ব্রাজিলকে হারিয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপের শেষ আটে ফ্রান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ব্রাজিলকে হারিয়ে মেয়েদের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সে হওয়া এ প্রতিযোগিতায় রোববার শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে ফ্রান্স একবার বল জালে জড়ালেও ভিএআর দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। ৫২তম মিনিটে ভালেরি গোভাঁর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৬৩তম মিনিটে তাইজার গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে মিডফিল্ডার আমোদিন অরির গোলে ফের এগিয়ে যায় ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। ফ্রান্স কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মধ্যে ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে। রোববার অন্য ম্যাচে ক্যামেরুনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। সেরা চারে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার দলটি মুখোমুখি হবে নরওয়ের।

 

কাতারকে হারিয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের ভুলে ম্যাচের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লাউতারো মার্তিনেস। শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন সের্হিও আগুয়েরো। কাতারকে হারিয়ে গ্র“প রানার্সআপ হিসেবে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নরা। পোর্তো আলেগ্রেতে রোববার স্থানীয় সময় বিকালে ‘বি’ গ্র“পের শেষ রাউন্ডে ২-০ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। কলম্বিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয় রাউন্ডে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল। প্রথম দুই ম্যাচে হতশ্রী ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনার এ দিনের পারফরম্যান্স ছিল তুলনামূলক ভালো। অনেক সুযোগ তৈরি করে দলটি। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় অবশ্য এর অধিকাংশই বিফলে যায়। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে লিওনেল মেসি উড়িয়ে মারার খানিক পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন মার্তিনেস। পরের মিনিটেই প্রতিপক্ষের হাস্যকর ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নিজেদের ডি-বক্সে থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কাতারের এক ডিফেন্ডার বল তুলে দেন মার্তিনেসের পায়ে। নিচু শটে জাল খুঁজে নিতে কোনো ভুল করেননি ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড। ২২তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে সমর্থকদের হতাশ করেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড সের্হিও আগুয়েরো। ৩৯তম মিনিটে মুহূর্তের ব্যবধানে আরও দুবার সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনার হতাশা বাড়ান মার্তিনেস। গোলরক্ষক বরাবর হেড করার কয়েক সেকেন্ড পর ছোট ডি-বক্সের মুখে বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে কয়েকবার ভীতি ছড়ানো কাতার বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফিরতে পারত। তবে ডিফেন্ডার বাসামের ফ্রি-কিক পোস্টে লাগলে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। ৬০তম মিনিটে আবারও সুযোগ নষ্টের হতাশা যোগ হয় আর্জেন্টিনা শিবিরে। মেসির পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে আগুয়েরোর নেওয়া শট একজনের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। ৭২তম মিনিটে অধিনায়ক মেসি নিজেই পেনাল্টি স্পটের কাছে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন। ৮২তম মিনিটে আর ব্যর্থ হননি আগুয়েরো। দিবালার পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাশিয়া বিশ্বকাপের পর এই টুর্নামেন্ট দিয়েই জাতীয় দলে ফেরা এই স্ট্রাইকার। তিন ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া আর্জেন্টিনা সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রিও দে জেনেইরোতে বাংলাদেশ সময় আগামী শুক্রবার রাত ১টায় গ্র“প ‘এ’ রানার্সআপ ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে। সালভাদরে ‘বি’ গ্র“পের আরেক ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আগেই গ্র“প সেরা হওয়া নিশ্চিত করা কলম্বিয়া। তিনটি ম্যাচই জিতে ৯ পয়েন্ট কলম্বিয়ার। ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে প্যারাগুয়ে। আমন্ত্রিত দল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের পয়েন্ট ১।

অস্ট্রেলিয়ানদের স্মিথ ও ওয়ার্নারকে দুয়ো না দিতে বলাটা অদ্ভুত – বেয়ারস্টো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপে স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে দুয়ো না দিতে সমর্থকদের প্রতি অস্ট্রেলিয়ানদের অনুরোধ কিছুটা অদ্ভুত লাগছে ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোর কাছে। অতীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সাবেক কোচ ড্যারেন লেম্যান ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে দুয়ো দিতে নিজেদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বল টেম্পারিং কান্ডে এক বছর নিষিদ্ধ থাকা ওয়ার্নার ও স্মিথ। টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকবার দর্শকদের বিরূপ আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানকে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বিরাট কোহলি স্মিথকে দুয়ো না দিতে নিজেদের সমর্থকদের অনুরোধ করেছিলেন। টেলিগ্রাফে লেখা এক কলামে এ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন বেয়ারস্টো। “আমি পড়েছি যে স্টিভ স্মিথ ও ওয়ার্নারকে দুয়ো না দিতে অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও বিরাট কোহলি সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছে। তা কোনো পার্থক্য তৈরি করবে কিনা আমি নিশ্চিত নই।” “সমর্থকরা যেভাবে চায় সেভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখাবে, বিশেষ করে অ্যাশেজে (১ অগাস্ট শুরু হবে)। তাদেরকে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে দুয়ো না দিতে অনুরোধ করাটা কিছুটা অর্থহীন।” আইপিএলে ওয়ার্নারের সঙ্গে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বেয়ারস্টোর। তবে তাকে দুয়ো না দিতে বলাটা ভন্ডামি হবে বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময়ে বেলা সাড়ে তিনটায়  লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। “খুব বেশি দিন আগে নয় যখন সে সময়ের অস্ট্রেলিয়ার কোচ ড্যারেন লেম্যান অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের স্টুয়ার্ট ব্রডকে কাঁদাতে কাঁদাতে বাড়িতে পাঠাতে বলেছিলেন।” “আমি নিশ্চিত, ওই কথাটা কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ছিল না। কিন্তু আবার অস্ট্রেলিয়ানদের ‘কাউকে দুয়ো দিও না’ বলাটা কিছুটা মজার। বিষয়টা দুভাবেই কাজ করবে, এটা শুধু একভাবে হতে পারে না।” “আমি এটাকে ঠিক বা ভুল বলছি না। কিন্তু ‘আমরা এটা আপনার সঙ্গে করতে পারি, কিন্তু আপনি এটা আমাদের সঙ্গে করতে পারেন না’ এমন মানসিকতা থাকাটা একটু অদ্ভুত।” ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডে হওয়া অ্যাশেজে স্লিপে ক্যাচ দেওয়ার পর মাঠ ছাড়তে না চাওয়া ব্রডের বিপক্ষে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন লেম্যান। অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের ফিরতি অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংলিশ পেসারকে কঠিন সময় উপহার দিতে আহবান জানিয়েছিলেন সে সময়ের কোচ লেম্যান।

বিশ্বকাপে হাজার রানে বাংলাদেশের প্রথম সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে ১ হাজার রানের মাইলফলকস্পর্শ করলেন সাকিব আল হাসান। সাইথ্যাম্পটনে গতকাল সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে হাজার থেকে ৩৫ রান দূরে ছিলেন সাকিব। ম্যাচের ২১তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছুঁয়ে ফেলেন হাজারের উচ্চতা। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে ৮০০ রানও ছিল না আর কারও। ৭৫৪ রান নিয়ে এই ম্যাচ শুরু করা মুশফিক আছেন তালিকার দুইয়ে। এবারের আগে বিশ্বকাপ রেকর্ড খুব উজ্জ্বল ছিল না সাকিবের। তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে ২১ ম্যাচে মোট রান ছিল ৫৪০। গড় ছিল কেবল ৩০। এবার এক আসরেই আগের তিন আসরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। এই ম্যাচের আগেই দুটি করে চার ও ছক্কায় করে ফেলেছেন ৪২৫ রান। হাজার রানের পাশাপাশি এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে ২৮টি উইকেটও আছে সাকিবের। বিশ্বকাপে হাজার রান ও ২৫ উইকেটের ডাবল আছে কেবল আর একজনেরই। বিশ্বকাপে ৩৮ ম্যাচ খেলে ১ হাজার ১৬৫ রান করার পাশাপাশি ২৫টি উইকেট নিয়েছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। সাকিবের হাজার ছুঁতে লাগল ২৭ ম্যাচ। এই ইনিংসের পথে ডেভিড ওয়ার্নারের ৪৪৭ রান ছাড়িয়ে আবারও এই বিশ্বকাপে রান স্কোরারদের তালিকায় সবার ওপরে উঠে গেছেন সাকিব।

ভালো ও বেশি ফল পেতে দরকার স্বাস্থ্যবান ভালো জাতের চারা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এখন ফলগাছ লাগানোর সময়। ভালো ও বেশি ফল পেতে হলে প্রথমেই দরকার স্বাস্থ্যবান ভালো জাতের চারা। তারপর চাই সেগুলো সঠিকভাবে লাগানো। যেনতেনভাবে ফলের চারা-কলম লাগালে সেসব গাছ থেকে কখনো খুব ভালো ফল আশা করা যায় না। মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কাংক্ষিত জাতের চারা বা কলম সংগ্রহ করতে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিডরের আঘাতে অনেক ফলের গাছ সহজে উপড়ে গেছে। এ সবই অনভিজ্ঞতার ফল। শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় বেশির ভাগ নার্সারিতেই এখন মানসম্পন্ন চারাকলম তৈরি হচ্ছে না,  তৈরি হলেও সেসব কলমের খাসি করা ঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে অল্প শিকড় নিয়ে গাছ বড় হওয়ায় সহজে ঝড়-বাতাসে গাছ পড়ে যাচ্ছে। ফলগাছ রোপণের সময়  যেসব কাজ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ গাছের বৃদ্ধি। গর্ত খনন থেকে শুরু করে চারাকলম রোপণ পর্যন্ত সকল কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম ঠিকমতো মানা না হলে গাছের বৃদ্ধিই শুধু নয়, ফলনের ওপরও প্রভাব পড়ে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেয়ার দরকার আছে।

গর্ত তৈরি ঃ

আমগাছের কলম লাগানোর জন্য যত বড় গর্ত করতে হবে পেয়ারার জন্য তা নয়, কাগজী লেবুর জন্য গর্ত হবে তার চেয়েও ছোট। বড় গাছ যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, ডেওয়া ইত্যাদির জন্যও গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৯০ সেন্টিমিটার। মাঝারি গাছ যেমন- পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কমলা, তৈকর, জামরুল ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৭৫ সেন্টিমিটার। ছোট গাছ যেমন- কাগজী লেবু, করমচা, লুকলুকি, কলা, পেঁপে ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৪৫  সেন্টিমিটার। ওপরের মাপে গর্ত খননের সময় ওপরের মাটি গর্তের এক পাশে এবং নিচের মাটি গর্তের আরেক পাশে রেখে প্রথমে জৈব সার মেশাতে হবে। এভাবে  রেখে দেয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর গাছ রোপণের ৩ থেকে ৪ দিন আগে রাসায়নিক সার মেশাতে হবে। এ সময়ে মাঝে মাঝে এই সার মিশ্রিত মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে।

রোপণের সময় ঃ বর্ষার আগে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) বা বর্ষার শুরুতে (আষাঢ়) এবং বর্ষার  শেষে (ভাদ্র-আশ্বিন) ফলগাছের চারাকলম রোপণ করা যেতে পারে। তবে জমি সুনিষ্কাশিত ও বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির হলে বর্ষায় ও (আষাঢ়-শ্রাবণ) বৃষ্টির দিন ছাড়া রোপণ করা যায়। শীতকালে চারাকলমের নতুন শিকড় গজায় না বা শিকড়ের বৃদ্ধি আশানুরূপ হয় না বলে শীতের সময় রোপণ না করা ভালো। বিকেলবেলা চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়।

রোপণ পদ্ধতি ঃ চারাকলম লাগানোরও বেশ কিছু নিয়ম আছে যেমন- মাটির মধ্যে কতটুকু পুঁতবেন, লাগানোর সময় কোনো ডাল-পাতা ছেঁটে দেবেন কি না অথবা নার্সারি থেকে কিনে এনেই চারাটি লাগাবেন কি না ইত্যাদি। কিছু সাধারণ নিয়ম  মেনে চারাকলম লাগালে ওগুলো ভালো থাকে। যেমন-কলম করে সাথে সাথেই বাগানে রোপণ করা চলবে না। তা করলে গাছ রোপণজনিত আঘাতে মরে যেতে পারে এবং কলমের জোড়া খুলে যেতে পারে। সে জন্য কলম করার অন্তত কয়েক মাস পরে তা রোপণ করা ভালো।

রোপণ করার আগে চাষ ও মই দিয়ে বাগানের মাটি সমতল করে নেয়া উচিত।  রোপণের আগে অবশ্যই দূরত্ব ঠিক করে নকশা করে নেয়া উচিত। গ্রীষ্মেই এ কাজ করে ফেলতে হবে। রোপণের অন্তত ১৫ দিন আগে গর্ত  তৈরি করে সার মাটি ভরে রাখতে হবে। গর্ত প্রতি ৫-১০ কেজি গোবর সার, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০-২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭৫-১৫০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

রোপণের কয়েক দিন আগে চারা বা কলম সংগ্রহ করে হার্ডেনিং করতে হবে। এ জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েক দিন চারাকলম শুইয়ে রেখে পাতা ঝরাতে হবে। মাঝে মাঝে গোড়ার মাটির বলে ও গাছে হালকা পানির ছিটা দিতে হবে। এতে গাছের  রোপণোত্তর মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়। লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চারাকলমের গোড়ার মাটির বলটি ভেঙে না যায়।

মাটির টবে বা পলিব্যাগে চারাকলম থাকলে কিছুটা পানি দিয়ে মাটি সামান্য নরম করে নিতে হবে। এরপর টব মাটিতে কাত করে গড়িয়ে এবং পলিব্যাগ গড়িয়ে বা দুই হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চেপে নরম করে নিতে হয়। টব বা পলিব্যাগের চারাকলমের গোড়ায় হাত দিয়ে চেপে ধরে সম্পূর্ণ চারা বা কলমটি উল্টো করে ধরে টব বা পলিব্যাগ ওপরের দিকে টান দিলে বা টবটির কিনারা শক্ত কোনো জায়গায় ধীরে ধীরে টোকা দিলে মাটির বলটি বেরিয়ে আসে এবং সেটি গর্তে স্থাপন করতে হয়। অবশ্য পলিব্যাগের চারাকলমের ক্ষেত্রে চাকু বা ব্লেড দিয়ে পলিব্যাগের এক দিক কেটে অথবা মাটির টবটির চার দিক আস্তে আস্তে ভেঙে দিয়ে মাটির সম্পূর্ণ বলটি বের করে এনেও গর্তে বসানো যায়। গর্তে বসানোর সময় চারাকলমের গোড়া টবে বা পলিব্যাগে যে পর্যন্ত গোড়ায় মাটি ছিল বা বাইরে ছিল সে পর্যন্তই বাইরে রাখতে হয়। এর বেশি পুঁতে দেয়া বা ওপরে রাখা কোনোটাই ঠিক নয়।

রোপণের সময় অতিরিক্ত পাতা ছাঁটাই করে দিতে হয়। তবে এটি সতর্কতার সাথে করতে হয়, যেন চারাকলমের গাছটি আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। চারা কলম রোপণের পর  গোড়ার মাটি কিছুটা চেপে দিয়ে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।

চারাকলম যদি বড় হয় তবে এটিকে সোজা ও শক্ত রাখার জন্য গাছ থেকে ১০-১৫  সেন্টিমিটার দূরে একটি খুঁটি পুঁতে একটু কাত করে সুতলী দিয়ে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হয়। শক্ত করে বাঁধলে অনেক সময় চারাকলমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ঝড়ো বাতাসে উপড়ে যাওয়া থেকে চারাকলমকে এই খুঁটি রক্ষা করে।  চারাকলমের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে বেড়া বা খাঁচার ব্যবস্থা করতে হয়। নতুন কুড়ি বা পাতা না আসা পর্যন্ত গাছে উপরি সার দেয়ার প্রয়োজন নেই।  তবে এই সময়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হয়।

পেরুকে গুঁড়িয়ে গ্র“পের সেরা ব্রাজিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম দুই ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারা ব্রাজিল দল গ্র“পের শেষ রাউন্ডে মেলে ধরল নিজেদের। পেরুকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ‘এ’ গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তিতের দল। সাও পাওলোয় শনিবার স্থানীয় সময় বিকালে ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতেছে প্রতিযোগিতাটির আটবারের চ্যাম্পিয়নরা। বলিভিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরু করা ব্রাজিল গত রাউন্ডে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল। প্রথম দুই ম্যাচে সমর্থকদের দুয়ো শোনা ব্রাজিল গ্র“পের শেষ ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করে। শুরুর দিকে কাসেমিরোর গোলে তারা এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধে আরও দুই গোল করেন রবের্তো ফিরমিনো ও এভেরতন। বিরতির পর ব্যবধান বাড়ান দানি আলভেস ও উইলিয়ান। পুরো ম্যাচে একবারই ব্রাজিল গোলরক্ষককে উলে¬খযোগ্য কোনো পরীক্ষায় পড়তে হয়। বিরতির খানিক আগে ডিফেন্ডার মিগেলের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে ভালোমতোই উতরে যান আলিসন।

আগের দিন দলের খেলার উন্নতির প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য তার প্রতিফলন ছিল না। তবে এলোমেলো ফুটবলের মাঝেই দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। মার্কিনিয়োসের কর্নারে সতীর্থের হেডে গোলমুখে বল পেয়ে হেড করেন কাসেমিরো। বল পোস্টে বাধা পেলে ফিরতি হেডে গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে এটা তার প্রথম গোল। সাত মিনিট পর গোলরক্ষকের হাস্যকর ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে পেরু। বল ধরেই শট নেন পেদ্রো গালেসে, সামনেই থাকা ফিরমিনো পা বাড়িয়ে দিলে তার পায়ে বল লেগে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে গিয়ে পোস্টে লাগে। ফিরতি বল ধরে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে আক্রমণ বাড়ানো ব্রাজিল ৩২তম মিনিটে পায় তৃতীয় গোলের দেখা। বলিভিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করা ফিলিপে কৌতিনিয়োর মাঝমাঠ থেকে উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন এভেরতন। আসরে গ্রেমিওর এই ফরোয়ার্ডের গোল হলো দুটি। বলিভিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে শেষটি করেছিলেন এভেরতন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক শুরু করা ব্রাজিল ৫৩তম মিনিটে দলীয় প্রচেষ্টায় করা গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। মাঝমাঠ থেকে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আর্থার ও ফিরমিনোর সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করার ফাঁকে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন অধিনায়ক আলভেস। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এভেরতনের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে স্কোরলাইন ৫-০ করেন চেলসির মিডফিল্ডার উইলিয়ান। যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। ডি-বক্সে জেসুসকে গোলরক্ষক গালেসে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ডেরই নেওয়া শট গোলরক্ষক। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বেলো হরিজন্তে একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্র“পের রানার্সআপ হয়েছে ভেনেজুয়েলা। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে পেরু। তিন ম্যাচের সবকটিতে হারা বলিভিয়ার পয়েন্ট শূন্য।

নতুন লুকের ছবি ভাইরাল প্রশংসায় সিক্ত অমিতাভ

বিনোদন বাজার ॥  বয়স প্রায় ৭৫ ছুঁই ছুঁই। এরপরেও চরিত্রের খাতিরে নিজেকে ভেঙ্গে-গড়ে নতুন বেশে কাজ করছেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। শনিবার ‘গুলাবো সিতাবো’ সিনেমার সেট থেকে তার নতুন লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন ট্রেড অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ। আর তাতেই পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাসছে ভক্তদের প্রশংসায়। জানা যায়, সম্প্রতি সুজিত সরকারের পরিচালনায় ‘গুলাবো সিতাবো’তে কাজ করছেন অমিতাভ বচ্চন। এই ছবিতে নিজের কাজ করার কথা জানিয়ে টুইটও করেছিলেন গত মঙ্গলবার। ওই টুইটে তিনি লেখেন, ‘একটি সিনেমা শেষ, আরেকটি শুরু। এর জন্য নতুন করে ভ্রমণ, নতুন জায়গা, নতুন শহর, নতুন ক্রু, নতুন গল্প এবং নতুন সহকর্মী। লক্ষ্ণৌয়ে আজ থেকে শুরু ‘গুলাবো সিতাবো’। আর লুক, কি আর বলবো!’ নতুন ছবিতে নিজের কাজের কথা জানিয়ে টুইটের মাত্র চারদিনের মাথায় তার নতুন লুকের ছবি পোস্ট করলেন ট্রেড অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, গুলাবো সিতাবোতে অমিতাভ বচ্চনের কৌতুকপূর্ণ চেহারা। তার পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, অমিতাভের চোখে গোল ফ্রেমের চশমা, মুখ ভর্তি দাড়ি, গাঁয়ে ঢিলাঢালা পোশাক এবং মাথায় পেঁচানো কাপড়। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের লক্ষেèৗয়ে চলছে সুজিত সরকারের পরিচালনায় নতুন ছবি ‘গুলাবো সিতাবো’র শুটিং। ছবিতে অমিতাভের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে আয়ুষ্মান খুরানা। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাবে ছবিটি।

 

রণবীরকে ব্রক লেসনারের আইনি নোটিশ

বিনোদন বাজার ॥  ডায়লগ নকল করায় জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং-কে আইনজীবীর নোটিশ পাঠালেন বিখ্যাত রেসলিং তারকা ব্রক লেসনার। রবিবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে তোলা ছবি টুইট করেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ‘ইট, স্লিপ, ডোমিনেট, রিপিট’। পরবর্তীতে ছবির ক্যাপশনের সেই ডায়ালগ নিয়েই আইনি নোটিশ পাঠানো হয় রণবীর সিং-কে। জানা যায়, গত রবিবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে যান রণবীর সিং। সেখানে ভারতীয় দলের অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে তোলা ছবি পরবর্তীতে নিজের ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করেন তিনি। এ সময় ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইট, ¯ি¬প, ডোমিনেট, রিপিট। দ্যা নেম ইজ হার্দিক। হার্দিক পান্ডিয়া মা’ বয়। #আনস্টপেবল।’ এদিকে নিজেকে বিখ্যাত রেসলিং তারকা ব্রক লেসনারের আইনজীবী দাবি করে পল হেম্যান নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘ব্রক লেসনার রিং-এ আসার নামার যে ভিডিও চিত্র দেখানো হয়, সেখানে বলা হয়, ‘ইট, ¯ি¬প, কনক্যুয়ার, রিপিট’ অর্থাৎ ‘খাও, ঘুমাও, হারাও, পুনরাবৃত্তি করো’। রণবীর সিংয়ের পোস্ট করা ছবির ক্যাপশন এই লাইনের সঙ্গে প্রায় মিলে যায়। রণবীরের করা টুইটের রিপ্লাইয়ে হেম্যান জানান, এ লাইনটির কপিরাইট শুধু তার ক্লায়েন্টের। নিজেরকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আইনজীবী উল্লেখ করে আরেকটি টুইটে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে সতর্ক করিনি। বরং তাকে নোটিশ দিয়েছি। আমি ম্যানেজার নই। আমি হচ্ছি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আইনজীবী।’ উল্লেখ্য, এর আগে ধোনিকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপের অফিসিয়াল আইডি থেকে একই ডায়ালগ ব্যবহার করে টুইট করায় আপত্তি জানিয়েছিলেন পল হেম্যান। পাশাপাশি এক টুইটে এর জন্য আর্থিক সম্মানীর দাবিও জানান তিনি। তবে নোটিশের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি রণবীর সিং।

বাঁচা-মরার ম্যাচের আগে মানসিকভাবে ‘ভালো অবস্থায়’ আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দুর্বল কাতারকে হারালেই কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত মেসিদের। গ্র“পের শেষ ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে আর্জেন্টিনা তাই ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। পোর্তো আলেগ্রেতে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় ‘বি’ গ্র“পে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। একই সময় সালভাদরে গ্র“পের অন্য ম্যাচে খেলবে কলম্বিয়া-প্যারাগুয়ে। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্র“পের শীর্ষে থাকা কলম্বিয়া উঠে গেছে কোয়ার্টার-ফাইনালে। দুই ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে প্যারাগুয়ে। ১ করে পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে কাতায় তৃতীয় ও আর্জেন্টিনা চতুর্থ স্থানে আছে। তিন গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং সেরা দুই তৃতীয় হওয়া দল কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে। পেরুকে ৫-০ গোলে ব্রাজিল উড়িয়ে দেওয়ায় সমীকরণটা অনেকটা সোজা হয়েছে আর্জেন্টিনার সামনে। অন্য ম্যাচগুলোর ফল যাই হোক না কেন, কাতারকে হারালেই অন্তত সেরা দুই তৃতীয় স্থানের দলের মধ্যে থাকাটা নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার।  আর যদি কলম্বিয়ার সঙ্গে প্যারাগুয়ে জিততে না পারে তবে কাতারকে হারালে গ্র“প রানার্সআপ হবে স্কালোনির দল। কাতারকে হারিয়ে সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্য স্কালোনির। “মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। কেননা, আমাদের পরের ধাপে ওঠার সম্ভাবনা আছে। যদি জিতি, তাহলে আমরা পরের ধাপে যাব।” শুরুর একাদশে লিওনেল মেসির সঙ্গে তরুণ তারকা ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালাকে রাখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন স্কালোনি। “তারা একসঙ্গে খেলতে পারে। তারা দুজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় এবং তাদের একসঙ্গে খেলা দরকার, যেটা তারা খুব একটা করেনি, কিন্তু কিছুটা ছাড় দিয়ে তারা একসঙ্গে খেলতে পারে।” প্যারাগুয়েকে রুখে দেওয়া কাতারকে নিয়ে শিষ্যদের সতর্ক করতেও ভোলেননি আর্জেন্টিনা কোচ। “কাতারের কোচ দলটাকে ভালো ফুটবল খেলাচ্ছেন। ম্যাচের মধ্যেই তারা কৌশল বদলায়।”

 

আফগানিস্তানকে নিয়ে বেশি সতর্ক বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার পর এখন প্রতিটি ম্যাচেই অবশ্য এই গান ধরে নামতে হবে বাংলাদেশকে, ‘জিততেই হবে’। প্রাথমিক পর্বে তিনটি ম্যাচ বাকি। দুটি জিতলেও হয়তো গাণিতিক সম্ভাবনা থাকবে সেমি-ফাইনাল খেলার। তবে নির্ভর করতে হবে অনেক কিছুর ওপর। তিনটির সবকটি জিতলেও আসতে পারে সমীকরণ, তবে তখন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে অনেকটাই। এই বাস্তবতা খুব ভালোভাবে জানে বাংলাদেশ দলও। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও দারুণ লড়াইয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে দলের। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানালেন, সামনের তিন অভিযানে বাংলাদেশ এগোবে প্রতিটি লড়াই আলাদা করে ধরে। তিনি বলেন, “পরের তিনটি ম্যাচই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে একবারে তিনটি না ভেবে আমরা পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। এখান থেকে সেমি-ফাইনালের কথা এখনই চিন্তা করা কঠিন। পরের ম্যাচ জিতলে তার পর সামনেরটা ভাবা যাবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর দল আরও আত্মবিশ্বাসী যে ওই বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান তাড়া করেছি খুব ভালো। দল এখন তাই খুব ভালো অবস্থায় আছে। যে কোনো দলকে হারানোর বিশ্বাস আছে।” অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের চেয়েও অবশ্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরীক্ষাকে কম চ্যালেঞ্জ মনে করছেন না ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। প্রায় আবশ্যিক জয়ের এই তিন ম্যাচে আগে সামনে আসছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের আগের সব প্রতিপক্ষ ছিল তুলনায় আফগানদের চেয়ে শক্তিশালী। তার পরও এই ম্যাচে স্বস্তিতে নামার সুযোগ দেখছেন না মিঠুন। “প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান হোক বা অস্ট্রেলিয়া। মূল লক্ষ্য বাকি সবগুলি ম্যাচ জেতা। প্রতিটি বিভাগে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া।” “আমার মনে হয়, আরও অনেক সতর্ক থাকতে হবে (আফগানিস্তানের বিপক্ষে)। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলে আপনারাও অনেক কিছু গ্রহণ করে নেন। ওরা আমাদের থেকে ওপরের দল। আফগানিস্তানের কাছে হারলে… মানে সবাই আশা করছে আমরা জিতব। প্রতিটি ম্যাচই সমান আমাদের কাছে। তার পরও এই ম্যাচে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”

 

বিয়ে বাড়িতে ক্যাটরিনার নাচ!

বিনোদন বাজার ॥  একটি বিয়েতে লাইন ভারতের শীর্ষ ধনী আম্বানি পরিবারের ধরে হাজির হতে দেখা গিয়েছিল বলিউডের বিভিন্ন প্রজন্মের নানা তারকাদের। অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে শাহরুখ, আমির, সালমান, রণভীর কাপুররাও ছিলেন সেই তালিকায়। ছিলেন ভারতের ব্যাটিং ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারও। কেউ নেচেছেন, কেউ কমেডি করেছেন। মোট কথা ধন কুবেরের বাড়িতে তারা হাজির হয়েছিলেন বিনোদনের পসরা সাজিয়ে। এটা নতুন কিছু নয়। ভক্তদের সমালোচনার শিকার হলেও ধনকুবেরদের বাড়ির অনুষ্ঠানে বলিউড এবং হলিউডের তারকাদের পারফরম প্রায়ই দেখা যায়। তেমনই একটি হাই-প্রোফাইল বিয়ের অনুষ্ঠানে পারফরম করতে এবার দেখা গেল ক্যাটরিনা কাইফকে। তিনি ওই বিয়ে বাড়িতে নাচতে দেরাদুন উড়ে গিয়েছিলেন। শুধু ক্যাটরিনাই নন, ছিলেন আরও বেশ কয়েকজন বলিউড এবং টিভি সেলেব। তবে ভাইরাল হয়েছে ক্যাটরিনার নাচের ভিডিওটাই। বিয়ের অনুষ্ঠানেই নিজের হিট গান ‘শিলা কি জওয়ানি’র সঙ্গে স্টেজে নাচতে দেখা গেল ক্যাটরিনাকে। সেই নাচের ভিডিওটি এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেক্যুইন করা লাল পোশাক এবং হাইবুটসে আরও মোহময়ী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে তার ভক্তরা নারাজ। তারা টাকার বিনিময়ে ধনীদের বাড়িতে নর্তকি হয়ে নেচে বেড়ানোটা মেনে নিতে পারছেন না প্রিয় নায়িকার। অনেকেই কটূ মন্তব্য করে সেটাই বোঝাতে চাইলেন ক্যাটকে।

বিমান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মেহজাবিন

বিনোদন বাজার ॥  ছোটপর্দায় এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন সম্প্রতি ছুটি কাটাতে গিয়েছেন দুবাই। বেড়াতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। বিমান থেকে লাফ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। প্রকাশ হয়েছে মেজজাবিনের স্কাই ডাইভিং এর ভিডিও। প্রথমে কিছুটা ভয় করলেও অ্যাডভেঞ্জারে মেতে উঠেছেন অবশেষে। বিমান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে খোলা আকাশ প্রাণ খুলে উড়েছেন তিনি। জানা গেলো, দুবাই শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভিউ প্লাম আইসল্যান্ডের আকাশে এই ডাইভটি দিয়েছিলেন মেহজাবিন। ঈদের পর দুবাইয়ে গিয়ে এমন মজার অভিজ্ঞতা হয় তার।

মেহজাবীন বলেন, ‘অবশেষে মজার এক অভিজ্ঞা হলো। এটা আমি করতে পেরেছি। সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি হয়েছে। স্কাই ডাইভিংয়ের জন্য দুবাই-ই সেরা।’ এদিকে স্কাই ডাইভিংয়ের পুরো একটি ভিডিও তৈরি করেছেন এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। সেখানে মেহজাবীনের প্রস্তুতি, শুরু থেকে মাটিতে নামা পর্যন্ত পুরো ঘটনা দেখানো হয়।

পুরুষদের যৌন সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন সোনাক্ষী!

বিনোদন বাজার ॥  আধুনিক যুগেও মানুষ সেক্স নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে সংকোচ বোধ করেন। নিতান্ত বাধ্য না হলে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চান না। তবে এক্ষেত্রে নারীরাও আরও এক ধাপ পিছিয়ে। প্রয়োজনের তাগিদে পুরুষরা তাদের গোপন বিষয় নিয়ে পুরুষ চিকিৎসকদের কাছে মুখ খুললেও নারী চিকিৎসক সংকটের কারণে বিষয়টি নিয়ে পুরুষ চিকিৎসকদের কাছে মুখ খুলতে বিব্রতবোধ করেন নারীরা। তবে এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা সেক্স ক্লিনিক খুলে বসলেন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুরুষদের দিয়ে যাচ্ছেন যৌন সমস্যার সমাধান। এবার বিষয়টি খোলাসা করি। সমাজের সেকেলে চিন্তাধারায় আঘাত হানতে চলেছে সোনাক্ষী সিনহার নতুন ছবি ‘খানদানি সাফাখানা’। সোনাক্ষীর আগামী ছবি ‘খানদানি সাফাখানা’-র গল্পের মূলকথাই হলো সেক্স নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার। ইতোমধ্যেই অবমুক্ত হয়েছে ছবির ট্রেলার। ট্রেলার দেখে বোঝা যাচ্ছে, হাস্যরসের মধ্যে দিয়ে গোপন এ ‘ব্যাধি’কে তুলে ধরেছেন পরিচালক শিল্পী দাশগুপ্তা। একটি সেক্স ক্লিনিককে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে চিত্রনাট্য। সোনাক্ষী সিনহার মামা গ্রামের ওই ক্লিনিক চালাতেন। তার মৃত্যুর পর ক্লিনিকের ভার এসে পড়ে সোনাক্ষীর ওপরে। মামার দানপত্র অনুযায়ী, তাকে ৬ মাস চালাতে হবে এই ক্লিনিক। তারপরই সম্পূর্ণ মালিকানা পাবেন সোনাক্ষী। সেই মতো ক্লিনিক চালাতে শুরু করেন ভাগ্নী। কিন্তু একজন নারী চালাবেন সেক্স ক্লিনিক! পুরুষরা খোলাখুলি তাদের সমস্যা বলতে পারবেন তো? না। আকারে-ইঙ্গিতেই রোগীরা বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের সমস্যা। মানে সেক্স নিয়ে সেই আগের কুসংস্কার। তবে সোনাক্ষী চান মানুষ দ্বিধাহীনভাবে এনিয়ে কথা বলুক। সোনাক্ষীর লড়াইয়ে পাশে পান ভালোবাসার মানুষকে। আর ছবিতে গানের সঙ্গে অনেকখানি দৃশ্যজুড়ে রয়েছেন বাদশা। তার মতো সেলিব্রিটিকে নিয়ে যৌনতার বিষয়ে সচেতনতার লক্ষ্যে প্রচারে নামেন সোনাক্ষী। সোনাক্ষী কি পারবেন সেক্স নিয়ে বদ্ধঘরের পর্দা সরাতে? সেটা জানা যাবে নতুন এই ছবিতে। পুরুষদের সেক্সুয়াল সমস্যা নিয়ে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’। ছবিতে প্রশংসিত হয়েছিল আয়ুষ্মান খুরানা ও ভূমি পেডনেকরের অভিনয়। ‘খানদানি সাফাখানা’-ও আরও একটা বাস্তবধর্মী অথচ অন্যরকম ছবি হতে চলেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। ২ জুন সোনাক্ষীর জন্মদিনের আগে শেষ হয়েছে ‘খানদানি সাফাখানা’-র শুটিং। ছবির প্রযোজনা করেছেন ভূষণ কুমার, মহাবীর জৈন, মৃঘদীপ সিং লাম্বা, দিব্যা খোসলা কুমার এবং কৃষণ কুমার। সোনাক্ষী ছাড়াও এই ছবিতে রয়েছেন বরুণ শর্মা ও বাদশা। সোনাক্ষীর ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন বরুণ শর্মা।

মুক্তির প্রথমদিনই ‘কবির সিং’ এর বাজিমাত

বিনোদন বাজার ॥  মুক্তির প্রথমদিনই আলোচনার শীর্ষে শহীদ কাপুর ও কিয়ারা আদভানির ‘কবির সিং’। তেলেগু সিনেমা ‘অর্জুন রেড্ডি’র রিমেক এই সিনেমাটি নিয়ে হুবহু নকল করার সমালোচনা থাকলেও থম দিনেই বক্স অফিস কাঁপিয়েছে সিনেমাটি।তবে সমালোচনা যাই হোক, প্রথম দিনেই বক্স অফিস কাপিয়ে দিয়েছে সিনেমাটি। প্রথম দিনেই সিনেমাটির আয় প্রায় ২০ কোটি রুপি। এই সিনেমার মধ্য দিয়ে শহীদ নিজের রেকর্ড ভাঙলেন। এর আগে শহীদের ‘পদ্মাবত’ সিনেমার প্রথমদিনের রেকর্ড ১৯ কোটি রুপি। ছবি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬০ কোটি রুপি।কম বাজেটের এই সিনেমাটি অল্প দিনেই বক্স অফিসে হিট সিনেমার তালিকায় চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেমাটি প্রসঙ্গে শহীদ কাপুর বলেন, ‘প্রথম দিনের আয় থেকে সিনেমাটি নিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। ভক্তদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের উল্লাস বলে দিচ্ছে সিনেমাটির মধ্য দিয়ে তাদের কতটুকু কাছে যেতে পেরেছি।’ সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি অনেক বলিউড তারকারাও শহীদ ও কিয়ারাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, বলিউডজুড়ে এখন আলোচিত সিনেমা ‘কবির সিং।’ শহীদ কাপুরের সাথে এই সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন কিয়ারা আদভানি। তেলেগু সিনেমা ‘অর্জুন রেড্ডি’র রিমেক ‘কবির সিং’। তবে ‘অর্জুন রেড্ডি’কে হুবহু নকল করায় সমালোচনার তোপে পড়েছে ‘কবির সিং’।

আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন আশার নাম ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগল বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন আশার নাম। এই ছাগল দেখতে কালো এবং বেশ বড়সড় হওয়ায় অনেকে একে ‘বাংলার কালো বাঘ’ বলে থাকেন। ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট বা বাংলার কালো ছাগল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাগলের উন্নত জাতগুলোর মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল, বারবারি, বিটাল, বোয়ের, যমুনা পাড়ি, কিকু, স্প্যানিশ, সাহেলিয়ান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হয়, বিশ্বের হাতে গোনা যে চার-পাঁচটি ছাগলের জাতের এখনো সংকরায়ন হয়নি তার মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল অন্যতম। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এ জাতটি টিকিয়ে রেখেছে গ্রাম-বাংলার সাধারণ মানুষ। আশার খবর হলো- বাংলাদেশের এ জাতের ছাগলের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং ডিএনএ পরীক্ষা নিয়ে প্রায় ১০ বছর গবেষণা করেছে। ২০০৭ সালে প্রায় ১০ বছর গবেষণার পর জাতিসংঘের আণবিক শক্তিবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি (আইএইএ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপরে তাদের প্রতিবেদনে ব্ল্যাক বেঙ্গলকে অন্যতম  সেরা জাত হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ এবং মাংস উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশে খবরটি যে কাউকে আশাবাদী করবে। বিশ্ববাজারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এটিও একটি আশাজাগানিয়া খবর। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে কমবেশি আড়াই কোটি ছাগল আছে, যার ৯৫ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল। দেশের প্রায় এক কোটি লোক ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত যা একক কোনো প্রাণী পালনের রেকর্ড। বলা হয়ে থাকে ছাগলের দুধ হলো অনেক রোগের মহৌষধ।

বিশ্বসেরা বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ঃ বাংলাদেশের নিজস্ব জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বসেরা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা কেন্দ্রের (আইএইএ) সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ক স্বীকৃত জার্নালগুলোতে ব্ল্যাক বেঙ্গল নিয়ে শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই গবেষণার মাঝ পর্যায়ে ২০০৭ সালের ২০ মার্চ জাতিসংঘের সংবাদ সংস্থা ইউএন নিউজে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্র দেশ হলেও এখানেই বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রাণিসম্পদ ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগলের বসতি।’

‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ পালনে দিনবদল ঃ ছাগল পালন বাংলাদেশের দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ছাগল পালিত হয়। তবে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর  জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল পালনের সাফল্যে উজ্জীবিত হচ্ছেন আশপাশের অন্যান্য এলাকার জনগণ। চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে প্রধান সড়ক ধরে আলমডাঙ্গা উপজেলার দিকে অগ্রসর হতেই প্রায় সব বাড়ির উঠানেই চোখে পড়বে ছাগলের ছোটাছুটি। অনেক বাড়িতে আলাদা ঘর করে মাচায় ছাগল পালতেও  দেখা যায়। ব্ল্যাক বেঙ্গল গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে গ্রামীণ যুবসমাজকে এ জাতের ছাগল প্রতিপালনের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও অন্যতম আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসার জন্য ছাগল পুষতে হলে ব্ল্যাক বেঙ্গল সবচেয়ে লাভজনক। এই জাতের ছাগলের মাংসের চাহিদা দেশে ও বিদেশে ব্যাপক। উন্নত পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল পালন করে অনেক খামারি লাভের মুখ দেখেছেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় ২০০৮ সালে মাচায় ছাগল পালনের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং ছাগলের মৃত্যুহার কমানোর জন্য ‘লিফট’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন সফলতা  পেয়েছে। ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ পালনের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হচ্ছে- খাবার তুলনামূলকভাবে কম লাগে, পালনের জন্য অল্প জায়গা হলেই চলে, মূলধনও সামর্থ্যরে মধ্যে থাকে, রোগবালাই তুলনামূলক কম। এটি পালন করতে বড় চারণভূমি লাগে না। বাড়ির উঠান বা রান্নাঘরের পাশের ছোট্ট স্থানেও পালন করা যায়। বছরে দুইবার দুয়ের অধিক সংখ্যক বাচ্চা পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা, চিকিৎসা ও লালন-পালনে প্রশিক্ষিত হলে কোনো খামারিই ব্ল্যাক বেঙ্গল খামার করে লোকসানের কবলে পড়বেন না। ব্ল্যাক বেঙ্গল থেকে পাওয়া যায় উন্নত মানের চামড়া, যা পৃথিবীর যে কোনো জাতের ছাগলের চামড়া থেকে গুণগত মানসম্পন্ন। খাসির মাংস খেতে খুবই সুস্বাদু। ছাগলের  লোম  থেকে তৈরি হয় উন্নতমানের পশম। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের এ ছাগল খুবই রোগ প্রতিরোধী এবং সহজে রোগবালাই হয় না, আর হলেও এর চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। তাই এখন আর শুধু চুয়াডাঙ্গা নয় কুষ্টিয়া, যশোর ইত্যাদি জায়গায় নয় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি গ্রামে মানুষ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। উটকে যেমন বলা হয়ে থাকে মরুভূমির জাহাজ তেমনি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে বলা হয়ে থাকে ‘গরিবের গাভী।’

ভূমিকা রাখবে অর্থনীতিতে ঃ বাংলাদেশকে বলা হয়ে থাকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ছাগল পালনকারী দেশ। প্রতিবছর এ জাতীয় ছাগল থেকে প্রায় সোয়া লাখ মেট্রিক টন মাংসের সরবরাহ পেয়ে থাকে। যা মোট মাংসের প্রায় ২৫ শতাংশ। এই প্রজাতির ছাগল যেমন দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে তেমনি দ্রুত বড় হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল নিয়ে ২০ বছর ধরে গবেষণা করছেন। তার মতে, ‘তুলনা করে দেখা গেছে, অন্যান্য জাতের ছাগলের চেয়ে এর মাংসের স্বাদ ভালো। এ কারণে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা বেশি। এর চামড়া এত উন্নতমানের যে বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলোর চামড়াজাত পণ্য তৈরিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া ব্যবহৃত হয়। ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু বাংলাদেশ নয় অনেক দেশেই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের খামার অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যান্য  দেশের মানুষ যেমন- ভারত, ইরান, সৌদি আরবের অনেক কৃষক জমি চাষ করার পাশাপাশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার করে অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট সফলতা পেয়েছেন। জানা গেছে, উন্নত দেশের খামারিরা প্রায় আড়াই হাজার ব্ল্যাক বেঙ্গলের একটি খামার থেকে মাসে কম হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার ডলার আয় করতে পারেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাত-সাড়ে সাত লাখ টাকা। আফ্রিকার মাসাই ছাগল, ভারতের যমুনাপাড়ি ছাগল এবং চীনা জাতের ছাগলের মাংস ও দুধের পরিমাণ ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’র চেয়ে ৪০  থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। তবে ওই তিন জাতের ছাগলের ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ বাচ্চা জন্মের পরই মারা যায়। অন্যদিকে ব্ল্যাক বেঙ্গলের বাচ্চার মৃত্যুর হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ আর বংশবৃদ্ধির হার অনেক বেশি। তাই বিজ্ঞানীরা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার বিচারে এটিকে সেরা জাত হিসেবে নির্বাচন করেছেন।  কোনো একটি খামারে কাজ শুরু থেকে তৃতীয় বছরেই ছাগল বিক্রিযোগ্য হয়। এসব কারণে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন রীতিমতো একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে।

খামারি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও গবেষকদের মতে- বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি সঠিক  সেবাপ্রদানের সুযোগ যেমন- ঋণ সুবিধা, সহজশর্তে অবকাঠামো উন্নয়ন সহায়তা, যথাযথ প্রশিক্ষণ, বাজার সুবিধা সৃষ্টি ইত্যাদিতে এগিয়ে আসে তবে কোনো খামারি লোকসানের কবলে পড়বেন না। ব্ল্যাক বেঙ্গল পালনে সরকার যদি যথাযথ মনোযোগ ও গুরুত্ব দেয় তবে দেশের সব  জেলার প্রতিটি গ্রামের মানুষ অতি লাভজনকের খামার গড়ে তুলতে আরও উৎসাহী হবে। ফলে খাদ্য ও আমিষের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ হবে। এভাবে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ পালন খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

 

 

পিএসজিকে বিদায় বলে দিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক আলভেস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পেরুকে উড়িয়ে দিয়ে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার ঘণ্টাখানেক পর ব্রাজিল অধিনায়ক দানি আলভেস পিএসজি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ‘এ’ গ্র“পে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পেরুকে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল করেন আলভেস। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা বার্তায় ক্লাব ক্যারিয়ারে নিজের নতুন ঠিকানা নিয়ে অবশ্য কিছু বলেননি ৩৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। “আমার জীবনের আরেকটি চক্র আজ শেষ হলো। একটি বিজয়ী, শেখার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের চক্র শেষ হলো।” “ক্লাবের ইতিহাসের একটি পাতা একসঙ্গে গড়তে আমাকে সুযোগ দেওয়ায় পিএসজি পরিবারকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।” সেভিয়া, বার্সেলোনা, ইউভেন্তুস হয়ে ২০১৭ সালে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের দল পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন আলভেস। পিএসজির হয়ে খেলা দুই মৌসুমে দলের সঙ্গে দুটি লিগ ওয়ানের শিরোপা ও একটি ফরাসি কাপ জিতেছেন তিনি। গতমাসে নেইমারকে সারিয়ে দিয়ে আলভেসকে অধিনায়ক করে ব্রাজিল।

নতুন কাজে মন নেই শাহরুখের

বিনোদন বাজার ॥  এই মুহূর্তে নতুন কোন সিনেমায় কাজ করতে মন সায় দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। সর্বশেষ তিনি কাজ করেছেন আনন্দ এল রাইয়ের সিনেমা ‘জিরো’তে। এরপর আর হাতে নেননি কোন নতুন সিনেমার কাজ। এর আগে, রাকেশ শর্মার বায়োপিক ‘সারে জাহান সে আচ্ছা’, ফারহান আকতারের ‘ডন’ সিনেমার সিক্যুয়েল ‘ডন থ্রি’ এবং সঞ্জয় লীলা বনসালির একটি বায়োপিকে কাজ করার কথা ছিল বলিউডের এই বাদশার। তবে হঠাৎ করেই কাজ করতে মন সায় না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি। সে কারণেই ‘জিরো’র পরে হাতে নেননি আর কোন সিনেমার কাজ। বর্তমানে স্ত্রী গৌরী খান ও ছেলে আব্রাহামকে নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন কিং খান। সেখানেই আপাতত অবকাশ যাপন করছেন তিনি। সেখানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরবর্তী কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো সিনেমার কাজ হাতে নেইনি। এখন আমার হাতে কোনো কাজ নেই। কোনো সিনেমাতে কাজ করছি না।’ তিনি আরও জানান, ‘সুহানা এখন কলেজে যাচ্ছে। এদিকে আরিয়ানের পড়াশোনা প্রায় শেষের দিকে। এখন পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে চাই। এখন আর কোনো সিনেমার কাজে হাত দিতে মন সায় দিচ্ছে না।’ এখন পরিবারকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে চান, সিনেমা দেখতে চান, গল্প শুনতে চান এবং প্রচুর বই পড়তে চান বলে জানান বলিউডের এই কিংবদন্তী অভিনেতা। উল্লেখ্য, সর্বশেষ নন্দ এল রাইয়ের ‘জিরো’ সিনেমায় কাজ করেছেন শাহরুখ খান। সিনেমাটি ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও এর কলাকুশলীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও মুক্তির পর বক্স অফিসে এক রকম মুখ থুবড়ে পড়ে সিনেমাটি।

বিএনপির গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেশের জন্য হুমকি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি’র গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। দলটি আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা ছুড়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডির ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে গতকাল শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশবাসী ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি’র গণতন্ত্র রক্ষার নমুনা দেখেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের জনগণ তাদেরকে আর তা করতে দেবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজি (এমসিটি) বিভাগ ‘এমসিটি ক্যারিয়ার এক্সপো-২০১৯’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ভারপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলর এসএম মাহবুব উল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে টেলিভিশন ও শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা মনোয়ার। এমসিটি বিভাগের প্রধান ড. শেখ মুহাম্মদ আলেয়ার ও ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। হাছান বলেন, অগণতান্ত্রিকভাবে বিএনপি’র জন্ম হয়েছে। জিয়াউর রহমান কতিপয় সুযোগ সন্ধানীকে সঙ্গে নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। তারা গণতন্ত্রকে কলুষিত করেছেন। জিয়া অগণাতান্ত্রিক ভাবে সুযোগ সন্ধানীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি গঠন করেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে জিয়ার সব কর্মকান্ডই অবৈধ হয়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতি মূলত মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ জন্যই দেশের জনগণ আর তাদের (বিএনপি) বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, গণতন্ত্র রক্ষায় একটি শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। আমরা যুক্তি-ভিত্তিক গঠনমূলক সমালোচনা চাই। কিন্তু বিএনপি সব সময় অন্ধভাবে সমালোচনা করে। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

মিরপুরে নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠির মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠির জীবন মানন্নোয়নে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেলে পৌরসভার খন্দকবাড়ীয়ায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী, স্বাস্থ্য উপকরণ, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি উপকরণ বিতরণ করা হয়। নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিঠু ব্যাধের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সামাজের একটি অংশ। তাদের ব্যতিরেকে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবন মানন্নোয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোহাগ রানা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পেশকার আব্দুর রহমান, পৌর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আনসার-ভিডিপি কর্মান্ডার আব্দুল মোতালেব প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠি বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার ব্যাধ। এ সময়ে অতিথিবৃন্দ ৮৬ হাজার টাকা  শিক্ষাবৃত্তি, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরির জন্য ৮৮ হাজার টাকা ও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করেন।

কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে বিএনপি – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এক সঙ্কটকাল অতিক্রমের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্ততি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন দুই সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জেলা ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে।” ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন পদে পুর্ননির্বাচিত হন। পাশাপাশি দ্বিতীয় শীর্ষ পদ জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যানের পদে আসেন তারেক রহমান। ওই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্য থাকলেও সেই আশা পূরণ হয়নি বিএনপির। এরমধ্যে গত বছর দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করে; যদিও বিএনপির অভিযোগ, ‘ভোট ডাকাতি’ করে গণরায় ‘ছিনিয়ে নিয়েছে’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  ফখরুল বলেন, “আমরা শপথ গ্রহণ করেছি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে অগণতান্ত্রিক ও বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রামকে আরও বেগবান করা হবে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।” শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে, যাতে নতুন অন্তর্ভুক্ত সেলিমা ও টুকু থাকবেন। স্থায়ী কমিটির যে পদগুলো এখনও শূন্য, তা কবে নাগাদ পূরণ করা হবে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “যথাসময়ে সেগুলো সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গত ১৯ জুন স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া হয় ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা ও টুকুকে। তাদের নেওয়ার পর ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১৭। জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে সেলিমা সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের আজকে বড় চ্যালেঞ্জ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। “আমরা স্থায়ী কমিটিতে এমন কিছু কৌশল নির্ধারণ করব, যাতে আমাদের দলটা সুসংগঠিত থাকে, ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্ত করে আনতে পারি।” টুকু বলেন, “আমরা একটা ক্রান্তিকালে এই পদে এসেছি। আমাদের চেয়ারপারসন বিনা কারণে জেলে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিনা কারণে দেশের বাইরে। “আমাদের যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে, সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যেন আন্দোলন শুরু করতে পারি, সে চেষ্টা করব।” এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিশেষ সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নাদিম মোস্তফা, সেলিম রেজা হাবিব, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মাহবুব্লু হক নান্নু, টিএস আইয়ুব, সাইফুল আলম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, হেলেন জেরিন খান, আহসানুল্লাহ হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।

 

বয়সসীমা তুলে দেওয়ার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ছাত্র সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতারা। তাদের তোপে মুখে পড়তে হল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকেও। নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের নিচ তলায় গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা ছাত্রদলের নেতারা। সঙ্কটের আপাত সমাধান হিসেবে তারা আগের নিয়মেই স্বল্পকালীন একটি কমিটি গঠনের দাবি জানান। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমার শর্ত আরোপের বিরোধিতা করে তারা বলেন, একটি ‘সিন্ডিকেট’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘ভুল বুঝিয়ে’ এই কাজটি করিয়েছে। তাদের সংবাদ সম্মেলনের আগে ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি মিছিলে যোগ দিতে নয়া পল্টনের কার্যালয় থেকে নেমে তোপের মুখে পড়েন রিজভী। রিজভী ওই মিছিল করে কার্যালয়ে ঢোকার পথে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধদের কয়েকজন নেতা অন্যদের শান্ত করে রিজভীকে কার্যালয়ে ঢুকিয়ে দেন। গত ৩ জুন ঈদের আগের দিন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। তাতে আরও বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাবে। এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা গত ১০ জুন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভেতরে রিজভীকেও তারা অবরুদ্ধ করে রাখে। সেদিন লন্ডনে থাকা তারেকের সঙ্গে কথা বলার পর বিক্ষুব্ধরা শান্ত হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন তারা। এতে সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সহসভাপতি এখতিয়ার রহমান কবির, সহসভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়জিদ আরেফিন, ওমর ফারুক মুন্নাসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল করে যারা নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় ছিলেন, এখন আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের পদ পাওয়ার সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এর ফলে ছাত্রদলের আগের কমিটির সব সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্যরা বাদ পড়বেন। শুধু তাই নয়, ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ২৪ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ২১ জনও বাদ পড়বেন। সাবেক সহসভাপতি তুহিন বলেন, “আমাদের অনেকেই ছাত্রদলের শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু একটা পরিচয় চায় যে, আমি এই সংগঠনের ওমুক পদে ছিলাম।” তিনি তুহিন বলেন, “আমাদের মধ্যে বাদ পড়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ বছরের নেতারা। এটাকে এখন ৪৭/৪৮ বছরের ‘বুড়ো’  নেতাদের আন্দোলন বলে চালানো হচ্ছে, এটা ঠিক না। এখন ৩৫/৩৬ বছরের কমিটি দেবে। বাদ পড়েছে ৩৮ বছরের নেতারা সহসভাপতি-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ সম্পাদকরা। শুধু ২ বছরের জন্য তারা যুক্ত হতে পারছে না।” লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০০ সালের এসএসসি পাস করা একজন ছাত্রের আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর ধরা যেতে পারে। তার মাত্র ২/৩ বছর আগে ১৯৯৮/৯৭/৯৬ সালে পাস করা সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকরা যারা রয়েছেন, তারা যুক্ত হলে হবে ৩৭-৩৮ বছর। “২০০০ সাল এসএসসি পাস ধরলে বয়স দাঁড়ায় ৩৫-৩৬ বছর। আমাদের প্রশ্ন ৩৫-৩৬ বছর দিয়ে কমিটি করলে কি সমালোচনা হবে না? নিয়মিত ছাত্রের বাইরে সিন্ডিকেটের দেওয়া ৩৫-৩৬ থেকে ৩৭-৩৮ এর পার্থক্য কি খুব বেশি?” “এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে,” বলা হয় লিখিত বক্তব্যে। তুহিন বলেন, “আমি মনে করি, সরকারের একটা এজেন্ট জড়িত এই সিন্ডিকেটের সাথে। তারা ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চায়। আমাদের শেষ জায়গা হচ্ছে দেশনায়ক তারেক রহমান। তার উদ্যোগ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ আমরা দেখছি না।” সিন্ডিকেট কারা আছে- প্রশ্ন করা হলে পাইলট বলেন, “একটা গানের কথা বলতে হয়। সব কথা বলে না হৃদয়, কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। রাজনীতিতে অনেক কথা বলা যায় না স্পষ্টভাবে। এটা আপনাদের বুঝে নিতে হবে।” কবির বলেন, “তারেক রহমান নিয়মিত ছাত্র দিয়ে ছাত্রদল সাজানোর যে স্বপ্ন দেখেন, সেই ছাত্রদলের সাথে স্বার্থান্বেষী মহলের ২০০০ সালের এসএসসি ধরে ছাত্রদল সাজানো পুরোপুরি উল্টো। “স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিশেষ লক্ষ্য পূরণে দেশনায়ককে ভুল উপস্থাপনা দিয়ে একদিকে যেমন আমাদের সাথে প্রতারণা করছে, তেমনি তারা দেশনায়ক তারেক রহমানের সাথে প্রতারণা করে তার স্বপ্নের নিয়মিত ছাত্রদলে কমিটি গঠনের সদিচ্ছাকে লুণ্ঠন করেছে।” বর্তমান সমস্যা সমাধানে ২০০০ সালে এসএসসি পাসের শর্ত তুলে দিয়ে ৬ মাসের জন্য ছাত্রদলের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব তারেক রহমানকে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। “আমরা স্বল্পকালীন কমিটির প্রস্তাব করেছি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের বয়সসীমা নির্ধারণ তুলে দিয়ে নির্বাচন দেওয়া হোক বা প্রিয় নেতা তারেক রহমান নিজে কমিটি করুক। নিশ্চয়ই সেটা সবার কাছে সমাদৃত হবে।”