এই সরকারের একদিন বিচার হবে – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের একদিন বিচার হবে। সরকার বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, এ জন্যই সরকারের বিচার হবে। ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল বুধবার বিকেলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বহুদলীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার পার্লামেন্টকে ধ্বংস করেছে ১৫৪ জন অনির্বাচিত সংসদ সদস্য দিয়ে, বিচার বিভাগ-প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণমাধ্যমকে জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। সরকারের মতো করে, সরকারের হুকুমে চলে এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে রেখেছে। এসব কারণে সরকারের বিচার হবে। আবারও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের দেশকে আপনাদের রক্ষা করতে হবে। এই মানুষদের আপনাদের রক্ষা করতে হবে, অন্য কেউ উড়ে এসে আপনাদের রক্ষা করবে না। তাই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সমস্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই “দানব” সরকারকে সরিয়ে দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপির ‘২ লাখ ৩৩’ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ‘সাড়ে চার হাজার’ মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপির উপদেষ্টাম-লীর সদস্য, স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে যাঁরা কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নন, এমন মানুষের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায়-থানায়, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কখন করে এটা? যখন সরকার ভয়ে ভীত, সন্ত্রস্ত। সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচনে যদি ২০-দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে সরকারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এ কারণে সরকার চায় বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে।’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন আমরা নির্বাচনে যাব কি না? সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচনের কথা বলা আছে। সেই নির্বাচন তো আপনারা শেষ করে দিয়েছেন। সব দলের সমান অংশগ্রহণ নেই, ওরা (আওয়ামী লীগ) ছাড়া আর কেউ নেই। আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু কোন নির্বাচন? যে নির্বাচনে লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড (সমান সুযোগ) তৈরি হবে, এমন নির্বাচনে।’ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘জোর করে, মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। যখন জনগণ থেকে কোনো সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন অত্যাচার-নির্যাতনের পথ বেছে নেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেরাউন, নমরুদ, হিটলার, মুসোলিনি, এরশাদ এবং আপনাদের অন্যায়-অত্যাচার আমরা দেখেছি। এভাবে জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।’ খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কেন আটক করে রেখেছে? খালেদা জিয়া যদি বাইরে থাকেন, মুক্ত হয়ে যদি বাইরে আসেন ও জনগণকে যদি আহ্বান করেন, তাহলে হাজার-হাজার, লাখ-কোটি জনতা এই সরকারকে ধুলার মতো উড়িয়ে দেবে। এ কারণেই সরকার খালেদা জিয়াকে “আটক” করে রেখেছে, তাঁর চিকিৎসা “দিচ্ছে না”।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা জানি, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু হয় না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা এর সুষ্ঠু বিচার করবেন এবং সেই বিচার তিনি করবেন অবশ্যই। জনগণ কখনো অন্যায়কে সহ্য করে না। জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধ রুখে দাঁড়াবেই।’ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

আন্দোলন করে কোন দুর্নীতিবাজকে মুক্ত করা যাবে না – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ এমপি বলেছেন, আন্দোলন করে কোন দুর্নীতিবাজকে মুক্ত করা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ কোন দুর্নীতিবাজকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করবে না। গতকাল বুধবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি আয়োজিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের ৫ দিনব্যাপী রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ কোর্সের তৃতীয় ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মেহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পরিচালক লুৎফর রহমান সরকার, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির পরিচালক জালাল আহমদ, পরিচালক একেএম ফজলুর রহমানসহ ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার শতাধিক ইমাম উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। এছাড়া তিনি অপরাধ স্বীকার করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের জন্য বেশি কাজ করেছেন। মুসলিম উম্মাহর সাড়ে চৌদ্দশ’ বছরের ইতিহাসে তিনি একমাত্র সরকার প্রধান যিনি একযোগে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ করছেন। সারাদেশে এক হাজার ১০টি দারুল আরকাম মাদ্রাসা করেছেন। কওমি সনদের স্বীকৃতির মাধ্যমে কওমি আলেমদের সরকারি চাকরিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।’ হানিফ আরো বলেন, ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। ইসলাম কখনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। এদেশের কওমি ও আলিয়ার মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গিবাদে জড়িত হতে পারে না। জঙ্গিদের অনেকে আধুনিক স্কুল ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র। এর পেছনে কাজ করছে জামায়াতে ইসলাম। জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে। এরা বাংলাদেশ ও ইসলামের শত্রু।

নির্বাচনে বিএনপি সহিংসতা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত সহিংসতা ও নাশকতা করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আবার তাদের সাম্প্রদায়িক দোসর জামায়াত শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৪ সালের মত আগামী জাতীয় নির্বাচনের সামনেও নাশকতা করার ছক তৈরি করছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা নানা অপতৎপরতা শুরু করেছে।’ সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকা ভাসতে ভাসতে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে। ওবায়দুল কাদের গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ওয়ার্কচার্জড শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়মিত করণের আদেশ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপথ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মতলবি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে চক্রান্তের মাধ্যমে সরানোর জন্য পায়তারা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি কোটা আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনে ভর করে ব্যর্থ হয়ে জাতিসংঘে গিয়ে কান্নাকাটি করেছে। জাতিসংঘে আমন্ত্রণ নিয়েও তারা মিথ্যাচার করেছে। কারণ জাতিসংঘ বিএনপিকে কোন আমন্ত্রণ জানায় নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার, গণমানুষের সরকার। এ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনে দেশের মানুষ খুশি। কাদের বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে ৭ হাজার ৫৯ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে। তার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত করা হয়েছে ২ হাজার ২শ’ ৫৪ জনকে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তারা নিয়মিত হয়ে যাবেন। বাকীরাও পর্যায়ক্রমে নিয়মিত হয়ে যাবে। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের ঢাকা ক্লাবের স্যামসাং এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে গাঙচিল চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ থাকার সুযোগ নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি গত দশ বছর ধরে আন্দোলনের ডাক দিয়ে আসছে। তাদের ডাকে কেউ সাড়া দেয় নি। দশ বছরে যারা আন্দোলন করতে পারে নি দু’মাসেও তারা পারবে না। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপি আন্দোলন করার স্বপ্ন দেখতেই পারে। তবে তাদের এ ধরনের স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিনিত হবে। জাতিসংঘে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে যারা ব্ল্যাকমেইলিং করতে পারে তাদের পক্ষে যে কোন ধরনের জালিয়াতি করা অসম্ভব কিছু নয়। মহরত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম । অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দিন বুলবুল, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, চিত্রনায়িকা ঋতুপর্না সেনগুপ্ত ও পূর্নিমাসহ চলচ্চিত্র কলা-কুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সত পিতা আটক!

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বটতৈল গড়াই মিলের পাশে নিজ বাড়ি থেকে ওই সৎ পিতা দিলু সরকারকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, বটতৈল গ্রামের মহিজুল সরকারের ছেলে দিলু সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের পক্ষের মেয়েকে (১৩) বাড়িতে রেখে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাদালিয়া আকিজ ফ্যাক্টরিতে কাজে যায়। এই সুযোগে গভীর রাতে মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সৎ পিতা দিলু সরকার (৪৫)। পরে ওই মেয়ে ঘটনাটি তার মাকে জানালে মেয়েকে মা উল্টো শাসিয়ে চেপে যেতে বলে। কোন উপায় না পেয়ে পরে মেয়ে তার মামাদের জানালে তাদের সহায়তায় কুষ্টিয়া সদর থানায় এসে সৎ পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ জমা দেন। মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে সৎ পিতা দিলু সরকারকে আটক করে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়। যার মামলা নং-২৩ তারিখ ১৯/০৯/২০১৮ইং।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এদেশে প্রতিটি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে স্ব স্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনসহ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, কোন গোষ্ঠী বা দল যাতে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিমূলক বা উস্কানিমূলক পোস্ট, ভিডিও প্রচারকারীকে সনাক্ত করার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার জন্য সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল গঠনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘিœত করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিবাদ বা আন্তঃকোন্দল রয়েছে এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ যাতে কোনরূপ সহিংস ঘটনা না ঘটাতে পারে সে বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাাের্থ সকল সম্প্রদায়ের জনসাধারণকে সমানভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালনা কমিটি, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিদের সাথে পৃথক পৃথকভাবে সভা করে আইন-শৃংখলা রক্ষাসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এর কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের

কুষ্টিয়ায় বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীর জামিনে মুক্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীর জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবিরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানী শেষে কুষ্টিয়া জেলা দায়রা জজ আদালতে বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। বিকালে জেল গেট জামিনপ্রাপ্ত সব আসামি মুক্তি পান। জামিন প্রাপ্তরা হলেন জলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর কাউন্সিলর মহিউদ্দীন চৌধুরী মিলন, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মফিজুর রহমান উজ্জল ও জেলা কৃষকদল নেতা দুলাল, জেলা ছাত্রদলের সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন দিবস, বিএনপি কর্মী আব্দুল হান্নান, রবিউল ইসলাম ও রেজউয়ান আলী। গত ৩১ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় আসামি ২১ নেতাকর্মীকে আসামি করে নাশকতার মামলা করে পুলিশ। ওই রাতেই পুলিশ নেতাকর্মীদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশকিছু ককটেল উদ্ধার দেখায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, নাশকতার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয়ার সময় তাদের আটক করা হয়েছিল। ওই মামলায় জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর থানার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিপ¬বকে আসামি করে পুলিশ। বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন দমন করতেই নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। যাতে তারা মাঠে নামতে ভয় পায়।

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফা হত্যা

গঞ্জেরাজ পরিবহনের বাসের চালক মহিদ দুই দিনের রিমান্ডে

নিজ সংবাদ ॥ শিশু আকিফা হত্যা মামলার প্রধান আসামী গঞ্জেরাজ পরিবহনের বাসের চালক মহিদ মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বেলা পৌনে বারটায় কুষ্টিয়া জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম এম এম মোর্শেদ শুনানী শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার বঙ্গেশ্বরদী এলাকা থেকে মহিদকে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।কুষ্টিয়া আদালতের সদর জিআরও শাখা সূত্র জানায়, গত রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন কাদেরী মহিদকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আজ বুধবার সকালে রিমান্ড শুনানী হয়। দীর্ঘ শুনানী শেষে জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম এম এম মোর্শেদ দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।কুষ্টিয়া আদালতের জিআরও শাখার উপপরিদর্শক আজাহার আলী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফয়সাল গঞ্জেরাজ নামের বাসটি গত ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড় এলাকায় ওই শিশুসহ তার মাকে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে আকিফা গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। মামলায় বাসের মালিক, চালকসহ তিনজনকে আসামি করা হয়ে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কাদেরী। এ ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক মো. জয়নাল আবেদীনকে (৬৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে র‌্যাব। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে একই সময়ে গঞ্জেরাজ বাসের চালক মহিদ মিয়া আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁদের দুজনের আইনজীবী আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন দেন। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন কাদেরী মামলাটি ৩০২ ধারায় সংযোজন করার জন্য একই আদালতে আবেদন করেন। আবেদনটি আদালত মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালতের উপপরিদর্শক আজহার আলী বাসের মালিক ও চালকের জামিন আদেশ বাতিলের আবেদন করলে আদালত তাঁদের জামিন আদেশ বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব মহিদকে গ্রেপ্তার করে।

অস্বচ্ছল সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্বাধীনতার পর সমস্ত সাংবাদিককে কিন্তু সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন জাতির জনক

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকতা পেশাকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহারের আহবান জানিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে কখনও বালকসুলভভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু এটাকে বালখিল্যভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং সবারই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।’ দেশের জন্য কল্যাণজনক হবে এমন ভূমিকাই গণমাধ্যমের পালন করা উচিত, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট হতে অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। জাতির পিতা সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি স্বাধীনতা ভালো। তবে, এখানে একটা কথা আছে- স্বাধীনতা ভাল তবে তা বালকের জন্য নয়। কাজেই এ ধরনের বালখিল্য ব্যবহার যেন কেউ না করে সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, অন্তত গঠনমূলক দায়িত্বশীল ভূমিকাটা পালন করা যেটা দেশের কল্যাণের কাজে লাগবে। এটা হচ্ছে বাস্তবতা, আমি আশা করি নিশ্চয়ই সেটা আপনারা অনুভব করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-এর নির্বাচনে দিন বদলের যে অঙ্গীকার করেছিলাম, আমি মনে করি নিশ্চয়ই আপনারা এটা স্বীকার করবেন আজকে মানুষের দিন বদল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে দেখার, জানার জন্য জীবনে যতরকম ঝুঁকি নেওয়ার নিয়েছি এবং সুযোগ পেলে কিভাবে করবো সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি বলেই আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকে আমরা মহাকাশও জয় করেছি, সমুদ্র সীমানা ঠিক করেছি আবার স্থল সীমানা চুক্তির বাস্তবায়ন করেছি। যাই করেছি তাঁর শুরুটা করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। এই সময়ে জাতির পিতার সাড়ে ৩ বছরের শাসনে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত প্রদেশকে একটি দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এত পরিমাণ কাজ তিনি সম্পাদন করেছেন যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী । জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে যাওয়াই তাঁর কর্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার পক্ষে, বিপক্ষে মিডিয়ায় কে কি লিখলো, না লিখলো আমি চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি আমি যে কাজটা করছি সেখানে নিজের আত্মবিশ্বাসটা আছে কি না, সঠিক করছি কি না, নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই আমি চলি। গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকরা এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দু:স্থ জনগণের কথা, বিপন্ন জনমানুষের কথা তুলে আনেন ফলে সরকারের তাঁদের পাশে দাঁড়াতে সুবিধা হয়। সকলের কথা বলার এবং মত প্রকাশের অধিকার থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথা বলার স্বাধীনতা এটা সকলেরই আছে। সংবাদপত্র, সাংবাদিকদের স্বাধীনতার কথায় আমরা সব সময় বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘এটা কেউ বলতে পারবে না যে কারো গলা টিপে ধরেছি, কারো মুখ টিপে ধরেছি অথবা কাউকে বাধা দিয়েছি- দেইনি, দেই না। বরং সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করেছি।’ অন্যান্য পেশাজীবীদের মত সাংবাদিক কল্যাণকে তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দেয় উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সাংবাদিক কল্যাণে তাঁর সরকার ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ স্থাপন করে এর অওতায় অসুস্থ, অস্বচ্ছল,আহত এবং নিহত সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অনুদান দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরো ২০ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তথ্য সচিব মো. আব্দুল মালেক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মহাপরিচালক শাহ আলমগীরও অনুষ্ঠানে বক্তৃ তা করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (ডিইউজে) আবু জাফর সূর্য এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে একটি টেলিভিশন এবং একটি রেডিও পেয়েছি। এরপর আমরা বেসরকারি খাতে টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দেই। সংবাদপত্র এবং রেডিও যে যেভাবে চেয়েছে আমরা অনুমোদন দিয়েছি। এর উদ্দেশ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা, বলেন তিনি। সরকার প্রধান বলেন, আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি সাংবাদিকদের জীবন কেমন। তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। বেতনেরও নিশ্চয়তা কম। এ কারণে, আমি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি। সংবাদপত্র-টেলিভিশনে কখনো ভালো প্রচার পাননি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হতে পারে সেখানে যারা মালিক হয়তো তাদের কারণে। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা সম্পর্ক সব সময় রয়েছে।’ সংবাদপত্রের সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, ছাত্র জীবন থেকে জাতির পিতার সংবাদপত্রের সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। প্রথমে ইত্তেহাদ নামে একটা পত্রিকা, তার আগে ছিল মিল্লাত নামে একটা পত্রিকা। এরপর ইত্তেফাক বের হলো। তিনি কিন্তু সবসময় এসব পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নিজের হাতে ইত্তেফাক বিক্রি করার কাজও করেছেন এবং পূর্ববঙ্গের পক্ষ থেকে তিনি এসব পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করতেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর পিতার সম্পর্কে বলেন, তিনি যে সংবাদপত্রের লোক ছিলেন সেটা কিন্তু তাঁর আত্মজীবনীতে স্পষ্ট লেখা আছে। সেদিক থেকে আপনারা আমাকে যদি আপনাদের পরিবারের একজন মনে করেন আমি খুশি হবো। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকালে এক কাপ চা ও একটি পত্রিকা যে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষ রাখে না। টেলিভিশন বন্ধ রেখে সকালে পত্রিকা নিয়ে বসি। সব পত্রিকা যে পক্ষে লেখে, তা নয়। প্রয়োজনীয় সংবাদগুলো মার্ক করি। সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলি। সংবাদপত্র থেকে অনেক তথ্য পাই। দুর্গম জায়গার অনেক তথ্যও সংবাদপত্রে আসে। তাতে আমরা সহযোগিতা পাই। এ জন্য সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যার পর এ দেশের মানুষের কথা বলার অধিকারটুকু পর্যন্ত হরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সব সামরিক শাসকেরই এই চরিত্রটা থাকে, তারা ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতিবিদদের গালি দেন এবং এরপর তারাই উর্দি খুলে রাজনীতিবিদ সেজে যান। যার কুফল ভোগ করেন দেশের আপামর জনসাধারণ। আর সুফল ভোগ করে তাদের সাথে যারা যোগ দিতে পারে সেই মুষ্টিমেয় একটা এলিট শ্রেণি। সেটাই ছিল বাংলাদেশের ভাগ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু স্বাধীনতার সুফল কিন্তু তখনও মানুষের দ্বারে পৌঁছাতে পারেনি। কারণ, তখনকার ক্ষমতাসীনরা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো না। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, স্বাধীনতার বিরোধিতা করাই ছিল তাদের কাজ। যার ফলে বাংলাদেশের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড যেগুলো দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে জাতির পিতা শুরু করেছিলেন সেসব বন্ধ হয়ে যায়। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের প্রতি জাতির পিতার আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আপনারা জানেন, স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানীরা পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর সমস্ত সাংবাদিককে কিন্তু সরকারি চাকরির মর্যাদা দিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন জাতির জনক। তাদের অনেককে সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন। এই সুযোগ দেয়ার জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছিল। যদিও সেই কমিটির সদস্যরা পঁচাত্তরের পর সবচেয়ে বড় সমালোচক হয়েছিল।’ আবাসন সমস্যা নিয়ে সাংবাদিক নেতাদের সহযোগিতা চাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আবাসনের সমস্যার কথা উঠেছে। বিষয়টি আমি জানি। আমি যখন ন্যাম ফ্ল্যাট করেছি তখন বলেছিলাম কিছু ফ্ল্যাট থাকবে যেটা হায়ার পারচেজে সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক তারা নিতে পারবেন। যে কোন কারণেই সেটা আর হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কিছু ফ্ল্যাট করছি যেটা সামান্য টাকা দিয়ে, যেটা কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করে এই ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন। যারা চান তারা হতে পারবেন। ভাড়া থেকেই মূল্যটা পরিষদ হবে। প্রতি মাসে ভাড়া হিসেবে যেটা হবে সেটা মূল্য হিসেবে ধরা হবে। সেভাবে আমরা ফ্ল্যাট দিতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্লট দেওয়া হয়েছে, তখন সাংবাদিকদের অনেকে পেয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে ওভাবে প্লট না দিয়ে আমরা যদি ক্লাস্টার করে দিয়ে দিতাম। অনেকে মিলে হয়তো বাড়ি করতে পারতো।’ অনুষ্ঠানে মোট ১১৩ জনের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এক মাসে দেশে অনেক পরিবর্তন আসবে – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ আগামী এক মাসের মধ্যে দেশে অনেক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস আছে। এই এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অনেক কিছুতে পরিবর্তন আসবে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা-বার্তা বলছে সেটা ইমাজেনারি, এটা তাদের নিজেদের ইনভেন্টেড। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছু নেই। তাদের নিজেদের খেয়াল খুশি মতো করবে। আসলে ওই নির্বাচনকালীন সরকারে তারাই থাকবে।” বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘ভোটাধিকার, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার: বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে সংবিধানের বাইরে গিয়েই নির্বাচকালীন নিদর্লীয় সরকার গঠনে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মওদুদ। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের যে রূপরেখা দেব নির্বাচনকালীন সরকারের জন্যে তার উপর ভিত্তি করে আজকে সমস্ত জাতির ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছেছে যে, আগামী নির্বাচন হবে একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এটা যদি সংবিধান থেকে বেরিয়ে এসে করা হয় তাতে কোনো অসুবিধা নাই। সংবিধান কোনো বাধা নয়। সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। আমরা এই ব্যবস্থাকে আবার  বৈধ্তা দিতে পারব আগামী সংসদে নির্বাচনের পর পরবর্তি সংশোধনী এনে।” কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার ছলচাতুরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। “বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। সরকার একটি মেডিকেল বোর্ডে করেছে। এই বোর্ড গঠনটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না। ৫ জন সদস্যের মধ্যে একজন আছেন বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকী ৪ জনের মধ্যে তিনজন একেবারে তরুণ, তারা আওয়ামী লীগ করেন, তারা শুধু পদ-পদবীতেই নয়, তারা আওয়ামী লীগের এক্টিভিস্ট। “মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন বলছে, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করার যেতে পারে। যদি ঝুঁকিপূর্ণ না হয় উনি হাসপাতালে যাবেন কেন? সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে ছলচাতুরি করছে, যে ষড়যন্ত্র করছে, এর জবাব একদিন সরকারকে দিতে হবে, দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। এ বোর্ডের স্ববিরোধী প্রতিবেদন দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” সরকারি চাকরির কোটা পর্যালোচনায় গঠিত ‘উচ্চ পর্যায়ের কমিটি’ নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোনো কোটা না রেখে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালুর যে সুপারিশ করেছে, সেটিকেও প্রতারণা বলেন মওদুদ। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য কোটা থাকবে না। কোটা আন্দোলনকারীরা সরকারি সকল চাকরির কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছিল। আজকে যে রিপোর্ট বেরিয়েছে এই ধরনের সংস্কার তারা চায়নি। এটা একটা প্রতারণা। কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে একটা বিশ্বাসঘাকতার পরিচয় দিয়েছে। এটা পুনর্বিবেচনা করা উচিৎ।” আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমীন, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

দৌলতপুর প্রেসক্লাবে ‘সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা’ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রেসক্লাবে ‘সরকারের অগ্রগতি, সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা’ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দৌলতপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি, বিভিন্ন সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও দৃশ্যমান তথ্য উপস্থাপন করেন, কুষ্টিয়া জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান। প্রেস ব্রিফিংয়ে সংশি¬ষ্ট বিষয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এ্যাড. এমজি মাহমুদ মন্টু, যুগ্মআহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক খন্দকার জালাল উদ্দিন, সাইদুল আনাম ও আহমেদ রাজু। এসময় দৌলতপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা এম মামুন রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক মোশারফ হোসেন খান, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুল আলম, আহাদ আলী নয়ন, সাইদুর রহমান, এস এম জাহিদ হোসেন ও আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। আজ দৌলতপুর কলেজ মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এ বিষয়ে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে বলে জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের আমন্ত্রন জানান ও অবগত করেন।

নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ড. কামাল

ভালো সংসদ নির্বাচন করতে জনগণকে ঐক্যে শামিল হতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘জনগণ যাতে গণতন্ত্রের সুফল ভোগ করতে পারে, এ জন্য ঐক্য করেছি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি ভালো সংসদ নির্বাচন করতে বাংলাদেশের জনগণকে এ ঐক্যে শামিল হতে হবে।’ খুলনায় আয়োজিত জনসভায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় যশোর প্রেসক্লাবে নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ড. কামাল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের সেবকমাত্র। তারা যদি সেটা না বোঝে, তাহলে নাগরিককে মালিকের ভূমিকায় আসতে হবে এবং সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে। জনগণের দায়িত্ববোধও আছে। এটাকে মনে রেখেই মত প্রয়োগ করতে হবে, যাতে এ দেশে শাসনব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতিÑ সবকিছু যেন জনস্বার্থে ও জাতীয় স্বার্থে হয়।’ ঐক্য প্রক্রিয়ায় আহ্বায়ক বলেন, ‘দেশব্যাপী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আমরা বের হয়েছি। এটা কোনো দলীয় লক্ষ্যে নয়, সংবিধানে দেওয়া অধিকারের জন্যই। ফলে দেশের মালিককে তাদের অধিকার রায় সক্রিয় হতে হবে।’ মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুর নূরসহ যশোর জেলার নেতারা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে সকাল সাড়ে আটটায় নেতারা যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে যশোর প্রেসক্লাবে যান। সেখানে তাঁরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন প্রেস বিফ্রিং করেন।

অসুস্থ সৈয়দ আশরাফকে ছুটি দিল সংসদ

ঢাকা অফিস ॥ অসুস্থ হয়ে থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছুটি মঞ্জুর করেছে জাতীয় সংসদ। সৈয়দ আশরাফের পক্ষে প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ ছুটির আবেদন করলে মঙ্গলবার সংসদে ভোটে তা মঞ্জুর করা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে সংসদের পরবর্তী ৯০ বৈঠক পর্যন্ত তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সংসদে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের পর সৈয়দ আশরাফের ছুটির আবেদনের প্রসঙ্গটি তুলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি তুলে ধরে বলেন, কোনো সদস্যের অনুপস্থিতির জন্য ছুটির আবেদন করলে তা সংসদে পাঠ করে শোনানোসহ বিতর্ক ছাড়া ভোটে দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিধি অনুযায়ী স্পিকার আবেদনপত্রটি হাউজে পড়ে শোনান এবং সৈয়দ আশরাফের ছুটির বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করতে সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত সংসদে এরকম ৫ জন ছুটি নিয়েছেন বলে জানান স্পিকার। আবেদনপত্রে বলা হয়, সৈয়দ আশরাফ হাসপাতালের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ইউনিটে’ ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসায় আরও ‘অনেকদিন সময় লাগবে’। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসেন। পরে কাউন্সিলে দলের সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। টানা দুই মেয়াদে সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর এখন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীতে রয়েছেন তিনি। গত বছর স্ত্রী শিলা ইসলামকে হারান ৬৮ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ। তারপর থেকে তিনি নিজেও অসুস্থতায় ভুগছেন।

১৭নং ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজে

নিজ সংবাদ ॥ স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে আর পৌরসভায় নয় পাওয়া যাবে কেএসএম ঢাকা-মিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ। আগামী ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়ে বিরতিহীনভাবে এই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর ১৭নং ওয়ার্ডের ঢাকা, ঝালুপাড়া ও ফুলবাড়িয়া এলাকার ভোটারদের মাঝে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। পরদিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর মিনাপাড়া ও জগতি কলোনী এলাকার ভোটারদের মাঝে প্রদান করা হবে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র।

সম্প্রতি ১৭নং ওয়ার্ড এলাকার মানুষের দাবীর প্রতি সন্মান দেখিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ১৭নং ওয়ার্ড এলাকায় স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে  কেএসএম ঢাকা-মিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত সম্বলিত একটি চিঠি ইস্যূ করেন।

এবিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম জানান এলাকার মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নির্দেশে ১৭নং ওয়ার্ডে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে কেএসএম ঢাকা-মিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় ১৭নং ওয়ার্ডবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় ১৭নং ওয়ার্ডবাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম লতিফ বলেন ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এধরণের সিন্ধান্ত নেয়ায় আমরা ওয়ার্ডবাসী মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক হালিমুজ্জামান জানান ১৭নং ওয়ার্ডবাসীকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন করতে কুষ্টিয়া পৌরসভায় যেতে অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি অনেক দুর্ভোগ  পোহাতে হতো। এমন দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সাথে আলোচনা করে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে ১৭নং ওয়ার্ডে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

পোড়াদহে ফেন্সিডিলসহ যাত্রীবেশী যুবতী আটক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে ট্রেন থেকে ভারতীয়  ফেন্সিডিলসহ যাত্রীবেশী এক যুবতী মহিলাকে আটক করেছে পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। থানা সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পুলিশের ট্রেনে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার পোড়াদহ রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্য মোল্যা আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে এস আই আবুল হাশেম এবং এ এসআই সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এক মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। বেলা সাড়ে ১২টার সময় খুলনা হতে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পোড়াদহ  রেলওয়ে ষ্টেশনের ১নং প্লাটফর্মে পৌছালে একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।  এ সময় ট্রেনের মধ্যে ছিটে বসে থাকা তানিয়া আক্তার রিয়া (২৭) নামের যাত্রীবেশী যুবতীর লাগেজে তল্লাশী চালানো হয়। এসময় তার লাগেজ থেকে ৪৮ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবতী ঢাকার পল্লবী থানার বাসা নং ১৬, ডি-ব্লক, মিরপুর -১১ এর বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম  খোকন  এবং পিতার নাম মকবুল হোসেন। এ ব্যাপারে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে, যার নং-৩, তারিখ ১৮-৯-২০১৮ ইং। থানার অফিসার ইনচার্য মোল্যা আফজাল হোসেন জানান,বিভিন্নভাবে ট্রেনে মাদক চোরাচালান হচ্ছে। তাই ট্রেনে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী যেই  হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আটককৃত মহিলা একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। যাত্রী বেশে সে মাদক পাচার করছিলো।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলের বিধান বাতিল সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি আবেদন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অক্টোবরে তফসিল ঘোষণার তোড়জোড়ের মধ্যে এইিআবেদনটি করেন ‘জনস্বার্থে’ বিভিন্ন মামলা করে আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আল আকন্দ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ারর বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি তিনিই করেছিলেন; তার সম্পূরক হিসেবে গত রোববার নতুন আবেদনটি হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। ইউনুছ আকন্দ বলেন, “আদালত বলেছেন, চলতি অবকাশের পর নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করতে।” সর্বোচ্চ আদালতে গত ১৬ আগস্ট শুরু হওয়া অবকাশ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নিয়মিত কার্যক্রম। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)’ সংশোধন করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করার বিধান যুক্ত হয়। ২০১৪ সালে বরিশাল-৫ আসনের উপনির্বাচনে সংশোধিত আরপিও’র ওই বিধানের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে না পেরে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ইউনুছ আকন্দ। তার আবেদনে ওই বছরের ১২ মে হাই কোর্ট রুল দিয়েছিল; যাতে ওই উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ১২-এর ক (৩ক) ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। জবাব তারা এখনও দেননি বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী ইউনুছ আকন্দ। এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে যে সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি, তাতে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা সহজ করার কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিরোধিতার বিষয়ে ইউনুছ আকন্দের যুক্তি দেখান, কোনো আসনে পাঁচ লাখ ভোটার থাকলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের তা লাগছে না। “ফলে আইনটি একদিকে যেমন বৈষম্যমূলক, তেমনি সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বেচানের তফসিল ঘোষণা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি।”

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১৭৫১ ডলার

ঢাকা অফিস ॥  বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার। এর মানে হলো, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা আয় করেন। তবে এটি কোনো ব্যক্তির আয় নয়। তবে মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক বা ব্যক্তিগত আয় নয়। এটি একটি দেশের মোট আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে মাথাপিছু আয় বের করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের চূড়ান্ত তথ্য জানান। পরিকল্পনা কমিশনে এনইসির সম্মেলনকক্ষে একনেক সভা হয়। চূড়ান্ত হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাজেটের আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছিল। এর ফলে পরপর তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করল বাংলাদেশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এর আগে বছরে (২০১৫-১৬) প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবাÑ এই তিনটি খাত ধরেই জিডিপি গণনা করা হয়। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে শিল্প খাতে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষি খাতে ৪ দশমিক ১৯ আর সেবা খাতে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। এখনো সরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিই চালিকা শক্তি। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, জিডিপি গণনাসহ পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি হালনাগাদ করতে পারলে আধুনিক উপায়ে জিডিপি গণনা করা যাবে। জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ এখন ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর অংশ ছিল ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। বর্তমানে জিডিপির আকার ২৭ হাজার ৪১১ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

ইন্দো-বাংলা পাইপলাইন নির্মাণের উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

ঢাকা অফিস ॥ জ্বালানি তেল আমদানির জন্য শিলিগুড়ি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়া ভারতীয় ঋণের টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের শিলিগুড়ির নুমালীগড় তেল শোধনাগার থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। এই পাইপলাইনের ১২৫ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে, আর ভারতের অংশে পড়েছে বাকি ৫ কিলোমিটার। ২২ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল সরবরাহ করা যাবে। তবে পাইপ লাইন তৈরি হয়ে গেলে প্রাথমিকভাবে বছরে আড়াই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ভারত থেকে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে তা চার লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। ৫২০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের গ্রান্ড এইড প্রোগ্রামের আওতায় পাওয়া যাবে ৩০৩ কোটি রুপি। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বাপেক্স) ১৫০ কোটি টাকার যোগান দেবে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পাইপ লাইন হয়ে গেলে তেল আমদানিতে পরিবহন খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন খরচ হয় ৩ ডলারের মত। সেই তেল চট্টগ্রামে শোধন করে সড়কপথে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তেল পরিবহনে খরচ হয় ব্যারেলপ্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার। ফলে পরিবহন ব্যয় দাঁড়ায় সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ ডলার।  আর ভারত থেকে পাইপলাইনে পরিশোধিত তেল এনে দেশের উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করতে পরিবহন ব্যয় হবে সাড়ে ৫ ডলারের মত। ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে এই পাইপলাইন নির্মাণের আলোচনা শুরুর পর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গত বছরের আগস্টে দুই দেশের সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন করলে নির্মাণ কাজ শুরুর প্রস্তুতি শুরু হয়। ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত সরকার ঋণ হিসেবে দেবে ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। আর বাংলাদেশ সরকার ২০৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকার যোগান দেবে। রেল কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি পরিমাণ ট্রেন চালুর লক্ষ্যে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, টঙ্গী-জয়দেবপুর হয়ে উত্তরাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও দ্রুততর হবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স-কল্পতরু যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজ করবে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় এমব্যাংকমেন্টসহ ৯৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মিত হবে। এছাড়া ২৫টি কালভার্ট, ছয়টি প্লাটফর্ম, ছয়টি প্ল্যাটফর্ম শেড, ১২টি ফুটওভার ব্রিজ, চারটি স্টেশন ভবন এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, ভারতের পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র্র প্রধান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং রেলওয়ের দুটি প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইভিএম কেনার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা ও সংরক্ষণের প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচনী আইন সংশোধনে প্রস্তাব পাঠানোর পাশাপাশি এই প্রকল্পটিও অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠায় সাংবিধানিক সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে হলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল  সংসদ নির্বাচনে এখনি যন্ত্রে ভোটগ্রহণের বিরোধিতা করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক সভায় ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে ধীরে চলার কথা বলেন। পরিকল্পমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন, এটা ধীরে ধীরে ব্যবহার করতে হবে। আগে প্রশিক্ষণ নেন, শিখেন, শিখান; তারপরে ব্যবস্থায় যান। পর্যায়ক্রমে আস্তে আস্তে ব্যবহার করার জন্য তিনি বলেছেন।” ইভিএমের ঘোরবিরোধী বিএনপি দাবি করেছে, প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় ইভিএম কেনার এই প্রকল্পে লুটপাট হবে। মুস্তফা কামাল বলেন, “তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহার না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।” ইভিএম ব্যবহারের আগে জনগণকে সচেতন করার উপর জোর দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শহরের মানুষ আর গ্রামের মানুষ এক রকম না। গ্রামের মানুষ তো কেউ কেউ মনে করে যে মেশিনে যদি টিপ দেই, জায়গা জমি নিয়ে যাবে। এ ধরনের হাঙ্গামায় যাওয়ার এখন সময় নেই।” প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আরবান এলাকার মানুষজন শিক্ষিত, তারা জানবেন এ পদ্ধতি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়’। তিনি বলেছেন, লিমিটেড স্পেসে আরবান এলাকায় প্রথমে ব্যবহার করুন। এরপর গ্রাজুয়ালি সারা বাংলাদেশে আস্তে আস্তে এর বিস্তার করবে। স্থানীয় নির্বাচনে এখন ব্যবহার হচ্ছে; জাতীয় নির্বাচনের জন্য আরপিও সংস্কার করতে হবে;  এরপর কমিশনই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

ইবিতে বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ, বিদায়ী ও মেধাবীদের সংবর্ধনায় ড. সেলিম তোহা

ফরিদপুরের প্রতি আবেগ, বিশেষ অনুভুতি, চেতনার জায়গার সূত্রপাত যে ব্যক্তিকে ঘিরে সেই মহান ব্যক্তি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করায় বৃহত্তর ফরিদপুরবাসি অত্যন্ত ভাগ্যবান। তিনি বলেন, কুষ্টিয়াতে আমি জন্মগ্রহণ করায় কুষ্টিয়া আমার প্রিয় জেলা হলেও ফরিদপুরকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। কারণ এ জেলার পবিত্র মাটিতে জন্ম নিয়েছেন এবং চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি মনেকরি এ জেলাটি শুধু আমারই প্রিয় নয়, কোটি কোটি মানুষের প্রিয় এবং শ্রদ্ধার জেলা বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলার প্রতি আমার আবেগ, বিশেষ অনুভুতি,  আদর্শ, চিন্তা, চেতনার জায়গার সূত্রপাত যে ব্যক্তিকে ঘিরে, সেই মহান ব্যক্তি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি বলেন, আমরা যে জেলায় বসবাস করি, আমাদের সেই মাতৃভূমি যেমন আমাদের কাছে প্রিয়, ঠিক তেমনি এ দেশটিও আমাদের সকলের কাছে অতি প্রিয়। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে, যে রাষ্ট্র আমাকে এত ভালবাসে, যে রাষ্ট্র আমাকে মানুষ হওয়ার জন্য অনেক কিছু দেয়, আর আমরা  যখন মানুষ হয়ে উঠি ঠিক তখনি বেমালুম ভুলে যায় সেই রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের ভালবাসা, প্রেম, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ তোমরা যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছো, তোমরা একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা করলে দেখতে পাবে তোমাদের সাথে তাদের ব্যয়ের ব্যবধানটা কত বেশি। তোমাদের ব্যয় কম হওয়ার কারণ হচ্ছে তোমরা এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় লেখাপড়া করো। অথচ হয়তোবা তোমরাই একদিন বিদেশে গিয়ে দেশের কথা ভুলে যাবে। এ ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তিনি  আরও বলেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ। বড় ত্যাগ, বড় সংগ্রামের পরে অর্জিত হয়ে আজকের এই রাষ্ট্র। আজ তোমরা বড় আনন্দের সময় পার করছো যার জলন্ত উদাহরণÑ পাকিস্তানের নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন বলে পাকিস্তানীকে সুইডেন বানানো যায়, ঠিক তখনি পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবি এবং জনগণ তাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাকিস্তানকে সুইডেন বানানোর দরকার নেই, আমাদের বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বানিয়ে দাও। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে আমরা কত গর্বের জায়গায় পৌঁছে গেছি। তিনি বলেন, সেই গর্বের জায়গাকে আরও এগিয়ে নিতে তোমরাই পারবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ এবং ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ দেখার যে স্বপ্ন গড়েছেন সেই স্বপ্ন তোমাদেরকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এজন্য তোমাদের মনোবল এবং আদর্শিক শক্তি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। এ আয়োজন করায় আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ড. সেলিম তোহা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির আয়োজনে নবীনবরণ, বিদায়ী ও মেধাবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. সেলিম তোহা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তৃতা করেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন। বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি শিবলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শরীয়াহ্ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও ফরিদপুর টাইমস্ ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম জিল্লু, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. সাইবুর রহমান মোল্যা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্লা ও বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ইমদাদুল হক সোহাগ। খালিদ হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মন্ডল। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন, বিদায়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মধ্যদিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জামিনে থাকা সাবেক ৩ আইজিপিসহ ৮ জনের জামিন বাতিল

মামলার সকল আসামীর মোটিভ ছিল এক ও অভিন্ন

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা পৃথক মামলার রায় ও আদেশের জন্য আগামী ১০ অক্টোবর তারিখ ধার্য করা হয়েছে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ওই ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার আইনি পয়েন্টে আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করে আদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মামলায় জামিনে থাকা সাবেক ৩ আইজিপিসহ ৮ জনের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোরও নির্দেশ দেন। গতকাল আসামীপক্ষে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, এসএম শাহজাহান। আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের (আসামী) খালাসের আর্জি জানিয়ে তাদের যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। মামলার রায় ও আদেশের পূর্ব পর্যন্ত জামিনে থাকা আট আসামীর জামিন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা ৫ উপধারা অনুযায়ি ৮ আসামীর জামিন বাতিলের এখতিয়ার আদালতের। আট আসামীর পক্ষেও তাদের আইনজীবীরা জামিন বহাল রাখার বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ ও শুনানি শেষ হলে আদালত বলেন, দীর্ঘদিন বিচার কার্যক্রম শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে। রায় ও আদেশের জন্য ১০ অক্টোবর বুধবার দিন ধার্য করে আদেশ দেয় আদালত। আদালত বলেন, এ মামলায় আসামীগন তাদের আইনজীবী, গণমাধ্যম, আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যগনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা তিনি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। সুপ্রিমকোর্টের অনেক বিশিষ্ট আইনজীবী এ মামলা পরিচালনায় এ বিচারিক আদালতকে অলংকৃত করেছেন। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ মামলায় সম্পূর্ণ ঘটনাকে সামনে এনে আইনি ব্যাখ্যার আলোকে রায় ও আদেশ দেয়া হবে। এ সময় আদালত সকলের দোয়া কামনা করেন। বিচারিক কার্যক্রমে পদ্ধতিগত ক্রটি যেন না থাকে উল্লেখ করে আদালত, জামিনে থাকা ৮ আসামীর জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। রায় ও আদেশের তারিখ ধার্য হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসঁলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহের উর্ধ্বে থেকে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমরা প্রমান করতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শুন্য করার জন্য ২১ আগষ্ট হামলা ইতিহাসের সবচাইতে নৃশংস, জঘন্যতম ও বর্বরোচিত হামলা। নিরস্ত্র মানুষের ওপর আর্জেস গ্রেনেডের মতো সমরাস্ত্র ব্যবহার এ উপমহাদেশে আর নেই। তারা এ মামলার সাফল্যের মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।” তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড ও অর্থ সরবরাহের উৎস, ঘটনার চক্রান্ত, আলামত ধ্বংসের অপচেষ্টা, মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহে নিরিহ জজমিয়াকে সম্পৃক্ত করা, প্রশাসনিক সহযোগিতার সকল বিষয় সাক্ষ্য-প্রমান অন্যান্য ডকুমেন্টস আদালতে পেশ করেছে। সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা আইন অনুযায়ি আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড হবে।” রাষ্ট্রপক্ষের অপর কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এ মামলায় মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এতে ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা সম্পৃক্ত হয়েছেন। এখানে মামলা সব আসামীদের মোটিভই এক। তিনি আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড প্রত্যাশা করেন। ১১৯ কার্যদিবস শেষে মামলাটি এই পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৯০ কার্যদিবস। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি মো.আবু আব্দুল্লাহ্ ভ্ুঁইয়া, এডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত জিহাদ, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগষ্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩ আসামী হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামীর বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। আসামীদের মধ্যে ৪৫ জনের যুক্তিতর্ক পেশ করা হয়। প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য এডভোকেট ফারহানা রেজা বাসস’কে বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর পলাতক ১৮ আসামীর বিষয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিসহ সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। এরমধ্যে যাদের বিষয়ে আইনে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিল। এ আইনজীবীরা পলাতকদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। আসামীরা হলেন-মাওলানা তাজউদ্দিন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ব্যবসায়ী মো.হানিফ, মহিবুল মুত্তাকীন, আনিসুল মুরসালিন, মুফতি শফিকুর রহামন, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, জাহাঙ্গির আলম বদর, মো. খলিল, মো.ইকবাল, মাওলানা লিটন ও মুফতি আবদুল হাই। ফারহানা রেজা বলেন, পলাতক ১৮ জনের মধ্যে চারজন আসামীর বিষয়ে “রাষ্ট্র নিযুক্ত” আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা হচ্ছেন-আসামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা এটিএম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান খান ও খান সাঈদ হাসান। এ চার আসামীর আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা তথা মৃত্যুদন্ড হতে পারে এমন কোন ধারায় অভিযোগ গঠন হয়নি। তাই তারা ‘স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী’ সুবিধা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, গ্রেফতার ও পলাতক মিলিয়ে মোট ৪৫ আসামীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষে সাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। বিচারের মুখোমুখি থাকা ৪৯ আসামির মধ্যে এতাদিন জামিনে ছিলেন-বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। আজ তাদের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় উল্লেখ্য, এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা (প্রয়াত) আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এই মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এই মামলার অভিযোগপত্রে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যোগ হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দেশের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন। এ হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। তিনি যেভাবে চালাতেন, সেভাবে কাজ হত। তার আশ্বাস ও সহযোগিতায় ২১ আগষ্ট হামলায় প্রশাসনিক সহাযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। এ মামলার সকল আসামীর মোটিভ ছিল এক ও অভিন্ন।

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইয়াবাসহ টুটুল (২৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। সোমবার রাতে উপজেলার গোবরগাড়া গ্রাম থেকে তাকে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। সে একই গ্রামের পিরু মোল¬ার ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের গোপন সংবাদ পেয়ে ওইদিন রাত ১০টার দিকে সদর ইউনিয়নের গোবরগাড়া গ্রামের হোসেন আলীর দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী টুটুলকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে।