ছুটির নোটিশ

আজ মহান একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে আজ  বৃহস্পতিবার দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তাই আগামীকাল (২২ ফেব্র“য়ারি) শুক্রবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।

-সম্পাদক

দৌলতপুরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

প্রথম প্রহরে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২.০১টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন উপজেলা পরিষদ চত্বরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা প্রথমে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার-এর নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার-এর নেতৃত্বে দৌলতপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশ, বর্তমান সদস্য আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে দৌলতপুর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার-এর নেতৃত্বে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, দৌলতপুর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, দৌলতপুর কলেজ ও দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ ভাষা শহীদদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এদিকে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন আজ বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অপরদিকে দৌলতপুর কলেজ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও দৌলতপুরের বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইয়ার আলীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগ নেতা ইয়ার আলী। তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিসের সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইয়ার আলী বলেন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে আমার লক্ষ্য থাকবে সর্ব প্রথম কুষ্টিয়া সদর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করা। একই সাথে কুষ্টিয়া সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে সহযোগিতা করা। আশা করি আমার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদর উপজেলাবাসী আমাকে নির্বাচিত করে আমার প্রত্যাশা পুরণ করবেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে

কুমারখালীতে ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও মায়েদের রচনা প্রতিযোগীতা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও মায়েদের রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টায় কুমারখালী শহরের ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতালের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ছাদে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগীতায় প্রায় ১৪০ জন শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় এবং অভিভাবক হিসাবে ১৭ জন মা ও ১ জন বাবা স্বত:স্ফুর্তভাবে “জাতীয় জীবনে একুশের প্রভাব” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেন। ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালের ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনে অংশ  নেওয়া শিশুদের জন্য ১ ঘন্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। প্রতিযোগীতায় শিশু শ্রেণীর জন্য যা খুশি তাই, কেজি শ্রেণীর জন্য জাতীয় পতাকা, প্রথম শ্রেণীর জন্য জাতীয় ফুল শাপলা ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য শহীদ মিনার আঁকতে বলা হয়। প্রতিযোগীতা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখাযায়, কেউ জাতীয় ফুল শাপলা, কেউ জাতীয় পতাকা এবং কেউ মনযোগ সহকারে শহীদ মিনার আঁকছে। আর কেউ আঁকছে যা খুশি তা। এ সময় ময়েরা (অভিভাবক) ছিলেন বাহিরে। তাই কাউকে কাঁদতেও দেখা যায়। ঘড়ির কাঁটা ঘন্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ শিশুরা খাতা জমা দেওয়ার জন্য স্যারদের ডাকতে থাকে। শিশুদের প্রতিযোগীতা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় অভিভাবক বাবা ও মায়েদের “জাতীয় জীবনে একুশের প্রভাব” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগীতা। এতে ১৭ জন মা ও ১ জন বাবা অংশগ্রহণ করেন। অভিভাবকদের প্রতিযোগীতা শেষে অধিকাংশ অভিভাবকই আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপকেষর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মা অভিভাবক বলেন, লেখাপড়া ছেড়েছি প্রায় দেড় যুগ হচ্ছে। কিন্তু এখানে শিশুদের পাশাপাশি প্রতিযোগীতায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণের সুযোগ  দেওয়ায় যেন আবারো পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রতিযোগীতায় বসতে পারলাম। তিনি ফ্যামিলি কেয়ারের এই আয়োজনকে খুবই সুন্দর আয়োজন বলে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এবং এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা ও অভিভাবকদের রচনা প্রতিযোগীতা আয়োজন ও বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক সুজয় চাকী। প্রতিযোগীতার বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, কবি ও কথা সাহিত্যিক সোহেল আমিন বাবু, কবি মেহেদী হাসান, সুনম সরোয়ার বকুল ও কল্লোল অধিকারী। আজ একুশে ফেব্র“য়ারী সন্ধ্যা ৭টায় ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতাল আয়োজিত এ প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন

ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুরুজের পক্ষে মনোনয়ন উত্তোলন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুরুজের পক্ষে মনোনয়ন উত্তোলন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া শহর ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মকলেছুর আলম বাবু, সাবেক বারখাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান কুষ্টিয়া শহর ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা রইছ উদ্দিন, কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান, কুষ্টিয়া শহর ১৭নং ওয়ার্ডের কাটাঝুলা পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাজী ওয়াহেদ বিশ্বাস, কে.এস.এম কলেজের সহকারী অধ্যাপক নুরুল আমীন রতন,১৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইদবার আলীসহ অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

নুরুল ইসলাম সুরুজ নিজেকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এরই মধ্যে সুরুজ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। করছেন সুধী সমাবেশও। এবিষয়ে সুরুজ বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ সদর উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আরো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের পথে। আমি সেই উন্নয়নের সামান্যতম সহযোগি হিসেবে কাজ করতে চাই। আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে সেই  উন্নয়ন সহযোগি হিসেবে কাজ করার সুযোগটুকু আপনারা করে দিবেন। একই সাথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলাকে মাদকমুক্ত উপজেলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবারও দৃঢ় প্রত্যায় ব্যক্ত করেন।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগার পরিদর্শনকালে ডিসি আসলাম হোসেন

নেশা থেকে সবাইকে বের হয়ে আলোর জগতে ফিরে যেতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ গতকাল বুধবার কুষ্টিয়া জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি জেলের বন্দিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বন্দিদের থাকার জায়গা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি কারাবন্দীদের সাথে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসিবে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, মাদক হলো সর্বনাশ নেশা। এ নেশা থেকে সবাইকে বের হয়ে আলোর জগতে ফিরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক এমন একটা জিনিস যা অন্য কোন প্রাণী খেতে পারে না।   যদি খাবারের অংশ মাটিতে পড়ে যায় তাহলে ঐ অংশগুলো পিপঁড়া, মাছি, বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। কিন্তু কোন মাদকের অংশ মাটিতে পড়ে তাহলে অন্য কোন প্রাণী খায় না। স্বাস্থ্য বাঁচাতে হলে মাদক থেকে বের হয়ে আসতে হবে।  তা না হলে এর অনেক ভয়াবহ হবে।  আজ যারা এই কারাগারে বন্দি আছে তারা শপথ করেন আপনারা একজন ভাল মানুষ হয়ে যেন বাড়ীতে ফিরে যাবেন।  এসময় তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এরআগে প্রবেশন অফিসের আয়োজনে কারাগার পরিদর্শনের প্রাক্কালে কারারক্ষীদের একটি সুসজ্জিত চৌকস কারারক্ষী দল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার এবং সশস্ত্র সালাম প্রদান করেন। এরপর জেলা প্রশাসক কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে প্রধান কারারক্ষী জেলা প্রশাসককে কারাবন্দীদের তথ্যাদি সম্বলিত একটি তথ্যচিত্র অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাশালা, কিশোর ওয়ার্ডসহ কারাভ্যন্তরের চত্বর ঘুরে  দেখেন এবং কারাবন্দী খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে কারাগার পরিত্যাগ করে অফিসে ফিরে আসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত,পিপিএম (বার)  সিও, ৪৭ বিজিবি, মিরপুর লেঃ কর্ণেল মোঃ রফিক, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিঃ সহকারী পরিচালক মোঃ আজিজুল হক, জেল সুপার জাকের হোসেন, বেসরকারী কারা ভিজিটর গোলাম মহসিন, ডাঃ আসমা জাহান লিজা, কুষ্টিয়া ব্লাষ্ট এর কর্মকর্তা শ্রাবন্তী মুখার্জী প্রমুখ।

সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৯ জন শপথ নিয়েছেন

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৯ জন গতকাল বুধবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদ ভবনের নিচ তলায় শপথ কক্ষে তাদের শপথ পাঠ করানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রথমে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন। এরপর জাতীয় পার্টির ৪ জন, পরে ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে একজন আলাদা আলাদাভাবে শপথ নেন। শপথ শেষে নতুন সংসদ সদস্যরা সচিবের কার্যালয়ের রাখা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং একসঙ্গে তাদের ছবি তোলা হয়। এছাড়া নারী এমপিদের আইডি কার্ড দেয়ার জন্য পৃথক পৃথকভাবে তাদের ছবি তোলা হয়। রোববার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাসেম এর আগে তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ১৬ ফেব্র“য়ারি শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কোন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি এবং একই আসনে একাধিক প্রার্থীও ছিল না। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যদি কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকে আর সেখান থেকে কেউ প্রত্যাহার না করে। তাহলে প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরের দিন তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে হয়। তাই কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় ৪৯ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যে ৪৩ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন তারা হলেন- ঢাকা থেকে শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা, সুবর্ণা মুস্তফা ও নাহিদ ইজহার খান, চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম, কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তি চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী, বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান ও জাকিয়া পারভীন খানম, পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক ও খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন্নেছা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলী, নংরসিদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গে¬ারিয়া ঝর্ণা সরকার, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম সাকী, ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে  সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক শিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমীনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রতœা আহমেদ। জাতীয় পার্টির চার সদস্য হলেন- সালমা ইসলাম, রওশনারা মান্নান, নাজমা আক্তার ও মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী। ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে লুৎফুন নেসা খান এবং স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী সেলিনা ইসলাম। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, বিএনপি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত একটি আসন পেয়েছে। কিন্তু দলটি সংসদে যোগ না দেয়ায় এই আসনে ভোট হয়নি।

বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, তাদের সঙ্গে জোট ও সরকার গঠন করায় জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলগতভাবে ক্ষমা চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতন থেকে দায়মুক্তি পেতে পারে না। দায়মুক্তি পাবেও না। তারা এত দিন ধরে বাংলাদেশে যে রাজনীতি করেছে, তাদের নিয়ে রাজনৈতিক জোট গঠন করে একসঙ্গে নির্বাচন করা ও সরকার গঠন করার জন্য বিএনপিও একই অপরাধে অপরাধী। বিএনপিও দায়মুক্তি পেতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর ভেতর থেকে দাবি উঠেছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। তাদের কয়েকজন নেতা ঘোষণা দিয়েছেন পদত্যাগ করার। এই পদত্যাগের ঘোষণা বা তাঁদের মধ্য থেকে ক্ষমা চাওয়ার যে কথাবার্তা বলা হচ্ছে, এগুলো দেশ-বিদেশে চাপমুক্ত হওয়ার একটি কৌশল। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, পৃথিবীর সব দেশ সে কারণে বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আজকে শেখ হাসিনার কারণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হন, বাংলাদেশ সব সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে গেছে। অথচ একটি পক্ষ, দেশের কিছু রাজনৈতিক দল, দেশের অগ্রযাত্রাকে টেনে ধরার চেষ্টা করছে এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চায়, তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরেই বন্দী গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই মুক্তচিন্তা মুক্তি পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের অগ্রগতি। শেখ হাসিনা শুধু অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক নন, মানবতার প্রতীক। তিনি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহসভাপতি দিলীপ কুমার রায়, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা’ বইয়ের লেখক সুজন হালদার প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

যুক্ত হলো আরেকটি স্প্যান ১২শ মিটারে পদ্মা সেতু

ঢাকা অফিস  ॥ পদ্মা সেতুতে যুক্ত হলো আরো একটি স্প্যান। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জাজিরা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির ওপর ধূসর রঙের ‘৬ই’ নম্বর এই স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে জাজিরা অংশে সেতুটি দৃশ্যমান হলো ১০৫০ মিটার। এ ছাড়া মাওয়া প্রান্তে আরো দৃশ্যমান রয়েছে ১৫০ মিটার। ইতোপূর্বে ৭টি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সকাল থেকে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে পিলারের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের পজিশন অনুযায়ী রাখা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে রাখা হয় পিলারের ওপর। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে বসানো হয় ‘৬ই’ নম্বর স্প্যানটি। এছাড়া আগামী ১০ মার্চের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির ওপর ৬-ডি নামের আরেকটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। এদিকে পদ্মায় এখন নেই তীব্র গ্রোত, কেটে গেছে নকশা জটিলতা। সময়টা অনুকূল, আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে নদী জুড়ে এখন চলছে কাজ। এর আগে জাজিরা প্রান্তে ৬টি ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ীভাবে একটি স্প্যান বসানো হয়। পদ্মা সেতুর এক প্রকৌশলী জানান, সেতুর সব খুঁটির নকশা সম্পন্ন হওয়ায় এখন সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়া হয়েছে। তারা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সেতুর উপর দিয়ে ২০২০ সালে যান চলাচল হচ্ছে।

কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। বুধবার রাত ১২টা ১মিনিটে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা কালেক্টরেট চত্বর থেকে শ্রদ্ধাচিত্তে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল পুলিশ সদস্য ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করেন। পরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে হাজার হাজার নারীপুরুষ সমবেত হন শহীদ মিনার চত্বরে। এদিকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে কর্মসূচী নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব’র পাশাপাশি সাদাপোষাকধারী পুলিশ সদস্যরা কড়া সতর্ক থাকেন।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিস্কার

ইবি প্রতিনিধি ॥ র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে করা হয়েছে। বহিস্কৃতরা সকলে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিস্কার হওয়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে, মেহেদী হাসান, সুমাইয়া খাতুন মেহেদী হাসান রোমান, আহমেদ যুবায়ের সিদ্দিকী ও  মুয়িদ হাসান। বিভাগ সূত্র জানায়, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তিন ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে র‌্যাগ দেয়। পরে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগের একাডেমিক কমিটির জরুরী সভায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এদিকে ঘটনায় সত্যতা অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নাসিম বানুকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন এবং ট্রিপলই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে প্রদান করতে বলা হয়েছে। বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, তিন শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় বিভাগে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিল। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ মোতাবেক তাদের সাময়িক বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে।’

ভেড়ামারা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ২ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ২১ ফেব্র“য়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও  ২ দিনব্যাপী বইমেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি রাসেল মিয়া। অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শাহাদুর রহিম, জাসদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ তৌহিদুল ইসলাম আলম, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শামিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, ডাঃ রাকিউর রহমান রকিব, ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম আনছার আলী, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক চেতনায় কুষ্টিয়া পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক  প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল প্রমুখ। সার্বিক সহযোগিতায় মনি গ্র“পের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি।

ইবিতে “ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. রাশিদ আসকারী

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও বাঁচাতে হবে

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল স্লোগান হওয়া উচিত “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও বাঁচাতে হবে”। তিনি বলেন, ভাষার ক্ষেত্রে একটি ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা বিলুপ্ত হতে চলেছে। এরকম অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, আফ্রিকা, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ ৮টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশে থেকে অনেক ভাষা প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে এক জায়গার মানুষ আরেক জায়গায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য এবং বসবাসের জন্য তারা  সেখানকার ভাষা শিখতে গিয়ে নিজের ভাষাকে হারিয়ে ফেলছেন। এরকম ভাষা হারানো অনেক মানুষ আমাদের দেশেও রয়েছে। তাদের সেই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালাও রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভাষার অধিকার রক্ষা করেছি। ঠিক অনুরূপভাবে অন্যের ভাষাকেও রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এই ভাষাগুলো বাঁচাতে জাতিসংঘের ইউনেস্কোর স্লোগান হওয়া উচিত “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিকে বাঁচাতে হবে এবং তাদের ভাষাকে বাঁচাতে হবে”। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাষা বিলুপ্তির বিষয়টি লক্ষ্য করেই বাংলা একাডেমিতে “ভাষা যাদুঘর” তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশ্বের সকল হারিয়ে যাওয়া ভাষা এখানে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের গণপরিষদ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় বক্তৃতা করেছিলেন। তাই চেতনাগতভাবে আমাদেরকে ভাষার মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বড় করে দেখতে হবে। তাছাড়া অন্যের ভাষা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, ৩ দিনব্যাপী আলোচনা সভার দ্বিতীয় দিনে “ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন স্যান্ডিং কমিটি ২০১৯’র আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহা-পরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং ঝিনাইদহ জাহেদী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস্ এর চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী (মহুল মিয়া)।

প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় প্রফেসর শামসুজ্জামান খান বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী নিষ্ঠায়, দক্ষতায়, আদর্শবাদীতায় এবং কত নির্যাতন সহ্য করে, কত পরিকল্পনা করে তিনি আমাদেরকে এই দেশটি দিয়ে গেছেন, তা ভাবতে অবাক লাগে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন রাষ্ট্রনায়ককে এত কষ্ট, এত ষড়যন্ত্র, এত অপমান-অত্যাচারে পড়তে হয়নি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে অতিরিক্ত ভালবাসতেন এবং কাউকে অবিশ্বাস করতেন না। এই অতিরিক্ত ভালবাসা এবং অবিশ্বাস না করার কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।   সভায় বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই তো বাংলাদেশ, লাল-সবুজের পতাকা, আমাদের সংবিধান, বাঙালির স্বাধীনতা, অধিকার, গণতন্ত্র, সাম্য সব কিছুইতো বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই। বঙ্গবন্ধুর মধ্যেই সব কিছু নিহিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একদিনেতো এই দেশ স্বাধীন করেননি। এদেশের স্বাধীনতার পিছনে তাঁর ছিল দীর্ঘ আত্মত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, মানুষের ভিতরের ভাবনা প্রকাশ করার যে বাহন তা হচ্ছে ভাষা। আমাদের ভাষার বাহন হচ্ছে বাংলা ভাষা। এ ভাষাকে যখন পাকিস্তানীরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তখন যে সকল দামাল ছেলেরা এটাকে রক্ষা করেছিলেন তাঁদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে আমরা যদি ভাবি, তাহলে দেখতে পাই ভাষা আমাদের মধ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা তৈরি করেছে। আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ার মহানায়ক হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সেলিনা বিথি’র সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুুর রহমান, টিএসসিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াসিন আলী ও ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার।

জাতিসংঘকে পাকিস্তান

ভারত হামলা চালাতে পারে

ঢাকা অফিস ॥ পুলওয়ামা হত্যাকান্ডের জেরে ভারত আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলো পাকিস্তান। ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি ফেরাতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেসকে মঙ্গলবার একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিটি জাতিসংঘের সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদের সব দেশকে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে পাকিস্তনের পক্ষ থেকে। চিঠিতে পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তান সংশি¬ষ্ট থাকার যে কথা বলছে ভারত, তা নিয়ে আলোচনা করতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের যে হুমকি দিয়েছে ভারত, তার প্রেক্ষিতে এই অঞ্চলে শান্তি পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ফলে, আমরা জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বোধ করছি। আর তাই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে পাকিস্তান।’ জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্র“য়ারি আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার অন্তত ৪৪ সিআরপিএফ সেনার নিহতের ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদ। হামলার ঘটনায় সর্বদলীয় বৈঠকের পর সেনাবাহিনীকে তার পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘যতই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হোক, পুলওয়ামায় ভারতের সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালিয়েছে কাশ্মীরের এক বাসিন্দা। ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে পাকিস্তানকে আক্রমণ করাটা আদৌ উচিত নয়।’ জঙ্গিদের পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে ভারত যে অভিযোগ করছে, জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তা অবাস্তব বলে উলে¬খ করেছেন কুরেশি। মোদি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে যে ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যবহার করছেন, আগামী দিনেও সেটা করে যেতে চাচ্ছেন, চিঠিতে তার উলে¬খ করেছেন কুরেশি। মেহমুদ কুরেশি চিঠিতে আরও উলে¬খ করেছেন, ‘ভারত সচেতনভাবে পাাকস্তান বিদ্বেষকে উসকে দিয়ে তার রাজনীতিতে তার ফল তুলতে চাইছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে শক্রতা করছে তারা। তারা এ অঞ্চলে অশান্তির পরিবেশ, উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।’ দিলি¬ ইতোমধ্যেই সিন্ধু নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছে, জাতিসংঘের মহাপরিচালককে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।’ ভারত চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মিটিয়ে নিতে পারে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়ায় খাল থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল মোড় এলাকায় জিকে সেচ খাল থেকে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা জিকে সেচ খালে গোসল করতে গেলে ভেসে উঠা লাশটি  দেখতে পায়। খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, লাশটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে পানির স্রোতে লাশটি ভেসে আসতে পারে।

নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদা হাজির না হওয়ায় পিছিয়েছে শুনানি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাজির করতে না পারায় নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে; নতুন তারিখ পড়েছে আগামী ৩ মার্চ। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই দিন ঠিক করেন। দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা নিয়ে একবছর ধরে এই কারাগারেই আছেন খালেদা জিয়া। বুধবার মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত না করে কাস্টডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ, তাতে ‘ঘুম থেকে না ওঠায়’ তাকে আদালতে উপস্থিত করা যায়নি বলে জানানো হয়। গত ১২ ফেব্র“য়ারি মামলার সবশেষ শুনানিতে খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। ২০১৭ সালে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে এ শুনানি প্রায় এক বছর আটকে ছিল।

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নিজ সংবাদ ॥ ‘মহান ২১ ফেব্র“য়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ আজ বৃহস্পতিবার। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই অমর একুশে পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার- মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘বরকত সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত। ’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : ‘তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না। কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় লিখেছেন ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি। ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবি- এ দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্র“য়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোন আপোষ চলেনা, চলেনা কোন গোঁজামিল। জীবন-মৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন।’ বস্তুতো, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্র“য়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠির প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’। একুশে ফেব্র“য়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। ২১ ফেব্র“য়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রাত ১২টা ১ মিনিটে (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়াও ২২ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা । আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনিস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শিশু একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: আগামীকাল সকাল ৬টা ৩০মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থান হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গমন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। বাদ জোহর অমর একুশে হলে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত, বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদুল জামিয়া, সকল হলের মসজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত/শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা।

একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আসুন মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি

ঢাকা অফিস ॥  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্যাদার সাথে দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে সুরক্ষা এবং চর্চার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমাদের মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি। তিনি একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়। কিভাবে নিজের মাতৃভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা যায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে রক্ষার চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যেটা অর্জন করেছি তার সুফলটা যেন আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে, তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই।’ একুশে পদক বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে যারা একুশে পদক পেয়েছেন তারা গুণীজন। তাঁরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কীর্তিমান, তাঁদের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই অবদানের কথা সবসময়ই আমরা স্মরণ করি এবং আমি মনে করি, আমাদের আগামী দিনের প্রজন্মও তাঁদের অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, বাংলা আমাদের ভাষা- যে কথা জাতির পিতা বারবার বলে গেছেন। সেই দেশকেই আমরা গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ যেন অধিষ্ঠিত হয় এবং বাঙালি জাতি যেন বিশ্বসভায় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২১ জন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০১৯ এ ভূষিত করেন। গত ৬ ফেব্র“য়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ বছরের একুশে পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন: ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরনোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু এবং অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য একুশে পদক পেয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। প্রয়াত পপ শিল্পী আজম খান (মরণোত্তর) ও নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান। গবেষণায় ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড.মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় ড. প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ভাষা সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদক বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ী মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম প্রজ্ঞা লাবনী এবং পপ স¤্রাট আজম খানের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম ইভা খান পুরস্কার গ্রহণ করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিচারপতি গণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন  দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, পূর্বের একুশে পদক বিজয়ী ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ৪৫৭ জন সুধী এবং ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত তরা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যা কিছু অর্জন তা কিন্তু সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারই এনে দিয়েছে। যার মধ্যে- ভাষা আন্দোলন ছাড়াও ৬দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৯৫৬ সালে সরকার গঠন করেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ই ২১ ফেব্র“য়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও ১৯৫৮ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান মার্শাল ল ঘোষণা করেন এবং শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইউনেস্কো মহান একুশে ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তিনি বলেন, প্রায় কুড়ি বছর আগে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালামসহ কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির উদ্যোগে এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্র“য়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আমাদের একুশ এভাবে পরিণত হয় পৃথিবীজোড়া মানুষের মাতৃভাষা দিবসে।

মাতৃভাষাকে রক্ষা, চর্চা এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা করার জন্য তার সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ করার পর ২০০১ সালে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নির্যাতনের পাশাপাশি আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে পুণরায় সরকারের আসার পরই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব পর হয়। যেখানে বর্তমানে বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষার নমুনা সংগ্রহ এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, আমাদের মাতৃভাষা যেন সুরক্ষিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে আমরা সে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পৃথিবীর অন্য ভাষাভাষি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার ওপরও এখানে নমুনা সংগ্রহ এবং গবেষণা কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতার বাংলায় প্রদত্ত ভাষণের পদাংক অনুসরণ করে প্রতি বছর তাঁর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে ১৯৫২’র মহান ২১শে ফেব্র“য়ারি ভাষার দাবিতে রফিক, সালাম, বরকতদের রাজপথ রঞ্জিত করার গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে এই আন্দোলন গড়ে তোলার পেছনে জাতির পিতার অনন্য ধারবাহিক অবদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা দাবি দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই থেকেই প্রকৃতপক্ষে ভাষার দাবি রাজপথে গড়ায়।’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ঐদিন ইডেন বিল্ডিং, জেনারেল পোস্ট অফিস এবং অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক পিকেটিং করে। পুলিশ ছাত্রদের লাঠিচার্জ করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রকে আটক করে।

কুষ্টিয়া টেগরলজে পূর্ণিমা তিথিতে ২৭তম রবীন্দ্রসন্ধ্যায় আনোয়ার আলী

সংগীতস্রষ্ঠা হিসেবে বাঙালি সমাজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয়তা অপরিসীম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া টেগরলজে পূর্ণিমা তিথিতে ২৭তম রবীন্দ্রসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার আয়োজনে এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় কবি গুরুর বসন্তের কবিতা ও গান অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান অতিথি থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, সংগীতস্রষ্ঠা হিসেবে বাঙালি সমাজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয়তা অপরিসীম। মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, নতুন প্রজন্মকে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে জানাতে হবে। এজন্য রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি কবি আলম আরা জুঁই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আকলিমা খাতুন ইরা। অতিথি শিল্পী ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ খুলনা ডুমুরিয়া শাখার সদস্য ফারহানা ইয়াসমিন শাওন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন খন্দকার মালেকুল মাকসুদ প্রবাল। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সঙ্গীত পরিচালনা করেন শিল্পী স্বপন দত্ত। কবিতা বোধন করেন শর্মিষ্ঠা হোসেন। আবৃত্তি ও রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন সরওয়ার মুর্শেদ, কবি আব্দুর রহমান, শিল্পী কহিনুর খানম, আতাউর রহমান বাদল, মৌসুমী বিশ্বাস, নহলি, রিংকি, অর্চি প্রমুখ। এ সময় জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অশোক সাহা, ইবি’র বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ, বেতার ও টিভি শিল্পী রীনা বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পী কনক চৌধুরীসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তালযন্ত্রে ছিলেন আকাশ চক্রবর্তী ও তন্ময় চক্রবর্তী।

১৭ পদে লড়ছেন ৩৫ প্রার্থী

জমে উঠেছে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

আরিফ মেহমুদ ॥ অপেক্ষার পালা শেষ। আর মাত্র ৩ দিন পর অর্থাৎ আগামী ২৪ ফেব্র“য়ারী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়া  জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে ১৭ পদের জন্য লড়ছেন ৩৫ প্রার্থী। সভাপতি পদে ২ জন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ৩ জন, সহ-সভাপতি পদে ২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ৩ জন, কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে ২জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ২ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ২ জন, সিনিয়র সদস্য পদে ৭ এবং জুনিয়র সদস্য পদে ৬ জনসহ ৩৫ প্রার্থীর নামের তালিকা দিয়ে গত ১৪ ফেব্র“য়ারী সোমবার বিকেলে চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন।

চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরপরই সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারো আনন্দঘন পরিবেশে জমে উঠেছে কুষ্টিয়ার আদালতপাড়ার সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচন অবশ্য সংসদ, উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মত দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল বলে দাবীদার কয়েকজন প্রার্থী তাদের প্রচারনায় নামলেও এখন পর্যন্ত অন্য কোন প্যানেল নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামেনি। কিছুদিন আগেও নিরব থাকা কুষ্টিয়া আদালতপাড়া নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহুর্তে নির্বাচনী আমেজে সরব হয়ে উঠেছে। আদালত চত্বরে প্রার্থীগণ ভিন্ন ভিন্নভাবে সেরেস্তার সামনে কিংবা ছাউনি ক্যাম্প করে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে জমিয়ে তুলছেন নির্বাচনী প্রচার ও মতবিনিময় সভা। আবার কোন কোন প্রার্থী নিজেদের কর্মী সমর্থকদের সমর্থনের বিষয়টি জানান দিতে শহরের অভিজাত হোটেলে প্রার্থী পরিচয় বা কারা তাদের সাথে আছে সাধারণ ভোটারদের দেখানোর জন্য ডিনার পার্টির আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা আইনজীবী সমিতির বার বার নির্বাচিত বর্তমান সাধারণ সাধারণ সম্পাদক সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড.নুরুল ইসলাম দুলাল শক্ত অবস্থানে থাকলেও এপদে অন্য প্রার্থীরা নানান দো-টানায় এখন পর্যন্ত নিজের অবস্থান সুদৃঢ় ও পরিস্কার করতে পারেনি। তবে সমর্থকদের নিয়ে তারাও প্রচার-প্রচারণায় মাঠে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী এবং কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির বার বার নির্বাচিত সহ-সভাপতি এ্যাড. আব্দুল জলিল। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড.নুরুল ইসলাম দুলাল, সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম লালন, এ্যাড. শেখ মোঃ আবু সাঈদ ও এ্যাড. রফিকুল ইসলাম সবুজ।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. কাজী ইমদাদুল হক, এ্যাড. আব্দুল খালেক(১) ও এ্যাড. তানজিলুর রহমান এনাম। সহ-সভাপতি পদে – সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. মঞ্জুরী বেগম ও এ্যাড. মোস্তফা সামসুজ্জামান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে- প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড.আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু, এ্যাড. এস, এম, মনোয়ার হোসেন মুকুল এবং এ্যাড.হাসান রাজ্জাক। কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড.আব্দুর রশিদ (২) ও এ্যাড.বুলবুল আহম্মেদ। লাইব্রেরী সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড. খোন্দকার নাজমুল হক বিপু ও এ্যাড. এস.এম শাতিল মাহমুদ। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এ্যাড. নাজমুন নাহার ও এ্যাড.আবদুস সাত্তার (শাহেদ)। দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড. আবুল হাশিম ও এ্যাড. মনোরুল ইসলাম (মনিরুল)।

সিনিয়র সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড. শামসুজ্জামান মনি, এ্যাড. আবু আজম, এ্যাড. তরুন কুমার বিশ্বাস, এ্যাড. কাজী সিদ্দিক আলী, এ্যাড.শহিদুল ইসলাম (বাবু) এ্যাড. নিজাম উদ্দিন ও এ্যাড. আব্দুর রহিম।

জুনিয়র সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ্যাড. শামীম হোসেন, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম (দীপু) এ্যাড. মকলেছুর রহমান পিন্টু, এ্যাড. আমিনুর রশিদ (লালান), এ্যাড. রোকনুজ্জামান সাজু ও  এ্যাড.ইমরান হোসেন দোলন।

নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহুর্তে আইনজীবীদের মাঝে উত্তাপের আমেজ বইছে। প্রার্থীরা খুব জোরে-সরেই নেমেছেন নির্বাচনী মাঠে। চলছে নিজ নিজ সেরেস্তার আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণের জোর চেষ্টা।  পেশাগত হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও  ভোটকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে দেখা করছে এবং ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। তফশীল অনুযায়ী আগামী ২৪ ফেব্র“য়ারী রবিবার ২০১৯-২০ সাল মেয়াদী কমিটির নির্বাচন সমিতির নিজস্ব ভবনের নতুন হল রুমে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে একটানা বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ৪২৪ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের  চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন-সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. এস.এম আনসার আলী। তার সাথে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. আক্তারুজ্জামান ও সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড.আশরাফ হোসেন।

জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে

কুমারখালীতে শিশু ও নারী উন্নয়নে কর্মশালা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামুলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে জেলা তথ্য অফিস এই কর্মশালার আয়োজন করে। সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। এ কর্মশালার অধিবেশনের শুরুতেই স্যানিটেশন, মাদক ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং জন্মনিবন্ধন বিষয়ে আলোচনা করেন জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ পরিচালক মো: আব্দুল আলীম, নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের পরিচর্যা এবং অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করেন, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা: রওশন আর বেগম।  দুপুর ১টায় এ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে যৌতুক ও বাল্য বিবাহ রোধ এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে এবং প্রধান অতিথি হিসাবে আলোচনা করেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। এর আগে উন্মুক্ত আলোচনায় কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। কর্মশালায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এনজিও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।