নিরপরাধীদের হয়রানি করা হবে না – মনিরুল

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত বুধবার পুলিশের গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধী কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রসি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল এ কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, পল্টনের নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে মন্তব্য করে মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় ফৌজদারি অপরাধ না করলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি না ভাঙলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই। তবে জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া না দিতে পারে, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। গত বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ। এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অন্তত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি।

সুষ্ঠু ভোটের জন্য সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইল ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়েছে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শুক্রবার বিকালে বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ের পর ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “দুই ঘণ্টা আমরা সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন।” নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ অক্টোবর গঠিত সরকারবিরোধী এই মোর্চায় কামাল হোসেনের গণফোরামের সঙ্গে আছে বিএনপি, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা  লীগ, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। গত ১৮ অক্টোবর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর শুক্রবার তারা গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বসলেন। কামাল বলেন, “এই মতবিনিময় আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান বলে মনে করি। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি, আমরা আশা করব যে এসব ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে।” সম্পাদকদের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি।” কামাল হোসেন বলেন, “এডিটর সাহেবদের সাথে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল কী কী জিনিস তারা অতীতে দেখেছেন, এবার সেগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিৎ বলে তারা মনে করেন…। “সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী দল নির্বাচন করতে যাচ্ছি, নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা আমাদেরও কর্তব্য, যাতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।” মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে এসে ‘আমাদের নতুন সময়’ এর সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান বাইরে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলো কোরআন তেলাওয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে তারা আমাদের সামনে তুলে ধরবেন কিনা। “আমি জানতে চেয়েছি নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর যে উৎসব হবে, তারা জয়ী বা পরাজিত হলে তা কীভাবে পালন করবেন। এসব প্রশ্নের নোট তারা নিয়েছেন, বলেছেন পরে উত্তর দেবেন।” গুলশানের হোটেল লেকশোরে এই মতবিনিময় সভার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পাদকদের স্বাগত জানিয়ে জাতীয় যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন বক্তব্য দেন। প্রথম আলোর মতিউর রহমান, হলিডের সৈয়দ কামালউদ্দিন, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তৌফিক ইমরোজ খালিদী, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ এর নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের নাইমুল ইসলাম খান, ঢাকা ট্রিবিউনের জাফর সোবহান, দিনকালের রেজোয়ান সিদ্দিকী এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ইনকিলাবের মুন্সি আবদুল মান্নান, নিউজ টুডের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত হোসেন লিটন, যুগান্তরের মাসুদ করীম, সমকালের লোটন একরাম, সাপ্তাহিকের গোলাম মোর্তজাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মতবিনিময়ে অংশ নেন। ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত শোনেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জোটের নেতাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির আসম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন মত বিনিময়ে। এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল¬াহ চৌধুরী, বিএনপির আসদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদসহ ফ্রন্টের শরিক নেতারাও ছিলেন।

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তিনি বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে। এ জন্য সরকারি দল হিসেবে আমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছি। বিএনপি আমাদের এ সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে মনে করলে মস্তবড় ভুল করবে।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যালায়েন্সের মধ্যে আসন ভাগাভাগির কাজ চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে কাদের বলেন, বিজয়ী হওয়ার মত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদেরকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে। দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে হারের ঝুঁকি নেবেন না। কারণ বিএনপির প্রার্থীকে তারা দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিচ্ছেন না। সেতুমন্ত্রী বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে দেশী-বিদেশী সকল সমীক্ষা ও জরিপে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয়তার অভ্রভেদী তুঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে সকল জরীপে জনপ্রিয়তায় অনেক ব্যবধানে এগিয়ে আছে। ‘আমরা গত তিন-চার দিন ৫-৬ টি জরিপ প্রতিবেদন স্টাডি করেছি। এ সকল জরিপে শুধু আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তাও যাচাই করা হয়েছে।’ বলেন কাদের। গত ৫-৬ মাস আগে আওয়ামী লীগ যেসব জায়গায় জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে ছিল সেসব জায়গায় এ মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছে উলে¬খ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের পথ ধরে এগিয়ে যেতে চায়। নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের আগুন সন্ত্রাসের বৈশিষ্ট থেকে যে বের করে আনতে পারে নি’ তার প্রমাণ দিয়েছে। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, এ নির্বাচনে একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক শক্তি এবং অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিএনপির অতীত ইতিহাস দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে পরিপূর্ণ এবং ইতিবাচক কোন কাজ দৃশ্যমান নেই। যাকে অবলম্বন করে তারা জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আগুন দিয়ে পুলিশের গাড়ী পোড়াবে, পুলিশকে আহত করে হাসপাতালে পাঠাবে, আর মামলা হবে না, তা কখনো হতে পারে না। বিএনপির সন্ত্রাস ও নাশকতা বিনা শাস্তিতে ঢাকা পড়ে যাবে তা কি করে হয়? জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারা এ ধরনের দু:সাহস কি করে দেখায়? অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া অপরাধ কিনা তিনি সেই প্রশ্ন রাখেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিএনপির নেতাদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। তাদের জনসমর্থনের পারদ এত নিচে নেমে গেছে যে তারা বেসামাল হয়ে গেছে। তারা হতাশা থেকে এ ধরনের বেপরোয়া মন্তব্য করছে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে ইসি কবিতা খানম

পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না

ঢাকা অফিস ॥ পৃথিবীর কোথাও ‘শতভাগ সুষ্ঠু’ নির্বাচন হয় না মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, তারা একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন করতে চাইছেন, যা নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির সংশয়ের মধ্যেই শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানমের এমন বক্তব্য এল। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। “শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটা কোনো দেশেই হয় না; আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটা সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে।” নির্বাচনের উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত  এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়-এই নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।” ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করা যাবে। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটের তারিখ এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু কমিশন বৃহস্পতিবার তাদের সেই দাবি নাকচ করে দেয়। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ বিষয়ে বেঠক করার পর ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, “আমি সামগ্রিকভাবে একটা কথা বলি, আমাদের নির্বাচনে থাকা না থাকা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণের ওপর।” সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম বলেন, “নির্বাচন কমিশন কখনোই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতোপূর্বে কোনো কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে বিচরণ করেনি।” নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ‘বিচারকের নিরপেক্ষতায়’ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এই বিচারক বলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।” নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ‘সদ্ভাব’ বজায় রাখার পরামর্শ দেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, “আইনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো ইগনোর করার চেষ্টা করেন।” কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত না যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা  আচার-আচরণ এবং কথা-বার্তায় ‘নির্বাচনকে অসুস্থ করে’ এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “দায়িত্ব পালনে যেন এতোটুকু অবহেলা না হয়। একট সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকান্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৎভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।” কবিতা খানম বলেন, আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না। “না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতকর্তার সাথে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ, সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।” অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন।

ইউটিউবে তাহসান-কনার ‘কেন কে জানে’

বিনোদন বাজার ॥ গানচিল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ হয়েছে তাহসান ও কনার গান ‘কেন কে জানে’। বায়েস্কাপ অরিজিনালের জন্য ‘নিঃশ্বাস’ শিরোনামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন মাহমুদুর রহমান হিমি। যাতে এই গানটিও ব্যবহার করা হয়। এবার গানটিকে প্রকাশ করা হয় আলাদা করে।গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য তথা ভিডিওতে অভিনয় করেছেন তাহসান। সঙ্গে রয়েছে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। তাহসান বলেন, “গল্পের সঙ্গে মিল রেখেই এই গানটি বানানো হয়েছে। আশাকরি এই গান এবং ভিডিও উভয়ই দর্শক-শ্রোতারা পছন্দ করবেন।” গানের কথা লিখেছেন গীতিকার আসিফ ইকবাল। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আমিত-ঈশান।

ব্যাটসম্যানদের প্রতি কোহলির আহবান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে চার টেস্ট সিরিজে দায়িত্ব নিতে এবং নিজেদের জাত চেনাতে ব্যাটসম্যানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড সফরে পুরো সিরিজে বোলিং আক্রমণ বিভাগ ভাল করলেও দলের ব্যাটসম্যানরা আশানুরূপ করতে পারেনি বলে স্বীকার করেন কোহলি। ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্ট সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ভারতীয় দল। যে কারণে দলের খেলোয়াড়দের আরো বেশি ধারাবাহিক হতে বলেন আধিনায়ক। দল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে কোহলি বলেন, ‘মূলত ভাল বোলিং আক্রমণ বিভাগের কারণে এই মুহূর্তে আমরা সবাই ভাল অনুভব করছি। তবে ব্যাটসম্যানদের এগিয়ে আসতে হবে, যেমনটা ইংল্যান্ড সফরের পর থেকেই আমরা বলে আসছি। সত্যিই সবাই সে কাজটা করতে এবং ভাল পারফরমেন্সের জন্য মুখিয়ে আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সফরে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভাল করতে হবে। কেননা আমাদের বোলাররা ভাল অবস্থায় আছে এবং তাদের করণীয়টা তারা বেশ ভাল জানে। দীর্ঘ সময় পর এবার মনে হচ্ছে প্রতি ম্যাচেই আমরা ২০ উইকেট নিতে সক্ষম।’ ‘এমন একটা বোলিং বিভাগ থাকায় সত্যিই খুব ভাল লাগছে। তবে কেবলমাত্র একটা টেস্ট নয়, পুরো সিরিজ জিতে খুশি হতে আমাদের পুরো দলকে আরো কঠিনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ অস্ট্রেলিয়া সফরে চার টেস্টের পর তিনিটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ সিরিজ খেলবে ভারত।

সংশ্লিষ্টদের মতামত উপেক্ষিত কেন?

দেশের অর্থনীতির আকার, ব্যাংকগুলোর অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, সংশ্লি¬ষ্ট বিশেষজ্ঞ, এমনকি খোদ অর্থমন্ত্রীর আপত্তি সত্ত্বেও আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় যে এসব ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। কয়েক দিন আগেই কমিউনিটি ব্যাংক নামে পুলিশ বাহিনীর জন্য নতুন একটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সময়ই এ তিনটিসহ মোট চারটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাগজপত্রের অসঙ্গতির কারণে তখন স্থগিত রাখা হলেও ফের সেগুলো অনুমোদনের তোড়জোড় চলছে। বিশেষ বাহিনী হিসেবে পুলিশকে বিশেষায়িত একটি ব্যাংক দেয়ার মধ্যে কোনো সমস্যা অনেকে না দেখলেও ব্যাংকটির অনুমোদনের পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এতে আমি সন্তুষ্ট নই। কারণ আমি উপলব্ধি করতে পারছি যে এসব ব্যাংক শিগগিরই অন্য ব্যাংকের সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে যাবে।’ অর্থমন্ত্রীর আশঙ্কা যে অমূলক নয় তা আমরা বুঝতে পারি নতুন প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকের পরিস্থিতি থেকে। এগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া তো দূরের কথা, কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এমনকি ফারমার্স ব্যাংক তো দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হওয়ার পর কোনোমতে একে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হল, কয়েক বছর ধরে কার্যক্রম চালানো কিছু ব্যাংকের অবস্থা যখন এমন নাজুক, তখন কেন নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার তোড়জোড় চলছে? এটি যে অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না, তা সহজেই বোঝা যায় নতুন ব্যাংকের পাশাপাশি গোটা ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি ও লাগামহীন খেলাপি ঋণ থেকে। এ ছাড়া যেখানে বিদ্যমানগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারছে না, সেখানে নতুন উদ্যোক্তা কেন আসছে- এমন প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। আমরা মনে করি, অনিয়ম-দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়া, ব্যাংকিং খাতে পরিবারতন্ত্র কায়েম হওয়া, এমনকি সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের সুদহার না নামিয়েও বহাল তবিয়তে থাকতে পারার কারণে ব্যাংকের অনুমোদনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বেড়েছে। এমনটি হলে তা খাতটির জন্য যে সুখকর হবে না সেটি বলাই বাহুল্য। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয়তা নেই বলে নতুন ব্যাংক অনুমোদন স্থগিত থাকে। সেটি ছিল আগের সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা। ১০৬টির মতো আবেদনের পরও তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান কোনো ব্যাংকের অনুমোদন দিতে রাজি হননি। কিন্তু ২০১০ সালের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আক্ষেপ করে তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সংস্থা। সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়ন করতে হয়। কিন্তু সরকারের সে সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না, তা তো ৯টি ব্যাংকের অবস্থা থেকেই স্পষ্ট। তারপরও অনুমোদন দেয়া হচ্ছে নতুন ব্যাংকের। খাত সংশ্লি¬ষ্টদের মতামতের বিপক্ষে গিয়ে কোনোকিছু চাপিয়ে দিলে তা যে ভালো ফল দেয় না, সরকারের নীতিনির্ধারকদের এটি বুঝতে হবে। অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও কঠোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নতুন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

ধারাবাহিক নাটক ‘মি. টেনশন’-এ শিশুশিল্পী অপ্সরী

বিনোদন বাজার ॥ অল্প সময়ের মধ্যেই টেলিভিশন নাটকের পরিচিতি মুখ হয়ে ওঠা শিশুশিল্পী অপ্সরীকে এবার দেখা যাবে ধারাবাহিক নাটক ‘মি. টেনশন’ এ। ইতোমধ্যেই তার অভিনীত পর্বগুলো প্রচার শুরু হয়েছে। নাটকে মাহমুদুল ইসলাম মিঠু ও মনিরা মিঠুর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছে অপ্সরী। এর আগে ‘আমি চাইনা’, ‘সকল দুয়ার খুলে’, ‘এই শহরটা আমার জন্য না’, ‘বিয়ে বিড়ম্বনা’ নামে চারটি একক নাটকে অভিনয় করে প্রসংশিত হয়েছিল অপ্সরী। এবারই প্রথম যুক্ত হয়েছে ধারাবাহিক নাটকে। হিয়া মাল্টিমিডিয়া প্রডাকশন নির্মিত মি. টেনশন নাটকটি রচনা করেছেন জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও আদিবাসী মিজান। পরিচালনা করেছেন আদিবাসী মিজান। নাটকটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। তার সাথে আরো রয়েছেন আনিকা কবির শখ, নাদিয়া, মৌটুসী, আরফান আহমেদ, সাজু খাদেম, ফারুক আহমেদ, বিথী, ওয়ালিউল হক রুমী, জামিল আহমেদ, নাবিলা ইসলাম, সোহান খান, এ্যানিখান, হাসান ফেরদৌস জুয়েল, এলভিন সহ আরো অনেকে। দর্শক নন্দিত মি. টেনশন ধারাবাহিক নাটকটি প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাত ৮:২০ মিনিটে এন টিভিতে প্রচারিত হয়।

॥ আবদুল লতিফ মন্ডল ॥

তফসিল ঘোষণাই যথেষ্ট নয়

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুনঃতফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনঃঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ ডিসেম্বর। ১২ নভেম্বর বিকালে কমিশন এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ওই দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পুনঃনির্ধারিত তফসিলের ঘোষণা দেন।

সিইসি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনে আসার কথা জানিয়েছে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কমিশনের জন্য স্বস্তির বিষয়।

এর আগে ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ওই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ১৯ নভেম্বর।

মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল যথাক্রমে ২২ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর। ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল ২৩ ডিসেম্বর।

৮ নভেম্বরের ভাষণে সিইসি সব রাজনৈতিক দলকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নিষ্পন্ন করতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকেই অনুরোধ জানান। এরপরও কোনো বিষয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসারও অনুরোধ জানান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

৮ নভেম্বর ঘোষিত নির্বাচনের তফসিল নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দল ও একইসঙ্গে সরকারে থাকা জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণায় সে ধোঁয়াশা কেটে গেল।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার তফসিল ঘোষণার জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে গণফোরামের সভাপতি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন তফসিল ঘোষণাকে দুঃখজনক অভিহিত করে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব ছিল সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে না।

এর মধ্যেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন না ঘটিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটল।

এদিকে ১১ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও এক সংবাদ সম্মেলনে অনুরূপ সিদ্ধান্ত ও দাবি জানানো হয়। নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১১ নভেম্বরই কমিশনকে একটি চিঠি দেয়।

নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দিতে দাবি জানায় বাম গণতান্ত্রিক জোট, যুক্তফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন।

নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবির পেছনে যেসব যুক্তি ছিল সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নেতারা কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠানে দলের পক্ষে ভোট চেয়ে আসছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিশেষ করে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি পুলিশ তথা সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান করতে পারেনি এবং আটককৃত এবং আটকের ভয়ে গা ঢাকা দেয়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও অন্যসব নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

দুই. ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অনেকটা ব্যর্থ সংলাপে ব্যস্ত থাকায় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিশ্চিত না থাকায় ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো নির্বাচনের কাজে মনোযোগী হতে পারেনি।

তিন. দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠক ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তাই ভোট গ্রহণের দিন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ধার্য করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হলে তাতে কোনোরকম ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা। দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দলীয় সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং এসব নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা কোনো দলীয় সরকার পরাজিত হয়নি।

দলীয় সরকারের অধীনেও যে সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব, সে উদাহরণ সৃষ্টি করাই বর্তমান কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কমিশনকে যেসব বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে সেগুলো হল- প্রথমত, নির্বাচনে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

সিইসি ইতিপূর্বে বলেছিলেন, এ মুহূর্তে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়; তফসিল ঘোষণার পরই তারা সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন।

কমিশনের পক্ষে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এ কারণে যে, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট এবং জোটের বাইরে থাকা ৯টি সমমনা দল দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে অনেকটা একদলীয় নির্বাচনে স্বল্পসংখ্যক কয়েকটি আসন বাদে বাকি সব আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে বর্তমান সংসদ সদস্যরা আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পদে বহাল থাকবেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি সরকার মেনে না নেয়ায় নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের কমবেশি ৯০ ভাগ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা (তাদের অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন) ক্ষমতায় থাকবেন।

তাছাড়া কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত/মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেন।

তারা দলীয় নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে যে পিছপা হবেন না, তা অনেকটা জোর দিয়েই বলা যায়।

সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কমিশন আর যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন তা হল, বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি ও গ্রেফতার থেকে রক্ষা করা।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সংলাপের সূত্রে বিএনপি দ্বিতীয় দফার আলোচনার দিন (৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘মিথ্যা ও গায়েবি মামলার’ একটি তালিকা জমা দেয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এ তালিকায় ১ হাজার ৪৬টি মামলা রয়েছে।

এসব মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ নেতাকর্মী। বিভিন্ন মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৯৬ হাজার ৭০০, অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রীর এরূপ আশ্বাসের পরও ‘হয়রানিমূলক ও গায়েবি মামলা’ দেয়া অব্যাহত রয়েছে বলে পত্রপত্রিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

১২ নভেম্বর একটি দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে ২০ জেলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১০০টি। এর মধ্যে ৯৭টি মামলারই বাদী পুলিশ। বিএনপির নেতাদের দাবি, এ মামলাগুলো হয়রানিমূলক ও গায়েবি।’

দ্বিতীয়ত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে কমিশনের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। নব্বইয়ের দশকে দেশের দুটি বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রশাসনকে দলীয়করণের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, গত ১০ বছরে তা চরম আকার ধারণ করেছে।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের একটানা শাসনামলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বেসামরিক প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বড় অংশ সরকারের আনুকূল্যে অপ্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে দলটির অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন।

যারা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপ-সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এবং সচিবালয়ের বাইরে সমমানের পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের অনুগত।

এসব কর্মকর্তার মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং মাঠ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি অব পুলিশ, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) ইত্যাদি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বা হবে।

ক্ষমতাসীন দলের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে সরকারই তাদের রক্ষা করাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। তাই নির্বাচন কমিশন কোনো শাস্তি দিলেও শেষমেশ তা কার্যকর করতে পারবে না।

তৃতীয়ত, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ব্যয়ের যে সীমারেখা দেয়া আছে তা এখন না মানার নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এর অন্যতম প্রধান কারণ ব্যবসায়ী প্রার্থীদের আধিক্য। বর্তমান সংসদের মূল ৩০০ এমপির মধ্যে ২০৬ জনেরই পেশা ব্যবসা। অর্থাৎ ব্যবসায়ী এমপির হার ৬৯ শতাংশ। পেশাজীবীদের হার দ্রুত কমে যাচ্ছে।

আর বুদ্ধিজীবীদের তো সংসদে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। এ কারণে নির্বাচনে কালো টাকার খেলা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলেছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চতুর্থত, সাম্প্রতিককালে সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু নির্বাচনে যে সমস্যাটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হল, বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপি জোটের প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর ও ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়া। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই শাসক দলের কর্মীরা এ কাজটি করে থাকেন।

অতীতে এ কারণে বিরোধী দলগুলোর অনেক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেখেও না দেখার ভান করায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সবশেষে বলতে চাই, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বা পুনঃতফসিল ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। উল্লিখিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

নির্বাচন কমিশনকে স্মরণে রাখতে হবে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

আর আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে অতীতের অনেক নির্বাচন কমিশনের মতো বর্তমান নির্বাচন কমিশনও ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

লেখক ঃ সাবেক সচিব, কলাম লেখক

 

উড়তে পারেনি কাজলের হেলিকপ্টার!

বিনোদন বাজার ॥ দীর্ঘ বিরতির পর বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল নতুন ছবি নিয়ে দর্শক মহলে হাজির হয়েছিলেন অক্টোবরের শুরুর দিকে।

এক সিঙ্গেল মাকে নিয়ে নির্মিত ‘হেলিকপ্টার এলা’  নামে সেই ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। মুক্তির তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ‘হেলিকপ্টার এলা’ বলিউড বক্স অফিসে ঝড় তোলা তো দূরের কথা, মাটি ছেড়ে উড়তেও পারেনি। অথচ এ ছবি নিয়ে কাজলের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কারণ এটা যে তার কামব্যাক করার ছবি। তিনি জানতেন, নায়িকা চরিত্রে ফিরে আসাটা আর সম্ভব নয়। তাই বুঝেশুনে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে নতুন করে জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আশায় গুড়েবালি। দর্শকরা বোধ হয় এ কাজলকে দেখতে চান না, কিংবা স্বপ্নের কাজলকেই মনে লালন করেন। প্রদীপ সরকারের পরিচালনায় এ ছবিটি প্রযোজনা করেছেন অজয় দেবগন। ৩০ কোটি রুপি বাজেটের ছবিটি গত তিন সপ্তাহে ১০ কোটি রুপিও আয় করতে পারেনি। এর অনেক কারণও নিরূপণ করেছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, তিন বছর পর পর্দায় ফিরে কাজল পুরো ছবিতে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। সহ-অভিনেতারা যেন তাকে ছাপিয়ে না যেতে পারেন, সেই প্রচেষ্টায় এত ওভার অ্যাক্টিং করে ফেলেছেন, যা বিরক্তিকর বলেও অনেকে মত দিয়েছেন। মা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই এ ছবির প্রেক্ষাপট, কিন্তু দর্শক মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারেনি। নব্বইয়ের দশক রিক্রিয়েট করে তা জোর করে গুঁজে দেয়া হয়েছে ছবির প্রথমার্ধে, এলার যৌবনের গল্পে। ছবিতে যুবতী এলার (কাজল) পোশাক নির্বাচন মনে করিয়ে দেয় ‘বাজিগর’-এর প্রিয়াকে বা ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’র সিমরানকে। অতি নাটকীয়তা ছেঁটে পরিচালক যদি মা-ছেলের সমীকরণে আর একটু জোর দিতেন, তা হলে হয়তো হিটের আকাশে উড়ত কাজলের ‘হেলিকপ্টার এলা’। সমালোচকরা আরও বলেন, ভারতীয় মায়েরা, বিশেষ করে যারা বাবা ছাড়াই একা সন্তানকে বড় করেন, তারা সন্তানদের চোখে চোখে রাখেন। ছায়ার মতো সন্তানের পাশে লেগে থাকেন। অবশ্য অভিনেত্রী কাজল একাই হেলিকপ্টার এলার মান তুলে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন, পর্দায় আলোড়ন তুলতেও সক্ষম যা আগেও বিশ্ব দেখেছেন। কিন্তু ‘হেলিকপ্টার এলা’ সাজিয়ে গুছিয়ে বলা একটি গতানুগতিক গল্প! কাজলের মতো ছবির প্রধান অভিনেত্রীর কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। অনেকে আবার ছবির প্রচার ঠিকমতো হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন। যে যা-ই বলুক, কাজল কিন্তু আশা করেছিলেন, শেষতক হয়তো উড়তে পারে হেলিকপ্টার। কিন্তু ১ম, ২য় সপ্তাহ শেষে যখন তৃতীয় সপ্তাহ পার হল, তখনও হেলিকপ্টারকে টেনে আকাশে তোলা সম্ভব হয়নি। হতাশ কাজলকে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার নিয়ে হ্যাঙ্গারেই ফিরতে হল।

সারা বছর আম ফলবে দেশের সব গাছে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মৌসুম ছাড়াই দেশীয় আবহাওয়ায় কৃত্রিম পদ্ধতিতে আম ফলাতে সক্ষম হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। এজন্য তারা প্রয়োগ করেছেন ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো জাতের আম গাছে আম ফলানো যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। এ সফলতা শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ফ ম জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মারজিনা আক্তার রিমার। গবেষক মারজিনা আক্তার রিমা বলেন, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা ‘ন্যামডকমাই’ জাতের ২৪টি আম গাছে ফোর্সিং পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি হরমোন বিভিন্ন মাত্রায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষায় কয়েকটি হরমোন নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রয়োগ করার তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। স্বাভাবিক মৌসুমে আম গাছে যেমন মুকুল আসে মৌসুম ছাড়াই সেরকম মুকুল আনতে সক্ষম হই।
ড. জামাল জানান, দেশে বারোমাসি ‘বারি-১১’ জাতের আম অনেক আগে থেকে দেশে চাষ করা হয়। কিন্তু তা বছরে শুধু একবারই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফল দেয়। তার স্বাদ মৌসুমী আমের তুলনায় ভিন্ন এবং ফলন অনেক কম। কিন্তু ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরের যেকোনো সময় ফল ধরানো যাবে। এর স্বাদ হবে মৌসুমী আমের মতোই। ফলনও সমান। ড. জামাল আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক নাগাড়ে সারা বছর না ফলিয়ে মৌসুম ছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আম ফলাবো। ফলে আম চাষিরা বাড়তি দাম পাবেন। আমরাও তুলনামূলক কম দামে আম খেতে পারবো। ‘অফ সিজনাল’ আমের বেশিরভাগ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এর দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। চারশ থেকে পাঁচশ টাকা কেজি দরে ‘অফ সিজনাল’ আম কিনতে হয়। এ পদ্ধতিতে আম ফলানোর জন্য গাছের বাড়তি কোনো পরিচর্যা করতে হবে না। তবে হরমোন প্রয়োগের আগে গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে দিতে হয়। গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় মেরে পানি ¯েপ্র করে পাতা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর হরমোন প্রয়োগ করতে হয় গাছের পাতা ও গোড়ার মাটিতে। হরমোন প্রয়োগের তিন মাসের মাথায় মুকুল আসে। ড. জামালের তত্ত্বাবধানে সাভারের কাশিমপুরের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম গাছে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। আগামী বছরের মধ্যে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা।

মেসির আর্জেন্টিনা দলে ফেরা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিওনেল মেসি দ্রুতই জাতীয় দলে ফিরবেন বলে মনে করেন আর্জেন্টিনার অন্তবর্তীকালীন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে এ বিষয়ে তারকা এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে অবশ্য কোনো কথা হয়নি তার। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মেসির ফেরা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্কালোনি। “সে কোপা আমেরিকায় আসছে কিনা তা নিয়ে আমি তার সঙ্গে কথা বলিনি। আমি বিশ্বাস করি যে সে জাতীয় দলে ফিরবে।” রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হারের পর আর দেশের হয়ে মাঠে নামেননি মেসি। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পরও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন মেসি। পরে অবসর ভেঙে ফিরে আসেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় মেক্সিকোর বিপক্ষে আবার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

দুই সেশনে নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আবু ধাবি টেস্টের প্রথম দিন নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস টিকল মোটে দুই সেশন। লাঞ্চের পর নাটকীয় ধসে দেড়শ পেরিয়েই থেমে গেল কেন উইলিয়ামসনের দল। দলের হয়ে লড়াই করলেন কেবল অধিনায়ক। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুক্রবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। আবু ধাবিতে টেস্টে প্রথম ইনিংসে এটাই সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। তৃতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৫৯ রান। ৩৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের সঙ্গে রস টেইলরকে হারিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। তবে হেনরি নিকোলসের সঙ্গে ৭২ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন উইলিয়ামসন। শুরুতে রান পাওয়া ছিল কঠিন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সহজ হয়ে এসেছিল ব্যাটিং। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে ভালো অবস্থানের দিকে যাচ্ছিল নিউ জিল্যান্ড। এমন সময়ে মোহাম্মদ আব্বাসকে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিকোলস কট বিহাইন্ড হলে ভাঙে প্রতিরোধ গড়া জুটি। প্রথম সেশনে সাদামাটা বোলিং করা হাসান আলি পরপর দুই বলে তুলে নেন উইলিয়ামসন ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের উইকেট। শর্ট বল ডাক করার কিংবা হুক ঠিকঠাক মতো করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক। কোনোটিই করতে পারেননি, কিপার সরফরাজ আহমেদকে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ৬৩ রানের ইনিংস। গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পান ডি গ্র্যান্ডহোম। পরের কোনো ব্যাটসম্যান পারেননি প্রতিরোধ গড়তে। এক সময়ে ৩ উইকেটে ১১১ রান করা নিউ জিল্যান্ড ৪২ রানে হারায় শেষ ৭ উইকেট। লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ ৩ উইকেট নেন ৫৪ রানে। দুটি করে উইকেট নেন আব্বাস, হাসান ও হারিস সোহেল। জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ডি গ্র্যান্ডহোমের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়ায় ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ইমাম-উল-হক। পরের ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের শর্ট বলে উইলিয়ামসনের হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ হাফিজ। বাকি সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দেন আজহার আলি ও হারিস সোহেল। সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬৬.৩ ওভারে ১৫৩ (রাভাল ৭, ল্যাথাম ১৩, উইলিয়ামসন ৬৩, টেইলর ২, নিকোলস ২৮, ওয়াটলিং ১০, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সোধি ৪, ওয়েগনার ১২, প্যাটেল ৬, বোল্ট ৪*; আব্বাস ২/১৩, হাসান ২/৩৮, বিলাল ১/৩৩, ইয়াসির ৩/৫৪, হারিস ২/১১, হাফিজ ০/০)।পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩ ওভারে ৫৯/২ (ইমাম ৬, হাফিজ ২০, আজহার ১০*, হারিস ২২*; বোল্ট ১/২০, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/১৭, প্যাটেল ০/১৩, ওয়েগনার ০/৮)

ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে নেশন্স লীগের চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথ প্রলম্বিত করল স্পেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রোয়েশিয়ার কাছে পরাজিত হওয়ায় নেশন্স লীগের চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথটি প্রলম্বিত হলো স্পেনের। গত রাতে অনুষ্ঠিত গ্র“প পর্বের ম্যাচে ক্রেয়েশিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানোর সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে (৯৩তম মি.) ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে জয়সুচক গোলটি করেছেন টিন জেদভাই। জেদভাইর ওই বিলম্বিত গোলটি জার নম্বর গ্র“প থেকে ফাইনাল পর্বে খেলার পথ উন্মুক্ত হয়ে গেছে স্পেন, ক্রেয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডের জন্য। বর্তমানে গ্র“পে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে স্পেন। আগামী রোববার ইংল্যান্ডের মোকাবেলা করবে ক্রেয়েশিয়া। ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি যদি ড্র হয় তাহলে ফাইনাল পর্বে খেলার সুযোগ থাকবে স্পেনের। অন্যথায় ম্যাচের বিজয়ী দল সুযোগ পাবে ফাইনাল পর্বে খেলার। জাগ্রেবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অবশ্য এমনিতেই জয়ের দাবীদার ছিল ক্রেয়েশিয়া। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন জেদভাই। গোল দুটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। এর সুবাদে শেষ পর্যন্ত স্মরনীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া। শুরুতে আন্দ্রেই ক্রামারিচ গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ক্রেয়েশিয়াকে। এভাবে দুইবার এগিয়ে যাওয়া দলটির বিপক্ষে গোল করে দুই বাাই স্পেনকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন দানি সেরেরোস ও সার্জিও রামোস। অবস্থা দৃষ্টে এক পয়েন্ট পেয়ে ফাইনাল পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছিল লুইস এনরিখের দল। কিন্তু ইনজুরি টাইমে দেভাইর গোল তাদের সে আশা পুরণ হতে দেয়নি। এই জয়ে ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের মোকাবেলা করার জন্য ওয়েম্বলি সফরে যাবে ক্রোয়েশিয়া। অপরদিকে এনরিখের অধীনে পরপর দুই ম্যাচে হেরে স্প্যানিশদের সহজ সুযোগটি কঠিন সমীকরণের মধ্যে পড়ে গেছে। গত মাসে ইংল্যান্ডের কাছেও একই ব্যবধানে হার মেনেছিল স্প্যানিশরা।  খেলা শেষে এনরিখ বলেন, ‘দলের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে আমি সত্যি উদ্বিগ্ন। এ সব ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে। তবে আমি মনে করি আজকের ম্যাচটি আমাদের দিকে স্বচ্ছ ছিলনা।’ ক্রেয়েশিয় কোচ জক্ষাটকো ডেলিচ বলেন, ‘দারুন এই ম্যাচে আমরা পুরস্কৃত হয়েছি।’ তবে স্পেন এখন অবনমনের শংকা থেকে মুক্ত রয়েছে। এই শংকার মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ক্রেয়েশিয়া। রোববার ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে যে দল হেরে যাবে তাদের উপরই নেমে আসবে অবনমনের খড়গ। গোলের মাধ্যমে ড্র কিংবা হেরে গেলে ইংল্যান্ডের উপর নেমে আসবে অবনমনের খড়গ। অপরদিকে ক্রেয়েশিয়া যদি হেরে যায় কিংবা গোলশুন্য ড্র করে, তাহলে তাদেরেকই অবনমনের পথ ধরতে হবে। এনরিখ বলেন, ‘এসব সমীকরণই বলে দিচ্ছে এই গ্র“পটি কত কঠিন। যদিও আমাদের সামনে এখনো সুযোগ আছে ।’ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও গোল শুন্যভাবে শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৪তম মিনিটে গোল খড়া দূর হয় ম্যাচে। বাঁ দিক থেকে পেরিসিচের হেডে বাড়ানো বল ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ক্রেয়েশিয় ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচ (১-০)। তবে ২ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফিরে পায় স্পেন।। ৫৬তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে ইসকোর পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করে স্পেনকে সমতায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার দানি সেরেরোস (১-১)। ৬৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে লুকা মড্রিচের বাড়ানো ক্রসে ডিফেন্ডার জেদভাই হেডে বল জালে পাঠালে ফের এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া (২-১)। জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার প্রথম গোল। ৭৮তম মিনিটে অধিনায়ক সার্জিও রামোস পেনাল্টি থেকে গোল করে ফের সমতায় ফেরায় স্পেনকে। ডি-বক্সে ডিফেন্ডার শিমে ভারসালকোর হাতে বল লাগার কারণে পেনাল্টিটি পেয়েছিল স্প্যানিশরা। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে ফরাফল নির্ধারনি গোল। বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার ইয়োসিপ ব্রেকালোর শট দারুণ নৈপুণ্যে ডি গিয়া রুখে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে কোনাকুনি শটে জালে পাঠান জেদভাই। এর ফলে চার ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনো গ্র“পের শীর্ষে আছে স্পেন। অপরদিকে তিনটি করে ম্যাচ খেলা ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে সমান অবস্থানে রয়েছে।

ফিরতি যাত্রায় স্বপ্ন পূরণ শানুর

বিনোদন বাজার ॥ মিডিয়ায় কাজ করার এক যুগেরও বেশি সময় পার করছেন শানারেই দেবী শানু। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার সঙ্গে সংযুক্ত তিনি। নাচ, গান, বিতর্ক কিংবা অভিনয়- সব জায়গাতেই ছিল তার বিচরণ। অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে লেখালেখির চর্চা। আবৃত্তিও করেন বেশ। ২০০৫ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিনয় শুরু করেন শানু। এরপর বিজ্ঞাপন ও নাটকে ছিল তার সরব বিচরণ। ‘ছিল’ এ কারণেই যে, নিজের কাজের ব্যস্ততা যখন ‘দম ফেলার ফুসরত নেই’ অবস্থা ঠিক তখন হঠাৎ করেই কাজের পরিমাণ কমিয়ে দেন। সেই কমিয়ে দেয়া থেকে একেবারে না-ই হয়ে যান। অবশেষে গেল বছর থেকে আবারও নিয়মিত কাজ শুরু করেন এ অভিনেত্রী। ফিরতি যাত্রাটাও হয়েছে বেশ। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার ফিরতি যাত্রার মধ্য দিয়ে। প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন ছবিতে। নাম ‘মিস্টার বাংলাদেশ’। এটি নির্মাণ করেছেন আবু আকতারুল ইমান। এ ছবির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ছবির গল্পে শানুকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। ১৬ নভেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। এ ছবি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত শানু। নিজের অভিনীত প্রথম ছবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মিস্টার বাংলাদেশে আমার প্রথম ছবি তাই এটি মুক্তির অধীর আগ্রহে আছি। নিজেকে বড় পর্দায় দেখার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এগিয়ে আসছে। সত্যি বলতে কী প্রথম যে কোনো কিছুর প্রতি মানুষের ভালোলাগা, ভালোবাসা থাকে একটু অন্যরকম। যেমন প্রথম প্রেম, প্রথম সন্তান এসব ক্ষেত্রে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের মতো থাকে না। প্রথম কবিতার বই নীল ফড়িংয়ের কাব্য প্রকাশের আগেও আমার এমন অনুভূতি হয়েছিল। তাই প্রথম ছবি মিস্টার বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমার সেই ভালোলাগা, ভালোবাসা কাজ করছে। খুব চমৎকার একটি ছবি হয়েছে। দর্শকের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা হলে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করবেন।’ এই যে স্বপ্ন পূরণের সোপান সেটা কিন্তু একদিনেই তৈরি হয়নি। সেই গল্প জানতে চাইলে শানারেই দেবী শানুর চোখ দুটি কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলতে শুরু করেন সে গল্প। তার ভাষ্যে, ‘আমার স্বপ্নের প্রথম ধাপটি ছিল লাক্স-আনন্দধারা মিস ফটোজেনিকে অংশগ্রহণ। ওই প্রতিযোগিতায় সেরা দশের একজন হই। এ অর্জনটা একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত ছিল। এরপর আমার স্বপ্নগুলো আরও উৎসাহিত হয়ে মূলধারার মিডিয়ায় পাখা মেলতে শুরু করেছিল। কিন্তু বাবা কিছুটা বাদ সাধলেন। বললেন, উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হোক, তুমি আরও বড় হও, তারপর তোমার স্বপ্নপূরণ। অবশেষে বাবার বাধ্যগত হলাম, আমার শহর সিলেটেই থেকে গেলাম। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিল্পী হলাম। মঞ্চেও কিছু ভালো কাজ করছিলাম। ২০০৪ সালে এলো একটি দারুণ সুযোগ। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত শাকুর মজিদের ‘বৈরাতী’তে অভিনয় করলাম। এরপর ২০০৫ সাল। আমার স্বপ্ন পূরণের আরেকটি বছর। চ্যানেল আই সুপারস্টার আমাকে আমার স্বপ্নের পথে চলার দ্বার উন্মুক্ত করে দিল। এরপর তো আমার স্বপ্নগুলো পাখা মেলে মূলধারার মিডিয়ায় চলে এসেছে। সেরা সুন্দরী হওয়ার পর থেকে গুণী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। এখনও করছি। আরও অনেক ভালো কাজ করে যেতে চাই।’ এদিক শানু অভিনীত ‘সাত ভাই চম্পা’ ধারাবাহিকটি চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে। বিটিভিতে প্রচারের জন্য জুয়েল শরীফের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক ধারাবাহিক নাটক ‘আলীর অষ্টখ-’সহ সাগর জাহানের নতুন ধারাবাহিক ‘সোনার খাঁচা’র কাজও করছেন এ অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী নওশাবার প্রতিবেদন দাখিল ১৫ জানুয়ারি

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে এসে গুজব সৃষ্টির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। বুধবার এ মামলা সংক্রান্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনও প্রতিবেদন আদালতে দেয়নি। সেজন্য ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস মামলার পরবর্তী ওই তারিখ ধার্য করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। গত ৪ আগস্ট রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য যুবকদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় ফেসবুকে লাইভে এসে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং একজনের চোখ তুলে ফেলার খবর দিয়েছিলেন নওশাবা; অথচ তখন তিনি ছিলেন উত্তরায় শুটিংয়ে। পরে আরেকটি ভিডিওতে নওশাবা দাবি করেছেন তিনি ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। এর জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন। ওই সময় জিগাতলায় এ ধরনের কোনও ঘটনাও ঘটেনি। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ সালের ৫৭(২) ধারায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।

রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন লায়ন এ্যাড: আ: রাজ্জাক খান

কালুখালী প্রতিনিধি \ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ আসন (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক লায়ন এ্যাড: আব্দুর রাজ্জাক খান। তিনি গতকাল বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এসময় বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান জিরু, শাহাদত হোসেন সাইফুল, এ্যাড: মোজাম্মেল হক ছাত্রদল নেতা আজমির হোসেন, জাবিউল­াহ খান জাবের, শরিফুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে লায়ন এ্যাড: আব্দুর রাজ্জাক খানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনেক দিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করে আসছি এবং কেন্দ্র ঘোষিত সকল কার্যক্রম নিষ্ঠার সাথে পালন করেছি। সে কারণে তৃণম‚ল নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন দল থেকে মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হতে পারবো বলে আশা রাখি।

জামিন পেলেন আলোকচিত্রী শহিদুল

ঢাকা অফিস \ নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে এক মাস আগে অন্য একটি বেঞ্চের দেওয়া রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন ও জ্যেতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জামিন পাওয়ায় শহিদুল আলমের মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না। হাই কোর্ট থেকে আজ বলা হল, যেহেতু উনাকে অনেকদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে, ১০২ দিন হয়ে গেছে এবং রিমান্ডে নেওয়ার পরও কোথাও তিনি কখনও স্বীকার করেননি যে এরকম কোনো বক্তব্য তিনি দিয়েছেন; আজ উনাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে। এই আইনজীবী বলেন, শহিদুলের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে আর পুলিশ প্রমাণ হিসেবে যা দিয়েছে, সেগুলোর ‘মিল নেই’। যেহেতু তিনি এই উপমহাদেশে এমনকি সারা বিশ্বের একজন নামকরা আলোকচিত্রী, এই বিষয়টাও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। এই মুহূর্তে উনার মুক্তি পেতে বাধা নাই। সরকার যদি আবারও বিরোধিতা করে সেটা পরে দেখা যাবে।” জামিন আদেশের পর শহীদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি খুবই খুশি। বাংলাদেশের বিচারালয়ের ওপর আস্থা ফিরে পেয়েছি। এটা (জামিন) হওয়ারই কথা ছিল।” অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ বলেন, এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিলে যাবেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৩ ও ৪ অগাস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে এসেছিলেন অধিকারকর্মী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন। এরপর ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা করে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠায়। ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করলে ৩ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে গত ৭ অক্টোবর হাই কোর্ট শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের ওপর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও গত ১ নভেম্বর মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।এরপর সহিদুল আলমের আইনজীবীরা বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পেলেন।

হেলমেটধারীরা ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার’ ঃ রিজভী

ঢাকা অফিস \ নয়া পল্টনে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতরা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। আবারও একতরফা নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘বিরোধী দল শূন্য’ করতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর এবং পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগকারীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন হেলমেট পরিহিত। এই হেলমেটধারীরা ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার’ দাবি কওে গতকাল বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে। যারা আগুন দিয়েছে তারা পুলিশের প্রটেকশনে এই নাশকতার কাজ করেছে, এরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের মহানগরের নেতা, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে ম্যাচের কাঠি নিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছে যে ছেলে, সে গুলশান থানা ছাত্রলীগের নেতা। নাম তার অপু। রিজভী তার এই পরিচয় দিলেও পুলিশ বলছে, ওই যুবক বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের পল্টন এলাকার আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহজালাল খন্দকার কবীর। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও এক ফেইসবুক পোস্টে অগ্নিসংযোগকারীকে ছাত্রদল নেতা ‘অপু’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ফেইসবুক পোস্টে তাকে গুলশান থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু বলে প্রচার করার প্রেক্ষাপটে তাদের দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, তাদের  গুলশান থানা কমিটির ওই নেতার নাম মাহবুবুর রহমান মিথুন। দুজনের ছবিও দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে, যাতে তাদের চেহারা ভিন্ন বলে প্রতীয়মাণ হয়। ওই ছাত্রদল নেতাকে ধরতে অভিযান চলছে জানিয়ে পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস বলেন, নাশকতায় জড়িত অন্তত ১০জনের পরিচয় সম্পর্কে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়াও থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। ঘটনার সময় এবং পরে প্রায় ৬৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মিশু বিশ্বাস বলেন, “এরা প্রত্যেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।” এই ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় মীর্জা অব্বাসসহ প্রায় পৌনে দুইশত নেতাকর্মীর নাম উলে¬খ করে মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, “পুলিশের গাড়ি, সেখান থেকে পুলিশ সরে গেল কেন? এটা তো পুলিশেরই কাজ। পুলিশের গাড়ির ওপর এই হেলমেট ধারী কে? আপনাদের মনে আছে এই হেলমেটধারী কী তান্ডব করেছিল?” ওই ঘটনার যে সব ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে স¤প্রচারিত হয়েছে তাতে দেখা যায় লাঠি উঁচিয়ে বাড়ি দিতে উদ্যত এক হামলাকারীর সামনে গাড়ি থেকে নেমে উল্টো দিকে পালিয়ে যান একজন চালক। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবিতে হেলমেট পরা এক যুবককে দেখা গেছে বিক্ষব্ধ ভঙ্গিতে, যার কথা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে। ওই যুবকের পরিচয় এখনও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস। নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর এখনও নির্বাচন কমিশন থেকে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা না আসায় উদ্বেগ জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “বিগত ১০ বছর আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হাতে প্রচুর পরিমাণ বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমাদান অত্যন্ত জরুরি হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এতেই প্রমাণিত হয়, ইসি বিশেষ দলের পক্ষেই নির্বাচনী মাঠ সমতল করতে ব্যস্ত রয়েছে।” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “কমিশন স্ববিরোধী বক্তব্য রাখছে। গতকাল তারা বলেছে যে, নয়া পল্টনে শোডাউন আচরণ বিধি লঙ্ঘন নয়। তাহলে কোন সাহসে পুলিশ বিএনপির উচ্ছ¡াসমুখর উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ওপর সহিংস আক্রমণি চালিয়েছে? এটা কার নির্দেশে এই পৈশাচিক আক্রমণ চালানো হয়েছে? “জনগণ বিশ্বাস করে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত করার নির্দেশদাতা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তিনি ইসিকে দিয়ে এই কাজটি করিয়েছেন। একতরফা নির্বাচনে জয়লাভ করতে বিরোধী দল শূন্য করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডারদের দিয়ে এই নাশকতা করা হয়েছে।” রিজভী বলেন, “প্রথমেই পুলিশ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত করে। এই গাড়িচাপায় অন্তত ২০ জনের অধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ কীভাবে জনগণের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিল, সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই।” বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন বলে ওবায়দুল কাদের যে প্রশ্ন তুলেছেন সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমরা বলতে চাই, জনগণ এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। তারপরে বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর কে হবে, তা তারাই নির্ধারণ করবেন। গণতন্ত্রের লড়াই করে করে গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ান হয়েছে, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াই এদেশের প্রধানমন্ত্রী, জনগণের প্রধানমন্ত্রীর হবেন। এটা জনগণ স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে খুলনা, কক্সবাজার, বগুড়া, বরগুনা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে ধরে তাদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গা চুরি মামলায় নারী গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা অফিস \ আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ চুরি মামলার অভিযোগে কলেজপাড়ার জাহানারা ওরফে জাহানকে গ্রেফতার করেছে। আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার মৃত গোপাল মন্ডলের ছেলে খরশেদ আলী বাদি হয়ে একই পাড়ার মৃত আলম চৌধুরীর স্ত্রী জাহানারা ওরফে জাহানের নামে চুরি মামলা করলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ আটক করে জাহানারাকে থানায় নিয়ে আসে। আজ শুক্রবার তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলা নং ১৩, তারিখঃ ১৪/১১/২০১৮ইং। মামলার এজাহারে উলে­খ করা হয়েছে আমি মোঃ খরশেদ আলী (৬৫), পিতাঃ মৃত গোপাল মন্ডল, সাং-কলেজপাড়া, আলমডাঙ্গা, জেলাঃ চুয়াডাঙ্গা এই মর্মে থানায় আসিয়া আসামী মোছাঃ জাহানারা ওরফে জাহান (৫৫), স্বামীঃ মৃত আলম চৌধুরী, সাং- কলেজপাড়া, আলমডাঙ্গা, জেলাঃ চুয়াডাঙ্গাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, উপরোক্ত আসামীর সহিত আমার পারিবারিকভাবে দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর সুসম্পর্ক এবং ইতিপূর্বে আসামী আমার বাড়িতে আড়াই বছর যাবৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করিতো। বর্তমানে সে কলেজপাড়ার সজিরুদ্দিন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করিতেছে। বতর্মানে সে উলে­খিত ব্যক্তির বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকলেও পূর্বের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় আসামী আমার বাড়িতে যাতায়াত করে। আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা তাহার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিয়া তাহার যাহায়াতের মধ্যে ইতিপূর্বে কোন সন্দেহ ছিলো না। আমার বসত ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতো এবং আমার বসত ঘরের কোথায় কি থাকতো তাহা আসামীর জানাছিল। ইতিপূর্বে আমার স্ত্রী শাহানাজ বেগম আলমারী থেকে আসামীর সামনে একাধিকবার গহনা বের করতো। গত ১০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১১ ঘটিকার সময় আসামী জাহানারা ওরফে জাহান আমার বাসায় আসিয়া সাংসারিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমার স্ত্রীর সহিত আলোচনা করতে থাকে। আলোচনার ফাঁকে আসামী আমার বসত ঘরে থাকা অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে আমার স্ত্রী আমার সাথে পশ্চিম পার্শ্বের রান্না ঘরে রান্নার কাজে যায়। দুপুর অনুমান সোয়া ১২টার দিকে আলোচনার স্থানে আসিয়া আমার স্ত্রী আসামীকে দেখতে পায় নাই ও পাশের ঘরের আলমারী ও ড্রয়ার খোলা এবং উক্ত ড্রয়ারে রক্ষিত আমার স্ত্রী, আমার পুত্রবধু ও দুই মেয়ের ব্যবহারের স্বর্ণ অলংকার ৭ ভরি ওজনের ৭টি বালা, ২টি চিকন ও ৩টি মোটা চেইন যার ওজন অনুমান ২ ভরি ১৫ আনা, গলার ২টি চিক হার ওজন অনুমান ২ ভরি আট আনা, ১টি কণ্ঠ হার যার ওজন ২ ভরি চার আনা, ২ জোড়া কানের দুল যার ওজন ১ ভরি, ৩টি আংটি যার ওজন ৩ আনা, সর্বমোট ১৫ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ যার মুল্য ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আসামী জাহানারা ওরফে জাহান অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহায়তায় ১০ নভেম্বর দুপুরে যে কোন সময়ে আসামী জাহানারা ওরফে জাহানসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা আমার বসত ঘর হইতে উলে­খিত স্বর্ণ অলংকার চুরি করে নিয়েগেছে। মামলা নং ১৩, তারিখঃ ১৪/১১/২০১৮ইং।

 

দৌলতপুর আসনে বিএনপি প্রার্থী বাচ্চু মোল­ার মনোনয়ন উত্তোলন

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল­ার পক্ষে মনোনয়ন উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৌলতপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেন বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা। দৌলতপুর নির্বাচন অফিসার মো. গোলাম আজম জানান, বিএনপি নেতা রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল­ার পক্ষে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। এরআগে সোমবার বিকেলে জাসদ (ইনু)-এর পক্ষ থেকে শরিফুল কবীর স্বপন মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেন। বুধবার মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. নাজমূল হুদা। এনিয়ে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন।