ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকশালের প্রেতাত্মা – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে’ বাকশালের প্রেতাত্মা বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে ও গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে গতকাল (গত বুধবার) ভোটারবিহীন সংসদে বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলো। এটি সংবিধানবিরোধী একটি আইন। কারণ এটি সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করেছে। এই কালো আইন বাকশালেরই প্রেতাত্মা। আমি এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে দেশবাসীসহ সকল গণমাধ্যমের কর্মী ও মুক্তচিন্তার মানুষদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) গঠন করেন তিনি; চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্য সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, গণমাধ্যমসহ যে কোনো মাধ্যমইে যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয় সেজন্য এই ন্যাক্বারজনক কালো আইন তৈরি করা হয়েছে। এই আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লো। কারণ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এখন বিনা ওয়ারেন্টে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অফিস ঢুকে তল্লাশির নামে তা-ব চালাতে পারবে, কম্পিউটারসহ সকল কিছু সীজ করতে পারবে, যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাধারণ মানুষও এই কালো আইনের থাবা থেকে রেহাই পাবে না। গত বুধবার জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। এই আইনের ৩২ ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট প্রয়োগ করে সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে সংগৃহিত তথ্যকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অপরাধ সংঘটন ও সংঘটনে সহায়তার দায়ে ১৪ বছরের কারাদন্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে ৫দিনের রিমান্ডে নেওয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর বাসায় ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর বাসভবনে পুলিশি তল্লাশির ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী। নাটোর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আলম আবুল ও জেলা ছাত্র দলের সভাপতি কামরুল ইসলামসহ ৭ জনকে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের জনসমক্ষে হাজির করারও দাবি জানান তিনি। কয়েকটি গণমাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সংবাদকে ‘বানোয়াট ও আজগুবি’ বলে অভিহিত করে এই ধরনের সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান রিজভী। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় আগামি ১০ অক্টোবর রায় দেওয়া হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশারই অংশ। রায় প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা বলছেন, এ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি বিপাকে পড়বে। তার মানে, সরকার জানে কী রায় হতে যাচ্ছে অথবা সরকারই ২১ আগস্ট মামলার রায় লিখে দিচ্ছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওই সময়ে যাদের কম বয়স ছিল, এখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিলন স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে ২১ আগস্ট ২০০৪ মুক্তাঙ্গনে সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। পুলিশের কাছে প্রেরিত আবেদনের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট ২০০৪ মুক্তাঙ্গনে সভার জন্য ১৯ আগস্ট ২০০৪ পুলিশ লিখিত অনুমতি দেয়। ২১ আগস্ট জনসভার জন্য মুক্তাঙ্গনের পাশে যথারীতি ব্যাপক পুলিশ নিয়োগ করা হয়। দুপুর ১টায় সভাস্থল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থানান্তর করা হয়। এতে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা হতবাক হন। আকস্মিক সভাস্থল পরিবর্তনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুলিশ ডেপ্লয়মেন্ট হওয়ার আগেই’, যোগ করেন রিজভী। এ সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও সরকার তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। বরং তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মারার চক্রান্ত করছে। আমরা অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, তৈমুর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু ও মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী ইমরান গ্রেপ্তার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর অস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী ইমরান হোসেন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যার পূর্বে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ব্যাঙ্গগাড়ী মাঠ মোড়ে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরী বন্দুক ও বন্দুকের ২ রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। সে তেকালা পূর্বপাড়া গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্গগাড়ী মাঠে সন্ত্রাসী ইমরান হোসেন সশস্ত্র অবস্থানের গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে। সন্ত্রাসী ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটানো ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অপরদিকে বুধবার রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলামকে ১০পিচ ইয়াবা এবং রিফায়েতপুর ইউনিয়নের বিন্দিপাড়া গ্রামের সরাতুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজকে টিফিন বাটি ভর্তি ৫’শ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পৃথক সব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

হরিপুর নদী ভাঙ্গনের স্থায়ী সমাধানের আশস দিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ও পানি সম্পদ সচিব

কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর উজানে গড়াই নদীর বাম তীর ধ্বসের ফলে সদর উপজেলার ১নং হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এই সেতুসহ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড হাটশ হরিপুর গ্রামের প্রায় ২হাজার বসত ভিটাসহ গোটা জনপদের মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাস্তা-ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শংকা এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে আজকের জনবসতি আগামীতে নদীর স্রোত প্রবাহে ভেসে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরায় এর স্থায়ী সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান। নদী রক্ষা ও ভাঙ্গন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব হাসাান আলী জানান, ক্রটিপূর্ণ/অসম্পূর্ণ ডিজাইনে নির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতু’র উজান থেকে গড়াই নদীর বাম তীর ভেঙ্গে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি দ্রুত এই সেতু’র অপরিহার্য অনুষঙ্গ নির্ধারিত  দৈর্ঘ/প্রস্থের অসম্পূর্ণ ডিজাইন সংযোজনসহ নদীর বামতীরে ৮৮৬.৫ মিটার রিভার্টমেন্ট প্রটেকশন জরুরী ভিত্তিতে নির্মান করা না হলে গড়াই নদী বাম তীর ভেঙ্গে সেতুর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনিয়নের ২নং হাটশ হরিপুর ওয়ার্ডের জন বসতিসহ গোটা জনপদের মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাস্তা-ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং গতিপথ পরিবর্তনের ফলে আজকের জনবসতির উপর দিয়ে নদীর স্রোত প্রবাহ বইতে থাকবে। এতে বর্তমান অবস্থান নদীর মাঝখানে সেতু থাকবে কিন্তু এর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্যবহারযোগ্যতা হারাবে। বিশেষজ্ঞদের দেয়া এমন মতামতের ভিত্তিতে শংকিত ইউনিয়নবাসীর অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং নদী রক্ষা ও ভাঙ্গন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করলে উভয় দপ্তর দায় নিতে অস্বীকার করেন। মৃত্যুকুপে দাঁড়িয়ে শংকামুক্তির দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর, সকাল সাড়ে ১০ টায় ভাঙ্গন কবলিত নদী পাড়ে ইউনিয়নের সর্বস্তরের নারী-পুরুষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর, বৃহষ্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ^ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি চত্বরস্থ গীতাঞ্জলী অতিথি ভবনে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং নদী রক্ষা ও ভাঙ্গন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাধ পরিদর্শনে আগত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: মাহফুজুর রহমান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার মহোদয়ের সাথে কথা বলেন এবং সমাধানে যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদসহ বাস্তবায়নের আবেদনটি তুলে দেয়া হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহীনুজ্জামান ও কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমান, শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ উদ্দিন খান তারিক প্রমুখ।

সচিব ও মহাপরিচালকদ্বয় গুরত্বসহকারে আবেদনটি গ্রহণ পূর্বক আশ^াসই নয় রীতিমত কমিটমেন্ট করেন যাতে এবিষয়ে যথাযথ প্রকল্প গ্রহনসহ তা বাস্তবায়ন করা যায়। এসময় সচিব বলেন, এটার জন্য কোন একনেক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এটা মন্ত্রনালয় থেকেই করে দেয়া হবে। পরে শিলাইদহ রক্ষা বাধ পরিদর্শনকালে ধ্বসে যাওয়া সুলতানপুর কালোয়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুনিরুজ্জামান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খাঁনদ্বয়ের সামনা সামনি এবিষয়ে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তুতসহ তা প্রেরণের বিষয়েও কথা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আ. লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছে জাপা -এরশাদ

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে জাতীয় পার্টি ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছে বলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দিনের ব্যক্তিগত সফরে রংপুর এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছি। এর মধ্যে ৭০ আসন তো পেতে পারি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নিজে এবার তিন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানিয়ে বলেন, এর মধ্যে ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ রয়েছে। আর বাকিটা সময়ে বলে দেবে। জাতীয় ঐক্যে বিএনপির যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্যে যোগ দিলে কতটা শক্তিশালী হবে তা বলতে পারব না। তবে যদি বিএনপি আসে, আমি তো আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকব। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে মহাজোটকে কেউ হারাতে পারবে না। যতই জাতীয় ঐক্য হোক না কেন, তারা মহাজোটের ধারেকাছেও আসতে পারবে না। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, ইভিএম পদ্ধতি বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেনি। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এ কারণে আমি নিজেও ইভিএম পদ্ধতি পছন্দ করি না। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির এরশাদের সঙ্গে ছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য নতুন ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শক্তিশালী পদক্ষেপ ও সহযোগিতার আহ্বান জানাবেন, যাতে মিয়ানমার অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, আগের পাঁচ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। আজ শুক্রবার সকালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করে রোববার নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন। এবারের সফরে তিনি ৫০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। ব্যবসায়ীদের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও তার সঙ্গে যাবে। এর আগে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে সব রোহিঙ্গার টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংস অত্যাচারের কারণে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে অনেক বছর থেকে কক্সবাজারে বসবাস করত আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ওআইসির সদস্য দেশ এবং আরো অনেক দেশ রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটির দ্রুত সমাধান খুঁজে করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকালে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থনের জন্য ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রের পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এলে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এদিকে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি এ সঙ্কট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিউ ইয়র্কে দুটি পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে ‘নজির স্থাপন করায়’ প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবার ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এর আগে এ পুরস্কার পেয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে’ চ্যারিটেবল সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’-এর পরিচালনা পর্ষদ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড দেবে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘মেকিং দি ইউএন রিলেভেন্ট টু অল পিপল: গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিস ফর পিসফুল, ইকুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিস’। রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো এবারের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে গত বছরের ২৫ অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বাংলাদেশ বহন করে চলেছে কয়েক দশক ধরে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গতবছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠে নামছে গুজব শনাক্তকারী সেল

ঢাকা অফিস ॥ ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত গুজব মনিটরিং সেল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দেবে কোনটি গুজব, কোন সংবাদ ভুয়া। সেভাবে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের বিধিতে আনীত একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি ছিল-‘সংসদের অভিমত এই যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা এবং অরাজকতা প্রতিরোধ কল্পে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হোক। সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে বাপ্পি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি গুজবের তথ্যচিত্র সংসদে তুলে ধরেন। তবে মন্ত্রীর ব্যাখা প্রদানের পর তিনি তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে, নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করা হয়েছে এরকম হাজার হাজার গুজব ছড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত সব সময়ই এ ধরনের কাজ করে থাকে। ৩০০টি ভুয়া ফেইসবুক পেইজ তারা দেশের বাইরে থেকে কার্যকর রেখেছে। তবে যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। তাই বিটিআরসি এ ধরনের কনটেন্ট ফিল্টারিং করে থাকে। তাদের সহযোগিতা দিয়ে থাকে এনটিএমসি। তিনি আরো বলেন, ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন একটি প্রজেক্ট নিয়েছে যার মাধ্যমে দেশের ভেতর থেকে যেসব কনটেন্ট প্রবেশ করবে সেগুলো ফিল্টার করতে পারবে, এগুলো আইআইডি’র মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়। বিদেশের কনটেন্ট ফিল্টার করা খুব কঠিন হয়ে যায়। সেজন্য একটি প্রকল্প এবং ইকুইপমেন্ট হাতে নেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে যখন দেখেছি এ ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে- আমরা চিন্তা করেছি আর কী করতে পারি। আমরা এরইমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। তারানা বলেন, আমরা নিবিড়ভাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং আইসিটিতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখব। বিষয়টি সামনে রেখে আমরা দ্রুততার সাথে এক সপ্তাহের মধ্যে মনিটরিং নয়, গুজব শনাক্তের জন্য একটি সেল গঠন করে ফেলেছি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডিএফপি’র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার, সিনিয়র তথ্য অফিসার, ফিচার রাইটারদের নিয়ে সেল গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে ৬ জন তথ্য অফিসারও রয়েছেন। আশা করছি, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা অন্তত প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াকে জানিয়ে দিতে পারব যে এই সংবাদগুলো গুজব, ভিত্তিহীন; সেই তথ্যগুলো বিটিআরসিকে দিব। আর বিটিআরসি তখন ফেইসবুক, ইউটিউব, গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বৃহৎ কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য বিশাল টিম প্রয়াজন। আমাদের পিআইবিতে লোকবল সংকট রয়েছে। সেখানে লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট গ্র“পের দরকার রয়েছে। নীতিমালা করার প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু সামনে নির্বাচন তাই গুজব মোকাবেলা করার জন্য এবং সেটা যে গুজব তা জানিয়ে দেবার জন্য কোনো প্রজেক্ট হাতে নিতে চাচ্ছি না। কারণ, নির্বাচনের আগে গুজবের কারখানা আরও দ্রুতগতিতে গুজব তৈরি করতে থাকবে। কাজেই দ্রুততার সাথে যেন আমরা তৈরি হতে পারি, আমরা জানিয়ে দিতে পারি এটা গুজব। সেই জন্য গুজব শনাক্তকরণে আমরা সেল গঠন করে ফেলেছি। ওই টিম সকাল-বিকাল পালাক্রমে মনিটরিং সেলকে সহযোগিতা করবে। আমরা পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসলে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ সেল গঠন করব। দক্ষ জনবল নিয়ে সংবাদপত্রের পাশাপাশি ওই সেল তথ্য দেবে।

বাম জোটের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা

ঢাকা অফিস ॥ ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকার’ গঠনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের কর্মসূচি লাঠিপেটা করে পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ অভিযোগ করেছেন জোটের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের পর দুপুর দেড়টার দিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের একটি মিছিল আগারগাঁওয়ের ইসি কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করে। মিছিলটি কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে পৌছালে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। নেতাকর্মীরা বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জোটের শরিক সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, সার্ক ফোয়ারার কাছে গণতান্ত্রিক জোটের পদযাত্রা পৌঁছালে পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের উপরর লাঠিচার্জ করে। পুলিশের হামলায় জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও সিপিবি কেন্দ্রীয় নারী সেলের সদস্য লূনা নূরসহ অনেকে আহত হন। এদের মধ্যে সাইফুল হককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে রতন জানান। পরে প্রেস ক্লাবের সামনে জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্ন ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ বক্তব্য দেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে ‘নিরপেক্ষ তদারকি সরকার’ গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট। ইভিএম চালু ও ডিজিটাল ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা বন্ধ করা, প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে কঠোরভাবে তা মেনে চলতে বাধ্য করা, অনলাইনে মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার বিধান চালু করা, ভোটার ইচ্ছায় জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহার করা এবং ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সইয়ের বিধান বাতিল করা প্রভৃতি রয়েছে বাম জোটের অন্য দাবির মধ্যে। আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দল মিলে গত ১৮ জুলাই ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ যাত্রা শুরু করে।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই চলবে মামলার কার্যক্রম

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর আইনজীবীরা এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই আদেশ দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলা চালানো যাবে কি না, শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও আমিনুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০-এর এ ধারা অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবে বলে আদেশ দেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি উপলক্ষে সকাল থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অসুস্থ থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবারও শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অপর তিন আসামি হলেনÑখালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে মামলার কার্যক্রম খালেদা জিয়া যেখানে বন্দি আছেন, সেই কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে আদালত বসানোর তথ্য জানানো হয়। পরের দিন ৫ সেপ্টেম্বর মামলার কার্যক্রমে আইনজীবীরা না গেলেও খালেদা জিয়া হুইলচেয়ারে করে আদালতে আসেন। সেদিন আদালতে ৩০ মিনিটের মতো ছিলেন খালেদা জিয়া। বিচারকের সামনে একটি হুইলচেয়ারে তিনি বসে থাকেন। এ সময় তাঁকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তাঁর হাত-পা এবং মাথা কাঁপছিল। তাঁর সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমা ছিলেন। ফাতেমার হাতে ছিল একটি ছোট ব্যাগ। এ সময় খালেদা জিয়া আদালতকে বলেন, জজ সাহেবের কাছে কোনো কথা বা নিবেদন করা যায় না। উনি তারিখ দিয়ে উঠে চলে যান। আমাদের কারো কথা শুনেন না। সরকারের হুকুমে এবং নির্দেশে তিনি সব কিছু পরিচালনা করছেন। আমার পায়ে ব্যথা। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচন্ড ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। রায় তো লেখাই আছে। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের যা ইচ্ছে রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন। এরপর আর আদালতে শুনানিতে হাজির হতে পারেননি খালেদা জিয়া। দ্বিতীয় দিনের শুনানি মুলতবির আগে বিচারক আখতারুজ্জামান বলেন, আমার কাছে একটি চিঠি এসেছে। এতে খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি আর আদালতে আসবেন না। এ অবস্থায় প্রধান আসামির অনুপস্থিতিতে জামিনের শুনানি কীভাবে হবে এবং মামলার কার্যক্রম চলতে পারে কি না, সে ব্যাপারে আইনগত ব্যাখ্যা হাজির করার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত। জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়া যেহেতু কারাগারে আছেন আর আদালত কারাগারের ভেতরে, তাহলে দুটোই থাকছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সে কারণে উনি কেন আসতে পারেননি, কী বলেছেন সেটা আমরা এখনো নিশ্চিত না। আবার উনি যেহেতু আগের দিন বলেছেন, অনেক বেশি অসুস্থ, ওঁর শারীরিক অবস্থা এখন কী, সেটাও তাঁর সঙ্গে দেখা করা ছাড়া বলা সম্ভব না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই গত বুধবার মামলার শুনানির শুরুতেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তাঁর দুই আইনজীবী। শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে আসতে চাইছেন না, নাকি অন্য কোনো কারণে তিনি আর এই মামলার যুক্তিতর্কে অংশ নিতে চাইছেন না -সেটি আমাদের জানা প্রয়োজন। ওঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে সেটি বলা সম্ভব না। তাই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি। সেই সময় পর্যন্ত আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক মুলতবি করা হোক। জবাবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলার যুক্তিতর্ক শুরু করুন। প্রয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি কারাগারে নিজের কক্ষে বসেই আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারবেন এবং বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এরপর গত বুধবার বিকেলে কারাগারে খালেদা জিয়ার কক্ষের সামনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে বসে বিচার কাজ শ্রবণ করার মতো সুস্থ নন বলেই গত দুটি তারিখে কারাগারে স্থাপিত আদালতে আসেননি। এই আদালতের ওপর তাঁর আস্থা আছে। কিন্তু আদালতে হাজির হওয়ার মতো শারীরিক সুস্থতা তাঁর নেই। খালেদা জিয়া দুদিন আগেও কারাকক্ষের বাথরুমে পড়ে গেছেন। সুস্থ না হয়ে আদালতে কী করে যাবেন বলে প্রশ্ন রেখেছেন খালেদা জিয়া। সুস্থ হওয়া সাপেক্ষে তিনি আদালতে আসবেন বলে জানিয়েছেন। মাসুদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি গত দুটি তারিখে অসুস্থ ছিলাম। এ কারণে আদালতে যেতে পারিনি। জেল কর্তৃপক্ষ আমার বিষয়ে মিথ্যা কথা বলেছে। আমার ছেলে ও মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতেও না খেয়ে আমি সারাদিন আদালতে উপস্থিত ছিলাম। আমি কখনো আদালতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করিনি। আমি নিজে হাঁটতে পারি না। খাওয়া-দাওয়া করতে পারি না। এ মুহূর্তে আমার জরুরি দরকার হলো চিকিৎসা। আমি সুস্থ হয়ে আদালতে যাব এবং মামলা মোকাবিলা করব। কারাগারে নিজের কক্ষের সামনে হুইল চেয়ারে বসে আইনজীবীদের এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার কারাগারে প্রবেশ করেন তাঁর আইনজীবীরা। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আখতারুজ্জামান মামলার কার্যক্রম ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার ক্ষমতা কারো নেই – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দেশের এমন কোন রাজনৈতিক দল বা শক্তি নেই যারা আওয়ামী লীগকে আগামি নির্বাচনে পরাজিত করতে পারে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আমাদের যে সফলতা রয়েছে, তা জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগন। তারা যতদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে, ততদিন বিদেশীদের কাছে ধর্না দিয়ে বা কোন ষড়যন্ত্র করে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করা ও ক্ষমতার বাইরে রাখা যাবে না। বিএনপি পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, সেই কারণেই কোন আন্দোলনে তারা সফল হবে না। তাই এখন তারা বিদেশীদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগনের ওপর যাদের আস্থা নেই, তারা বিদেশীদের কাছে ধর্না দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই তারা এখন বিদেশীদের কাছে নালিশ করে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাতের কারনেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। আর সেই কারাগার থেকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিএনপি তাকে মুক্ত করতে পারছে না বলেই সকাল বিকাল তারা সরকারের কাছে বেগম জিয়ার মুক্তি দাবী করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, মো. নাজিমউদ্দিন ও দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

ফুটবল ও হকি জাতীয় দলের সাবেক তিন খেলোয়াড়কে ফ্ল্যাট দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ফুটবল ও হকি জাতীয় দলের সাবেক তিন খেলোয়াড়কে ঢাকার মিরপুরে তিনটি আবাসিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরা হলেন- প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্না ও জাতীয় ফুটবল দল ও আবাহনী লিমিটেডের সাবেক খেলোয়াড় শেখ আশ্রাফ আলী ও জাতীয় হকি দলের প্রয়াত খেলোয়াড় জাহিদুর রহমান পুশকিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এসব খেলোয়াড় ও পরিবারের কাছে তাদের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন। ফুটবলার মোনেম মুন্নার পক্ষে তার স্ত্রী ইয়াসমীন মোনেম এবং হকি খেলোয়ার জাহিদুর রহমান পুশকিনের পক্ষে তার স্ত্রী ফাহমিদা রহমানের কাছে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। জাতীয় ফুটবলার আবাহনীর সাবেক খেলোয়াড় শেখ আশ্রাফ আলীর কাছে তার ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের ফুটবল ও হকিতে জাতীয় দলের দুই ফুটবলারও একজন হকি খেলোয়াড়ের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ ফ্ল্যাটগুলো দিয়েছেন। বাফুফে প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ফুটবলার ও সাংসদ আবদুস সলাম মুর্শেদী, বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম সোহাগ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খন্দকার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন শুনানি পিছিয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু জানান, আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর অধিকতর শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলী আদালতের বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ গোলাম মাহাবুব খান এই আদেশ দেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ ফেব্র“য়ারি ভোরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর পৌঁছালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে আগুনে পুড়ে বাসের আট যাত্রী মারা যান। আহত হন আরও ২৭ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নূরুজ্জামান হাওলাদার হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম গত বছরের ৬ মার্চ আদালতে অভিযোগ দেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। এছাড়া একই সময় একই উপজেলায় কভার্ড ভ্যানে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। এসব মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতায় হুকুমের অভিযোগ আনা হয়। আইনজীবী কাইমুল হক বলেন, তিনটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল শুনানির দিন। শুনানি শেষে বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ গোলাম মাহাবুব খান আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর অধিকতর শুনানির আদেশ দেন। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাবন্দি আছেন।

মনগড়া কথা বলেছেন এস কে সিনহা – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার নতুন বইয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব ‘মনগড়া কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিচারপতি সিনহা কেন আগে এসব বলেননি, দেশে ফিরে তিনি কেন জনগণের মুখোমুখি হচ্ছে না- সে প্রশ্নও তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, তিনি (বিচারপতি সিনহা) সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তজর্¦ালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে আত্মজীবনীমূলক ওই বইয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়েছেন ‘হুমকির মুখে’; একই কারণে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে তিনি ছুটিতে যান। সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টেবর তিনি রীতিমত বোমা ফাটিয়ে বিদেশে চলে যান। বিচারপতি সিনহা বলে যান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’। তার ছুটির মেয়াদ শেষে ১১ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন। সেসব অভিযোগ নিয়ে দুদক পরে অনুসন্ধানও শুরু করে। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধির নামে বিচারপতি সিনহা তা তা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন সরকারের মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগের নেতারা। সেই সময়ের কথা তুলে ধরে বিচারপতি সিনহা তার বইয়ে লিখেছেন, পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, তার দলের লোকজন এবং সরকারের মন্ত্রীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনতে থাকেন। ওই সময় তাকে বাসভবনে আটকে রাখা হয় এবং আইনজীবী ও বিচারপতিদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা। বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাধ্য হয়ে’ দেশ ছাড়ার সময় তিনি ভেবেছিলেন, আদালতে তার অনুপস্থিতি আর অবকাশের মধ্যে পরিস্থিতি থিতিয়ে আসবে; ‘সুবিবেচনার’ উদয় হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবার ও স্বজনরা ‘হুমকির’ মুখে পড়লে বিদেশ থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার কথা লিখেছেন বিচারপতি সিনহা। তার অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, এখন বইতে যা লিখেছেন, তখন তা বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতির কেন ছিল না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরানো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। ক্ষমতা হারালে অনেক রকম ‘অন্তর্জালা’ তৈরি হয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা ছাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে নতুন নতুন জোট গড়ে ওঠার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা আসছে, এসব কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কি কমে যাবে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে। নেতায় নেতায় ঐক্য হলে জনতার মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী এই মুহূর্তে জনমনে এর কোনো প্রতিফলন হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ অযৌক্তিক

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছেন। শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখলে তো হবে না। আমাদের সাংবাদিকরা এত বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন কেন? এর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যেটা আমরা করেছি, দেশের কল্যাণে, জাতির কল্যাণে, শিশুর কল্যাণে করেছি। মানুষকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিতে হবে। সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সংসারকে বাঁচাতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের চরিত্র রক্ষা করতে হবে। শিশুরা যাতে বিপথে না যায়, যুবসমাজ যাতে বিপথে না যায়, বড়রাও যাতে এডিকটেড না হয়, সেটা নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।  সেদিক বিবেচনা করেই আমরা এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটা পাস করেছি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচকদের উদ্দেশে সংসদ  নেতা বলেন, ‘এই আইন নিয়ে যারা অনেক সমালোচনা করছেন, তাদের বলব এই দেশেতো বহু ঘটনা ঘটে গেছে। অতীতের বিষয়গুলো আপনারা একটু চিন্তা করে দেখুন। তখন কেমন ছিল, এখন কেমন আছে? এখনতো সবই উন্মুক্ত। যে যার মতো লিখে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এত উন্নয়ন, বিশ্ববাসীর চোখেও তা আজ দৃশ্যমান। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ সমাদৃত হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের দেশেতো এমনও পত্রিকা আছে, খুললেই মনে হবে বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। বাংলাদেশ একেবারে যেন শেষই হয়ে গেছে।’ গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা হোক, তাতে আমার কোনো আপত্তি  নেই। কিন্তু, এমনভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হয় যে, এই সরকার খুবই খারাপ কাজ করছে। কী খারাপ কাজটা করলাম, সেটাই আমার প্রশ্ন। হ্যাঁ, যারা কোনো কিছু ভালো  দেখতে পায় না। তারাই সব খারাপ দেখবে। এটা তাদের চরিত্র। আমি সেভাবেই নিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষের চরিত্রই আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতাও। এই অসুস্থতায় যারা ভুগছেন, তাদের কাছে আমার বলার কিছুই নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশকে ভালোবাসি, দেশকে জানি-চিনি। এই  দেশ আমার, এই দেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে  গেছেন। এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই তিনি সারাজীবন জেল খেটে গেছেন। সারাজীবন কষ্ট শিকার করেছেন।  দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন তিনি কিন্তু পারেননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে কাজ করছে। কিন্তু, যারা গণতন্ত্রকে নড়বড়ে দেখেন, তারা গণতন্ত্র চান না। তারা শুধু দেখেন কখন কিছু ছিড়ে পড়বে আর তাদের কাজে আসবে। তারা সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে কাজ করে চলেছি, যাতে গ্রামের মানুষ সেখানে বসে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পেতে পারেন। আমরা শিল্প, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করে চলেছি। আমরা তিন ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের  দেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশ এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা জণগনের সব ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করব।’ তিনি বলেন, ‘আমি কী করতে পারছি, কী করতে পারছি না, আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে। পত্রিকা পড়ে আমাকে শিখতে হবে না। আমি এমনিতেই জানি আমাকে কী করতে হবে? পত্রিকা পড়ি শুধু তথ্যের জন্য কোথায় কী করতে হবে, কাকে সাহায্য করতে হবে? সেভাবে সমাধান করার চেষ্টা করি।’  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজের লাভের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমাদের দৃষ্টি থাকে গ্রামের মানুষের উন্নয়ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘১০ম জাতীয় সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে খেউয়ি খেওয়ি হয় না, গালাগালি হয় না। এরপরে সামনে নির্বাচন। জনগণ যাকে ভোট দেবে, সে দল ক্ষমতায় আসবে। এ নিয়ে আমি ভাবি না। আমরা মনে করি, কমিশন খাওয়ার জন্য যেন কোনো কাজ না হয়, যাতে জনগণের উন্নয়ন ঘটে, সেদিকে আমরা সব সময় লক্ষ্য করি।’ উল্লেখ্য, ১০ কার্যদিবস চলার পর শেষ হলো জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন। গত ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আর একটি অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে, ১৪ অক্টোবর।

 

আজ পবিত্র আশুরা

ঢাকা অফিস ॥ আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে। বাংলাদেশেও শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ও কর্মসূচিতে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি ছুটি। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলটি ধানমন্ডি লেকে এসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক শুক্রবার বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া ইসনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে। ডিএমপি কমিশনার তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ ফুটের বেশি বড় নিশান মিছিলে ব্যবহার করা যাবে না। আগুনের ব্যবহার করা যাবে না। মিছিলে ব্যাগ, পোঁটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন করা যাবে না। মাঝপথে কেউ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

হাজারো মানুষের ভীড়

বহলবাড়ীয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ খেলা অনুষ্ঠিত

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পদ্মা নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপি প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, রাব্বি সুজন ও বশির উদ্দিনের স্মৃতি স্মরণে মিরপুর উপজেলার নওদাখাদিমপুর আট মাইলস্থ পদ্মা নদীতে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে খেলার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক রুহুল আজম, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাহাদুর শেখ, শারমিন আক্তার নাছরিন, জেলা পরিষদের সদস্য মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, সুফিয়া বানু, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পিস্তুল, ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মামুন, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ আমিরুল ইসলাম, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মানিক, সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাধারন সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক সাংবাদিক সোহেল রানা, আমলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক আবু হেনা মস্তফা কামাল, জাহিদ হাসান, আওয়ামীলীগ নেতা মুন্সি মাসুদ রানা। এছাড়া নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরাফ উদ্দিন টিপু, সেলিনা তৌহিদ, সানোয়ার হোসেন, তানজিলুর রহমান, আশফাক আজম বিশু, ফেরদৌস ওয়াহেদ রাসেল, মীর আবু সাজ্জাদ সাজু, মিজানুল হক মিলন, রাব্বি সুমন, বজলুর রহমান, স্বর্ণ কমল, আহসান হাবিব উজ্জল, হাবিবুর রহমান, আবÍুল হান্নান পাঠান, শাজানুর রহমান শাহান, আব্দুল খালেক সর্দ্দার, আব্দুর রহিম বিশ্বাস, মনসুর হোসেন পলান, সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার, মকলেস মালিথা, সাবদেল হোসেন, শাহাজুল ইসলাম, উজ্জল হোসেন, শাজাহান সর্দার, শাহীনুল ইসলাম নিজা মালিথা প্রমুখ। দিনব্যাপি এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নৌকা বাইচ দেখতে পদ্মার দুই পাড়ে প্রায় দশ হাজার মানুষের ভীড় জমে।

‘সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা’ বিষয়ে দৌলতপুর কলেজে আলোচনা সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজে বর্তমান ‘সরকারের অগ্রগতি, সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা’ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের আলোচনা সভা ও উন্নয়ন সাফল্য চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় দৌলতপুর কলেজের লালন শাহ ভবন মিলনয়তনে এ আলোচনা ও সরকারের উন্নয়ন সাফল্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। আলোচনা সভার পূর্বে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি, বিভিন্ন সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন ও প্রদর্শন করেন, কুষ্টিয়া জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান। দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংশ্লি¬ষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরকার আমিরুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান মিথুন ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। আলোচনা সভায় কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও লিফলেট বিতরণকালে ড. মোফাজ্জেল হক

আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া দৌলতপুরের মধুগাড়ি, বোয়ালিয়া ও আড়িয়া গ্রামে পথসভা ও সাধারণ জনগণের মাঝে “যে কারণে দরকার শেখ হাসিনার সরকার” শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ খুলনা বিভাগীয় শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. মোফাজ্জেল হক। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় আড়িয়া গ্রামে, বিকেল সাড়ে ৫ টায় বোয়ালিয়া ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় মধুগাড়িতে পথসভা ও শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন বার্তা’র লিফলেট বিতরণ করা হয়। দৌলতপুরের মধুগাড়ি, বোয়ালিয়া ও আড়িয়া গ্রামে পথ সভায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ সকল খাতে অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ড. মোফাজ্জেল হক আরো বলেন, বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সাথে ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এ সময়ে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হয়। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে সরকার।

মধুগাড়িতে পথসভায় ভাপতিত্ব করেন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মাস্টার। বোয়ালিয়ায় পথ সভায় ভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন। আড়িয়া গ্রামে পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ।

এ সময় ড. মোফাজ্জেল হক’র সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন, রশিদ মাস্টার, মাগুড়া পলিটেকনিক ছাত্রলীগের আহবায়ক সেলিম মন্ডসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পানিতে ডুবে হুরাইয়া ইসলাম নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু হুরাইয়া খেলতে গিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। পরে তার মৃতদেহ ভাষতে দেখে এলাকাবাসী বাড়ির লোকজনকে খবর দিলে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকার রাইদুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

কুমারখালির সদকী ইউনিয়নে সুলতানা তরুণের উঠান বৈঠক

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালির সদকী ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক করলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা তরুণ। সরকারের উন্নয়ন বার্তা গণমানুষের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। গতকাল বুধবার দিনব্যাপি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক করেন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান নানাবিধ উন্নয়নের কথা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরেন সুলতানা তরুণ। বৈঠকে সদকী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃন্দবৃন্দসহ স্ব স্ব এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির জনসভায় নুর আহমদ বকুল

সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রেখেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

“একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে ১৪ দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-আইএসআই প্রত্যক্ষ ভাবেই জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে অসাংবিধানিকভাবে উৎখাত করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারই রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে কামাল হোসেন-বি.চৌধুরী, রব-মান্না গং ও বিএনপি-জামাতের ঐক্যের মধ্যদিয়ে। আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে না পারে তার জন্য কামাল হোসেন গং সংবিধানের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে অতি গণতন্ত্রী সাঁজার যে ভান করছেন তা বিএনপি-জামাতের ২০ দলীয় রাজনীতিরই বর্ধিত রুপ। তথাকথিত নির্বচনকালীন সরকারের দাবী, সংসদ ভাঙ্গার দাবী এবং সামরিক বাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবী প্রকারন্তে একটি অসাংবিধানিক পন্থা অবলম্বন করা এবং সংবিধান শুন্য পরিস্থিতিতে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া। ২০১৪ সালে তারা সেই অপচেষ্টাই করেছিল। বিএনপি জামাতের ‘৭২এর সংবিধান বিরোধী অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ অসাম্প্রদায়িক রাজাকার-আলবদর রাজনীতিকে একটু আড়াল করতে নতুনভাবে গণতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মুখোশ কামাল-রব-মান্না গংদের মুখে লাগিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্ত তৈরি করছে। ভয়াবহ এই ষড়যন্ত্র রুখতে ‘৭১ এর ন্যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি যতদুর এগিয়েছে, সাম্প্রদায়িক জামাত-দুর্নীতিবাজ খালেদা-তারেক ভালভাবে মেনে নিতে পারছে না। তথাকথিত সুশীল সমাজ নামে একদল পরগাছা রাজনীতিক মাঠ দখল নিতে ব্যর্থ চেষ্টা করছে বিদেশী প্রভুদের প্রেসক্রিপশনে। ঐ অপশক্তিকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হলে দেশের সাংবিধানিক ধারাকে উর্ধে তুলে ধরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে হবে। সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে পুনরায় ১৪ দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৪টায় গাংনী বাসস্ট্যান্ডে মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির আহবানে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ‘৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যূরোর সদস্য, গাংনীর মেহনতী মানুষের উন্নয়ন ও লড়াইয়ের সৈনিক নুর আহমদ বকুল উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান, জেলা নেতা কমরেড মজনুল হক মজনু। হাজার হাজার জনতার ঐ জনসভায় জননেতা নুর আহমদ বকুল আরও বলেন, ‘দেশের চলমান অগ্রগতিতে সাধারন মেহনতি মানুষ লাভবান হচ্ছেন। বর্তমান সরকার অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। প্রকৃত উন্নয়ন গণতান্ত্রিক ধারা ধরে রাখতে হলে নির্বাচনী ধারাকেও চালু রাখতে হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার করা এখন জরুরী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারন সভায় নেতৃবৃন্দ

নবগঠিত সংগঠন চালকল মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর

নিজ সংবাদ ॥ চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটি শুধুমাত্র নিজ এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অবিচল নয়। এই কমিটি দেশে চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে সরকারের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাবে। যে কোন সংকটময় মুহুর্তে সরকারের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর এই প্রতিষ্ঠান । গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারন সভায় কমিটির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক মফিজুল ইসলামের পরিচালনায় সাধারণ সভা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আসতে থাকেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও কমিটির অধিভূক্ত সকল চালকল মালিক। শুরু হয় সাধারন সভার মুল পর্ব। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার সূচনা হয়। এরপর শুরু হয় সভার কার্যক্রম। শুরুতেই ওনার্স এসোসিয়েশন গঠনের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব ওমর ফারুক। তিনি উপস্থিত চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন চালকল মালিকেরা একটি মহলের কাছে নানাভাবে জিম্মি ছিলেন। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অভিভাবক থেকেও এক প্রকার অভিভাবকহীন অবস্থায় ছিলেন। এমন দু:সহ অবস্থা থেকে চালকল মালিকদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই মুলত এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। আমার বিশ্বাস যে লক্ষ নিয়ে এই ওনার্স এসোসিয়েশনের যাত্রা সেই লক্ষ্য পুরনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এই নবগঠিত এসোসিয়েশন। আশা করি এই সংগঠন তাদের অভিষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। সভাপতির বক্তব্যে ওমর ফারুক আরো বলেন এই সংগঠন দেশের চালকল মালিকদের প্রথম সংগঠন। যা বাণিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদিত।

এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক তাঁর বক্তব্যে বলেন আমরা বরাবরই চেয়েছিলাম চালকল মালিকেরা স্বাধীনভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবেন। কিন্তু কেন জানি কোন এক মহল চালকল মালিকদের অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব নানা কারনেই চালকল মালিকদের দাবীর প্রেক্ষিতেই এই এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তিনি বলেন এই সংগঠনের ব্যপ্তি বিশাল। ওনার্স এসোসিয়েশন গোটা দেশব্যাপী ছড়িয়েছে। কুষ্টিয়া ওই সংগঠনের শাখামাত্র। যে কোন সংকটময় মুহুর্তে কেন্দ্রীয় সংগঠন আমাদের পাশে থাকবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এফএম বজলুর রহমান, সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন ব্যাপারী, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মোল্লা, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আজিজুর রহমান সিপাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো: মাসুদ রানা, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মো: শফিকুল ইসলাম, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম অটাল, প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব মো: আনোয়ার হোসেন, ধর্ম শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মোমিন, সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আমিরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব এমএ খালেক, আলহাজ্ব মো: জামশের আলী, এমএ মমিন মন্ডল, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম চৌধুরী, ইবাদত আলী কবিরাজ, সরোয়ার মন্ডল।

এছাড়া বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক মোতালেব হোসেনসহ নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য ছাড়াও ৩ শতাধিক রাইস মিল মালিক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকল চালকল মালিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন।