রিমান্ডের আগে ফের অসুস্থ সম্রাট

ঢাকা অফিস ॥ দুদকের মামলায় রিমান্ড শুরুর আগে ‘বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট’ নিয়ে ফের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ক্যাসিনোকান্ডে আলোচিত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ফলে তাকে দুদক হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা পিছিয়ে গেছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান। দুদকের আবেদনে গত ১৭ নভেম্বর সম্রাটকে ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় ঢাকার জজ আদালত। সেই অনুমতির ভিত্তিতে রোববার থেকে হেফাজতে নেওয়ার কথা ছিল দুদকের। কিন্তু গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা সম্রাট শনিবার বিকালে অসুস্থ বোধ করলে তাকে প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, “বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা বললে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই তাকে পরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।” শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, “তিনি (সম্রাট) বুকে ব্যথা আর শ্বাসকষ্ট নিয়ে এসেছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিতে বলা হয়েছে।” আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা.  নাজমুল করিম বলেন, “কার্ডিয়াক সমস্যা নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছেন। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।” ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ৭ আগস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদ- দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে আরও দুটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। কারাগারে নেওয়ার দুদিন পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্রাটকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা দিয়ে ১২ অক্টোবর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় সম্রাটকে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আফজালুর রহমান সে সময় জানিয়েছিলেন, ১৯৯৮ সালে সম্রাটের হৃদপিন্ডের একটি ভাল্ব ‘রিপ্লেন্স’ করা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নতুন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। রমনা থানার অস্ত্র মামলায় গত ৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। ক্যাসিনো চালানোর পাশাপাশি ‘চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মত অপকর্মের’ মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমমূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়। পরে দুদকের আবেদনে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

কুষ্টিয়ার উডল্যান্ড প্লাইউড কারখানায় অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের একজনের মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় উডল্যান্ড নামক প্লাইউড কারখানায় অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিৎিসাধীন অবস্থায় ৮০ভাগ দগ্ধ শ্রমিক চান্নু কুমার (১৮) কে মৃত ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে নিহতের সাথে থাকা চান্নুর মামা সাধন কুমার দাস। নিহত কারখানা শ্রমিক চান্নু কুমার সদর উপজেলার বারখাদা হাটের পাশর্^স্ত দাসপাড়া গ্রামের অমল কুমার দাসের ছেলে। ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটের চিকিৎসরা জানিয়েছেন গত শুক্রবার কুষ্টিয়া থেকে আগত অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের মধ্যে চিকিৎসাধীন চান্নু নামে রোগীর মৃত ঘোষনা করা হয়েছে। অপর তিনজনের মধ্যে মেহেদী নামের রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও অন্য দুই রোগী রায়হান ও সাজেদুলের অবস্থার কোন অবনতি হয়নি। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোর রাত সোয়া তিনটার সময় কুষ্টিয়া-ঈশ^রদী মহাসড়ক সংলগ্ন বারখাদা এলাকার উনল্যান্ড প্লাইউড কারখানার ভিতরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কর্মরত ৪ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। গুরুতর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎকরা তাৎক্ষনিক রোগীদের ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন। তবে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটিকে ফায়ার সার্ভিস, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ভূক্তভোগী শ্রমিক পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন ইনচার্জ আলী সাজ্জাদ বলেন, অগ্নিকান্ডটি ভয়াবহ ছিলো যা নিয়ন্ত্রনে ফায়ার সার্ভিসকে সাড়ে ৫ঘন্টা কাজ করতে হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শুনেছি আগুনটি লেগেছিলো সর্ট সার্কিট থেকে। ঘটনার দিন বেলা ১১টায় কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা তুহিন জোয়ার্দার গণমাধ্যমকে বলেন,  সামান্য ছোটখাটো একটা আগুন লাগার ঘটনায় ৪জন শ্রমিকের গায়ে ছিটে ফোটা আগুনের ফুলকি লেগে একটু ফোস্কার মতো আহত হয়েছে। তাদের আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এটা নিছক একটা দুর্ঘটনা মাত্র। ঘটনাস্থলের ছবি বা ফুটেজ নেয়ার কিছু নেই। সেখানে সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রডাক্ট কন্টিনিউ করছে। সে কারনে ভিতরে যাওয়া যাবে না। তবে তিনি অগ্নি নির্বাপনে যথাযথ ব্যবস্থা নেই ফায়ার সার্ভিসের এমন মন্তব্যকে নাকচ করে দেন। শনিবার সরেজমিন আহত শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি যুগিয়া বারখাদা হাটের পশি^ম পাশর্^স্ত  দাসপাড়া, ও মন্ডল পাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক চুন্নু, মেহেদী ও সাজেদুলের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সাতে কথা বললে তারা জানায়, যে মেশিনটায় বিস্ফোরন ঘটে আগুন লেগেছিলো সেই একই মেশিনে কয়েকদিন আগেও এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছিলো। ঘটনার দিন আগের সিফটের শ্রমিকরা ছুটি করার সময় নতুন যোগদানকারীদের সতর্ক করেছিলে- ‘সাবধানে কাজ করিস, মেশিনের অবস্থা কিন্তু ভালো না, অঘটন ঘটতে পারে’। এমন সতর্ক করেছিলো সিফট শেষে ছুটি করে যাওয়া সহকর্মীরা। সে কারণেই এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ গোপন করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। নিহত হতদরিদ্র চুন্নু কুমারের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারির ছবি দেয়া আছে।

 

বিএনপির দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি দল, যারা আন্দোলন করতে পারে না। নির্বাচনে, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। সব বিষয়ে বিএনপি একটি ব্যর্থ দলে পরিণত হয়েছে। তাদের দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। আমাদের দলের সম্মেলন হয়, বিএনপি’র সম্মেলনের কোন খবর পাওয়া যায় না।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার রাজাধানীর মতিঝিলে বিআরটিসির বাস ডিপোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উপহার হিসেবে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিসি’র বাস হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. এহছানে এলাহী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারবিরোধী মিথ্যাচারই এখন বিএনপির রাজনীতি। আমাদের সবখানে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, শুধু বিএনপির অপপ্রচারে নিয়ন্ত্রণ নেই। বিএনপি সর্বকালের একটি ব্যর্থ দল। তিনি বলেন, দলের চেয়াপার্সন জেলে। তার মুক্তির জন্য একটা মিছিলও করতে পারেনি দলের নেতারা। দেশে ব্যর্থ হয়ে বিদেশিদের কাছে এখন বিচার দিচ্ছে। বিএনপি একটি নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্ব নিয়ে তাদের নিজেদের ঘরে অনেক প্রশ্ন উঠছে। তাদের কেন্দ্রীয় নেতারাও বলেছেন, খালেদার মুক্তি আন্দোলনে একটা কর্মসূচিও তারা দিতে পারেননি। এখন তারা নেতাকর্মীদের চাঙা করার জন্য সরকারবিরোধী লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

যুবলীগের নবনির্বাচিত কমিটি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন কমিটি যুবলীগের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। দলে আগাছা পরগাছা পরিষ্কারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকায় পাঁচটি সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব উপহার দিয়েছি। এছাড়া, ৭০টি জেলা-উপজেলায় কমিটি হয়েছে। সেখানেও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব এসেছে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের যে তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছিল। সেগুলো বিভাগীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালিকায় থাকা কোন নেতার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে প্রমাণ হলে আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত করা হবে। বিএনপি’র সভার অনুমতি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। বিএনপি’র পার্টি অফিসের সামনে তাদের সভা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র অনুদানকৃত আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের হাতে ৯টি বিআরটিসি’র বাসের চাবি হস্তান্তর করেন। ভারত থেকে আমদানিকৃত এসব বাসগুলোর প্রতিটিতে আসন সংখ্যা রয়েছে ৪৪টি করে। আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিআরটিসি’র দুটি বাস এবং সাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে একটি করে বাস হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজ, বান্দরবান সরকারি কলেজ, টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বাসগুলো দেওয়া হলো। বিআরটিসি একটি অলাভজনক জনসেবাবান্ধব রাষ্ট্রীয় পরিবহণ। লাভের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে আমরা জনগণের সেবার ওপরে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। নতুন এই গাড়িগুলো অবহেলায় যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

উপদলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশের শঙ্কায় নেতা কর্মীরা

খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন আজ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ শঙ্কা আর সম্ভাবনা নিয়ে সাত বছর পর আজ  সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। দ্বিধা-বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক পদসহ প্রধান নেতৃত্ব নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এই উপজেলা সম্মেলনের মধ্যে জেলার রাজনীতির সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কেন্দ্র করে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সজ্জিত করার কাজ শুরু হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়ক, খোকসা-জানিপুর বাজারের প্রধান সড়ক ও আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জাতীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার প্লাকার্ড ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ডজনখানেক  তোরণ নির্মান করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষনা নিয়ে শঙ্কার মধ্যেও সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপদলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশের শঙ্কার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেতা।

এ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ছয়টি  সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের অধিকাংশগুলোতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রধান অতিথি থাকলেও তিনি থাকছেন না এ সম্মেলনে। তার স্থলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের চিপ হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন থাকছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

সাত বছর আগে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তৎকালীন সংসদ সদস্যের বিরোধিতার মধ্যেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান সমর্থিত বাবুল আখতারকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এ উপজেলা কমিটি অনুমোদন হয়। তবে এবারে পেক্ষাপট ভিন্ন। দলের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উপদলীয় কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। জেলা নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন সম্মেলন মঞ্চে কমিটি ঘোষনা না দেওয়ায় কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থকরা একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক কয়েক ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন। শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনের মঞ্চে হাতা-হাতি, মামলা পাল্টা মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকে দল থেকে বাদ দেওয়ায় সম্মেলন বর্জন করে এই অংশটি। তখন অবশ্য জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ তুলেছিল সংসদ সদস্য অংশের নেতারা।

প্রায় দুই যুগের অধিক সময় ধরে এই উপজেলা আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব কায়েম করে দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান। নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া এই নেতা। তার পক্ষ থেকে তিনটি কমিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম। আবার দলের মধ্যে তার স্বেচ্ছাচারীতার অবসান ঘটনাতে মরিয়া বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারসহ দলের বড় একটি অংশ।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ সমর্থিত এ অংশটির পক্ষ থেকে একটি কমিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান যুবলীগের আহবায়ক আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমর্থিত অংশ থেকে সভাপতি পদে আরিফুল আলম তসর, ওয়াহিদুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন মাহামুদ বাটু রয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম একক প্রার্থী থাকছেন।

সংসদ সদস্য সমর্থিত অংশ থেকে সভাপতি পদে একক প্রার্থী বর্তমান সভাপতি বাবুল আখতার ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত।

দলের মধ্যে উপদলীয় কোন্দলকে মশারির মধ্যে আর এক মশারী টাঙানোর মত মন্তব্য করেন রাজনৈতিব বিশ্লেষকরা। তারাও বলছেন আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। নেতাদের মতের পার্থক্য হতে পারে। তবে দলীয় নেতাদের সহনশীল হতে হবে। সাধারন কর্মীদের একটি অংশের দাবি বর্তমান কমিটি বহাল রাখার পক্ষে। তবে দলকে গতিশীল করতে স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতির অংশের বিবাদ মিটাতে হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র তারিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হয়। তিনি জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে। সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক রেখে একাধিক কমিটি জমার ব্যাপারে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কমিটি জমাপড়া বিষয় না। তবে সম্মেলনস্থল থেকে তার ছবি সম্বলিত কিছু ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। সহনশীলতার দেখাতে গিয়ে তিনি এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি বলে জানান।

সভাপতি বাবুল আখতার জানান, স্থানীয় নেতৃত্বে প্রতিযোগীতায় আমদের মধ্যে পক্ষ বিপক্ষ থাকতে পারে। তবে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। সম্মেলন স্থল থেকে তার ফেস্টুন ছেড়ার ব্যাপারে তৃতীয় পক্ষের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন। এ ঘটনায় তিনিও কারো কাছে অভিযোগ করেনি।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ চলছে – সেনাপ্রধান

ঢাকা অফিস ॥ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ পুরোদমে চলছে বলে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ জানিয়েছেন। গতকাল রোববার সকালে রামু সেনানিবাসের ছয়টি ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। জেনারেল আজিজ বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। প্রতিটি ক্যাম্পের জন্য পিলার নির্বাচন কাজ শেষ হয়েছে। এখন পিলারগুলো ক্যান্টনমেন্টে তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সেখান থেকে ক্যাম্পে নিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রথমে ক্যাম্পে পিলারগুলো স্থাপন করা হবে। পরে সেগুলোতে কাঁটাতারের সংযোগ করা হবে। কাটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।” প্রাথমিকভাবে টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। পরবর্তীতে সবগুলো ক্যাম্পে বেড়া স্থাপনা করা হবে বলে জানান সেনাপ্রধান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক  বজায় রাখা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে যেভাবে বজায় রাখা হচ্ছে; মিয়ানমারের সঙ্গেও একইভাবে বজায় রাখছে।” আগামী মাসে মিয়ানমার সফর নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “এ সফরের লক্ষ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়ন। এতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যদি যোগাযোগটা ভালো থাকে এবং আলাপ-আলোচনাটা যদি ঘন ঘন হয় তাহলে বিভিন্ন বিষয়ে একে অপরের সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। “এ নিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর দূরত্ব কমে আসবে। নিজেদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। তাতে করে সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কেরও অনেক উন্নতি হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমি মিয়ানমার সফরে যাচ্ছি। ” সেনাপ্রধান বলেন, “ বর্তমান সরকার মিয়ানমারের সাথে ২৮৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক করার অনুমোদন করেছে। এটা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এরপর কাজ শুরু হবে। ” এ সময় তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংসদ সদস্য জাফর আলম, এয়ার কমোডর মুহাম্মদ শাফকাত আলী, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ ইউএনএইচসিআর, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা-উপজেলায় স্বতন্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র কেন নয় – হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ পাবলিক ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের জেলা-উপজেলায় সদরে স্বতন্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র নির্মাণ প্রশ্নে রুল জারি করেছে আদালত। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল দিয়েছে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রিসহ পাবলিক ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় জেলা-উপজেলা সদরে স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। শিক্ষা, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিবাদিদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত আগস্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সরদার জাকির হোসেন। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। আইনজীবী সরদার জাকির পরে সাংবাদিকদের বলেন, “পিইসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রিসহ বিভিন্ন পাবলিক ও নিয়োগ পরীক্ষার কারণে প্রায় সারা বছর জেলা-উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এক রকম বন্ধ থাকে বা ক্লাস হয় না। শিক্ষার্থীরা এতে ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমনকি অনেকেই চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফল খারাপ করছে। এর দায় কে নেবে? “এসব বিষয় বিবেচনা করেই জনস্বার্থে রিটটি করেছিলাম। আদালত গতকাল শুনে রুল জারি করেছেন।” রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হতে আরো ১০ দিন

দক্ষিণ পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হতে আরো ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) ভবনে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। রোববার বৈঠকে ফবিসিসিআই সভাপতি ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, শিল্প ও কৃষি সচিব, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাহাজে আমদানি করা পেঁয়াজ আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজারে আসবে। এই পেঁয়াজ চট্টগ্রাম পর্যন্ত আমদানি খরচ প্রতি কেজি ৩২ টাকা পড়বে। কিন্তু খুচরা বাজারে এটি সর্বোচ্চ ৬০ টাকা বিক্রি হবে। এছাড়া ডিসেম্বরের প্রথমেই বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করবে সবমিলিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য অনেক বেশি পড়বে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে আমরা এই পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। চালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়েনি। কেজিতে দুই এক টাকা দাম বেড়েছে খুচরা বাজারে। তবে মোটা চালের নয় সরু চালের দাম বেড়েছে। কারণ এখন আমাদের লোকজন সরু চাল বেশি খায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনা রাষ্ট্রদূতের নতুন ফর্মুলা

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমার সরকারের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের ‘আস্থার ঘাটতি’ দূর করতে মোবাইল ফোনে সংযুক্তির নতুন ফর্মুলা দিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। এই প্রক্রিয়ার নাম তিনি দিয়েছেন ‘১+১+২’ আইডিয়া। এটা কীভাবে কাজ করবে সেই বিবরণ তিনি রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। গত সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে লি জিমিং বলেন, “রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের তথাকথিত বিশ্বাসের ঘাটতি মোকাবেলায় ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান প্লাস টু’ আইডিয়া নিয়ে এসেছি আমি  ”এক্ষেত্রে একটি রোহিঙ্গা পরিবার এমন একজনকে প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচন করবে, যে কি না মিয়ানমারে ফিরে যাবে। চীন তাদেরকে দুটি মোবাইল ফোন দেবে। একটি ওই প্রতিনিধির কাছে থাকবে, আরেকটি থাকবে কক্সবাজারে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে।” চীনা দূত বলছেন, পরিবারের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে গিয়ে যা দেখবেন, তা জানাতে পারবেন শরণার্থী শিবিরে থাকা তার স্বজনদের। “মিয়ানমারে গিয়ে তারা স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখবে, রাখাইনের পরিস্থিতি ভালো ও নিরাপদ কি-না তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। সেই আলোকে তারা দেখবে, সামনে আগানো যাবে কি-না।“ এই স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা মিয়ানমার সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। গতকাল রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট আয়োজিত ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কৌশল সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন লি জিমিং। সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মিয়ানমারে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়ার কথা তিনি সেমিনারে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সঙ্কটে মিয়ানমারের পক্ষ নেওয়ায় চীনের যে সমালোচনা, তার জবাব সেমিনারে দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে এমন কথা চালু আছে, চীন যা বলে মিয়ানমার সেই অনুযায়ী কাজ করে। এই ধরনের বিশ্বাস থেকে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অর্থনৈতিক কারণে চীন বোধহয় সবসময় মিয়ানমারের পক্ষে থাকছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। ”মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ। কী করতে হবে সেটা তাদের বলার অধিকার চীনের নাই।” মিয়ানমারের সব বৈদেশিক নীতি ‘সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের’ উপর ভিত্তি করেই ঠিক হয় মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি এবং ইয়াঙ্গুনে আমার সহকর্মী- আমরা কেবল বার্তা পৌঁছে দিই, সহায়তা করি, সাজেশন তৈরি করে দিই। আমরা কোনো দেশকে এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করি না, যেটা তারা করতে চায় না “ দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়ের ক্ষেত্রে আপস রফার সীমাটা কোথায়, এক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি কারা- ‘চীন তা জানে’ বলে মন্তব্য করেন লি জিমিং। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এর মধ্যে সাড়ে সাত লাখই এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর। মিয়ানমার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফা চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের কাউকে রাখাইনে ফেরত পাঠানো যায়নি। রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, “কক্সবাজারের মানুষের ওপর আরও বেশি নজর দিতে হবে, কারণ তারাও ভুগছে; দ্বিতীয়ত অর্থ সহায়তার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং এর যথাযথ তদারক করা, যাতে টাকাটা ঠিকমত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের জন্য খরচ হয়। তৃতীয়ত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সংলাপ বজায় রাখা।” জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পরিচালক স্টিভেন করলিস সেমিনারে বলেন, ”আমি আমার ত্রিশ বছরের জীবনে এমন অবর্ণনীয় শরাণার্থী শিবির দেখিনি, যেটা দেখেছি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে। বাধ্য হয়েই তারা সেখানে বসবাস করছে। ”আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের শতকরা ৯৭ জনই নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চায়। তবে এর জন্য তারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চায়। আর তাদের এ নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন।” বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অন্যদের মধ্যে ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ, কানাডিয়ান হাই কমিশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবিনা ইয়াসমিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বাদ পড়তে পারেন শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ

২৮ নভেম্বর সম্মেলন ঘিরে সাজসাজ রব

চমক আসতে পারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর। সেই সম্মেলনে দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে হাজী রবিউল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে জটিলতা দেখা দিলে হৈ চৈ সৃষ্টি হয়। পরে দীর্ঘক্ষণ সমঝোতার পর সদর উদ্দিন খানকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজগর আলী সাধারন সম্পাদকের পদ ঘোষনা করেন তৎকালীন সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আর হাজী রবিউল ইসলামকে সিনিয়র সহ-সভপতি করা হয়। তবে দলে গ্র“পিং থাকায় আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে আরেকটি অংশ আলাদা সম্মেলন করে পাল্টা কমিটি জমা দেন। এরপর দুই গ্র“পের নেতাদের সমন্বয় করে ২০১৬ সালে পুর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। এ কমিটির মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে যে গ্র“পিং চলছিল তার নিরসন হয়। তবে ভিতরে ভিতরে প্রতিযোগিতা, মনমালিন্য ও দ্বন্দ্ব এখনো নিরসন হয়নি।

এই অবস্থার মধ্যে আগামী ২৮ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নিজ জেলা কুষ্টিয়ায় সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা চলছে, কারা নেতৃত্বে আসছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। পুরাতনরা থাকছেন না নতুনরা আসছেন তা নিয়ে নেতা-কর্মিদের মধ্যে চুল চেরা বিশে¬ষনও চলছে।

দলীয় নেতা-কর্মিরা জানান, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদের জন্য বর্তমান কমিটির নেতারা ছাড়াও চেষ্টা করছেন অনেকে। ইতিমধ্যে আগ্রহীরা ঢাকায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া মাহবুবউল আলম হানিফের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন পদ-পদবির জন্য। তবে জেলা আওয়ামী লীগর শীর্ষ পদে সৎ, মেধাবী, যোগ্য ও দলের জন্য যারা ত্যাগী এমনরা স্থান পাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান একই পদে পুনরায় থাকার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সভাপতি আসার জন্য ভিতরে ভিতরে চেষ্টা করছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। সদর উদ্দিন খান খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও তিনি। সদর উদ্দিন খান ও রবিউল ইসলাম দু’জনই দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।

তাদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহিদ হোসেন জাফরও সভাপতি পদ পেতে মাঠে আছেন। তিনি সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। শেষ মুহুর্তে তিনি মনোনয়ন থেকে ছিটকে যান। জাহিদ হোসেন জাফরকে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে চেনেন ও জানেন। রাজনৈতিক মহলে জাহিদ হোসেন জাফর সৎ ও নির্লোভ মানুষ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকতা পেশা ও মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেয়া জাহিদ হোসেন জাফর ৪ যুগ তৃণমুলের রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার কারনে এবার দলের শীর্ষ পদে তাকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেছেন বেশির ভাগ নেতা-কর্মি।

এছাড়া দলের দুঃসময়ের আরেক নেতা কুষ্টিয়া পৌরসভার বারবার নির্বাচিত মেয়র  আনোয়ার আলীকে শেষ বয়সে দলের শীর্ষ পদে দেখা যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। ইতিমধ্যে জাহিদ হোসেন জাফর, সদর উদ্দিন খান ও আনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেছেন।

জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, ৪ যুগের বেশি তৃণমুলের রাজনীতির সাথে জড়িত। দলের একজন কর্মি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রী যদি মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগের হাল ধরতে রাজী আছি। তবে পদ না পেলেও কোন দুঃখ নেই। তবে সৎ ও যোগ্যদের হাতে যেন দলের ভার দেয়া হয় এমন দাবি থাকবে।’

বর্তমান সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘদিন দল করে আসছি। সভাপতি হিসেবে দলকে শক্তিশালী করার কাজ করেছি। নেতা-কর্মিরা আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। দলীয় সভানেত্রী চাইলে দলের জন্য কাজ করতে রাজী আছি।’

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি পদে এবার পরিবর্তন আসতে পারে। সদর উদ্দিন খানের জায়গায় নতুন কাউকে দেখা যেতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে দলীয় প্রধানের ওপর।

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন। দলের দুঃসময়ে তিনি নির্যাতন সহ্য করে দলকে সংগঠিত করেন। দলে তার অবদান নেতা-কর্মিরা এখনো ভূলিনি। তাইতো দলীয় সভানেত্রী বারবার তার কাজের মূল্যায়ন করেছেন। এবার তাকে দলের শীর্ষ পদে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা চলছে। তবে বয়স হওয়ার কারনে আগের মত দলীয় কাজে অংশ নিতে পারেন না তিনি।

আনোয়ার আলী বলেন, ‘ আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মি। সারাজীবন দলের জন্য কাজ করে আসছি। দলের একজন কর্মি হয়ে থাকতে চাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারিরা দলের সব থেকে ক্ষতি করছে। দলের দঃসময়ে কাউকে পাওয়া যায় না। তাই বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মিদের তুলে আনতে হবে। তাহলে দল বাঁচবে।’

দলের বর্তমান সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন। তিনি দুই মেয়াদে একই পদে আছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ নেতা বিভিন্ন সময় দলের নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারো তাকে একই পদে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই নেতার পরিবর্তে নতুন কেউ এ জায়গা দখল করতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সভাপতি পদেও তাকে দেখা যেতে পারে এমনটি মন্তব্য নেতা-কর্মীদের।

সেক্ষেত্রে দলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক স্বাচিপ ও বিএমএ নেতা ডা. এ এফ এম আমিনুল হক রতন ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রউফের নাম যোগ হয়েছে এ তালিকায়। রতন দীর্ঘ সময় দলের নানা পদে ছিলেন। সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি সাধারন সম্পাদক পদে চেয়েছিলেন। আর আব্দুর রউফ ছাত্রলীগ করেছেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। আর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন একটা সময়। ৭৫’ পরবর্তী দলকে সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আব্দুর রউফ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০১৪ সালের নির্বাচনে। সর্বশেষ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন এ নেতা। তাই এবার দলের শীর্ষ কোন পদে তাকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বর্তমান কমিটির বিতর্কিত কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে। তাদের নেতিবাচক রাজনীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া দলের গ্রপিং নিরসন করতে না পারা, উপজেলায় নতুন গ্র“পিং সৃষ্টি, সাংসদদের সাথে দুরত্ব, নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অতীতের রাজনীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কপাল পুড়তে পারে কারো কারো।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আমিনুল হক রতন বলেন,‘ পরিচ্ছন্ন রাজনীতি শুরু হয়েছে নেত্রীর হাত ধরে। বিতর্কিত ও সুবিধাবাদিদের দল থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী। যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানায়। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে ত্যাগী ও তৃণমুলের নেতারা জায়গা পাবেন এমনটা আশা করছি।’

বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক আজগর আলী বলেন, জেল, জুলুম নির্যাতন আর ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে রাজনীতির মাঠে পড়ে আছি। দলকে ভাঙ্গিয়ে কোন অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি করেছি কেউ বলতে পারবে না। এখন চাওয়া-পাওয়া নেই। নেত্রী যেভাবে চাবেন সেইভাবেই দল চলবে। আমাদের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ভাইয়ের নেতৃত্বে দল আগের তুলনায় ঐক্যবদ্ধ এটুকু বলতে পারি। তাই আসন্ন কাউন্সিল জাঁকজমক ও বর্ণিল করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নেতা কারা হবে সে সিদ্ধান্ত দল ও কর্মিরা নেবে।’

আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া ইসলামী কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বেগম নূরজাহান রচিত “রসুলূল্লাহ (সাঃ) অনুকরণে নামাজ” শীর্ষক বইয়ের পর্যালোচনা সভায় আলোচকবৃন্দ

নামাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরী

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভানেত্রী বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত বেগম নূরজাহান রচিত “রসুলূল্লাহ (সাঃ) অনুকরণে নামাজ” শীর্ষক বইয়ের পর্যালোচনা ও আলোচনা সভা গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। প্রিন্সিপাল ডাঃ মাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক ড. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তারিকুর রহমান, ইসলামী ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক সামসুুল হক, আফসার উদ্দিন বালিকা ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা রেজাউল করিম, কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা শফিকুর রহমান, সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা রুহুল আমীন। আলোচনায় অংশ নেন ডাঃ রতন-লিজা ম্যাটস এর চেয়ারম্যান ডাঃ আসমা জাহান লিজা, সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম, মীর মোশাররফ হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা ফয়জুর রহমান, নাজমা খুররম, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আ.ফ.ম নুরুল কাদের, মীর মশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা নুরুন নাফা, এ্যাড, শাফি নিয়াজ, আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রউফ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আফসার উদ্দিন ফাযিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা আব্দুল করিম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভানেত্রী বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ও “রসুলূল্লাহ (সাঃ) অনুকরণে নামাজ” শীর্ষক বইয়ের লেখিকা বেগম নূরজাহান। প্রধান আলোচক ড. কামরুল হাসান বলেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুকরণে নামাজের বইটি রচনা করে বেগম নুর জাহান অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। একজন মুসলিম বান্দার নামাজ অবশ্যই নবী (সাঃ) এর অনুকরনে হওয়া উচিত আর সেই আলোকে সুন্দর ভাষায় বইটির লেখিকা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি কিছু বিষয়ের উপর নজর দিয়ে বলেন, এই বইটিকে অবশ্যই অনেক মানসম্পন্ন করতে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বইটি ইতিমধ্যে বিশেষ করে মহিলা পাঠকদের জন্য একটি মাইল ফলক হিসেবে কাজ করেছে।  দ্বিতীয় সংস্করনে বইটিকে আরো উপযোগ্য করার লক্ষে লেখিকা আরো বেশি সজাগ থাকবেন বলে আশা রাখি। তিনি আরো বলেন, নামাজ মুসলিম সমাজের সংস্কৃতির গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ আর এর সার্বিক বিষয়ে বইটিতে স্থান দিলে আরো সমৃদ্ধশালী হতে পারতো। অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই ধরনের একটি বই আমাদের মুসলমানদের ঘরে থাকা আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। এই বইটির মাধ্যমে নামাজের সকল প্রস্তুতির বিষয়ে হাদিস কুরআনের আলোকে আলোচনা করা হয়েছে। সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল্য ভাষায় বইটি ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লেখিকা নুর জাহান বেগমের এই উদ্যোগ আমাদের সমাজের মহিলাদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা বাদি। আলোচকবৃন্দ বলেন, নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন বিষয় আর এর সঠিকতা ভালভাবে না জানার কারনে নামাজ আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে, তাই নামাজের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন আর এই প্রয়োজনের তাগিদে আলেম সমাজসহ সকলকে জরুরীভাবে এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য যে, লেখিকা নুরজাহান বেগম রচিত আরো কয়েকটি বই ইতিপুর্বে প্রকাশিত হয়েছে। “রসুলূল্লাহ (সাঃ) অনুকরণে নামাজ” শীর্ষক বইয়ের পর্যালোচনার মাধ্যমে উঠে আসা বিভিন্ন পরামর্শ বইটির দ্বিতীয় সংস্করনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহন করবে বলে লেখিকা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাছাড়া খুব শ্রীগ্রই বইটির ইংরেজী অনুবাদেও কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীতে কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। কেন্দ্র ষোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। মেহেদী রুমী তার বক্তব্যে বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার চক্রান্ত চলছে। তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তার সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষের মতপ্রকাশ করার অধিকার নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন চলবে। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, দানব সরকারের হাত থেকে  দেশকে রক্ষা করতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্তি করা ছাড়া গণতন্ত্র আসবে না। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটাতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.শামীম উল হাসান অপু, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হক, মিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির নেতা হাজী মনিরুল ইসলাম খান, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এ্যাড.শাতিল মাহমুদ, সহ-সভাপতি ওহিদুল ইসলাম সাবু, কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইবাদত আলী, সাধারন সম্পাদক মোকারম হোসেন মোকা, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সবুজ, মিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আনসার আলী, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদলের যুগ্ম-সম্পাদক আনসার আলী প্রমুখ।  নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার নি:স্বার্থ মুক্তি দাবী জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে ইবিতে ‘মাদক সেবী, মাস্তান আর বিতর্কিতদের’ মানববন্ধন

ইবি সংবাদদাতা ॥ এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে মানববন্ধন করলেন মাদকসেবী, মাস্তান আর বিতর্র্কিতরা। তারা ইবির সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমানের অনুগত। মানববন্ধনে ১৫ থেকে ২০জন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পরিচয়ে যোগ দেয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই বহিরাগত। গতকাল শনিবার তারা ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন করে। এর মধ্যে চাকুরি প্রত্যাশী ও চাকুরিস্থায়ী করনের জন্য বেশ কয়েকজন চেষ্টা করছেন। তারাও চাকুরির আশায় এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। এছাড়া অনেকে ডে লেবারের চাকুরি করেন।  জানা গেছে, সম্প্রতি ইবির সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে তার শিবির কানেকশনের বিষয়টি নিয়ে একটি মিডিয়ায় সাক্ষাতকার দেয় রাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন। এদিকে ইবিতে ছাত্রলীগের বড় একটি অংশ তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। তাদের মধ্যে গ্র“পিং সৃষ্টি, হুমকি, মামলা দেয়া, বাড়িতে মাস্তান পাঠানো , শিক্ষকদের দিয়ে শায়েস্তা করা, নিউজ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের নাম মামলা ও এমনকি শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে। এদিকে মাহবুবকে বাঁচাতে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া গুটিকয়েক শিক্ষক ও বিতর্কিতদের মাঠে নামিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মিদের বিরুদ্ধে নানা বিষদাগার করানোর পাশাপাশি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান প্রক্টরের বিরুদ্ধেও নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বাড়িও উত্তরবঙ্গে।

এদিকে গতকাল সকালে বুকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যাক্তি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন। সেখানে মাদকসহ আটক হওয়া মাহবুব, ছাত্রলীগ নেতা লালনের হত্যার হুমকি দেয়া মামলার আসামী ইলিয়াস জোয়ার্দ্দারসহ কিছু কর্মচারী মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা ছাত্রলীগের ভাবমুর্তি ফেরানোর শ্লোগান তুলে মানববন্ধনে অংশ নেয়। অথচ তাদের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ রয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেয়ার বেশির ভাগই মাহবুবর রহমানের অনুগত। তারা নিয়মিত তার কাছ থেকে নানা সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা বলেন, যারা মানববন্ধন করেছেন তারা নিজেরায় বিতর্কিত। মাদকসহ ধরা পড়া ব্যক্তি, ছাত্রলীগ নেতাকে হুমকি দিয়ে মামলায় হাজতবাস করা ইলিয়াসসহ বিতর্কিতরা অংশ নেন। অনেকে চাকুরির লোভে এ মানববন্ধনে আসেন। তারা কয়েক মিনিট মানববন্ধন করেই সটকে পড়েন। এ নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের চলমান আন্দোলন ও সাবেক প্রক্টরের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চক্রান্ত চলছে। তারা ছাত্রলীগের নেতাদের টাকা দিয়ে কেনাসহ পদ দেয়ার কথা বলছে।

শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেন – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সন্ত্রাস-দুর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান সফল করতে হবে। শেখ হাসিনা নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করেন না। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান সফল করতে যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুবলীগের নেতাকর্মীদের কাছে আমি শুধু এই আহ্বান জানাব, নেত্রীর শুদ্ধি অভিযান আপনারা সফল করবেন।’ কংগ্রেসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক বলেন, মাদককে না বলুন, সন্ত্রাসকে না বলুন, দুর্নীতিকে না বলুন, টেন্ডারবাজিকে না বলুন, চাঁদাবাজিকে না বলুন, ভূমিদস্যুতাকে না বলুন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পলিটিশিয়ানের সীমানা পেরিয়ে আজকের স্টেটসম্যান। তিনি রাজনৈতিক নন যুবলীগ যথার্থই বলে যে তিনি রাষ্ট্রনায়ক। পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে যিনি ভাবেন সেই হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক। ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে সৎ ব্যক্তি, জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, বিচক্ষণ নেতা, দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। যার উন্নয়ন অর্জন শুধু এ দেশে নয়, সারা বিশ্বে সমাদৃত। এর আগে সকাল ১১টায় যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক চয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বক্তব্য রাখেন। কংগ্রেসে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়ার সদস্য মুজিবুর রহমান এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়ার সদস্য বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। সম্মেলন স্থলে অন্যানের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন ও মোজাফফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন খসরু ও এডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ ও এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর ড. সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসস্থলে পৌঁছান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী যুবলীগ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান সম্মেলনের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনাকে। পরে পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’তে সংকিত আইসিসি ঃ প্রসিকিউটর

ঢাকা অফিস ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদা বলেছেন, আইসিসি’র বিচারকরা শংকিত যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ গ্রহণ করতে পারে। এই নারী কর্মকর্তা শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তিসংগত কারণে বিচারকের এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, সেখানে মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করতে পারে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের পরিকল্পিত অপরাধের তদন্ত শুরুর ব্যাপারে আইসিসি’র অনুমোদনের পরে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিচারকদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, ‘সেখানে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মিয়ানমারের বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং রাষ্ট্রীর অন্যান্য সংস্থা ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ও কিছু স্থানীয় লোকদের যৌথ অংশ গ্রহণে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।’ অপরাধ অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারকদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, ‘এই দমন কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অথবা জাতিগত নিধনের অভিযোগ মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে ।’ বিচারকরা বৃহত্তর পরিসরে এই অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে বেনসৌদা এটিকে মিয়ানমারের নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৪ নভেম্বর প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তৃতীয় আদালতের বিচারকরা ‘বাংলাদেশ/মিয়ানমার পরিস্থিতি’ নিয়ে তদন্তের জন্য প্রসিকিউটর অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, মিয়ানমার আইসিসি’র সদস্য দেশ নয়, এজন্য দেশটি আইসিসি’র পক্ষ নয়। তবে বাংলাদেশ আইসিসি’র পক্ষ। প্রসিকিউটর চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আদালত বলেছে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে যে সব বেসামরিক নাগরিক বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে তারা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এখানে এসেছে, এই ঘটনায় সুস্পষ্টভাবে ভৌগোলিক সংযোগ রয়েছে। এটি মিয়ানমারের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

সৌদি থেকে নিঃস্ব হয়ে ফিরলেন আরও ১২৫ বাংলাদেশি

ঢাকা অফিস ॥ বছরজুড়েই খালি হাতে নিঃস্ব হয়ে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ফিরছেন। নিয়মিত বিরতিতে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হতাশা আর চাপা ক্ষোভে ডুবেছে। তবে নভেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকেই প্রবাসীকর্মীদের ফেরার সংখ্যাটি আশঙ্কাজনক। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে আরও ১২৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে দেশে ফেরেন তারা। এ নিয়ে নভেম্বর মাসের তিন সপ্তাহে মোট ২ হাজার ৬১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৪২১ জন ফিরেছেন। এর মধ্যে ১ নভেম্বর ১০৪ জন, ২ নভেম্বর ৭৫ জন, ৩ নভেম্বর ৮৫ জন, ৪ নভেম্বর ৬১ জন ও গতকাল ৬ নভেম্বর ৯৬ জন ফিরেছেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ১২০ জন, ২৭ অক্টোবর ১৬০ এবং ৩১ অক্টোবর ১৫৩ বাংলাদেশিকর্মী ফিরেছেন। চলতি বছরের ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে ২১ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক। এ পরিসংখ্যানে গতকাল যুক্ত হলো আরও ১২৫ জন। এসব প্রবাসী বাংলাদেশিকর্মী সবাই ফিরেছেন, একেবারে খালি হাতে, নিঃস্ব হয়ে। অনেকের গায়ে ছিল কোম্পানির পোশাক, কারও পায়ে ছিল না স্যান্ডেলও। অনেকে পুরনো পোশাক ছাড়া সঙ্গে করে আর কোনো কাপড় আনতে পারেননি। সৌদি আরবের রাস্তায়, দোকানে ধরপাকড়ে পরে এসব বাংলাদেশি শ্রমিক এক কাপড়েই দেশে ফিরেছেন। ইকামা (সৌদি আরবের রেসিডেন্স পারমিট) বৈধরাও এ ধরপাকড় অভিযানে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরছেন। শুক্রবার বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিজের দুদর্শার কথা জানালেন কুমিল্লার নন্দন কুমার। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইকামা (কাজের অনুমতি) নবায়ন করতে সাড়ে ৬ হাজার রিয়াল দিই কফিলকে (নিয়োগকর্তা)। এরই মধ্যে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। আমাকে ছাড়িয়ে নিতে কফিলকে ফোন করি। কিন্তু কফিল সে ফোনে সাড়া দেয়নি। তাই পুলিশ শূন্য হাতেই দেশে পাঠিয়ে দিলো আমাকে। কিছুই তো সঙ্গে আনতে পারলাম না। ৬ হাজার রিয়ালও গেল। আমি এখন নিঃস্ব। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারের আফজাল (২৬) মাত্র আড়াই মাস আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। বাজার করতে বাসা থেকে বের হলে তাকে আটক করে সৌদি পুলিশ। সঙ্গে ইকামা ছিল না তখন। বাসায় ইকামা আছে বলে বারবার জানালেও পুলিশ তার কথায় কান দেয়নি। পথ থেকে ধরেই দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে। তিনি বলেন, যত টাকা খরচ করে গিয়েছিলাম সেটাও যদি কামাই করতে পারতাম তো সান্তনা দিতে পারতাম মনকে। একইরকম অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুলের। ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে সৌদিতে গিয়েছিলেন তিনি। আবজালের মতোই ধড়পাকড়ের শিকার হয়ে খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুলই নন, একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্টু মিয়া, সাইদুল ইসলাম, নরসিংদির নাইম, হবিগঞ্জের ফারুক হোসেন ও ঢাকার সাইফুল ইসলাম। তাদের অধিকাংশেরই অভিযোগ, ইকামা বা কাজের অনুমতি তৈরির জন্য কফিলকে টাকা দেয়া হলেও কফিল ইকামা করে দেননি। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে চোখ উল্টে নিয়েছেন তাদের কফিলরা। কর্মীদের দায়দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো তাদের ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দিতে বলছেন কফিলরা। বরাবরের মতো শুক্রবার ফেরত আসাদেরও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ফিরলেন ২ হাজার ৬১৫ জন। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন, তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। এরা সবাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।’ তিন দিন পর সৌদি আরবের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের যৌথ বৈঠকে নারী কর্মীদের পাশাপাশি পুরুষদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করতে কাজ করতে হবে দুই দেশকে।’

কুমারখালীতে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গতকাল শনিবার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম বাজারে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষনকারী বাবুল হোসেন (৫০) কে দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারন জনগন, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা, শিশু ধর্ষণকারী ও হত্যা মামলার আসামী বাবুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান। জানা যায়, বাঁশগ্রাম কামিল মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী ও মুন্সী আজম হত্যা মামলার ২১ নম্বর আসামী বাবুল  হোসেন শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বাঁশগ্রাম কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হামিদুর রহমানের পরিত্যাক্ত বাড়িতে ১২ বছরের শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণকালে এলাকাবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে। এরপর ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায়  মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৩, তাং-২২/১১/২০১৯। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান-এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর থেকে আসামী পলাতক রয়েছে। তবে আসামীকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যহত রয়েছে।

মামলার ভয় করি না – গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পুলিশের উদ্দেশে বলেন, মামলা যত পারেন দেন, মামলার ভয় করি না। আমার মৃত্যু অনিবার্য। আমি কালকেও মারা যেতে পারি। কিছুক্ষণ পরেও মারা যেতে পারি। তিনি বলেন, আমার মৃত্যুই যখন আমি রোধ করতে পারব না, তখন জেলখানার ভয় দেখাবেন না। এরপর থেকে যত মামলা দিক, আর কোনো কোর্টের বারান্দায় হাজিরা না। যা ফয়সালা হবে, রাস্তায় ফয়সালা হবে। বিএনপির কারাবন্দি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশহিসেবে শনিবার দুপুরে নগরীর মালোপাড়ায় মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্দোলন আমাদের করতে হবে। এটি আমাদের সাংগঠনিক অধিকার। আমরা সভা-সমাবেশ করব। অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। এই রাজপথ সরকারকে ইজারা দেয়া হয়নি। এই রাজপথ জনগণের। সেই রাজপথে হাঁটার অধিকার জনগণের আছে। সমাবেশ করার অধিকার আছে এবং আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং চলবে। এরপর থেকে সরকারের কোনো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারের অনুমতি নিয়ে কখনও আন্দোলন হয় না, বলেন তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, যা আছে, যতটুকু আছে তাই নিয়েই আন্দোলন করতে হবে। প্রস্তুতি নিতে নিতে আমাদের জীবন শেষ। আন্দোলন কখনও প্রস্তুতি নিয়ে হয় না। আন্দোলনে মনোবলের প্রয়োজন। যাদের শরীর-স্বাস্থ্য খারাপ, তারা বিশ্রামে থাক। যারা ভয় পান তাদের ডাকাডাকি করার দরকার নেই। যাদের সাহস আছে, তার সংখ্যা কম হলেও কিছু হয় না। আমরা ভয় পাই বলেই ওরা আমাদের ভয় দেখায়। বিএনপির কারাবন্দি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য করুনানির্ভর থাকার প্রয়োজন নেই। জামিনের জন্য কোর্টের বারান্দায় যাওয়া খালেদা জিয়াকে অপমান করা। প্যারোলেও জামিনের দরকার নেই। রাজপথেই ফয়সালা হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। আরও বক্তব্য দেন- জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।

নিলস এর আয়োজনে ইবিতে ‘লিগ্যাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট এন্ড ক্যারিয়ার টক’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস) এর আয়োজনে ‘লিগ্যাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট এন্ড ক্যারিয়ার টক’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রোগ্রামে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী প্রধান অতিথি এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন ও নিলস কুষ্টিয়া চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল। মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর এ্যাডভোকেট এবং নিলস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা শাহ মঞ্জুরুল হক। বক্তব্য প্রদান করেন আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি আনোয়ারুল ওহাব। স্বাগত বক্তব্য দেন নিলস কুষ্টিয়ার প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান । সঞ্চালনায় ছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাকীন হোসেন এবং ইসরাত জাহান শায়লা। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে রিসোর্স প্যানেল সদস্য ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ব্যারিস্টার ইহসানুল কবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আহসান খালিদ, আমেরিকান ইনটারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক কাজী ওমর ফয়সাল এবং নিলস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মামুন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’র মাসিক সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স’র মাসিক সভা গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের স্বগীয় জাগন্নাথ পাড়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাসিক সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ  রেজাউল করিম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম.এম.মোর্শেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহসিন হাসান, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী সুলতানা পলি, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন সহকারী জজ  মেঘা গুপ্তা, সহকারী জজ রাইসা সরকার, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ গোলাম  মোস্তফা, দৌলতপুর ওসি এম এম আরিফুর রহমান, কুমারখালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর, ইবি থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আরিজ, পুঃ পরিঃ ( তদন্ত)  মিরপুর থানার জাবীদ হাসান, পুলিশ পরিদর্শক ওসি ডিবি মোঃ আমিনুল ইসলাম, টি,আই কুষ্টিয়া মোঃ ফকরুল আলম, পুলিশ পরিদর্শক সি আই ডি আল ইমরান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আর এমও ডা: তাপস কুমার সরকার, নারী ও শিশু পি,পি, আব্দুল হালিম, অতিরিক্ত পিপি মঞ্জুরী বেগম, এপিপি মারুফ বিল্লাহ, সিভিল সার্জেন অফিস কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি ডাঃ জেসমিন আরা প্রমুখ।

গুটিকয়েক নেতার কারণে যুবলীগের বদনাম – হারুন

ঢাকা অফিস ॥ যুবলীগের এখন যে সমালোচনা হচ্ছে, তার জন্য গুটিকয়েক নেতাকে দায়ী করেছেন সংগঠনটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। গতকাল শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের কংগ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংগঠনের বেশিরভাগ নেতার নির্দোষিতার পক্ষে বলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘অনিয়ম, দুর্নীতি আর দুর্বৃত্তদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কেন্দ্র হয়ে ওঠার জন্য ব্যাপক সমালোচিত আওয়ামী লীগের যুব সংগঠনটি। ক্যাসিনোকান্ডে যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বহিষ্কার করা হয় প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতাকে। এই অবস্থায় নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে আয়োজিত সম্মেলনে হারুনুর রশীদ বলেন, “গুটিকয়েক লোকের অতি লোভের কারণে, তাদের আচার-আচরণের কারণে, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার দুঃস্বপ্নের কারণে আজকে আমাদের নামে অপবাদ আসছে। “আমাদের যারা সাধারণ কর্মী, তারা খুবই ভালো মানুষ, তাদের কোনো লোভ-লালসা নেই। তারা নেত্রীর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে।” কর্মীদের প্রশংসা করে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের কর্মীরা শুধু একটু ভালোবাসা চায়। একটু সম্মান চায়। লোভ-লালসা ভর করেছে আমাদের মতো কিছু লোকের উপর।” সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে সংগঠনের সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় একথা বলেন হারুন। এসময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন, যিনি এই কংগ্রেস উদ্বোধন করেন। হারুন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, “আপনার নির্দেশ পালনের জন্য যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ দিতে প্রস্তুত। নূর হোসেন জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করে গেছে। “আপনি (শেখ হাসিনা) আমাদেরকে শিখিয়েছেন, রাজনীতি নেওয়ার জন্য নয়, রাজনীতি দেওয়ার জন্য, যা যুবলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী পালন করে আসছে।” হারুন বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, আমরা পুলিশের পিটুনি খাই, আমরা জেলখানায় যাই, নির্যাতিত হই।” যুবলীগের পরবর্তী নেতৃত্ব শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক।

 যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

 শেখ ফজলে শামস চেয়ারম্যান পরশ, সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল

ঢাকা অফিস ॥ শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী ৩ বছরের জন্য আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি’র বড় ছেলে এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি হিসাবে গত কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সকাল ১১ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক চয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বক্তব্য রাখেন। কংগ্রেসে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান এবং শোক প্রস্তাব পাঠ করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়াামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন। যুবলীগ বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন যা ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব অঙ্গসংগঠন। এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি।