প্রতিপক্ষের এমন ভালোবাসা আগে পাননি মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনার ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন অসংখ্যবার। কিন্তু প্রতিপক্ষ সমর্থকরা কখনও তাকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে এমন স্মৃতি মনে করতে পারছেন না লিওনেল মেসি নিজেই। লা লিগায় রিয়াল বেতিসের মাঠে এমন সম্মান পেয়ে আপ্লুত বার্সেলোনা অধিনায়ক।

রোববার ম্যাচটি ৪-১ গোলে জেতে বার্সেলোনা। অষ্টাদশ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা। চলতি আসরে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে এটি তার চতুর্থ গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল করার পর ৮৫তম মিনিটে দারুণ এক চিপে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিকের পর উঠে দাঁড়িয়ে তুমুল হর্ষধ্বনিতে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের প্রতি নিজেদের সম্মান জানায় বেতিস সমর্থকরা। ম্যাচের পর তাদের ধন্যবাদ দেন ৩১ বছর বয়সী মেসি। “সত্যি বলতে, একটা গোলের জন্য কখনও প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমাকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে, এমনটা আমার মনে পড়ে না। রিয়াল বেতিসের সমর্থকদের আচরণের প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ।” “যখনই এই স্টেডিয়ামে আসি, আমরা খুব ভালো অভ্যর্থনা পাই। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ জিততে পেরে আমি খুব সন্তুষ্ট ও খুশি।” ২৯ গোল নিয়ে চলতি লিগে গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে আছেন দারুণ ছন্দে থাকা মেসি। আর সব প্রতিযোগিতা মিলে মৌসুমে এ পর্যন্ত করেছেন ৩৯ গোল।

মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে বার্সার প্রতিশোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দুই দলের আগের দেখায় জোড়া গোল করেও বার্সেলোনার হার এড়াতে পারেননি লিওনেল মেসি। দারুণ ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ড এবার করলেন হ্যাটট্রিক। তার একটি গোলে অবদান রাখা লুইস সুয়ারেস নিজেও করলেন এক গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে রিয়াল বেতিসকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি। লা লিগার ম্যাচে রোববার রাতে ৪-১ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা।

গত নভেম্বরে দুই দলের সবশেষ দেখায় কাম্প নউয়ে ৩-৪ গোলে বেতিসের কাছে হেরেছিল বার্সেলোনা। মধুর প্রতিশোধ নিল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। জয় তুলে নিল প্রতিপক্ষের মাঠে। বেতিসের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বার্সেলোনার বিপক্ষে সমানে সমানে লড়াই করে পয়েন্ট তালিকার আট নম্বরে থাকা দলটি। তবে ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা ভুগিয়েছে বেতিসকে। খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারা বার্সেলোনাকে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন মেসি। অষ্টাদশ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে বল জালে পাঠান বার্সেলোনা অধিনায়ক। চলতি আসরে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে এটি তার চতুর্থ গোল। ৪১তম মিনিটে মেসির স্কয়ার পাসে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন সুয়ারেস। মাত্র আট গজ দূর থেকে অরক্ষিত উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে দলকে হতাশ করেন। যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি। সতীর্থের দিকে না তাকিয়েও দারুণ এক ব্যাকহিলে তাকে খুঁজে নেন সুয়ারেস। ছুটে গিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চলতি আসরে এটি সুয়ারেসের দশম অ্যাসিস্ট। ৬০তম মিনিটে তা একাদশ হয়ে যেতে পারতো। তার দারুণ ক্রসে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে কেবল একটা টোকা দরকার ছিল জর্দি আলবার। তিনি বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। পরের মিনিটে সুয়ারেসের কোনাকুনি শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। ৬৩তম মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি এই স্ট্রাইকারকে। মাঝমাঠে বল পেয়ে দারুণ গতিতে এগোনোর পথে বেতিসের দুই খেলোয়াড়কে ফাঁকি দেন সুয়ারেস। আরেক খেলোয়াড়ের স্লাইড এড়িয়ে ডান পায়ের শটে পোস্ট ঘেঁষে জাল খুঁজে নেন তিনি। লা লিগায় উরুগুয়ের ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮ গোল করা দিয়েগো ফোরলানের পাশে বসলেন সুয়ারেস। চলতি আসরে এটি তার ২১তম গোল। ৮২তম মিনিটে লোরেন মোরনের গোলে ব্যবধান কমায় বেতিস। ডি-বক্সে আলবা পা পিছলে পড়ে গেলে বল পেয়ে যান দিয়েগো লাইনেস। তিন ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে বল দেন অরক্ষিত মোরনকে। দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৮৫তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। ইভান রাকিতিচের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ এক চিপে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জার খুঁজে নেন তিনি। চলতি আসরে তার এটি ২৯তম ও সব মিলিয়ে মৌসুমে ৩৯তম গোল। যোগ করা সময়ে হতে পারতো আরেকটি; তবে পোস্টের বাধায় চতুর্থ গোল পাননি মেসি। স্পেনের শীর্ষ লিগে মেসির এটা ৩৩তম আর ক্যারিয়ারে ৫১তম হ্যাটট্রিক। ২৮ ম্যাচে ২০ জয় আর দুই ড্রয়ে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে বার্সেলোনা। শনিবার আথলেতিক বিলবাওয়ের মাঠে ২-০ গোলে হারা আতলেতিকো মাদ্রিদ ১০ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। শনিবারের আরেক ম্যাচে সেল্তা দে ভিগোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা রিয়াল মাদ্রিদ ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে।

আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ছোট পুঁজি নিয়ে লড়াইও করতে পারল না আয়ারল্যান্ড। রহমত শাহ ও ইহসানউল্লাহর ফিফটিতে চতুর্থ দিন প্রথম সেশনে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান। টেস্টে তুলে নিল নিজেদের প্রথম জয়। দেরাদুনে টেস্টে ক্রিকেটের নবীন দুই দেশের লড়াইয়ে ৭ উইকেটে জিতেছে আফগানরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলা আয়ারল্যান্ড হারাল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে। অন্য দিকে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে উড়ে যাওয়া আফগানিস্তান ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে তুলে নিল নিজেদের প্রথম জয়। দেরাদুনের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার ১ উইকেটে ২৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ১১৮ রান। রহমতের সঙ্গে শতরানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন ইহসানউল্লাহ। নিজেদের জোনে বল পেলে তুলে নিয়েছেন বাউন্ডারি। এক-দুই নিয়ে সচল রেখেছেন রানের চাকা। দ্ইু ব্যাটসম্যান চেপে ধরতে দেননি আইরিশ বোলারদের। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়ার চেষ্টায় জেমস ক্যামেরন-ডাউয়ের বলে রহমত স্টাম্পড হয়ে গেলে ভাঙে ১৩৯ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়া এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এবার ১২২ বলে ১৩ চারে করেন ৭৬ রান। রান আউট হয়ে ফিরে যান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে আফগানিস্তানকে ইতিহাস গড়া জয় এনে দেন হাশমতউল্লাহ শাহিদি।  দলের জয়কে সঙ্গে নিয়ে ফেরা ইহসানউল্লাহ করেন ৬৫ রান। টেস্ট অভিষেকে ফিফটি পাওয়া এই ওপেনারের ১২৯ বলের দায়িত্বশীল ইনিংস গড়া আট চার ও দুই ছক্কায়। দুই ইনিংসেই ফিফটি করা রহমত জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৭২, আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৩১৪, আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২৮৮, আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৪৭) (আগের দিন শেষে ২৯/১) ৪৭.৫ ওভারে ১৪৯/৩ (ইহসানউল্লাহ ৬৫*, রহমত ৭৬, নবি ১, শাহিদি ৪*; ডকরেল ০/৫৮, ম্যাকব্রায়ান ১/৩৫, ক্যামেরন-ডাউ ১/২৪, মারটাঘ ০/১৫, টম্পসন ০/৯, বালবার্নি ০/৮)। ফল: আফগানিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী।ম্যান অব দা ম্যাচ: রহমত শাহ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় হোয়াইটওয়াশড শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় লড়াই করার মতো একটা রান পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে ফ্লাড লাইটের বিভ্রাট তাদের সেই সুযোগ দিল না। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় আগেভাগেই শেষ হয়ে গেল ম্যাচ। এইডেন মারক্রামের দাপুটে ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৪১ রানে জিতেছে ফাফ দু প্লেসির দল। ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮ ওভারে ২ উইকেটে ১৩৫ রান করলে ফ্লাড লাইট বিভ্রাটে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষার পরও আলো স্বাভাবিক না হওয়ায় ম্যাচের ইতি টানেন দুই আম্পায়ার। সে সময় ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ছিল ৯৫ রান। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে শনিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় শ্রীলঙ্কা। ওশাদা ফার্নান্দোর সঙ্গে ৪৯ ও অ্যাঞ্জেলো পেরেরার সঙ্গে ৬২ রানের জুটিতে দলকে ৩ উইকেটে ১২৫ রানের ভালো অবস্থানে নিয়ে যান কুসল পেরেরা। সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো রান আউট হয়ে থামেন মেন্ডিস। ৮৪ বলে খেলা তার ৫৬ রানের ইনিংস গড়া তিন চারে। প্রায় তিন বছর পর খেলতে নামা অ্যাঞ্জেলোকে বিদায় করেন দেশের মাটিতে নিজের সবশেষ ওয়ানডে খেলা ইমরান তাহির। এক সময়ে ১৬১ রানে ৭ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার জন্য দুইশ রানই ছিল দূরের পথ। অষ্টম উইকেটে প্রিয়ামল পেরেরার সঙ্গে ৬১ রানের জুটিতে দলকে সোয়া দুইশ রানে নিয়ে যান ইসুরু উদানা। আগের ম্যাচে ফিফটি করা এই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান ২৯ বলে করেন ৩২ রান। প্রিয়ামল দুই চারে করেন ৩৩। দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা ৩ উইকেট নেন ৫০ রানে। দুটি করে উইকেট নেন তাহির ও আনরিক নরকিয়া। দেশের মাটিতে নিজের সবশেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সুযোগ মেলেনি জেপি দুমিনির। ৩ ওভার বোলিং করে ১৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন তিনি। ছোট রান তাড়ায় শুরুতেই কুইন্টন ডি কককে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দু প্লেসির সঙ্গে ৭০ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন এইডেন মারক্রাম। অধিনায়কের বিদায়ের পর রাসি ফন ডার ডাসেনের সঙ্গে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান গড়েন ৫৭ রানের আরেকটি ভালো জুটি। এই জুটিকে থামায় ফ্লাড লাইট বিভ্রাট। তবে জয় হাতছাড়া হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় ৫-০ ব্যবধানে। ৭৫ বলে ৭ চারে ৬৭ রানের দারুণ ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মারক্রাম। এক সেঞ্চুরি ও তিনটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের জন্য সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন কিপার-ব্যাটসম্যান ডি কক। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ৪৯.৩ ওভারে ২২৫ (আভিশকা ৯, থারাঙ্গা ২, ওশাদা ২২, মেন্ডিস ৫৬, অ্যাঞ্জেলো ৩১, প্রিয়ামল ৩৩, থিসারা ২, ডি সিলভা ১২, উদানা ৩২, দনাঞ্জয়া ৩, মালিঙ্গা ০*; রাবাদা ৩/৫০, এনগিডি ১/১৬, ফেলুকওয়ায়ো ১/৪০, নরকিয়া ২/৩৫, তাহির ২/৩৩, প্রিটোরিয়াস ০/২৭, দুমিনি ০/১৬)। দক্ষিণ আফ্রিকা: (২৮ ওভারে লক্ষ্য ৯৫) ২৮ ওভারে ১৩৫/২ (ডি কক ৬, মারক্রাম ৬৭*, দু প্লেসি ২৪, ফন ডার ডাসেন ২৮*; )। ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪১ রানে জয়ী। সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫-০ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: এইডেন মারক্রাম। ম্যান অব দা সিরিজ: কুইন্টন ডি কক।

 

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে ফিরলেন স্মিথ-ওয়ার্নার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার বলেছেন, মনে হয়েছে যেন কখনোই অস্ট্রেলিয়া সেট আপের বাইরে ছিলেন না। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) আগে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকে ‘সাদর অভ্যর্থনা’ পাওয়ার পর এ কথা বলেন তারা। গত বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারীর কারণে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন স্মিথ ও ওয়ার্নার। চলতি মাসের ২৯ তারিখ শেষ হবে তাদের এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। তবে এ জুটিকে দলের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণে কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের আহবানে সাড়া দিয়ে  বৈঠকে উপস্থিত হন স্মিথ-ওয়ার্নার। বিস্ময়করভাবে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি নিতে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওয়ার্নার বলেন, ‘এটা ছিল অসাধারন। মনে হয়েছে যেন আমরা কখনোই দলের বাইরে ছিলাম না। দলের ছেলেরা আমাদের আসার জন্য অপেক্ষা করছিল এবং সাদরে গ্রহণ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে একট বড় সিরিজ জয়ের পর তাদের এমন স্পিরিট দেখতে পারাটা খুবই ভাল বিষয় এবং অবশ্যই এখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের পারফরমেন্স দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। আশা করছি একইভাবে এ সিরিজও তারা জিতবে।’ ওয়ার্নার বলেন, ‘দলের এগিয়ে চলার মূল্যবোধের সঙ্গে থাকা আমরা নিশ্চিকত করেছি। ’ আসন্ন বিশ্বকাপে দলের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। ওয়ার্নার আরো বলেন, ‘আমরা এক বছর বাইরে ছিলাম এবং এ সময়ে অবশ্যই দলে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে, যা অনেক ভাল বিষয়। সেটা গ্রহণ করা এবং দলে আমাদের ভূমিকা অনুযায়ী খেলার বিষয়ও।’ নিষিদ্ধাদেশ শেষ হওয়ার পরও পুনরায় স্মিথকে কোন প্রকার নেতৃত্ব না দেয়া বিষয়ে ওয়ার্নার বলেন, ‘এই মুহূর্তে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সত্যিই বেশ ভাল শক্তি রয়েছে। পুনরায় দলের সঙ্গে একত্রিত হওয়াটা অনেক বড় বিষয়। তারা প্রকৃত অর্থেই আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মনে হয়েছে যেন আমরা কখনোই দলের বাইরে ছিলাম না।’ উভয়েই কনুইর ইনজুরিতে পড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ(বিপিএল) টি-২০ টুর্নামেন্টের মাঝ পথে ছিটকে পড়েন। এরপর তাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়। এখন তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডেতে খেলতে বাঁধা নেই এ জুটির। তবে অস্ট্রেলিয়া নির্বাচকরা চাচ্ছেন মাঠে স্বাভাকিব হওয়ার জন্য তারা আগে আইপিএল খেলুক। স্মিথ-ওয়ার্নারকে দলে ফেরাতে সবচেয়ে উচ্চ কন্ঠ কোচ ল্যাঙ্গার বলেন, ‘যেন দুই ভাই ঘরে ফিরেছে।’

বিশ্বকাপ দিয়েই ডুমিনির বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আসন্ন বিশ্বকাপের পর এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জেপি ডুমিনি। কাঁধের ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর সদ্যই প্রোটিয়া দলে ফেরা ৩৪ বছর বয়সী জাতীয় দলের হয়ে ১৯৩ ওয়ানডে ম্যাচ খেলছেন। ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও প্রোটিয়া দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা চালিয়ে যাবেন ডুমিনি। ডুমিনি গতকাল বলেন, ‘গত কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকায় নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে পুনঃপর্যালোচনা করার একটা সুযোগ পেয়েছি এবং কিছু বিষয়ে ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা অব্যাহত রাখবো। তবে পরিবারের জন্য আরো বেশি সময় দেব। খেলোয়াড়ি জীবনে অকুণ্ঠ সমর্থন পাওয়ায় সতীর্থ, কোচ পরিবার, বন্ধু-বান্ধবসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ ডুমিনি ১৯৩ ম্যাচ থেকে করেছেন ৫৯৮০ রান। আর ২০ রান হলেই যোগ দেবেন ছয় হাজারি ক্লাবে। তাছাড়া বিশ্বকাপের গ্র“পপর্বে অন্তত সাতটি ম্যাচ খেলতে পারলে ক্যারিয়ারে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও স্পর্শ করবেন। ব্যাটিং ক্যারিয়ারে তার রয়েছে চারটি সেঞ্চুরি ও ২৭টি হাফসেঞ্চুরি। বল হাতেও নিয়েছেন ৬৮ উইকেট।

 

নেপালের কাছে হেরে গ্র“প রানার্সআপ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিপক্ষে ব্যর্থতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারল না বাংলাদেশ। মাশুরা পারভীনের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দল হজম করল আরও দুই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে না পারা বাংলাদেশ হারল বড় ব্যবধানে। নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গসালা স্টেডিয়ামে শনিবার স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। আগেই সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করা গোলাম রব্বানী ছোটনের দল ‘এ’ গ্র“পের রানার্সআপ হয়ে উঠল সেরা চারে। সেমি-ফাইনালে তাই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ভারত। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন হলো নেপাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। ভুটানের বিপক্ষে পাওয়া ২-০ গোলের জয়ে ৩ পয়েন্ট বাংলাদেশের। পঞ্চম মিনিটে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দল। ফিরতি আক্রমণে গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে কাটিয়ে পোস্ট ফাঁকায় পেয়ে যাওয়া সাবিত্রা ভান্ডারি শট নেওয়ার আগে দারুণ ট্যাকলে রক্ষা করেন নিলাফু ইয়াসমিন নীলা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অনিতা বাসন্তির লম্বা ফিরতি শট মাশুরা পারভীন হেডে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন। দশম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল চিপ করে আগুয়ান রুপনা চাকমার মাথার ওপর দিয়ে নিরু থাপার লক্ষ্যভেদের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে গোলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। পাঁচ মিনিট পর ডান দিক থেকে হীরা কুমারীর থ্রু পাসে সাবিত্রার ফ্লিক ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দলের ত্রাতা গোলরক্ষক। ২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় নেপাল। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠার সাবিত্রার গায়ের সঙ্গে আঁখি সেঁটে থাকলেও পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে যায় রুপনা। ভুটান ম্যাচের এক গোল করা নেপালের এই ফরোয়ার্ড পরে দুজনকে বোকা বানিয়ে জাল খুঁজে নেন। পাঁচ মিনিট পর সাবিত্রার বাড়ানো বল কোনাকুনি শটে জাল জড়িয়ে বাংলাদেশকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেন মাঞ্জালি কুমারী।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডিফেন্ডার নীলাকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতে সানজিদা খাতুনকে নামান কোচ। কিন্তু অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থেকে নেপালের সঙ্গে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫৯তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সাবিত্রার শট রুপনাকে ফাঁকি দিলেও দ্রুত দৌড়ে গিয়ে ¯¬াইডে নিশ্চিত গোল হতে দেননি মাশুরা। এরপর কর্নার ফেরান রুপনা। ৬৩তম মিনিটে সানজিদা খাতুনের কাটব্যাকে সিরাত জাহান স্বপ্নার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান নেপাল গোলরক্ষক। ফিরতি আক্রমণে সাবিত্রার শট রুপনাকে ফাঁকি দেওয়ার পর গোললাইন থেকে মাশুরা ফেরালে ব্যবধান বাড়েনি। ৭৯তম মিনিটে ফরোয়ার্ড সাবিনাকে তুলে নিয়ে মিডফিল্ডার মার্জিয়াকে নামান রব্বানী কিন্তু দলের আক্রমণে প্রত্যাশিত ধার বাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময় মার্জিয়ার কাটব্যাকে স্বপ্নার ডি-বক্সের বাইরে নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে নেপালের বিপক্ষে গোলখরাও কাটল না বাংলাদেশের। এ নিয়ে সিনিয়র পর্যায়ে সব মিলিয়ে নেপালের কাছে পঞ্চম হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। সাফে ২০১০ সালে ৩-০ এবং ২০১৪ সালে ১-০ গোলে হেরেছিল দল। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের দুই ম্যাচেও ২০১০ সালে ১-০ ও ২০১৬ সালে ৩-০ গোলে হেরেছিলেন সাবিনারা। গত নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাইয়ে দুই দলের ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছিল।

৩-৪ মিনিট আগে এলে ভয়ানক কিছু হতো ঃ খালেদ মাসুদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে যখন গোলাগুলি চলছে, বাংলাদেশ দলের বাস তখন মসজিদের ৫০ গজের মতো কাছে। গুলিবিদ্ধ, রক্তাক্ত মানুষদের ছুটে বেরিয়ে আসতে দেখেছে দল। দলীয় ম্যানেজার খালেদ মাসুদ জানিয়েছেন, আর ৩-৪ মিনিট আগে পৌঁছালে মসজিদের ভেতরই থাকতেন তারা। হামলার পর ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ টেস্ট। ফ্লাইট সূচি ও টিকিট মিলিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দল দেশে ফিরবে, নিশ্চিত করেছেন ম্যানেজার। ঘটনার পর মাঠ হয়ে নিরাপদে হোটেলে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। পরে ম্যানেজার খালেদ মাসুদ জানালেন, হামলার শিকার হওয়ার কতটা কাছাকাছি তারা ছিলেন। “আমরা খুবই সৌভাগ্যবান, আমরা বাসে ১৭ জনের মতো ছিলাম। দুইজন ক্রিকেটার শুধু হোটেলে ছিল, বাকি সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। আমরা খুবই কাছে ছিলাম। মসজিদ দেখতে পাচ্ছিলাম কাছ থেকে, খুব বেশি হলে ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। খুবই ভাগ্য ভালো যে, ৩-৪ মিনিট আগে চলে এলেও হয়তো মসজিদের ভেতরে থাকতাম। বিশাল কিছু, ভয়ানক ঘটনা ঘটে যেতে পারত।” “শুকরিয়া আদায় করব যে আমরা ওই জায়গায় ছিলাম না। আমরা ভিডিওর মতো দেখছিলাম, সিনেমার যেমন দেখা যায়, বাসের ভেতর থেকে দেখছিলাম বেশ কিছু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। প্রায় ৮-১০ মিনিট আমরা বাসের ভেতরই ছিলাম। মাথা নিচু করে ছিল সবাই, যাতে কোনো কারণে গুলি আসে।” ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ক্রিকেটাররা। যেসব ছবি সংবাদমাধ্যমে আসছে, দেখা যাচ্ছে ক্রিকেটারদের চেহারায় আতঙ্কের ছাপ। ম্যানেজার জানাচ্ছেন, ক্রিকেটারদের মানসিকতায় গভীর ছাপ ফেলেছেন এই ঘটনা। “এটা খুবই স্বাভাবিক, সামনে যখন এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, সরাসরি দেখছেন রক্তাক্ত মানুষ বেরিয়ে আছে, এসব দেখে যে কারও ভেঙে পড়ার কথা। নিজের গায়েও লাগবে কিনা, কেউ নিশ্চিত ছিল না ওই মুহূর্তে। ক্রিকেটাররা বাসের ভেতর অনেকেই কান্নাকাটি করেছে, কি করলে বেরিয়ে আসতে পারি, এসব কথা হয়েছে। খুবই কঠিন ছিল। এসব তো মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে। ম্যানেজার হিসেবে চেষ্টা করেছি সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে আনতে।” ম্যানেজার জানালেন, যতটা দ্রুত সম্ভব, দেশে ফেরার ব্যবস্থা করছেন তারা।

আউবামেয়াংয়ের জোড়া গোলে কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্সেনাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম লেগে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ঘরের মাঠে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো আর্সেনাল। পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াংয়ের জোড়া গোলে রেনকে হারিয়ে ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলো উনাই এমেরির দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে ৩-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে আর্সেনাল। গত সপ্তাহে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেছিল ফরাসি ক্লাব রেন। পিছিয়ে থেকে মাঠে নামা আর্সেনালের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। ১৫ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলে এগিয়ে যায় তারা। পঞ্চম মিনিটে ডান দিক থেকে এইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলসের ছোট ডি-বক্সে বাড়ানো বল বাঁ পায়ের টোকায় জালে পাঠান আউবামেয়াং। আর পঞ্চদশ মিনিটে বাঁ দিকের বাইলাইন থেকে দূরের পোস্টে  ক্রস বাড়ান অ্যারন র‌্যামজি। দুরূহ কোণ থেকে লাফিয়ে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার মেইটল্যান্ড-নাইলস। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩; কিন্তু অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে পরের রাউন্ডে ওঠার পথে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সেনেগালের ফরোয়ার্ড এমবায়ে নিয়াংয়ের নিচু শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে বাধা পায়। বেঁচে যায় আর্সেনাল। ৭২তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। বাঁ দিক থেকে সেয়াদ কোলাশিনাচ গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ছোট ডি-বক্সে বল বাড়ান আর অনায়াসে প্লেসিং শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন গ্যাবনের স্ট্রাইকার আউবামেয়াং। শেষ দিকে পরপর সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করে হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করেন আউবামেয়াং। তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। অলিভিয়ে জিরুদের হ্যাটট্রিকে ইউক্রেনের ক্লাব দিনামো কিয়েভের মাঠে ৫-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৮-০ ব্যবধানে এগিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে চেলসি। একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়ার ক্লাব সালসবুর্কের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে গেছে নাপোলি। তবে প্রথম পর্বে ৩-০ গোলে জেতায় দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ আটে উঠেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। জার্মান ক্লাব ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইতালির দল ইন্টার মিলান। দুদলের মধ্যে প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।

 

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট বাতিল

ক্রীড়া প্রতিবেক ॥ ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলিতে ব্যাপক হতাহতের পর বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় একটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা নিরাপদে হোটেলে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।-খবর এএফপি। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট ম্যাচটি শনিবার হওয়ার কথা ছিল। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয়ী হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট প্রধান নির্বাহী ড্যাভিড হোয়াইট বলেন, আমরা মর্মাহত এবং ব্যথিত। আমি নিশ্চিত, পুরো দেশ আমার মতো ব্যথিত। আমি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, এ সময়ে এ খেলার আয়োজন করা উচিত হবে না। নিউজিল্যান্ডের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ থেকে ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী হামলাকারী যুবক একজন অস্ট্রেলীয়। হামলার সময় বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল মসজিদটিতে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা নিরাপদে সরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। নিউজিল্যান্ড সফরে যেখানে তাদের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা, তার কাছেই মসজিদটির অবস্থান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলার পর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব সদস্য নিরাপদে হোটেলে ফিরে এসেছেন। খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বিসিবি অব্যাহত যোগাযোগ রাখছে। হামলায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত  কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মুখপাত্র বলেছেন, ক্রিকেট দলের সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন। তবে তারা মানসিকভাবে আহত হয়েছেন। আমরা তাদের হোটেলের ভেতরেই থাকতে বলেছি। ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল টুইটারে বলেছেন, গোলাগুলি থেকে পুরো ক্রিকেট দল নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন। এ এক ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতা। দয়া করে সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মুশফিকুর রহিম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গোলাগুলি থেকে আল্লাহ আজ আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা সত্যিই খুব ভাগ্যবান। এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের একটি ইংরেজি দৈনিকের ক্রীড়া প্রতিবেদক। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে যখন তারা উপস্থিত হন, তখন সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চলছিল। সতর্ক করার পরেই হতবিহ্বল খেলোয়াড়রা বাসের ভেতর চলে যান এবং তারা ফ্লোরে শুয়ে পড়েন। দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে মসজিদের ভেতর থেকে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজ চলছিল। পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনাকে সংকটময় উল্লেখ করে স্থানীয়দের ঘরের ভেতর থাকতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। ডেইলি মেইল অস্ট্রেলিয়ার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে যখন এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি করছে, যখন মুসল্লিরা সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হলেও তিনিই বন্দুকধারী কিনা- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আল নূর মসজিদে যখন এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনা ঘটছে, তখন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল মসজিদের ভেতরেই ছিল। দিনটিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন আখ্যায়িত করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান বলেন, হতাহতদের পরিবারের প্রতি আমিসহ নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের সমবেদনা রয়েছে। গোলাগুলির সময় এক ব্যক্তি পালিয়ে যেতে যেতে বলছেন, ফুটপাতে আমার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি। আমার স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় তিনি চিৎকার করে কান্না করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী আহমাদ আল মাহমুদ বলেন, হামলাকারীদের একজন ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। উজ্জ্বল চুলের ওই যুবক হেলমেট ও বুলেটপ্র“ফ ভেস্ট পরেছিলেন। মসজিদের কয়েকশ লোক যখন নামাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তখনই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মসজিদটিতে ৩০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন।

আজ রাতে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। বদলে যাওয়া বাবস্তবতায় ওই দিন এই শহরকেই বিদায় জানাবে বাংলাদেশ দল। ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শেষ টেস্ট বাতিল হওয়ার পর নিউ জিল্যান্ড থেকে দল দেশে ফিরবে আজ শনিবার রাতে। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ জানিয়েছেন, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় রওনা দিয়ে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পা রাখবে দল। মসজিদে হামলার পর হোটেলে ফিরে খালেদ মাসুদ বলেছিলেন, প্রয়োজনে আলাদা ফ্লাইটে হলেও যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরবে দল। তবে শেষ পর্যন্ত এক ফ্লাইটেই সবাই ফিরছেন, জানিয়েছেন ম্যানেজার। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় ৪৯ জন। দুই মসজিদের একটি, আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ দল যেখানে অনুশীলন করছিল, সেই হ্যাগলি ওভালের কাছেই আল নূর মসজিদ। অল্পের জন্য দল রক্ষা পায় হামলার শিকার হওয়া থেকে। ম্যানেজার খালেদ মাসুদ জানান, টিম বাসে করে মসজিদের ৫০ গজ কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন তারা। পরে মসজিদ থেকে রক্তাক্ত মানুষদের বেরিয়ে আসতে দেখে তারা থমকে যান। পরে বাস থেকে নেমে হ্যাগলি পার্কের মাঝ দিয়ে ফিরে আসেন মাঠে। পরে ফেরেন হোটেলে। আর ৩-৪ মিনিট আগে পৌঁছে গেলেও তারা মসজিদের ভেতরে থাকতেন, জানিয়েছেন ম্যানেজার।

 

দুর্দান্ত মেসিতে শেষ আটে বার্সা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে আবারও দুর্দান্ত রূপে নিজেকে মেলে ধরলেন লিওনেল মেসি। জোড়া গোল করার পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলে রাখলেন অবদান। অধিনায়কের এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সে লিওঁকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখলো বার্সেলোনা। কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে ফরাসি ক্লাবটিকে ৫-১ গোলে হারায় এরনেস্তো ভালভেরদের দল। লিওঁর মাঠে প্রথম পর্ব গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। মেসির গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি গোল শোধ করেন লুকা তুজা। কিছুক্ষণ পর ব্যবধান আবারও বাড়ান মেসি। আর শেষ দিকে জেরার্দ পিকে ও উসমান দেম্বেলের গোলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো বার্সেলোনা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাঁ পায়ের বাঁকানো শট বাঁক খেয়ে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। সপ্তদশ মিনিটে অধিনায়কের স্পট কিকেই কাঙ্খিত গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। মেসির বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢোকা লুইস সুয়ারেস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পানেনকা শটে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা। দুই মিনিট বাদেই সমতা টানার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল অতিথিরা। কিন্তু গোল করার মতো পজিশন থেকে মেমফিস ডিপাইয়ের শট ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমোঁ লংলের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। খানিক পর বল দখলের লড়াইয়ে কৌতিনিয়োর পায়ে লিওঁ গোলরক্ষক অঁতনি লোপেজের মাথায় আঘাত লাগে। অনেকক্ষণ মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অঁতনি। কিন্তু অসুস্থ বোধ করায় ৩৪তম মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এর ফাঁকে ৩১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে দলটি। বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে এগিয়ে যান সুয়ারেস। তাকে বাধা দিতে ছুটে আসেন গোলরক্ষক। আর সেই সুযোগে বাঁ দিকে ফাঁকায় বল বাড়ান উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। অনায়াসে প্লেসিং শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কৌতিনিয়ো। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির চিপ শট জালে ঢুকতে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে বাইলাইন থেকে ফেরান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফের্নান্দো মার্কাল। কিছুক্ষণ পর স্বাগতিকদের আরেকটি গোছানো আক্রমণ রক্ষণে প্রতিহত হয়। ৫৮তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে বার্সেলোনার ডি-বক্সে উড়ে আসা বল ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান তুজা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে নিচু শটে ব্যবধান কমান ফরাসি এই মিডফিল্ডার। ৭৮তম মিনিটে দারুণ  নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। সের্হিও বুসকেতসের পাস পেয়ে ডি-বক্সে এক ঝটকায় দুজন ডিফেন্ডারকে ফেলে দিয়ে শট নেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। বল ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাতে লেগে গড়িয়ে গড়িয়ে ভিতরে ঢোকে। ক্লাব ফুটবলের ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় এবারের আসরে মেসির এটি অষ্টম ও সব মিলিয়ে ১০৮তম গোল। আর ঘরের মাঠে ৬১ ম্যাচে হলো ৬২ গোল। এরই সঙ্গে টানা ১১ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কমপক্ষে ৩৫টি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ৮১তম মিনিটে দলের চতুর্থ গোলে বড় অবদান রাখেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বাঁয়ে পাস দেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ছুটে এসে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন পিকে। পাঁচ মিনিট পর আবারও মেসি জাদু। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে বাঁ দিকে পাস বাড়ান তিনি। দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে ফাঁকায় বল কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন কৌতিনিয়োর বদলি নামা দেম্বেলে। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত (২৭ জয়, তিন ড্র) থাকলো বার্সেলোনা, যা প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড। একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদেরই মাঠে ৩-১ গোলে উড়িয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে লিভারপুল। এর আগে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করা দলগুলো হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, টটেনহ্যাম হটস্পার, আয়াক্স, পোর্তো ও ইউভেন্তুস।

 

রোনালদোর প্রশংসায় মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের দিন দারুণ এক হ্যাটট্রিকে ইউভেন্তুসকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে তোলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পরদিন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভক্ত-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসালেন লিওনেল মেসি। লিওঁর বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগিজ তারকার পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্রয়ের পর বুধবার কাম্প নউয়ে ফিরতি পর্বে লিওঁকে ৫-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে এরনেস্তো ভালভেরদের দল। জোড়া গোল করার পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলে অবদান রাখেন ৩১ বছর বয়সী মেসি। এর আগে মঙ্গলবার রোনালদোর অসাধারণ পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে ইউভেন্তুস। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারা ইতালিয়ান দলটি ৩-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে। লিওঁর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও ইউভেন্তুস যা করল তা ছিল অসাধারণ।” “আমি ভেবেছিলাম যে প্রতিপক্ষ হিসেবে আতলেতিকো মাদ্রিদ আরও কঠিন হবে। তিন গোল করে রোমাঞ্চকর একটা রাত কাটাল রোনালদো।” ক্লাব ফুটবলে ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালের ড্র হবে আজ শুক্রবার। তবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন মেসি। “সব প্রতিপক্ষই কঠিন।” “উদাহরণস্বরূপ আয়াক্স (শেষ ষোলোয় যারা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েছে) দেখিয়েছে যে তরুণ সব খেলোয়াড় নিয়ে তারা দুর্দান্ত একটা দল। আর তারা কাউকেই ভয় পায় না।” “যে দলের মুখোমুখিই আমরা হই না কেন, লড়াইটা কঠিন হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।”

ভুটানকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মিলল কাঙ্খিত গোল। শেষ দিকে দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন সাবিনা খাতুন। ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গসালা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ভুটানকে ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। সাফে এ নিয়ে ভুটানের বিপক্ষে তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে অষ্টম জয় পেল বাংলাদেশ। টানা দুই হারে গ্র“প পর্ব থেকে ছিটকে গেলো ভুটান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা। বাংলাদেশের জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে নেপালেরও সেরা চারে খেলা নিশ্চিত হয়েছে। আগামী শনিবার ‘এ’ গ্র“পের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গোলশূন্য প্রথমার্ধে শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকা বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি। ষষ্ঠ মিনিটে মারিয়া মান্ডার শট গোলরক্ষকের গ্লাভসে জমে যায়। একাদশ মিনিটে দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন সিরাত জাহান স্বপ্না। আঁখি খাতুনের লম্বা করে বাড়ানো বল গোলমুখে পেয়ে যান স্বপ্না। কিন্তু আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে গিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারেন তিনি। প্রচন্ড গরমের কারণে কুলিং ব্রেকের পর ৩০তম মিনিটে সাবিনা খাতুনের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ছয় মিনিট পর গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশা বাড়ান এই ফরোয়ার্ড। ৪১তম মিনিটে শামসুন্নাহারের বাড়ানো বলে মিশরাত জাহান মৌসুমীর শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্খিত গোল পায় প্রতিযোগিতার রানার্সআপ বাংলাদেশ। মনিকা চাকমার কর্নারে ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় হেড করার পর জটলার মধ্য থেকে জাল খুঁজে নেন মৌসুমী। সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠা ভুটানের ভালো একটি সুযোগ নষ্ট হয়; সতীর্থের কর্নারে ইডোন দর্জির শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৮২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি সঙ্গিতা মনগেরের দৃঢ়তায়। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা শামসুন্নাহারের ক্রস থেকে পাওয়া বল তহুরা খাতুন বাড়ান স্বপ্নাকে। গত সাফে পাঁচ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর সাবিনার একক প্রচেষ্টার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় বাংলাদেশ। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন গত সাফে ছয় গোল করা এই ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ে শিউলি আজিমের বাড়ানো বলে তহুরার নেওয়া শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ২০১০ সালের প্রথম আসরে নিজেদের মাঠে ভুটানকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে সাফে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে গ্র“প পর্বের ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল দল।

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল দ.আফ্রিকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইসুরু উদানার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দুইশ রানের কাছে গেল শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ। সেই রান নিয়ে খুব একটা লড়াই করতে পারেনি সফরকারীরা। কুইন্টন ডি ককের ফিফটিতে আরেকটি বড় জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ফাফ দু প্লেসির দল। ১৯০ রানের লক্ষ্য ১০৩ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্কে বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ১৯ রানের মধ্যে ফিরে যান উপুল থারাঙ্গা ও ওশাদা ফার্নান্দো। থিতু হয়েও নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি অভিশকা ফার্নান্দো ও কুসল মেন্ডিস। অভিষেকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান প্রিয়ামাল পেরেরা। দলের বিপদে এগিয়ে আসতে পারেননি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও থিসারা পেরেরা। ১৩১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে দুইশ রানের কাছে নিয়ে যান উদানা। স্বাগতিক বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৫৭ বলে চার ছক্কা ও সাত চারে খেলেন ৭৮ রানের ঝড়ো এক ইনিংস। দশম উইকেটে কাসুন রাজিথার সঙ্গে তার ৫৮ রানের জুটি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সেরা। সেই জুটিতে রাজিথার অবদান ৯ বলে শূন্য। আরও একবার ব্যর্থ রিজা হেনড্রিকস। শুরুতেই ফিরেন বাজে সময় কাটানো এই ওপেনার। দলে ফেরা এইডেন মারক্রাম সম্ভাবনাময় ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফিরে যান তিন চারে ২৯ রান করে।

ছন্দে থাকা ডি কক তুলে নেন আরেকটি ফিফটি। ৫৭ বলে খেলা তার ৫১ রানের ইনিংস গড়া ৬ চারে। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এগোনো দু প্লেসিকে থামান ডি সিলভা। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ৩৮ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় করেন ৪৩ রান। জেপি দুমিনিকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন ডেভিড মিলার। সাবধানী ব্যাটিংয়ে একটি করে ছক্কা-চারে তিনি করেন ২৫ রান। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া দুমিনি ২১ বলে করেন ৩১ রান। নয় নম্বরে নেমে দলের মান বাঁচানো ঝড়ো ফিফটির জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন উদানা। আগামী শনিবার কেপ টাউনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ৩৯.২ ওভারে ১৮৯ (অভিশকা ২৯, থারাঙ্গা ৪, ওশাদা ০, কুসল মেন্ডিস ২১, প্রিয়ামাল ০, কামিন্দু ৯, ডি সিলভা ২২, থিসারা ১২, উদানা ৭৮, মালিঙ্গা ০, রাজিথা ০*; স্টেইন ১/৩২, এনগিডি ১/২২, নরকিয়া ৩/৫৭, ফেলুকওয়ায়ো ২/২১, শামসি ১/৩৪, দুমিনি ১/২১)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২.৫ ওভারে ১৯০/৪ (ডি কক ৫১, হেনড্রিকস ৮, মারক্রাম ২৯, দু প্লেসি ৪৩, মিলার ২৫*, দুমিনি ৩১*; ডি সিলভা ৩/৪১, মালিঙ্গা ০/৩৮, উদানা ০/১৫, রাজিথা ১/৩২, কামিন্দু ০/৩৪, ওশাদা ০/১৬, থিসারা ০/১৩)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: ইসুরু উদানা।

বিশ্বের ১০০ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের তালিকায় সাকিব মুশফিক ও মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০১৯ সালে বিশ্বের সেরা ১০০ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি- টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৭৮ দেশের প্রায় ৮০০ সেরা খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার এ তালিকা প্রকাশ করেছে ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন। ইএসপিএনের করা এ তালিকায় ক্রিকেটার রয়েছেন মাত্র ১১ জন। তাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি ও ৮ জন ভারতীয়। বাকি আর কোনো দেশের ক্রিকেটার এ তালিকায় স্থান পাননি। গুগলে খেলোয়াড়দের খোঁজার সংখ্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলোয়ার সংখ্যা ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এই তিনটি বিষয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন জুভেন্টাসের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা লেবরন জেমস। আর তৃতীয় স্থানটি দখল করেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। ১১ ক্রিকেটারের মধ্যে সবার ওপরে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তার অবস্থান সপ্তম। ১৩তম স্থানে রয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। বাকি ভারতীয়দের মধ্যে আছেন, যুবরাজ সিং, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো এ তালিকায় স্থান পাওয়া সাকিব আল হাসান আছেন ৯০-এ, মুশফিকুর রহিম ৯২তম ও মাশরাফি ৯৮তম স্থানে।

শালকেকে গুঁড়িয়ে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দারুণ ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লড়াইও করতে পারল না শালকে। জার্মানির দলের বিপক্ষে যেন গোল উৎসবে মেতে উঠেছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। নিজেদের মাঠে শালকেকে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ডের দলটি। শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে মঙ্গলবার রাতে ৭-০ গোলে জিতেছে সিটি। ক্লাব ফুটবলে ইউরোপ সেরার মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসে এটা তাদের সবচেয়ে বড় জয়। দুই লেগ মিলিয়ে ১০-২ গোলে এগিয়ে থেকে পরের ধাপে ওঠে দলটি। জোড়া গোল করেন সের্হিও আগুয়েরো। একটি করে করেন রাহিম স্টার্লিং, লেরয় সানে, বের্নার্দো সিলভা, গাব্রিয়েল জেসুস ও ফিল ফোডেন। প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগে ৩-২ গোলে জেতা সিটি ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই চাপে ফেলে শালকেকে। চতুর্দশ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। তবে স্টার্লিংয়ের কাটব্যাকে খুব কাছে থেকেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আগুয়েরো। পরে দুইবার গোলরক্ষক বরাবর মেরে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ৩৫তম মিনিটে আগুয়েরোর পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় সিটি। সিলভাকে ডি-বক্সে জেফরি ব্রুমা ফেলে দিলে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। তিন মিনিট পর ব্যবধানে দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার। বাইলাইন থেকে স্টার্লিংয়ের কাটব্যাক গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে ঠিকানায় পাঠান তিনি। ৪২তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে ফেলেন সানে। আলেকসান্দর জিনচেনকোর পাস থেকে কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন এই জার্মান মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাড়তে পারতো ব্যবধান। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বাইরে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন সানে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সিটির সবশেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা স্টার্লিং ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন। সানের বাড়ানো বলে জাল খুঁজে নেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললেও রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোলের বাঁশি বাজান। সানের আরেকটি দুর্দান্ত পাসে ৭১তম মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন সিলভা। সাত মিনিট পর জার্মান মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত থ্রু পাসে জাল খুঁজে নেন খানিক আগে বদলি নামা ফোডেন। ৮৪তম মিনিটে দলের সপ্তম গোলটি করেন আগুয়েরোর জায়গায় বদলি নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির বাঁকানো শটে ঠিকানায় বল পাঠান তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে ১০ বার পাঁচ বা তার বেশি গোল করল সিটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবশেষ চার আসরে এনিয়ে তৃতীয়বার শেষ আটে গেল দলটি। একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ আটে উঠছে ইউভেন্তুস।

দিজোঁকে উড়িয়ে দিল পিএসজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিগ ওয়ানে টানা পঞ্চম ম্যাচে জালের দেখা পেলেন কিলিয়ান এমবাপে। আর সতীর্থের গোলে অবদান রাখার পাশাপাশি আনহেল দি মারিয়া নিজেও করলেন একটি। তাতে দিজোঁকে উড়িয়ে দিল পিএসজি। পয়েন্ট তালিকার অবনমন অঞ্চলের দলটির মাঠে মঙ্গলবার রাতে ৪-০ গোলে জিতেছে টমাস টুখেলের দল। এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের চেয়ে আবারও ১৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেল গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে থাকা পিএসজি সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায়। দি মারিয়ার দারুণ কর্নারে হেডে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস। ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলেও অবদান ছিল দি মারিয়ার। তার পাস ডি-বক্সে পেয়ে বাঁ দিক থেকে গোলমুখে বল বাড়ান লেইভিন কুরজাওয়া। আর ছুটে এসে টোকা দিয়ে বল ঠিকানায় পাঠান এমবাপে। এই নিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে সাতটি গোল করলেন এমবাপে। আর আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ফরাসি ফরোয়ার্ডের মোট গোল হলো ২৫টি। দ্বিতীয়ার্র্ধের পঞ্চম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে স্কোরলাইন ৩-০ করেন দি মারিয়া। প্রায় ২২ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে বল রক্ষণ প্রাচীরের উপর দিয়ে বাঁক খেয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তমা মুনিয়ের ছোট ডি-বক্সে বাড়ানো বল অনায়াসে জালে ঠেলে জয় নিশ্চিত করেন দি মারিয়ার বদলি নামা ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং। ২৭ ম্যাচে ২৪ জয় ও দুই ড্রয়ে শীর্ষে থাকা পিএসজির পয়েন্ট হলো ৭৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের পয়েন্ট

রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অসাধারণ এক হ্যাটট্রিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো জুভেন্টাসকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছেন। মঙ্গলবার শেষ ১৬’র দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে দুই লিগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ আট নিশ্চিত করে ইতালিয়ান জায়ান্টরা। দুই অর্ধে দু’টি হেডের সাহায্যে পর্তুগীজ সুপারস্টার দুই গোল করেন। এছাড়া ম্যাচের শেষের দিকে স্পট কিক থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ঘরের মাঠ তুরিনে পুরো ম্যাচেই স্বাগতিক জুভেন্টাসের আধিপত্য ছিল। আগামী শুক্রবার শেষ আটের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিকম্যান রোনাল্ডো বলেছেন, ‘এই রাতটা সবসময়ই আমাদের জন্য বিশেষ একটি রাত হয়ে থাকে। এটা শুধুমাত্র আমি গোল পেয়েছি সে কারণে নয়, পুরো দল জিতেছে যা সত্যিই বিশেষ কিছু। এটাই একটি চ্যাম্পিয়ন দলের মানসিকতা। এ কারণেই জুভেন্টাস আমাকে দলে নিয়েছে। যাদুকরী একটি রাতে আমি দলকে সহযোগিতা করতে পেরেছি, এটা আমার কাছে অনেক কিছু।’ মাদ্রিদের ঘরের মাঠে প্রথম লেগে দিয়েগো সিমিয়োনের দলের যে দাপট ছিল তার কিছুই কাল তারা দেখাতে পারেনি। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে জুভেন্টাস। পরাজয়ের সাথে সাথে আগামী ১ জুন ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হলো না সিমিয়োনের শিষ্যদের। জুভেন্টাসের কোট মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি বলেছেন, ‘আজ ছেলেরা দারুণ পরিণত একটি ম্যাচ খেলেছে। ম্যাচটিতে নিজেদের সেরাটা দেবার জন্য সবাই মুখিয়ে ছিল। আমি তাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। ঠিক এটাই আমরা প্রথম লেগে প্রত্যাশা করেছিলাম। এই ধরনের ম্যাচে অনেক ঝুঁকি থাকে। খেলোয়াড়দেরও মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা থাকতে হয়।’ এই নিয়ে অষ্টমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব অর্জন করলেন রোনাল্ডো। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিলে উল্ফসবার্গের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ প্রথম লেগে ২-০ গোলে পরাজিত হলেও পর্তুগীজ তারকার হ্যাটট্রিকে আবারো লড়াইয়ে ফিরে এসেছিল গ্যালাকটিকোরা। কালকের ম্যাচটি যেন তারই প্রতিচ্ছবি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনাল্ডো এর মাধ্যমে পুরো টুর্নামেন্টে ১২৪ গোল করলেন। এবার করেছেন মাত্র চার গোল। গত বছর গ্রীষ্মে ৩৪ বছর বয়সী রোনাল্ডোকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে দলে ভিড়িয়েছিল জুভেন্টাস। এই চুক্তির পিছনে একটাই লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অধরা শিরোপাটিকে দীর্ঘদিন পর ঘরে তোলা। ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ ইউরোপের সর্বোচ্চ আসরে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছিল ইতালিয়ান জায়ান্টরা। গত চার বছরে দুইবার ফাইনালে খেলে রানার্স-আপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে জুভেন্টাসকে। কালকের ম্যাচের ফেডেরিকো বার্নারডেশি ও মারিও মান্দজুকিচকে নিয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনাল্ডো শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। প্রথমার্ধ প্রায় পুরোটাই আলেগ্রির দলের দখলে ছিল। এই অর্ধে সর্বমোট নয়টি শট গোলপোস্টে করেছে জুভেন্টাস। জুভেন্টাসের হয়ে ৫০০তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিলেন অধিনায়ক গিওর্গিও চিয়েলিনি। ম্যাচর শুরুর চার মিনিটের মধ্যে চিয়েলিনি গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলন। কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা গেছে গোলের আগে রোনাল্ডো এ্যাথলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে ফাউল করেছেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শক্তিশালী রক্ষনভাগের জন্য পরিচিত এ্যাথলেটিকো ২৭ মিনিট পর্যন্ত জুভেন্টাসকে আটকে রেখেছিল। কিন্তু এরপর আর শেষ রক্ষা হয়নি। বার্নারডেশির নিখুঁত ক্রসে রোনাল্ডো হেড করে দলকে এগিয়ে দেন। এক মিনিট পর বার্নারডেশির কার্লিং ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। রোনাল্ডো হেডের সাহায্যে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। বিরতির ঠিক আগে মিরালেম পাজানিকের কর্ণার থেকে চিয়েলিনির হেড ওবলাক ক্লিয়ার করেন। আলভারো মোরাতা এ্যাওয়ে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে হুয়াও কানসেলোর ক্রসে রোনাল্ডো হেডের সাহায্যে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে আসার সাথে সাথে তরুন মোয়েস কিন সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ৮৬ মিনিটে ডি বক্সের ভিতর বার্নারডেশিকে ফাউলের অপরাধে এ্যাঞ্জেল কোরিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন ডাচ রেফারি বিওন কুইপার্স। স্পট কিক থেকে রোনাল্ডো এ্যথলেটিকোর বিপক্ষে ২৫তম পেনাল্টি গোল পূরণ করেন। এটি ছিল এ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে তার চতুর্থ হ্যাটট্রিক।

 

বিরল ইনজুরিতে উইলিয়ামসন শেষ টেস্টে অনিশ্চিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এ চোটে সাধারণত ক্রিকেটাররা সচরাচর পড়েন না। সেই অদ্ভুত চোটেই পড়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন তিনি। ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিং করার সময় বাঁ কাঁধে টান লাগে উইলিয়ামসনের। ব্যাটিং করার সময়ও ব্যথা অনুভব করেন তিনি। এ কারণে টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডিং করতে পারেননি। স্টেডিয়ামের নিকটবর্তী হাসপাতালে গিয়ে স্ক্যান করান। সেই রিপোর্ট নিউজিল্যান্ড বোর্ডের হাতে এসেছে। তাতে জানা গেছে, অদ্ভুত চোটে পড়েছেন উইলিয়ামসন। এমআরআই স্ক্যান রিপোর্ট দেখাচ্ছে, তার বাম পেক্টোরালের মাইনর মাসলে গ্রেড ওয়ান টিয়ার দেখা দিয়েছে। কিউই ক্রিকেটের মুখপাত্র বলেন, দুর্লভ এক ইনজুরি। আমি মনে করি, ক্রিকেট বিশ্বে হয়তো পাঁচবার এটি দেখা গিয়েছে। ফিজিওরা বলছেন, এ চোট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে। কারণ এটি বিরল। তিনি বলেন, তবে এটা খুব বড় চোট নয়। আমরা আশা করি, কেন দ্রুতই ফিরবে। সে আগেও চোটে পড়েছে এবং দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে। এবারও দারুণভাবে চোটকে হার মানাবে ও। তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ১৬ মার্চ, ক্রাইস্টচার্চে। এ ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। ওয়ানডের পর টেস্ট সিরিজেও ধবলধোলাইয়ের শংকায় সফরকারীরা।

আতলেতিকোকে হারিয়ে শেষ আটে উঠতে আত্মবিশ্বাসী রোনালদো

ক্রীড়া প্রতিবেদক  ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারাতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে দলের সবাই মরিয়া হয়ে আছে বলে জানিয়েছেন ইউভেন্তুসের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্প্যানিশ দলটিকে টপকে প্রতিযোগিতার পরের পর্বে যেতে আত্মবিশ্বাসী পর্তুগিজ এই ফুটবলার। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় ঘরের মাঠে আতলেতিকোর মুখোমুখি হবে ইতালির চ্যাম্পিয়নরা। মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে পিছিয়ে আছে মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রির দল। ইউভেন্তুস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সফল ক্যারিয়ারের পেছনে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনকেই কারণ হিসেবে দেখেন রোনালদো। পুরো ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ৯৮৪ ম্যাচে ৬৯৭ গোল করা পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার বলেন, “আমার কোনো গোপন মন্ত্র নেই, শুধু আত্মনিবেদন ও খেলাটার প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। অন্য যে কোনো কিছু করার চেয়ে আমি ফুটবল খেলতে বেশি ভালোবাসি।” “আমি পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও স্পেনে নিজেকে উপভোগ করেছি। আর এখন ইতালিতেও করছি। আমার কাছে গোল করা এবং দলকে জিততে সাহায্য করাটা আনন্দের।” চলতি মৌসুমে ২৭ রাউন্ড শেষে এখন পর্যন্ত সেরি আয় অপরাজিত রয়েছে ইউভেন্তুস। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় তাদের শেষ ষোলোর লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন রিয়ালের হয়ে আতলেতিকোর বিপক্ষে ৩১ ম্যাচে ২২টি গোল করা রোনালদো। “সবাই জানে যে তারা একটা শক্তিশালী দল। তাদের রক্ষণ খুব শক্তিশালী, তারা খুব একটা ঝুঁকি নেয় না এবং প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত। তাদের হারাতে আমরা সব কিছুই করব।”