বামন্দীতে আয়োজিত হাডুডু খেলা সাড়া জাগালো

গাংনী প্রতিনিধি ॥ একেবারেই হঠাৎ করেই গতকাল শনিবার আনন্দ হৈ হুল্লোড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল  মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীর একটি মহল্লা। সারি সারি লোকজন দল বেধেঁ এসে বামন্দী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশবর্তী মাঠে জড়ো হয়েছিল। একদিকে প্রচুর লোকের সমাগম, হৈ চৈ অন্য দিকে মাইকের শব্দ, কৌতুহল বশত এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল গ্রাম বাংলার সেই চীর চেনা ঐতিবাহী হাডুডু খেলার আয়োজন। বামন্দী নিশিপুর যৌথ (বাণিয্যে) পাড়া যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ হাডুডু খেলায় একদিকে অংশ নিয়েছেন প্রবীন খেলোয়াড়গন অন্য দিকে এলাকার নবীন খেলোয়াড়গন। জমে উঠেছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একটি টিমের নাম রাখা হয়েছিল প্রস্তাবিত বামন্দী উপজেলা টিম অন্যটির নাম বানিয্যেপাড়া টিম। বিশ^কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলার মত রুদ্ধশ^াস অবস্থার মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হওয়া এ খেলায় উভয় দলই সমান পয়েন্ট পেয়ে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খেলা দেখতে এলাকার অসংখ্য নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ সব ধরনের মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল। খেলাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াসরুম তৈরী করে দিলেন রিপিয়ার বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় রিপিয়ার বাংলাদেশ’র উদ্যোগে কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ৪টি ওয়াসরুম নির্মান করা হয়েছে। এই উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে “শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশ”এর আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন-নিসার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কর কমিশনার ও রিপিয়ার বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা বজলুর কবির ভূঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেনস লেখক ও গবেষক সারিয়া সুলতানা। এসময় প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রেণী কক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ দান করেন। সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি বলেন আজকের সন্তান আগামী দিনের ভবিষৎ। দেশ নেতৃত্বের অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এই কোমলমতি শিক্ষার্থী তাই তাদের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে মায়েদের পাশে থাকার আহবান করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কালুখালীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে সাবেক ৯ বছরের রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এইচএম এরশাদ এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টায় কালুখালী উপজেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন মিয়ার উদ্যোগে উপজেলা জাতীয় পার্টির সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরদার, পাংশা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শামীম, জাতীয় পার্টির নেতা  মোখলেছুর রহমান, আশরাফুল মান্নান বাদশা, ডাঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ রশিদ মোল্লাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন কালুখালী রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব মাওঃ মোঃ মোক্তার হোসেন।

তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল শনিবার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আকছেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয় সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আমিরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান মিঠু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, উপজেলার যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আহমেদ, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক আশরাফুল আলম হীরা, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক টনি মন্ডল প্রমুখ। সম্মেলন শেষে আকদে আলীকে সভাপতি ও আবুল হোসনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

হৃদি এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছে

নিজ সংবাদ ॥ কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের মেয়ে সায়মা শাহরিন হৃদি এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে কৃতিত্বপূর্ণ এই ফলাফল অর্জন করে। এর আগে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স স্কুল থেকে মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। তাছাড়া জেএসসি ও পিএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করে হৃদি। হৃদির এই ফলাফলে দারুন খুঁশি হৃদি ও তার পরিবারের সদস্যরা। বাবা একজন শিক্ষক হয়ে মেয়ের এমন ফলাফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পাবে বলে প্রত্যাশা করেন। মেয়ের এমন ফলাফলে খুঁশি মা পপি ইয়াসমিনও। গৃহিনী হয়েও মেয়ের পড়ালেখার সহযোগিতার ফলে এমন ফলাফলে বাঁধা ভাঙা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনিও। এবিষয়ে হৃদি জানায় বাবা মায়ের দোয়া তাঁদের সার্বিক সহযোগিতায় এইচএসসিসহ সকল পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার ইচ্ছা সকলের দোয়া থাকলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হওয়া।

গাংনীর বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে  আনুষ্ঠানিকভাবে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন  মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর সহকারী পরিচালক (কুষ্টিয়া অঞ্চল) রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুখময় সরকার, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থাকার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল হক জুয়েল, বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস।  অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা আ.গের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা,আ.লীগ সিনিয়র নেতা আহসান উল্লাহ মোহন, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাস, বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার আলমগীর হোসেন, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বামন্দী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান কমলসহ স্থানীয় আ.লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় ও ফায়ার সার্ভিসের নির্ধারিত পতাকা উত্তোলনের মধ্যেদিয়ে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাজীপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দীন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) অফিসার আলমগীর হোসেন জানান,  যে কোন দূর্ঘটনায় খবর জানিয়ে সেবা নিতে বামন্দী ফায়ার সার্ভিসের এই মোবাইল নম্বরে- ০১৩১০-৯৫৮৫২৫ যোগাযোগ করতে হবে।

 

গাংনীর রাইপুর ইউনিয়ন ভলেন্টিয়ার ফোরাম গঠন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন ভলেন্টিয়ার ফোরাম গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ ফোরাম গঠন করা হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ফোরাম গঠিত হয়। রাইপুর (ভিডিটি) গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি ও রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হান্নানকে সভাপতি ও রাইপুর ইউনিয়ন সুজনের সদস্য আলমগীর কবির হিরোকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এ ফোরাম গঠন করা হয়। ফোরামের অন্যান্যরা হলেন- (১ নং) সহ-সভাপতি রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও এলাঙ্গী গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি শামীম রেজা, (২নং) সহ-সভাপতি রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা ও গোপালনগর গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ফিরোজা খাতুন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন-(১নং) আনান্দাবাস গ্রাম উন্নয়ন দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, (২নং) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাব্রতি নেতা ওসমান গনি,দপ্তর সম্পাদক হলেন-চাঁদপুর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য সোহেল রানা,অর্থ সম্পাদক হলেন-শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক আজম সরকার,প্রচার সম্পাদক হলেন-শিমুলতলা গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, দিবস পালন বিষয়ক সম্পাদক হলেন- শিমুলতলা গ্রাম উন্নয়ন দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম,কর্মশালা বিষয়ক সম্পাদক হলেন-শালদহ গ্রাম ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের নেতা সুমন রেজা,নির্বাহী সদস্য হলেন-ইকুড়ি গ্রাম উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী মাহিরন খাতুন, এলাঙ্গী গণ-গবেষণা সমিতির অন্যতম সদস্য রহিলা খাতুন, হিমায়েতপুর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ও নারী নেত্রী লিপিয়ারা খাতুন,ফোরামের সাধারণ সদস্যরা হলেন-ইকুড়ি গ্রাম ইয়ূথ লিডার তন্ময় আলী,কড়–ইগাছি উন্নয়ন দলের সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাব্রতি নেতা সাহারন খাতুন, আনান্দাবাস গ্রাম ইয়ূথের নেতা নাইমুর রহমান বাবু, রাইপুর ইউনিয়ন সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ও রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাঈদ, শালদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য আতিকুর রহমান মিঠু মিয়া,হাড়িয়াদহ গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ও নারী নেত্রী সুস্মিতা বিশ্বাস, গোপালনগর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য ওয়াসিম আকরাম। ফোরাম গঠন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন-দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী (ইউসি) জিএস সাজু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাম্মদ আলীর চাওয়া

আমলা অফিস ॥ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছে। তাদের রাষ্ট্র দিয়েছে সম্মান। মহান মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, পলিটিক্যাল কর্মকর্তা, সাধারন মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার, নার্স, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা, কৃষক-শ্রমিকরা অংশ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জীবন বাজী রেখে বীরত্ব দেখিয়েছেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধনতার এত বছর পরেও ক্রমস বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা। বয়সের ভারে যারা দিন দিন এক একে চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে। তাদের মনে রয়ে গেছে ক্ষোভ। স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের সঠিক মুল্যায়ন করা হয়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাদের সহযোগিদের মুক্তিযোদ্ধার হিসাবে দেখতে না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন। এছাড়াও সে সময়ের রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায়ও তাদের মনে রয়েছে ক্ষোভ। এদিকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা  গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর (গেরিলা নং- ৬৮৭৭, ব্যাচ নং-০৬) ক্ষোভ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত যাচাই-বাছাই, রাজাকারদের তালিকা না প্রকাশ হওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা, শহীদদের জন্য গ্রামে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে করবস্থান না থাকা, স্থানীয় বদ্ধভূমি সংরক্ষন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি ভিত্তিক সম্মানী না দেওয়া। তিনি জানান, আমরা যারা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। আমাদের কাজ ছিলো গোপনে শক্রদের আক্রমন করে মেরে ফেলা। সেসময় আমরা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ না করলেও গোপনে আক্রমন করে তাদের হত্যা করতাম। আমাদের কাজই ছিলো “হিট এন্ড রান”।  সেসময় ৮০ হাজার গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করি। যারা সকলেই উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার এক ভাষনে বলেন যে, যারা উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত (গেরিলা) তারা জেলায় ও মহকুমায় নিজ নিজ অস্ত্র জমা দিবেন। এছাড়া স্থানীয় বাহিনীসহ অনান্য ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকার পিলখানায় অস্ত্র জমা দিবেন। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা নেওয়ার পর জেনারেল এ.জি.এম ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ৩ বছরের মধ্যে কোন প্রকার আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে না। তবে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হবে। এদিকে স্থানীয়সহ অনান্য বাহিনীকে রক্ষীবাহিনী করা হয় এবং তাদের তোফায়েল আহম্মেদ স্বাক্ষরিত সনদ প্রদান করা হয়। এরপরে দীর্ঘ ২৬ বছর আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা কোন সম্মানী ভাতা পায়নি। তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে এখন ১২ হাজার টাকায় উন্নতি করেছেন। তবে উচ্চ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং অনান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সমান করা হয়েছে। এটা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য না। আমরা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা চাই আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হোক এবং সাধারন মুক্তিযোদ্ধা এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাটাগরি করে ভাতা প্রদান করা হোক।

সম্মিলিত লেখক ফোরাম কুষ্টিয়া’র সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

সম্মিলিত লেখক ফোরাম, কুষ্টিয়ার আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়া টেগর লজে সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন ছড়াকার আব্দুল্লাহ সাঈদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো: খলিলুর রহমান মজু। সংগঠনের সদস্য বৃদ্ধিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করেন কবি আজিজুর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির একটি গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়। সম্মিলিত লেখক ফোরামের ৩য় সাহিত্য আসরে উপস্থিত ছিলেন কবি সৈয়দা হাবিবা। আলোচনা শেষে সাহিত্য আড্ডায় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত এ সাহিত্য আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন: ছড়াকার বিপুল বিশ্বাস, কবি আশফাকুর রহমান, কবি সুলতানা রেবেকা নাসরীন, কবি মিজান সরকার, কবি মান্নান মণি, কবি মাহাদেব দাস, কবি হোসনে আরা, কবি শিরীন বানু, আবৃত্তিশিল্পী আনোয়ার কবির বকুল, ছড়াকার আব্দুল্লাহ সাঈদ, কবি এম.ডি আসাদ, কবি মোহিত চন্দ্র গোবিন্দ, কবি আজিজুর রহমান, কবি এস.আই. স্বাধীন, কবি রূপা খাতুন, কবি এম.এ হান্নান, কবি মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, কবি কামাল হোসেন, কবি কাজী সোহান শরীফ, কবি জসীম উল্লাহ আল হামিদ, কবি এস.এস. রুশদী এবং কবি শের আলী। সাহিত্য আড্ডা শেষে কবি ও বহুমাত্রিক লেখক মোহাম্মদ তাজউদ্দিনের “কথার কথা” নামক কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এম.ডি আসাদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু, ক্লিনিক মালিককে গণধোলায়

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি স্থাণীয় ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রপচারের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রিতু খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহতের আত্মীয় স্বজনরা ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ভেড়ামারা শহরের শিল্পী ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিতু খাতুন মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী। নিহতের চাচাতো ভাই রাব্বি ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রিতু খাতুনের প্রসব  বেদনা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে ভেড়ামারা শিল্পী ক্লিনিকে ভর্তি করে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাড়াতাড়ি সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে বলে জানায় ক্লিনিক মালিক আশরাফ এবং শিল্পী। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাঃ টি.এ কামালীর তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে রিতু পুত্র সন্তান প্রসব করে। কিন্তু অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তা বন্ধ করতে না পারায় রক্ত শূন্য হয়ে রিতু মারা যায়। এ সময় মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক ও ওই চিকিৎসক মিলে মৃত রিতুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে  রেফার্ড করে। তবে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর আর কুষ্টিয়ায় আসেনি। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্লিনিক মালিক একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে রিতুর মরদেহ তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সকালে আত্মীয়-স্বজনরা রিতুর মৃতদেহ নিয়ে শিল্পী ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেই। এ সময় ক্ষিপ্ত স্বজনরা ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্লিনিক মালিক আশরাফুল এবং শিল্পী খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক টিএ কামালী পলাতক রয়েছে। ভেড়ামারা থানার সেকেন্ড অফিসার রিফাজ উদ্দিন জানান, ক্লিনিক মালিককে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজের নজরে

কুষ্টিয়ায় এক শিশু ধর্ষন মামলা নিয়ে ছেলে খেলা ?

হাসান আলী ॥ প্রতিনিয়ত দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষনের ঘটনা সংক্রামকের ন্যায় গ্রাস করে চলেছে। বেপরোয়া এই সংক্রামক রুখতে একের পর এক নানা কঠোরতার বিধান রেখে আইনও প্রনীত হয়েছে। এমনকি এই আইনের প্রয়োগে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আদালত পর্যন্ত আলাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবুও যেন লাগামহীন এই সংক্রামক ব্যাধীর কীটগুলির বেপরোয়াপনা থামছে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে শাস্তিদন্ডের মধ্যদিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যহত। কিন্ত এতো কিছুর পরও ধর্ষনের মতো পাষন্ডীয় অপরাধ করেও এই আইনের হাত থেকে রেহায় পেতে সমাজের তৃণমূল থেকে শুরু করে বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা নানা অপপ্রায়াসে লিপ্ত আছেন। ফলে প্রতিনিয়ত দেশে যে পরিমান ধর্ষনের ঘটনা ঘটে তার এক চতুর্থাংশই থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধর্ষন ঘটনাস্থলের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও জনপ্রতিনিধি, কিছু কিছু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী অথবা আইনজীবীদের সম্পৃক্ততায় কানের বিষ কানে মারার পরামর্শ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। এযেন গনিমতের মাল, পুরুষ মানুষ নারী বা শিশুকে ধর্ষন করেছে ? যাও বিষয়টি চেপে যাও। তাদের কথা মতো কাজ না হলেই কখনওবা ধর্ষিতাকে পতিতা, কলগার্ল অথবা দুশ্চরিত্রার অপবাদ, আবার কখনও ধর্ষকের বিবাহিত স্ত্রী কিংবা অবৈধ সম্পর্ক চর্চার অপবাদ। এভাবে সমাজের প্রভাবশালীদের অব্যহত নানমুখি চাপের মুখে ধর্ষিতা নারী, শিশু ও ভুক্তভোগী পরিবার শেষাবধি দৃষ্টান্তমূলক ন্যায় বিচার প্রার্থনার হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

কেস ষ্টাডি ঃ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা গোবিন্দপুর গ্রামে তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রী (১৩) কে পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে মামাতো ভাই দুই সন্তানের জনক জসিম (৩৫) ধর্ষন করে এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর বিষয়টি পিতা-মাতার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তারা কণ্যার কাছে বিষদ বিবরন শুনে গত ১২ জুন ডাক্তারি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তাদের কন্যা অন্ত:সত্ত্বা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা পরিবহন চালক ধর্ষণের অভিযোগে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত ধর্ষক জসিম সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী শিশু ছাত্রীর ২২ধারায় জবানবন্দীতেও ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই ধর্ষক জসিমকে আইনের হাত থেকে রক্ষার নানা অপকৌশল। এ মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এজাহারকারী তার লিখিত অভিযোগে কন্যার বয়স দেখিয়েছেন ১৩ বছর এবং সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। ২২ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা। আসামী জসিমের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। মাত্র কয়েকদিন পেরুতে না পেরুতেই হঠাৎ এজাহারকারীর সমর্থনে আসামী জসিমের পক্ষে জামিনাবেদনের সাথে একটি হলফনামা আদালতে উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। সেখানে ওই ছাত্রীর বয়স দেখানো হয়েছে ১৬ বছরের উর্দ্ধে এবং ধর্ষক জসিমের সাথে ওই ছাত্রীর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর বৈবাহিক সম্পর্কের কাবিননামা দাখিল করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী। বিষয়টি কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামীর নজরে আসায় এই গরমিল তথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাকে। বিজ্ঞ আদালত এমন গরমিল তথ্য উপস্থাপনের প্রকৃত কারণ জানতে চেয়েছেন। আদালত মনে করছেন সত্য তো একটাই হবে। এজাহারে উল্লেখিত তথ্য সঠিক হলে ভুয়া হলফনামার দায়ে হলফকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হতে পারে। নতুবা ভুয়া এজাহারের দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন এজাহারকারী নিজেই। আদালত মনে করছেন ওই শিশু ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে তার সন্দেহাতীত প্রমান থাকার পরও আদালতকে বিভ্রান্তের চেষ্টা দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন ভুয়া কাবিননামা অথবা বাল্যবিবাহের কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজীসহ সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রকৃত ঘটনা চিত্র কি বলে।

কুষ্টিয়া ১৮ নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রীবার্ষিক সম্মেলনে আজগর আলী

মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিবাজদের আওয়ামীলীগে কোন স্থান নেইঃ আতাউর রহমান আতা

জামায়াত-বিএনপির হাতে নির্যাতিত আওয়ামীলীগ কর্মিদের মুল্যায়ন করতে হবে

নিজ সংবাদ  ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেছেন, এই মজমপুর এক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘাটি ছিল। স্বাধীনতা পুর্ব এখান থেকেই পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হতো। শুধু তাই নয় বিগত ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপির হাতে নির্যাতনের শিকার এখানকার ত্যাগী আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরা দলের জন্য গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছে এই কমিটিতে তাদেরকে মুল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার কথা মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। তবেই তৃণমুল থেকে দল সুসংগঠিত হবে। গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া উদিবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রী বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইব্রাহীম শেখের সভাপতিত্বে সম্মেলন পুর্ব আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, কোন ভয়-ভীতি দেখিয়ে কমিটিতে পদ নেয়া যাবে না। ত্যাগী, পরিক্ষিত, নেতা কর্মি এলাকায় যাদের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তাদেরকে দলে এনে আগামী দিনে যারা প্রতিপক্ষ শক্তির সাথে রাজপথে সংগ্রাম করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শেষে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এর পর সম্মেলনের উদ্ধোধক ও শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান সম্মেলনের দ্বিতীয় সেশন শুরু করেন। তিনি তার বক্তব্য প্রদান শেষে উপস্থিত সকলের কাছে আগামীতে ১৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের জন্য কমিটি আহবান করেন একে একে ৮টি কমিটি তার হাতে এসে পৌছায়। এর পর তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার সেশন শেষ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেবউন নেছা সবুজ, শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মানজিয়ার রহমান চঞ্চল, ছালামত আলী, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মন্ডল প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক নুর আলম দুলাল, গোলাম রসুল ভাদু, প্রমুখ। এর আগে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিগণ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন। এর পর শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিনের সুচনা করেন। অনুষ্ঠানে যুবলীগ, স্বেছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

জনসমাগম দেখলেই আতঙ্কে ভোগে আ’লীগ সরকার – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে। জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আতঙ্কে শিউরে উঠছে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণকালে গতকাল (শুক্রবার) ফেনী থেকে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন, দাগনভূঁইয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাৎ, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং ফেনী পৌর যুবদল নেতা কাজী সোহাগকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এ দলটির উদ্যোগে সবসময়ই গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সভাসমাবেশ হয়। অথচ গণধিকৃত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশগুলোকে পন্ড করতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে। ‘গত ১৮ জুলাই বরিশালে বিএনপির উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে।’ মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশটি বানচাল করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে সংশি¬ষ্ট বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত রাখতে গ্রেফতারসহ নানামুখী হয়রানি করছে সরকার। তিনি বলেন, জনগণ নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তারা বিএনপিসহ দেশের সব বিরোধী দলগুলোর মূলোৎপাটনের মাধ্যমে নব্য বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। ‘পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যাতে বর্তমান দুঃশাসানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দি করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।’

 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে আগামী মাসের মধ্যে – মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আগামী মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেখানে নতুন শ্রমিক নিয়োগও শুরু হবে। এ ব্যাপারে সে দেশের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দালাল ও এজেন্টদের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমার প্রথম কাজই হবে তাদের ধরা যারা অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠান।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই না আমাদের দেশের কোনো মানুষ অবৈধভাবে বিদেশ যেতে গিয়ে মারা যাক।’ তিনি এ মৃত্যুকে মৃত্যু না বলে ‘হত্যাকা-’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দালালদের ব্যাপারে সজাগ থেকে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এর আগে মন্ত্রী দুপুর ১২টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত, অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের সঙ্গে ত্রিমুখী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। সে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবী পুলিশের।  শুক্রবার রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হররা এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত মোহন আলীর ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ২রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের কাছে খবর আসে কুষ্টিয়া সদরের হড়রা এলাকার মাঠে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মাদক ও ২টি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় এক এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।

আগামী নির্বাচনের আগে দারিদ্র্যতা ১০ শতাংশে নেমে আসবে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনের আগে দারিদ্র্যতা ১০ শতাংশে নেমে আসবে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা এখন দেশকে ক্ষুধা মুক্ত করেছি। আগামী নির্বাচনের আগে দারিদ্র্যতা ১০ শতাংশে নেমে আসবে। ক্রমান্বয়ে দেশ দারিদ্র্য মুক্ত হবে।” গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে তথ্যমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ২৬১ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং এডিপির অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, দারিদ্র্যতা এখনো আছে তবে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ রচনা করতে পেরেছি। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এখন খাদ্য রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে। সেজন্য আমরা বলতে পারি বাংলাদেশ এখন ক্ষুধামুক্ততা অর্জন করেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বিতা চাকমা, রাঙ্গুনিয়া পৌর সভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিছ আজগর প্রমুখ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করা অনেকাংশে কমে গেছে। তিনি বলেন, ঐচ্ছিক তহবিলের উপকারভোগী নির্বাচনে কারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন কারা দেননি তা বিবেচনা করা হয়নি। দারিদ্র্যতাকেই বিবেচনা করা হয়েছে। গত ১১ বছর ধরে প্রতি বছরই যিনি পাওয়ার যোগ্য তাকেই দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ক’দিন আগে বন্যায় রাঙ্গুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ টন জিআরের চাল বরাদ্দ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে। যেসব রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো পুনঃনির্মাণের জন্য সংশি¬ষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণসহ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। যারা সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর না রেখে শুধু ভোটের আগে এসে রাজনীতি করেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান হাছান মাহমুদ।

প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ কোন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলেছেন, দেশে ফিরলে সে বিষয়ে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, “এ ধরনের খবর দেওয়ার পেছনে তার নিশ্চয়ই একটি কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। দেশে আসলে নিশ্চয়ই আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করব।” ওয়াশিংটনে গিয়ে তোলা প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে গতকাল শনিবার ঢাকায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “তার উদ্দেশ্যটা কী, এটা আমাদের দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া প্রিয়া সাহা গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। ওই সম্মেলনে অংশ নেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, “প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন, তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন তিনি।” পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যেই প্রিয়া সাহা এই ধরনের বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ করেছেন।” এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন’র কর্মকর্তা জয় ক্যানসারার উদ্যোগে প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রে ওই সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছেন।

‘শারি’ নামে বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক প্রিয়া সাহা ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। পিরোজপুরের মেয়ে প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কোথায় ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং কার কার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার সঠিক আমরা তদন্ত করি নাই বা করেছি, সেগুলো আমরা অবশ্যই দেখব।”

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে কাঙাল হরিনাথের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকীর সভায় বক্তারা

সুুস্থ ধারার সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম.এ. রাজ্জাক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মোকাদ্দেস হোসেন সেলিম। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এডিটর ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু, শরীফ বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ আবু মনি জুবায়েদ রিপন, দপ্তর সম্পাদক এম.লিটন-উজ-জামান, প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তৌহিদী হাসান, নির্বাহী সদস্য এম এ জিহাদ, পি.এম.সিরাজুল ইসলাম, দেবাশীষ দত্ত, সুজন কুমার কর্মকার, নিজাম উদ্দিন, টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাসান আলী, সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশেদ, এডিটর ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু প্রমুখ। বক্তারা বলেন- সুুস্থ ধারার সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার। কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার উনিশ শতকের এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সাহিত্যিসাধক, সাময়িকপত্র-পরিচালক, সমাজ সংস্কারক এবং ধর্মবত্তা। ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকা পরিচালনার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন সময়ে জমিদার-মহাজন-নীলকরের অত্যাচার-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে যে সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তা একটি বিষ্মকর ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। স¤পূর্ণ আধুনিক পরিবেশের বাইরে নিভৃত পল্লীতে বসে সংস্কৃতি চর্চ্চার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন তা যথার্থই বিষ্মকর ও তুলনাহীন।

কুষ্টিয়ায় ছেলেধরা সন্দেহে একজন আটক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মবের  মোড় এলাকায়  গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসী এক বয়স্ক ব্যক্তিকে আটক করেন। আটককৃত ব্যক্তি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গ্রামের মৃতঃ আওলাদ হোসেন পাতুর ছেলে মোঃ কালা চাঁদ (৫৭)। এলাকাবাসীর দাবী কালা চাঁদ নামের বয়স্ক ব্যক্তিটি এলাকায় সন্দেহজনক ভাবে ঘুরাঘুরি করতে  দেখা যায়। কালা চাঁদের কাছে একটা বস্তা ও মরিচা পড়া একটা ছুরি দেখা যায়। কালা চাঁদের চলাফেরায় বেগতিক  দেখে উত্তেজিত এলাকাবাসী ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনি  দেয়। কালা চাঁদ স্বীকার করেছে এই ছেলে ধরা চক্রের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় ঘুরে  বেড়াচ্ছে।  কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে  পৌছে আহতাবস্থায় কালা চাঁদকে উদ্ধার করে থানায় রাখেন। এ ব্যাপারে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, কালা চাঁদ মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল না কি ছেলেধরা সেটা সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এলাকাবাসীরা দাবী করেছেন লোকটার চলাফেরায় সন্দেহ হওয়া ও বস্তাসহ মরিচা ধরা ছুরি পাওয়া যাওয়ায় ধারণা লোকটি ছেলে ধরা।

ইবিতে দু’দিনব্যাপী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভিসি ড. রাশিদ আসকারী

আর্থিক ও অফিসিয়াল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ মানব শক্তি গড়ে তুলতে চাই

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন এবারের সরকার পরিচালনায় তাঁর মূলনীতি হচ্ছে দুর্নীতি দমন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, যেখানেই দুর্নীতি সেখানেই ব্যবস্থা। আমরা তাঁর সেই ঘোষণা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বাত্বক গুরুত্ব দিয়ে চলেছি। এখানে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অনিয়ম করেছেন ইতোমধ্যে এমন ৩৬ জনকে তিরস্কার এবং বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। যা শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উদ্ভাবনীনীতি অনুসরণ করে আর্থিক ব্যবস্থা ও অফিসিয়াল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ মানব শক্তি গড়ে তুলতে চাই। এ বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। গতকাল শনিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইকিউএসি’র আয়োজনে, প্রশাসন ভবনের সভা কক্ষে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সাথে সর্ম্পকযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। অতীতের সকল জঞ্জাল সরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের সকলকে শৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে সতর্কতার সাথে প্রতিটি ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। তাহলে আমরা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সফল হতে পারবো।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আজকের এই সেমিনারের মধ্যদিয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কিভাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে,  এর আইনী দিক কি আছে,  আধুনিক পদ্ধতি কি আছে এবং বিদ্যমান তথ্য পদ্ধতিসমুহ কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে সম্পর্কে আমরা জানতে পারব। এর মধ্যদিয়ে আমরা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবো। অনুষ্ঠানে রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ রেজাউল করিম হাওলাদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ। সভাপত্বি করেন আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. কে এম আব্দুস ছোবহান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইবি’র উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট ড. নওয়াব আলী খান। দু’দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ’র ১৮৬তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ উনবিংশ শতাব্দীর কালজয়ী সাধক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ নূর- এ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মো: আবদুল মজিদ, কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারন সম্পাদক মমতাজ বেগম।

প্রধান আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তণ অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী। আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন, মুজিবনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন রায়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো: আনছার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদর্শক প্রভাষক সৈয়দ এহসানুল হক। এ ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক কে, এম আর শাহীন বক্তব্য রাখেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় বাবা হলধর মজুমদার ও মা কমলিনী দেবীর সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্রতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন কাঙ্গাল হরিনাথ। ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। কালজয়ী এই সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ ছিলেন অত্যার ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন। তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা প্রকাশ করেন। তিনি গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক শ্রেণীর অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারতœ প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন। এতে চর্তুদিকে সাড়া পড়ে যায়। ১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তাঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম, এন প্রেস স্থাপন করে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন। সাধকপুরুষ ও কালজয়ী সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। তিনি মৃত্যুকালে তিন পুত্র, এক কন্যা এবং স্ত্রী স্বর্ণময়ীকে রেখে যান। সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কালজয়ী সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে তাঁর জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)। এ ছাড়াও কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযতœ অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙ্গা ঘরে পড়ে রয়েছে। এজন্য অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহি এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান বক্তারা।