ঝিনাইদহ  ক্যাডেট  কলেজ  থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৬ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন পেয়েছে জিপিএ- এ। অন্যান্য বারের ন্যায় এ বছরও ফলাফলে শতভাগ পাশের গৌরব অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাডেট কলেজটি। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আতিকুর রহমান জানান, ক্যাডেটদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাবকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

বামন্দী বি সি ডি সি’র সভাপতির স্বেচ্ছাচারীতা ও অর্থ বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারীতা, অসদাচারনসহ অবৈধ পন্থায় অর্থ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি (বি সি ডি সি) বামন্দী শাখার সভাপতি মিলনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, বি সি ডি সি’র সভাপতির পরিচয় দিয়ে মিলন দীর্ঘদিন ধরেই সুকৌশলে নানা ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে আসছেন। কোন বাধাঁ না পেয়ে ইদানিংকালে মিলন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জানা যায় মিলন বামন্দী বাজারের ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক। তবে ব্যবসায়ী তিনি কোন দিনই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেন নি। বেচা-কেনা তেমন একটা হয় না কখনই। প্রচুর অবসর মিলনের। তাই তিনি নিজের দোকান ঘর ফেলে রেখে এ দোকান সে দোকানে ঘোরাঘুরি করে সময় কাটাতেন। অন্যান্য ফার্মেসী মালিকগণ ব্যবসা নিয়ে দারুন ব্যস্ততার কারনে বি সি ডি সি গঠনের সময় তাই মিলনকে সভাপতির দ্বায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে চেয়েছিলেন। মিলনও এ সুযোগটি লুফে নিয়ে এর সদব্যবহার শুরু করে। পিয়ন, দারোয়ান, সেক্রেটারী, সভাপতির দ্বায়িত্ব একাই সামলিয়ে মিলন অল্পদিনেই হয়ে উঠে বি সি ডি সি-র সর্বসেরা। মিলনই চাঁদা তোলে, মিলনই মিটিং ডাকে, মিলনই ঘর পরিস্কার করে, মিলনই রান্না করে,মিলনই মিটিংএ খাবার পরিবেশন করে। মাসে মাসে চাঁদা, মাসে মাসে মিটিং, মাসে মাসে ভোজ, সবই মিলনের দায়িত্বে সম্পন্ন হয়। প্রতি মাসের আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাসেই খরচ দেখিয়ে দেয় মিলন। হিসাব দেবার প্রয়োজন পড়ে না। মিলনের হয় পোয়াবারো। মিলনের অর্থ পিপাসা বাড়ে, এবারে নজর দেয় ঔষধ কোম্পানীর দিকে। কখনো পিকনিক, কখনো মিটিং খরচ, কখনও অন্য কোন অজুহাতে বি সি ডি সি’র নামে মিলন চাঁদা বা অনুদানের নামে নিয়মিত হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের অর্থ। এ অর্থের পরিমান অন্য কারো কাছে প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে রাখে বি সি ডি সি সভাপতি মিলন। বামন্দীতে ওষধ ব্যবসা করতে হলে মিলনের শর্ত না মানলে কোম্পানীর লোকদের বিপদের আশংকা প্রবল। ফলে হাতিয়ে  নেয়া মোটা অংকের সামান্য অংশের খবর পায় সদস্যরা। সিংহ ভাগ অর্থ নিরবে নিভৃতে মিলনের পকেটে চলে যায়। এখানেই শেষ নয়, মিলনের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে প্রতিমাসে মিলনের নানা চাহিদা পূরন করে আসছে কোম্পানী প্রতিনিধিরা। অবৈধ বা অনিয়ম হলেও ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দের সিংহভাগ ওষধ স্যাম্পল এবং গিফট অত্যান্ত নিভৃতে পৌছে যায় মিলনের কাছে। এছাড়াও প্রতিমাসে  কোম্পানীর লোকেরা নগদ অর্থ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখে মিলনকে। কারন সকলের মধ্যে একটি আশংকা প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যে, কোনভাবে মিলন কোন প্রতিনিধির উপর রুষ্ট হয়ে গেলে যে কোন পথে তার বিপদ নেমে আসবে। বামন্দী মার্কেটে তার ব্যবসা বন্ধ হবে, এমনকি তাকে কোম্পানীর চাকরী হারাতে হতে পারে। এই ভয়ে ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তটস্থ থাকে। মিলনের চাহিদা পূরন করে চলে। অন্যথা হলে মিলন তার সভাপতির পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অপছন্দের লোকের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সাংগঠনিক অভিযোগ রচনা করে। মনগড়া অভিযোগ বি সি ডি সি’র জেলা, উপজেলা নেতৃবৃন্দের নিকট সু-কৌশলে উপস্থাপন করে এবং তাদের সমর্থন আদায় করে নেয়। মিলনের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির বিষয়টি তখন হয়ে যায় সাংগঠনিক। নিরীহ-নিরাপরাধ ব্যক্তির উপর নেমে আসে প্রতিহিংসার খড়গ। আর এভাবেই আতংক, ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বামন্দী বাজারের ওষধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের একছত্র অধিপতি সেজেছেন এই মিলন। ফাতেমা ফার্মেসীর মালিক বি সি ডি সি’র সভাপতি সেজে নিজ দোকানে চালিয়ে আসছেন অবৈধ ব্যবসা। নূন্যতম ডাক্তারী কোন যোগ্যতা না থাকলেও তিনি করেন ডাক্তারী। ফার্মেসীতেই তিনি রক্ত পরীক্ষাগারের অবৈধ বাণিজ্য করছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে বামন্দী বাজারের কয়েকজন ফার্মেসী মালিক জানালেন, একনায়কতন্ত্রও বলতে পারেন স্বৈরতন্ত্রও বলতে পারেন, যা চলছে আমাদের এখানে। তারা বলেন, অখ্যাত কয়েকটি ইউনানী কোম্পানীর ভিটামিন আছে যা আমরা ৪০/৫০ টাকায় কিনি। ওষধের গায়ে বিক্রয় মুল্যে লেখা থাকে ৪০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। মিলনের নির্দেশ বিক্রয় মূল্যতেই ওটা বিক্রি করতে হবে, কমে নয়। আমার আত্মীয় স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধবের কাছেও কিছু কম মুল্যে বেচতে পারবো না। যদি বিক্রি করি এবং তা মিলন জানতে পারে তবে আমাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য আছেন, যারা মিলনের অবৈধ উপার্জনের ভাগ পেয়ে থাকেন। তারাই মিলনের সকল অনৈতিক কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং মিলনকে টিকিয়ে রাখছে। বামন্দী বাজার কমিটির নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি বলেন, মিলনের অবৈধ, অনৈতিক এবং বেপরোয়া কার্যক্রম সম্পর্কে হাজারো অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ইতোপূর্বে সে আমাদেরকে না জানিয়ে একটি পিকনিক উপলক্ষে ২৪ ঘন্টা বাজারের সকল ফার্মেসী বন্ধ করার ঘোষনা দিয়ে মাইকিং করেছিল। একক সিদ্ধান্তে সে আরো ঘোষনা করেছিল কোন ফার্মেসী খোলা পাওয়া গেলে তিন হাজার টাকা জরিমানা হবে। আমরা তার দায়িত্বহীনতা এবং ঔদ্ধত্য দেখে বিস্মিত হয়েছি। তবে বর্ত্তমানে তার কার্যক্রম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বি সি ডি সি’র বামন্দীর সদস্যরা কোন পদক্ষেপ না নিলে বাজারের স্বার্থে বাজারের কমিটির পক্ষ থেকে মিলনের সম্পর্কে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৬ জুলাই থেকে ফের ভারী বর্ষণের শঙ্কা

ঢাকা অফিস ॥ আগামি দু’একদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম থাকলেও ২৬ জুলাই থেকে রংপুর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল বুধবার আবহওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুছ জানান, আগামি দু’একদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম থাকলেও ২০ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং ২৬ জুলাই থেকে রংপুর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছুকিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে খুলনার কুমারখালিতে ৪৪ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ০৩ মিলিমিটার। গত মঙ্গলবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গতকাল বুধবার ঢাকায় সূর্যাস্ত যায় ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং আজ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২১ মিনিটে। আগামী ৩ দিনের শেষভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়ায় অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দূর্বল অবস্থায় রয়েছে।

 

কুর্শা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল বুধবার বিকেলে রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয় সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য হাসমত আলী, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহন জোয়ার্দ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ। সম্মেলন শেষে খবির উদ্দিনকে সভাপতি ও শাহাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়।

“একটা সাইকেলের খুবই দরকার ছিলো ওদের”

কাঞ্চন কুমার ॥ আমেনা খাতুন ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী। সে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাবা মোমন আলী একজন বর্গা চাষী। তিন বোন আর মা-বাবা নিয়েই তাদের পরিবার। আমেনার বাড়ী স্কুল থেকে স্কুলের দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। এত দুর থেকে সে প্রতিদিন স্কুলে আসে।  লেখাপড়াতেও আমেনা বেশ ভালো। ভালো ফলাফল করার আশায় সে গ্রামের স্কুল ছেড়ে ভর্তি হয়েছে এত দুরে। প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয় পায়ে হেঁটে তারপর ভ্যানে চড়ে। প্রায় ১ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে তারপর ভ্যানে উঠতে হয় তাকে। আবুরী থেকে আমলায় আসতে ১৫ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। আবার স্কুল থেকে বাড়ী যেতে ১৫ টাকা। এভাবেই রোজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় আমেনা খাতুন। আমেনা খাতুন জানায়, প্রতিদিন বাড়ী থেকে হেঁটে তারপর ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে স্কুলে আসি। আবার বাড়ী যেতে ১৫ টাকা। পত্র-পত্রিকায় টিভিতে দেখেছি মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। তাই আমিও শিখেছি সাইকেল চালানো। বাড়ীতে অনেকবার বলেছি একটা সাইকেল কিনে দিতে। নতুন না হোক একটা পুরাতন সাইকেল। তাহলে আমি সহজেই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারতাম। তবে সংসারে অভাবের কারনে সাইকেল কেনা হয়নি। একটা সাইকেলের খুবই দরকার ছিলো আমার। আমি নতুন সাইকেল পেয়েছি। প্রতিদিন স্কুলে আসতে আর আমার টাকা লাগবে না। গতকাল বুধবার  দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী ২০জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও গরীব এবং যাতায়াতের অসুবিধা রয়েছে এমন ২০জন ছাত্রীর মধ্যে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। সেখানে আমেনা খাতুনও ছিলো। সাইকেল পেয়ে খুব খুশি আমেনা। সানজিদা আরবী আলফী মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ী ধুবাইল এলাকায়। স্কুল থেকে ২-৩ কিলোমিটার। পিতা একজন কৃষক। কোনদিন সে স্কুলে আসে ভ্যানে আবার কোনদিন পায়ে হেঁটে। তারও রয়েছে স্কুলে যাতায়াতের অসুবিধা। সেও পেয়েছে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নতুন বাই সাইকেল। সানজিদা আরবী আলফী জানায়, বাড়ী থেকে স্কুলে আসতে অনেক কষ্ট হয়। অনেকসময় গ্রাম থেকে ঠিক সময়ে ভ্যান পাওয়া যায় না। স্কুলে আসতে প্রতিদিন স্কুলে ঠিক সময়ে আসা সম্ভব হয় না। আর কোন চিন্তা নেই আমি রোজ সাইকেল চড়ে স্কুলে আসবো। আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমাউল হোসনা নিশি জানান, পাঁয়ে হেটে স্কুলে যাওয়া আসা করি। মাঝে মাঝে ভ্যানে যায়। প্রতিদিন তো বাড়ী থেকে টাকা নিতে পারিনি। আজকে নতুন সাইকেল পেয়েছি। সাইকেল চড়েই রোজ স্কুলে যাবো-আসবো। আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামূল ইসলাম জানান, আমেনা খাতুন মেধাবী ছাত্রী। তার বাড়ী স্কুল থেকে প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার দুরে। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জানতে পারি মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থী যাদের যাতায়াতের অসুবিধা রয়েছে তাদের বাই সাইকেল প্রদান করা হবে। তারপর আমাদের সহায়তায় আমেনা আবেদন করলে আজকে আমেনাকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। একটা সাইকেল তার খুবই দরকার ছিলো। মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থী যাদের যাতায়াতের অসুবিধা রয়েছে তাদের মধ্য থেকে ২০ ছাত্রীকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাই সাইকেল প্রদান করা হয়েছে। মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নারী শিক্ষার উপরে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষে সরকার শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। মিরপুর উপজেলায় শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি আরো জানান, গ্রামাঞ্চলে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেক মেয়ে স্কুলে আসতে পারে না। আমরা এবছর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০জন মেধাবী ও গরীব ছাত্রীকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাই সাইকেল প্রদান করেছি। যাতে তারা স্বাচ্ছন্দে বিদ্যালয়ে যেতে পারে। এছাড়া মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষাউপকরণসহ নানা সুবিধাদি দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, নারী শিক্ষার উপরে গুরুত্ব দিয়ে গরীব ও মেধাবী ২০জন শিক্ষার্থীকে তাদের যাতায়াতের জন্য মিরপুর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা স্কুলে আসতে আরো উৎসাহী হবে।

 

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৪৪ বোতল ফেনসিডিল ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা, ১০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৮৭০০ প্যাকেট ভারতীয় নেশা জাতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল বাঁধেরবাজার মাঠে অভিযান চালিয়ে ৪৪বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। অপরদিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল চিলমারী শান্তিপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ৮৭০০ প্যাকেট ভারতীয় নেশা জাতীয় বিড়ি উদ্ধার করে। এছাড়াও একইদিন রাত ১২টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল শকুনতলা মাঠে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ  আটক হয়নি।

দৌলতপুরে জাতীয় মস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন কমিটি দৌলতপুরের আয়োজনে সাংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভুমি) আজগার আলী, দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ। সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য সপ্তাহের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা খন্দ: সহিদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে দৌলতপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এ্যাড. এমজি মাহমুদ মন্টুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বাধ্যতামূলক ডোপটেস্ট করা হবে

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভায় জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশকালে বাধ্যতামূলক ডোপটেস্ট করা হবে। কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ কথা জানানো হয়। সভায় জানানো হয়, এ লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ‘মাদকাসক্ত সনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট প্রবর্তন’ প্রকল্প প্রহণ করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশকালে বাধ্যতামূলক ডোপটেস্ট করা হবে। সভায় সঠিকভাবে ডোপটেস্ট অব্যাহত রাখার পরামর্শ প্রদান করা হয়। কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. আফছারুল আমীন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ সভায় অংশগ্রহণ করেন। কমিটি রেল লাইনের পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। সভায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমের উপর প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। চলমান মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করতে ব্যাটালিয়ন আনসার ফোর্সকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তর্ভূক্তকরণের সুপারিশ করা হয়। সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটে কুষ্টিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি অগ্নিকান্ডে ভস্মিভুত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সকল কক্ষের আসবাবপত্রসহ যাবতীয় কিছু ভস্মিভুত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং বি-ব্লক ৩৮২নং বাড়িতে সংঘটিত অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং আক্রান্ত বাড়ির তালাবদ্ধ সবকয়টি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে আগুন নিয়ন্ত্রন করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মো: আলী সাজ্জাদ। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের দাবি করেন প্রায় দেড়হাজার বর্গফুটের বাড়িতে চারটি কক্ষে থাকা ৩টি এয়ারকুলার, দুইটি ফ্রিজ, আসবাবপত্রসহ ওয়ারড্রবে থাকা নগদ তিন লক্ষ  টাকা, স্ত্রী ম্যাটস কর্মচারী শামীমা আক্তার, বড় ছেলে খোকসা উপজেলা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শৈবাল আহমেদ এবং রাজবাড়ি জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক আল-মাসুম আহমেদগণের সকল সকল শিক্ষা সনদসহ চাকুরী প্রাসঙ্গিক সকল অফিসিয়াল কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আমার নিজের মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ জমি জায়গার প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সবই ভস্মিভুত হয়েছে। প্রকৃত অর্থে বর্তমান অবস্থায় অগ্নিকান্ডে ভস্মিভুত বসবাস অযোগ্য বাড়িতে একরকম খোলা আকাশের নীচে জীবন যাপন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত এই বীর মুক্তিযোদ্ধ্।া স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ফ্রেক্সিলোড দোকানদার মানিক জানায়, বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ দেখি ৩৮২নং বাড়ির সবকয়টি কক্ষ থেকে কালো ধোঁয়াসহ প্লাস্টিক পোড়া বিকট গন্ধ বেরুচ্ছে। ওই বাড়িতে আগুন লেগেছে দেখে ফায়ার সার্ভিসকে কল করি। আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মো: আলী সাজ্জাদ জানান, হাউজিং বি ব্লকের ওই বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে প্রায় ৯০ভাগই ভস্মিভূত হয়েছে। বাড়ির তালাবদ্ধ সবগুলি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে দেখা যায় যা ছিলো তার সবই পুড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বাড়িটিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিতে সংযোগ দেয়া লাইনগুলি অনিরাপদ বা যথাযথ না থাকায় অতিরিক্ত চাপ থাকায় তারগুলিতে একযোগে আগুন লেগেছিলো। বাড়িটি পুনরায় মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বসবাসেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে কি পরিমান আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও নিরূপন করা যায়নি।

পাশের হার ৮২.২২

টানা দ্বিতীয় বারের মত দৌলতপুর সেরা খলিসাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ। টানা দ্বিতীয়বারের মত এবারও দৌলতপুরের সেরা নির্বাচিত হয়েছে এই কলেজটি। ৮২.২২% পাশের হার নিয়ে হয়েছে দৌলতপুর সেরা। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫শিক্ষার্থী। খলিশাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোফাজ্জেল হক জানান গত বছরও এই খলিশাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ দৌলতপুরের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। তিনি জানান ৫জন জিপিএ-৫ ছাড়াও সাধারণ ৮২% এবং বিএমএ শাখায় পাশের হার ৮৮%। ধারাবাহিক এই সাফল্যে তাই সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কলেজের সকল কর্মচারীদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ড. মোফাজ্জেল হক। তিনি বলেন দৌলতপুরের সেরা হয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের কলেজের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে শিক্ষার্থী। এজন্য সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি এই ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। কলেজের সভাপতি আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশার প্রতিও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবেও তিনি সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। খলিশাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ ছাড়াও পাশের হারের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড. ফজলুল হক মহিলা কলেজ। এই কলেজে পাশের হার ৭৭%, এছাড়া, বড় গাংদিয়া কলেজ ৭৫% এবং দৌলতপুর কলেজের পাশের হার ৬২%। এদিকে ৫জিপিএ-৫সহ পাশের হার সন্তোষজক হওয়ায় বাঁধভাঙা উল¬াসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা।

এসিসটেন্ট এটর্নি জেনারেলের নিয়োগ পেলেন কুষ্টিয়ার কন্যা শোভানা বানু

নিজ সংবাদ ॥ মহামান্য হাইকোর্টে এসিসটেন্ট এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ  পেয়েছেন কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার শামসুদ্দিন আহমেদ ও রিজিয়া খাতুনের কন্যা এডভোকেট শোভানা বানু। গত ৭ জুলাই তিনি এ নিয়োগপত্র হাতে পান। এডভোকেট শোভানা বানু কুষ্টিয়ার কুমারখালী-খোকসা আসনের প্রয়াত এমপি  শেখ আব্দুল আউয়াল’র পুত্রবধু। উল্লেখ্য, এডভোকেট শোভানা বানু মহামান্য হাইকোর্টে ২০০২ সাল থেকে সুনামের সাথে আইনজীবী হিসেবে কাজ করে আসছেন। এছাড়া তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ১৯৮৮-৮৯ স্বৈরাচার আন্দোলন ১/১১’র সকল মিটিং মিছিলে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কুষ্টিয়ার মেয়ে এডভোকেট শোভানা বানু মহামান্য হাইকোর্টে এসিসটেন্ট এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ায় কুষ্টিয়ার সুধীজনরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল আলম চুনু’র সাথে ভেড়ামারা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক, সমাজ সেবক ও দানবীর রফিকুল আলম চুনু’র সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার দুপুরে ভেড়ামারা কোচষ্ট্যান্ড সংলগ্ন নিজ অফিসে সৌজন্য সাক্ষাত করেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের আহবায়ক দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি রেজাউল করিম, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি সাংবাদিক নেতা ইসমাইল হোসেন বাবু, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সাম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক শাহ্ জামাল, দৈনিক আমার সংবাদের সাংবাদিক ফিরোজ মাহমুদ, দৈনিক কুষ্টিয়ার কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক ওয়ালিউল ইসলাম ওলি, দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সাংবাদিক আজিজুল হাকিম, দৈনিক আজকের সূত্রপাত পত্রিকার সাংবাদিক অধ্যাপক ফারুক হোসেন, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার মাসুদ রানা, দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি সাংবাদিক নোমান জহির রাজা, দৈনিক টিচার পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদ্দোল্লাহ সোহেল, কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার সাংবাদিক সাগর হোসেন পবন। রফিকুল আলম চুনু সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে সময় দেন এবং তাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন। পবিত্র হজ্বব্রত পালন করার জন্য তিনি এবছর পবিত্র মক্কা মদিনায় গমন করবেন এবং তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় জেলা মৎস্য অফিসের সংবাদ সম্মেলন

নিজ সংবাদ ॥ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ গোলাম কিবরিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার হোসেন আহমদ স্বপন, মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মোঃ শরিফুল ইসলাম, মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। এ সংবাদ সম্মেলনে জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, ১৭ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আলাচনা সভা,  শোভাযাত্রা, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি বিষয়ে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন, মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ, মৎস্য বিষয়ক আইন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা অংশ নেয়।

দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সবসময় ভালবাসতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ভালবাসার পাশাপাশি দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সবসময় ভালবাসবে। দেশের মানুষকে ভালবাসবে এবং দেশকে গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের জীবনকে যেমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, পাশাপাশি এই দেশকেও গড়ে তুলবে। এই চিন্তা-চেতনা যেন সবসময় তোমাদের মাঝে থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৯’র জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচিত ১২ জন সেরা মেধাবীকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসেইন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পুরস্কার বিজয়ী মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী পারশিয়া নাওয়ার অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা হচ্ছে এক ধরনের আলো। যা মানুষকে বিকসিত হবার সুযোগ দেয়। সে আলো থেকে যেন এদেশের কোন ছেলে-মেয়ে বঞ্চিত না হয়। সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষপূরণে নানা নীতিমালাও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বর্তমান যুগকে বিজ্ঞানের যুগ এবং বিজ্ঞার চর্চা এবং গবেষণা ছাড়া আজকের দিনে কোনকিছুই অর্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘বাংলাদেশ আজকে খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে সেটা আমাদের গবেষণার ফসল। যে কারনে গণিত ও কম্পিউটার শিক্ষার ওপর আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি।’ আমাদের বিজয়ের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের ইতিহাস থেকে এক সময় বাঙালি জাতি সম্পূর্ন বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘সে সময় একটা বিকৃত ইতিহাস শেখানো হতো।’

তিনি বলেন, ‘বিকৃত বা মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে যার শিক্ষা জীবন শুরু হয় তার জীনটাও মিথ্যা হয়ে যায়, সেভাবে উৎকর্ষ সাধন বা বিকাশ লাভ করতে পারে না। সেজন্য এই বিষয়গুলোকে সব চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আমরা মেধা অন্বেষণের একটা উদ্যোগ নিয়ে পুরস্কারের ব্যবস্থা করলাম।’ অনন্য সাধারণ মেধা অন্বেষণের লক্ষ্যে ও শিক্ষাক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসনে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দৃঢ় আস্থা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে মোট ১২ জনকে বছরের সেরা মেধাবী নির্বাচন করা হয়। ভাষা ও সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ-এই ৪টি ক্যাটাগরিতে এবং তিনটি গ্রুপে ১২ জন মেধাবীকে অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালের সেরা মেধাবী ১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে পুরস্কার স্বরূপ সনদপত্র, মেডেল এবং এক লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিজয়ীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরা আজকে যারা পুরস্কার পেয়েছ তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তোমরাই এদেশকে একদিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন একটা স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের মর্যাদা নিয়ে চলার মানসিক শক্তি পায় এবং তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ হয়। সৃজনশীলতা যেন তাদের মাঝে আরো গড়ে ওঠে, সেইদিকে দৃষ্টি রেখেই আমাদের সকল কার্যক্রম। ‘আমরা বিজয়ী জাতি’ এই বিষয়টি মাথায় রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই সেই বিজয়ী জাতি হিসেকে বিশ্ব দরবারে আমরা সবসময় মাথা উঁচু করেই চলবো।’ এক সময় বিশ্বে বাংলাদেশকে নানা বিষয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা হলেও আজকে আর সেই দিন নেই উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এখন বাংলাদেশকে সবাই বলে, বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের বিস্ময়কর মডেল। বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি আরো বলেন,‘কিন্তু এই ধারাবাহিকতা অবাহত রাখতে হবে। আর সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে সোনার ছেলে-মেয়ে দরকার তোমরাই হবে আগামীর দিনের সোনার ছেলে-মেয়ে।’

বাচ্চার পিতৃত্বের দাবিতে মামলা করবে সালমা

কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো:  শোয়েব খানের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকাররীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রী না থাকার কারণে তিনি বাসার কাজের বুয়া সালমা (৩৫) এর সাথে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দীর্ঘদিন অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। তার ওরষজাত একটি মেয়েও রয়েছে সালমার কাছে। গত মঙ্গলবার ওই কাজের বুয়া  বন কর্মকর্তার অফিসে এসে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বন কর্মকর্তা তাকে মারপিট করে অফিসের বাইরে তাড়িয়ে দেয়। তখনই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শোয়েব খান উঠে পড়ে লাগেন।  শোয়েব খান একদল সন্ত্রাসীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে  মেয়েটি হুমকির মুখে সরিয়ে দিয়ে নিজে আত্মগোপন করেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুন্ডু নিজে বন কর্মকর্তার বাসায় গিয়ে ওই বাসার কেয়ারটেকারকে গেইট খুলতে বলেন কিন্তু তিনি গেইট খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা বিকেলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে বন কর্মকর্তার বাসায় প্রবেশ করে সালমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। থানায় যেয়ে সালমা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের লাম্পট্যের নির্মম কাহিনী বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দীর্ঘদিন অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছে। সালমার গর্ভে শোয়েব খানের ওরষে একটি মেয়েও জন্ম নিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাকে বিয়ে করেনি। সালমা বন কর্মকর্তাকে স্বামী হিসেবে পেতে চান এবং তার মেয়ের পিতৃত্বের স্বীকৃতি দাবি করেন । এ বিষয়টি নিশ্চিৎ করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুন্ডু বলেন, সালমা বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও ঘটনাটি যেহেতু কুষ্টিয়ার নয়, সেহেতু আমরা তাকে টাঙ্গাইলে তার নিজ এলাকায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। পাশাপাশি বন কর্মকর্তা যেহেতু সালমার অভিযোগ অস্বীকার করছেন সেহেতু মামলা করে বাচ্চার ডিএনএ টেষ্ট করালে বাচ্চাটি কার জানা যাবে। এ ঘটনায় বক্তব্য নেয়ার জন্য কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের মোবাইলে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

ঢাকা অফিস ॥ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামশ জগলুল হোসেন আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ৩১ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৯ জুলাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই দিন বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে মোয়াজ্জেমকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। ১৭ জুন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস শামস জগলুল হোসেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করেন। এর আগের দিন ১৬ জুন শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে সোনাগাজী সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন নুসরাত। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন নুসরাতকে। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নও করতে শোনা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে। অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এর পর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে গায়ে আগুন দিয়ে দগ্ধ করে আসামিরা। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয় নুসরাতের।

এইচএসসিতে পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন

ঢাকা অফিস ॥ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। সেই অনুযায়ী এবার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৪ জন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানান। এর আগে সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের স্ব স্ব বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০। এছাড়া মাদরাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অর্থাৎ এইচএসসিতে পাস করেছেন ৮লাখ ৯ হাজার ১৪৯ শিক্ষার্থী, যা গড়ে ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছর ৮৬ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছেন ৭৬ হাজার ২৮১ জন। গড় পাশের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অর্থাৎ ভোকেশনালে এবার পাস করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন, যা গড়ে ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন জিপিএ-৫। এছাড়াও বিদেশ কেন্দ্রে মোট ২৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২৫৪ জন। যা শতকরা পাশের হার ৯৪.০৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬ জন শিক্ষার্থী। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। এরপর ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়। এবছর সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে এগিয়ে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, পাস করেছে ৭৩ হাজার ৩৫৮ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭১ জন শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, পাস করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭২৯ জন। তৃতীয় অবস্থানে যশোর বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পাস করেছে ৯৫ হাজার ৪৯৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৩১২ জন। চতুর্থ অবস্থানে দিনাজপুর বোর্ড। পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, পাস করেছে ৮৯ হাজার ২৩৩ জন। পঞ্চম ঢাকা বোর্ড। পাসের হার ৭১ দশমিক ০৯ শতাংশ, পাস করেছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ১৮৭ হাজার জন। ষষ্ঠ অবস্থানে বরিশাল বোর্ড। পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পাস করেছে ৪৪ হাজার ৮৮৭ জন, জিপিএ-৫ ১ হাজার ২০১ জন। সপ্তম অবস্থানে সিলেট বোর্ড। পাসের হার ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, পাস করেছে ৫১ হাজার ১২৪ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৪ জন এবং অষ্টম অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৬০ জন। পরীক্ষায় কৃতকার্য সকল পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণলয়, জেলা ও মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বিটিআরসি, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর সমূহ, কলেজ প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রত্যবেক্ষক, প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক, নিরীক্ষক, বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পর্ণ হয়। এবছর ফল প্রকাশের জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে ৫৫ তম দিনেই ফলাফল প্রকাশ করা হল। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে পূর্ব থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরামর্শে পাবলিক পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কর্মকৌশল প্রয়োগ করা হয়। যে কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার সময়ে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। তবে শুধু পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়লে ভালো মানুষ তৈরি হয় না। শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণে গুণান্বিত হতে হবে। নীতি নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে হতে হবে। এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯০৯টি। এদিকে কেউ পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ৪১টি।

কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও নবীন-বরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন-বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে নতুন শিক্ষাবর্ষের (২০১৯-২০) একাদশ  শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বনীন বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো: সামছুজ্জামান অরুণ, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নূর-এ আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: সাইদুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আব্দুল গাফফার। নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছালে সংসদ সদ্যসকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। পরে আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংসদ সদস্যসহ অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন নেয়। এ অনুষ্ঠানে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ কলেজে দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য,  পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। নবীন-বরণ অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ অতিথিদের সাথে নিয়ে কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো: শাহজাহান আলী বিশ্বাসের ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রিফাতের স্ত্রী মিন্নি রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ দেশজুড়ে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী বুধবার এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ূন কবীর বলেন, মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা সাংবাদিকদের জানানো হয়। পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ওই হত্যাকান্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারাদেশে আলোচনায় উঠে আসে। পরদিন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকেই। সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকান্ডে পত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। তবে শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে পাল্টা বলেছিলেন, দুলাল শরীফ ‘ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায়’ পড়ে তাকে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ কথা বলছেন। এ মামলার এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ মোট ১৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা মামলার মূল আসামি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

আ. লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, এই দলকে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। এই দলকে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের ধিকৃত দল। এতিমের অর্থ আত্মসাতের কারণে বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া কারাগারে, দলটির আরেক নেতা তারেক রহমান মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় দ-প্রাপ্ত হয়ে বিদেশে পলাতক। তারা (বিএনপি) এখনও এদেশে আন্দোলন করার হুমকি দিচ্ছে। তারা স্বপ্ন দেখে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসবে। যদিও এ স্বপ্ন এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। হানিফ বলেন, আবার তারা (বিএনপি) বলেÑ আন্দোলন করে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আমরা বারবারই বলেছি, খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে। তার মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয় আরেকটি পথ আছে সেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির কাছে তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা চাওয়া। তাহলে হয়তো রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারেন। এর বাইরে আর কোনও পথ খোলা নেই। বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে আসুন। আইনি প্রক্রিয়ায় আপনাদের নেত্রীকে মুক্ত করার পথ খোঁজেন। এর বাইরে বিকল্প কোনও পথ নেই। তিনি আরও বলেন, এ দেশের জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, আওয়ামী লীগের লাখ-কোটি নেতাকর্মী আছে, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকেন, তাহলে কোনও ষড়যন্ত্র সফল হতে পারে না। কোনও ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগের গায়ে আঘাত হানতে পারবে না। এই বিশ্বাস আমাদের আছে। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কারাগারে কখনও হা-হুতাশ করেননি। আমি যখন তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, আমাদের সাহস দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা কারাগারে বসেই আগামি দিনে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। দেশ পরিচালনার বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছিলেন। তাই, আজ দেশ উন্নতির শিখরে। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক সানিয়া বিনতে মাহতাব,বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

মিরপুরে শিক্ষাবৃত্তি, বিভিন্ন উপকরন ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরনকালে এসএম তানভীর আরাফাত

যে কোন মূল্যে আমরা মাদক নির্মূল করবো

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল, প্রশিক্ষিত ও দুস্থ্য মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন, কৃষকদের মাঝে বীজ, যুবকের মাঝে যুবঋণ ও নলকুপ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় মিরপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত (পিপিএম)। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না যায়, সে জন্য সরকার উপবৃত্তি চালু করেছে। এছাড়া, সরকারের বড় সাফল্য হচ্ছে বছরের শুরুতে সকল শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি  খেলাধুলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনোনিবেশ করতে পারলে দেশ ও জাতি পাবে সুনাগরিক। যারা আমাদের এ সোনার বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ স্বাধীনের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার, আর সেই সোনার বাংলা গড়ার কারিগর হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাই তোমাদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তিনি মাদক সম্পর্কে বলেন, যে মাদক গ্রহণ করে বা বিক্রি করে তারা সমাজের কীট। আমরা চাই না আমাদের আগামী প্রজন্মকে কোন কীটময় সমাজে রেখে যেতে। যে কোন মূল্যে আমরা মাদক নির্মূল করবো। মাদকের যে গডফাদার থাকুক, সে পুলিশ বা যে কোন বাহিনীতেই থাকুক, রাজনৈতিক নেতা হোক না কেনো, সে যেই হোক, কাউকে কিন্তু ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীর বড় পরিচয় হলো সে মাদকের সাথে জড়িত। মাদক ব্যবসায়ী কার ভাই, কার আত্মীয়, কার চাচা সেটা দেখবো না। এখনো সাবধান করে দিচ্ছি ভালো হয়ে যান। না হলে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি মাদক কারবারীদের জন্য প্রস্তুত। পুলিশ সুপার নারী নির্যাতন বিষয়ে বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশে আইনের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও নির্যাতন হচ্ছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত  আরো বলেন, কোন নারী নির্যাতনকারী, ধর্ষনকারীর স্থান কুষ্টিয়ায় হবে না। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করে। এমন শিক্ষক কুষ্টিয়ায় থাকবে না। দুর্নীতি নির্মুল সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হলো দুর্নীতি। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। সরকার দুর্নীতি দমনে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন। যারা সরকারী কর্মকর্তা রয়েছেন আপনারা ভালো করে শুনে রাখুন, দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হচ্ছেন এই সম্পদের হিসাব দেওয়া লাগবে। এতে শুধু আপনার নিজের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশের উন্নয়ন না। কোন সরকারী কর্মকর্তা, কোন পুলিশ সদস্য যদি দুর্নীতি করে সে যেই হোক দুদকের কাছে তথ্য দিন। যদি না পারেন তাহলে আমার কাছে তথ্য দিন। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, আপনারা জাতীর বিবেক। আপনাদের মধ্যে কিছু অসৎ মানুষ আছেন। আপনারাও ভালো হয়ে যান। আপনারা প্রতিটি ক্লাসে না পারেন অন্তত সপ্তাহে একদিন হলেও মাদক, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বোঝান। পিতা-মাতার কথা ছেলে মেয়েরা না মানলেও শিক্ষকদের কথা তারা মানে। সমাজ থেকে মাদক, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ধ্বংস করতে আপনাদের সহযোগিতা কাম্য। এসময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহম্মেদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, পৌর মেয়র এনামুল হক, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম প্রমুখ। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন, শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দরা উপজেলার ১শ’ ৫৯ জন গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি, উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের আওতায় ২০ জন দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রীকে বাইসাইকেল, প্রশিক্ষিত ৩০ জন দরিদ্র মহিলাকে সেলাই মেশিন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি ভিত্তিক সম্মাননা প্রদান, প্রাথমিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ১৭৪ জোড়া বেঞ্চ, উপজেলা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবকে ক্রীড়া সামগ্রী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।