আসন বণ্টন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদের চিঠি

ঢাকা অফিস ॥ দ্রুত মহাজোটের আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠির সত্যতা স্বীকার করে সুনীল শুভ রায় বলেন, চিঠিতে আসন বণ্টন নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর কাছে আলোচনা চেয়েছেন। আমি গণভবনে সেই চিঠি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করেছি। দীর্ঘদিন থেকেই মহাজোটের শরিক দলগুলো জোটের আসন বণ্টনের দাবি জানিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলে আসছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে মহাজোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে। এরই মধ্যে শনিবার আসন বণ্টনের আলোচনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি।

পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা – ইসি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার শাহাদত হোসেন চৌধুরী। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোট নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শাহাদত বলেন, “এই নির্বাচন ও সকল নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, আপনারা প্রত্যেকে দল-মত নির্বিশেষে আপনারা আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো রকমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” নিরপেক্ষতার বিষয়ে কাউকে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না, বলেন তিনি। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “যেহেতু এবারের নির্বাচন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, তাই নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য, প্রত্যেক প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পায়, সেটি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে।” দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ অধিকাংশ দল বর্জন করলেও এবার তারা সবাই অংশ নিচ্ছে। ভোটে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। শাহাদত হোসেন বলেন, “এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশবাসীর সাথে বিশ্বের প্রতিটা দেশ তাকিয়ে আছে সামনের নির্বাচনের দিকে।” নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে প্রশিক্ষকদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সকলের গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘দৃঢ় প্রতিজ্ঞ’ উলে¬খ করে শাহাদত হোসেন বলেন, “এদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রত্যাশিত একটি সরকার গঠিত হতে পারে, যারা এ দেশটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।” প্রতিটি কর্মকান্ড আইনানুগভাবে পরিচালনা করে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন এই নির্বাচন কমিশনার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

ডিসেম্বর এলেই বিএনপি-জামায়াতের ভয় ধরে – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির নির্বাচন পেছানোর দাবির প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পরাজয়ের ভয় করছে। গতকাল শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জোটের এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। নাসিম বলেন, “ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। সেই বিজয় থেকেই আমরা বিশ্বাস করি, বিজয়ের মাস আসলে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে অপশক্তির বিরুদ্ধে। সব বিজয় হয় এই ডিসেম্বর মাসে। ডিসেম্বর মাস আসলেই কী কারণে যেন বিএনপি-জামায়াত জোট ভয় পায়। তাদের একাত্তরের সেই পরাজয়ের কথা মনে হয়। এই কারণেই ডিসেম্বর মাস আসলে তারা আতঙ্কিত হয়।” ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলে ঘোষণা হলে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তা পেছানোর দাবি তোলে। ইসি ভোটের দিন এক সপ্তাহ পেছালেও বিএনপি তা আরও পেছানোর দাবি তুলেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নাসিম বলেন, “নির্বাচন কমিশন তাদের অনুরোধ থেকে একবার তারিখ পরিবর্তন করল। আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দল কেউ কোনো আপত্তি করেনি। “এরপরও দেখলাম তারা আবার আবদার করল। ডিসেম্বর মাসে তারা নির্বাচন করতে চায় না। এজন্য আমাদের ধারণা, ডিসেম্বর মাস আসলে তারা ভয় পায়, তারা আতঙ্কিত হয় হেরে যাওয়ার ভয়ে।” নয়া পল্টনে পুলিশের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, “কেন পুলিশকে আক্রমণ করা হল? এবারও দেখলাম বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে নারী-পুরুষ সবাই দাঁড়িয়ে আছে। তারা মনে হয় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। এই যে তাদের যে আচরণ, এখনও তাদের চরিত্র পরিবর্তন হয়নি।” তিনি বলেন, “কামাল হোসেন সাহেবের এত অধঃপতন হল! এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। জ্বালাও-পোড়াও হল, পুলিশের উপর হামলা হল, তিনি একটাও কথা বললেন না। কামাল হোসেন সাহেব এত বেশি বিক্রি হয়ে গেলেন অপশক্তির কাছে! বিস্মিত হলাম। “যারা এখনও ঠিক করতে পারেনি দলনেতা কে হবে, তাদের কাছে জনগণ কী আশা করতে পারে?” নির্বাচনে প্রচারের  কাজে ১৪ দলের পক্ষ থেকে একটি একটি টিম করে দেওয়া হবে বলে জানান নাসিম। “প্রচার টিম গ্রামেগঞ্জে সভা সমাবেশ করবে। এই টিমে নেতৃত্ব দিব আমি নিজেই। বিজয় দিবস থেকে বিজয় মঞ্চ প্রতিটি জেলা উপজেলায় বিজয় মঞ্চ তৈরি করবে। এই মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বিজয়ের ইতিহাসসহ নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হবে।” ১৪ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার,  জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের

সব দলের সমান সুযোগসহ নিশ্চিতের বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের

ঢাকা অফিস ॥ তফসিল ঘোষণার পর সব দলের সমান সুযোগসহ কিছু নিশ্চিতের বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি গতকাল শনিবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দল সমান সুযোগ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কাদের বলেন, “লেভেল পে¬ইং এর বিষয়টা এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের উপর। এখানে সরকারের কিছু করার নেই।  এটা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। ইলেকশনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে এটা নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে গেছে।” গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ না পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে হুমকি দিয়েছে, তার জবাবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটে বিএনপি আসলেই অংশ নিতে চায় কি না? “পল্টনে যে ঘটনাটা তারা ঘটিয়েছে, তারা সুষ্ঠু পরিবেশ তারা চায়? তাদের আচরণে তো তার কোনো প্রকাশ নেই। যেভাবে তারা পুলিশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, এটা তো প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে। তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে যে দানবীয় কান্ড ঘটাল! এখানেই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সংশয় রয়ে গেছে।” কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে কয়েকটি রাষ্ট্র নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বলে খবর এসেছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আলোচনা করলে একটা-দুইটা দেশ প্রশ্ন তুলতেই পারে। আর বিএনপি তো প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে লবিং করাচ্ছে, এটা লবিংয়ের মাধ্যমেও হতে পারে।” সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিরুত্তর থাকার বিষয়ে কাদের বলেন, “এ প্রশ্নটা আমি রেইজ করেছি, এখন পর্যন্ত জবাব পাইনি।” নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “৫০ বছর আগে থেকে গ্রামে গ্রামে এই ঘটনা ঘটে আসছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু দিন আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তখন তো মিডিয়া সেটাকে রাজনীতিতে জড়ায়নি। এখন নির্বাচন, তাই কিছু কিছু মিডিয়া এমন লিখছে।” কাদের জানান, মহাজোটে থেকে নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টি লাঙ্গল এবং যুক্তফ্রন্ট কুলা প্রতীকে লড়বে।

দৌলতপুরে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না!

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। কে পাচ্ছেন আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন তা নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদসহ মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আ. ক. ম সরোয়ার জাহান বাদশা’র কর্মী সমর্থকরাও রয়েছেন প্রতীক্ষার প্রহরে। গুজব ছড়িয়ে এদের কর্মী-সমর্থকরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে আনন্দ মিছিল করে আবার একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে তাদের মনোনিত নেতাদের মনোনয়ন পাইয়ে দিলেও বাস্তবে মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা এখনও নিশ্চিত নয় কেউই। চায়ের ষ্টলে হাটে বাজারে যে যার সমর্থক তারা তাদের নেতাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুললেও ওইসব নেতারা মনোনয়ন দৌড়ে কতটা ঝড় তুলতে পেরেছেন বা পারবেন তাও বোধগম্য হচ্ছেন না। তবে দৌলতপুর আসনে আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের ভাই আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রশিদুল আলম আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করে দৌলতপুরের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব প্রার্থীদের সঙ্কার মধ্যে রাখলেও তিনি ভোট করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে দৌলতপুরের একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগন এমন তথ্য জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে দলীয় মনোনয়ন বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক ছাত্রনেতা আ. ক. ম সরোয়ার জাহান বাদশা’র বাইরে যাচ্ছেনা এটা প্রায় নিশ্চিত। তাই এই তিন নেতার মধ্যেই নির্ধারিত হবে দৌলতপুরের মনোনয়ন ভাগ্য। আর সেময় পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে সব নেতারই কর্মী সমর্থক ও নৌকার পক্ষের ভোটারদের।

প্রাথমিক সমাপনী শুরু আজ

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সাত হাজার ৪১০টি কেন্দ্রে রোববার থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এতে অংশ নেবে ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার রোববার সকাল ১০টায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবার প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এ বছর ছাত্রদের থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৮৬ জন বেশি ছাত্রী সমাপনীতে বসবে। এ বছর ৩ হাজার ২৯৪ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী পঞ্চমের সমাপনীতে অংশ নিচ্ছে, এরা পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে। বাংলাদেশের বাইরে বিদেশের ১২টি কেন্দ্রেও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা হবে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় কোনো এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে না। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়ীতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেওয়া হচ্ছে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গত বছর থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী নিচ্ছে সরকার। অন্যবারের মতো এবারও দুর্গম এলাকার ২০৪টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় আগেই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে জানিয়ে গণশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “পরীক্ষার সঙ্গে সংশি¬ষ্টদের দায়িত্ব পালনে ন্যুনতম অবহেলা বা অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।” প্রাথমিক সমাপনীর সূচি- ১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা। ইবতেদায়ী সমাপনীর সূচি- ১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২২ নভেম্বর আরবি, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর কুরআন ও তাজবিদ এবং আকাইদ ও ফিকাহ।

কুষ্টিয়ায় বার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে বক্তারা

বিচারক সংকট ও নানা সমস্যা থাকার পরও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বিচার বিভাগের আয়োজনে বার্ষিক বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আসলাম হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান, স্পেশাল জজ কামরুল হাসান, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন রওশনারা বেগম, অতিরিক্ত জেলা জজ তহিদুল ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ, যুগ্ম জেলা জজ-১ আমীনুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা জজ-২ রাখিবুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা জজ-৩ মো. কামরুজ্জামান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এম,এম মোর্শেদ, সিনিয়র সহকারি জজ দেলোয়ার হোসাইন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এনামূল হক, সিনিয়র সহকারি জজ (দৌলতপুর) মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারি জজ সেলিনা খাতুন, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন হাসান, হেলাল উদ্দিন, রোবাইয়া বিনতে খালেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, জিপি আ,স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী, আইনজীবী আমিরুল ইসলাম, মিয়া মোহা: রেজাউল হক, মোসলেম উদ্দিন, মুহা: হারুনুর রশিদ, সুধীর কুমার শর্মা, ছানোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা জজ শেখ আমিনুল ইসলাম। দেওয়ানি মামলার নানা সমস্যা উপস্থাপন করেন মো. আসাদুল্লাহ। এ সময় আইনজীবীরা মামলা সংক্রান্ত নানা সমস্যা তুলে ধরে তাদের বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিচারক সংকটসহ নানা কথাও উঠে আসে আলোচনা সভায়। বক্তারা বলেন,‘ তবে আগের চেয়ে মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হচ্ছে। তবে অনেক সময় তদন্ত সঠিক সময়ে হয় না, এসব কারনে মামলা নিস্পত্তি হতে সময় লেগে যায়।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, এজলাস সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। বিচারকরা আন্তরিকভাবে কাজ করছে, সহায়ক হিসেবে আমরা ও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। তবে যেসব সমস্যা আছে, তাও ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী বলেন,‘ সাধারন মানুষ যাতে সঠিক আইনী সহায়তা পাই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সিভিল মামলার ক্ষেত্রে পুলিশসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিচারকরা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আগামীতে মামলা জট থাকবে না। বিচারক সংকট যাতে না থাকে সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশে ড. কামাল

কোনো অবস্থাতেই এবার নির্বাচন বর্জন করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একবার নির্বাচন বর্জন করে ভুগতে হয়েছে। তাই কোনো অবস্থাতেই এবার নির্বাচন বর্জন করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ড. কামাল বলেন, ‘একবার নির্বাচন বয়কট করে ভুগতে হয়েছে। ওরা যত ১০ নম্বরিই করুক, হাজারে হাজারে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে বোঝাতে হবে।’ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকাই অসাংবিধানিক। দিনে-রাতে নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আর আমাদের সংবিধান দেখাচ্ছে।’ সরকারের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ড. কামাল। এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন পরে দেশে একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন হতে চলায় প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে কারাগারে রাখা সমীচীন হবে না, যেখানে অপর প্রধান দলের নেত্রী সরকার প্রধান থাকছেন। উনাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা দরকার, যাতে উনি তার নেতাদের নিয়ে দেশের মানুষের কাছে গিয়ে নির্বাচনে ভোট চাইতে পারেন। কামাল হোসেন বলেন, আমরা দ্রুত নির্বাচন চাই। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ নির্বাচন চাই। আর আমি সবাইকে হাতজোড় করে বলব, বয়কট আমরা করব না। একবার করে আমাদের যে খেসারত দিতে হয়েছে। এটা যাতে কোনো দিন আর না দিতে হয়। সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান তিনি বলেন, “যত রকমের দশনম্বরি তারা করে, আমরা ভোট দেব। আপনারা তৈরি হন। আমরা হাজারে হাজারে গিয়ে ভোট দেব। আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। ভোট চাইবেন। এর জন্য দুই কোটি তরুণ ভোটারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।” খালেদা জিয়া ছাড়াও হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তথ্য পাচ্ছেন তিনি। এভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না, সাংবিধানিক শাসনও থাকবে না। দেশ একটা অরাজকতার মধ্যে পড়বে। এজন্য তার (খালেদা) মুক্তি দেওয়া দরকার। ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সকলের মতামত উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কেন ইভিএম ব্যবহার করা হবে? এই সরকারের বড় ঘাটতি হল- এরা পাচঁজন যা মনে করে, তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। জাতীয় নীতির তোয়াক্কা না করে তারা এসব করছে।” সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে এই আইনজীবী বলেন, “সাতজন বিচারপতি মিলে একটা রায় দিলেন কিন্তু কথা শুনতে হলো সিনহা সাহেবকে। এতো লজ্জা আমি জীবনে পাইনি, যেদিন দেখলাম কোনো একজন মন্ত্রী যখন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বলেছিলেন, ‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছিল?’ একজন প্রধান বিচারপতিকে কেউ এভাবে বলতে পারে না। সে যে-ই হোক। যে এসব কথা বলেছে তার আদালত অবমাননা এখনো হতে পারে বলে আমি মনে করি।” এই ঔদ্ধত্য দেখানোর ফল ভোগ করতেই হবে বলে মনে করেন কামাল হোসেন: “আজকে হোক, কালকে হোক- কেউ পার পাবে না। ক্ষমতায় থাকলে যে কেউ, যা খুশি করে পার পাবে না- এটাই বাংলাদেশ।” ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সমালোচনা করে কামাল হোসেন বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্যি গত পাঁচ বছর দেশ যেভাবে শাসিত হয়েছে এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে আমি জানি না। ২০১৪ তে একটা নির্বাচন হয়েছিল। পরে বিষয়টা যখন কোর্টে আসলো অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আমাকে ডেকেছিল। কোর্ট জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন। আমি বললাম যে, মূল্যায়ন করলে তো দুই মিনিটেই বলা যায় যে এটা কোনো নির্বাচনই ছিল না। আরেকটা নির্বাচন করতে হবে। সরকার তো বলছে, দ্রুত আরেকটা নির্বাচন করবে। সরকারের পক্ষের লোকই সেখানে বলেছে, তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটা সরকার করে নেওয়া হয়েছে, সকলের সঙ্গে আলোচনা করছি যেন দ্রুত একটা নির্বাচন করা যায়।” ওই কথায় তিনিও আশ্বস্ত হয়েছিলেন জানিয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, “তখন আমি কোর্টকে বললাম, আমার কিছু বলতে হবে না, তারা তো নিজেরাই বলছে যে, একটি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য করেছে, তারাও এটাকে ডিফাইন করতে পারছে না, বলছে দ্রুত আরেকটা নির্বাচন দেবে।” এই দ্রুত মানে কি পাঁচ বছর?-প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “সরকার এত হালকা হয়ে গেছে যে, তারা এ রকম কথা বলে যে, তার অর্থও তারা বোঝে না। দ্রুত মানে কি পাঁচ বছর? আমি জানতে চাই। যারা আজ  সরকারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা দেখেন ২০১৪ তে দাঁড়িয়ে আপনারা কী বলেছিলেন। যদি কথাগুলো মনে না থাকে তাহলে কোর্টের অর্ডার বের করে দেখেন। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এই দেশে সরকার যদি কোনো কথা বলে তবে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হয়। ষোলো কোটি মানুষকে যা-তা বলে পাঁচ বছর এ ধরনের শাসন বজায় রেখেছে।” ড. কামাল বলেন, “সংবিধানের মৌলিক কথা হচ্ছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে তাদের ক্ষমতা না প্রয়োগ করাতে পারে তাহলে স্বাধীনতার উপরে আঘাত দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন থাকে না। এই দেশটাকে পরাধীন দেশ বানাতে দিতে পারি না। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীনতার অর্থ হলো জনগণ এই ক্ষমতার মালিক। কিন্তু এই পাঁচ বছরে মূলত এই দেশকে যেভাবে শাসন করা হয়েছে,তা জনগণের সাথে ভাওতাবাজি ছাড়া কিছু না।” সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনা করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, “মন্ত্রী যে বলা হচ্ছে, এরা কারা? উপদেষ্টা, এরা কারা? তারপর যাদেরকে মেম্বার বলা হচ্ছে তারা কারা? আলহামদুলিল¬াহ, অবৈধ ১৫৪ জন মনোনীত। তারা বলে এমপি। এই এমপি মানে মনোনীত প্রার্থী। এমপি যে মেম্বার অব পার্লামেন্ট- এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না। আমি বলি কিছু না, একটু লজ্জাবোধ ফিরে আসুক আমাদের যারা এগুলো করেন লজ্জাহীনভাবে। আমাদের মহামান্য যারা আছেন, এমপি, মন্ত্রীদের একটু লজ্জাবোধ ফিরে আসুক। মানুষের সন্তানের লজ্জাবোধ থাকে। আপনারা লজ্জাহীনভাবে এগুলো করে যাবেন, এটা হয় না। পাঁচ বছর চালিয়ে গেছেন। বলছেন, আমি এমপি। আপনি কাদের এমপি? কে আপনাকে নির্বাচিত করেছে? এটার জন্য নতুন কোনো শব্দ বের করতে হবে। বলতে হবে জিপি, ঘোষিত প্রতিনিধি। এখন থেকে আমাদের এমপি না লিখে জিপি লেখা শুরু করতে হবে। ঘোষণার কত জোর? ঘোষণা করে দিল এমপি হয়ে গেল? ঘোষণা করে দিলাম মন্ত্রী হয়ে গেল? এই ঘোষণার শক্তিটা কোথা থেকে আসে, সংবিধনের কোথায় লেখা আছে?” আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সময় কম, জাতিকে বাঁচাতে হলে এখনই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। নির্বাচনকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে জয়ী হতে হবে।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনে আছি, থাকব। মানুষ ভোট দিতে চায়। কিন্তু মানুষের মনে ভোটকেন্দ্রে যেতে চাওয়া ও ভোট দিতে পারা নিয়ে শঙ্কা। সুষ্ঠু ভোট হলে ব্যাপক ব্যবধানে আওয়ামী লীগ হারবে। এবার লড়াই করেই ভোট দিতে হবে।’ আইনজীবী মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নুল আবেদিন। সমাবেশে দেশের ৬৪টি জেলার বার কাউন্সিলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন তাঁরা।

 

পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা হয় লন্ডনে

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে ১৪ নভেম্বর সহিংস সন্ত্রাসের তান্ডব চালিয়ে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা করে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দেশে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করাই ছিল সহিংস বিএনপি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য বা মোটিভ। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ধরনের তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারী পুলিশের দাবি। এই সহিংস সন্ত্রাসের ঘটনার পরিকল্পনা হয় লন্ডনে এবং লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থেকে নির্দেশদান ও মদদদান করার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান। তারেক রহমানের নির্দেশে ও মদদে বিএনপির  যেসব নেতা সহিংস সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা হচ্ছেন বিএনপির  কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী, আফরোজা আব্বাস, নবীউল্লাহ নবী, মেজর (অব) আক্তারুজ্জামান ও কফিল উদ্দিন এই ৬ জনসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এই ৬ নেতা পলাতক। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তায় দাঙ্গা করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের সরকারী কাজে বাধা দিয়ে আক্রমণ করে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল, ককটেল, বোমা নিক্ষেপ করে মারাত্মক জখম করে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ক্ষতি সাধন করার অপরাধ করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশের  গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে এ খবর জানা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা তিনটি মামলাই তদন্তের জন্য তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি)। পল্টন থানায় এই ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৭২ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাঁচ দিনের রিমান্ডে এনে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, নিপুন রায় চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা মনোজ সরকার,  নেত্রকোনা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খালিদ সাইফুল্লাহ, ছাত্রদল নেতা ফাহিম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান, ছাত্রদল নেতা উৎপল সরকার, বিএনপি নেতা সুফিয়ান, জাকির হোসেন, হানিফ উদ্দিন ওরফে রানা, ঢাবির মহসিন হল শাখা ছাত্রদল  নেতা মাহবুব মিয়া, আনিসুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আতিকুর রহমান তালুকদার, মাইনুল হাসান মোহন, আনোয়ারুল হক ও  মোহাম্মদ সুরুজ মন্ডল। এ ছাড়া ২৭ জনকে জেল গেটে ৩ কার্যদিবস জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে  গ্রেফতার করা হয় সাতজনকে। বিএনপি অফিসের এলাকায় যত সিসি ক্যামেরা আছে তার সবগুলোরই ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও টিভি চ্যানেল ও সংবাদ মাধ্যমে যেসব ভিডিও ফুটেজ ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশ তা সংগ্রহ করে গ্রেফতারকৃতদের ও পলাতকদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, প্রমাণ, আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত র্নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ডপার্টি, ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা আছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রথম বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুল দিক থেকে ব্যান্ডপার্টি ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপি কার্যালয়ে আসে। অতঃপর নবীউল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপর দুটি মিছিল  শোডাউন করে ব্যানার, ফেস্টুন, ব্যান্ডপার্টি নিয়ে পল্টনের বিএনপির কার্যালয়ে আসতে থাকে। সর্বশেষ মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আট থেকে দশ হাজার জনের একটি মিছিল ব্যানার, ফেস্টুন, ব্যান্ডপার্টি নিয়ে শোডাউন করে নয়াপল্টনের বিএনপি অফিসে আসে। তারা নয়াপল্টনের ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল, শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করলে রাস্তার এক লেন ব্যবহার করে যানবাহন চলাচল স্বাভবিক ও জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য অনুরোধ করে পুলিশ। এতে পুলিশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির অফিসে অবস্থারত রুহুল কবীর রিজভীসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পুলিশের পক্ষ থেকে অবহিত করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, পুলিশের অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও পূর্বপরিকল্পিতভাবে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে সরকারী ও মানুষজনের সম্পদের ক্ষতি সাধন করা হয়। তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা ছাড়াও পুলিশে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। কর্তব্যরত পুলিশ দলকে অবরুদ্ধ করে  ফেলার পর আত্মরক্ষার্থে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে আরও পুলিশ দল  মোতায়েনের বার্তা পাঠানোর সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে অবৈধ সমাবেশ ছত্র ভঙ্গ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিপুন রায়  চৌধুরীসহ যে ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় বিএনপির সিনিয়র নেতাসহ আসামি করা হয়েছে ৪৮৮ জনকে। গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাচনে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই মূলত লন্ডনে বসে পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন। তারেক রহমানের নির্দেশে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, রুহুর কবির রিজভী, আফরোজা আব্বাস, নবীউল্লাহ নবী, মেজর (অব) আক্তারুজ্জামান, কফিল উদ্দিন এই ৬ জনসহ সিনিয়র  নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাংচুর করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হয়। পুলিশের ওপর হামলার সময়ে পুলিশ হত্যা করে দেশে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা গেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন। লন্ডনে বসে তারেক রহমান নির্বাচন বানচালের জন্য সহিংস সন্ত্রাসের মাধ্যমে পুলিশ হত্যার যে ছক কষেছিল তা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বিচক্ষণতায় ভেস্তে গেছে বলে পুলিশের দাবি। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি অফিসের সামনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসা হাজার হাজার বিএনপির  নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন, ভাংচুরের ঘটনার তদন্তে দেখা যাচ্ছে, আগে থেকেই তারা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল,  পেট্রোল, বোমা মজুদ করে রেখেছিল, যা ঘটনার সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র। এতেই প্রমাণিত ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। মূূলত ইস্যু তৈরির করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে হামলাটি করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিঘিœত করে দেশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই এমন মারাত্মক হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় প্রচুর সিসি ক্যামেরা, তাদের নিজস্ব ক্যামেরা ও মিডিয়ার ক্যামেরার ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া নানা ছবির পর্যালোচনা চলছে। রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ১৪ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওইদিন সবমিলিয়ে অর্ধশত মানুষ আহত হন। যারা পলাতক আছেন তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রপের সাথে জেলা পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

নিজ সংবাদ ॥ নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যাতে করে কোন প্রকার সন্ত্রাসী ও আগুন সান্ত্রাসের মত অপিতিকর ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের সাথে জেলা পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আয়োজনে জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিমিয় সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত (পিপিএম)। পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যাতে করে কোন প্রকার সন্ত্রাসী ও আগুন সান্ত্রাসের মত অপিতিকর ঘটনা না ঘটাতে সেই দিকে সজাগ থাকা আহবান জানান। পুলিশ সুপারের কাছে মজমপুরগেটসহ মহাসড়কে নসিমন, করিমন এবং অটোরিক্সার অদক্ষ চালকদের কারনে গাড়ী চলাচলের অসুবিধার বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের নেতৃবৃন্দ। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রফিক পুলিশকে দ্রুত তা সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত । সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের সাধারণ সম্পাদক এস এম রেজাউল ইসলাম বাবলু, কার্যকরী সভাপতি নূরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আকিল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক নান্টু, সহকারী সম্পাদক আমজাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক এসএম রেজাউল করিম, নির্বাহী সদস্য আইয়ুব আলী, শেখ মাহমুদ আল আবদী ঝন্টু, কামরুজ্জামান মিন্টুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের সদস্য, জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুব আলম, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে ছাত্রমৈত্রীর বর্ধিত সভায় কমরেড বকুল

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভিত্তি করেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিকাল, মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণ এ জাতির জন্য এক মহান গৌরব। ছাত্র সমাজের অর্জিত এ গৌরব যেকোনো মূল্য ধরে রাখতে হবে। ৭১-এর পরবর্তি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বিজয়ী জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। হত্যা-খুন কু-রাজনীতির মধ্য দিয়ে মৌলবাদি, জঙ্গীবাদি শক্তিকে এদেশে তারা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঐসব অপ-শক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। গতকাল শুক্রবার গাংনী থানা ছাত্রমৈত্রী আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদানকালে কথাগুলো বলেন- বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল। কমরেড নুর আহমেদ বকুল তার বক্তব্যেই আরো বলেন- ১৪ দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। সেই সাথে আধুনিকতার ছোঁয়াও লেগেছে। এখনও শিক্ষাক্ষেত্রে যতোটুকু ঘাটতি রয়েছে। তা পূরণ করতে পূনরায় জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই ভিত্তি করেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। গাংনীতে অনুষ্ঠিত এ বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রমৈত্রী নেতা মিঠন হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ। এ সময় বক্তব্য রাখেন ছাত্রমৈত্রী নেতা জাহাঙ্গীর আলম। বর্ধিত সভায় গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রমৈত্রীর নেতা-কর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।

চুয়াডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ডায়াবেটিক হাসপাতালের ২০১৯ সালের ৮৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১০টায় ডায়াবেটিক সমিতি কার্যালয় চত্বরে সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ডায়াবেটিক সমিতির ২০১৯-২০২১ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের চূড়ান্ত নাম ঘোষনা করেন প্রধান  নির্বাচন  কমিশনার অ্যাড. বেলাল হোসেন। সভায় ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ ও অনুমোদন, ২০১৭ সালের ডায়াবেটিক হাসপাতালের অডিট রিপোর্ট পাঠ ও অনুমোদন, ২০১৯ সালের ডায়াবেটিক হাসপাতালের ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ১৫৬ টাকার আয় ও ব্যয়ের সম্ভাব্য বাজেট পাঠ ও অনুমোদন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা  সঞ্চালনায় ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন। সভায়  ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মহ: শামসুজ্জোহা স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভায় সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য শহিদুল ইসলাম সাহান ও ডা. মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা ও অ্যাড. রফিকুল ইসলামসহ আজীবন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন আজীবন সদস্য আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন আজীবন সদস্য হাজী আলাউদ্দিন হেলা। অনুষ্ঠানের শেষে বিগত দিনের আজীবন সদস্যদের মৃত্যুতে ১মিনিটি নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন পেশ ইমাম হাফেজ আব্দুল মজিদ।  অনুষ্ঠানের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, চুয়াডাঙ্গাবাসীকে বাঁচাতে হলে এই প্রতিষ্ঠানকে মাথায় তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে আজীবন সদস্যদেরকে সম্পৃক্ত হতে হবে। কত টাকা বিভিন্নভাবে খরচ হয় । ওই টাকা এই প্রতিষ্ঠানে দিলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হবে। ডায়াবেটিক হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হতে পারেনি। কিন্ত মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। যদিও বারডেমের মতো নয়, জেলা পর্যায়ের মানুষ ডায়াবেটিক চিকিৎসা ভালো ভাবে হয় সেদিকে চেষ্ঠা রয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরবর্তীতে গণপূর্ত বিভাগের একটি জায়গায় হাসপাতাল স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।  হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা শতকরা ১০ ভাগ বৃদ্ধি, হাসপাতালের স্টাফদের ভোটাধিকার থাকবেনা ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ৫টাকা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হবে। যা সাধারণ সভা অনুমোদনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলো। এরপর ২০১৯-২০২১ সালের ডায়াবেটিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত নাম ঘোষনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. বেলাল হোসেন। এসময় নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. কাইজার হোসেন জোয়ার্দ্দার শিল্পী ও অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচিতরা হলেন, সভাপতি পদে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সহ-সভাপতি পদে ফজলুর রহমান ও সৈয়দ আসাদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মহ: শামসুজ্জোহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শহিদুল ইসলাম সাহান ও কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাড. আকসিজুল ইসলাম রতন। ৬ জন কার্যকরি সদস্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহিদুল হক  মোল্লা, আজাদ মালিতা, অ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম , কোহিনুর বেগম ও মফিজুর রহমান মনা।

নির্বাচন পেছানোর দাবি ও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আগুন সন্ত্রাস একই সূত্রে গাঁথা – হাছান

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন পেছানোর দাবি, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আগুন সন্ত্রাস ও হামলা একই সূত্রে গাঁথা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচন ভন্ডুল করার লক্ষে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচন পিছানোর দাবি করে। এরপর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিনা উস্কানিতে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। শুধু তাই নয়, ঘেরাও করে নির্লজ্জ হামলা পরিচালনা করে ৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পথচারীদের উপর হামলা করা হয়। অর্থাৎ তাদের (বিএনপির) নির্বাচন পেছানোর দাবি, বিএনপি অফিসের সামনে আগুন সন্ত্রাস ও হামলা একই সূত্রে ঘাঁথা। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘বিএনপি’র আগুন সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাঁশ আর লাঠি নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়েছিল তারা। এর মানে হচ্ছে সংঘাত সৃষ্টির পূর্ব প্রস্ততি নিয়েই বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের কার্যালয়ের সামনে হাজির হয়েছিলো। মির্জা ফখরুল ও মাহমুদুর রহমান মান্নার কঠোর সমালোচনা করে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুলের ক্রমাগত মিথ্যাচারের প্রেক্ষিতে মিথ্যা ফখরুল নামটি তার যথার্থ হয়েছে। আর মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নৌকা থেকে বের করে দেওয়ার পর উনি এখন খালেদা জিয়ার জন্য নাকি জীবন দিবেন। এখন তিনি যে ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে উনার আর মির্জা ফখরুলের মধ্যে মিথ্যা বলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে মনে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শুধু যারা হামলার সঙ্গে যুক্ত তাদের নয়, যারা হামলার মদদদাতা তাদেরকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আর এই হামলা নিয়ে মির্জা ফখরুল, মাহমুদুর রহমান মান্না, রিজভীসহ যারা মিথ্যাচার করছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হোক। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন টয়েল প্রমূখ।

 

নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

সেই হেলমেটধারী ছাত্রদলের শাওন

ঢাকা অফিস ॥ নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে হেলমেট পরে লাফানো যুবকেরও পরিচয় মিলেছে। তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক জাহিদুজজ্জামান শাওন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষের দিন শাওনের হেলমেট পরা ছবি যেমন আছে, তেমনি হেলমেট পরার আগে এবং সেটি খুলে ফেলার পরের ছবিও আছে। আর এতে তার চেহারাও পুরোপুরি স্পষ্ট। গত বুধবার বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ছবি আসে। আর একটি গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় যে যুবকের ছবি আসে, তিনি পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজালাল খন্দকার (কবির)। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরদিনও বিএনপি দাবি করেছিল, আগুন দেয়া যুবক এবং হেলমেটধারীরা তাদের দলের কোনো পর্যায়ের সদস্য নন। তারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য। কিন্তু সেদিনের ঘটনার ভিডিও চিত্র এবং স্থিরচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের সবাই বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী। সংঘর্ষের সময় সাদা হেলমেট, কালো শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা অবস্থায় ছিলেন শাওন। ভাঙচুর শেষে শার্টের বোতাম খুলে তিনি পোজ দিচ্ছিলেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে এলএলবিতে পড়াশোনা করছেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী। বর্তমানে বসবাস করেন ধানমন্ডির শংকরে।

উপরোক্ত দুই জন ছাড়াও সেদিন ছিলেন মো. মহসিন ও খালেদ সাইফুল¬াহ নামে দুইজন, যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আরও ছিলেন শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া। তিনি সেদিন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে মিছিল করে আসেন এবং সেই ছবিও পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ৩০ জনকে। যদিও গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ৬৮ জন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে

ঢাকা অফিস ॥ টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গতকাল শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত নয়, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরামর্শক্রমে পরে তারিখ ঘোষণা করা হবে। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এই বিবৃতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সঠিক সিদ্ধান্ত হলো- বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত হয়নি, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে পরবর্তী সময় বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য দিলি¬র মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই ভারতের দেওবন্দে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিনিধিদল ভারতের দেওবন্দ থেকে এসে উভয়পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামায়াতের বিশ্ব আমির দিলি¬র মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরোধিতা করছেন পাকিস্তানের তাবলিগি নেতারা। তাই তাবলিগের মূল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিজামুদ্দীন মারকাজের সমান ক্ষমতা দাবি করে আলমি শুরা গঠন করে রাইভেন্ড মার্কাজ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অংশদারিত্বের বিবাদে দিলি¬-লাহোর জড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়েই এর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের প্রধানকেন্দ্র কাকরাইল মসজিদেও ছড়িয়ে পড়ে এ বিভক্তি। ১১ জন শুরা সদস্যের মাঝে ছয়জন নিজামুদ্দীনের পক্ষে থাকলেও বাকি পাঁচজন আলমি শুরার পক্ষে অবস্থান নেন। এ অংশের বিরোধিতায় বিগত বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ ও নিজামুদ্দীনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ এসেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি। পরে কাকরাইল মসজিদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর তিন চিল¬ার সাথীদের জোড় এবং ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। এর বিরোধিতা করে ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ জোড় এবং জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করে অপর পক্ষ। তাবলিগ জামাতের ইতিহাসে এ প্রথম ইজতেমা ও জোড়ের তারিখ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এ দ্বন্দ্ব নিরসনেই বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগ জামায়াতের দুই পক্ষকে নিয়ে বসা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এছাড়া তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের মধ্যে শুরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ ও  সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আলেমদের মধ্যে শোলাকিয়া ঈদগাহর খতিব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ও গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ধর্মসচিব, সেতু বিভাগের সচিব, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল¬াহ।

বিএনপি নেত্রী নিপুণসহ সাতজন রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ নয়া পল্টনে সংঘর্ষের মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার পুলিশের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অ্যাডভোকেট নিপুণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় গণমাধ্যমে আসা ছবিতে নিপুণকে লাঠি হাতে মিছিলে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বাকি ছয়জন হলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, রাজধানীর খিলক্ষেত থানা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ মৃধা, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার যুবদল নেতা আবুল হাশিম সবুজ, বরগুনার তালতলী উপজেলার বিএনপি নেতা আমির হোসেন এবং বিএনপি কর্মী মো. মহসিন ও মো. মামুনুর রশিদ খোকন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই জালালউদ্দিন আহমেদ জানান, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দন্ডবিধির কয়েকটি ধারায় দায়ের করা পল্টন থানার একটি মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আদালতে রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালমা হাই টুনি বলেন, “পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিকল্পনাকারী কারা ছিল, তা জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।” অন্যদিকে বিবাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট নিপুণের বাবা আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আমার মক্কেলরা কোনোভাবেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত নয়। সরকার নিজেরা এসব করে তাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়েছে।” বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে নিতাই রায় চৌধুরী, সানাউল¬াহ মিয়াসহ প্রায় ৩০ জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যে বুধবার দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাংচুর করা হয় অনেক গাড়ি। হেলমেট পরা কয়েকজনকে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগে অংশ নিতে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, তারা সবাই বিএনপির কর্মী, যদিও বিএনপি তা অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মীদের দায়ী করেছে। সংঘর্ষের ওই ঘটনায় পল্টন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা হয়, তার তিনটিতেই নিপুণসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আসামি করা হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী ও জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর আকতারুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, দলটির মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা সামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক অমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি নবীউল¬াহ নবীসহ প্রায় দুশজনেকে রাখা হয়েছে আসামির তালিকায়।

দৌলতপুরে মনোনয়ন গুজবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পাল্টাপাল্টি শো-ডাউন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুরে আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়া গুজবে প্রার্থীদের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি শো-ডাউন ও একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়েছে। সাবেক ছাত্র নেতা আ. ক. ম সরোয়ার জাহান বাদশা মনোয়ন পাওয়া গুজব ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফিলিপনগর এলাকায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে তার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খলিশাকুন্ডি বাজারে সাবেক এমপি ও দৌলতপুর আওয়ামীলীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন এমন গুজবে তার কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ মিছিল ও একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়েছে। একইভাবে বুধবার বিকেলে তারাগুনিয়া বাজারে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে আনন্দ মিছিল হলে আল্লারদর্গা থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা ঢোল নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চুড়ান্ত হলেও কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা ঘোষনা হওয়ার আগেই সব প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের আনন্দ উল্লাসে সাধারণ ভোটাররা পড়ছে বিভ্রান্তিতে। তবে এ আসনে আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ভাই আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রশিদুল আলম দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করায় দৌলতপুরের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব প্রার্থীই রয়েছেন সঙ্কাতে।

নিরপরাধীদের হয়রানি করা হবে না – মনিরুল

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত বুধবার পুলিশের গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধী কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রসি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, পল্টনের নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে মন্তব্য করে মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় ফৌজদারি অপরাধ না করলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি না ভাঙলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই। তবে জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া না দিতে পারে, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। গত বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ। এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অন্তত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি।

সুষ্ঠু ভোটের জন্য সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইল ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়েছে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শুক্রবার বিকালে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের পর ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “দুই ঘণ্টা আমরা সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন।” নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ অক্টোবর গঠিত সরকারবিরোধী এই মোর্চায় কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে আছে বিএনপি, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা  লীগ, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। গত ১৮ অক্টোবর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর শুক্রবার তারা গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বসলেন। কামাল বলেন, “এই মতবিনিময় আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান বলে মনে করি। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি, আমরা আশা করব যে এসব ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে।” সম্পাদকদের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি।” কামাল হোসেন বলেন, “এডিটর সাহেবদের সাথে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল কী কী জিনিস তারা অতীতে দেখেছেন, এবার সেগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিৎ বলে তারা মনে করেন…। “সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী দল নির্বাচন করতে যাচ্ছি, নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা আমাদেরও কর্তব্য, যাতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।” মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে এসে ‘আমাদের নতুন সময়’ এর সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান বাইরে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলো কোরআন তেলাওয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে তারা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন কিনা। “আমি জানতে চেয়েছি নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর যে উৎসব হবে, তারা জয়ী বা পরাজিত হলে তা কীভাবে পালন করবেন। এসব প্রশ্নের নোট তারা নিয়েছেন, বলেছেন পরে উত্তর দেবেন।” গুলশানের হোটেল লেকশোরে এই মতবিনিময় সভার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পাদকদের স্বাগত জানিয়ে জাতীয় যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন বক্তব্য দেন। প্রথম আলোর মতিউর রহমান, হলিডের সৈয়দ কামালউদ্দিন, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ এর নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের নাইমুল ইসলাম খান, ঢাকা ট্রিবিউনের জাফর সোবহান, দিনকালের রেজোয়ান সিদ্দিকী এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ইনকিলাবের মুন্সি আবদুল মান্নান, নিউজ টুডের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত হোসেন লিটন, যুগান্তরের মাসুদ করীম, সমকালের লোটন একরাম, সাপ্তাহিকের গোলাম মোর্তজাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মতবিনিময়ে অংশ নেন। ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত শোনেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জোটের নেতাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির আসম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন মত বিনিময়ে। এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল¬াহ চৌধুরী, বিএনপির আসদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদসহ ফ্রন্টের শরিক নেতারাও ছিলেন।

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তিনি বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে। এ জন্য সরকারি দল হিসেবে আমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছি। বিএনপি আমাদের এ সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে মনে করলে মস্তবড় ভুল করবে।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যালায়েন্সের মধ্যে আসন ভাগাভাগির কাজ চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে কাদের বলেন, বিজয়ী হওয়ার মত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদেরকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে। দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে হারের ঝুঁকি নেবেন না। কারণ বিএনপির প্রার্থীকে তারা দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিচ্ছেন না। সেতুমন্ত্রী বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে দেশী-বিদেশী সকল সমীক্ষা ও জরিপে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তার অভ্রভেদী তুঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে সকল জরীপে জনপ্রিয়তায় অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে। ‘আমরা গত তিন-চার দিন ৫-৬ টি জরিপ প্রতিবেদন স্টাডি করেছি। এ সকল জরিপে শুধু আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তাও যাচাই করা হয়েছে।’ বলেন কাদের। গত ৫-৬ মাস আগে আওয়ামী লীগ যেসব জায়গায় জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে ছিল সেসব জায়গায় এ মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছে উলে¬খ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের পথ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের আগুন সন্ত্রাসের বৈশিষ্ট থেকে যে বের করে আনতে পারে নি’ তার প্রমাণ দিয়েছে। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, এ নির্বাচনে একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক শক্তি এবং অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপির অতীত ইতিহাস দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে পরিপূর্ণ এবং ইতিবাচক কোন কাজ দৃশ্যমান নেই। যাকে অবলম্বন করে তারা জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ী পোড়াবে, পুলিশকে আহত করে হাসপাতালে পাঠাবে, আর মামলা হবে না, তা কখনো হতে পারে না। বিএনপির সন্ত্রাস ও নাশকতা বিনা শাস্তিতে ঢাকা পড়ে যাবে তা কি করে হয়? জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারা এ ধরনের দু:সাহস কি করে দেখায়? অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া অপরাধ কিনা তিনি সেই প্রশ্ন রাখেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিএনপির নেতাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। তাদের জনসমর্থনের পারদ এত নিচে নেমে গেছে যে তারা বেসামাল হয়ে গেছে। তারা হতাশা থেকে এ ধরনের বেপরোয়া মন্তব্য করছে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে ইসি কবিতা খানম

পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না

ঢাকা অফিস ॥ পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু’ নির্বাচন হয় না মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, তারা একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন করতে চাইছেন, যা নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির সংশয়ের মধ্যেই শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানমের এমন বক্তব্য এল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। “শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটা কোনো দেশেই হয় না; আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটা সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে।” নির্বাচনের উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত  এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়-এই নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।” ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের তারিখ এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু কমিশন বৃহস্পতিবার তাদের সেই দাবি নাকচ করে দেয়। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ বিষয়ে বেঠক করার পর ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, “আমি সামগ্রিকভাবে একটা কথা বলি, আমাদের নির্বাচনে থাকা না থাকা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণের ওপর।” সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম বলেন, “নির্বাচন কমিশন কখনোই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতোপূর্বে কোনো কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে বিচরণ করেনি।” নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ‘বিচারকের নিরপেক্ষতায়’ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এই বিচারক বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।” নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ‘সদ্ভাব’ বজায় রাখার পরামর্শ দেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “আইনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো ইগনোর করার চেষ্টা করেন।” কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত না যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা  আচার-আচরণ এবং কথা-বার্তায় ‘নির্বাচনকে অসুস্থ করে’ এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “দায়িত্ব পালনে যেন এতোটুকু অবহেলা না হয়। একট সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকান্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৎভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।” কবিতা খানম বলেন, আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না। “না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতকর্তার সাথে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ, সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।” অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন।