বালু উত্তোলনের দায়ে গড়াই নদীতে অভিযান

ড্রেজার মেশিনসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ধ্বংস

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গড়াই নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করায় অভিযান চালানো হয়েছে।  গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার জিলাপীতলা- হিজলাকর এলাকায় গড়াই নদীতে এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ নূর- এ আলম সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযান পরিচালনার সময় বালু উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা পলাতক থাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়নি। তবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট’র উপস্থিতিতে দু’টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন সহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, অবৈধ ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন বন্ধে গত ২৮ জুলাই গড়াই নদীর জিলাপীতলা হিজলাকর এলাকায় ও ২৯ জুলাই  তেবাড়িয়া এলাকায় পৃথক অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের নিকট থেকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় সহ অবৈধ ড্রেজার মেশিন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা মাত্র কয়েকদিন বালু উত্তোলনের কারবার বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে আবারো বালু উত্তোলন শুরু করে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, আগ্রাকুন্ডা এলাকার মাসুদ সেখ ও তার সহযোগীরা জিলাপীতলা হিজলাকর বালু মহালটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা ও কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও ওই চক্রটি সুকৌশলে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইবিতে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবসের সভায় ভিসি

বঙ্গবন্ধুর সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের কাছে মহাসম্পদে পরিণত হয়েছে

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর স্বপরিবারের হত্যাকান্ড আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পেরেছিল যে, জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব হয়ে উঠবেন অধিক শক্তিশালী। এজন্য ১৫ আগস্টে যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের সবাইকে ঢাকা বনানী কবর স্থানে সমাহিত করা হলেও জাতির পিতার লাশটি প্রান্তিক জনপদে তাঁর গ্রামে সমাহিত করা হয়েছিল। যাতে করে পৃথিবীর মানুষ আবেগ প্রকাশের সুযোগ না পায়। পাশাপাশি সানগ্লাস জেনারেল যিনি নিহত হন চিটাগংএ, তাকে জনগনের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য ওখান থেকে তার দেহাবশেষ নিয়ে এসে রাজধানীতে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে তাতে কোন লাভ হয়নি। একটি প্রান্তিক জনপদে লুকিয়ে দাফন করার পরেও সেই মুজিব আজ অতুলনীয় শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জাতির পিতার রক্ত এবং রাজনীতির উত্তরাধিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়ে ড. রাশিদ আসকারী বলেন, জাতির পিতার দেহ সমাহিত হয়েছে টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর প্রিয় গ্রামে। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ঢাকাতে একটা বঙ্গবন্ধু স্কয়ার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যেটি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে হবে এবং সেখানে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখা হবে। যাতে করে সারা পৃথিবীর মানুষ ঢাকাতে নেমে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে এসে তাঁর পূর্ণ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পায়। আর এটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এজন্যই যে, বঙ্গবন্ধু আজ বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির সম্পদ নয়, বঙ্গবন্ধু এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়াসহ সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের কাছে মহা-সম্পদে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্ট একইসূত্রে গাঁথা। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো ষড়যন্ত্র করেই চলেছে। এজন্য স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে সব সময় এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে জাতীয় শোকদিবস এবং গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। প্রধান আলোচক ছিলেন ইবি বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর  প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবীদ। এদেশের মানুষ কি চায়, তা অনুভব করেই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীকারীরা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যা করেছিল। কিন্ত বাঙালির আর্র্শিবাদ হিসেবে সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যখনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির পথে এগিয়ে চলেছেন ঠিক তখনি একের পর এক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য আবারও ষড়যন্ত্রকারীরা জেগে উঠেছে। তাই এ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, পরিকল্পিত ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সাথে অন্য কোন রাষ্ট্রনায়কের হত্যা এক করা যাবে না। আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর স্বপরিবারের জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের সাথে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় পর্যায়ে  যারা জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, শুধু ২১ আগস্ট নয়, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করে ষড়যন্ত্রকারীরা। প্রধান আলোচক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে আলোচনাকালে বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ৫৪ বছরের জীবনে ১৪ বছর জেলে কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝেও বঙ্গবন্ধু ৫টি বই লিখে গেছেন যা ইতোমধ্যে ২টি প্রকাশিত হয়েছে এবং ১টি প্রকাশনার শেষ পর্যায়ে। তিনি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আগামী দিনে এ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তাই বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তোমাদেরকে বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করতে হবে। বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামালের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি উকিল উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

গ্রেনেড হামলা দিবসের প্রতিবাদ র‌্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে দিনটি পালন উপলক্ষ্যে গতকাল বেলা ১১ টায় প্রশাসন ভবন চত্বর হতে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী),  প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা’র উপস্থিতিতে অনুষদীয় ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভার:) সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে এক প্রতিবাদ র‌্যালি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তি

কুষ্টিয়ায় নার্স হত্যায় প্রেমিক জসিম গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নার্স বিলকিস হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে তারই এক সহকর্মী। পরকীয়ার  জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে সহকর্মী পরকীয়া প্রেমিক জসিম জানান, বিলকিসের সাথে তার এবং উজ্জল নামে আরও এক সহকর্মীর গভীর সর্ম্পক ছিল। তারা তিনজনই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের বাঁধবাজার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকো সংলগ্ন এলাকা থেকে বিলকিসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকায় ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হত্যার ঘটনায় তার স্বামী রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কবুরহাট এলাকা থেকে জসীম উদ্দিন (৩২) নামে একজনকে গ্রেফতার করে। বিলকিস যে প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন জসীমও সেখানে চাকুরি করেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিলকিসের সাথে জসীমসহ উজ্জল নামে আরও একজনের গভীর সর্ম্পক ছিল। তারা তিনজনই একই প্রতিষ্ঠানের। এই সর্ম্পক নিয়ে বিলকিসের সাথে জসীমের বিরোধ দেখা দেয়। তারই প্রেক্ষিতে জসীম বিলকিসকে নিয়ে জগতি ক্যানেলপাড়ে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিলকিসকে আঘাত করে জসীম। মারা গেলে তাকে বস্তাবন্দী করে ক্যানেলের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ওসি আরও বলেন, বুধবার দুপুরে জসীমকে কুষ্টিয়া আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় জসীম। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কবুরহাটে কনিকা ক্যাবল সংযোগ কার্যালয়ে হামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজা নগর এলাকায় কনিকা ক্যাবল নেটওয়ার্কের সাব কন্ট্রোল রুমে হামলা করে ১০ লক্ষ টাকা লুট করেছে স্থানীয় একটি বখাটে গ্র“প। কনিকা ক্যাবল অপারেটরের স্বত্বাধিকারী মো: আতিয়ার রহমান জানান দীর্ঘ দিন যাবৎ খাজানগর এলাকার বখাটে একটি গ্র“প ডিস লাইনের লাইন নেয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে স্থানীয় কিছু বখাটে অভিযুক্ত বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিন মন্ডলকে সাথে নিয়ে কনিকা ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের সাব কন্ট্রোল রুমে হামলা ও ভাংচুর চালায় । এ সময় কুষ্টিয়া শহরসহ আশপাশ এলাকায় টিভি চ্যানেলের ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এ ঘটনায় সাব কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মকবুল হোসেন কুষ্টিয়া সদর থানায় মমিন মন্ডলকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিন মন্ডল ফোনে জানান এ হামলার সাথে তিনি জড়িত নয়। কনিকা ক্যাবল নেট ওয়ার্কের সাব কন্ট্রোল রুমে হামলা ঘটনায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান সাব কন্ট্রোল রুমে হামলা বিষয়ে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

সংসদ অধিবেশন বসবে ৮ সেপ্টেম্বর

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।বুধবার সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে এ অধিবেশনের মেয়াদকালসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।সংবিধান অনুযায়ী, এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরের অধিবেশন বসতে হবে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বসতে যাওয়া এ অধিবেশন অল্প কয়েকদিন চলতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে। এর আগে সংসদের তৃতীয় ও চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন গত ১১ জুলাই সমাপ্ত হয়।

একুশে আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

খালেদা জিয়ার শোকবার্তা প্রস্তুত করা ছিল

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বোধহয় খালেদা জিয়ার তৈরি করা ছিল যে আমি মরলে পরে একটা কন্ডোলেন্স জানাবে। সেটাও না কী তার প্রস্তুত করা ছিল। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেটাই বড় কথা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একুশে আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা দুজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। এখন ধীরে ধীরে সবই বের হচ্ছে। কীভাবে ওই জজ মিয়াকে নিয়ে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে এসে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করেন, তারেক রহমান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ৫ নম্বরে তার যে শ্বশুরবাড়ি ওখানে এসে সে ১০ মাস থাকলো এবং পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টেনমেন্টের বাসায়। ওখানে থেকে সে কী করলো? তার কাজটা কী ছিল?তিনি বলেন, অনেক পরে মামলা করে আমরা একটা রায় পেয়েছি। আমরা আশা করি এর বিচার হবে। কিন্তু যাদের আমরা হারিয়েছি তাদের তো আর ফিরে পাবো না।শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া তার দায় এড়াতে পারেন না, বাবর তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল। যদিও খালেদা জিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।তিনি বলেন, এ হত্যা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন এরশাদও সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন, খালেদা জিয়াও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন।সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

দৌলতপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকালে এমপি বাদশা

মাছ উৎপাদনের যে কর্মসূচী তা যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে

হবে শরীফুল ইসলাম ॥ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই পতিপাদ্য নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাষ্টার, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন ও দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা সহিদুর রহমানসহ মৎস্য চাষীগণ। মাছের পোনা অবমুক্ত শেষে এমপি আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা উপস্থিত মৎস্য চাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকারের সময় মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশে^রর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এটা সরকারের গৌরব ও সাফল্যের একটি অংশ। তিনি বলেন, সরকারের মাছের পোনা অবমুক্তকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা যেন সবাই সফলভাবে ও সতর্কতার সাথে যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত সেকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারি। তিনি আরো বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়বে সাধারণ মানুষ মাছ ধরে খাবে। বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ উৎপাদন হবে, ব্যক্তি কেন্দ্রিক না প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সাধারণ মানুষের জন্য এবং উৎসাহিত করা জন্য তারা যেন মাছ ধরে খেতে পারে সেজন্যই এই কর্মসূচী। আর এজন্য আমরা অবশ্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এমপি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন তারা যেন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন একাজ বা মাছ উৎপাদনের যে কর্মসূচী তা যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর আমরা চতুর্থ স্থান থেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলা পরিষদ পুকুর, মথুরাপুর আশ্রয়ন পুকুর এবং দৌলতপুর অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলের পুকুরসহ ১৬টি পুকুর ও জলাশয়ে ৪০০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

 

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা

নিজ সংবাদ ॥ ২০০৪ সালের ২১আগষ্ট ঢাকায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে সংগঠিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ও গুলি বর্ষনের ঘটনার দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার (আইন) শামসুর রহমান বাবু।  প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ¦ আতিয়ার রহমান। বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক শাখার প্রধান উপদেষ্টা ও ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্পোল পিপি এ্যাড. আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক শাখার সভাপতি মুকুল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক শাখার সভাপতি আরিফা বেগম, সহ-সভাপতি খন্দকার আব্দুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেমসহ আরো অনেকে। আলোচকবৃন্দ বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের নীল নকঁশা অনুযায়ী ৭৫সালে বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ হত্যা করা হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১আগষ্ট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা এবং গুলি বর্ষনের মাধ্যমে বহুসংখ্যক আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকে হত্যা করে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব শুন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে যা জাতি কোন দিনই ভুলবে না। আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, ২১ আগষ্ট সহ সকল হত্যাকান্ডের দোষীদের আইনের আওতায় এনে শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে খুনিদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। তাহলে আর এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার আবির্ভাব হবে না। পরে ২১আগষ্টের শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ভারত

ঢাকা অফিস ॥ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুগ্রামানিয়াম জয়শংকর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার-এই তিন দেশের জাতীয় স্বার্থেই এটা করা জরুরি। বাংলাদেশ থেকে এই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে এবং রাখাইন রাজ্যের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে আমরা সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।’ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন। জয়শংকর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং ভবিষ্যতে এটা আরো জোরদার হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী দু’টি অনুষ্ঠানই উদযাপন করতে যাচ্ছি।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম ঢাকা সফর। বাংলাদেশের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব প্রতিবেশী দেশগুলোও যে পাশাপাশি একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারে তার উদারহণ। আমরা অংশীদার হিসেবে একসাথে কাজ করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেল হিসেবে এই অংশীদারকে টিকিয়ে রাখতে চান।’ জয়শংকর বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গর্ব বোধ করি। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছি।’ পানি বন্টনের ব্যাপারে ভারতের এই মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমাদের মতো তারাও অভিন্ন ৫৪টি নদীর জন্য উভয়পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটি উপায় বের করতে চায়। তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয়শংকর বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের একটি অবস্থান আছে। এ ব্যাপারে আমাদের একটি অঙ্গীকার আছে এবং এটা পরিবর্তন হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসে তখন অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থার বিরুদ্ধে দু’দেশের অংশীদারিত্বও উন্নয়ন দু’দেশের জনগণকেই সরাসরি সুফল দেয় বলে আমাদের বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, দু’দেশের জনগণের মধ্যে সবক্ষেত্রে যোগাযোগ বেড়েছে। জনগণের মধ্যে আরো যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষে পদক্ষেপ নেয়া হবে। জ্বালানী সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, দু’টি দেশই পরস্পরের সফলতার সুফল ভোগ করে। এর আগে, সকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ভারতীয় হিসেবে যে গর্ব ছিল, তা হারালাম – অমর্ত্য সেন

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীর নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেন নোবেলবিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, ভারতের গণতন্ত্রের জন্য ভারতীয় হিসেবে যে গর্ব অনুভব করতেন তিনি, এই পদক্ষেপের পর আর তা অনুভব করছেন না। আকস্মিক এক পদক্ষেপে গত ৫ আগস্ট মোদী সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়।  এই পদক্ষেপে কাশ্মীরিরা ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করছে, মোদী সরকারের সমালোচনা হচ্ছে নানা মহলেই। সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, “ভারতীয় হিসেবে আমার গর্ব ছিল এই জন্য যে গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রের জন্য এত কিছু করেছে ভারত। “তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসাবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। কেননা যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই অবস্থান হারিয়ে ফেলেছি।” কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের পদক্ষেপে মানুষের অধিকারে প্রশ্নটিও খর্ব হয়েছে বলে মনে করেন নোবেলজয়ী এই বাঙালি। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।” সরকার নিরাপত্তার যে বিষয় বলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ চালিয়েছিল।” কাশ্মীরিরা বলছে, তাদের মতামতের তোয়াক্বা না করেই রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা রদ করা হয়েছে, যার মধ্যদিয়ে সংবিধানের শর্তের ব্যত্যয় ঘটেছে। মর্যাদা পরিবর্তনের কারণে আগে এখন কাশ্মীরের  নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, দন্ডবিধি থাকছে না এবং ওই রাজ্যে ভারতীয় যে কেউ জমি কিনতে পারবে। এই সব বিষয়ে কাশ্মীরিদের মতামত শোনার উপর গুরুত্ব দিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, “রাজ্যের জনগণের (জম্মু ও কাশ্মীর) কথা ভেবেও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কাশ্মীরিদের বৈধ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, কারণ যে এটি তাদের জমি।” জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনাও করেন অমর্ত্য সেন। “জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারেন বলে আমি মনে করি না এবং যদি আপনি হাজার হাজার নেতার মুখ বন্ধ রাখেন, তাদের অনেককে কারাগারে আটকে রাখেন… তাহলে আপনি গণতন্ত্রের  বৈশিষ্ট্যকে দমন করছেন।”

তিস্তার ব্যাপারে প্রতিশ্র“তি আছে – জয়শঙ্কর

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, দুই দেশের জন্য লাভজনক হয়-এমনটা বিবেচনায় নিয়ে ৫৪টি নদীর অভিন্ন পানিবণ্টনের বিষয়ে একটি ফর্মুলা বের করতে বাংলাদেশ-ভারত রাজি হয়েছে। রাষ্ট্রীয়য় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন এস জয়শঙ্কর। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না- জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিশ্র“তি রয়েছে। এর কোনো পরিবর্তন হয়নি।’ সেইসঙ্গে ভারতের আসামে যে ৪০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছে সেটি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে কিনা- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ভারত সব সময় সমর্থন দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে রাখাইনে ভারত ২৫০টি বাড়ি হস্তান্তর করেছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার- তিন দেশের স্বার্থেই দরকার বলে তার দেশ মনে করে। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরে আমরা উৎফুল্ল।’ দু দিনের সফরে মিস্টার জয়শঙ্কর গত রাতে ঢাকায় এসেছেন এবং আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাথেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে তার।

কুষ্টিয়া ডিবি পুুলিশের বিশেষ অভিযান

শহরের থানাপাড়া থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ ৫ জন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ১টি পিস্তল, পিস্তলের ২ রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগজিন এবং ২০০ পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা  গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া ঈদগাহ্ মাঠের মিনারের সামনে থেকে এদের  গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতের সার্বিক দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সাহেব আলীর  নেতৃত্বে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের  গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া মন্ডলপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ আবু সাইদ (৪০), আড়ুয়াপাড়া ১নং মসজিদ বাড়ি লেনের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে  মোঃ কাউছার বাবু ওরফে করিয়া বাবু (৪৫), সাং-উত্তর চর আমলাপাড়া এলাকার মুন্সি ফয়েজুল ইসলামের ছেলে মোঃ শফিউল ইসলাম লিটু (৪২), হাউজিং বি ব্লক, সম্প্রসারণ-১৬ এলাকার মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম রানা (৩৯), রাজবাড়ীর ইমরুল হাসান (৩৮)। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

 

হাবিব দারোগা আর আমাদের মাঝে নেই

নিজ সংবাদ ॥ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ফজলুল উলুম মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব এ.বি.এম হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব দারোগা (অবঃ) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না——রাজিউন)। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উপদেষ্টা, ফজলুল উলুম মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। এদিকে তার মৃত্যুতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে মরহুমের নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ফজলুল উলুম মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব এ,বি,এম হাবিবুর রহমান হাবিব দারগার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখা। এক শোক বার্তায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া  জেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহাম্মাদ আলী,  সেক্রেটারী আলহাজ্ব শেখ এনামুল হক মরহুমের মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশা নির্মূল কর্মসূচির উদ্বোধনীতে ভিসি

ক্লিন ক্যাম্পাস ম্যুভমেন্ট ইবি কর্মসূচি সফল করতে হবে

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে। তিনি বলেন, সম্প্রতি পরিবেশ বিপর্যয় এবং এডিস মশা দেশব্যাপি মহামারি আকার ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য ও অস্তিত্ব সুরক্ষার জন্য আজকের এই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করা হলো। তিনি শিক্ষার্থীদের আহবান জানিয়ে বলেন, আজ থেকে ক্লিন ক্যাম্পাস ম্যুভমেন্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসূচি উদ্বোধন করা হলো। এই ক্লিন ক্যাম্পাস ম্যুভমেন্টে আমাদের ১৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী যদি প্রতিদিন একটি অবাঞ্ছিত কাগজের টুকরা তুলে নিয়ে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে দেয়, তাহলে আমাদের এ কর্মসূচি সফল হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিধন করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে যে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে তা আমরা ধরে রাখতে চাই। তিনি সকলকে আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা প্রতিদিন একটি করে  আবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলি এবং প্রতিদিন একটি করে মনের আবর্জনা দুর করে বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ও আদর্শ ধারণের মধ্যদিয়ে সোনার মানুষ হয়ে গড়ে উঠি। গতকাল সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট অফিসের তত্বাবধানে ক্যাম্পাসে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশা নির্মূল কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকায় এডিস মশা জন্ম নেয়ার পরিবেশ পায়নি। ফলে আমরা এ মশার আক্রান্ত থেকে এখনও মুক্তি আছি। এ পরিবেশ ধরে রাখতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণকালে আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি ছিল ক্যাম্পাসকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমাদের সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রায় বাস্তবায়নের পথে। এস্টেস অফিসের উপ-রেজিস্ট্রর মোঃ সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, শাপলা ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, ক্যাম্পাস সৌন্দর্য্যবর্ধন কমিটি সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম পলাশ। উদ্বোধন শেষে ভাইস চ্যান্সেলরসহ অতিথিবৃন্দ মশা নিধন ¯েপ্র ছিটিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ল এক বছর

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া জামিনের মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এ এইচ এম কামরুজ্জামান মামুন, সালমা সুলতানা সোমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ৭ মার্চ হাইকোর্টের একই বেঞ্চ কুমিল্লার এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন। গত বছরের ২৮ মে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নাশকতার দুটি ঘটনায় হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু যান ভাঙচুরের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ। একই বছরের ২ ফেব্র“য়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আট যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ৩ ফেব্র“য়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দন্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউর ৬১১ কেবিনে চিকিৎসাধীন।

ভেড়ামারায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি  ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়  প্রকাশ্যে দিবালোকে এক গার্মেন্টস এর দোকানে দুর্বুত্তরা প্রবেশ করে পিটিয়ে হত্যা করেছে ওই দোকানের সেলসম্যান অনিক (২৩) কে। সে ভেড়ামারার কোদালিয়াপাড়া গ্রামের আখতার হোসেনের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে ভেড়ামারা শহরের বাবর আলী মার্কেটের আমিন গার্মেন্টেস এ ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, বিকাল ৪টার দিকে অজ্ঞাত দৃর্বৃত্তরা শহরের বাবর আলী মার্কেটের আমিন গার্মেন্টস এ প্রবেশ করে আচমকা পেটাতে থাকে সেলসম্যান অনিককে। এ সময় গুরুত্বর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করা হয়। কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। পুরো এলাকা ঘিরে পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। এ বিষয়ে ভেড়ামারা ডাকবাংলো সুপার মার্কেটের সাধারন সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম মিলন বলেছেন, পাশের আরিফ বস্ত্র বিতানের মালিক আরিফের সাথে সিংগারা খেয়ে পানি ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলসম্যান অনিকের বাকবিতান্ড হয়। এর বিরোধের জের ধরে কিছু বাহিরাগত সন্ত্রাসীরা আচমকা ওই দোকানে প্রবেশ করে সেলসম্যান অনিককে পিটাতে থাকে। পরে তার মৃত্যু হয়। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খবির আহমেদ বলেছেন, ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে। দোকানে এবং দোকানের আশে পাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। খুব দ্রুত এ হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ গৃহবধুর লাশ মিললো বস্তায়

নিজ সংবাদ ॥ নিখোঁজের তিনদিন পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জিকে ক্যানেল থেকে বস্তাবন্দী এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই গৃহবধুর নাম বিলকিস আক্তার (৪০)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের বাঁধবাজার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকো সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিলকিস আক্তার কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকায় ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সে শহরের আমলাপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের স্ত্রী। পুলিশ বলছে, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও পুলিশের কাছে সবকিছু পরিস্কার হয়ে গেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভাল সংবাদ আসবে বলে জানান পুলিশের এক কর্মকর্তা।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ক্যানেলে ভাসমান একটি বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তার মধ্যে থেকে এক মহিলার পচাগলিত লাশ বের করে। মহিলার পরনে কালো বোরকা ও প্রিন্টের সালোয়ার পরিহিত ছিল। ধারনা করা হচ্ছে ৩-৪ দিন আগে হত্যা করে লাশটি জিকে ক্যানালে ফেলে দেয়া হয়। অন্য কোন স্থান থেকে লাশটি ভাসতে ভাসতে এখানে এসেছে। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর জিকে ব্রিজের পাশে জাকির মাষ্টারের বাড়ির সামনে ক্যানালের দক্ষিন পাড় থেকে ওই নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে খবর পেয়ে তার স্বামী রবিউল ইসলাম হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্তসহ পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, খুব ঠাসাঠাসি করে মরদেহটি বস্তাবন্দি করা হয়। কেউ যাতে ওই নারীকে শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য দুর্বৃত্তরা নিহতের মুখ ঝলসে দেয়ার চেষ্টা করে। ওই নারীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে কি না পুলিশ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। নিহতের স্বামী রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ডিউটি শেষ করে বাড়িতে ফিরে আসে বিলকিস। হঠাৎ মোবাইলে একটি ফোন আসার পর বিকেল ৫টার দিকে সে কাউকে কিছু না জানিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

 

প্রকল্পের ভুল এ্যাসেসমেন্ট হলে দায়ী কর্মকর্তা শাস্তি পাবে- প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের সময় ভুল এ্যাসেসমেন্টে হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদিকদের বলেন, ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌরশহর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এর আগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে ভুল এ্যাসেসমেন্ট হয়, এতে অনেক টাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আবার ওই প্রকৌশলী দেখি এই প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। তাহলে তখন কার ভুলের জন্য তাকে কি শাস্তি দেয়া হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী এসময় পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং সচিবকে সংশ্লি¬ষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’টি কার্গো বিমান কেনার বিষয়ে চিন্তা করতে বলেছেন বাংলাদেশ বিমানকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন হিমায়িত মাছ ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে। অন্য কোম্পানির বিমান ভাড়া নিয়ে রফতানি পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের ভাড়া পরিশোধে অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। আমরা যদি দু’টি কার্গো বিমান কিনতে পারি, তাহলে অনেক কম খরচে তারা রফতানি করতে পারবে। তাই বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নিতে হবে। এছাড়া নতুন করে আর কোন সুইচ গেট নির্মাণ না করারও নির্দেশ দেন তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন স্লুইচ গেটে পানি আটকে থাকে। মরিচা পড়ে দ্রুত নষ্টও হয়ে যায়। তাই ভবিষ্যতে আর কোন স্লুইচ গেট নির্মাণ করার দরকার নেই। একইসাথে তিনি বৃষ্টির পানিতে ভাঙ্গন রোধে পাহাড়ি এলাকায় সড়কের উভয় পাশে চিকন বাঁশ গাছ রোপনের নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় বৃহৎ সরকারি ভবনগুলোতে ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেন।

 

একনেকে তথ্য ভান্ডার সুরক্ষাসহ ১২ প্রকল্পের অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) জাতীয় ডাটা সেন্টারে রক্ষিত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার সাইবার আক্রমন থেকে সুরক্ষায় ‘বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি এর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাকী ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন,জাতীয় ডাটা সেন্টারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। প্রতিদিন তথ্যের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো রয়েছে। এগুলোকে সাইবার আক্রমন থেকে সুরক্ষা দেয়া জরুরী কাজ। এজন্য আমরা বিজিডি ই-জিওভি সিআইআরটি এর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি অনুমোদন করেছি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) জুলাই,২০১৯ থেকে জুন, ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন সন্তোষজনক উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ,টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল দশমিক ৫৭ শতাংশ।ওই সময়ে ব্যয় হয়ে ছিল ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন,মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে না গিয়ে প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের কাছে দেয়ার যে বিধান করা হয়েছিল, তার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। এ কারণে গতবছরের জুলাই মাসের তুলনায় এবছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়ন প্রায় তিনগুন বেশি হয়েছে। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে-জিএনএস করস এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প, যার খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সসুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্প, এর জন্য ব্যয় হবে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড় ভুমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিংওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদীপুন:খনন ড্রেজিংয়ে মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মেঘনানদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূউপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্প, এর খরচ হবে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠির বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আজ ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী

ঢাকা অফিস ॥ আজ ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী। দেড় দশক আগে এইদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তখন বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। মূলত আওয়ামীলকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি-জামায়াত তথা চার দলীয় জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসতম গ্রেনেড হামলা চালায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন নিহত হন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে দলের নেতা কর্মীরা আগামী কাল সকাল ৯ টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করবেন। একই দিন বিকেল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও এই হামলায় আরো ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। দেশের বৃহৎ এই রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূণ্য করতে এ হামলা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃংখলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঢাকা’র তৎকালিন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন। মেয়র হা্িনফের মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপাচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্পি­ন্টার শরীরে থাকার কারণে তার অস্ত্রোপাচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে শেখ হাসিনা গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় উল্লেখযোগ্য নিহতরা হলেন, আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।

মারাত্মক আহতরা হলেন শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রায়ত আব্দুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ। অভিযোগ আছে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই হত্যাকান্ডের প্রতিকারের ব্যাপারে তৎকালীন বিএনপি সরকার নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছিল। শুধু তাই নয় এ হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে সরকারের কর্মকর্তারা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত পাঁচটি গ্রেনেড ধ্বংস করে দিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। পরবর্তি সময়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হলে বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুরজ্জামান বাবর ঘটনার সাথে তারেক রহমান জড়িত আছেন বলে দাবি করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাধর বড় পুত্র তারেক রহমান এ হামলার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন।’ এই হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তি অথবা গোষ্ঠীর সন্ধানদাতার জন্য সেসময় বাবর এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। হামলার পর বাবরের তত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং এতে জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, একজন ছাত্র, একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ পরবর্তী তদন্তে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুকুল পরিস্থিতিতে সরকার এ হামলার পুনারায় তদন্তের নির্দেশ দিলে এবং সাড়ে তিন বছর পর বিলম্বিত পুলিশ চার্জশিট নথিভুক্ত করা হয়। অথচ বিএনপি’র কতিপয় সংসদ সদস্য এই জঘন্য হামলাকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল। পুনরায় তদন্তে পুলিশ এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে চিহ্নিত করে। এর আগে বেশ কয়েকটি বিদেশী মিশন যেমন গ্রিটিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, ইউএস ফেডারেল ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং ইন্টারপোল বাংলাদেশী তদন্তকারীদের যোগ দিলেও এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি সরকার তাদের সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছিল। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানীর অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানীর জন্য পেপারবুক  তৈরীর কাজ চলছে। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে সকল নেতা, কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের ২১ আগস্ট ‘গ্রেনেড হামলা দিবস’ যথযথো মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানান।

কুমারখালীতে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় ইউএনও

রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল ও লাইসেন্স বিহীন চালকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন চালকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষনা দিয়েছেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ নূর-এ আলম, থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মেরিনা পারভীন মিনা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মুহাম্মদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনছুর মজনু, মুক্তিযোদ্ধা চাঁদ আলী, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশের আলী বিশ্বাস, সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ প্রমূখ। সভায় ইউএনও আরো বলেছেন, অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু-শিকোরদের কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি (আঞ্চলিক মহাসড়ক) সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য তিনি মোটর সাইকেল মালিক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যাদের মোটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন নেই এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই তারা রাস্তায় বের হবেন না। খুব শিঘ্রই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেল ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে। আর এই অভিযানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হবে বলে ঘোষনা দেন ইউএনও রাজীবুল ইসলাম খান। এ ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কের আঞ্চলিক ও দুরপাল¬ার মালবাহি এবং যাত্রীবাহি পরিবহনের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। আইন-শৃংখলা বিষয়ক সভা শেষে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে সহযোগীতা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান ইউএনও।