দাম নিয়ে চিন্তিত পাট চাষীরা, সরকারী ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের দাবী

কৃষকের ঘরে পাট থাকলে দাম থাকে না

কাঞ্চন কুমার ॥ বাংলাদেশের অর্থকারী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। পাটের পন্যে ব্যবহারে সরকারী উদ্যোগ এবং দেশের আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগী এবং পরিবেশ বান্ধক হওয়ায় পাট চাষে কয়েক বছর কৃষকরা আগ্রহ দেখিয়েছে। জেলা পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবী, জেলায় এবার পাটের উৎপাদন ভালো, পাটের চাহিদাও রয়েছে রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার জেলায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। তবে দাম নিয়ে চিন্তিত জেলার পাট চাষীরা। সরকারী দাম প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা না পাওয়ায় আগামীতে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে চাষীরা বলে জানায় একাধিক পাট চাষীরা। এজন্য চাষীরা দায়ী করছেন পাটের ভরা মৌসুমে ন্যায্য দাম না পাওয়াকে। অর্থকারী ফসল হিসাবে পাটের গুরুত্ব রয়েছে চাষীদের কাছে। তবে চাষীর ঘরে পাট থাকা পর্যন্ত পাটের দাম বৃদ্ধি পায় না। কৃষকরা তাদের পাটের ন্যায্য মূল্য পায় না। এর পরিবর্তে মধ্যসত্ত্যভূগি ও পাটের অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ পাট চাষীদের। জেলা পাট অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয় ৮৮ হাজার ৭শ ৩৫ একর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ৯শ ৫১ বেল। চলতি মৌসুমে পাট চাষ হয়েছে ৮৯ হাজার ৫শ ৩৫ একর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮শ একর বেশি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করবে বলে জানানো হয়। এদিকে ২০১৮ মৌসুমে ৬৮ হাজার ৮শ ১৩ একর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিলো। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৯শ বেল। উৎপাদন হয়েছিলো ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৯শ ৫৪ বেল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০ হাজার ৫৪ বেল বেশি উৎপাদন হয়েছিলো। গত বছরের তুলনায় এবছর জেলায় পাট চাষ বেড়েছে ২০ হাজার ৭শ ২২ একর। এদিকে পাট চাষীদের দাবী গত বছরের তুলনায় এবছর পাটের চাষ কম হয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের মুল্য বৃদ্ধি এবং কৃষকরা ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পাট চাষী আব্দুল খালেক জানান, আমি গত বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। চাষের খরচ, লেবার খবর দিতেই আমার হিমসিম খেতে হয়েছিলো। পাট নিড়ানী, পাট কাটা, পাটের আঁশ ছাড়ানোর সময় লেবার পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও দ্বিগুন মুজুরি দেওয়া লাগে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে নিড়ানী, কাটা, টানা, জাগ দেওয়া, আঁশ আলাদা করা, শুকাতে প্রায় ৩৩টি লেবার লাগে। পাটের জন্য জনপ্রতি ৩শ টাকা করে দেওয়া লাগে এতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এছাড়াও জমি এবং সার-বীজ তো আছেই। সব চেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা টাকার জন্যই পাট চাষ করি তবে আমাদের ঘরে যখন পাট থাকে তখন পাটের বাজার দর মনপ্রতি ৯০০-১২০০ টাকা হয়। যখন কৃষকের ঘরে পাট থাকে না তখন ১৮০০ থেকে ২২০০ পর্যন্ত হয়। এক বিঘা জমিতে ৭-৮ মন পাট হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা তামাকের চাষ করি। তামাক পোড়ানোর ঘরের জন্য আমাদের পাট কাঠির প্রয়োজন হয়। এজন্য আমরা লস লাভের হিসাব না করে পাট চাষ করি। এবার আমি ২ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। পাট ভালোই হয়েছে তবে আমরা তো সঠিক দাম পাবো না। দাম পাবে ব্যবসায়ীরা। কৃষাণী বিউটি খাতুন জানান, একই জমিতে বার বার পাট চাষ করলে পাট একটু কম হয়। কৃষকরা পাটের সঠিক দাম পায় তাহলে পাট চিকন হলেও লাভ হয়। যে লেবার খরচ তাতে এবার লস হতে পারে। পাট চাষী শরিফুল ইসলাম জানান, জাগ দেওয়ার পরে পাটের আঁশ আলাদা করার ক্ষেত্রে একজন লেবার দিনে ১৫ আটি পাট ধুয়ে থাকে। সে মুজুরি নেয় ৫০০ টাকা। পাট কাটা, টানা, আঁশ ছাড়ানোর হিসাব করলে এক আটি পাটে প্রায় ৫০ টাকা খরচ হয়ে যায়। আরেকজন চাষী লালন আলী জানান, গত বছর আমি ১২ কাঠা জমিতে পাটের চাষ করেছিলাম। সেই পাট মাত্র ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম। অতিরিক্ত লস হওয়ায় এবছর পাটের চাষ করিনি। চাষী আলফাত হোসেন জানান, পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুকুর, খাল-বিল-জলাশয় নেই। আর পাটের সঠিক দাম তো কৃষক পায়না, পায় ব্যবসায়ীরা। তো তারাই পাট চাষ করুক। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, অধিকাংশ কৃষক গরীব হওয়ায় তারা পাট শুকিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করে দেয় এতে তারা পাটের সঠিক দাম পায়না। সরকারী ভাবে পর্যাপ্ত পাট ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নেয়। তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের মাটি পাট চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ অঞ্চলে তোষা পাটে চাষ বেশি হয়ে থাকে। এবছর পাটের মারাত্বক তেমন কোন পোকামাকড় দেখা দেয়নি। আশা করছি পাটের উৎপাদন ভালো হবে। জেলা পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস জানান, বর্তমানে পাটের বাজার দর ১৯২০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। আমরা কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে জেলার প্রায় ৩ হাজার পাট চাষীদের পাট চাষে প্রশিক্ষন দিয়েছি। সেই সাথে ১৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করেছি। তিনি আরো জানান, পাটের চাহিদা বৃদ্ধিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। “পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক আইন ২০১০” নিশ্চিতে আমরা কুষ্টিয়া জেলায় ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ২০৯ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি। এসময় আমরা ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছি। এবং আমাদের এ অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, জেলার খোকসা উপজেলায় একটি মাত্র বিজিএমসি’র পাটক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পরিবহন এবং আর্থিক সংকটের কারনে প্রান্তিক কৃষকরা সেখানে তাদের পাট না নিয়ে গিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্য মুল্য না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে সরকারী পাটক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হলে প্রান্তক কৃষকরা তাদের পাটের ন্যায্য মুল্য পেতে পারেন বলেন মনে করেন এই কর্মকর্তা।

স্টোকসের যে ডাইভ ইংল্যান্ডকে নিল ট্রফির কাছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা। অন্তত আরেকটি বল টিকে থাকার প্রবল তাড়না। একটি প্রাণপণ ডাইভ! রান আউট থেকে বাঁচতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বেন স্টোকস। বল তার বাড়ানো ব্যাটে লেগে ফাঁকা জায়গা দিয়ে পার হলো সীমানা। নিউ জিল্যান্ডের স্বপ্নও যেন গেল বেরিয়ে। ইংল্যান্ড এগিয়ে গেল জয়ের ঠিকানার পথে।ইংল্যান্ডের জন্য যা ছিল ভাগ্যের দারুণ ছোঁয়া, নিউ জিল্যান্ডের জন্য সেটিই দুর্ভাগ্যের প্রবল ছোবল। শেষ ওভারে স্টোকসের ডাইভ থেকে পাওয়া চারটি রান বদলে দিয়েছে খেলার মোড়। হয়তো ম্যাচের চূড়ান্ত ভাগ্যও গড়া হয়ে গেছে সেখানেই।ম্যাচের শেষ ওভারের সেটি ছিল চতুর্থ বল। আগের বলেই ট্রেন্ট বোল্টকে দুর্দান্ত একটি ছক্কা মেরেছেন স্টোকস। ওভারের প্রথম দুটি বল থেকে আসেনি রান। স্টোকসের ছক্কার পরও তাই এগিয়ে ছিল নিউ জিল্যান্ডই।বোল্টের করা চতুর্থ বলটি হলো ফুল টস। স্টোকস খেললেন মিড উইকেটে। ইংল্যান্ডকে জিততে হলে তার স্ট্রাইক ধরে রাখার বিকল্প ছিল না। তাই দারুণ দ্রুততায় দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটলেন স্টোকস। সীমানা থেকে ফিল্ডার মার্টিন গাপটিলের থ্রো ধেয়ে আসছিল স্টাম্পের দিকে। তখনই স্টোকসের ডাইভ। বল তার বাড়ানো ব্যাটের সঙ্গে লেগে চলে গেল সীমানায়। ধারাভাষ্য কক্ষে ইয়ান স্মিথ দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন চিত্র, ‘টুর্নামেন্টে কত কত ছক্কাই তো হলো। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬ রান এলো মাটি ঘেঁষে!”বল বাউন্ডারিতে না গেলে বাড়তি কোনো রানই হতো না। কারণ এভাবে থ্রো থেকে ব্যাটসম্যানের শরীর বা ব্যাটে লেগে বল ফাঁকা জায়গায় গেলেও সাধারণত ক্রিকেটের স্পিরিটের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রান নেয় না কেউ। স্টোকসও দৌড়ে বাড়তি রান নেওয়ার চেষ্টা করেননি। কিন্তু বাউন্ডারি হলে আম্পায়ার, অধিনায়ক কিংবা কারও কিছু করার থাকে না। নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।যেখানে স্টোকস রান আউটও হতে পারতেন, কিংবা পেতেন বড়জোর দুই, সেখানেই উপহার মিলল আরও চারটি রান। যে সমীকরণ হওয়ার কথা ২ বলে ৭, সেটি হয়ে গেল ২ বলে ৩!শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ টাই হয়েছে, স্কোর সমান হয়েছে সুপার ওভারেও। নিয়ম অনুযায়ী বাউন্ডারি সংখ্যা বেশি হওয়ায় জিতে গেছে ইংল্যান্ড। ওই ডাইভের সৌজন্যে ৪ রান না হলে হয়তো ম্যাচ সুপার ওভারেই গড়াত না!কিন্তু এই নিয়ম কি থাকা উচিত? ফিল্ডার অবশ্যই চেষ্টা করবেন স্টাম্পে লাগাতে। ব্যাটসম্যানও অবশ্যই চাইবেন যে কোনোভাবে নিজেকে রক্ষা করতে। সেই প্রক্রিয়ায় একটি ভালো থ্রো করে যদি উল্টো খেসারত দিতে হয়, তাহলে এই নিয়ম কতটুকু যৌক্তিক?ফিল্ডিংয়ের সময় থ্রো শরীরে বা ব্যাটে লাগলে ‘ডেড বল’ করে দেওয়ার আলোচনা আগেও নানা সময়ে টুকটাক শোনা গেছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়মের প্রসঙ্গ উঠল। কেন উইলিয়ামসন বরাবরই আপাদমস্তক ভদ্রলোক ও প্রচন্ড বিনয়ী। আইন বদলের কোনো কথাই নেই তার। বরং নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের মতে, এটি ছাড়াও ম্যাচে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল।“এই নিয়ম তো অনেক দিন থেকেই আছে। আমার মনে হয় না আমাদের এভাবে ভাবা উঁচিত হবে যে ওখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। ছোট ছোট আরও অনেক কিছুই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।”“ম্যাচ টাই হলে, প্রত্যেকটি আলাদা ডেলিভারি নিয়ে কাঁটাছেড়া করা যায়। হতে পারত তাই অনেক কিছুই। এই হার হজম করা অবশ্যই কঠিন। তবে এটিই বাস্তবতা।”ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান জানালেন, ওই সময়ের পরিস্থিতি বুঝতেই তার বেশ খানিকটা সময় লেগেছে।“আমি ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না, ওই সময় কী হচ্ছিল। বেন ডাইভ দিয়েছেন, চারপাশে ধুলো উড়ছিল। তার সঙ্গে লেগে বল সীমানায় চলে গেল এবং কিউই ক্রিকেটাররা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বলছিল, “এসব কী হচ্ছে!” আমি গ্রেফ ওই মুহূর্তে থাকতে চেষ্টা করেছি।”তবে লর্ডসের ব্যালকনিতে বসে নিজেদের এই সৌভাগ্য দেখেও কোনো উল্লাস বা উদযাপন করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক।“আমি উদযাপন করিনি কারণ। কারণ কে জানে, সামনে এমন কিছু আমাদের ক্ষেত্রেও হতে পারে! খুবই সূক্ষ্ম ব্যবধান ছিল আজ। যে কারও ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। আমরা এসব নিয়েই কথা বলেছি যে এমনকি সূক্ষ্মতম সুযোগও কাজে লাগাবে হবে। এসব ম্যাচে সবসময়ই নিজের খেলার চূড়ায় থাকতে হবে।”ওই বলে পাওয়া ৬ রান নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে আরও। নিয়ম অনুযায়ী, এভাবে ওভারথ্রো থেকে বাউন্ডারি এলে সেই চার রানের সঙ্গে দৌড়ে নেওয়া তত রানই যোগ হবে, ফিল্ডার বল ছাড়ার আগে যতবার দুই ব্যাটসম্যান রানিং বিটুইন দা উইকেটে পরস্পরকে অতিক্রম করতে পেরেছেন। এই ম্যাচের ক্ষেত্রে, স্টোকস ও আদিল রশিদ একবার প্রান্ত বদল করলেও পরের রানটির সময় গাপটিল বল থ্রো করার আগে দুই ব্যাটসম্যান পরস্পরকে অতিক্রম করতে পেরেছিলেন কিনা, নিশ্চিত নয়।গাপটিল থ্রো করার আগে দুই ব্যাটসম্যান পরস্পরকে অতিক্রম না করলে বাউন্ডারির সঙ্গে কেবল ১ রান যোগ হবে। সেক্ষেত্রে ছয়ের জায়গায় হতে পারত পাঁচ রানও। ম্যাচের প্রেক্ষাপটে সেই ১ রান হতে পারত মহামূল্যবান। এটি নিয়েও বেশ চর্চা হতে পারে সামনের দিনগুলোয়।

ফেদেরারকে হারিয়ে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে রজার ফেদেরারকে হারিয়ে উইম্বলডনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতাটির শিরোপা জিতলেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা।সেন্টার কোর্টে রোববার পুরুষ এককের শিরোপা লড়াইয়ে প্রথম সেট হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন রেকর্ড ২০টি গ্র্যান্ড ¯¬্যাম জয়ী ফেদেরার। তৃতীয় সেটে আবারও বাজিমাত করেন জোকোভিচ। বারবার পট পরিবর্তনের রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে উইম্বলডনে পঞ্চম শিরোপা জিতেন সার্বিয়ান তারকা।চার ঘণ্টা ৫৫ মিনিট স্থায়ী ম্যাচটি ৭-৬, ১-৬, ৭-৬, ৪-৬, ১৩-১২(৭-৩) গেমে জিতেন জোকোভিচ।গত ১২ মাসে পাঁচ গ্র্যান্ড স্ল্যামের চারটিতে ফাইনালে উঠে সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হলেন জোকোভিচ। ক্যারিয়ারে ৩২ বছর বয়সী তারকার এটি ১৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।ফেদেরারের বিপক্ষে ৪৮ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে জোকোভিচের এটা ২৬তম জয়।টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ছিল অগাস্টে ৩৯ বছর বয়সে পা দিতে যাওয়া ফেদেরারের সামনে। কিন্তু এ যাত্রায় সেটা আর হলো না। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে উইম্বলডনের এককে রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন মার্তিনা নাভ্রাতিলোভাকে ছোঁয়ার অপেক্ষাও বাড়লো সুইস তারকার সামনে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পরও যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না জোকোভিচের। বলেন, “এটা পুরোপুরি স্বপ্নের মতো।” চ্যাম্পিয়নকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেদেরার বলেন, “অসাধারণ একটি ম্যাচ ছিল। দীর্ঘ লড়াই, ম্যাচটিতে সবকিছু ছিল। নোভাক, অভিনন্দন তোমাকে।”

আফ্রিকা নেশন্স কাপের ফাইনালে সেনেগাল-আলজেরিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আত্মঘাতী গোলে জিতে আফ্রিকা নেশন্স কাপের ফাইনালে উঠেছে সেনেগাল। অন্য সেমি-ফাইনালে রিয়াদ মাহরেজের দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দুর্দান্ত গোলে জিতে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে উঠেছে আলজেরিয়া।আগামী শুক্রবার মুখোমুখি হবে দুই দল। ১৯৯০ সালে প্রথম নেশন্স কাপ জেতা আলজেরিয়া লড়বে দ্বিতীয় শিরোপার জন্য। ২০০২ সালের রানার্সআপ সেনেগালের সামনে প্রথম শিরোপা জয়ের হাতছানি।মিশরের কায়রোতে রোববার প্রথম সেমি-ফাইনালে আত্মঘাতী গোলে তিউনিসিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারায় সেনেগাল। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে দুই দলই পেনাল্টি পেয়েছিল, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি কেউ। অতিরিক্ত সময়ে সাদিও মানের ফ্রি-কিক গোলরক্ষকে ফিস্ট করার পর বল দিলান ব্রনের মাথায় লেগে জালে জড়ায়।বাকিটা সময় এ গোল ধরে রেখে দ্বিতীয়বারের মতো নেশন্স কাপের ফাইনালে ওঠে সেনেগাল। ২০০২ সালে ক্যামেরুনের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়েছিল তাদের।দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে আলজেরিয়া জিতে ২-১ গোলে। ৪০তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৭২তম মিনিটে ওডিয়ন ইঘালোর স্পট কিকে সমতায় ফেরে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়া। ডি বক্সের ভেতরে আলজেরিয়ার এক খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে লক্ষ্যভেদ করে আলজেরিয়াকে ফাইনালে তোলেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড মাহরেজ।

আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ানো সাকিব আল হাসান জায়গা পেয়েছেন আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে। সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ড দল থেকে। দলকে নেতৃত্ব দেবেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ও ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট কেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপ একাদশ: জেসন রয়, রোহিত শর্মা, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), জো রুট, সাকিব আল হাসান, বেন স্টোকস, অ্যালেক্স কেয়ারি (উইকেটরক্ষক), মিচেল স্টার্ক, জফরা আর্চার, লকি ফার্গুসন, জাসপ্রিত বুমরাহ।