কৌতিনিয়োর ফেরার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন লিভারপুল কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়োর লিভারপুলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন ইংলিশ ক্লাবটির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ১৬ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে লিভারপুল ছেড়ে কাম্প নউয়ে যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলার এ মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির শুরুর একাদশে জায়গা পাকা করতে পারেননি। লা লিগায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চার গোল করা কৌতিনিয়ো তাই তার পুরনো ক্লাবে ফিরে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গেও তার যোগাযোগ আছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কৌতিনিয়োর ফেরার গুঞ্জন উড়িয়ে দেন ক্লপ।“এটা এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আমি বলব না যে এই দলবদলের সম্ভাবনা আছে বা হতে পারে।”“কিছুই বলার নেই। আমি যাই বলি না কেন তাতে আরও গল্প তৈরি হবে আর এখানে কোনো গল্পই নেই। কৌতিনিয়ো বার্সেলোনায় আছে এবং আমার জানামতে সে সেখানে ভালোমতো মানিয়ে নিয়েছে, সবকিছু ঠিক আছে।”

দলের সবাই সবসময় অধিনায়ককে লক্ষ্য করে না – ওয়ার্নার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শেষটা সুখকর হলো না ডেভিড ওয়ার্নারের। শেষ ইনিংসে ব্যাট হাতে করতে পারেননি ভালো কিছু। বড় রান তুলেও জিততে পারেনি তার দল। হতাশা নিয়েই যাওয়ার আগে দলকে শুভকামনা জানালেন বিদায়ী অধিনায়ক। তুলে ধরলেন তার অভিজ্ঞতায় দেখা দলের ঘাটতিগুলোও। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হলো এবারের বিপিএলে ওয়ার্নারের অভিযান। কনুইয়ের চোটের চিকিৎসা করাতে রোববারই রওনা হবেন দেশে।

শনিবার শেষ ম্যাচে ওয়ার্নার আউট হয়েছেন ২১ বলে ১৯ রান করে। তবে সাব্বির রহমানের ৫১ বলে ৮৫ ও নিকোলাস পুরানের ২৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে সিলেট তুলেছিল ১৯৪ রান। তখনও পর্যন্ত তা ছিল এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ক্যাচ ও রান আউট মিস করে সিলেট। ৩৫ বলে ৬১ রান করা রাইলি রুশো তার ২০ রানের মধ্যেই জীবন পান চারবার। শেষ ওভারে ম্যাচ হেরে যায় সিলেট। ম্যাচ শেষে ফিল্ডিং নিয়ে আক্ষেপ করলেন ওয়ার্নার। “ম্যাচটি দারুণ হয়েছে। তবে আমাদের দলের দিক থেকে শেষটা হতাশার। সাব্বিরকে কৃতিত্ব দিতে চাই আমি। সে আজ দারুণ খেলেছে। পুরান শেষ করেছে দুর্দান্তভাবে। ১৯৪ রান যথেষ্টর বেশি ছিল, আমাদের জেতা উচিত ছিল। কিন্তু একজনকে চারবার জীবন দিলে কঠিন সময় পেতেই হবে।” শেষ ম্যাচে ভালো না করলেও এমনিতে ব্যাট হাতে যথেষ্টই সফল ছিলেন ওয়ার্নার। সিলেট-রংপুর ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ওয়ার্নার তিনে। ২২৩ রান করেছেন ৩৭.১৬ গড় ও ১৩১.১৭ স্ট্রাইক রেটে। মাঠে তার আগ্রাসী নেতৃত্বও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে দলের ফলে সেটির প্রতিফলন খুব একটা নেই। ৭ ম্যাচে সিলেট জিতেছে কেবল দুটি। নিয়মিত জিততে হলে সিলেটকে কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটি বলে গেলেন ওয়ার্নার। “আশা করি আমার দল জয়ের পথে ফিরবে। কিছু দিকে নজর দিতে হবে আমাদের। একটি অবশ্যই শেষ দিকের বোলিং। আরেকটি ব্যাপার হলো, সাধারণ ম্যাচ সচেতনতা, দলের সবাই সবসময় অধিনায়কের দিকে লক্ষ্য রাখে না। অবশ্য ছেলেরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করছে, এটা নিয়ে সংশয় নেই।” নিষেধাজ্ঞার এই সময়টায় বিপিএলে খেলার সুযোগ দেওয়ার কারণে বিসিবিকেও ধন্যবাদ জানালেন পদচ্যুত অস্ট্রেলিয়ান সহ-অধিনায়ক। “এখানে আসা ও বিপিএলে খেলার সুযোগ দেওয়ার কারণে বিসিবির প্রতি আমি দারুণ কৃতজ্ঞ। এখানকার দর্শক অসাধারণ, মাঠের আবহ দুর্দান্ত।”

 

ধোনির প্রশংসায় কোচ ও সাবেকরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১১৪ বলে ৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ভারতকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অসিদের বিপক্ষে ভারতকে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদও দেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন ধোনি। তাই ধোনির প্রশংসা করলেন ভারতের বর্তমান কোচ ও সাবেক খেলোয়াড়রা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ব্যাটিং গড়- ৫০এর উপরে। অথচ গেল বছরটা সবচেয়ে বাজে গেছে ধোনির। ২০ ম্যাচের ১৩ ইনিংসে ২৫ গড়ে মাত্র ২৭৫ রান করেছেন তিনি। নেই কোন হাফ-সেঞ্চুরি বা সেঞ্চুরি। তাই ওয়ানডে দলে ধোনির স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। বিশ্বকাপের আগে ধোনির ব্যাপারে সিদ্বান্ত নেয়ার প্রসঙ্গও তুলেন তারা। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডে সিরিজেই নিজের চেহারায় ফিরলেন ধোনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজের সবক’টিতেই হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। তার ইনিংসগুলো ছিলো এমন- ৫১, অপরাজিত ৫৫ ও অপরাজিত ৮৭ রান। সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৮৭ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার পর এখন ধোনির প্রশংসা সর্বত্র। ভারতের বর্তমান রবি শাস্ত্রী বলেন, ‘ধোনির বিকল্প কেউ হতে পারে না। ধোনির মত ক্রিকেটারেরা ৩০-৪০ বছরে একবারই আসে। ধোানি যেদিন চলে যাবে, দলে এমন এক শূন্যতা তৈরি হবে যা পুরন করাটা খুব কঠিনই হবে।’ বিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান ও শান্ত মেজাজের খেলোয়াড় ধোনি, এমন মন্তব্যও করেন শাস্ত্রী। মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের প্রসঙ্গ টেনে এনে শাস্ত্রী বলেন, ‘ধোনি কিংবদন্তি। ভারতীয় ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসাবে পরিচিত থাকবে সে। টেন্ডুলকারকেও মেজাজ হারাতে দেখেছি। ধোনিকে নয়। মাঠে এত শান্ত থাকতে কাউকে দেখিনি।’ ধোনির প্রশংসা করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীও। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ধোনি এই সিরিজে ব্যাট করেছে, তা অনেক দিন পরে দেখা গেল। অ্যাডিলেড ওয়ানডের পর ধোনিকে নিয়ে সমালোচনা বেড়ে যায়। কিন্তু আমি জানতাম এই ইনিংস অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে ধোনি। ঠিক তাই-ই হয়েছে। পরের দু’ম্যাচে দলের জয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ধোনিই। শেষ ওয়ানডেতে তার শান্ত মেজাজের ব্যাটিং আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

সিলেটকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরলো রংপুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরের ২১তম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারালো রংপুর রাইডার্স। ৭ খেলায় ৩ জয় ও ৪ হারে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহে আছে রংপুরের। অপরদিকে, ৭ ম্যাচে ২ জয় ও ৫ হারে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহে রেখেছে সিলেট। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে সিলেট। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। লিটন দাস ১১ রানে বিদায় নিলে দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুজনেই ১৯ রান করে ফিরেন । তবে ব্যাট হাতে এক প্রান্ত আগলে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন ওপেনার হিসেবে নামা সাব্বির রহমান। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন তিনি। ৫১ বল মোকাবেলায় ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা হাকান সাব্বির। চতুর্থ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিকোলাস পুরানকে নিয়ে দলকে ৮২ রান এনে দেন সাব্বির। ২৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৪৭ রান করেন পুরান। রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ২টি উইকেট নেন। ১৯৫ রানের বড় টার্গেটে যাচ্ছেতাই শুরু হয় রংপুর রাইডার্সের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল শুন্য রানে ফিরে যান। শুরুর ধাক্কাটা ভালোভাবে সামাল দেন ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস ও দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তারা। হেলস ৩৩ রানে ফিরলেও ৬১ রানের ইনিংস খেলেন রুশো। ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৫ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান এ দক্ষিণ আফ্রিকান। দলীয় ১৩০ রানে রুশো ফিরে যাবার পর রংপুরের জয়ের কাজটা সম্পন্ন করার দায়িত্ব ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়াসের। দুর্দান্ত শুরুর পরও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৩৪ রান করেন ডি ভিলিয়ার্স। মাঝে রংপুরের মিডল-অর্ডারের চার উইকেট তুলে সিলেটকে দারুনভাবে খেলায় ফেরান পেসার তাসকিন আহমেদ। এমন অবস্থায় শেষ ২ ওভারে ২৪ রান প্রয়োজন পড়ে রংপুরের। ১৯তম ওভারে মাশরাফি ও ফরহাদ রেজা ১৯ রান তুলে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। তাই শেষ ওভারে ৫ রান দরকার পড়ে রংপুর। শেষ ওভারে তৃতীয় বলেই জয় নিশ্চিত করেন মাশরাফি-ফরহাদ। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন ফরহাদ। মাশরাফি ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সিলেটের তাসকিন ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর : – সিলেট সিক্সার্স : ১৯৪/৪, ২০ ওভার (সাব্বির ৮৫, পুরান ৪৭*, মাশরাফি ২/৩১)। রংপুর রাইডার্স : ১৯৫/৬, ১৯.৩ ওভার (রৌসু ৬১, ডি ভিলিয়ার্স ৩৪, তাসকিন ৪/৩১)। ফল : রংপুর রাইডার্স ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : রিলি রুশো(রংপুর রাইডার্স)।

ওজনিয়াকিকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে শারাপোভা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গতবারের চ্যাম্পিয়ন কারোলিন ওজনিয়াকিকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন মারিয়া শারাপোভা। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন পুরুষ এককের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরার ও ২০০৯ সালের শিরোপাজয়ী রাফায়েল নাদাল। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় শুক্রবার তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে প্রথম সেটে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন সাবেক ‘নাম্বার ওয়ান’ ডেনমার্কের ওজনিয়াকি। কিন্তু শেষ সেটে আর আটকাতে পারেননি শারাপোভাকে, দুই ঘন্টা ২৪ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৩ গেমে জেতেন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী রুশ তারকা। ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন শারাপোভা চতুর্থ রাউন্ডে স্বাগতিক খেলোয়াড় অ্যাশলি বার্টির বিপক্ষে খেলবেন। সরাসরি সেটে জিতেছেন দ্বিতীয় বাছাই স্পেনের নাদাল ও তৃতীয় বাছাই সুইস তারকা ফেদেরার। ২৭তম বাছাই অস্ট্রেলিয়ার আলেক্সকে ৬-১, ৬-২, ৬-৪ গেমে হারান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নাদাল। আর অবাছাই যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর ফ্রিটসকে ৬-২, ৭-৫, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন এখানে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ফেদেরার। চতুর্থ রাউন্ডে চেক রিপাবলিকের টমাস বের্দিচের মুখোমুখি হবেন গতবার কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বাদ পড়া নাদাল। আর রেকর্ড ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ও প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সপ্তম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা ফেদেরার পরের রাউন্ডে খেলবেন গ্রিসের স্তেফানোস সিসিপাসের বিপক্ষে।

মেসি-ডেম্বেলের হাত ধরে কোয়ার্টারফাইনালে বার্সেলোনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ উসমানে ডেম্বেলের জোড়া ও লিওনেল মেসির এক গোলে দ্বিতীয় লেগে লেভান্তেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোপা ডেল’রে ফুটবল কাপের কোয়ার্টারফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে লেভান্তের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিলো বার্সা। তবে দ্বিতীয় লেগ বড় ব্যবধানে জিতে ৪-২ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ আট নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে লেভান্তের মাঠে ২-১ গোলে ম্যাচ হেরেছিলো স্প্যানিশ লিগে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা। তাই অন্তত দু’গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগ জিততে হতে বার্সেলোনাকে। তবে নিজেদের মাটিতে নিজেদের মত করেই জ্বলে উঠে বার্সেলোনা। এজন্য কিছুটা সময় নিয়েছে বার্সা। ম্যাচের পরিস্থিতি নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে লেভান্তেকে চাপে রেখেছিলো বার্সেলোনা। এই অবস্থায় ৩০ মিনিটে স্কোরলাইনে গোলের সংখ্যা বসায় বার্সা।  লেভান্তের ডিফেন্ডারদের ভুলে প্রতিপক্ষের গোলবারের কাছেই বল পেয়ে যান ডেম্বেলে। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলকে জালের স্পর্শ দেন তিনি। এই গোলের পর-পরই নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার দেম্বেলে। ৩১ মিনিটে নিজের ও দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন ডেম্বেলে। দলের সেরা তারকা লিওনেল মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে লেভান্তের গোলমুখে শট নিয়েছিলো তিনি। তার ঐ শট লেভান্তের গোলরক্ষকের পায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে। ফলে ডেম্বেলের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। এ অবস্থায় চালকের আসনেই ছিলো বার্সেলোনা। কারণ শেষ আটে উঠার জন্য অন্তত ২-০ ব্যবধানে জয় প্রয়োজন ছিলো বার্সার। তবে শেষ আটের টিকিট আরও সহজে কাটতে চেয়েছিলেন মেসি। তাই ৫৪ মিনিটে লেভান্তের জালে ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসিকে গোল করতে সহায়তা করেছেন দু’গোল করে বসা ডেম্বেলে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে জয় নিয়ে কোয়ার্টারফাইনাল নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার কোচ আরনেস্তো ভালভার্দে বলেন, ‘ছেলেদের কাছ থেকে এমন পারফরমেন্সই আশা করেছিলাম। এমন জয়ের জন্য ছেলেদেরকে অভিনন্দন। প্রতিপক্ষকে নিয়ে আমরা অনেক বেশি পরিকল্পনা করেছিলাম। পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে কাজে লেগেছে।’ বার্সেলোনা ছাড়াও স্পেনের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় আগেভাগেই শেষ আট নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ, গেটাফে, রিয়াল বেটিস, সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া, জিরোনা ও এস্পানিয়ল।

চাহাল-ধোনির নৈপুণ্যে প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডে সিরিজ জিতলো ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথমে বল হাতে যুজবেন্দ্রা চাহালের ৬ উইকেট ও পরে ব্যাট হাতে সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ৮৭ রানের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মত ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়লো ভারত। মেলবোর্নে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে হারিয়েছে অসিদের। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় বিরাট কোহলির দল। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো ভারত। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২৯৯ রানের টার্গেট টপকে ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় ভারতের। তাই তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এ ম্যাচেও রান চেজ করার চ্যালেঞ্জ নেন কোহলি। বল হাতে পেয়েই ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন পেসার ভুবেনশ্বর কুমার। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে ৫ রানে ফেরান ভুবি। আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ এবারও ব্যর্থ বড় ইনিংস খেলতে। ভুবেনশ্বরের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ১৪ রান করেন ফিঞ্চ। এই সিরিজের তিন ম্যাচেই ভুবেনশ্বরের শিকার হলেন ফিঞ্চ। ২৭ রানে দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর দলের হাল ধরেন উসমান খাজা ও শন মার্শ। তৃতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ভারতের লেগ-স্পিনার যুজবেন্দ্রা চাহালের ঘুর্ণিতে বিদায় নেন খাজা ও মার্শ। খাজা ৩৪ ও মার্শ ৩৯ রান করেন। সিরিজের প্রথম দু’ম্যাচে সাইড-বেঞ্চে ছিলেন চাহাল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দলে সুযোগ পেয়েই নিজের কারিশমা দেখান তিনি। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার আরও চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের বড় স্কোরের পথ বন্ধ করে দেন চাহাল। ১০ ওভার বল করে ৪২ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন চাহাল। ৩৫ ম্যাচের ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান চাহাল। সেই সাথে রেকর্ড বইয়ে নিজের নামও তুলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোন স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার এটি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেকোন বোলারের ক্ষেত্রে যৌথভাবে সেরা বোলিং ফিগারও তার। চাহালের ঘুর্ণিতে পড়ে ইনিংসের ৮ বল বাকী থাকতে ২৩০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার হ্যান্ডসকম্বের হাফ-সেঞ্চুরিতে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২টি চারে ৬৩ বলে ৫৮ রান করেন হ্যান্ডসকম্ব। এছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৬, জেই রিচার্ডসন ১৬ ও পিটার সিডল অপরাজিত ১০ রান করেন। চাহাল ছাড়াও ভারতের পক্ষে ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন ভুবেনশ্বর ও মোহাম্মদ সামি। জয়ের জন্য ২৩১ রানের টার্গেটে সর্তকতার সাথেই শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। তবে এই জুটি ১৫ রানে বেশি করতে পারেনি। রোহিতকে ৯ রানে থামিয়ে দিয়ে অষ্ট্রেলিয়াকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার পিটার সিডল। এরপর অধিনায়ক কোহলিক নিয়ে দলের স্কোর বড় করছিলেন ধাওয়ান। তবে তাদের ব্যাটিং ছিলো ধীর গতির। তাই ১৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৭ রান। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ধাওয়ানকে থামান অস্ট্রেলিয়ার পেসার মার্কাস স্টোয়িনিস। ৪৬ বলে ২৩ রান করেন ধাওয়ান। ধাওয়ানের বিদায়ের ক্রিজে কোহলির সঙ্গী হন সাবেক অধিনায়ক ধোনি। এই জুটিতে রান তোলার কাজটা বেশি করেছেন ধোনি। তবে বেশ ধীরলয়ে। দলের স্কোর শতরানের কোটা পার করে বিচ্ছিন্ন ধোনি-কোহলি। ৩টি চারে ৬২ বলে ৪৬ রান করা কোহলিকে থামান অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেই রিচার্ডসন। ধোনি-কোহলি জুটি ৮২ বল মোকাবেলা করে ৫৪ রান যোগ করেন। ১১৩ রানে ভারতের তৃতীয় উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার পথ দেখতে পায় অস্ট্রেলিয়া। কারণ ঐ সময় জয়ের জন্য ২০ ওভারে ১১৮ রান প্রয়োজন পড়ে ভারতের। হাতে ছিলো ৭ উইকেট। এ অবস্থায় ভারতের মিডল-অর্ডারে ধস নামাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারার। কিন্তু পাঁচ নম্বরে নামা কেদার যাদবকে নিয়ে ভারতের রানের চাকা ঘুড়াতে থাকেন ধোনি। এক পর্যায়ে এই সিরিজে টানা তৃতীয় ও ৩৩৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৭০তম হাফ- সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ধোনি। ধোনির ব্যাটিং নৈপুণ্যে সাহস বেড়ে যায় যাদবের। তাই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের আধিপত্য বিস্তার করার কোন সুযোগই দেননি যাদব। ধোনির সাথে রান তোলার কাজটা ভালোভাবেই করতে থাকেন যাদব। তবে শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রান প্রয়োজন পড়ে ভারতের। হাতে উইকেট থাকায় এই রান তোলাটা কোন বিষয়ই ছিলো না ভারতের জন্য। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে ভারতকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন যাদব। ৬টি চারে ১১৪ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে বীরের বেশে মাঠ ছাড়েন একবার ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়া ধোনি। ৭টি চারে ৫৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন যাদব। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন যাদব। চতুর্থ উইকেটে ধোনি-যাদব ১১৫ বলে ১২১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ভারতের চাহাল এবং সিরিজ সেরা হন একই দলের ধোনি। সিরিজে তিন ম্যাচে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৯৩ রান করেছেন ধোনি। সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ অস্ট্রেলিয়া : ২৩০/১০, ৪৮.৪ ওভার (হ্যান্ডসকম্ব ৫৮, শন মার্শ ৩৯, চাহাল ৬/৪২)। ভারত : ২৩৪/৩, ৪৯.২ ওভার (ধোনি ৮৭*, যাদব ৬১*, রিচার্ডসন ১/২৭)। ফল : ভারত ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : যুজবেন্দ্রা চাহাল (ভারত)।

সিরিজ সেরা : মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত)। সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলো ভারত।

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয়ের ধারায় ফিরলো ঢাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড  নৈপুণ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরে আবারো জয়ের ধারায় ফিরলো ঢাকা ডায়নামাইটস। গতকাল টুর্নামেন্টের ১৯তম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারায় ঢাকা ডায়নামাইটস। বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতে ৪১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন সাকিব। প্রথম চার ম্যাচ জয়ের পর পঞ্চম ম্যাচে হেরেছিলো ঢাকা। তবে ষষ্ঠ ম্যাচে আবারো জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। অপরদিকে, ৬ ম্যাচে ২ জয় ও ৪ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠস্থানে আছে সিলেট। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে ভালো শুরুর পথেই ছিলেন সিলেটের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সাব্বির রহমান। মারমুখী মেজাজে ছিলেন লিটন। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪ বলে ২৭ রান করেন লিটন। দু’অংকের কোটা অতিক্রম করে ফিরেছেন সাব্বির ও আফিফ হোসেন। সাব্বির ১১ ও আফিফ ১৯ রান করেন। উপরের সারির তিন ব্যাটসম্যান ব্যর্থ হলেও একপ্রান্ত আগলে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড় ডেভিড ওয়ার্নার। ১৯তম ওভার পর্যন্ত ব্যাট করেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন জাকের আলী। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৩ রান যোগ করেন ওয়ার্নার ও জাকের। তবে ৪৩ বল মোকাবেলা করে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৬৩ রানে থেমে যান ওয়ার্নার। জাকের আলি ১৮ বলে করেন ২৫ রান। ঢাকার পক্ষে বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার এন্ড্রু বির্চ ৪২ রানে ৩ ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ঢাকার ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কাও মারেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে দলীয় ২৩ রানে ওপেনার মিজানুর রহমানকে হারায় ঢাকা। ১ রান করেন মিজানুর। পরের ওভারের প্রথম বলে ফিরেন নারাইনও। ১০ বলে ২০ রান করেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রনি তালুকদার। ১৩ বলে ১৩ রান করেন রনি। এমন অবস্থায় ৩৭ রানে ৩ উইকেট হারায় ঢাকা। এ অবস্থায় দলকে চাপমুক্ত করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও আফগানিস্তানের ডারউইশ রাসোলি। এই জুটিতে ৭৫ রান যোগ করেন । ফলে ম্যাচ জয়ের পথ পেয়ে যায় ঢাকা। রাসোলি ১৫ বলে ১৯ রান করে ফিরলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন সাকিব। ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন সাকিব। ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২১ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন রাসেল। সিলেটের পাকিস্তানী খেলোয়াড় মোহাম্মদ ইরফান ২ উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ সিলেট সিক্সার্স : ১৫৮/৮, ২০ ওভার (ওয়ার্নার ৬৩, লিটন ২৭, বিরচ ৩/৪২)। ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৬৩/৪, ১৭ ওভার (সাকিব ৬১*, রাসেল ৪০*, ইরফান ২/৩৮)। ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : সাকিব আল হাসান (ঢাকা)।

লেগানেসের মাঠে হেরেও শেষ আটে রিয়াল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লেগানেসের মাঠে হেরে গেছে মৌসুম জুড়ে বারবার ছন্দ হারানো রিয়াল মাদ্রিদ। তবে প্রথম লেগের বড় ব্যবধানের জয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকেট পেয়েছে সান্তিয়াগো সোলারির দল। স্প্যানিশ কাপ নামে পরিচিত এই প্রতিযোগিতায় বুধবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জেতে লেগানেস। তবে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে রিয়াল। গত সপ্তাহে প্রথম পর্বে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জিতেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। চোট পেয়ে বাইরে থাকা গ্যারেথ বেল, করিম বেনজেমা, থিবো কোর্তোয়াসহ নিয়মিত একাদশের অনেককে ছাড়া খেলতে নামা রিয়ালের রক্ষণে ম্যাচের শুরু থেকে চাপ ধরে রাখা লেগানেস ৩০তম মিনিটে এগিয়ে যায়। ছোট ডি-বক্সে জটলার মধ্যে বল পেয়ে টোকা দিয়ে গোলটি করেন ডেনমার্কের ফরোয়ার্ড মার্টিন ব্রেথওয়েট। শেষ দিকে গোল পেতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করতে থাকে সোলারির দল। কিন্তু কাঙ্খিত গোলের দেখা আর পায়নি স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতায় ১৯ বারের চ্যাম্পিয়নরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি বছরে পাঁচ ম্যাচের দুটিতে হারা ও একটিতে ড্র করা রিয়াল মাদ্রিদ আগামী শনিবার লা লিগায় ঘরের মাঠে সেভিয়ার বিপক্ষে খেলবে। কোপা দেল রে থেকে ছিটকে পড়েছে ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন আতলেতিকো মাদ্রিদ। বুধবার আরেক ম্যাচে জিরোনার সঙ্গে ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে ৩-৩ ড্র করে অ্যাওয়ে গোলে পিছিয়ে পড়ে আতলেতিকো। গত সপ্তাহে প্রথম পর্বে জিরোনার মাঠে ১-১ ড্র করেছিল দিয়েগো সিমেওনের দল।

এজন্যই রোনালদোকে আনা – আল্লেগ্রি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বড় ম্যাচে গোল করার সামর্থ্য আর ফল নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতার জন্যই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ইউভেন্তুস দলে টেনেছে বলে জানিয়েছেন দলটির কোচ মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি। বুধবার রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় রোনালদোর একমাত্র গোলে এসি মিলানকে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টম ইতালিয়ান সুপার কাপ জেতে ইউভেন্তুস। রোনালদো ও পুরো দলের পারফরম্যান্সে ভীষণ খুশি আল্লেগ্রি। “আমরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে দলে নিয়েছি কারণ সে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে এবং বড় ম্যাচে গোল করে।” “সে অসাধারণ একটা গোল করল এবং ম্যাচে ভালো খেলল। কিন্তু পুরো দলই দুর্দান্ত একটা পারফরম্যান্স দেখাল।” “সব মিলে আমি এই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করি। এমনকি কয়েক মিনিটের জন্য যারা বেঞ্চ থেকে মাঠে নামে তারাও যথাযথ মনোভাবটা দেখায় এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ইচ্ছাটা রাখে।”

রোনালদোর গোলে ইতালিয়ান সুপার কাপ ইউভেন্তুসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউভেন্তুসের হয়ে প্রথম কোনো ফাইনাল খেলতে নেমেই জ্বলে উঠলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের গোলে এসি মিলানকে হারিয়ে ইতালিয়ান সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তুললো মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির দল। সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে ১-০ গোলে জেতে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। গত মৌসুমে সেরি আর পাশাপাশি ইতালিয়ান কাপও জিতেছিল ইউভেন্তুস। তাই ২০১৭-১৮ মৌসুমের ইতালিয়ান কাপের রানার্সআপ হিসেবে সুপার কাপে খেলার সুযোগ পায় মিলান। প্রথমার্ধে ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিল ইউভেন্তুস। ৩১তম মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে জর্জো কিয়েল্লিনির ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আর ৪৩তম মিনিটে রোনালদোর বাইসাইকেল কিক ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। অবশেষে ৬১তম মিনিটে রোনালদোর নৈপুণ্যে কাঙ্খিত গোলটি পায় ইউভেন্তুস। বসনিয়ার মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচের চিপশটে বাড়ানো বল হেডে ঠিকানায় পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড। নতুন ঠিকানায় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই নিয়ে ২৬ ম্যাচে ১৬ গোল করলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ৭৪তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় প্রতিযোগিতার সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিলান। এমরে কানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কোত দি ভোয়ার মিডফিল্ডার কেসিয়ে। এক জন কম নিয়ে বাকি সময়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এসি মিলান। ২০১৬ সালের শিরোপা লড়াইয়ে মিলানের কাছেই টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরেছিল ইউভেন্তুস। এটি সহ গত চারবারের তিনবার শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল দলটি। সে ব্যর্থতা ঘুচিয়ে অষ্টমবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এই প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ড একার করে নিল তুরিনের ক্লাবটি।

আগামী মৌসুমেও বার্সায় থাকছেন ভালভেরদে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মৌসুমে এরনেস্তো ভালভেরদেই বার্সেলোনার কোচ হিসেবে থাকছেন বলে জানিয়েছেন কাতালান ক্লাবটির সভাপতি জোজেপ মারিয়া বার্তেমেউ। লুইস এনরিকের বিদায়ের পর ২০০৭ সালের মে মাসে বার্সেলোনার সঙ্গে দুই বছরের প্রাথমিক চুক্তি হয় ৫৪ বছর বয়সী ভালভেরদের। চুক্তিতে এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে বার্সা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্প্যানিশ এই কোচ অনিশ্চয়তা প্রকাশ করলে গুঞ্জন শুরু হয়। অবশ্য এসব গুঞ্জনে কান দিতে রাজি নন বার্তেমেউ। প্রথম মৌসুমেই দলকে লা লিগা ও কোপা দেল রের শিরোপা জেতানো ভালভেরদের উপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। “আগামী মৌসুমে ভালভেরদেই বার্সেলোনার কোচ থাকবেন এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। এ ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।” “তিনি এমন একজন কোচ যার ওপর আমাদের অনেক আস্থা আছে। তিনি অসাধারণ কাজ করছেন। ভালভেরদে একজন বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি বার্সেলোনার খেলার ধরনটা জানেন। আর তার দল পরিচালনার পদ্ধতি আমরা পছন্দ করি।” চলতি মৌসুমে লা লিগার শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ভালভেরদের অধীনে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে এগোচ্ছে বার্সেলোনা। ১৯ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। আতলেতিকো মাদ্রিদ ৫ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।

ঢাকাকে প্রথম হারের স্বাদ দিল উজ্জীবিত রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকা ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়েছে রাজশাহী কিংস। মায়ের নামাঙ্কিত জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটাররা। ম্যাচের আগে তাদের কণ্ঠে ছিল প্রত্যয়, জয় দিয়ে উপলক্ষটি উৎসর্গ করতে চান মায়েদের। সেই প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন দেখা গেল পারফরম্যান্সে। এবারের বিপিএলে পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেল ঢাকা ডায়নামাইটস। রাজশাহী তাদের হারিয়েছে ২০ রানে। সিলেটে বুধবার খুব বড় পুঁজি গড়তে পারেনি রাজশাহী। প্রায় ৫ বছর পর টি-টোয়েন্টি ও ৬ বছর পর বিপিএল খেলতে নেমে ৩১ বলে ৪৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন মার্শাল আইয়ুব। কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতায় রাজশাহী ২০ ওভারে তুলতে পারে ১৩৬ রান। দুর্দান্ত  বোলিংয়ে সেই রানকেই তারা প্রমাণ করেছে যথেষ্ট। ঢাকা থমকে গেছে ১১৬ রানে। রাজশাহীর চমকের শুরু ছিল এ দিন একাদশ দিয়েই। সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হকের জায়গা হয়নি একাদশে। দুজনের কেউই রান পাননি আগের ম্যাচগুলোয়। এরপরও এমন দুজনকে বাইরে রাখা, শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শালকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। মরিয়া রাজশাহী হেঁটেছে সেই পথেই। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন মৌসুমে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা শাহরিয়ার। আন্দ্রে রাসেলের ফুলটসে ক্যাচ দিয়ে মিরাজ ফেরেন ১ রানেই। তিনে নামেন মার্শাল। ২০১৩ সালের ফেব্র“য়ারির পর বিপিএলে তার প্রথম ম্যাচ, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তার ব্যাটিং মূলত বড় দৈর্ঘ্যরে উপযোগী বলে মনে করা হয় বলেই এই লম্বা সময় সুযোগ পাননি। কিন্তু এ দিন মার্শাল দেখালেন তার অন্য রূপ। চমকে দিলেন দারুণ সব শটে। আন্দ্রে রাসেলের এক ওভারে দুটি দৃষ্টিনন্দন চারের পর ছক্কা মারলেন হুক করে। বাঁহাতি স্পিনার আসিফ হোসেনকে ছক্কায় ওড়ালেন মাথার ওপর দিয়ে। আরেক পাশে শাহরিয়ার ছিলেন উইকেট আগলে। গতি দিতে পারছিলেন না ইনিংস। তবে টিকে থাকায় গড়ে ওঠে জুটি। চার বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারিতে যখন হাত খোলার চেষ্টা করছেন শাহরিয়ার, তখনই ভাঙে জুটি। নারাইন এক ওভারেই ফিরিয়ে দেন থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে। ২৭ বলে ২৫ করে আউট হন শাহরিয়ার। ভাঙে ৫৩ বলে ৭৫ রানের জুটি। তিন চার ও দুই ছক্কায় ৩১ বলে ৪৫ করেন মার্শাল। ওই ওভারে উইকেট আসতে পারত আরও একটি। রায়ান টেন ডেসকাটকে আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় ঢাকা। আলট্রা এজে দেখা যায় বল স্পর্শ করেছিলেন ডেসকাটের গ¬াভস। দীর্ঘক্ষণ দেখার পর গ¬াভসে লেগেছে নিশ্চিত হয়ে তৃতীয় আম্পায়ার নটআউট ঘোষণা করে দেন। নিয়ম অনুযায়ী, ডিআরএসর আবেদন যে আউটের জন্যই করা হোক, সম্ভাব্য সব আউটই যাচাই করে দেখতে হবে রিপে¬তে। এলবিডবি¬উ না হলেও ডেসকাট কটবিহাইন্ড হয়েছিলেন কিনা, সেটি আর দেখেননি তৃতীয় আম্পায়ার। ঢাকার ফিল্ডাররা জোর প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ডেসকাট অবশ্য সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। ফিরে গেছেন ১৬ বলে ১৬ রান করে। খুব সুবিধে করতে পারেননি অন্যরাও। জাকির হাসান ভালো কিছুর সম্ভাবনা জাগালেও ফেরেন ১৮ বলে ২০ রান করে। রাজশাহীর ইনিংস তাই বড় হয়নি খুব। ইনিংস বিরতিতে সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিল শক্তিশালী ঢাকা। কিন্তু রাজশাহীর বোলাররা বদলে দিল হিসাব। রান তাড়ায় ঢাকা তিন উইকেট হারায় প্রথম চার ওভারেই। নারাইনকে ঝড় তুলতে দেননি মিরাজ। হজরতউল¬াহ জাজাইকে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করেন ইসুরু উদানা। তিনে নেমে আন্দ্রে রাসেল একটি চার ও ছক্কা মারলেও তাকে ফেরান সানি। রনি তালুকদারকে নিয়ে সাকিব আল হাসান চেষ্টা করছিলেন ঘুরে দাঁড়াতে। কিন্তু সানিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফেরেন সাকিব। সানি পরে বোল্ড করে দেন রনিকেও। একাদশ ওভারে ঢাকার রান তখন ৫ উইকেটে ৫৩। ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ নাঈমকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন পোলার্ড। কিন্তু ক্রমেই বাড়তে থাকে প্রয়োজনীয় রান রেট। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি মেটাতে পারেননি দুজন। ১৮ বলে ১৭ করে ফেরেন নাঈম, ২১ বলে ১৪ পোলার্ড। ঢাকার সম্ভাবনারই তখনই সমাপ্তি। শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহানের ১৪ বলে ২১ রানের ইনিংস ব্যবধান কমিয়েছে কিছুটা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: রাজশাহী কিংস: ২০ ওভারে ১৩৬/৬ (মিরাজ ১, শাহরিয়ার ২৫, মার্শাল ৪৫, ডেসকাট ১৬, জাকির ২০, ইয়োঙ্কার ৯*, প্রসন্ন ২, উদানা ৩*; রাসেল ৩-১-১৭-১, রুবেল ৩-০-১৭-০, সাকিব ৪-০-২৯-১, নারাইন ৪-০-১৯-৩, আসিফ ২-০-১৫-০, আলিস ৪-০-২৯-১)। ঢাকা ডায়নামাইটস: ২০ ওভারে ১১৬/৯ (জাজাই ৬, নারাইন ১, রাসেল ১১, রনি ১৪, সাকিব ১৩, পোলার্ড ১৩, নাঈম ১৭, সোহান ২১, রুবেল ০, আসিফ ৬*, আলিস ০*; উদানা ৪-০-৩৬-১, মিরাজ ৩-০-১৮-২, সানি ৪-১-৮-৩, রাব্বি ৪-০-২৪-১, মুস্তাফিজ ৪-০-১৯-১, প্রসন্ন ১-০-৯-০)। ফল: রাজশাহী কিংস ২০ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: আরাফাত সানি।

 

এমবাপ্পেকে নিজের সাথে তুলনা করলেন পেলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিজের সাথে তুলনা করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলে বলেছেন এই তরুনের মধ্যে যে ধরনের গুণাবলী আছে তাতে তার সমকক্ষ হতে খুব বেশীদিন লাগবে না। বিশ^ ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে সবসময়ই বিবেচনা করা হয় ‘কালোমানিক’ খ্যাত পেলেকে। ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ^কাপ জয় পেলেকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। একইসাথে তার নেতৃত্বে সান্তোস ছয়টি ব্রাজিলিয়ান লিগ শিরোপা ছাড়াও দুটি কোপা লিবারেটেডোরস শিরোপা জিতেছে। ১৯৭৭ সালে পেলের বর্ণাঢ্য ফুটবলীয় ক্যারিয়ার শেষ হয়। ৭৮ বছর বয়সী এই ফুটবলীয় কিংবদন্তীর সমতুল্য হতে হলে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই তারকা এমবাপ্পেকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু রাশিয়া বিশ^কাপে তার নেতৃত্বে  যেভাবে ফ্রান্স বিশ^কাপ জয় করেছে তাতে অনেকেই তার মধ্যে সাবেক তারকাদের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ১৯৫৮ সালে টিনএজার হিসেবে পেলে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বিশ^কাপ জয় করেছিলেন। সেই স্মৃতি স্মরণ করে পেলে বলেন, ‘এমবাপ্পে ১৯ বছর বয়সে বিশ^কাপ জয় করেছে। আমি যখন প্রথম বিশ^কাপ জিতেছি তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৭। আমি বিশ^াস করি সে নতুন পেলে হিসেবে আবির্ভূত হবে। অনেকেই হয়ত মনে করতে পারে আমি উপহাস করে একথা বলছি, মোটেই না। এটা কোন কৌতুক নয়।’ ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নেইমারকে ছাপিয়ে ইতোমধ্যেই এমবাপ্পে পিএসজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে। নেইমারকে নিয়ে প্রতিনিয়ত বার্সেলোনায় ফিরে যাবার বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। সে কারনেই হয়তবা কিছুটা হলেও নেইমারের থেকে দৃষ্টি সড়ে যাচ্ছে পিএসজি সমর্থকদের। পার্ক ডি প্রিন্সেসে বিশে^র সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হিসেবে নেইমার আসার পর থেকে মাঝে মাঝেই ইনজুরির কারনে সমস্যায় পড়েছেন। তবে পেলে এসব বিষয় মোটেই আমলে না নিয়ে বলেছেন, একজন বাবা কখনই সমালোচনা করতে পারেনা, সে উপদেশ দিতে পারে। সে সান্তোসের ছেলে। আমি তার কাছ থেকে জাতীয় দলের জন্য সেরাটাই প্রত্যাশা করবো। এজন্য তাকে যেকোন ধরনের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

চোট পেয়ে মাঠের বাইরে কেইন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পায়ে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন টটেনহ্যাম হটস্পারের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রোববার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে পায়ে ব্যথা পেয়েছিলেন কেইন। ম্যাচের পুরোটা সময়ই অবশ্য খেলেছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার ক্লাবের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে তার বাঁ গোড়ালির লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানানো হয়। সুস্থ হয়ে মার্চের শুরুতে ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড অনুশীলনে ফিরতে পারেন বলে আশা করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর দুই লেগের কোনোটিতেই খেলার সম্ভাবনা নেই চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টটেনহ্যামের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০ গোল করা কেইনের। আগামী ২৪ জানুয়ারি চেলসির বিপক্ষে লিগ কাপের সেমি-ফাইনালও খেলতে পারবেন না ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এছাড়া লিগে আর্সেনাল ও চেলসির বিপক্ষে  গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচেও কেইনকে পাবে না ২২ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট তালিকায় ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা টটেনহ্যাম হটস্পার। তাদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আছে লিভারপুল।

 

ইতিহাস গড়ে গর্বিত মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লা লিগায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে গর্বিত বোধ করছেন লিওনেল মেসি। অনন্য এই কীর্তি গড়তে পেরে সাবেক ও বর্তমান সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বার্সেলোনার তারকা এই ফরোয়ার্ড।  কাম্প নউয়ে রোববার এইবারের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করে ইতিহাসটি গড়েন মেসি। বর্তমানে লা লিগায় খেলছে এমন ফুটবলারদের মধ্যে  গোলের হিসেবে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের ধারে কাছে নেই কেউ। প্রতিযোগিতার সর্বকালের সেরার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (৩১১) চলতি মৌসুমের শুরুতে সেরি আর ক্লাব ইউভেন্তুসে পাড়ি জমান। চলতি মৌসুমে লিগে এখন পর্যন্ত ১৭টি গোল করেছেন মেসি। আর আটটি গোল হলেই টানা দশ মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি করে গোল করার রেকর্ড গড়বেন তিনি। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অর্জনে সন্তুষ্টির কথা জানান মেসি। “৪০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করি, আরও কিছু করতে পারব। আমি রেকর্ডে বা পরিসংখ্যানে খুব বেশি মনোযোগ দেই না, আমি প্রতিটা দিন ধরে ধরে ভাবতে পছন্দ করি। শুধু গোল করা নয় বরং প্রতিটি ম্যাচকে আমি একটি চ্যালেঞ্জ মনে করি। যেখানে তিন পয়েন্ট যোগ করতে আমাদের জিততে হবে এবং লা লিগার জন্য লড়তে হবে। এটা পরিষ্কার যে সতীর্থদের সাহায্য ছাড়া, যারা এখন আমার সঙ্গে আছে এবং যারা আগে ছিল, ৪০০ গোল করা অসম্ভব হতো।”

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই মারের বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্পেনের রবের্তো বাউতিস্তার বিপক্ষে প্রথম দুই সেটে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যান্ডি মারে। কিন্তু পাঁচ সেটে গড়ানো লড়াইয়ে শেষটা সুখকর হয়নি ব্রিটিশ তারকার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেছেন তিনটি গ্র্যান্ড ¯¬্যাম জয়ী মারে। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড ¯¬্যামে সোমবার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটি ৬-৪, ৬-৪, ৬-৭, ৬-৭, ৬-২ গেমে হারেন এই প্রতিযোগিতায় পাঁচবারের রানার্সআপ মারে। চোট সমস্যায় জর্জরিত দুইবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মারে গত শুক্রবার চলতি বছরেই অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই হারের পর বললেন তেমনটাই। “এটা যদি আমার শেষ ম্যাচ হয় তাহলে শেষটা দারুণভাবে হলো। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি-তবে তা যথেষ্ট ছিল না।” পরে অবশ্য আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ প্রকাশ করেন ২০১২ সালের ইউএস ওপেন এবং ২০১৩ ও ২০১৬ সালের উইম্বলডন জয়ী মারে। সরাসরি সেটে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার ও স্পেনের রাফায়েল নাদাল। রাশিয়ার দেনিস ইস্তোমিনকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারান এখানে সর্বোচ্চ ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ও মোট রেকর্ড ২০টি গ্র্যান্ড ¯¬্যাম জয়ী ফেদেরার। আর অস্ট্রেলিয়ার জেমস ডাকওয়ার্থকে ৬-৪, ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি গ্র্যান্ড ¯¬্যাম জয়ী নাদাল। মেয়েদের এককে সরাসরি সেটে জিতে পরের রাউন্ডে উঠেছেন দ্বিতীয় বাছাই জার্মানির আঞ্জেলিক কেরবার, তৃতীয় বাছাই ডেনমার্কের কারোলিন ওজনিয়াকি, রাশিয়ার মারিয়া শারাপোভা।

জেসুসের জোড়া গোলে ম্যানচেস্টার সিটির জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টানা তৃতীয় ম্যাচে জ্বলে উঠলেন গাব্রিয়েল জেসুস। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্সকে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে ৩-০ গোলে জেতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। চলতি মৌসুমের প্রথম পর্বে অগাস্টে দলটির সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। ম্যাচের দশম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে এগিয়ে যায় শিরোপাধারীরা। মাঝমাঠের কাছ থেকে ফরাসি ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্তের লম্বা দুর্দান্ত এক পাস ডি-বক্সে বাঁ দিকে পেয়ে গোলমুখে বল বাড়ান লেরয় সানে। ছুটে এসে ডান পায়ের প্লেসিং শটে বল ঠিকানায় পাঠান জেসুস। ১৯তম মিনিটে বের্নার্দো সিলভাকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ফরাসি ডিফেন্ডার উইলি বোলি। ১০ জনের ওয়ানডারার্সের উপর চাপ ধরে রেখে ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিটি। ডি-বক্সে রাহিম স্টার্লিং ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় তারা। স্পট কিকে গোলটি করেন জেসুস। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ তিন ম্যাচে এই নিয়ে ৭ গোল করলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। লিগ কাপে গত বুধবার সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে বার্টন অ্যালবিওনের বিপক্ষে ৯-০ ব্যবধানের জয়ে একাই চার গোল করেন তিনি। এর তিন দিন আগে এফএ কাপে রদারহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষেও একটি গোল করেছিলেন জেসুস। আর ৭৮তম মিনিটে কেভিন ডি ব্র“ইনের ক্রসে বল ইংলিশ ডিফেন্ডার কনর কোডির পায়ে লেগে জালে ঢুকলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় সিটির। ২২ ম্যাচে ১৭ জয় ও দুই ড্রয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৫৩। শনিবার মোহামেদ সালাহর একমাত্র গোলে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনকে হারানো লিভারপুল ১৮ জয় ও তিন ড্রয়ে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। তৃতীয় স্থানে থাকা টটেনহ্যাম হটস্পারের পয়েন্ট ৪৮। শনিবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারানো চেলসি ১৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে। পঞ্চম স্থানে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৪১। রোববার টটেনহ্যাম হটস্পারকে ১-০ গোলে হারানো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্টও ৪১। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে উলে গুনার সুলশারের দল।

কোহলির সেঞ্চুরিতে সমতা ফেরাল ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দারুণ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন শন মার্শ। তবে বিরাট কোহলির আরেকটি মাস্টারক্লাস সেঞ্চুরিতে জয় তুলে নিলো ভারত। বাঁচিয়ে রাখলো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আশা। রোমাঞ্চকর উত্তেজনার ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে ভারত। ২৯৯ রানের লক্ষ্য ৪ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে কোহলির দল। অ্যাডিলেইড ওভালে মঙ্গলবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। আরও একবার ব্যর্থ স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি। অ্যারন ফিঞ্চ ও অ্যালেক্স কেয়ারি ফিরে যান ২৬ রানের মধ্যে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেন মার্শ। থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেন উসমান খাওয়াজা, পিটার হ্যান্ডসকম ও মার্কাস স্টয়নিস। তিন ব্যাটসম্যানই ফিরেন বিশের ঘরে। রানের গতিতে দম দেন গে¬ন ম্যাক্সওয়েল। ক্রিজে যাওয়ার পর থেকে শট খেলতে শুরু করা এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটিতে দলকে তিনশ রানের কাছে নিয়ে যান মার্শ। ১০৮ বলে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর শট খেলতে শুরু করেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানও। দ্রুত এগোনো দুই ব্যাটসম্যানকে দারুণ দুই ¯ে¬ায়ারে ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৩৭ বলে ৪৮ রান করে ফিরেন ম্যাক্সওয়েল। ১১ চার আর ৩ ছক্কায় ১২৩ বলে মার্শ করেন ১৩১ রান। শেষ ওভারে ভুবনেশ্বরকে একটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ২৯৮ রানে নিয়ে যান ন্যাথান লায়ন।  ভুবনেশ্বর ৪৫ রানে নেন ৪ উইকেট। মোহাম্মদ শামি ৩ উইকেট নেন ৫৮ রানে। এক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ৩২০ রানও সম্ভব মনে হচ্ছিল। ভুবনেশ্বর ও শামির দারুণ বোলিংয়ে তিনশ রানের নিচেই থামে স্বাগতিকরা। চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় রোহিত শর্মার সঙ্গে ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন শিখর ধাওয়ান। প্রথম থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ৫ চারে ফিরেন ৩২ রান করে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রোহিত ফিরেন দুটি করে ছক্কা-চারে ৪৩ রান করে।  টানা তিন উইকেটে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন কোহলি। রোহিতের সঙ্গে ৫৪, অম্বাতি রায়ডুর সঙ্গে ৫৯ আর মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে ৮২ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ের পথে রাখেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩৯তম সেঞ্চুরি পাওয়া কোহলিকে থামান জাই রিচার্ডসন। লেগ স্টাম্পে থাকা হাফ ভলি ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ম্যাক্সওয়েলের হাতে ধরা পড়েন ভারত অধিনায়ক। ১১২ বলে খেলা তার ১০৪ রানের ইনিংস গড়া ৫ চার ও দুই ছক্কায়। শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করা ধোনি রানের গতি বাড়ান কোহলির বিদায়ের পর। অভিজ্ঞ এই কিপার ব্যাটসম্যান সঙ্গ পান দিনেশ কার্তিকের কাছ থেকে। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৪ বলে তাদের ৫৭ রানের জুটি দলকে নিয়ে যায় জয়ের বন্দরে। ৫৪ বলে দুই ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন ধোনি। কার্তিক দুই চারে করেন অপরাজিত ২৫ রান। আগামী শুক্রবার মেলবোর্নে হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে। রান তাড়ায় দারুণ ইনিংসে ব্যবধান গড়ে দেওয়া কোহলি জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৯৮/৯ (কেয়ারি ১৮, ফিঞ্চ ৬, খাওয়াজা ২১, মার্শ ১৩১, হ্যান্ডসকম ২০, স্টয়নিস ২৯, ম্যাক্সওয়েল ৪৮, রিচার্ডসন ২, লায়ন ১২*, সিডল ০, বেহরেনডর্ফ ১*; ভুবনেশ্বর ৪/৪৫, শামি ৩/৫৮, সিরাজ ০/৭৬, কুলদীপ ০/৬৬, জাদেজা ১/৪৯)। ভারত: ৪৯.২ ওভারে ২৯৯/৪ (রোহিত ৪৩, ধাওয়ান ৩২, কোহলি ১০৪, রায়ডু ২৪, ধোনি ৫৫*, কার্তিক ২৫*; বেহরেনডর্ফ ১/৫২, রিচার্ডসন ১/৫৯, সিডল ০/৫৮, লায়ন ০/৫৯, স্টয়নিস ১/৪৬, ম্যাক্সওয়েল ১/১৬)। ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: বিরাট কোহলি।

 

বিপিএলের সিলেট পর্ব

রাজশাহী কিংসকে ২৫ রানে হারিয়ে খুলনার প্রথম জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পঞ্চম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল খুলনা টাইটানস। বিপিএলের সিলেট পর্বের প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার রাজশাহী কিংসকে ২৫ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইটানস। পাঁচ ম্যাচে রাজশাহীর এটি তৃতীয় হার। বিপিএলের সিলেট পর্বে ব্যাটিং উইকেট ও রান উৎসবের আশায় ছিলেন অনেকে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে উইকেট বেশ মন্থর। গ্রিপ করল, টার্ন মিলল। বল নিচুও হলো প্রায়ই। তাতে ধুঁকল দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই। উইকেটের চরিত্র বুঝে ব্যাট করতে পারেনি কোনো দলই। খুলনা যতটা বাজে ব্যাট করেছে, রাজশাহী করেছে তার চেয়েও বাজে। খুলনার ১২৮ রান তাড়ায় রাজশাহী শেষ ১০৩ রানেই। উইকেট যে সহজ নয়, ফুটে ওঠে ম্যাচের প্রথমভাগেই। মুস্তাফিজুর রহমানের বল গ্রিপ করেছে অনেক, বেশ কিছু কাটার স্পিনারদের মতো যেন টার্ন করেছে। রাজশাহীর দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও আরাফাত সানিও উইকেটের সাহায্য কাজে লাগান  দারুণভাবে। খুলনার ব্যাটিংয়েও ছিল না পাল্টা জবাব দেওয়ার ধার। পল স্টার্লিংকে বাইরে রেখে জুনায়েদ সিদ্দিকের সঙ্গে জহুরুল ইসলামকে দিয়ে ইনিংস শুরু করে খুলনা। কিন্তু নতুন জুটিও ভাঙে দ্রুতই। একটি ছক্কা ও চারে ৬ বলে ১৩ করে ফেরেন জহুরুল। একই পথে হেঁটেছেন জুনায়েদও, বিদায় নেন একটি করে চার ও ছক্কায় ১৪ রান করে। তিনে নামা ডাভিড মালান কিছুক্ষণ টিকলেও গতি পাননি। আউট হয়েছেন বাজে শটে। মিডল অর্ডারে মাহমুদউল¬াহ, নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ আবারও। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট পারেননি ঝড় তুলতে। ৮ রান করেছেন ১২ বলে। আরিফুল হক একটা পাশ আটকে রেখে দলকে গিয়ে গেছেন লড়ার মতো রানে। শেষ ওভারে আউট হওয়া আরিফুল করেছেন ২৭ বলে ২৬ রান। রান তাড়ায় রাজশাহী ধুঁকেছে শুরু থেকেই। লরি ইভান্সকে ওপেনিংয়ে তুলে এনেও লাভ হয়নি। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ফিরে যান শূন্য রানেই। মাহমুদউল¬াহর অনেক নিচু হয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে খুব বেশি কিছু করার ছিল না মুমিনুল হকের। সৌম্য সরকার ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন তাইজুলকে ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে। তিনে নামা মিরাজ দারুণ কিছু শটে রান বাড়িয়েছেন। কিন্তু ১৬ বলে ২৩ করে তিনিও আউট হয়েছেন তাইজুলের বলে বাজে শটে। রাজশাহীর রান তাড়া পথ হারায় পাওয়ার পে¬র মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে। আগের ম্যাচে পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ সেরা জাকির হাসান করতে পারেননি সেটির পুনরাবৃত্তি। অভিজ্ঞ রায়ান টেন ডেসকাটের জন্য মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। কিন্তু দারুণ বোলিং করা তাইজুল ফিরিয়েছেন তাকেও। রান তাড়ায় রাজশাহী জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি কখনও। এমনকি অনিয়িমত বোলার ডেভিড মালানও ৪ ওভার বোলিং করেছেন, রাজশাহী পারেনি কাজে লাগাতে। শেষ দিকে আরাফাত সানি ও কামরুল ইসলাম রাব্বির দুটি ছক্কায় কোনো রকমকে তারা পেরুতে পারে একশ। দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি খুলনার ক্যাচিংও ছিল ভালো। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট একাই ৪ ক্যাচ নিয়ে ছুঁয়েছেন বিপিএল রেকর্ড। প্রথম জয়ের স্বস্তিতে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদউল¬াহরা। সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ  খুলনা টাইটানস: ২০ ওভারে ১২৮/৯ (জহুরুল ১৩, জুনায়েদ ১৪, মালান ১৫, মাহমুদউল¬াহ ৯, শান্ত ১১, ব্র্যাথওয়েট ৮, আরিফুল ২৬, ভিসা ১৩, তাইজুল ০, শরিফুল ২*, জুনাইদ ১*; রাব্বি ৩-০-১৬-০, উদানা ৪-০-৩৬-২, মিরাজ ৪-০-২১-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২১-১, সানি ৪-০-২৫-২, সৌম্য ১-০-৬-০)। রাজশাহী কিংস: ১৯.৫ ওভারে ১০৩ (মুমিনুল ৭, ইভান্স ০, মিরাজ ২৩, সৌম্য ২, ডেসকাট ১৩, জাকির ৭, ইয়োঙ্কার ১৫, উদানা ৬, সানি ১৫, রাব্বি ১৩, মুস্তাফিজ ০*; জুনাইদ ৩.৫-০-২৬-৩, ভিসা ৩-০-২৮-১, তাইজুল ৪-০-১০-৩, মাহমুদউল¬াহ ৪-১-১২-২, মালান ৪-০-২১-০, শরিফুল ১-০-৪-০)। ফল: খুলনা টাইটানস ২৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: তাইজুল ইসলাম।

 

শেষ সময়ের গোলে রিয়ালের রোমাঞ্চকর জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লা লিগায় আবারও হোঁচট খেতে বসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে দানি সেবাইয়োসের শেষ দিকের গোলে রিয়াল বেতিসের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। স্পেনের শীর্ষ লিগে রোববার রাতে ২-১ গোলে জেতে মাদ্রিদের ক্লাবটি। লুকা মদ্রিচের গোলে রিয়াল শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা ফিরিয়েছিলেন সের্হিও কানালেস। লিগে দুই ম্যাচ পর জয়ের দখা পেল সান্তিয়াগো সোলারির দল। এ বছরে লা লিগায় এটা তাদের প্রথম জয়। গত ৩ জানুয়ারি লিগে ভিয়ারিয়ালের মাঠে ২-২ ড্রয়ের তিন দিন পর রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছিল সোলারির দল। অবশ্য গত বুধবার কোপা দেল রের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লেগানেসকে ৩-০ গোলে হারায় মাদ্রিদের ক্লাবটি। লিগে বছরের প্রথম দুই ম্যাচে জয়শূন্য রিয়ালকে বেতিসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে বল পেতে কঠিন লড়াই করতে হলো। তবে এরই মাঝে শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ত্রয়োদশ মিনিটে দানি কারভাহালের শট এক জনের পায়ে লেগে বল মদ্রিচের পায়ে গিয়ে পড়ে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোলটি করেন ২০১৮ সালের ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ও ব্যালন ডি’অর জয়ী। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য করে রিয়াল। স্প্যানিশ কাপে লেগানেসের বিপক্ষে একটি করে গোল করা ও করানো ভিনিসিউস জুনিয়র এ সময়ে দুবার ভালো জায়গায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ায় বেতিস। দ্রুত সাফল্যও পেয়ে যায় তারা। ৬৭তম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে ডান পায়ের টোকায় আগুয়ান গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের দুপায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সের্হিও কানালেস। ৮৮তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দারুণ এক ফ্রি-কিকে জয়সূচক গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সেবাইয়োস। রক্ষণপ্রাচীরের উপর দিয়ে বল এক ড্রপে ভিতরে ঢোকে। ১৯ ম্যাচে ১০ জয় ও তিন ড্রয়ে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। লুইস সুয়ারেসের জোড়া ও লিওনেল মেসির এক গোলে এইবারকে ৩-০ ব্যবধানে হারানো বার্সেলোনা ১৩ জয় ও চার ড্রয়ে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। লেভান্তেকে ১-০ গোলে হারানো আতলেতিকো মাদ্রিদ ৫ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। আথলেতিক বিলবাওয়ের মাঠে ২-০ গোলে হারা সেভিয়ার পয়েন্টও রিয়ালের সমান ৩৩। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সেভিয়া। পাঁচ নম্বরে নেমে যাওয়া আলাভেসের পয়েন্ট ৩২।