কয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়

কুষ্টিয়ার কুমারখালী কয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য কেন্দ্রিয় কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সভায় তিনি বলেন, প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।  নেতাকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছেন। জেলা  নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তাদের যৌক্তিক পরামর্শ গ্রহণ করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে  কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো গঠনতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে এসেছে নতুন গতি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা-বিপত্তি আসবেই। এসব অতিক্রম করে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামীম উল হাসান অপু, কুমারখালী থানা বিএনপি সহ-সভাপতি এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আল কামাল মোস্তফা, যদুবয়রা ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম আসাদ, কুমারখালী থানা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. শাতীল মাহমুদ, কুমারখালী থানা মৎস্যজীবিদলের সভাপতি ঝন্টু বিশ^াস। সভায় বক্তব্য রাখেন, কয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুস সাত্তার রেন্টু, সোহরাব হোসেন, মোঃ তৈয়বুর রহমান তৈয়ব, শরীফুল ইসলাম মালিথা, ইউনুস আলী, শরিফুল ইসলাম রিপন, মিনারুল ইসলাম মিনার, জাকির হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, জহুরুল মন্ডল, সেলিম রেজা সেলিম, রাজা মালিথা, আতিয়ার রহমান, রেন্টু শেখ, রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, এলিম মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম, বকুল আলী, সেলিম রেজা প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির পূর্বের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন নারী নেত্রী নীলা

বাবা-মায়ের পিটুনী খেয়েও কবুল বলেনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তৃষা !

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে এখন আলোচনার শীর্ষে। বিয়ের আসরে বাবা-মায়ের বেধড়ক মারপিট খেয়েও কবুল বলেনি স্কুলছাত্রী তৃষা। অবশেষে বিয়ের আসর ত্যাগ করে বর সহ স্বজনেরা। পরে বাড়িতে এনেও তৃষাকে মারপিট করে বাব-মা। তৃষাদের বাড়ি নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী রেলপাড়া (রেল লাইনের ধারে) এলাকায়। তারা বাবা আব্দুস সালাম দিনমজুরের এবং মা নাগরী খাতুন গৃহীনি। তৃষা কুমারখালী শহরের জে,এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সে এবার সপ্তম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হলেও (রোল নং- ১৩) তাকে স্কুলে যেতে না দিয়ে গোপনে বিয়ের দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে তার বাবা-মা। কিন্তু তৃষা বিয়ে করতে আগ্রহী নয়, সে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। এই কথাটি বাবা-মাকে বলেও কোন কাজ হয়নি। তৃষার অসম্মতি সত্ত্বেও গত ১৬ জুন তৃষাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নন্দলালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের চাচার বাড়িতে। ওইদিন রাতে তৃষাকে শাড়ি-চুড়ি পড়িয়ে বধু সাজিয়ে নিজের ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে (রাজমিস্ত্রির সহযোগী) তৃষার বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিয়ে আসরে তৃষা কবুল বলতে রাজী হয়নি। বিয়ের আসরেই বাবা-মা তৃষাকে বেধড়ক মারপিট করা হলেও সে কবুল বলেনি। এক পর্যায়ে বর সহ আতœীয়-স্বজনেরা চলে যান।  জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তৃষার নানী গোপনে এসে মহিলা পরিষদ নেত্রী শামীমা পারভীন রোজীকে জানালে গতকাল শনিবার দুপুরে মহিলা পরিষদ কুমারখালীর সাধারন সম্পাদক রওশন আরা বেগম নীলা, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমা পারভীন রোজী ও আলেফা খাতুন স্কুল ছাত্রী তৃষাদের বাড়িতে যান। এ সময় তৃষার মা নাগরী খাতুন নারী নেত্রীদের জানান, আর কতো পড়াশোনা করবে। মেয়ে তো বড় হয়ে গেছে। রেলের পাশে বাস করি, ঠিকমতো সংসার চলে না পড়াশোনার খরচ চালানোর উপায় নেই। তাই বিয়ে দিয়ে দিতে চাই। এ সময় নারী নেত্রী রওশন আরা বেগম নীলা বাল্যবিবাহ সম্পর্কে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরলেও তৃষার মা পড়াশোনার করাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন তৃষার পড়াশোনার খরচ সহ অন্যান্য খরচ দিয়ে চান নারী নেত্রী রওশন আর বেগম নীলা। তবুও তৃষাকে পড়াশোনা করাতে আগ্রহী নয় তার মা নাগরী খাতুন। এক পর্যায়ে রওশন আরা বেগম নীলা তৃষাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করাতে চাইলে এতে রাজী হন তৃষার মা। এ ব্যাপারে নারী নেত্রী রওশন আরা বেগম নীলা জানান, আমি মেয়েটি (তৃষা) মাকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে রাজী নয়। ওরা মেয়েটিকে অনেক মারধর করেছে। তবুও মেয়েটি (তৃষা) কবুল বলেনি। আর তৃষা ছাত্রী হিসাবে একেবারে খারাপ নয়। তাই আমি তৃষাকে আমার বাড়িতে এনে রাখবো এবং পড়াশোনা করাবো।

সভাপতি সুলতান ॥ সাধারন সম্পাদক বাবু

চৌড়হাস ঈদগাহ ও গোরস্থানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস ঈদগাহ ও গোরস্থানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে চৌড়হাসে নির্বাচনী বোর্ডের মাধ্যমে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সুলতান আহম্মেদকে সভাপতি ও মীর রেজাউল ইসলাম বাবুকে সাধারন সম্পাদক করে ২৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে নির্বাচনী বোর্ড। অন্যরা হলেন, কার্যকরি সভাপতি- ঈমানুর রহমান, সহ-সভাপতি- আলহাজ¦ মো: মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি- প্রকৌশলী সাইফুল আলম মারুফ, সহ-সভাপতি- রিয়াজ শেখ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক-সাইদুল ইসলাম (চাঁদু), যুগ্ন সাধারন সম্পাদক-আলহাজ¦ মো: মনোয়ার হোসেন (কালু), সহ-সাধারন সম্পাদক-আলতাফ হোসেন, সহ-সাধারন সম্পাদক- আলহাজ¦ মো. আবু সেলিম, অর্থ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এ বি সিদ্দিক, প্রচার সম্পাদক আরিফ শেখ ও এজাজুল হাকিম। নির্বাহী সদস্যরা হলেন, আলহাজ¦ মো. নুরুল ইসলাম (মুনি), কাজী আব্দুর রব মিঞা (দিলু), তোবারক শেখ, মুক্তার হোসেন, এম এ সালাম, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম, হায়দার আলী, সিরাজুল হক। উক্তকমিটি গঠনে নির্বাচণী বোর্ডে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন তারা হলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাইফ-উল-হক মুরাদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার ইন্তাজুল হক। সহকারী নির্বাচন কমিশনার আয়ুব আলী। সহকারী নির্বাচনী কমিশনার জাহিদুর রহমান (বুড়া)। সহকারী নির্বাচন কমিশনার সাহেব আলী।

স্থগিত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা চালুর দাবীতে কুষ্টিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থগিত সম্মানী ভাতা চালুর দাবীতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা সাংগঠনিক কমান্ড কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে ২০ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করে সম্মানী ভাতা স্থগিত ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। সাবেক জেলা কমান্ডার মানিক কুমার ঘোষ স্থগিত ভাতার বিষয়ে জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর সাথে কথা বলেন, কুশল বিনিময় শেষে অতিসত্বর ভাতা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিকট নির্দেশনা পাঠাবেন বলেও সকলকে অবগত করেন। সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাইদুর রহমানের সার্বিক তত্বাবধানে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমান্ডার শেখ আবু হানিফ, সৈনিক (অব:) নুরুজ্জামান, আতিয়ার রহমান, আয়ুব আলী, আ: লতিফ, মনজিল হোসেন, শহিদুল ইসলাম মনি, বিল্লাল মাস্টার, সাহাদত হোসেন, হোসেন আলী, নুর মোহাম্মদ, ওমর আলী, ছলেমান মন্ডল, দৌলত খাঁন, আ: মজিদ, আতাউর রহমান তারা, রুবিনা আক্তার (মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী), আঃ হাকিম, রুহুল আমিন, আবের আলী, মনসাহ আলী, লোকমান হাকিম, ইয়াছিন আলী সহপ্রায় দেড়শ বীর মুক্তিযোদ্ধা।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খালেদার মুক্তি দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে আইনজীবীদের বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন’ এর উদ্যোগে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইট এ্যাঙ্গেল মোড় ঘুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মিছিল শেষে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী রেখে সরকার প্রধান প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আর তাই বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে বর্তমান অবৈধ নিষ্ঠুর সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার ওপর বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর চলমান হয়রানী ও নিষ্ঠুরতার অবসান ঘটাতে জনগণ এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গুম-খুন-ক্রসফায়ার-অপহরণ-ভয় ও শঙ্কার বর্তমান এই দুঃসময় অতিক্রম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে দেশের জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে ‘গণতন্ত্রের মা’  দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য রাজপথে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই।’ বিক্ষোভ মিছিলে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাসহ গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রিজভীর বক্তৃতা চলাকালে বিএনপি অফিসের নিচে বিক্ষোভরত ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুব্ধ একটি অংশের নেতাকর্মীরা হট্টগোল করার চেষ্টা করে।

এমন কিছু হয়নি যে ব্যাংক ধস হয়ে যাবে – পরিকল্পনামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ব্যাংক খাত নিয়ে নানাভাবে কাজ হচ্ছে। এমন কিছু হয়নি যে ব্যাংক ধস হয়ে যাবে। আস্থার কারণে কোনো ব্যাংকে তো টাকা তোলার লাইনও পড়েনি।  সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ব্রাক ইনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক দুর্দশা ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সেমিনারে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পড়েন অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, জাতীয় আয় বাড়লে দারিদ্র্য কমার কথা। কিন্তু দারিদ্র্য কমার হারও কমছে। তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলাফল কোথায় যাচ্ছে? ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের চেকের টাকা দিতে পারছে না অনেক ব্যাংক। দেবে কীভাবে, ব্যাংকের ভোল্টে তো টাকা নেই। এক ব্যাংকের স্বীকৃত বিল অন্য ব্যাংক কিনছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। ব্যাংকের পরিচালকেরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আমাদের সময়ে কখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। অথচ এখন কি হচ্ছে, তা সবাই দেখছে। আমির খসরু বলেন, দেশে যে নির্বাচন হয়নি, এ নিয়ে এখন আর কোনো বিতর্ক নেই। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বাংলাদেশের অবস্থা এমন, যেখানে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, দেশ পরিচালনা করছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, প্রবৃদ্ধি আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কী কাজে লেগেছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। আমার প্রস্তাব, প্রবৃদ্ধি হতে হবে দারিদ্র্য প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে। আর কোন মন্ত্রণালয় বেশি খরচ করেছে, তা দেখে বাজেট বরাদ্দ না দিয়ে কাজের গুণগত মান দেখে বরাদ্দ দিতে হবে। অসমতা ও বৈষম্য রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রতিকূল। সবাই শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সুযোগ পাচ্ছে কিনা। এসব অসমতা রাজনৈতিক বোমায় পরিণত হয়। অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকে যতদিন মেয়াদি ঋণ থাকবে, খেলাপি হওয়ার সুযোগ থাকবে, ততদিন দেশে বন্ড বাজার সৃষ্টি হবে না। কারণ করপোরেটদের কেউ বিশ্বাস করে না, তাদের অনেকেই ঋণ খেলাপি, লুটেরা হিসেবে পরিচিত। নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মুলধন বাড়িয়ে ৮০০ কোটি টাকা করা উচিত। তাহলে কেউ ব্যাংক বিক্রি করে দেবে না। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ক্ষমতা নেই, তারা ভুলেও গেছে তাদের দায়িত্ব কি। সুদের হার কীভাবে ব্যাংক মালিকেরা ঠিক করে দেয়। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, সরকার বলছে ৯ শতাংশ সুদ। আর আমার থেকে নিচ্ছে ১২ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, জবাবদিহি না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। নীতির ভারসাম্যহীনতা প্রকট হয়ে উঠবে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, আমরা কি বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ তৈরী করতে চাই। চাইলে বিদেশি বই কিনতে কেন কর দিতে হয়? সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বিজিএমই সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতি গবেষক নাজনীন আহমেদ, রাজনীতিবিদ নাজমা আক্তার, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল প্রমুখ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম আতাউর রহমান।

শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ সংসদে

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির তালিকা সংসদে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একই সঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন, এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তালিকা দেন। শীর্ষ ১০ ঋণ খেলাপির মধ্যে আছে- চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার অয়েল (এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা), গাজীপুরের গ্যালাক্সি  সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং (৯৮৪ কোটি), ঢাকা সাভারের রিমেক্স ফুটওয়্যার (৯৭৬ কোটি), ঢাকার কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম (৮২৮ কোটি), চট্টগ্রামের মাহিন এন্টারপ্রাইজ (৮২৫ কোটি), ঢাকার রূপালী কম্পোজিট (৭৯৮ কোটি), ঢাকার ক্রিসেন্ট লেদার ওয়্যার (৭৭৬ কোটি), চট্টগ্রামের এস এ অয়েল রিফাইনারি (৭০৭ কোটি), গাজীপুরের সুপ্রভ কম্পোজিট নিট (৬১০ কোটি), গ্রামীণ শক্তি (৬০১ কোটি)। শীর্ষ ৩০০ ঋণ খেলাপির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা আছে ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া ১৪ হাজার ৬১৭ জনের বড় একটি অংশ ঋণ খেলাপি, যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৯ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ হাজার ২১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণ খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ জন।  সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও জানতে চেয়েছিলেন। তবে অর্থমন্ত্রীর উত্তরে বলা হয়, ডাটা ওয্যারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফলে লুৎফুন নেসার প্রশ্নের জবাবে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঋণ খেলাপি ও তাদের ঋণের পরিমাণ সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী। এ প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

 

অবশেষে শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ 

খোকসায় অতিরিক্ত ফিস আদায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায়সহ প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার খবরটি ভাইরাল হওয়ার একদিন পর শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জানা গেছে, প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সুযোগে সদ্য সরকারী হওয়া খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায় শুরু করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গতকাল শনিবার সকালে প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে মানববন্ধনের সৃষ্টি করে। এ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুগত সহকারী শিক্ষকরা মানববন্ধন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রর্দশন করে। অবশেষে বাধ্য হয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিস আদায় বন্ধ  রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। ছাত্র অভিভাবক জেলা পরিষদের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম বাবলুসহ আন্দোলনকারীদের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক  কোচিং ফিসসহ নানা ধরনের অতিরিক্ত ফিস আদায় করে আসছে। চলতি প্রথম সাময়িক পরীক্ষাতেই প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপর শরীরিক নির্যাতন ও অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নামের লিজকৃত জেলা পরিষদের জমিতে প্রায় অর্ধশত ঘরের পজিশন বিক্রির বিস্তর অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলীর সাথে কথা বলার হলে তিনি বলেন- আমি যা করেছি, রেজুলেশন করেই করেছি। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হলেও কোন নির্দেশনা তিনি পান নি। ফলে আগের নিয়মেই চলছেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফ্ফারা তাসনীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান শিক্ষক আগের রেজুলেশন অনুযায়ী ফিস আদায় করেছে। তবে তিনি ফিস আদায় বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পৌরসভায় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

কুষ্টিয়া পৌরসভায় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পৌরসভার স্বাস্থ্য শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন রওশন আরা বেগম, প্যানেল অব মেয়র-১ মতিয়ার রহমান মজনু, এসআইএমও- ডাবলুএইচও, জেলা সমন্বয়ক নিউট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ম্যানেজার কেয়ার, বাংলাদেশ। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও ইপিআই সুপাররেন টেনটেন্ড। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর আনিছ কোরাইশী, পিয়ার আলী  জোমারত, মমতাজ জাহান, কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আব্দুর রহিম, ইপিআই সুপারভাইজার গাজীউর রহমান সহ কুষ্টিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। ভিটামিন “এ” ক্যাম্পেইন  উপলক্ষে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ৮৫টিরও অধিক স্থানে ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে নীল রঙ্গের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে লাল রঙ্গের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম চলবে। কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় প্রায় ১৩ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অপরাধী সনাক্তে ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কুষ্টিয়া পুলিশ

সপ্তাহব্যাপী কর্মসুচীর উদ্বোধন আজ

পুলিশের লোক নিয়োগে যদি আমি টাকা গ্রহণ করি প্রয়োজনে আইজিপি ও ডিআইজিকে জানান – পুলিশ সুপার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেছেন, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত না থাকলে এ সমাজে মাদক থাকবে না। কোন না কোনভাবে এসব কাজের সাথে পুলিশের সদস্য জড়িত আছে। অনেককে এ জেলা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে কাউকে এ জেলায় রাখা হবে না। পুলিশ সুপার বলেন, সামনে পুলিশের লোক নিয়ে হবে। অনেক দালাল মাঠে সক্রিয় আছে। টাকা-পয়সা লেনদেন করছেন অনেকে এমন খবরও আসছে। তবে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি চাকুরি পেতে ১০৩ টাকার বেশি লাগবে না। আমি যদি টাকা গ্রহণ করি এমন তথ্য যদি আপনারা পান প্রয়োজনে ডিআইজি ও আইজিপিকে জানাবেন।

জঙ্গী, নাশকতা, মাদকসহ সকল ধরনের অপরাধমুক্ত শহর গড়ার প্রাথমিক কর্মসূচী হিসেবে নাগরিক তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে কুষ্টিয়া পুলিশ প্রশাসন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ প্রশাসন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমে কর্মিদের প্রশ্নের জবাবে এসপি এসব এসএম তানভীর আরাফাত এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, সারাদেশের অপরাধীরা সাধারণত: অপরাধ সংঘটন শেষে এলাকা ত্যাগ করে প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অন্য এলাকায় অবস্থান করায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাছে অপরাধী সনাক্ত করে খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে যে কোন ধরণের অপরাধী বা জঙ্গী সম্পৃক্ত কাউকে বাড়ি ভাড়া, প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র  বা ছবিযুক্ত যৌক্তিক পরিচয় নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এক্ষেত্রে অপরাধী বা নাশকতা সম্পৃক্ত জঙ্গীদের চিহ্নিতকরণে জনসাধারণের অবগতির জন্য কতিপয় টিপ্স তুলে ধরেন- সাধারণত এদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে, সুনির্দিষ্ট বা যৌক্তিক কোন পেশা থাকে না। সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পেশা সম্পর্কে জেনে তা ক্রসচেক করা। ঘন ঘন বাসা বদল, জাতীয় পরিচয় পত্রে ব্যবহৃত ছবি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেয়া। ভাড়াটিয়ার মোবাইল নম্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রাপ্ত নম্বরে কল করে দেখতে হবে। সাধারণত: পারিবারিক ভাড়াটিয়াদের বাসায় ব্যবহৃত যে ধরনের আসবাবপত্র থাকার কথা অপরাধীদের সেসব থাকে না, যা থাকে সেগুলি অস্থায়ী প্রকৃতির বা হালকা পাতলা বা কমদামী জিনিষপত্র। এমনকি এদের বাসায় কোন টেলিভিশন, ডেক্সটপ থাকে না, থাকে সহজে বহনযোগ্য ল্যাপটপ বা ট্যাব। আশপাশের প্রতিবেশীদের সাথে স্বাভাবিক সখ্যতা থাকে না বা বাসায় কাউকে আমন্ত্রন জানায় না। বাচ্চাদেরও স্কুলে গমন করতে দেখা যায় না বা প্রতিবেশী শিশুদের সাথে মেলামেশা ও খেলাধুলা করতে দেয় না। অধিকাংশ সময় বাসার মধ্যে অবস্থান করে। কেউ বাসায় ঢুকতে চাইলে দরজা না খুলে সেখানে ভিতরে দাঁড়িয়ে কথা বলে। গোপনীয়তা রক্ষা করে ওই বাসায় সন্দেজনক কিশোর, যুবক কিংবা মধ্যবয়সী নারী-পুরষ যাতায়াত করেন। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে উল্লেখিত এধরণের সন্দেহজনক লক্ষন দেখা দিলে তাৎক্ষনিক পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত। প্রাথমিক এসব তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৩২হাজার বাসা বাড়িতে বিনামূল্যে নির্ধারিত ফরম বিতরণ করার উদ্যেগ গ্রহন করেছে পুলিশ প্রশাসন। আগামী এক সপ্তাহ ধরে এসব ফরম বিতরনসহ তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচী চলবে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসুচীর উদ্বোধন করা হবে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলীসহ পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রাথমিক এসব তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৩২ হাজার বাসা বাড়িতে বিনামূল্যে নির্ধারিত ফরম বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন। আগামী এক সপ্তাহ ধরে এসব ফরম বিতরনসহ তথ্য সংগ্রহের কর্মসূচী চলবে।

প্রাপ্ত এসব তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডাটাবেজ তথ্য ভান্ডার সংরক্ষিত হবে যাতে কোন অপরাধী বা অপরিচিত কেউ কুষ্টিয়ায় লুকিয়ে অবস্থান করতে না পারে। একই সাথে প্রত্যেক নাগরিকের দুর্নীতি ও ভোগান্তিমুক্ত পুলিশিং সেবা নিশ্চিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সতর্ক করে বলেন, নির্দেশ না মানলে চাকরী ছাড়–ন নতুবা অন্যত্র চলে যান।

পরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে জেলা আইন শৃংখলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন পুলিশ সুপার। এসময় সেখানে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সভাপতি মাহবুব রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, কুষ্টিয়া এডিটরস ফোরামের সভাপতি মজিবুল শেখ, সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোশিয়েশনের সভাপতি হাসান আলী সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্কের পর ইরানের কাছে এস-৪০০ বিক্রির প্রস্তাব রাশিয়ার

ঢাকা অফিস ॥ তুরস্কের পর এবার ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রুশ সংসদের নিম্নকক্ষ দুমার প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান আলেকজান্ডার শেরিন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের উচিত এস-৪০০ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা। রুশ বার্তাসংস্থা রিয়া নোভস্তি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেকজান্ডার শেরিন এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এস-৪০০ কেনা উচিত। এ পদক্ষেপে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এর আগে ইরান রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কিনতে চেয়েছিল কিন্তু রাশিয়া তা দিতে রাজি হয় নি বলে কয়েকটি মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ইরানের দাবি তেহরান এমন কোনো প্রস্তাব দেয় নি। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের মুখপাত্র ঘোষণা করেছেন, তারা পশ্চিম এশিয়া সামরিক উপস্থিতি জোরদার করবেন। এরই অংশ হিসেবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন মোতায়েন করা হবে। এসব অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ ব্যক্তিদেরকেও পশ্চিম এশিয়ায় আনা হবে বলে তারা জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের বাধা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে তুরস্ক রাশিয়া থেকে এস-৪০০ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ের চুক্তি করে। আগামী জুলাই মাসে রাশিয়ার থেকে গ্রহণ করবে তুরস্ক। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে কয়েকমাস ধরেই টানাপড়েন চলছে। এর মধ্যে তুরস্কের পর ইরানের কাছে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি বিক্রি করার প্রস্তাব দিল রাশিয়া।

জলবায়ু পরিবর্তনে দুর্যোগ ঝুঁকিতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো

ঢাকা অফিস ॥ জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বতমার্নে কয়রা এলাকায় অতি মাত্রায় নদী ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে জনগন। গত তিন দশকে সামুদ্রিক ঘুর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসে সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদগুলো লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। গ্রীন হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে একদিকে যেমন সমুদ্র পৃষ্টের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে নদ-নদীর নাব্যতা হারিয়ে গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় এলাকায় উপচে পড়ছে। যে কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকুলীয় কয়রাসহ এ সকল এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। সূত্রমতে, ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলংকরী সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল খুলনা চট্রগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরনকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনা উপকুলে সিডরের তান্ডব এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এর সাথে নতুন মাত্রায় নদী ভাঙন যোগ হয়ে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও শ্যামনগর এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপর্যুপরি নদী ভাঙন কেড়ে নিচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি, বসত ভিটা, চিংড়ি ঘের ও রাস্তাঘাট। দিন যতই পার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ততই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে জমি জায়গা হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান ও দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কমাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। জলবায়ু ফান্ডের অর্থায়নে সরকার উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যা্েচ্ছ। উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ নুরুল ইসলাম বলেন পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাধ করা হলে উপকুলীয় এলাকার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা জলবায়ু পরিষদ ইতোমধ্যে সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে কয়রাার সমস্যাগুলো বের করে তা কিভাবে মোকাবেলা করা যায় তার উপর কাজ করছে। জানা গেছে,সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলো অনেক সংস্থার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার, কাঁচা রাস্তা নির্মান, ঝড় সহনশীল ঘর তৈরী, পয়নিস্কাশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বে সরকারি সংস্থা দেশের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঝড় জলোচ্ছাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কিছুটা রেহাই পাবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর কিনার ড্যাম্পিং করে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানোর কারণে নদী ভাঙন কিছুটা কমেছে। উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের বাস্তবায়নাধীন চলমান প্রকল্প চালু থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এ অঞ্চলের জনসাধারনের জানমাল অনেকটা রক্ষা করা সম্ভব হবে। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এস এম শফিকুল ইসলাম,বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক ক্ষতির দিকটি বিবেচনায় এনে টেকসই প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক ইউনিটের মতবিনিময় সভা

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টু বলেছেন-বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সেই সাথে জননেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে আমাদের চিন্থিত করতে হবে। গতকাল দুপুরে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক ইউনিটের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি একথা বলেন। ইউনিটের সভাপতি মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের  ট্রাষ্টিজ বোর্ডের সদস্য সচিব ও সিন্ডিকেট সদস্য মুহম্মদ শামসুর রহমান বাবু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক ইউনিট শাখার সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান লাল্টু বলেন-বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখা দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সব পেশাজীবির মানুষেরা এই পরিষদের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে চলেছে। এই পরিষদে কোন গ্র“প বা বিভাজনের সুযোগ নেই। আমাদের সকলে একই চিন্তা ও চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার অঙ্গিকারে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক শাখা সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। এই পরিষদের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ সকলেই অত্যন্ত দক্ষ ও পরিক্ষিত। সাম্প্রতিককালে নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ডাঃ এস. এ মালেক অবগত রয়েছেন। তাঁরই পরামর্শে সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে একটি পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে অচিরেই সকলে এই কমিটির ছায়াতলে অবস্থান করে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, আমরা মুজিব সৈনিক আমাদের  মাঝে কেন বিরোধ থাকবে? তিনি বলেন, আমাদের মাঝে বিরোধ থাকলে অন্যরা সুযোগ নেবে, কিন্তু আমরা সেই সুযোগ নিতে দেব না। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো-কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক পরিষদের কার্যক্রম চলবে, পরিষদের সকল সদস্যকে সাথে নিয়েই পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, কাউকে বাইরে রেখে বিরোধ জিইয়ে রাখা যাবে না আর যারা  কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে চলার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের  ট্রাষ্টিজ বোর্ডের সদস্য সচিব ও সিন্ডিকেট সদস্য মুহম্মদ শামসুর রহমান বাবু বলেন- বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক ইউনিটের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে হবে। সকলের সম্পৃক্ততাকে নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে বাইরে রেখে সংগঠন পরিচালনা করা কঠিন হবে তাই যারা দুরে আসেন তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা সকলে মিলে মিশে এক হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় নিজেদের সম্পৃক্ত রাখুন। পরে  মোবাইলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক ডাঃ এস,এ মালেক সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং আন্তরিকতার সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে ডাঃ এস.এ মালেকের সুস্থ্যতা এবং দেশের অগগ্রতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি মুকুল হোসেনকে সভাপতি ও আবুল কাশেমকে সাধারন সম্পাদক করে ৫১সদস্য বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়।

চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ এর সভাপতিত্বে সভায় তিনি বলেন, এখন বিএনপির মূললক্ষ্য খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনদ্ধার। কারণ দেশে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বেগম জিয়া। তার মুক্তি না হলে, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। আর আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। জাতীয় ঐক্যের ভিতর দিয়ে। দলমত সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বলেন, দেশ আবারো সেই একদলীয় শাসনের কবলে।  সেখান থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন  জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামীম উল হাসান অপু, কুমারখালী থানা বিএনপি সহ-সভাপতি এ্যাড.আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আল কামাল মোস্তফা, যদুবয়রা ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম আসাদ, কুমারখালী থানা যুবদলের সভাপতি এ্যাড.শাতীল মাহমুদ, কুমারখালী থানা মৎসজীবিদলের সভাপতি ঝন্টু বিশ^াস। সভায় বক্তব্য রাখেন, চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফরহাদ হুসাইন, ফারুক হোসেন, অধ্যাপক আলী আজম, আব্দুল মজিদ, শহীদুল ইসলাম শহীদ, আব্দুল হাকীম শলক, একরামুল হক, আনিসুজ্জামান, আব্দুর রউফ, মিজানুর রহমান শাহীন, আমিরুল ইসলাম, মন্টু শেখ, আব্দুল করিম প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ফরহাদ হুসাইনকে আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে মেহেদী হাসান মেদী, ফারুক হোসেন, অধ্যাপক আলী আজম, আব্দুল মজিদ, শহীদুল ইসলাম শহীদ, আব্দুল হাকীম শলক, একরামুল হক, আনিসুজ্জামান, আব্দুর রউফ, মিজানুর রহমান শাহীন, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল করিম, মন্টু শেখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়া মহাশশ্মান মন্দির প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা। পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস, ডাঃ উৎপল কুমার সেন গুপ্ত, যুগ্ম-সম্পাদক বিপ্রজিৎ বিশ্বাস, বাবলু কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ রায় নাড়–, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনন্ত দাস, পূজা সম্পাদক অধ্যাপক কার্ত্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, নির্বাহী সদস্য মৃনাল কান্তি সাহা, মিহির চক্রবর্তী, সুবল প্রমানিক, সুনিল সেন গুপ্ত, তপন বিশ্বাস, স্বপন দাস, গৌতম বিশ্বাস, রঞ্জন বিশ্বাস, অধির কুন্ডু, উত্তম বিশ্বাস, হারান চন্দ্র সাহা, রাম চক্রবর্তী প্রমুখ। সভার শুরুতে পবিত্র শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ করেন পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক বাপ্পী বাগচী। সভায় আগামী ১৯ জুলাই শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ প্রতিযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২৬ জুলাই পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে অভ্যর্থনা, খাদ্য, অর্থ ও প্রচার উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আলমডাঙ্গায় সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দারের রাস্তা নির্মাণ কাজ পরিদর্শন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা লাল ব্রীজ থেকে এলাহীনগর পাকা রাস্তা নির্মান কাজ পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদ সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  সোলায়মান হক জোয়ার্দার সেলুন। এ সময় তিনি বলেন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশে উন্নয়ন হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে। বিগত ১০ বছরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গায় যে উন্নয়ন করেছি তা বিগত ৩৫ বছরে তা কোন সরকার  করেনি। এই রাস্তা নির্মাণ হলে কুমারি ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, কুমারি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, ওসি তদন্ত শেখ মাহবুবুর রহমান, এসআই গিয়াস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, খন্দকার শাহ আলম মন্টু, হামিদুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু মুছা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার সলমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পরিমল কুমার ঘোষ,  ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদ মোল্লা, সাধারন সম্পাদক শাফায়েত, যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু,  আসাদুজ্জামান টুটুল, ছাত্রলীগ নেতা সৈকত, পাপ্পু প্রমুখ।

ভারত থেকে এল ডগ স্কোয়াডের জন্য ২০টি কুকুর

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে ডগ স্কোয়াডে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০টি কুকুর নিয়ে দেশে ফিরেছে বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল। বেনাপোল আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার বাকি বিল্লাহ জানান, শুক্রবার দুপুরে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তারা দেশে ফেরেন। গত ৮ জানুয়ারি বিজিবির এই দলটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ‘ডগ ট্রেনিং সেন্টারে’ প্রশিক্ষণে যায়। এতে নেতৃত্ব দেন নায়েক সুবেদার মাহবুব হোসেন। বিজিবি কর্মকর্তা বাকি বিল্লাহ বলেন, ফেরার সময় তারা ২০টি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে আসেন। ডগ স্কোয়াডে ব্যবহারযোগ্য এসব কুকুর মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার কাজে সহায়তা করবে।

হাসপাতালে অসুস্থ্য কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু’র পিতাকে দেখতে গেলেন আতাউর রহমান আতা

নিজ সংবাদ ॥ দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক, চ্যানেল আই’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিস্জ্জুামান ডাবলুর পিতা মোঃ দাউদ হোসেন (৮০) কুষ্টিয়া ২শ ৫০ শর্য্যার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল সন্ধায় তাঁর অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির অনুজ ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা তাকে দেখতে যান। এ সময় হাসপাতালের ১ নং এসি কেবিনে চিকিৎসাধীন মোঃ দাউদ হোসেনের শরীরের বিভিন্ন খোঁজ খবর নেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে শহর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলী নিশান, পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি সাইফদৌলা তরুণ, কুষ্টিয়া এডিটরস ফোরামের সভাপতি মুজিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু, কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্ণালিষ্ট’র ও চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ট্রেজারার এম জুবায়েদ রিপন,প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান শিপলু, বাংলা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি লিটন উজ জামান, দৈনিক রবি বার্তার সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলাসহ দলীয় নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।  উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন কুষ্টিয়া পুর্ব মজমপুর সাদ্দাম বাজারগলীতে নিজ বাড়ীতে মোঃ দাউদ হোসেন বাধ্যকর্ জনিত কারণে হটাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া ২শ ৫০ শর্যার হাসাপাতালে নেয়া হয়। তার পর থেকে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

দৌলতপুরে অবৈধ দখলদারদের দোকান বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ দখলদারদের দোকান বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ব্যক্তিগত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে সরকারী জায়গা দখল করে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে রাস্তার পাশে দোকান-পাট নির্মাণ করলেও তাদের দোকান বাঁচাতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নিজস্ব জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আতাউল হকের সন্তান তন্ময় হক দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ দৌলতপুর থেকে মথুরাপুর পর্যন্ত রাস্তাটির দুই পার্শ্বে ৪ফুট প্রশস্ত করে সংস্কার কাজ করছে। দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে রাস্তার জমি থাকলেও মসজিদের পার্শ্বে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সরকারী দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত দোকান রক্ষার্থে তাদের আরা-তারা মার্কেটের দিকে ৮ফুট রাস্তা কাটা হয়েছে। শুধুমাত্র অবৈধ দখলদারদের জমি রক্ষার্থে এমনটি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তন্ময় হক।

মেহেরপুরে মাদকের আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ঢাকা অফিস ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কাজীপুর থেকে ছয় মামলার এক আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়ে পুলিশ বলেছে, ‘দুই দল মাদক চোরা কারবারির গোলাগুলিতে’ তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে কাজীপুর মুন্সিপাড়া এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুল ইসলামের ভাষ্য। নিহত এনামুল ইসলাম (৪২) গাংনী কাজীপুর বর্ডারপাড়া এলাকার দাউদ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনের একটি, চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি এবং মাদক আইনের চারটি মামলা রয়েছে গাংনী থানায়।

ওসি ওবাইদুল ইসলাম বলেন, রাতে মুন্সিপাড়া এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের দুটি দলের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। “পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গোলাগুলি থামিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সেখানে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ এবং একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও এক কেজি গাঁজা পাওয়া যায়।” ওসি বলেন, লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা তাকে এনামুল হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য এনামুলের মরদেহ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কারাগারে বিশেষ সুবিধা চান ওসি মোয়াজ্জেম

ঢাকা অফিস ॥ থানায় নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেন কারাগারে ডিভিশন (প্রথম শ্রেণির মর্যাদা) চেয়ে আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেনের আদালতে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ। ডিভিশনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম প্রথম শ্রেণির নাগরিক। তাই কারাগারে তার প্রথম শ্রেণির ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছি। এর আগে ১৭ জুন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেনের ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ। ২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিন মামলার বাদী সুমন আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিন সকালে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা। গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দু’জনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন নুসরাতকে। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নও করতে দেখা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে। অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, ডিভিশনপ্রাপ্ত একজন হাজতি কারাগারে আসবাবপত্র হিসেবে একটা টেবিল, একটা খাট, চাঁদর ও একটা চেয়ার পেয়ে থাকেন। এ ছাড়াও তার সেলে পড়ার জন্য পত্রিকা, বই, একটি সাধারণ টেলিভিশন, রেডিও পান। ব্যবহার্য উপকরণ হিসেবে একজন হাজতি সাবান, টুথপেস্ট, আয়না, বালিশ, কম্বল, তোশক, চিরুনি, তেল, পায়ের স্যান্ডেল, তোয়ালে পাবেন।