প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেননি- দুদু

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উন্নত গণতন্ত্র দেবেন, দশ টাকা সের চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, কৃষকদের ফ্রি সার দেবেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আছে না- কেউ কথা রাখেনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা রাখেননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং গণতন্ত্রের মুক্তি কোন পথে?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে তারেক পরিষদ। দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদু বলেন, আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে হবে। রাস্তার আন্দোলন হবে কৌশলগত কারণে। আমরা কীভাবে রাস্তায় নামবো এবং কীভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এই পথটি আমরা বের করতে পারলেই সরকারের পতন হবে। আজকে বের করতে পারলে কালকেই সরকারের পতন হবে। কালকে বের করতে পারলে পরশুদিন তাদের পতন হবে। তিনি বলেন, আপনি বলবেন একটা সরকার বানাবে আরেকটা। বাক স্বাধীনতা না থাকলে যা হয়। আপনি বলবেন একটা আপনাকে কারাগারে ঢোকানোর জন্য সরকার বানাবে অন্যটা। আমার পাশেই বসে আছেন আমার সহকর্মী তিনি এখন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন। তিনি বললেন, আইন-আদালতের এখন স্বাধীনতা নেই। এটা উনি বলছেন তা নয়, এটা এখন দেশব্যাপী নয় বিশ্বব্যাপী সবাই জানে। সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে যথাযথ সম্মান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। বিএনপির নাকি কোনো জনপ্রিয়তা নাই। গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ঢাকা শহর ছিল বিএনপির ঢাকা শহর ছিল বেগম জিয়ার, ঢাকা শহর ছিল সাদেক হোসেন খোকার। সরকার তাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী এখন জেলখানায়। বাস্তবতা হলো আমাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের অর্ডার নিতে হয়। কোর্ট অর্ডার দিলেও সরকার তার চিকিৎসা করছে না। এমন একটি সভ্য জাঁতি আমরা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের আশ্রয় নিতে হয়। দেশের সকল মানুষ জানে তিনি খারাপ অবস্থায় আছেন। কিন্তু সরকার এবং পিজি হাসপাতালে ডাইরেক্টর বলেন তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম লরেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মো. হানিফ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ সরকারের পতনের আগে যেন আমার মৃত্যু না হয় – রব

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি- এ সরকারের পতন হওয়ার আগে যেন আমার মৃত্যু না হয়। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচিত মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। রব বলেন, মানুষের কণ্ঠরোধ করে স্বাধীনতা হরণ করে, বেশিদিন যদি ক্ষমতায় থাকেন আমি কিন্তু বলতেছি না কি হবে। তবে মানুষ যদি রাস্তায় নেমে যায় আপনাদের কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ছাত্রের গুন্ডামির প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পানিতে ডুবানো হয়েছে, এটা কি? চার মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকা অবস্থায় থেকেই তারা আন্দোলন করছে। একটা ভাইস-চ্যান্সেলর একটা মহিলার যদি লজ্জা না থাকে, যদি আপনি ভুলও না করেন তারপরেও দায়িত্বে থাকেন কিভাবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যদি দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেবেন। আপনি ব্যবস্থা নিয়েন তার আগে ভিসিকে সরান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, তারপরে ব্যবস্থা নেন। আসামিকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। কি আশ্চর্য ব্যাপার দেশের প্রধানমন্ত্রী কথা বলছেন উল্টাপাল্টা। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষ যখন রাস্তায় নামবে। কখন যে কি হবে তা বলা যায় না। কখন সে পায়ের তলার মাটি সরে যাবে, বসার চেয়ার সরে যাবে-তা বলা যায় না। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন তা না হলে কি যে হবে চিন্তাও করতে পারবেন না। এ সময় সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতন একমাত্র ওষুধ হলো ঐক্য। মাঠের আন্দোলন ঘরে বসে স্মরণ সভা করে স্বৈরাচারের পতন হয় না। আপনারা যুবসমাজ ছাত্রসমাজ শ্রমিক-কৃষক সবাই মাঠে নামেন আমি এই বয়সেও আপনাদের সঙ্গে মাঠে নামব। আমাদের এই লড়াই চলবে, এই লড়াই বাঁচার লড়াই। রক্ত কত চায়? রক্ত ততই দিব তারপরেও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি – মালয়েশিয়া

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি। এর আগে গত বুধবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের এ বৈঠকে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে আলোচনার বিষয়ে বলতে গিয়ে মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএসটিকে এম কুলাসেগারন জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্বান্ত হয়নি। জানা গেছে, নূন্যতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ, উভয় দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততার পরিধি, মেডিকেল পরীক্ষা এবং সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা ডাটা শেয়ারিং বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উভয় মন্ত্রী বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ে চালুর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। বিশেষ করে নূন্যতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিড়ম্বনা নিরসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের আগে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এদিকে মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত প্রকাশ করে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ঢাকায় আসছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। রাজধানীতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং সভায় মিলিত হবেন তাঁরা। এদিকে মন্ত্রী ইমরান আহমদের মালয়েশিয়ায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দালালরা তৎপর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনেকে বন্ধ শ্রমবাজার চালু হওয়ার ব্যাপারে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিজেদের দুর্নীতিই সরকারের পতন ডেকে আনবে – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই সরকার তাদের নিজেদের দুর্নীতির কারণেই পতন ডেকে আনবে। তাদের নিজস্ব দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণেই পতন হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা ফোরাম এই সভার আয়োজন করে। মওদুদ আহমদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদল মারা যাওয়ায় তার জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রকাশ করেছেন। ক্ষণিকের জন্যও তিনি সাদেক হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু কেন? এর কারণ কি এটা যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাদেক হোসেন খোকা আজকের প্রধানমন্ত্রীকে তখন হারিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন সৎ সাহসী নাগরিক ছিলেন। তার কথা কি তার (প্রধানমন্ত্রী) মনে আসে নাই? আমরা তো মনে করি, প্রধানমন্ত্রী একজন বিরাট মনের মানুষ। তার উচিত ছিল সর্বপ্রথম খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখা। মওদুদ বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন সাহসী, সৎ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন, দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। তার অবদান এ দেশের মানুষ কখনও ভুলবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাকে যে সম্মান দেখানো উচিত ছিল, সে সম্মান আমরা দেখাতে পারিনি। মওদুদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যে একটা শঙ্কা ও ভয়ভীতি আছে। আমরা রাস্তায় নামছি না বা নামতে পারছি না। আর সে কারণে হয়তো এই সরকারের পতন হবে না। কিন্তু আমি হতাশ নই। আমাদের অতীত বলছে, যেভাবে আন্দোলন করে একটা সরকারকে পতন ঘটাতে হয়, সেই ধরনের আন্দোলন সব সময় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার নিজেদের দুর্নীতির কারণেই তাদের পতন ডেকে আনবে। দুর্নীতির যে শেকড় সেগুলো তারা তৈরি করেছে। এই খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমের বিচার করে দুর্নীতি দমন হবে না। শোভন-রাব্বানীর তো বিচারই হচ্ছে না। আপনারা মনে করছেন, হাতেগোনা কয়েকজনের বিচার করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন। এটা কিন্তু যথেষ্ট নয়। দেশের মানুষ জানে দেশে কোনও প্রকার বিচার নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শাসন চালাচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি চিরদিন বন্দি থাকবেন না। আমরা খালেদা জিয়াকে যে কোনও সময় মুক্ত করে আনবো। যে কোনও সময় ছোট্টো একটি ঘটনায় সরকারের পতন ডেকে আনতে পারে। এরআগে বেশ কয়েকটি উদাহরণ আমরা দেখেছি। মওদুদ বলেন, আজ সরকার বলছে, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। কিন্তু আমরা বলছি, তিনি অসুস্থ। আমরা খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে চাই, আসলে তিনি কি অসুস্থ না সুস্থ। আমরা সরকারের কথায় আস্থা রাখতে পারছি না। আয়োজক সংঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

চুনোপুঁটি ধরে সরকার তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে চায় – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ‘সরকারে যারা আছেন তারা ৭ নভেম্বরকে স্বীকার করেন না’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারা স্বীকার করবে কেন? তারা তো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না।’ ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্বে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেখতে চায়, তারা অবশ্যই ৭ নভেম্বর-কে বিশ্বাস করে এবং মনে ধারণ করে।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে সরকার তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে চায়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘সরকার নিজেদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে নিয়ে গেছে ফলে তাদের চুনোপুঁটিগুলোকে ধরতে হচ্ছে। একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে মূল দুর্নীতি থেকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে পারবেন না।’ ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন, এর হিসাব কোথায়? শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়েছেন, তার হিসাব কোথায়? তার হিসাব থাকবে না এ কারণেই যে, তার কেউ আপনাদের মন্ত্রী, কেউ আপনাদের উপদেষ্টা, আবার কেউ আপনাদের আপনজন।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল সারাদিন সাদেক হোসেন খোকার বিভিন্ন জানাজা ছাড়া আর কোনো খবর ছিল না। আজ আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোকে লক্ষ্য করবেন, এটাকে বেশির ভাগ পত্রিকা ভেতরের ও পেছনের পেজে দিয়েছে। আমি জানি মিডিয়াগুলোকে প্রশ্ন করলে তারা বলবে, আমাদের করার কিছু নেই। আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশে করছে আবার কেউ স্বপ্রণোদিতভাবে করেছে, কারণ এটা ছাপলে হয়তো বা তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যারা কথা বলেন তাদের টেলিভিশনে ডাকা হয়না, যারা লেখেন তারা ঘর থেকে বের হতে পারেন না। ‘এ সরকার একটি একনায়তান্ত্রিক সরকার, এ সরকার একটি ফ্যাসিস্ট সরকার’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর থেকে মুক্তি পেতে হবেই। মুক্তির কোনো বিকল্প নেই।’ ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে, আমার অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে আনতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বন্ধুগণ।’ ফখরুল বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে এককভাবে পরাজিত করা যায় না। সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয় এবং আমরা সেই পথেই যাচ্ছি। আমরা মনে করি, সমস্ত দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ একনায়তান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হব। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

মোংলা-পায়রায় ৭, চট্টগ্রামে ৬, নম্বর বিপদ সংকেত

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ সময় সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আপাতত এর গতিমুখ সুন্দরবনের দিকে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা। আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ ঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে  বৈঠক শেষে কাদের

যারা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নন 

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে যারা অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্টিতে যারা আসছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। কারো বিরুদ্ধে যদি সাম্প্রদায়িকতার সংশ্লিষ্টতা না থাকে, কোনো প্রকার মামলা- মোকদ্দমা, কোনো প্রকার অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না থাকে তারা অনুপ্রবেশকারী নয়।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যাদের সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে আওয়ামী লীগে জায়গায় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, পার্টিতে যারা এসেছেন তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। অনেক ক্লিন ইমেজের ভালো লোক আমাদের পার্টিতে এসেছেন। যাদের সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা, মামলা, দুর্নীতি নাই তারা অনুপ্রবেশকারী নন। বিএনপির সিনিয়ার নেতাদের পদত্যাগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি।’ পরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভার শুরুতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে। কেউ কারো বিরুদ্ধে কাদা ছুড়াছুড়ি করবেন না। দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, সুস্থ প্রতিযোগিতা হবে। কোনো অসুস্থ প্রতিযোগিতা হবে না। দলের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলা, উপজেলা, মহানগর, থানা ওয়ার্ড পর্যায়ে যে সব জায়াগায় মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি আছে সেগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। মতবিনিময় সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে রাজশাহী জেলায় তৃণমূলে সম্মেলন করতে যাচ্ছি। সবচেয়ে প্রচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কোন সমস্যা না থাকলে আওয়ামী লীগ একমাত্র সংগঠন যে ৩ বছর পরপর ঠিক মতো কাউন্সিল করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর নেতৃত্বে আমরা আগামী কাউন্সিল করে সুন্দর একটি কমিটি করে নতুন করে যাত্রা শুরু করবো। তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, পরাজিত শক্তি ও বিরুদ্ধ বিএনপির অপশক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের বড় শক্তি হলো জনগণ ও বঙ্গবন্ধু। সেই উদ্দেশ্য একটি কাউন্সিল করা হবে এতো করে কোন সমস্যা থাকলে তার সমাধান করা হবে। এজন্য জাতীয় সম্মেলনের আগে শেখ হাসিনার নিদের্শনায় সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের দুর্নীতি বিরোধী কর্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে করে কেউ অপকর্ম করলে রেহাই পাবে না। সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

ঝিনাইদহে আবারো বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ৪ দিনের ব্যবধানে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আরো এক বাংলাদেশী ভারতীয় সীমান্ত রক্ষির (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহত সুমন (২৫) মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। শুক্রবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার হাসখালী থানার শিলগেইট নামক স্থানে সুমন বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অতিরিক্ত পুরিচালক কামরুল হাসান গনমাধ্যমে প্রেরিত এক ই-মেইল বার্তায় এ খবর নিশ্চিত করেন। ই-মেইল বার্তায় নিহত সুমনকে গরু চোর হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজিবির প্রেস কিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মহেশপুুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর অধীনস্ত লড়াইঘাট বিওপির বিপরীতে প্রতিপক্ষ ৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর পাখিউড়া ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মেইন পিলার ৬০/১৩৩-১৩৪-আর পিলার থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে শিলগেইট নামক স্থানে বিএসএফ কর্তৃক ১ রাউন্ড ফায়ার করে। স্থানীয় এলাকাবাসীর ভারতীয় আত্মীয় সূত্রে জানায় গুলিতে একজন বাংলাদেশী গরু চোরাকারবারী নিহত হন। তার নাম সুমন। নিহত বাংলাদেশী নাগরিকের লাশ পাখিউড়া বিএসএফ ক্যাম্প এবং হাসখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে বিজিবি জানায়। উল্লেখ্য গত ৩ নভেম্বর মহেশপুর সীমান্তের পলিয়ানপুরের বিপরীতে বিএসএফ’র গুলিতে আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক গরুর রাখাল নিহত হন। তিনি মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া ইউনিয়নের বাউলিয়া গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে। ঘটনার দিন ভারতের হাবাশপুর এলাকার ৬০নং মেইন পিলারের পাশে তাকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। ঘটনার চার দিনের মাথায় আবারো বিএসএফ সুমন নামে এক বাংলাদেশীকে হত্যা করলো।

ইবিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র সভাপতিত্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র এক সভা গতকাল শুক্রবার ভিসি অফিসের সভা-কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এইচ. এম. আলী হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলীমুজ্জামান (টুটুল), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান জহুরুল হক ও সিনিয়র সহকারী প্রধান বেগম আসমা নাসরীন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-প্রধান খন্দকার আহসান হোসেন, উপ-প্রধান মোস্তফা কামাল, আইএমইডি’র উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুর রহমান, পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান জুয়েল ভৌমিক ও মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আকরাম আলী খান প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব গ্রেপ্তার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহর থেকে গ্রেপ্তার করে ইবি থানা পুলিশ।  গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আরিফ জানান গত দুই নভেম্বর রাকিবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম। ওই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক ছিলেন রাকিব। গতকাল শুক্রবার রাকিব কুষ্টিয়া শহরের অবস্থান করছেন এমন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি রাকিবের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বেশ কিছু অভিযোগে ব্যাপক আলোচিত হন রাকিব। এমন অভিযোগে তার বহিস্কার দাবীসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে কয়েক দফা ধাওয়াও খান তিনি।

বুলবুলের জন্য প্রস্তুত সাত জেলার আশ্রয়কেন্দ্র – দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জান-মালের ক্ষতি এড়াতে সাত উপকূলীয় জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকালে সচিবালয়ে প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। তবে এতে ফসল ছাড়া বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা নেই। “ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দেশের ৫৬ হাজার স্বেচ্ছারসবী প্রস্তুত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যথাসময়ে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।” বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় সোয়াশ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে, আপাতত এর গতিমুখ সুন্দরবনের দিকে। প্রতিমন্ত্রী জানান, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সাত জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোক সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় ২০০০ প্যাকেট করে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটার যে গতি ও যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে তাতে আঘাত হানবে। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে পাঁচ থেকে সাত ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে। গতি আরও বাড়লেও যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে ফসল ছাড়া বড় ধরণের ক্ষতির শঙ্কা নেই। “৯ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাতের মধ্যে আঘাত হানতে পারে। এ জন্যে ঝড়ের ১৪ ঘণ্টা আগে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার জন্যে বলা হয় যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা উপজেলা সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।” শনিবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে প্রস্তুতি সভায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে এনামুর জানান। কখন নাগাদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া শুরু হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এলে ঝূকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ঝূঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে জন সচেতনতা সৃষ্টিতে স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকে ও ২২টি কমিউনিটি রেডিও সতর্কবার্তা প্রচারে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রাজাকারের তালিকা ১৬ ডিসেম্বর

ঢাকা অফিস ॥ আসছে ১৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। শুক্রবার সকালে গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তিযোদ্ধাদের এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “এ বছর ১৬ ডিসেম্বর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। “আর আগামী জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। পরিচয়পত্রের পেছনে তারা কী কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা লেখা থাকবে। তাছাড়া জানুয়ারিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের সব কবর একই নকশায় বাঁধাই করার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বিসিএস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের ভূমিকা নিয়ে লেখা সংযুক্ত করা হবে।” গাজীপুর সিটির মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান অনুষ্ঠানে ছিলেন। মেয়র জাহাঙ্গীর মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, তাদের নামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ ও তাদের সন্তানদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলে ওই অনুষ্ঠানে এক বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছেন। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে। মে মাসে সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাগে শূন্য ঘোষণা করে তাদের স্থলে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নামগুলো স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ওই কার্যপত্রে দেখা যায়।

নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে গুণীজন সংবর্ধনা

নিজ সংবাদ ॥ নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে গুণীজন সংবর্ধনা-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আবদুর রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া লালন একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি ডা. তাজউদ্দিন, কবি হাসান টুটুল, পরিবেশবীদ খলিলুর রহমান মজু, কবি সুলতানা রেবেকা নাসরীন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার, নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন নজু, কোষাধ্যক্ষ কবি নুরজাহান মিনা। সংবর্ধিত গুনীজনদের  মধ্যে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবর্ধমান চুরুলিয়ার নজরুল একাডেমির সাবেক সভাপতি ড. সুশীল ভট্টাচার্য, পশ্চিমবর্ধমান দূর্গাপুরের কবি গবেষক ও সংগঠক রাজীব ঘাঁটী, পশ্চিমবঙ্গ বীরভূমের কবি, শিল্পী ও গবেষক নারায়ণ কর্মকার, কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, কন্ঠশিল্পী ও নজরুল গবেষক এ্যাড. সুব্রত চক্রবর্তী, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সুজন রহমান। বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সেতুবন্ধন তৈরি করে দিয়ে গেছেন আমরা আজীবন সেই বন্ধন ধরে রাখবো। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এর আগে অতিথিদের উত্তরীয়, ক্রেষ্ট ও সদনপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক কনক চৌধুরী। এ সময় নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি দরবেশ হাফিজ, জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রবিউল হক খান, কবি মুন্সী আবু সাঈদ, কবি শরিফুল ইসলাম কচি, শিল্পী কোহিনুর খানম, শিল্পী টিপু সুলতানসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া শহর আ’লীগের সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করলেন আতাউর রহমান আতা

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করেছেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টায় তিনি সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করেন। আগামী ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। আতাউর রহমান আতা বলেন, ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মাঠে শহর আওয়ামীলীগের সম্মেলন সফল ভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তাই সম্মেলন সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ ঘটিকায় রনজিৎপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন  মোল্লা। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আক্তারুজ্জামান মাসুম।

ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। বিশেষ বক্তা ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রালয় সম্পাদক মতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মাজহারুল আলম সুমন,  জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য এ্যাড. জিহাদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা. গোলাম মওলা, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. খন্দকার সামস তানিম মুক্তি, শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মানজিয়ার রহমান চঞ্চল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল বারী সুমন, শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেড এম সম্রাট, উজানগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাবু বিন ইসলাম সহ দলীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির পতাকাতলে মিলিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে  যেতে হবে। কমিটির নেতৃত্বে যেই আসুক তাকে মেনে নিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলীয় কাজ করতে হবে। এই ইউনিয়নে যিনি আবার দায়িত্ব পাবে তাকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা মেনে কাজ করার আহব্বান করেন। অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন শেষে ২য় অধিবেশনে আগের কমিটিকে বিলুপ্তি ঘোষনা করেন এবং নতুন করে যারা নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে থেকে এক এক করে পর্যায়ক্রমে কমিটি জমা দেন। পরে একাধিক কমিটি জমা পড়েছে বিধায় পরবর্তীতে কমিটি ঘোষণা করবেন বলে জানা যায়।

শহীদ মিনারে খোকার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিবি, গণফোরাম, এলডিপি, মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাগপা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, তাঁতী দল, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্র ইউনিয়ন, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও বাংলাদেশ যুব সমিতির নেতারা সেখানে ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোকার বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, “এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের উদ্দেশ্যে বুক পেতে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ’গুলি কর, আমার এখানে গুলি কর।’ তার জোরালো কণ্ঠের ফলে পুলিশ তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিল। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর পুরান ঢাকায় হিন্দুদের বাড়িঘর, মন্দির রক্ষায়ও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। ”আজকে যখন গণতন্ত্রের নামে ফ্যাসিবাদ চলছে, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ সংগ্রাম করছে- তখন ঢাকার রাজপথে খোকার মতো সাহসী যোদ্ধার খুব প্রয়োজন ছিল।” এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে খোকার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি খোকার পরিবারের সদস্যরা সেখানে তার কফিনে পাশে ছিলেন। সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের পর মানুষের জন্য কাজ করার ব্রত নিয়ে আজীবন ছিলেন সাদেক খোকা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রেখেছিলেন আজীবন। ”মুক্তিযুদ্ধের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি গিয়েছিলেন, সেই লড়াই চালু রেখেছেন তিনি। মানুষের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন তিনি, মানুষও তাকে সেই সম্মান এখন দিচ্ছে।” শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর খোকার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। বিএনপিপন্থী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ”রাজপথের আন্দোলনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনে যুক্ত থাকতে আমরা তাকে দেখেছি। সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন রাজনীতিকের যে ভূমিকা থাকা দরকার, আমরা তার মধ্যে সেটা দেখেছি। ”যে কোনো দলেই হই বা যে কোনো মতেই হই, আমরা খোকাকে ভুলতে দিব না, তার কাজ ধরে রেখে তাকে আজীবন মনে রাখব।” গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার প্রাপ্য সম্মান তাকে দেওয়া হয়নি। তার শেষ ইচ্ছা ছিল, যে দেশ তিনি স্বাধীন করেছেন, সে দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে সেটা হয়নি। “দুটি কারণে ঢাকাবাসী তাকে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। একটি হলো, তার সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আক্রমণ থাকলেও তিনি অল্প সময়ে ও অল্প খরচে সেটা দূর মোকাবেলা করতে পেরেছেন। আরেকটি হলো- ঢাকার বিভিন্ন সড়ক তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করে দিয়েছেন।” শ্রদ্ধা নিবেদনের শেষ প্রান্তে এসে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। সাদেক হোসেন খোকা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। “আজকে আমরা ভুক্তভোগী। আমার বাবা রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আমি বাবার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তার থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। ”তিনি সব সময় আমাদের বলতেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল একটি গণতন্ত্র রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আজকে আমরা যেটা দেখছি একটি হানাহানির রাজনীতি চলছে দেশে। এই রাজনীতির জন্য আমার বাবারা দেশকে স্বাধীন করেননি।” বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান ইশরাক। “দেশের এই অপরাজনীতির চর্চা কত দিন চলবে। আপনারা জানেন, দেশের আছেন দুজন অভিভাবক। একজন হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি জেলে রয়েছেন, আরেকজন অভিভাবক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনি। “আমি এ দুজন অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আমাদের তরুণ প্রজন্মর ভবিষ্যৎটা কোথায়? আপনারা দুইজনে কি এ সমাধান করে দেবেন না? আপনারা এই সমস্যার সমাধান করে দিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।” প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ”আপনি আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দূর করেন। “আজকে আমি যেটা দেখলাম, দল-মত-নির্বিশেষে এখানে সবাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। যেটি আসলে একটি অনুকরণীয় বিষয়।

সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, অন্যথায় আইনী ব্যবস্থা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, অন্যথায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা প্রায়শই দুর্নীতির অভিযোগে ভাইস চ্যান্সেলরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, তাদেরকে অবশ্যই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। যদি, তারা তা প্রমাণ করতে পারে তবে, উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যথায়, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতর অভিযোগে সৃষ্ট অশান্ত পরিস্থিতির পটভূমিতে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন রকম আইনগত ভিত্তি ছাড়া আন্দোলনের নামে ক্লাস বন্ধ, ভিসিদের বাসভবন ও কার্যালয়ে হামলা বরদাশত করা হবে না। কোন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলে সচরাচর দুর্নীতির অভিযোগ উঠে একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ঠিকভাবে বন্টন না হলে অভিযোগ উঠতে পারে বলে শোনা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা একজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলন করছে। এই হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং মামলা দায়েরের পর এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোন যুক্তি আমি দেখি না। প্রধানমন্ত্রী একটি স্কুলে প্রথম আলো আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আয়োজকদের অবহেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের এক ছাত্রের মৃত্যুর নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘তারা (প্রথম আলো) কিভাবে এ ধরনের অবহেলা করতে পারে। স্কুল শিক্ষার্থীরা যেখানে ঘোরাফেরা করছে সেখানে এই ধরণের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনে তাদের কোন দায়িত্বশীলতা ছিল না। এটি একটি গুরুতর অভিযোগ, এটি সহ্য করা যায় না।” অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এবং ট্রমা সেন্টারের মতো হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও ছাত্রটিকে মহাখালিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। তথ্য সচিব আবদুল মালেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল এবং সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিটিভি’র মহাপরিচালক এসএম হারুনুর রশিদ, পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঠিলেন।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ গত ৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযানিক দল কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস উপজেলা রোড ইন্দ্রাপাড়াস্থ মোঃ শহিদুল ইসলামের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৭৯ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি মোবাইল এবং ২টি সিমকার্ডসহ চৌড়হাস উপজেলা রোড ইন্দ্রিরা পাড়ার মৃত নাজিম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে  আসাদুল ইসলাম (৪০) ও  চৌড়হাস উপজেলা রোড চেয়ারম্যান গলির ইমতাজ বিশ্বাসের ছেলে আজাদ বিশ্বাস (২৮) কে গ্রেফতার করে। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সন্ত্রাস নির্মূলে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে র‌্যাব বদ্ধপরিকর।

ভেড়ামারায় অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তায় অভিযোগে শিক্ষককে জরিমানা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার দায়ে এসএম আব্দুল  মোনায়েম নামে এক শিক্ষককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল মারুফ এ দন্ড দেন। আব্দুল মোনায়েম একই উপজেলার ধরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে কর্মরত। ইউএনও  সোহেল মারুফ জানান, ভেড়ামারার হালিমা বেগম একাডেমি স্কুল কেন্দ্রে  জেএসসি পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এসএম আব্দুল মোনায়েম তার নিজ প্রাইভেটের ছাত্রীকে প্রতিদিন সহায়তা করে আসছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। পরীক্ষা চলার সময় অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ অনুযায়ী তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শায়িত হবেন মা-বাবার পাশে

জাসদ নেতা সাংসদ বাদলের লাশ আসছে আজ

ঢাকা অফিস ॥ বীর মুক্তিযোদ্ধা জাসদের কার্যকরী সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদলের লাশ আজ শুক্রবার দেশে আসছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মা-বাবার পাশে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাকে। বাদলের ছোট ভাই মনির উদ্দিন আহমদ খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে পিতা-মাতার পাশেই বাদল ভাইকে দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুক্রবার লাশ দেশে পৌঁছলে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাদলের গ্রামের বাড়ি সারোয়াতলীর খান মহলে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। বাড়ির সামনে চলছে শেষ বারের মতো বাদলকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। মাঝে মাঝেই মহলের অন্দর থেকে ভেসে আসছে ভাই-বোন আর স্বজনদের কান্নার আওয়াজ। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বাদল তৃতীয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মঈন উদ্দিন খান বাদল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি জন্ম নেয়া বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বাদল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বাঙালিদের ওপর আক্রমণের জন্য পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে খালাসের সময় প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন বাদল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাদল সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। জাসদ, বাসদ হয়ে পুনরায় জাসদে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও বাদলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

জাসদ নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি আর নেই

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাসদের নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বেঙ্গালুরুতে নারায়ণ ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে তার ছোট ভাই মনির উদ্দীন খান জানান। বছর দুই আগে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি বাদল। ৬৭ বছর বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ হৃদযন্ত্রের জটিলতায়ও ভুগছিলেন। ছোট ভাই মনির জানান, দুই সপ্তাহ আগে নিয়মিত চেকআপের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন বাদল। সেখানে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বাদলের মরদেহ দেশে আনা এবং শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে পরে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মনির। চট্টগ্রাম ৮ (চাঁদগাও-বোয়ালখালী) আসনের তিনবারের সাংসদ বাদল বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এক শোকবার্তায় বলেছেন, “মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে দেশ একজন নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রগতিশীল অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে হারালো।” আর বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ তার শোকবার্তায় বলেন, “তার মৃত্যুতে জাতি আজ বিনয়ী অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ, শিক্ষিত ও ত্যাগী রাজনীতিবিদকে হারালো। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হল তা সহজে পূরণ হবার নয়।” ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মইন উদ্দীন খান বাদল। তার বাবা আহমদ উল্লাহ খান ও মা যতুমা খাতুন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের ‘নিউক্লিয়াসে’ যুক্ত বাদল একাত্তরে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্র বোঝাই জাহাজ সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন বাদল। জাসদ হয়ে বাসদ এবং পরে আবারো জাসদে ফেরেন। এরশাদের সামরিক শাসনের সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ জাসদের জাতীয় কাউন্সিলে আবার দুই ভাগ হয় দলটি। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার নেতৃত্বাধীন অংশটি ইসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান নেতৃত্বাধীন অংশটি বাংলাদেশ জাসদ নামে আলাদা দলের স্বীকৃতি চায়। তবে ইসি তাদের নিবন্ধন দেয়নি। এই অংশের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মইন উদ্দীন খান বাদল। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে ২০০৮ সালে মহাজোটের মনোনয়ন পান শরিক দল জাসদের নেতা বাদল। নৌকা প্রতীকে তার বড় জয়ের মধ্য দিয়ে ওই আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটে। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে আরও দুই বার তিনি আসনের এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে দৃপ্ত বক্তব্য দেওয়া বাদল সমাদৃত ছিলেন একজন দক্ষ পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও তার ভূমিকা ছিল। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, “ষাট দশকে ছাত্রলীগের সদস্য হিসাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম-স্বাধীনতা সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জাসদের সদস্য হিসাবে স্বৈরশাসন-সামরিক শাসন-সাম্প্রদায়িকতা-প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মইনউদ্দিন খান বাদলের সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন মইন উদ্দীন খান বাদল।