রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সাকে রুখে দিল সোসিয়েদাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনাকে ঘরের মাঠে পেয়ে ম্যাচের শুরু থেকে দারুণভাবে চেপে ধরল রিয়াল সোসিয়েদাদ। শুরুতে গোলও পেয়ে যায় তারা। বিরতির আগে-পরে দুই গোল করে অবশ্য জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। তবে পরে আরও এক গোল খেয়ে পয়েন্ট হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।  প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচে ২-২ ড্র করে ফিরেছে বার্সেলোনা। লিগে টানা চার জয়ের পর পয়েন্ট হারাল দলটি। মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরে অঁতোয়ান গ্রিজমানের গোলে। লুইস সুয়ারেসের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা; কিন্তু সে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের। খানিক পর আলেক্সান্দার ইসাক বল জালে পাঠালে মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সোসিয়েদাদ। বার্সেলোনার যেকোনো ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, বল দখলে তাদের এগিয়ে থাকাটা চিরচেনা দৃশ্য। তবে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র; শুরু থেকে বল দখলে আধিপত্য করল স্বাগতিকরা। দ্বাদশ মিনিটে ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে এগিয়েও যায় তারা। ডি-বক্সে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার সের্হিও বুসকেতস প্রতিপক্ষের দিয়েগো ইয়োরেন্তেকে জার্সি ধরে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ৩৮তম মিনিটে অনেকটা আচমকা পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে বার্সেলোনা। ম্যাচে এটাই তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সুয়ারেসের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন গ্রিজমান। সাবেক দলের বিপক্ষে গোল উদযাপন করেননি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোসিয়েদাদে খেলা ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। সতীর্থের পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু নিজে শট না নিয়ে বাড়ান বাঁ দিকে সুয়ারেসকে। অনায়াসে আসরে নিজের নবম গোলটি করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে মেসির দারুণ কর্নারে হেড করেছিলেন বিশ্রাম শেষে ফেরা জেরার্দ পিকে। বল লক্ষ্যেই ছিল, শেষমুহূর্তে গোললাইন থেকে ফেরায় স্বাগতিকরা। ৬২তম মিনিটে সোসিয়েদাদের সমতায় ফেরা গোলে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। বাঁ দিক থেকে ওইয়ারসাবালের শট ইভান রাকিতিচের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি, আলগা বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে জালে ঠেলেন দেন তরুণ সুইডিশ ফরোয়ার্ড ইসাক। মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোর আগে এই ড্র বার্সেলোনার জন্য বড় এক ধাক্কাই বটে। লিগে আগামী বুধবার ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এখানে হোঁচট খেলেও লিগের পয়েন্ট টেবিলে রিয়ালের চেয়ে ১ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। তবে রোববার ভালেন্সিয়ার মাঠে জিতলে শীর্ষে উঠে যাবে জিনেদিন জিদানের দল। ১৬ ম্যাচে ১১ জয় ও দুই ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৩৫। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়ালের পয়েন্ট ৩৪। ১৬ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সেভিয়া। চার নম্বরে থাকা সোসিয়েদাদের সংগ্রহ ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট।

 

যে রেকর্ড শুধুই আবিদ আলির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেতে পেতে বয়স ছিল ৩২ ছুঁইছুঁই। অনেক প্রতীক্ষার সেই অভিষেক রাঙিয়েছিলেন দারুণভাবে। গত মার্চে ওয়ানডে অভিষেকে করেছিলেন সেঞ্চুরি। সেই আবিদ আলি এবার টেস্ট অভিষেকেও করলেন সেঞ্চুরি। গড়লেন এমন এক কীর্তি, ক্রিকেট ইতিহাসে যা করতে পারেননি আর কেউ! ১০৫ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর টেস্ট অভিষেক হয়েছে আবিদের। সেই টেস্টেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন পঞ্চম দিনে এসে। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষেই এসেছে অনির্বচনীয় স্বাদ। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি সংস্করণে অভিষেকে সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের পঞ্চম দিনে রোববার এই কীর্তি গড়েন আবিদ। দিনের শেষ সেশনের শুরুর দিকে পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৩২ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার নাম খোদাই হয়ে যায় ইতিহাসে। গত মার্চে দুবাইয়ে অভিষেক ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আবিদ। একদিনের ক্রিকেটে অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে আবিদসহ ১৫ জনের। টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরির স্বাদ আবিদকে দিয়ে পেলেন ১০৬ জন। কেবল আবিদের নামই আছে দুটি তালিকায়। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে তিন জনের। তাদের কারও দেশ টেস্ট খেলার ধারেকাছে নেই। তিনজনের দুইজন টি-টোয়েন্টি ছাড়া অন্য কোনো সংস্করণ খেলেননি। একজন ওয়ানডে খেললেও করতে পারেননি সেঞ্চুরি।

দুটি সংস্করণে সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছে আগে যে দুইজন গিয়েছিলেন, তাদের কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি একটিতেও। প্রথম জন নিউ জিল্যান্ডের স্টিভেন ফ্লেমিং। ১৯৯৪ সালে টেস্ট অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে ৯২ রানে আউট হওয়ার তিন দিন পর ওয়ানডে অভিষেকে আউট হয়েছিলেন ৯০ রানে। আরেকজন রিকি পন্টিং। ১৯৯৫ সালে টেস্ট অভিষেকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডবি¬উ হয়েছিলেন ৯৬ রানে। ২০০৫ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে অপরাজিত ছিলেন ৯৮ রানে।

 

ধনাঞ্জয়ার ৫ দিনে সেঞ্চুরি, আবিদের ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন দিন শেষে। বৃষ্টি পরের তিন দিনেও শেষ হতে দিল না শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। একটু একটু করে এগিয়ে টিকে রইলেন ধনাঞ্জয়াও। অবশেষে শেষ দিনে দেখা গেল সূর্যের হাসি, ধনাঞ্জয়ার ব্যাটেও মিলল সেঞ্চুরির হাসি। বৃষ্টিবিঘিœত টেস্টের শেষ দিনটি এরপর ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে রাঙালেন পাকিস্তানের আবিদ আলি। ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। প্রথম চার দিনেও যে ম্যাচে শেষ হয়নি এক ইনিংস, সে টেস্টে ড্র ছাড়া আর কিছুর সুযোগ নেই। বৃষ্টির কাছে অসহায় কয়েকটি দিন শেষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শেষ দিনে খেলা হলো মোটামুটি। ধনাঞ্জয়ার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩০৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান ২ উইকেটে ২৫২ রান তোলার পর ম্যাচ ড্র। ১০ বছর পর পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফেরার ম্যাচটিতে শেষ দিনে কিছুটা বিনোদন পেলেন দর্শকরা। অভিষেকে সেঞ্চুরিতে আবিদ আলি গড়লেন অনন্য কীর্তি। ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই সংস্করণে সেঞ্চুরি। গত মার্চে ওয়ানডে অভিষেকেও তার ব্যাট থেকে সেঞ্চুরি এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট স্মরণীয় করে রেখেছেন বাবর আজমও। পাকিস্তান ক্রিকেটের সময়ের সেরা বিজ্ঞাপন সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ানডের গতিতে। ম্যাচের প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল ৬৮ ওভার। পরের দুই দিন মিলিয়ে হয় ২৩.৪ ওভার। চতুর্থ দিনে খেলাই হয়নি। পঞ্চম দিনে সকাল থেকে ছিল রোদ। শ্রীলঙ্কা দিন শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ২৮২ রানে। ধনাঞ্জয়ার সেঞ্চুরির পরপরই তারা ঘোষণা করে দেয় ইনিংস। টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ১৬৬ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ধনাঞ্জয়া। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে ধাক্কা খায় শুরুতেই। ওপেনার শান মাসুদ ফেরেন শূন্য রানে। আরেক ওপেনার আবিদ জুটি গড়ে তোলেন আজহার আলির সঙ্গে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৮৭ রান। অধিনায়ক আজহার আউট হন ৩৬ রানে। এরপর আবিদ ও বাবরের দারুণ জুটি। আবিদের ইতিহাস গড়া মুহূর্তটি আসে চা বিরতির পর। ১৮৩ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক। ১০৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর টেস্ট অভিষেক তার। সুদীর্ঘ সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো ৩২ বছর বয়সে অবিস্মরণীয় সাফল্য দিয়ে। বাবর তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়ে যান একটু পরই। স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ১১৮ বলে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। দুজনই ছিলেন অপরাজিত। আলেকস্বল্পতা ম্যাচের ইতি টেনে দেয় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই। সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৯৭ ওভারে ৩০৮/৬ (ডি.) (করুনারতেœ ৫৯, ওশাদা ৪০, কুসল ১০, ম্যাথিউস ৩১, চান্দিমাল ২, ধনাঞ্জয়া ১০২*, ডিকভেলা ৩৩, দিলরুয়ান ১৬*; আব্বাস ২৭-৯-৭২-১, শাহিন শাহ ২২-৭-৫৮-২, উসমান ১৫-৪-৫৪-১, নাসিম ২৭-৫-৯২-২, হারিস ৩-০-১২-০, মাসুদ ১-১-০-০, শফিক ২-০-৮-০)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৫২/২ (মাসুদ ০, আবিদ ১০৯*, আজহার ৩৬, বাবর ১০২*; রাজিথা ৬-২-৫-১, বিশ্ব ১৩-১-৪৯-০,  কুমারা ১৪-৪-৪৬-১, দিলরুয়ান ২৪-০-৮৫-০, ধনাঞ্জয়া ১১-০-৪৮-০, ওশাদা ১-০-৩-০, কুসল ১-০-১৪-০)।

ফল: ম্যাচ ড্র। সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে ০-০ সমতা। ম্যান অব দা ম্যাচ: আবিদ আলি।

কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিকে জয়ে ফিরল বায়ার্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা থেকে ধারে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া ফিলিপে কৌতিনিয়ো নতুন ঠিকানায় প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রবের্ত লেভানদোভস্কি করলেন জোড়া গোল। বুন্ডেসলিগায় টানা দুই হারের ধাক্কা কাটিয়ে জয়ের পথে ফিরল বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার ভার্ডার ব্রেমেনকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলেও অবদান রাখেন কৌতিনিয়ো। টানা সাতবারের চ্যাম্পিয়নদের আরেক গোলদাতা টমাস মুলার। গত ৩০ নভেম্বর বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারের পর গত সপ্তাহে বরুশিয়া মনশেনগ-ডবাখের মাঠে একই ব্যবধানে হেরেছিল বায়ার্ন। ব্রেমেনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন। ২৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলটি করেন কসোভোর মিডফিল্ডার মিলোত রাসিচা। ৪৫তম মিনিটে সের্গে জিনাব্রির বাড়ানো বল অনাযাসে লক্ষ্যে পাঠিয়ে সমতা টানেন কৌতিনিয়ো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা লেভানদোভস্কি। দ্বিতীয়ার্ধে ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় বায়ার্ন।

৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ব্যবধান বাড়ান কৌতিনিয়ো। আট মিনিট পর সতীর্থের বাড়ানো বল ফ্লিকে জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। আসরে পোলিশ এই ফরোয়ার্ডের এটি অষ্টাদশ গোল। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে এই নিয়ে ২৩ ম্যাচে ২৯ গোল করলেন লেভানদোভস্কি। তিন মিনিট পর ছোট ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ভলিতে স্কোরলাইন ৫-১ করেন জার্মান ফরোয়ার্ড মুলার। আর ৭৮তম মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন কৌতিনিয়ো। বুন্ডেসলিগায় ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের মোট গোল হলো ছয়টি। ১৫ ম্যাচে আট জয় ও তিন ড্রয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছে বায়ার্ন। ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে তিন নম্বরে আছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।

পাকিস্তান যেতে ক্রিকেটারদের জোর করবে না বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পাকিস্তান সফরের সবুজ সংকেত এখনও মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সফর হলেও ক্রিকেটারদের যেতে জোর করবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, যাওয়া-না যাওয়ার ব্যাপারটি নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের ওপরই। ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী জানুয়ারির শেষ দিকে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট খেলতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সফরের ভাগ্য নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিদর্শকদের প্রতিবেদনের ওপর। সরকার থেকে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল সফর নিয়ে ভাববে বিসিবি।

বিসিবি প্রধান জানান এই ব্যাপারে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা অপেক্ষা করছেন সফরে যাওয়ার ছাড়পত্রের জন্য। “আমরা নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের কাছে ছাড়পত্র পাব কি না, জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলাম। এর আগে মেয়েদের জাতীয় দল গেছে, ওরা খেলে এসেছে। ছেলেদের জাতীয় দলের জন্য ছাড়পত্র এখনও আমরা পাইনি।” “যদি নিরাপত্তার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, সেটা অনূর্ধ্ব-১২ হোক বা জাতীয় দল হোক, নিরাপত্তা নিরাপত্তাই। সবার জন্য একই হওয়ার কথা। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি, সম্ভাবনা রয়েছে আমরা নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়ে যাব।” ছাড়পত্র পাওয়ার পর বোর্ড সফরটি নিয়ে আলোচনায় বসবে। এরপর খেলোয়াড়দের দেওয়া হবে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। “খেলোয়াড়দের মতামতও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা যেতে চায় কী না। এখানে অনেকগুলো ব্যাপার আছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পরই আমরা বসব। আশা করছি, আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে এটার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।” “যদি যেতে না চায় তাহলে যাবে না। এটা তো জোর করার কিছু নেই। বোর্ড থেকে কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, এখন পর্যন্ত আমার এই চিন্তা। কাউকে জোর করে পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিকল্প টিম যাবে নাকি ওরাই যাবে সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।”

 

রংপুরকে ৬ উইকেটে হারাল চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রংপুর রেঞ্জার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে রংপুর। জবাবে চার উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। এর আগে শনিবার মিরপুরে বিপিএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ বলে ৭৮ রান করেন রংপুর রেঞ্জার্সের ওপেনার নাঈম। নাঈম ছাড়া অবশ্য আর কেউ সেভাবে ভালো করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীর ব্যাট থেকে। শেষ দিকে এক ছক্কায় ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন আহেমদ। চট্টগ্রামের হয়ে চার ওভারে ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন কেশরিক উইলিয়ামস। জয়ের জন্য ১৫৮ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুভ সূচনা করেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার। দলীয় ৬৮ রানে ২৩ বলে ৩৭ রান করে আউট হন আভিষ্কা ফার্নান্দো। এর পর ৩৪ বলে ৫০ রান করে ফিরে যান চাদউইক ওয়ালটন। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ রান করে ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম। ইমরুল কায়েশ ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

‘নিজেকে গুলি করার কথা’ ভেবেছিলেন জেসুস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাঝে ম্যাচের পর ম্যাচ পাননি জালের দেখা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর কঠিন সেই সময়ের কথা মনে করলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এ সময় হতাশায় নিজের মাথায় গুলি করতে চেয়েছিলেন বলে জানালেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্র“প পর্বে বুধবার দিনামো জাগরেবের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে সিটির প্রথম তিন গোল করেন জেসুস। পূরণ করেন ১০০ ক্যারিয়ার গোলের মাইলফলক। গত অক্টোবর ও নভেম্বরে টানা ৭০০ মিনিটের বেশি সময় ও সব মিলে দশ ম্যাচ গোলের দেখা পাননি জেসুস। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিটি পিছিয়ে পড়েছে ১৪ পয়েন্ট। কঠিন সেই সময়ের প্রসঙ্গে জেসুস জানান, তখন কতটা হতাশার মধ্যে ছিলেন তিনি। তার উদ্ধৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। “সত্যিই, গত মাসে আমি ভালো ছিলাম না, সুখে ছিলাম না। এসময় ৯ অথবা ১০টি ম্যাচ খেলেছিলাম এবং কোনো গোল করতে পারিনি। অনেক সুযোগ নষ্ট করেছিলাম, এসব কারণে ভালো ছিলাম না।” “অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়, নিজেকে নিয়েই কেবল বলতে পারি। কিন্তু যখন আমি ভালো না থাকি তখন নিজের মাথায় গুলি করতে মন চাই, কারণ এটা আমার জন্য কঠিন।” মূলত সিটির দ্বিতীয় পছন্দের স্ট্রাইকার জেসুস। প্রথম পছন্দের সের্হিও আগুয়েরো এখন চোটে বাইরে থাকায় নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে তাকে বেঞ্চে রেখে কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে একাদশে খেলানোয় হতাশ ছিলেন বলেও জানান জেসুস।

আইপিএলের নিলামে উঠছেন মুশফিকসহ ৫ বাংলাদেশি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০২০ আইপিএল নিলামের জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফটে উঠতে কিছুদিন আগে ভারতীয়-বিদেশি মিলিয়ে ৯৯৭ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছিলেন। সেখান থেকে নিলামের জন্য ৩৩২ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে তারা। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং মায়েস্ত্রো মুশফিকুর রহিম। এই কথা জানা গিয়েছিল আগেই। এবার জানা গেল মিস্টার ডিপেন্ডেবলসহ তাতে রয়েছেন আরো ৪ টাইগার। আগামী ১৯ ডিসেম্বর সিটি অব জয়খ্যাত কলকাতায় হবে আসন্ন আইপিএলের মেগা নিলাম। শুক্রবার এজন্য ক্রিকেটারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্ট আয়োজকরা। তাতে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চাওয়াতেই নতুন লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারা। এই ৫ ক্রিকেটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের। তিনবার আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাঁহাতি পেসারের দাম ১ কোটি রুপি। এছাড়া উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর ৭৫ লাখ, পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন এবং হার্ডহিটার সাব্বিরের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ রুপি। নিবন্ধিত ৯৭১ ক্রিকেটার থেকে ৩০৮ এবং বাইরে থেকে আরো ২৪ জনকে নিয়ে ৩৩২ ক্রিকেটারের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। এতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ, আট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফাঁকা আছে ৭৩ জন খেলোয়াড়ের জায়গা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জন বিদেশি শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবেন। এই তালিকায় সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি ক্যাটাগরিতে আছেন ৭ জন বিদেশি খেলোয়াড়। তারা হলেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, ক্রিস লিন, মিচেল মার্শ ও গে¬ন ম্যাক্সওয়েল, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন এবং শ্রীলংকার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেড় কোটি রুপি ক্যাটাগরিতে আছেন ১ ভারতীয় রবিন উথাপ্পা এবং ৯ বিদেশি ক্রিকেটার। এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ কোটি রুপি ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৩ ভারতীয় পিযুশ চাওলা, ইউসুফ পাঠান ও জয়দেব উনাদকাট এবং ২০ জন বিদেশি ক্রিকেটার। সবমিলিয়ে ১৮৬ জন ভারতীয়, ১৪৩ জন বিদেশি এবং ৩ জন সহযোগী সদস্য দেশের ক্রিকেটার নিয়ে হবে এবারের আইপিএল নিলাম। নির্ধারিত দিনে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে বহুল আলোচিত এই প্লেয়ার্স ড্রাফট।

 

২০২৪ সাল পর্যন্ত লিভারপুলের কোচ ক্লপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিভারপুলের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। অলরেড খ্যাত দলটির সঙ্গে ২০২৪ সাল পর্যন্ত থাকবেন তিনি। ২০১৫ সালের অক্টোবরে লিভারপুলের হাল ধরেন ক্লপ। পরের বছরই দলটির সঙ্গে ছয় বছরের নতুন চুক্তি সারেন। নতুন চুক্তিতে ৫২ বছর বয়সী এই কোচের দায়িত্বের মেয়াদ আরও বাড়ল। জার্মান এই কোচের হাত ধরে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল লিভারপুল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে হয়েছিল রানার্সআপ। চলতি মৌসুমে লিগে দারুণ গতিতে ছুটছে ক্লপের লিভারপুল। এ মুহুর্তে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেস্টার সিটির চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা। নতুন চুক্তি করে দারুণ খুশি ক্লপ তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। “এই ক্লাবটি এতটাই ভালো অবস্থায় আছে যে আমি এটাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতে পারি না।”

লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রাজশাহীর সহজ জয় 

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বঙ্গবন্ধু বিপিএলের পঞ্চম ম্যাচে সিলেট থান্ডার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী রয়্যাল। আগে ব্যাট করে মাত্র ৯১ রান অলআউট হয় সিলেট।৯২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১০ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী। রাজশাহীর হয়ে ওপেনার লিটন দাস ৪২ রান করেন। ৯২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই বড় ধাক্কা খায় রাজশাহী। নাঈম ইসলামের বলে ‘ডাক’ মারেন হজরতুল্লাহ জাজাই। এর পর লিটন দাস ও আফিফ হোসেন ৬২ রানের জুটি গড়েন। নাভিন উল হকের বলে আফিফ হোসেন (৩০) আউট হন। লিটন দাসের সঙ্গী হন শোয়েব মালিক। দুজনের ব্যাটে মাত্র ১০ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান রাজশাহী। ২৪ বলে ৭ বাউন্ডারিত ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। শোয়েব করেন ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও জনসন চার্লস ৪ ওভারে ৩৬ রান তুলেছিলেন। এরপর দ্রুত ৩ উইকেট হারায় তারা। আন্দ্রে রাসেল দারুণ স্লোয়ারে এলবিডব্লিউ করেন রনি তালুকদারকে (১৯)। পরের ওভারে অলোক কাপালি পরপর দুই বলে বোল্ড করেন চার্লস (১৬) ও জীবন মেন্ডিসকে (০)। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৩১ রানের জুটি গড়েন মিথুন ও মোসাদ্দেক। মিথুন দুই চার মেরে ভালো শুরু করলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। মিথুন আউট হন ২০ রানে। তার আউট দিয়ে পথ হারানো শুরু সিলেটের। ১ চার ও ১ ছক্কায় মোসাদ্দেক ভালো কিছুর আশা দেখালেও পারেননি দলের প্রয়োজন মেটাতে। ২০ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। রাজশাহী রয়্যালসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সিলেট ১৫.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় মাত্র ৯১ রানে।

দুই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে জিতল রিয়াল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনেকের অনুপস্থিতিতে নিজেদের মেলে ধরলেন ভিনিসিউস জুনিয়র ও রদ্রিগো। দুই তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পেলেন জালের দেখা। তাদের নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো ক্লাব ব্র“জকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার রাতে ‘এ’ গ্র“পের ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে জিনেদিন জিদানের দল। অন্য গোলটি করেন লুকা মদ্রিচ। বেলজিয়ান ক্লাবটির বিপক্ষে আগের তিন দেখায় একটিতে হেরেছিল রিয়াল, ড্র হয়েছিল অন্য দুটি। প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে নামা রিয়ালকে শুরুতে নিজেদের মাঠে চেপে ধরে ব্র“জ। দুই দলের প্রথম দেখায় সান্তিয়াগো বের্নাবেউ থেকে পয়েন্ট নিয়ে ফেরা দলটি এগিয়ে যেতে পারত নবম মিনিটে। দ্বিতীয় পছন্দের কিপার আলফুঁস আরিওলা দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করেন দলকে। খেলার ধারার বিপরীতে পঞ্চদশ মিনিটে সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। লুকা ইয়োভিচের চেষ্টা ঠেকিয়ে স্বাগতিকদের ত্রাতা গোলরক্ষক। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। গতির অভাব ছিল না কোনো দলেরই। কিন্তু জমাট রক্ষণ ভাঙার সৃজনশীলতা দেখাতে পারেনি কেউই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রিয়ালের জালে বল পাঠিয়েছিল ব্র“জ। কিন্তু ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে রদ্রিগোর চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় রিয়াল। আলভারো ওদ্রিওসোলার ক্রসে দারুণ ভলিতে ৫৩তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পরেই সমতা ফেরায় ব্র“জ। সতীর্থকে বাড়ানো এদের মিলিতাওয়ের বল মাঝপথে ধরে এগিয়ে যান এমানুয়েল ডেনিস। তার কাছ থেকে বল পেয়ে বাকিটা ঠান্ডা মাথায় সারেন হান্স ভানাকেন। ৬৪তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় রিয়াল। এই গোলে ভাগ্যের বেশ সহায়তা আছে। ইয়োভেচির কাছ থেকে বল পেয়ে শট নিতে চেয়েছিলেন রদ্রিগো। তিনি নিয়ন্ত্রণ হারালে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন সিমোন ডেলি। তার শটে রদ্রিগোর পায়ে লেগে বল যায় অরক্ষিত ভিনিসিউসের কাছে। খুব কাছ থেকে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ৮৯তম মিনিটে ডেনিসের বাঁকানো শট একটুর জন্য জালে যায়নি। যোগ করা সময়ে কাসেমিরোর কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান বাড়ান মদ্রিচ। ব্র“জে জিতে ১১ পয়েন্ট নিয়ে গ্র“প পর্ব শেষ করল ইউরোপের সফল দলটি। দিনের অন্য ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া পিএসজি ১৮ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে চূড়ায়। ব্র“জের পয়েন্ট ৩, গালাতাসারাইয়ের ২।

বাকনরকে ছাড়িয়ে আলিম দারের রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাঠে ম্যাচ পরিচালনার সময় প্রতিনিয়ত সাক্ষী হন ক্রিকেটারদের অনেক রেকর্ডের। অভিজ্ঞ আম্পায়ার আলিম দার এবার নিজেই গড়লেন অনন্য এক কীর্তি। নিজের করে নিলেন সবচেয়ে বেশি ১২৯ টেস্টে আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ড। পেছনে ফেললেন স্টিভ বাকনরকে। গত আগস্টে লর্ডসে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে নেমে দার ছুঁয়েছিলেন বাকনরের ১২৮ টেস্ট পরিচালনার রেকর্ড। পার্থে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক আম্পায়ারকে। এই দুজন ছাড়া ১০০-এর বেশি টেস্ট পরিচালনা করেছেন কেবল রুডি কোয়ের্টজেন। ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই দক্ষিণ আফ্রিকান আম্পায়ারিং করেন ১০৮ টেস্টে। আম্পায়ার হিসেবে দারের কারিয়ার শুরু ২০০০ সালে, গুজরানওয়ালাতে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে দিয়ে। তিন বছর পর ঢাকায় বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে হয় আম্পায়ার হিসেবে টেস্ট অভিষেক। ১২ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে ১৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন দার। ১২৯ টেস্টের পাশাপাশি এ পর্যন্ত ২০৭টি ওয়ানডে ও ৪৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ৫১ বছর বয়সী এই আম্পায়ার। আইসিসির এলিট প্যানেলে আছেন ২০০৪ সাল থেকে। আইসিসিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু করার সময় কখনোই এই মাইলফলকের ব্যাপারটা ভাবিনি। এটা সত্যিকার অর্থে দারুণ একটা অনুভূতি; গুজরানওয়ালায়, যেখানে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তার চেয়ে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ায় জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহুর্তটা ধরা দেবে।”

তারকা ঠাসা ঢাকাকে হারিয়ে রাজশাহীর উড়ন্ত সূচনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাশরাফি, তামিম, আফ্রিদির মতো তারকা ঠাসা দল ঢাকা প্লাটুনকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করলো রাজশাহী রয়্যালস । বিপিএলে রাজশাহীকে ১৩৫ রানের লক্ষ্য দিতে সমর্থ হয়েছিল ঢাকা প্লাটুন। লিটন আর হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের ব্যাটিং  নৈপুণ্যে ১ উইকেট হারিয়ে ১০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তামিমের উইকেট হারায় ঢাকা। দলীয় ৩৯ রানে ইভানসের উইকেট হারিয়ে আরও বিপাকে পড়ে মাশরাফির বিন মর্তুজার দল। জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে এনামুল হক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দলীয় ৭৮ রানে ব্যক্তিগত ২১ রান করে জাকের বিদায় নেয়। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে থিসারা পেরেরা, শহীদ আফ্রিদি কেউ নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। থিসারা ১ রান করে আউট হন। আফ্রিদি রবি বোপারার বলে শূন্য রানে আউট হলে দল আরও চাপে পড়ে। শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াজ আর মাশরাফির ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে কিছুটা লড়াইয়ের রসদ পায় ঢাকা। ওয়াহাব ১২ বলে ১৯ আর মাশরাফি ১০ বলে করেন ১৮ রান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তোলে ঢাকা । রাজশাহীর পক্ষে বোলিংয়ে আবু জায়েদ ৪৩ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। তবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। কোন উইকেট না পেলেও ৩ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দিয়ে ঢাকাকে চাপে রাখেন। বোলিং আক্রমণে মাশরাফি, শহীদ আফ্রিদি ও ওয়াহাব রিয়াজ থাকায় জয়ের ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদী ছিল ঢাকা। তবে লিটন আর হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের ব্যাটিং নৈপুণ্যে সেই আশায় গুড়ে বালি। উদ্বোধনী জুটিতে ৮ ওভার ২ বলে ৬২ রান তোলে রাজশাহী। ২৭ বলে ৩৯ রান করে লিটন বিদায় নিলে জাজাই বাকি কাজটা শোয়েব মালিককে সঙ্গে নিয়ে। ৪৭ বলে ৫৬ রান করেন জাজাই। শোয়েব মালিক অপরাজিত থাকেন ৩৬ বলে ৩৬ রান করে।

 

জেসুসের হ্যাটট্রিকে সিটির দুর্দান্ত জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিয়মিত একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বুঝতেই দিলেন না গ্যাব্রিয়েল জেসুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে দিনামো জাগরেবের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ‘সি’ গ্র“পের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত করা পেপ গুয়ার্দিওলার দল বুধবার নিজেদের শেষ ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছে। তাদের অন্য গোলটি করেন তরুণ মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ক্রোয়েশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলে হারিয়েছিল সিটি। এই গ্র“প থেকে শেষ ষোলোয় গুয়ার্দিওলার দলের সঙ্গী আতালান্তা। একই সময়ে শুরু হওয়া ম্যাচে ইউক্রেনের দল শাখতার দোনেৎস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডের টিকেট নিশ্চিত করে ইতালিয়ান ক্লাবটি। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথম তিন ম্যাচে হারের পরও নকআউট পর্বে উঠল আতালান্তা। ৬ ম্যাচে ৪ জয় ও ২ ড্রয়ে সিটির পয়েন্ট ১৪। ২ জয় ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্র“প রানার্সআপ আতালান্তা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা শাখতার খেলবে ইউরোপা লিগে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিল দিনামো জাগরেব। গত শনিবার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে খেলা একাদশের তিন জনকে রেখে এই ম্যাচে একাদশ সাজান সিটি কোচ। মূল খেলোয়াড়দের ছাড়া দলটি বল দখলে আধিপত্য করলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে খুব একটা সুবিধে করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দশ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের দশম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল দুর্দান্ত ভলিতে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন তরুণ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমো। ৩৪তম মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের আড়াআড়ি ক্রসে লাফিয়ে হেড করে স্কোরলাইনে সমতা আনেন জেসুস। বিরতির পর ভিন্ন চেহারায় দেখা দেয় সিটি। ৫০তম মিনিটে গোছালো আক্রমণে কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নেন জেসুস। চার মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। বাম প্রান্ত দিয়ে বাড়ানো বাঁজামাঁ মাঁদির ক্রস থেকে সহজ টোকায় ব্যবধান করে দেন ৩-১। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে বের্নার্দো সিলভার পাস থেকে স্কোরলাইন সমৃদ্ধ করেন ফোডেন। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।

জিতেও চাকরি হারালেন নাপোলির কোচ আনচেলত্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নাপোলিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে তুলেও শেষ রক্ষা হলো না কার্লো আনচেলত্তির। ইতালিয়ান  এই কোচকে বরখাস্ত করেছে ক্লাবটি। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় মঙ্গলবার হেঙ্কের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকেট নিশ্চিত করে নাপোলি। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এক টুইট বার্তায় খবরটি জানানো হয়। গত বছরের মে মাসে তিন বছরের চুক্তিতে সেরি আর ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৬০ বছর বয়সী আনচেলত্তি। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভালো করলেও লিগে ছন্দে ছিল না নাপোলি। পয়েন্ট তালিকায় এই মুহূর্তে সাত নম্বরে আছে তারা। হেঙ্কের বিপক্ষের জয়ের আগে সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ নয় ম্যাচে কোনো জয় ছিল না দলটির। মূলত এটাই আনচেলত্তির চাকরি হারানোর কারণ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা ফাতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লা লিগায় বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা আনসু ফাতি এবার আরও বড় কীর্তি গড়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোলের রেকর্ড গড়েছেন স্পেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের এই ফরোয়ার্ড। সান সিরোয় মঙ্গলবার স্বাগতিক ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৮৫তম মিনিটে বদলি নেমে পরের মিনিটেই জালে বল পাঠান ফাতি। সুয়ারেসের সঙ্গে একবার বল দেওয়া নেওয়া করে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জয়সূচক গোলটি করেন ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সবচেয়ে কম বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের আগের রেকর্ডটি ছিল ঘানার পিটার ওফোরি-কোয়াইয়ের। ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবরে অলিম্পিয়াকোসের হয়ে রুসেনবর্গের বিপক্ষে ১৭ বছর ১৯৫ দিন বয়সে গোল করেছিলেন এই স্ট্রাইকার। দলের খুব প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করতে পেরে ভীষণ খুশি ফাতি। “লুইস সুয়ারেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে যখন গোলটি আমি করলাম পুরো স্টেডিয়াম নিশ্চুপ হয়ে গেল।” “স্বপ্নের মতো হচ্ছে। সবকিছু যেন খুব দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আমাকে যে সুযোগ দেওয়া হবে তা আমার কাজে লাগাতে হবে।” ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে বার্সেলোনা। চার জয় ও দুই ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ১৪।

আবারও আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর আফগান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নেতৃত্ব নিয়ে আফগান ক্রিকেটে অস্থিরতা চলছেই। চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন হলো অধিনায়ক। নানা অধ্যায় পেরিয়ে ফের নেতৃত্বে ফিরলেন দেশের সফলতম অধিনায়ক আসগর আফগান। বিশ্বকাপের ঠিক আগে তাকে সরিয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল আফগানিস্তানের ক্রিকেটের পালা বদলের। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ বিবৃতিতে আসগরকে আবারও দায়িত্বে ফেরানোর খবর জানায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এ বছরের এপ্রিলে হঠাৎ করেই আসগরকে সরিয়ে প্রত্যেক সংস্করণে ভিন্ন অধিনায়ক নির্বাচন করেছিল আফগানিস্তান। টেস্ট দলের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন রহমত শাহ। ওয়ানডে দলের দায়িত্বে গুলবদিন নাইব। আর টি- টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন রশিদ খান। বিশ্বকাপে নয় ম্যাচের সবগুলোতে হেরে তলানিতে থেকে আসর শেষ করে আফগানরা। গুলবদিন হারান ওয়ানডে অধিনায়কত্ব; কোনো ম্যাচে নেতৃত্ব না দিয়েই বাদ পড়েন রহমত শাহ। জুলাইয়ে সব সংস্করণে দায়িত্ব পান দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়ে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টিতে সিরিজে জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তবে এই সময়ে নিজের বোলিংয়ে ছন্দ হারান রশিদ। এবার হারালেন নেতৃত্ব। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর মোহাম্মদ নবিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আসগরকে। তার নেতৃত্বে ৫৬ ওয়ানডের ৩১টি জিতে আফগানিস্তান, টি-টোয়েন্টি জিতে ৪৬ ম্যাচের ৩৭টিতেই। তার অধিনায়কত্বেই নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পায় প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ।

ইমরুল ঝড়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে শুভসূচনা চট্টগ্রামের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডারকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এ নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসরে শুভসূচনা করল তারা। নেপথ্য নায়ক ইমরুল কায়েস। আর পার্শ্বনায়ক চ্যাডউইক ওয়ালটন। দুজনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে এ দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জার্সরা। ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। সেখান থেকে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান ইমরুল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন তারা। একপর্যায়ে দুজনই ক্রিজে সেট হয়ে যান। পরে সিলেট বোলারদের তুলোধুনো করতে শুরু করেন ইমরুল-ওয়ালটন। ফলে জয়ের পথে এগোতে থাকে চাটগাঁর দলটি। তবে হঠাৎ থমকে যান ইমরুল। অবশ্য জয় তখন হাতছোঁয়া দূরত্বে। এবাদত হোসেনের বলে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার। ফেরার আগে খেলেন ৩৮ বলে ৫ ছক্কার বিপরীতে ২ চারে ৬১ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস। নুরুল হাসানকে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন ওয়ালটন। ৬ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করেন তিনি। তবে আফসোস ৬ রানের জন্য ফিফটির দেখা পাননি এ ক্যারিবিয়ান। ২৮ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়ালটন। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২০ রানে জোড়া উইকেট হারিয়ে বড়সড় ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। নাজমুল ইসলাম অপুর বলির পাঁঠা হয়ে ফেরেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও নাসির হোসেন। শেষেরজন রানের খাতায় খুলতে পারেননি। পরে ইমরুলকে নিয়ে খেলা ধরার চেষ্টা করেন আভিশ্কা ফার্নান্দো। তবে হঠাৎ পথচ্যুত হন তিনি। ক্রিসমার সান্তোকির বলে আউট হন এ লংকান। ফেরার আগে ২৬ বলে ৩টি চার-ছক্কায় ঝড়োগতিতে ৩৩ রান করেন ফার্নান্দো। ফলে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। এ পরিস্থিতিতে রায়ার্ন বার্লকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালান ইমরুল। তবে আচমকা থেমে যান বার্ল। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে এলবিডবি¬উ হয়ে ফেরেন তিনি। এতে দলটির ওপর চাপ আরো বাড়ে। সেখান থেকে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন ইমরুল-ওয়ালটন। বুধবার দুপুরে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। এ ম্যাচে খেলছেন না দলটির নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল¬াহ রিয়াদ। ফলে দলের হয়ে টস করতে নামেন রায়াদ এমরিত। টসভাগ্যে জিতে যান তিনি। এতে আগে ব্যাটিং শুরু করে সিলেট। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। সূচনালগ্নেই ফিরে যান রনি তালুকদার। উইকেটের পেছনে নুরুল হাসানের গ¬াভসবন্দি করে তাকে ফেরান রুবেল হোসেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসর বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম উইকেটশিকারী হন তিনি। রনি ফিরলেও দারুণ খেলতে থাকেন অপর ওপেনার জনসন চার্লস। মোহাম্মদ মিঠুনের কাছ থেকে পান যোগ্য সহযোদ্ধার সঙ্গ। তাতে রীতিমতো চোখ রাঙান তিনি। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটার। তার চোখরাঙানি থামান নাসুম আহমেদ। ফেরার আগে ২৩ বলে ৭ চারে ঝড়ো ৩৫ রান করেন চার্লস। সেই রেশ না কাটতেই এমরিতের শিকার হয়ে ফেরেন জীবন মেন্ডিস। ফলে সিলেটের রানের চাকা ¯ে¬া হয়ে যায়। ১০ ওভার হয়ে গেলেও ছক্কার দেখা মেলেনি। অবশেষ সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচান মোহাম্মদ মিঠুন। ১০.৫ ওভারে মুক্তার আলিকে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন তিনি। এটিই এবারের বিপিএলের প্রথম ওভার বাউন্ডারি। এরপরই খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন মিঠুন। পরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালান তিনি। পথিমধ্যে ফিফটি তুলে নেন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এ পথে ৫ ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ছিল না কোনো চারের মার। সেখানেই থেমে থাকেননি মিঠুন। পরেও বন্দরনগরীর বোলারের ওপর ছড়ি ঘোরান তিনি। ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরি। তাকে দারুণ সমর্থন জোগান মোসাদ্দেক হোসেন। একপর্যায়ে দুর্দান্ত মেলবন্ধন গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। ফলে রানের চাকাও বনবন করে ঘুরতে থাকে সিলেটের। মোসাদ্দেক একটু দেখেশুনে খেললেও তোপ দাগান মিঠুন। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে চট্টগ্রাম বোলারদের কচুকাটা করেন তিনি। শেষ অবধি তার টর্নেডোতে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ১৬৩ রানের টার্গেট দেয় সিলেট। এর খানিক আগে ১টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ বলে ২৯ রান করে মোসাদ্দেক ফিরলেও ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন মিঠুন। ৪৮ বলে ৫ ছক্কার বিপরীতে ৪ চারে এ দুর্দমনীয় ইনিংসটি সাজান তিনি। শেষ অবধি তার মারকাটারি ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬২ রানের পুঁজি গড়ে সিলেট। চট্টগ্রামের হয়ে ৪ ওভারে ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট নেন রুবেল। সংক্ষিপ্ত স্কোর:

সিলেট থান্ডার: ২০ ওভারে ১৬২/৪ (রনি ৫, চার্লস ৩৫, মিঠুন ৮৪*, মেন্ডিস ৪, মোসাদ্দেক ২৯, মিলণ ১*; নাসুম ৪-০-৩৪-১, রুবেল ৪-০-২৭-২, এমরিট ৪-০-৩৮-১, মুক্তার ৩-০-২২-০, নাসির ৪-০-২২-০, বার্ল ১-০-১৫-০)। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৯ ওভারে ১৬৩/৫ (ফার্নান্দো ৩৩, জুনায়েদ ৪, নাসির ০, ইমরুল ৬১, বার্ল ৩, ওয়ালটন ৪৯*, সোহান ৫*; সোহাগ ৪-০-৩৬-০, সান্টোকি ৪-০-৩৪-১, নাজমুল অপু ৩-০-২৩-২, ইবাদত ৪-০-৩৩-১, মোসাদ্দেক ১-০-৯-১, নাভিন ৩-০-২৭-০)। ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: ইমরুল কায়েস।

বিপিএলে রাজশাহীর অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিপিএলের সপ্তম আসরে রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। মঙ্গলবার অধিনায়ক হিসেবে ক্যারিবীয় এ তারকা ক্রিকেটারের নাম ঘোষণা করেছে রাজশাহী রয়্যালস কর্তৃপক্ষ। টি- টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্রিকেটার জাতীয় দলের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলে আসছেন। সবশেষ আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম করেন তিনি। আশা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষীকি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বিপিএলেও মাঠ মাতাবেন তিনি। আন্দ্রে রাসেল জাতীয় দলের হয়ে একটি টেস্ট, ৫৬ ওয়ানডে ও ৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে ১ হাজার ৫০১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি বল হাতে জাতীয় দলের হয়ে ১০৪ ম্যাচে শিকার করেছেন ৮৬ উইকেট। এছাড়া ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ৩০৬ ম্যাচ খেলে ২৬.১০ গড়ে দুটি সেঞ্চুরি ও ১৭টি ফিফটির সাহায্যে ৫ হাজার ৬৫ রান সংগ্রহ করেছেন রাসেল। আর বল হাতে ফ্রাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে শিকার করেন ২৭৬ উইকেট। বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে খেলবেন-লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্র“ব, আবু জায়েদ রাহি, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি, ফরহাদ রেজা, তাইজুল ইসলাম, অলক কাপালি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, নাহিদুল ইসলাম ও ইরফান শুক্কুর। বিদেশি: মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ইরফান, রবি বোপারা, হযরতউল¬াহ জাজাই, শোয়েব মালিক ও আন্দ্রে রাসেল।

 

ব্যর্থতার গন্ডি ভেঙে জয়ে ফিরল আর্সেনাল

ঢাকা অফিস ॥ কদিন আগে আর্সেনাল কোচ ফ্রেডি ইয়ুনবারি বলেছিলেন, তার খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মাঠে ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিটে সেটাই যেন ফুটে ওঠে। তবে এরপরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯ মিনিটের মধ্যে তিনবার জালে বল পাঠিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় ‘গানার্স’ নামে পরিচিত দলটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সোমবার রাতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া আর্সেনাল শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতেছে। লন্ডনের ক্লাবটির গোল তিনটি করেন গাব্রিয়েল মার্তিনেলি¬, নিকোলা পেপ্পে ও পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াং। লিগে টানা সাত ও সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা ৯ ম্যাচ জয়শূন্য থাকার পর সাফল্যের দেখা পেল তারা। দলটি এর আগে শেষ জিতেছিল গত ৬ অক্টোবর, নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-০ গোলে। ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে আধিপত্য করলেও আর্সেনালের খেলায় ছিল না ছন্দ। আক্রমণগুলো ছিল ধারহীন। ঘরের মাঠে শেষ চার ম্যাচে জয়শূন্য ওয়েস্ট হ্যামও প্রথমার্ধে খুব বেশি চাপ তৈরি করতে পারেনি। ৩৮তম মিনিটে জটলার মধ্যে কিছুটা সৌভাগ্যপ্রসূত গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। আঞ্জেলো ওগবোন্নার হেড আর্সেনাল ডিফেন্ডার এইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলসের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। খেলার ধারার বিপরীতে ৬০তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। সেয়াদ কোলাশিনাচের দারুণ পাস ডি-বক্সে পেয়ে নিখুঁত শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মার্তিনেলি¬। এরপরই পাল্টে যায় ‘আত্মবিশ্বাসের অভাবে’ ভুগতে থাকা আর্সেনাল। তিন মিনিটের ব্যবধানে আদায় করে নেয় আরও দুই গোল।

৬৬তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে নেন পেপে। কোত দি ভোয়ার এই ফরোয়ার্ডের ক্রসেই দারুণ এক ভলিতে স্কোরলাইন ৩-১ করেন গ্যাবনের স্ট্রাইকার আউবামেয়াং। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ইয়ুনবারি তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলেন। ১৬ ম্যাচে পাঁচ জয় ও সাত ড্রয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে উঠেছে আর্সেনাল। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে লিভারপুল। দুইয়ে থাকা লেস্টার সিটির পয়েন্ট ৩৮। ৩২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে চেলসি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও উলভারহ্যাম্পটন ওয়ানডারার্সের পয়েন্ট সমান ২৪। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে উলে গুনার সুলশারের ইউনাইটেড।

লুকাকু-মার্তিনেসকে নিয়ে সতর্ক বার্সেলোনা কোচ

ঢাকা অফিস ॥ চলতি মৌসুমে বেশ ছন্দে আছেন ইন্টার মিলানের দুই ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেস ও রোমেলু লুকাকু। তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্র“পের শেষ ম্যাচে দলটির মুখোমুখি হওয়ার আগে এই দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে বাড়তি সতর্ক বার্সেলোনা কোচ এরনেস্তো ভালভেরদে। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। গ্র“পের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় লড়াইটি বার্সেলোনার জন্য শুধুই নিয়মরক্ষার। এই ম্যাচে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও দুই ডিফেন্ডার সের্হিও রবের্তো ও জেরার্দ পিকেকে বিশ্রাম দিয়েছে বার্সেলোনা। চোটের কারণে দলের বাইরে আছেন উসমান দেম্বেলে, জর্দি আলবা ও আর্থার মেলো। নেলসন সেমেদো চোট কাটিয়ে উঠলেও তাকে বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ। গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জনকে বিশ্রাম দিলেও জয়ের ধারা ধরে রাখতে চান কোচ। এজন্য প্রতিপক্ষের দুই স্ট্রাইকারকে নিয়ে সতর্ক ভালভেরদে। “(লাউতারো) দুর্দান্ত মৌসুম কাটাচ্ছে সে খুব গতিশীল ও শক্তিশালী ফুটবল খেলে। কাম্প নউয়ে (প্রথম লেগে) সে দারুণ একটি গোল করেছিল।” চলতি আসরে ৫ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন এই আর্জেন্টিাইন স্ট্রাইকার। সেরি আয় করেছেন ৮ গোল। লুকাকুর সঙ্গে তার রসায়নটাও দারুণ বলে মনে করেন বার্সা কোচ। “লুকাকুর সঙ্গে তার বোঝাপড়াটা দারুণ। এর সুফলও পাচ্ছে ইন্টার।” “লাউতারো ও লুইস সুয়ারেসের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। সামান্য পার্থক্য আছে বটে, তবে দুজনই জাত গোলস্কোরার। লুকাকুর মতো মানসম্মত খেলোয়াড় যে কোনো কিছু করতে পারে, তাকে থামানো কঠিন।” এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক গোল করলেও ইতালির শীর্ষ লিগে বেলজিয়ান এই স্ট্রাইকার রয়েছেন দারুণ ছন্দে; ১৪ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্র“পের শীর্ষে বার্সেলোনা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টারের সামনে শেষ ষোলোয় উঠতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ড আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে ¯¬াভিয়া প্রাহার।