কুষ্টিয়া জেলা কারাগার পরিদর্শনকালে ডিসি আসলাম হোসেন

নেশা থেকে সবাইকে বের হয়ে আলোর জগতে ফিরে যেতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ গতকাল বুধবার কুষ্টিয়া জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি জেলের বন্দিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বন্দিদের থাকার জায়গা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি কারাবন্দীদের সাথে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসিবে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, মাদক হলো সর্বনাশ নেশা। এ নেশা থেকে সবাইকে বের হয়ে আলোর জগতে ফিরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক এমন একটা জিনিস যা অন্য কোন প্রাণী খেতে পারে না।   যদি খাবারের অংশ মাটিতে পড়ে যায় তাহলে ঐ অংশগুলো পিপঁড়া, মাছি, বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। কিন্তু কোন মাদকের অংশ মাটিতে পড়ে তাহলে অন্য কোন প্রাণী খায় না। স্বাস্থ্য বাঁচাতে হলে মাদক থেকে বের হয়ে আসতে হবে।  তা না হলে এর অনেক ভয়াবহ হবে।  আজ যারা এই কারাগারে বন্দি আছে তারা শপথ করেন আপনারা একজন ভাল মানুষ হয়ে যেন বাড়ীতে ফিরে যাবেন।  এসময় তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এরআগে প্রবেশন অফিসের আয়োজনে কারাগার পরিদর্শনের প্রাক্কালে কারারক্ষীদের একটি সুসজ্জিত চৌকস কারারক্ষী দল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার এবং সশস্ত্র সালাম প্রদান করেন। এরপর জেলা প্রশাসক কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে প্রধান কারারক্ষী জেলা প্রশাসককে কারাবন্দীদের তথ্যাদি সম্বলিত একটি তথ্যচিত্র অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাশালা, কিশোর ওয়ার্ডসহ কারাভ্যন্তরের চত্বর ঘুরে  দেখেন এবং কারাবন্দী খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে কারাগার পরিত্যাগ করে অফিসে ফিরে আসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত,পিপিএম (বার)  সিও, ৪৭ বিজিবি, মিরপুর লেঃ কর্ণেল মোঃ রফিক, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিঃ সহকারী পরিচালক মোঃ আজিজুল হক, জেল সুপার জাকের হোসেন, বেসরকারী কারা ভিজিটর গোলাম মহসিন, ডাঃ আসমা জাহান লিজা, কুষ্টিয়া ব্লাষ্ট এর কর্মকর্তা শ্রাবন্তী মুখার্জী প্রমুখ।

সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৯ জন শপথ নিয়েছেন

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৯ জন গতকাল বুধবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদ ভবনের নিচ তলায় শপথ কক্ষে তাদের শপথ পাঠ করানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। প্রথমে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন। এরপর জাতীয় পার্টির ৪ জন, পরে ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে একজন আলাদা আলাদাভাবে শপথ নেন। শপথ শেষে নতুন সংসদ সদস্যরা সচিবের কার্যালয়ের রাখা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং একসঙ্গে তাদের ছবি তোলা হয়। এছাড়া নারী এমপিদের আইডি কার্ড দেয়ার জন্য পৃথক পৃথকভাবে তাদের ছবি তোলা হয়। রোববার সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাসেম এর আগে তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ১৬ ফেব্র“য়ারি শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে কোন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি এবং একই আসনে একাধিক প্রার্থীও ছিল না। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যদি কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকে আর সেখান থেকে কেউ প্রত্যাহার না করে। তাহলে প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরের দিন তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে হয়। তাই কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় ৪৯ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যে ৪৩ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন তারা হলেন- ঢাকা থেকে শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা, সুবর্ণা মুস্তফা ও নাহিদ ইজহার খান, চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম, কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তি চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী, বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান ও জাকিয়া পারভীন খানম, পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক ও খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন্নেছা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলী, নংরসিদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গে¬ারিয়া ঝর্ণা সরকার, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম সাকী, ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে  সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক শিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমীনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রতœা আহমেদ। জাতীয় পার্টির চার সদস্য হলেন- সালমা ইসলাম, রওশনারা মান্নান, নাজমা আক্তার ও মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী। ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে লুৎফুন নেসা খান এবং স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী সেলিনা ইসলাম। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, বিএনপি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত একটি আসন পেয়েছে। কিন্তু দলটি সংসদে যোগ না দেয়ায় এই আসনে ভোট হয়নি।

বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, তাদের সঙ্গে জোট ও সরকার গঠন করায় জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলগতভাবে ক্ষমা চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতন থেকে দায়মুক্তি পেতে পারে না। দায়মুক্তি পাবেও না। তারা এত দিন ধরে বাংলাদেশে যে রাজনীতি করেছে, তাদের নিয়ে রাজনৈতিক জোট গঠন করে একসঙ্গে নির্বাচন করা ও সরকার গঠন করার জন্য বিএনপিও একই অপরাধে অপরাধী। বিএনপিও দায়মুক্তি পেতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপিরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর ভেতর থেকে দাবি উঠেছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। তাদের কয়েকজন নেতা ঘোষণা দিয়েছেন পদত্যাগ করার। এই পদত্যাগের ঘোষণা বা তাঁদের মধ্য থেকে ক্ষমা চাওয়ার যে কথাবার্তা বলা হচ্ছে, এগুলো দেশ-বিদেশে চাপমুক্ত হওয়ার একটি কৌশল। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, পৃথিবীর সব দেশ সে কারণে বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আজকে শেখ হাসিনার কারণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হন, বাংলাদেশ সব সূচকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে গেছে। অথচ একটি পক্ষ, দেশের কিছু রাজনৈতিক দল, দেশের অগ্রযাত্রাকে টেনে ধরার চেষ্টা করছে এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যারা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চায়, তারা নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরেই বন্দী গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই মুক্তচিন্তা মুক্তি পেয়েছে। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের অগ্রগতি। শেখ হাসিনা শুধু অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক নন, মানবতার প্রতীক। তিনি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহসভাপতি দিলীপ কুমার রায়, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা’ বইয়ের লেখক সুজন হালদার প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

যুক্ত হলো আরেকটি স্প্যান ১২শ মিটারে পদ্মা সেতু

ঢাকা অফিস  ॥ পদ্মা সেতুতে যুক্ত হলো আরো একটি স্প্যান। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জাজিরা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির ওপর ধূসর রঙের ‘৬ই’ নম্বর এই স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে জাজিরা অংশে সেতুটি দৃশ্যমান হলো ১০৫০ মিটার। এ ছাড়া মাওয়া প্রান্তে আরো দৃশ্যমান রয়েছে ১৫০ মিটার। ইতোপূর্বে ৭টি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সকাল থেকে স্প্যানটি বসানোর কাজ শুরু হয়। স্প্যান বহনকারী ক্রেনটিকে পিলারের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের পজিশন অনুযায়ী রাখা হয়। এরপর লিফটিং ক্রেনের সাহায্যে রাখা হয় পিলারের ওপর। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে বসানো হয় ‘৬ই’ নম্বর স্প্যানটি। এছাড়া আগামী ১০ মার্চের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির ওপর ৬-ডি নামের আরেকটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। এদিকে পদ্মায় এখন নেই তীব্র গ্রোত, কেটে গেছে নকশা জটিলতা। সময়টা অনুকূল, আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে নদী জুড়ে এখন চলছে কাজ। এর আগে জাজিরা প্রান্তে ৬টি ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ীভাবে একটি স্প্যান বসানো হয়। পদ্মা সেতুর এক প্রকৌশলী জানান, সেতুর সব খুঁটির নকশা সম্পন্ন হওয়ায় এখন সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়া হয়েছে। তারা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সেতুর উপর দিয়ে ২০২০ সালে যান চলাচল হচ্ছে।

কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৫২’র মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। বুধবার রাত ১২টা ১মিনিটে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা কালেক্টরেট চত্বর থেকে শ্রদ্ধাচিত্তে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল পুলিশ সদস্য ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করেন। পরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে হাজার হাজার নারীপুরুষ সমবেত হন শহীদ মিনার চত্বরে। এদিকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে কর্মসূচী নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব’র পাশাপাশি সাদাপোষাকধারী পুলিশ সদস্যরা কড়া সতর্ক থাকেন।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিস্কার

ইবি প্রতিনিধি ॥ র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে করা হয়েছে। বহিস্কৃতরা সকলে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিস্কার হওয়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে, মেহেদী হাসান, সুমাইয়া খাতুন মেহেদী হাসান রোমান, আহমেদ যুবায়ের সিদ্দিকী ও  মুয়িদ হাসান। বিভাগ সূত্র জানায়, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তিন ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের কাছে র‌্যাগ দেয়। পরে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগের একাডেমিক কমিটির জরুরী সভায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এদিকে ঘটনায় সত্যতা অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নাসিম বানুকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন এবং ট্রিপলই বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে প্রদান করতে বলা হয়েছে। বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, তিন শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় বিভাগে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিল। একাডেমিক কমিটির সুপারিশ মোতাবেক তাদের সাময়িক বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছে।’

ভেড়ামারা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ২ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ২১ ফেব্র“য়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও  ২ দিনব্যাপী বইমেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি রাসেল মিয়া। অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শাহাদুর রহিম, জাসদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ তৌহিদুল ইসলাম আলম, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শামিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, ডাঃ রাকিউর রহমান রকিব, ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম আনছার আলী, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক চেতনায় কুষ্টিয়া পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক  প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল প্রমুখ। সার্বিক সহযোগিতায় মনি গ্র“পের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি।

ইবিতে “ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. রাশিদ আসকারী

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও বাঁচাতে হবে

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল স্লোগান হওয়া উচিত “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকেও বাঁচাতে হবে”। তিনি বলেন, ভাষার ক্ষেত্রে একটি ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা বিলুপ্ত হতে চলেছে। এরকম অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, আফ্রিকা, কানাডা, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ ৮টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশে থেকে অনেক ভাষা প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে এক জায়গার মানুষ আরেক জায়গায় স্থানান্তরিত হচ্ছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য এবং বসবাসের জন্য তারা  সেখানকার ভাষা শিখতে গিয়ে নিজের ভাষাকে হারিয়ে ফেলছেন। এরকম ভাষা হারানো অনেক মানুষ আমাদের দেশেও রয়েছে। তাদের সেই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালাও রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভাষার অধিকার রক্ষা করেছি। ঠিক অনুরূপভাবে অন্যের ভাষাকেও রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এই ভাষাগুলো বাঁচাতে জাতিসংঘের ইউনেস্কোর স্লোগান হওয়া উচিত “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিকে বাঁচাতে হবে এবং তাদের ভাষাকে বাঁচাতে হবে”। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাষা বিলুপ্তির বিষয়টি লক্ষ্য করেই বাংলা একাডেমিতে “ভাষা যাদুঘর” তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশ্বের সকল হারিয়ে যাওয়া ভাষা এখানে সংরক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের গণপরিষদ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় বক্তৃতা করেছিলেন। তাই চেতনাগতভাবে আমাদেরকে ভাষার মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি বড় করে দেখতে হবে। তাছাড়া অন্যের ভাষা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, ৩ দিনব্যাপী আলোচনা সভার দ্বিতীয় দিনে “ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন স্যান্ডিং কমিটি ২০১৯’র আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহা-পরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং ঝিনাইদহ জাহেদী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস্ এর চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী (মহুল মিয়া)।

প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় প্রফেসর শামসুজ্জামান খান বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কী নিষ্ঠায়, দক্ষতায়, আদর্শবাদীতায় এবং কত নির্যাতন সহ্য করে, কত পরিকল্পনা করে তিনি আমাদেরকে এই দেশটি দিয়ে গেছেন, তা ভাবতে অবাক লাগে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন রাষ্ট্রনায়ককে এত কষ্ট, এত ষড়যন্ত্র, এত অপমান-অত্যাচারে পড়তে হয়নি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে অতিরিক্ত ভালবাসতেন এবং কাউকে অবিশ্বাস করতেন না। এই অতিরিক্ত ভালবাসা এবং অবিশ্বাস না করার কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।   সভায় বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই তো বাংলাদেশ, লাল-সবুজের পতাকা, আমাদের সংবিধান, বাঙালির স্বাধীনতা, অধিকার, গণতন্ত্র, সাম্য সব কিছুইতো বঙ্গবন্ধুকে ঘিরেই। বঙ্গবন্ধুর মধ্যেই সব কিছু নিহিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একদিনেতো এই দেশ স্বাধীন করেননি। এদেশের স্বাধীনতার পিছনে তাঁর ছিল দীর্ঘ আত্মত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, মানুষের ভিতরের ভাবনা প্রকাশ করার যে বাহন তা হচ্ছে ভাষা। আমাদের ভাষার বাহন হচ্ছে বাংলা ভাষা। এ ভাষাকে যখন পাকিস্তানীরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তখন যে সকল দামাল ছেলেরা এটাকে রক্ষা করেছিলেন তাঁদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে আমরা যদি ভাবি, তাহলে দেখতে পাই ভাষা আমাদের মধ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা তৈরি করেছে। আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ার মহানায়ক হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সেলিনা বিথি’র সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুুর রহমান, টিএসসিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াসিন আলী ও ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার।

জাতিসংঘকে পাকিস্তান

ভারত হামলা চালাতে পারে

ঢাকা অফিস ॥ পুলওয়ামা হত্যাকান্ডের জেরে ভারত আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কায় জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলো পাকিস্তান। ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি ফেরাতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেসকে মঙ্গলবার একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিটি জাতিসংঘের সাধারণ ও নিরাপত্তা পরিষদের সব দেশকে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে পাকিস্তনের পক্ষ থেকে। চিঠিতে পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তান সংশি¬ষ্ট থাকার যে কথা বলছে ভারত, তা নিয়ে আলোচনা করতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের যে হুমকি দিয়েছে ভারত, তার প্রেক্ষিতে এই অঞ্চলে শান্তি পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ফলে, আমরা জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বোধ করছি। আর তাই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে পাকিস্তান।’ জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্র“য়ারি আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার অন্তত ৪৪ সিআরপিএফ সেনার নিহতের ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদ। হামলার ঘটনায় সর্বদলীয় বৈঠকের পর সেনাবাহিনীকে তার পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, ‘যতই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হোক, পুলওয়ামায় ভারতের সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালিয়েছে কাশ্মীরের এক বাসিন্দা। ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না করে পাকিস্তানকে আক্রমণ করাটা আদৌ উচিত নয়।’ জঙ্গিদের পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে ভারত যে অভিযোগ করছে, জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তা অবাস্তব বলে উলে¬খ করেছেন কুরেশি। মোদি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষকে যে ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যবহার করছেন, আগামী দিনেও সেটা করে যেতে চাচ্ছেন, চিঠিতে তার উলে¬খ করেছেন কুরেশি। মেহমুদ কুরেশি চিঠিতে আরও উলে¬খ করেছেন, ‘ভারত সচেতনভাবে পাাকস্তান বিদ্বেষকে উসকে দিয়ে তার রাজনীতিতে তার ফল তুলতে চাইছে। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে শক্রতা করছে তারা। তারা এ অঞ্চলে অশান্তির পরিবেশ, উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।’ দিলি¬ ইতোমধ্যেই সিন্ধু নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ইঙ্গিত দিয়েছে, জাতিসংঘের মহাপরিচালককে সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।’ ভারত চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মিটিয়ে নিতে পারে বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়ায় খাল থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল মোড় এলাকায় জিকে সেচ খাল থেকে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয়রা জিকে সেচ খালে গোসল করতে গেলে ভেসে উঠা লাশটি  দেখতে পায়। খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, লাশটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে পানির স্রোতে লাশটি ভেসে আসতে পারে।

নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদা হাজির না হওয়ায় পিছিয়েছে শুনানি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাজির করতে না পারায় নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে; নতুন তারিখ পড়েছে আগামী ৩ মার্চ। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই দিন ঠিক করেন। দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা নিয়ে একবছর ধরে এই কারাগারেই আছেন খালেদা জিয়া। বুধবার মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত না করে কাস্টডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ, তাতে ‘ঘুম থেকে না ওঠায়’ তাকে আদালতে উপস্থিত করা যায়নি বলে জানানো হয়। গত ১২ ফেব্র“য়ারি মামলার সবশেষ শুনানিতে খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। ২০১৭ সালে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে এ শুনানি প্রায় এক বছর আটকে ছিল।

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নিজ সংবাদ ॥ ‘মহান ২১ ফেব্র“য়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ আজ বৃহস্পতিবার। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই অমর একুশে পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার- মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘বরকত সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত। ’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : ‘তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না। কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল ফজল একুশ নিয়ে তার এক লেখায় লিখেছেন ‘মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি। ন্যায়ের দাবি, সত্যের দাবি- এ দাবির লড়াইয়ে একুশে ফেব্র“য়ারির শহীদরা প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, স্বভাবের ব্যাপারে, ন্যায় ও সত্যের ব্যাপারে কোন আপোষ চলেনা, চলেনা কোন গোঁজামিল। জীবন-মৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেই হতে হয় তার সম্মুখীন।’ বস্তুতো, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্র“য়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠির প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’। একুশে ফেব্র“য়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। ২১ ফেব্র“য়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রাত ১২টা ১ মিনিটে (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। এ ছাড়াও ২২ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা । আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনিস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, শিশু একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: আগামীকাল সকাল ৬টা ৩০মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থান হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গমন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। বাদ জোহর অমর একুশে হলে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত, বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদুল জামিয়া, সকল হলের মসজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত/শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনা।

একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আসুন মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি

ঢাকা অফিস ॥  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্যাদার সাথে দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে সুরক্ষা এবং চর্চার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমাদের মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি। তিনি একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়। কিভাবে নিজের মাতৃভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা যায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে রক্ষার চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যেটা অর্জন করেছি তার সুফলটা যেন আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে, তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই।’ একুশে পদক বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে যারা একুশে পদক পেয়েছেন তারা গুণীজন। তাঁরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কীর্তিমান, তাঁদের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই অবদানের কথা সবসময়ই আমরা স্মরণ করি এবং আমি মনে করি, আমাদের আগামী দিনের প্রজন্মও তাঁদের অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, বাংলা আমাদের ভাষা- যে কথা জাতির পিতা বারবার বলে গেছেন। সেই দেশকেই আমরা গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ যেন অধিষ্ঠিত হয় এবং বাঙালি জাতি যেন বিশ্বসভায় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২১ জন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০১৯ এ ভূষিত করেন। গত ৬ ফেব্র“য়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এ বছরের একুশে পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন: ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরনোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু এবং অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য একুশে পদক পেয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। প্রয়াত পপ শিল্পী আজম খান (মরণোত্তর) ও নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান। গবেষণায় ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড.মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় ড. প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ভাষা সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদক বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ী মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম প্রজ্ঞা লাবনী এবং পপ স¤্রাট আজম খানের পক্ষে তাঁর কন্যা বেগম ইভা খান পুরস্কার গ্রহণ করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিচারপতি গণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন  দেশের কূটনীতিকবৃন্দ, পূর্বের একুশে পদক বিজয়ী ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ৪৫৭ জন সুধী এবং ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত তরা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যা কিছু অর্জন তা কিন্তু সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারই এনে দিয়েছে। যার মধ্যে- ভাষা আন্দোলন ছাড়াও ৬দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৯৫৬ সালে সরকার গঠন করেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ই ২১ ফেব্র“য়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও ১৯৫৮ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান মার্শাল ল ঘোষণা করেন এবং শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইউনেস্কো মহান একুশে ফেব্র“য়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তিনি বলেন, প্রায় কুড়ি বছর আগে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালামসহ কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির উদ্যোগে এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্র“য়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আমাদের একুশ এভাবে পরিণত হয় পৃথিবীজোড়া মানুষের মাতৃভাষা দিবসে।

মাতৃভাষাকে রক্ষা, চর্চা এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা করার জন্য তার সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ করার পর ২০০১ সালে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নির্যাতনের পাশাপাশি আন্তর্জাাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে পুণরায় সরকারের আসার পরই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব পর হয়। যেখানে বর্তমানে বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষার নমুনা সংগ্রহ এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, আমাদের মাতৃভাষা যেন সুরক্ষিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে আমরা সে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পৃথিবীর অন্য ভাষাভাষি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার ওপরও এখানে নমুনা সংগ্রহ এবং গবেষণা কার্যক্রম চলছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতার বাংলায় প্রদত্ত ভাষণের পদাংক অনুসরণ করে প্রতি বছর তাঁর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে ১৯৫২’র মহান ২১শে ফেব্র“য়ারি ভাষার দাবিতে রফিক, সালাম, বরকতদের রাজপথ রঞ্জিত করার গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে এই আন্দোলন গড়ে তোলার পেছনে জাতির পিতার অনন্য ধারবাহিক অবদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা দাবি দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই থেকেই প্রকৃতপক্ষে ভাষার দাবি রাজপথে গড়ায়।’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ঐদিন ইডেন বিল্ডিং, জেনারেল পোস্ট অফিস এবং অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক পিকেটিং করে। পুলিশ ছাত্রদের লাঠিচার্জ করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ অনেক ছাত্রকে আটক করে।

সয়াবিন চাষে বাড়ে জমির উর্বরতা, কমে সারের ব্যবহার

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দেশে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ সয়াবিন উৎপাদন হয় লক্ষ্মীপুরে। ১০ বছরের মাথায় সয়াবিন চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সয়াবিনের বাম্পার ফলন এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। সয়াবিন চাষে কেবল কৃষকেরই ভাগ্য বদল নয়, জমিরও শক্তি বাড়ায়, হয়ে উঠে আরো বেশি উর্বর। যে কারণে পরবর্তী যেকোনো ফসল উৎপাদনে অর্ধেকে  নেমে আসে সারের ব্যবহার। এতে কৃষক লাভবান হন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শেকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়। মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসলে সারের ব্যবহার অর্ধেক নেমে আসে। উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলনওভালো হয়। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বিগত কয়েক বছরের তথ্য উপাত্ত গবেষণা ও বিশ্লেষণে জেনেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে শস্য পরিক্রমায় রবি ফসল হিসাবে সয়াবিন একক ও অনন্য সাধারণ ফসল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। সয়াবিন চাষে ঝুঁকি ও খরচ বাদামের তুলনায় অনেক কম, লাভও বেশি। সয়াবিন কাটার পর ওই জমিতে আউশ ধানের ফলন খুব ভালো হয়। সয়াবিন বহুমুখী মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রতি আবাদ  মৌসুমে হেক্টর প্রতি ২৫০ থেকে ২৭৭ কেজি নাইট্রোজেন সংযোজন করতে পারে। যা ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের শতকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। সয়াবিন গাছের শেকড়ে ফুলন্ত অবস্থায় ১২-৪৩টি ধূসর বর্ণের গুটি থাকে। এ গুটিগুলোতে বায়োক্যামিকেল প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন অবমুক্ত করার পর আপনা আপনি শুষ্ক হয়ে শেকড়সহ জৈব পদার্থ হিসেবে মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। সয়াবিনের ক্ষেতকৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে,  যেকোনো ঋতুতেই সয়াবিন চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ হয়। এর শেকড়গুচ্ছ মাটির এক মিটার নিচে পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। গাছের কান্ডে ফুল হয়। ফুল সচরাচর সাদা, গোলাপি ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। একটি খোসায় বীজ জন্মে। আর এই বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। বীজ  রোপণের ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সয়াবিন গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। এর বীজ অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এটি ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। পরিণত বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া-দুধ, দই ও পনির, সয়া-স্যস তৈরি হয়। শুষ্ক বীজে আছে  চর্বি, শর্করা ও  প্রোটিন। গ্লিসারিন, রং, সাবান, প্লাস্টিক, মুদ্রণের কালি ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সয়াবিন একটি অপরিহার্য উপাদান। কাঁচা সয়াবিন গাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য। সয়াবিনের উচ্চ পুষ্টিগুণসহ নানান ব্যবহারে সয়াবিনের আবাদ দিন দিন বেড়েই চলছে। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি লক্ষ্মীপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ।  এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৬ হাজর ৫৬০ হেক্টর, রায়পুরে ৬ হাজার ১৫০  হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর, রামগতি  ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

 

 

বার্সেলোনাকে রুখে দিল লিওঁ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষণ জমাট রেখে বার্সেলোনাকে রুখে দিয়েছে অলিম্পিক লিওঁ। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লা লিগার চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে লিগ ওয়ানের দলটি। মঙ্গলবার রাতের ড্রয়ে ইউরোপ সেরা আসরে লিওঁর বিপক্ষে অজেয় যাত্রা ধরে রাখল বার্সেলোনা। আগের ছয় ম্যাচের চারটিতে জিতেছিল লা লিগার অন্যতম সফল দলটি। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নকআউট পর্বের শেষ ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়হীন থাকলো বার্সেলোনা। এর চারটিতেই হেরেছে তারা। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে আবার গোলের দেখাই পায়নি স্পেনের অন্যতম সফল দলটি। আর চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে ড্র করল বার্সেলোনা। টানা তিন ড্রয়ের পর গত শনিবার লা লিগায় রিয়াল ভাইয়াদলিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে লিওনেল মেসি ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় বার্সেলোনা। আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ডের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে হোসেমের শট ঝাঁপিয়ে ফেরান বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। নবম মিনিটে বড় বাঁচা বেঁচে যায় বার্সেলোনা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফরাসি মিডফিল্ডার তেয়ায়ির জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়া টের স্টেগেনের গ¬াভসে ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের ১৯তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বার্সেলোনার উসমান দেম্বেলে গোলরক্ষকের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বার্সেলোনার সের্হিও বুসকেতসের শট প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে একটুর জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের রক্ষণ জমাট রেখে মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠছিল লিওঁ। তবে বার্সেলোনার পোস্টের নিচে আস্থার দেয়াল হয়ে ছিলেন টের স্টেগেন। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সুবিধা করে উঠতে না পারা বার্সেলোনার হতাশা বাড়ে ৬২তম মিনিটে লুইস সুয়ারেসের শট গোলরক্ষক কর্নারের বিনিময়ে ফেরালে। শেষ দিকে একাধিক আক্রমণ করলেও কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। ৭০তম মিনিটে সুয়ারেসের আরেকটি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। পাঁচ মিনিট পর জর্দি আলবার বাড়ানো বলে উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ডের ¯¬াইড করার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ৮৫তম মিনিটে মেসির কাট ব্যাকে বুসকেতসের শটও ঠিকানা খুঁজে না পেলে ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচটি। দশ বছর আগে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দেখা হয়েছিল দুই দলের। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ গোলে লিওঁকে ছিটকে দিয়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা। আগামী ১৩ মার্চে ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠ কাম্প নউয়ে হওয়াতে এবারও শেষ আটের আশা ভালোভাবে টিকে আছে এরনেস্তো ভালভেরদের দলের। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে লিভারপুলের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।

সুয়ারেসের গোল খরা নিয়ে চিন্তিত নন বার্সা কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পাঁচ ম্যাচ খেলে এখনও গোলের খাতা খুলতে পারেননি বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেস। অবশ্য আক্রমণভাগের অন্যতম বড় ভরসার এমন গোল খরায় চিন্তিত নন কোচ এরনেস্তো ভালভেরদে। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁর মাঠে গোলশূন্য ড্র করে লা লিগার চ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৫টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি ভালভেরদের দল। সহজ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেন সুয়ারেসও। নিজের শেষ ১৭টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছেন উরুগুয়ের এই ফুটবলার। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে আর জালের দেখা পাননি তিনি।

চলতি মৌসুমে মোট ১৬ গোল করা সুয়ারেস সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি। শেষ দশ ম্যাচে করেছেন দুই গোল। ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের এমন পারফরম্যান্সে উদ্বিগ্ন নন ভালভেরদে। “এটা আমাকে চিন্তিত করে না, একজন স্ট্রাইকারের কাছে যে চাওয়া থাকে সেই গোলের সুযোগ যদি সে না পেত তবে সেটা আমাকে চিন্তায় ফেলত।” “আর এমনকি যখন তার গোলের সুযোগ থাকে না, সে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। প্রতিপক্ষরা তাকে নিয়ে ভয়ে থাকে।… সবচেয়ে ভালো ব্যাপার সে গোলের সুযোগ পাচ্ছে।” আগামী ১৩ মার্চে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠ কাম্প নউয়ে লিওঁর মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

সাব্বিরের প্রথম সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি করলেন সাব্বির রহমান। বাজে সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলেন সাব্বির। জায়গা হারিয়েছিলেন দলে। ছয় মাসের একটি নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতে পেয়েছিলেন ছয় মাসের আরেক নিষেধাজ্ঞা। এই শাস্তি পুরোপুরি ভোগ করলে খেলা হতো না নিউ জিল্যান্ডে বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। শাস্তি কমানোয় সুযোগ পান ওয়ানডে সিরিজের দলে। প্রথম ম্যাচে করেন ১৩, পরেরটিতে ৪৩। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে এল আরাধ্য সেঞ্চুরি। ১১০ বলে ১২ চার ও দ্ইু ছক্কায় ১০২ রান করে আউট হন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া সাব্বিরের লেগেছে ৫১ ইনিংস। তিন সংস্করণ মিলিয়ে এটি তার ১১৩তম ইনিংস। বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে পঞ্চাশ বা তার বেশি ইনিংস খেলার পর তিনি পেলেন তিন অঙ্কের দেখা। প্রথম সেঞ্চুরির আগে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৭ ইনিংস খেলেন মাহমুদউল¬াহ। ২০০৭ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার আট বছর পর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের আরেক ব্যাটিং ভরসা মুশফিকুর রহিম নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ৮৬তম ইনিংস। ৫৬তম ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন অলক কাপালী। দশম ওভারে বাংলাদেশ ৪০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসা সাব্বির ফিরতে পারতেন শূন্য রানে। টিম সাউদির বলে তার পুলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ছক্কা বানিয়ে দেন লকি ফার্গুসন। জীবন পাওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি, চোখধাঁধানো সব শটে এগিয়ে নেন দলকে।

ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে ১০১ রানের জুটিতে দলকে টেনে তুলেন খাদের কিনারা থেকে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার দ্রুত বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে গড়ে তুলেন ৬৭ আরেকটি ভালো জুটি। সাত চার ও এক ছক্কায় ৫৯ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন সাব্বির। দাপুটে ব্যাটিংয়ে পেরিয়ে যান আগের সেরা ৬৫। তিন অঙ্কে পৌঁছান ১০৫ বলে। তার ব্যাটেই আড়াইশর কাছাকাছি যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত দিনেও কোনো সেঞ্চুরি না থাকায় সমালোচনার মুখে ছিলেন সাব্বির। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর উদযাপন দিয়ে বুঝিয়ে দেন জবাবটা দিলেন ব্যাট দিয়ে। তবে তার লড়াকু ব্যাটিংয়ের পরও ৮৮ রানে জিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছে নিউ জিল্যান্ড।

সাব্বিরের সেঞ্চুরির পরও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরির পরও নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেল সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে কিউইদের কাছে ৮৮ রানে হারে টাইগাররা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। দলের ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতার মাঝেও ব্যাট হাতে ১০২ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন সাব্বির। ডানেডিনে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাট হাতে নেমে এ ম্যাচে ভালো শুরু পায়নি নিউজিল্যান্ড। হেনরি নিকোলসের পরিবর্তে মার্টিন গাপটিলের সাথে ইনিংস উদ্বোধন করেন কলিন মুনরো। নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের পরিবর্তে প্রথমবারের মত সিরিজে খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি মুনরো। ৮ রান করে মাশরাফির বলে এলবিডব¬ু হন তিনি। প্রথম দু’ম্যাচে সেঞ্চুরি করা গাপটিল এবার আর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে তামিম ইকবালকে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪০ বলে ২৯ রান করেন গাপটিল। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ৫৯ রানের মধ্যে ফিরে গেলেও, মিডল-অর্ডার তিন ব্যাটসম্যান দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান। নিকোলস- টেইলর-এ ম্যাচের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লাথাম হাফ- সেঞ্চুরি করেন। নিকোলস-টেইলর তৃতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন। এরমধ্যে নিকোলস ৪২ ও টেইলর ৪৫ রান যোগ করেন। হাফ-সেঞ্চুরি তুলে বড় ইনিংস খেলতে থাকা নিকোলসকে ৬৪ রানে থামিয়ে দেন বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। তামিমকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৭৪ বলে ৬৪ রান করেন নিকোলস। তার ইনিংসে ৭টি চার ছিলো। হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে বড় ইনিংস খেলার পথে ছিলেন টেইলরও। কিন্তু নিকোলসের মত বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনিও। ৮২ বলে ৭টি চারে ৬৯ রান করেন টেইলর। বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেনের বলে মাহমুদুল¬াহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন টেইলর। লাথামের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন টেইলর। এই ইনিংস খেলার পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন তিনি। দলীয় ২০৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টেইলর। এরপর দলের রানের চাকা দ্রুতই ঘুড়িয়েছেন লাথাম-জেমস নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫১ বলে ৫৯ রান করেন থামেন লাথাম। তবে শেষদিকে মারমুখী মেজাজে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৪ বলে ৩৭ রান করেন নিশাম। পঞ্চম উইকেটে লাথাম-নিশাম ৪১ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। এরপর দলকে রানের পাহাড়ে বসিয়েছেন গ্র্যান্ডহোম ও মিচেল স্যান্টনার। গ্র্যান্ডহোম ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৫ বলে অপরাজিত ৩৭ ও স্যান্টনার ১টি ছক্কায় ৯ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন। ফলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ১০ ওভারে ৯৩ রানে ২ উইকেট নেন। এছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা-রুবেল হোসেন-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন-মেহেদি হাসান মিরাজ ১টি করে উইকেট নেন। জবাবে এ ম্যাচেও ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ২ দশমিক ১ ওভারে ২ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নে ফিরেন তামিম ইকবাল-লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। ২ বল খেলে শুন্য রানে তামিম, ৪ বল খেলে ১ রানে লিটন ও ২ বল মোকাবেলা করে শুন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরেন সৌম্য। এই তিনজনকেই প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান নিউজিল্যান্ডের পেসার টিম সাউদি। শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা করেছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল¬াহ রিয়াদ। ইনজুরির কারনে এ ম্যাচে খেলেননি প্রথম দুই ওয়ানডেতে হাফ-সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিথুন। তার পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পান মাহমুদুল¬াহ। কিন্তু দু’জনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মুশফিক ১৭ ও মাহমুদুল¬াহ ১৬ রান করে ফিরেন। ৬১ রানে মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে আবারো বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ৯৪ রানে ৬ ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৯৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিলো তারা। ১০০ রানের আগে ৫/৬ উইকেট হারানো ম্যাচ হারের প্রধান কারন টাইগারদের। এ অবস্থায় ধাক্কা সামলিয়ে উঠেন সাব্বির রহমান ও সাইফউদ্দিন। দেখেশুনে খেলে উইকেটে দ্রুতই সেট হয়ে যান তারা। এরপর সাবলীলভাবেই রান তোলার কাজটি করছিলেন তারা। তাই শতরানের পর দেড়শ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ৫৯ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। হাফ-সেঞ্চুরির পরও নিজের দক্ষতা-সামর্থ্য দেখাচ্ছিলেন সাব্বির। এরমধ্যে সাইফউদ্দিনকে ৪৪ রানে থামিয়ে দিয়ে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। গাপটিলের ক্যাচে পরিণত হবার আগে ৬৩ বলে ৪৪ রান করেন সাইফউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে ১০১ রান যোগ করেছিলেন তারা। এজন্য ১১৭ বল মোকাবেলা করেন সাব্বির-সাইফউদ্দিন । সাইফউদ্দিনের বিদায়ের পর উইকেটে গিয়ে ২ রানের বেশি করতে পারেননি বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফি। তবে সাব্বিরকে দারুনভাবে সঙ্গ দেন মিরাজ। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত কিছু শট খেলেন মিরাজ। ৭টি চারে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখাচ্ছিলেন মিরাজ। অপরপ্রান্তে রান তোলার কাজটা ভালোই করছিলেন সাব্বির। ৪৬তম ওভারের চতুর্থ বলটি স্কয়ার লেগে বল ঠেলে দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাব্বির। ৫৭তম ওয়ানডেতে এসে তিন অংকে পা দিলেন সাব্বির। সাব্বিরের সেঞ্চুরির আবহ থাকা অবস্থায় ঐ ওভারের শেষ বলে থেমে যান মিরাজ। ৩৪ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। এরপর খুব দ্রুতই বাংলাদেশের বাকী ২ উইকেটের পতন ঘটে। ফলে ৪৭ দশমিক ২ বলে ২৪২ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন সাব্বির। ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১০ বলে ১০২ রান করেন সাব্বির। নিউজিল্যান্ডের সফল বোলার ছিলেন সাউদি। ৬৫ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। ১৩৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন সাউদি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার। ম্যাচ সেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাউদি। সিরিজ সেরা হন নিউজিল্যান্ডের গাপটিল। ওয়ানডে সিরিজ শেষে এবার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। যা শুরু হবে ২৮

তামিল সঙ্গীত পরিচালকের ইসলাম গ্রহণ

বিনোদন বাজার ॥ তামিল সিনেমার অভিনেতা ও সঙ্গীত পরিচালক কুরালারাসান পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কুরালারাসান তামিল ছবির বিখ্যাত অভিনেতা সিম্বুর ভাই।টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, কুরালারাসান ভারতের চেন্নাইয়ের আন্না সালাই মসজিদে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এসময় তার সঙ্গে তার বাবা থিসিংগু রাজেনদার ও মা উশা রাজেনদার উপস্থিতি ছিলেন।কুরালারাসানের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে তার বাবা বলেন, আমার বড় ছেলে সিম্বু তামিল সিনেমার বিখ্যাত অভিনেতা। সে শিবভক্ত। আর আমার মেয়ে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। সবশেষ আমার ছোট ছেলে কুরালারাসান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা কুরালারাসানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করাকে সম্মান জানাই। আমাদের পরিবারের লোকজনসহ তার ভক্তরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।কুরালারাসান হিন্দি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০টি গান করেছেন। শিগগিরই তিনি বলিউডে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় একটি অ্যালবামও তৈরি করেছেন। নিউইয়র্কে যার রেকর্ড করা হয়।

 

 

‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিগগিরই

বিনোদন বাজার ॥ নির্মাণ শেষে সম্পাদনার টেবিলে তারকাবহুল চলচ্চিত্র বিউটি সার্কাস। মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিগগিরই।সার্কাসকে কেন্দ্র করে এক নারীর টিকে থাকার গল্প ‘বিউটি সার্কাস’। সার্কাস আক্রান্ত হওয়ার পরও গণমানুষের পক্ষ নিয়ে হুমকির মুখেও একজন নারীর আপন শক্তিতে টিকে থাকার গল্প ফুটে উঠবে চলচ্চিত্রটিতে। তারকাবহুল চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিগগিরই। তার আগে চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হলো ই কমার্স কোম্পানী দারাজ।সোমবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটি ‘বিউটি সার্কাস’ এর প্রচারণা সহযোগি ‘পাওয়ার্ড বাই’ হিসেবে যুক্ত হতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রটির নায়ক ফেরদৌস, নির্মাতা মাহমুদ দিদার,  কবি ও সাংবাদিক রুদ্র হক, দারাজ বাংলাদেশের বিপণন প্রধান সৈয়দ আহমদ আবরার হাসনাইন, প্রধান গণসংযোগ কর্মকর্তা  সায়ন্তনী ত্বিষা, জেষ্ঠ বিপনন কর্মকর্তা ইবতেশাম ইসলাম, চলচ্চিত্রটির প্রচারণা সমন্বয়ক কাব্য কারিম, তরুণ শিল্পী জুলিয়া ইউসুফ সোহেলি। চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে আবরার হাসনাইন বলেন, “দারাজের নতুন উদ্যোগ ‘নন্দিনী’। যা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। দারাজ সব সময় নারীর অগ্রাধিকারে বিশ্বাসী। এদিকে ‘বিউটি সার্কাস’ এমন একটি সিনেমা, যাতে উঠে এসেছে একটি নারীর জীবনের টানাপোড়েন ও সংগ্রামের গল্প। আমরা মনে করি সিনেমাটি নারী ক্ষমতায়নের একটি জ্বলন্ত রূপক হিসেবে কাজ করবে। আর তাই বিউটি সার্কাসের সাথে হাত মিলিয়েছে দারাজ।”বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘বিউটি সার্কাস’-এর শুটিং শুরু হয় ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে।  নওগাঁর সাপাহার ও মানিকগঞ্জে সার্কাসের বিশাল যজ্ঞে  চলচ্চিত্রটিতে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সেজেছেন সার্কাসকন্যা ‘বিউটি’রূপে। এতে তার বিপরীতে আহসানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তৌকির আহমেদ, এ বি এম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদসহ আরও অনেকে।নির্মাণের নানা ধাপ পেরিয়ে চলচ্চিত্রটি এগুচ্ছে মুক্তির লক্ষ্যে।অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক ফেরদৌস চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “এটি একটি বিগ ফিল্ম। নির্মাতা মাহমুদ দিদার যে আয়োজন করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন তার তুলনা হয়না। বিশাল আয়োজনে সত্যিকারের সার্কাস তাঁবুর নিচে শুটিং অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিলো। চলচ্চিত্রটির জন্য শুভকামনা জানাই।”নির্মাতা মাহমুদ দিদার বলেন, “নির্মাণ শেষে সম্পাদনার টেবিলে তৈরি হচ্ছে ‘বিউটি সার্কাস’। চলচ্চিত্রটির মুক্তিযাত্রায় দারাজকে সাথে পেয়ে আমরা শক্তি অনুভব করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই রুপালী পর্দায় দর্শকের সামনে হাজির হবে ‘বিউটি সার্কাস’।” নির্মাতা জানান, শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটির ফার্স্ট লুক টিজার।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছাড়া পেলেন সালমান মুক্তাদির

বিনোদন বাজার ॥ দেশের আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেতা ও ভিডিও ব্লগার সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়ে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট।ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সালমান মুক্তাদির ৭/৮ টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়। সে আমাদের ভিডিও রিমুভ সংক্রান্তে কমিটমেন্ট দিয়েছে। নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাকে কাউন্সিলিং ও নিরাপদ ইন্টারনেট সংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেগুলো মনিটর করা হচ্ছে। কম্পলাই না করলে পরবর্তীতে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে, এদিন বিকালে সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেয়া হয়।গত সোমবার সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।এদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে সালমান মুক্তাদিরের অবস্থান জানতে একটি স্ট্যাটাস দেন মন্ত্রী।ওই স্ট্যাটাসে মন্ত্রী লেখেন, ‘কেউ কি সালমান মুক্তাদিরের আজকের অবস্থা জানাতে পারবেন?’এরপর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমি সালমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি, এটা আমি করতেছি।’প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে সালমান মুক্তাদির তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘অভদ্র প্রেম’ টাইটেলে একটি বিতকির্ত ভিডিও টিজার প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সালমান মুক্তাদির। এরপর তার ইউটিউব চ্যানেলকে আনলাইক করে দেয়ার হিড়িকে মেতে ওঠেন নেট জনতা।অনেকে নিজেরাই শুধু চ্যানেলটি থেকে আনসাবস্ক্রাইব করেননি, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর আনসাবস্ক্রাইব করার সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।