দৌলতপুরে বাজুমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র জালিয়াতির অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাজুমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৪জন অভিভাবক। মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রার্থীতা বাতিলে অনিয়মের অভিযোগ এনে চিলমারী ইউনিয়নের বাজুমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অভিভাবক আনজুর আলী, হান্নান খান, বজলুর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেন অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৭ এপ্রিল’১৯ বাজুমারা দাখিল মাদ্রাসার নিয়মিত অভিভাবক সদস্য পদে আবেদন করি। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার হারুন অর রশিদ অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের পরামর্শ দেয় আপনারা ও আপনাদের সমর্থনকারীগণ মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করে যান পরে মনোনয়নপত্রের বাঁকী অংশ পুরণ করে প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট দাখিল করবো। কিন্তু মাদ্রাসার সুপার অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে অসংগতি ও অসম্পূর্ণ রেখে প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট জমা দেন। ফলে যাচাই বাছাইয়ে ৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তাই মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেতে বিষয়টি পুনবিবেচনা করে বাজুমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান ৪ জন অভিভাবক সদস্য।

গাংনীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধকে গলাকেটে হত্যা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে মনোরুদ্দীন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ৫ সন্তানের জনক মনোরুদ্দীন কল্যাণপুর গ্রামের কালিতলা পাড়ার মৃত নিহার ফকিরের ছেলে। নিহত মনোরুদ্দীন পেশায় একজন লাঙ্গল তৈরীর কারিগর। এ ঘটনা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মনোরুদ্দীনের বড় ছেলে সিফাতুল্লাহ (৩৭), প্রতিবেশী সানাউল্লাহর ছেলে মুকুল হোসেন (৩০) ও আব্দুল মজিদের ছেলে কাবের আলীকে (৩৫) থানা নেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে মনোরুদ্দীনকে নিজ ঘরের (পিঁড়ি) বারান্দায় গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত মনোরুদ্দীনের বড় ছেলে সিফাতুল ইসলাম জানান,আমি রাতে ঘরের ছাদের উপর শুয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে বাড়ির মধ্যে থেকে ৪জন ব্যক্তি পালিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ছাদ থেকে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারি। ইটের আঘাতে একজন পড়ে গিয়েও পালিয়ে যায়। পরে ছাদ থেকে নিচে এসে গুঙোনি শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে  বাবার গলাকাটা লাশ দেখতে পায়। এ সময় আমি চিৎকার দিলে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জেগে উঠে।  পরে প্রতিবেশীরাও টের পেয়ে গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেয়।  নিহত মনোরুদ্দীনের ছোট ছেলে জিয়ারুল ইসলাম জানান, আমার বাবার সাথে কারোর বিরোধ ছিলো না। কারা হত্যা করেছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।  গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান- গতকাল বুধবার সাড়ে ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে বিকেলে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে নিহত মনোরুদ্দীনের বড় ছেলে সিফাতুল্লাহসহ আরো ২জন প্রতিবেশীকে থানায় নেয়া হয়েছে। হত্যাকারীদের সনাক্ত করে অতি দ্রুত আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদক ও বাল্য বিয়ে বন্ধ করার অঙ্গিকার

মিরপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনসহ ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন। সেই সাথে নবনির্বাচিত ভাইস  চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দারকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় মিরপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারা। এসময় কামারুল আরেফিন বলেন, বিগত পাঁচবছর উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব থাকাকালীন যে কাজগুলো অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো সমাপ্ত করবো। মিরপুর উপজেলাকে সবদিক থেকে মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবো। এই উপজেলা থেকে মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে একেবারে বন্ধ করে দেবো। মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকেই কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহাম্মেদ, মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফতাব উদ্দিন, নজরুল করীম, মোশাররফ হোসেন, পৌর মেয়র এনামুল হক, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পিস্তল, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিশ্বাস, ধুবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মামুন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ।

আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ৫০ ঘর

ঢাকা অফিস ॥ কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ৫০টি ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। জেলার উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১টার দিকে কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের তুর্কি পাহাড় এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কিছু বলতে পারেননি। আগুনে হতাহতেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে জানিয়ে ওসি খায়ের বলেন, “অগ্নিকান্ডে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ৫০টি ঘর পুড়ে গেছে।”

 

কারাগার থেকে বের হলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতাসহ ১১ নেতাকর্মি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ দলটির ১১ নেতা-কর্মি কারাগার থেকে বের হয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় তারা কুষ্টিয়া কারাগার থেকে বের হন। এর আগে গত রোববার উচ্চ আদালত থেকে তারা জামিন পান। বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ মার্চ বেলা সাড়ে এগারটায় কুষ্টিয়ার কালেক্টরেট চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে¢ ফুল দেওয়ার সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ সোহরাব উদ্দীনসহ দলটির ১২ নেতাকর্মীকে আটক করে। পরে পুলিশকে খুন করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে  নেতাকর্মিদের কারাগারে পাঠানো হয়। নিম্ন আদালতে কয়েক দফায় তাদের জামিন চেয়ে না পেয়ে দলটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, গত রোববার আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতে জামিদের আবেদন করা হয়। ১১জন নেতাকর্মিকেই স্থায়ীভাবে জামিন দেন আদালত। তিনি আরও বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ১১ নেতাকর্মি বের হন। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে ব্রেন ষ্ট্রোকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এমএ শামীম আরজু মারা যান। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কারামুক্ত হয়ে নেতাকর্মিরা পৌর গোরস্থানে প্রয়াত জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আরজুর কবর জিয়ারত করেন। পরে তারা শহরের কোর্টপাড়ায় শামীম আরজুর পরিবারের সাথে দেখা করেন।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে মাদকসেবী বন্দিরা আলোর পথ খুঁজে পেয়েছেন ঃ   জেল সুপার জাকের হোসেন

নিজ সংবাদ ॥ দেশরতœ শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযানে দেশের সকল কারাগারের ন্যায় কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে মাদক  সেবী বন্দিরা প্রত্যহ কারাগারে আসছে। কারা কর্তৃপক্ষ সকল বন্দিদের চিকিৎসা, মোটিভেশন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মাদক সেবীর হাতকে কর্মে দক্ষ করে তুলছে। কারাগারে প্রশিক্ষণ নিয়ে জামিনে বের হয়ে অনেকে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান আবার অনেকে অন্যের দোকানে চাকুরী করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছে। তাদের একজন জেলার কুমারখালীর খোর্দ্দ ভালুকা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান। মাদকসেবীর অপরাধে তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে আসেন এবং সেখানে  বিভিন্ন বৃত্তিমুলক প্রশিক্ষণ দেখে সে ইলেক্ট্রনিক্সের প্রশিক্ষণ গ্রহন করার জন্য আবেদন করেন। জেল সুপার তাকে প্রথমে স্বাক্ষর জ্ঞান এবং পরে ইলেক্ট্রনিক্স ও হাউজওয়ারের কাজ শিখান। কারাগারে তিনি তিন মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ সনদ গ্রহন করেন এবং শপথ গ্রহন করেন যে কারাগার থেকে বের হয়ে আর মাদক সেবন করবে না এবং সুস্থ সমাজে বসবাস করবে। হাবিবুর রহমান গত দুইমাস আগে জামিনে বের হয়ে গ্রামে মানুষের বাড়ি বাড়ি ইলেক্ট্রিক্স কাজ করেন এবং একটি দোকান চালু করেন। বুধবার দুপুরে জেল সুপার মোঃ জাকের হোসেন হাবিবুর রহমান এর ইলেক্ট্রিক্স দোকান উদ্বোধন করেন। এ সময় জেল সুপার জাকের হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে মাদকসেবী বন্দিরা আলোর পথ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উদ্যোগে দেশে সকলখাতে উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের অংশ হিসেবে জেলা কারাগারে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, কারাবন্দিরা এখন বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থান মুলক কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে। তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের বিভিন্ন সংস্থা বা সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগীতা করতে পারলে তারা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এডি শিরিন আক্তার, বনিক সমিতির সভাপতি, জেলা কারাগারের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে হাবিবুর রহমানকে জেলা কারাগারের পক্ষ  থেকে উপহার সামগ্রী প্রদান করেন জেল সুপার জাকের হোসেন।

স্মার্ট কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ফাঁদ !

কুমারখালীতে দুই প্রতারকের কারাদন্ড

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্মার্ট কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র কর্তৃক সাধারন ভোটারদের বিভ্রান্ত করে অবৈধ ব্যবসা শুরু করায় কুমারখালীতে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই প্রতারককে ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলর বাড়াদি গ্রামের মো: কামরুজ্জামান (৩০) ও মাহবুবুর রহমান (২৫) কে আটক করা হয় এবং প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত কালার প্রিন্টার্স, স্ক্যানার ও লেমিনেটিং মেশিনসহ আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়।  পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতে সরকারি আদেশ অমান্য করে স্মার্ট কার্ড বিতরণে বিঘœ ঘটানোর অপরাধে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আটককৃত দুই প্রতারককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

বনানী কবরস্থানে জায়ানের দাফন সম্পন্ন, শনিবার কুলখানি

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলংকায় গত রোববারের ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীর লাশ গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বিকেল সোয়া ৫টায় বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার খেলার মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। আগামী শনিবার এই মাঠেই তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শেখ সেলিমের বনানীস্থ বাসভবনে যান। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ সেখানে যান। নামাজে জানাজার আগে জায়ান চৌধুরীর নানা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি সেখানে উপস্থিত তার আত্মীয়-স্বজন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘জায়ানের সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। আমরা শুধু তার (জায়ানের) মুখমন্ডল দেখাতে পারলাম।’ জায়ানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ সেলিম বলেন, ‘আপনারা আমার নাতির বিদেহী আত্মার শান্তির এবং একই দিনের সিরিজ বোমায় আহত হয়ে কলম্বোতে চিকিৎসাধীন জায়ানের পিতা মশিরুল হক চৌধুরীর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।’ জায়ানের নামাজে জানাজায় অওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র (ডিএনসিসি) মো.আতিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এমপি, মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি, ডিএমপি’র কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়া ও র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব জানাজায় ইমামতি করেন। পরে জায়ানকে বনানী কবরস্থানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের কবরের পাশে দাফন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি শিশু জায়ান চৌধুরীর (৮) মরদেহ গতকাল দুপুরে দেশে পৌঁছে। শেখ সেলিমের ছোট ভাই শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বলেন, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি এয়ার ক্রাফট (ইউএল ১৮৯) জায়ানের মৃতদেহ নিয়ে গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে। পরে তার মৃতদেহ বনানীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং জায়ানের নানা শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি এবং শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি বিমান বন্দরে তার মরদেহ গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আবদুল মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলায় স্প্রিন্টারের আঘাতে জায়ানের পিতা মশিউল হক চৌধুরীও আহত হন।

শ্রীলঙ্কায় নিহত বেড়ে ৩২১

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলঙ্কায় কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জনের দাঁড়িয়েছে।কলম্বো পুলিশের মুখপাত্র রাবন গুসাসেকারা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, গত রোববার ওই হামলায় আহত পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে মারা গেছেন।  এই তথ্য যখন এল, তখন হতাহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে শ্রীলঙ্কা।চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, তিন মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে সকালে ভারত মহাসগারের এই দ্বীপ দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কার্যক্রম শুরু হয়।পুরো দেশে সব সরকারি-আধা সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা রাখা হয় অর্ধনমিত। বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত নেগম্বোর সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের গির্জায় শেষকৃত্য শেষে নিহতদের কয়েকজনকে শোয়ানো হয় গণকবরে।তিন মিনিট নীরবতা পালনেরর ওই কর্মসূচি শুরু হয় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে। দুই দিন আগে ঠিক ওই সময়েই ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে তিনটি গির্জা ও তিনটি পাঁচ তারা হোটেলে মোট ছয়টি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।কলম্বোর একটি গির্জা ও তিনটি পাঁচ তারা হোটেল, নিকটবর্তী নেগম্বো শহরের একটি গির্জায় ও দেশের অন্য প্রান্তে বাত্তিকোলার একটি গির্জায় হামলাগুলো চালানো হয়। এর পাঁচ ঘণ্টা পর কলম্বোর দক্ষিণাংশের দেহিওয়ালায় জাতীয় চিড়িয়াখানার কাছে ছোট একটি হোটেলে সপ্তম বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে দুই জন নিহত হন বলে জানিয়েছে বিবিসি।বিকালে পুলিশের অভিযান চলাকালে কলম্বোর দেমাটাগোদা এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে, এতে তিন পুলিশ নিহত হন।প্রথম ছয়টি হামলায় কোথায় কতোজন নিহত হয়েছেন কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করেনি। অন্তত সাত জন আত্মঘাতী এসব হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।হতাহতের অধিকাংশই শ্রীলঙ্কান। তবে নিহতদের মধ্যে ৩৮ জন বিদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অন্তত আট জন ভারতীয়, আট ব্রিটিশ, তিন ডেনিশ, দুই তুর্কি, দুই অস্ট্রেলীয়, এক চীনা, এক বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড ও পতুর্গালের নাগরিকরা রয়েছেন।এক দশক আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগাররা উৎখাত হওয়ার পর এমন ভয়াবহ হামলা আর দেখা যায়নি শ্রীলঙ্কায়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে ভারত লাগোয়া দ্বীপরাষ্ট্রটিতে।জরুরি অবস্থার বলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী আদালতের নির্দেশ ছাড়াই সন্দেহভাজনদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। এর আগে গৃহযুদ্ধের সময় শেষ এ ক্ষমতা ব্যবহার করেছিল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।বিস্ফোরণের পর সরকার ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জনকের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও এদের অধিকাংশই শ্রীলঙ্কান ও এদের জিজ্ঞাসাবাদের পর একজন সিরীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার ও সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্র।“স্থানীয় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে (সিরীয়) গ্রেপ্তার করা হয়,” বলেছে একটি সূত্র।এখনও কেউ দায় স্বীকার না করলেও প্রাথমিকভাবে ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াত (এনটিজে) নামে স্থানীয় একটি ইসলামী সংগঠনকে সন্দেহ করা হচ্ছে।তবে শ্রীলঙ্কা সরকারের ধারণা, যে সংগঠনই ওই হামলা চালিয়ে থাকুক,তারা শ্রীলঙ্কার বাইরে থেকে সহযোগিতা পেয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকে।তবে এনটিজে বা অন্য কোনো গোষ্ঠী রোববারের হামলায় দায় স্বীকার করেনি।যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাগুলোতে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কিছু বৈশিষ্ট্যের ছাপ রয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ভয়াবহ হামলার তদন্তে ইতোমধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল।প্যারিসভিত্তিক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তারা একটি দল কলম্বোয় পাঠিয়েছে, যদি আরও কিছু প্রয়োজন হয়, তাও দিতে তৈরি তারা।পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ব্রিটিশ কর্মকর্তারাও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুই দিন বিরতির পর মঙ্গলবার আবার বসছে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট। সেখানে ওই হামলার ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের একটি বিবৃতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সন্ধায় মুক্ত ॥ আন্দোলন স্থগিত

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আন্দোলনে ইবির ২২ শিক্ষার্থী আটক

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি দাবির আন্দোলনে ইবির ২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর ৫টায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনশন থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদরকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছিল। অনশনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও প্রশাসন এবং অনুষদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে দুপুর ২টার দিকে ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন ডিন অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মমিন ও পিওন বাদল। এছাড়াও বুধবার সকাল থেকেই প্রশাসন ভবনের দুই গেইটে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনের গেইটে ‘অনতিবিলম্বে আকটকৃত সকল শিক্ষার্থীকে নি:শর্তে মুক্তি, সকল বৈষম্য দূর করে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মান নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন শুরু করেছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে ভবনের পেছনের গেটে অবস্থান নিয়েছে বেতন ফি কমানোর আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। এদিকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রনে আনতে ক্যাম্পাসে জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল থেকে মাইকিং করে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় দশটি বিভাগের পূর্বনিধারিত পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। যাদের আটক করা হয়েছে যাচায় বাছায় করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কোথাও কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে জানান ঃ প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলায় নিজের স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে গতকাল বুধবার সংসদে বক্তৃতায় এই পরামর্শ দিয়ে দেশের কোথাও কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে তার সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দেশে এ ধরনের বোমা হামলা, জঙ্গি হামলা আমরা কঠোর হস্তে দমন করেছি। আমি দেশবাসীকে বলব, সতর্ক থেকে কোথাও যদি অস্বাভাবিক কিছু পায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়।”তিন বছর আগে গুলশান হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা বাংলাদেশে তাদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামে সাঁড়াশি অভিযানে; তাতে গ্রেপ্তার কিংবা মারা পড়েন শীর্ষ জঙ্গিনেতারা।রোববার ইস্টার সানডের দিনে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়, তাতে নিহত তিন শতাধিকের মধ্যে শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই, সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতিও রয়েছেন।বিকালে নাতিকে শেষ দেখা দেখে শোকার্ত স্বজনদের সান্তনা জানিয়ে এসে সন্ধ্যার পর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে।শ্রীলঙ্কার প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চাই না, এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটুক। যারা সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী, তাদের কোনো ধর্ম নাই, তাদের কোনো দেশ-কাল-পাত্র নাই। জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। আর ইসলাম ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করে, আমি বলব তারা আমাদের এই পবিত্র ধর্মটাকেই মানবজাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে দিচ্ছে।”শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ এই হামলার পেছনে উগ্র ইসলামী গোষ্ঠীকে সন্দেহ করা হচ্ছে; মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে বার্তা দিয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, “সব ধর্মেই কিন্তু শান্তির কথাই বলা আছে। তারপরেও কিছু লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় তারা যে মানুষের প্রতি আঘাত হানে, মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, এটা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কষ্টকর।”শ্রীলঙ্কার হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা এ ধরনের ঘৃন্য ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তারা এর মধ্য দিয়ে কী অর্জন করে, জানি না।” স্বজনের মৃত্যুতে ভারাক্রান্ত মনে শেখ হাসিনা বলেন, “জায়ান একটা ছোট বাচ্চা। মাত্র আট বছর বয়স। আজকে সে আমাদের মাঝে নেই। তার বাবাও মৃত্যুশয্যায়। বাবাকে এখনও জানতে দেওয়া হয়নি যে জায়ান নেই। সে বারবার খুঁজছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কখনও মানুষের কোনো কল্যাণ আনতে পারে না। আবার মনুষ্যসৃষ্ট সন্ত্রাসও আমি দেখি। নুসরাত, তার যারা সাথী, তারা কেরোসিন তেল ঢেলে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারল! একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এই ধরনের যে অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটে। এটা সত্যিই, আমি বলবো মানব জাতির জন্যই অকল্যাণকর।”

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে

ঢাকা অফিস ॥ মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়। এছাড়া আগামী কয়েক দিন সূর্যের তেজ আরও কিছুটা বাড়বে। পড়বে গরম। প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে সাগরের লোনা জল কিছুটা টগবগ করছে। এ থেকেই হয়তো বৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে মাসের পূর্বাভাসে এমনটি বলা হয়েছে। মে মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের কারণে এ মাসের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে ঘূর্ণিঝড়ও সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবাইকে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসের শেষ দিকে মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিলের পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর সেটি আগামী ৩ মে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি।

 

বিশ্বের নিরাপদ পোশাক কারখানার শীর্ষে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বের নিরাপদ শিল্পগুলোর একটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। বিশ্বসেরা ১০টি পোশাক কারখানার ৭টিই বাংলাদেশে। রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির পর গত ৬ বছরে পোশাক কারখানায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি একটিও। বিজিএমইএ সাবেক সহসভাপতি শহীদুপ্লাহ আজীম বলেন, কেউ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে আঙ্গুল তুলে প্রশ্ন করতে পারবে না, কারণ আমরা শিল্পের তালিকায় শীর্ষে রয়েছি। আমাদের মাঝামাঝি পর্যায়ের কারখানারও প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের যেই যন্ত্রাদি রয়েছে সেগুলো স্থাপন করতে। নিরাপদতম কারখানার স্বীকৃতি মিললেও পোশাকের দামে তার প্রতিফলন নেই। বরং গত ৫ বছরে অন্তত ১০ শতাংশ দাম কমেছে ইউরোপ আর আমেরিকার বাজারে। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, এতো সবুজ কারখানা রয়েছে কিন্তু সবুজ দাম নেই। কাজেই এই জায়গাটিতে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। একসাথে যদি আমরা সবাই ঘুরে দাঁড়াতে পারি। যদি এক পা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলি আমরা এর কমে বিক্রি করব না, তাহলে বাংলাদেশের চেহারাটা বদলাবে। আর বেঞ্চমার্ক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টা আমরা একটা প্রকল্প হিসেবে নেবো। সংস্কার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে পোশাক কারখানার শক্ত ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করেছে দুই ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স, অ্যাকর্ড। অ্যালায়েন্স চলে গেলে অ্যাকর্ড আছে অন্তত জুলাই পর্যন্ত। তারপরও যেন কারখানার নিরাপত্তা কার্যক্রমে ঘাটতি না পড়ে সেই তাগিদ দিয়েছেন শিল্পখাত বিশেষজ্ঞরা। সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকারের এককভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজস্ব লোকবল দিয়ে করাটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের অধীনে যৌথ উদ্যোগে এবং সরকার সেখানে একটি অভিভাবক হিসেবে থেকে এই কাজগুলো যেন আগামী দিনে তারা অব্যাহত রাখে।

প্রাথমিকের ৩৩ মাঠ কর্মকর্তার পদোন্নতি

ঢাকা অফিস ॥ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে ৩৩ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মনোয়ারা ইশরাত স্বাক্ষরিত পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৩৩ জনকে চলতি দায়িত্বে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তারা সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আরও বলা হয়েছে, চলতি দায়িত্ব প্রদানকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পিএসসি (সরকারি কর্ম কমিশন) থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নিয়োগ বা পদায়ন করা হলে আবারো তাদের স্বপদে ফেরত যাবেন। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদোন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মূল পদ শূন্য ঘোষণা করা যাবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতারা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যোগদান করবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি কার্যকর করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্দেশনা জারির ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাথমিকের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে একধিক মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায়, এ পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশের বিভিন্ন  স্থানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দিয়ে দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার প্রেক্ষিতে গত ছয় মাস থেকে এসব পদে চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রীর দাবিতে আমরণ অনশনে ইবি শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি ॥ বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন, আমরণ অনশন ও গায়ে কেরোসিন ঢেলে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখে তারা। এসময় তারা মেইন গেট অবরোধ করে ২টার গাড়ি বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা জানায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বেতন, পরিবহন, হল, সেশন ও ভর্তি ফিসহ অন্যান্য ফি ৪ গুণ বৃদ্ধি করে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার করা হয়। এখন প্রতি বছর সাড়ে ৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। যা আগে ছিল ৩ হাজার। এসব কারনে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী, প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছি। এরপরেও প্রশাসন থেকে কোন আশ^াস না  পেয়ে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে নেমেছি। সকাল সাড়ে নয়টায় ডাইনা চত্ত্বর থেকে মিছিল বের করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১০টার দিকে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। সেখানে কয়েক ঘন্টা অবস্থানের পর দুপুর ১ টার পর মেইন গেট অবরোধ করে তারা। এসময় তারা বাবার রক্ত যদি সেই চুষতে হবে, প্রাইভেট না হয়ে পাবলিক কেন তবে?, ছাত্রের টাকায় বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নয়, হৈ হৈ রৈ রৈ এত টাকা গেল কই, এক দফা এক দাবি বেতন ফি কমাতে হবে এসব স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ও প্রক্টর(ভারপ্রাপ্ত) এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. আনিছুর রহমান ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর মাহবুবর রহমান উপস্থিত হন। আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। এসময় আন্দোলনকারী এক ছাত্রী জ্ঞান হারালে তাৎক্ষণিক তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আগামীকাল সকাল ১১টায় সকল বিভাগের সভাপতি ও সকল অনুষদের ডিনদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এদিকে সকাল সাড়ে দশটা হতে পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে আমরণ অনশনে নামে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রায় ৫ মাস আগে থেকে তারা অবস্থান কর্মসূচী, প্রশাসন বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করলেও অনুষদীয় ডিন কিংবা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন আশ^াস পাইনি বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। পরে তারা দাবি আদায়ের জন্য দীর্ঘক্ষণ যাবত ডিনের কার্যালয় অবরোধ করে  রেখে এক পর্যায়ে ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় অফিসে অবস্থানরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে আটকা পড়ে। আন্দোলনকারী ৫ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে এ আমরন অনশনে নামে। সৈকত নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির বিষয়ে  প্রো-ভিসি (ভারপ্রাপ্ত ভিসি) প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, এটা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হবে। ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপিত হলে পরবর্তীতে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।

ইবি’তে দিনব্যাপী  স্টকহোল্ডার অন কোয়ালিটি এ্যসুরেন্স শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনভবনের তৃতীয়তলায় কনফারেন্সরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টকহোল্ডার ৩৩টি বিভাগের নির্বাচিত ১৩২ জন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মঙ্গলবার দিনব্যাপী “স্টকহোল্ডার অন কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর আয়োজনে দিনব্যাপী সেমিনারের প্রথম সেশনে (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. কে. এম. আব্দুস ছোবহান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও সেমিনারে রিসোর্স পারর্সনের বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্কটি হবে ভালোবাসার, সম্মানের ও মধুর মতো। মানুষকে যে ভালো চোখে দেখে সে মহৎ ও মহান। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সময় উপযোগী বিষয়গুলোকে তোমাদেরকে অবশ্যই  জানতে হবে। মনে রাখতে হবে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে যার কাছে যত বেশি তথ্য থাকবে সে তত বেশি সমৃদ্ধ ও আধুনিক। সেমিনারের দ্বিতীয় রিসোর্স পারর্সনের বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান আরো বলেন, তোমরা আজ এই কর্মশালায় যা কিছু শিখবে তা তোমাদের বর্তমান শিক্ষাজীবনে ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগবে। তিনি বলেন,  আমরা সবাই পরিবার থেকে এসেছ্,ি কেউ বিছিন্ন দ্বীপের মানুষ নয়। পরিবারের বাবা-মার কাছ থেকেই আমরা জীবনের শুরুতেই সব ধরনের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা পায়। তিনি আরো বলেন, যুগের চাহিদা অনুযায়ী তোমাদেরকে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে উন্মুক্ত শিক্ষা চর্চার ক্ষেত্র। এখান থেকে তোমরা সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। তাই তোমাদের মুল কাজটি হবে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহন করা এবং সেভাবে নিজেদেরকে গড়ে তোলা। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, তুমি যদি নিজেকে সময় উপযোগী করে গড়ে না তোলো তবে  বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থেকে পিছিয়ে পড়বে। কোন বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন না করলে সেই শিক্ষা কাজে লাগে না। তাই শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো করলেই ভালো ছাত্র হওয়া যায় না। ভালো ছাত্র হতে হলে সব বিষয়ে ভালো হতে হবে। তিনি বলেন, সময়কে কাজে লাগাতে হবে, যে যত বেশি সময়কে কাজে লাগাবে সে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সফলতা পাবে। তিনি আরো বলেন, সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কিছুই হয় না। তোমাদেরকে সুনিদিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে তাহলেই কাঙ্খিত লক্ষে পৌছানো সম্ভব। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. কে.এম.আব্দুস ছোবহান। সেমিনারের উপস্থিত ছিলেন ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আকতার হোসেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে অগ্নিদগ্ধ বৃদ্ধা নারীর মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে অগ্নিদগ্ধ বৃদ্ধা নারী ৩দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। নিহত ইয়ারন নেছা (৬৫) উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর বাঙ্গালপাড়া গ্রামের মফিজুল ঢালির স্ত্রী। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ইসলামনগর বাঙ্গালপাড়া এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে ইয়ারন নেছা অগ্নিদগ্ধ হয়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, মফিজুল ঢালির রান্না ঘরের চুলা থেকে অগ্নিকান্ড ঘটে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী নজরুল ঢালি ও রহমান ঢালির ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলেও তৎক্ষনাত ৩জনের ৬টি ঘর পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। আগুনে পুড়ে মারা যায় ৫টি ছাগল ও ২টি গরু। আগুনে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় ইয়ারন নেছা। তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান। আগুনে ৩পরিবারের নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও খাদ্য-শস্যসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হওয়ার কথা তারা জানিয়েছিলেন।

জেলা পর্যায়ে শিশুবিবাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ে শিশুবিবাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্তি দে। প্রধান অতিথি ছিলেন  কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তি’র নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম। প্রকল্পের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন উম্মে হালিমা, কমিউনিকেশন ফর ডেভলেপমেন্ট অফিসার, ইউনিসেফ,খুলনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফারজানা শরীফ, সিনিয়র এএসপি, মিরপুর সার্কেল। সভায় দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় শিশু বিবাহ পরিস্থিতির উপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রোকসানা পারভীন, উপ-পরিচালক, সমাজসেবা, কুষ্টিয়া, হাসিনা বেগম, উপ-পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া, শেখ গিয়াসউদ্দীন আহম্মেদ মিন্টু, বিশিষ্ট কলামিস্ট, সাংবাদিক মিজানুর রহমান লাকী, চেম্বার অব কমার্স এর সহ সভাপতি এস.এম কাদেরী শাকিলসহ আরো অনেকে। সভাটি সঞ্চালনা করেন গোলাম কিবরিয়া, জেলা সমস্বয়কারী, বাংলাদেশ সরকার-ইউনিসেফ যৌথ কার্যক্রম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এবার শ্রীলংকান সন্ত্রাসী ঠেকাতে ভারত সীমান্তে হাই অ্যালার্ট!

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বিস্ফোরণে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরপর চালানো এ হামলায় ভারত-শ্রীলঙ্কা উপকূল এলাকায় বিশেষ টহল দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, শ্রীলংকায় হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের ভারতে প্রবেশের সম্ভাবনা এড়াতে ভারত-শ্রীলংকা জলসীমায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এ এন আই জানিয়েছে, ভারতের জলপথে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিমানগুলোতেও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও জানায় তারা। তাছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডকেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে হামলার পরপরই শ্রীলংকার বিষয়টি ভারত গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সুষমা বলেছেন, কলম্বোয় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতির ওপর আমাদের গভীর নজর রয়েছে। রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে পরপর বোমা হামলা হয়। হামলায় ২৯০ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি নাগরিক। আহত পাঁচ শতাধিক। রোববার ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। এদিকে হামলার ঘটনায় কলম্বোর একটি বাড়িতে পুলিশের অভিযানে সাত ব্যক্তিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটকের খবর জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার হামলায় ‘আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক’ জড়িত

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের দিন গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় একটি ‘আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক’ সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। হামলার পরদিনই শ্রীলঙ্কার কেবিনেট মুখপাত্র রাজিথে সেনারতেœ বলেছেন,“শুধু এ দেশেরই কোনো গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে তা আমরা বিশ্বাস করি না। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের হামলা সফল হতে পারে না।” রোববার ইস্টার সানডের পরবের মধ্যে দুই দফায় তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলসহ আট জায়গায় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৫শ’ জন।শ্রীলঙ্কা সরকার এ হামলার জন্য স্বল্প পরিচিত একটি স্থানীয় জিহাদি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।গোষ্ঠীটির নাম ন্যাশনাল তাওহীদ জামায়াত (এনটিজে)। যদিও কোনো গোষ্ঠীই এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি।বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা হামলাকারীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক খুঁজে বের করার জন্য বিদেশি সহায়তা চাইবেন বলে জানানো হয়েছে এক বিবৃতিতে।সিরিসেনার কার্যালয় বলেছে,“স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পেছনে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে।এ কারণেই প্রেসিডেন্ট বাইরের দেশগুলোর সহায়তা চাইবেন।” এর আগে রোববার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ বলেছিলেন, নিরাপত্তা বিভাপগ হামলা হওয়ার ব্যাপারে আগেই জানতে পেরেছিল। কিন্তু সে তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শ্রীলঙ্কা হামলার দায় স্বীকার  করে আইএসের বার্তা

ঢাকা অফিস ॥ শ্রীলঙ্কায় কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল ইসলামিক স্টেট-আইএস।গত রোববার ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে ওই হামলার ৩২১ জন নিহত হন, আহত হয় পাঁচ শতাধিক মানুষ। আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক-এ মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করে আরবিতে লেখা একটি বার্তা আসে। তবে সেখানে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাভন বিজয়বর্ধনে এদিন পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটা (শ্রীলঙ্কার হামলা) করা হয়েছে।” তবে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে নামাজের সময় গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ঘটনার যোগসূত্র কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল – তা জানাননি বিজয়বর্ধনে। তার ধারণা, শ্রীলঙ্কার দুটো উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠন ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত এবং জমিয়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহিম-জেএমআই ইস্টার সানডের সকালে গির্জা আর হোটেলে হামলার সঙ্গে জড়িত। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পার্লামেন্টে বলেছেন, হামলার সঙ্গে বিদেশি যোগসাজশের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই ধরনের বিবৃতি আগের দিন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার দপ্তর থেকেও এসেছিল। তিনি বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কার যে সংগঠনই ওই হামলা চালিয়ে থাকুক,তারা বাইরে থেকে সহযোগিতা পেয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফ থেকে। পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে সেখানে কাজ শুরু করেছে। গত দুই দিনে সব মিলিয়ে ৪০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজন সিরীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সেনা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ হামলার পর ভারত লাগোয়া দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় সোমবার রাত থেকে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা আগেই বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কাজের ধরনের মিল পাচ্ছেন তারা।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে ফোন করে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।  তদন্তে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কলম্বো পৌঁছেছেন বলে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।শ্রীলঙ্কার একজন মন্ত্রী বলেছেন, উগ্রপন্থি ইসলামী সংগঠন ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত গির্জা ও কলম্বোর ভারতীয় হাই কমিশনে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে সপ্তাহ দুই আগেই সতর্ক করেছিল একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা।কিন্তু সেই সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছেনি, কারণ দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর সিকিউরিটি ব্রিফিং প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার হাতে যায়, প্রধানমন্ত্রীকে তা দেখানো হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে বলেছে, শ্রীলঙ্কায় আরও সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে।একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে শ্রীলঙ্কায় বিপুল বিনিয়োগ করা দেশ চীন। এক ভ্রমণ সতর্কতায় চীন সরকার তার নাগরিকদের বলেছে, আপাতত শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে যাওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে।