অনেক তথ্য পাচ্ছি, সতর্ক হন – হুঁশিয়ারি দুদক কর্মকর্তাদের

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে হুঁশিয়ার করলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার বিভাগীয় পরিচালক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, প্রধান কার্যালয়ের সচিব, মহাপরিচালক ও পরিচালকদের নিয়ে ‘জরুরি’ এক সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।সব কর্মকর্তাদের মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণের আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “টেলিফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেকের রূঢ় আচরণের তথ্য আমরা পাই, সতর্ক হন।”সম্প্রতি পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় ইকবাল মাহমুদ বলেন, “অনুসন্ধান বা তদন্তে কোনো প্রকার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব, শৈথিল্য, যা কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে, কর্মকর্তাদের এমন কোনো আচরণ কমিশন ন্যূনতম সহ্য করবে না।” তিনি বলেন, “প্রতিটি কর্মকর্তা আমাদের ঠিক ততক্ষণই প্রিয় থাকবেন , যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার দায়িত্ব সততা ও স্বচ্ছতার সাথে পালন করবেন। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তারা কোনো প্রকার অনুকম্পা পাবেন না।” কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমি বার বার আপনাদেরকে সতর্ক করি, তারপরও যখন অভিযোগ আসে, তখন ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প পথ থাকে না।” দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “অনুসন্ধানের টাইমলাইন নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। এখন থেকে যারা টাইম লাইন অনুসরণে ব্যর্থ হবেন, তাদের উচিত হবে অপশন দিয়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাজ করা। কারণ এ সুযোগ দুদকের বিধিতে রয়েছে।” অনুসন্ধান বা তদন্ত দেরিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “এখন থেকে পরিচালক বা মহাপরিচালক পর্যায়ে কোয়ারি দিয়ে নথি নিচে নামিয়ে দেওয়া যাবে না। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো কোয়ারি দেওয়া যাবে না। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে মানুষের আস্থার প্রতীক বানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কারও গাফলতি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার কাছে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে দেওয়া হবে না।” ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম উপস্থিতও ছিলেন।

 

ঝিনাইদহে গণধর্ষন মামলার আসামী রুহুল আমিন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে স্কুল ছাত্রী গণর্ধষন মামলার অন্যতম আসামী রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার  রামনগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন খাজুরা মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে স্কুল ছাত্রী গণধর্ষন মামলার আসামী রুহুল আমিন কালীগঞ্জের রামনগর গ্রামে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, গত ঈদের দিন সন্ধ্যায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী পাশের বাড়িতে তার মাকে খুজতে বের হয়। এসময় বাদশা, একই এলাকার মন্টু মন্ডলের ছেলে রুহুল আমীন ও জাফরের ছেলে মুন্নু তাকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গনধর্ষন করে। ধর্ষনের পর ক্যাডেট কলেজের সামনের একটি আবাসন এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনের কারাদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আল¬ারদর্গা-তাজপুর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাদের এ দন্ড দেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, মাদক বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত আল¬ারদর্গা-তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৫ গ্রাম গাঁজাসহ তাজপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলাম এবং তুফানসহ অপর দুই মাদক সেবীকে আটক করে। পরে তাদের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) উপ-ধারার সারণি ২১ মতে মাদক ব্যবসায়ী তাহারুল ইসলামকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয় এবং মাদক সেবী দুইজনকে একই আইনের ২৬ ধারার ৫ উপ-ধারা ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়।

একুশে আগস্টের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হলে পিলখানার দায় আ’লীগের – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এর জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না। তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তা হলে পিলখানা হত্যাকান্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না? বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বলেছেন- ‘সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।’তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য- প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না। রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকুপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। সমসাময়িক ইতিহাসে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। পরে গবেষণামূলক গ্রন্থেও এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে দেশে দখলদার সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের স্থানীয় অনুচররা সবকালে প্রহসন, মিথ্যাচার ও অন্তর্ঘাতকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি-আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হলো- কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ¬্যানের ফসল। রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই। তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটির প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধু বিএনপি নেতাদের বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা পূরণের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূরণ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দেয়া। তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারকে জড়িত করার ক্ষমতাসীনদের সুস্পষ্ট নীলনকশা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, যা দুঃখজনক। তিনি বলেন, ১/১১-এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই। পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়। মুফতি হান্নানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরস্কারস্বরূপ কাহার আকন্দের বারবার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। একুশে আগস্ট জড়িত থাকলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাতেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত তা হলে এত বড় ঘটনার পর তাদের তো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ দেশনেত্রীর পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কতিপয় নেতা নির্জলা মিথ্যাচার প্রপাগান্ডায় জনগণকে বিভ্রান্ত করার নিস্ফল চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সত্য চেপে রাখা যায় না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৪ চিকিসকসহ ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় নিয়োজিত তিনশ স্বাস্থ্যকর্মী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের ৯৪ জনই চিকিৎসক।সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা। একক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী সামলানো এই সরকারি হাসপাতালের ২৫ জন চিকিৎসকসহ ৬২ জন কর্মী এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুয়ায়ী, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয়জন চিকৎসক এবং ১২ জন নার্স রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এদের বাইরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে দুইজন করে হাসপাতাল কর্মী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা বেড়েছে। সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গু তে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৫৯২ জন।এই ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীরা ৩০০ জন বলে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৯৪ জন চিকিৎসক, ১৩০ জন নার্স এবং ৭৬ জন হাসপাতাল কর্মী ডেঙ্গু তে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।রাজধানীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৫১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসকসহ ৬২ জন কর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।পুরাণ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে শুধু চারজন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই হাপসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজার ৮৪৯ জন মানুষ।শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজার ৪৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী। এই হাসপাতালের ১১ জন চিকিৎসক এবং ১৪ জন নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।৯২৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন চিকিৎসক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন চিকিৎসক এবং ২২ জন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই হাসপাতালে আড়াই হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩৪ জন চিকিৎসক, নার্স ৫৮ এবং অন্যান্য হাসপাতাল কর্মী ৪০- সব মিলিয়ে ১৩২ জন এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে স্কয়ার হাসপাতালের সাতজন চিকিৎসক ও ২৭ জন নার্স, সেন্ট্রাল হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক ও ১৭ জন নার্স এবং শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ জন চিকিৎসক ও চারজন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

কুমারখালীতে ভিক্ষুকদের মাঝে গরু বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ভিক্ষুক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের চলমান ভিক্ষুক পুর্নবাসন কর্মসূচীর আওতায় তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের মাঝে গরু বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভিক্ষুকদের নিকট গরু হস্তান্তর করেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ নূর-এ আলমসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এ পর্যায়ে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের মধ্যে ৬ জনকে গরু এবং ৫ জনকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য দোকানসহ মুদি মালামাল প্রদান করা হবে।

অস্বাভাবিক মামলার জট কমিয়ে আনতে হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অস্বাভাবিক মামলার জট কমিয়ে আনতে হবে।তিনি বলেন, দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৩১ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এটা অস্বাভাবিক সংখ্যা। তাই এটিকে অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে।রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল ‘ন্যাশনাল জাস্টিস অডিট বাংলাদেশ : ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।আইন মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস রিফর্ম অ্যান্ড করাপশন প্রিভেনশন (জেআরসিপি) যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অনুষ্ঠানে সারা দেশের সকল জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন।সরকার চায় জনগণ বিচার পাক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাস্টিস অডিটের তথ্যানুযায়ী দেশের শতকরা ৮৭ ভাগ মানুষের বিচার বিভাগের উপর আস্থা আছে। তিনি বলেন, আজকের যে ৩১ লাখ মামলার জট সেটা যদি ১০ বছর পর ৬২ লাখে দাঁড়ায় তাহলে কিন্তু এই ৮৭ ভাগ আস্থা কমে ৩৭ ভাগে নেমে আসবে।তিনি বলেন, মামলা জট কমানোর জন্য সরকার বিদ্যমান আইন সংশোধনসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদক মামলার বিচারের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য এ সম্পর্কিত আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই সংশোধন করার চেষ্টা করা হবে। তা নাহলে অধ্যাদেশ আকারে পাস করে এটা চালু করা হবে। এছাড়া ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে যুগ্ম জেলা জজের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজকে এসব মামলার বিচার করার ক্ষমতা দেয়া হবে। সেজন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা খুব শিগগিরই সংসদে পাস হয়ে যাবে।মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা পৃথিবীর যেকোনো সরকারের জন্য সবচাইতে পবিত্র এবং সম্ভবত সবচাইতে কঠিন দায়িত্ব। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য যে বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয় তার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে না। এটি সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি সদিচ্ছা, দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার উপরে নির্ভর করে।আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জার্মানির ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর বুর্কহার্ড দুকফে, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন, জিআইজেড বাংলাদেশ সংক্রান্ত প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, জার্মান সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের ‘রুল অব ল’ প্রোগ্রামের প্রধান প্রমিতা সেনগুপ্ত ও জাস্টিস রিফর্ম প্রকল্পের ম্যানেজার এটিএম মোর্শেদ আলম।

 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে বেগম জিয়া ভালভাবেই জানতেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভালভাবেই সব জানতেন। ফলে এই হত্যাকান্ডের বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের প্ররোচনায় এই হামলা হয় এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়া এই হামলার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবকিছুই জানতেন। তিনি বলেন, এই জঘন্য হামলার জন্য বেগম জিয়াকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।হাছান মাহমুদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ডিপে¬ামা ইঞ্জিনিয়ার ইনিষ্টিটিউট (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সে সময়ে ডিজিএফআই এ ঘটনার তদন্ত করতে চেয়েছিল, বেগম জিয়া তাদেরকে তদন্ত করতে দেননি। ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন। আইডিইবি’র সভাপতি একেএমএ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম জাকির হোসেন ভূইয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লা অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। যশোর সরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ আবদুল আজিজ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সেমিনারে পৃথক দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার পর হামলাকারিরা যাতে নির্বিগ্নে পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য পুলিশ এ ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার না করে বরং আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের ওপর টিয়ারগ্যাস সেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। ড.হাছান বলেন, সে সময়ে এ ঘটনার জন্য আওয়ামীলীগকে দায়ি করে বিএনপি নেতা রিজভীর উস্কানিমুলক বক্তব্য দেয়ার জন্য তাকে আইনের আওতায় আনতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি আহবান জানান। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বিএনপি ও তার সহযোগীরা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে খতম করে রাজনীতি থেকে সরাতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাথাপিছু আয় গত ১০ বছরে ৬শ’ ডলার থেকে প্রায় দুই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ থেকে দেশের ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এককালের খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখন খাদ্র রপ্তানির দেশ। তিনি আরো বলেন, অনেক সূচকেই এখন বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির আত্ম নিয়ন্ত্রণ ও আত্ম মর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দীর্ঘদিন স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছিলেন এবং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য একটা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সকল বৈরিতা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে এ জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এ দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। মন্ত্রী এ দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের প্রতি একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ অপরাধে বরকে এক বছর কারাদন্ড

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বাল্যবিবাহ অপরাধে, শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ১৩ বছর বয়সী মেয়ে শামীমার বাবা ও বর নুরআলম এবং ইমাম এনামুলকে। বর ও কনের বাড়ী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী কয়ার গাছি আবাসন প্রকল্পে । শামীমার বাবার নাম হারুন অর রশিদ। বর নুরআলমকে ১ বছরের কারাদন্ড বরের মামা হায়দারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, ইমাম এনামুলকে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলাম । এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানার এসআই রফিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন।

আজ সৈয়দ মাছ-উদ রুমী’র ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী

গত ১৮ই আগষ্ট ছিল কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, কুমারখালী-খোকসা থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন সংসদ সদস্য,  জেলা উন্নয়ন সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম এ্যাড. সৈয়দ মাছ-উদ-রুমীর ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ ২৩ আগষ্ট শুক্রবার বাদ জুম্মা পরিবারের উদ্যোগে খোকসা উপজেলা নিজ গ্রাম কমলাপুর জামে মসজিদে কোরআনখানী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শরিক হওয়ার জন্য মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী অনুরোধ জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। সড়ক পরিবহন খাতে শৃংখলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলকালে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। এর আগে কমিটির প্রধান সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এসময় মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। আইনটি কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে স্টেক-হোল্ডারদের সাথে আলোচনা চলছে। স্বল্পতম সময়ে আইনটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এ লক্ষ্যে ১১১টি আশুকরণীয়, স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশমালা তৈরি করে। মন্ত্রী জানান, কমিটির সুপারিশসমূহ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, আর দেরি নয়, আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে চাই। সভায় অন্যান্যর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচী, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান, এক্সিডেন্ট রিসার্স ইন্সটিটিউটের প্রধান কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় রূপীসহ একজন আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় রূপীসহ মামুন অর রশিদ (৩২) নামে মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য আটক হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মরারপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে ৩৮ হাজার ভারতীয় রূপিসহ তাকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বিজিবি। সে চরসরকারপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। বিজিবি সূত্র জানায়, চিলমারী বিওপি’র টহল দল ওইদিন বিকেলে ১৫৭/২-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন ৫০ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে মরারপাড়া থেকে ভারতীয় রূপিসহ মামুন অর রশিদকে আটক করে। পরে তাকে মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

কুষ্টিয়ায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি

অনিরাপদ বাংলাদেশের অপশক্তি রুখতে ঐক্য ছেড়ে একলা চলো নীতি আত্মঘাতি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামাত জঙ্গী চক্রের বিরুদ্ধে গত বিশ বছর ধরে চলছে, সেই সগ্রামে সাফল্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি চৌদ্দ দল ও মহাজোটের ঐক্যের রাজনীতির কারণে। ঐক্যই পারে বিএনপি জামাতকে কোনঠাসা করে রাখতে। সেই সফলতা যদি ধরে রেখে সংহত করতে হয় তাহলে ঐক্য ছেড়ে একলা চলো নীতি হবে আত্মঘাতি। ঐক্যই পারে জঙ্গীদের ধ্বংস করতে এবং জঙ্গী দমনের সুফলগুলো সংহত করতে ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। যেহেতু এখনও পর্যন্ত ২১আগষ্টের  খুনিদের পক্ষে ছাপাই গাওয়া চলছে, বাংলাদেশ যেহেতু বিপদমুক্ত নয়, যে ঐক্য জঙ্গী দমনে সাফল্য দিয়েছে সেই বিজয়টাকে ধরে রাখার জন্যে একলা চলা নীতি বাদ দিয়ে ঐক্যের নীতিটাকে আরও শক্তভাবে অনুসরন করা উচিৎ। ওরা কোনঠাসা হলেও রাজনৈতিকভাবে এখনও আত্মসমর্পন করেনি। ২১আগষ্ট হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের পক্ষে ছাপাই গাওয়া ও আড়াল করার একটা অপচেষ্টা এখনও আছে। জাসদ সভাপতি ইনু আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা তা কাংঙ্খিত মাত্রাই অর্জন করার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের আছে। গত ১০বছরের বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও  উন্নয়নে যে সফলতা এবং দক্ষতা প্রদর্শন করেছে, তাতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দেশবাসীর যাপিত জীবনে যারা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে গাফিলতি দেখিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সোচ্চার হবো। চামড়া শিল্প, পশু সম্পদ, ধান-চাল, পাটশিল্প কিংবা ডেঙ্গু এসব বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় যদি কেউ দুর্ভোগ সৃষ্টি করে থাকে তাহলে বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার সরকার যেভাবে জঙ্গী দমনে কোন ছাড় দেয়নি ঠিক তেমনি এসব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও রেহায় দেবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জাসদ সভাপতি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় সেখানে জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নিজেদের বানানো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা দেখাল ইরান

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এবার নিজেদের বানানো দূরপাল্লার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বৃহস্পতিবার সহজে পরিবহনযোগ্য এ বাভার-৩৭৩ ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। “দূরপাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় আমরা ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তু বা বিমানকে চিহ্নিত করতে পারবো, ২৫০ কিলোমিটার দূরে আটকাতে এবং ২০০ কিলোমিটার দূরত্বেই ধ্বংস করে দিতে পারবো,” রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এমনটাই বলেছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির হাতেমি। ইরানি গণমাধ্যমে এই বাভার-৩৭৩কে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনার সমকক্ষ বলা হচ্ছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস পালন করছে; এদিনই নিজেদের বানানো এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা সারাবিশ্বকে দেখাল তেহরান। নানা ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেদের কারণে ইরান বাইরের দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে না পারলেও, তারা নিজেদের নকশায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বানিয়ে তা মজুদ রেখেছে বলে অনুমান পর্যবেক্ষকদের। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা তেহরানের অস্ত্র ও এগুলোর সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হলেও তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ওয়াশিংটনকে উদ্বেগের মধ্যেই রেখেছে। জুনে পারস্য উপসাগরে ইরান ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোনকে ভূপাতিতও করেছে। তেহরান বলছে, অনুমতি ছাড়াই ওই ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এ ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হামলার শিকার হওয়ার সময়ও তাদের মনুষ্যবিহীন ড্রোনটি ছিল আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়। চার বছর আগে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ওয়াশিংটন পরে তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তেল নিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গত কয়েক মাসে পারস্য উপসাগরে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমানের সুনাম বৃদ্ধির আহ্বান 

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ বিমানকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রী সেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের সুনাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশাকরি, বিমানের সুনাম অক্ষুণœ রাখা এবং উত্তরোত্তর যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করা, এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দায়িত্ব। কাজেই এটা নিজস্ব সম্পদ, সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও আমি সকলকেই বলবো- আপনারা আপনাদের আন্তরিকতা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজটি সম্পাদন করবেন।’তিনি বলেন, আজকে দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের অগ্রযাত্রা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সকলেই সুন্দর জীবন পাবে, সুখী হয়ে চলতে পারবে। আর সেটাই আমাদের লক্ষ্য ।দেশের বিমান বহরে তাঁর সরকার সংযোজিত অত্যাধুনিক বিমানগুলোর প্রতি সকলকে যতœবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো আমার ‘গাংচিল’ যেন ডানা মেলে উড়তে পারে ভালভাবে, সবাই যতœ নেবেন।’তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধন করা ‘গাংচিল’কে নিয়ে বোয়িং এর সঙ্গে চুক্তিকৃত ১০টি বিমান ক্রয়ের মধ্যে ৯ নম্বর বিমানটি বহরে যুক্ত হলো। আর একটা আসলেই ১০ম টি পূর্ণ হবে।অচিরেই এই বিমানগুলো ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে চলাচল করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় এখনও আমরা যেতে পারছি না, তবে, আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের ড্রিমলাইনার সরাসরি ঢাকা থেকে জেএফকে (জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্ট,নিউইয়র্ক) যাওয়ার মত সক্ষমতা রাখে। কাজেই আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’সেই সঙ্গে লন্ডনে বিমানের জন্য ¯¬ট যেন আরো বৃদ্ধি পায় এবং আরো কয়েকটি দেশে বিমান তার যাত্রীসেবা যেন বৃদ্ধি করতে পারে এবং যেতে পারে সরকার সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তিতে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে আমরা আরো বিমান ক্রয় করবো। তবে, এর মাঝে আমি আরো চাচ্ছি দুটো কার্গো বিমান আমাদের নেওয়ার জন্য। যাতে আমাদের আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পায়।’তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দুটি কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, এটাও ঠিক আমাদের দেখতে হবে কোথা থেকে ভাল পাওয়া যায়, ভাল দামে পাওয়া যায়-সেটাও আমাদের বিবেচনা করতে হবে।উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন ও ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন।এ উপলক্ষ্যে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমানের বোর্ড অব ডিরেক্টরস’র চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। ‘রাজহংস’ নামের চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি আগামী মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সবক’টি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেছেন। বাঙালি জাতির জন্যই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার মাস হিসেবে আগস্টকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতেই জাতির পিতা, ১৫ অগাস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রতিষ্ঠান এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার সময়ই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান সংস্থা গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পান, তাতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করে দিয়ে যান। বন্ধু প্রতীম দেশগুলোর থেকে সহায়তা নিয়ে আমাদের বিমান এয়ারলাইন্স তিনি চালু করে দিয়ে যান।’ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান গাংচিল উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এই বিমান উদ্বোধনে এসেছি এই কারণে যে, আমার কেবলই মনে হয় একটু ভাল কাজ, যে কাজে আমার দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, মানুষের মঙ্গল হবে, মানুষ স্বস্তি পাবে। সেই কাজটুকু করলে আমার বাবা-মা’য়ের আত্মা শান্তি পাবে এবং নিশ্চই তাঁরা খুশি হবেন। জাতির পিতা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্যমুক্ত করে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আজীবন কষ্ট স্বীকার করে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে দরবারের বাংলাদেশ যেন একটু সম্মান নিয়ে চলতে পারে। বাঙালি জাতি যেন একটি সম্মানীত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেটাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এ সময় স্বাধীনতা অর্জনকালে বাংলাদেশের সম্পর্কে বহিঃবিশ্বে প্রচলিত নেতিবাচক মনোভাবের প্রসঙ্গ স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কি হবে, এদেশ কখনও উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আর ’৭৫ এর ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর সেই প্রচেষ্টাই নেয়া হয়েছিল।’ ‘কাজেই ’৭৫ এর পর আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান ২৯টি বছর হারিয়ে যায়, এটাই হলো দুর্ভাগ্যের কারণ যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করতো না,’ যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অথচ গত ১০ বছর এবং এর আগের ৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই আমরা একটি উন্নত অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছি।’ তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য সকলের উন্নত-জীবন-মানের নিশ্চয়তা বিধান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,‘একদম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকেও একটা সুন্দর জীবন যেন আমরা দিতে পারি সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং বিমানকে আরো উন্নত করার দিকে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে।’ এ সময় সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরিতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন তিনি। ’৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠনের সময়ই তিনি সিলেট এবং চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণ সহ আধুনিকায়নের করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এখন কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরী করছে। যেটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যের পথে পড়ায় সেসব গন্তেব্যের মধ্যে চলাচলকারী বিমানগুলো এখান থেকে রিফ্যুয়েলিং এর সুযোগ পাবে এবং পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সৌন্দর্যও পর্যটকরা আরো বেশি করে উপভোগ করতে পারবে, বলেন তিনি। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অধিকাংশ গন্তব্যে যাত্রার জন্য বিমানের ফ্লাইট চালু সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধাপে ধাপে বিশ্বের আরো অন্যান্য দেশে বিমান যেন যেতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা করছি।’ বাইরে থেকে টাকা ধার না করে বিমান কেনার জন্য স্বাবলম্বি হওয়ার প্রতিও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মত বিমান কেনার জন্য কারো মুখাপেক্ষী না থেকে, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার না করে, নিজেদের ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়েই বিমান ক্রয় করবো। তাই ধাপে ধাপে আমরা এগুচ্ছি। অর্থাৎ আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই এবং দেশকে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবে।’ তিনি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। তাঁর রক্তঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।’

 

ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে- ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারত যখন কিছুই করছে না, তখন পাকিস্তান চরমপন্থা যুদ্ধের প্রচেষ্টা করছে। বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেখুন, ভারত তাদের সঠিক অবস্থানে রয়েছে, তারা এটা নিয়ে কোনো যুদ্ধ করছে না। পাশেই পাকিস্তান, তারা এটা নিয়ে যুদ্ধ করছে, খুবই ছোট… এটা ঠিক না। যুক্তরাষ্ট্র সাত হাজার মাইল দূরে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে সরে এসেছে। এ সময় ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোকে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান। ইরাকের আইএস পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রপতি এ বিবৃতি দেন। মার্কিন প্রশাসন সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সেনা হ্রাস করেছে। ট্রাম্প বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাশিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, তুর্কি তারা তাদের মধ্যেও যুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা খিলাফতকে শতভাগ মুছে দিয়েছি। আমি রেকর্ড সময়ে এটি করেছি। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্যান্য সব দেশ, যেখানে আইএসআইএস প্রায় রয়েছে…আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছি। কারণ আমরা কি সেখানে আরও ১৯ বছর থাকতে চাই? আমি তা মনে করি না। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে – টিআইবি

ঢাকা অফিস ॥ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশে সব অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই যে, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় না। আইনের রক্ষকরাই এর ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে।’ তবে তাই বলে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তার অভাব নেইও বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি যোগ করেন, ‘এ কথা আমরা কখনোই বলি না যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তা নেই। অনেকেই আছেন যারা ইতিমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছেন।’ এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের অনেকেই আইন ভঙ্গ করে নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছেন বলে রিপোর্ট পাচ্ছি আমরা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখছি, সব ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্টতা, যোগসাজশ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কার্যকরভাবে বিষয়টি প্রতিহত না করা হলে আমরা আশঙ্কা করছি যে, একটা সময় চলে আসবে তখন সংস্থাটির নামটা পরিবর্তন করতে হবে।’ তবে সেই অবস্থা দেখতে চান না জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা অপরাধে যুক্ত রয়েছেন প্রমাণ মিললে তার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’ কিন্তু সে তদন্তে ঘাটতি আছে জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখি বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাতে সর্বোচ্চ যে সাজা দেয়া হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্লোজড করা হয় অথবা বদলি করা হয়। বড়জোর রিটায়ার্ড করে দেয়া হয়।’ -এমন শাস্তিতে অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করা হয় বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এমন বিচারে তো সমাধান হল না। সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।’ জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী সদস্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিনা হক, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামছুল হুদা, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সমন্বয়ক তামান্না হক রিতি প্রমুখ।

দুর্যোগ সহনীয় ঘর হস্তান্তর

তালা খুলে সবাইকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী বিধবা সালেহা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত দুর্যোগ সহনীয় ঘর হস্তান্তর শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ উপজেলা সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর এলাকার হতদরিদ্র বিধবা সালেহা খাতুনের হাতে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের চাবি তুলে দেন। এ সময় পৌর সভার মেয়র মো: সামছুজ্জামান অরুণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মুহাম্মদ নূর- এ আলম সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১টি দুই কক্ষ বিশিষ্ট থাকার ঘর, ১টি রান্না ঘর ও ১টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘর বুঝে পেয়ে হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী ও বিধবা সালেহা খাতুন ভীষন খুশি হয়েছেন। সাংসদের হাত থেকে চাবি নিয়ে ঘরের তালা খুলে সবাইকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন সালেহা খাতুন। এ সময় হতদরিদ্র (সালেহা খাতুন) বলেন, ভাঙ্গা ঘরে ঝড়, বৃষ্টি ও শীতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। সরকারের দয়ায় পাকা ঘর পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, কুমারখালীর ১১টি ইউনিয়নের ২০ জন প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে ঘরগুলো বাসিন্দাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোকসভায় এমপি বাদশা

৭১’র পরাজিত শক্ররা এখনও সক্রিয় রয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আর আঘাত হানতে পারবেনা

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, স্বাধীনতার পরজিত শক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশ থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম গাঁথা রয়েছে। তিনি বলেন, আমারা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ভালবাসার সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে আছি। কিন্তু ৭১’র পরাজিত শক্ররা এখনও সক্রিয় রয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ওই পরাজিত শক্ররা আর আঘাত হানতে পারবেনা। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। এমপি বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘাতকের দল ১৯বার হত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পারেনি কারন শেখ হাসিনা মানে আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনা তার কর্মের মাধ্যমে প্রমান করেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। তিনি আরও বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তর ঋণ, ২ লক্ষ মানুষের সম্ভ্রমহানি আর কোটি মানুষ গৃহহারা হওয়ার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ও তাঁর নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়। অথচ সেই স্বাধীন দেশে ঘাতকের দল ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রানে বাঁচলে ঘাতকদের গ্রেনেডে শহীদ হয়েছেন আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা আর ৫’শ জন নেতা-কর্মী স্পি­ন্টারের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। সরওয়ার জাহান বাদশা এমপি দৌলতপুর আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করে এবং ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী দিনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আছে বলে আমরা বেঁেচ আছি। সবশেষে এমপি বাদশা ৭৫’র ১৫ আগষ্ট ও ২০০৪’র ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত দৌলতপুর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের শহীদদের স্মরণে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোক সভায় এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা এসব কথা বলেন। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন আওয়ামী লীগ সাবেক এমপি নেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শোকসভায় প্রধান বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন। শোক সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শেলি দেওয়ান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগে তথ্য গবেষনা সম্পাদক টিপু নেওয়াজ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম, দৌলতপুর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন মাষ্টার, পিয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, জেলা পরিষদ সদস্য মায়াবী রোমাঞ্চ মল্লিক, দৌলতপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর, দৌলতপুর যুবলীগ নেতা ওয়াসিম কবিরাজ ও দৌলতপুর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক চঞ্চল হোসেনসহ দৌলতপুর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন শোক সভা পরিচালনা করেন। শোকসভায় দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়। উপজেলা পরিষদ মাঠে শোকসভা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহওয়ার কারনে পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের এ শোক সভায় দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতি দৌলতপুর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ তা প্রমান হয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের বক্তব্যে তা উঠে এসেছে।

ফিরতে রাজি হয়নি কেউ, শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নিয়ে চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আলোচনা চালানোর পরও রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের দিক থেকে তো আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকায় থাকা ১০৩৭টি পরিবারের মোট ৩৫৪০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ এখনও স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হননি।” এ পর্যন্ত ৩৩৯টি পরিবারের একজন করে প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলবে। কেউ স্বেচ্ছায় রাজি হলে তাকে ফেরত পাঠাতে আমরা প্রস্তুত। ওই সময়ের আগে আমরা বলতে পারব না যে আজ প্রত্যাবাসন হচ্ছে না।” রাখাইনের গ্রামে গ্রামে হত্যা-ধর্ষণ আর  ব্যাপক জ্বালাও পোড়াওয়ের মধ্যে প্রাণ হাতে করে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত চারটি শর্তের কথা বলছেন। তাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  এর আগে গতবছর ১৫ নভেম্বর একইভাবে প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা তৈরি না হওয়ায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এবার মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা হলেও দুই বছর ধরে চলা এ সঙ্কট সমাধানের দ্বিতীয় দফা চেষ্টাও দৃশত ব্যর্থ হল। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন হাল ছাড়তে রাজি নন। দুপুরে ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি। সমস্যা মিয়ানমারের, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। আমরা জোর করে কিছু করব না।” নিজেদের দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি আজ থেকে প্রক্রিয়াটা শুরু হোক। এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।” মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে সাত লাখ ছাড়ায়। আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও নানা কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গতবছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর তারিখ ঠিক হলেও নতুন করে নিপীড়নের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থেকে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা জানায় মিয়ানমার।প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে তালিকায় থাকা শরণার্থীদের কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রেখে টেকনাফের শালবাগান এলাকার ২৬ নম্বর ক্যাম্পে শুরু হয় সাক্ষাৎকার।ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ যৌথভাবে এই রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চায়, তারা ফিরতে ইচ্ছুক কি না? পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য মিয়ানমারের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও চীনা দূতাবাসের দুইজন কর্মকর্তা কক্সবাজারে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও আছেন তাদের সঙ্গে।

রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ দুঃখজনক – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নিপীড়নের মুখে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। একদফা পেছানোর পর বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কেউ ফিরতে রাজি না হওয়ায় বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রতিক্রিয়া জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চেয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক। কিন্তু রোহিঙ্গারা যে যেতে চাচ্ছে না- ‘এটা দুঃখজনক। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না’। তবে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি বলার জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মোমেন জানান। প্রত্যাবাসন শুরু না হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আমরা জোর করে কিছু করব না। “আমরা প্রস্তুত, আমাদের কোনো গাফিলতি নাই। আস্থার যে ঘাটতি আছে সেটা দূর করতে মিয়ানমারকেই কাজ করতে হবে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি।” প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম দেখতে মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প¬্যাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিলির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “কারা প¬্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি।“তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না।”রোহিঙ্গা এখানে রয়েছে, সেকারণে ফিরে যেতে চাইছে না- এ মন্তব্যে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার অনেক টাকা খরচ করেছে। আগামীতে হয়ত এই আরাম থাকবে না।রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিসহ মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখার জন্য একটা কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।এর আগে গতবছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা তৈরি না হওয়ায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।তারা বলছেন, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের নাগরিকত্ব, জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এক বছর আগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা গত সপ্তাহে জানায় মিয়ানমার।এরপর গত তিন দিন ধরে ইউএনএইচসিআরকে নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনারের কার্যালয় ফেরার বিষয়ে মনোভাব জানতে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত শরণার্থীরা কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর শিবিরে আছেন। গত দুদিনে ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারও সাক্ষাৎকার চলছিল।