার দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করেছে। পর্যায়ক্রমে, আরও ১ হাজার ৬৫০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন,‘আমাদের সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমে এসেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেই লোকগুলোকে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ’৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে সে সময়কার বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী । তিনি বলেন, ‘একটা সরকার যদি সচেতন না থাকে, সজাগ না থাকে তাহলে কত বড় ক্ষতি হতে পারে সেটা ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে আমরা দেখেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় খালেদা জিয়া সংসদে বলেছিলেন যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরেনি। আমি তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে।’ দুর্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করে নেদারল্যান্ডের সহযোগিতায় প্রণীত শতবর্ষ মেয়াদি ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’র পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৪৫ কি.মি. রাস্তা হেরিং বোনবন্ড, ২৮ হাজার ৪৯৪টি সেতু ও কালভার্ট, ২৫৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও ১০০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ৫ হাজার ২০৫ কি.মি. রাস্তা হেরিং বোনবন্ড, ১৩ হাজার সেতু ও কালভার্ট, ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ৬৬টি জেলা ত্রাণ গুদাম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র এবং ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের স্বরূপ পরিবর্তন করে গৃহহীনদের জন্য ‘দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ’ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে উদ্ভাবনী কর্মী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশি বাধায় ঐক্যফ্রন্টের শোক র‌্যালি পন্ড

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘শোকযাত্রা’ পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রোববার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে র‌্যালি সহকারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় ফটক দিয়ে বেরিয়ে একশ গজ এগোলেই পথ আটকায় পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তারা এসে ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ‘র‌্যালি করা যাবে না’ বলে জানান। ‘আমরা শোক র‌্যালি করব’ বলে জবাব আসে তাদের থেকে। উভয়পক্ষের কথোপকথন চলার মধ্যে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিনিট কালো পতাকা হাতে নেতা-কর্মীর শ্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের প্রেস ক্লাবের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। ঐক্যফ্রন্টের এই শোক র‌্যালি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নিজের গাড়িতে বসে র‌্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন কামাল হোসেন। পুলিশ কর্মসূচি পন্ড করে দেওয়ার পর কামাল হোসেনের গাড়িটি চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শ্যামা ওবায়েদ, জেএসডির তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণফোরামের আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, মোশতাক আহমেদ, লতিফুল বারী হামিম, নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরাম, শহীদুল্লাহ কায়সার, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিকল্প ধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী যোগ দিয়েছিলেন।

কুষ্টিয়া জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতেই হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। মাদক আস্তে আস্তে প্রজন্মেও মেধা ও জীবনী শক্তি কেড়ে নিচ্ছে। আজকের বিশ^ায়নের যুগে আপনার আমার সন্তানের মধ্যে অপার সম্ভাবনা গুলিয়ে আছে। তাদের এই মেধা ও প্রতিভা  কোনভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা। আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন তাদের বিপদগামীতার হাত থেকে রক্ষা করুন।    আগামীর নেতৃত্বদানকারী আজকের প্রজন্মকে মাদকের ছোয়া থেকে যে কোন মুল্যে বাইরে রাখতে হবে। আর এক্ষেত্রে নিজেদের বেশি বেশি করে সচেতন হতে হবে। মাদকাসক্ত থেকেই জেলা শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বে-নামে কিশোর অপরাধ গ্যাং গড়ে উঠছে। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে ইভটিজিং, দ্রুত গতিতে মটরসাইকেল চালানো এবং জোরে হর্ণ বাজানোসহ নানান কৌশল করে বেড়াচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতেই হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শহরের ছাত্রাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারীতে রাখতে হবে। তাদের খেয়ালীপনায় মাদক নেয়াসহ কোন অপরাধমুলক কাজ যেন সংগঠিত হতে না পারে। মাদককে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং। প্রয়োজনে কিশোর গ্যাংসহ জেলার সকল অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলাকে মাদকের ভয়াবহতামুক্ত করতে নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই মাদকের মুল উৎপাটন ও যে কোন অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রজন্মকে মাদক থেকে দুরে রাখতে এবং তাদের বুদ্ধি বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এলাকায় চিহ্নিত দাগী ফেরার কোন অপরাধীকে দেখলে কিংবা অপরিচিতি সন্দেভাজন কাউকে দেখলেই আপনার নিকটস্থ পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিন। সচেতনতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। তিনি বলেন, কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। মাদক বেচা-কেনা স্পটগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সহ আইনশংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রাস্কফোর্সের অভিযান বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় অপরাধ কম থাকলেও সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশার বংশ বিস্তার ধ্বংশ করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।  ডেঙ্গু প্রতিরোধ হয়েছে এমন সুখবরটি পেতে গ্রাম পর্যায়ে মশারীর ব্যবহার বাড়াতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবেই এর সুফল পাবে সবাই। তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণে যে মোবাইল কোর্টসহ অভিযান চলছে, তা আগের মতই চলবে। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ  যেন যথার্থই হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কোটি পরিচালনা করতে হবে। এতে কিছু মানুষ ক্ষুদ্ধ হলেও অভিযুক্তকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় দেশের অধিকাংশ মানুষই এই মোবাইল কোর্টকে গ্রহন করেছেন। তিনি ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দ্যেশে বলেন, মনে রাখতে হবে অভিযান চলাকালিন সময়ে নানান পরিচয় দিয়ে তোমাকে যেন তার পক্ষে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি বলেন, জনজীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে না। দূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোনভাবেই  জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।  জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার লাভ করছে এমন অভিযোগের জবাবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরদের পরিবারের লোকজনকে ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছে। ১১টি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বিভিন্ন নামে নামকরণ দিয়ে স্কুল কলেজের ছেলেরা গ্যাং গ্র“প করে অপরাধে না জড়িয়ে নিজেরা মজার জন্য আত্মপ্রকাশ করে। এনিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তাদের গতিবিধি আমাদের নজরদারীতে আছে। জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মিঠু, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা,  জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার তরফদার আলমগীর হোসেন,  জেলা ট্রাক মালিক সমিতির নরেন্দ্র নাথ সাহা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কবি ও আবৃত্তিকার আলম আরা জুঁই, বিআরটিএ’র ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি এস এম কাদেরী শাকিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম প্রমুখ। সভায় এছাড়াও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখা,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ, ইভটিজিং, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, যৌন হয়রানী এবং চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা প্রতিরোধ, অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচাররোধ, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, ফরমালিন সনাক্তকরণে ফলের স্যাম্পল সংগ্রহকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

দৌলতপুরে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্যাক মেথড বা বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কুলসুম আরা নামে এক কৃষাণী। এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করে মাত্র ৭ থেকে ৮ মাসে বস্তা প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি আদা সংগ্রহ করা সম্ভব। আর এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে আলাদা কোন জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা বা বাড়ি ভেতর উঠোনের চারপাশ দিয়ে এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করা সম্ভব। যেমনটি করেছেন দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের কৃষাণী কুলসুম আরা। তিনি বাড়ির ভেতর উঠানের চারপাশ দিয়ে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পেয়ে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামাংজ্জামান জানান, কুষ্টিয়া তথা দৌলতপুরের মাটি আদা চাষের উপযোগী না হওয়ায় বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। আর এরজন্য প্রয়োজন একটি বস্তার অর্ধেক অংশ যার মধ্যে বেলে দোয়াঁস মাটি ৫কেজি, এটেল মাটি ৫কেজি, ধানের তুষ ৫কেজি, ভার্মি কম্পোষ্ট ৫কেজি এবং জীবানু নাশক মেহগনি ফলের গুড়ো ৫০গ্রাম। এগুলো একত্রে মিশিয়ে তার ভেতর ২০০ গ্রাম আদার বীজ বপন করতে হবে। এর থেকেই ২৪০ দিনে প্রতি বস্তায় ৫ থেকে ৬ কেজি আদা উৎপাদন সম্ভব। যার বাজার মূল্য সর্বনিম্ন ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা। নিজ বাড়ির আঙিনা বা বাড়ির উঠোনেই এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করে নিজ পরিবারের আদার চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাতকরণ করে আর্থিক চাহিদাও মেটানো সম্ভব। যা করে দেখিয়েছে কুলসুম আরা। দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

দুনিয়ার মজদুর এক হও-বাংলার মেহনতি মানুষ এক হও এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৬৯ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হাতে গড়া সংগঠন  জাতীয় শ্রমিক লীগ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে গতকাল শনিবার সকাল ১০ঘটিকার সময়  জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা ও  কেক কাটার মধ্যদিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়। জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আহবায়ক তাযেম হোসেন ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কেক কাটায় প্রধান অতিথি ছিলেন  জেলা জাতীয়  শ্রমিক লীগের  সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমজাদ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন  জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রশীদ, ইয়াকুব আলী, জিল্লুর রহমান, কারিবুল ইসলাম উজির, আব্দুল হামিদ শিরিন,  ইনজান্ড উদ্দিন মিন্টু, হাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান, হামিদুল ইসলাম,  মোহাম্মদ পলাশ মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ  আলমগীর, শাহিনুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন,   লেবু, আফজাল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের  সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন,  ইলিয়াস খান,  জাহাঙ্গীর আলম, তরিকুল ইসলাম মিন্টু, রাহাত আলী, প্রচার সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রশিদ, শ্রমিক কল্যান সম্পাদক মাহাবুব হোসেন,  বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদর জামান, জনতা ব্যাংক সিবিএ জহির রায়হান, কৃষি ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক এলাহী বক্স,  রেণউইক সিবিএ সভাপতি সেলিম রেজা রিপন, শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেওয়ান মাহমুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ প্রচার সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক খোমনী আহমেদ, কুষ্টিয়া চিনিকলের সিবিএ সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব আলম, সহ দপ্তর সম্পাদক কাবুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইজিবাইক সভাপতি রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সজল আলি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল আহমেদ, নির্মাণ শ্রমিক লীগ কামরুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য মোতালেব  হোসেন, লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, মিরপুর সভাপতি হামিদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খান বলেন-  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ  দলের ভিতর ও বাহিরে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা করলে হবে না। বাংলাদেশের সমস্ত জেলা শহর উপজেলায় অভিযান চালানোর জন্য দাবি জানান। দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, সন্ত্রাস দমনের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। চাঁদাবাজ- টেন্ডার ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। দলের আগামী সম্মেলনে বিএনপি-জামাত প্রবেশ করতে না পারে তার দাবী জানিয়ে বলেন অনুপ্রবেশকারীদের বিদায় দিতে হবে। তিনি বলেন জেলা শ্রমিক লীগের কতিপয় নেতা বিদ্যুৎ অফিসে দুর্নীতি করেছে, ওই দুজন কর্মচারীর জন্য যাতে অন্য কর্মচারীরা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে আহবান জানান। আলোচনা সভা  শেষে কেক কাটার সময়  নেতা কর্মীদের মাঝে এক আনন্দ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপরে আমজাদ আলী খানের  নেতৃত্বে শহর শ্রমিক লীগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, ডাক ও পোস্টম্যান শ্রমিক লীগ, সদর উপজেলা শ্রমিক লীগ, মাছুদ বিড়ি শ্রমিক লীগ, হরিপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ, মিরপুর উপজেলা শ্রমিক লীগ, সোনালী ব্যাংক শ্রমিক, পূবালী ব্যাংক শ্রমিক লীগ, সহ শ্রমিক লীগের বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে এন.এস রোড, মজমপুর রেলগেট, সার্কিট হাউস, জেলা স্কুল  হয়ে ডিসি কোর্ট চত্বরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রায় ৫০০ আম,  মেহেগনি, বকুল ফুলসহ পেয়ারা গাছ উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরন করা হয় এবং সমবেত শ্রমিক নেতা-কর্মীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। পরিশেষে জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কুষ্টিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কিছু গাছ চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার কারনে শ্রমিক লীগের  নেতা কর্মীরা আমজাদ আলী খানের নেতৃত্বে  বিদ্যুৎ অফিসের ভিতরে ১০০টি বিভিন্ন জাতের গাছের চারারোপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

“খেলাপি ঋণ নিয়ে ‘পাতানো খেলা’ চলছে”

ঢাকা অফিস ॥ খেলাপি ঋণ নিয়ে ‘পাতানো খেলা’ চলছে দাবি করে তা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বললেও সেটি তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। গতকাল শনিবার জতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ করুন: ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সরকারের প্রতি এই সুপারিশ রাখেন অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবু নাসের বখতিয়ার ও কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মাকসুদ।মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক মইনুল বলেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ আছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে ইনজাংশনের কারণে ঝুলে থাকা ৭৯ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে আছে ২৭ হাজার ১৯২ কোটি টাকা এবং নিয়মবহির্ভুতভাবে রিশিডিউলিং করা আরও ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা।“এই অংকের সাথে অবলোপন করা মন্দ ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।”তিনি বলেন, “আসলে দেশে ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি পাতানো খেলা চলছে।সমস্যার প্রকৃত রূপটি সরকার, ব্যাংকার এবং ঋণখেলাপি সবারই জানা আছে। সমস্যার সমাধানের উপায় সম্পর্কেও এই তিন পক্ষের সবার স্পষ্ট ধারণা আছে। কিন্তু জেনেশুনেই সরকার সমাধানের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে না। ফলে এখনও দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা রয়ে গেছে রাঘববোয়াল ঋণ খেলাপিদের কাছে আটকে থাকা বিপুল খেলাপি ঋণ।“এই ঋণখেলাপিদের প্রায় সবাই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, মানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে, ঋণ ফেরত দেবেন না। কারণ তাদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং আর্থিক প্রতাপ দিয়ে তারা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, দেশের সংসদকেও দখল করে ফেলেছেন। এখনতো দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এটা আমার কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের জোরালো উদ্যোগ না থাকারও সমালোচনা করেন তিনি।“অবলোপন করা মন্দঋণ বাড়া মানেই হল এর ফলে শ্রেণিকৃত ঋণ ওই পরিমাণ কম দেখানো যাবে। মন্দঋণ আদায়ের জন্যে খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে দুই শতাংশ ঋণ প্রাথমিক কিস্তিতে পরিশোধ করে যে দশ বছরের সময় দেওয়ার ব্যবস্থা হল, সে সুবিধা নিয়মনিষ্ঠ ঋণ ফেরতদাতারা পান না।“কিন্তু এধরনের পরিবর্তন খেলাপি ঋণ সমস্যাটিকে আড়াল করার পন্থা হলেও মন্দঋণ আদায় করতে কোনো নিষ্ঠাবান প্রয়াস জোরদার করার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো একজন ‘ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী’ তার ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ী বন্ধুদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত দরদ দেখিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।”মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৪-১৯ মেয়াদের সরকারের সময়েও খেলাপি ঋণের অবস্থা সংকটজনক থাকা সত্ত্বেও কোনো ‘রহস্যজনক’ কারণে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিকে বারবার এড়িয়ে গেছেন।বর্তমান সংসদ সদস্যদের ৬১.৭ শতাংশই ব্যবসায়ী আর তাদের সিংহভাগই ব্যাংকের মালিক বা পরিচালক বলে জানান অধ্যাপক মইনুল।এই অর্থনীতিবিদ খেলাপি ঋণ কমাতে কয়কটি পরামর্শ দিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন খেলাপিকে দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য ‘ডেট রিকভারি বা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন, অর্থঋণ আদালতে কোনো ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় হলে জামানত বা বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম করার জন্য মামলা করার যে নিয়ম রয়েছে, তা বাতিল করা, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ দশ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম এক বছরের বেশি তালিকাভুক্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তার পাসপোর্ট জব্দ করা ইত্যাদি।আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু কখনও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেশের উন্নয়ন মাপেননি। ১৯৭৪ সালে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধির কথা বঙ্গবন্ধু কোনো দিন কোথাও বলেননি। আর বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের পারিমাপক হিসেবে ধরা হচ্ছে।“বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মানুষের মধ্যে যে সম্পদের পার্থক্য এটিকে কমিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ তিনি বৈষম্য কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেছিলেন। অথচ বর্তমানে দেশ চরম বৈষম্যের দেশে পরিণত হয়েছে। ৯৫ জনকে শোষণ করে পাঁচজনের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।” তিনি ‘সমাজ পরিবর্তনের ডাক’ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

দৌলতপুরে মুন্সি ও প্রামানিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত-১৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে মুন্সি ও প্রামানিক দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কান্দিরপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, এলাকার অধিপত্য বিস্তার ও বিয়ে সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রশিদ মুন্সির লোকজন প্রতিপক্ষ মিরাজ প্রমানিককে মারপিট করে। এরই জের ধরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মিরাজ প্রমানিকের নেতৃত্বে ১৫-১৬জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রশিদ মুন্সির বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে রশিদ মুন্সি, পচাই মুন্সি, মিরাজ প্রামানিক ও লেবু প্রামানিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত: ১৫জন আহত হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। আহতদের মধ্যে রশিদ মুন্সি ও পচাই মুন্সি’র অবস্থা আশংকজনক বলে জানাগেছে। মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে মুন্সি গ্র“প ও প্রমানিব গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মুন্সি গ্র“পের রশিদ মুন্সি ও পচাই মুন্সির অবস্থা আশংকাজনক বলে জানাগেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমি ঘটনাস্থলে আছি। দুইপক্ষেরই আহত হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে।

২৭টি প্যানেল তালিকা জমা হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি ঘোষণা

ক্লিন ইমেজের নেতা-কর্মীদের কমিটিতে স্থান দেয়ার আহবান

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়  রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও জাকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮নং পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷

পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার বিকেলে  খেজুরতলা-পাটিকাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী৷ পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জনপ্রিয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ৷

জাতীয় সংগীত বাঁজিয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম ৷

প্রথম অধিবেশন শেষে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং ২৭টি প্যানেল তালিকা জমা হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করা হয়৷ এ সময় উপস্থিত নেতারা বলেন, এই কমিটির বিষয়টি উপর মহলের নেতাদের সাথে কথা বলে কমিটি ঘোষণা করা হবে ৷

প্রধান বক্তা আতাউর রহমান আতা বলেছেন, যাদের ভিতরে ক্লিন আমেজ আছে, যারা টেন্ডারবাজি-চাঁদা বাজি ও ক্যাসিনোর সাথে জড়িত না, তাদেরকে কমিটিতে আনতে হবে। আতাউর রহমান আতা বলেন, আমরা দল করি উন্নয়নের জন্য, আমরা দল করি শান্তির জন্য। আওয়ামীলীগ সরকার স্বাধীনতার পর থেকে যত উন্নয়ন করেছে, তার ১ ভাগ উন্নয়নও অন্য কোন দল করেনি। তাই উন্নয়নের স্বার্থেই আওয়ামীলীগ সরকারকে জনগণ আবারো ক্ষমতায় আনবে। তিনি আরো বলেন- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফ ভাই কুষ্টিয়ার যে উন্নয়ন করেছে, তার ৭০% উন্নয়নমূলক কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে সেই উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন দলের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে৷ বিতর্কিত, যোগদানকৃত, অনুপ্রবেশকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আওয়ামীলীগে ঠাঁই হবেনা ৷ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুষ্টিয়া উন্নয়নের রুপকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির পতাকাতলে মিলিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। কমিটির নেতৃত্বে যেই আসুক তাকে মেনে নিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলীয় কাজ করতে হবে। কমিটিতে যেই আসুক তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মেনে নিয়ে সকল কোন্দল, মনোমালিন্য ভুলে একে অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে ৷

সম্মেলন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বিশ্বাস, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মতিয়ার রহমান, মাযহারুল আলম সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. জিহাদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেবুন নেছা সবুজ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শামস তানিম মুক্তি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দৌলা তরুন, জেলা  স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লাল্টু রহমান, আফজাল হোসেন শিশির, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইলিয়াস খান, জহুরুল ইসলাম।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ, গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা জাফর উল্লাহ, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী টুটুল, সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম মিলন চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, মিরপুর উপজেলা কৃষকলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মুসা, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ইউনিয়ন  স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লিটন খান এবং পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নে প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক সফর উদ্দিনকে পুনরায় সভাপতি ও সাধারন হিসেবে নির্বাচিত করার আহবান জানান। বক্তারা বলেন-বিভিন্ন ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মধ্যে ন্দ্বন্দ্ব বিরাজমান। একমাত্র পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগই দৃষ্টান্ত। সাইদুর রহমান ও সফর আলী তাদের যোগ্য নেতৃত্বে সংগঠনকে দৃঢ় শক্তিশালী করেছে। আওয়ামী বিরোধী এই ইউনিয়ন এখন আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উজ্জল ৷

নিশ্চয়তা ছাড়া সৌদিতে কাজে না যাবার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ কাজের নিশ্চয়তা না পেলে শ্রমিকদের সৌদি আরবে না যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আহবান জানান।সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নাই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,“গত কয়েক বছরে সৌদি আরবে অনেকগুলো কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে গেছে। “যেসব শ্রমিকের আকামা নেই, তাদেরকেই ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব সরকার।’’ সৌদি আরবে শ্রমিকদের কাজের বৈধ অনুমোদনপত্রকে ‘আকামা’ বা ‘ইকামা’ বলে। অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার অবৈধ অভিবাসীদের সেদেশ ত্যাগে বাধ্য করছে।

অনেক ট্রাভেল এজেন্সি অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাচার করছে অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, “অনেক এজেন্সি মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে আদম পাচার করছে। আর এসব এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েন শ্রমিকরা।” বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরব অন্যতম শ্রমবাজার। পুরুষ শ্রমিকের পাশপাশি ২০১৫ সালের এক চুক্তির ভিত্তিতে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীও পাঠানো শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল মুসলিম দেশটিতে। তবে সেদেশের নিয়োগকর্তাদের যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অনেক নারী শ্রমিক দেশে ফিরেও আসে। এছাড়া বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার জন্য সৌদি সরকারের আগে দুই হাজার রিয়াল ফি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এখন থেকে ৩০০ রিয়াল করে ফি নিবে সৌদি সরকার।” এ সময় সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন,সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ,সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার উপস্থিত ছিলেন।

অনিক সরকারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যামামলায় রিমান্ডে থাকা বুয়েটছাত্র অনিক সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।এদিকে গ্রেপ্তার আরেক আসামি মাজেদুর রহমান নওরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।হত্যামামলার আরেক আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এ নিয়ে ছয় দিনে মোট ১৯ জন গ্রেপ্তার হলেন।গত ৬ জুন আবরার খুন হওয়ার পরপরই যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের একজন অনিক। গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।শনিবার অনিককে ঢাকার আদালতে নিয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানায় মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবি।বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী। আবরারের বাবার করা মামলায় আসামি হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, অনিক সরকার ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দিয়েছেন। মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তার খাস কামরায় আসামির জবানবন্দি নেন।এই হত্যামামলায় এর আগে বুয়েটছাত্র মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও ইফতি মোশাররফ সকাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আবরারকে পেটাতে পেটাতে অনিক একটি ক্রিকেট স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেছিলেন বলে ইফতি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।অনিক জবানবন্দিতে কী বলেছেন- জানতে চাইলে উপ-কমিশনার ফজলুর বলেন, “১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। কী বলেছে, সেটা জানি না।”জবানবন্দি নেওয়ার পর অনিককে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।আবরার হত্যাকান্ডের পর আসামির তালিকায় থাকা মাজেদুল ইসলামকে শুক্রবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি জানান, তার নামটি ভুল বলেছে পুলিশ। এই বুয়েটছাত্র সাংবাদিকদের বলেন, “আমার নাম মাজেদুর রহমান নওরোজ। পুলিশ ভুল করে মাজেদুল ইসলাম লিখেছে।” আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় যে মামলাটি করেন, সেখানে আসামির তালিকায় ৮ নম্বরে মাজেদুল ইসলামের নাম রয়েছে। বুয়েটের শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের কর্মী ও ম্যাটারিয়াল অ্যান্ড ম্যাটার্লজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজেদকে শনিবার গ্রেপ্তারের সময়ও পুলিশ নাম ‘মাজেদুল’ই বলেছিল। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই বুয়েটছাত্র বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আমাকে দেখা গেছে কি না, জানি না। আহত অবস্থায় আবরারকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার দলে আমিও ছিলাম। “ ওই সময় বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ সম্পাদক অমিত সাহা হলে ছিলেন না বলে দাবি করেন মাজেদ। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও অমিত ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মাজেদকেও ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছিল ডিবি। তাদের আবেদনের শুনানি করে পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী। আদালতে মাজেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আবরার ফাহাদ হত্যামামলার এজাহারভুক্ত আসামি বুয়েটছাত্র মোয়াজ আবু হুরাইরাকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এনিয়ে এই হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। অমিত সাহাসহ চারজনের নাম আবরারের বাবার করা মামলায় না থাকলেও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর।মোয়াজ বুয়েটের সিএসই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।আবরার ছিলেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে আবরারকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে।

আবরার হত্যাকান্ডের আরেক আসামি মোয়াজ গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যামামলার আরেক আসামি বুয়েটছাত্র মোয়াজ আবু হুরাইরা গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এনিয়ে এই হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। গ্রেপ্তার অমিত সাহাসহ চারজনের নাম আবরারের বাবার করা মামলায় না থাকলেও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর।মোয়াজ বুয়েটের সিএসই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।আবরার ছিলেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে আবরারকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।হত্যাকা-ে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে। আবরার হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ছাড়ছেন না শিক্ষার্থীরা।

 

মুদ্রা পাচারের মামলায় রিমান্ডে কাউন্সিলর মিজান

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকার একটি আদালত।শনিবার মিজানকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানার মুদ্রা পাচার আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মামলার সিআইডির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন।শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি সাতদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান মন্ডল জানিয়েছেন।কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। হত্যা, মাদকের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম।দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানের’ মধ্যে হঠাৎ করেই লাপাত্তা হন ক্ষমতাসীন দলের নেতা মিজান। গত সোমবার রাতে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডে মিজানের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ভারতে পালানোর চেষ্টায় থাকা মিজানকে শুক্রবার রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করে র‌্যাব।পরে তাকে ঢাকায় এনে র‌্যাব-২ এর পক্ষ থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার আইনে মামলা করা হয়। মিজানকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় তল্লাশি চালায় র‌্যাব।মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মুদ্রা পাচার আইনে মামলা দায়েরের পর র‌্যাব মিজানকে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।“থানায় মামলা হলেও শিডিউলভুক্ত হওয়ায় সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডি দুপুরে তাকে থানা থেকে গ্রহণ করে আদালতে নিয়ে যায়।”মিজানের বিরুদ্ধে ঢাকার মামলাটি ছাড়াও শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে বলে র‌্যাব-২ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন।

শির আগমনে নিজেই সৈকত পরিষ্কার করলেন মোদী

ঢাকা অফিস ॥ দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর ছোট্ট শহর মামাল্লাপুরামে শি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের শহর মামাল্লাপুরাম পর্যটকদের কাছেও দারুণ জনপ্রিয়। বিশেষ করে সার্ফারদের কাছে। শুক্রবার শি চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই মোদী সেখানে চলে যান। শনিবার দুই নেতার  বৈঠক। মামাল্লাপুরাম সৈকতের কাছে বিলাশবহুল একটি রিসোর্টে উঠেছেন মোদী। শনিবার ভোরে মোদী সৈকতে হাঁটতে বের হন।  সৈকতে নানা আবর্জনা ভর্তি প্লাস্টিকের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যারা সৈকতে দৌড়াতে বা হাঁটতে আসেন তারাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনাগুলো ব্যাগে ভরে রাখেন। মোদীকেও বড় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে সৈকত থেকে পানির খালি বোতল, কলার খোসাসহ অন্যান্য আবর্জনা ভরতে দেখা যায়। নিজের টুইটার একাউন্ট থেকে মোদী সেকত পরিষ্কারের ওই ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, “আজ সকালে মামাল্লাপুরাম  সৈকতে ‘পলোগিং’ করেছি। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ছিলাম। আমি আমার ‘সংগ্রহ’ জয়রাজের হাতে তুলে দিয়েছি। “আসুন আমাদের জনসমাগমপূর্ণ এলাকা পরিষ্কার এবং সুন্দর থাকা নিশ্চিত করি। আসুন একই সঙ্গে আমরা নিজেদের সুস্বাস্থ্য এবং সবল থাকা নিশ্চিত করি।” দুই দিনের ভারত সফর শেষে নেপাল যাবেন প্রেসিডেন্ট শি।

সাংগঠনিক রাজনীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংগঠনিক রাজনীতি চলবে কি-না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল শনিবার সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে চলে তারা তাদের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এবং বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিটি তাদের নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক রাজনীতি চলবে না বন্ধ হবে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। ‘বুয়েটে যেই ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে হয়তো অপরাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সবকিছু একটি ভূমিকা পালন করেছে’ একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং, বুলিং-এর অপসংস্কৃতি ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। পসটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বুয়েটের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক আগে থেকেই যদি উদ্যোগ নিতো তাহলে এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতো না। মন্ত্রী বলেন, সকল ক্ষেত্রে রাজনীতিকে দোষ দিলে হবে না। রাজনীতি ছাড়া দেশ চলে? আপনি যা কিছু করবেন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই চলে। কিন্তু রাজনীতিটা যেন সুষ্ঠু হয়, সুস্থ্য ধারার হয়। রাজনীতিকে যেন কেউ ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোন অপকীর্তি করতে না পারে সেজন্য রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে।আর এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদেরও একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল। পরে দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চারদিকে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এখন তারা মরণ কামড় দেয়ার জন্য প্রস্তুত। সেজন্য আমাদেরকেও প্রতি মুহূর্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, আমাদেরকে সেই কাজে সহযোগিতা করতে হবে। সে জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেক্টর কমান্ডার মেজর অব. রফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভুঁইয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।