যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা মানবতাবিরোধী – ইরান

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টাকে বেআইনি ও মানবতাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করছে ইরান। বুধবার রাতে টুইটারে দেয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবতাবিরোধী। ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যায়িত করে জারিফ বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাধারণ জনগণকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তারা চাপ প্রয়োগ করে আমাদের আলোচনায় বসাতে চায় কিন্তু তেহরান এমন কোনো চাপের সামনে নতিস্বীকার করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির জন্য আর্থিক লেনদেনের পথ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলেও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে। এক টুইটে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট বৃদ্ধি করার জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনির্দিষ্ট, শাস্তিমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপগুলো ঘোষিত হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। গত জুনে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞায় আগেরগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল এক তালিকা তৈরি হয়েছে। খামেনি ছাড়াও দেশটির বিপ¬বী গার্ড বাহিনীর আট জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সই করা পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর তেহরানের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি থেকে সরে আসার মাস ছয়েক পর ইরানের তেল রফতানি ও অর্থনৈতিক লেনদেনের টুঁটি চেপে ধরতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ডেঙ্গুতে এবার শিক্ষা হয়েছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গুজ্বর মোকাবেলায় সফলতার দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এ বছরের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এটা আমাদের জন্য শিক্ষা। আগামী বছর যাতে রোগটা কম হয়, আরো ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারি এবং সারা বছর এটা নিয়ে কাজ করি, সেই নির্দেশনা দিয়েছি।” এবার বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এ বছর এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪৮১ জন মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু র প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমে শিথিলতার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন মশা মারতে যে ওষুধ দিচ্ছে তা কার্যকর নয় বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় উঠে আসে। এ নিয়ে সমালোচনা আর উদ্বেগের মধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। পরে কোরবানির ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে। আগস্টের মাঝামাঝি সময় কোরবানির ঈদের পর থেকে হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসে ঢাকায় নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আগের দুই মাসের তুলনায় অনেকটা কমে এলেও রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতির ততোটা উন্নতি হয়নি। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩টি মৃত্যুর তথ্য পেলেও ১১৬টি ঘটনা পর্যালোচনা করে ৬৮ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট নিয়োগের নীতি প্রণয়ন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও বাংলাদেশ ফার্মাসি কাউন্সিল আয়োজিত সংলাপে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা খুবই সফলভাবে ডেঙ্গু মোকাবেলা করেছি। আমাদের ডেঙ্গু রোগী কমে আসছে।” সম্প্রতি আটটি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার চিকিৎসকের একজনও হাসপাতালে যোগ না দেওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছেন। আড়াই বছর হয়ে গেছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি ডাক্তারও আমাদের কাছে আসে নাই। আমাদের মন্ত্রণালয়, প্ল্যানিং মন্ত্রণালয়, পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। আড়াই বছরে একটি ডাক্তারও আমরা পাইনি।” চিকিৎসকের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থাও হবে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, “ভালো ওষুধ দেওয়া হবে, চিকিৎসা ভালো হবে এবং আমাদেরও পরিকল্পনা আছে, সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসি এক্সপান্ড করব।” স্বাস্থ্যসচিব ও ফার্মাসি কাউন্সিলের সভাপতি আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইসমাইল খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আজাদ আবুল কালাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

 

বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীর অবস্থা জানতে বাংলাদেশের জুডিশিয়াল রিভিউয়ের অনুমতি দিল কানাডার আদালত

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীর অবস্থা জানিয়ে কোন তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে সেদেশটির অভিবাসন, শরনার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দায়ের করা মামলার পক্ষে গত মঙ্গলবার রায় দিয়েছে কানাডার একটি ফেডারেল আদালত। কানাডার ওন্টারিও’র অটোয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জেমস ডব্লিউ ও’রেইলি বলেন, ‘এই আদালতের রায় হলো এই যে, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদনটি গ্রহণ করা হলো। নূর চৌধুরীর অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে জনস্বার্থের ব্যাঘাত ঘটবে না।’ মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার কানাডায় নূর চৌধুরীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে ২০১০ সাল থেকে সেদেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তার প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট (পিআরআরএ) আবেদন নিয়ে বিলম্বের জন্য উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এদিকে তাকে ফেরানোর চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ হাই কমিশনার ২০১৮ সালে কানাডার এটর্নি জেনারেলের দপ্তরে একটি চিঠি দিয়ে জানতে চায় নূর চৌধুরী কানাডায় কিভাবে আছেন। তার প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু সেদেশটির আইনে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কাউকে প্রত্যার্পণে বাধা থাকায় সে দেশের সরকার জনস্বার্থ রক্ষার যুক্তি দিয়ে তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। বাংলাদেশ হাই কমিশনার কানাডার সঙ্গে সীমিত পর্যায়ের তথ্য আদান-প্রদান করতে একটি চুক্তি করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেটাও তারা না করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কানাডা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছর জুন মাসে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের আবেদন করে বাংলাদেশ। গত মার্চ মাসে এ বিষয়ে শুনানির পর মঙ্গলবার বাংলাদেশের আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেয় সেদেশটির আদালত।

 

এপিপিজি’র দু’টি পৃথক প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এখন রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের বোঝা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়া উচিৎ। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“প (এপিপিজি)’র দু’টি পৃথক প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কারণ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সে সময়ে ১ কোটি বাংলাদেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।’ বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এদের কারণে স্থানীয় মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ মানবিক কারণে ভোগান্তি মেনে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সফররত ইউকে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (সিএফওবি) ও ইউকে এপিপিজি অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেল্থ এর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“প (এপিপিজি)’র সভাপতি অ্যানী মেইন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ইউকে এপিপিজি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সফরের উপর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যহত থাকবে বলে আবারো প্রতিশ্র“তি দেন। দুই বছর আগে বাংলাদেশে তাদের সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, সেই সময়ের তুলনায় এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ অনেক ভাল হয়েছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন বাংলাদেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরো গভীর থেকে গভীরতর হবে।’ ইউকে এপিপিজি অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ এর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহিত পরিবার পরিকল্পনা নীতির প্রশংসা করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি এ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, ‘জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু গৃহিত নীতিটি খুবই কার্যকরী হয়েছে।’ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আরো বলেন, পরিবার পরিকল্পনা ইস্যুতে সাফল্যের কারণে এ সংক্রান্ত যুক্তরাজ্যের অনেক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম আছে। বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রশংসনীয়।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের স্বাধীনতা ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা আরো বলেন, জাতির পিতা বাংলাদেশেকে ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশকে তাঁর কাঙ্গিত লক্ষের দিকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এভাবে তিনি যখন দেশকে সমৃদ্ধির পথে এনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার গ্রামীণ এলাকার আর্থ -সামাজিক উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ জনপদ ও গ্রামীণ জনমানুষের অবস্থার উন্নয়ন আমার প্রধান কাজ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬ সালে এটা ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। ২০০৬ সালে দেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন ছিল ৩২শ’ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার মেগাওয়াটে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে তার সরকার ১৯৯৬-২০০১ সালে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছিল। তিনি আরো বলেন, কিন্তু বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতা দখল করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আবার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম চালু করে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে এবং এগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘নারী ও শিশুরা এইসব ক্লিনিকের প্রকৃত উপকারভোগী।’ শিক্ষা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট উইনিংটন গিবসন।

ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ যুবলীগ চেয়ারম্যানের বক্তব্য দৃশ্যত নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ক্যাসিনো বন্ধের অভিযান চালানো হয়েছে। ক্যাসিনোগুলো এতদিন চলে আসার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার যে ইঙ্গিত যুবলীগ চেয়ারম্যান করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে আইনে জুয়া নিষিদ্ধ হলেও বুধবার র‌্যাবের অভিযানে ঢাকার চারটি ক্লাবে জুয়ার আখড়ার সন্ধান মেলে, যেগুলো ক্যাসিনো নামেই পরিচিত। ওই ক্যাসিনোগুলো থেকে গ্রেপ্তার করে সাজাও দেওয়া হয় পৌনে দুইশ জনকে। ক্ষমতাসীন দলগুলোর সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাদের মদদে এই ক্যাসিনোগুলো চলছিল বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর র‌্যাবের অভিযান চলে। তবে একে যুবলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন যুবলীগ প্রধান ওমর ফারুক। আলোচিত এই অভিযানের পর বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে ফেরার পরও সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরেন তাকে। অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, “ গোয়েন্দারাই এই তথ্য দিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অপারেশন  হয়েছে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রথম কথা হল, আমরা শুনছিলাম অনেকদিন ধরে ঢাকাতে কতগুলো অবৈধ ক্যাসিনো  আমরা কোনো ক্যাসিনোর অনুমতি দিইনি। আমরা বিভিন্ন ক্লাব ও হোটেলগুলোতে বারের অনুমতি দিয়েছি, কিন্তু ক্যাসিনোর অনুমতি দিইনি। “তবে আমরা শুনছিলাম, অনেক জায়গায় নাকি ক্যাসিনো চালাচ্ছে। আমাদের কাছে সেই তথ্যগুলো ছিল, সেই অনুযায়ী কাল রাতে সেই ক্যাসিনোগুলো চেক করা হয়েছে। সেই ইনফরমেশনের ভিত্তিতেই হয়েছে।” এতদিন ধরে এই ক্যাসিনোগুলো চলার ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানতেন বলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমি সব সময় বলে থাকি। এখানে যদি প্রশাসনের কোনো লোক জড়িত থাকেন কিংবা তারা এগুলোতে সহযোগিতা করেছেন কিংবা তাদের নিয়ন্ত্রণে এগুলো হয়েছে (বলে প্রমাণ মেলে)। অবশ্যই তিনি আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হবেন।”

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “প্রশাসন জানত বা জানত না, আমি সেখানে যাচ্ছি না।  আমি বলছি, প্রশাসন যখনই জেনেছে, তখনই অভিযান শুরু করছে।” এতদিন ধরে ক্যাসিনোগুলো চলছিল, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কি জানত না- এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সাংবাদিক আপনারা সবই জানেন, আমি এর আগে কলাবাগান ক্লাব ও কারওয়ান বাজার হয়েছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যখন যেটার খবর আসছে, তখন আমরা বন্ধ করে দিচ্ছি, সিলগালা করছি।” ওমর ফারুকের বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাননীয় যুবলীগের চেয়ারম্যানের মন্তব্য নিজস্ব মন্তব্য। আমার এখানে কিছু বলার নেই।” যুবলীগের চেয়ারম্যান স্থানীয় পুলিশকে দায়ী করার প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেটা উনার নিজস্ব মন্তব্য। আপনারা দেখেছেন, আমিও দেখেছি। প্রশাসন তো বসে নেই।” ফকিরাপুর ইয়ংমেনস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম যেমন এসেছে, তেমনি ওই সব ক্লাবে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বেরিয়ে এসেছে। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ কে কতখানি ইনভলভ, সেটা তদন্তের ব্যাপার।  আমরা পেয়েছি মাত্র,  আমরা দেখব এখন কে কতখানি সহযোগিতা করেছে, কে কতখানি এটার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। “এগুলো তো তদন্তের পরে আসবে। তদন্তের পরে বেরিয়ে আসবে, কে কোনটার সঙ্গে জড়িত ছিল, কার কতখানি ভূমিকা ছিল।” ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনে জুয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি বাংলাদেশের সংবিধানেও জুয়া বন্ধের কথা রয়েছে। তাহলে ক্যাসিনোর সরঞ্জামগুলো কীভাবে দেশে এসেছে- প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ছোট ছোট যন্ত্রাংশ আকারে এসেছে। এসব জিনিস ডিক্লারেশন দিয়ে আনেনি বলেই তাদের বিচার হবে। যারাই আইন ভঙ্গ করেছে, তাদের বিচার হবে।” ক্যাসিনোগুলো যারা চালাচ্ছিলেন, তারা সরকারের অনুমতি নেননি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; যদিও প্রচলিত আইন সংশোধন না হলে অনুমতি দেওয়ার সুযোগও নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান নয়, এটা হল অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে, সেটা ক্যাসিনো হোক কিংবা ক্লাব হোক। অবৈধ কোনো কিছু স্থাপন করলেই, আমাদের ব্যবস্থা থাকবে।”

দৌলতপুরে অডিটোরিয়াম ভবনের নির্মান কাজের উদ্বোধন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৫০০ আসনের দ্বিতল আধুনিক অডিটোরিয়াম ভবনের নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন এ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় দৌলতপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন, দৌলতপুর প্রকৌশলী জিল¬ুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পুলক আহমেদ, দৌলতপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল ইসলাম মহি, হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুনের সার্বিক তত্বাবধানে অডিটোরিমান ভবনের স্থান নির্ধারন সমস্যার সমাধান শেষে গতকাল নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হয়।

অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ আটক, ক্যাসিনোতে অভিযান

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার রাতে তাকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় খালেদের গুলশান-২ এর ৫৯ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসায় শুরু হয় এ অভিযান। দুপুর থেকেই বাড়িটি ঘিরে রাখেন র‌্যাবের প্রায় শতাধিক সদস্য। একই সময় ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ওই ক্যাসিনোর ভেতর থেকে ১৪২ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। অভিযান শেষ করার পরই খালেদের বাড়িতে ঢুকে র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মতিঝিল-ফকিরাপুল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ এ নেতার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও। রিয়াজ মিল্কি ও তারেক হত্যার পর পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটের ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকার এক অংশের নিয়ন্ত্রণ আসে খালেদের হাতে। নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়া রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন এ যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো বসে। রাজধানীর ৬০টি স্পটে এমন অবৈধ ক্যাসিনো (জুয়ার আসর) ব্যবসা চলছে। কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের একশ্রেণির নেতা এ ব্যবসায় জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমের খবর, ইতিমধ্যেই জুয়ার আড্ডাগুলো সম্পর্কে সম্প্রতি প্রমাণসহ গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সম্প্রতি কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন- আমার কাছে আরও তথ্য আছে রাজধানীর সব সুউচ্চ ভবনের ছাদ দখল নিয়েছে যুবলীগের নেতারা। সেখানে ক্যাসিনো খোলা হয়েছে। যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি। প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় যুবলীগ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক সূত্র জানায়, যুবলীগ প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উলে¬খ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল সাড়ম্বরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা জন্মদিন পালন নিয়ে অনীহা প্রকাশ করলে নানক যুবলীগের শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উলে¬খ করেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উলে¬খ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনাসভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। নিজের জন্য এমন মিলাদ মাহফিল তিনি চান না। এরপর যুবলীগ নিয়ে তার কাছে আসা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা (ঢাকা মহানগর যুবলীগের একটি অংশের সভাপতি) ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে গেছেন। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল, তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানা তিন বার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। দলীয় পদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের আত্ম-অহমিকা ও ক্ষমতার জোরে অর্থ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি। অস্ত্রবাজ-চাঁদাবাজদের হুশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান- এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।

কুষ্টিয়ার কোহিনুর ভিলায় শহীদদের প্রতি মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের শ্রদ্ধা নিবেদন

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ার কোহিনুর ভিলায় শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। কোহিনুর ভিলার শহীদ বেদিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া  অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মাসুদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা, সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন, রিয়াজ মাস্টার, আকমল মাস্টার, মনির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, খোয়াজ আলী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতে দেশওয়ালীপাড়ার কোহিনুর ভিলার এই বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশু-নারী-পুরুষ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৃশংস হত্যাকান্ডে রক্তে ভাসে কোহিনুর ভিলা। বাড়িটির মালিক রবিউল হক। তিনি বেকারির ব্যবসা করতেন। তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাই-বোন, ভাইয়ের স্ত্রী, নাতিসহ থাকত ওই বাড়িতে। ওই দিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই রাতে কোহিনুর ভিলায় নেমে আসে অবর্ণনীয় বিভীষিকা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা। স্বাধীনতা বিরোধীরা কোহিনুর ভিলায় অপারেশন চালায়। একে একে সবাইকে জবাই করা হয়। বর্বর এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে রবিউলের বংশের সবাই শহীদ হয়। কোহিনুর ভিলার ওই রাতের শহীদরা হলো গৃহকর্তা রবিউল হক (৬০), তাঁর দুই স্ত্রী, ভাই আরশাদ আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী বেগম আরশাদ (৩৮), ছেলে মান্নান (২২), হান্নান (২০), মেয়ে রিজিয়া (২৮), ভাইয়ের মেয়ে বাতাসী (১৮), জরিনা (১৪), ভাই আনু (১৮), বোন আফরোজা (৪০), ভাই আশরাফ (৩০), আসাদ (২৫), এ ছাড়া দুই নাতি রেজাউল (১০) ও রাজু (৮) সহ মোট ১৮ জন।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ –  স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। তিনি গতকাল বুধবার সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বাংলদেশ সংসদ সচিবালয় ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আয়োজিত ‘কনসাল্টেশন মিটিং অন দ্য নাইরোবি সামিট অন আইসিপিডি-২৫ অ্যাক্সেলারেটিং দ্য প্রোমিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার উন্নয়ন নারী উন্নয়ন থেকে পৃথক কোনো বিষয় নয়। এ সময় তিনি নারীদেরকে উন্নয়নের দূত বলে উলে¬খ করে নারী উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান। স্পিকার বলেন, জনসংখ্যা ও উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হলে উন্নয়ন ফলপ্রসূ হয়। তিনি জনগণের অধিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীফ হুইপ নূর -ই- আলম চৌধুরী ও ইউএনএফপিএ এর এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের পরিচালক বোর্জেন অ্যান্ডারসন স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যগণ জনসংখ্যার উন্নয়নে কাজ করছেন। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের মাধ্যমে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টরিয়ান অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্টের (বিএপিপিডি) আওতায় বাল্যবিবাহ রোধ, মাতৃমৃত্যু হ্রাস ও যুব উন্নয়নে জাতীয় সংসদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সফলতার উদাহরণ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত বলে তিনি উলে¬খ করেন। তিনি বলেন, মিশরে ২৫ বছর পূর্বে ১৭৯টি দেশের সম্মতিতে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পপুলেশন এ- ডেভোলপেমন্ট (আইসিপিডি) প্রোগ্রাম অন অ্যাকশন গ্রহণ করা হয়। আগামি নভেম্বরে নাইরোবিতে আইসিপিডি’র ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসডিজি এবং আইসিপিডি’র লক্ষ্যসমূহ এক ও অভিন্ন, মানব কল্যাণই যার মূল লক্ষ্য। তিনি এলক্ষ্য অর্জনে সকলকে এক সাথে কাজ করার আহবান জানান। এ সময় তিনি বিএপিপিডি’র কার্যক্রম নাইরোবি সামিটে উপস্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট রোল মডেল হতে পারে। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আশা টরকেলসন। বাংলদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টারিয়ান্স অন পপুলেশন এ- ডেভেলপমেন্ট (বিএপিপিডি) কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এসপিসিপিডি’র প্রকল্প পরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সরকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আ স ম ফিরোজ এমপি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আবদুস শহীদ উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউইয়র্ক সফরে দুটি সম্মাননা পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে দুটি সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গে¬াবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) তাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করবে। আর জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ ২৬ সেপ্টেম্বর ‘অ্যান ইভনিং টু অনার হার এক্সিলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামি ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসানে এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন কিছু প্রস্তাব তিনি তুলে ধরবেন। এ বছর অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মেকাবিলা ও অনর্ভুক্তিমূল উন্নয়নে বহুপক্ষীয় চেষ্টা জোরদারকরণ’। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ, ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট ২০১৯, গে¬াবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ওআইসির সেমিনার, সমকালীন বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের পলিটিক্যাল ফোরামে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেবা বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন জানান, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। এই সফর চলাকালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টকে সাক্ষাৎকার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কারও কথা শোনে না মিয়ানমার – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমার অত্যন্ত রক্ষণশীল। তারা কারও কথা শোনে না। তবে আশার কথা হলো তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক এক সেমিনারে তিনি একথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ কিংবা ১৯৯২ সালেও তারা আলোচনার মাধ্যমে তাদের লোকদের ফেরত নিয়েছিল। তবে এবার সংখ্যাটা অনেক বেশি। ১৯৯২ সালে ২ লাখ ৫৩ হাজার ছিল। তারমধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার চলে যায়। এবার ১৩ লাখ। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তিনি বলেন, মিয়ানমার যাদের উপর নির্ভর করে সেই চীন বা রাশিয়া এখন অনেকটাই আমাদের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী একবাক্যে স্বীকার করেছেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন অত্যাবশ্যক। তারাও আমাদের সঙ্গে একমত, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হলে এই অঞ্চলে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা ঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৌশলে যারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ার কাজ করছেন, তাদের আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে। এতে যদি পুলিশ জড়িত থাকে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভা শেষে তিনি একথা বলেন। পাসপোর্টের সঙ্গে শুধু পুলিশ জড়িত থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাসপোর্ট দেয়ার সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটসহ অন্যরাও জড়িত থাকে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান, জন্মনিবন্ধন সনদ যিনি দেন, ওয়ার্ড কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বরতদেরও দায়িত্ব আছে। যারা এসব কাজে জড়িত থাকে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের সময় আট লাখ রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক করা হয়েছে। এর পর আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে আছে। তাদের আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। ফলে তারা পাসপোর্ট করতে গেলে সফটওয়্যারে ধরা পড়ছে।

ইবিতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত

সরকারী কর্মব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর ও মতবিনিময় সভা বুধবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিএ টিমের আহবায়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান-এর সভাপতিত্বে সভায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমাদের দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। এখন দরকার সুন্দর ব্যবস্থাপনা। বিভিন্ন বিভাগ, হল, দপ্তরগুলো কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ করে আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন করল, মাস শেষে সেগুলোর মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, দেশের লক্ষ্য রূপকল্প-২০২১ আর আমাদের লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ। এজন্য আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ্যানুয়েল পারফরমেন্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ) হলো, একুশ শতকে জাতির কাছে, মানুষের কাছে, পৃথিবীর কাছে আমাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তার একটি দলিল। এখন সংখ্যাসূচকের ভিত্তিতে দেখাতে হবে আমরা এক বছরে কী উন্নয়ন করেছি। তিনি বলেন, উন্নয়ন এই নয় যে, হঠাৎ করে একটা আলোর ঝলক, পরে আবার অন্ধকার। উন্নয়ন হতে হবে টেকসই উন্নয়ন।  তিনি আরো বলেন, জগতের সবচাইতে  জরুরী  বিষয় হলো ব্যবস্থাপনা। আমরা সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিএ টিমের আহবায়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা যে যে জায়গায় আছি, সে জায়গার কাজটা ঠিকমতো করার কমিটমেন্ট আমাদের থাকতে হবে। স্ব-স্ব অবস্থানে আমরা যদি দায়িত্বশীল থাকি তাহলে কোন ক্ষেত্রেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আর পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা যেন কাজ ফাঁকি না দিই, এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, রাষ্ট্র আমাদেরকে অর্থ দিচ্ছে কিন্তু বিনিময়ে আমরা কী দিচ্ছি সে বিষয়ে নিজেকে পরীক্ষায় নেবার সুযোগ আমাদের এসেছে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রায়ই বলে থাকেন, লিডারশীপ এবং টিমওয়ার্ক-এর সুন্দর সমন্বয়েই কেবল সফলতা সম্ভব। আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এই বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বার্ষিক কর্মসম্পদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুর্শেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী, প্রফেসর ড. মোঃ আতিকুর রহমান প্রমুখ। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ, ডিনবৃন্দ, সভাপতিবৃন্দ, হল প্রভোস্টবৃন্দ এবং অফিস প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ও এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট ড. নওয়াব আলী খান চুক্তি স্বাক্ষর সংক্রান্ত নির্দেশনা উপস্থাপন এবং সভাটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ও কর্ম ব্যবস্থাপনার আওতায় মাঠ পর্যায়ে চুক্তির অংশ হিসাবে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আভ্যন্তরীন ৬৮টি একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভাগ/ অফিসের  আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ইবিতে ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদনা চুক্তি’ সভা পন্ড করল বহিরাগত ছাত্রলীগ

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদনা চুক্তি’ বিষয়ক সভা পন্ড করেছে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে বহিরাগত শিশির ইসলাম বাবু। এ সময় উপাচার্যকে ক্যাম্পাস অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হয়। গতকাল বুধবার  বেলা ১২টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদনা চুক্তি’ বিষয়ে সভা চলছিল। এসময় উপাচার্যের সাথে কথা বলার জন্য শিশির ইসলাম বাবু ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী নিয়ে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন।

সেখানে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ তাদেরকে সভা চলাকালে কথা না বলে পরে আসতে বলে তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং উপাচার্যকে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে বহিস্কার করতে চাপ প্রয়োগ করেন। বাকবিতান্ডের এক পর্যায়ে রাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে দেওয়ারও  হুমকি দেয়া হয়। সে সময় সভাস্থলে থাকা কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদসহ শিক্ষকবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সভায় বক্তব্য প্রদান না করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে হুমকি দেয়ার বিষয় অস্বীকার করে শিশির ইসলাম বাবু বলেন, ভিসি স্যার রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে মাঠে থাকবে। তখন তিনি কিভাবে ক্যাম্পাস চালাবেন? আমি এ কথা বলেছি। এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিনা অনুমতিতে দল-বল নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করা কোনভাবেই ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না। আমি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষার্থী সূলভ আচরণ প্রত্যাশা করি। ইবি ছাত্রলীগকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিৎ।

কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর মা হালিমা বেগম আর আমাদের মাঝে নেই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটস্থ ১ নং চৌধুরী কওসের উদ্দিন আহমেদ সড়কের নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম আলী রেজা চৌধুরীর স্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম চৌধুরীর মা হালিমা বেগম (৮০) আর আমাদের মাঝে নেই। গতকাল বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারনে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মরহুমার একমাত্র পুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম চৌধূরী ও একমাত্র কন্যা রিনি চৌধুরী ব্যাংকার। এছাড়া নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবরে বহু সংখ্যক মানুষ তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন। রাত ১০টায় কুষ্টিয়া পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে জানাজার নামাজ শেষে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমা হালিমা বেগম সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকার সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী, দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার  সম্পাদক আবদুর রশিদ চৌধুরী, মরহুম এ্যাড. আব্দুল বারী চৌধুরী ও বিশিষ্ট গবেষক লেখক প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরীর ভাবী এবং দৈনিক আন্দোলন বাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক মনজুর এহসান চৌধুরীর বড় চাচী। মরহুমার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়- তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ্য অবস্থায় বিছানাগত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য ১২টি উপ-কমিটি গঠন

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ খবর জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে দলের সম্পাদকমন্ডলীর এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনেকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত ১২ টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয় সভাপতির অনুমোদন পেলে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়াদ উত্তীর্ন সকল ওয়ার্ড ইউনিয়নসহ জেলা উপজেলার কমিটি গঠন করা হবে। আর এ লক্ষ্যে চলতি মাসের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দলের ৮টি টিম সাংগঠনিক সফরে যাবেন। তৃণমূলকে জাতীয় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করবেন। অপরাধ করে পার পাবার প্রবনতা আওয়ামী লীগে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দলের যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই আমলে অপকর্ম হয় না, এটা আমরা বলি না, কিন্তু অপকর্ম হলেই শাস্তির ব্যবস্থা আছে। এটা অন্য দলে নেই। আওয়ামী লীগের এই কালচার আছে, এখানে কেউ অপকর্ম করলে অন্যায় করলে, দুর্নীতি করলে শাস্তির ব্যবস্থা আছে। বিএনপিতে শাস্তির ব্যবস্থা নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুদককে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেউ অপকর্ম করলে, দুর্নীতি করলে কেউ পার পাচ্ছে না। আমাদের অনেক এমপির বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নিয়েছে, চার্জশিট পর্যন্ত করা হয়েছে। অনেকে জামিনের জন্য আমাদের কাছে ঘোরাঘুরি করেছেন যেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আমরা সরাসরি না করে দিয়েছি। ঢাকার দুই সিটিসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ডিসেম্বরে হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামি ডিসেম্বরে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, এনামুল হক শামীম ও মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে গেল বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলে শারীরিক ভাষার আমূল পরিবর্তন হয়ে যায় বাংলাদেশের। মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে যেন আগেই জিতে যায় দল!  বিশ্বাস না হলে দলের  ড্রেসিংরুমের খবরটা নিয়ে দেখুন! পুরো দলটা তখন একটা সুখী পরিবার। বুক ভরা আত্মবিশ্বাস, লড়াইয়ের মানসিকতার সঙ্গে ভিন্ন আবহ সাজঘরে। ড্রেসিংরুমের ভেতরের চিত্র বোঝা যায় মাঠের লড়াইয়ে। অধিনায়ক সাকিবকে দেখা যায় চনমনে। মাহমুদউল¬াহর আগ্রাসন ফুটে উঠে ২২ গজে। আফিফ, লিটন, মোসাদ্দেকদের দৌড়ঝাপ যেন পুরো দলের নিউক্লিয়াস। আর সুখী পরিবারের নতুন সদস্য আমিনুল ইসলাম বিপ¬বকে ঘিরে যেন আনন্দের বন্যা।  অবশ্য এতোটা  খোশমেজাজে থাকার কারণও আছে।  সীমিত পরিসরে দীর্ঘ সময় ধরেই জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ অপরাজিত। ২০১৬ সালের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রঙিণ পোশাকে হারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হারল না এবারও। ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে হারাল  হেসেখেলে, ৩৯ রানে।  সাগর পাড়ের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে সাত উইকেটে ১৭৫ রান তোলে বাংলাদেশ।  সফরকারীদের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের পুঁজি বড় ব্যবধান গড়ে দেয়। ১৩৬ রানে শেষ তাদের লড়াই। এ জয়ে আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে গেল বাংলাদেশ।  টানা তিন ম্যাচ হেরে জিম্বাবুয়ে বাদ এক ম্যাচ আগেই।  আফগানিস্তান দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে। বাংলাদেশের তিন ম্যাচে জয় দুটিতে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ হারের পর পাঁচ পরিবর্তন  স্কোয়াডে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ একাদশ সাজাল তিন পরিবর্তন নিয়ে।  সৌম্যর জায়গায় শান্ত।  সাব্বিরকে বসিয়ে নেওয়া হলো বাড়তি বোলার শফিউল। আর তাইজুলের জায়গায় আমিনুল ইসলাম বিপ¬ব। টেস্ট ও ওয়ানডের অভিষেকের মতো শান্ত টি-টোয়েন্টি অভিষেক রাঙাতে ব্যর্থ। ১১ রানে আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে।  তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা শফিউল তিন উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে গুড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। অভিষিক  লেগ স্পিনার নিয়েই এখন সব আলোচনা। নিজের প্রথম ওভারেই আমিনুল নেন উইকেট। এক ওভার পর জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উইকেট। অভিষেকে তার  বোলিং স্পেল ৪-০-১৮-২।  বোলিংয়ে আহামরি টার্ণ নেই।   নেই বৈচিত্র্য।  তবে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দারুণ। কুইক আর্ম অ্যাকশনে এ লেগ স্পিনার নিজের প্রথম ম্যাচে মন জয় করেছেন সবার। তবে ২২ গজে আজ সবথেকে আলো ছড়িয়েছেন মাহমুদউল¬াহ রিয়াদ।  ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ লড়াইয়ের পুঁজি পায়।  মাত্র এক চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪১ বলে করেন ৬২ রান। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার। ব্যাটিংয়ে শুরুটা এনে দিয়েছিলেন লিটন।  ২২ বলে চার চার ও দুই ছক্কায় ৩৮ রান করেন।  অবশ্য নিজের উইকেট উপহার দেন অতিথিদের।  এমপোফুর বল চাইলেই মাঠের যে কোনো প্রান্তে পাঠাতে পারতেন। সেখানে টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল তোলেন আকাশে। মাহমুদউল¬াহর ইনিংস বড় করতে ভূমিকা  রেখেছেন মুশফিকুর রহিম।  ২৬ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।  দুজনের ৫৫ বলে ৭৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত পায়। বোলিংয়ে শুরুতেই সাইফউদ্দিন-সাকিব জুটির ভালো শুরু। সাইফউদ্দিন প্রথম ওভারে ব্রেন্ডন টেলরকে, সাকিব দ্বিতীয় ওভারে চাকাবাকে সাজঘরে পাঠান।  চতুর্থ ওভালে শফিউল প্রথম বলে নেন শন উইলিয়ামসের উইকেট।  ছয় ওভারে ৩৪ রান তুলতেই তাদের নেই তিন উইকেট।  চাপে থাকা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে আক্রমণে আসেন আমিনুল। আপ টু মার্ক বোলিংয়ে নিজের কারিশমা দেখান। শফিউল আর মুস্তাফিজ জিম্বাবুয়ের শেষটা গুড়িয়ে দেন। তবে সব ভালোর দিনে সাকিব, লিটনের উইকেট ছুঁড়ে আসা যেন কষ্ট বাড়িয়েছে ক্রিকেটপ্রেমিদের।  ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পা রাখা বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা কঠিন চ্যালেঞ্জের।  নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব টিকিয়ে রাখতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেতেই হবে।  ঢাকার ফাইনালের আগে চট্টগ্রামেই হবে ফাইনালের ড্রেস রির্হাসাল। সাকিবদের চোখ এখন ওদিকেই।

 

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ’র ১ম স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নার্সিং প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে 

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশে এবং বিদেশে বিশেষায়িত নার্সদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার জোগান দিতে তাঁদের প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর তেঁতুইবাড়িতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ’র ১ম স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরও এখন প্রচুর নার্সের দরকার। তাছাড়া বিভিন্ন ইনষ্টিটিউট করে দিয়েছি সেখানেও আমাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স দরকার হবে। ইতোমধ্যে বিদেশ থেকেও নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশে যেমন প্রশিক্ষণ চলবে তেমনি দেশেও যেন শিক্ষার মানটা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয় সে ব্যবস্থাটাও আমরা নেব।’ বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠান দেশের আরো ছেলে-মেয়েকে মহান সেবামূলক নার্সিং পেশায় আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আমরা চাই এই হাসপাতাল এবং নাসিং কলেজে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা রোগীরা পাবে এবং যা সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।’ শেখ হাসিনা নবীন নার্স গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করে আর্ত মানবতার সেবায় আপনারা আপনাদের আজকের সার্টিফিকেট প্রাপ্তির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবেন।’ জরুরি রোগী আনা নেয়ার জন্য তাঁর সরকার এখানে একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করে দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়া।’ তিনি বলেন, ‘আগামীতে একটি মেডিকেল কলেজ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো। ইতোমধ্যে সেজন্য হাসপাতালের পাশের খালের বিপরীত পাশে জায়গা নেয়া হয়েছে। আমরা সুন্দরভাবে এখানে একটি মেডিকেল কলেজ করতে চাই তাহলে পুরো জায়গাটি একটি স্বাস্থ্যসেবার হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।’ প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েটদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। তিনি রুবিনা জেসমিন (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ), পোষ্ট বেসিক’র শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার (২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষ) এবং রীনা আক্তার (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) কে প্রধানমন্ত্রী পদক প্রদান করেন। ৭৯ জন শিক্ষার্থী, এরমধ্যে ৫৭ জন পোষ্ট বেসিকের শিক্ষার্থী ১ম ব্যাচে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়ার কেপিজে হেলথ কেয়ার ইউনিভার্সিটি কলেজের উপাচার্য এবং স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের ডীন অধ্যাপক ড. দাঁতো লোকমান সাইম অনুষ্ঠানে গ্রাজুয়েমন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজের সিইও অধ্যাপক তৌফিক বিন ইসমাইল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। গ্রাজুয়েশন অর্জনকারী শিক্ষার্থীগণের মধ্য থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম ও অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত সঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ রেহানা গ্রাজুয়েশন অর্জনকারি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন। এনার্জি প্যাক লিমিটেড শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দাঁতোসেরি মোহাম্মদ নজিব বিন তুন আব্দুল রাজাক বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ট্রাস্টের সহ-সভাপতি শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে এই হাসপাতাল উদ্বোধন করেন এবং ৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে বর্তমান নার্সিং কলেজটির যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে দেশের সকল বিভাগে পর্যায়ক্রমে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ২০০৬ সালে থাকা ৪৬টি থেকে বর্তমানে ১১১টিতে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে নার্সিং পেশাটি এক সময় অবহেলিত ছিল বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নার্সিয়ের মত একটা সেবামূলক পেশা। যে পেশাটি আমি মনেকরি সবথেকে সম্মানজনক একটি পেশা। কারণ, একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁর সেবা করা, তাঁর পাশে থেকে তাঁকে রোগমুক্ত করা এর থেকে বড় সেবা আর কি হতে পারে। অথচ আমাদের ডিপ্লোমা নার্সিংয়ের ওপরে আর কিছু ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘যে কারণে এই কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যেখানে গ্রাজুয়েটস্ নার্স হবে, নার্সরা ট্রেনিং নেবে, পিএইচডি করবে এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। নিজেদেরকে মানব সেবায় দক্ষ করে গড়ে তুলবে।’ ‘আর সেজন্যই নার্সদের বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ চাকরির আপগ্রেডেশন করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মর্যাদা না বাড়ানো হলে হয়তো অনেকেই এই পেশায় আসতে চাইবে না’, বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টস শিল্পনির্ভর গাজিপুরের শ্রমিক শ্রেনীর জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা ও এই কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার একটি উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, শুরুতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড থেকে প্রথমে ১০ কোটি টাকা এবং আরো ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে দিয়ে ২০ কোটি টাকার দিয়ে এখানে একটি ট্রাস্ট ফান্ড করে দেওয়া হয়। যাতে এখান থেকে একেবারে হতদরিদ্র রোগীরা যেন চিকিৎসা সেবাটা পেতে পারে। এখানে আরো কিছু অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় রোগী আসে যাদের অপারেশন লাগে এবং অন্যান্য ব্যাপারেও অনেক অর্থ লাগে । সেখানে ৫ হাজার টাকার অধিক রোগীর জন্য বরাদ্দ করতে গেলে ট্রাস্টের অনুমোদন লাগে যে কারণে আমরা আরো কিছু অর্থ বরাদ্দ দেব।’ তবে, জরুরী অবস্থার কোন রোগীর ক্ষেত্রে এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা অর্থের দিকে না তাকিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এখানকার চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দেশের বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক স্বনামধন্য চিকিৎসকরা এই হাসপাতালে অন্তত সপ্তাহে একদিন করে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন, যার ফলে এই হাসপাতালটি নিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,তাঁর সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে এখন স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ের মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। যেখান থেকে বিনামূল্যে ৩০ প্রকারের ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে। অথচ,বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে সরকারে আসার পর এই ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধের যুক্তি হিসেবে তারা বলে, কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ সেবা নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দিবে। অথচ প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য চালু করা এই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমটি খুবই দরকারি।’ ‘যেখানে দরিদ্র মানুষেরা সহজেই সেবা পেয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় প্রসূতী নারী ও শিশুরা। বাড়ির কাছেই থাকায় পায়ে হেটে এসেই তাঁরা ডাক্তার দেখাতে পারেন,’ যোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োচিত বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বিগত সাড়ে দশ বছরে স্বাস্থ্য সেবার বিস্তার ও গুণগত মান উন্নত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই সময়ে প্রজনন হার ও মৃত্যু হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকে সমানভাবে যে উৎসাহিত করছে তারই এক উজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ। তিনি বলেন, ‘জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট-এর এটি একটি মানবিক উদ্যোগ যা আমি ও আমার বোন শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ১১ এপ্রিল জাতির পিতার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে শুরু করি এবং সে বাড়িটিও আমরা ট্রাস্টকে দান করে দেই।’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আহতদের নিয়মিত সহযোগিতা প্রদানসহ যেসব সেবাধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে তাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নে ট্রাস্টের নিজস্ব জমিতে নির্মিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ট্রাস্টের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে।’ তাছাড়াও বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট বিভিন্ন সময়ে সারাদেশে বিনামূল্যে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি পালন করে থাকে, বলেন তিনি।

২৪ ঘণ্টায় কমবে পেঁয়াজের দাম, আশা সরকারের

ঢাকা  অফিস ॥ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে  বৈঠকের পর তারা এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। “আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে, দাম কমে আসবে, আজকের বৈঠকের পর কমে আসবে; আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে ইতিবাচক সহযোগিতা চাই।” তবে এতো অল্প সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কমাতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা খোলাসা করেননি আবু রায়হান। আন্তর্জাতিক, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়ানোর খবরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি); পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হবে। পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর উপায় খুঁজতে মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে  বৈঠকে বসেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন। পেঁয়াজের দাম কমার কারণ ব্যাখ্যায় আবু রায়হান আল বিরুনি বলেন, “ট্যারিফ কমিশন অ্যানালাইসিস করে দেখেছে আমাদের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পচনের কারণে আমাদেরকে ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।  “১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন। উৎপাদন রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। সুতরাং আমরা বাজার বিশে¬ষণ করে দেখেছি ২৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, যা যথেষ্ট।” ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের আবহাওয়া ও কৃষি ব্যবস্থার কারণে এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ নামে। নভেম্বরে যখন ভারতের বাজারে নতুন পেঁয়াজ নামবে তখন তাদের ট্যারিফ বাধা উঠিয়ে দেবে।” তখন প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৩০০ ডলারে নেমে আসবে জানিয়ে আবু রায়হান বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পেঁয়াজের দাম কমার ব্যাপারে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আশা করি আজকের মিটিংয়ের পরে দামের ঊর্ধ্বগতি আর থাকবে না। পাইকারি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির যে বিষয়টি রয়েছে তা মনিটরিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।” প্রয়োজনে দুই-একদিন পর তারা আবার বসবেন বলেও জানান সচিব। মিয়ানমারসহ আরও কয়েকটি দেশে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যায় কিনা তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলেন জাফর উদ্দীন।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সভায় বোমা হামলা, নিহত ২৪

ঢাকা অফিস ॥ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নির্বাচনী সমাবেশের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ২৪ জন নিহত ও আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার কাবুলের উত্তরে পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকরের এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ঘানি আঘাত পাননি বলে তার এক সহযোগীর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলার ঘটনাটি যখন ঘটে তখন ঘানি সমাবেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। “নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক বলে মনে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটাছুটি করছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে,” বলেছেন পারওয়ানের প্রাদেশিক হাসপাতালের প্রধান আব্দুল কাসিম সানগিন। বোমা হামলাটি এক আত্মঘাতী চালিয়েছে বলে স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। “প্রেসিডেন্ট অক্ষত আছেন,” ঘানির এক সহযোগী রয়টার্সকে বলেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। পৃথক আরেকটি ঘটনায় কাবুলের কেন্দ্রস্থলে এক বিস্ফোরণে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য এ নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন ঘানি। তালেবান নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রমুখি না হয় তার জন্য আফগানিস্তানের ও বিদেশি বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই তীব্র করে তোলার শপথ নিয়েছেন জঙ্গি গোষ্ঠীটির কমান্ডাররা। নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তারা। এরপর থেকে সারা দেশজুড়ে নির্বাচনী সমাবেশগুলো ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার মধ্যেই খোদ প্রেসিডেন্টের সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটল।

 

বিতর্কিত ছাত্রলীগ সম্পাদক রাকিবকে বহিস্কারের দাবিতে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইবি প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক রাকিবকে বহিষ্কার করে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি দাবী মেনে না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয় তারা। আগামীকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পদবঞ্চিতরা কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষদ ভবন সংলগ্ন ছাত্রলীগের দলীয় ট্রেন্ড থেকে পদবঞ্চিতদের  নেতা শিশির বাবু, তৌকির মাহফুজ, মিজানুর রহমান লালন, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, জুবায়েরের  নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে। এসময় তাদের ‘হৈ হৈ রৈ রৈ রাকিব-পলাশ গেলি কই? জামাত-শিবিরের আস্তানা জালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ শ্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে সম্পাদক রাকিবকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, রাকিবের সাথে সভাপতি পলাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের দাবী, রাকিব ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কমিটি এনেছে বলে অডিও ফাঁস হয়েছে, এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, “মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ইতিমধ্যে এ বিষয়টিকে আমলে নিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে কনসার্ন আছেন। কোনো ধরণের দুর্নীতি তিনি কোনোভাবেই সহ্য করবেন না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।”