ঝিনাইদহে বানিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে কাঁশফুল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ গায়ের মেঠো পথে কাঁশফুল শুধু সৌন্দর্য্যই বৃদ্ধি করে না, কাঁশফুল চাষ করে আর্থিক সচ্ছলতাও পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ঝিনাইদহে বানিজ্যিক ভাবে এ কাঁশফুলের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। গাদা ফুল রজনী গন্ধাসহ বিভিন্ন ফুল চাষের জন্য ঝিনাইদহ বেশ খ্যাতি রয়েছে। এবার কাঁশফুল চাষ করে নজীর সৃষ্টিতে ঝিনাইদহের কাঁশফুল চাষীরা অধিক আগ্রহে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য ফসল চাষের মত কাঁশফুল চাষ করে কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। কাঁশবনে দুধরনের গাছ জন্মায়। চিকন আকারের ছোট গাছগুলো খড় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর বড় এবং মোটা আকারের গাছগুলোকে ঝাঁটি বলে। কাঁশবন থেকে পাওয়া খড় ও ঝাঁটি পান বরজের জন্য খুবই প্রয়োজন। খড় দিয়ে পানের বরজে ছাউনি দেওয়া হয় এবং পান গাছ বাঁশের শলার সাথে বেধে পান গাছ উপরে তুলতে হয়। সুতালি বা অন্য কিছু দিয়ে বাধলে বৃষ্টির পানিতে ভিজে অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। খড় দিয়ে বাধলে অনেক দিন থাকে। তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় না। এ কারনে বরজে খড় ব্যবহার করা হয় বলে পান চাষিরা জানায়। অপর দিকে ঝাঁটি বরজের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঘরের ছাউনি দিতেও ব্যবহ্নত হয় এ খড়। কাঁশফুল চাষ করতে খরচ হয় খুবই কম। জমিতে ফসলের চাষ বন্ধ করে ফেলে রাখলে এক বছর পর আপনা-আপনিই গজিয়ে ওঠে কাশফুল। কাশফুল চাষিরা জানায়, কাঁশবনে গজিয়ে উঠা অন্যান্য আগাছা গুলো পরিষ্কার করে কিছু সার দিলেই চলে। প্রতি বছর শীত  মৌসুমে কাঁশ বন কাটতে হয়। কাশবন ও খড় বিক্রি করতে তেমন ঝামেলা হয় না।  খেত থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা ছাড়াও বরজের মালিকরা কিনে নিয়ে যায়। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কাঁশফুল চাষি সাখাওয়াত  হোসেন জানান, তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে এ কাশফুলের চাষ করেছেন। তার এ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার টাকা। গত বছর তিনি ৮৫ হাজার টাকার ঝাঁটি বিক্রি করেছিল। এ বছর ও তিনি লক্ষাধিক টাকার ঝাটি বিক্রি করবেন বলে আশা করেছেন। শ্রীরামপুর গ্রামের সহিলুদ্দিন জানান, প্রতি বছর পান চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকৃতিগত ভাবে নদীর ধারে বেড়ে ওঠা কাঁশফুল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ কারনে কাঁশফুলের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে কাশফুলের চাষ করেছেন। অনুরূপভাবে কাঁশফুলের চাষ করেছেন একই গ্রামের  খোকন, মুকুল, লুৎফর রহমান ও চাঁচড়া গ্রামের সলেমান হোসেন কাঁশফুলের চাষ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি অফিস জানায়, কাঁশফুলের আবাদের চিন্তা তারা কখনও করেনি। তবে অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়। কাঁশফুল চাষের জন্য চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। এতে একদিকে চাষিরা কাঁশফুল চাষ করে লাভবান হবে। অপর দিকে কোন জমি অকারনে পড়ে থাকবে না।

সারা বছর আম ফলবে দেশের সব গাছে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মৌসুম ছাড়াই দেশীয় আবহাওয়ায় কৃত্রিম পদ্ধতিতে আম ফলাতে সক্ষম হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। এজন্য তারা প্রয়োগ করেছেন ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো জাতের আম গাছে আম ফলানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। এ সফলতা শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মারজিনা আক্তার রিমার। গবেষক মারজিনা আক্তার রিমা বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ‘ন্যামডকমাই’ জাতের ২৪টি আম গাছে ফোর্সিং পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি হরমোন বিভিন্ন মাত্রায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষায় কয়েকটি হরমোন নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। স্বাভাবিক মৌসুমে আম গাছে যেমন মুকুল আসে মৌসুম ছাড়াই সেরকম মুকুল আনতে সক্ষম হই।
ড. জামাল জানান, দেশে বারোমাসি ‘বারি-১১’ জাতের আম অনেক আগে থেকে দেশে চাষ করা হয়। কিন্তু তা বছরে শুধু একবারই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফল দেয়। তার স্বাদ মৌসুমী আমের তুলনায় ভিন্ন এবং ফলন অনেক কম। কিন্তু ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরের যেকোনো সময় ফল ধরানো যাবে। এর স্বাদ হবে মৌসুমী আমের মতোই। ফলনও সমান। ড. জামাল আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক নাগাড়ে সারা বছর না ফলিয়ে মৌসুম ছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আম ফলাবো। ফলে আম চাষিরা বাড়তি দাম পাবেন। আমরাও তুলনামূলক কম দামে আম খেতে পারবো। ‘অফ সিজনাল’ আমের বেশিরভাগ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এর দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। চারশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে ‘অফ সিজনাল’ আম কিনতে হয়। এ পদ্ধতিতে আম ফলানোর জন্য গাছের বাড়তি কোনো পরিচর্যা করতে হবে না। তবে হরমোন প্রয়োগের আগে গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে দিতে হয়। গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় মেরে পানি ¯েপ্র করে পাতা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর হরমোন প্রয়োগ করতে হয় গাছের পাতা ও গোড়ার মাটিতে। হরমোন প্রয়োগের তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। ড. জামালের তত্ত্বাবধানে সাভারের কাশিমপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম গাছে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। আগামী বছরের মধ্যে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা।

বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ভাল ফসল পেতে হলে ভাল বীজ প্রয়োজন। আর ভাল বীজের জন্য প্রয়োজন মানসম্পন্ন প্রত্যয়ন। তাই বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার মনে করে, বীজের মান যাচাই শতকরা ২৫ ভাগ  থেকে বাড়িয়ে ৩৫ ভাগে উন্নীত করে ফসলের উৎপাদন ও বীজের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। এজন্য ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম  জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের পুরোটাই সকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (এসসিএ) বাস্তবায়ন করবে। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে দেশের ৮ বিভাগের আওতায় থাকা ৬৪টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশে বীজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৭৪ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৪ সালে কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয়, ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং ৭টি আঞ্চলিক বীজ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির জনবল কাঠামো ২২৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৪৬ এবং পরবর্তীতে আরও বাড়িয়ে ৫৬৯ নির্ধারণ করা হয়। ‘বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এসব নতুন কার্যালয় ও বীজ পরীক্ষাগারের অবকাঠামো ও কারিগরি উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া সংস্থাটির জনবল নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট স্টেক  হোল্ডারদের মধ্যে বীজ প্রযুক্তি, প্রত্যয়ন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন মানসম্পন্ন প্রত্যয়িত বীজ। প্রত্যয়িত বীজের মাধ্যমেই কম জমিতে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব বলে মনে করে সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নতমানের বীজের ব্যবহার মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ। কৃষকরা ব্যক্তিগত ও বেসরকারী উৎস থেকে সংগৃহীত নিম্নমানের বীজ দিয়ে কৃষি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। এতে বীজের মান বাড়বে। তাই ফসলের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে। দেশে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন এবং কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও সুনির্দিষ্টভাবে অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর উপযোগী অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সক্ষমতা বাড়বে। প্রকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে সদর দফতরে একটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে। একটি ফার্ম অফিস ভবন ও একটি কন্ট্রোল খামারের উন্নয়ন করা হবে। ১২টি অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া,  মেহেরপুর, বগুড়া, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং ময়মনসিংহ জেলায়। ২৬টি মিনিবীজ পরীক্ষাগারকে সরবরাহ করা হবে প্রয়োজনীয় কারিগরি যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। বীজ উৎপাদক ও ব্যবহারকারী কৃষক, বীজ ডিলার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ২৫৪৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া ২৬ কর্মকর্তার  বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এবং ২২টি ওয়ার্কসপ, সেমিনার বা কনফারেন্সের আয়োজন করা হবে। সদর দফতর, ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ১২টি জেলা কার্যালয়ে ২০টি প্রশিক্ষণ কক্ষ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়গুলো সুসজ্জিত করা হবে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামাল জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ভাল বীজের মাধ্যমে ভাল শস্য প্রাপ্তির মাধ্যমে ভাল খাদ্য নিশ্চিত হবে। ফলে দেশে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন এবং কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

সূত্র ঃ জনকন্ঠ, ১৫ নভেম্বর-২০১৮।

পুষ্টি নিরাপত্তায় বায়োফরটিফাইড শস্যের বিকল্প নেই

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পাঁচ বছরের নিচে এমন বয়সী ৪১ শতাংশ শিশু এখনও জিংক স্বল্পতায় ভুগছে। আবার বিভিন্ন বয়সী ৭৩ শতাংশ নারীর রয়েছে জিংক স্বল্পতা। পাঁচ বছর বয়সী তিনজন শিশুর মধ্যে একজন খর্বাকৃতির। সার্বিকভাবে উচ্চমাত্রার অপুষ্টির ঝুঁকিতে এখন বাংলাদেশ। পুষ্টি নিরাপত্তাকে স্বাস্থ্যগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা না করে কৃষি উৎপাদন আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন করা সম্ভব। পুষ্টি নিরাপত্তায় বায়োফরটিফাইড শস্য হতে পারে অন্যতম বিকল্প।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে হারভেস্টপ্লাস আয়োজিত ‘ইমপ্র“ভিইং নিউট্রিশন থ্র বায়োফরটিফাইড ক্রপ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন বক্তারা। বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) ড. মো. আবদুর রউফ। প্রাক্তন কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ইরি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হোমনাথ ভান্ডারি, প্রাক্তন কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জয়নুল আবেদিন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ব্রি) গবেষণা পরিচালক ড. তমাল লতা আদিত্য উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে হারভেষ্ট প্লাসের গ্লোবাল গবেষণা পরিচালক ওলফ পিফেইফার বলেন, বিশ্বের ৩০টি দেশে ১৯০টি বায়োফরটিফাইড শস্যের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা, মসুর, বিনস, কাসাভা, কমলা, শালগম অন্যতম। বাংলাদেশের উচ্চ মাত্রার অপুষ্টি বিদ্যমান থাকায় বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। সারা বিশ্বে এখন ৮৫ লাখ পরিবার বায়োফরটিফাইড ক্রপ উৎপাদন করছে। আর ৪ কোটি মানুষ সরাসরি এ ধরনের শস্য গ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খায়রুল বাশার বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৬টি বায়োফরটিফাইড ক্রপ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত ৮টি, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ মসুরের জাত ৩টি, জিংক সমৃদ্ধ গমের জাত একটি এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ মিষ্টি আলুর জাত ৪টি। প্রক্রিয়াগত ক্রটির কারণে মিনিকেট নামের ধানের যে চালটি পাওয়া যাচ্ছে তাতে জিংক কম আছে। তিনি আরো বলেন, হারভেস্টপ্লাস প্রোগাম বাংলাদেশে জিংকের ঘাটতি পূরণে ব্রি ও ইরির সহায়তায় আবিষ্কার করে জিংক ধান। প্রয়োজনীয় শক্তির ৮৪ শতাংশই আসছে ভাত থেকে। মোট জমির ৭০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়। সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। জিংক সমৃদ্ধ ধানে জিংক এর পরিমাণ বেশি থাকে। জিংকসহ অন্যান্য অপুষ্টির ঘাটতি পুরণে বিশ্বে ২০০২ সাল হতে কাজ করে যাচ্ছে হারভেস্টপ্লাস প্রোগ্রাম। হারভেস্টপ্লাস প্রোগ্রামটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রপিক্যাল এগ্রিকালচার ও ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রির্সাচ ইনিস্টিটিউট এর যৌথ প্রয়াসে পরিচালিত। যেটি ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেটিভ গ্র“প ফর এগ্রিকালচারাল রির্সাচ অন এগ্রিকালচারাল ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড হেলথ এর অংশ। ড. মো. আবদুর রউফ বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য বাংলাদেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এজন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের শস্য উৎপাদন, পরিবেশকে রক্ষা করে কৃষি উৎপাদনে নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুষ্টি নিরাপত্তায় বারটান গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা হয়েছে। যেকোনো শস্যের জাত জনপ্রিয় করতে গেলে কৃষকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাক্তন কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় বায়োফরটিফাইড ক্রপের কোনো বিকল্প নেই। তাই এটিকে উৎসাহিত করতে গেলে যেমন গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে তেমনি কৃষক পর্যায়ে আবাদের জন্য ৪ শতাংশ সূদে ঋণ দিতে হবে। বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন বলেন, যেকোনো শস্যের জাত জনপ্রিয় করতে গেলে কৃষকের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। বায়োফরটিফাইড ক্রপ দেশে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের ক্ষেত্রে কতটুকু সফলতা এনে দিবে সে বিষয়ে গবেষণা জরুরি। পুষ্টি নিরাপত্তায় এসব শস্যের জাত প্রয়োজনীয় হলেও কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তায় কতটুকু সহায়ক হবে সেটি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রসারণ করতে হবে। আর জাতটি জনপ্রিয় করতে হলে মিডিয়া, সম্প্রসারণ কর্মী, নীতি নির্ধারণ এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

হাতের নাগালে কৃষি সেবা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ফসল কিংবা গবাদিপশুর রোগ-বালাই নিয়ে কৃষকের উৎকণ্ঠার দিন শেষ। খামারি বা কৃষক ভাইদের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উপজেলায় আসা-যাওয়া করে কৃষি সেবার জন্য আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। কৃষি উন্নয়ন আরেক ধাপ এগিয়ে, কৃষি সেবা এখন গ্রামে। কৃষকরা হাতের নাগালে পাবেন সব ধরনের কৃষি সেবা। এতে কৃষকদের শ্রম, সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হবে। সচ্ছলতা আসবে কৃষক পরিবারগুলোতে। সরকার কৃষি কাজে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় স্থাপন করেছে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক সেবাকেন্দ্র স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর (পাইলট) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২১টি জেলার ২৪টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ২০টি ইউনিয়নে আরও ২০টি ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কমর্কর্তারা যেহেতু মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সম্প্রসারণ সেবা দিয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের দাপ্তরিক সেবা প্রদান ও স্বপরিবারে বসবাসের কোনো সুযোগ না থাকায় কৃষকভাইয়েরা প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই উপসহকারী কৃষি কমর্কর্তাদের কাছ থেকে সেবা পেতে কষ্ট করতে হয়। কেন্দ্রগুলো চালু হলে কৃষকের আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা সহজলভ্য হবে। ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ ইউনিয়নে ‘কৃষি সেবার ওয়ান স্টপ সেন্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। পাল্টে যাবে গ্রামীণ কৃষির চিত্র। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপির নির্দেশিত নকশা মোতাবেক ভবনগুলো আধুনিক ও উন্নতমানের করে নির্মাণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় তথা কৃষিমন্ত্রীর এ দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অধিক জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা বিধান সম্ভব হবে।

রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে কীভাবে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করা যাবে বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যাবে, এসব পরামর্শ ছাড়াও এ সেবাকেন্দ্র থেকে কৃষকরা পাবেন কৃষি বিষয়ে নানা প্রশিক্ষণ। শুধু তাই নয়, কৃষক সেবাকেন্দ্রেই পাবেন সরকারি প্রণোদনায় দেয়া সার ও উন্নত মানের বীজ। সেবাকেন্দ্রগুলোতে উপসহকারী কৃষি কমর্কর্তাদের সার্বক্ষণিক অবস্থানের জন্য পারিবারিক আবাসন সুবিধা রাখা হয়েছে। যাতে তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে কৃষির নানা বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। তিন তলা বিশিষ্ট সুসজ্জিত এ ভবনের নিচ তলায় রয়েছে কৃষক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কেন্দ্র। দ্বিতীয় তলায় তিনজন উপ-সহকারী কৃষি কমর্কর্তাদের অফিস ও সিনিয়র উপসহকারী কৃষি কমর্কতার্র জন্য সব সুবিধাসহ পারিবারিক সরকারি বাসস্থান। তৃতীয় তলায় রয়েছে দুজন উপসহকারী কমর্কতার্র পারিবারিক সরকারি বাসস্থান। ভবনের সব ফ্লোরে টাইলস, বাসাগুলোতে ডাইনিং, ড্রইং ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রয়েছে সৌর প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের সুবিধা, ফসল সংগ্রহোত্তর নিরাপদ বাজারজাতকরণ কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং কৃষি তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য কম্পিউটার, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট, ফটোকপিয়ার, স্ক্যানারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইউনিয়নের কৃষির ডাটাবেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ ও সংলগ্ন খালি জমিতে আধুনিক ও উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির এবং স্থানীয় জামর্প্লাজম সংরক্ষণের জন্য মাতৃবাগান স্থাপন এবং মিনি নার্সারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাতৃবাগান থেকে বছরব্যাপী চারা বা কলম উৎপাদন ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার পাশ্বর্ডাঙ্গা ইউনিয়নে স্থাপিত ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র নিয়ে এলাকার কৃষকদের আগ্রহর শেষ নেই। বেশ কয়েকজন প্রান্তিক কৃষক জানান, আগে আমরা বাপ-দাদার আমলের চাষাবাদ করতাম। ফলন কম পাইতাম। চাষাবাদ শুরুর সময় পরামর্শ নিতে বা সার-বীজ নিতে কৃষি অফিসে যেতে অনেক সময় লাগত। কিছুদিনের মধ্যে আমরা ঘরের পাশেই কৃষি সেবা ও প্রশিক্ষণ পাবো। আমরা প্রশিক্ষিত হয়ে বেশি বেশি করে ফসল উৎপাদন করতে পারব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীন বলেন, বতর্মানে দেশের ২৪টি ইউনিয়নে পাইলটিং আকারে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ স্থাপন করা হচ্ছে। পযার্য়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে। উৎপাদনের বিভিন্ন তথ্য কৃষকদের আগেই জানাতে পারলে কৃষক সহজে তার মাঠের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ, শস্য বহুমুখীকরণ, নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তি কৃষকদের ঘরে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক সেবাকেন্দ্র’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঝিনাইদহে নিরাপদ সবজি উৎপাদন

কৃষি প্রতিবেদক \ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১২ গ্রামের প্রায় ৩০০ জন কৃষক ১৮২ বিঘা জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করে আলোচনায় এসেছেন। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা করছে বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। খুব শিগগিরই কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজিগুলো দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানির আশা করছে তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বারোমাসি টমেটো, পেঁপে, বেগুন, লাউ, পেয়ারা ও শিমসহ বিভিন্ন জাতের সবজি লাগানো হয়েছে। আর এ সব সবজি শতভাগ জৈবপদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। এ সব সবজি উৎপাদনে কোনো রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। ফলে এই জৈবপদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির একদিকে যেমন ভালো দামও পাচ্ছেন অন্যদিকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সবজিগুলো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার জমি থেকেই পকেট ভরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স¤প্রতি বছরগুলোতে কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়ামতপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে কম্পোস্ট সার উৎপাদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা আছে। এ উপজেলায় বেশির ভাগ গ্রামে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষানি। তবে গত ৬ মাস ধরে উপজেলার ১২টি গ্রামে ১২ জন মডেল চাষিসহ প্রায় ৩০০ জন চাষি তারা নিজেদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করছে শতভাগ জৈবপদ্ধতিতে। এর মধ্যে মডেল বা প্রদশর্নীয় প্লটে উপজেলার লুচিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমিতে ইশারত আলী মন্ডল বাধাকপি, জগন্নাথপুর গ্রামে ৩৩ শতক জমিতে মাহমুদুল হাসান ফুলকপি, বাদুরগাছা গ্রামে ৩৩ শতক জমিতে ওলিয়ার রহমান শিম, ষাটবাড়িয়া গ্রামের ৩৩ শতক জমিতে সাখাওয়াত লিটন শসা, বেথুলি গ্রামে গোলাম রহমান ৩৩ শতক জমিতে বেগুন, বনখিদ্দা গ্রামের নজরুল ইসলাম পলিথিন পদ্ধতিতে ৩৩ শতক জমিতে বেগুন, মোস্তবাপুর গ্রামে মনোয়ারা বেগম বেগুন ও পান, ঘোষনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ ৩৩ শতক জমিতে হাজারী লাউ, ইশ্বরবা গ্রামের জয়নাল আবেদিন ৩৩ শতক জমিতে শাহী পেঁপে, মাহামুদপুর গ্রামের হারুন অর রশিদ ৩৩ শতক জমিতে থাই পেয়ারা, কুল­াপাড়া গ্রামের নিখিল কুমার ৩৩ শতক জমিতে বারোমাসি টমেটো, আগমুন্দিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমিতে আনোয়ারুল ইসলাম বেগুন চাষ করছেন। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় ৩০০ চাষি ১৮২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। জগন্নাথপুর কৃষক মাহমুদুল হাসান জানান, ৩৩ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। বাজারে বিষযুক্ত ফুলকপির চেয়ে আরও বেশি ভালো ফুলকপি তিনি উৎপাদন করতে সম হয়েছেন জৈবপদ্ধতিতে। প্রতিটি ফুলকপির সাইজ হয়েছে প্রায় ৫০০ গ্রাম করে। প্রতিকেজি ফুলকপি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, তার ধারণাই ছিল না রাসায়নিক সার বাদে এত ভালো ফসল উৎপাদন করা যায়। তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি জৈবপদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করবেন। বনখিদ্দা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি কীটনাশক বাদে বেগুন চাষ করছেন। তার বেগুনের সাইজও অনেক বড়। ২টি বেগুন এককেজি সাইজ। ৩৫-৪০ টাকা দরে বেগুন বিক্রি করছেন। তিনি আরও বলেন, পলিথিন পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করে সফল হয়েছেন। পলিথিন পদ্ধতিতে ঝিনাইদহে কেউ বেগুন চাষ করেনি এখনো। আমি হয়তো প্রথম। বেগুন গাছে আসার পর পর যদি পলিথিন ঢুকিয়ে দেয়া যায় তাহলে এর সাইজ অনেক ভালো হয় এবং কোনো পোকা এটিকে আক্রমণ করতে পারে না।

উপজেলার কুল­াপাড়া গ্রামের কৃষক নিখিল কুমার জানান, তিনি তার জমিতে   জৈবপদ্ধতিতে বারোমাসি (বারী-৪) জাতের টমেটো চাষ করছেন। সারা বছর এই টমেটো উৎপাদন হয়। প্রতিকেজি টমেটো ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল করিম জানান, সত্যিই গবের্র বিষয় ঝিনাইদহে কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩০০ জন কৃষক একযোগে নিরাপদ খাদ্যে বা সবজি উৎপাদন করছে। মানুষ এখন বিষমুক্ত সবজি পেতে চায়।

কুমারখালীতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় খামারীদের করণীয় শীর্ষক সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় ও নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মুরগী খামারীদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র। এ সময় খামারিদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়, দেশের বেকার যুবক-যুবতীরা মুরগী খামার স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কারণে দিনে দিনে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে যাচ্ছে। তুলনামূলক দামে সস্তা হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগী। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিন্মমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রারিক্তি ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। এ জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের ল্েয কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে ভোক্তা সাধারন, সিভিল সোসাইটি, মুরগী খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা, ডিলার ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার গতিপথ প্রদর্শনের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মতবিনিময় সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় খামারীদেরকে নিরাপদ মুরগী উৎপাদনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেই সাথে স্থানীয় খামারীদেরকে খামার পরিচালনায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লাইসেন্স সংগ্রহ ও পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও মুরগী উৎপাদনে এন্টিবায়োটিকসহ যে কোন ধরণের ঔষধ প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয় এবং খামার পরিচালনায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় খামারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সীমা আক্তার, জোসনা পারভীন, নব কুমার, সুমন হোসেন, টুটুল হোসাইন, আবু বক্কর, জাহিদুল ইসলাম, আরশাফুল ইসলাম প্রমূখ। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল খ্যাত পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের জোর প্রস্তুতি। বীজতলার পরিচর্যা ও জমি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। তারা আশায় বুক বাঁধছেন- যেভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে তাতে কোন বিপর্যয় দেখা না দিলে স্বপ্ন পূরণের হাতছানি রয়েছে।
সরেজমিনে ঈশ্বরদীর সবজি প্রধান এলাকা ছলিমপুর, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা ও মূলাডুলি এলাকা ঘুরে দেখা যায় শীতকালীন সবজি চাষে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজতলায় উৎপাদন করেছেন রোপন উপযোগী চারা। অনিষ্টকারী রোগ, পোকা-মাকড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় চাষীরা বেগুন, মরিচ, ফুলকটি, ওলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোর কাঙ্খিত চারা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার সবজি চাষেও সরবরাহ যোগাবে। অপর দিকে আগাম জাতের কিছু কিছু সবজি ইতিমধ্যেই মাঠ সবুজ করে তুলেছে। মূলা, লাল শাক, বেগুনসহ আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ইতিমধ্যেই বাজারজাত করতে শুরু করেছেন চাষীরা। আগাম এ সবজি চাষের খরচ বেশি হওয়ায় বাজারে এখন চড়া দামে এসব সবজি বিক্রয় হচ্ছে। তবে চাষিরা আশা প্রকাশ করছেন, ভরা উৎপাদন মৌসুমে সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, এবার ৩০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যেই বাড়ির আঙ্গিনায় ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন করা হয়েছে। চারা জমিতে রোপন করা হয়েছে। বেশ কিছু জমিতে মূলা, লালশাক, বেগুন রোপন করা হয়েছিল। যা এখন বিক্রির উপযোগী বলেও জানান তিনি। বক্তারপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর সরদার জানান, শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে আগামী ৬ মাস চলবে তাদের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোর বিরাট অংশ বন্যা প্লাবিত হওয়ায় সেদিককার চাষীরা চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষে পিছিয়ে পড়েছে। যার ফলে ঈশ্বরদীর চাষীরা এ মৌসুমে অধিক মুল্যে সবজি বিক্রির সুযোগ পাবে। চরমিরকামরী গ্রামের কৃষক রকিবুল মালিথা জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষীদের প্রস্তুতিতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। যা উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, ঈশ্বরদীতে সবজি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছর গুলোর মতো এবারও ঈশ্বরদীতে ব্যাপক হারে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষীরা কাঙ্খিত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত ভাবে মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের উন্নত চাষ পদ্ধতির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়ে চলেছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ বলেন মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তাগন সার্বক্ষনিক কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন। তিনি বলেন, এবারে প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ মেট্রিক টনের অধিক হারে সবজি উৎপাদিত হবে। এখন পর্যন্ত বীজতলা এবং সবজি ক্ষেতে পোকা-মাকড় ও রোগ বালাই এর উপদ্রব লক্ষ্য করা যায়নি। কৃষি অফিস এবিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

সম্ভাবনাময় ওপি নারিকেল চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দেশে প্রচলিত বিভিন্ন জাতের নারিকেল গাছের ফলন পেতে ৬-৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। এসব প্রতিটি গাছ থেকে নারিকেল পাওয়া যায় ৪০-৫০টি। তবে ভিয়েতনামের ‘ওপি’ নারিকেল গাছের ফলন পেতে সময় লাগে মাত্র আড়াই থেকে তিন বছর। সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট উচ্চতার এ জাতের গাছে প্রথম কিস্তিতে নারিকেল ধরে ২০০-২৫০টি! ফলন পাওয়া যাবে ৪০-৫০ বছর। শুধু নারিকেলই নয়। ওপি ডাবের পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। গাজীপুরে অপার সম্ভাবনাময় ‘ওপি নারিকেল’ চাষে চাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে ঘুচবে বেকারত্ব। এ জাতের নারিকেল গাছের উচ্চতা কম হওয়ায় সহজেই পরিচর্যার পাশাপাশি বালাই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ জানান, বরিশাল হটিকালচার নার্সারিতে ৫শ নারিকেল চারা রোপণ করা হয়েছিল। সেখানে মাত্র ২২ মাসেই গাছে ফুল ধরেছে। এ প্রকল্পের মেয়াদে ভিয়েতনাম থেকে ১০ লাখ ওপি নারিকেল চারা আনার পরিকল্পনা আমাদের আছে। ইতোমধ্যে ৬ লাখ চারা আনা হয়েছে। দেশে যখন ১০ লাখ মাতৃচারা হয়ে যাবে তখন এ গাছের ফল থেকে চারা উৎপাদন করে আমরা নিজেরাই চাষিদের মাঝে সরবরাহ করতে পারব। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের চাষিদের মাঝে ওপি নারিকেল বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই চাষ শুরু করেছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু ধানী জমির চারপাশেও ওপি নারিকেল চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি ওপি নারিকেল চাষ হচ্ছে। এ জাতের নারিকেল সারা বছর ফল দেয়। একজন চাষির ১০টি ওপি নারিকেল গাছ থাকলে নারিকেল বিক্রি করে মাসে অন্তত ৫ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে আনা প্রতিটি ওপি নারিকেল চারার সরকারি বিক্রি মূল্য ৫শ টাকা বলেও তিনি জানান। গাজীপুরের ভবানীপুর হটিকালচার নার্সারির উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গাজীপুর ছাড়াও জেলার পার্শ্ববর্তী ভালুকা, ত্রিশালসহ বিভিন্ন এলাকার চাষিদের প্রশিক্ষণের পর ওপি নারিকেলের বাগান তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন গত দুই বছরে গাজীপুরে প্রায় আড়াই হাজার চাষিকে ওপি নারিকেল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ, ভাতা প্রদানসহ বিনামূল্য চারা বিতরণ করা হয়েছে। অনেককেই নারিকেল বাগান সৃজন করে দেওয়া হয়েছে। এ হটিকালচার নার্সারিতে মোচন্ডা, রঙ্গ ও সাইকা ফুলের চাহিদা রয়েছে। বারোমাসি মিষ্টি স্বাদের আম, বোম্বে ও চায়না থ্রি জাতের লিচু চারারও চাহিদা রয়েছে। নার্সারিটি থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার লিচু চারা বিক্রি হয়। প্রতিটি চারার মূল্য ৪৫ টাকা। প্রতি বছর প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি হচ্ছে। এ নার্সারি ছাড়াও কালিয়াকৈরের মৌচাক হটিকালচার নার্সারিতে ওপি নারিকেল চারা বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ভরপুর শীতের সবজিতে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এখন শীতের বাজার সবজিতে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে টমেটো, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, ফুলকপি, গাজর, শিম, বরবটি, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসব সবজি শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি  রোগপ্রতিরোধ ও নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এবার শীতের কয়েকটি সবজির গুণাগুণ তুলে ধরা হলো ঃটমেটো : টমেটো এ সময়ের একটি আলোচিত সবজি। প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে টমেটো ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টমেটোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান লাইকোপেন। এ লাইকোপেন দেহকোষ থেকে বিষাক্ত ফ্রিরেডিক্যালকে সরিয়ে প্রোস্টেট ক্যানসারসহ মূত্রথলি, অগ্ন্যাশয় ও অন্ননালির ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। গবেষকরা বলেছেন, যারা সপ্তাহে অন্তত চারবার টমেটো খায় তাদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি শতকরা ২০ ভাগ কমে যায়। আর সপ্তাহে ১০ বার খেলে ঝুঁকি ৫০ ভাগ কমে আসে। তবে এ উপকার  পেতে হলে তারা পাকা টমেটো এবং রান্না করা কিংবা সস করা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।ফুলকপি ঃ ফুলকপির উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম লৌহ, খনিজসহ ভিটামিন বি-১ ও বি-২। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে, মাংসপেশির সংকোচনজনিত ব্যথা দূরীকরণে আর লৌহ রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৪১ আর লৌহ ১.৫ মিলিগ্রাম।মটরশুঁটি ঃ বাজারে উপস্থিত আরেকটি পছন্দের শস্যদানা-জাতীয় সবজি হলো মটরশুঁটি। মটরশুঁটিতেও রয়েছে ফুলকপির মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন। প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুঁটিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২৬ আর লৌহ ১.৫ মিলিগ্রাম।গাজর ঃ রূপে-গুণে অনন্য একটি সবজি খাবার হিসেবে গাজরের ব্যবহারও নানাবিধ। কাঁচা ও রান্না করা উভয় অবস্থায়ই গ্রহণ করা যায়। মূলজাতীয় সবজির মধ্যে গাজরে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিটাক্যারোটিন। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে এই বিটাক্যারোটিনের পরিমাণ প্রায় ১৮৯০ মাইক্রোগ্রাম (সূত্র : বিদেশি ম্যাগাজিন) এবং ক্যালসিয়াম প্রায় ৮০ মিলিগ্রাম। তা ছাড়া গাজরে রয়েছে লাইকোপেন নামক উপাদান যা ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়ক। গাজরের গুণ অনেক। গাজর ত্বক ও চুলকে সূর্য্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। গাজর মহিলাদের ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। চোখের ছানি, রাতকানা, হৃদরোগসহ ক্যানসার প্রতিরোধে গাজর অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।শিম ও ঢেঁড়স ঃ শিম ও ঢেঁড়সে অন্যান্য সবজির মতো পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন রয়েছে। তবে শিম ও ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। প্রতি ১০০ গ্রাম শিম ও  ঢেঁড়সে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ যথাক্রমে ২১০ ও ১১৬ মিলিগ্রাম।উল্লেখ্য, সবজির মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যালসিয়াম রয়েছে ডাঁটায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ডাঁটায় ক্যালসিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম।ধনে ও লেটুস ঃ শীতকালীন পাতার মধ্যে এ দুটি পাতাই সহজে কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়। ফলে প্রকৃত পুষ্টিগুণ প্রায় পুরোটাই এ ক্ষেত্রে বজায় থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন সির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে। এ দুটি পাতায়ই রয়েছে প্রচুর বিটাক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন বি-১, বি-২ ইত্যাদি।সবজি ও শাকপাতার একই ধরনের কিছু গুণাগুণ : শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই। শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-এ, সি, বি-১ ও বি-২; যা শরীরে ভিটামিন চাহিদা মিটিয়ে রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন-এ লিভারে ছয় মাস পর্যন্ত সঞ্চিত থাকে বলে শীতের সময় নিয়মিত শাকসবজি খেলে তা বছরের বাকি সময়ের ভিটামিন-এ’র চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে। এ ছাড়া শাকসবজিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বকের বার্ধক্যরোধে ভূমিকা রাখে। ত্বক সজীব রাখে। এ ছাড়া শাকসবজির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। শাকসবজির আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান অন্ননালির ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আঁশজাতীয় খাবার শরীরে খাদ্যের চর্বি শোষণে বাধা প্রদান করে। তাই শাকসবজি গ্রহণে শরীর মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন-ই, যা শরীর ঠিক রাখে। ভিটামিন-ই হৃদরোগ প্রতিরোধসহ যৌবন অটুট রাখতে সাহায্য করে।

৯ বছরে ইলিশের উতপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ গত ৯ বছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, যা গত ৯ বছরে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ সালে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি এ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ দশমিক ৭৭ লাখ  মেট্রিক টন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ইলিশের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছর দেশে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ  বেড়ে দাঁড়িয়েছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টনে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে  দেশে এর পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা চার লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৭ সালের  শেষদিকে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ইলিশ সুরক্ষা ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করায় এ সফলতা এসেছে। এ অর্জন ধরে রাখতে হবে। মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে মৎস্যখাতে জড়িত এবং ১১ শতাংশের  বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশের অধিক। জিডিপিতে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। এসব কারণেই ইতোমধ্যে  পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হিসেবে ইলিশের  ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) প্রদান করেছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশ উৎপাদন করে। ২০১৮ সাল শেষে ইলিশ উৎপাদন যেমন পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে, একইভাবে সার্বিক মাছ উৎপাদন বেড়ে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টনে উন্নীত হবে।’ মৎস্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।  পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের  ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) প্রদান করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন সম্পন্নের ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণগতমানসম্পন্ন ইলিশ বাজারজাতের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাণিজ্যিকসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে।’ জানা গেছে, ইলিশ রক্ষায় সরকার ২০০৪-০৫ থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত জাটকা শিকার নিষিদ্ধ থাকাকালে জেলেদের পরিবার প্রতি মাসিক ১০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে ৪০  কেজি হারে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে একলাখ ৪৫ হাজার ৩৩৫টি জেলে পরিবার এ কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের আগের সাত বছরে  জেলেদের জন্য খাদ্যশস্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬ হাজার ৯০৬ টন। কিন্তু পরবর্তী ৯ বছরে (২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত) এ সহায়তা দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৫ টন। সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে প্রকৃত  জেলেদের শনাক্ত করে নিবন্ধনকরণ ও পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী-জেলেদের নিবন্ধন ও ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলের পরিচয়পত্র বিতরণ সম্পন্ন করে সরকার ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়াতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইলিশ আহরণে জড়িত প্রায় সাত লাখ জেলে এবং মা-ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে ২২ দিনের জন্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার  জেলে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে প্রায় সাত হাজার টন খাদ্য সহায়তা পায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ দশমিক ৬৮ টন মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৪ কোটি টাকার  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ হাজার ২৪৩ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে বছরে দুইবার ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ২০১১ সালে সংশোধিত আইন অনুযায়ী ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদ উদয় হওয়ার আগে তিনদিন ও চাঁদ উদয় হওয়ার পরের সাতদিন মোট ১১দিন উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ দিন। এছাড়া, জাটকা সংরক্ষণে এবং প্রজননের সুযোগ দিয়ে ১ মার্চ  থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই দুই মাসও নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময়ে ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়।  দেশের ১৬টি জেলার প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার ১০২টি জেলে পরিবার এ খাদ্য সহায়তা পায় বলে জানায় মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র।

কালুখালীতে ঝড়ে কৃষকের কলাবাগান বিনষ্ট

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে কার্তিকের ঝড়ে কৃষকের প্রায় ৩ বিঘা সবরি কলাবাগান বিনষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার কলা নষ্ট হয়েছে। উপজেলার ৩নং বোয়ালিয়া ইউপির কালিনগর গ্রামের মৃত কছের মন্ডলের পুত্র কৃষক তালেব মন্ডল বিগত ২ বছর পূর্বে পদক্ষেপ সংস্থা পাংশা থেকে ১ লাখ টাকা এবং কালুখালী গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বড় আশা করে ৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ৩বিঘা জমির উপরে এ কলা বাগান করে।  সোমবার রাতে হঠাৎ করে আকষ্মিক  ঝড়ে তার কলাবাগানের প্রায় ৬ থেকে ৭ শত ধরন্ত কলাগাছ ভেঙ্গে এ ক্ষতি সাধিত হয়। এসংবাদে উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ খলিলুর রহমান সরজমিনে গিয়ে কৃষকের বাগান পরিদর্শন করেন এবং তাকে সান্তনা প্রদান করে।

 

কুষ্টিয়ায় উতপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষে কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রযুক্তি ও সিআইজি ব্যবস্থাপনা ন্যশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলোজি প্রোপ্রাম ফেজ-২ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) এর আওতায় কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গবার দুপুরে সদর উজেলার কৃষক প্রশিক্ষণ হল রুমে কর্মশালার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চল যশোরের কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু। সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষন সরকার।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সেলিম হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র সাহা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার প্রমানিক প্রমুখ। এ সময় শতাধিক কৃষক কৃষাণী প্রশিক্ষনে অংশ নেন।

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুরে গ্রীস্মকালীন সীম প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস

নিয়ামুল হক ॥ ন্যশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলোজি প্রোপ্রাম ফেজ-২ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) এর আওতায় কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুরে গ্রীস্মকালীন সীম প্রদর্শনীর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পশ্চিম আব্দালপুর হাইস্কুল মাঠে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। মাঠ দিবসে কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ত যশোর অঞ্চল যশোরের কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু। এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষির উন্নয়ণের বিকল্প নাই। ফল ফসল সবজি উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে, জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। নিরাপদ সবজি, ফল মানবদেহে পুষ্টি চাহিদা অক্ষুন্ন রাখে। বিশেষ করে মা ও বাচ্চাদের শাক সবজি বেশি বেশি খেতে হবে তাহলে শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। শিশুরা মেধাবী হলে আগামীদিনে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ঘটবে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সেলিম হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র সাহা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার প্রামানিক প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন ব¬কের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ দুই শতাধিক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

লাল চালের চমতকার গুণ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ চালের বাজারে গিয়ে যারা সাদা চাল খোঁজেন, তাদের জন্য চমকপ্রদ খবর হতে পারে লাল চাল। সাদা চালে শুধু ক্যালোরি এবং কাবোর্হাইড্রেটের পরিমাণই বেশি থাকে। অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কম থাকে। ফলে তা ডায়াবেটিস ও স্থুলতাসহ নানা রোগের কারণ হয়ে ওঠে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই খাদ্য তালিকা থেকে চালকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং লাল চালকে যুক্ত করাটাই বেশি স্বাস্থ্যকর হবে। এখানে লাল চালের অজানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ঃ লাল চালে রয়েছে ফাইটিক এসিড, ফাইবার এবং এসেনশিয়াল পলিফেনলস। এটি হলো এমন একটি জটিল কাবোর্হাইড্রেট যা আমাদের দেহে সুগারের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এবং আমাদেরকে ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত রাখে। লাল চাল লো গি সেমিক ইনডেক্স ফুড। তার মানে হলো হজমের পর লাল চাল থেকে সুগার কমহারে নিঃসরিত হয়। ফলে হুট করেই রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না এবং ভালোভাবে দেহে শোষিত ও অপসারিত হয়। অন্যদিকে সাদা চাল হলো হাই গি সেমিক ইনডেক্স ফুড যা সহজেই চবির্ জমায়।
হাড়ের স্বাস্থ্য ঃ লাল চাল আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। এটি ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। যা আমাদের হাড়কে শক্ত এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়ক।
হৃদরোগ প্রতিরোধ ঃ লাল চাল রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে কোনো ধরনের ব্লক তৈরি হতে দেয় না। এতে আরও আছে সেলেনিয়াম নামের একটি উপাদান যা হাটের্র স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি হাইপারটনেশন এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। হজমের জন্য ভালো ঃ উচ্চ হারে আঁশ থাকায় এটি হজমে সহায়ক এবং গ্যাস শোষণ প্রতিরোধ করে। ফলে হজম প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালি করে তোলে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ঃ এতে আছে ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস। যা দেহের চর্বি সংশ্লেন এবং স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এর উচ্চ আঁশযুক্ত উপাদান আপানার পেট দীঘর্ক্ষণ ভরিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে বিরত রাখে।
মেটাবোলিক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি কমায় ঃ সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ আঁশযুক্ত এবং কম গি সেমিক উপাদনযুক্ত খাদ্য শস্য যেমন লাল চাল খেলে মেটাবোলিক সিন্ড্রোম সৃষ্টির ঝুঁকি কমে।
কোলোস্টেরল কমায় ঃ লাল চালে যে তেল আছে তা এলডিএল কোলোস্টেরল ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনে বলে কথিত আছে। আর এ কারণেই লাল চাল আমাদের খাদ্য তালিকার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর একটি শস্য। লাল চালে থাকা আঁশ হজম পক্রিয়ায় কোলোস্টেরলকে বেঁধে ফেলে এবং তা নিঃসরণে সহায়তা করে।

নানা প্রকার চিকিতসায় ব্যবহৃত হয় ভেষজ উদ্ভিদ উলটকম্বল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ উলটকম্বল আমাদের দেশীয় ভেষজ উদ্ভিদের অন্যতম একটি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাজুড়ে এর বিস্তৃতি রয়েছে। এশিয়ার প্রধান অঞ্চল এর আদি নিবাস। বাংলাদেশের সর্বত্র উলটকম্বল গাছ জন্মাতে দেখো যায়। উলটকম্বল ২ থেকে ৩ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় চিরহরিৎ গাছ। এ গাছের শাখার গোড়ার পাতা হৃৎপিন্ডের মতো দেখায়, তবে পাতার অগ্রভাগের দিকটা সরু, রং উজ্জ্বল সবুজ। পাতার বোঁটা ও কচি ডাল খয়েরি লাল রঙের, ডগার পাতাগুলো লম্বা আকৃতির হয়ে থাকে। গাছের বাকল শক্ত আঁশযুক্ত, পানিতে ভিজালেও নষ্ট হয় না। গাছের কাঠ নরম ও ধূসর বর্ণের। নিদির্ষ্ট বয়সে এ গাছে ফুল ফোটে। ফুলের রং খয়েরি, পাপড়ি পাঁচটি। গাছের কচি শাখা-প্রশাখায় ফুল ফোটে। ফুল  দেখতে খুবই মনোরম। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে শরৎকাল পর্যন্ত গাছে ফুল  ফোটে। তাছাড়া অন্যান্য ঋতুতেও কম পরিমাণে ফুল ফোটতে দেখা যায়। পঞ্চকোণাকৃতি আকারের ফল, রং প্রথমে সবুজ এবং পরিপক্ব ফল কালো রং ধারণ করে। পরিপক্ব ফল আপনা-আপনি ফেটে যায়। ফলের ভেতর কম্বলের ন্যায় লোমশ থাকে এবং বিভক্ত পাঁচটি প্রকোষ্ঠের ভেতর কালো জিরার মতো ছোট-ছোট বীজ থাকে। উলটকম্বলের  ভেষজ গুণাগুণ : গাছের পাতা, ডাল ও মূলের ছাল বিভিন্ন রোগের ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছের ছাল ও ডাটা পানিতে ভিজিয়ে কচলালে পিচ্ছিল পদার্থ বের হয়। মূলের ছাল ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণকারী, তাছাড়া জরায়ু স্থানচ্যুতিতে ব্যবহৃত হয়। পাতার ডাঁটা প্রস্রাবের জ¦ালাপোড়া ও আমাশয় রোগের জন্য উপকারী এবং পাতা ও কান্ডের রস গনোরিয়া, স্ত্রী  রোগে  বেশ উপকারী। গবাদিপশুর পাতলা পায়খানা, বিলম্ব প্রজনন, জরায়ুর রক্তক্ষরণ এবং হাঁস-মুরগির নানা প্রকার চিকিৎসায় উলটকম্বল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রায় সব ধরনের সুনিষ্কাশিত মাটিতে উলটকম্বল জন্মায়। তবে দো-আঁশ মটিতে ভালো জন্মে। গাছ ছায়া সহ্য করতে পারে এবং ছায়াতে বেশি ভালো হয়। পাহাড়ি বনাঞ্চলের পাশা-পাশি গ্রাম, শহর, পারিবারিক বাগান, রাস্তার ধার, ভেষজ বাগান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে উলটকম্বল গাছ দেখা যায়। বীজ থেকে ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা যায়। তবে বীজ  থেকে বংশবিস্তার খুবই সহজ পদ্ধতি। বীজ সংগ্রহ পরবর্তী ১ থেকে ২ মাস পর বীজ বপন করা যায়। বীজ বপনের পূর্বে পানিতে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে নিয়ে পানি ছেকে বাতাসে শুকিয়ে নিয়ে প্রস্তুতকৃত জমিতে বীজ ছিটিয়ে বা সারিতে বপন করা যায়। বীজ বপন পরবর্তী জমি মই দিয়ে সমান করতে হবে ও বীজ ভালভাবে ডেকে দিতে হবে। জমিতে বীজ বপনের উত্তম সময় অক্টোবর নভেম্বর মাস। তাছাড়া এ সময় বীজ বপনে ভালো চারা ও গাছ পাওয়া সম্ভব। উলটকম্বল গাছে তেমন সার প্রয়োগ করতে হয় না। প্রয়োজনে জমি অনুর্বর হলে অল্প পরিমাণ সার দিতে হবে। বিঘা প্রতি ৫ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি টিএসপি দরকার হয়। শুকনো  মৌসুমে সেচের প্রয়োজন হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে আগাছা দমন করতে হবে। বীজ বপনের ৫ থেকে ৬ মাস পর গাছের পাতা, ডাল, মূল ব্যবহারের উপযোগী হয়।

সংক্রমিত বীজ আলু ব্যবহার করেন ৯৫ শতাংশ চাষিই

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য আলু। বছরে জনপ্রতি আলু কেনা হয় ১০৩ কেজি। বিগত ১২ বছরে আলুর উৎপাদন এবং রফতানি পর্যন্ত বাড়লেও এ শস্যের মান ও ফলন নিয়ে কথা থেকেই যাচ্ছে। আলুর ভালো ফলন না হওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা দুষছেন সংক্রমিত বীজ ব্যবহারকে। তাদের মতে, চাষিদের ৯৫ শতাংশই ব্যবহার করেন সংক্রমিত বীজ আলু, যার ফলে এই শস্যের মান এবং ফলন আশাব্যঞ্জক হচ্ছে না। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আলুর ফলনের ক্ষেত্রে মাত্র ৪ শতাংশ কৃষকের হাতে এই বীজ সরবরাহ করছে সরকার। বেসরকারিখাত থেকে বীজ পান ১ শতাংশ কৃষক। এসব বীজের সঠিক সংরক্ষণ ও মান নির্ণয়ের সুযোগ থাকে বলে ফলনও হয় বেশ। কিন্তু ৯৫ শতাংশ চাষিই নিজেদের মতো করে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেন, যেখানে মান নির্ণয়ের সুযোগ নেই বলে থেকে যায় সংক্রমণ। যে কারণে হয় না ভালো ফলন। বিএডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বেশিরভাগ কৃষকেরই নিম্নমানের বীজ ব্যবহারের কারণে আলুর কাঙ্খিত ফলন হচ্ছে না। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে ১৯-২০ টন আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু একই পরিমাণ জমিতে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০-৪২ টন আলু উৎপাদন করে থাকে। এসব দেশে সরকারি উদ্যোগে মানসম্মত বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ৯৫ শতাংশ চাষিই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বীজ রাখছেন এবং রোপণ করছেন, সেজন্য আলুর ফলনও কম। অন্য দেশের সঙ্গে তুলনায় না গেলে অবশ্য বাংলাদেশে আলুর ফলন ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে যেখানে আলু উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ৬৭ লাখ টন। ১০ বছর পরে এসে এ শস্য উৎপাদন ছাড়িয়েছে ১০০ লাখ টন। এরমধ্যে আবার বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার টন আলু রফতানিও করা হয়। বিএডিসির সূত্র মতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রতি হেক্টরে দেড় টন হিসেবে মোট সাড়ে ৭ লাখ টন আলু বীজের প্রয়োজন। সরকারের আওতায় রয়েছে ৩০টি আলু বীজ হিমাগার। যেগুলোর মোট ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার ৫০০ টন। আলু বীজ সংরক্ষণে তাই সরকার আরও বেশি হিমাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে আলাপ করলে বিএডিসি চেয়ারম্যান ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার বলেন, ‘আমরা মাত্র ৪ শতাংশ কৃষকের হাতে আলু বীজ তুলে দিয়ে থাকি। বাকি ১ শতাংশ কৃষক বেসরকারি উদ্যোগে চাহিদা মেটান। আমাদের সরবরাহ করা আলু বীজে উৎপাদন ভালো। কারণ আমরা সব ধরনের প্রক্রিয়া মেনেই আলু বীজ সরবরাহ করি। কিন্তু ৯৫ শতাংশ কৃষক নিজ উদ্যোগে আলু বীজ সংগ্রহ করেন বলে এসব বীজের মান ভালো থাকে না। ফলে এসব বীজ থেকে ভালো আলুও হয় না।’ কৃষক পর্যায়ে বেশি হারে আলু বীজ সরবরাহ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যতো আলু বীজ সরবরাহ করবো, ততো ভালো উৎপাদন হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ছয়টি নতুন হিমাগার নির্মাণ করবো। যার ফলে বিএডিসির হিমাগারে বীজ আলুর সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে।’ বিএডিসির বিশেষজ্ঞরা জানান, আলু বীজ হলো কৃষির মৌলিক উপকরণ এবং ফসল চাষের একমাত্র জীবিত উপকরণ। অন্যান্য উপাদানের কার্যকারিতা বীজের ওপর নির্ভর করে। ভালো মানের বীজ একাই উৎপাদনের ২০ শতাংশ বাড়াতে পারে। সেজন্য বলা যায়, আলুর উৎপাদন বাড়াতে বীজের গুরুত্ব অনেক। আর তাই কৃষকের হাতে উন্নত মানের আলু বীজ পৌঁছালে এ শস্য ফলনে আরও সফলতা আসবে।

ফুলের চারা উতপাদনে টিস্যু কালচার পদ্ধতি ব্যবহার

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বিদেশি ফুল চাষ করার জন্য বাংলাদেশের ফুল চাষিরা বিদেশ থেকে টিস্যু কালচারের ফুলের চারা এনে ফুল চাষ করছেন। দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের কয়েক কোটি চারার চাহিদা রয়েছে। দেশে প্রাপ্যতার অভাবে ফুলচাষিরা ভারত থেকে কোটি কোটি টাকার ফুলের চারা কিনে আনেন। ফুল চাষিদের চাহিদার কথা ভেবে রাজশাহীতে অ্যাগ্রোব্যাক নামের একটি টিস্যু কালচার ল্যাব বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা উৎপাদন করছে।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অ্যাগ্রোব্যাক ল্যাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে জারবেরা, ইউস্টোমা, লিলিয়াম, টিউলিপ, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুলের চারা উৎপাদন করছে। তারা সেগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে সারাদেশের ফুলচাষিরা ফুলচাষে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। টিস্যু কালচার ল্যাব পরিদর্শন, হার্ডেনিং হাউসে ফুলের চারার সংরক্ষণ, মাঠপর্যায়ে ফুল উৎপাদন যেন ফুলচাষিদের কাছে আশার আলো জুগিয়েছে। এরকম আরও টিস্যু কালচার সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্র্রি ও ল্যাব গড়ে উঠলে ভারত থেকে আর চারা আনতে হবে না বলে তারা জানিয়েছেন দেশের সেরা ফুলচাষি, ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, সারাদেশে টিস্যু কালচারের ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিষ্ঠান যেভাবে সফলতার সঙ্গে বিভিন্ন ফুলের যে চারা উৎপাদন শুরু করেছে তাতে ভবিষ্যতে আর ভারত থেকে চারা আনতে হবে না। টিস্যু কালচারের চারা ভারত থেকে কেনা দামের চেয়ে অনেক কম মূল্যে চারা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সারাদেশের ফুলচাষিরা লাভবান হবেন।
বাংলাদেশে ফুল চাষের জনক ও ফুলচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি যশোরের ঝিকরগাছার শের আলী বলেন, টিস্যু কালচারের ফুলের চারা উৎপাদন হওয়ায় তিনি খুব খুশি। সারাদেশে যেন প্রতিষ্ঠানটি চারা সরবরাহ করতে পারে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অ্যাগ্রোব্যাক বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের চারা উৎপাদন এবং সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে।
অ্যাগ্রোব্যাক টিস্যু কালচার ল্যাবের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, আমরা টিস্যু কালচারের মাধ্যমে জারবেরা, ইউস্টোমা, লিলিয়াম, টিউলিপ, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুলের চারা উৎপাদন করছি। কৃষকদের মধ্যে সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে অ্যাগ্রোব্যাক ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে প্লান্ট টিস্যু কালচার ইন্ডাস্ট্রি গঠন করবে এমন প্রত্যাশা করেন তিনি ।

আমলায় ভার্মি কম্পোস্টের উপরে মাঠ দিবস

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভার্মি কম্পোস্ট এর উপরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এনএনটিপি-২ এর আওতায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কুশাবাড়ীয়া-চরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভূতি ভূষন সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিভাষ চন্দ্র সাহা, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফকির মহাম্মদ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল আলীম, লাভলী আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক কৃষক/কৃষাণী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দরা কৃষি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এর আগে অতিথিরা উক্ত এলাকার “মল্লিক এগ্রো” ভার্মি কম্পোস্ট এর খামার পরিদর্শন করেন।

দৌলতপুরে জাতীয় ইদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাতীয় ইদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় ইদুর নিধন অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া–১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর কৃষি অফিসার এ কে এম কামরুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন, রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু ও কৃষক নেতা শরিফ ডাক্তার। এরপর ২০১৮–১৯ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে, সরিসা, ভুট্টা ও বিটিবেগুন ফসলের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।

গাংনীর নিশিপুরে সৌর সেচ পাম্প কর্মসূচীর উদ্বোধন

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ গতকাল মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের ফসলী মাঠে সৌর সেচ পাম্প কর্মসূচী (এসআইপিপি)-র উদ্বোধন করেছেন প্রধান অতিথি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল। সৌর বিদ্যুৎ চালিত এ সেচ প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলের অসংখ্য কৃষক তাদের ফসলের সেচ সুবিধা পাবেন। ইনফ্রাষ্টাকচার ডেভোলপমেন্ট কোম্পানী লিঃ (ইডকল) এর অর্থায়নে এ কর্মসূচীটি বাস্তবায়ন করেছেন রিসোর্স ডেভোলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আর,ডি,এফ)।বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ^াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ শাহাবুদ্দিন, মোফাজ্জেল হোসেন এ্যসিসটেন্ট ম্যানেজার ইডকল, গোলাম মাসুদ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আরডিএফ, হাবিবুর রহমান ডেপুটি চীপ কো-অর্ডিনেটর, মাইনুল ইসলাম নাঈম প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আরডিএফ, তৌফিকুর রশীদ জুয়েল ম্যানেজার হাটবোয়ালিয়া শাখা আরডিএফ এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, সুধীজন, গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ কৃষকগন উপস্থিত ছিলেন। আরডিএফ-র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর গোলাম মাসুদ তার বক্তব্য বলেন, যে কোন ফসল উৎপাদনে কৃষককে নগদ টাকায় জ¦ালানী কিনে সেচ দিতে হয়। যার ফলে অনেক সময় কৃষকের হাতে নগদ টাকা থাকে না তাই যথা সময়ে সেচ দিতে না পারার কারনে ফসলের ফলন কম হয়। এতে করে অনেক পরিশ্রম করেও কাঙ্খিত লাভ হয় না কৃষকের। কিন্তুু সৌর পাম্পের আওতায় চাষ করা ফসলের ক্ষেত্রে সেটি হবে না। সময় মত সেচ সুবিধা পাবে নগদ কোন টাকা দেওয়া লাগবে না, ফসল সংগ্রহের পরে কৃষক তার সেচের টাকা পরিশোধ করবে। যার ফলে ফসলে সময় মত সেচ পেলে উৎপাদন ও বেড়ে যাবে কয়েকগুন। এতে করে কৃষক লাভবান হবে। নিশিপুর সৌর সেচ পাম্পের পরিচালক মোশারেফ হোসেন জানান, আগে স্যালোম্যাশিনের এ এলাকার মানুষ চাষাবাদ করতো। সময় মত মেশিনের চালককে পাওয়া যেত না ফলে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হতো তাছাড়া মাঝে মধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে সেটি না সারা পর্যন্ত কাজও করে না। সৌর বিদ্যুতে এখন থেকে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবে।