মিরপুরে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ও জেলা পরিষদের সহযোগিতায় ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুরে খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে এ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের সদস্য ও খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির অর্থ-সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, সদস্য হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফুটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল, ক্যারামবোর্ড, ক্রিকেটসেট ও জার্সি বিতরণ করেন।

ক্যারিবীয় সিরিজে অনিশ্চিত হলেও বিশ্বকাপে খেলবেন মাশরাফি – পাপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শেষে অনেকটা স্বস্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি। সিলেটে প্রথম টেস্ট হারের পর ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেয়ে সিরিজ ড্র করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। যে কারণে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অনেকটা মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ দল। ইনজুরিতে থাকা দলের নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবালের আসন্ন ক্যারিবিয় সিরেজের প্রথম টেস্টেই খেলার বিষয়ে আশাবাদী বিসিবি সভাপতি। অপরদিকে সাকিবকে নিয়ে আপাতত ভাবতে রাজী নন তিনি। সাকিবের বিষয়ে তিনি বলেন, সে ইতিমধ্যে অনুশীলনে ফিরেছে। প্রথমত সাকিবের নিজের, তারপর ফিজিও ও ডাক্তারের পরামর্শই চূড়ান্ত। সামনে বিশ্বকাপ তাই সাকিবের জন্য অপেক্ষা করতে চান। প্রয়োজনে সম্পূর্ণ ফিট হয়েইে ফিরবেন সাকিব। এছাড়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ান ডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার খেলার সম্ভাবনা কম বলে জানান তিনি। সামনেই জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু। এর মধ্যে যদি সময় করতে পারে তাহলে খেলবে- আমরা মনে করি সে দলে অধিনায়ক হিসেবে খেলছে, পারফরমার হিসেব নয়। তার সঙ্গে আজ রাতে আমার কথা হবে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা কম। তবে সে বিশ্বকাপে খেলবে। মাশরাফির রাজনীতিতে আসা, অনেকটা আগাম কিনা এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতির বক্তব্য, সাকিবও নির্বাচনে আগ্রহী ছিল। আমরা মনে করি আরও চার-পাঁচ বছর সে জাতীয় দলে খেলতে পারবে। তাই তাকে এবার নির্বাচন করতে না করা হয়েছে। অপরদিকে মাশরাফি হয়ত বিশ্বকাপের পরই অবসরে যাবে, ফলে এবার রাজনীতির মাঠে বেশী সময় দিতে পারবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ইমরুল ও লিটন দাস এবং এক ম্যাচে ফিরে সৌম্য ভালো পারফরর্ম করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুশফিক, তামিম ও রিয়াদের কাছে ভালো পারফর্ম প্রত্যাশা বোর্ড সভাপতির। সিনিয়রদের পাশাপাশি জুনিয়রদের কাছ থেকেও পারফরমেন্সও আশা করছেন তিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টে মিরাজের ব্যাট ও বল হাতে নৈপুণ্যের প্রশংসা করেন তিনি।

ম্যাচ সেরা মুশফিক ও সিরিজ সেরা তাইজুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গতকাল শেষ হওয়া ঢাকা টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে অপরাজিত ২১৯ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন মুশফিক। ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন খাদের কিনারায় তখন মাঠে নামেন মুশফিক। শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন। এ অবস্থায় ব্যাটিং-এ নেমে মোমিনুল হকের সাথে ২৬৬ রানের দুর্দান্ত একটি জুটি গড়েন মুশফিক। পরে মোমিনুল ১৬১ রানে থেমে গেলেও, ৬৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত ডাবল-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিক। উইকেটরক্ষক হিসেবে দ্বিতীয় ডাবল-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন মুশফিক। মুশফিকের আগে বিশ্বের আর কোন উইকেটরক্ষক দু’টি ডাবল-সেঞ্চুরি করতে পারেননি। নিজের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইনিংসে ১৮টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন মুশফিক। এজন্য ৫৮৯ মিনিট ক্রিজে ও ৪২১টি বল খেলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ডও গড়েছেন মুশি। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম দেশের ও নিজের অভিষেক ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৫৩৫ মিনিট ক্রিজে ছিলেন আমিনুল। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ৫৮৯ মিনিট ক্রিজে থাকেন মুশফিক। আবার সবচেয়ে বেশি বল খেলাতে বাংলাদেশের ও বিশ্বের সর্বকনিষ্ট টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলেন মুশফিক। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলকার বিপক্ষে ৪১৭ বল মোকাবেলা করেছিলেন অ্যাশ। এক্ষেত্রে আশরাফুলকে টপকে যান মুশফিকুর। পুরো সিরিজের সেরা বোলার হলেন বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম। ২ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ১৪৫ দশমিক ৪ ওভার বল করে ৩৭০ রানে ১৮ উইকেট শিকার করেন তিনি। ফলে সিরিজ সেরা হন তাইজুল।

 

২ ম্যাচ নিষিদ্ধ হিগুয়াইন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সেরি আয় ইউভেন্তুসের বিপক্ষে ম্যাচে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন এসি মিলানের ফরোয়ার্ড গনসালো হিগুয়াইন। গত রোববার ২-০ গোলে হারা লিগের ম্যাচটিতে বিরতির খানিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন হিগুয়াইন। আর শেষ দিকে বেনাতিয়াকে পিছন থেকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হিগুয়াইন। তাতে মেজাজ হারিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেখেন লাল কার্ড। তাতেও শান্ত হননি তিনি। পরে দুদলের খেলোয়াড়রা গিয়ে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে শান্ত করে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউভেন্তুস থেকে এক বছরের জন্য ধারে মিলানে আসা আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকারকে দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কথা জানায় সেরি আ কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৫ নভেম্বর লাৎসিওর বিপক্ষে ও তার পরের সপ্তাহে পার্মার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ৩০ বছর বয়সী হিগুয়াইন। ১২ ম্যাচে ছয় জয় ও তিন ড্রয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে এসি মিলান। সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ইউভেন্তুস।

বাংলাদেশ সফর থেকে ছিটকে গেলেন হোল্ডার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রথম অংশের ঢাকায় পা রাখার কথা বুধবার বিকেলে। তবে এই দলে নেই জেসন হোল্ডার। থাকছেন না গোটা সফরেই। কাঁধের চোট নিয়ে বাংলাদেশ সফর থেকে ছিটকে গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক। বেশ কিছুদিন ধরেই এই চোট ছিল হোল্ডারের সঙ্গী। সেটি আরও বেড়েছে সদ্য সমাপ্ত ভারত সফরে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ জানিয়েছেন, চার সপ্তাহ পর আবার পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে হোল্ডারের অবস্থা। শুধু অধিনায়কই নন, ব্যাটে-বলে দলের সেরা পারফরমারদের একজন হোল্ডার। এই বছর আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তাকে না পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বড় এক ধাক্কা নিশ্চিতভাবেই। ছিটকে পড়ায় হতাশ হোল্ডার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সামলে আসা চোট কাটিয়ে উঠতে এখন বিশ্রামের বিকল্প নেই। “বাংলাদেশ সফরে যেতে না পারায় আমি অবশ্যই হতাশ। তবে মেডিকেল দলের সঙ্গে পরামর্শের পর আমাদের মনে হয়েছে, আমার কাঁধের চলমান সমস্যা সামলাতে এবং আরও ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে এটি ছাড়া উপায় নেই। গত মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাকে। ব্যথা সামলে খেলেছি। কিন্তু এখন এমন অবস্থায় গিয়েছে যে, সামনের দিকে তাকিয়ে আমাকে সময় নিতেই হবে।” গত জুলাই-অগাস্টে নিজেদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। হোল্ডারের বিশ্বাস, ফিরতি সফরেও দল ভালো করবে। “ খেলতে না পারায় আমি হতাশ। তবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশকে আবার হারানোর সামর্থ্য আমাদের ছেলেদের আছে। আশা করি আমরা লড়াই করব এবং আরও একটি সিরিজ জয়ের স্বাদ পাব।” হোল্ডারের অনুপস্থিতিতে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। এই ওপেনারসহ প্রথম ভাগে ১০ জনের দলটি বুধবার বিকেলে ঢাকায় এসে সন্ধ্যায়ই চলে যাবে চট্টগ্রামে। দলের বাকিরা তিন ভাগে ঢাকায় আসবে বৃহস্পতিবার। ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। তার আগে ক্যারিবিয়ানরা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে রোব ও সোমবার।

অপেক্ষার রেকর্ড গড়ে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদউল্লাহ। অবসান হয়েছে তার দীর্ঘ অপেক্ষার। আগের টেস্ট সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারিতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে। সেটি ছিল তার পঞ্চম টেস্ট। মাঝে খেলেছেন আরও ৩৫ টেস্ট। দুই সেঞ্চুরির মধ্যে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দীর্ঘতম অপেক্ষার রেকর্ড এটিই। রেকর্ডটি এর আগে ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০১ সালে সেপ্টেম্বরে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরির পর আশরাফুল দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে। মাঝে খেলেছিলেন ২২ টেস্ট। এখনকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবশেষ সেঞ্চুরির পর ১৬ টেস্ট খেলে ফেলেছেন ইমরুল কায়েস। দুই টেস্ট সেঞ্চুরির মাঝে দীর্ঘতম অপেক্ষার বিশ্ব রেকর্ড অ্যাডাম প্যারোরের। ৭৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক উইকেটকিপার। দুই সেঞ্চুরির মাঝে খেলেছিলেন ৫৭ টেস্ট। আরেক উইকেটকিপার দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচারের দুই সেঞ্চুরির মাঝে ব্যবধান ছিল ৫০ টেস্টের। সেঞ্চুরিটা তার কাছে দলের প্রাপ্য হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। দল হয়তো ছিল অপেক্ষার শেষ সীমানায়। এই ইনিংসেও উল্লেখযোগ্য রান পেলে আরেকটি টেস্টে সুযোগ পাওয়া নিয়ে সংশয় ছিল যথেষ্টই। টানা ১০ ইনিংসে ছিল না ফিফটি। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান করে আউট হয়েছিল বাজে এক শটে। কে জানে, এই ইনিংসই হয়তো ছিল শেষ সুযোগ! চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ কঠিন। প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের লিড পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষকে ফলো অন করাননি। দ্রুত রান তুলে লিড বাড়িয়ে জিম্বাবুয়েকে রানের ভারে পিষ্ট করা ছিল লক্ষ্য। কিন্তু সকালে ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল দল। সেখান থেকেই দলকে টেনে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। চা বিরতির আগে শেষ বলে যখন দুই রান নিয়ে স্পর্শ করলেন সেঞ্চুরি, দলও পৌঁছে গেছে নিরাপদ ঠিকানায়।

উইকেট আঁকড়ে রাখা আর দ্রুত রান তোলা, দুটি দাবিই এ দিন মিটিয়েছেন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। অপরাজিত ১০১ রান করেছেন কেবল ১২২ বলে। পরের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ফিরলে মাহমুদউল্লাহ আর অধিনায়ক থাকবেন না। তবে টেস্ট ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ যে থাকবেন অন্তত আরও কিছুদিন, সেটিই নিশ্চিত করেছে এই সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের দরকার ৮ উইকেট জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ৩৬৭ রান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ঢাকা টেস্ট জয়ের জন্য ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৮ উইকেট, জিম্বাবুয়ের ৩৬৭ রান। জিম্বাবুয়েকে ফলো-অন না করিয়ে ম্যাচের তৃতীয় ও নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং-এ নেমে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ১০১ ও মোহাম্মদ মিথুনের ৬৭ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের লিড ছিলো বাংলাদেশ। অর্থাৎ ম্যাচ জয়ের জন্য জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে চতুর্থ দিন শেষে ২ উইকেটে ৭৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের তৃতীয় দিনই জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ৭ উইকেটে বাংলাদেশের করা ৫২২ রানে জবাবে ৩০৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ফলে ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে ফলো-অনে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে ফলো-অনের ব্যাপারে তৃতীয় দিন কিছুই জানায়নি বাংলাদেশ। নিজেদের সিদ্ধান্তকে রহস্যের মধ্যেই রেখেছিলো তারা। কিন্তু চতুর্থ দিন সকালে নিজেদের রহস্য ফাঁস করে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে ফলো-অন না করিয়ে নিজেরাই ব্যাটিং-এ নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৯, ১০, ১০ ও ২৫ রানে চারটি উইকেট হারায় টাইগাররা। সবার আগে ফিরেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। এরপর ইমরুলের পথ অনুসরণ করেন লিটন, মোমিনুল ও প্রথম ইনিংসের ডাবল-সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। ইমরুল ৩, লিটন ৬, মোমিনুল ১ ও মুশফিক ৭ রান করেন। বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যানকে ভাগাভাগি করে শিকার করেছেন জিম্বাবুয়ের দুই পেসার কাইল জার্ভিস ও ডোনাল্ড তিরিপানো। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে মহাচিন্তায় পড়ে স্বাগতিকরা। এমন অবস্থায় প্যাভিলিয়নে অধিনায়কের সাথে বেশ কয়েকবারই আলাদা কথা বলতে দেখা গেছে কোচ স্টিভ রোডসকে। কথা বলা শেষে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহকে ঘাড়ে হাত দিয়ে উৎসাহ দেয়ার ভঙ্গিমাও করেছেন রোডস। কোচের কাছ থেকেই সাহস নিয়ে ক্রিজে যান মাহমুদুল্লাহ। তখন ক্রিজে ছিলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মোহাম্মদ মিথুন। তিনি নিজেও ডাবল চিন্তায় ছিলেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফিরে যাবার চাপের সাথে দলের মহাবিপদে পড়ার চিন্তা ছিলো মিথুনেরও। উইকেটে গিয়ে মিথুনের সাথে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মাহমুদুল্লাহ। সেটি ছিলো, দেখে শুনে ধীরলয়ে রান তোলা। কাজটি ভালোভাবে করেছেন দু’জনে। উইকেটের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল করছেন মিথুন ও মাহমুদুল্লাহ। ফলে শত রান পেরিয়ে দলীয় স্কোর দেড়শ দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এর মাঝে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মিথুন। কিছুক্ষণবাদে হাফ- সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদুল্লাহও। তবে হাফ-সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটি বড় করার চেষ্টা করে ব্যর্থই হয়েছেন মিথুন। জিম্বাবুয়ের অফ-স্পিনার সিকান্দার রাজাকে ছক্কা মারার পরের ডেলিভারিতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১০ বলে ৬৭ রান করেন মিথুন। পঞ্চম উইকেটে ১৬৩ বল মোকাবেলা করে ১১৮ রান যোগ করেন মিথুন-মাহমুদুল্লাহ জুটি। মিথুনের ফেরার সময় মাহমুদুল্লাহর রান ৫৩। এ অবস্থায় দলের লিড বড় করাই প্রধান লক্ষ্য ছিলো অধিনায়কের। কিন্তু সাত নম্বরে নামা আরিফুল হক হতাশ করেন। ৫ রান করে ফিরেন তিনি। এতে টেল-এন্ডারদের নিয়ে দলের স্কোর কোথায় নিয়ে যেতে পারেন মাহমুদুল্লাহ, সেটিই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদুল্লাহ সফল হয়েছেন, দল ও নিজের জন্য। দলের স্কোর ভালো অবস্থানে তো পৌঁছে দিয়েছেনই, সেই সাথে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিও তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ। আট বছরের বেশি সময় পর দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ও সর্বপ্রথম ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। নিজের সেঞ্চুরির পরই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ঘোষণা দেন মাহমুদুল্লাহ। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২২ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন মাহমুদুল্লাহ। মিরাজের সংগ্রহ ছিলো অপরাজিত ২৭ রান। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭৩ রান যোগ করেন মাহমুদুল্লাহ-মিরাজ। ৬ উইকেটে ২২৪ রানে ইনিংস ঘোষণা দেয়ায় ম্যাচ জয়ের জন্য ৪৪৩ রানের লক্ষ্য পায় জিম্বাবুয়ে। সেই লক্ষ্যে দিনের শেষ সেশনে ৩০ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে ৭৬ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ২৫ ও ব্রায়ান চারি ৪৩ রানে ফিরেন। ব্রেন্ডন টেইলর ৪ ও সিন উইলিয়ামস ২ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের তাইজুল ও মিরাজ ১টি করে উইকেট নেন।

ফুটবলে অর্থের ঝনঝনানি এমবাপের কাছে অশোভন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আধুনিক ফুটবলে অর্থের ঝনঝনানি ‘অশোভন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করেন কিলিয়ান এমবাপে। বেড়ে ওঠার সময় শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে অর্থের এত ছড়াছড়ির বিষয়টি কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানান পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। এ বছর মোনাকো থেকে স্থায়ীভাবে পিএসজিতে যোগ দিয়ে ১৯ বছর বয়সী এমবাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি খেলোয়াড় হন। প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ট্রান্সফার ফি ১৮ কোটি ইউরো। এমবাপের পিএসজি সতীর্থ নেইমার বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। ২০১৭ সালে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনা থেকে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পিএসজিতে যোগ দেওয়াটা ইউরোপিয়ান ফুটবলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এর পরের ১২ মাসে এমবাপের দলবদলসহ ট্রান্সফার ফি ১০ কোটি ইউরো পার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চারটি। এ মাসে ফুটবল লিকসের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসজিতে পাঁচ বছরের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য করের বাইরে সাড়ে ৫ কোটি ইউরোর কাছাকাছি পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাস চেয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু পিএসজি সে দাবি মেনে নেয়নি। অর্থের ঝনঝনানি ‘অশোভন’ মনে করলেও আরটিএসকে আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতার কথাও জানান এমবাপে। “এটা সত্যিই আমার জন্য অশোভন, যে কিনা উঠে এসেছে প্রায় মধ্যবিত্ত একটি পরিবার থেকে।” “এটা সত্য যে এটা অশোভন কিন্তু বাজারটাই এরকম। বিশ্ব ফুটবল এভাবেই কাজ করে।” “আমি ফুটবল বিপ¬ব করতে যাচ্ছি না। আমি একটা সিস্টেমের মধ্যে আছি। আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে এটাকে শ্রদ্ধা করতে হবে এবং এর মধ্যে থাকতে হবে।” ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গটি পাশ কাটিয়ে এমবাপে জানিয়েছেন নিজের ইতিহাস নিজের মতো করেই গড়তে চান তিনি। “কিংবদন্তিদের মতো আমি নিজের গল্প নিজেই লিখতে চাই; কারো কপি হতে চাই না।”

এক রেকর্ড ছুঁয়ে আরও রেকর্ডের সামনে তাইজুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ একটি রেকর্ড ছুঁয়েছেন। হাতছানি আছে আরও কয়েকটির। অবশ্য তিনি এটিও জানিয়ে দিলেন, তার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দল ভালো অবস্থানে থাকায়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিয়েছেন তাইজুল। এর আগে প্রথম টেস্টে সিলেটে দুই ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ ও ৫ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া তৃতীয় বোলার তাইজুল। এই কীর্তি গড়া বাংলাদেশের আগের দুইজনও ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা তিন ইনিংসে ৬, ৭ ও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টানা দুই ইনিংসে ৫ ও ৬ উইকেট নেওয়ার পর দেশে ফিরে পরের ইনিংসেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। মাঠে যেভাবে লম্বা স্পেল করেন তাইজুল, মাইক্রোফোনের সামনে ঠিক তার উল্টো। একদমই স্বল্পভাষী। রেকর্ড নিয়ে ভালোলাগার কথা দিনশেষে জানালেন ছোট্ট করে। তাতে মিশে থাকল দলের কথাও। “ভালো পারফরম্যান্স করলে প্রতিটা ক্রিকেটারের ভালো লাগে। তবে দলটা আগে। দলটা এখন ভালো অবস্থানে আছে, এটাই বড় কথা।” এই রেকর্ড ছোঁয়ার পর অপেক্ষায় তার আরও কিছু রেকর্ড। পরের ইনিংসে ৫ উইকেট নিলে টানা চার ইনিংসে ৫ উইকেটের রেকর্ড এককভাবে হয়ে যাবে তার নিজের। দ্বিতীয় ইনিংসে আর চারটি উইকেট নিলেই দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট রেকর্ড গড়বেন। পেছনে ফেলবেন ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৯ উইকেট। তিন উইকেট নিলেই গড়বেন বাংলাদেশের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড। ২০০৩ সালে ৩৩ উইকেট নিয়ে ওই রেকর্ড মোহাম্মদ রফিকের। এতগুলো রেকর্ডের সম্ভাবনার পরও অবশ্য তাইজুলের কথায় বা আচরণে খুব রোমাঞ্চ প্রতিফলিত হলো না। আবারও ছোট করেই বললেন আশার কথা। “আসলে উইকেটের অবস্থাটা এমন, যদি ডিসিপি¬ন ধরে রেখে বল করতে পারি, তাহলে অসম্ভব কিছুই না। আমি আশাবাদী।”

তাইজুল অবিশ্বাস্য বোলিং করেছে – টেইলর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ব্রেন্ডন টেইলরের জন্য দিনটি বড় এক প্রাপ্তির। দেশের বাইরে টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন প্রথমবার। তবে প্রতিপক্ষের একজন পারফরম্যান্সে এমন আলো ছড়াচ্ছেন যে তাকে নিয়ে মুগ্ধতাও কম নেই। এই সিরিজে তাইজুল ইসলামের বোলিং পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন টেইলর, টেস্ট ক্যারিয়ারে যা তার পঞ্চম। এই টেস্টের আগে বিদেশের মাঠে ১২ টেস্টে তার কেবল ছিল একটিই ফিফটি, ব্যাটিং গড় ছিল ১৯.৪৭। এবার খেলেছেন ১১০ রানের ইনিংস। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২১৮ রানের লিড এনে দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের রেকর্ড। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে যেভাবে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তাইজুল, সেটি ছুঁয়ে গেছে টেইলরকে। পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বললেন প্রথম ইনিংসে মুশফিকের অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরির কথাও। “তাইজুল দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সাকিব না থাকায় সে ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছে দারুণভাবে। অবিশ্বাস্য বোলিং করেছে সে। এর আগে মুশি যেমন খেলেছে, এতগুলো বল খেলে, এতটা মনোসংযোগ ও শৃঙ্খলা দেখিয়েছে, অবিশ্বাস্য একটি ইনিংস ছিল। আমাদেরকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে সে।” টেস্ট ক্যারিয়ারে টেইলরের পাঁচ সেঞ্চুরির চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১৩ সালে দেশের মাটিতে করেছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি। দেশের বাইরেও প্রথম সেঞ্চুরি করলেন বাংলাদেশেই। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান করাটা যে সহজ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। প্রায় এক যুগ ধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছেন, জানালেন চ্যালেঞ্জ ছিল কতটা কঠিন। “বাংলাদেশের বিপক্ষেই আমি সবচেয়ে বেশি খেলেছি। সবসময়ই মনে হয়েছি, ওরা সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষগুলোর একটি। মূল কারণ ওদের স্পিনাররা। বছরের পর বছর রাজ্জাক, সাকিব, এমনকি আগে মোহাম্মদ রফিক, আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। সবসময়ই কাজটি কঠিন ছিল। তবে আজকের দিনটি আমার ভালো ছিল।”

টেইলরের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ফলো-অনে জিম্বাবুয়ে

ক্রীড় প্রতিবেদক ॥ সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফলো-অনে পড়লো সফরকারী জিম্বাবুয়ে। টেইলরের ১১০ রানের পরও নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। অর্থাৎ ১৮ রান দূরে থাকায় ফলো-অনে পড়তে হলো সফরকারীদের। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ২১৮ রানের লিড পেল বাংলাদেশ। স্বাগতিক স্পিনার তাইজুল ইসলাম ১০৭ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ভাগে গতকাল ১৮ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ২০ রানে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে হারায় তারা। ১৪ রান করে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের শিকার হন মাসাকাদজা। আরেক ওপেনার ব্রায়ান চারি ১০ ও নাইচওয়াচম্যান ডোনাল্ড ত্রিরিপানো শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। দিন শেষে ১ উইকেটে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিল সফরকারীরা। তৃতীয় দিন সকালে প্রথম আউট হন ত্রিরিপানো। ৮ রান করে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। দলীয় ৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর দলের ইনিংসকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন চারি ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। দেখেশুনে খেলে জিম্বাবুয়ের স্কোর বোর্ডকে শক্তিশালী করছিলেন তারা। জুটিতে অর্ধশতকের কোটাও স্পর্শ করেন চারি ও টেইলর। চারি নিজেও দেখা পেয়েছেন হাফ-সেঞ্চুরির। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৫৩ রানে থামেন চারি। তাকে শিকার করেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। চারির বিদায়ে মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলের স্কোরে রানের হাওয়া যোগানোর পরিকল্পনা করছিলেন টেইলর। কিন্তু মিডল-অর্ডারের দুই ভরসা সিন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে হতাশায় ডোবান তাইজুল ইসলাম। ১২৯ থেকে ১৩১ রানের মধ্যে উইলিয়ামস ও রাজাকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল। উইলিয়ামস ১১ ও রাজা শূন্য রানে ফিরেন। এমন অবস্থায় ১৩১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সেই চাপ দূর করার জন্য পিটার মুরকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন টেইলর। প্রথম দিকে বুঝে-শুনে খেললেও পরে দ্রুতই উইকেটে সেট হয়ে যান তারা। ফলে টেইলর-মুরের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বেশ সহজেই শক্তপোক্ত হচ্ছিলো জিম্বাবুয়ের ইনিংসটি। তাই ৫ উইকেটে ১৯৫ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে। এসময় টেইলর হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিলেও, ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মুর। দ্বিতীয় সেশনের মত দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনের শুরু থেকেও বাংলাদেশ বোলারদের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলছিলেন টেইলর ও মুর। হাটি-হাটি করে সেঞ্চুরির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তবে ব্যক্তিগত ৭৫ রানে নিশ্চিত আউট হওয়া থেকে বেঁচে যায় মুর। ৮৮তম ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বলে কভারে উঁচু ক্যাচ দিয়েছিলেন মুর। কিন্তু লাফ দিয়েও এক হাতে ক্যাচটি ধরতে ব্যর্থ হন একাদশের বাইরে থাকা নাজমুল ইসলাম। জীবন পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি মুর। ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই মুরকে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকার বানান বাংলাদেশের মিডিয়াম পেসার আরিফুল হক। লেগ বিফোর হবার আগে ৮৩ রান করেন মুর। তার ১১৪ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। টেইলরের সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রান যোগ করেছেন মুর। বাংলাদেশের বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মুর না পারলেও একবার জীবন পেয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন টেইলর। সাড়ে পাঁচ বছর পর টেস্ট ফরম্যাটে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন টেইলর। তার সর্বশেষ সেঞ্চুরিটিও ছিলো বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৩ সালের এপ্রিলে হারারেতে। তিন অংকে পা দিয়ে বেশি দূর যেতে পারেননি টেইলর। মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ১১০ রান নামের পাশে রেখে ফিরেন টেইলর। তবে টেইলরকে ফেরাতে বড় অবদান রাখেন তাইজুল। স্কয়ার লেগে ডান-দিকে ঝাপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নেন তাইজুল। টেইলরকে ফেরানোর এক বল পর আরও একটি উইকেট তুলে নেন মিরাজ। ব্রান্ডন মাভুতাকে শুন্য হাতে বিদায় দেন তিনি। এরপর রেগিস চাকাবভা ও কাইল জার্ভিস ফলো-অন এড়ানোর লড়াই শুরু করেন। কিন্তু ইনিংসে ১০৬তম ওভারের তৃতীয় বলে চাকাবভাকে আউট করে জিম্বাবুয়েকে ফলো-অনে ফেলেন তাইজুল। আর ঐ আউটের পরই তৃতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন ম্যাচের দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার। জিম্বাবুয়ের জার্ভিস ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইনজুরির কারনে ব্যাট হাতে নামেননি তেন্ডাই চাতারা। স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫২২/৭ডি, ১৬০ ওভার (মুশফিক ২১৯*, মোমিনুল ১৬১, জার্ভিস ৫/৭১)। জিম্বাবুয়ে ইনিংস (আগের দিন ২৫/১, ১৮ ওভার, চারি ১০*, ত্রিরিপানো ০*) : হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ক মেহেদি ব তাইজুল ১৪, ব্রায়ান চারি ক মোমিনুল ব মিরাজ ৫৩, ডোনাল্ড ত্রিরিপানো ক মিরাজ ব তাইজুল ৮, বেন্ডন টেইলর ক তাইজুল ব মিরাজ ১১০, সিন উইলিয়ামস বোল্ড তাইজুল ১১, সিকান্দার রাজা বোল্ড ব তাইজুল ০, পিটার মুর এলবিডব¬ু ব আরিফুল ৮৩, রেগিস চাকাবভা ক মোমিনুল ব তাইজুল ১০, ব্রেন্ডন মাভুতা ক আরিফুল ব মিরাজ ০, কাইল জার্ভিস অপরাজিত ৯, তেন্ডাই চাতারা আহত, অতিরিক্ত (বা-৫, লে বা-১) ৬, মোট (অলআউট, ১০৫.৩ ওভার) ৩০৪, উইকেট পতন : ১/২০ (মাসাকাদজা), ২/৪০ (ত্রিরিপানো), ৩/৯৬ (চারি), ৪/১২৯ (উইলিয়ামস), ৫/১৩১ (রাজা), ৬/২৭০ (মুর), ৭/২৯০ (টেইলর), ৮/২৯০ (মাভুতা), ৯/৩০৪ (চাকাবভা)। বাংলাদেশ বোলিং : মুস্তাফিজুর : ২১-৮-৫৮-০, খালেদ : ১৮-৭-৪৮-০, তাইজুল : ৪০.৩-১০-১০৭-৫, মিরাজ : ২০-৩-৬১-৩, মাহমুদুল¬াহ : ২-০-১৪-০,

আরিফুল : ৪-২-১০-১।

কাভানির হ্যাটট্রিকে মোনাকোকে উড়িয়ে দিল পিএসজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ চলতি মৌসুমে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন এদিনসন কাভানি। সঙ্গে গোল উদযাপন করলেন নেইমারও। দুজনের নৈপুণ্যে মোনাকোকে হারিয়ে লিগ ওয়ানে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলো পিএসজি। মোনাকোর মাঠে রোববার রাতের ম্যাচটি ৪-০ গোলে জেতে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সাত মিনিটের ব্যবধানে কাভানি দুবার বল জালে পাঠালে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় পিএসজি। উভয় েেত্রই ছিল অফসাইডের সন্দেহ। তাই ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। চতুর্থ মিনিটে বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে শট নেন নেইমার। গোলমুখে ছুটে গিয়ে আলতো টোকায় ফাঁকা জালে বল পাঠান কাভানি। আর একাদশ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড মুসা দিয়াবির আগুয়ান গোলরককে ফাঁকি দিয়ে বাড়ানো বলে শুয়ে পড়ে পা লাগিয়ে ঠিকানায় পাঠান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। ৪৪তম মিনিটে মোনাকোর তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড জর্দি এমবৌলার ক্রস আরেক জনের গায়ে লেগে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল; কিন্তু শেষ মুহূর্তে লাগে পোস্টে। এর খানিক পর ইউলিয়ান ড্রাক্সলার জালে বল পাঠালে উদযাপনে মেতে ওঠে পিএসজি। তবে আবারও ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি এবং এ যাত্রায় জার্মান এই মিডফিল্ডার অফসাইডে থাকায় ব্যবধান বাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে দিয়াবির বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন কাভানি। আর ৬৪তম মিনিটে স্পট কিকে দলের চতুর্থ গোলটি করেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজেই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় তারা। ১৩ ম্যাচের সবকটিতে জেতা পিএসজির পয়েন্ট ৩৯। ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে লিল। ভীষণ বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে পথচলা মোনাকো ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১৯তম স্থানে।

মেসির ফেরার ম্যাচে বার্সাকে হারাল বেতিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়া দলকে দ্বিতীয়ার্ধে পথ দেখিয়েছিলেন চোট কাটিয়ে ফেরা লিওনেল মেসি। কিন্তু উদ্দীপ্ত রিয়াল বেতিসের বিপে পেরে উঠল না বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে হেরেই গেল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। কাম্প নউয়ে রোববার স্থানীয় সময় বিকালে লা লিগার ম্যাচটি ৪-৩ গোলে জেতে রিয়াল বেতিস। চলতি লিগে বার্সেলোনার এটি দ্বিতীয় হার। ম্যাচের ৪৫ সেকেন্ডের মাথায় এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। কিন্তু মালকমের পাস ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে ঠিকমতো বলে পা লাগাতেই পারেননি মেসি। ষষ্ঠ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বার্সেলোনা গোলরককে একা পেয়ে যান জিওভানি লো সেলসো। তবে পিএসজি থেকে ধারে বেতিসে আসা আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার বল উড়িয়ে মারেন। ২০তম মিনিটে কাম্প নউয়ে স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় অতিথিরা। নিজেদের সীমানা থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে সের্হিও রবের্তোকে কাটিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন স্পেনের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জুনিয়র ফিরপো। তিন মিনিট পর মেসির ফ্রি-কিকে ছোট ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে কেমোঁ লংলের নেওয়া ভলি ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক পাউল লোপেস। খানিক পর মুহূর্তের ব্যবধানে দুটি সুযোগ নষ্ট হয় বেতিসের। ক্রিস্তিয়ান তেইয়োর কোনাকুনি নিচু শট দারুণ প্রিতায় ঝাঁপিয়ে ঠোকান মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। পরে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লোরেন মোরোন ভালো পজিশনে বল পেয়ে ল্যভ্রষ্ট শট নিলে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। বেতিসের একের পর এক আক্রমণ রুখতে ব্যতিব্যস্ত বার্সেলোনা ৩৪তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে। ডান দিক থেকে স্বদেশি ফরোয়ার্ড তেইয়োর পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে অরতি অবস্থায় পেয়ে প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের হোয়াকিন। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বারবার আক্রমণে উঠতে থাকে। কিন্তু ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না শিরোপাধারীরা। উল্টো ৬৪তম মিনিটে ফের গোল খেতে বসেছিল তারা। তবে তেইয়োর শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। অবশেষে ৬৮তম মিনিটে মেসির সফল স্পট কিকে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা জর্দি আলবা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় তারা। টের স্টেগেনের ভুলে স্বাগতিকদের সে স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ৭১তম মিনিটে লো সেলসোর জোরালো শট সোজা তার কাছে এলেও বল হাতে লেগে জালে জড়ায়। দুই বদলি খেলায়াড় মুনির এল হাদ্দাদি ও আর্তুরো ভিদালের নৈপুণ্যে ৭৯তম মিনিটে আবারও ব্যবধান কমায় বার্সেলোনা। গোলটির উৎস মেসির দারুণ রণচেরা পাস। ডি-বক্সে বল পেয়ে মুনির বাড়ান ডান দিকে। শুয়ে পড়ে পা লাগিয়ে তা ঠেলে দেন চিলির মিডফিল্ডার ভিদাল। খানিক বাদে লো সেলসোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচ। প্রতিপে এক জন কম থাকার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় বেতিস। ৮৩তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফিরপোর ছোট ডি-বক্সে বাড়ানো বল ঠিকানায় পাঠাতে শুধু একটা টোকারই দরকার ছিল। কোনো ভুল করেননি বদলি নামা কানালেস। শেষের নাটকীয়তা তখনও ছিল কিছু বাকি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ভিদালের পাস গোলমুখে পেয়ে জালে পাঠান মেসি। তাতে ব্যবধান কমলেও হার এড়াতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ১২ ম্যাচে সাত জয় ও তিন ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।

মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। রেকর্ডে উদ্ভাসিত মুশফিকুর রহিম গড়লেন ইতিহাস। প্রথম দিন শেষে যা ছিল সম্ভাবনা, দ্বিতীয় দিনে তার প্রায় সবই পেয়েছে পূর্ণতা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিক রাঙিয়েছেন রেকর্ডে। জিম্বাবুয়ের বিপে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে। সোমবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটি জিম্বাবুয়ে শেষ করেছে ১ উইকেটে ২৫ রান তুলে। প্রথম দিন প্রথম ঘণ্টায় উইকেটে গিয়ে মুশফিক দ্বিতীয় দিন শেষ সেশনে ইনিংস ঘোষণার সময়ও ছিলেন অপরাজিত। ৫৮৯ মিনিট উইকেটে কাটিয়ে ৪২১ বলে খেলা ২১৯ রানের ইনিংসটায় ছুঁয়ে গেছেন রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতা। রান, বল ও সময়, সব দিক থেকেই এই ইনিংসে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উচ্চতা। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড এটি। বল আর সময়ের হিসেবে দীর্ঘতম ইনিংসও। আরেকটি রেকর্ডে মুশফিক ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের সীমানা। নিজেদের ইনিংস শেষে ব্যাটিং গ্লাভস রেখে কিপিং গ্লাভস হাতে আবার মাঠে নেমে গেছেন মুশফিক। তখনই নাম খোদাই হয়ে গেছে বিশ্বরেকর্ডে। কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করা ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার মুশফিক। কীর্তিতে ঠাসা এমন দিনে মাহমুদউল­াহ হতাশ করেছেন আবারও। নিজের মৃতপ্রায় টেস্ট ক্যারিয়ারে নতুন দম দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের। বাজে শটে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন নিজেই। অথচ সবচেয়ে কঠিন অংশটুকু পার করে ফেলেছিলেন মাহমুদউল­াহ। দিনের শুরুতে যথারীতি উইকেটে ছিল খানিকটা আর্দ্রতা। বল তখনও নতুন। মাহমুদউল­াহ-মুশফিক, দুজনই ভীষণ সাবধানী ব্যাটিংয়ে কাটিয়ে দেন বিপজ্জনক সময়টুকু। প্রথম ঘণ্টায় ১৪ ওভারে আসে ২২ রান, মুশফিক করেছিলেন ৩৬ বলে ৪। এরপর ক্রমেই জিম্বাবুয়ের বোলিং হতে থাকে নিষ্ক্রিয়, বাড়তে থাকে দুজনের ব্যাটের ধার। কিন্তু নিজেকে ফিরে পাওয়ার সব আয়োজনে জল ঢেলে দিয়েছেন নিজেই। ৩৬ রানে কাইল জার্ভিসের অনেক বাইরের বলে যেভাবে খোঁচা দিলেন, সেটির পেছনে একটি যুক্তিও পাওয়া মুশকিল। সিলেটে অভিষেক টেস্টে যে আশা জাগানিয়া বার্তা দিয়েছিলেন আরিফুল হক, এখানে ধরে রাখতে পারেননি সেই ধারাবাহিকতা। বাইরের বল গ্লাইড করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন পয়েন্টে। জার্ভিস পেয়েছেন টেস্টে তৃতীয়বার ৫ উইকেটের দেখা। কিন্তু জিম্বাবুয়ের অন্য কোনো বোলার প্রভাব ফেলতে পারেননি খুব বেশি। দিনের শুরুতে পায়ে টান লেগে টেন্ডাই চাটারা মাঠ ছেড়েছেন স্ট্রেচারে করে, সেটিও ভুগিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। মুশফিক ফায়দা নিয়েছেন পুরোপুরি। অষ্টম উইকেটে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের প্রথম বাউন্ডারির আগে ৫৫ বলে কেবল ৮ রান করেছিলেন মুশফিক। সেই অধ্যাবসায়কে বৃথা যেতে দেননি পরে। কঠিন মনোযোগ আর প্রায় নিখুঁত ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেছেন, নিজের প্রিয় কিছু শট খেলা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেও রান বাড়িয়েছেন দারুণ সব ক্রিকেট শটে। ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৪০৭ বলে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন একাধিক দ্বিশতক। আরেকপাশে মিরাজও রান তুলেছেন সময়ের দাবি মিটিয়ে। দুজনের ১৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড। ইনিংস ঘোষণার সময় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করা মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৬৮ রানে। মুশফিকের ২১৯ রানের ইনিংসে চার ছিল ১৮টি, একটি কেবল ছক্কা। সিঙ্গেল নিয়েছেন ৯৯টি! উইকেটের দুই পাশে খেলেছেন সমান তালে। ৫১ শতাংশ রান করেছেন অফ সাইডে, লেগ সাইডে ৪৯। শতকরা ৮৯ শতাংশ শটই খেলেছেন নিয়ন্ত্রণে, এটিই বলে দিচ্ছে প্রায় ১০ ঘণ্টার ইনিংসজুড়ে মনোসংযোগ ছিল কতটা তীব্্র। ইনিংস ঘোষণার পর ম্যারাথন ব্যাটিং শেষে মুশফিক আবার নেমে যান কিপিংয়ে। ব্রায়ান চারিকে ফিরিয়ে দাপুটে দিনটি বাংলাদেশ শেষ করে কাঙ্খিত ব্রেক থ্রু পাওয়ার স্বস্তিতে। সংপ্তি স্কোর: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৬০ ওভারে ৫২২/৭ (ইনিংস ঘোষণা) (আগের দিন ৩০৩/৫)(মুশফিক ২১৯*, মাহমুদউল­াহ ৩৬, আরিফুল ৪, মিরাজ ৬৮*; জার্ভিস ২৮-৬-৭১-৫, চাটারা ২২.২-১২-৩৪-১, টিরিপানো ২৪.৪-৬-৬৫-১, রাজা ২২-১-১১১-০, উইলিয়ামস ৩০-৪-৮০-০, মাভুটা ৩১-১-১৩৭-০, মাসাকাদজা ২-০-৭-০)। জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১৮ ওভারে ২৫/১ (মাসাকাদজা ১৪, চারি ১০*, টিরিপানো ০*; মুস্তাফিজ ৬-৪-১১-০, খালেদ ৫-৩-৬-০, তাইজুল ৫-৩-৫-১, মিরাজ ২-১-২-০)।

মুশফিকের অনবদ্য রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ টেস্টে কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকুর রহিম গড়ে ফেললেন ইতিহাস। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি। ১১১ রান নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে যখন ইনিংস ঘোষণা করল দল, তার নামের পাশে অপরাজিত ২১৯ রান। টেস্টে কিপার ব্যাটসম্যানদের নবম ডাবল সেঞ্চুরি এটি। একমাত্র মুশফিকই করলেন দুটি। টেস্ট কিপারদের সবশেষ ডাবল সেঞ্চুরিটিও করেছিলেন তিনিই, ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপে গল টেস্টে। গলের সেই ডাবল সেঞ্চুরি ছিল টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম দ্বিশতক। তার রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০১৫ সালে তামিম ইকবাল পাকিস্তানের বিপে করেছিলেন ২০৬। গত বছর নিউ জিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটন টেস্টে তামিমকে পেছনে ফেলে সাকিব আল হাসান করেছিলেন ২১৭ রান। এবার মুশফিক আবার নিজের করে নিলেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। নিজ দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড দুইবার গড়ে মুশফিক ঢুকে গেছেন ছোট্ট এক তালিকায়। টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন আগে কেবল পাঁচজন- অস্ট্রেলিয়ার ডন ব্র্যাডম্যান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি ও ব্রায়ান লারা, ভারতের ভিনু মানকড় ও বিরেন্দর শেবাগ। বাংলাদেশের হয়ে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও মুশফিক। টেস্টে বাংলাদেশের চারটি ডাবল সেঞ্চুরির দুটিই এখন মুশফিকের। শুধু রানেই সবার ওপরে নয়, মিনিট আর বলের স্থায়িত্বেও মুশফিকের ইনিংসটি এখন বাংলাদেশের টেস্ট ইনিংসগুলোর চূড়ায়। সময়ের হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম ইনিংসের রেকর্ডটির বয়স ছিল প্রায় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়সের সমান। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই ১৪৫ রানের সেই ইতিহাস গড়া ইনিংসটি আমিনুল ইসলাম খেলেছিলেন ৫৩৫ মিনিট উইকেটে থেকে। দেড় যুগ পর সেটিকে পেছনে ফেললেন মুশফিক। রোববার টেস্টের প্রথম দিন সকালেই উইকেটে গিয়েছিলেন মুশফিক। সোমবার দুপুর ৩টা ৭ মিনিটে ইনিংস ঘোষণার সময়ও ছিলেন অপরাজিত। শের-ই-বাংলার ২২ গজে কাটিয়ে দিয়েছেন ৫৮৯ মিনিট! বলের হিসেবে সবচেয়ে বড় ইনিংসের রেকর্ড খুব পুরোনো ছিল না। গলে যে ইনিংসে দ্বিশতক করেছিলেন মুশফিক, সেটিতেই ১৯০ রানের ইনিংসটিতে মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছিলেন ৪১৭ বল। এবার মুশফিক খেলেছেন ৪২১ বল। ম্যাচের প্রথম দিনে মুমিনুল হককে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় দিনে জুটির রেকর্ড হলো আরও একটি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেট জুটিতে তুলেছেন ১৪৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে অষ্টম জুটিতে আগের রেকর্ডেও ছিল মুশফিকের নাম। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপে চট্টগ্রামে নাঈম ইসলামের সঙ্গে মিলে তুলেছিলেন ১১৩ রান। হাতছানি ছিল আরও একটি দারুণ রেকর্ডের। টেস্টে কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফাওয়ারের। ২০০০ সালে ভারতের বিপে নাগপুরে অপরাজিত ছিলেন ২৩২ রানে। এবার দল ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ায় মুশফিককে থামতে হলো ১৩ রান দূরে।

অলিম্পিক মহিলা ফুটবলের বাছাইয়ে ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টোকিও অলিম্পিকের মেয়েদের ফুটবলের বাছাইপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারে রোববার ৭-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৫-০ ব্যবধানে হেরেছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। প্রথমার্ধে তিন গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ষোড়শ মিনিটে কমলা দেবীর ল্যভেদে এগিয়ে যাওয়া ভারত ২২ ও ২৪ মিনিটে বালা দেবীর জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও চার গোল খেয়ে বড় ব্যবধানে হারে মেয়েরা। ভারতের বালা দেবী চারটি, কমলা দেবী দুটি ও সাঞ্জু যাদব একটি গোল করেন। ৮২তম মিনিটে বাংলাদেশের সান্ত¡নাসূচক গোল করেন কৃষ্ণা রানী সরকার। প্রাথমিক পর্বের বাছাইয়ে চার গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা দুই রানার্সআপ পাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার টিকেট। টানা দুই হারে গ্র“প পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আগামীকাল মঙ্গলবার বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

 

সালাহ-শাচিরির গোলে লিভারপুলের সহজ জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মোহামেদ সালাহ ও জেরদান সাচিরির গোলে নবাগত ফুলহ্যামের বিপে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সহজ জয় পেয়েছে লিভারপুল। রোববার অ্যানফিল্ডে স্থানীয় সময় দুপুরে শুরু হওয়া ম্যাচটি ২-০ গোলে জেতে স্বাগতিকরা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেড স্টার বেলগ্রেডের কাছে হারের পর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন ইয়ুর্গেন কপ। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলা লিভারপুল ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায়। আলেকসান্দার মিত্রোভিচের হেড জালে জড়ালেও অফসাইডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে গোল পায়নি ফুলহ্যাম। এর ঠিক ১৪ সেকেন্ডের মাথায় পাল্টা আক্রমণে উল্টো অতিথিদের জালে বল পাঠায় লিভারপুল। আলিসনের দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিকে বল ধরে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সালাহকে বাড়ান ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড। আর গতিতে সবাইকে পিছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ল্যভেদ করেন মিশরের এই ফরোয়ার্ড। ৫৩তম মিনিটে ডিফেন্ডারদের দুর্বলতায় বেশ সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাচিরি। অ্যান্ডু রবার্টসনের ক্রসে ছোট ডি-বক্সের ঠিক বাইরে অরতি অবস্থায় বল পেয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে গোলরককে পরাস্ত করেন সুইস এই মিডফিল্ডার। এই জয়ে লিগে নিজেদের অপরাজিত যাত্রা অব্যাহত রাখল লিভারপুল। ১২ ম্যাচে নয় জয় ও তিন ড্রয়ে কপের দলের সংগ্রহ ৩০ পয়েন্ট।

মিলার, ডু প্লেসিসের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো দ. আফ্রিকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ডেভিড মিলার ও ফাফ ডু প্লেসিসের জোড়া সেঞ্চুরিতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৪০ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে সফরকারী দণি আফ্রিকা। অপরদিকে আরো একটি পরাজয় দেখতে হলো কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে। হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও ফাইনাল ম্যাচে মিলার-ডুপ্লেসিসের ২৫২ রান জুটির সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২০। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপে চতুর্থ উইকেট জুটিতে দণি আফ্রিকার রেকর্ড পার্টনারশীপ। ১৬তম ওভারে স্বাগতিকরা ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললে দলকে টেনে তোলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। মিলার ১৩৯ রান এবং ডু প্লেসিস ১২৫ রান সংগ্রহ করে দলকে বড় সংগ্রহে পৌঁছে দেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মিলার পঞ্চম ও ডু প্লেসিস দশম সেঞ্চুরির দেখা পান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক ও স্টয়নিস ২টি করে উইকেট লাভ করেন। জবাবে শন মার্শের সেঞ্চুরি (১০৬) সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দিতে পারেননি। মার্কাস স্টনিস ৬৩ এবং আলেক্স ক্যারি ৪২ রান সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় স্বাগতিক দল। প্রোটিয়াদের হয়ে ডেল স্টেইন ও কাগিসো রাবাদা ৩টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন। প্রিটোরিয়াস নেন দুই উইকেট। সর্বশেষ ২০০৯ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় করল দনি আফ্রিকা। সংপ্তি স্কোর : দনি আফ্রিকা : ৫ উইকেটে ৩২০ রান (ডু প্লেসিস ১২৫, মিলার ১৩৯, মার্করাম ৩২, স্টার্ক ২/৫৭, স্টয়নিস ২/৭০)। অস্ট্রেলিয়া : ৯ উইকেটে ২৮০ (শন মার্শ ১০৬, মার্কাস স্টয়নিস ৬৩, আলেক্স ক্যারি ৪২, ম্যাক্সওয়েল ৩৫, স্টেইন ৩/৪৫, রাবাদা ৩/৪০, প্রিটোরিয়াস ২/৬১)। ফলাফল : দণি আফ্রিকা ৪০ রানে জয়ী। সিরিজ : দণি আফ্রিকা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।

মোমিনুল ও মুশফিকের জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জিম্বাবুয়ের বিপে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনই জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মোমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে মোমিনুল ১৬১ ও মুশফিক অপরাজিত ১১১ রানের ইনিংস খেলেন। ফলে প্রথম দিন শেষে ৯০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৩ রান করেছে বাংলাদেশ। তিনটি পরিবর্তন নিয়ে ঢাকা টেস্টের একাদশে সাজায় বাংলাদেশ। সিলেটের অভিষেক টেস্টে পরাজিত হওয়া একাদশ থেকে বাদ পড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত, আবু জায়েদ ও নাজমুল ইসলাম। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান মোহাম্মদ মিথুন, খালেদ আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। এ ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটে ব্যাটসম্যান মিথুন ও পেসার খালেদের। প্রথম টেস্টে জিততে না পারলেও সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচে খেলতে নেমে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচের আগের দিনই সংবাদ সম্মেলনে টস জয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রিয়াদ। ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় প্রথমে ব্যাটিংকে বেছে নেন রিয়াদ। কিন্তু সকালের উইকেট থেকে ফায়দা লুটেছেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। ১৬ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে প্যাভিলিয়নের টিকিট ধরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমনের সবচেয়ে ভরসার প্রতীক কাইল জার্ভিস। প্রথমে ইমরুলকে শুন্য হাতে ও পরে লিটনকে ৯ রানে থামেন জার্ভিস। শুরুর ধাক্কটা ড্রেসিংরুমে বসেই দেখেছিলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মিথুন। কিন্তু দলের হাল ধরতে পারেননি তিনি। রানের খাতা খোলার আগেই জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার ডোনাল্ড ত্রিরিপানোর বলে আউট হন মিথুন। দলীয় ২৬ রানে মিথুনের বিদায়ে ভয়ংকর কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিন নম্বরে নামা মোমিনুল হক ও উইকেটরক মুশফিকুর রহিম। সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচের শুরু যদি এমন হয়, তবে পরিস্থিতি কি হতে পারে!! ভয়ংকর না হয়ে উপায় কই! তবে এই ভয়ংকর পরিস্থিতিকে ঠান্ডা মাথায় গ্রহন করেছেন মোমিনুল ও মুশফিক। উইকেটের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের লাইন- লেন্থ বুঝে খেলতে থাকেন তারা। ফলে ধীরলয়ে এগিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতির আগে আর কোন উইকেটের পতন হতে দেননি মোমিনুল ও মুশফিক। ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনেও কোন উইকেটের পতন হতে দেননি মোমিনুল ও মুশফিক। জিম্বাবুয়ের বোলারদের উপর পুরো সেশনেই চাপ সৃষ্টি করে গেছেন তারা। ফলে চা-বিরতির ঠিক আগ মূর্হুতে নিজের ১৫০তম বলে বাউন্ডারির সহায়তায় টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান মোমিনুল। চলতি বছর তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান এ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। বছরের শুরুতে চট্টগ্রামে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে ১৭৬ ও ১০৫ রান করেছিলেন মোমিনুল। তাই মোমিনুলের সেঞ্চুরির সাথে মুশফিকের হাফ- সেঞ্চুরিতে চা-বিরতির পর্যন্ত ৫৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৭ করে টাইগাররা। মোমিনুল ১১৫ ও মুশফিক ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন। এই সেশনে ৩২ ওভারে ১৫১ রান যোগ করেন মোমিনুল ও মুশফিক। দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিকও। নিজের ১৮৭তম বলে মিড-উইকেটে বল ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে তিন অংকে পা দেন মুশি। প্রায় পৌনে দু’বছর পর বড় ফরম্যাটে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের সাবেক এ অধিনায়ক । ২০১৭ সালের ফেব্র“য়ারিতে হায়দারাবাদে ভারতের বিপে ১২৭ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেছিলেন মুশি। সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের রান চাকা অবলীলায় ঘুড়িয়েছেন মোমিনুল ও মুশফিক। তাই সেঞ্চুরির পর নিজের দেড়শও পূর্ণ করেন মোমিনুল। ক্যারিয়ারের তৃতীয়বারের মত দেড়শ রানের কোটা স্পর্শ করলেন মোমিনুল। দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশের দলীয় স্কোর তিনশর কাছাকাছিও পৌঁছে যায়। এই জুটিকে দিয়েই দিন শেষ করার স্বপ্ন দেখছিলো টাইগাররা। কিন্তু ৮৬তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ২৯২ রানে বিদায় নেন মোমিনুল। জিম্বাবুয়ের তেন্ডাই চাতারার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মোমিনুল। ততণে মিরপুরের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের পে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে যান মোমিনুল। ১৯টি চারে ২৪৭ বলে ১৬১ রান করেন মোমিনুল। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। মুশফিকের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৪৪৮ বলে ২৬৬ রান যোগ করেন মোমিনুল। বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ উইকেট জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রান। আর সব মিলিয়ে চতুর্থ। মোমিনুল ফিরে যাবার পর তাইজুল ইসলামকে দিনের বাকী সময় শেষ করার পথেই হাটছিলেন মুশফিক। কিন্তু ৮৯তম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তাইজুল। জার্ভিসের তৃতীয় শিকার হবার আগে ৪ রান করেন তিনি। এরপর দিনের শেষ ছয় বল বিপদ ছাড়া পার করেন মুশফিক ও অধিনায়ক মাহমুুদুল্লাহ । দিনের শেষ বলে বাই থেকে চার রান পাওয়ায় বাংলাদেশের দলীয় স্কোর ৩শ পেরিয়ে যায়। মুশফিক ৯টি চারে ২৩১ বলে ১১১ ও মাহমুদুল্লাহ শুন্য রানে অপরাজিত আছেন। জিম্বাবুয়ে জার্ভিস ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ ইনিংস : লিটন দাস ক মাভুতা ব জার্ভিস ৯,  ইমরুল কায়েস ক চাকাবভা ব জার্ভিস ০, মোমিনুল হক ক চারি ব চাতারা ১৬১, মোহাম্মদ মিথুন ক টেইলর ব ত্রিরিপানো ০, মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ১১১, তাইজুল ইসলাম ক চাকাবভা ব জার্ভিস ৪, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অপরাজিত ০, অতিরিক্ত (বা-৯, লে বা-৫, নো-৩, ও-১) ১৮, মোট (৫ উইকেট, ৯০ ওভার) ৩০৩, উইকেট পতন : ১/১৩ (ইমরুল), ২/১৬ (লিটন), ৩/২৬ (মিথুন), ৪/২৯২ (মোমিনুল), ৫/২৯৯ (তাইজুল)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : কাইল জার্ভিস : ১৯-৫-৪৮-৩ (ও-১, নো-১), তেন্ডাই চাতারা : ১৮-১০-২৮-১ (ও-১, নো-১), ডোনাল্ড ত্রিরিপানো : ১৫-৩-৩৩-১ (নো-২), সিকান্দার রাজা : ১২-১-৬৩-০, সিন উইলিয়ামস : ৮-০-৩১-০, ব্রান্ডন মাভুতা : ১৬-০-৭৯-০, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা : ২-০-৭-০।

নেইমারের ট্রান্সফার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গেল বছরের আগস্টে ট্রান্সফার ফির বিশ্বরেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যান নেইমার। সেই ট্রান্সফার এখনও খবরের উৎস। এবার এ গল্পকাহিনীতে যোগ হলো আরেকটি অধ্যায়। সবারই জানা, ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সা ছেড়ে প্যারিসে বসত গাড়েন নেইমার। সেই হিসাবে এখনও বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় তিনি। শুক্রবার ডার স্পাইগেল যে গোমর ফাঁস করেছে, তাতে অচিরেই তার এ রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কারো নেই। জার্মানির বিখ্যাত সাময়িকীটির মতে, ব্রাজিলীয় তারকাকে ডেরায় ভেড়াতে মোট ২৫২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে পিএসজি। তবে কর সংক্রান্ত ঝামেলা এবং মামলা মোকদ্দমার ভয়ে কম অর্থ দেখায় ক্লাবটি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে আনতে রিলিজ ক্লজ বাবদ শুধু কাতালানদেরই ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে পিএসজি। এছাড়া তার এজেন্ট পিনি জাহাভি এবং বাবা সিনিয়র নেইমারকে ১০.৭ মিলিয়ন ইউরো করে দিয়েছে ক্লাবটি। চুক্তি অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী সুপারস্টারের সাবেক ক্লাব সান্তোষকেও ৮.৭ মিলিয়ন ইউরো দিতে হয়েছে। পিএসজি মালিক নাসের আল খেলাইফির বড় সাধ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা। সেজন্য কাঁড়ি কাঁড়ি ইউরো খরচ করতেও পিছপা হননি তিনি। সব মিলিয়ে ২৫২ মিলিয়ন ইউরোতেই নেইমারকে টানে পিএসজি। সেই অর্থের কম দেখানোয় উয়েফা এখন তাদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয় তাই দেখার অপেক্ষা।

২০২৩ পর্যন্ত সিটিতে স্টার্লিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়েছেন রাহিম স্টার্লিং। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকবেন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড। ম্যানচেস্টার সিটির ওয়েবসাইটে শুক্রবার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে লিভারপুল থেকে ৪ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে সবচেয়ে দামি ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে সিটিতে পা রাখেন স্টার্লিং। এ পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৫৪ ম্যাচে ৫১টি গোল করেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১৮টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের ১১টি গোলে অবদান রেখে ক্লাবের রেকর্ড শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল স্টার্লিংয়ের। নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে স্টার্লিং বলেন, “চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আমি উচ্ছ্বসিত। এখানে আমার উন্নতিটা অবিশ্বাস্য। এখানে আসার মুহূর্ত থেকেই আমার মনে হয়েছে এটা আমার জন্য সঠিক পছন্দ ছিল। এটা কাজে লেগেছে এবং আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।” সংবাদ মাধ্যমের খবর, নতুন চুক্তি অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ইংলিশ খেলোয়াড় হবেন স্টার্লিং। প্রতি সপ্তাহে তাকে ৩ লাখ পাউন্ড দেবে ম্যানচেস্টার সিটি।