ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় ভর্তির ফল প্রকাশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল ২১ জানুয়ারি দুপুরে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র নিকট এ ফলাফলের তালিকা হ¯Íান্তর করেন মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্য নির্বাচনী উপ-কমিটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্য (পুত্র-কন্যা/নাতি-নাতনি) নির্বাচনী উপ-কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান, সদস্য-সচিব ড. মোঃ নওয়াব আলী খান, কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী, প্রফেসর ড. মুহাঃ কামরুজ্জামান, ড. মোঃ রকিবুল ইসলাম, ড. মোঃ বখতিয়ার রহমান, ড. মুর্শিদ আলম, ড. মোঃ মুনতাসির রহমান, মোঃ ইয়াকুব আলী ও মৌসুমী আক্তার মৌ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাঈদ খোকনও আমায় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন – তাপস

ঢাকা অফিস \ ভোটের প্রচারে পুরান ঢাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন সরাসরি প্রচারে নামতে না পারলেও তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে গণসংযোগ শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। সাঈদ খোকনের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন- এ প্রশ্নে তাপস বলেন, “তিনি এখনও মেয়র হিসেবে আছেন, সুতরাং আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে তার কাছে কোনো সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে তিনি সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়ে চলেছেন। “মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি হয়ত মনে একটু কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু দলগতভাবে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সর্ব¯Íরের নেতা-কর্মীরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনের মাঠে থেকে গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গতবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র হয়েছিলেন সাঈদ খোকন। পুরান ঢাকার ছেলে সাঈদ খোকনের বাবা মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। এবার সাঈদ খোকন প্রার্থী হতে চাইলেও মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এরপর তাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। এবারের সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে যে দাবি বিএনপি নেতারা করছেন, তা নাকচ করেছেন নৌকার প্রার্থী তাপস। তিনি বলেন, “এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঢাকাবাসী তাদের যোগ্য, দক্ষ সেবক নির্বাচিত করবে। সেখানে আমরা লক্ষ্য করছি, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী এই নির্বাচনকে ঢাকাবাসীর উন্নয়নের নির্বাচন হিসেবে নিচ্ছে না। তারা এই নির্বাচনকে তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিচ্ছে, তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলন হিসেবে নিচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসীর সেবা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নেমেছি।” ইভিএম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ নিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি মনে করি, ঢাকাবাসী এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। এটা আধুনিক প্রযুক্তি। আমি এখন পর্যন্ত কারও কাছে শুনিনি এটার ব্যাপারে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করতে।” মেয়র হলে ৫ ভাগে উন্নয়নের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা পুরান ঢাকাবাসীর কাছে তুলে ধরেন তাপস। “আমাদের ৫টি রূপরেখা- ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা,সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় উন্নত ঢাকা গড়ে তোলা।  এই নবযাত্রা ও নবসূচনায় আমি বিশ্বাস করি ঢাকাবাসী দল-মত নির্বিশেষে উন্নত ঢাকার পক্ষে রায় দেবেন।” যেখানে যেখানে গণসংযোগ করেছেন, সবখানে জনগণের বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছেন বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী। “ঢাকাবাসী আমাদের উন্নয়নের রূপরেখা সাদরে গ্রহণ করেছে। অধীর আগ্রহে তারা অপেক্ষা করছে আগামী পহেলা ফেব্রæয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিতে। উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যেই তারা তাদের এই রায় প্রদান করতে চায়।” তাপস ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থী মো. সেলিম ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিমা আহমেদকে পরিচয় করিয়ে দেন।  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সানজিদা খানম, সুত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ এ সময় তাপসের সঙ্গে ছিলেন।

 

সংসদে  আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

পরপর চারজন এমপির মৃত্যু কষ্টকর

ঢাকা অফিস \ পরপর চারজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুকে সংসদের জন্য একটা কষ্টকর বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত শোক প্র¯Íাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা কষ্টকর। এবারের নির্বাচনের পর অনেক সদস্যদের আমরা হারিয়েছি। জানিনা এবার আমাদের সংসদের কি রকম একটা দুর্ভাগ্য যে পর পর আমাদের চারজন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করলেন। “ডা. ইউনুস চলে গেলেন, ডা. মোজাম্মেল সাহেব মারা গেলেন, মান্নান এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার তিনদিন পর শুনলাম সে আর নেই। আবার আজকে সকালে ইসমাত আরা সাদেক এভাবে মারা গেলেন।” গত ২৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইউনূস আলী সরকার, ৯ জানুয়ারি রাতে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান মারা যান। আর মঙ্গলবার সকালে মারা যান সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক। মারা যাওয়া সাংসদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ইসমাত আরা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উনাকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দিতে চাইলে উনি তা পালনে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। পারবেন কীনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে আমি তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেই। অত্যন্ত গোছালোভাবে তিনি কাজ করতেন। প্রতিটি কাজ তিনি সুষ্ঠুভাবে সততা, নিষ্ঠার সাথে করতেন। উনার একাগ্রতা, সততা ছিল অসামান্য।” স¤প্রতি ইসমাত আরার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, “উনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করেন। তখন অসুস্থতার কথা বললেন, অনেকক্ষণ আলাপ আলোচনা হল। একটা অপারেশন করার কথা জানালেন। এ বয়সে অপারেশন করবেন কীনা তা চিন্তা করতেও বললাম। অসুস্থতার খোঁজ খবর নিলাম, বললাম ঘাবড়াবেন না, চিকিৎসা আধুনিক হয়ে গেছে। এটাও বললাম আমাদের সবার তো বয়স হয়ে গেছে আমাদের প্র¯Íুত থাকতে হবে। “জবাবে বললেন, আমি তো আপনার থেকে বড়। আমি বললাম মৃত্যু তো বয়স দেখে আসে না। যেকোনো সময়েই আসতে পারে। উনি চলে গেলেন, হাসপাতালে ভর্তি হলেন। পরে শুনলাম উনি স্ট্রোক করেছেন, অবস্থা ভালো না। অপারেশন পর্যন্ত উনাকে নেওয়াই গেল না।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যু এভাবেই আসে। তবে উনাকে ভুগতে হল না, কষ্ট করতে হল না। এটাই হচ্ছে বড় কথা।” এলাকার উন্নয়নে ইসমাত আরা সাদেক অনেক কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। নির্বাচনী এলাকা কেশবপুর আলোকিত করেছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। হঠাৎ করে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন তা ভাবতে পারিনি।” সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আনা শোক প্র¯Íাবের ওপর তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, উপাধক্ষ্য আব্দুস শহীদ, কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াসিকা আয়শা খানম, আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বেশ কয়েকজন আলোচনা করেন। সর্বসম্মতক্রমে শোকপ্র¯Íাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার। এর আগে ইসমাত আরা সাদেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

অন্তত বিচার শেষ হয়েছে, সন্তুষ্টি এখানেই – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস \ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কয়েক দশক পরে হলেও চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে হত্যাকাÐ এবং ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার বিচার যে শেষ করা গেছে, সেটাই ‘সন্তুষ্টি’। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে পাবনা আইনজীবী সমিতিতে বই কেনা বাবদ ৩০ লাখ টাকার চেক হ¯Íান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিন দশক আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার মামলায় সোমবার পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। এদিকে প্রায় দুই দশক আগে ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শেষে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় এসেছে। এ দুই রায়ের বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, “গতকাল দুটো রায় হয়েছে। দুটি রায়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটা হচ্ছে চট্টগ্রামের ঘৃণিত অপরাধটা ১৯৮৮ সালে হয়েছে। ৩১ বছর পর এই বিচার সমাপ্ত হল। “সিপিবির বোমা হামলা ২০০১ সালে হয়েছে। এর মানে ১৮ বছর পর আমরা এর বিচার শেষ করতে পেরেছি। সন্তুষ্টি প্রথমেই, যে অন্ততপক্ষে বিচারটি শেষ হয়েছে।” আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠা করেননি, তা সুদৃঢ় করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোও নিয়েছেন। তারই একটি অংশ হল দ্রুত এসব মামলার বিচার শেষ করা। “আমরা এইটুকু বলতে পারি যে, এই দুটো বিচারের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হল, অপরাধীরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, যার যতই ক্ষমতা থাকুক না কেন। সাময়িকভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কিছুদিনের জন্য হয়ত ‘আইনের ঊর্ধ্বে আছেন’ বলে একটা ইলুশনের মধ্যে থাকতে পারেন অপরাধীরা, শেষ পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে।” বিচার শেষে করতে দীর্ঘ সময় লাগল কেন জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালে যখন মামলায় গতি আনার প্রক্রিয়া চলছিল, তা শেষ হওয়ার আগেই সরকার পরিবর্তন হয়। “এই মামলাগুলো যাতে বিচারের মুখ না দেখে সেই ব্যবস্থা করেছিল বিএনপি সরকার। তারপর শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করলেন, তখন থেকে এটা আবার তদন্তে।… আবার নতুন করে সাক্ষীসাবুদ দেওয়ার ব্যবস্থা ও তদন্ত করে এইসব মামলাগুলো চালানো- সেজন্য একটু দেরি হয়েছে।” রায় কবে নাগাদ কার্যকর হবে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “আদালতের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। এখানে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এটা অটোমেটিক্যালি হাই কোর্ট বিভাগে কনফার্মেশনের জন্য যাবে। হাই কোর্ট বিভাগ শুনানি শেষ করলে তারপর রায় কার্যকর হবে।” খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “একটি টেলিভিশনে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমরা (জামিন দেয়ার বিষয়ে) চিন্তা-ভাবনা করছি কিনা। আমরা কেন চিন্তা-ভাবনা করব? আমি চিন্তা-ভাবনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।” “এখন তিনি সাজা ভোগ করছেন। আপিল বিভাগ তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। সবই আদালতের ব্যাপার, আমাদেরকে কেন ভাবতে হবে যে আমরা খালেদা জিয়াকে নিয়ে কী করব?… আমরা অন্ততপক্ষে এটা নিয়ে এখন ভাবছি না।”

ঢাকার দুই সিটির ভোট

ইভিএম বাতিলের দাবি নিয়ে ইসিতে বিএনপি

ঢাকা অফিস \ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহার না করতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা চিঠিটি ইসিতে নিয়ে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা ও চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নিলেও শুরু থেকে ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

সিইসিকে দেওয়া চিঠিতে বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, “০১ ফেব্র“য়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের হাতে এখনও সুযোগ আছে নিরপেক্ষতা প্রমাণের চেষ্টা করার। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই উন্মোচিত ইভিএম’র অকার্যকারিতাকে বিবেচনায় নিয়ে ইভিএম ব্যবস্থা বাতিল করে প্রচলিত ব্যালট ব্যবস্থাতেই ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করুন। ভোট প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের খবরদারি বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। “আশা করি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা প্রমাণে আমাদের দাবি পূরণ করে ১ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ করার ব্যবস্থা নিবেন।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন। দলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিএনপির আহŸায়ক আবু সুফিয়ান। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান। ইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে নতুন করে উপনির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়। বৈঠক শেষে আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনে কি ঘটেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হয়েছে। সেটি নিয়ে আজ কথা বলেছি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের চেয়েও অনেক বেশি খারাপ হয়েছে এই নির্বাচন। নির্বাচন ব্যবস্থা অধিকতর খারাপের দিকে যাচ্ছে। উন্নতি তো দূরের কথা অবনতির দিকে যাচ্ছে, ফলে আস্থাহীনতা বাড়ছে। জাসদনেতা মঈনুদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে গত ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনিবার্চনে আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ৮৭ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্ব›িদ্ব বিএনপির আবু সুফিয়ান পান ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। এই উপনির্বাচনে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন দাবি করলেও বিএনপিপ্রার্থী বলছেন, মাত্র পাঁচ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কেন্দ্র দখলের অভিযোগও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তুলেছেন তিনি। চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে সব কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে আমীর খসরু বলেন, “১৭০ পোলিং স্টেশনের মধ্যে সবগুলোই দখল করে নিয়েছিল ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী কেন্দ্রে বাইরের কেউ থাকতে পারবে না, গাড়ি-মোটরসাইকেল চলবে না। কিন্তু সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের যত মেয়র, কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান দৃশ্যমান ছিল। সবাই সরসরি কেন্দ্র দখল করেছে, মিছিল করেছে। যেখানে ভোট দেয় তা দখল করে নিয়েছে। মৃত মানুষের ভোট, প্রবাসীদের ভোট, জেলে থাকাদের ভোটও দিয়েছে।  ইভিএমে ভোট ডাকাতি হয় চট্টগ্রামের ভোটে তা প্রমাণিত হয়েছে। “চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি। যারা যেতে পেরেছে তারা আঙ্গুলের ছাপ দিয়েছে, ভোটের ব্যালট ইউনিটে ভোটের কাজ তারা সেরে ফেলেছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও যেখানে ইভিএমে ভোট হয়েছে সেখানেও এমন হয়েছে, চট্টগ্রামে তার চেয়েও খারাপ হয়েছে।” তিনি বলেন, “কমিশনকে অনুরোধ করেছি চট্টগ্রামের নির্বাচনটি বাতিল করে দিন। ব্যালটের মাধ্যমে পুর্ননির্বাচন দিন। ইভিএমে ভোটে জালিয়াতি হলেও চ্যালেঞ্জের কোনো সুযোগ নেই। ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি টাকায় ইভিএম মেশিন কেনা হয়েছে। কিন্তু সেখানে অডিট ট্রেইল ও পেপার ট্রেইল নেই। ভারতের মেশিনে তা আছে। পাঁচ ছয়টি দেশে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে কমিশন বা সরকার প্রশ্নবিদ্ধ নয়। কিন্তু বাংলাদেশের কমিশন এবং সরকার প্রশ্নবিদ্ধ।” কমিশন কি বলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তারা বলছে সব ঠিক আছে। ৩০ ডিসেম্বরেও বলেছিল সব ঠিক আছে, এখনও তাই বলছে।” মঙ্গলবার গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারণায় হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমাদের উত্তরের প্রার্থী তাবিথের উপর হামলা হয়েছে। এ্যানিসহ ১৫ জন হামলায় আহত হয়েছে। ঢাকার নির্বাচনে তারা রা¯Íার ওপর অফিস করেছে, পোস্টার লাগিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রার্থীকে বাধা দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপর সরকার খবরদারি চালাচ্ছে বলে মনে করি।”

রোহিঙ্গা ‘গণহত্যার প্রমাণ পায়নি’ মিয়ানমারের প্যানেল

ঢাকা অফিস \ সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর কোনো প্রমাণ তারা পায়নি বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকারের নিযুক্ত একটি প্যানেল। তবে রাখাইন রাজ্যে ‘যুদ্ধাপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে সরকার নিযুক্ত ওই তদন্ত কমিশন। কমিশন বলেছে, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দমনাভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে তারা। এসব ঘটনার জন্য ‘বহু ভূমিকায়’ থাকা লোকজনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ছিল এমন সিদ্ধান্তে আসার মতো ‘বা¯Íব প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।  যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওইসব ঘটনার মধ্যে ‘নিরাপরাধ গ্রামবাসীদের হত্যা ও তাদের বাড়িঘর ধ্বংস’ করার ঘটনাও আছে বলে জানিয়েছে তারা। কিন্তু তাদের বিবৃতিতে প্যানেল ৩০টি পুলিশ পোস্টে হামলার জন্য রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দায়ী করে এসব হামলাই দমনাভিযানের ‘সূচনা’ করেছে মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে ‘অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত’ বলে বর্ণনা করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো ও রোহিঙ্গা নেতারা প্যানেলের প্রতিবেদনটিকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপনের চেষ্টা’ অভিহিত করে বাতিল করে দিয়েছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় দেওয়ার আগে এটি সত্যকে ‘ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা’ বলে মনে করছেন তারা। বিবৃতিতে প্যানেল বলেছে, “রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মুসলিম বা অন্য কোনো স¤প্রদায়কে ধ্বংস করার পরিকল্পনা বা অভিপ্রায় অনুসারে এসব হত্যা বা বা¯Íুচ্যুতির কাজ করা হয়েছিল, এমন ধারণা করার মতো কোনো প্রমাণ আইসিওই (তদন্ত কমিশন) পায়নি। “এসব অপরাধ কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত, নৃগোষ্ঠীগত বা জাতীয় গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে বা গণহত্যার আন্তর্জাতিক অপরাধ হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় মানসিকতা নিয়ে করা হয়েছে, এমন বিতর্ক করার পক্ষেই যথেষ্ট প্রমাণ নেই, সিদ্ধান্ত তো আরও দূরে।”

কমিশনের তদন্তে উদ্ঘাটিত এসব তথ্যের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার ‘একমত’ বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উয়িন মাইন্ট। তিনি বিশেষত বেসামরিক লোকজন ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের কথিত অপরাধের বিষয়ে আরও তদন্ত করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন।  সামরিক বাহিনী চলামন তদন্ত যেনো আরও বি¯Íৃত হতে পারে তার জন্য তিনি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনটি সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে হ¯Íান্তর করেছেন বলে উয়িন মাইন্ট জানিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাকাÐ চালানো হয়েছিল বলে কথিত গুদার পাইন গ্রামে মোতায়েন সেনাবাহিনীর একটি রেজিমেন্টের সৈন্য ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নভেম্বর থেকে বিরল একটি বিচার শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংস দমনাভিযানের সময় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পাশবিক সহিংসতার মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ বলেছে, ওই সহিংসতা চলার সময় দলগত ধর্ষণ ও ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ নিয়ে ব্যাপক হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে। শত শত গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পর সবকিছু সরিয়ে নিয়ে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে।

সাংসদ ইসমাত আরা সাদেক আর নেই

ঢাকা অফিস \ যশোর-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক মারা গেছেন। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ইসমাত আরার মৃত্যুর বিষয়টি আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ সকাল ১১টায় ইসমাত আরা সাদেক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।” ইসমাত আরার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চীফ হুইপ নূর -ই- আলম চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শোক প্রকাশ করেছেন। বাদ আসর জাতীয় সংদের দক্ষিণ প¬াজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। আর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন জানিয়েছেন, ইসমাত আরা সাদেকের দাফনের বিষয়ে পরিবারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসমাত আরা সাদেক ১৯৪২ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে বগুড়া ভি এম গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৫৮ সালে ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ইসমাত আরা ১৯৯৬ সালে কেশবপুর মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন ও তখন থেকে কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হলে তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।  ইসমাত আরা সাদেকের স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। সাবেক এই সচিব আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। এই দম্পতির ছেলে তানভীর সাদেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে নওরীন সাদেক স্থপতি।

আবরার ফাহাদ হত্যা

অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩০ জানুয়ারি

ঢাকা অফিস \ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত। এ মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস মঙ্গলবার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জানান, এ আদালতে মামলার অভিযোগ গঠনের পর বিচার কাজ দ্রুত করার জন্য ঢাকার কোনো একটি দ্রুত বিচার ট্র্যাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার দিন নির্ধারিত থাকায় কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে এদিন আদালতে হাজির করা হয় বলে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপাস কুমার পাল জানান। বাকি তিনজন এখনও পলাতক। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫ জনকে। অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মামলার নথিপত্র গত ১৩  মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার তা আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করে দিলেন বিচারক। এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, বহিষ্কৃত সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, ইসতিয়াক হাসান মুন্না, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এস এম মাহমুদ সেতু, এজাহারের বাইরের ছয় আসামি হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, মাহামুদ সেতু ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম। পলাতক বাকি তিন আসামি হলেন- ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুল জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মুজতবা রাফিদ।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

ঢাকা অফিস \ বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সেই লক্ষ্যে সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের প্রকল্প পাশ হয়েছে। এই টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিদেশে প্রশিক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপনের প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হল, তাতে তো শিক্ষক দিতে হবে। শিক্ষকের প্রকট অভাব আছে। এ জন্য শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে মানের আমরা প্রশিক্ষণ দেব, সুতরাং ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করে শিক্ষকদের ট্রেনিং দাও। প্রয়োজন হলে শিক্ষকদের বিদেশে পাঠাও। কয়েকশ হলেও আমার আপত্তি নাই। যাক, তাড়াতাড়ি প্রশিক্ষণ নিয়ে আসুক।’ এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটা আশঙ্কা রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারের স্থাপনা নির্মাণ করার পর দেখা যায়, লোক নাই, চেয়ার নাই, বেঞ্চ নাই, যন্ত্র নাই। এটা পরিহার করতেই হবে। এখানে (নতুন টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রকল্পে) যেন এটা না হয়। ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করছি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চাচ্ছেন, এটা নির্মাণ হতে হতে যেন যন্ত্রপাতি, চেয়ার-টেবিল, শিক্ষক যেন প্র¯Íুত থাকে। গতকালের একনেক সভায় উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সরকার খরচ করবে ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই কাজ বা¯Íবায়ন করা হবে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার

থানায় মামলা, সাধারন সম্পাদক রাকিবসহ আটক ২

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রক্টর, ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ আহত ১৫

নিজ সংবাদ \ আধিপত্য বিস্তার, টেন্ট দখলকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ইবি প্রক্টর আনিচুর রহমান, ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছে। হামলার অভিযোগে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সম্পাদক রাকিবসহ ১১জনের নাম উল্লেখসহ ৩০জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। পুলিশ রাকিবসহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, কমিটি গঠন, আধিপত্য বি¯Íার আর দলীয় টেন্ট দখলকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। মাস ছয়েক আগে রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারন সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষনা করা হয়। ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কমিটি আনার অডিও ফাঁসসহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে এ দুই নেতাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে পদ বঞ্চিত ছাত্রলীগের বড় একটি অংশের নেতা-কর্মিরা। এ নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে ছোট খাট সংঘর্ষ হয়ে আসছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পলাশ ও রাকিব বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে মিজানুর রহমান লালন ও ফয়সাল আরাফাতের কর্মিরা তাদের তাড়া দেয়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এতে প্রক্টর, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিসহ কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার জন্য পলাশ ও রাকিবকে দায়ী করে ক্যাম্পাসের মেইন গেইট ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ কর্মিরা।

ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ কর্মিরা জানান, পলাশ ও রাকিব বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল। তাদের প্রতিহত করেছে সাধারণ কর্মিরা। তবে এ হামলার জন্য ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ প্রতিপক্ষের গ্র“পের নেতা-কর্মিদের দায়ী করেছেন।

ইবি ছাত্রলীগের নেতা মিজানুর রহমান লালন বলেন,‘ বহু অপকর্মের হোতা পলাশ ও রাকিব। তারা অর্থ দিয়ে কমিটির নেতা হয়েছে। বহু অডিও ফাঁস হয়েছে। তাদের সাথে ছাত্রলীগের কোন নেতা-কর্মি নেই। তারপরও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে সাধারন কর্মিরা তাদের হটিয়ে দেয়।

ঘটনার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। পুলিশ রাকিবসহ তার এক সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানান প্রক্টর। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিচুর রহমান বলেন,‘ দুপুর ১টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। তবে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। তবে পুলিশ কঠোর অ্যাকশন নিয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রন আছে। কাউকে ক্যাম্পাসে বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে।

হুমকির মুখে পরিবেশ : প্রশাসন নীরব

দৌলতপুরে ২৬টি অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ

বিশেষ প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২৬টি অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ইটভাটায় অবাধে পুড়ানো হচ্ছে জ্বালানী হিসেবে কাঠ। সরকারী ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন না মেনে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা ওই সব ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানী কাঠ বা কাঠের গুড়ি। এরফলে উজাড় হচ্ছে সবুজ বৃক্ষ। উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকাধীন বনাঞ্চল থেকে গাছ কিনে এসব অসাধু ভাটা মালিকরা জ্বালানী হিসেবে কাঠের ব্যবহার করছেন। আর এসব ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ। এতে করে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চলের সবুজ বৃক্ষ অপরদিকে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে হুমকির মুখে। দৌলতপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডের সরকারী শেখ ফজিলাতুনেছা মুজিব মহিলা কলেজ সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা ৪টি ইটভাটা, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মানিকদিয়াড় গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও ফসলের ক্ষেতে গড়ে তোলা হয়েছে ৮টি ইটভাটাসহ উপজেলার কল্যানপুর, ডাংমড়কা, রিফায়েতপুর, চকদৌলতপুর, ঝাউদিয়া, সংগ্রামপুর, বড়গাংদিয়া, বোয়ালিয়া, স্বরূপপুর ও প্রাগপুর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২৬টি ইটভাটায় হাজার হাজার মন গাছের গুড়ির ¯ুÍপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব ইটভাটার চুল্লিগুলোতে ১২০ ফুট উচু স্থায়ী চিমনির পরিবর্তে কোন কোন ভাটায় মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচু ড্রাম চিমনী ব্যবহার করে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের সবুজ বৃক্ষ। দৌলতপুর উপজেলার সদরের স্বরূপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর এলাকার বাড়ির আঙিনা ও ৩ফসলি জমিতে গড়ে উঠা ইটভাটাসহ সব ইটভাটাতে অবাঁধে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন রয়েছেন নীরব। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লতিবমোড়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই শত শত ট্রাকভর্তি জ্বালানী কাঠ ওজন দেওয়া হচ্ছে। আর এসব নিষিদ্ধ ইটভাটায় ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে সেইসব মাটি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইট। প্রতিটি ইটভাটায় এক রাউন্ড ইট পোড়াতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন। সে হিসেবে একটি মৌসুমে প্রায় ১০থেকে ১২ রাউন্ড ইট পোড়ানো সম্ভব। এক রাউন্ড ইট পোড়াতে ১০ থেকে ১২ হাজার মন জ্বালানী কাঠের প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইটভাটায় এক মৌসুমে (০১) এক লক্ষ মণ জ্বালানী হিসেবে সবুজ বৃক্ষ বা কাঠ পোড়ানো হলে ২৬টি ভাটায় ২৬লক্ষ মনেরও বেশী কাঠ পুড়ানো হয়। এছাড়াও ইটভাটাগুলো সরকারী নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত উর্বর ৩ফসলী জমি, স্কুলের আঙিনা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশ ও জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্যহানী ঘটছে, পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যস্থ। সেই সাথে আবাদী জমি ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ এসব ইটভাটায় প্রশাসনের অভিযান চললেও দৌলতপুরে এর চিত্র উল্টো। দৌলতপুরের ইটভাটা মালিকদের দম্ভোক্তি রয়েছে তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিটি ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ¦ালানী হিসেবে কাঠ জ¦ালিয়ে ইট পেড়ানো হয় এমন কথা বিভিন্ন মহলে প্রচার রয়েছে। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেছেন, গত নভেম্বর মাসে কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে আরো অভিযান চালানো হবে। এদিকে বিগত বছরগুলোতে জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর দায়ে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের অর্থদন্ডের পাশাপশি সতর্ক করা হলেও ইটভাটা মালিকরা তা না মেনে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে অবাঁধ সবুজ বৃÿ উজাড় করে কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন বলে ভূক্তভোগীদের দাবি। একই সাথে পরিবেশ ও আবাদী জমি রক্ষায় এসব অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সচেতন মহলের।

সেতু’র উদ্যোগে মিরপুর উপজেলায় আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান মেলা-২০২০ অনুষ্ঠিত

সেতু’র উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্পাধীনে আন্তঃস্কুল বিজ্ঞান মেলা-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিরপুর উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। মেলায় উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের  নিজ নিজ স্টলে বিজ্ঞান প্রকল্প ও দেয়ালিকা প্রদর্শণ করে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মেলার কার্যক্রম বা¯Íবায়নে উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সার্বিক সহযোগিতা করে। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, একাডেমিক সুপারভাইজার ও সহকারী প্রোগ্রামারকে নিয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি বিজ্ঞান প্রকল্প, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেন। প্রকল্পের এক বছরের সার্বিক কর্মকান্ড এবং প্রতিযোগিতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়। অনুষ্ঠানের পুরষ্কার বিতরণ ও সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেতু’র নির্বাহী পরিচালক এম এ কাদের, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রকিবুল হাসান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হায়দার। সভাপতির বক্তব্যে লিংকন বিশ্বাস বলেন শিক্ষায় সৃজনশীলতাকে জোরদার করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকশিত করতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এম এ কাদের প্রকল্প বা¯Íবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি কারিগরী ও উদ্ভাবনী শিক্ষার গুরুত্বারোপ করে বলেন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হায়দার বলেন উদীয়মান ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো শিক্ষার্থীদের অধিকতর বিজ্ঞান মনস্ক করে তুলবে। অধিকাংশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার যে ভীতি ছিল তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে দূর হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রকল্পগুলো সুন্দর, বা¯Íবমুখী ও সম্ভাবনাময়। এই শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রকিবুল হাসান বলেন বিজ্ঞান আমাদেরকে এগিয়ে দিচ্ছে, আগামী দিনে বিজ্ঞান আর নতুন নতুন উদ্ভাবনী মানুষকে উপহার দিবে। পৃথিবীর ইতিবাচক পরিবর্তনে আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হোসনে মোবারক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

ঢাকা অফিস \ দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে গতকাল রোববার শেষ হলো তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই আখেরি মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা মুসিবত থেকে হেফাজত ও মুসলীম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মুলিম সমাবেশে ভারতের দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা জামশেদ বেলা ১১টা ৫০মিনিট থেকে ১২টা ৭মিনিট পর্যন্ত মোট ১৭ মিনিট মোনাজাত পরিচালনা করেন। মাওলানা জামশেদ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর গুনা মাফ করার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রবিবার সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্ললী ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে এসেছেন। সকালে মুসল্লিদের আগমন বাড়তে থাকে। ইজতেমা ময়দানের আশপাশ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ ও আব্দুল্লাহপুর- আশুলিয়া সড়কে মুসল্লিদের ঢল লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই এসেছেন বিদেশি মেহমান। ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে এসেছেন ৩২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৬টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়া সব আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রা বিরতি করে। বিআরটিসি’র শতাধিক বিশেষ বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাঁচ ¯Íরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয় বলে জানিয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশ। এ বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় ১০ জানুয়ারি। ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাওলানা জুবায়ের অনুসারিদের প্রথম পর্ব শেষ হয়। প্রথম পর্বে ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমাতেও দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারী ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্ব ইজতেমায় এসে শনিবার দিবাগত রাতে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এবারের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে এসে ১০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। টঙ্গী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে, বার্ধক্যজনিত কারণে ও দুর্ঘটনায় তারা মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে

ঢাকা অফিস \ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অরুনরাং ফতং হামফ্রেইসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ‘সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের এই সকল আচরনে একটা বিষয় ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, তারা লোক দেখানোর অংশ হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি জয়ী হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বরং নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য অংশ নিচ্ছে। তাই তারা পরাজয় মেনে নিয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ করতেই নির্বাচন কমিশন, ইভিএম ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা সমালোচনা করছে।

এসএসসির নতুন সূচি প্রকাশ

ঢাকা অফিস \ ঢাকা সিটি কারপোরেশন নির্বাচনের ভোটের তারিখ পেছানোয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দুদিন পিছিয়ে দিয়ে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে সরকার। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে সংশোধিত পরীক্ষা সূচি প্রকাশ করেছে।

আগামী ১ ফেব্র“য়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সিটি ভোটের কারণে এখন তা ৩ ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৩ থেকে ২৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত এসএসসির তত্ত¡ীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। আর ২৯ ফেব্র“য়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে হবে। সূচি পরিবর্তনে সব পরীক্ষায়ই পিছিয়েছে, ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষার আগে বিরতিও থাকছে। আগের সূচিতে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং গণিত পরীক্ষার আগে একদিন করে বিরতি ছিল। নতুন সূচিতে অন্য দুটিতে একদিন হলেও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের আগে দুই দিন বিরতি থাকছে। এ বছর তিন হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর দুদিন আগে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করে ইসি। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় দেখা দেয় জটিলতা। পূজার কারণে তফসিল ঘোষণার পরপরই তার বিরোধিতা করেছিল পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। কিন্তু তা আমলে নেয়নি ইসি। এরমধ্যে ভোটের তারিখ পরিবর্তনে হাই কোর্টে রিট আবেদন হলে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ইসি ৩০ জানুয়ারি ভোট করার বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান নেয়। ইসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, ৩০ জানুয়ারিই ভোটগ্রহণের জন্য ‘উপযুক্ত’ দিন। কারণ তার পরের দিন ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার বলে সেদিন ভোটগ্রহণের নজির নেই। এরপর ১ ফেব্র“য়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বলে প্রায় এক মাস আর ভোট করা যাবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশন শুরু করলে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্মসূচি ঘোষণা করলে ভোটের দিন বদলের দাবি জোরাল হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, ভোটের তারিখ পরিবর্তনে তাদের আপত্তি নেই। প্রধান প্রধান প্রার্থীরাও ভোটের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে ইসিকে আহŸান জানায়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বললেও তাদের পক্ষে জনমত জোরাল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে শনিবার আকস্মিকভাবে জরুরি বৈঠকে বসে ইসি। তারমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ভোট পেছানো হয়।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৬ জনের জামিন শুনানি আজ

ঢাকা অফিস \ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৬ জনের জামিন শুনানি আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে তাদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে তারা হাইকোর্টে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তারা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ পরোয়ানা জারি করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়-কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার। এ ঘটনায় আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে নাইমুলের বাবা মো. মজিবুর রহমান মামলা করেন।

বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা প্রভাবশালী মহলের 

কুমারখালীতে অসহায় বাগদি স¤প্রদায়ের আবাস রক্ষায় পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সাংসদ জর্জ

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি জমি থেকে বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। উচ্ছেদের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে যুগের পর যুগ কুমারখালীতে বাস করা ক্ষুদ্র এ স¤প্রদায়ের মানুষ। তবে তাদের অধিকার রক্ষায় স্থাণীয় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ একাত্মতা প্রকাশ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। একই সাথে বাগদি স¤প্রদায়ের জন্য আরো জমি বন্দোব¯Í দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। সাংসদের সহমর্তিতা পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। অভিযোগ ওঠে গত বুধবার কুমারখালী মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন বিশ^াস পৌরসভার বুজরুক দুর্গাপুর মৌজার বাগদি স¤প্রদায়ের আদি ভিটার জমি দখলের চেষ্টা করে। বাগদি স¤প্রদায় শতাধিক মানুষ প্রতিবাদ করে। তারা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে মানববন্ধন শেষে প্রায় তিনঘণ্টা ধরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে ও উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নেয়। তারা ধারাবাহিক নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও ভুক্তোভোগি আদিবাসী পরিবার সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ট সংলগ্ন বুজরুখ দুর্গাপুর মৌজায় কয়েক বিঘা জমির ওপর অন্তত ৪০০ আদিবাসী বাগদি স¤প্রদায়ের পরিবার বসবাস করে আসছে। সরকার অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা লীজ দিয়েছে। এদিকে আদিবাসীদের জায়গার পাশে তুহিন বিশ^াস নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিমালিকানা জমি রয়েছে। স¤প্রতি তিনি দাবি করেন- আদিবাসীদের জায়গাটাও তার মালিকানাধীন। এ ব্যাপারে মামলাও করেছেন তিনি। উচ্চ আদালতের দেওয়া একটি রায় উল্লেখ করে তিনি আদিবাসীদের জায়গাটি নিজের দাবি করে উচ্ছেদের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আদিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত বুুধবার সকালে তুহিন বিশ্বাস তার লোকজন নিয়ে বসতি উচ্ছেদ করতে গেলে আদিবাসী স¤প্রদায়ের লোকজন প্রতিবাদ করে। দখল করতে যাওয়াদের ধাওয়া করে। এসময় সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। আদিবাসী পরিবারের ছোট থেকে বড় নারী -পুরুষ সবাই সড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া আদিবাসী পরিবারের সদস্য প্রীতম সরদার অভিযোগ করে বলেন, বাসস্ট্যান্ডের পাশের (পশ্চিম) দুর্গাপুর মৌজার সরকারি জমিতে তাদের পূর্ব পুরুষেরা প্রায় শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে ওই জমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাদের নামে লীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স¤প্রতি দুর্গাপুর গ্রামের তুহিন বিশ্বাস নিজের জমি দাবি করে ওই জমিতে বিপনী বিতান নির্মাণসহ জলাশয় ভরাট শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার তুহিন বিশ্বাস তাদের বসতভিটার মধ্যেও তার জমি রয়েছে বলে দাবি করে আদিবাসী স¤প্রদায়ের টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। অভিযোগের ব্যাপারে তুহিন বিশ্বাস বলেন,‘আদিবাসীদের বসতভিটা ও আমার নিজস্ব জমির দাগ নম্বর ও মৌজা আলাদা। সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কয়েক মাস আগে পৌরসভার মেয়র ও সার্ভেয়ারের উপস্থিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি আমার নিজের কেনা জমিতেই মার্কেট নির্মাণ করেছি। জমি দখল করার অভিযোগ সত্য নয়। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত শনিবার সকালে বাগদি পল্লীতে যান স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার  সেলিম আলতাফ জর্জ। এসময় তার সাথে কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন খান তারেক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান নিপুন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, পৌরসভার ৫নং কাউন্সিলর এস এম রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ তাদের আশ্বস্থ করে বলেন, ‘তাদের (বাগদি) পূর্বপুরুষ হতে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে এখানে। তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে একবিন্দু বঞ্চিত হবে না। কেউ তাদের ভূমি বেদখল করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।’ আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা সাংসদকে কাছে পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংসদ তাদের সাথে প্রায় ঘন্টাব্যাপী কথা বলেন। তারা জমি রক্ষাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বাগদি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মদন সাংসদকে কাছে পেয়ে বলেন- তাদেরকে উচ্ছেদের যে পায়ঁতারা করা হচ্ছে  সেটা মোকাবেলায় যেন জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। না হলে তারা মাথা গোজার মত কোন ব্যবস্থা থাকবে না।’ এ বিষয়ে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সাথে কথা হলে বলেন- বাগদি স¤প্রদায়ের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে। তারা যেভাবে সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে বাস করে আসছে তাদের জায়গায় কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। স্থায়ী একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর তাদের দিকে দখলের চোখে তাকাতে না পারে। প্রয়োজনে আরও জমি দেওয়া যায় কি না সেটাও দেখা হবে। চক্রান্তকারীদের সনাক্ত করে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে প্রয়োজন ছিল না

ঢাকা অফিস \ নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এর কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স¤প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে আসা শেখ হাসিনা গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদপত্রটির অনলাইন সংস্করণে শনিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। ভারতের বিতর্কিত আইনটি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না, কেন এটা করা হল। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।” ভারত সরকার স¤প্রতি নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকি¯Íান ও আফগানি¯Íানের হিন্দুসহ কয়েকটি ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হিন্দুসহ এসব ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ, পাকি¯Íান ও আফগানি¯Íানে বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন বহু মানুষ। আসামের অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন। নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে; বিভিন্ন রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় বেকায়কায় রয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশে ১ কোটি ৬০ লাখ হিন্দু (মোট জনসংখ্যার ১০.৭ শতাংশ) থাকার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেন।

নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর ভারত থেকেও বাংলাদেশে কেউ আসছে না জানালেও তিনি বলেন, “তবে ভারতের মধ্যেই মানুষকে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।” এনিয়ে  বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এটাই বলে আসছে যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা নাগরিকপঞ্জি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকারও বলে আসছে। “গত বছরের অক্টোবরে আমার নয়া দিল্লি সফরের সময়ও নরেন্দ্র মোদী আমাকে আশ্ব¯Í করেছেন যে এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।” বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ মাত্রায় আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটা নানা ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হচ্ছে। সাক্ষাৎকার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার শুরুটা যেহেতু মিয়ানমারে, সেহেতু তাদেরই সমাধান করতে হবে। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে তারা ফিরতে চাইছে না। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশ কয়লা বিদ্যুতের দিকে মনোযোগ বাড়ালেও এক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এতদিন গ্যাসের উপর নির্ভর করত। কিন্তু গ্যাস ফুরিয়ে আসায় উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এখন কয়লাসহ অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছেন, তাও গালফ নিউজকে তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতকারে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাইল ফলক উন্নয়ন চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবো

সুজন কর্মকার \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন, ইতোমধ্যে গ্রাম পর্যায়ে শতশত কিলোমিটার রা¯Íা ও কালভার্ট কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। উপজেলার ভিতরেও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সদর উপজেলা এখন এগিয়ে যাওয়ার পথে। ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকার এডিবি নিজস্ব তহবিল থেকে কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। কাজের টেন্ডারও হয়েছে। আন্দোলনের বাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়ার জন্য ইতোমধ্যে একনেকে ৫৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ৪ লেন ও ডিভাইডারসহ শডিয়াম বাল্ব এর কাজ হবে। ৪ লেন কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা থেকে শুরু করে ভেড়ামারা বারো মাইল পর্যন্ত কাজ হবে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ শেখ রাসেল সেতু, বাইপাস সড়ক, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, শিল্পকলা একাডেমি, মন্দির, মসজিদসহ অশংখ্য কাজ করেছেন। সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এর সূচিন্তাধারায় আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি অচিরেই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাইল ফলক উন্নয়ন চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবো।

বইমেলা শুরু ২ ফেব্রয়ারি

ঢাকা অফিস \ অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রতিবছর ১ ফেব্র“য়ারি শুরু হলেও এবার শুরু হবে ২ ফেব্র“য়ারি। এ বছরের ১ ফেব্র“য়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে বিধায় বইমেলার আয়োজন পিছিয়ে দেয়া হয়। গতকাল রোববার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি ও লেখক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে ১ ফেব্র“য়ারির পরিবর্তে ২ ফেব্র“য়ারি বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও তৎসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবছর বসে বইমেলা। এ মেলায় নতুন বই প্রকাশের পাশাপাশি জমে লেখক, সাহিত্যিক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা।

বুধবার থেকে ই-পাসপোর্ট

ঢাকা অফিস \ দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন দেশের নাগরিকরা। তবে আপাতত শুধু ঢাকার আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে এটি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই এ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে। “প্রথমে উত্তরা, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু হবে। এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরতরাও পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান খাঁন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ ও ৬৪ পাতার। আর মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদী। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী সাধারণ পাসপোর্টের (১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে) এর জন্য ফি লাগবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সাতদিনের মধ্যে (জরুরি) পেতে হলে ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও দুইদিনে (অতি জরুরি) পাওয়ার জন্য খরচ করতে হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সংখ্যক পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য পাঁচ হাজার, জরুরি সাত হাজার ও অতি জরুরির জন্য নয় হাজার টাকা হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে সাত হাজার (সাধারণ), নয় হাজার (জরুরি) ও ১২ হাজার (অতি জরুরি) টাকা। ই-পাসপোর্ট এর আবেদন অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না; কাগজপত্র সত্যায়নও করতে হবে না। ই-পাসপোর্ট চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে নানা জটিলতায় কয়েক দফা পেছাতে হয়েছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর দিন তারিখ। বাংলাদেশে হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট বা এমআরপি প্রবর্তনের পর এক দশকও পার হয়নি। কিন্তু এমআরপির ডেটাবেইজে ১০ আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট করার ঘটনা দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং একজনের নামে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করতে উদ্যোগী হয় সরকার। ২০১৮ সালের ২১ জুন প্রকল্পটি একনেকের সায় পায়। প্রকল্পটি বা¯Íবায়নে ওই বছরের জুলাইয়ে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর। সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে তারা। ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এ পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাসপোর্টের ডেটা পেইজ এবং চিপে সংরক্ষিত থাকে।