সিপিএলে দল পেলেন আফিফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টি-টোয়েন্টি অভিষেকে পাঁচ উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। পরে ভালো করেছেন ব্যাটিংয়েও। এই সংস্করণে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করছেন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে। সেই পথ চলায় এবার ডাক পেলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগ-সিপিএলে। খেলবেন সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে। আফিফ সিপিএলে বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল¬াহ খেলেছেন ক্যারিবিয়ানদের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে। গত আসরে দল পেলেও টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ। এবারের আসরে ড্রাফটে ছিলেন বাংলাদেশের ১৯ ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে দল পেলেন কেবল ১৯ বছর বয়সী আফিফ। ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আফিফ। আপাতত সেই ম্যাচেই থমকে আছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী কিংসের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল তার। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত ৩১ ম্যাচ খেলে ২১.২০ গড় ও ১২৩.২৪  স্ট্রাইক রেটে ৫০৯ রান করেছেন আফিফ। ফিফটি দুটি, সর্বোচ্চ ৬৫। ২৩ গড়ে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। পাঁচ উইকেট পেয়েছেন একবারই।

জার্মান দলে নেই চোটে পড়া ক্রুস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোটের কারণে মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ও গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে আগামী মাসে হতে যাওয়া ইউরো বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচে পাচ্ছে না জার্মানি। চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে আছেন প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারও। তবে প্রাথমিকভাবে তাকে নিয়েই বুধবার ২২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ ইওয়াখিম লুভ। মাংসপেশিতে চোট পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রুস। আর বার্সেলোনার গোলরক্ষক টের স্টেগেন হাঁটুর চোটে ভুগছেন। পায়ের পেশির চোটের কারণে বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষক নয়ার বুন্ডেসলিগায় দলের শেষ কয়েক ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে আগামী শনিবার হতে যাওয়া লাইপজিগের বিপক্ষে জার্মান কাপের ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্র“প পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া জার্মানির উয়েফা নেশন্স লিগের অভিষেক আসরটা ভালো কাটেনি। ‘এ’ লিগ থেকে অবনমন হয়ে গেছে তাদের। অবশ্য ইউরো ২০২০ এর বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শুরুটা ভালো করেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ‘সি’ গ্র“পে আগামী ৮ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলারুশের মাঠে খেলবে জার্মানি। তিন দিন পর ঘরের মাঠে এস্তোনিয়ার মুখোমুখি হবে তিনবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।

কাপ ফাইনালে বার্সা দলে নেই টের স্টেগেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কোপা দেল রের ফাইনালে নিয়মিত গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে পাচ্ছে না বার্সেলোনা। হাঁটুর চোটে পড়া জার্মান এই ফুটবলারের পরিবর্তে খেলতে পারেন ইয়াসপের সিলেসেন। ঘরোয়া ডাবল জয়ের লক্ষ্যে আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় কাপ ফাইনালে ভালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। প্রতিযোগিতায় রেকর্ড টানা পঞ্চম শিরোপা জয়ের হাতছানি রয়েছে এরনেস্তো ভালভেরদের দলের সামনে। ফাইনালে টের স্টেগেনকে বদলির তালিকাতেও রাখেননি ভালভেরদে। চলতি মৌসুমে দলের হয়ে ৪৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে ইউরো বাছাইপর্বে বেলারুশ ও এস্তোনিয়ার বিপক্ষে আগামী মাসে হতে যাওয়া দুই ম্যাচের জার্মানি দলেও জায়গা পাননি টের স্টেগেন।

বাংলাদেশ: আকাশ ছোঁয়ার হাতছানি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্বপ্ন যখন দেখব, বড় কেন নয়? দেশ ছাড়ার আগে বলে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কি সেই স্বপ্ন? অনুমান করে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চূড়া ছোঁয়ার দুঃসাহস নিয়ে এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কাজটা কঠিন। ভীষণ কঠিন। আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। পেরুতে হবে অনেক বন্ধুর পথ। তবু বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের আগে অবশ্য আছে লক্ষ্য। অন্তত সেরা চারে থাকা। সহজ নয় সেটিও। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাট। অনেককে চমকে দিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। আরও বিস্ময় উপহার দিয়ে সেমি-ফাইনালে খেলেছে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তবে ওই দুবারই ফরম্যাট ছিল চমক দেওয়ার জন্য তুলনামূলক সহজ। গ্র“প পর্বে একটি-দুটি জয়, অন্য ম্যাচের ফল পক্ষে আসা মিলিয়ে ধরা দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। কিন্তু বিশ্বকাপে এবার ১০ দল খেলবে পরস্পরের সঙ্গে। ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে ভিন্ন শক্তি ও সামর্থ্যরে প্রতিপক্ষকে সামলানো, দীর্ঘ সময় ধরে একাগ্রতা ধরে রাখা, নানা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিটি ধাপেই অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলের বড় শক্তি একই সঙ্গে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতা। গড় বয়সের হিসেবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম তরুণ দল বাংলাদেশ। আবার ম্যাচ খেলার বিবেচনায় সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলগুলির একটি। একই দলে দুটির সমন্বয় যথেষ্টই বিরল। বাংলাদেশ দলে এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ দলের মূল ক্রিকেটাররা সেই ১৮-১৯ বছর বয়স থেকে একসঙ্গে খেলছেন। অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে দলকে পরের স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছেন। চেষ্টা করছেন আরও ওপরে তুলতে। দলের চার ক্রিকেটারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ, আরও দুইজনের তৃতীয় বিশ্বকাপ। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলার ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর থেকে ধরা দিয়েছে আরও অভাবনীয় সব সাফল্য। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন একাধিক বিশ্বকাপে। নেতৃত্বের মতো তার বোলিংও দলের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও তিনি দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলার। নিজের শেষ বিশ্বকাপ রাঙাতে নিশ্চয়ই কমতি রাখবেন না। তাড়না থাকবে অন্যদেরও। সাকিব আল হাসানের বিশ্বকাপ রেকর্ড খুব খারাপ নয়, তবে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে নিজের ছাপ সেভাবে রাখতে পারেননি এখনও। ওজন কমিয়ে, নিবিড়ভাবে অনুশীলন করে এই অলরাউন্ডার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে করতে চান বড় কিছু। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল¬াহকে নিয়েও বলা যায় একই কথা। গত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডেতে বিশ্ব ক্রিকেটেরই সবচেয়ে সফল ও ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একজন তামিম। নিজের ব্যাটসম্যানশিপকে এই সময়টায় নিয়ে গেছেন তিনি নতুন উচ্চতায়।

গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি জয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। সেই ধারা ধরে রেখেছেন পরেও। দলের প্রয়োজনের সময় বরাবরই চওড়া তার ব্যাট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসগুলোর বেশ কটিই এসেছে তার ব্যাট থেকে। মাহমুদউল¬াহ গত বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছিলেন দুটি সেঞ্চুরি করে। বিশ্বকাপের পর অবশ্য চার নম্বরে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে পরে নতুন ভূমিকায়ও মানিয়ে নিয়েছেন দারুণভাবে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সময়ের সেরা ফিনিশারদের একজন তিনি। বাংলাদেশের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারই বড় আসরে বড় কিছুর প্রস্তুতি নিয়েছেন দারুণভাবে। তারাই বিশ্বকাপে দলের স্বপ্নসারথী।

সিনিয়রদের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার নিজের দিনে গড়ে দিতে পারেন পার্থক্য। মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর নির্ভর করা যায় নিশ্চিন্তে। কোনো এক স্পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন রুবেল হোসেন। সাইফ উদ্দিন উন্নতির প্রমাণ দিচ্ছেন প্রতিনিয়মত। সঙ্গে অন্যরাও যদি নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করতে পারেন, লক্ষ্য পূরণ বা স্বপ্ন ছোঁয়া, অসম্ভব নয় বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পথচলার ধারা অবশ্য এবার আশা দেখাতে ভয় জাগায়। একবার ভালো, পরের বার খারাপ, এই ধারাবাহিকতা ছিল আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়ের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ বিশ্বকাপ ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠা, সেখানে সেই সময়ের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল দল। ২০১১ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে মেলেনি প্রত্যাশিত সাফল্য। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের ইতিহাস। এবার? গত কয়েক বছরে এই দল অনেক পূর্ব ধারণাই বদলে দিয়েছে। দেশের ক্রিকেটে এনে দিয়েছে দারুণ সব সাফল্য। বিশ্বকাপের মতো আসরে হতে পারে অনেক কিছুই। স্বপ্ন অনেক সময় ধরা দেয় সত্যি হয়ে, কখনও আবার গুঁড়িয়ে যায় নিমর্মভাবে। তবে দলটির সামর্থ্য, সাম্প্রতিক বছর গুলোয় অগ্রগতি সাহস দেখায় আকাশ ছুঁতে।

জুনায়েদের টুইটে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে থেকেও বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শেষ মুহূর্তে এসে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ খান। দল থেকে বাদ পড়ার পর টুইট করেন পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার। টুইট বার্তায় জুনায়েদ খান বলেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই না। সত্য কথা তেতো হয়।’ জুনায়েদ খানের করা টুইট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সমর্থকরা পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক মন্তব্য করছেন। শুধু জুনায়েদ খানই নন, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার আবিদ আলী ও ফাহিম আশরাফ। তাদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও আসিফ আলী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ব্যাটসম্যানরা দারুণ খেললেও একদমই সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তানের বোলাররা। বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা কাটাতেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আমির ও বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজকে যুক্ত করেছে পিসিবি। সোমবার দুপুরে বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে টুইট করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পেসার মোহাম্মদ আমির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আলহামদুল্লিহ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমি আমার শতভাগ দিয়ে দেশের মান রক্ষা করার চেষ্টা করব। আমাদের সব দর্শকদের ধন্যবাদ। আমাদের জন্য দোয়া করবেন বিশ্বকাপে যেন ভালো খেলতে পারি। ’ আগামী পরশু দিন তথা ২৩ মে পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে খেলোয়াড় পরিবর্তন আনার সুযোগ রেখেছে আইসিসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলে বড় পরিবর্তন আনলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চূড়ান্ত দল: সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফখর জামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, আসিফ আলি, শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, হারিস সোহেল, হাসান আলি, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ হাসনাইন।

 

আচরণ নিয়ে নেইমারের সঙ্গে বসবেন ব্রাজিল কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মাসে শুরু হতে হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার আগে ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমারের সঙ্গে তার আচরণগত সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন কোচ তিতে। এই মুহূর্তে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সমান তিনটি করে ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন পিএসজির তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। ফরাসি ফুটবলে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুই ম্যাচের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রেনের বিপক্ষে ফরাসি কাপের ফাইনালে সমর্থকের সঙ্গে বাজে আচরণ করে। আর এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসজির মধ্যে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বের ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় তাকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করে উয়েফা। এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ বছর বয়সী নেইমারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিতে। “ নেইমার একটা ভুল করল, যা ছিল তার দোষ। আমি এ ব্যাপারে নেইমারের সঙ্গে কথা বলব। আমি তার সঙ্গে শিক্ষা সম্পর্কে কথা বলব।” “আমি ব্রাজিলের কোচ হিসেবে নেইমারের সঙ্গে কথা বলব, একই সঙ্গে একজন মানুষ হিসেবেও; কথা হবে শিক্ষা ও আচরণরীতি নিয়ে।” “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হলো নেইমারের সঙ্গে একটা মত বিনিময় করা।… একজন খেলোয়াড়ের আচরণগত যে কোনো সমস্যাই শিক্ষা বিষয়ক হিসেবে বিবেচিত হবে।” বাংলাদেশ সময় আগামী ১৫ জুন সকালে কোপা আমেরিকায় বলিভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

 

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে আর্চার-ডসন-ভিন্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগে ঘোষিত বিশ্বকাপ দলে তিনটি পরিবর্তন এনেছে ইংল্যান্ড। আলোচনায় থাকা বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া গতিময় পেসার জফরা আর্চারকে দলে নিয়েছে ইসিবি। জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন ও ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্স। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত ইংল্যান্ডের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার কিছু দিন পরই মাদক গ্রহণের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় বাদ পড়েন অ্যালেক্স হেলস। জায়গা হারিয়েছেন ডেভিড উইলি ও জো ডেনলি। ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগে টানা বোলিং করার সামর্থ্য আছে আর্চারের। টি- টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে মূলত নজর কাড়েন তিনি। আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তবে কিছু কিছু স্পেলে দেখিয়েছেন সামর্থ্যরে ঝলক। গত মার্চে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন ২৪ বছর বয়সী আর্চার। মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেলার পর ডাক পেলেন বিশ্বকাপ দলে। পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডেনলি। তার জায়গায় ইসিবি বেছে নিয়েছে গত অক্টোবরে সবশেষ ওয়ানডে খেলা ডসনকে। বাঁহাতি স্পিনার দেশের হয়ে খেলেছেন মোটে তিনটি ওয়ানডে। হেলসের জায়গায় অনুমিতভাবেই দলে এসেছেন ভিন্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে উপহার দিয়েছিলেন দুটি ভালো উদ্বোধনী জুটি। আগামী ৩০ মে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত আইসিসিকে না জানিয়ে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনতে পারবে দলগুলো। এরপর থেকে পরিবর্তন আনতে নিতে হবে আইসিসির অনুমতি। বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দল: ওয়েন মর্গ্যান (অধিনায়ক), মইন আলি, জফরা আর্চার, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, টম কারান, লিয়াম ডসন, লিয়াম প¬ানকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, জেমস ভিন্স, ক্রিস ওকস, মার্ক উড।

মাশরাফিকে নিয়ে কুম্বলের অসাধারণ মন্তব্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাশরাফি বিন মুর্তজা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বদলে গেছে বাংলাদেশ। উত্তরোত্তর দলের উন্নতি হচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন টাইগাররা। আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে। লাল সবুজ জার্সিধারীদের ব্যাপারে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করতে যাওয়া অন্য দলগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তার এমন সতর্কবার্তার নেপথ্যে মাশরাফিই। একজন আদর্শ নেতার যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, সবই বিদ্যমান মাশরাফির মধ্যে। তিনি যেন যেন জিয়নকাঠি। তার স্পর্শে বদলে যান খেলোয়াড়রা। পাল্টে যায় তাদের শরীরী ভাষা। আর সেই কারণে ম্যাশের নেতৃত্বে ভিন্ন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি প্রতিনিয়তই দেখে আসছে ক্রিকেট বিশ্ব। সঙ্গত কারণে টাইগার দলপতির উচ্চকিত প্রশংসা করতে দ্বিধাবোধ করেন না ক্রিকেটের রথী মহারথীরা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন সাবেক ভারতীয় কিংবদন্তি কুম্বলেও। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল নিয়ে নিজের বিশে¬ষণ হাজির করেছেন তিনি। তা উপস্থাপন করতেই মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এ ক্রিকেটার। ক্রিকেটনেক্সটের সঙ্গে এক কথোপকথনে কুম্বলে বলেন, বাংলাদেশকে আপনি হালকাভাবে নিতে পারেন না। গেল কয়েক বছর ধরে দলটি দুর্দান্ত খেলছে। সাধারণত, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেগ পেতে হয় তাদের। এবারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে সেটিই ওদের চ্যালেঞ্জ। মাশরাফিকে একজন আদর্শ নেতার খেতাব দিয়ে তিনি বলেন, মাশরাফি মুর্তজা একজন খুব ভালো নেতা। সে দলকে একত্রিত করে রাখতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ও যখন দলকে নেতৃত্ব দেবে, তখন ভিন্ন বাংলাদেশ দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যত সাফল্য পেয়েছে অধিকাংশই মাশরাফির অধীনে। তার অসামান্য নেতৃত্বে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে টাইগাররা। সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে তারা। এবারের আসরে সেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চান মাশরাফি বাহিনী। এটিই হতে যাচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসের শেষ বিশ্বকাপ।

মুশফিক টপ ক্লাস ব্যাটসম্যান – আকাশ চোপড়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দুয়ারে কড়া নাড়ছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ-২০১৯। আসন্ন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশ দল নিয়ে চুলচেরা বিশে¬ষণ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার। তার মতে, টাইগারদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মুশফিকুর রহিম টপ ক্লাস ব্যাটসম্যান। ইউটিউবে নিয়মিত ক্রিকেট নিয়ে নিজস্ব বিশে¬ষণ উপস্থাপন করেন আকাশ। নিজ দেশ ভারত, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা অন্য দলগুলোকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে কথা বললেন জনপ্রিয় এ ধারাভাষ্যকার। তাতেই এ কথা বলেন তিনি। আকাশের মতে, বাংলাদেশ টপঅর্ডারের মূল ভরসা সাকিব-মুশফিক। তবে মাহমুদউল¬াহকে নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন তিনি। গেল বিশ্বকাপে মাহমুদউল¬াহর টানা দুই সেঞ্চুরির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় ও ধারাভাষ্যকার। এ ভারতীয় বলেন, সাকিব আর মুশফিকের জন্য বাংলাদেশের টপঅর্ডার বেশ ভারী। আরেকজনের কথা না বললেই নয়, মাহমুদউল¬াহ। তার কথা মনে আছে, আগের বিশ্বকাপে কী দারুণ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল। সাকিব তো রান করবেই, মুশফিক টপ ক্লাস ব্যাটসম্যান, সেও রান করবে। মাহমুদউল¬াহকে ব্যাটিং অর্ডারে একটু ওপরের দিকে ৫ বা ৬ নম্বরে ব্যাট করতে দেখাটা দারুণ হবে। আসলে পাঁচে হলে বেশি ভালো হবে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো তিন জাতি টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতল এশিয়ার নবপরাশক্তি। ইতিমধ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপের দেশ ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন টাইগাররা। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবেন তারা। স্বাভাবিকভাবেই সাফল্য পেতে সাকিব, মাহমুদউল¬াহ, মুশফিকের দিকে তাকিয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

পিচিচি ট্রফি জিতে সাররার রেকর্ড স্পর্শ মেসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসি টানা তৃতীয়বারের মতো পিচিচি ট্রফি জিতেছেন। এরই সঙ্গে লা লিগার শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কারটি জয়ের তালিকায় শীর্ষে থাকা সাবেক স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড তেলমো সাররাকে স্পর্শ করেছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। রোববার লিগের শেষ রাউন্ডে এইবারের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচে দলের দুটি গোলই করেন মেসি। এ নিয়ে আসরে ৩৪ ম্যাচ খেলে মোট ৩৬ গোল করলেন তিনি। সতীর্থদের দিয়েও ১৩টি গোল করিয়েছেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি করে গোল করেছেন তার সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ও রিয়াল মাদ্রিদের করিম বেনজেমা। ২০০৯-১০, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম তিনবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন মেসি। মেসির আগে টানা তিনবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন মেক্সিকোর স্ট্রাইকার হুগো সানচেস। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৯৮৫-৮৬, ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে মোট পাঁচবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড।

আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিল আয়ারল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রান করা কঠিন এমন উইকেটে পল স্টার্লিং ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পেল আয়ারল্যান্ড। ত্রিদেশীয় সিরিজে অনুজ্জ্বল থাকা বোলিং ইউনিট জ্বলে উঠল। প্রথম ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিল আইরিশরা। বেলফাস্টে বোলারদের দাপটের ম্যাচে ৭২ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে আয়ারল্যান্ড। ২১০ রান তাড়ায় ৩৫ ওভার ৪ বলে ১৩৮ রানে গুটিয়ে গেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে হয়ে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের জয়শূন্য থাকায় সবচেয়ে বড় দায় ছিল বোলারদের। আফগানিস্তান সিরিজের আগে বোলারদের এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছিলেন অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড। তাতে সাড়া দিয়েই যেন আফগানদের গুঁড়িয়ে দিলেন মার্ক অ্যাডায়ার, বয়েড র‌্যানকিনরা। স্টরমন্টের সিভিল সার্ভিস ক্রিকেট ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি আয়ারল্যান্ডের। জেমস ম্যাককলাম ও অ্যান্ডি বালবার্নিকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন দৌলত জাদরান। এরপরই নিজেদের সেরা জুটি পেয়ে যায় আইরিশরা। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে ৯৯ রানের জুটিতে দলকে টানেন স্টার্লিং। ৬ চারে ৫৩ রান করা পোর্টারফিল্ডকে বিদায় করে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার রশিদ খান। ৯৪ বলে ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৭১ রান করা স্টার্লিংকে খানিক পর থামান আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব। এরপর মিডল অর্ডারে একাই লড়াই করেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ৪৪ বলে ৩২ রানের ইনিংসে দলকে এনে দেন লড়াইয়ের পুঁজি। ১৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারানো স্বাগতিকরা খেলতে পারেনি পুরো ৫০ ওভার। দুই আফগান পেসার আফতাব আলম ও দৌলত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই আক্রমণাত্মক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও হজরতউল¬াহ জাজাইকে ডানা মেলতে দেননি আইরিশ বোলাররা। মন্থর ব্যাটিংয়ে ১৯ ওভারে ৪০ রান তুলতে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারায় সফরকারীরা। রানের গতিতে দম দেন মোহাম্মদ নবি। দুটি করে ছক্কা-চারে ২৫ বলে ২৭ রান করা অলরাউন্ডারকে ফিরিয়ে দেন ও’ব্রায়েন। এক প্রান্ত আগলে রাখা আসগর আফগানের প্রতিরোধ ভাঙেন র‌্যানকিন। পাল্টা আক্রমণে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ছিলেন নাইব, রশিদ। তাদের কারোর ইনিংসই বড় হয়নি। আফগানিস্তানও পারেনি বড় হার এড়াতে। অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ান আফগান ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিলেন যেন দুর্বোধ্য। ১০ ওভারে মাত্র ১৭ রান দেন এই অফ স্পিনার। ১৯ রানে চার উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সফলতম বোলার অ্যাডায়ার। র‌্যানকিন ৩ উইকেট নেন ৪০ রানে। আজ মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে হবে দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড: ৪৮.৫ ওভারে ২১০ (স্টার্লিং ৭১, ম্যাককলাম ৪, বালবার্নি ৪, পোর্টারফিল্ড ৫৩, ও’ব্রায়েন ৩২, উইলসন ১০, ড্করেল ১৪, অ্যাডায়ার ৭, ম্যাকব্রায়ান ৩, মারটাঘ ৩*, র‌্যানকিন ১; দৌলত ৩/৩৫, আফতাব ৩/২৮, মুজিব ০/৩৫, নাইব ১/৪৫, রশিদ ২/৪১, নবি ০/২১)। আফগানিস্তান: ৩৫.৪ ওভারে ১৩৮ (শাহজাদ ২, জাজাই ১৪, রহমত ৪, আফগান ২৯, শাহিদি ১২, নবি ২৭, নাইব ২০, রশিদ ১৬, দৌলত ০, আফতাব ৫*, মুজিব ০; মারটাঘ ২/১২, ম্যাকব্রায়ান ০/১৭, অ্যডায়ার ৪/১৯, ডকরেল ০/২৬, র‌্যানকিন ৩/৪০, ও’ব্রায়েন ১/২১)। ফল: আয়ারল্যান্ড ৭২ রানে জয়ী।

 

ওকসের ছোবলে পাকিস্তানকে হারাল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ফিফটি মাত্র দুটি। তবে প্রায় সব ব্যাটসম্যানই রান পাওয়ায় আরেকটি বড় সংগ্রহ গড়লো ইংল্যান্ড। বোলিংয়ে শুরুতেই পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিলেন ক্রিস ওকস। বাজে শুরুর পর সরফরাজ আহমেদ ও বাবর আজমের বীরত্বে লড়াই করলেও হারের বৃত্ত ভাঙতে পারেনি সফরকরীরা। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৪ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৩৫১ রান তাড়ায় ৪৬ ওভার ৫ বলে ২৯৭ রানে থমকে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর বাকি চার ম্যাচ জিতে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা। হেডিংলিতে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জনি বেয়ারস্টো ও জেমস ভিন্সের ব্যাটে ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড। তবে সম্ভাবনাময় ইনিংস বড় করতে পারেননি দুই ওপেনারের কেউই। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা ওয়েন মর্গ্যানের সঙ্গে শতরানের জুটিতে দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান জো রুট। ছন্দে থাকা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ৯ চারে করেন ৮৪ রান। বাঁহাতি মর্গ্যান ৬৪ বলে ফিরেন ৭৬ রান করে। মিডল অর্ডারে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি জস বাটলার, বেন স্টোকস। অলরাউন্ডারসহ এগারো নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান খেলানো ইংলিশরা সাড়ে তিনশ পর্যন্ত যায় লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায়। খরুচে বোলিংয়ে ৮২ রানে ৪ উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ইমাদ ওয়াসিম ৩ উইকেট নেন ৫৩ রানে। বড় রান তাড়ায় ওকসের ছোবলে শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় পাকিস্তান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ফখর জামান, মোহাম্মদ হাফিজ। ৫ রান করে ফিরেন আবিদ আলি। ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। ছন্দে থাকা বাবরের সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান সরফরাজ। দুই ব্যাটসম্যানই ফিরে যান রান আউট হয়ে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বাবর ৮৩ বলে করেন ৮০। মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি সরফরাজ। পাকিস্তান অধিনায়ক ৮০ বলে ৭ চার ও দুই ছক্কায় খেলেন ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। এরপর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান। আসিফ আলি, ইমাদ ওয়াসিমরা টানতে পারেননি দলকে। শতরানে হারের শঙ্কায় পড়ে যাওয়া সফরকারীরা ব্যবধান কমায় আফ্রিদি ও হাসনাইনের ব্যাটে। দশম উইকেটে তারা গড়েন ৪৭ রানের জুটি। শুরুতে ৩ উইকেট নেওয়া ওকস শেষে নেন দুটি। সব মিলিয়ে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এই অলরাউন্ডার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানে ঠাসা ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে স্থিতি দেওয়া রুট জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। সিরিজে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া চার ম্যাচেই তিনশ ছাড়ানো রান পেলো ইংল্যান্ড। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে মর্গ্যানের দল। অন্য দিকে ফল হওয়া সবশেষ ১০ ম্যাচে হারের তেতো স্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড: ৫০ ওভোরে ৩৫১/৯ (ভিন্স ৩৩, বেয়ারস্টো ৩২, রুট ৮৪, মর্গ্যান ৭৬, বাটলার ৩৪, স্টোকস ২১, মইন ০, ওকস ১৩, উইলি ১৪, কারান ২৯*, রশিদ ২*; হাসান ১/৭০, আফ্রিদি ৪/৮২, হাসনাইন ১/৬৭, ওয়াসিম ৩/৫৩, ফখর ০/২৩, মালিক ০/২৯, হাফিজ ০/২৫)। পাকিস্তান: ৪৬.৫ ওভারে ২৯৭ (জামান ০, আবিদ ৫, বাবর ৮০, হাফিজ ০, সরফরাজ ৯৭, মালিক ৪, আসিফ ২২, ওয়াসিম ২৫, হাসান ১১, আফ্রিদি ১৯*, হাসনাইন ২৮; ওকস ৫/৫৪, উইলি ১/৫৫, কারান ০/৪০, স্টোকস ০/২৮, মইন ০/৬৩, রশিদ ২/৫৪)। ফল: ইংল্যান্ড ৫৪ রানে জয়ী

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রিস ওকস। ম্যান অব দা সিরিজ: জো রুট।

 

স্টার্লিংয়ের হ্যাটট্রিকে ‘ট্রেবল’ জিতল ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিগ কাপ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পর এফএ কাপের শিরোপাও ঘরে তুললো ম্যানচেস্টার সিটি। সেই সঙ্গে প্রথম ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের তিনটি প্রতিযোগিতারই  চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ল পেপ গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফাইনালে রাহিম স্টার্লিংয়ের হ্যাটট্রিকে ওয়াটফোর্ডকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় সিটি। ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতায় এটা তাদের ষষ্ঠ শিরোপা। এর আগে সবশেষ ২০১০-১১ মৌসুমে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। চ্যাম্পিয়নদের অপর তিন গোলদাতা হলেন দাভিদ সিলভা, কেভিন ডি ব্র“ইনে ও গাব্রিয়েল জেসুস। ম্যাচের ২৬তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় সিটি। রাহিম স্টার্লিংয়ের হেডে বাড়ানো বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দাভিদ সিলভা। বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ভিতরে ঢোকে। সিটির হয়ে এ বছরে সিলভার এটি প্রথম গোল। ক্লাবের হয়ে ২৭ ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন তিনি। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বরে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে শেষ গোল করেছিলেন সিলভা। ৩৮তম মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বের্নার্দো সিলভার দারুণ পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে টোকা দেন জেসুস। বল লক্ষ্যেই ছিল, শেষ মুহূর্তে গোল লাইনের উপর থেকে ডান পায়ের শটে স্কোরলাইনে নাম লেখান ইংলিশ মিডফিল্ডার স্টার্লিং। ৬১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কেভিন ডি ব্র“ইনে ব্যবধান বাড়ালে ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় সিটি। জেসুসের পাস পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোলটি করেন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডার। সাত মিনিট পর আরেকটি পাল্টা আক্রমণে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন জেসুস। মাঝমাঠের কাছ থেকে ডি-ব্র“ইনের বাড়ানো বল ধরে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পে¬সিং শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে আরও দুবার জালে বল পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন স্টার্লিং। বাঁ দিক থেকে বের্নার্দো সিলভার দূরের পোস্টে বাড়ানো বল পে¬সিং শটে জালে জড়ান স্টার্লিং। ৮৭তম মিনিটে তার প্রথম শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ছুটে গিয়ে লক্ষ্যে পাঠান মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত খেলা স্টার্লিং। গত ২৪ ফেব্র“য়ারি এই মাঠেই চেলসিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে লিগ কাপ জিতে ইতিহাস গড়ার পথে চলা শুরু সিটির। আর গত রোববার শেষ দিনে গড়ানো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনের মাঠে ৪-১ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। এবার ওয়াটফোর্ডকে হারিয়ে অনন্য কীর্তি গড়ল ম্যানচেস্টারের দলটি।

এমবাপের জোড়া গোলে পিএসজির বড় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। জালের দেখা পেলেন এদিনসন কাভানি ও আনহেল দি মারিয়া। তিন তারকার নৈপুণ্যে লিগ ওয়ানে দিজোঁকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পিএসজি। ঘরের মাঠে শনিবার রাতে ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। মার্চে লিগের প্রথম পর্বের দেখায়ও দলটিকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল টমাস টুখেলের দল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণেই গোল আদায় করে নেয় পিএসজি। ইউলিয়ান ড্রাক্সলারের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে দারুণ বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান দি মারিয়া। পরের মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলেও অবদান রয়েছে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের। একজনকে কাটিয়ে তার দূরের পোস্টে বাড়ানো ক্রসে হেডে জাল খুঁজে নেন কাভানি। আসরে এটি  উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের ১৮তম গোল। ২৫তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো; তবে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার তমা মুনিয়ের হেড পোস্টে বাধা পায়। ৩৬তম মিনিটে কাছ থেকে টোকা দিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এমবাপে। মাঝমাঠ থেকে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বাড়ানো পাস পেয়ে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে বল জালে জড়ান দারুণ ফর্মে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড। আসরে ফরাসি এই ফুটবলারের এটি সর্বোচ্চ ৩২তম গোল। ৩৭ ম্যাচে ২৯ জয় ও চার ড্রয়ে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা পিএসজির পয়েন্ট হলো ৯১। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের পয়েন্ট হলো ৭৫।

বিশাল জয়ে বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের শুরুর দিকে বারবার হোঁচট খেয়ে পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন মিউনিখ শেষটা করল দুর্দান্ত। শেষ দিনে গড়ানো শিরোপা লড়াইয়ে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে বুন্ডেসলিগার মুকুট ধরে রেখেছে প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ রাউন্ডে ৫-১ গোলে জিতেছে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে একবার করে বল জালে পাঠান কিংসলে কোমান, ডাভিদ আলাবা, রেনাতো সানচেস, ফ্রাঙ্ক রিবেরি ও আরিয়েন রবেন। একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে বরুসিয়া মনশেনগ¬াডবাখকে ২-০ গোলে হারানো বরুসিয়া ডর্টমুন্ড হয়েছে রানার্সআপ। ডিসেম্বরে ডর্টমুন্ড ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেলে অনেকে শিরোপা লড়াই একরকম শেষ বলেই ধরে নিয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষের পথ হারানোর সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় বায়ার্ন। আর এপ্রিলে বরুসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে শীর্ষে উঠে আসে নিকো কোভাচের দল। গত সপ্তাহে লাইপজিগের মাঠে জিতলেই শিরোপা ঘরে রাখা নিশ্চিত হয়ে যেত বায়ার্নের; কিন্তু গোলশূন্য ড্র করে বসে তারা। সেই সঙ্গে বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে প্রায় এক যুগ পর শেষ দিনে গড়ায় শিরোপা লড়াই। সেখানে জিতে রেকর্ড টানা সপ্তমবার চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। শিরোপার হাতছানিতে মাঠে নামা বায়ার্ন চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায়। টমাস মুলারের পাস ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি মিডফিল্ডার কোমান। পরের ১০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সফল হননি সের্গে জিনাব্রি ও রবের্ত লেভানদফস্কি। দুবারই দারুন ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপ। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড সেবাস্তিয়াঁ আলেয়ার কাছ থেকে করা গোরে সমতায় ফেরে অতিথিরা। তাদের সে স্বস্তি অবশ্য স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরেই আলাবার গোলে আবারও এগিয়ে যায় বায়ার্ন। মুলারের জোরালো শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল ফাঁকায় পেয়ে জালে ঠেলে দেন অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার আলাবা। আর ৫৮তম মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সানচেস। ৭২তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরির দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বায়ার্নের। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দুজনের মধ্যে দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে গিয়ে বল জালে পাঠান ১০ মিনিট আগে বদলি নামা ফরাসি এই উইঙ্গার। রিবেরির মতো মৌসুম শেষে বায়ার্ন ছাড়তে যাওয়া আরেক ফরোয়ার্ড রবেন ৭৮তম মিনিটে গোল উৎসবে যোগ দেন। আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আলাবার বাড়ানো বল ধরে ফাঁকা জালে জড়ান ডাচ ফুটবলার রবেন। জার্মানির শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে রেকর্ড ২৯টি শিরোপা জিতল বায়ার্ন। ৩৪ ম্যাচে ২৪ জয় ও ছয় ড্রয়ে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করল তারা। সামনে সুযোগ এবার ঘরোয়া ডাবল জয়ের। আগামী শনিবার জার্মান কাপে লাইপজিগের মুখোমুখি হবে এই প্রতিযোগিতারও রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। ২৩ জয় ও সাত ড্রয়ে রানার্সআপ হওয়া ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ৭৬। ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে লাইপজিগ তৃতীয় ও ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছে লেভারকুজেন। বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ষষ্ঠ ও ভলফসবুর্ক সপ্তম হয়ে ইউরোপা লিগের গ্র“প পর্বের টিকেট পেয়েছে।

 

ইউভেন্তুসের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ দেখছেন বিদায়ী আল্লেগ্রি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এরই মধ্যে মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি ঘোষণা দিয়েছেন মৌসুম শেষে চুকিয়ে দেবেন ইউভেন্তুসের পাট। তবে নিজে বিদায় নিলেও তুরিনের দলটির ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ দেখছেন ৫১ বছর বয়সী এই কোচ। সেরি আর আরেক বড় দল এসি মিলান ছেড়ে ২০১৪ সালে ইউভেন্তুসের দায়িত্ব নেন আল্লেগ্রি। ইতালিয়ান এই কোচের হাত ধরে গত পাঁচ মৌসুমেই লিগ শিরোপা জিতে দলটি। সেরি আ ও কোপা ইতালিয়া মিলিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য করলেও ইউভেন্তুসকে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য এনে দিতে পারেননি আল্লেগ্রি। দুটি ফাইনালে হারে তার দল – ২০১৫ সালে বার্সেলোনার কাছে এবং ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। এমনকি সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যোগ দিলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভাগ্য বদলায়নি ইউভেন্তুসের। এবারের প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়তে হয় নেদারল্যান্ডসের দল আয়াক্সের কাছে হেরে। আল্লেগ্রির বিশ্বাস আগামীতে সাফল্য মিলবে ইউভেন্তুসের। “আমি একটা জয়ী দল রেখে যাচ্ছি, যে দলটার সম্ভাবনা আছে ইতালিতে সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরেকটি দারুণ অভিযান শুরু করার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার সময়ে আমরা পুরো পথটা যেতে পারিনি।” “ইউভেন্তুসের সবচেয়ে ভালো কি হবে এবং ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। নিজেদের ভাবনাগুলো প্রকাশ করেছি। এরপর ক্লাব বিষয়টি মূল্যায়ন করেছে এবং এটাই সেরা সিদ্ধান্ত ছিল যে, আগামী মৌসুমে আমি আর ইউভেন্তুসের কোচ থাকব না।” “দুর্দান্ত খেলোয়াড় নিয়ে গড়া জমাট একটা দল আমি রেখে যাচ্ছি। যারা কৌশলগতভাবে এবং মানুষ হিসেবেও ভালো। কেননা, জিততে হলে আপনার ভালো ফুটবলারের সঙ্গে ভালো মানুষও প্রয়োজন।” আল্লেগ্রির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি জানালেন তড়িৎ কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। “হয়তো আমারও একটু বিশ্রাম দরকার। সম্ভবত ১৫ জুলাইয়ের পর অবধারিতভাবে কাজে ফেরার তাগাদা অনুভব করব এবং যে প্রস্তাবগুলো পেয়েছি সেগুলো পর্যালোচনা করব।”

আগামী মৌসুমে দলে পরিবর্তন নিশ্চিত করলেন গুয়ার্দিওলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চলতি মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার তিনটি শিরোপাই জয়ের হাতছানি রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। তবে আগামী মৌসুমে আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে বলে খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন দলটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। দল-বদলে নতুন খেলোয়াড় কেনার পাশাপাশি লেরয় সানে, ইলকাই গিনদোয়ান ও অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানিকে ধরে রাখতে চান বলে জানিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় ওয়েম্বলিতে এফএ কাপের ফাইনালে ওয়াটফোর্ডের মুখোমুখি হবে সিটি। ২০১০-১১ মৌসুমে সবশেষ এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলটি এর আগেই ঘরে তুলেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ লিগ কাপের শিরোপা। সাফল্য ধরে রাখতে শিষ্যদের সতর্ক করেছেন গুয়ার্দিওলা। “মানুষ এটাকে কত সুন্দর বলে, কিন্তু আমাদের বার বার জিততে হবে। আর খেলোয়াড়দের এটা বুঝতে হবে।” “মৌসুমটা দারুণ ছিল। কিন্তু আগামী মৌসুমের প্রথম দিন আমরা শূন্য থেকেই শুরু করব।” নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় কিছু খেলোয়াড় দল ছাড়তে চান বলে জানান গুয়ার্দিওলা। “পরের মৌসুমের জন্য আমাদের কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। হ্যাঁ, কারণ কয়েকজন দল ছাড়তে চায়, খেলোয়াড়রা খেলতে চায়।” “একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা খেলতে না পারাটা মেনে নেয়। কিন্তু যখন সময়টা লম্বা হয়, তখন এটা স্বাভাবিক যে তারা আরও বেশি খেলতে চাইবে। আমি কাউকে সেটার নিশ্চয়তা দিতে পারি না।” গুঞ্জন আছে এ বছরের দল-বদলে জার্মান ফরোয়ার্ড লেরয় সানে যোগ দিতে পারেন বায়ার্ন মিউনিখে। ইলকাই গিনদোয়ানের চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাকি আছে। চলতি মৌসুম শেষেই চুক্তির মেয়াদ শেষ কোম্পানির। তবে তাদের ধরে রাখতে আশাবাদী গুয়ার্দিওলা। “লেরয়, আমরা গত দেড় বছর ধরে তার সঙ্গে নতুন চুক্তির চেষ্টা করছি। আমরা তাকে চাই। গিনদোয়ানের ব্যাপারও একই।” “আমরা এই ম্যাচের (এফএ কাপের ফাইনাল) পর কথা বলব। ভিনসেন্ট আবারও দেখিয়েছে যে ফিট থাকলে সে কী করতে পারে।”

 

৩ বছরেরও বেশি সময় পর স্পেন দলে কাসোরলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো স্পেন দলে জায়গা পেয়েছেন ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার সান্তি কাসোরলা। আগামী মাসে হতে যাওয়া ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণা করেছে দেশটি। দুই বছরের মধ্যে কাসোরলার হাঁটু, পায়ের ও গোড়ালি গাঁটে অস্ত্রোপচার করা হয়। বারবার চোটে পড়ায় টানা ৬৬৮ দিন বাইরে থাকার পর গত বছর ভিয়ারিয়ালের হয়ে এক প্রীতি ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেন আর্সেনালের সাবেক এই ফুটবলার। স্পেনের হয়ে ৭৭ ম্যাচে ১৪টি গোল করা ৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার  ২০১৫ সালের নভেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ফ্রি ট্রান্সফারে আর্সেনাল থেকে ভিয়ারিয়ালে যোগ দেওয়া কাসোরলা চলতি মৌসুমে স্প্যানিশ দলটিকে লা লিগায় অবনমনের হাত থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। চারটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করান ১০টি। এখন পর্যন্ত হওয়া ভিয়ারিয়ালের ৩৭টি ম্যাচের মধ্যে ৩৪টিতেই খেলেছেন তিনি। ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বে আগামী ৭ জুন ফারো আইল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্পেন। আর ১০ জুন মাদ্রিদে সুইডেনের মুখোমুখি হবে লুইস এনরিকের দল। স্পেন দল: গোলরক্ষক: দাভিদ দে হেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), কেপা আরিসাবালাগা (চেলসি), পাউ লোপেস (রিয়াল বেতিস)। ডিফেন্ডার: দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ), সের্হিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), দিয়েগো লরেন্তে (রিয়াল সোসিয়েদাদ), ইনিহো মার্তিনেস (আথলেতিক বিলবাও), সের্হি রবের্তো (বার্সেলোনা), জর্দি আলবা (বার্সেলোনা), হোসে গায়া (ভালেন্সিয়া), হেসুস নাভাস (সেভিয়া), মারিও এরমোসো (এস্পানিওল)। মিডফিল্ডার: সের্হিও বুসকেতস (বার্সেলোনা), রদ্রিগো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ইসকো (রিয়াল মাদ্রিদ), দানি পারেহো (ভালেন্সিয়া), ফাবিয়ান রুইস (নাপোলি), সান্তি কাসোরলা (ভিয়ারিয়াল)। ফরোয়ার্ড: মার্কো আসেনসিও (রিয়াল মাদ্রিদ), ইয়াগো আসপাস ( সেল্তা ভিগো), রদ্রিগো মোরেনো (ভালেন্সিয়া), আলভারো মোরাতা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মিকেল ওইয়ারসাবাল (রিয়াল সোসিয়েদাদ)।

কোপা আমেরিকার ব্রাজিল দলে ফিরলেন নেইমার, নেই মার্সেলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পায়ের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ সময় পর মাঠে ফেরা নেইমারকে নিয়ে কোপা আমেরিকার জন্য দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। তবে জায়গা হয়নি তরুণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিউস জুনিয়র ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্সেলোর। দেশের মাটিতে আগামী মাসে শুরু হতে হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার জন্য শুক্রবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেন কোচ তিতে। গত জানুয়ারিতে পায়ে চোট পাওয়া নেইমার এপ্রিলে মোনাকোর বিপক্ষে লিগ ওয়ানের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরেন। এই চোটের কারণে মার্চে পানামা ও চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ম্যাচেও ব্রাজিল দলে ছিলেন না পিএসজি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে নিজেকে খুঁজে ফেরা রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার মার্সেলো ওই দুই ম্যাচের দলেও ছিল না। ১৪ জুন শুরু হবে কোপা আমেরিকার এবারের আসর। আগামী বুধবার থেকে অনুশীলন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ব্রাজিলের সঙ্গে ‘এ’ গ্র“পে আছে ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া ও পেরু। প্রতিযোগিতাটির আট বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শেষ বার ট্রফিটি জিতেছিল ২০০৭ সালে। বাংলাদেশ সময় আগামী ১৫ জুন সকালে বলিভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিল দল: গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ম্যানচেস্টার সিটি), কাসিও (করিন্থিয়ান্স)। ডিফেন্ডার: আলেক্স সান্দ্রো (ইউভেন্তুস), দানি আলভেস (পিএসজি), ফাগনার (করিন্থিয়ান্স), এদের মিলিতাও (পোর্তো), ফিলিপে লুইস (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), মিরান্দা (পোর্তো), চিয়াগো সিলভা (পিএসজি)। মিডফিল্ডার: আলান (নাপোলি), আর্থার (বার্সেলোনা), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), লুকাস পাকুয়েতা (এসি মিলান), ফের্নান্দিনিয়ো (ম্যানচেস্টার সিটি)। ফরোয়ার্ড: এভেরতন (গ্রেমিও), রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল), গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), রিশার্লিসন (এভারটন), ফিলিপে কৌতিনিয়ো (বার্সেলোনা), নেইমার (পিএসজি), দাভিদ নেরেস (আয়াক্স)।

 

 

আমাদের মাত্র যাত্রা শুরু হলো – মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পুরো দাপটের সাথেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে পাত্তা না দিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে যা করলো টাইগাররা, তাতে প্রশংসার দাবীদার মাশরাফি বাহিনী। লিগ পর্বে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর, ফাইনালেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তাই প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করলো বাংলাদেশ। তাই এই জয়কে ‘মাত্র শুরু’ বলে অ্যাখায়িত করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুক্রবার রাতে ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের মাত্র যাত্রা শুরু হলো এবং আশা করি ভবিষ্যতে এটি ধরে রাখতে পারবো আমরা।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে ও টি-২০ মিলিয়ে গতকালের আগে মোট ৬টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছিলো বাংলাদেশ। শিরোপার দোড় গোড়ায় পৌঁছেও হতাশাকেই সঙ্গী করতে হয়েছে তাদের। অবশেষে সপ্তম ফাইনালে এসে শিরোপা খড়া ঘুচলো বাংলাদেশের। প্রথমবারের মত জিতলো কোন ট্রফি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ছয়বার ব্যর্থ হবার পর অবশেষে জয়ের তৃপ্তিতে উচ্ছসিত বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বলেন, ‘আমরা আগের ছয়বার ফাইনাল খেলেও পারিনি। অবশেষে সপ্তম বারে এসে শিরোপা জিততে পারলাম। অবশ্যই দারুন অনুভূতি, খুবই ভালো লাগছে। দলের সবাই অনেক খুশি।’ বৃষ্টির কারণে ২৪ ওভারে নামিয়ে আনা ম্যাচে ১ উইকেটে ১৫২ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে বৃষ্টি আইনে ম্যাচ জয়ের জন্য ২১০ রানের বড় টার্গেট পায় বাংলাদেশ। জবাবে ওপেনার সৌম্য সরকারের ৪১ বলে ৬৬ ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেনের ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের সুবাদে ২২ দশমিক ৫ ওভারে ২১৩ রান তুলে ফাইনাল ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা। সৌম্য ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা ও মোসাদ্দেক ২টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন। মাত্র ২০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন মোসাদ্দেক। এই জয়কে দলীয় পারফরমেন্সের ফসল হিসেবে দেখছেন মাশরাফি। তাই দলের প্রশংসা করতে ভুল করেননি তিনি, ‘এ জয়টা পুরোপুরি টিমওয়ার্ক। শুরুতে দারুণ জুটি গড়েছিল তামিম-সৌম্য। যেভাবে মারমুখী ব্যাটিং দরকার ছিল তেমনই করলো সৌম্য। মাঝে মুশফিক রানের চাকা সচল রেখেছে। আর শেষ দিকে মোসাদ্দেক এবং মাহমুদুল্লাহর দুর্দান্ত ফিনিশিং। এ ম্যাচে দারুন পারফরমেন্স ছিলো দলের।’ ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্য নিয়ে এবার দ্বাদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মিশন বাংলাদেশের সামনে। এই শিরোপা আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো খেলতে অনুপ্রেরণা দিবে বলে জানান মাশরাফি, ‘বিশ্বকাপ আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই জয় আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো পারফরমেন্স করতে অনুপ্রেরণা দেবে আমাদের। বড় টার্গেট তাড়া করে ম্যাচ জয়ের জন্য আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’

ইউভেন্তুস ছাড়তে পারেন দিবালা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এ বছরের গ্রীষ্মকালীন দল-বদলে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা ইউভেন্তুস ছাড়তে পারেন বলে দাবি করেছেন তার ভাই গুস্তাভো দিবালা। গত মাসে টানা অষ্টম সেরি আ শিরোপা ঘরে তুলেছে ইউভেন্তুস। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন চলতি মৌসুমেও পূরণ হয়নি। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় শেষ আটে আয়াক্সের কাছে হেরে ছিটকে যায় মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির দল। পুরো মৌসুমে ছন্দ খুঁজে ফিরেছেন দিবালা। নিয়মিত শুরুর একাদশে জায়গা পাননি। সেরি আয় এ পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ খেলে মোটে পাঁচ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের ছয়টি গোলে অবদান রেখেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ইতালিয়ান ক্লাবটিতে পাওলো দিবালা ভালো নেই বলে মন্তব্য করেন গুস্তাভো। “হ্যাঁ, তার ইউভেন্তুস ছাড়ার ভালো সম্ভাবনা আছে।  তার একটা পরিবর্তন দরকার।” “সে কোথায় যাবে তা আমি বলতে পারছি না। কিন্তু পাওলোর দল ছাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্যই এখানে সে সুখে নেই। শুধু পাওলো একা নয়, অনেক খেলোয়াড়ই ইউভেন্তুসে অস্বস্তিতে আছে। এই গ্রীষ্মে সে একাই দল ছাড়বে না।”