২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হতে চায় আর্জেন্টিনা, চিলি, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে আগ্রহী আর্জেন্টিনা, চিলি, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে। চিলির রাষ্ট্রপতি সেবাস্তিয়ান পিনিয়েরা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল এরই মধ্যে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। যৌথভাবে আয়োজনে আগ্রহী গ্রিস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া ও রোমানিয়াও।

আর্জেন্টিনা, চিলি, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের মধ্যে সফল আলোচনা হয়েছে বলে টুইটারে জানান পিনিয়েরা। “আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাকরি, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনিয়েরা, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট মারিও আবদো ও উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাসকেস ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যৌথভাবে প্রার্থিতা উপস্থাপন করতে রাজি হয়েছেন।” বিশ্বকাপের পরের আসর বসবে কাতারে, ২০২২ সালে। ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র।

২০২২ পর্যন্ত আতলেতিকোতে সিমেওনে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন দিয়েগো সিমেওনে। ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পেনের ক্লাবটিতে থাকবেন আর্জেন্টাইন এই কোচ। শুক্রবার আতলেতিকো মাদ্রিদের ওয়েবসাইটে নতুন চুক্তির কথা জানানো হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আতলেতিকোর সঙ্গে সিমেওনের করা আগের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রায় আট বছর আতলেতিকোর কোচ হিসেবে কাজ করছেন ৪৮ বছর বয়সী সিমেওনে। এই সময়ে ২০১৩-১৪ মৌসুমে লা লিগা, ২০১৩ সালের কোপা দেল রে, ২০১২ ও ২০১৮ সালের ইউরোপা লিগসহ আটটি শিরোপা জিতেছে আতলেতিকো। চলতি মৌসুমে ২৩ রাউন্ড শেষে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগায় তিনে আছে আতলেতিকো। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। তিনবার লা লিগার বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন সিমেওনে। কখনও কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হয়নি তার। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে দুইবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলেও দুইবারই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের কাছে হারতে হয়েছে।

ভালভেরদের সঙ্গে নতুন চুক্তি বার্সার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তিতে রাজি হয়েছেন কোচ এরনেস্তো ভালভেরদে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯-২০ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কাম্প নউয়ে থাকবেন স্প্যানিশ এই কোচ। শুক্রবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়। চুক্তিতে মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। আথলেতিক বিলবাও ছেড়ে ২০১৭ সালের মে মাসে বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মৌসুমেই দলকে লিগ ও স্প্যানিশ কাপের শিরোপা জেতান ৫৪ বছর বয়সী ভালভেরদে। চলতি মৌসুমেও তার অধীনে দারুণ ছন্দে আছে বার্সেলোনা। লা লিগায় পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কোপা দেল রের সেমি-ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতেও উঠেছে কাতালান দলটি।

এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতবে পিএসজি – নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ‘দারুণ একটি দল’ ও টমাস টুখেলের মতো ‘অসাধারণ একজন কোচ’ থাকায় পিএসজি এ বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতবে বলে বিশ্বাস দলটির তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের। গত মাসে ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসালে চোট পেয়ে প্রায় আড়াই মাসের জন্য ছিটকে গেছেন নেইমার। আর সম্প্রতি ঊরুতে চোট পেয়েছেন এদিনসন কাভানি। দলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় পিএসজি। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা এখন পর্যন্ত জিততে পারেনি পিএসজি। ধনকুবের নাসের আল-খেলাইফি ক্লাবের সভাপতি হওয়ার পর শক্তিশালী দল গঠন করলেও গত দুই আসরে শেষ ষোলোতেই থামতে হয়েছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের। এবারে অপেক্ষার অবসান হবে বলে মনে করেন নেইমার। “এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন হবে পিএসজি। পিএসজি মানে শুধু আমি একা নই বরং দারুণ সব খেলোয়াড় এবং দুর্দান্ত একজন কোচকে নিয়ে অসাধারণ একটি দল।” “পাশাপাশি, যখন আমরা প্যারিসে খেলি পিএসজি সমর্থকরা দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব এবং আমি খেলব।” গত বছরে পায়ে চোট পেয়ে তিন মাস মাঠের বাইরে থাকার পর আবারও একই জায়গায় চোট পাওয়ায় হতাশা ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। “চিকিৎসা মাত্র শুরু হয়েছে। এটা একটা লম্বা সময়ের ব্যাপার।.. ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে দারুণ সব পেশাদাররা আমার পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে পিএসজির এবং বিশ্ব জুড়ে ভক্তদের সমর্থন আমার সঙ্গে রয়েছে।” “আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলেছি। তাই ফুটবল থেকে দূরে থাকাটা খুব কঠিন।.. ২০১৮ সালে ঠিক এমন একটা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। আর আমি জানি এটা কতটা বাজে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে।”

শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়ালের নাটকীয় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ উজ্জীবিত আয়াক্সের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে গেলেও গোল খেয়ে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তারা। তবে শেষ দিকে মার্কো আসেনসিওর গোলে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাধারীরা। আমস্টাডার্মের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় বুধবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ২-১ গোলে জেতে রিয়াল। করিম বেনজেমার গোলে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পর হাকিমের নৈপুণ্যে সমতায় ফিরেছিল আয়াক্স। ম্যাচের প্রথমদিকে রিয়ালের পারফরম্যান্স ছিল ভীষণ হতাশাজনক। ভুল পাসের ছড়াছড়িতে তাদের আক্রমণে ওঠার চেষ্টাগুলো ভেস্তে যাচ্ছিল বারবার। তবে পঞ্চদশ মিনিটে প্রথম উলে¬খযোগ্য সুযোগটি পেয়েছিল তারাই; বাঁ দিক দিয়ে ভিনিসিউস জুনিয়র দ্রুত আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে ঢুকে এক জনকে কাটিয়ে জোরালো শট নেন, ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। অন্যদিকে, শুরু থেকে রিয়ালের রক্ষণে চাপ বাড়ানো আয়াক্স ২৭তম মিনিটে ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হয়। সার্বিয়ার ফরোয়ার্ড দুসান তাদিচের শট পোস্টে লেগে ফেরে। আট মিনিট পর আয়াক্সকে এগিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মরক্কোর মিডফিল্ডার হাকিম। ১০ গজ দূরে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন তিনি, সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক; কিন্তু তার দুর্বল শট এগিয়ে এসে রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া। ৩৮তম মিনিটে আয়াক্সের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো হেডে জালে বল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাদিচ অফসাইডে থাকায় ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোল দেননি রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে করিম বেনজেমার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান আয়াক্স গোলরক্ষক। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড দাভিদ নেরেসের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান কোর্তোয়া। ৬০তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে এগিয়ে যায় রিয়াল। নিজেদের সীমানা থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ভিনিসিউস বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে ঢুকে দুজনকে কাটিয়ে ছোট করে পাস দেন বেনজেমাকে। আর প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো কোনাকুনি শটে বল ঠিকানায় পাঠান ফরাসি এই স্ট্রাইকার। ক্লাব ফুটবলে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় বেনজেমার এটি ৬০তম গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের গোলদাতার তালিকায় তার উপরে আছেন তিন জন; রাউল গনসালেস (৭১), লিওনেল মেসি (১০৬) ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১২১)। ৭৫তম মিনিটে অবশেষে প্রত্যাশিত গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। বাঁ দিক থেকে নেরেসের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত পে¬সিং শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন হাকিম। চার মিনিট পর আবারও এগিয়ে যেতে পারতো রিয়াল। তবে খানিক আগে বেনজেমার বদলি নামা মার্কো আসেনসিওর শট পোস্ট  ঘেঁষে লাগে পাশের জালে। ৮৭তম মিনিটে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ডান দিক থেকে দানি কারভাহালের দূরের পোস্টে বাড়ানো দুর্দান্ত ক্রসে পা বাড়িয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান আসেনসিও।

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ গ্যাব্রিয়েল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সেন্ট লুসিয়ায় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটকে উদ্দেশ্য করে সমকামী মন্তব্য করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শ্যানন গাব্রিয়েলকে চার ওয়ানডে ম্যাচে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নির্বাহী সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এছাড়াও ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন ২২ গজে বাক-বিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট ও গাব্রিয়েল। এসময় স্টাম্পের মাইকে রেকর্ড হয় তাদের বাক-বিতন্ডা। রুটকে উদ্দেশ্য করে গ্যাব্রিয়েল কি বলেছেন তার রেকর্ডে ধরা পড়েনি। তবে রুটকে ‘সমকামী হওয়া দোষের কিছু নয়’ বলতে শোনা গেছে। ‘ব্যক্তিগত অপব্যবহার’ বিষয়ক আইসিসি আচরণ বিধির লেবেল টু’র ২ দশমিক ১৩ ধারা ভঙ্গের দায়ে গাব্রিয়েলের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয় আইসিসি। আইসিসির ২ দশমিক ১৩ ধারায় বলা আছে- অপমানজনক কোন ভাষা, অশ¬ীল-আক্রমণাত্মক কোন কিছু ব্যবহার করা যাবে না। চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ ফেব্র“য়ারি শুরু হওয়া পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম চারটিতে খেলতে পারবেন না গাব্রিয়েল।

ক্রিকেটে ফিরছেন শোয়েব আকতার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটকে বিদায় বলেন পাকিস্তানের স্পিডস্টার শোয়েব আকতার। তবে আট বছর আবারো ক্রিকেটে ফেরার ঘোষনা দিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এমন ঘোষণা দেন শোয়েব। টুইটারে শোয়েব বলেন, ‘আজকের ছেলেরা মনে করে, তারা ক্রিকেটের অনেক কিছু জানে এবং তারা আমার বোলিং স্পিডকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। গতি কাকে বলে তা দেখাতে আমি আবারও ক্রিকেটে ফিরে আসছি। আমি লিগও খেলব। তাই সাবধান। ১৪ ফেব্র“য়ারি হল সেই দিন। তোমাদের ক্যালেন্ডারে এই দিনটায় দাগ দিয়ে রাখো। আমিও আসছি।’ শোয়েবের এমন ঘোষনা পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে আরোচনার বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় শোয়েবকে উদ্দেশ্যে করে মন্তব্যও করেছেন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘সত্যিই কি তুমি ফিরছো? আজকের ছেলেরা তোমার আক্রমণাত্মক মনোভাবকে ব্যবহার করতে পারে।’ শোয়েব মালিক বলেন, ‘দুর্দান্ত সময় শোয়েব ভাই। তুমি ফিরে এসো। দেখাও আক্রমণাত্মক কাকে বলে। আমাদের লিজেন্ড ফিরে আসছে, এর জন্য তর সইছে না।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৬১ দশমিক ৩ কিলোমিটার ঘন্টায় বল করার রেকর্ড আছে শোয়েবের। তাই ৪৩ বছর বয়সে শোয়েব বল হাতে আরও কত জোরে বল করতে পারেন তা দেখতে মুখিয়ে ক্রিকেটপ্রেমিরা। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। তাই অনেকে মনে করছেন, পিএসএলে কোন দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ টেস্টে ১৭৮টি, ১৬৩টি ওয়ানডেতে ২৪৭টি ও ১৫টি টি-২০ ম্যাচে ১৯টি উইকেট শিকার করেছেন শোয়েব।

ইউনাইটেডকে হারিয়ে পিএসজির ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আক্রমণভাগের দুই তারকা নেইমার ও এদিনসন কাভানির অনুপস্থিতিতে শুরুতে ধুঁকতে দেখা গেল পিএসজিকে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে দিল টমাস টুখেলের দল। গড়লো প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়ের অনন্য কীর্তি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে মঙ্গলবার রাতে ২-০ গোলে জিতে প্যারিসের ক্লাবটি। প্রেসনেল কিম্পেম্বের গোলে পিএসজি এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন  কিলিয়ান এমবাপে। আগামী ৬ মার্চ ফিরতি পর্বে পিএসজির মাঠে পল পগবাকে ছাড়াই খেলতে যাবে ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ দিকে দানি আলভেসকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার। গত দুই আসরে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়া পিএসজির সামনে এখন শেষ আটে ওঠার হাতছানি। প্রথমবারের মতো মুখোমুখি লড়াইয়ে নামা দুদলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। কেউই তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি; এ সময়ে মোট ১৩ বার ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। পাঁচ জনকে দেখান হলুদ কার্ড; এর মধ্যে পিএসজির তিন জনকে।  বিরতির আগে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ৩৯তম মিনিটে। বল দখলের লড়াইয়ে অ্যাশলি ইয়াং ছুটে গিয়ে পিএসজির আনহেল দি মারিয়াকে ধাক্কা দিলে হাতে ব্যথা পান এই আর্জেন্টাইন। এতে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। কোনো দুর্ঘটনা অবশ্য ঘটেনি। খানিক পরেই মাঠে ফেরেন দি মারিয়া। আর আগেই হলুদ কার্ড দেখা ইয়াংকে এ যাত্রায় সতর্ক করে দেন রেফারি। বিরতির ঠিক আগে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইউনাইটেডের ইংলিশ মিডফিল্ডার জেসি লিনগার্ড। বদলি নামেন চিলির ফরোয়ার্ড আলেক্সিস সানচেস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায় অতিথিরা। এমবাপের হেড ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান দাভিদ দে হেয়া। ৫৩তম মিনিটে দি মারিয়ার নেওয়া ওই কর্নারেই কাছ থেকে বাঁ পায়ের টোকায় পিএসজিকে এগিয়ে নেন ফরাসি ডিফেন্ডার কিম্পেম্বে। এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা পিএসজি প্রতিপক্ষের রক্ষণে প্রচন্ড চাপ বাড়ায়। দ্রুত সাফল্যও পেয়ে যায় তারা। ৬০তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে দি মারিয়ার ক্রস ছোট ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে পে¬সিং শটে বল ঠিকানায় পাঠান এমবাপে। ৮৯তম মিনিটে পগবা বহিষ্কার হলে ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের। সুলশারের অধীনে ইউনাইটেডের এটি প্রথম হার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল রেড ডেভিলরা। এর মধ্যে ১০টিতেই জিতেছিল দলটি। ইউরোপ সেরার মঞ্চে এসেই হলো ছন্দপতন। মঙ্গলবার শেষ ষোলোর প্রথম পর্বে অন্য ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা নিজেদের মাঠে ২-১ গোলে পর্তুগালের দল এফসি পোর্তোকে হারিয়েছে।

 

চেইসের সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ডের বড় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এক প্রান্ত আগলে দারুণ লড়াই করলেন রোস্টন চেইস। কিন্তু আরেক প্রান্তে দেখা গেল না লড়াইয়ের চিহ্ন। ইংলিশ বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের টপ অর্ডার ধসে গেল। মিডল অর্ডারেও হলো না প্রতিরোধ। শেষ টেস্টে বড় জয়ে ইংল্যান্ড এড়াল হোয়াইটওয়াশ। সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৩২ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ড্যারেন স্যামি জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ ইনিংসে ৪৮৫ রানের লক্ষ্যে ছুটে ২৫২ রানে গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই টেস্ট চার দিনে হারলেও তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি জিতে ক্যারিবিয়ানরা আগেই নিশ্চিত করেছিল সিরিজ জয়। দিনের শুরু ছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। ৪ উইকেটে ৩২৫ রান নিয়ে শুরু করা দল অবশ্য এ দিন ব্যাট করেছে কেবল ৫.২ ওভার। ১১১ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক জো রুট আউট হয়ে যান ১২২ রানে। ইংল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা করে দেয় তখনই। আরেক পাশে বেন স্টোকস তখন অপরাজিত ৪৮ রানে। ক্যারিবিয়ানদের লক্ষ্যটা ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। দেখার ছিল, লড়াই তারা কতটা করতে পারে। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে তারা পড়ে যায় জেমস অ্যান্ডারসনের তোপের মুখে। প্রথম ওভারেই জন ক্যাম্পবেলকে ফেরান অ্যান্ডারসন। দুর্দান্ত এক স্পেলে দ্রুত ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও ড্যারেন ব্রাভোকেও। তিনে নামা শেই হোপ শিকার ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের নায়ক মার্ক উডের। ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চেইস প্রথম প্রতিরোধ গড়েন শিমরন হেটমায়ারের সঙ্গে জুটিতে। কিন্তু লাঞ্চের পরপর হেটমায়ার ১৯ রানে আউট হলে ভাঙে ৪৫ রানের জুটি। লোয়ার মিডল ও লোয়ার অর্ডারে অবশ্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন ব্যাটসম্যানরা। শেন ডাওরিচ, কেমার রোচরা সঙ্গ দিয়েছেন চেইসকে। গড়ে উঠেছে ছোট ছোট জুটি। বেন স্টোকস, মইন আলিদের বোলিংয়ে বড় হতে পারেনি সেই জুটি। নয়ে নেমে ৩০ বলে ৩৪ করে দর্শকদের কিছুটা বিনোদন দেন আলজারি জোসেফ। নবম ব্যাটসম্যান যখন আউট হলেন, চেইস তখন খেলছেন ৯৮ রানে। তার সেঞ্চুরির জন্যই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ব্যাট করতে নামেন চোট পাওয়া কিমো পল। পরের ওভারে বাউন্ডারিতে চেইস পেয়ে যান তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। তার পরের ওভারেই ম্যাচ শেষ। প্রথম ইনিংসের ৫ উইকেটে ম্যাচে সেরা মার্ক উড। সিরিজে ১৩.৮৮ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা কেমার রোচ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৭৭, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস ১৫৪। ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৩২৫/৪) ১০৫.২ ওভারে ৩৬১/৫ (ইনিংস ঘোষণা) (রুট ১২২, স্টোকস ৪৮*; রোচ ১/৪৫, গ্যাব্রিয়েল ২/৯৫, পল ১/১১, জোসেফ ১/৭২, চেইস ০/৯২, ব্র্যাথওয়েট ০/২৪)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৮৫) ৬৯.৫ ওভারে ২৫২ (ব্র্যাথওয়েট ৮, ক্যাম্পবেল ০, হোপ ১৪, ব্রাভো ০, চেইস ১০২*, হেটমায়ার ১৯, ডাওরিচ ১৯, রোচ ২৯, জোসেফ ৩৪, গ্যাব্রিয়েল ৩, পল ১২ ; অ্যান্ডারসন ৩/২৭, ব্রড ০/২২, স্টোকস ২/৩০, উড ১/৫২, মইন ৩/৯৯, ডেনলি ০/১৬)। ফল: ইংল্যান্ড ২৩২ রানে জয়ী। সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: মার্ক উড। ম্যান অব দা সিরিজ: কেমার রোচ।

অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অধিনায়ক হিসেবে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুললেন বাংলাদেশ দলের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের প্রথম ও বিশ্বের ৪০তম অধিনায়ক হিসেবে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে শততম ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন ম্যাশ। গতকাল নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস করতে নেমেই অধিনায়কদের মহাকীর্তির তালিকায় প্রবেশ করেন মাশরাফি। বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১টি টেস্ট, ৭১টি ওয়ানডে ও ২৮টি টি-২০তে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচিত হন ম্যাশ। ঐ সফরের দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন মাশরাফি। ফলে পুরো টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি তিনি। তবে ঐ টেস্টটি ৯৫ রানে জিতেছিলো। তাই রেকর্ড বই বলছে, একটি টেস্ট নেতৃত্ব দিয়ে একটিতেই জয় পেয়েছেন মাশরাফি। তবে ৭১ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ৪০টি জয় ও ২৯টিতে হার এবং ২৮টি টি-২০তে অধিনায়কত্ব করে ১০টিতে জয় ও ১৭টি হারের স্বাদ নেন মাশরাফি। ম্যাশের পরই বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক দলনেতা মুশফিকুর রহিম। ৯৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন মুশফিক। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নিজ দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতের সাবেক দলপতি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ৩৩২টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

গাপটিলের সেঞ্চুরিতে উড়ন্ত জয় দিয়ে শুরু নিউজিল্যান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওপেনার মার্টিন গাপটিলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু করলো স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। আজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে হারিয়েছে টাইগারদের। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪৮ দশমিক ৫ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে গাপটিলের অপরাজিত ১১৭ রানের সুবাদে ৩৩ বল বাকি রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বল হাতে পেয়েই বাংলাদেশের টপ-অর্ডারকে চাপে ফেলে দেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনিং পেস বোলার ম্যাট হেনরি ও ট্রেন্ট বোল্ট। ৪২ রানের মধ্যে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল-লিটন দাস, তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকার ও চার নম্বরে নামা মুশফিকুর রহিমকে বিদায় দেন হেনরি ও বোল্ট। তামিম-মুশফিক নামের পাশে ৫ রান রেখে বোল্টের শিকার হন। লিটন ১ ও সৌম্য ৩০ রান করে হেনরির বলে আউট হন। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় দারুনভাবে নিজের ইনিংসের শুরু করেছিলেন সৌম্য। কিন্তু ভালো শুরুর পরও দ্রুত থেমে যেতে হয় তাকে। এরপর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমান ১৩ রান করে ফিরে গেলে ১শ’ রানের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। রিয়াদের সাথে ২৯ ও সাব্বিরের সাথে ২৩ রানের জুটি গড়েন মিথুন। আট নম্বরে নামা মেহেদি হাসান মিরাজও ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন মিথুনকে। কিন্তু মিথুনের সাথে বেশি দূর যেতে পারেননি মিরাজ। জুটিতে মাত্র ৩৭ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে ২৭ বলে ২৬ রানই ছিলো মিরাজের। সাব্বিরের পর মিরাজকেও বিদায় দেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। দলীয় ১৩১ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরাজ ফিরে গেলে দেড়শ রানের নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা করেন মিথুন ও নয় নম্বরে নামা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। উপরের সারির ব্যাটসম্যান যা করতে পারেননি মিথুন-সাইফউদ্দিন একটি শক্তপোক্ত জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের দুর্দান্ত জুটিতে ২শ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ৪৪ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২০৯ রানের পৌঁছে যায় টাইগাররা। ততক্ষণে উইকেটে সেটও হয়ে যান মিথুন ও সাইফউদ্দিন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৮৪ বলে ৫৮ রানে দাড়িয়ে ছিলেন মিথুন। সাইফউদ্দিনের রান ছিলো ৫৪ বলে ৩৬। ফলে শেষ ছয় ওভারে ভালো রান তুলে নিয়ে আড়াইশতে নিজেদের স্কোর দেখার অপেক্ষায় ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে সাইফউদ্দিনকে বিদায় দেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার স্যান্টনার। ৩টি চারে ৫৮ বলে ৪১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন সাইফ। মিথুনের সাথে অষ্টম উইকেটে ৯৫ বলে ৮৪ রান যোগ করেন সাইফ। এরমধ্যে মিথুন ৩৭ বলে ৩৩ ও সাইফ ৫৮ বলে ৪১ রান করেন। দলীয় ২১৫ রানে সাইফের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি মিথুন। ইনিংসের ৭ বল বাকী থাকতে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৫টি চারে ৯০ বলে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন মিথুন। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ৯ রানে অপরাজিত থাকলেও মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শুন্য রান আউট হন। তার আউটেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের বোল্ট-স্যান্টনার ৩টি করে উইকেট নেন। জয়ের জন্য ২৩৩ রানের টার্গেটে উড়ন্ত সূচনাই করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশে বোলারদের বিপক্ষে সর্তকই ছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। প্রথম পাওয়ার পে¬’তে বিনা উইকেটে ৪২ রান যোগ করেন তারা। তবে দলের স্কোর শতরানে পৌছে দিতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি তাদের। ২১তম ওভারেই গাপটিল-নিকোলসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শতরানে পৌঁছে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ। অবশ্য দলীয় ৮৫ রানেই বিচ্ছিন্ন হতে পারতেন গাপটিল-নিকোলস। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে বাংলাদেশের স্পিনার মিরাজের বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান নিকোলস। জীবন পেয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ- সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পরও ঐ মিরাজের ডেলিভারিতেই বোল্ড হন নিকোলস। ৫টি চারে ৮০ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে গাপটিলের সাথে ১৩৫ বলে ১০৩ রান যোগ করেন নিকোলস। এরপর উইকেটে গিয়ে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বাংলাদেশের অকেশনাল স্পিনার মাহমুদুল্লাহ’র শিকার হবার আগে ১১ রান করেন তিনি। রিভিউ নিয়ে কিউই অধিনায়ককে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩৭ রানে উইলিয়ামসনকে তুলে নিয়ে ম্যাচ ফেরার স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি হতে দেননি গাপটিল ও রস টেইলর। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৯৬ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন তারা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে ১১৭ রানে অপরাজিত থাকেন গাপটিল। তার ইনিংসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। অপরপ্রান্তে ৬টি বাউন্ডারিতে ৪৯ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন টেইলর। বাংলাদেশের মিরাজ-মাহমুদুল্লাহ ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের গাপটিল। আগামী ১৬ ফেব্র“য়ারি ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ ইনিংস : তামিম ইকবাল ক লাথাম ব বোল্ট ৫। লিটন দাস বোল্ড ব হেনরি ১। সৌম্য সরকার ক এন্ড ব হেনরি ৩০। মুশফিকুর রহিম বোল্ড ব বোল্ট ৫। মোহাম্মদ মিথুন বোল্ড ব ফার্গুসন ৬২। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক টেইলর ব ফার্গুসন ১৩। সাব্বির রহমান স্টাম্প লাথাম ব স্যান্টনার ১৩। মেহেদি হাসান মিরাজ ক নিশাম ব স্যান্টনার ২৬। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ক গাপটিল ব স্যান্টনার ৪১। মাশরাফি বিন মর্তুজা অপরাজিত ৯। মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড ব বোল্ট ০। অতিরিক্ত (লে বা-৫, নো-১, ও-১৬, পে-৫) ২৭, মোট (অলআউট, ৪৮.৫ ওভার) ২৩২। উইকেট পতন : ১/৫ (তামিম), ২/১৯ (লিটন), ৩/৪২ (মুশফিকুর), ৪/৪২ (সৌম্য), ৫/৭১ (মাহমুদুল্লাহ), ৬/৯৪ (সাব্বির), ৭/১৩১ (মিরাজ), ৮/২১৫ (সাইফউদ্দিন), ৯/২২৯ (মিথুন), ১০/২৩২ (মুস্তাফিজুর)। নিউজিল্যান্ড বোলিং :  হেনরি : ৯-১-৪৮-২, বোল্ট : ৯.৫-০-৪০-৩ (ও-১, নো-১), গ্র্যান্ডহোম : ৫-০-১৯-০, ফার্গুসন : ১০-১-৪৪-২ (ও-৬), স্যান্টনার : ৮-০-৪৫-৩ (ও-১), নিশাম : ৭-০-২৬-০ (ও-৪)। নিউজিল্যান্ড ইনিংস : মার্টিন গাপটিল অপরাজিত ১১৭, হেনরি নিকোলস বোল্ড ব মিরাজ ৫৩, কেন উইলিয়ামসন এলবিডব¬ু ব মাহমুদুল্লাহ ১১, রস টেইলর অপরাজিত ৪৫, অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-৪) ৭, মোট (৪৪.৩ ওভার, ২ উইকেট) ২৩৩, উইকেট পতন : ১/১০৩ (নিকোলস), ২/১৩৭ (উইলিয়ামসন)। বাংলাদেশ বোলিং : মাশরাফি : ৮.৩-০-৩৩০ (ও-১), সাইফউদ্দিন : ৭-০-৪৩-০ (ও-২), মুস্তাফিজুর : ৮-০-৩৬-০, মিরাজ : ৮-১-৪২-১, সাব্বির : ৭-০-৪১-০, মাহমুদুল্লাহ : ৫-০-২৭-১,  সৌম্য : ১-০-৮-০ (ও-১। ফল : নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড)। সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।

চেলসিতে ফেরার বিষয়টি উড়িয়ে দিলেন ল্যাম্পার্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সাবেক ক্লাব চেলসিতে পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনার বিষয়টি অনেকটাই নাকচ করে দিয়েছেন ডার্বি কোচ ফ্র্যাংক ল্যাম্পার্ড। বেশ কিছুদিন ধরেই স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে সাফল্য না পাওয়া নতুন কোচ মরিজিও সারির বরখাস্তের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। সে কারনে অনেকেই ধারণা করছেন সারির সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে হয়তবা ক্লাবের সাবেক তারকা খেলোয়াড় ল্যাম্পার্ডকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। নিজের প্রথম মৌসুমে সারি চেলসির একের পর এক ব্যর্থতায় বেশ চাপের মুখে আছেন। বিশেষ করে রোববার প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে চেলসির ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হবার ঘটনা কেউই ভালভাবে নিতে পারেনি। গত ২৮ বছরের ইতিহাসে এটাই ব¬ুজদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। সে কারনেই ১৩ বছরের বর্ণাঢ্য চেলসি ক্যারিয়ারে ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা ল্যাম্পার্ডকে নিয়ে অনেকেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ক্লাব মালিক রোমান আব্রামোভিচ যদি শেষ পর্যন্ত সারিকে সড়িয়ে দেন তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ল্যাম্পার্ডের নামই সামনে উঠে আসবে। ইংল্যান্ডের সাবেক এই মিডফিল্ডারের সহায়তায় চেলসি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাও জয় করেছে। যে কারনে ক্লাবের অন্যতম সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অকপটেই ল্যাম্পার্ডের নাম স্বীকার করা হয়। কোচ হিসেবে প্রথম মেয়াদে দ্বিতীয় সারির দল ডার্বির হয়েও ল্যাম্পার্ড যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ডার্বি দলটি এখন চ্যাম্পিয়নশীপে উন্নীত হবার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সারির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ল্যাম্পার্ড বলেছেন, ‘আমি এখন ডার্বিতে চাকুরি করছি। এখানে আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। বুধবার ইপউইচ টাউন ও শনিবার ব্রাইটনের ম্যাচের দিকেই এখন আমার মূল লক্ষ্য।’ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চেলসির বিধ্বস্ত হবার ঘটনায় ল্যাম্পার্ড ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সিটিতে খেলেছিলেন ল্যাম্পার্ড। সিটির কাছে চেলসির এই ধরনের পরাজয়ে হতবাক ল্যাম্পার্ড বলেছেন, ‘১৩ বছর একটি ক্লাবে কাটানোর পর সেই ক্লাবের প্রতি অনুভূতি থাকাটাই স্বাভাবিক। এই ধরনের পরাজয়ে কারোরই কাম্য নয়। এটা মেনে নেয়া সহজ নয়। চেলসির ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা সবসময় হয়না, যে কারনে যখন হয় তখন সেটা মেনে নেয়া কঠিন। যদিও এটা ঠিক যে ঐদিন তাদের সামনে অসাধারন একটি প্রতিপক্ষ ছিল। কিছু সময়ের জন্য সিটিতে খেলার অভিজ্ঞতা আমারো হয়েছে। তাদের প্রতিও আমার আবেগ রয়েছে। পেপ গার্দিওলা ও তার খেলোয়াড়রা যা করে দেখিয়েছে তা সত্যিই বিশেষ কিছু। চেলসির জন্য দিনটা কঠিন ছিল। তবে সব বড় দলগুলোর জন্যই ফিরে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ। তা যেভাবেই পরাজিত হোক না কেন।’ বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চেলসি। আর্সেনালের থেকে গোল ব্যবধানে তারা পিছিয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগের শেষ ৩২’র প্রথম লেগের লড়াইয়ে মালমোর বিপক্ষে পরবর্তী এ্যাওয়ে ম্যাচে মাঠে নামবে চেলসি।

 

চলে গেলেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ব্যাঙ্কস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্যারিয়ারে ছয়বার ফিফা বর্ষসেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি পাওয়া ব্যাঙ্কস গোলপোস্টের নিচে সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হন। ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে পেলের হেড থেকে প্রায় নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কস। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে দলের প্রতিটি ম্যাচে খেলেছিলেন তিনি। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪-২ গোলের জয়ে বড় অবদান ছিল তার।

 

নেইমার-কাভানির শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না এমবাপে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়া দুই ফরোয়ার্ড নেইমার ও এদিনসন কাভানির দায়িত্ব কিলিয়ান এমবাপের উপর চাপাতে রাজি নন পিএসজির কোচ টমাস টুখেল। আর দুই সতীর্থের শূন্যতা তরুণ ফরাসি ফরোয়ার্ডের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে খেলবে পিএসজি। গত মাসে ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসালে চোট পেয়ে প্রায় আড়াই মাসের জন্য ছিটকে গেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। শনিবার ঘরের মাঠে লিগ ওয়ানে বোর্দোর বিপক্ষে ঊরুর ব্যথায় মাঠ ছাড়েন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার কাভানি। দলের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ডকে হারিয়ে পিএসজির মূল ভরসা এখন বিশ্বকাপ জেতা ফরোয়ার্ড এমবাপে। তবে তার উপর বাড়তি দায়িত্ব না দিয়ে বরং তাকে তার মতোই খেলতে দিতে চান টুখেল। “এমবাপেকে চাপে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। নেইমার ও কাভানির বিকল্প হওয়া এবং তিনজনের দায়িত্ব একা পালন করাটা তার কাজ না।” “তাকে স্বাধীনভাবে খেলতে দিতে হবে। আমি চাই, দলের সবাই দারুণ সব পাস দিয়ে তাকে সাহায্য করবে। উন্নতি করার জন্য সে এখানে আছে। আর তার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়।” পিএসজি কি ব্রাজিলিয়ান তারকার শূন্যতা পূরণ করতে পারবে-এমন প্রশ্নের জবাবে টুখেল বলেন, “বিষয়টা অনুভবে দেখা যাক: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কি (পল) পগবাকে মিস করবে, যদি সে না থাকে? তারা কি (মার্কাস) র‌্যাশফোর্ডকে মিস করবে? অবশ্যই তারা করবে। “এমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের বিকল্প আপনি পাবেন না। নেইমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা তাকে অনেক মিস করব।”

 

সাকিব না থাকলেও চমকে দিতে চান বাংলাদেশ কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লড়াইটা অধরাকে ধরার। তবে সেই অভিযান শুরুর আগেই হারাতে হয়েছে সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে। দল অবশ্য তাতে ভড়কে যাচ্ছে না। সাকিব আল হাসানকে না পাওয়া বড় ধাক্কা, মানছেন স্টিভ রোডস। তবে বাংলাদেশ কোচের বিশ্বাস, দলের সেরা ক্রিকেটারকে ছাড়াও বাংলাদেশ উপহার দিতে পারে বিস্ময়। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে নেপিয়ারে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কখনোই কোনো সংস্করণে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দারুণ খেলে বলেই এবার আশা ছিল খরা কাটানোর। তবে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে সাকিবের আঙুলের চোটে। শুধু বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার বলেই নয়, সাকিব না থাকলে দলের ভারসাম্য মেলাতেই হিমশিম খেতে হয় অনেক সময়। এবার আক্ষেপটা বেশি প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড বলেও। বরাবরই সাকিবের প্রিয় প্রতিপক্ষ কিউইরা, তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রান ও উইকেট, দুটিই সাকিবের। সাকিব না থাকা তাই কত বড় শূন্যতা, খুব ভালো করেই জানা আছে রোডসের। সিরিজ শুরুর আগে নেপিয়ারে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে তবু আশার গান। “অবশ্যই আমাদের জন্য এটি বড় আঘাত, একজন সাকিব আল হাসান তো বিশ্বেই খুব বেশি একটা নেই। আমাদের জন্য বড় ধাক্কা ওকে না পাওয়া। ওকে ছাড়া খেলা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।” “তবে অধিনায়ক মাশরাফি সংবাদমাধ্যমে যেমনটি বলেছেন, সাকিব নেই মানেই আমরা জিততে পারব না, এমন নয়। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছি আমরা। যদিও নিউ জিল্যান্ডে এসে জেতাটা অনেক কঠিন। তবে আন্ডারডগ হয়ে আমাদের খারাপ লাগছে না। আমরা অনেককেই চমকে দিতে পারি। আমার ধারণা, নিউ জিল্যান্ডও জানে, আমাদের হারাতে হলে খুব ভালো খেলতে হবে।” দুই দলের সবশেষ লড়াই অবশ্য স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলাদেশের জন্য। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের অনেকেই আছেন এই সিরিজ। সেই প্রেরণা তো আছেই, বাংলাদেশ কোচ ভরসা রাখছেন দলের অভিজ্ঞতায়ও। “আমাদের অনেকেরই সেই ম্যাচের স্মৃতি আছে। নিউ জিল্যান্ডের অনেকেরও আছে। শুধু আমাদের জন্য নয়, ওদের জন্যও আসলে অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে আমাদের দলটির মূল ব্যাপার হলো, এই দল এখন অনেক অভিজ্ঞ। ওয়ানডে ম্যাচ অনেক খেলেছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে, এই ধরণের টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা সবসময়ই বড় একটি ব্যাপার।” “বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজ দারুণ কাজে দেবে। নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে ম্যাচ জয়ের চেষ্টা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের কয়েকজন আছে, এখানে দুই-তিনবার সফরে এসেছে। আশা করি আমরা ভালো করব।”

 

বার্সাকে রুখে দিল বিলবাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হোঁচট খেল বার্সেলোনা। আথলেতিক বিলবাওয়ে মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে পুরো ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হওয়া এরনেস্তো ভালভেরদের শিষ্যরা। সান মামেসে রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচটিতে ঠিক স্বরূপে ছিলেন না লিওনেল মেসি। অবশ্য আগের আট লিগ ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করা বার্সেলোনা অধিনায়ককে আটকে রাখায় স্বাগতিক খেলোয়াড়দের কৃতিত্বও কম নয়। পাশাপাশি মাঝমাঠে ফিলিপে কৌতিনিয়ো ও আর্তুরো ভিদালরা হতাশ করেছেন। আক্রমণভাগে লুইস সুয়ারেসও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বলতে গেলে তার দুর্দান্ত কিছু সেভেই জাল অক্ষত থাকে বার্সেলোনার। ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ বাড়ানো বিলবাও একাদশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায়। মাঝমাঠে আর্তুরো ভিদাল বল হারালে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্ডার ইউরি বের্চিচের নেওয়া কোনাকুনি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৭তম মিনিটে ডি-বক্সের কিনারা থেকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মার্কেল সুসায়েতার জোরালো শট দারুণ নৈপুণ্যে বাঁ হাত দিয়ে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। ২৪তম মিনিটে গোলরক্ষক বরাবর বাইসাইকেল কিক নেন রাউল গার্সিয়া। ২৬তম মিনিটে নেলসন সেমেদোকে আটকাতে এগিয়ে যান বিলবাও গোলরক্ষক। সেই সুযোগে আলগা বল পেয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে মেসির নেওয়া শট ক্রসবারের উপরের অংশে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধেও অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণে উঠতে থাকে বার্সেলোনা। কিন্তু কোনো সুযোগই পাচ্ছিল না তারা। উল্টো ৮২তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ইনাকি উইলিয়ামস। তবে অরক্ষিত এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন টের স্টেগেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বিলবাওয়ের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার অস্কার দে মার্কোস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে। তবে প্রতিপক্ষে এক জন কম থাকার সুযোগ বাকি সময়ে কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। গত সপ্তাহে ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমে দুই গোল খেয়ে বসা বার্সেলোনা পরে মেসির জোড়া গোলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। আর এবার জালের দেখাই পায়নি দলটি। চলতি মৌসুমে এই প্রথম ম্যাচে গোলের দেখা পেল না কাতালান ক্লাবটি। সব মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ ড্র করলো মেসিরা। ২৩ ম্যাচে ১৫ জয় ও ছয় ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫১। শনিবার আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ৩-১ গোলে জেতা রিয়াল মাদ্রিদ ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তিন নম্বরে থাকা দিয়েগো সিমেওনের দলের পয়েন্ট ৪৪। ৭ পয়েন্ট কম নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে সেভিয়া।

মেসির ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন বার্সা কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি লিওনেল মেসি। এ কারণে ম্যাচটিতে আর্জেন্টাইন তারকা শুরুর একাদশে থাকার মতো ফিট ছিলেন কি-না, এ নিয়ে ওঠা গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার কোচ এরনেস্তো ভালভেরদে।বিলবাওয়ের মাঠ সান মামেসে রোববার লা লিগার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ তিন ম্যাচেই ড্র করল লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।লিগে আগের আট ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করা মেসি মাঝে ঊরুর সমস্যায় পড়েছিলেন। সেকারণে কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তার খেলা নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। পরে অবশ্য ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন। আর এবার বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরলেন একাদশে।এই ম্যাচে ঠিক স্বরূপে ছিলেন না বার্সেলোনা অধিনায়ক। এ কারণেই তার ফিটনেস নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে ৩১ বছর বয়সী তারকা শতভাগ ফিট ছিলেন বলেই ম্যাচের পর দাবি করেন ভালভেরদে।“মেসি ভালো আছে। সে নিজের শতভাগ দিয়েই খেলেছে। তার কিছু অসুবিধা ছিল।.. কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ আছে বলেই সে খেলেছে।” ২৩ ম্যাচে ১৫ জয় ও ছয় ড্রয়ে লিগের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫১। শনিবার আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ৩-১ গোলে জেতা রিয়াল মাদ্রিদ ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তিন নম্বরে থাকা দিয়েগো সিমেওনের দলের পয়েন্ট ৪৪।

 

আগুয়েরোর হ্যাটট্রিকে চেলসিকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ম্যান সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  প্রিমিয়ার লিগের হাই ভোল্টেজ ম্যাচটিকে একপেশে করে দিয়ে চেলসির বিপক্ষে ৬-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। এর ফলে লিভারপুলের সাথে সমান ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে আবারো টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে সিটিজেনরা। ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটেই সিটি দিয়েছে চার গোল। প্রথমার্ধের দুই গোলসহ দ্বিতীয়ার্ধে এক গোল করে আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো হ্যাটট্রিক করেছেন। অন্যদিকে গত তিন ম্যাচে দুটিতেই বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে ব¬ুজরা। একইসাথে দলের কোচ মরিজিও সারির ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রীজের তিন বছরের চুক্তির মাত্র আট মাস না পেরুতেই চাকুরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ইতালিয়ান সারি বলেছেন, ‘আমি জানি না, এটা কেবল ক্লাবই বলতে পারবে। আমি আমার দল নিয়ে চিন্তিত। তাদের পারফরমেন্স নিয়ে চিন্তিত। তবে আমার চাকুরি সবসময়ই ঝুঁকির মধ্যে ছিল।’সর্বশেষ এ্যাওয়ে ম্যাচে বোর্নমাউথের কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হবার ঘটনাটি ছিল ১৯৯৬ সালের চেলসির সবচেয়ে বড় পরাজয়। যা সমর্থকরা কোনভাবেই মেনে নেয়নি। আর ১৯৯১ সালের পর যেকোন প্রতিযোগিতায় কালকের মত এত বড় ব্যবধানে হারেনি ব¬ুজরা। ম্যাচের ৪ মিনিটেই রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কেভিন ডি ব্রুয়েনের দ্রুতগতির একটি ফ্রি-কিক এডেন হ্যাজার্ড কাজে লাগাতে পারেননি। সারি বলেন, চার মিনিটের গোলটি ছিল খুবই হতাশার। বোকার মত আমরা গোল হজম করেছি। ঐ মুহূর্তে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ম্যাচে টিকে থাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। কারন এমন একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এতগুলো ভুল করলে তা শেষ পর্যন্ত ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলে। তারা আজ সত্যিকার অর্থেই চমৎকার ফুটবল খেলেছে।সিটি বস পেপ গার্দিওলা অবশ্য চেলসিকে ধৈয্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। কাতালান এই কোচও সিটির হয়ে প্রথম বছরের দায়িত্বে বেশ চাপের মধ্যেই ছিলেন। কিন্তু সবসময়ই ক্লাবের ফুটবল পরিচালক ও বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ টিক্সি বেগিরিস্টেইনের আস্থা পেয়েছেন। আর সে কারনেই হয়তবা গত মৌসুমে রেকর্ড ১০০ পয়েণ্ট অর্জন করে লিগ শিরোপও ঘরে তুলেছিল সিটিজেনরা। গার্দিওলা বলেন, আমার প্রথম বছরটা বেশ কঠিন ছিল। কিছু কিছু সময় আমরা হয়তবা ভাল খেলেছি। কিন্তু তার মধ্যে ধারাবাহিকতা ছিলনা। সমর্থকদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। আসলে ভাল কিছুর জন্য সময় প্রয়োজন। আমি শুধুমাত্র বস, চেয়ারম্যান বিশেষ করে টিক্সির জন্য সিটিতে এসেছি। এজন্য আমার তাকে আশ্বস্ত করতে হয়নি, সে আমাকে চিনে।স্টার্লিংয়ের গোলে সিটি এগিয়ে যাবার পর আগুয়েরো ম্যাচের সেেবচয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেছিলেন। কিন্তু ১৩ মিনিটে ঐ আগুয়েরোই ২৫ গজ দুর থেকে দুর্দান্ত শটে দলের ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৬ মিনিট পর রস বার্কলির হেড নিজেদের পোস্টেই যাবার সময় আগুয়েরো সহজেই বল জালে জড়ালে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০। ২৫ মিনিটে ইকে গুনডোগান বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলরক্ষক কেপার আরিজাবালাগাকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি। ৫৬ মিনিটে স্পট কিক থেকে আগুয়েরো হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। এই গোলে লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ সাথে সমান ১৭ গোল করে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা স্ট্রাইকার। ৬৫ মিনিটে আগুয়েরো বদলী বেঞ্চে চলে যাবার পর গ্যাব্রিয়েল জেসুস, রিয়াদ মাহারেজ ও ডেভিড সিলভাকে মাঠে নামান গার্দিওলা। ৮০ মিনিটে সিলভার পাস থেকে ওলেকসান্দ্রে জিনচেনকোর ক্রসে স্টার্লিং নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিটি।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং কোচের পদ ছাড়ছেন ম্যাকমিলান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়াচ্ছেন ক্রেইগ ম্যাকমিলান। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যাকমিলান জানিয়েছেন বিশ্বকাপের মত বড় আসরের পরের সময়টাই পাঁচ বছরের দায়িত্ব ছাড়ার সঠিক সিদ্ধান্ত বলে তিনি মনে করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের খেলার পিছনে ম্যাকমিলানের অবদান ছিল মনে রাখার মত।অবসর প্রসঙ্গে ম্যাকমিলান বলেন, ‘ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলের মত খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের। এই সময়ের মধ্যে তারা যে ধরনের রেকর্ড গড়েছে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ব¬্যাক ক্যাপসদের হয়ে ম্যাকমিলান ৫৫টি টেস্ট ও ১৯৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। সাবেক কোচ মাইক হেসনের পরামর্শেই ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ম্যাকমিলান। গত বছর হেসনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন গ্যারি স্টিড। বিশ্বকাপের পর আরো কিছু কোচিংয়ের প্রস্তাব পেলেও তা স্পষ্ট করেননি ৪২ বছর বয়সী ম্যাকমিলান। আগামী ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে আগস্টে শ্রীলংকা সফরে যাবার আগে ম্যাকমিলানের বদলী কোচের নাম ঘোষনা করা হবে।

প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে গেল ‘ক্লান্ত’ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিপিএলের ক্লান্তিটা যেন শুরুতেই টের পেয়ে গেল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড সফরে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করেছে। রবিবার এই ম্যাচে লিঙ্কনে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ২ উইকেটে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টপ অর্ডার ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। মুশফিকুর রহিম ছাড়া টপ অর্ডারে কেউ সুবিধা করতে পারেনি। মুশফিকের সঙ্গে মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমানের দৃঢ়তায় ৪৬.১ ওভারে ২৪৭ রান করে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ৭২, মুশফিক ৬২ ও সাব্বির করেন ৪০ রান। ম্যাকপিক চারটি এবং হাজেলডিন ও রবীন্দ্র দুটি করে উইকেট নেন। জবাবে ওপেনিংয়েই জিত রাভাল ও আন্দ্রে ফ্লেচার ১১৪ রানের জুটি গড়েন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিলেও নিউজিল্যান্ড একাদশের হার আটকাতে পারেনি মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ফ্লেচার ৯২ ও রাভাল ৫২ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ ও মুস্তাফিজ দুটি করে উইকেট নেন। চলতি সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ ফেব্র“য়ারি প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে তাদের মিশন।

সাউদির দুর্দান্ত শেষ ওভারে সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রাণপণ চেষ্টা করেও পারলেন না দিনেশ কার্তিক ও ক্রুনাল পান্ডিয়া। শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিলেন টিম সাউদি। ভারতকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল নিউ জিল্যান্ড। তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪ রানে জিতেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। ২১২ রান তাড়ায় ২০৮ রানে থামে ভারত। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তুলেছে নিউ জিল্যান্ড। এই প্রথম তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারল ভারত।  ১৮তম ওভারে ১৮ রান দিয়েছিলেন সাউদি। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। তবুও অভিজ্ঞ এই পেসারের ওপরই ভরসা রাখেন উইলিয়ামসন। আস্থার প্রতিদান দেন সাউদি, প্রথম পাঁচ বলে মাত্র ৪ রান দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। শেষ বলে ছক্কা হাঁকান ক্রুনাল, তাতে কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমে। ২২ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী এক জুটিতেও ভারতকে জেতাতে পারেননি ক্রুনাল ও কার্তিক। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে রোববার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে টিম সাইফার্ট ও কলিন মানরোর ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় নিউ জিল্যান্ড। দলে ফেরা কুলদীপ যাদব ভাঙেন ৭.৪ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি। রিস্ট স্পিনারের বলে স্টাম্পড হয়ে শেষ হয় কিপার সাইফার্টের ২৫ বলে তিনটি করে ছক্কা-চারে গড়া ৪৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। রিপ্লেতে দেখা গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনি বেলস ফেলে দেওয়ার সময় ব্যাটসম্যানের বুটের কিছু অংশ ছিল লাইনের ভেতরে। তবুও আউট দেন আম্পায়ার। দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৫৫ রানের জুটি গড়েন মানরো। একবার জীবন পাওয়া বিস্ফোরক এই ওপেনারকেও ফেরান কুলদীপ। ৪০ বলে পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৭২ রান করেন মানরো। ডানা মেলার আগেই উইলিয়ামসনকে ফেরান খলিল আহমেদ। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ১৬ বলে খেলেন ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস। শেষের দিকে বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দলের রান দুইশ ছাড়ান ড্যারিল মিচেল ও রস টেইলর। কুলদীপ ২৬ রানে নেন ২ উইকেট। তিনি ছাড়া দলের আর সবার ইকোনমি রেট ছিল নয়ের উপরে। বড় রান তাড়ায় শুরুতেই শিখর ধাওয়ানকে হারায় ভারত। মিচেল স্যান্টনারকে স্লগ সুইপ করে উড়ানোর চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার। দেখেশুনে খেলছিলেন রোহিত শর্মা, অন্য প্রান্তে ঝড় তুলেছিলেন বিজয় শঙ্কর। তাদের ৭৫ রানের জুটিতে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ায় সফরকারীরা। ২৮ বলে ৪৩ রান করা শঙ্করকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন স্যান্টনার। ড্যারিল মিচেলের বলে কিপারের গ¬াভসে ধরা পড়েন রোহিত। এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া রিশাব পান্ত ও হার্দিক পান্ডিয়া টিকেননি বেশিক্ষণ। দ্রুত ফিরে যান ধোনি। ৪ রানের মধ্যে এই তিন ব্যাটসম্যানের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। কার্তিক ও ক্রুনালের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জেগে উঠে ভারতের আশা। শেষ ৪ ওভারে ৫৯ রানের সমীকরণ প্রায় মিলিয়ে ফেলেছিলেন তারা। কিন্তু সাউদির অসাধারণ শেষ ওভারে আর পেরে উঠেননি তারা। কার্তিক ৪ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৩ রানে। দুটি করে ছক্কা-চারে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ক্রুনাল।  বিস্ফোরক ইনিংসে সুর বেঁধে দেওয়া মানরো জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন সাইফার্ট।  সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২১২/৪ (সাইফার্ট ৪৩, মানরো ৭২, উইলিয়ামসন ২৭, ডি গ্র্যান্ডহোম ৩০, মিচেল ১৯*, টেইলর ১৪*; ভুবনেশ্বর ১/৩৭, খলিল ১/৪৭, হার্দিক ০/৪৪, ক্রুনাল ০/৫৪, কুলদীপ ২/২৬)। ভারত: ২০ ওভারে ২০৮/৬ (ধাওয়ান ৫, রোহিত ৩৮, শঙ্কর ৪৩, পান্ত ২৮, হার্দিক ২১, ধোনি ২, কার্তিক ৩৩*, ক্রুনাল ২৬*; স্যান্টনার ৩-০-৩২-২, সাউদি ৪-০-৪৭-০, কাগেলেইন ৪-০-৩৭-১, টিকনার ৪-০-৩৪-১, সোধি ২-০-৩০-০, মিচেল ৩-০-২৭-২)। ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪ রানে জয়ী। সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী নিউ জিল্যান্ড। ম্যান অব দা ম্যাচ: কলিন মানরো।  ম্যান অব দা সিরিজ: টিম সাইফার্ট।