বন্যায় দেশে খাদ্য সংকট হবে না – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বন্যা হলেও দেশে খাদ্য সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিন আয়োজিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ওই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সংকট নেই। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। শুধু খাদ্যগুদামে না, ত্রাণেও খাদ্য মজুদ আছে। যেকোনো অবস্থাকে মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত আছি। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে অধিবেশনগুলো সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যায় কোনো খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো ফসল তো লাগানো নাই। বন্যা নেমে গেলে কৃষকরা ধান লাগাবেন। কাজ করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকেরা কোনো সমস্যার কথা বলেছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা কোনো সমস্যার কথা বলেননি। সাধন চন্দ্র আরো বলেন, আমরা আরো চার লাখ টন ধান কিনব। ডিসিরা ধান কেনায় সাহায্য করছেন। এটা আরো জোরদার করার জন্য এবং আমাদের লোকেরা যেন আরো বেশি সহযোগিতা পায়, কৃষকদের কাছ থেকে যেন ধান কিনতে পারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি নির্দেশনা হচ্ছে, প্রতিটি জেলায় আমাদের নিরাপদ খাদ্যের অফিস হবে। সেখান থেকে মানুষ যেন নির্ভেজাল পণ্য গ্রহণ করতে পারে, সে জন্য তাদের আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এদিকে, কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এবারের বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ধান কাটার শ্রমিকের অভাব এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ধান ক্ষেতে কৃষকের আগুন লাগানোর ঘটনা সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলে এর আগেও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এবার বোরো মওসুমে চার লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। গতকাল মঙ্গলবার ডিসিদের সঙ্গে আলোচনার পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র বলেন, এবার চার লাখ টন ধান কিনব, গতকাল (গত সোমবার) পর্যন্ত এক লাখ ১৫ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। ওনারা (ডিসিরা) সাহায্য করছেন, সেটা আরও জোরদার করার জন্য এবং আমাদের লোকেরা যাতে আরও বেশি অ্যাকটিভ হয়, ডিসি সাহেবরা যাতে নির্বাহী অফিসারদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারে, সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। প্রত্যেক জেলায় নিরাপদ খাদ্যের অফিস হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য তাদের আরও কঠোর হওয়ার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। বন্যায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। খাদ্য গুদামে শুধু খাদ্যই নয়, ত্রাণও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করতে আমরা প্রস্তুত আছি। এখন ফসল নষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই, মাঠে কোনো ফসল নেই। এখন ধান লাগানোর সময়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বন্যায় বাঁধ ভাঙনের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পাশ্বর্বর্তী দেশে যে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির পানি নেমে আসছে বাংলাদেশে, ধাবিত হচ্ছে পানিগুলো। পানির পরিমাণ এত বেশি আমাদের নরমাল যে বাঁধ আছে এই বাঁধে কিন্তু ঠেকানো যাবে না। বাঁধ রক্ষায় প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ভাঙনের প্রবণতা হচ্ছে সেখানে ইমার্জেন্সি কাজ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। বাঁধ ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলো অনেক বড়। বড় বড় নদীগুলোকে আমরা ড্রেজিং করব। যেটা ৮-১০ কিলোমিটার চওড়া নদী সেটাকে আমরা ৪-৫ কিলোমিটারে নিয়ে আসব। এটাকে রেগুলার মেইনটেন্যান্স করব। ড্রেজিং করা মাটি ৪-৫ কিলোমিটার বাইরে ফেললে কাল্টিভেশন ল্যান্ড হবে। ওখানে ফসলের জমি হবে। নদীটা ছোট হয়ে আসল, নাব্যতা থাকবে তখন। তখন কিন্তু এটার প্রকোপটা কমে আসবে, বলেন জাহিদ ফারুক।

পোশাকের পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানিও বাড়ানোর আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ পোশাকের পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানিও বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএসসি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরফ) যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ ও বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস। এসময় সালমান এফ রহমান বলেন, রফতানি পণ্যের বহুমুখী করতে হবে। তবে সেটা পোশাককে বাদ দিয়ে নয়। পোশাকে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি। আরও উন্নতির সুযোগ আছে। পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, পোশাকের মতো সব রফতানি খাত সমান সুযোগ পাবে। অতীতে আমরা সেই সুযোগ দিইনি। এবার সে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সালমান এফ রহমান আরও বলেন, আমাদের গার্মেন্টসের পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের বাজারেরও বহুমুখীকরণ হয়েছে। আগে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি করতাম। এখন বিশ্বের অনেক দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। তবে শিল্পের এক খাত থেকে যখন আমরা অন্য খাতে যাচ্ছি, তখনই আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব দেখা দেয়- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিক সংকট না হলেও ম্যানেজারের সংকট হয়। সেই অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা বাইরে থেকে ম্যানেজার আনি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংকট থাকবে না। সালমান এফ রহমান এও বলেন, আগামি অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন ইজ অব ডুইং বিজনেসের র‌্যাংকিং ঘোষণা করবে, আশা করছি বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ডাবল ডিজিটে থাকবে। যদি আমাদের আশা পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), বেপজা ও হাইটেক পার্ক- এসব জায়গায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা পাবে। তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষক বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই’। সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। ওয়ার্কশপে ইআরএফ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ৭৪৪টি পণ্য রফতানি হচ্ছে। কিন্তু রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে একটি মাত্র খাত পোশাক শিল্প থেকে। আমরা মনে করি- কেবল একটি পণ্যের ওপর এভাবে নির্ভরশীল হয়ে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। আমাদের পণ্য বহুমুখীকরণের বাধা কোথায়? সেটি নিশ্চয় সরকারের নীতি নির্ধারকরদের অজানা নয়। তবে আমরা মনে করি- ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণের প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।

কুর্শা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাজিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিনারুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য হাসমত আলী, কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহন জোয়ার্দ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ। সম্মেলন শেষে মিনারুল ইসলামকে সভাপতি ও এমাজ উদ্দিন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়।

দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আজিজুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ কুমার পাল, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার হাসিম উদ্দিন হাসু ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত সুধীজন। সভায় অধিকাংশ বক্তা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হলেও বাল্য বিবাহ ও বিভিন্ন কৌশলে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সততার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, কেউ যদি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান দিতে পারে তা’হলে সে যেকোন ধরনের শাস্তি পেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তাকে জড়িয়ে একটি প্রচার বিমুখ পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে যা মনগড়া এবং কাল্পনিক। তিনি প্রকাশিত ওই সংবাদের দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদ জানিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশককে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির দাবি জানান। সভার সভাপতি ও দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী দৌলতপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, দৌলতপুর হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা যথাযোগ্য মর্যদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যে উদ্যাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুন্দর মেহেরপুর গড়তে কাজ করছেন গাংনীর কৃতিসন্তান নুর ইসলাম

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীর কৃতিসন্তান মো: নুর ইসলাম সমাজ সেবায় ব্যাপক ভুমিকা রাখছেন। শুধু সমাজ সেবাই না সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব দিয়ে দেশ ও দশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছেন। নুর ইসলাম একজন সফল ব্যবসায়ী তিনি ঠিকাদারি, ইটভাটা, ষ্ট্যাম্প ভান্ডার, মৎস্য, ভুষিমাল ও মৌসুমি ফলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে অন্তত ২শতাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া তিনি সমাজ সেবার মাধ্যমে এলাকায় গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছেন। এছাড়া সমাজের অসহায় বিধবা, এতিমদের পাশাপাশি ধর্মীয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। শুধু সমাজই না ব্যবসা বাণিজ্য’র মাধ্যমে যেমন বিপুল সংখ্যক মানুষে কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তেমনি প্রতিবছর সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব প্রদান করে দেশের উন্নয়নে বড় ভুমিকা রাখছেন তিনি। যেখানেই সামাজিক সমস্যা সেখানেই তিনি ছুটে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। সুন্দর মেহেরপুর গড়তে তিনি কাজ করছেন বলে জানান।  তিনি জানান, সরকারী সহযোগীতা পেলে এলাকায় বড় কলকারখানা তৈরি বিপুল পরিমান জনগোষ্টির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তাঘাট, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেকোন সমস্যা দিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  মো: নুর ইসলামের কাছে গেলে তাৎক্ষনাত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহন করেন। এছাড়া বিধবা নারী ও সমাজের অহবেলিত মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাদের উন্নয়নে ভুমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতে গোটা উপজেলাবাসির সেবা করার সুযোগ পেলে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সমাজ গঠনে তার ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।

১৫ দিনের মধ্যে পিঁয়াজ-রসুনের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পিঁয়াজ-আদা-রসুনের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা ও বাজারে যাতে কোনো ধরনের ফরমালিনযুক্ত খাবার বা ভেজাল খাবার না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। টিপু মুনশি বলেন, গত রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে আমাদের উদ্যোগের কিছু সফলতা পেয়েছি। তবে এখন যে অবস্থা সেখানে দেখা গেছে দুই একটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে পিঁয়াজ-আদা-রসুনের দাম। এজন্য জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে বাজারে যাতে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কিছু কারণ ছিল। কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। এতে ভারত থেকে আমদানিকৃত পিঁয়াজ কিছুটা নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে আগামি ১৫ দিনের মধ্যে এ অবস্থার উন্নতি ঘটবে। ভেজাল খাবার ও ফরমালিন নিয়ন্ত্রণে কি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রচলিত যে আইন রয়েছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত রমজান মাসে তারা যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে ছিল। এ ছাড়া ভোক্তা আইনেও অনেক বিচার, শালিস, জরিমানা হয়েছে। ফরমালিন ব্যবহার নিয়ে দেশে প্রচলিত আইনই যথেষ্ট শক্ত আছে। সেগুলো শক্তভাবে প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। দুধের ভেজাল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ (গতকাল মঙ্গলবার) দুধের বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ভেজাল খবার থেকে যাতে রক্ষা পাই সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মানতে জেলা প্রশাসকদের কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, আজ ডিসিরা কোনো সমস্যার কথা বলেননি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে সম্মতি দিয়েছেন তারা।

অনাচার-অবিচারের মহামারিতে দেশ ভরে উঠেছে: রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কবোধ করেন! দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার-অবিচারের মহামারিতে। আর অবৈধ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় কী ভয়াবহ হত্যাকা- ঘটেছে, সেটা লক্ষ্য করেছেন। আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সামনে এক আসামি আরেক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন, এ হত্যাকা-ের শিকার আমিও হতাম, কিংবা আমার কোনো সহযোগী বা আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি বলেন, সরকারের নিষ্ঠুরতার কোপানলে পড়ে খালেদা জিয়া এখন কারাগারে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামি ১৮ জুলাই বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের নামে অতীতের মতো কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তার উদ্দেশে বলতে চাই, আপনি যে বিশৃঙ্খলার কথা বলছেন, সেটিই তো উস্কানিমূলক, অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই এ ধরনের বক্তব্য রাখছেন। শেয়ারবাজার দৈন্য-দশাগ্রস্ত দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকা মানে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, লুটপাটের মহোৎসব। আওয়ামী সরকার আর শেয়ারবাজার একসঙ্গে চলতে পারে না। ১৯৯৬ সালের পর ২০১০ সালে শেয়ারবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বাজার মূলধন লুট হয়। এ টাকা ইউরোপ, আমেরিকা, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের রথী-মহারথীরা এ লুটপাটের নায়ক। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সাত বছর পরও লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। উল্টো শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান সারিতে রয়েছেন দেশের তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তারা শাস্তির বদলে আরও প্রতাপশালী হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, কবির মুরাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

মিরপুরে ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন

আমলা অফিস ॥ “পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টি সম্মত খাবার” এ শ্লোগানে কুষ্টিয়ার মিরপুরে তিন দিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এর আগে উপজেলা চত্ত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী এস এম জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মর্জিনা খাতুন, পৌর মেয়র এনামুল হক মালিথা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী শেষে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

শৈলকুপায় বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের মৃত্যু

শৈলকুপা অফিস ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আকস্মিক বজ্রপাতে পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত ৩দিন আগে নাটর থেকে নিজাম (৬০) ও তার ছেলে খায়রুল (৩৫) আনন্দনগর গ্রামের জামির মালিথার বাড়ীতে কামলার কাজ করতে আসে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে আনন্দনগর গ্রামের মাঠে ধান লাগানোর সময় কোন প্রকার ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই আচমকা বজ্রপাতে পিতা নিজাম ঘটনা স্থলে মারা যায়। এসময়  ছেলে খায়রুল ও ক্ষেত মালিক জামির মালিথা (৪৫) আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদেরকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খায়রুলকে মৃত ঘোষনা করেন।  শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যমুনায় রেকর্ড পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩৭ সে.মি. ওপর

 

ঢাকা অফিস ॥ সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে যমুনার পানির স্তর। ২০১৭ সালে ১৩৪ সেন্টিমিটার পানির রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকার পানি বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটারে ওপরে অবস্থান করছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আবদুল মান্নার এ তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২০১৭ সালে এ পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ছিল ১২১ সেন্টিমিটার ওপর। এদিকে বন্যায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যত পানির নিচে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বাসভবন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়সহ সব দাফতরিক কার্যালয় এখন পানির নিচে।এরইমধ্যে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি উঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠায় ঝুঁকি নিয়ে রেল চলছে। যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে রেল যোগাযোগও। উপজেলা ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে বলে ইউপি’র চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। উপজেলা সদর থেকে গুঠাইল বাজার, উলিয়া বাজার, শিংভাঙ্গা, কুলকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-গুঠাইল ও ইসলামপুর-কুলকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসলামপুরের ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে রয়েছে। উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা, গিলাবাড়ী, সাপধরী ইউনিয়নের আকন্দ পাড়া, পশ্চিম চেঙ্গানিয়া, পূর্ব চেঙ্গানিয়া, ওকাশাড়ীডোবার, কুলকান্দি ইউনিয়নের বেরকুসা, টিনেরচর, সেন্দুরতলী, মিয়াপাড়া, বেলাগাছা ইউনিয়নের কাছিমারচর, দেলীপাড়, গুঠাইল, পাথর্শী ইউনিয়নের শশারিয়াবাড়ী, মোরাদাবাদ, মুকশিমলা, হাড়িয়াবাড়ী পশ্চিম মুজাআটা, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ওলিয়া, রামভদ্রা, কাজলার অঞ্চলগুলোর বিস্তীর্ণ জনপদের বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত তিনদিনে বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতে বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ার চর, বরুল, চিনাডুলী ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়া নোয়ার পাড়ার বৌশেরগড়সহ প্রায় শতাধিক বসতভিটা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের উঁচুজায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। পশ্চিমাঞ্চলে ৮২টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও পৌর শহরের নতুন নতুন এলাকা চাড়িয়া, মোজাজাল্লা, বেপারীপাড়া প্লাবিত হয়েছে বলে কাউন্সিলর অঙ্কন কর্মকার ও মহন মিয়া জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী যমুনা থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ইসলামপুরের সাপধরী, চিনাডুলি, বেলগাছা, কুলকান্দি, নোয়ারপাড়া, পাথর্শী ও ইসলামপুর সদর ইউনিয়নগুলোর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা, পিংনা, আওনা, ভাটারা ও কামরাবাদ ইউনিয়নে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যায় বকশীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইসলামপুর উপজেলায় ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর-উলিয়া রাস্তার খরকা এলাকায় কাঠের পুরনো সেতুটি বন্যার পানির ¯্রােতে ভেঙে যাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চত্বরও আশপাশের বাসাবাড়িতে একবুক পানি।

পিতার ২০ হাজার টাকা দন্ড

দৌলতপুরে ৭ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদী ম্ধ্যামিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে পড়া এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করেছেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী। একই সাথে জোর করে বাল্য বিয়ে দেওয়ার অপরাধে পিতার ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে ফিলিপনগর ইউপি’র টলটলিপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বাল্য বিয়ে বন্ধ ও অর্থদন্ড করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানাযায় সোমবার রাতে বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগার আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার ফিলিপনগর ইউপির টলটলি পাড়া গ্রামের বাবু মালিথারর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় বাহিরমাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে পড়া ছাত্রীর বিয়ে বন্ধসহ পিতা বাবু’র বাল্য বিয়ে দেওয়ার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

‘শিল্পকলা পদক’ পাচ্ছেন ৭ শিল্পী

ঢাকা অফিস ॥ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ বছর ৭ শিল্পীকে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৮’ প্রদান করছে শিল্পকলা একাডেমি। তারা হলেন- কণ্ঠসঙ্গীতে গৌর গোপাল হালদার, যন্ত্রসঙ্গীতে সুনীল চন্দ্র দাস, নাট্যকলায় ম. হামিদ, লোক সংস্কৃতিতে মিনা বড়ুয়া, চারুকলায় অলকেশ ঘোষ, নৃত্যকলায় শুক্লা সরকার ও আবৃত্তিতে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পীদের হাতে পদক তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নীতিমালা অনুযায়ী ১৬ সদস্যের কমিটি প্রতি বছর পদকের জন্য গুণীজন নির্বাচন করে থাকেন। ‘শিল্পকলা পদক’র জন্য নির্বাচিত গুণীজনদের প্রত্যেককে একটি স্বর্ণপদক, ১ লক্ষ টাকা সম্মানী ও একটি সনদ প্রদান করা হবে। পদক প্রদানের জন্য তালিকাভূক্ত ক্ষেত্র ১০টি ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে- কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা, আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র ও লোকসংস্কৃতি। সেখান থেকে নির্বাচিত ৭টি ক্ষেত্রে প্রতি বছর ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করা হয়। এবার পদক প্রদান শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দেশের শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করা হয়।

জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের নির্দেশ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে ডিসিদের বলা হয়েছে। নতুন করে যেন কোনও বাঁধগ্রস্ত ক্ষতি না হয় তাও মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাঁধ ভেঙে আর যেন কোনও নতুন এলাকা প্লাবিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ শফিউল আলম। বাঁধ সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, পানি কমতে শুরু করায় ফেনীতে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা গেছে। পানি কমতে শুরু করলে সারাদেশে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে। প্রতিমন্ত্রী তিনি বলেন, বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটিকে ঠেকানো যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নদীগুলো ডুবে গেছে। এর প্রভাব এখানে এসেও পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই বিপর্যয় ঠেকাতে হবে। আমরা ভাটির দেশের মানুষ উজান থেকে পানি নেমে আসেবে, এটি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদের বড় বড় নদীগুলোতে চর পড়ে আছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে পারে না। এগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানো হবে। সেটি যদি আমরা করতে পারি তবে এর থেকে আমরা কিছুটা পরিত্রাণ পাবো।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর ৭ বছর কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় নিজ হেফাজতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে  কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এক জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীরা হলেন-ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জামিরুল মালিথা ওরফে রাজুর স্ত্রী মোছাঃ রওশন আরা ও একই গ্রামের তোজাম্মেল মালিথার ছেলে জামিরুল মালিথা ওরফে রাজু। মামলার বিবরণে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভেড়ামারা  মোঃ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স নিয়ে ভেড়ামারা থানাধীন  ষোলদাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় যান এবং আসামী মোছাঃ রওশন আরা ও মোঃ জামিরুল মালিথার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে  বসতঘর থেকে ১১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার কওে এবং আসামী মোছাঃ রওশন আরাকে গ্রেফতার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসী সকলেই জানায় আসামী  মোছাঃ রওশন আরা ও তার স্বামী মোঃ জামিরুল মালিথা এলাকার পেশাগত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। আসামীদের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১), ৯(খ) ও ২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-২, তারিখ-৬-১১-১৭ইং। পরে পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্শীট দাখিল করলে সেসন ৪৬২/১৮ নং মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমানীত হওয়ায় আদালত আসামীদের প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ের আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের এই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী এবং আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. আব্দুল মজিদ।

কুষ্টিয়া পৌরসভার সহযোগিতায় পূর্ণিমা তিথী উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান

গতকাল সন্ধ্যায়  কুষ্টিয়া পৌরসভার সহযোগিতায় পূর্নিমা তিথী  উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরন ও রবিন্দ্রসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় রবিন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আলম আরা জুঁই’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, পৌর এলাকার কবি আজিজুর রহমান সড়কে অবস্থিত রবিন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত মিলপাড়াস্থ লেগর লজ (কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী) কুষ্টিয়া শহরের একমাত্র রবিন্দ্রচর্চা কেন্দ্র। এই লেগর লজে রবিন্দ্রপ্রেমিরা দেশ-বিদেশ থেকে এক নজর দেখতে আসেন। এটা সংরক্ষন করা যেমন জরুরী তেমনি আগামী প্রজন্মদেরকে শুদ্ধ রবিন্দ্র সংগীত শেখানো অতিব প্রয়োজন। কেননা রবিন্দ্রনাথের দেশে জন্মগ্রহন করে শুদ্ধ রবিন্দ্রসংগীত গাইতে পারবেনা এটা কুষ্টিয়া তথা এদেশের মানুষের জন্য লজ¦াজনক। এজন্য জাতীয় রবিন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদ সহ বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার জন্য এই স্থানটি বেছে নিয়েছে। আর আমি পৌরসভার পক্ষ  থেকে সহযোগিতা করে আসছি। আমাদের তরুন প্রজন্মকে শুদ্ধ রবিন্দ্রসংগীত শেখানোর জন্য আমার সহযোগিতা অব্যহত থাকবে। আলোচনা শেষে জননন্দিত মেয়র তিনম্যাস ব্যাপী শুদ্ধ রবীন্দসঙ্গীত প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় রবিন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আকলিমা খাতুন ইরা। শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ’র সহকারী শিক্ষিকা আফরোজ আক্তার ডিউ, আতাউর রহমান বাদল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভা ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রেজাউল করিম মিঠু। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নারী ক্ষমতায়নে ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনে সাংসদদের ভূমিকা চান স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সংসদ সদস্যগণের সক্রিয় ভূমিকা, আর এখনই সেটা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়। গত সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য লিঙ্গসমতা ও একীভূত সমাজ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ একথা বলেন তিনি। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। শিরীন শারমিন বলেন, বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা আনয়নের জন্য ‘প্লানেট ৫০-৫০’ অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি আরও বলেন, নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথাগত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আর তাহলেই লিঙ্গসমতা অর্জন সম্ভব। পরে স্পিকার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এইচএলপিএফ’র পার্লামেন্টারি ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রোয়িং ইনইকুয়ালিটিস অ্যন্ড ডিসট্রাস্ট ইন গভর্নমেন্ট: ব্রেকিং দ্য সাইকেল’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় যোগ দেন। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি গ্যাব্রিয়েলা কুইভাস ব্যারন এ সভায় বক্তব্য রাখেন।

সব আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার আদালতে এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যঅধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। প্রসঙ্গত সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত তৃতীয় দায়রা জজ আদালত কক্ষে বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের উপস্থিতিতে হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানি চলাকালে এক আসামি অপর আসামিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। দুই আসামিই সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ২০১৩ সালের হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলার শুনানির দিন ছিল সোমবার। পুলিশ জানায়, সোমবার জেলার মনোহরগঞ্জ থানার হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসে হাসান ও ফারুক। বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস এজলাসে বসলে শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। শুনানি শুরু হলে আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছিলেন। এমন সময় হাসান কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি ফারুককে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। কিল-ঘুষির সঙ্গে ফারুকের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সে। আদালত কক্ষে সবাই অবাক বিস্ময়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকেন। তারা বুঝে উঠতে পারছিল না, আসলে কী হতে যাচ্ছে। আদালত কক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় ফারুক দৌড়ে এজলাসের পাশে বিচারকের খাস কামরায় ছুটে গেলে হাসান সেখানে গিয়েও তাকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে রক্তে ভেসে যায় আদালত কক্ষটি। একপর্যায়ে পুলিশ হাসানকে আটক করে। পুরো ঘটনা বিচারকের সামনেই ঘটে। উপস্থিত আইনজীবী এবং তাদের সহকারীরা ফারুককে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আজ কুমিল্লার এসপির সঙ্গে কথা বলে আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে বলেছি। তবে শুধু কুমিল্লার আদালত না, ৬৪ জেলার সব আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।

সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আশানুরূপ উন্নতি

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অপারেশন পরবর্তী স্বাস্থ্যের আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বুধবার দুপুরে ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. ফিলিপ কোহ সন্তোষ প্রকাশ করেন। ডা. ফিলিপ কোহ-কে উদ্বৃত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (উন্নয়ন) ডা. আবু নছর রিজভী হাসপাতাল লবিতে এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের। ডা. রিজভী জানান, দুপুরে কাদেরের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রতিটি প্যারামিটার আশানুরূপ উন্নতি করেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত ১৪ জুলাই সিঙ্গাপুর যান ওবায়দুল কাদের। এর আগে গত ৩ মার্চ ঢাকার নিজ বাসায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওবায়দুল কাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এরপর ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর পরামর্শে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের সফল বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। ৫ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে ছাড়পত্র পান কাদের। তবে ওই হাসপাতালের কাছেই ভাড়া বাসায় আরো কয়েক দিন থেকে যান কাদের। সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গত ১৫ মে দেশে ফেরেন তিনি। সিঙ্গাপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় অন্যান্যের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদের, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, দূতাবাস কর্মকর্তা গাজী আল আমিন উপস্থিত ছিলেন। বুধবার রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওবায়দুল কাদেরের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বন্যার বিস্তৃতি বাড়ছে, দুর্গত ১১ লক্ষাধিক মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী অববাহিকায় পানি বেড়েই চলেছে। দেশের কমপক্ষে ২০টি জেলায় বন্যার বিস্তৃতি ঘটেছে। দুর্গত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখ বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বন্যায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ডুবে কুড়িগ্রামে পাঁচটি এবং জামালপুরে দুটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীতে পানি আরও বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সেই সঙ্গে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সব নদীর পানি বাড়ছে। দেশের ৯৩টি নদ-নদীর পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৬৩টি পয়েন্টে পানি সমতল বৃদ্ধি ও ২৯টি পয়েণ্টে পানি হ্রাস পেয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ টি নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।সুরমা-কুশিয়ারা ব্যতিত দেশের সকল নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশসমূহের অনেক স্থানে অগামী ২৪ ঘন্টায় মাঝারী হতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামি ২৪ ঘন্টায় আত্রাই নদী, বাঘাবাড়ি ও পদ্মা নদী গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। লালমনিরহাট, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আগামি ২৪ ঘন্টায় উন্নতি হতে পারে। রোববার ১৪টি নদীর ২৫টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।পানি পরিস্থিতি ১টি পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ১টি পয়েন্টের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় (গত সোমবার সকাল ৯ টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত) বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর: উত্তরাঞ্চল: কুড়িগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯ উপজেলার পানিবন্দি এখন ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। ৮৯৯ হেক্টর জমির ফসল, ৭১ কিলোমিটার রাস্তা ও ২৭৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লালমনিহাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ উপজেলা। এখানকার ৯০৯৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাড়ে তিন হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি হিসাবে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার ২০ ইউনিয়নের ১৬ হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবিব জানান, বন্যাক্রান্ত লোকজনের জন্য এ পর্যন্ত ২৪৫ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবারের দেড় হাজার প্যাকেট ও সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, ধরলার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোগলহাট ইউনিয়নের ফলিমারী, খারুয়া ও ইটাপোতা গ্রামের বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রাম, শিবেরকুঠি, চর শিবেরকুঠি, বোয়ালমারী চর ও আলোকদীঘি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, বন্যায় জেলার ৩২৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ও বীজতলা তলিয়ে গেছে। গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলার ১ লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে গত সোমবার আরও তিনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এতে ৩১টি গ্রাম ও ওইসব এলাকার রাস্তাঘাট এবং ফসল নতুন করে পানিতে ডুবে গেছে। জেলার বন্যাকবলিত চার উপজেলা সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদরের ২১৩ গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার্তরা বিভিন্ন বাঁধ, আশ্রয় কেন্দ্র, স্কুল ও মসজিদ-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের সঙ্গে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু-পাখি রাখা নিয়ে পড়তে হয়েছে বিপাকে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, গত সোমবার রাতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে, গত সোমবার ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে চারটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরের ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের খোলাহাটি ইউনিয়নে কুঠারপাড়া এলাকায় ৫০ ফুট, গোদারহাট এলাকায় সোনাইল বাঁধের ১০০ ফুট ভেঙে গিয়ে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় বাঁধের ১০০ ফুট অংশ ধসে গেছে, আর ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ১৬ গ্রাম। পানি ঢুকে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ২৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ফুলছড়ি উপজেলায় তিনটি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বগুড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৮টি গ্রামের ৬৭ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। ৮ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী ভাঙনে ৩৮৫টি বাড়ি ভেঙে গেছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে বইছে। এনায়েতপুরের ব্রাহ্মনগাতী, আড়কান্দি, হাটপাচিল ও কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, বাঐখোলা পাটাগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চল: চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ উপজেলার মধ্যে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ির বেশিরভাগ ও অন্যান্য উপজেলা আংশিক প্লাবিত হয়ে দুর্গত সাড়ে চার লাখ মানুষ। ৬৭৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৯০৮৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা মহাসড়ড়ের উপর দিয়ে ২ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ দু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায়। চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যায় ২ জন ও নগরে পাহাড়ধসে ২ জন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজারে ৭ উপজেলায় পানিবন্দি ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ। ১৭৪০ হেক্টর বীজতলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা ৫টি। বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রুমা উপজেলায় নদীর ¯্রােতে ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। খাগড়াছড়ির ১০৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। দুর্গত মানুষের সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত।সিলেট অঞ্চল: সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ উপজেলার ১ লাখ ৪ হাজার লোক দুর্গত অবস্থায় রয়েছে। ১ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিলেটে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ উপজেলার ২ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ এখন বন্যাদুর্গত। জেলায় ১ হাজার ১৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৫ হাজার ৩৯৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। বামনপাশায় নির্মাণাধীন ২০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৫০০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট নষ্ট ও ফসলহানি রয়েছে। এছাড়া নেত্রকোণায় বন্যায় তিনটি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সোমবার সকালেও বজ্রপাতে কলমাকান্দায় একটি ছেলে মারা গেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মক্কায় বাংলাদেশি নারী হজযাত্রীর মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করতে গিয়ে এক বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। নিহত নারী হজযাত্রী নাম বেগম তাহমিনা নাসরিন (৪৮)। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর -বি এন (০২৭৪৭২২)। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। গত সোমবার সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই হজযাত্রীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মক্কার হজ কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান। তিনি আরো জানান, এ নিয়ে মক্কায় এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৪৫টি ফ্লাইটে মোট ৫৩ হাজার ২৫৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৬০৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন সেখানে পৌঁছান।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের রায়

কুষ্টিয়ায় ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যায় থানায় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সী মোঃ মশিয়ার রহমান এক জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন-ঝিনাইদহ হরিনাকুন্ডু উপজেলার ভেড়াখালী গ্রামের মজিবর রহমানের পূত্র জাফিরুল ইসলাম ওরফে পালক (৩০)।  আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই, সন্ধা ৭টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বলরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী বাড়ির পাশর্^স্ত কুমার নদে নিজেদের পোষা হাঁস তাড়িয়ে আনতে যায়। সেখান থেকে আসামী জাফিরুল ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক মুখে গামছা বেধে অপহরণ করে পাশর্^স্ত কলা বাগানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে ওই ছাত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের দ:বি: ৯(১) এবং ৭ ধারায় অভিযোগ এনে যুবক জাফিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যায় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন পুলিশ। কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ পিপি এ্যাড. আকরাম হোসেন দুলাল জানান, চাঞ্চল্যকর এই স্কুল ছাত্রী অপহরণ পূর্বক ধর্ষণ মামলায় আসামী জাফিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পূর্বক বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানী করেন এবং আসামীর বিরুদ্ধে আনীত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের দ:বি: ৯(১) এবং ৭ ধারার দুই অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় একটি ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ১ লাখ টাকা জরিমানা অপরটিতে ১৪ বছর কারাদন্ডসহ ৫০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।