লন্ডনে রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের এখন একটি বৃহৎ এবং দক্ষ যুবশক্তি রয়েছে, যারা বিশ্ব শ্রম বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপের আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ আহবান জানান। সম্মেলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, আমাদের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ১৫ জন রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং স্থায়ী প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগ দেন। এর শিরোনাম হচ্ছে- ‘দূত (ইউরোপ) সম্মেলন’। শনিবার বিকেলে (লন্ডন সময়) স্থানীয় একটি হোটেলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশী দূতদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন, অভিবাসন ও রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ও সম্মেলনে আলোচনা হয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশের নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একটি কার্যকরী এবং সময়োপযোগী অ্যাকশন প¬্যান গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে করে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় হয়। তিনি বলেন, ‘এই জন্য আমাদের দেশে বিনিয়োগের আরো সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানী বাড়াতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এখন একটি বৃহৎ এবং দক্ষ যুবশক্তি রয়েছে, যারা বিশ্ব শ্রম বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম। একটি দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এমন একটি অ্যাপ চালু করেছি যার মাধ্যমে জনগণ ৯টি ভাষা শিখতে পারছে।’ প্রধানমন্ত্রী দূতগণকে নিজ নিজ কর্মস্থলে বিভিন্ন দেশের বাজার পরীবিক্ষণ করে সে দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বাধাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের এ লক্ষ্য অনুসরণে তাদেরও নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রয়োজনে দ্রুত এবং উন্নত সেবা প্রদানের জন্যও কূটনীতিকদের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি এবং চলতি ২০১৯-’২০ অর্থবছরের শেষ নাগাদ যা ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করা আমাদের লক্ষ্য। একইসঙ্গে ২০২০ সাল নাগাদ আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নির্ভর নয়, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এবারে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেছি এবং এর ৯০ শতাংশ অর্থ আমাদের নিজস্ব উৎস থেকে যোগান দেয়া হবে। দেশের কিছু লোক এবং যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তারা দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা দেশের উন্নয়নের গতিটাকে থামিয়ে দিতে চাচ্ছে।’ তিনি বিএনপি’র নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা বিগত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অথচ, তারা এই নির্বাচনে যথার্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রপাগান্ডায় বিশ্বাস করেনা, বরং আর্থসামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় আস্থা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনকে গুরুত্ব দেয়। “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়”- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুসৃত এই পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার এই পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। তিনি বলেন, এই নীতি অনুসরণ করে তাঁর সরকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়সহ অনেক বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি একইভাবে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুরও সমাধান হবে।” বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। সম্মেলনে অংশ নেয়া রাষ্ট্রদূতরা হলেন- আবু জাফর (অস্ট্রিয়া), মো. শাহাদৎ হোসেন (বেলজিয়াম), মুহম্মদ আবদুল মুহিত (ডেনমার্ক), কাজী ইমতিয়াজ হোসেন (ফ্রান্স), ইমতিয়াজ আহমেদ (জার্মানী), জসিম উদ্দিন (গ্রীস), আবদুস সোবহান সিকদার (ইতালি), শেখ মোহাম্মদ বেলাল (নেদারল্যান্ড) , মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান (পোল্যান্ড), রুহুল আলম সিদ্দিক (পর্তুগাল), ড. এস এম সাইফুল হক (রাশিয়া), হাসান মাহমুদ খন্দকার (স্পেন), নাজমুল ইসলাম (সুইডেন), শামিম আহসান (সুইজারল্যান্ড) এবং সাইদা মুনা তাসনীম (যুক্তরাজ্য)। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতগণ সংশ্লিষ্ট দেশে তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পৃথকভাবে উপস্থাপন করেন। যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে এক সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে লন্ডন পৌঁছেন।

ধোনিকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মহেন্দ্র সিং ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনার মধ্যে অভিজ্ঞ এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দল ঘোষণা করেছে ভারত। দল ঘোষণার সময় রোববার প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদ জানান, এই সফরে না খেলার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ধোনি। তাই দল গঠনের সময় ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে বিবেচনায় নেননি নির্বাচকরা। পুরো সফরেই বিশ্রামে থাকবেন অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বিশ্রাম পেয়েছেন পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। চোট কাটিয়ে এক বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন ঋদ্ধিমান সাহা। টেস্টে তার সঙ্গে উইকেটরক্ষক হিসেবে থাকা রিশাব পান্ত আছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলেও।  চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। টেস্ট দলে স্পিন আক্রমণে তার সঙ্গী রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ যাদব। এখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা পেসার নবদীপ শাইনি আছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে। লেগ স্পিনার রাহুল চাহার ডাক পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি দলে। শ্রেয়াস আয়ার, মনিশ পান্ডে ও খলীল আহমেদ ফিরেছেন ওয়ানডে দলে। বাদ পড়েছেন দিনেশ কার্তিক। আঙুলের চোটে বিশ্বকাপের মাঝপথ থেকে দেশে ফিরে যাওয়া বাঁহাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান ফিরেছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে। ওই টুর্নামেন্টেই পায়ের আঙুলে চোট পাওয়া বিজয় শঙ্কর এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি। বিশ্বকাপ থেকেই দলে ধোনির জায়গা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তার অবসরের ব্যাপারেও চলছে জল্পনা-কল্পনা। ভারতের প্রধান নির্বাচক প্রসাদ এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ধোনির না খেলার কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানাননি তিনি।  ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট খেলবে ভারত। ৩ অগাস্ট ফ্লোরিডায় প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সফর। টেস্টের ভারত দল: মায়াঙ্ক আগারওয়াল, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), অজিঙ্কা রাহানে, হনুমা বিহারী, রোহিত শর্মা, রিশাব পান্ত (উইকেটরক্ষক) ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামি, জাসপ্রিত বুমরাহ, উমেশ যাদব। ওয়ানডের ভারত দল: লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), শ্রেয়াস আয়ার, মনিশ পান্ডে, রোহিত শর্মা, রিশাব পান্ত (উইকেটরক্ষক), রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চেহেল, কেদার যাদব, মোহাম্মদ শামি, ভুবনেশ্বর কুমার, খলীল আহমেদ, নবদীপ শাইনি। টি-টোয়েন্টির ভারত দল: লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), শ্রেয়াস আয়ার, মনিশ পান্ডে, রোহিত শর্মা, রিশাব পান্ত (উইকেটরক্ষক), ক্রুনাল পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর, রাহুল চাহার, দীপক চাহার, ভুবনেশ্বর কুমার, খলীল আহমেদ, নবদীপ শাইনি।

জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ব্রোকোলি চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ব্রোকোলি বা সবুজ ফুলকপি কপি পরিবারের একটি নতুন শীতকালীন সবজি। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকের কাছে ব্রোকোলি এখনো তেমন পরিচিত নয়। এটি ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমোদের দশে এ সবজি প্রবর্তনের প্রচেষ্টা চলছে এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। পুষ্টির দিক দিয়েও ব্রোকোলি অনেক সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, সি এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে এবং এর গন্ধটাও আকর্ষণীয়। ক্যানসার রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্রোকোলির গুণ রয়েছে। ইদানীং ঢাকাসহ বড় বড় শহর এলাকায় ব্রোকোলি চাষ করে অনেক কৃষক প্রচুর টাকা উপার্জন করেছে। সবজির আবাদ সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। নিম্নে ব্রোকোলির উৎপাদন কলাকৌশল বর্ণনা করা হলো।
মাটি ও জলবায়ু ঃ ফুলকপি ও ব্রোকলির জলবায়ু প্রায় একই রকম। তবে ব্রোকলির পারিপার্শ্বিক উপযোগিতার সীমা একটু বেশি বিস্তৃত। তবে ফুলকপির তুলনায় এটি উচ্চতাপমাত্রা ও খরা বেশি সহ্য করতে পারে। ব্রোকলি ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো জন্মে। ব্রোকোলি এপ্রিল মাসের পরেও ভালো ফলন দিতে পারে। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ উর্বর দো-আঁশ উঁচু জমি এবং মাটির পিএইচ মান ৬-৭ হওয়া ব্রোকলি চাষের জন্য সর্বোত্তম।
জাত ঃ আমাদের দেশে ব্রোকলির কোনো মুক্তায়িত জাত নেই। তবে বিভিন্ন বীজ কোম্পানি বিদেশ থেকে ব্রোকলির সাধারণ ও শঙ্কর উভয় প্রকার জাত আমদানি করে বাজারজাত করছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হচ্ছে- প্রিমিয়াম ক্রপ, গ্রিন কমেট, গ্রিন ডিউক, ক্রুসেডার, ডিসিক্কো, টপার-৪৩, ডান্ডি, ইতালিয়ান গ্রিণ, ¯প্রডিটিং টেক্সাস ১০৭, ওয়ালথাম ২৯, গ্রিণ মাউন্টেইল, গ্রীন বাড।
বীজ বপনের সময় ঃ আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষার পর পরই আগাম জমি প্রস্তুত করতে হয়। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে (ভাদ্র থেকে কার্তিক) পর্যন্ত বীজতলায় ব্রোকলির বীজ বুনতে হয়।
বীজের পরিমাণ ঃ প্রতি হেক্টর আবাদের জন্য ১৫০ গ্রাম বীজ লাগে।
চারা উৎপাদন ঃ পাতা পচা সার বা গোবর সার ১ ভাগ, বালু ১ ভাগ ও মাটি ২ ভাগ মিশিয়ে ব্রোকলির বীজতল তৈরি করতে হয়। বীতলার মাপ হচ্ছে ১ মিটার প্রস্থ, ৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ সেমি. উচ্চতা। ১ হেক্টর জমিতে রোপণের জন্য এরূপ ২০টি বীজতলায় চারা তৈরির প্রয়োজন হবে। বীজতলার উপরিভাগে ৫ সেমি. দূরে দূরে সারি করে ১-২ সেমি. দূরে বীজ বপন করা হয়। বীজতলায় চারাকে রোদ বৃষ্টি হতে রক্ষার জন্য আচ্ছাদন বা চাটাইয়ের ব্যবস্থা রাখা উচিত। সকালে-বিকেলে সেচ দেয়ার পর একটি শক্ত কাঠি দ্বারা বীজতলা সাবধানে খুঁচিয়ে নিড়িয়ে দিতে হয়।
জমি তৈরি ঃ সারাদিন রোদ পায় এমন জমি ব্রোকলি চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। আবাদের জন্য গভীর চাষ দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। এরপর ২ সারিতে চারা রোপণের জন্য ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেমি. উঁচু মিড়ি বা বেড তৈরি করতে হবে। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য মিড়িতে চারা রোপণ করাই ভালো। মিড়ির দৈর্ঘ্য জমির সাইজ এবং কাজের সুবিধা বিবেচনা করে যত ইচ্ছা করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুই মিড়ির মাঝখানে ৩০ সেমি. চওড়া এবং ১৫-২০ সেমি. গভীর নালা থাকবে। নালার মাটি তুলেই মিড়ি তৈরি করা হয়। সেচ দেয়া এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা অত্যন্ত জরুরি।
সার প্রয়োগ ঃ প্রতি হেক্টরে গোবর ১৫ হাজার কেজি, ইউরিয়া ২৫০ কেজি, এমপি ২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০ কেজি এবং প্রতি চারায় পচা খৈল ৫০ গ্রাম হারে প্রয়োগ করতে হয়।
চারা রোপণ ঃ বীজতলায় চারা ৫-৬টি পাতা হলে প্রধান জমিতে রোপণ করতে হয়। সে সময় চারার উচ্চতা ৮-১০ সেমি. হয়। তবে ৪-৬ সপ্তাহ বয়সের চারা রোপণ সবচেয়ে উত্তম। ৬০ সেমি. ব্যবধানে সারি করে সারিতে ৫০ সেমি. দূরত্বে চারা লাগানো হয়। ভালা ফলনের জন্য চারার বয়স কম হওয়া বাঞ্ছনীয়।
পরবর্তী পরিচর্যা ঃ রোপণের পর প্রথম ৪-৫ দিন পর্যন্ত এক দিন পর পর সেচ দিতে হবে। পরবর্তীতে ৮-১০ দিন অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলেই চলবে। সেচ পরবর্তী জমিতে ‘ জো’ আসলে ব্রোকলির বৃদ্ধির জন্য মাটির চটা ভেঙে দিতে হবে এবং জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। সারের উপরি প্রয়োগ যথাসময়ে করতে হবে। উল্লেখ্য, সারের উপরি প্রয়োগের পর অবশ্যই জমিতে সেচ দিতে হবে। এ ছাড়া পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য বেড সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
ফসল সংগ্রহ ও ফলন ঃ ব্রোকোলি রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে অগ্রীম পুষ্পমঞ্জরি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। ধারালো ছুরি দ্বারা তিন ইঞ্চি কান্ডসহ পুষ্পমঞ্জরি কেটে সংগ্রহ করতে হয়। এভাবে একই জমি থেকে ১ মাসব্যাপী কয়েকবার ব্রোকোলির উৎপাদন পাওয়া যায়। পুষ্পমঞ্জরির রঙ ফ্যাকাশে বা ঢিলা হওয়ার আগে মোটামুটি জমাটবাঁধা অবস্থায় সংগ্রহ করা উচিত। এর বর্ণ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বিধায় পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করে খাওয়া বা দ্রুত বাজারজাত করা উচিত। এজন্য অনেক দেশে পলিথিনের প্যাকেটে একে বাজারজাত করা হয়। ব্রোকলির ফলন প্রতি হেক্টরে ১০-১৫ টন।
পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ঃ সরুই পোকা বা ডায়মন্ড ব্যাক মথ : এ পোকার আক্রমণে কচি পাতা, ডগা ও কপি খেয়ে নষ্ট করে। পাতার ওপরের ত্বক বা সবুজ অংশ কুরে কুরে খাওয়ার ফলে সেসব অংশ ঝাঁঝরা হয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা সবুজ রঙবিহীন জালের মতো দেখায়। ব্যাপক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে মরে যায়। কচি গাছের বর্ধনশীল অংশে এ পোকার আক্রমণ বেশি পরিলক্ষিত হয়। আক্রান্ত ব্রোকোলি খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায়। এদের ব্যাপক আক্রমণে ব্রোকলি উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে।
দমন ব্যবস্থা ঃ ফসল সংগ্রহের পর ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়য়ে ফেলা এবং পরে জমি ভালো করে চাষ করা। আক্রান্ত পাতার পোকা ২-৩ বার হাতে ধরে মেরে ফেললে এ পোকা অনেকাংশে দমন করা যায়। পিঁপড়া এবং মাকড়সা এ পোকার কীড়া খায়। বহু রকমের বোলতা যেমন ট্রাইকোগ্রামা, কোটেসিস ইত্যাদি এ পোকার ডিম কীড়াকে ধ্বংস করে ফেলে। ব্যাসিলাস ফুরিনাজিয়েনসিস (বিটি) প্রয়োগ করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জমি জরিপ করে যদি প্রয়োজন হয় তখন সঠিক নিয়মে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
জাব পোকা ঃ জাব পোকা একটি অন্যতম প্রধান ক্ষতিকারক পোকা। অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয় অবস্থাতেই দলবদ্ধভাবে গাছের নতুন ডগা, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির রস চুষে খায়। ফলে পাতা বিকৃত হয়ে যায়, বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও প্রায়শ নিচের দিকে কুঁকড়ানো দেখায়। জাব পোকা শরীরের পেছন দিকে অবস্থিত দুটি নল দিয়ে মধুর মতো এক প্রকার রস নিঃসৃত করে। এ রসে পাতা ও কান্ডে সুটিমোল্ড নামক এক প্রকার কলো রঙের ছত্রাক জন্মায়। এর ফলে গাছের সবুজ অংশ ঢেকে যায় এবং সালোকসংশে ষণ ক্রিয়া বিঘিœত হয়। মেঘলা, কুয়াশাচ্ছন্ন এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় জাব পোকার বংশ বৃদ্ধি বেশি হয়। তবে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হলে এদের সংখ্যা কমে যায়।
দমন ব্যবস্থা ঃ প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত পাতা ও ডগার জাব পোকা হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলা যায়। নিম বীজের দ্রবণ (১ কেজি পরিমাণ অর্ধভাঙা নিমবীজ ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে) বা সাবানঘোলা পানি (প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ চা চামচ গুঁড়া সাবান মেশাতে হবে) ¯েপ্র করেও এ পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমানো যায়। লেডিবার্ড বিটলের পূর্ণাঙ্গ পোকা ও কীড়া এবং সিরফিড ফ্লাইয়ের কীড়া জাব পোকা খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে দমন করে। সুতরাং উপরোক্ত বন্ধু পোকাগুলো সংরক্ষণ করলে এ পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কম হয়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে শুধু আক্রান্ত স্থানগুলো কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিষক্রিয়াসম্পন্ন কীটনাশক, যেমন- ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে ¯েপ্র করতে হবে।
কাটুই পোকা ঃ চারা অবস্থায় কাটুই পোকার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। এ পোকা সাধারণত চারা গাছের ক্ষতি করে থাকে। দিনের বেলা কাটুই পোকার কীড়া মাটির ফাটলে, মাটির ঢেলায় এবং আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। পোকা রাতের বেলা বের হয়ে ব্রোকলির চারা গাছ কেটে ফেলে। ভোর বেলা ক্ষেতে কাটা গাছের কাছে মাটি খুঁড়লে কাটুই পোকার কীড়া দেখতে পাওয়া যায়। কাটুই পোকার ব্যাপক আক্রমণে জমিতে ব্রোকলির গাছের সংখ্যা কমে যায় বলে ফলনও কম হয়।
দমন ব্যবস্থা ঃ পোকা দমনের জন্য ভোরে কাটা চারার গোড়ার মাটি খুঁড়ে কীড়াগুলো মেরে ফেলা উচিত। টর্চ বা হারিকেন নিয়ে রাতে কাটুইপোকার কীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলা যায়। ক্ষেতে সেচ দিলে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা কীড়া মাটির ওপরে উঠে আসে। ফলে সহজে পাখি এদের ধরে খায় এবং হাত দিয়ে মেরে ফেলা যায়। বিষটোপ দিয়ে এ পোকা দমন করা যায়। বিষটোপ হিসেবে শতাংশ প্রতি ২ গ্রাম সেভিন/কার্বোরিল ৮৫ ডবলিউপি অথবা পাদান ৫০ এসপি, ৪০০ গ্রাম গম বা ধানের কুঁড়ার সাথে পরিমাণমতো পানিতে মিশিয়ে এমন একটি বিষটোপ তৈরি করতে হবে যা হাত দিয়ে ছিটানো যায়। এ বিষটোপ সন্ধ্যায় আক্রান্ত ক্ষেতে চারা গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে প্রয়োগ করলে কাটুই পোকার কীড়া দমন সহজ হয়। আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

দ্রুত রিয়াল ছাড়ছেন বেল – জিদান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রিয়াল মাদ্রিদে গ্যারেথ বেলের সময় ফুরিয়ে যাওয়াটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে জিনেদিন জিদানের মন্তব্যে। দলটির কোচ জানিয়েছেন, এই গ্রীষ্মে ওয়েলসের ফরোয়ার্ডের ট্রান্সফার নিয়ে কাজ করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শনিবার ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে বেলকে খেলাননি জিদান। ম্যাচের পর ৩০ বছর বয়সী ওয়েলস ফরোয়ার্ডের না খেলা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তরে রিয়াল কোচ জানান বেলকে দলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুভব করছেন তিনি। “বেল খেলেনি কারণ সে চলে যাওয়ার খুব কাছাকাছি আছে। আমরা আশা করি, সে দ্রুতই চলে যাবে। এটা সবার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। তাকে নতুন দলে পাঠানোর জন্য আমরা কাজ করছি।” “একটা সময় আসে, যখন বিষয়গুলো শেষ হয়ে যায়; কেননা সেটা হতেই হয়। আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদেরকে বদলাতে হবে।” “এই চলে যাওয়াটা কোচের সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তও, যে নিজেও পরিস্থিতিটা জানে।” “পরিস্থিতি বদলাবে। আমি জানি না এটা ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিনা কিন্তু বদলাবে। এটা সবার জন্যই ভালো।” সূত্রগুলো ইএসপিএনকে নিশ্চিত করেছে, বেলকে আনার ব্যাপারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জোর চেষ্টা করছে না। মঙ্গলবার স্পেনের  দৈনিক মার্কা জানায়, বেলের সাবেক ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার তাকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২২ সালে পর্যন্ত রিয়ালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বেল গত মৌসুমে দলের হয়ে ৪২ ম্যাচ খেলেন। এর মধ্যে ২১ ম্যাচে ছিলেন শুরুর একাদশে। চোট সমস্যায় গত চার মৌসুমে লা লিগায় সম্ভাব্য ১৫১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৭৯টি ম্যাচ খেলতে পারেন তিনি।

নেইমারের কাছে ডিফেন্ডার হিসেবে রামোস সেরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ যাদের মুখোমুখি হয়েছেন তাদের মধ্যে ডিফেন্ডার হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের সের্হিও রামোসকে সেরা মনে করেন পিএসজির ফরোয়ার্ড নেইমার। বার্সেলোনায় থাকার সময় বেশ কয়েকবার রামোসের বিপক্ষে খেলেছেন নেইমার। স্প্যানিশ ক্রীড়া  দৈনিক মার্কা জানায়, এক অনুষ্ঠানে নিজের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন ডিফেন্ডার হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়কের নাম বলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। “যাদের বিপক্ষে আমি খেলেছি, তার মধ্যে সের্হিও রামোস সেরা।” “সে দুর্দান্ত একজন সেন্টার-ব্যাক। আরও ভালো যে সে গোলও করতে পারে।” গত বছর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তরুণ ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়রকে নিয়ে নিজের আশাবাদের কথাও জানান নেইমার। “সে খুবই তরুণ একজন খেলোয়াড়। সময়ের সঙ্গে সে অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে।” “ সে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠবে এবং ব্যালন ডি’অরের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সে যেখানে থাকতে চায় সেখানেই থাকবে।”

ঢাকা ডায়নামাইটসে ইংল্যান্ড অধিনায়ক মর্গ্যান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানকে দলে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলবেন বাঁহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ২০১৬ সালে ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় অ্যালেক্স হেলসের মতো দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে আসেননি ইংল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক মর্গ্যানও। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বছর বয়সী মর্গ্যানের ক্যারিয়ারের বেশ সমৃদ্ধ। ২৬৮ ম্যাচে ১২৮.২৫ গড়ে করেছেন সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি রান। ডাবলিন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবেন আসন্ন ইউরো টি-টোয়েন্টি স্ল্যামে। ঢাকায় সঙ্গী হিসেবে পাবেন বিশ্বকাপের আরেক উজ্জ্বল তারকা সাকিব আল হাসানকে। সময়ের সেরা এই অলরাউন্ডার ঢাকার অধিনায়ক। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দুই জন করে বিদেশি খেলোয়াড়কে সরাসরি দলে নিতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিপিএলের সপ্তম আসর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত আসরে রানার্সআপ হয়েছিল ঢাকা।

 

বামন্দীতে আয়োজিত হাডুডু খেলা সাড়া জাগালো

গাংনী প্রতিনিধি ॥ একেবারেই হঠাৎ করেই গতকাল শনিবার আনন্দ হৈ হুল্লোড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীর একটি মহল্লা। সারি সারি লোকজন দল বেধেঁ এসে বামন্দী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশবর্তী মাঠে জড়ো হয়েছিল। একদিকে প্রচুর লোকের সমাগম, হৈ চৈ অন্য দিকে মাইকের শব্দ, কৌতুহল বশত এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল গ্রাম বাংলার সেই চীর চেনা ঐতিবাহী হাডুডু খেলার আয়োজন। বামন্দী নিশিপুর যৌথ (বাণিয্যে) পাড়া যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ হাডুডু খেলায় একদিকে অংশ নিয়েছেন প্রবীন খেলোয়াড়গন অন্য দিকে এলাকার নবীন খেলোয়াড়গন। জমে উঠেছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একটি টিমের নাম রাখা হয়েছিল প্রস্তাবিত বামন্দী উপজেলা টিম অন্যটির নাম বানিয্যেপাড়া টিম। বিশ^কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার মত রুদ্ধশ^াস অবস্থার মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হওয়া এ খেলায় উভয় দলই সমান পয়েন্ট পেয়ে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খেলা দেখতে এলাকার অসংখ্য নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ সব ধরনের মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল। খেলাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াসরুম তৈরী করে দিলেন রিপিয়ার বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় রিপিয়ার বাংলাদেশ’র উদ্যোগে কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ৪টি ওয়াসরুম নির্মান করা হয়েছে। এই উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে “শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশ”এর আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন-নিসার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কর কমিশনার ও রিপিয়ার বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা বজলুর কবির ভূঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেনস লেখক ও গবেষক সারিয়া সুলতানা। এসময় প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রেণী কক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ দান করেন। সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি বলেন আজকের সন্তান আগামী দিনের ভবিষৎ। দেশ নেতৃত্বের অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এই কোমলমতি শিক্ষার্থী তাই তাদের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে মায়েদের পাশে থাকার আহবান করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কালুখালীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে সাবেক ৯ বছরের রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এইচএম এরশাদ এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টায় কালুখালী উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন মিয়ার উদ্যোগে উপজেলা জাতীয় পার্টির সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরদার, পাংশা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শামীম, জাতীয় পার্টির নেতা  মোখলেছুর রহমান, আশরাফুল মান্নান বাদশা, ডাঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ রশিদ মোল্লাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন কালুখালী রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব মাওঃ মোঃ মোক্তার হোসেন।

তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল শনিবার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আকছেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয় সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আমিরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান মিঠু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, উপজেলার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আহমেদ, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক আশরাফুল আলম হীরা, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক টনি মন্ডল প্রমুখ। সম্মেলন শেষে আকদে আলীকে সভাপতি ও আবুল হোসনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

হৃদি এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে

নিজ সংবাদ ॥ কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের মেয়ে সায়মা শাহরিন হৃদি এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে কৃতিত্বপূর্ণ এই ফলাফল অর্জন করে। এর আগে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স স্কুল থেকে মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। তাছাড়া জেএসসি ও পিএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করে হৃদি। হৃদির এই ফলাফলে দারুন খুঁশি হৃদি ও তার পরিবারের সদস্যরা। বাবা একজন শিক্ষক হয়ে মেয়ের এমন ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পাবে বলে প্রত্যাশা করেন। মেয়ের এমন ফলাফলে খুঁশি মা পপি ইয়াসমিনও। গৃহিনী হয়েও মেয়ের পড়ালেখার সহযোগিতার ফলে এমন ফলাফলে বাঁধা ভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনিও। এবিষয়ে হৃদি জানায় বাবা মায়ের দোয়া তাঁদের সার্বিক সহযোগিতায় এইচএসসিসহ সকল পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার ইচ্ছা সকলের দোয়া থাকলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া।

গাংনীর বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে  আনুষ্ঠানিকভাবে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন  মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সহকারী পরিচালক (কুষ্টিয়া অঞ্চল) রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুখময় সরকার, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থাকার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল হক জুয়েল, বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস।  অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আ.গের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা,আ.লীগ সিনিয়র নেতা আহসান উল্লাহ মোহন, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাস, বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার আলমগীর হোসেন, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বামন্দী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান কমলসহ স্থানীয় আ.লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় ও ফায়ার সার্ভিসের নির্ধারিত পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজীপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দীন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার আলমগীর হোসেন জানান,  যে কোন দূর্ঘটনায় খবর জানিয়ে সেবা নিতে বামন্দী ফায়ার সার্ভিসের এই মোবাইল নম্বরে- ০১৩১০-৯৫৮৫২৫ যোগাযোগ করতে হবে।

 

গাংনীর রাইপুর ইউনিয়ন ভলেন্টিয়ার ফোরাম গঠন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন ভলেন্টিয়ার ফোরাম গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ ফোরাম গঠন করা হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ফোরাম গঠিত হয়। রাইপুর (ভিডিটি) গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি ও রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হান্নানকে সভাপতি ও রাইপুর ইউনিয়ন সুজনের সদস্য আলমগীর কবির হিরোকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ ফোরাম গঠন করা হয়। ফোরামের অন্যান্যরা হলেন- (১ নং) সহ-সভাপতি রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও এলাঙ্গী গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি শামীম রেজা, (২নং) সহ-সভাপতি রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা ও গোপালনগর গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ফিরোজা খাতুন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন-(১নং) আনান্দাবাস গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, (২নং) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাব্রতি নেতা ওসমান গনি,দপ্তর সম্পাদক হলেন-চাঁদপুর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য সোহেল রানা,অর্থ সম্পাদক হলেন-শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক আজম সরকার,প্রচার সম্পাদক হলেন-শিমুলতলা গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, দিবস পালন বিষয়ক সম্পাদক হলেন- শিমুলতলা গ্রাম উন্নয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম,কর্মশালা বিষয়ক সম্পাদক হলেন-শালদহ গ্রাম ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের নেতা সুমন রেজা,নির্বাহী সদস্য হলেন-ইকুড়ি গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী মাহিরন খাতুন, এলাঙ্গী গণ-গবেষণা সমিতির অন্যতম সদস্য রহিলা খাতুন, হিমায়েতপুর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ও নারী নেত্রী লিপিয়ারা খাতুন,ফোরামের সাধারণ সদস্যরা হলেন-ইকুড়ি গ্রাম ইয়ূথ লিডার তন্ময় আলী,কড়–ইগাছি উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাব্রতি নেতা সাহারন খাতুন, আনান্দাবাস গ্রাম ইয়ূথের নেতা নাইমুর রহমান বাবু, রাইপুর ইউনিয়ন সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ও রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ, শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য আতিকুর রহমান মিঠু মিয়া,হাড়িয়াদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ও নারী নেত্রী সুস্মিতা বিশ্বাস, গোপালনগর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ওয়াসিম আকরাম। ফোরাম গঠন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন-দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী (ইউসি) জিএস সাজু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাম্মদ আলীর চাওয়া

আমলা অফিস ॥ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছে। তাদের রাষ্ট্র দিয়েছে সম্মান। মহান মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, পলিটিক্যাল কর্মকর্তা, সাধারন মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার, নার্স, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা, কৃষক-শ্রমিকরা অংশ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জীবন বাজী রেখে বীরত্ব দেখিয়েছেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধনতার এত বছর পরেও ক্রমস বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা। বয়সের ভারে যারা দিন দিন এক একে চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে। তাদের মনে রয়ে গেছে ক্ষোভ। স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের সঠিক মুল্যায়ন করা হয়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের সহযোগিদের মুক্তিযোদ্ধার হিসাবে দেখতে না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন। এছাড়াও সে সময়ের রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায়ও তাদের মনে রয়েছে ক্ষোভ। এদিকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা  গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর (গেরিলা নং- ৬৮৭৭, ব্যাচ নং-০৬) ক্ষোভ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত যাচাই-বাছাই, রাজাকারদের তালিকা না প্রকাশ হওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা, শহীদদের জন্য গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে করবস্থান না থাকা, স্থানীয় বদ্ধভূমি সংরক্ষন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি ভিত্তিক সম্মানী না দেওয়া। তিনি জানান, আমরা যারা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। আমাদের কাজ ছিলো গোপনে শক্রদের আক্রমন করে মেরে ফেলা। সেসময় আমরা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ না করলেও গোপনে আক্রমন করে তাদের হত্যা করতাম। আমাদের কাজই ছিলো “হিট এন্ড রান”।  সেসময় ৮০ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করি। যারা সকলেই উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার এক ভাষনে বলেন যে, যারা উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত (গেরিলা) তারা জেলায় ও মহকুমায় নিজ নিজ অস্ত্র জমা দিবেন। এছাড়া স্থানীয় বাহিনীসহ অনান্য ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার পিলখানায় অস্ত্র জমা দিবেন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা নেওয়ার পর জেনারেল এ.জি.এম ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৩ বছরের মধ্যে কোন প্রকার আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে না। তবে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হবে। এদিকে স্থানীয়সহ অনান্য বাহিনীকে রক্ষীবাহিনী করা হয় এবং তাদের তোফায়েল আহম্মেদ স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এরপরে দীর্ঘ ২৬ বছর আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা কোন সম্মানী ভাতা পায়নি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে এখন ১২ হাজার টাকায় উন্নতি করেছেন। তবে উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং অনান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সমান করা হয়েছে। এটা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য না। আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা চাই আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হোক এবং সাধারন মুক্তিযোদ্ধা এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি করে ভাতা প্রদান করা হোক।

সম্মিলিত লেখক ফোরাম কুষ্টিয়া’র সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

সম্মিলিত লেখক ফোরাম, কুষ্টিয়ার আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া টেগর লজে সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন ছড়াকার আব্দুল্লাহ সাঈদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো: খলিলুর রহমান মজু। সংগঠনের সদস্য বৃদ্ধিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন কবি আজিজুর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির একটি গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। সম্মিলিত লেখক ফোরামের ৩য় সাহিত্য আসরে উপস্থিত ছিলেন কবি সৈয়দা হাবিবা। আলোচনা শেষে সাহিত্য আড্ডায় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত এ সাহিত্য আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন: ছড়াকার বিপুল বিশ্বাস, কবি আশফাকুর রহমান, কবি সুলতানা রেবেকা নাসরীন, কবি মিজান সরকার, কবি মান্নান মণি, কবি মাহাদেব দাস, কবি হোসনে আরা, কবি শিরীন বানু, আবৃত্তিশিল্পী আনোয়ার কবির বকুল, ছড়াকার আব্দুল্লাহ সাঈদ, কবি এম.ডি আসাদ, কবি মোহিত চন্দ্র গোবিন্দ, কবি আজিজুর রহমান, কবি এস.আই. স্বাধীন, কবি রূপা খাতুন, কবি এম.এ হান্নান, কবি মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, কবি কামাল হোসেন, কবি কাজী সোহান শরীফ, কবি জসীম উল্লাহ আল হামিদ, কবি এস.এস. রুশদী এবং কবি শের আলী। সাহিত্য আড্ডা শেষে কবি ও বহুমাত্রিক লেখক মোহাম্মদ তাজউদ্দিনের “কথার কথা” নামক কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এম.ডি আসাদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু, ক্লিনিক মালিককে গণধোলায়

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি স্থাণীয় ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রপচারের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রিতু খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের আত্মীয় স্বজনরা ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ভেড়ামারা শহরের শিল্পী ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিতু খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী। নিহতের চাচাতো ভাই রাব্বি ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রিতু খাতুনের প্রসব  বেদনা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে ভেড়ামারা শিল্পী ক্লিনিকে ভর্তি করে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাড়াতাড়ি সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে বলে জানায় ক্লিনিক মালিক আশরাফ এবং শিল্পী। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাঃ টি.এ কামালীর তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে রিতু পুত্র সন্তান প্রসব করে। কিন্তু অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তা বন্ধ করতে না পারায় রক্ত শূন্য হয়ে রিতু মারা যায়। এ সময় মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক ও ওই চিকিৎসক মিলে মৃত রিতুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে  রেফার্ড করে। তবে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর আর কুষ্টিয়ায় আসেনি। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্লিনিক মালিক একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে রিতুর মরদেহ তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সকালে আত্মীয়-স্বজনরা রিতুর মৃতদেহ নিয়ে শিল্পী ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেই। এ সময় ক্ষিপ্ত স্বজনরা ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্লিনিক মালিক আশরাফুল এবং শিল্পী খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক টিএ কামালী পলাতক রয়েছে। ভেড়ামারা থানার সেকেন্ড অফিসার রিফাজ উদ্দিন জানান, ক্লিনিক মালিককে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজের নজরে

কুষ্টিয়ায় এক শিশু ধর্ষন মামলা নিয়ে ছেলে খেলা ?

হাসান আলী ॥ প্রতিনিয়ত দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষনের ঘটনা সংক্রামকের ন্যায় গ্রাস করে চলেছে। বেপরোয়া এই সংক্রামক রুখতে একের পর এক নানা কঠোরতার বিধান রেখে আইনও প্রনীত হয়েছে। এমনকি এই আইনের প্রয়োগে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আদালত পর্যন্ত আলাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবুও যেন লাগামহীন এই সংক্রামক ব্যাধীর কীটগুলির বেপরোয়াপনা থামছে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে শাস্তিদন্ডের মধ্যদিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যহত। কিন্ত এতো কিছুর পরও ধর্ষনের মতো পাষন্ডীয় অপরাধ করেও এই আইনের হাত থেকে রেহায় পেতে সমাজের তৃণমূল থেকে শুরু করে বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা নানা অপপ্রায়াসে লিপ্ত আছেন। ফলে প্রতিনিয়ত দেশে যে পরিমান ধর্ষনের ঘটনা ঘটে তার এক চতুর্থাংশই থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধর্ষন ঘটনাস্থলের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও জনপ্রতিনিধি, কিছু কিছু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী অথবা আইনজীবীদের সম্পৃক্ততায় কানের বিষ কানে মারার পরামর্শ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। এযেন গনিমতের মাল, পুরুষ মানুষ নারী বা শিশুকে ধর্ষন করেছে ? যাও বিষয়টি চেপে যাও। তাদের কথা মতো কাজ না হলেই কখনওবা ধর্ষিতাকে পতিতা, কলগার্ল অথবা দুশ্চরিত্রার অপবাদ, আবার কখনও ধর্ষকের বিবাহিত স্ত্রী কিংবা অবৈধ সম্পর্ক চর্চার অপবাদ। এভাবে সমাজের প্রভাবশালীদের অব্যহত নানমুখি চাপের মুখে ধর্ষিতা নারী, শিশু ও ভুক্তভোগী পরিবার শেষাবধি দৃষ্টান্তমূলক ন্যায় বিচার প্রার্থনার হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

কেস ষ্টাডি ঃ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা গোবিন্দপুর গ্রামে তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রী (১৩) কে পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে মামাতো ভাই দুই সন্তানের জনক জসিম (৩৫) ধর্ষন করে এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর বিষয়টি পিতা-মাতার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তারা কণ্যার কাছে বিষদ বিবরন শুনে গত ১২ জুন ডাক্তারি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তাদের কন্যা অন্ত:সত্ত্বা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা পরিবহন চালক ধর্ষণের অভিযোগে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত ধর্ষক জসিম সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী শিশু ছাত্রীর ২২ধারায় জবানবন্দীতেও ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই ধর্ষক জসিমকে আইনের হাত থেকে রক্ষার নানা অপকৌশল। এ মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এজাহারকারী তার লিখিত অভিযোগে কন্যার বয়স দেখিয়েছেন ১৩ বছর এবং সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। ২২ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা। আসামী জসিমের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। মাত্র কয়েকদিন পেরুতে না পেরুতেই হঠাৎ এজাহারকারীর সমর্থনে আসামী জসিমের পক্ষে জামিনাবেদনের সাথে একটি হলফনামা আদালতে উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। সেখানে ওই ছাত্রীর বয়স দেখানো হয়েছে ১৬ বছরের উর্দ্ধে এবং ধর্ষক জসিমের সাথে ওই ছাত্রীর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর বৈবাহিক সম্পর্কের কাবিননামা দাখিল করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী। বিষয়টি কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামীর নজরে আসায় এই গরমিল তথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাকে। বিজ্ঞ আদালত এমন গরমিল তথ্য উপস্থাপনের প্রকৃত কারণ জানতে চেয়েছেন। আদালত মনে করছেন সত্য তো একটাই হবে। এজাহারে উল্লেখিত তথ্য সঠিক হলে ভুয়া হলফনামার দায়ে হলফকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হতে পারে। নতুবা ভুয়া এজাহারের দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন এজাহারকারী নিজেই। আদালত মনে করছেন ওই শিশু ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে তার সন্দেহাতীত প্রমান থাকার পরও আদালতকে বিভ্রান্তের চেষ্টা দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন ভুয়া কাবিননামা অথবা বাল্যবিবাহের কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজীসহ সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রকৃত ঘটনা চিত্র কি বলে।

কুষ্টিয়া ১৮ নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রীবার্ষিক সম্মেলনে আজগর আলী

মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজদের আওয়ামীলীগে কোন স্থান নেইঃ আতাউর রহমান আতা

জামায়াত-বিএনপির হাতে নির্যাতিত আওয়ামীলীগ কর্মিদের মুল্যায়ন করতে হবে

নিজ সংবাদ  ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছেন, এই মজমপুর এক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘাটি ছিল। স্বাধীনতা পুর্ব এখান থেকেই পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হতো। শুধু তাই নয় বিগত ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপির হাতে নির্যাতনের শিকার এখানকার ত্যাগী আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরা দলের জন্য গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছে এই কমিটিতে তাদেরকে মুল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কথা মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। তবেই তৃণমুল থেকে দল সুসংগঠিত হবে। গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া উদিবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রী বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইব্রাহীম শেখের সভাপতিত্বে সম্মেলন পুর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, কোন ভয়-ভীতি দেখিয়ে কমিটিতে পদ নেয়া যাবে না। ত্যাগী, পরিক্ষিত, নেতা কর্মি এলাকায় যাদের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে দলে এনে আগামী দিনে যারা প্রতিপক্ষ শক্তির সাথে রাজপথে সংগ্রাম করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শেষে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এর পর সম্মেলনের উদ্ধোধক ও শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশন শুরু করেন। তিনি তার বক্তব্য প্রদান শেষে উপস্থিত সকলের কাছে আগামীতে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের জন্য কমিটি আহবান করেন একে একে ৮টি কমিটি তার হাতে এসে পৌছায়। এর পর তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার সেশন শেষ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেবউন নেছা সবুজ, শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মানজিয়ার রহমান চঞ্চল, ছালামত আলী, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মন্ডল প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক নুর আলম দুলাল, গোলাম রসুল ভাদু, প্রমুখ। এর আগে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিগণ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন। এর পর শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিনের সুচনা করেন। অনুষ্ঠানে যুবলীগ, স্বেছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

জনসমাগম দেখলেই আতঙ্কে ভোগে আ’লীগ সরকার – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে। জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আতঙ্কে শিউরে উঠছে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণকালে গতকাল (শুক্রবার) ফেনী থেকে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন, দাগনভূঁইয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাৎ, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং ফেনী পৌর যুবদল নেতা কাজী সোহাগকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এ দলটির উদ্যোগে সবসময়ই গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সভাসমাবেশ হয়। অথচ গণধিকৃত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশগুলোকে পন্ড করতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে। ‘গত ১৮ জুলাই বরিশালে বিএনপির উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশটি বানচাল করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে সংশি¬ষ্ট বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখতে গ্রেফতারসহ নানামুখী হয়রানি করছে সরকার। তিনি বলেন, জনগণ নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তারা বিএনপিসহ দেশের সব বিরোধী দলগুলোর মূলোৎপাটনের মাধ্যমে নব্য বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। ‘পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যাতে বর্তমান দুঃশাসানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দি করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।’

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে আগামী মাসের মধ্যে – মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আগামী মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেখানে নতুন শ্রমিক নিয়োগও শুরু হবে। এ ব্যাপারে সে দেশের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দালাল ও এজেন্টদের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমার প্রথম কাজই হবে তাদের ধরা যারা অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠান।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই না আমাদের দেশের কোনো মানুষ অবৈধভাবে বিদেশ যেতে গিয়ে মারা যাক।’ তিনি এ মৃত্যুকে মৃত্যু না বলে ‘হত্যাকা-’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দালালদের ব্যাপারে সজাগ থেকে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এর আগে মন্ত্রী দুপুর ১২টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত, অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের সঙ্গে ত্রিমুখী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবী পুলিশের।  শুক্রবার রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হররা এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত মোহন আলীর ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ২রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের কাছে খবর আসে কুষ্টিয়া সদরের হড়রা এলাকার মাঠে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মাদক ও ২টি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় এক এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।