জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ ও কৃষির উন্নয়নে আমাদের করণীয়

এস কে বাশার \ জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বায়ু মন্ডলের বিশেষ পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাসীয় উপাদানের আধিক্য প্রাকৃতিতে নানাবিধ পরিবর্তন ঘটায়। গ্রীণ হাউস গ্যাসের আধিক্য, বিভিন্ন কলকারখানায় মাত্রাতিরিক্ত কার্বন গ্যাসের উদগীরন এবং নানাবিধ রাসায়নিক বিক্রিয়া এ পরিবর্তনের জন্য দায়ি। আবার নাব্যতা হ্রাস ও বৃক্ষ উজাড় হওয়ায় আমাদের প্রাকৃতিক অবকাঠামোতে চরম আঘাত হানছে, ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে পরিবেশের। এ পরিবর্তন মানুষের নিত্য ক্রিয়াকলাপের সাথেও সম্পৃক্ত। তবে এই পরিবর্তন সর্বাধিক আঘাত হানছে দেশের কৃষি এবং এর উপখাতগুলির উপর। জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত কারণে প্রকৃতিতে দৃশ্যমান যেসব পরিবর্তন ঘটে তার সব গুলিই কৃষির প্রতিকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানাযায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমান শতাব্দির শেষ নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে বরফ গলা শুরু হয়েছে এর ফলে গৃষ্মকালে সমভূমি প্লাবিত হবার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সর্বাধিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চিনসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। গৃষ্মকালীন বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। যা ইতিমধ্যে আমেরিকা জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে ঘটতে দেখা গেচে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি সমুদ্রগর্ভে বিলিন হবার আশঙ্কা রয়েছে। ফসলের ফলন নিম্নমুখি হতে পারে। সেচকাজ বিঘ্নিত হতে পারে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ: নিম্নমুখি হবে। কখনও বন্যা আবার কখনও খরা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। গত বছর গৃষ্মকাল দীর্ঘস্থায়ী হলেও চলতি বছরে বর্ষাকাল দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝড়, জলচ্ছাস, প্লাবন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সমভূমি নিম্নভূমিতে পরিনত হবে, আবাদি এলাকায় লবনাক্ত পানির প্রবেশ ঘটবে। ইতিমধ্যে দেমের উপকুলীয় অঞ্চলের অনেক আবাদি জমি লবন জলের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। বন্যা, খরা, ঝড় ও জলচ্ছাসে ফসলহানিসহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে। নানা প্রাকৃতি দুর্যোগে বিশ্বের ২০ কোটি মানুষ গৃহচ্যুত হতে পারে। বাংলাদেশের ৩ কোটি মানুষের এ ক্ষতির সম্মুখিন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পানি চক্রের পরিবর্তন অবস্যম্ভাবী। বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের চিরাচরিত প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যাপক তারতম্য ঘটায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায়ও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। উৎপাদন নিম্নমুখি হতে হতে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে কৃষির অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবার আগে প্রয়োজন নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণ করা। বাংলাদেশের পানি সরবরাহের বিষয়টি নদী নির্ভর। প্রাকৃতিক সম্পদের নানা অব্যবহার জনিত কারণে ইতিমধ্যে আমাদের প্রায় ৭০০ নদীর অনেক গুলিই বিলুপ্তি হয়েছে। অবশিষ্ট বৃহদাকার নদীতে সারা বছর পানি ধারনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এজন্য আমত্ম জলাধার নির্মান জরুরী। আবার নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঝড়, জলোচ্ছাস, প্লাবন যা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ধেয়ে আসে। এসব প্রাকৃতিক মহামারী দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকুলীয় অঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র  বৃক্ষাচ্ছাদন প্রয়োজন। কেননা বৃক্ষ যেমন বৃষ্টি নামানোর রাডার হিসেবে কাজ করে। অনুরূপ দুর্যোগ প্রতিরোধে মহা প্রাচিরের কাজ করে। আবার মরু প্রকৃতিরোধে  জল ও বৃক্ষের আধিক্য সমগুরুত্বপূর্ণ।

লেবু চাষে বানিজ্যিক সফলতার সম্ভাবনা

সুজন কর্মকার \ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল লেবু। কুষ্টিয়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড.মোঃ গোলাম মত্তর্জা ও উদ্যানতত্ব বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ গোলাম মারুফ সূত্রে জানাগেছে, লেবু হালকা দোআঁশ ও নিকাশ সম্পন্ন মধ্যম অম্লীয় মাটিতে ভাল হয়। গুটি কলম ও কাটিং তৈরী করে মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য আশ্বিন ( মে-সেপ্টেম্বর) মাসে ২.৫ মিটার দূরত্বে রোপন করা হয়। কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে বেশ কয়েকটি জাতের লেবু উৎপাদিত হয় সেগুলো হলো বারি লেবু-১, ২ ও ৩। বাউকাগজি লেবু-১, বাউ লেবু ২ ও ৩। এছাড়াও বিজ বিহীন লেবু, এলাচী লেবু, পাতি লেবু, কাগজী লেবুুসহ আমাদর দেশে ১০/১২ প্রজাতীত লেবু চাষাবাদ হয়। লেবুর রস মধুর সাথে অথবা লবণ বা আদার সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা ও সর্দি কাশির উপশম হয় এবং যে কোন ক্ষত শোকায়। এছাড়াও ছোট বড় সবার জন্য  লেবু এক আশ্চর্য গুণসম্পন্ন ফল। চিকিৎসকদের মতে প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের দৈনিক ভিটামিন ’সি’ খাওয়া দরকার। ভিটামিন ’সি’ সমৃদ্ধ ফলের মধ্যে সারা বছরই পাওয়া যায়। বানিজ্যিক ভিক্তিতে এর চাষ করতে গুটি কলম ও কাটিং তৈরি করে মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য আশ্বিন মাসে ২.৫ মিটার দূরে দূরে রোপণ করা হয়। প্রতি বছর মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক মাসে গাছের অবাঞ্ছিত শাখা ছাঁটাই করতে হয়। সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনায় খরা মৌসুমে ২-৩ বার সেচ দেয়া দরকার। পানি যাতে না জমে থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনায় লেবুর প্রজাপতি পোকা ও ক্ষতির নমুনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি বছরগুলোতে কুষ্টিয়ায় লেবুর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র কৃষক লেবু চাষের মাধ্যমে সপলতা অর্জন করেছে।

আজ বৃক্ষ মেলার সমাপনী

কৃষি প্রতিবেদক \ গত ৫ জুলাই কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে শুরু হওয়া দশ দিনব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী আজ বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানাগেছে। নানা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বৃক্ষ মেলা শেষ পর্যমত্ম নিরবেই বিদায় নিচ্ছে। সাধারণকে বৃক্ষ রোপণের প্রতি আগ্রহী করতে এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষের সাথে পরিচিতি ঘটাতে বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হলেও কেবল প্রচারণার অভাবে শেষ পর্যমত্ম লোকসমাগম ছাড়াই ইতি টানতে হচ্ছে বৃক্ষ মেলার। বিগত বছরে মেলায় অর্ধশত বৃক্ষ চারা সমৃদ্ধ ষ্টল বসলেও এবার মাত্র ৯টি ষ্টল বসেছিল। এর মধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানের তিনটি, বিএটিবির প্রদর্শনী স্টল এবং মালিকানা নার্সারী প্রতিষ্ঠান ৫টি। মালিকানা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৃক্ষ চারা প্রদর্শন করেছে আকাবা নার্সারী, আলমগীর নার্সারী এবং সরকার ফাউন্ডেশনের ‘আদর্শ গ্রাম নার্সারী’। প্রচারণার অভাবে ক্রেতা সমাগম না ঘটায় নার্সারী প্রতিষ্ঠানের যেমন লোকসান গুনতে হয়েছে অনুরূপ কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষ প্রযুক্তিগত উপায়ে উৎপাদিত নানা প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল বৃক্ষের সাথে পরিচিতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আয়োজনের ভিতরকার এ সব অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে আগামীতে কুষ্টিয়ায় বৃক্ষ মেলার আয়োজন হবে কিনা এনিয়ে সাধারণের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গোষ্মামী দুর্গাপুরে বিনামূল্যের সার বিক্রি

কৃষি প্রতিবেদক \ আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং আউশের ফলন বৃদ্ধি কল্পে সরকার কৃষকদের প্রণদনা সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে সার প্রদান করছে। আউশের ফলন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ প্রণদনা প্রকল্পের লক্ষ। গোস্বামী দুর্গাপুরে বিনা মূল্যের এই সার দুই দফায় বিক্রি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রথমত ১০০-২০০ টাকার বিনিময়ে কৃষক ও অকৃষকদের মাঝে সার দেয়া। ২য়ত সার ব্যবহারের জমি না থাকায় বাইরে বিক্রি করা। জানাযায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামীদুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪৪৫ জন কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় সার সহায়তা পেয়েছে। আউশ ধান উৎপাদন লক্ষে দেয়া এই সার দু’দফায় বিক্রি হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যে সব কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে জন প্রতি ১০০-২০০ টাকা। আবার যেসব কৃষক সার পেয়েছে তারা প্রয়োগের স্থানের অভাবে বাজারে বিক্রি করেছে। ঘটনাটি বেশ আলোচিত হচ্ছে গোস্বামী দুর্গাপুরে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার ওই এলাকায় যেয়ে জানাযায়, সার প্রাপ্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বিধি অনুযায়ী, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বাছাই কমিটি করতে হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে ক্ষুদ্র ও প্রামিত্মক কৃষক বাছাই করে তালিকা তৈরি করবেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা তা যাচাই-বাছাই পূর্বক অনুমোদন দেবেন। স্থানীয়রা জানায়, বাবুলের স্ত্রী জবেদা খাতুন, নায়েব আলীর স্ত্রী নেলি খাতুন, খেদ আলীর স্ত্রী রোমেছা খাতুন সার পেয়েছেন। অথচ তাদের কোন জমিই নেই। স্থানীয়রা জানায়, গোস্বামী দুর্গাপুরে সার প্রাপ্ত ৪৪৫ জন কৃষকের মধ্যে অমত্মত ২০০ কৃষক সার প্রয়োগের জমি না থাকায় বাইরে বিক্রি করেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তিনি তালিকা প্রস্ত্তত করেন নি। স্থানীয়রা জানায়, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসেন কালেভদ্রে। যদিওবা আসেন বাজারে অথবা রাসত্মার মোড়ে বসে নেতাদের সাথে খোশগল্প করে বিদায় নেন। তার সাথে কৃষকদের যোগাযোগ না থাকারই কথা। প্রত্যেক সার প্রাপ্ত ব্যাক্তির কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ১০০-২০০ টাকা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপ-সহকারী বলেন, তিনি তালিকা তৈরি করেন নি। বিধায় টাকার বিষয়টি জানানেই। এব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোস্বামী দুর্গাপুরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, অমত্মত ২০ জন কৃষক জনসম্মুখে স্বিকার করেছে টাকা দেবার কথা। এছাড়া গাংদির আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম গোস্বামী দুর্গাপুর বাজারে এসে কৃষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এলাকায় সাংবাদিকের উপস্থিতিতে টনক নড়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শাহাদৎ হোসেনের। তিন ০১৭১৫-০৩২৬৩০ নং মোবাইল থেকে ফোন করে প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, ‘‘কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে এ কথা আপনাকে কে জানিয়েছে’’। তালিকা প্রস্ত্তত সংক্রামেত্ম জানতে চাইলে শাহাদৎ হোসেন বলেন, তিনি ওই তালিকা তৈরি করেছেন। যে কাজটি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার করার কথা, তা কোন আমজনতাকে দিয়ে করালে সেখানে অনিয়ম হবে না এমনটা বোধকরি বলার অপেক্ষা রাখে না। পরে আ’লীগ নেতা শাহাদৎ হোসেন এ সংক্রামেত্ম রিপোর্ট না করার জন্য মৃদু চাপ প্রয়োগ করেন।

সরকার ফাউন্ডেশনের ষ্টল পরিদর্শন করলেন রেজাউল হক সরকার

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া কালেক্টর চত্বরে ১০দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলা শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন নার্সারীর পাশাপাশি যোগ হয়েছে কমলাপুর বাজারস্থ সরকার ফাউন্ডশনের পরিচালিত ‘আদর্শ গ্রাম নার্সারী’র ষ্টল। গতকাল সকালে সরকার ফাউন্ডশনের প্রধান উপদেষ্টা সরকার গ্রুপের প্রতিষ্ঠতা জাকির হোসেন সরকারের পিতা রেজাউল হক সরকার ষ্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সরকার ফাউন্ডশনের কর্মকর্তা মোছা আহম্মেদ, গোলাম মোসত্মফা, রেজাউল হক, জামাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, জিল্ল­ুর রহমান, মিলন আলী, আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ। পরিদর্শন কালে রেজাইল হক সরকার বলেন, এই প্রথমবারের মতো সরকার ফাউন্ডেশনের নার্সারী মেলায় স্টল করেছে। আগামীতে এই নার্সারীর উৎপাদিত চারা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলাকে সবুজায়নের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা জাকির হোসেনের।

কুর্শায় তামাক চাষ প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আমলা অফিস \ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে গতকাল সোমবার সকালে তামাক চাষ প্রতিরোধে প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের ২০ জন তামাক চাষী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে। আমলা বন্ধন সংস্থার আয়োজনে এবং বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুর্শা ইউপি সচিব নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুর্শা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন্ধন সংস্থার পরিচালক শাহাজ্জেল হোসেন, কুর্শা ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস ছাত্তার প্রমূখ। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বন্ধন সংস্থার কর্মী ওবাইদুল হক।

ক্যাপশনঃ

স্থানীয় জাতের আমের মৌসুম শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। এখন বাজারে ফজলি ন্যাংড়া এবং হাইব্রিড জাতের কিছু আম নজরে পড়ে। তবে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুরের এক কৃষকের আঙ্গিনায় লাগানো নাবি জাতের আম গাছের প্রতিটি পাতার সাথে ঝুলে থাকা আম নজর কাড়ছে যে কোন পথচারীর।

কুষ্টিয়ায় কলার বাম্পার ফলন

রাজু আহম্মেদ \ কুষ্টিয়ায় চলতি বছর কলার বাম্পার পলন হয়েছে। সদর উপজেলার কৃষকদের দাবি গত ২-৩ বছরের তুলনায় এবার কলার ফলন বেশ ভাল। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে সদর উপজেলায় ৮৬০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। কলা চাষীদের সাথে আলাপকালে জানাযায়, এবছর কলা চাষে বিঘাপ্রতি ব্যায় হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ২-৩ হাজার টাকা কম। চাষীরা জানায় এবছর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচ খরচ কম হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবছর এক বিঘা জমির কলা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি। এতে বিঘা প্রতি চাষীর লাভ হচ্ছে ২০ হাজার টাকার উপরে। কলা চাষীরা রোগ দমনের ক্ষেত্রে বেশ বিড়ম্বনার শিকার হন। কৃষকদের অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ না পাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ হন। কলা ধরার কিছুদিন আগে থেকে ক্ষেতে পানামা ও সিগাটোগা রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। ফলে গাছ ফেটে যায় ও পাতা লাল হয়ে শুকিয়ে মারা যায়। নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠে কলা যখন বিযযোগ্য হয় তখন পড়তে হয় ব্যাপারীদের সিন্ডিকেটের কবলে। ব্যাপারীরা যোগসাজসি হয়ে কলার ভাল মূল্য পেতে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় ব্যাপারীরা বিভিন্ন্ অজুহাত দেখিয়ে কম দামে কলা বিক্রিতে বাধ্য করে কৃষকদের। কুষ্টিয়ার বৃহৎ কলার মোকাম মধুপুর ও লক্ষীপুর। এখানকার ব্যাপারী ও আড়ৎদারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন এ দুটি মোকাম থেকে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কলা ঢাকা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, পাবনা, বরিশাল, সিলেট, খুলনা, সাতক্ষীরা ফরিদপুরসহ ৩৫ থেকে ৪০টি জেলায় সরবারাহ করা হয়। ইবি থানায় এক সময় অধিক পরিমানে কলার চাষ হতো। এখন এ অঞ্চলে কলা চাষ হ্রাস পেয়েছে। কলা চাষ হ্রাস পাবার কারণ হিসেবে ওই এলাকার কৃষকরা যানায়, পানামা ও সিগাটোগা রোগে আক্রামত্ম হয়ে পর পর কয়েক বছর ফসলহানি ঘটায় তারা কলা চাষ কমিয়ে দিয়েছে। এ রোগ সর্ম্পকে জানতে গেলে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, পানামা রোগের তেমন কোনো কিটনাশক নেই। তবে গাছ লাগানোর সময় দানাদার সার দিলে কিছুটা ভাল ফল পাওয়া যায়। সিগাটোগা রোগের জন্য টিল্ট কিটনাষক স্প্রে করলে ভাল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, একই জমিতে বছরের পর বছর কলা চাষ হওয়ায় এ ধরনের রোগের জন্ম হয়। তবে ২-৩ বছর অমত্মর অন্য ফসল চাষ করে এ রোগের আক্রমন প্রতিহত করা যায়।

দৌলতপুরে আকষ্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে ১ হাজার হেক্টর জমির ধান-পাট

শরীফুল ইসলাম \ পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে গত ৩ দিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও পাট তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ফসলি জমি জলমগ্ন হচ্ছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অধিকাংশ আবাদী জমি এখন পানির নিচে। আকষ্মিক বন্যায় উঠতি ফসল হারিয়ে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ধান ও পাট কেটে ঘরে তোলার আগেই বন্যা হানা দেয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। দৌলতপুর কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি বছর চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আউশ এবং প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। সরকারীভাবে বন্যায় সম্পূর্ন বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ ফসলের পরিমান জানাতে না পারলেও কৃষকরা বলছেন গত তিন দিনে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেগে থাকা বাঁকী ফসলও তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। রামকৃষ্ণপুর ইউপি’র বগমারী এলাকার কৃষক মুকুল বিশ্বাস জানান, আকষ্মিক বন্যায় তার ২০ বিঘা জমির ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ওই এলাকার কৃষকদের প্রায় ৫’শ বিঘা জমির ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়ার কৃষক বানাত আলী জানান, পদ্মায় আকষ্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে তার ৪ বিঘা জমির পাটক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এরকম অনেক কৃষকের উঠতি ফসল ধান, পাট, ধৈঞ্চা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে আর মাত্র ১৫-২০দিন পরে বন্যার পানি দেখা দিলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হতো বলে তারা জানান। মরিচা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মহাবুল হক জানান, আকষ্মিক বন্যা দেখা দেয়ায় তার ইউনিয়নের কৃষকরা চরম খাদ্য সংকটসহ আর্থিক সংকটের সন্মুখীন হবে। ফলে আগামী রবি মৌসুমের আগে কোন ফসল উৎপাদন করার সম্ভাবনা না থাকায় তাদের মাঝে চরম অনিশ্চয়তাও দেখা দিয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেবার সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে আহবান জানিয়েছেন।

শরীর গঠণ এবং রোগ প্রতিরোধে ফল ও বৃক্ষ

কৃষি প্রতিবেদক \ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয়। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, কাঠ ও ফলের যোগান দিতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। আবার শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ এবং বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও ফলের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে খাবার উপযোগী প্রায় ১০০ প্রজাতির ফল রয়েছে। তবে দেশের সর্বত্র পাওয়া যায় এমন ফলের সংখ্যা ৬০’র মতো। অবশ্য এসব ফল মৌসুম ভিত্তিক। দেশের সর্বত্র কম বেশি পাওয়া যায় এমন অধিক পুষ্টি এবং ঔষধীগুণ সম্পন্ন কিছু ফল যা খেয়ে শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ করা যায়। তেতুলঃ আঞ্চলিক নাম তেতুল , ইংরেজি নাম ট্যামারিন্ড এবং বৈজ্ঞানিক নাম ট্যামারিন্ডাস ইনাইডকা। জাতঃ দেশের সর্বত্র কম বেশি তেতুল চাষ হয় এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। পুষ্টিগুণঃ তেতুল ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ তেতুল একটি জনপ্রিয় ভেষজ ফল। পেটের বায়ু নাশক এবং হাত-পা জ্বালাপোড়া উপশমে তেতুলের শরবত উপকারী। তেতুলের কচি পাতা সিদ্ধ করে পানি সেবন করলে সর্দি-কাশি ভাল হয়। তেতুলে টারটারিক এসিড থাকে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। মাথাব্যাথা, কচু, ধুতরা ও এ্যালকোহলের বিষাক্ততা তেতুলের শরবত পানে নিরাময় হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিরাময়ে তেতুলের শরবত কাজ করে এবং প্যারালাইসিস অঙ্গের অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। গাছের ছালের গুড়ো দাঁত ব্যাথা, হাপানি, ও চোখ জ্বালাপোড়া উপশমে কাজ করে।  খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ৮৩.৬ গ্রাম জলীয় অংশ, খনিজ পদার্থ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬২ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.১ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ১৩.৯ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.২ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ৬ মিলিগ্রাম। জামরুলঃ আঞ্চলিক নাম জামরুল, ইংরেজি নাম ওয়াক্স এ্যাপেল এবং বৈজ্ঞানিক নাম ইউগিনিয়া যাভানিকা। জাতঃ দেশের সর্বত্র স্থানীয় জাতের সাদা ও গাঢ় মেরুন বর্ণের জামরুল চাষ হয়। বারি জামরুল-১ উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত। পুষ্টিগুণঃ জামরুল ভিটামিন বি এবং ক্যারোটিন সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ জামরুল বহুমুত্র রোগীদের পানি পিপাসা উপসম করে।  খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ৮৯.২ গ্রাম জলীয় অংশ, খনিজ পদার্থ ০.৩ গ্রাম, আঁশ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ০.৭ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ গ্রাম, ক্যারোটিন ১৪১ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০১মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.৫ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম। অড়বরইঃ আঞ্চলিক নাম অড়বরই, দেশের অনেক স্থানে এ ফলকে রয়েল ফল নামে ডাকা হয়। ইংরেজি নাম ষ্টার গোজবেরী এবং বৈজ্ঞানিক নাম ফাইলানথাস ডিজিটিখাস। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি অড়বরই চাষ হয় এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। পুষ্টিগুণঃ অড়বরই ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ অড়বরই’র রস যকৃত পেটের পীড়া, হাপানী, কাশি, বহুমুত্র, অজীর্ণ, ও জ্বর নিরাময়ে বিশেষ উপকারী। এর পাতার রস আমাশয় প্রতিশেধক ও বলকারক। অড়বরই ফলের রসের শরবত খেলে জন্ডিস, বদহজম, ও কাশি নিরাময় হয়। হাপানী, কাশি, বহুমুত্র ও জ্বর নিরাময়ে ফলের বিচি মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম আড়বই ফলে জলীয় অংশ ৯১.৪ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ০.৯ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৩.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.২ গ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৮ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম। আমলকিঃ আঞ্চলিক নাম আমলকি, ইংরেজি নাম এ্যাওনলা এবং বৈজ্ঞানিক নাম এ্যামবি­কা আফিসিনালিস। জাতঃ দেশের অধিকাংশ জেলায় কম বেশি আমলকি  চাষ হয় এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। পুষ্টিগুণঃ আমলকি ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ আমলকির রস যকৃত, পেটের পীড়া, হাপানি, কাশি, বহুমুত্র, অজীর্ণ, ও জ্বর নিরাময়ে কাজ করে। আমলকির সরবত জন্ডিস, বদহজম নিবারক এবং কাশির জন্য উপকারী। পাতার রস আমাশয় প্রতিশেধক এবং বলকারক। হাপানী, কাশি, বহুমুত্র ও জ্বর নিরাময়ে এর বীজ উত্তম ঔষধ। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ৯১.৪ গ্রাম জলীয় অংশ, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ০.৯ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৩.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.১ গ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.৮ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম। লটকনঃ আঞ্চলিক না লটকন, ইংরেজি নাম বার্মিজ গাপ এবং বৈজ্ঞানিক নাম বাকাউরিয়া সাপিদা। জাতঃ দেশের উত্তরাঞ্চলের  জেলাগুলোতে কম বেশি লটকন চাষ হয়ে থাকে। এর কোন অনুমোদিত জাত উদ্ভাবিত নাই। পুষ্টিগুণঃ লটকন ভিটামিন বি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ লটকন অম­মধুর ফল। লটকন বমিভাব দুর করে এবং তৃষ্ণা নিবারক। পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে খেলে ডায়রিয়ার উপসম হয় এবং মানসিক চাপ কমায়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৯১ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.৪২ গ্রাম, চর্বি ০.৪৫ গ্রাম, লৌহ ০.৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০.৩ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন বি২-০.১৯ মিলিগ্রাম। ডুমুরঃ আঞ্চলিক নাম ডুমুর, ইংরেজি নাম ফিগ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ফিকাস কারিকা। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি স্থানীয় জাতের ডুমুর চাষ হয়ে থাকে। এর কোন অনুমোদিত জাত উদ্ভাবিত নাই। পুষ্টিগুণঃ ডুমুর ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন এবং ক্যালোরি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ ডুমুর ফল টিউমারসহ শরীরের অস্ব^াভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে। পাতা চুর্ণ যকৃতের পাথর, বহুমুত্র ও বৃক্ক রোগ নিরাময় করে। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৮৮.১ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ০.৬ গ্রাম, আঁশ ২.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩৭ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.৩ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ৭.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৬২ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০৫ মিলিগ্রাম, এবং ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম। কদবেলঃ আঞ্চলিক নাম কদবেল, ইংরেজি নাম এলিফ্যান্ট ফোট এ্যাপেল এবং বৈজ্ঞানিক নাম ফেরোনিয়া লেমোনিয়া। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি স্থানীয় জাতের কদবেল চাষ হয়ে থাকে। এর কোন অনুমোদিত জাত উদ্ভাবিত নাই। পুষ্টিগুণঃ কদবেল ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ কদবেল যকৃত এবং হৃতপিন্ডের বল বৃদ্ধি করে। বিষাক্ত পোকা কামড়ালে ক্ষত স্থানে ফলের শাঁস ও খোসা গুড়ো করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কচি পাতার রস দুধ বা মিছরির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে শিশুদের পিত্ত রোগ ও পেটের নানা রোগ ভাল হয়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৮৫.৬ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ২.২ গ্রাম, আঁশ ৫.০ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.৮০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০৩ মিলিগ্রাম, এবং ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্রাম। জলপাইঃ আঞ্চলিক নাম জলপাই, ইংরেজি নাম ওলিভ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ইলাকোকারপাস ফ্লোরিবানডাস। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি স্থানীয় জাতের জলপাই চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া ইন্ডিয়ান, থাই ও হাইব্রিড জাত অনুমোদিত। পুষ্টিগুণঃ জলপাইয়ে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়া ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যামন। ঔষধিগুণঃ জলপাইয়ের তেল ম্যাসাজ অয়েল, প্রলেপ ও রোচক হিসেবে ব্যবহার হয়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৮২.০ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, আঁশ ২.৬ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.০ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০২ মিলিগ্রাম, এবং ভিটামিন সি ৩৯ মিলিগ্রাম। আঁশফলঃ আঞ্চলিক নাম আঁশফল, ইংরেজি নাম লঙ্গান এবং বৈজ্ঞানিক নাম নেফিলিয়াম লঙ্গান। জাতঃ আঁশফল দেশের দক্ষিনাঞ্চলে পিচফল নামে পরিচিতি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা কতৃক উদ্ভাবিত বারি আঁশফল-১ এর অনুমোদিত জাত। পুষ্টিগুণঃ আঁশফল আমিষ সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ আঁশফল উদারাময় নিবারক ও কৃমিনাশক। চিনদেশে আঁশফল বলকারক এবং ইন্দোচিনে শুকনো ফল ব্রেন টনিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে আঁশ ০.৩৪ গ্রাম। আমিষ ১.৪২ গ্রাম, চর্বি ০.৪৫ গ্রাম এবং শর্করা ২.৪ গ্রাম। গাবঃ আঞ্চলিক নাম গাব, ইংরেজি নাম রিভারবনী এবং বৈজ্ঞানিক নাম ডায়োসপাইরাস পারগ্রাইনা। জাতঃ এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। তবে দেশে দুই ধরনের গাব চাষ হয় (১) পাতিগাব (২) বিলাতি গাব। পুষ্টিগুণঃ গাব ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ পাতি গাবের ফলের খোসার গুড়ো আমাশয় নিরাময় করে, একজিমা নিরাময় ও চর্মপীড়ার মলম তৈরিতে ব্যবহার হয়। খোসা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেবন করলে কৃমি, পাতলা পায়খানা, আমাশায় ও মুত্র রোগের উপশম হয়। বিলাতি গাবের ফল রক্ত আমাশয় ও উদারাময় রোগের উপসম করে। পাকা ফল মুখের ও গলার ঘা ধৌতকরণের কাজ করে।খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৬৯.৬ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, আঁশ ১.৫ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১১৩ কিলোক্যালরী, আমিষ ১.৪ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ২৬.৬ গ্রাম এবং ক্যালসিয়াম ৫৮ মিলিগ্রাম। ডেউয়াঃ আঞ্চলিক নাম ডেউয়া, ইংরেজি নাম মানকি জ্যাক এবং বৈজ্ঞানিক নাম এ্যাবতোকারপাস লাখোজা। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি ডেউয়া চাষ হয় এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। পুষ্টিগুণঃ ডেউয়া ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ পাকা ফল পিত্তবিকারে ও যকৃতের পীড়া উপসমকারী। গাছের ছালের গুড়ো ত্বকের রুক্ষতা দুর করে এবং ব্রনের দূষিত পুঁজ বের করে। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা ফলে খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরী, আমিষ ০.৭ গ্রাম, শর্করা ১৩.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৫ গ্রাম, ভিটামিন বি১-০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.১৫ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম। পানিফলঃ আঞ্চলিক নাম পানিফল, ইংরেজি নাম ওয়াটার চেষ্টনাট এবং বৈজ্ঞানিক নাম ট্রাপা বিকরনিস। জাতঃ দেশের অনেক স্থানে পানিফল চাষ হয় এর কোন অনুমোদিত জাত নাই। পুষ্টিগুণঃ পানিফল সব ধরণের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগের উপশম হয়। পানিফল খেলে পিত্তপ্রদাহ, উদারাময় ও তলপেটের পীড়া উপশম হয়। বিছাপোকা কামড়ালে ক্ষতস্থানে পানিফল পিশে প্রলেপ দিলে দ্রুত ব্যাথা লাঘব হয়।  খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ৮৪.৯ গ্রাম জলীয় অংশ, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, আঁশ ১.৬ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৫ কিলোক্যালরী, আমিষ ২.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৯ গ্রাম, শর্করা ১১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৮ গ্রাম, ভিটামিন বি১-০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০৫ মিলিগ্রমি এবং ভিটামিন সি ১৫ মিলিগ্রাম। সব ফলই কম বেশি ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। আবার অনেক ফলের রয়েছে সরাসরি রোগ নিরাময় ক্ষমতা। মৌসুম বিত্তিক এসব ফল খেয়ে যেমন চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব অপর দিকে শরীর গঠন সম্ভব। তবে ফল প্রাপ্তির আগে প্রয়োজন অধিক ফলজ বৃক্ষ রোপন। (তথ্যসুত্র-বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্যসার্ভিস বিভাগ

খাজানগর চালের মোকাম সিসি লোন সৃষ্টি করছে মজুতদার শ্রেণী কারো লাভ কারো ক্ষতি

এস কে বাশার \ বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। ১৯৫০ সালের দিকে মোকামের গোড়া পত্তন। বর্তমান চাল কলের সংখ্যা ছোট বড় মিলে ৩ শতাধিক। মোকামে ধান-চাল ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। বছর দশেক আগেও মোকামের সর্বত্র এক ধারায় ব্যবসা পরিচালিত হলেও ২০০০ সালের দিকে শুরু হয় দ্বিমুখী ব্যবস্থাপনা। চালকল মালিক ও ধান-চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুরু হয়েছে শ্রেণী বিভাজন। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিসি লোনের বদৌলতে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে মজুতদার শ্রেণীর। তবে এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। জানাগেছে কুষ্টিয়ার চালের মোকামে সর্বাধিক ২৫ জন মজুতদার ব্যবসায়ী রয়েছে। যারা চালের বাজারকে করে তুলছে অস্থিতিশীল। তবে ব্যবসায়ীদের বৃহত্তম অংশটি দিন দিন পুঁজি হারানোর তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানায়, সিসি লোন মোকামে মজুতদার শ্রেণীর সৃষ্টি করছে। সিসি লোনের আর্থিক সহায়তায় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ধান কর্তন মৌসুমে মজুদ করছে। কর্তন মৌসুম শেষে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। অপরদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ধানের মৌসুম শেষ হবার পরেই অধিক মূল্যে ধান কিনতে বাধ্য হয়। যার ফলে ধান চালের বাজারের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় লোকসানের শিকার হয়। গতকাল খাজানগর চালের মোকামে ধান-চালের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে এসব তথ্য জানায় ব্যবসায়ীরা। মোকামে গতকাল চালের বাজার ছিল প্রতিমন (৪০ কেজি) মিনিকেট ১৫৮০-১৬০০ টাকা, কাজললতা ১৫৬০ টাকা এবং ব্রি-২৮ প্রতিমন ১৪৮০-১৫০০ টাকা। অপরদিকে ধানের বাজার মিনিকেট ১০০০ টাকা, কাজললতা ৯৮০ টাকা এবং ব্রি-২৮ প্রতিমন ৯৫০ টাকা। দু’মাস আগে ধান কর্তন মৌসুমে এ ধান বিক্রি হয়েছে মিনিকেট ৭৫০-৮০০ টাকা, কাজললতা ৭৩০-৭৮০ টাকা এবং ব্রি-২৮ ধান ৬৫০-৭০০ টাকা। ব্যবসায়ীদের হিসেবে মতে ধান ক্রয় থেকে চাল উৎপাদন পর্যমত্ম প্রতিমন (৪০ কেজি) চালে খরচ পড়ে ১৭৫০ টাকা। খুদ এবং পালিশ থেকে আয় হয় ৫০ টাকা। প্রতিমন চালের বিক্রয় মূল্য ১৫৮০-১৬০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমন চালে লোকসান হয় ১০০ টাকা। অপরদিকে সিসি লোন গ্রহিতাদের গোডাউনে ধান মজুদ থাকায় বর্তমান বর্ধিত মূল্যে তাদের ধান কিনতে হয় না। অর্থাৎ কর্তন মৌসুমে মজুদকৃত ধানই এখন সিসি লোন গ্রহিতারা ১ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করছে। অর্থাৎ মজুতদার ব্যবসায়ীরা এখন প্রতিমন ধান-চালে লভ্যাংশ পাচ্ছে ২০০ টাকা। ধানের বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহের কৃষক আবুল কালাম বলেন, তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধান রোপন করে ফলন পেয়েছেন ১০০ মন। যা মৌসুমেই বিক্রি হয়েছে। কালামের মতে এখন কোন কৃষকের ঘরেই বিক্রিযোগ্য ধান নেই। যা আছে ব্যবসায়ীদের কাছে। সাধারণ কৃষকদের মাঝেও মজুতদার ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। ধান-চাল ব্যবসায়ী এফ এম এনামূল হক বলেন, ৪০ কেজি চালের উৎপাদন ব্যয় ১৭৫০ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্য ১৬০০ টাকা। খুদ এবং পালিশ থেকে আসে ৫০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিমন চালে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। বছরের অমত্মত ৬ মাস লোকসান গুনতে হয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের। আর সারা বছর তাদেরকে কোনঠাসা করে রাখে মজুতদার এবং অটো চালকল মালিকরা। ধান-চাল ব্যবসায়ী এফ এম বিল্লাল হোসেন বলেন, বছরে ৬-৭ মাস লোকসান দিয়েও ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে যায়। কেননা এই সময়টাতে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে পরে চাতাল পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সিসি লোনের কারণে যেমন সাধারণ ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছে তেমনি মজুতদারের কারণে চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বর্তমানে কুষ্টিয়ার চালের মোকামে কি পরিমান ধান-চাল মজুত রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানায়, যে পরিমান সিসি লোন দেয়া আছে সে পরিমান মজুদও রয়েছে। একজন ব্যবসায়ীকে যখন ১০ কোটি টাকা লোন দেয়া হচ্ছে তখন ওই টাকার ব্যংক সুদ পরিশোধের জন্য মজুতদারি ছাড়া কোন উপায় থাকে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ধান চাল মজুতের সঙ্গে কেবল ব্যবসায়ীরা জড়িত নয়। এর সাথে ব্যংক প্রতিষ্ঠানও জড়িত। সিসি লোনের কারণে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী লাভের অংশীদার হলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের।

৪০ হাজার বৃক্ষ চারা বিতরণ করবেন প্রকৌশলী টুটুল

কৃষি প্রতিবেদক \ আরবান রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থায়নে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও গাছের চারা বিতরন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে ২টি মাদ্রাসায় প্রায় ৩শ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতের ফলের চারা এবং গোলাপ ফুলের চারা বিতরণ করে এ বছরের কর্মসুচী শুরু করেন প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল। চারা বিতরণ শেষে প্রকৌশলী টুটুল উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রীন হাউজ এর ইফেক্ট সম্পর্কে ধারনা দেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের করনীয় সম্পর্কে বিসত্মারিত আলোচনা কালে তিনি বলেন, দেশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট আয়তনের ২৫ ভাগ এলাকায় গাছপালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তুসেই তুলনায় আমাদের বনভূমি অনেক কম। যার ফলে চাহিদা মোতাবেক বৃষ্টি হচ্ছে না। আর বৃষ্টি না হওয়ার কারনে ভূ-গর্ভস্থ্য পানির সত্মর দিন-দিন নীচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় দেখা যায় গ্রীষ্ম কালে অধিকাংশ নলকুপে পানি থাকে না। তিনি আরও বলেন, গাছের অভাবে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাচ্ছে আর কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমান বেড়ে যাচ্ছে। ফলে গরমের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে আর বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। এ ভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের দেশের অনেক এলাকা সমুদ্রের পানিতে ডুবে যেতে পারে। আর এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে বেশী বেশী করে গাছ লাগাতে হবে এবং গাছের পরিচর্যা করতে হবে। চারা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মজিদ মেম্বর, রুহুল ইসলাম, জাফরুল ইসলাম, ডাঃ আবুল হোসেন, আরবান রিসোর্স সেন্টারের সদস্য আবুল বাসার ঢালী ও সেলিম উদ্দিন প্রমুখ। উলে¬¬খ্য প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল ২০০৫ সাল হতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের গাছ লাগানোর প্রতি উদ্ভুদ্ধ করে তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিনা মুল্যে বিতরন করে আসছেন।

রোগ প্রতিরোধে ফল

কৃষি প্রতিবেদক \ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় কিন্তু বাংলাদেশে মোট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ বনভূমি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, কাঠ ও ফলের যোগান দিতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। আবার শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ এবং বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও ফলের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে খাবার উপযোগী প্রায় ১০০ প্রজাতির ফল রয়েছে। তবে দেশের সর্বত্র পাওয়া যায় এমন ফলের সংখ্যা ৬০’র মতো। অবশ্য এসব ফল মৌসুম ভিত্তিক। মৌসুম ভিত্তিক এ সব ফল খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতী গঠন সহজ হবে। কদবেলঃ আঞ্চলিক নাম কদবেল, ইংরেজি নাম এলিফ্যান্ট ফোট এ্যাপেল এবং বৈজ্ঞানিক নাম ফেরোনিয়া লেমোনিয়া। জাতঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি স্থানীয় জাতের কদবেল চাষ হয়ে থাকে। এর কোন অনুমোদিত জাত উদ্ভাবিত নাই। পুষ্টিগুণঃ কদবেল ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। ঔষধিগুণঃ কদবেল যকৃত এবং হৃতপিন্ডের বল বৃদ্ধি করে। বিষাক্ত পোকা কামড়ালে ক্ষত স্থানে ফলের শাঁস ও খোসা গুড়ো করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কচি পাতার রস দুধ বা মিছরির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে শিশুদের পিত্ত রোগ ও পেটের নানা রোগ ভাল হয়। খাদ্য উপাদানঃ প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে জলীয় অংশের পরিমান ৮৫.৬ গ্রাম। খনিজ পদার্থ ২.২ গ্রাম, আঁশ ৫.০ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালরী, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১-০.৮০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২-০.০৩ মিলিগ্রাম, এবং ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্রাম। ব্যবহারঃ কদবেল কাচা ও পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয়। কদবেলের শাঁস, খোসা ও কচিপাতা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। কদবেল থেকে আচার ও চাটনী তৈরি হয়। রোপনকালঃ বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত কদবেল চারা রোপনের উত্তম সময়। তবে ভাদ্র আশ্বিন মাসেও চারা রোপন করা যায়। চারা থেকে চারার দুরত্ব ৮ মিটার। চারা রোপনের জন্য ৭৫ ঘন সেন্টিমিটার গর্ত করতে হয়। সার ব্যবস্থাপনাঃ গর্তের নিচের অর্ধেক মাটির সাথে ১৫-২০ কেজি শুকনো গোবর সার, ৫০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে পরে চারা রোপন করতে হবে। ফল ধারনঃ চারা রোপনের ৫-৬ বছরের মাথায় গাছ ফল দিতে সক্ষম হয়। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ ২০-২৫ ফুট লম্বা হয় এবং একটি গাছে বছরে ৩-৫শ ফল পাওয়া যায়। উৎপাদন এলাকাঃ দেশের সর্বত্র কমবেশি কদবেল চাষ হয়। তবে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে কদবেল চাষ হয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় কিন্তু বাংলাদেশে মোট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ বনভূমি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ রোধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, কাঠ ও ফলের যোগান দিতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। আবার শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ, শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ এবং বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও ফলের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশে খাবার উপযোগী প্রায় ১০০ প্রজাতির ফল রয়েছে। তবে দেশের সর্বত্র পাওয়া যায় এমন ফলের সংখ্যা ৬০’র মতো। অবশ্য এসব ফল মৌসুম ভিত্তিক। মৌসুম ভিত্তিক এ সব ফল খেয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতী গঠন সহজ হবে। (তথ্যসুত্র-বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্যসার্ভিস)

নিবিড় ধান চাষ মাটির খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি করছে

এস কে বাশার \ একই জমিতে সারা বছর অর্থাৎ তিন মৌসুমে ধান চাষ করাকে নিবিড় ধান চাষ বলে। একই জমিতে সারা বছর ধান চাষের ফলে জমিতে কোন একটি বিশেষ খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে খাদ্যের অভাব জনিত কারনে নানা রকম রোগ-বালাই’র আক্রমন হতে পারে। আর এ অর্থেই বলা হয় নিবিড় ধান চাষ ফসলের রোগ বালাই বৃদ্ধি করে। বন্যামুক্ত বা স্বাভাবিক সেচের ব্যবস্থা আছে এমন জমি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ ধরনের জমিকে চাষীরা সাধারনত ধান চাষের জন্য বেছে নেয়। ওই জমিটি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী তবে সারা বছর ধান চাষের জন্য উপযোগী নয়। এক খন্ড জমিতে যদি সারা বছর ধান চাষ হয় আর ওই জমিতে যদি সুষম সার ব্যবহার না হয় তাহলেই দেখা দিতে পারে বিপর্যয়। অর্থাৎ ফসল নানা রোগ ও কীট পতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। একটি জমি থেকে অধিক ধান প্রাপ্তি বা খাদ্য চাহিদা পুরণের আশায় চাষীরা সারা বছর ধান চাষ করে থাকে। একদিকে সারা বছর ধান চাষ অপর দিকে জমিতে সুষম সার ব্যবহার না হওয়ায় দেখা দেয় নানা রোগ-বালাই। রোগ বালাই’র আক্রমনে চাষীর কাঙ্খিত ফলের পরিবর্তে ফসল হানির কারণ হয়ে দেখা দেয়। দেশে বর্তমান ফলন অনুযায়ী এক বছরে এক বিঘে জমি থেকে সর্বাধিক ৫০ মন ধান উৎপাদন হচ্ছে। যা মোটেও ভাল ফলন নয়। অথচ ওই জমি থেকে এক বছরে দুই মৌসুমে ৫০-৬০ মন ধান উৎপাদন হবার কথা। দেশের অন্যতম ফসল জোন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার চাষীরা ধানী জমিতে কেবল ধান চাষ করে থাকে অর্থাৎ আউশ, আমন এবং বোরো তিন মৌসুমেই ধান চাষ করে। বর্তমান চাষীরা যে সব ধান চাষ করে এক মৌসুমে তার ফলন হবার কথা সর্বনিম্ন ২৫-৩০ মন। কিন্তু ওই জমিতে সারা বছর ধান চাষ হওয়ায় এবং সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার না হওয়ায় বোরো মৌসুমে বিঘে প্রতি ২০ মন, আউশ মৌসুমে ১২ মন এবং আমন মৌসুমে ফলন পাচ্ছে ১৫ মন। অর্থাৎ বাৎস্যরিক ফলন কখনই ৫০ মন পার করতে পারছে না। কিন্তু চাষীরা যদি ফসলের বিন্যাস মেনে চাষ করত অর্থাৎ দুটি ধানের মাঝখানে এক মৌসুমে সবজি, ডাল, তৈলবীজ বা পাট চাষ করত তাহলে ফলন আরো বৃদ্ধি পেত। আবার উফসি জাতের ধানের স্বাভাবিক ফলন ২৫-৩০ মন হওয়া সত্বেও ২০ মন ফলন পেতেই চাষীকে গলদঘর্ম হতে হয়। কিন্তু স্বাভাবিক সেচনীতি, সুষম সার ব্যবহারনীতি, জৈব সার ব্যবহার এবং উন্নত বীজ সংরক্ষন পদ্ধতি মেনে চাষাবাদ করা হলে অল্প খরচে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া সম্ভব। ধানী জমিতে সেচের অর্থ এই নয় যে সারা বছর ধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে রাখা বরং জমিতে স্বাভাবিক রস থাকাই সেচনীতি অর্থাৎ আবার জমি একবার ভিজবে আবার শুকাবে এটাই সেচনীতি। চাষীরা জমিতে ধান রোপনের আগে সার ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। বরং ধান রোপনের পরেই সার ব্যবহার করে থাকে চাষীরা। আর সার বলতে চাষীরা কেবল ইউরিয়াকেই বুঝে থাকে। টিএসপি এবং এমওপি সার ব্যবহার হয় যৎসামান্য, জিপ, জিংক, দস্তা, বোরন সার ব্যবহার হয়না বললেই চলে। অথচ মাটি থেকে ভাল ফসল উৎপাদনের জন্য ১৬টি উপাদান প্রয়োজন। এসব উপাদানের কিছু মাটি বাতাস ও পানি থেকে সরবরাহ করে আর বাকি কিছু উপাদান চাষীকে সরসরি প্রয়োগ করতে হয়। জমিতে সরাসরি প্রয়োগকৃত উপাদানের মধ্যে অন্যতম জৈব সার যা কখনই ব্যবহার হয়না। জমিতে সব ধরনের সার সমানভাবে ব্যবহার না হওয়ায় দেখা দেয় রোগ এবং কীট-পতঙ্গের আক্রমন ঘটে। আক্রান্ত ক্ষেতের পোকা ও রোগ দমন করতে যেয়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় আবার আক্রান্ত ক্ষেত থেকে স্বাভাবিক ফলন প্রাপ্তি বিঘ্নিত হয়। একটি জমি থেকে ভাল ফসল পাবার জন্য চাষীকে অবশ্যই ফসল চাষনীতি মেনে চলা উচিত। ফসল চাষনীতি কেবল ভাল ফসলই দেয় না একই সাথে চাষ ব্যয় কমায় এবং রোগমুক্ত ভাল ফসল প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।

ভিটামিন ও ঔষধি ফল ডালিম

কাঞ্চন কুমার \ কুষ্টিয়া শহরসহ বিভিন্ন হাটে-বাজার মৌসুমী ফল ডালিম পাওয়া যাচ্ছে। ডালিমের প্রচুর ভিটামিন ও ঔষধিগুণ রয়েছে। ডালিম সাধারণত ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট হয়ে। প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। ডালিম পাকলে লাল রং ও খোসার ভিতরে ছোট ছোট গাঢ় লাল বর্ণের রাসালো দানা আকৃতির থাকে। জাত ভেদে ডালিম দুই প্রকারের হয়ে থাকে। একটি ডালিম আর একটি ডালিম সাদৃশ্য কিন্ত বেদানা নামে পরিচিত। এ ফলে প্রচুর পরিমানে লৌহ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। তীব্র গরমে শরীরের পানী শূন্যতা, শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে এ ফলের কোন বিকল্প নেই। ডালিম শরীরের রক্ত পরিস্কার করে থাকে। জ্বর নিরাময় ও রুচি বর্ধকও বটে। এই ফলকে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে এক অন্যরকম অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়। ডালিম মৌসুমি ফল হলেও দাম অনেক বেশি। আর এ কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ এ থেকে বঞ্চিত হয়।

বৃ মেলায় ক্রেতা শুন্য সরকার ফাউন্ডেশনের ষ্টল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া কালেক্টর চত্বেরে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৃ মেলা। বিভিন্ন নার্সারী ষ্টলের পাশাপাশি প্রথম বারের মত অংশ নিয়েছে কমলাপুর বাজারস্থ সরকার ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘আদর্শ গ্রাম নার্সারী’। আদর্শ গ্রাম নার্সরীর ষ্টলে শতাধীক প্রজাতীর ফলজ, বনজ, শোভা বর্ধনকারী ও ঔষধী গাছের চারা রয়েছে। সরকার ফাউন্ডেশনের সত্বাধীকারী ও সরকার গ্র“পের প্রতিষ্ঠতা প্রকৌঃ জাকির হোসেন সরকার বলেন, সরকার ফাউন্ডশনের পরিচালিত আদর্শ গ্রাম নার্সারীতে দুস্থ কৃষক ও স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য নামমাত্র মুল্যে চারা কেনার সুযোগ রয়েছে। জাকির হোসেন বলেন, আদর্শ গ্রাম নার্সারী উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য বৃ চারা প্রদর্শনীর জন্য মেলায় নিয়ে এসেছে। নার্সারীতে উৎপাদিত চারা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, শিা প্রতিষ্ঠান, মন্দিরে মেলার পর থেকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে সরকারী, বে-সরকারী পরিত্যাক্ত জমিতে বাগান সৃজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকার ফাউন্ডেশনের।

জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার

এস কে বাশার ॥ আগের মতো জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার। পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। ব্যাপক চাহিদা ছিল ক্রেতাদের মাঝে। প্রতিদিন হাজার হাজার বৃ চারা বিক্রি করত এক এক নার্সারী প্রতিষ্ঠান। বিক্রিকৃত চারার মধ্যে বনজ চারাই ছিল বেশি। তবে ফলজ বৃও বিক্রি হতো, তুলনামূলক কম। বৃ চারা ব্যবসা ভাল চলায় গ্রাম কিংবা শহরতলীতে গড়ে ওঠে নার্সারী প্রতিষ্ঠান। জলবায়ুর উষ্ণতা জনিত প্রাকৃতিক পরিবর্তন রোধে মানুষ বৃ রোপণের দিকে ঝুকে পড়ে। সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধন্যাঢ্য ব্যাক্তিও বৃ চারা বিতরণের উদ্যোগী হয়। অনেকে আবার এক বছর আগে থেকেই বৃ চারা বিতরণের প্রস্তুতি লে নিজস্ব জমিতে পলিব্যাগে বীজ বপনের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করতে থাকে। বিনামূল্যে চারা প্রাপ্তির কারণে সাধারণ মানুষ নার্সারী বিমুখ হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই ভাটা পড়েছে নার্সারী ব্যবসায়। চলতি বছর বিএটিবি বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় ১৫ লাখ ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করবে। বিএটিবির একাধিক নিজস্ব নার্সারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজস্ব নার্সারীতে উৎপাদিত চারাই এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করা হয়। এদিকে জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের বৃ চারা বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ করা হবে কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের মাধ্যমে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মাদ নিশাদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে সরকার জলবায়ু ট্রাষ্ট বোর্ডের আওতায় কুষ্টিয়া মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ ল্যমাত্রা নির্দ্ধারণ করে দিয়েছে। বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণের মাঝে এ চারা বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০টি, মেহেরপুর জেলায় ১ লাখ ৪০০০ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ লাখ ৬০০০ চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। এরকম আরো এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাক্তি উদ্যোগেও বৃ চারা বিতরণ করা হচ্ছে। আর এসব কারণেই নার্সারী ব্যবসায় ধ্বস নামছে বলে জানান বিভিন্ন নার্সারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। কুষ্টিয়ার সর্বাধিক পরিচিত আকাবা নার্সারীর মালিক ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, একমাত্র ফলজ বৃ ছাড়া বনজ বৃ চারা ক্রয় করতে এখন আর সাধারণ মানুষ নার্সারী মুখী হয় না। তিনি বলেন, দু’তিন বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে নার্সারী থেকে মেহগণী, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ চারা কিনে নিয়ে হাটে বাজারে বিক্রি করত। এখন সে ধারার পরিবর্তন হয়েছে। ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, বৃ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর বৃ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায়ও আগের মতো লোক সমাগম হয় না। মেলার ১০ দিন আগে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ধারাও পরিবর্তন হয়েছে। প্রচার না থাকায় বৃ মেলায়ও লোক সমাগম হয় না। কুষ্টিয়া শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা অনেক নার্সারী ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। নার্সারী প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সরকারেরও কোন উদ্যোগ অদ্যবধি পরিলতি হয়নি। বর্তমানে নার্সারীতে বিভিন্ন প্রজাতির হাইব্রিড, ইনব্রিড, দেশী ও বিদেশী প্রজাতির ফলজ চারা উৎপাদন হলেও তার বিক্রি খুবই কম। আর এ কারণে নার্সারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লোকসানের শিকার হয়ে বন্ধের মুখে।

বৃক্ষ মেলায় ক্রেতা শুন্য সরকার ফাউন্ডেশনের ষ্টল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া কালেক্টর চত্বেরে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৃ মেলা। বিভিন্ন নার্সারী ষ্টলের পাশাপাশি প্রথম বারের মত অংশ নিয়েছে কমলাপুর বাজারস্থ সরকার ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘আদর্শ গ্রাম নার্সারী’। আদর্শ গ্রাম নার্সরীর ষ্টলে শতাধীক প্রজাতীর ফলজ, বনজ, শোভা বর্ধনকারী ও ঔষধী গাছের চারা রয়েছে। সরকার ফাউন্ডেশনের সত্বাধীকারী ও সরকার গ্র“পের প্রতিষ্ঠতা প্রকৌঃ জাকির হোসেন সরকার বলেন, সরকার ফাউন্ডশনের পরিচালিত আদর্শ গ্রাম নার্সারীতে দুস্থ কৃষক ও স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য নামমাত্র মুল্যে চারা কেনার সুযোগ রয়েছে। জাকির হোসেন বলেন, আদর্শ গ্রাম নার্সারী উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য বৃ চারা প্রদর্শনীর জন্য মেলায় নিয়ে এসেছে। নার্সারীতে উৎপাদিত চারা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, শিা প্রতিষ্ঠান, মন্দিরে মেলার পর থেকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে সরকারী, বে-সরকারী পরিত্যাক্ত জমিতে বাগান সৃজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকার ফাউন্ডেশনের।

জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার

এস কে বাশার ॥ আগের মতো জৌলুস নেই নার্সারী ব্যবসার। পাঁচ-ছয় বছর আগের কথা। ব্যাপক চাহিদা ছিল ক্রেতাদের মাঝে। প্রতিদিন হাজার হাজার বৃ চারা বিক্রি করত এক এক নার্সারী প্রতিষ্ঠান। বিক্রিকৃত চারার মধ্যে বনজ চারাই ছিল বেশি। তবে ফলজ বৃও বিক্রি হতো, তুলনামূলক কম। বৃ চারা ব্যবসা ভাল চলায় গ্রাম কিংবা শহরতলীতে গড়ে ওঠে নার্সারী প্রতিষ্ঠান। জলবায়ুর উষ্ণতা জনিত প্রাকৃতিক পরিবর্তন রোধে মানুষ বৃ রোপণের দিকে ঝুকে পড়ে। সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধন্যাঢ্য ব্যাক্তিও বৃ চারা বিতরণের উদ্যোগী হয়। অনেকে আবার এক বছর আগে থেকেই বৃ চারা বিতরণের প্রস্তুতি লে নিজস্ব জমিতে পলিব্যাগে বীজ বপনের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করতে থাকে। বিনামূল্যে চারা প্রাপ্তির কারণে সাধারণ মানুষ নার্সারী বিমুখ হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই ভাটা পড়েছে নার্সারী ব্যবসায়। চলতি বছর বিএটিবি বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় ১৫ লাখ ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করবে। বিএটিবির একাধিক নিজস্ব নার্সারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজস্ব নার্সারীতে উৎপাদিত চারাই এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করা হয়। এদিকে জলবায়ু ট্রাষ্ট ফান্ডের বৃ চারা বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ করা হবে কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের মাধ্যমে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মাদ নিশাদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে সরকার জলবায়ু ট্রাষ্ট বোর্ডের আওতায় কুষ্টিয়া মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫০টি চারা বিতরণ ল্যমাত্রা নির্দ্ধারণ করে দিয়েছে। বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণের মাঝে এ চারা বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে কুষ্টিয়া জেলায় ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০টি, মেহেরপুর জেলায় ১ লাখ ৪০০০ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ লাখ ৬০০০ চারা বিতরণ করা হবে বলে জানান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। এরকম আরো এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাক্তি উদ্যোগেও বৃ চারা বিতরণ করা হচ্ছে। আর এসব কারণেই নার্সারী ব্যবসায় ধ্বস নামছে বলে জানান বিভিন্ন নার্সারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। কুষ্টিয়ার সর্বাধিক পরিচিত আকাবা নার্সারীর মালিক ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, একমাত্র ফলজ বৃ ছাড়া বনজ বৃ চারা ক্রয় করতে এখন আর সাধারণ মানুষ নার্সারী মুখী হয় না। তিনি বলেন, দু’তিন বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে নার্সারী থেকে মেহগণী, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ চারা কিনে নিয়ে হাটে বাজারে বিক্রি করত। এখন সে ধারার পরিবর্তন হয়েছে। ডাঃ রুহুল আমিন বলেন, বৃ রোপণে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর বৃ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায়ও আগের মতো লোক সমাগম হয় না। মেলার ১০ দিন আগে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ধারাও পরিবর্তন হয়েছে। প্রচার না থাকায় বৃ মেলায়ও লোক সমাগম হয় না। কুষ্টিয়া শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠা অনেক নার্সারী ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। নার্সারী প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সরকারেরও কোন উদ্যোগ অদ্যবধি পরিলতি হয়নি। বর্তমানে নার্সারীতে বিভিন্ন প্রজাতির হাইব্রিড, ইনব্রিড, দেশী ও বিদেশী প্রজাতির ফলজ চারা উৎপাদন হলেও তার বিক্রি খুবই কম। আর এ কারণে নার্সারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লোকসানের শিকার হয়ে বন্ধের মুখে।

বর্ষায় আউশ ও সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা

কৃষি প্রতিবেদক : চাষীভাই, আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে লাগাতার বর্ষণ। এ বর্ষণে সদ্যরোপিত আউশের ক্ষেতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে ধানের বৃদ্ধি বিঘ্নিত হতে পারে। ধানের গোড়া পচে যেতে পারে। আবার ধান গাছ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হতে পারে। অপরদিকে সবজি ক্ষেতে পানি জমে থাকলে গাছের গোড়াপচা রোগ হতে পারে। গাছের ফল ধারণ হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে, শশা, জিঙ্গা, বেগুন, পেঁপে, মরিচসহ সব ধরণের লতা ও শক্ত শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট সবজি গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করে বেধে দিতে হবে। জমি থেকে নালা তৈরি করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। জমির আইল উঁচু করে বেধে দিতে হবে। (পরামর্শ-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর)

মিশরের তেঁতো শাক- আমাদের সোনালী আঁশ

এস কে বাশার : সোনালী আঁশ বললে আমরা বুঝে নেই পাটের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু পাটের জন্মস্থান বাংলাদেশ নয়। আজ থেকে প্রায় ১৯০০ বছর আগে নীল নদের দেশ মিশরের কোন এক অঞ্চল থেকে এর আগমন ঘটেছিল গঙ্গার পলিযুক্ত উর্বর ভূমিতে। এর যখন আগমন ঘটে তখন এসেছিল তেঁতো স্বাদ যুক্ত ঔষধি গুণ সম্পন্ন শাক হিসেবে। কিন্তু গঙ্গার উর্বর পললযুক্ত সমভূমিতে পড়ে এটি হয়ে গেল পাট। যা পরবর্তিতে সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের সোনালী আঁশের গৌরবজ্জল দিন গুলোর কথা স্মরণ করে আমরা আজো হা-হুতাশ করি। কিন্তু খুব বেশি দিনের কথা নয়। ১৯৮০ সাল পর্যমত্ম পাটের গৌরব বিশ্বময় অটুট ছিল বলেই ধরা হয়। ১৮০০ সালের দিকে পাট যখন বানিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার শুরু হয় তখন থেকেই এর নাম করণ করা হয় সোনালী আঁশ। ঐতিহাসিকদের মতে ১০০ সালের প্রথম দিকে মিশর থেকে এক ধরণের তেঁতো স্বাদযুক্ত শাকের বীজ আনা হয়। গাছের আকার আকুতি খর্বকায়। বিভিন্ন প্রজাতির শাকের পুষ্টিগুণ ও ঔশধি তথ্য থেকে জানাযায়, পাট শাক কোষ্ঠকাঠিণ্য দুর করে, শরীরে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি করে এবং এটি বল বর্ধকও বটে। কিন্তু ওই শাকের বীজ এদেশের পলরযুক্ত উর্বর মাটিতে পড়ে খর্বকায় থেকে হয়ে গেল দীর্ঘকায়। একপর্যায়ে দেখা গেল শাকের গাছ থেকে শক্ত আঁশ বের হচ্ছে। যা পরবর্তিতে ঘর গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার হতে লাগল। আবার এর শক্ত কাঠি জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার প্রচলন শুরু হয় প্রথম দিকেই। এক পর্যায়ে শাকের ওই গাছ পানিতে পচানোরও প্রচলন শুরু হয়। যা পরবর্তিতে নামকরণ হয় পাট। ১০০ সালের দিকে পাটের আগমন ঘটলেও এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় ১৭০০ সালের দিকে। ১৮০০ সালের গোড়ার দিকে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি শহরে প্রথম পাটকল প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই তেঁতো স্বাদযুক্ত শাকের গাছটি হয়ে উঠল শিল্প পণ্য। এরপর এদেশে উৎপাদিত পাটের আঁশ দীর্ঘ কয়েক বছর ইংল্যান্ডে নানা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর ১৮৩২ সালে দিকে পাটের আঁশ বানিজ্যিক উৎপাদনে উপযোগী বলে স্বিকৃতি লাভ করে। ওই সময়ে উৎপাদিত পাট রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা জমা হতে থাকে দেশীয় কোষাগারে। আর তখনই আদর করে এর নাম রাখা হয় সোনালী আঁশ। অবশ্য নামকরণের সাথে আঁশের যথেষ্ট মিল রয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার সকল দেশেই পাট চাষ হয়। তবে উন্নত পাট কেবল বাংলা ভু-খন্ডেই উৎপাদিত হয়ে থাকে। প্রকৃত অর্থে উন্নত পাট উৎপাদনে উন্নত বীজ বা বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির স্পর্শ ছিলনা। কেবল মাটির উর্বরতা গুণেই এ অঞ্চলে মান সম্পন্ন পাট উৎপাদিত হতে থাকে। কৃষক পাট চাষ করত আবার বীজও সংরক্ষণ করত। কিন্তু দেখা যেত, যে জমিতে পাট চাষ করা হতো পরবর্তি বছরে ওই জমিতে পাট চাষ করতে জমির এক তৃতিয়াংশ বীজ হিসেবে রাখতে হতো। এর ফলে পাটের ২০ ভাগ ফলন বিঘ্নিত হতো। ভারত পাকিস্থান ভাগের পর সরকারী ভাবে পাটের বীজ উৎপাদনের লক্ষে কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮-৬৯ অর্থবছরে পাকিসত্মান সেন্ট্রাল ফর জুট কমিটির মাধ্যমে বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরের দিকে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পাট বীজ প্রকল্প ত্বরান্বিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনের পরে পাকিস্থান সেন্ট্রাল ফর জুট কমিটি বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইনষ্টিটিউটে রূপামত্মরীত হয়। ১৯৮৮ সালে পাট বীজ প্রকল্প বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে হসত্মামত্মরিত হয়। ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে পাট বীজ প্রকল্পটি ‘‘পাট বীজ কর্মসূচী’’ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে গৃহিত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে এ কর্মসুচি কার্যকর করা হয়। বর্তমানে দেশে ৬টি জোনে অর্থাৎ ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া এবং যশোর অঞ্চলে বিএডিসির মাধ্যমে পাট বীজ উৎপাদিত হচ্ছে যা দেশের সামগ্রিক বীজ চাহিদা পুরণ করতে সক্ষম। ১৮০০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় দেড়শ বছর পাট তার স্বর্ণাসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ১৯৮০ সালের দিকে পাট শিল্পকে নিয়ে সরকারের নানামুখি অব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক বাজারের সাথে দুরত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে সোনালী আঁশ তার অবস্থান হারায়। সম্প্রতি পাটের জন্ম রহস্য উদঘাটন করেছেন গবেষকরা। পাটের বিশ্ববাজারও এখন উজানমুখী। কৃষকও আবার পাট চাষমুখী হচ্ছে। এ অবস্থার যাতে পরিবর্তন না ঘটে সেদিকে সরকারকেই যত্নশীল হতে হবে। (তথ্যসুত্রঃ দ্বি-মাসিক কৃষি সমাচার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি তথ্য সার্ভিস)।