কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ীতে সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা

কুষ্টিয়া কুঠিবাড়িতে (টেগর লজ) সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভার সহযোগিতায়, নবরূপে জাগো সাহিত্য আসরের আয়োজনে কুষ্টিয়া মিলপাড়াস্থ কুষ্টিয়া কুঠিবাড়িতে এ সংগীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যার শুরুতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী।  নবরূপে জাগো সাহিত্য আসরের সভাপতি কবি সৈয়দা হাবিবা’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া বোধদয়ের সভাপতি এ্যাড. ললিম হক, ভারত থেকে আগত শিল্পি সুগত চৌধুরী ও জাতীয় রবীন্দ্র সম্মেলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি কবি আলম আরা জুঁই। আলোচনা শেষে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন ভারতীয় রবীন্দ্র শিল্পী শোভা চক্রবর্তী, মনোশ্রী লাহেড়ী, মালা ব্যানার্জী, রিংকু চৌধুরী ও স্থানীয় শিল্পী কহিনুর খানম। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন আবৃত্তিকার ড. সরওয়ার মূর্শেদ রতন, ড. রেজাউল করিম, এ্যাড. সুব্রত চক্রবর্তী, পিন্টু আশফাক, আব্দুল হান্নান ও মহিত চন্দ গৌবিন্দ। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে ভারত থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ কুষ্টিয়া কুঠিবাড়িতে স্থাপিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষমূর্তিতে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। আগত শিল্পীদেরকে নবরূপে জাগো সাহিত্য আসরের পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবরূপে জাগো সাহিত্য আসরের সাধারণ সম্পাদক কনক চৌধুরী।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে ইউপি সদস্য মানিক মেম্বরের নামে ধর্ষণ মামলা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রিফায়েতপুর ইউপি সদস্য মানিক হোসেন ওরফে মানিক মেম্বরের (৩৫) নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে দৌলতপুর থানায় এ মামলা দায়ের হয়। পুলিশ ও ধর্ষিতা সূত্র জানায়, উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা তানজিলা খাতুন (২৮) শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজ শেষে নিজ বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা মানিক মেম্বরের নেতৃত্বে ৪জন লোক তাকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক অপহরন করে। এসময় অপহরকারীরা তানজিলা খাতুনকে পার্শ্ববর্তী একটি মরিচ ক্ষেতে  নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গণধর্ষণ শেষে মানিক মেম্বরের নেতৃত্বে ধর্ষকরা ঘটনাস্থলে ধর্ষিতা তানজিলা খাতুনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা তানজিলা খাতুন দৌলতপুর থানায় গিয়ে ঘটনার বিবরণ জানায় এবং মানিক মেম্বরসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনের নামে ধর্ষণের অভিযোগ দেয়। এ ঘটনায় মানিক মেম্বরকে প্রধান আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে যার নং ৩৭। ধর্ষণ মামলার বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, মানিক মেম্বরকে প্রধান আসামী করে তানজিলা খাতুন নামে এক নারী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ধর্ষক মানিক মেম্বর রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সদস্য ও লক্ষীখোলা গ্রামর আব্দুল বারীর ছেলে। উলে¬খ্য, মানিক মেম্বরের বিরুদ্ধে পূর্বের এমন অভিযোগ রয়েছে।

কাদেরের বক্তব্যের জবাবে ফখরুল

তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্স বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয়

ঢাকা অফিস ॥ প্রার্থী বাছাইয়ের সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার বিকাল ৫টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দন্ডিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার বিষয়ে আমি জাতির কাছে বলতে এখন পারি, একজন দন্ডিত পলাতক আসামি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারে কিনা? মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, দুটি মামলায় দন্ডিত পলাতক এ রকম কেউ এভাবে ভিডিও কনফারেন্স করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে কিনা- আমি সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাইছি। ওবায়দুল কাদেরের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করছে।

গাংনীর আড়পাড়া গ্রামে কৃষক মহাসিন হত্যা মামলার রায়ে ৩ ভাই- বোনের কারাদন্ড

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে কৃষক মহাসিন আলী হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে। এ রায়ে আসামী রিপন হোসেনকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদন্ড, তার বড় বোন জাহানারা খাতুন ও ছোট ভাই সুমন হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাস কারাদন্ডের নির্দেশ প্রদান করেন আদালতের বিচারক। একই সাথে অন্য একটি ধারায়  তাদের তিন ভাই-বোনকে ২ বছর করে কারাদন্ড অনাদায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ হত্যা মামলায় শাহীন আলী নামের এক আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ গাজী রহমান এ রায় প্রদান করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ ইং সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আড়পাড়া গ্রামের মৃত আবুছুদ্দীনের ছেলে রিপন আলী ও প্রতিবেশী মতিয়ার রহমানের ছেলে মহাসিন আলীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় মহাসিন আলী নিহত হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা মতিয়ার রহমান বাদি হয়ে রিপন, জাহানারা, সুমন ও শাহীন আলীকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার রায়ে তিন ভাই-বোনকে কারাদন্ড প্রদান এবং ১জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। তবে আসামী রিপন ও সুমন পলাতক রয়েছে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে – সেনাপ্রধান

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পেলে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। গতকাল রোববার দুপুরে সাভার সেনানিবাসে দুর্দম এগারো ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার প্যারেড অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, দায়িত্ব পেলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, আগামী মাসে দেশে সাধারণ নির্বাচন। সম্ভবত সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হবে। আমরা অতীতেও এ দায়িত্ব পালন করেছি। পেশাদারিত্বের সঙ্গে অতীত ঐতিহ্যের আলোকে আমরা সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করব। ‘একটা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যে দায়িত্ব পালনে সেনাপ্রধান হিসেবে আমি নির্দেশনা দিচ্ছি।’ জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়প্রত্যয়, দূরদর্শিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার কারণে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে। যে কারণে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বুক ফুলিয়ে আমরা পরিচয় দিতে পারি যে আমরা উন্নয়নশীল জাতিরাষ্ট্রের সদস্য। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, তবে আমাদের মনে রাখতে হবে- আমরা যে মর্যাদা লাভ করেছি তা ২০২৪ সালের মধ্যে টেকসই করতে হলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। এই অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে যে কোনো দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত সেনাবাহিনী। সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও ফোর্সেস গোল-২০৩০ আধুনিকায়নের আলোকে সেনাবাহিনীর বিন্যাস ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দুর্বার অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে সেনাপ্রধান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশের প্রয়োজনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সদস্যদের সবসময় সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। সেনাপ্রধান গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী দুর্দম এগারো ইউনিটকে পতাকা প্রদান এবং প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আকবর হোসেন, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে জাসদের প্রার্থী গোলাম মহসিন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন-৭৭, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে জাসদের নমিনেশন সংগ্রহ করেছেন গোলাম মহসিন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের জনপ্রিয় ভিপি, ৯০ এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী জেলার অন্যতম এই ছাত্র নেতা বর্তমান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ কুষ্টিয়া জেলার সভাপতির দায়িত্বে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গোলাম মহসিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মহাজোট সরকারের নেতৃত্বে ক্রম অগ্রসরমান সমৃদ্ধির পথে ধাবিত বাংলাদেশের উন্নয়নকে অব্যহত রাখতে এই সরকারের বিকল্প নেই যা আজ ঐতিহাসিক ভাবেই প্রমানিত। দেশ এগিয়ে যাওয়ার এই ধারাকে টেকসই করতে সন্ত্রাস ও দূর্নীতি, সাম্প্রদায়িক জঙ্গী মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন লালিত একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাফেলায় শরীক হতে চাই।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় দুই দিনব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধন

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ আয়করের উদ্দেশ্য সমৃদ্ধ আয়ের বাংলাদেশ।‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর,’ ‘স্বদেশ গড়তে চাই, আয়করের বিকল্প নাই’ –এই স্লোগানে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সোহেল মারুফ প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আয়কর মেলার শুভ উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আয়কর দেয়া মানে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করা। একটি দেশ যখন এগিয়ে যায় তখন অনেক কিছুরই দরকার হয়, যা পুরোটাই জনগণকে দিতে হয় আয়করের মাধ্যমে। আয়কর দেয়া  দেশের নাগরিকদের কর্তব্য। আয়কর আদায়ে ভয়ভীতি না দেখিয়ে বন্ধুসুলভ পরিবেশ সুষ্টি করতে হবে, যাতে করদাতারা বন্ধু সুলভ পরিবেশে অনা আয়েশে কর দিতে পারেন। একই ব্যক্তির কাছে বার বার না গিয়ে আয়করের আওতা বাড়াতে হবে। দিন দিন নতুন করদাতা সৃষ্টি করতে হবে এবং জনসাধারণের মধ্যে আয়কর বার্তা পৌছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে আয়কর দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। আয়কর প্রদান কার্যক্রম সহজীকরণসহ করনেট সম্প্রসারণ ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৮-১৯ নভেম্বর দুইদিন ভেড়ামারায় আয়কর মেলা চলবে। সহকারী কর কমিশনার, সার্কেল-২২, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়ার আয়োজনে কর অঞ্চল-খুলনা এর মেজবাহ্ আহমেদের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কর পরির্দশক সার্কেল-২২ ভেড়ামারা বরুণ কুমার খাঁ, সাবেক সভাপতি কুষ্টিয়া আযকর আইনজীবি এ্যাড: আহমেদ আলী। বক্তব্য রাখেন ভেড়ামারা থানার ওসি (তদন্ত) আন নুর জাহিদ, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, সাধারন সম্পাদক আরিফুজ্জামান লিপটন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন  আয়কর আইজীবী মনির উদ্দিন মনির।

 

দৌলতপুরে প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১০৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাথমিক সমাপণী পরীক্ষার প্রথম দিন গতকাল রবিবার ইংরেজী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ১০৫জন। এ ছাড়া কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম পরীক্ষা শান্তিপূর্নভাবে শেষ হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ২৪টি কেন্দ্রে ৮৯৭৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলে দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন।

৪০তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে কর্তৃপক্ষের কর্মসূচি

৪০তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবছর ২২ নভেম্বর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরবর্তী কার্যদিবস ২৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আগামী ২৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করবেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। এসময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ তাঁদের সঙ্গে থাকবেন। সকাল ৯টা ৪৫মিনিটে প্রভোস্টগণ স্ব-স্ব হলে জাতীয় পতাকা ও হল পতাকা উত্তোলন করবেন। সকাল ১০টায় শান্তি ও আনন্দের প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু করা হবে। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, চিকিৎসা কেন্দ্র ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে। আনন্দ শোভাযাত্রায় নিজ-নিজ ব্যানার, ক্যাপ, প্লাকার্ড ও ফেস্টুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। সকাল ১০টা ৩০মিনিটে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী প্রধান অতিথি এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আব্দুল লতিফ। সভাপতিত্ব করবেন ৪০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, সহায়ক কর্মচারী সমিতি ও সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতিবৃন্দ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

জেলার উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজ বাস্তবায়নের পথে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন বলেছেন, কুষ্টিয়াবাসীর স্বপ্ন পুরন হয়েছে বাইপাস সড়ক উদ্বোধনের মাধ্যমে। বাইপাস সড়ক উদ্বোধনের পর দূর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে যাবে। কমেছে শহরের মধ্যকার যানজট সহ উচ্চ শব্দের ভোগান্তিও। যোগাযোগের ক্ষেত্রে জেলাবাসীকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এই ভোগান্তির হাত থেকে জেলাবাসী অনেকটাই রেহায় পাচ্ছে আশারাখি। আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ বাস্তবায়নের পথে। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত হতে হবে। কাগজে কলমে আর মিটিং সেমিনারে গাল গল্প নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প সহ জেলার সার্বিক উন্নয়নমূলক প্রতিটি প্রকল্পের কাজে বর্তমানে দৃশ্যমান। কোন বৈরী কারন ছাড়াই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। নিজেকে একজন কর্মকর্তা না ভেবে, এদেশের একজন নাগরিক ও উন্নয়ন কর্মী হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সঠিক দায়িত্ব পালনই উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সাফল্য ও অর্জন। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারেন তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কুষ্টিয়া  জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই দেশের মধ্যে কুষ্টিয়া হয়ে উঠবে পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ একটি জেলা। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। বিগত মাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট কলামিষ্ট লেখক শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা.আবু হাসানুজ্জামান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ জেড এম শফিউল হান্নান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, এনএসআই’র উপ-পরিচালক আলমাস হোসেন, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তানভির রহমান, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর, জেলা বন কর্মকর্তা আসলাম মজুমদার, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসিনা বেগম, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালাস চেয়ে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা ও অর্থদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী নওশাদ জমির। মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর এই আপিল করা  লো। আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে জামিনের আবেদনও রয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলায় অবৈধ ও অন্যায়ভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জেল জরিমানা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিল করে সাজা বাতিল ও খলাস চাওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের কোনো একটি বেঞ্চে আপিলটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান গত ২৯ অক্টোবর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেন তিনি। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয় রায়ে। সাত বছর আগে দুদকের করা এই মামলা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থেকে অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের অনুকূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা কখনো কাম্য হতে পারে না।” খালেদার আপিল হাই কোর্টে জমা পড়ার পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যে আদালতেই শুনানি হোক, আপিল মোকাবেলায় দুদক প্রস্তুত।” গত ১৪ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর খালেদার অন্যতম আইনজীবী ছানাউল্লাহ মিয়া সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পান। রায় পর্যালোচনা করে চার দিন পর তারা আপিল জমা দিলেন। এ মামলায় দন্ডিত চার আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানের আইনজীবী আখতারুজ্জামানও ইতোমধ্যে রায় পর্যালোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় রায়; এর আগে গত ফেব্র“য়ারিতে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজার রায়ের পর থেকে তিনি কারাবন্দি। এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালত বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছর কারাদন্ড দিলেও আপিলের রায়ে হাই কোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদন্ডাদেশ দেয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিমকালে ড. রাশিদ আসকারী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের ন্যায্য দাবি এবং অধিকারের সাথে আমি একাত্ম

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের ন্যায্য দাবি এবং অধিকারের সাথে আমি একাত্ম। কিন্তু সেগুলো যেন সরকারের আর্থিক নিয়মনীতির সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। তিনি বলেন, মেগাপ্রকল্পের আওতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দশটি দশতলা ভবন হবে। উনিশটি ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ হবে। এখন বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের পেশাগত মান বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উপাচার্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, প্রথমে আমরা এই বিশ^বিদ্যালয়কে ভালবাসি।

প্রশাসন ভবনের সম্মেলন-কক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গতকাল রবিবার তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টায় শুরু এ অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের সব অফিস ও বিভাগ মানসম্মত গ্রাজ্যুয়েটস্ তৈরির উদ্দেশ্যে নিয়োজিত। মানসম্মত গ্রাজ্যুয়েটস্ তৈরি করতে পারলেই তখন আমরা সফল বলে বিবেচিত হব। তিনি বলেন, আমাদের কর্মকর্তাগণ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সেলিম তোহা বলেন, আমরা বিশ^বিদ্যালয় থেকে কতটা পাচ্ছি সেটা নয়, বিশ^বিদ্যালয়কে আমরা কতটা দিতে পাচ্ছি, সেটাই প্রথমে ভাবতে হবে। উপস্থিত কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া পূরণের ক্ষেত্রে কিছু দিনের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহা’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমানের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আতাউর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এইচ. এম. আলী হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মোঃ নওয়াব আলী খান, উপ-হিসাব পরিচালক (অডিট) শেখ মোঃ জাকির হোসেন, উপ- রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) চন্দন কুমার দাস, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাঃ রবিউল ইসলাম, উপ-গ্রন্থাগারিক পারভিন আকতার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ- রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রশিদ বকুল, উপ-রেজিস্ট্রার (একাডেমিক শাখা) মোঃ টিপু সুলতান, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল হান্নান, উপ-রেজিস্ট্রার (পরিবহন) মোঃ জামাল হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ আহসানুল হক হাসান, আইন সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ শাহানুর আলম কেরামত এবং তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ রাশিদুজ্জামান খান (টুটুল)।  প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ছিদ্দিক উল্যাসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

থার্টিফার্স্টে কোনো উদযাপন নয় – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচনী তৎপরতার কারণে এবার ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রহরে সব ধরনের উদযাপন নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের তারিখ ও থার্টিফার্স্ট নাইট কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় এই ব্যবস্থা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন ভোটাররা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “থার্টিফার্স্টে কোথাও কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেখানে ডিজে পার্টি করা, আতশবাজি কিংবা পটকা ফোটানো যাবে না। আন্তর্জাতিকমানের হোটেলগুলো ছাড়া অন্যান্য বারগুলোতে ৩১ ডিসেম্বর বিকাল থেকে পরদিন বিকাল পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও ঘোরাঘুরি করা যাবে না।” থার্টিফার্স্টের আগে ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সারাদেশে সাড়ে তিন হাজার গির্জায় বড়দিন উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বড়দিনেও আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।” বড়দিন উপলক্ষ্যে গির্জাগুলোর প্রবেশপথে থাকবে আর্চওয়ে। এছাড়া কূটনীতিক পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক কীভাবে সাক্ষাৎকারে, ইসিকে প্রশ্ন কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ তিন মামলায় দন্ডিত পলাতক আসামি তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “একজন দন্ডিত, সাজাপ্রাপ্ত-পলাতক আসামি দলীয় ফোরামে এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারে কিনা সেটা আমি জাতির কাছে বলব। জাতির কাছে এর বিচার চাইছি। আর এ বিষয়ে ইলেকশন কমিশনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।“ গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে রোববার সকাল থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সাক্ষাতকারে যোগ দিচ্ছেন বলে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এক দশক আগে জরুরি অবস্থার সময় দেশ ছাড়ার পর থেকেই পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন। এর মধ্যে দুটি দুর্নীতি মামলায় তাকে ১৭ বছর এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল চালাচ্ছেন তারেক রহমান। তবে আদালতের রায়ে তাদের দুজনেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে দুর্নীতিবাজদের পদে না রাখার ধারা বাদ দিয়ে বিএনপির তাদের গঠনতন্ত্রে যে সংশোধনী এনেছিল, তা গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে হাই কোর্ট। এর ফলে খালেদা ও তারেককে দলীয় নেতৃত্বে রাখার পথও কার্যত আটকে গেছে। এ অবস্থায় তারেক রহমান দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন কি না- সেই প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাদের। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এরকম কেউ এভাবে ভিডিও কনফারেন্স করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে কিনা এ ব্যাপারে ইলেকশন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।“

ভিডিও কনফারেন্সে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গতকাল রোববার সকালে শুরু হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানান। সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়। গতকাল রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। শায়রুল কবির খান জানান, গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার বোর্ডে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত আছেন। শায়রুল কবির খান জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নানান প্রশ্ন করছেন। গত ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাগারে যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এদিনই দলটির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান বাংলাদেশে একাধিক মামলায় দন্ডিত হয়েছেন। বিএনপির সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে, বিশেষ করে নতুনদের কাছে তাঁদের রাজনৈতিক ইতিহাস, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলের জন্য অবদান, এলাকায় কী করছেন, মামলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। দলটি ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। তবে জমার হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি দলটি। সব ফরম জমা পড়লে এই খাতে বিএনপির আয় হবে ১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিএনপির মনোনয়ন ফরমের দাম ছিল ৫ হাজার টাকা। অবশ্য ফরম জমা দেওয়ার সময় ২৫ হাজার টাকা করে জামানত নিয়েছে দলটি।

শরিকদের ‘৬৫ থেকে ৭০ আসন’ ছাড়বে আ. লীগ

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করে এনেছে জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার জোটসঙ্গীদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন তিনি। কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী। এছাড়া যুক্তফ্রন্টের বিকল্প ধারা এবং কিছু ইসলামিক দল ও তাদের শরিকরাও জোটের অংশীদার। জোটগুলোর জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা নেত্রী আমাকে বলতে বলেছেন। এর মধ্যে আলাপ করে যদি জোটসঙ্গীদের উইনেবল ক্যান্ডিডেট বেশি পাওয়া যায় তাহলে বেশি পাবে। আর যদি উইনেবল প্রার্থী কম থাকে তাহলে বিবেচনা করব। আমরাও আমাদের ‘ইলেকটেবল না’ এমন প্রার্থীদের বাদ দিতে দ্বিধা করব না। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে জোটগতভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা যাবে বলে আশা করছেন কাদের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন তাদের জোট শরিকরা নৌকা প্রতীকেই ভোট করবে। ওই চিঠিতে মোট ১৬টি দলের নাম পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে নিবন্ধিত দল নয়টি। নিবন্ধিত দলগুলো হল- জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্ট-ন্যাপ, তরিকত ফেডারেশন, ইসলামিক ফ্রন্ট ও জাতীয় পার্টি-জেপি। অনিবন্ধিত দলের ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অনিবন্ধিত দলের প্রার্থীরাও নিবন্ধিত দলের মনোনয়নে তাদের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন। নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হিসেবেই বিবেচনা করবে। যুক্তফ্রন্টের বিকল্পধারাও ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে জোট বাধার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। দলটি জানিয়েছে, ১৪ দলের সঙ্গে মাহাজোট সম্প্রসারণ বিষয়ে তাদের আলোচনা এখনো চলছে। মাহাজোটে অংশ নিলে যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার কিছু প্রার্থী ক্ষেত্র বিশেষে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হলেও নিজেদের প্রতীক লাঙ্গল নিয়েই ভোট করবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর। এর আগে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তার আগেই জোটের আসন ভাগাভাগি শেষ করতে হবে দলগুলোকে। ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদেরটা অলমোস্ট ক্লোজড। এখন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আমরা আলাপ আলোচনা শুরু করব। প্রথমে আমরা তাদের তালিকা নেবে। আজকালের মধ্যে আমরা সেটা পেয়ে যাব। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে বসতে পারি। তারপর জোটগতভাবে সমীকরণ যেটা দাড়াবে, সেটা ৪/৫ দিনের মধ্যে ঘোষণা করব।” তিনি বলেন, এবার তারা দলীয় মনোনয়ন ঠিক করেছেন ‘জরিপ প্রতিবেদনের’ ওপর ভিত্তি করে। ছয়মাস আগে যাদের রিপোর্ট খারাপ ছিল তারা এর মধ্যে কিছু সংশোধন হয়েছে। নতুন মুখ আসছে, পুরোনো মুখও থাকবেছ। নবীন-প্রবীণ মিলে এবার হচ্ছে। জোটের প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও মাঠের অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য নড়াইলের একটি আসন চূড়ান্ত করা হলে ওই আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি শেখ হাফিজুর রহমান বাদ পড়তে পারেন।  তবে ১৪ দলের মধ্যে যারা এখন ইলেকটেড আছেন. তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা আমাদের নেই। জোটের ইলেকটেডদের রাখতে হবে, যদি কারও পজিশন খুব খারাপ না হয়। তবে সার্ভে রিপোর্টে কারও পজিশন খুব খারাপ থাকলে সেটা ১৪ দল হোক, আর জাতীয় পার্টির হোক, তাকে তো বাদ দিতে হবে।

উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য উৎপাদনের অঞ্চল খ্যাত কুষ্টিয়ায় কৃষি জমি ও পরিবেশ ধ্বংস

তালিকাভুক্ত ১৫২টি ইটভাটার মালিকদের কেউই নিয়ম মেনে ভাটা স্থাপন করেননি

সবাইকে ম্যানেজ করেই বেপরোয়া ইটভাটা মালিকদের আগ্রাসন ?

হাসান আলী ॥ দেশসেরা উর্বরা কৃষি জমি ও উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য উৎপাদনের অঞ্চল খ্যাত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়া। জেলার মোট ১লক্ষ ৬২হাজার হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ১লক্ষ ১৭হাজার হেক্টর কৃষি জমি হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে অতি উর্বরা তিন বা অধিক ফসলী কৃষি জমির পরিমান- মাত্র ৭৬ হাজার হেক্টর। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বছর এসব কৃষি জমিতে উৎপাদিত খাদ্য শস্য জেলার প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের বার্ষিক খাদ্য চাহিদা পূরন করেও উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য দেশের অন্যান্য জেলায় খাদ্য সরবরাহের যোগান দিচ্ছে। সর্বশেষ উৎপাদন বর্ষেও এই জেলা থেকে অন্তত: ২লক্ষ ১হাজার মে:টন উদ্বৃত্ত খাদ্য অন্যত্র সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করছেন জেলার কৃষি বিভাগ। খাদ্য শস্য উৎপাদনে এমন গৌরবময় অর্জন থাকলেও জেলায় ক্রমবর্ধমান কৃষি জমি ধ্বংসের শংকার কথা জানাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে বেপরোয়া ইটভাটা মালিকদের কৃষি জমি আগ্রাসনকে এক আত্মঘাতি ঘটনা হিসেবে দেখছেন কৃষি বিভাগ। ইটভাটা মালিকরা তাদের কাজকে বে-আইনী বলে স্বীকার করেই বলছেন, কিছুই করার নেই; কারণ এসব দেখার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সবাইকে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ম্যানেজ করেই হচ্ছে এসব। তবে এমন অভিযোগ নাকচ করাসহ সংশ্লিষ্টরা একে অন্যের উপর দায় দিচ্ছেন। কেউবা বলছেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হলো- নামকাওয়াস্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই একটি অভিযান পরিচালিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অবশেষে পাল্টা-পাল্টি এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমে বিধি লংঘনের সত্যতা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন দুদক কুষ্টিয়ার অভিযানিক দল।

বিধি মতে, জেলায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থানের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে যথাযথ নিয়ম মেনে লাইসেন্সসহ আনুষঙ্গিক ছাড়পত্র নিতে হয়। জেলা প্রশাসন ইটভাটা স্থাপনে চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানত: কৃষি বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতিবাচক ছাড়পত্র আছে কি না সে বিষয়টি দেখেন। অর্থাৎ কোন ভাটা মালিক ভাটা স্থাপনের পূর্বশর্ত হিসেবে কৃষি বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর হতে ছাড়পত্র নিয়ে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনে আবেদন করবেন। কিন্তু কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি জমিতে গড়ে উঠা কেবলমাত্র তালিকাভুক্ত প্রায় ১৫২টি ইটভাটার মালিকদের কেউই উল্লেখিত নিয়ম মেনে ভাটা স্থাপন করেননি। এমন অভিন্ন চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী জানালেন, ভূমি জোনিং এ্যাক্ট-২০১০, কৃষি জমি সুরক্ষা আইন-২০১৫, পরিবেশ সুরক্ষা আইন-১৯৯৫সহ  ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনে আইনগত নীতিমালা-২০১৩ সবই লংঘিত হয়েছে উপজেলার সকল ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে। সরেজমিনে অভিযানে গিয়ে তাদের কাছে ইটভাটা স্থাপনে লাইসেন্স বা ছাড়পত্র কিছুই পাওয়া যায়নি।

কথিত ইটভাটা মালিক সমিতির বশির উদ্দিন, আব্দুল হাকিম, মহিদুল, মনিরুল, খোকনসহ আরও একাধিক সদস্যের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমরা ভ্যাট-ট্যাক্সসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরেই নিয়মিত টাকা দিচ্ছি। আমরা যদি অবৈধ হই তাহলে আমাদের কাছ থেকে এসব টাকা কেন নেয়া হচ্ছে ? আবার কেনইবা মাসে মাসে চাঁদে চাদে প্রশাসন অভিযানের নামে এসে জরিমানা আদায় ও ভাটা ভাংচুরসহ নানা ভাবে আমাদের আর্থিক ক্ষতিসাধন করছেন? আমরাও তো দেশ উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মানের গুরুত্বপূর্ণ উপকরন ইট তৈরী করছি। আমরাও চাই এর একটা সঠিক সমাধান হোক। যেহেতু অধিকাংশ ভাটা মালিকই আইন-কানুন সম্পর্কে খুব একটা সচেতন নয়। কোন্ জমিতে ভাটা করলে কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংস হবে না সেটা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনই ঠিক করে  দিন। টাকা যখন দিচ্ছি; তাহলে আমাদের সুবিধা-অসুবিধাও দেখতে হবে প্রশাসনকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামার বাড়ি) কুষ্টিয়ার উপপরিচালক বিভূতি ভুষন সরকার বলেন, কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি ধ্বংসের একমাত্র এবং অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইটভাটা। বিগত এক দশকে জেলার অতি উর্বর তিন ফসলী ৭৫হাজার ৮শত ৮০হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে ২শত ৮৮হেক্টর জমিতে গড়ে উঠা দেড় শতাধিক ইটভাটা প্রত্যক্ষভাবে ধ্বংস করেছে। এছাড়া এসব ইটভাটার দুষণ ও বিরূপ প্রভাবে চতুর্দিকে আরও ৪গুন জমি ফসলহানির শিকার হচ্ছে। এতো কিছু জানার পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি জমিতে কিভাবে ভাটা স্থাপনে ছাড়পত্র দেবে ? কৃষি বিভাগ থেকে কোন প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষি জমিতে দেদারসে ইটভাটা গড়ে উঠলেও আমাদের হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না থাকায় কিছুই করার নেই। ইটভাটা মালিকদের ‘সবাইকে ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ার সাথে কৃষি বিভাগ কোন ভাবেই জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করে  জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) ড. হায়াৎ মাহমুদ জেলার কৃষি উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দিনে প্রতি একজনের মাথাপিছু খাদ্য চাহিদা ৪৮৭গ্রাম হিসেবে ধরে জেলার ২২লক্ষ মানুষের একদিনের খাদ্য যোগানে প্রয়োজন ১০৭১.৪ মে:টন এবং  বার্ষিক খাদ্য চাহিদা যোগানে প্রয়োজন ৩লক্ষ ৯১ হাজার ৬১ মে:টন খাদ্যশস্য। জেলার সর্বশেষ বার্ষিক খাদ্য শস্য উৎপাদনে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ছিলো- ৫লক্ষ ৯২ হাজার মে:টন (শুধুমাত্র চাল, গম ও ভুট্টার হিসেব ধরে) যা বার্ষিক খাদ্যের যোগান দিয়েও ২লক্ষ এক হাজার মে:টন খাদ্য শস্য উদ্বৃত্ত ছিলো। এছড়াও অন্যান্য খাদ্য শস্য যেমন চিনি, সব্জী, ডালবীজ কলা প্রভৃতিও রয়েছে। উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশের হাতে গোনা কয়েকটি জেলার  মধ্যে কুষ্টিয়া অন্যমত। এই সফলতা অর্জনে জেলার কৃষি বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এতদ্সত্ত্বেও নানাবিধ কারণে উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত রাখাটা ক্রমান্বয়ে শংকাগ্রস্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কৃষি জমিগুলি ক্রমবর্দ্ধমান গতিতে যেভাবে নানামুখি অকৃষিজ খাতে চলে যাচ্ছে তাতে কৃষি উৎপাদনের মূল আঁধার যে জমি তার সিংহভাগই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এসব কৃষি জমি রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন এটা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ইটভাটার মালিকরা ‘সবাইকে ম্যানেজ’ করে, বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অতি উর্বর তিন ফসলি কৃষি জমিতে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নীতিমালা লংঘন করছে; দুদক সদর দপ্তরে প্রাপ্ত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানালেন দুদক কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সিনিয়র কেমিষ্ট মিজানুর রহমান বলেন,  জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটার মধ্যে মাত্র ২৬টি ইটভাটা স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া থাকলেও অন্যদের কোন ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। তবুও কিভাবে এসব ভাটা চলছে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলতে পারবেন। তবে এসব অবৈধ ভাটা মালিকদের সাথে পরিবেশ অধিপ্তরের কারো সাথে কোন অনৈতিক সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমান জানান, জেলায় ভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে ভাটা মালিকরা নীতিমালা লংঘন করেই এসব করছেন। তবে ব্যক্তিগ ভাবে কেউ ইচ্ছে করলেই জমির শ্রেনী পরিবর্তন করতে পারবেন না। কৃষি জমিকে অকৃষিজ দেখিয়ে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে এমন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানালেন তিনি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে কুমারখালীতে পুলিশী টহল জোরদার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে দুঃস্কৃতিকারীরা  কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশের টহল মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি টহল দল মোটরসাইকেল যোগে কুমারখালী থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেন। এসময় কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুর রহমান’র নেতৃত্বে তারা নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।  এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস.এম. তানভীর আরাফাতের নির্দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন  কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্যই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। সামনে নির্বাচন উপলক্ষে থানায় আগত নতুন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করি। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেই জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার বটতৈলে ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজি !

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় চালক-হেলপারকে পিটিয়ে আহত করে নগদ টাকা ছিনতাই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার বটতৈল-আলমডাঙ্গা সড়কের বটতৈলে ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় এক ট্রাক চালক ও হেলপারকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে স্থানীয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা। এ সময় চালকের কাছে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ওই সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার বটতৈল আলমডাঙ্গা-পোড়াদহ সড়কে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ৪ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। এতে শত শত  ছোট বড় যানবাহন আটকা পড়ে চরম দূর্ভোগে পরে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী ও যাত্রী পথচারীরা। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে যানজট নিরসন করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আহত চালক ও স্থানীয়রা জানান, বটতৈল এলাকার উজ্জল, বাহার, রুবেলসহ ৪/৫ জন স্থানীয় চাঁদাবাজ দীর্ঘদিন ধরে সড়কে নছিমন, ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা  থেকে আসা একটি (চুয়াডাঙ্গা-ট-১১-৭১৮) ট্রাক বটতৈল অভিমুখে আসার সময় ওই চাঁদাবাজরা ট্রাকটিকে থামানোর  চেষ্টা করে। এ সময় ট্রাক চালক একটু দূরে গিয়ে থামালে ক্ষিপ্ত হয় চাঁদাবাজরা। তারা চালক ও হেলপারকে গাড়ি থেকে  টেনে হিছড়ে নামিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চালক ও  হেলপারকে নামিয়ে রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হাত পা ভেঙে  দেয় এবং চালকের কাছে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় চালক ও হেলপারের আতœচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা চালক মুক্তার আলী (৪০) ও হেলপার জাহাঙ্গীর (৩৫) কে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এদিকে এ ঘটনার পর কুষ্টিয়া পোড়াদহ সড়কে বটতৈল মোড়  থেকে কবুরহাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার  দীর্ঘ যানজটে পড়ে স্কুল কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও যাত্রী সাধারণ চরম দূর্ভোগে পড়ে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে পরস্থিতি স্বাভাবিক করলে যান চলাচল শুরু হয়।

জাতিসংঘে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই পুনর্বাসনে রেজুলেশন গৃহীত

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনীত একটি রেজুলেশন গতকাল গৃহীত হয়। ১৪২টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসি ও ইউ’র পক্ষে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া এই রেজুলেশন পেশ করে। ওআইসি ও ইইউ’র সকল সদস্যরাষ্ট্র এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোসহ মোট ১০৩টি দেশ এই রেজুলেশনটি কো-স্পন্সর করে। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়। এতে বলা হয়,রেজুলেশনটি ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ওআইসির পক্ষে তুরস্ক ও ইইউ’র পক্ষে অস্ট্রিয়া বক্তব্য রাখে। তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার বক্তব্য সমর্থন করে রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে প্রায় সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অবদানের কথা উলে¬খ করে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাঁর বক্তব্যে রেজুলেশনটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এই রেজুলেশনকে সমর্থন করতে সদস্য দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং মিয়ানমারের ছাড়পত্র অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা পরিবার ও সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কাজ গত ১৫ নভেম্বর শুরু করতে সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি। তারা সুস্পষ্টভাবে উলে¬খ করেছে নাগরিকত্বের পূর্ণ নিশ্চয়তা, নিজভূমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা ও সহিংসতার বিচার করা এবং ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পূর্ণ নিশ্চয়তা ব্যতীত মিয়ানমারে ফিরে যাবেনা। অতএব রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির নিশ্চয়তা বিধানে জাতিসংঘের সংশি¬ষ্ট সংস্থাসমূহকে অবশ্যই মিয়ানমারে বাধাহীন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে”। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ধরে রাখা বা জোর করে ফেরত পাঠানো এর কোনটিতেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই। উলে¬খ্য গত বছর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ওআইসির আহ্বানে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একই বিষয়ে রেজুলেশন গৃহীত হয় যা পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের পে¬নারিতে পূনরায় পাস হয়। সে সময় তৃতীয় কমিটির এই রেজুলেশনে ১৩৫টি দেশ পক্ষে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল এবং ভোট প্রদানে বিরত ছিল ২৬টি দেশ। গত বছর সাধারণ পরিষদ গৃহীত রেজুলেশন অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আওতায় মিয়ানমার সংক্রান্ত স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন, কাচিন ও সান প্রদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাবলীর বিবিধ প্রমান ও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট প্রকাশ করে। স্বাধীন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান এ রিপোর্টের উপর সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জোরালো সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন। এবছরের এই রেজুলেশন মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য বর্ধিত করাসহ তাঁর কাজকে আরও বেগবান করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও এতে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমার সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জঘন্যতম কার্যকলাপের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং সে উদ্দেশ্যে রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের যথাযথভাবে প্রত্যাবাসন বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও উলে¬খ করা হয়েছে এই রেজুলেশনে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ হতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে রেজুলেশনটিতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চেয়েও বেশী ভোটে এবারের রেজুলেশন পাস মিয়ানমারের বিপক্ষে বিশ্ব জনমতের অধিকতর জোরালো অবস্থানেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই রেজুলেশন আগামী ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের পে¬নারিতে উপস্থাপিত হবে। এই রেজুলেশন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে চলমান মিয়ানমার সঙ্কটের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো প্রত্যাশা।

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হানিফ

রাষ্ট্রপতি হওয়ার লোভে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রপতি পদের লোভে সন্ত্রাসী ও দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। হানিফ গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক সমীরণ রায়ের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। হানিফ বলেন, গত শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে একজন সাংবাদিক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন- আপনারা যদি জয়লাভ করেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? তারা বলেছেন পরে ভেবে দেখবো বা সময় বলে দেবে। জাতির সামনে এটা বলতে তারা লজ্জাবোধ করেছেন। কারণ জাতি জানে তারা যদি জয়লাভ করেন তাহলে তাদের প্রধানমন্ত্রী ওই সন্ত্রাসী একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকেই বানাতে হবে। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন প্রকাশ্যে এ কথাটা (তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন) বলতে কুণ্ঠাবোধ ও লজ্জাবোধ করছেন বলেই তিনি মুখে বলছেন না। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। তাই এ ধরনের দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সঙ্গেও হাত মেলাতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি উলে¬খ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বলেন, আমরা অবাক হলাম বিএনপি যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটালো, পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নি সংযোগ করার মাধ্যমে, যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হলো, সে বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে ড. কামাল হোসেন সাহেবের একটি শব্দও আমরা দেখিনি। নিন্দাও তিনি করতে পারেননি। তিনি এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশও করেননি। তিনি আরো বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলো, এ জন্য তিনি বিএনপিকে ধিক্কার জানাননি এবং জাতির কাছে দুঃখও প্রকাশ করেননি। এর মাধ্যমে এটা প্রমাণিত ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে থাকলেও সকল কলকাঠি নড়ে লন্ডন থেকে। ড. কামাল হোসেনও হয়তো লন্ডনের ভয়ে প্রতিবাদ করেননি। অথবা অন্য কোন কিছু লোভে তিনি এ ঘটনার জন্য নিন্দা প্রকাশ বা দুঃখ প্রকাশ করেননি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এই জনধিকৃতরা সামান্য কিছু পাওয়ার লোভে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।’ ড. কামাল হোসেন জাতির সঙ্গে মিথ্যাচার ও প্রতারণা করছেন উলে¬খ করে তিনি বলেন, উনি (ড. কামাল হোসেন) মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে যে জোট, সেই ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে উনি আঁতাত করে ঐক্যফ্রন্ট করে বলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আমাদের জোট নেই। একটা অদ্ভুত টাইপের মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। হানিফ বলেন, বিএনপি এখন নেতৃত্ব ভাড়া করেছে। দ্বারস্থ হয়েছেন খ্যাতনামা আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের। কামাল হোসেন সাহেব বিশিষ্ট আইনজীবী এবং আমারা অনেকেই তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। যদিও তার অতীত রাজনীতি এ দেশের জনগণের জন্য কখনো কল্যাণকর ছিল না। বারবারই তিনি জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এমন রেকর্ড নেই। সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, অ্যাডভোটেক বলরাম পোদ্দার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী শুভ, লেখক সমীরণ রায়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।