পোড়াদহের পল্লী চিকিসক আজাদ অসুস্থ্য, সুস্থ্যতা কামনা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ পুরাতন বাজারে অবস্থিত মাহফুজা ফার্মেসীর সত্বাধিকারী এলাকার জনপ্রিয় পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ হাসান (আজাদ) বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য রয়েছেন। তার সুস্থ্যতা কামনা করেছেন পোড়াদহ ড্রাগ এ্যান্ড ক্যামিষ্ট সমিতি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি খন্দকার মেহেদী হাসান সোহেল, সেক্রেটারী মীর এহতেসামুল হক বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিমসহ সমিতির সকল সদস্যবৃন্দ। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, মোহাম্মদ হাসান (আজাদ)-এর শারীরিক সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন এবং তার এই জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বাান্বিত হয়ে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি ও কুচক্রি মহল “আজাদ মারা গেছে” এ ধরনের  অপপ্রচার চালানোয় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা এই ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন। না থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মোহাম্মদ হাসান (আজাদ)  পোড়াদহের উত্তর কাটদহ বাবুপাড়া গ্রামের অপর এক জনপ্রিয় পল্লী চিকিৎসক মরহুম আব্দুস সাত্তারের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর বিভিন্ন কোর্স পাস করে বাবার শূণ্যস্থানে চিকিৎসার হাল ধরেন তিনি। এলাকায় চিকিৎসকের আসনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন আজাদ। হঠাৎ গত ২৫ এপ্রিল অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে কিছুদিন চিকিৎসা নেন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫মে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি সুস্থ্য রয়েছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে ।

আলমডাঙ্গায় আমেরিকা প্রবাসী কাদেরের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল কাদেরের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিয়াপাড়ার নিজস্ব বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, আল-ইক্রা ক্যাডেট একাডেমির অধ্যক্ষ আব্দুল হাই, ডা. সিরাজুল ইসলাম, আমিন উদ্দিন, আব্দুর রহমান, দলিলুর রহমান, শওকত আলী, নাজমুস সাকিব। ইফতার ও দোয়া মাহাফিল পরিচালনা করেন মাওলানা জুলকার আলী।

গাংনীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের করমদী গ্রাম থেকে ১০ পিচ ইয়াবাসহ মগরেব আলী নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃত মগরেব আলী করমদী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে মেহেরপুর ডিবি পুলিশের একটিদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মগরেব আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। মেহেরপুর ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে করমদী গ্রামের মগরেব আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় মগরেব আলীর বাড়ি থেকে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মগরেব আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকসহ অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।

 

মিরপুরে ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমির ইফতার মাহফিল

আছাদুর রহমান বাবু ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা অডিটরিয়ামে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম, মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল আলম সান্টু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, বাবলু রঞ্জন বিশ্বাস, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার হালদার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন করিম হিমু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, সদস্য মজিদ জোয়ার্দ্দার, ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য সচিব চিত্তরঞ্জন পন্ডিত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সদস্য হীরক জোয়ার্দ্দার, আশরাফুল আলম হীরা, আব্দুল বারী, রফিকুল ইসলাম রফিক, মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক শফিউল ইসলাম, সুলতানপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসার সাইদুর রহমান, মিরপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আহনাস হাবীব, নওপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মাহাবুল ইসলাম, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সুশান্ত কুমার বিশ্বাস, চন্দ্রা বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের জিলানী, বাদশা আলমগীর, ইশারত হোসেন রনি, সাংবাদিক জাহিদ হাসান প্রমুখ। ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

কুষ্টিয়ায় মুসলিম এইড ইউ‘কের উদ্যোগে বিনামুল্যে টিউবওয়েল বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ মুসলিম এইড ইউ কে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের অর্থায়নে মুসলিম এইড বাংলাদেশ কুষ্টিয়া সদর শাখার উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায়, দুস্থ, এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানায় সুপেয় পানির জন্য বিনামুল্যে ৩০ টি টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মুসলিম এইড বাংলাদেশ কুষ্টিয়া সদর শাখা কার্যালয়ে টিউবওয়েল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না। শাখা ব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, মুসলিম এইড সমাজের দুস্থ ও এতিমসহ পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে যে কাজ করে যাচ্ছে তা বর্তমান সরকারের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, আমাদের জন্মকাল থেকে মৃত্যুর পর পর্যন্ত পানি অপরিসীম প্রয়োজন। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সুপেয় পানি পানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এমন দেশ আছে যেখানে সুপেয় পানি অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার। তিনি সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন  থাকার আহবান জানান। উল্লেখ্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০টি দুস্থ্য পরিবারের মাঝে বিনামুল্যে ৩০টি টিউবওয়েল বিতরণ করা হয়। টিউবওয়েল স্থাপনার ব্যয় মুসলিম এইড বহন করবে বলে জানা যায়।

কালুখালীর কালিকাপুর ইউপির সতটা পানি উন্নয়ন বোর্ড বড়োপিট পূনঃখনন প্রকল্প অংশ ১.২ উদ্বোধন

ফজলুল হক ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে উপজেলার কালিকাপুর ইউপির সতটা পানি উন্নয়ন বোর্ড বড়োপিট পূনঃ খনন প্রকল্প অংশ ১.২ ্এর  শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কালুখালী মৎস্য অধিদপ্তর এর বাস্তবায়নে এ পূনঃ খনন কাজ দুপুর ২টায় শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফিরোজ আহম্মোদ তপু, প্রকল্প সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা ও মোঃ দাউদ সেখ এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী বাচ্চুসহ এলাকার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম বলেন এ প্রকল্প পূনঃ খননের মাধ্যমে  জলাশয় উন্নয়ন এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সর্বপরি মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের ঘাটতি পূরনসহ জনগনের আর্থিক সহায়তা লাঘব হবে।

এনকাউন্টারকে বিচার বহির্ভূত হত্যা বলা যায় না ঃ কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাদক কারবারিরা অস্ত্র নিয়ে মোকাবেলা করছে বলেই ‘এনকাউন্টার’ হচ্ছে এবং একে বিচার বহির্ভূত হত্যা বলা যায় না। তিনি বলেন, “এখানে এক পক্ষের হাতে অস্ত্র নেই, অস্ত্র আছে দুই পক্ষের হাতে। যাদেরকে ধরতে যাচ্ছে, তারাও কিন্তু অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করছে। তাহলে পুলিশ কি ওখানে জুঁই ফুলের গান গাইবে? তারা এটার কাউন্টার করবে না? ” গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি জরুরি সহায়তা নম্বর ‘৯৯৯’ এর লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করেন। সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালাচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, তিনি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সমর্থন করেন না, কিন্তু সেটা ভিন্ন বিষয়। মাদক যারা  ব্যবসা করে এদের একটা সিন্ডিকেট আছে, এদের সন্ত্রাসী আছে, এদের সাথে অস্ত্রধারী আছে। যখন পুলিশ তাদের ধরতে যায়, তখন অস্ত্র নিয়ে মোকাবিলা করে, এনকাউন্টার হয়। এনকাউন্টারকে তো বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এভাবে বলা যাবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গত সাড়ে নয় বছরের মেয়াদে কোনো দল তাদের রাজনৈতিক সভায় মাদকের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। একটি শব্দও আপনারা উচ্চারণ করেননি। কাজেই এই ব্যপারে কথা বলার কোনো অধিকার আপনাদের নেই। কাদের বলেন, সবাই মিলে সোচ্চার হলে মাদকের বিস্তার ‘এই ভয়ঙ্কর অবস্থায়’ আসতে পারত না। আজকে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হত না। আজকে অভিযান কেন হচ্ছে? জনস্বার্থে করা হচ্ছে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থার অবসানের জন্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষ এই অভিযানে খুশি। আর সেজন্যই বিএনপির ‘গাত্রদাহ’ শুরু হয়েছে। এটা নিয়ে বিএনপি এত চিৎকার করছে কেন? তাদেরও বহু লোক জড়িত, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। বিভিন্ন মহল থেকে আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পরও কেন সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না- সেই প্রশ্ন কাদেরের সামনে রাখেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, “প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না, একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ হলে সে যদি অপরাধী হয় অবশ্যই তার শাস্তি হবে।” কেবল বদি নয়, মাদকের সঙ্গে সরকারের আরও কোনো প্রভাবশালী যদি জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে, ড্রাগ ডিলিংয়ের সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, যত প্রভাবশালীই হোক, তাদেরকে অবশ্যই এ অভিযানের আওতায় আনতে হবে।” ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ২৩ দিনের অভিযানে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে মোট ১২১৭টি মামলা হয়েছে। মোট ৩১ লাখ ৫৪ হাজার আটশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে। তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে; আর ২৩টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে ৫২টি জব্দ করা হয়েছে।

শৈলকুপায় বিসিআইসি সারের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিসিআইসি সার ডিলারের গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। এসময় প্রতি সারের বস্তায় ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে কম পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সারের গোডাউনে হানা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট উসমান গনি। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার নিধীর কুমার সাহা ও রিটেইলার জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে সার ক্রয় করে কৃষক প্রতারিত হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় গোডাউনে থাকা ৫০ কেজির সারের বস্তা ওজন করে ৪৫ থেকে ৪৬ কেজি পাওয়া যায়। বস্তা প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত পরিমানে কম থাকার অপরাধে নিধীর কুমার সাহাকে ৪০ হাজার ও জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৩ হাজার মোট ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

কুমিল্লার এক মামলায় খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার মামলাটিতে হাই কোর্টে বিএনপি চেয়ারারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। তবে আরও অন্তত দুটি মামলায় তার জামিনের আবেদন রয়েছে উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চটিতে, সেগুলোর শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ দেবে বলে ধারণা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত খালেদা সেই মামলায় আপিল করে জামিন নিলেও বিচারাধীন কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি মিলছে না। মুক্তির পথ খুলতে তাই গত ২০ মে কুমিল্লার দুটি এবং নড়াইলের একটি মামলায় জামিনের আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। তার মধ্যে চৌদ্দগ্রামে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলার বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে শুনানি শেষ করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ। রোববার নড়াইলের মানহানির মামলা এবং কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদার জামিন আবেদন দুটি হাই কোর্টের কার্যতালিকায় উঠছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, একই সঙ্গে করা তিনটি জামিন আবেদনের একটির শুনানি শেষ হয়েছে। বাকি দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে তবেই আদালত আদেশ দেবে। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “শুনানি শেষ হওয়া আবেদনটিসহ বাকি দুটি আবেদনেও রোববার আদালত আদেশ দেবেন।” এই তিনটির পর আরও দুটি মামলায়ও জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন খালেদা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি শেষ করার পর আবার শুনানি করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ, এ কে এম দাউদুর রহমান মিনা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রানা।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে কালক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন খন্দকার মাহবুব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আজ কার্যতালিকার ৫ ও ৬ নম্বরে ছিল। সেই অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলাটি শুনানির জন্য আসলেও শুনানি শুরু করতে পারিনি। আমাদের দুর্ভাগ্য খালেদা জিয়ার কারাবরণকে দীর্ঘায়িত করার জন্য অযথা সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।” চৌদ্দগ্রামের এই মামলাটিতে খালেদাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। খালেদা জিয়া অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছিলেন, সেই কারণেই কর্মীরা বাসে হামলা করেছে. সেখানে পেট্রোলবোমা মারা হয়েছে। লোক মারা হয়েছে- এজাহারে শুধু এটুকুই বলা হয়েছে খালেদা জিয়া সম্পর্কে। খালেদা জিয়ার নাম এজাহারে ছিল না, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় বলা হয়েছে, আসামির মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হলেও আসামি যদি মহিলা হয়, অসুস্থ হয় বা অল্প বয়স্ক হয় তাহলে তাকে জামিন দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে জামিন না দেওয়ার আইনগত বিধান নেই। তাই আশা করি আমরা জামিন পাব। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারিক আদালতে আবেদনের সুরাহা হওয়ার আগে এভাবে উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যেখানে মামলার জামিনের আবেদন জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন। সেই মামলাটি সেখানে বিচারাধীন রেখে হাই কোর্ট বিভাগ থেকে আদেশ দেওয়া সঠিক হবে না।” নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, “নিম্ন আদালতে একটি জামিনের আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় হাই কোর্টে মুভ করা যাবে কি না, এটা একটা আইনগত প্রশ্ন। আগামীকাল যদি একজন ফাঁসির আসামি, হত্যা মামলার আসামি বা একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী হাই কোর্টে চলে আসেন নিম্ন আদালতে জামিন না চেয়ে, কীভাবে ঠেকাবেন? নিম্ন আদালতে একটি মামলা পেন্ডিং থাকা অবস্থায় হাই কোর্টে একই বিষয়ে আদেশ দেওয়া ঠিক হবে কি না, এটাই হল বিবেচ্য বিষয়। তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) এটা বুঝতে সমর্থ হচ্ছেন না বোধহয়।” কুমিল্লার দুটি মামলায় খালেদার আইনজীবীরা গত ২২ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শুনানির জন্য ৭ জুন তারিখ রাখেন। শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করা হলে ১৪ মে তা খারিজ করেন বিচারক। এর মধ্যে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। অবরোধের মধ্যে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্র“য়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হন। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলাটি করেন। কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে। অবরোধের মধ্যে ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিনই চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। নড়াইলের আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয় শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার অভিযোগে। নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ মামলা দায়ের করেন।

ভেড়ামারায় এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ডের সেমিনার ও ইফতার মাহফিল

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড  কোম্পানীর সু-স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভেড়ামারা কাচারীপাড়া এলাকায় তাদের অফিসের হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড কোম্পানীর ভেড়ামারা ইউনিটের সেলস্ অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন বানাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার (এ.ও) মোঃ ইদ্রিস আলী জয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার (এ.ও) মোঃ জাকির হোসেন টিটু, মোঃ সাইফুল ইসলাম (এস.ও.এ.ও)। উক্ত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীর (জি.এম. ট্রেইনার এ.ও) মোঃ সোহাগুর রহমান (পাপ্পু)। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন,  কোম্পানীর কামিং (এস.ও) এইচ.এম.কমল। এছাড়াও অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা ইউনিটের অফিস ইনচার্জ দীপঙ্কর দেবনাথ দিপু, সোহেল আহম্মেদ, নয়ন আহম্মেদ, তপু, সজিব, লাবিব, ডাঃ সুমন, ডাঃ সাইদ, জিয়াউর হক জিয়া। সেমিনার শেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

ভেড়ামারায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় যুবলীগ নেতা মসফেরের বাড়িতে পুলিশী অভিযানের সংবাদ পাওয়া গেছে।  সে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় মসফেরের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি ঘটে এবং পুলিশ তার বাড়ি তল্লাশি চালায়। সূত্র জানিয়েছে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ঘটনার সময় মসফের বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনার বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা যুবলীগের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তল্লাশির বিষয়টি অবহিত আছেন বলে জানিয়ে বলেন, মসফের এর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিচয় আছে। বিষয়টিকে আকস্মিক ও অনাকাঙ্খিত বলে অভিহিত করেন মানিক মিয়া। এদিকে  ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মসফেরের বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার ঘটনা সত্য। তবে তল্লাশিকালে অবৈধ কোন কিছু পাওয়া যায়নি। অফিসার ইনচার্জ আরও জানান, ঐদিন মসফের কর্তৃক উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারের দৃষ্টি সীমার মধ্যে অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হওয়া ও বর্তমান প্রেক্ষাপটের নিরিখে  জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশে এই তল্লাশি চালানো হয়।

কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া বাজারে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত বাজারে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না তাসনিম। তিনি জানান, “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত বাজারে অভিযান চালিয়ে মুদি দোকানদার সুলতানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক  সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলকে উক্ত আইনটি মেনে চলার জন্য আহবান জানান।

মিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-৩

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা দৌলতপুরের তালবাড়ীয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তামাক ঘর তৈরীর পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন:  দৌলতপুর উপজেলাধীন তালবাড়ীয়া গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে সামাদুল (৩৫), রহিদুল্লার ছেলে রাশাদুল (৩০) ও সাবদার মন্ডলের ছেলে রহিদুল্লাহ (৫০)। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের শফি ও রাশাদুল যৌথভাবে তামাক ঘর তৈরী করে। তামাক ঘর তৈরী বাবদ শফি রাশাদুলের কাছে ৬শ’ টাকা পাওনা আছে বলে দাবী করে। কিন্তু রাশাদুল বলে ৬শ’ টাকা নয় আমার কাছে ৫শ’ টাকা পাওনা আছে। এসময় শফি বলে ৬শ’ টাকায় আমাকে দিতে হবে। এরই একপর্যায়ে ওইদিন বিকেলে শফি ও রাহাদুলের মধ্যে টাকা পাওনাকে কেন্দ্র মারামারি শুরু হয়। পরবর্তীতে রমজান মন্ডলের ছেলে শফি (৪৫), রমজান (৬০), শফির স্ত্রী মিনু (৩৫), রমজানের স্ত্রী জরিনা (৫০) সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন দেশীয় তৈরী অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সামাদুল, রাশাদুল ও রহিদুল্লাহকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। পরে আহতদের শোর চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এঘটনায় এলাকাতে থমথমে অবস্থায় বিরাজ করছে। আহতের পরিবার ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক দোষীদের শাস্তি প্রদান করতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

ঝিনাইদহে কৃষকের দুই বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সুরাট গ্রামের এক কৃষকের দুই বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। বুধবার বিকালে ওই গ্রামের চান্দোর বিলে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সুরাট গ্রামের আব্দুর রশিদ জোয়ার্দ্দারের ছেলে রনি জোয়ার্দ্দার জানান, কয়েকদিন আগে তার ২ বিঘা জমির ধান কেটে বিলের মধ্যে গাদা করে রেখে দেন। আবহাওয়া ও শ্রমিক না পাওয়ায় তিনি মাঠ থেকে ধান আনতে পারেন নি। বুধবার বিকালে কে বা কারা তার অর্ধেক মাড়ায় করা ধানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার দুই বিঘা জমির প্রায় ৫০ মন ধান পুড়ে যায়। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আমার যে ক্ষতি হয়েছে এমন ক্ষতি যেন কারো না হয়। মানুষের সাথে শক্রতা করুক। কিন্তু ফসলের সাথে এমন শক্রতা যেন কেউ না করে। এ ঘটনায় তদন্ত করে দোষিদের শাস্তির দাবী করেন তিনি। এ বিষয়ে নাড়িকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বদিউর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দেখে মনে হলো ধানের পরিমান খুবই কম। এ ঘটনায়ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক অভিযোগ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঝিনাইদহে ধর্ষন চেষ্টার দায়ে সেবায়েত সহযোগি গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ শহরের মহিষাকুন্ডু শ্বশানে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছে শ্রী সাধন রায় (৬৫) নামে এক সেবায়েত সহযোগী। গনপিটুনীর পর তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শ্রী সাধন রায় ঝিনাইদহ শহরের মেছুয়া বাজার পাড়ার বিস্টু পদ রায়ের ছেলে। এলাকাবাসি মহিষাকুন্ডু গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও রহমত মাতুব্বর অভিযোগ করেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেবায়েত সহযোগী সাধন রায় বিস্কুট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপর একটি হিন্দু পরিবারের ১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় গ্রামবাসি ধরে গনপিটুনি দিয়ে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির মা রিনা সরকার জানান, তার মেয়েকে ধর্ষন চেষ্টা নয়, ধর্ষন করেছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই। তিন আরো বলেন এর আগেও ওই সেবায়েত সহযোগী আমার মেয়েকে ৬/৭ বার ধর্ষন করেছে। আজ সে কথা মেয়ে আমাকে বলেছে। মহিষাকন্ডু শ্বশান কমিটির সভাপতি গৌয়ুর গোপাল কর্মকার জানান রাতে ঘটনা জেনে তারা কয়েকজন ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি মেয়ের মায়ের কাছে জানতে পারেন এবং পরে গণপিটুনিতে আহত মন্দিরের কার্য সহকারী শ্রী সাধন রায়কে চিকিৎসার জন্য পুলিশ ডেকে তাদের গাড়ীতে তুলে দেন। রাতে মেয়ের মা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন বলে তিনি জানান। সাধারন সম্পাদক অশোক দে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনার পর আমাদের লজ্জায় মাথা হেট হয়ে গেছে। তিনি বলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ যে এমন কাজ করতে পারে প্রথমে তা আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। বিভিন্ন লোকের মোবাইল রিসিভ করতে করতে আর জবাব দিতে দিতে হাফিয়ে উঠেছি। তিনি সেবায়েত সহযোগী সাধন রায়ের শাস্তির দাবী জানান। ঝিনাইদহ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মী বাবলু কুন্ডু জানান, মেয়েটিকে আইনী সহায়তা দিতে আমরা কাজ শুর করেছি। প্রথমে আমরা মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, ধর্ষন চেষ্টার দায়ে সাধন রায় গ্রেফতার করে চিকিৎসা শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক ভাবে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে ডাক্তারী পরীক্ষার পর প্রমানিত হলে ধর্ষণ মামলা হিসাবে গন্য করা হবে। তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আরো তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলে একজন এসআইকে পাঠানো হয়েছে। এদিকে একটি মহল এই ধর্ষন ঘটনা চাপা দিতে গভীর রাত পর্যন্ত দেন দরবার চালিয়েছে। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষনের এই ঘটনাটি প্রচার হয়ে তাদের সেই মিশন ব্যর্থ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ৩৪ পুলিশ-বিজিবি সদস্য

কুষ্টিয়া মাদকের অভয়ারণ্য ঃ পর্ব-১

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ১৫৭ চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ী পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়দাতা ২৬ জন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুষ্টিয়ায় মাদকের অভয়ারন্যে পরিণত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের জায়গাগুলোতে ফেন্সিডিলের খালি বোতল পুকুরে ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফেন্সিডিল, গাজা, ইয়াবা প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে। তারপরও থেমে নেই মরননাশক এই মাদকের সরবরাহ।  জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী থেকে খোকসা উপজেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। এমনকি এজেলা মাদকের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় পাচারও হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। বিশেষ করে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেন মাদক প্রতিরোধে। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগও কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সারাদেশে অন্ততঃ ৫০ জন নিহত হয়েছে। যারা বিভিন্ন সময়ে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায়ও জোরালো অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে হামিদুল, ফটিক ও লিটন নামে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবক। প্রতিদিনই চলছে সাঁড়াসি অভিযান।

কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় ১৫৭ জন মাদক চোরাকারবারী ও সরবরাহকারী হিসাবে রয়েছে। এদের পৃষ্ঠপোষক বা আশ্রয় প্রশয়কারী হিসাবে রয়েছেন ২৬ জন। এদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তাকারীর নামের তালিকায় ৩১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং ৩ জন বিজিবি কর্মকর্তার নাম রয়েছে। স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দৈনিক আন্দোলনের বাজারের হাতে এই প্রতিবেদন পৌঁছেছে। তালিকায় জেলার বেশ কিছু বড় বড় রাঘববোয়লাদের নাম রয়েছে যারা মাদকের সাথে সরাসরি জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যের সহযোগিতায় জেলায় মাদকের বিস্তার ঘটছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উলে¬খ করা হয়েছে, তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অবৈধ মাদক পাচার ও সরবরাহকারীদেরকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা নেহায়াত অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্খিত। এ অবস্থা চলতে থাকলে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব বাড়বে অন্যদিকে জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর জনগণের আস্থা কমবে। যা সরকারের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে।

প্রতিবেদন বলা হয়, যেহেতু দৌলতপুর উপজেলা অনেক বড় একটি উপজেলা। এ উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার অংশ ভারতীয় সীমান্তে পড়েছে। সেহেতু এই রুট দিয়ে মাদক সবেচেয়ে বেশি পাচার হয়ে কুষ্টিয়ায় আসে। এই উপজেলার চিলমারী, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঠোটারপাড়া, ধর্মদহ, চরচিলমারী, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর  এলাকা দিয়ে বেশি মাদক ভারত থেকে আসে। এসব অঞ্চলের অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম তালিকায় আছে। এসব ব্যবসায়ী এলাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন মানুষ ও পুলিশ বিজিবিকে ম্যানেজ করে ফেন্সিডিল ও গাজা নিয়ে আসে। সম্প্রতি সময়ে ইয়াবাও ভারত থেকে আসছে বলে জানা গেছে। জামালপুর, প্রাগপুর, চিলমারী এলাকায় বিজিবি সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এজন্য ওই এলাকার তিনজন বিজিবি কর্মকর্তার নাম তালিকায় রয়েছে।

এছাড়া মাদক যখন জেলার ভেতরে চলে আসে তখন বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প ও থানার এসআইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা করে থাকে। এমন ৩১ জন এসআই ও এএসআই এবং কন্সটেবলের নাম রয়েছে তালিকায়।

এছাড়া জেলার মধ্যে খলিশাকুন্ডি এলাকায় ১০টি স্পটে ১৫ জনের অধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের ছেউড়িয়া, মন্ডলপাড়া ও রাজারহাট এলাকায় ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষক এবং আশ্রয় প্রশ্রয়কারীদের নাম রয়েছে।

জেলার সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, মাদককে ধ্বংস করতে হলে আগে এদের সহায়তাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের ধরতে হবে। বরাবরই তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের আটকাতে পারলে মাদক বিস্তার হবে না।

কবি নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে ঃ রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে কবি নজরুলের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে চিরকাল জাগরিত রাখবে।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা সাহিত্য-সংগীতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর লেখায় অন্যায়, অসত্য, নির্যাতন, পরাধীনতার গ্লানি ও শৃঙ্খল মোচনের দীপ্ত উচ্চারণ যুগ যুগ ধরে মানুষকে সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনীতে প্রকাশ পেয়েছে, পরাধীনতা, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি গেয়েছেন মানবতার জয়গান। পাশাপাশি তাঁর রচিত গজল, রাগ-রাগিণী আজও মানব হৃদয়কে দোলা দেয়। নজরুল কেবল সংগ্রাম ও সাম্যের কবি নয়, তারুণ্য ও যৌবনের কবি, জাতীয় জাগরণের কবি। আবদুল হামিদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ ও ভালোবাসার বহির্প্রকাশ হিসেবে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে এনে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।