ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার ক্ষমতা কারো নেই – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে দেশের এমন কোন রাজনৈতিক দল বা শক্তি নেই যারা আওয়ামী লীগকে আগামি নির্বাচনে পরাজিত করতে পারে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আমাদের যে সফলতা রয়েছে, তা জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস দেশের জনগন। তারা যতদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে, ততদিন বিদেশীদের কাছে ধর্না দিয়ে বা কোন ষড়যন্ত্র করে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করা ও ক্ষমতার বাইরে রাখা যাবে না। বিএনপি পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, সেই কারণেই কোন আন্দোলনে তারা সফল হবে না। তাই এখন তারা বিদেশীদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগনের ওপর যাদের আস্থা নেই, তারা বিদেশীদের কাছে ধর্না দেবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই তারা এখন বিদেশীদের কাছে নালিশ করে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাতের কারনেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। আর সেই কারাগার থেকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিএনপি তাকে মুক্ত করতে পারছে না বলেই সকাল বিকাল তারা সরকারের কাছে বেগম জিয়ার মুক্তি দাবী করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, মো. নাজিমউদ্দিন ও দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম।

ফুটবল ও হকি জাতীয় দলের সাবেক তিন খেলোয়াড়কে ফ্ল্যাট দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ফুটবল ও হকি জাতীয় দলের সাবেক তিন খেলোয়াড়কে ঢাকার মিরপুরে তিনটি আবাসিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরা হলেন- প্রয়াত ফুটবলার মোনেম মুন্না ও জাতীয় ফুটবল দল ও আবাহনী লিমিটেডের সাবেক খেলোয়াড় শেখ আশ্রাফ আলী ও জাতীয় হকি দলের প্রয়াত খেলোয়াড় জাহিদুর রহমান পুশকিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এসব খেলোয়াড় ও পরিবারের কাছে তাদের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন। ফুটবলার মোনেম মুন্নার পক্ষে তার স্ত্রী ইয়াসমীন মোনেম এবং হকি খেলোয়ার জাহিদুর রহমান পুশকিনের পক্ষে তার স্ত্রী ফাহমিদা রহমানের কাছে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। জাতীয় ফুটবলার আবাহনীর সাবেক খেলোয়াড় শেখ আশ্রাফ আলীর কাছে তার ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের ফুটবল ও হকিতে জাতীয় দলের দুই ফুটবলারও একজন হকি খেলোয়াড়ের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ ফ্ল্যাটগুলো দিয়েছেন। বাফুফে প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ফুটবলার ও সাংসদ আবদুস সলাম মুর্শেদী, বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ এবং বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম সোহাগ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খন্দকার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন শুনানি পিছিয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু জানান, আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর অধিকতর শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলী আদালতের বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ গোলাম মাহাবুব খান এই আদেশ দেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ ফেব্র“য়ারি ভোরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর পৌঁছালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে আগুনে পুড়ে বাসের আট যাত্রী মারা যান। আহত হন আরও ২৭ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নূরুজ্জামান হাওলাদার হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম গত বছরের ৬ মার্চ আদালতে অভিযোগ দেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। এছাড়া একই সময় একই উপজেলায় কভার্ড ভ্যানে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। এসব মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতায় হুকুমের অভিযোগ আনা হয়। আইনজীবী কাইমুল হক বলেন, তিনটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল শুনানির দিন। শুনানি শেষে বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ গোলাম মাহাবুব খান আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর অধিকতর শুনানির আদেশ দেন। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাবন্দি আছেন।

মনগড়া কথা বলেছেন এস কে সিনহা – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার নতুন বইয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব ‘মনগড়া কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিচারপতি সিনহা কেন আগে এসব বলেননি, দেশে ফিরে তিনি কেন জনগণের মুখোমুখি হচ্ছে না- সে প্রশ্নও তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, তিনি (বিচারপতি সিনহা) সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তজর্¦ালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে আত্মজীবনীমূলক ওই বইয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়েছেন ‘হুমকির মুখে’; একই কারণে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেওয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে তিনি ছুটিতে যান। সরকারের পক্ষ থেকে অসুস্থতার কথা বলা হলেও ১৩ অক্টেবর তিনি রীতিমত বোমা ফাটিয়ে বিদেশে চলে যান। বিচারপতি সিনহা বলে যান, তিনি অসুস্থ নন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি ‘বিব্রত’। তার ছুটির মেয়াদ শেষে ১১ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগ করার পর বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ওঠার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন। সেসব অভিযোগ নিয়ে দুদক পরে অনুসন্ধানও শুরু করে। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধির নামে বিচারপতি সিনহা তা তা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করে আসছেন সরকারের মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগের নেতারা। সেই সময়ের কথা তুলে ধরে বিচারপতি সিনহা তার বইয়ে লিখেছেন, পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, তার দলের লোকজন এবং সরকারের মন্ত্রীরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনতে থাকেন। ওই সময় তাকে বাসভবনে আটকে রাখা হয় এবং আইনজীবী ও বিচারপতিদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা। বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাধ্য হয়ে’ দেশ ছাড়ার সময় তিনি ভেবেছিলেন, আদালতে তার অনুপস্থিতি আর অবকাশের মধ্যে পরিস্থিতি থিতিয়ে আসবে; ‘সুবিবেচনার’ উদয় হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবার ও স্বজনরা ‘হুমকির’ মুখে পড়লে বিদেশ থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার কথা লিখেছেন বিচারপতি সিনহা। তার অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, এখন বইতে যা লিখেছেন, তখন তা বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতির কেন ছিল না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরানো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। ক্ষমতা হারালে অনেক রকম ‘অন্তর্জালা’ তৈরি হয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা ছাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে নতুন নতুন জোট গড়ে ওঠার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে দলে জনে জনে যে ঐক্যের কথা আসছে, এসব কি জনমনে কোনো প্রভাব ফেলবে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কি কমে যাবে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের আস্থা আছে, বাংলাদেশের জনমত শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে। নেতায় নেতায় ঐক্য হলে জনতার মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী এই মুহূর্তে জনমনে এর কোনো প্রতিফলন হবে না। এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ অযৌক্তিক

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছেন। শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখলে তো হবে না। আমাদের সাংবাদিকরা এত বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন কেন? এর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যেটা আমরা করেছি, দেশের কল্যাণে, জাতির কল্যাণে, শিশুর কল্যাণে করেছি। মানুষকে অবশ্যই নিরাপত্তা দিতে হবে। সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সংসারকে বাঁচাতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের চরিত্র রক্ষা করতে হবে। শিশুরা যাতে বিপথে না যায়, যুবসমাজ যাতে বিপথে না যায়, বড়রাও যাতে এডিকটেড না হয়, সেটা নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।  সেদিক বিবেচনা করেই আমরা এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটা পাস করেছি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচকদের উদ্দেশে সংসদ  নেতা বলেন, ‘এই আইন নিয়ে যারা অনেক সমালোচনা করছেন, তাদের বলব এই দেশেতো বহু ঘটনা ঘটে গেছে। অতীতের বিষয়গুলো আপনারা একটু চিন্তা করে দেখুন। তখন কেমন ছিল, এখন কেমন আছে? এখনতো সবই উন্মুক্ত। যে যার মতো লিখে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এত উন্নয়ন, বিশ্ববাসীর চোখেও তা আজ দৃশ্যমান। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ সমাদৃত হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের দেশেতো এমনও পত্রিকা আছে, খুললেই মনে হবে বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। বাংলাদেশ একেবারে যেন শেষই হয়ে গেছে।’ গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা হোক, তাতে আমার কোনো আপত্তি  নেই। কিন্তু, এমনভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হয় যে, এই সরকার খুবই খারাপ কাজ করছে। কী খারাপ কাজটা করলাম, সেটাই আমার প্রশ্ন। হ্যাঁ, যারা কোনো কিছু ভালো  দেখতে পায় না। তারাই সব খারাপ দেখবে। এটা তাদের চরিত্র। আমি সেভাবেই নিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষের চরিত্রই আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতাও। এই অসুস্থতায় যারা ভুগছেন, তাদের কাছে আমার বলার কিছুই নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশকে ভালোবাসি, দেশকে জানি-চিনি। এই  দেশ আমার, এই দেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে  গেছেন। এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই তিনি সারাজীবন জেল খেটে গেছেন। সারাজীবন কষ্ট শিকার করেছেন।  দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন তিনি কিন্তু পারেননি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে কাজ করছে। কিন্তু, যারা গণতন্ত্রকে নড়বড়ে দেখেন, তারা গণতন্ত্র চান না। তারা শুধু দেখেন কখন কিছু ছিড়ে পড়বে আর তাদের কাজে আসবে। তারা সেদিকে তাকিয়ে থাকেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গ্রামকে শহরে রুপান্তরিত করতে কাজ করে চলেছি, যাতে গ্রামের মানুষ সেখানে বসে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পেতে পারেন। আমরা শিল্প, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করে চলেছি। আমরা তিন ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের  দেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশ এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা জণগনের সব ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করব।’ তিনি বলেন, ‘আমি কী করতে পারছি, কী করতে পারছি না, আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস আছে। পত্রিকা পড়ে আমাকে শিখতে হবে না। আমি এমনিতেই জানি আমাকে কী করতে হবে? পত্রিকা পড়ি শুধু তথ্যের জন্য কোথায় কী করতে হবে, কাকে সাহায্য করতে হবে? সেভাবে সমাধান করার চেষ্টা করি।’  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজের লাভের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমাদের দৃষ্টি থাকে গ্রামের মানুষের উন্নয়ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘১০ম জাতীয় সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে খেউয়ি খেওয়ি হয় না, গালাগালি হয় না। এরপরে সামনে নির্বাচন। জনগণ যাকে ভোট দেবে, সে দল ক্ষমতায় আসবে। এ নিয়ে আমি ভাবি না। আমরা মনে করি, কমিশন খাওয়ার জন্য যেন কোনো কাজ না হয়, যাতে জনগণের উন্নয়ন ঘটে, সেদিকে আমরা সব সময় লক্ষ্য করি।’ উল্লেখ্য, ১০ কার্যদিবস চলার পর শেষ হলো জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন। গত ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই অধিবেশনে ১৮টি বিল পাস হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আর একটি অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে, ১৪ অক্টোবর।

 

আজ পবিত্র আশুরা

ঢাকা অফিস ॥ আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয় মুসলিম বিশ্বে। বাংলাদেশেও শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ও কর্মসূচিতে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে শুক্রবার সরকারি ছুটি। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলটি ধানমন্ডি লেকে এসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক শুক্রবার বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া ইসনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে। ডিএমপি কমিশনার তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে আরও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ ফুটের বেশি বড় নিশান মিছিলে ব্যবহার করা যাবে না। আগুনের ব্যবহার করা যাবে না। মিছিলে ব্যাগ, পোঁটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন করা যাবে না। মাঝপথে কেউ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

আগাম রবি সবজির চারা উপাদন কৌশল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সবজি আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অন্যতম অনুষঙ্গ। কথায় আছে ‘সুস্থ সুন্দর দেহমন, হাসিখুশি সারাক্ষণ’। আর সেটি নিশ্চিত করতে হলে খাবার টেবিলে সবজি রাখার বিকল্প নেই। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০ গ্রাম সবজি খাওয়া প্রয়োজন। খাদ্য উপাদানের প্রত্যেকটি উপাদান বিভিন্ন সবজির মধ্যে কমবেশি বিদ্যমান। বাণিজ্যিকভাবেও সবজি উৎপাদন খুবই লাভজনক। বাংলাদেশে প্রায় ৮৯ ধরনের শাকসবজি চাষ করা হয়। সবজির ভালো উৎপাদন অনেকাংশে গুণগত মানের চারার ওপর নির্ভরশীল। শীতের সবজি খেতে কার না ভালো লাগে। আর তা যদি আগাম শীত সবজি হয় তা খেতে যেমন সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর বাজারে দামও থাকে বেশি। তাই শীতের সবজির আগাম চারা উৎপাদনে বিশেষ প্রযুক্তি ও কলা-কৌশল অনুসরণ করতে হয়। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে এই নিবন্ধে। আমাদের দেশে সাধারণত টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, লাউ, বাঁধাকপি, মরিচ, পেঁয়াজ এসব সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। আগাম শীতকালীন ও রবি মৌসুমের সবজি চাষের জন্য সবজি চারা উৎপাদনের এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়। উৎকৃষ্ট মানের সবজির চারা উৎপাদনের জন্য প্রচুর দক্ষতা এবং বিশেষ কিছু প্রযুক্তি বিবেচনা করা উচিত।
সবজির বীজ ঃ কথায় আছে ভালো বীজে ভালো ফসল। যেন-তেন কোম্পানির বীজ কিনে অনেক সময় কৃষকরা প্রতারিত হয়ে থাকেন। তাই বিশ্বস্ত ও প্রকৃত বীজ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাহিদা মাফিক সঠিক জাতের সবজি বীজ ক্রয় করতে হবে। জাত নির্বাচন ও বীজ ক্রয়ের ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী অথবা একজন আদর্শ কৃষকের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। প্যাকেটের গায়ে বীজের গুণগত মানের কতগুলো তথ্যাদিসহ ওই বীজের মেয়াদ স্পষ্ট করে লেখা আছে এমন বীজের প্যাকেট কিনতে হবে। হাইব্রিড বীজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
বীজতলা নির্বাচন ঃ সবজির চারা উৎপাদনের জন্য সঠিক স্থানে বীজতলা তৈরি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বীজতলাকে শিশু চারার বিছানা বলা হয়ে থাকে। নরম, তুলতুলে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রোগ জীবাণুমুক্ত বীজতলা সবজি চারা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই বীজতলা তৈরির স্থান নির্বাচনের জন্য কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার। যেমন- অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি, যেখানে বৃষ্টি বা বন্যার পানি জমে না এবং সহজে নিষ্কাশন করা যায়। ছায়াবিহীন, পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের উপযোগী স্থানে বীজতলা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বীজতলার কাছাকাছি যেন পানির উৎস থাকে এবং বাড়ি, খামার বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হলে অফিসের কাছাকাছি হওয়া উচিত। বীজতলার মাটি বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ এবং অবশ্যই উর্বর হতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন করতে হলে বীজতলা যতদূর সম্ভব ক্রেতাদের কাছাকাছি এবং ভালো যোগাযোগ সম্পন্ন স্থানে স্থাপন করতে হবে।
বীজতলা প্রস্তুতি ঃ একক বীজতলা সাধারণত এক মিটার চওড়া ও তিন মিটার লম্বা হবে। প্রয়োজনে বড় জমিকে ভাগ করে একাধিক বীজতলা তৈরি করা যায়। পাশাপাশি দুটি বীজতলার মধ্যে কমপক্ষে ৬০ সেমি ফাঁকা রাখতে হবে। বীজ বপনের কয়েকদিন আগে বীজতলার মাটি ২০-২৫ সেমি গভীর করে ঝুরঝুরা ও ঢেলামুক্ত করে তৈরি করতে হবে। বীজতলা সাধারণত ১০-১৫ সেমি উঁচু করে তৈরি করতে হবে। মাটি, বালি ও পচা গোবর সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে বীজতলার মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি উর্বর হলে রাসায়নিক সার না দেয়াই ভালো। উর্বরতা কম হলে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম টিএসপি সার বীজ বপনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে ছিটিয়ে দিয়ে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মেশাতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন করতে চাইলে ইট সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ী বেডে বীজতলা তৈরি করাই শ্রেয়।
বীজ বপন ঃ বীজ বপনের আগে বীজ পরীক্ষাকরণ, বীজ শোধন ও বীজতলার মাটি শোধন করে নিতে হবে। বীজতলায় সারি বা ছিটিয়ে বীজ বপন করা যায়, তবে সারিতে বপন করা উত্তম। সারিতে বপনের জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট দূরত্বে (৪ সেমি) কাঠি দিয়ে ক্ষুদ্র নালা তৈরি করে তাতে বীজ ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। শুকনা মাটিতে বীজ বপন করে সেচ দেয়া উচিত নয়, এতে মাটিতে চটা বেঁধে চারা গজাতে ও বাতাস চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সেচ দেয়া মাটির জো অবস্থা এলে বীজ বপন করতে হয়। যেসব বীজের আবরণ শক্ত, যেগুলোয় সহজে পানি প্রবেশ করে না, সেগুলোকে সাধারণত বোনার আগে পরিষ্কার পানিতে ১৫-২০ ঘণ্টা অথবা শতকরা এক ভাগ পটাশিয়াম নাইট্রেট দ্রবণে এক রাত্রি ভিজিয়ে বপন করতে হয় (যেমন- শিম, লাউ, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, করলা, উচ্ছে ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি)।
বীজতলায় আচ্ছাদন ঃ বৃষ্টির পানি ও অতিরিক্ত সূর্যতাপ থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য আচ্ছাদন দেয়া প্রয়োজন। কম খরচে বাঁশের ফালি করে বীজতলায় প্রস্থ বরাবর ৫০ সেমি পরপর পুঁতে নৌকার ছৈয়ের আকার তৈরি করে, বৃষ্টির সময় পলিথিন দিয়ে এবং প্রখর রোদে চাটাই দিয়ে বীজতলার চারা রক্ষা করা যায়। সাধারণত সাদা মাছি নিয়ন্ত্রণের জন্য বীজতলায় আচ্ছাদনের পাশাপাশি মশারির ব্যবস্থা করলে খুব ভালো হয়। চারা গজানোর পর হালকা ছায়া, পরিকল্পিতভাবে পানি সেচ, চারা গজানোর ১০-১২ দিন পর দ্বিতীয় বীজতলায় সারি করে রোপণ এসব করলে ভালোমানের চারা তৈরি হয়।
দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানান্তর ঃ জমিতে চারা লাগানোর আগে মূল বীজতলা থেকে তুলে দ্বিতীয় বীজতলায় সবজি চারা রোপণের পদ্ধতিকে সবজির চারার দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানান্তরকরণ পদ্ধতি বলে। সাধারণত ১০-১২ দিনের চারা দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তরিত করা হলে কপি গোত্রের সবজি, বেগুন ও টমেটো চারা শিকড় বিস্তৃত ও শক্ত হয়, চারা অধিক সবল ও তেজি হয়। চারা লাগানোর পর হালকা পানি দিতে হবে এবং বৃষ্টির পানি ও প্রখর রোদ থেকে রক্ষার জন্য পলিথিন বা চাটাই দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
চারার রোগ দমন ঃ বীজতলায় বপনকৃত বীজ গজানোর আগে এবং পরে রোগাক্রান্ত হতে পারে। তাই আগেই বীজতলার মাটি কাঠের গুঁড়া পুড়িয়ে, সৌরতাপ, পোল্ট্রি রিফিউজ ও খৈল ব্যবহার করে শোধন করে নিতে হবে। বীজতলার মাটি সুনিষ্কাশিত রাখা রোগ দমনের প্রধান উপায়। প্রতিষেধক হিসেবে মাটিতে কপার অক্সি-ক্লোরাইড দুই গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বীজতলার মাটি ভালো করে ভিজিয়ে কয়েকদিন পর বীজ বপন করতে হবে। বন্যার সময় বীজতলায় চারা উৎপাদনের জন্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে সবজির চারা কাঠের বা প্লাস্টিকের ট্রে, পলিথিনের ব্যাগে, মাটির টবে, গামলায়, থালায়, কলার খোলে উৎপাদন করা যায়। ছোট আকারের পলিথিনের ব্যাগে বা অন্যান্য মাধ্যমে এদের চারা উৎপাদন করলে সহজে শেকড় ও মাটিসহ চারা রোপণ করা যায়। এসব কলাকৌশলগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে সবজির সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
লেখক ঃ আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট।

সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি মাদ্রাসার উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, সুপার শেখ মহিউদ্দিন আহম্মেদ, সহকারী সুপার আব্বাস উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক কাঞ্চন কুমার, আবু হেনা মস্তফা কামাল, হাবিবুর রহমান, উকিল আলী, হামিদুল ইসলাম, খালেদা খাতুন, আসাদুজ্জামান, ওবাইদুল হক, আরজিনা খাতুন, মহিবুল হক, সাইদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, ক্বারী হাবিবুর রহমান, অফিস সহকারী গোলাম কিবরিয়া মাসুম, অফিস ষ্টাফ আশিকুল ইসলাম, মহসীন আলী প্রমুখ। খেলায় মাদ্রাসার আটটি দল অংশগ্রহণ করে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু।

এশিয়া কাপ শেষ পান্ডিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্ট্রেচারে করে যখন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মাঠ থেকে, খারাপ কিছুর ইঙ্গিত মিলেছিল তাতেই। সেই শঙ্কাই সত্যি হলো ভারতের জন্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া চোটে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। একই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট শেষ স্পিনিং অলরাউন্ডার আকসার প্যাটেলেরও।বুধবার দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে নিজের পঞ্চম ওভারে এই চোট পান পান্ডিয়া। বোলিংয়ে ফলো থ্রুতে টান লাগে পিঠের নিচের দিকে। তখনই শুয়ে পড়েন মাঠে, দাঁড়াতে পারছিলেন না। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে। পরে দাঁড়াতে পেরেছেন বলে জানানো হয় ভারতীয় দল থেকে। তবে খেলার মতো অবস্থায় নেই। এশিয়া কাপ তো বটেই, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শুরুটায়ও তাকে পাওয়া নিয়ে আছে শঙ্কা। অলরাউন্ডার পান্ডিয়ার বদলে ভারত দলে নিয়েছে পেসার দীপক চাহারকে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে ২৬ বছর বয়সী চাহারের।পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই চোট বাধিয়েছেন আকসার। এদিন তিনি একাদশে ছিলেন না। কিন্তু অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমে বাঁহাতের তর্জনিতে পেয়েছেন চোট। তার বদলে জায়গা পেয়েছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। একসময় ওয়ানডে দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন জাদেজা। তবে গত বছরের জুলাইয়ের পর আর সুযোগ পারনি ওয়ানডে খেলার। গ্র“প পর্বে দুটি ম্যাচেই জয়ী ভারত সুপার ফোরে প্রথম ম্যাচ খেলবে শুক্রবার, দুবাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

মেহেরপুর পৌরসভা-মেহেরপুর প্রেসক্লাব মুখোমুখি

আজ বিকেল ৩টায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥  সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততায় একটু অবসর সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের। তাই একটু বিনোদনের জন্য মেহেরপুর পৌরসভা আয়োজন করেছে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। যার একদিকে অংশ নেবে পৌর পরিষদ একাদশ। অপরদিকে অংশ নেবে মেহেরপুর প্রেস ক্লাব। খেলাটি শুরু হবে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মেহেরপুর সরকরারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে। খেলা দেখার আমন্ত্রন জানিয়েছেন পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আলামিন হোসেন। পৌরসভার পক্ষে খেলায় অংশ নেবে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলসহ পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ। আর প্রেসক্লাবের পক্ষে অংশ নেবে ইরেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার জৈষ্ঠ ও কনিষ্ট সাংবাদিকরা। খেলাটি দেখার জন্য দিনব্যাপী মাইকিং করা হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুর্ধ-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে কুষ্টিয়া পৌরসভা

আজ খোকসা মুখোমুখি মিরপুর উপজেলা দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুর্ধ-১৭ গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের গতকালের খেলায় কুমারখালী উপজেলা দলকে ট্রাইবেকারে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা দল। কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবারের খেলা নির্ধারিত সময়ে কোন দল গোল করতে না পারলে খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়াই। ট্রাইব্রেকারে কুষ্টিয়া পৌরসভা ৫-৪ গোলে জয়ী হয়ে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা লাভ করলো। কুষ্টিয়া পৌরসভার গোল রক্ষক শাওন ম্যান অব দি ম্যাচের পুরস্কার লাভ করে। বিপুল সংখ্যক ফুটবল প্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে সেমি ফাইনালের প্রথম খেলায় কুষ্টিয়া পৌরসভা এবং কুমারখালী দল আক্রমন পাল্টা আক্রমন শানিয়ে খেলতে থাকে। উভয় দলই একাধিকবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।  খেলা প্রথমার্ধ অমিমাংশিত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকেই কুষ্টিয়া পৌরসভা দল আক্রমনের পর আক্রমন চালিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়। পৌরসভার ষ্টাইকারদের এলোমেলো ও ছন্দহীন শর্টের কারনে গোল করতে পারেনি। কুমারখালীও বেশ কয়েকটি আক্রমন চালিয়ে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়াই। ট্রাইবেকারে ৪টি শর্টে উভয় দলই গোল করে কিন্তু ৫ম শর্টে কুমারখালী মিস করে। একইভাবে কুষ্টিয়া পৌর দলের খেলোয়াড় ৫ম শর্টটি মিস করে। ফলে খেলা ৪-৪গোলে সমতা থাকে। ৬ষ্ঠ শর্টে কুমারখালীর বল কুষ্টিয়া পৌরসভার গোলরক্ষক প্রতিহত করে। ৬ষ্ঠ বলে কুষ্টিয়া পৌরসভার খেলোয়াড় সহজ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বল জালে ফেলতে সক্ষম হলে খেলায় ৫-৪ গোলে পৌরসভা দল জয়ী হয়। এসময় পৌরসভা দলের খেলোয়াড় কর্মকর্তা ও সমর্থকদের উল্লাসে মাঠের পরিবেশ ভিন্ন রূপ নেয়। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে ম্যান অব দি ম্যাচের পুরস্কার তুলে দেয়া হয় কুষ্টিয়া পৌরসভার  গোলরক্ষক শাওনের হাতে। পৌর মেয়র সাবেক কৃতি খেলোয়াড় আনোয়ার আলী পুরো সময় মাঠে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং উভয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝে শক্তি ও সাহস যোগান। এসময় উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্টের আহবায়ক কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, এনডিসি রবিউল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উভয় দলের কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকেরা। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে পৌর মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের সমাজকে সঠিক পথে নেয়া সম্ভব। খেলাধুলা না থাকায় সমাজে নানা রকমের অশান্তি পরিবেশ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে মাদকাশক্তি গ্রাস করেছিল। সরবকার যুব সমাজকে লেখাপাড়া আর খেলার মাঠে আনার জন্য এখন বেশি পরিমান খেলার উপর জোর দিয়েছে আজ তারই ধারবাহিকতায় এই ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন যা আমাদের সমাজে ইতিবাচক প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। কুমারখালীর খেলোয়াড় ঃ জয়, রানা, রাজু, হৃদয়, ইব্রাহিম, তারিকুল, রুবেল, রনি, আলিম, আশা, হৃদয়, পপি, রাসেল, পলাশ, হেলাল, আরজু। কুষ্টিয়া পৌরসভার খেলোয়াড় ঃ শাওন, উজ্জল, তারিকুল, রাকিব, জীবন, রঞ্জন, সজীব, রাকিব, আকাশ, সিয়াম, তোরাব, সোহাগ, তাজমুল, নয়ন, শাওন, আলমগীর অমি। রেফারীঃ খন্দকার সাদাতউল আনাম পলাশ। সহকারী রেফারী হেলাল ও আরজু। আজকের খেলাঃ সেমিফাইনাল খোকসা উপজেলা বনাম মিরপুর উপজেলা দল।

আবার সিনেমায় ফিরছেন আঞ্জেলিনা জোলি

বিনোদন বাজার ॥ প্রায় ৩ বছর হলো নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে। এবার বিরতি কাটিয়ে সিনেমায় ফিরছেন জোলি। নতুন একটি থ্রিলার সিনেমায় দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে।২০১৪ সালে প্রকাশিত জেমস স্কটের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হবে ছবিটি। সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, একটি বাড়ির মা এবং ১২ বছরের ছেলে ছাড়া সবাই রহস্যজনকভাবে খুন হন। ১২ বছরের ছেলেকে নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন ওই নারী।

জাহিদ হাসানের ‘মিস্টার টেনশন’

বিনোদন বাজার ॥ এনটিভিতে আজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচার হবে ধারাবাহিক নাটক ‘মিস্টার টেনশন’। আদিবাসী মিজান ও জাকির হোসেন উজ্জ্বলের যৌথ রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন আদিবাসী মিজান।নাটকটিতে অভিনয় করেছেন, জাহিদ হাসান, শখ, ফজলুর রহমান বাবু, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া, মৌসুমী হামিদ, সাদিয়া জাহান প্রভা, শামীমা নাজনীন, দিলারা জামান, আরফান আহমেদ, মারজুক রাসেল, ড. এনামূল হক, জোভান, এ্যানি খান, তাসনুভা এলভিন প্রমুখ।এনটিভিতে ‘মিস্টার টেনশন’ নাটকটি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার প্রচার হচ্ছে।

 

নিজের কোন রোগের কথা জানালেন প্রিয়াংকা

বিনোদন বাজার ॥ নিক জোনাসের সঙ্গে এনগেজমেন্ট শেষ হয়েছে প্রিয়াংকা চোপড়ার। সম্ভবত এ বছরের শেষেই তাদের বিয়েও সম্পন্ন হবে। এই আবহে নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে টুইট করে ফের ‘শিরোনামে’ তিনি।অ্যাস্থমা পেশেন্ট হয়েও নিজে কীভাবে এই রোগের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তার খবর সোশ্যাল সাইটে দিলেন প্রিয়াংকা।টুইটারে প্রিয়াংকা জানান, যারা আমাকে ভালো করে চেনেন, তারা জানেন আমি অ্যাস্থমেটিক। এটি লুকানোর কী আছে?আমি জানতাম এই রোগ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার আগে, আমার তাকে (অ্যাস্থমা) নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাই যখনই আমি ইনহেলার নিতাম, রোগ কিছুতেই আমাকে থামাতে পারত না। আমি ঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে যেতাম।

যমজ সন্তানের মা হলেন বলিউড তারকা লিসা রে

বিনোদন বাজার ॥ প্রাপ্তির হাঁড়ি যেন উপচে পড়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত অভিনেত্রী চেয়েছিলেন মা হতে। স্বপ্ন তার সত্যি হয়েছে। যমজ কন্যা সন্তানের মা হলেন ইন্দো-কানাডীয় বলিউড অভিনেত্রী লিসা রে।

খুশির এই খবর নায়িকা নিজে ভাগ করে নিয়েছেন সবার সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, আমার স্ট্রাগলের কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আমার ক্যানসারের লড়াইয়ের কথা আপনারা জানেন। যন্ত্রণার দিনে আপনাদের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। তাই খুশির মুহূর্তও আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের কাহিনি, আমাদের লড়াই, অন্য যারা এই পরিস্থিতিতে সন্তান চাইছেন, তাদের সাহস দেবে। ২০০৯ সালে লিসা রে জানতে পারেন কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। শুরু হয় কেমোথেরাপি। চলতে থাকে নানা ওষুধ। এমন অবস্থায় নায়িকার সাধ জাগে মা ডাক শোনার। নিজেকে পরিণত নারী হিসাবে পেতে তাই মরিয়া হয়ে ওঠেন লিসা। কিন্তু মা হওয়ার ক্ষমতা তখন তার শরীরে নেই। তাই সেরোগেসির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই পদ্ধতিতে তিনি দুই কন্যার মা হয়েছেন। ২০১২ সালে জ্যাসন ডেহনির সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই সন্তানের কথা তাদের মনে হতে শুরু করে। এরপর জুন মাসে জর্জিয়ার তিবিলিসিতে সারোগেসির মাধ্যমে জন্মান লিসার দুই মেয়ে।

অমিতাভ শাহরুখদের কাতারে সানি লিওন!

বিনোদন বাজার ॥ অমিতাভ বচ্চন, অনিল কাপুর, শাহরুখ খান কিংবা সালমান খানের সঙ্গে এক সারিতে এবার সানি লিওন। রাজধানীর মাদাম তুসোর মিউজিয়ামে বসল সানি লিওনের মূর্তি। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে সানি নিজেই উদ্বোধন করলেন সেই মূর্তির। সানি বলেন, ‘আমি অসম্ভব খুশি এ মূর্তিটা দেখে। এত নিখুঁত এটা। অনেক দিন ধরে অনেক শিল্পীরা মিলে চেষ্টা করছেন আমার এ মূর্তিটা তৈরি করতে। এ ধরনের কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’ খবর আনন্দ বাজার। সানির কথায়, ‘এ মিউজিয়াম মানুষের কাছে একটা অন্যতম আকর্ষণের কারণ। আর সেই মিউজিয়ামেই তার মূর্তি বসল। এটা ভেবেই তার অসম্ভব ভালো লেগেছে।’ বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ সানি। বললেন, ‘নিজের মূর্তি দেখে আমি খুব এক্সাইটেড। অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি এ রকম একটা সংগ্রহশালায় আমার মূর্তি বসানোয়।’ তবে শুধু সানি নন, তার স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবারও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সানির মূর্তি দেখে। নিজের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সানি এর আগেও জানিয়েছিলেন, ‘মাদাম তুসোয় মূর্তি বসানোর জন্য আমায় সিটিং দিতে হয়েছিল শিল্পীদের সঙ্গে। এটা অসম্ভব ভালো একটা অভিজ্ঞতা। এটা আমি কখনো ভুলতে পারব না।’

অরিজিতের চেয়ে ভালো গান গাইবেন মিকা সিং!

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের প্লেব্যাক গায়ক মিকা সিং। নানা সময়ই আলোচনায় এসেছেন তিনি। কখনও ভক্তের গালে চড় মেরে, আবার কখনও বা হিট অ্যান্ড রান কেসে আদালতে গিয়ে। ‘গন্দি বাত’ খ্যাত এ গায়ক এবার প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক অরিজিৎ সিংকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সংবাদের শিরোনামে এসছেন।জিনিউজ জানায়, সুযোগ পেলে মিকা অরিজিত সিং-এর চেয়ে ভাল গান গাইবেন। ‘চন্না মেরেয়া’ যেভাবে অরিজিত সিং গেয়েছেন, তিনি সুযোগ পেলে এর চেয়ে আরও ভাল করে গাইতেন। যা দীর্ঘদিন ধরে মনে রাখতেন সবাই। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করেন ৪১ বছর বয়সী মিকা।শুধু তাই নয়, ওই অনুষ্ঠানে মিকাকে প্রশ্ন করা হয় শাহরুখ খান এবং সালমান খানের মধ্যে কাকে তিনি বেশি পছন্দ করেন? তিনি বলেন, সালমান খানের জন্য গান গাইতে তিনি বেশি পছন্দ করেন। পাশাপাশি ‘লাভ এবং সেক্স’ লাইফেও তিনি বেশ ভাল খেলোয়াড় বলে ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন বলিউডের এই জনপ্রিয় গায়ক।‘জুম্মে কি রাত’ থেকে শুরু করে ‘শাড়ি কে ফলস কা’ বলিউডে একের পর এক হিট গান গেয়েছেন মিকা সিং। যেমন তিনি রংবেরঙের গান গেয়ে ভক্তদের মন জয় করেন, তেমন জীবনটাও তার রঙিন বেশ।

রেস-থ্রি ব্যর্থতার কারণ জানালেন রেমো

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের অন্যতম সফল সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি রেস। এ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম দুই সিনেমা দর্শকদের মাঝে ভালো সাড়া ফেলে। তবে চলতি বছর মুক্তিপ্রাপ্ত রেস-থ্রি জনপ্রিয়তার দিক থেকে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।রেস-থ্রি সিনেমায় অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান। তাই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা ছিল একটু বেশি। কিন্তু তারকাবহুল সিনেমাটি ভারতীয় বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১৮০ কোটি রুপি। যা প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কম। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে নানা রকম বিদ্রূপ করতে দেখা যায়।কিন্তু সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির পরিচালক রেমো ডিসুজা জানিয়েছেন, রেস-থ্রি সিনেমায় সালমানকে নেতিবাচকভাবে তুলে না ধরাই এটির ব্যর্থতার মূল কারণ।এ কোরিওগ্রাফার-নির্মাতা বলেন, ‘যখন সিরাজ আহমেদ সিনেমাটি রচনা করেন তখন চরিত্রটি নেতিবাচক ছিল। রেস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নেতিবাচক চরিত্র নিয়েই তৈরি হয়। কিন্তু আমরা সালমানকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখাতে পারিনি। এছাড়া আরো কিছু বিষয় ছিল। এসব কারণেই এটি কম ব্যবসা করেছে।’তিনি আরো বলেন, ‘বিনোদনের জন্য আমাদের সেরা অ্যাকশন, গান, থ্রিডি ইত্যাদি ছিল। সবাই অ্যাকশন খুব পছন্দ করে কিন্তু তারপর হঠাৎ করেই বিদ্রূপ শুরু হয়। অ্যাকশনে দক্ষ ব্যক্তিরাই এর অ্যাকশন দৃশ্য পরিচালনা করেছেন। স্বীকার করছি গল্পের সঙ্গে এটি কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু আমি বাজে সিনেমাকেও হিট হতে দেখেছি। শুটিংয়ের সময় কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল। সালমানকে নেয়ার পর চিত্রনাট্যে কিছুটা পরিবর্তন করা হয়।’রেস-থ্রি বক্স অফিসে ‘ব্যর্থ’ প্রসঙ্গে রেমো বলেন, ‘যদি এটি ব্যর্থ হতো তাহলে ১৮০ কোটি এবং বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটি রুপি আয় করত না। চেষ্টা করব যেন আমার পরের সিনেমাটিও এই আখ্যা পায়।’রেস ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমায় এবারই প্রথম অভিনয় করেন সালমান খান। এতে আরো অভিনয় করেন-অনিল কাপুর, ববি দেওল, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, ডেইজি শাহ প্রমুখ। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন রমেশ তাওরানি।

ঝিনাইদহে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঝিনুকমালা আবাসন এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ সাহেব আলী (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে তাকে আটক করা হয়। সে সদর উপজেলার সুরাপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভোররাতে অভিযান চালানো হয়। এসময় ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পের ব্রীজ এলাকা থেকে সাহেব আলীকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ানশ্যুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি। আটককৃত সাহেব আলী নাশকতামুলক কর্মকান্ড করার জন্য সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে ইতালির পালেরমো আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক আঁখির মতবিনিময়

আল-মাহাদী ॥ “কোন পদ বা অর্থের মোহে সাংবাদিকতা করা শোভনীয় নয়।” সাংবাদিকগণ দেশ ও দশের নিঃস্বার্থ সেবক। ইতালি প্রবাসী, ভেড়ামারার রাজপথের ৯০ এবং ৯৬ এর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা ইতালির পালেরমো আওয়ামীলীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক আঁখি গতকাল সন্ধ্যায় ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় ও রিপোর্টার্স ক্লাব পরিদর্শন কালে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক হবেন দুর্নীতির বিরোধে আপোষহীন। জাতিকে লেখনীর মাধ্যমে সত্য জানাবেন। এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের সব থেকে বড় বন্ধু। ভেড়ামারায় সাংবাদিক সমাজে দ্বন্দ বিদেশ বিভূঁইয়ে আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে। আমরা চাই স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজ সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য জিইয়ে রাখবেন না। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ থাকলে দূর্নীতি ও দূষ্কৃতিকারীরাই সুবিধা পায়। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে জাসদের নারী নেত্রী শিল্পী হুসাইন ও ধরমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ন আহব্বায়ক যুবলীগ নেতা ফিরোজ আহাম্মেদ চাইনু উপস্থিত ছিলেন। বাংলা টিভি’র ভেড়ামারা প্রতিনিধি ও ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি ও ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থাপনায় প্রতিবাদি কন্ঠে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা ও ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মারুফ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক শিকল পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার ও ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, মোহনা সংবাদ (অনলাইন) এর প্রতিনিধি ও দপ্তর সম্পাদক মিলন আলী, দৈনিক আজকের সূত্রপাত পত্রিকা ও ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহন ইসলামসহ ভেড়ামারা রিপোটার্স ক্লাবের সদস্যবৃন্দ। বক্তব্যে, সাংবাদিকদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও হামলাসহ হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

দৌলতপুর ছাত্রলীগের মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিতরন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর অনার্স কলেজ ছাত্রলীগের মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিতরন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার সময় দৌলতপুর অনার্স কলেজের ছাত্রলীগের মাঝে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিতরন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও আদর্শে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি শিক্ষা গ্রহনের লক্ষে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ছাত্রলীগের মাঝে এ বই বিতরন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর অনার্স কলেজের প্রভাষক সরকার আমিরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, শাহীন, রাজিব, শান্ত, আশিক, সেন্টু প্রমূখ।