ফ্লাইটে জমজমের পানি ‘নিষিদ্ধ’ করে ক্ষমা চাইল এয়ার ইন্ডিয়া

ঢাকা অফিস ॥ ফ্লাইটে জমজমের পানি বহন করা যাবে না সিদ্ধান্ত জানানোর পর সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর আগে সৌদি আরবের জেদ্দা ও ভারতের কয়েকটি শহরের মধ্যে চলাচলকারী দুটি ফ্লাইটে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমজমের পানি বহন করা যাবে না বলে চলতি মাসের প্রথমদিকে দেওয়া এক নোটিশে জানিয়েছিল ভারতের পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি। মঙ্গলবার টুইটারে দেওয়া এক সংশোধনীতে এয়ারলাইনটি বলে, “এআই৯৬৬ ও এআই৯৬৪ এ জমজম ক্যান বহন না করার বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তা সংশোধন করে যাত্রীরা অনুমোদনযোগ্য লাগেজের সঙ্গে জমজম ক্যান বহন করতে পারবেন বলে জানাচ্ছি আমরা। যে অসুবিধা তৈরি হয়েছিল তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।” ট্র্যাভেল এজেন্ট ও হজযাত্রীদের দেওয়া আগের ওই নোটিশে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের জেদ্দা-হায়দ্রাবাদ-মুম্বাই ও জেদ্দা-কোচিন ফ্লাইটে জমজমের পানি বহন করা যাবে না বলে জানিয়েছিল। চলতি মাসের ৪ তারিখে এয়ার ইন্ডিয়ার জেদ্দা কার্যালয় থেকে নোটিশটি ইস্যু করা হয়েছিল বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। ইস্যু করার পর থেকেই নোটিশটি ভাইরাল হয় এবং অনেক হজযাত্রী ও ট্যুর অপারেটর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। “উড়োজাহাজ পরিবর্তন করায় ও সীটের সংখ্যা সীমিত থাকায় ফ্লাইটে জমজমের ক্যানগুলো নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না,” ওই নোটিশে এমনটি বলা হয়েছিল।এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য অনেক হজযাত্রী কংগ্রেস দলীয় এমএলএ আমিন প্যাটেল কাছে যাওয়ার পর তিনি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখে হাজীদের জমজমের পানি বহন করার অনুমতি দিতে এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্দেশনা দিতে অনুরোধ করেন।এর পাশাপাশি ভারতের হজ কমিটির প্রধান নির্বাহী এমএ খান জানান, হজ থেকে ফেরা প্রত্যেক যাত্রীকে জমজম পানির পাঁচ লিটারের ক্যান বহন করতে দিতে এয়ার ইন্ডিয়া বাধ্য। “এটি এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে হজ কমিটির স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় তিন ফার্মেসিকে জরিমানা

ঢাকা অফিস ॥  হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। এ অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। একই সঙ্গে অধিদফতরের পক্ষ থেকে দুটি ফার্মেসি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ও মাসুম আরেফিন। কার্যক্রমে সহায়তা করেন শাহবাগ থানা পুলিশের সদস্যরা। অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শাহবাগ এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ওপর তদারকি করা হয়। এ সময় মেয়াদ ছাড়া ওষুধ বিক্রির অপরাধে শাহবাগের মেসার্স মেডি কোর্স ও পপুলার মেডিকেল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বেলভিউ ফার্মাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুমারখালিতে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তিনি কুমারখালির সদকী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বিকালে তাঁর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। এসময় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন সদকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদকী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মজিদ, কুমারখালি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রবিউল আওয়ালসহ আরো অনেকে। সভায় প্রয়াত আবদুল করিমের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কালুখালীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাঃ বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৯ এর ফাইনাল খেলা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে স্থানীয় রতনদিয়া সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে বিকাল ৩টায় প্রথমে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ফুটবল টুর্নামেন্টে বিলশ্যাম সুন্দরপুর মনিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয় ১-০ গোলে হরিণবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে। অন্যদিকে বিকাল ৪টায় একই মাঠে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টে গোপালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-০ গোলে ঘাটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করে। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মোঃ সহিদুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রশিদ, সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন, জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ এনায়েত হোসেন, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মনিরুজ্জামান চৌধুরী মবি, রতনদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নুল ইসলাম ফরিদ, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুধে অ্যান্টিবায়োটিক 

গবেষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুমকি সচিবের

ঢাকা অফিস ॥  দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির কথা জানিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ওই গবেষকদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর খামার বাড়িতে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘নিরাপদ তরল দুধ উৎপাদন: দেশীয় দুগ্ধশিল্প রক্ষা ও বিকাশে করণীয়’ শিরোনামে এক সভায় এই হুমকি দেন তিনি। সরকারের এই কর্মকর্তার মতে, এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশে প্রটোকল মানা হয়নি। তিনি বলেন, “রিচার্সের ফলাফল অবশ্যই পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশ করতে হবে। তারা দেখবে এই নমুনা সারা দেশকে কাভার করে কি না, গবেষণার পন্থা ঠিক আছে কি না এসব নিরীক্ষা করবে। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে ফলাফল ব্রিফ করতে হয়। তারপর এমন গবেষণা প্রকাশ করতে হয়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “পিয়ার রিভিউড জার্নালে যদি প্রকাশ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আগামী সাত দিনের মধ্যে তা মন্ত্রণালয়ে হাজির করুন। যদি না করেন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন তারা। পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার সবগুলোতেই লেভোফ্লক্সাসিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ছয়টি নমুনায় এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের চারটি নমুনাতে ডিটারজেন্ট এবং অপাস্তুরিত দুধে একটি নমুনাতে ফরমালিন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকে দেশের উদীয়মান দুগ্ধ শিল্পের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যায়িত করা হয়েছে মঙ্গলবারের এই আলোচনা সভায়। জাতীয় ডেইরি উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, “ডেইরি শিল্প একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, একটি উদীয়মান শিল্প এটি। এই শিল্পকে যদি কোনো রকমে বাধাগ্রস্ত করে দেওয়া যায় তাহলে গুঁড়ো দুধের যেমন বাজার সৃষ্টি হয়েছে এই দেশে তেমনি তরল দুধের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের বাজার তৈরি হবে। সেজন্য দেশীয় ডেইরি শিল্পের অব্যাহত গতি থামিয়ে দেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। একজন গবেষক দুগ্ধ শিল্প নিয়ে একটা গবেষণা করে ছেড়ে দিলেন মিডিয়ায়। ওনার কি এজেন্ডা আছে এর পেছনে, উনি কি এ ধরনের কাজ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত?“ এই আলোচনা সভায় অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি আসেননি বলে জানান আয়োজকরা। তার জন্য অনুষ্ঠান এক দফা পেছানোরও তথ্য দেন তারা। আলোচনা সভায় প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, “দেশে খামারিদের উৎপাদিত দুধে ভয়াবহ রকমের কিছু নেই। এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সবাই তরল দুধ ও পাস্তুরিত দুধ পান করতে পারবেন।” তবে ভূ-প্রাকৃতিক কারণে দুধে কিছু দূষণ যুক্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি। “ক্যাডমিয়াম, মেটাল, শিসা এগুলো কেবল গরুর দুধেই নয়, শহর ও শিল্পাঞ্চলের শস্যের মধ্যেও পাওয়ায যাচ্ছে প্রকৃতিক কারণে।” কেন এই ধরনের গবেষণা ফলাফল সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হল সেই প্রশ্ন রাখেন তিনিও। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন, “মাত্র ১০টি দুধের নমুনা নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাস্তুরিত দুধ ৭টা এবং অপাস্তুরিত দুধ তিনটা নমুনা। “পাস্তুরিত দুধে ফ্যাট নিয়ে একটা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে গবেষণায়। বিএসটিআই বলছে, কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ফ্যাট থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফলে পাওয়া গেছে ৩.২ থেকে ৩.৬ শতাংশ। মন্তব্যে বলা হয়েছে ৩.৫ শতাংশের কম হলে খাওয়া যাবে না। কিন্তু ব্যাপারটি তা নয়, ফ্যাট কম হলেও দুধ খাওয়ার অযোগ্য হয় না।” একইভাবে অ্যাসিডিটির পরিমাণ নিয়েও গবেষণায় ‘ভুল ব্যাখ্যা’ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, “পাস্তুরিত দুধে কলিফর্ম থাকতে পারবে ১০ এমএল এর বেশি। গবেষণায় পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ২৩-২৪ সিএফইউ/এমএল। এটি দুধের মান খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত না দিলেও তারা বোঝাতে চেয়েছে খারাপ কিছু।” সভায় প্রাণ ডেইরির পক্ষ থেকে প্রাণ গ্রুপের ডিরেক্টর উজমা চৌধুরী বলেন, গত ১০ বছর বাংলাদেশে ডেইরি শিল্প ২৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই খাতের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা সামনে রয়েছে। ডেইরি খাতের উন্নয়নে এই আলোচনা থেকে পাওয়া পরামর্শগুলো কাজে লাগাতে হবে। অনুষ্ঠানে খামারিদের প্রতিনিধি ইমরান হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসক পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ফার্মেসিগুলোর পরামর্শ নিয়েই গরুকে প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়াতে হয়। কিছু অসাধু কোম্পানি মানহীন ওষুধ বিপণন করে থাকে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, দুধের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হলে খামারি পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে। কারণ অনেক দূষণ ওই পর্যায়ে হয়ে যেতে পারে। এছাড়া প্রতি ছয় মাস পর পর দুধের মান যাচাইয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো উচিত। প্রভিটা কোম্পানির প্রতিনিধি ইকরামুল হক বলেন, দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য দুষণ নিয়ে বিশদ গবেষণা করতে হবে। যেখানে সমস্যা বিদ্যমান সেখানে অধিকতর নজর দিতে হবে।

ঝিনাইদহে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং

সুলতান আল একরাম ॥ ঝিনাইদহে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (পুরুষ ও নারী) পদে নিয়োগ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি পদে পদন্নোতি প্রাপ্ত) মিলু মিয়া বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ঝিনাইদহে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৬ জুন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান এর  নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্স এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়ে ২ জুলাই শেষ হয়। এবারের  নিয়োগ কার্যক্রমে প্রায় ৩ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ কর। এর মধ্যে থেকে লিখিত পরীক্ষায় ৩৪১ জন অংশগ্রহণ করে। চুড়ান্ত ফলাফলে মেধা তালিকা অনুসারে ৫৯ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৩০ জন (কোটাসহ) ও মহিলা ২৯ জন (কোটাসহ) প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছ। নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পূর্ণ করায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও ধন্যবাদ জানানো হয়।

গুজবের জবাব দিল পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ

ঢাকা অফিস ॥  পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান। ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮১ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

রিকশাচালকদের নগর ভবনে চায়ের আমন্ত্রণ – সাঈদ খোকন

ঢাকা অফিস ॥  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘তাদের (রিকশাচালকদের) যদি কোনো কথা থাকে, দাবি থাকে, আমরা সেগুলো শুনবো। আমি তাদেরকে নগর ভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধানের পথ বের করবো।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে নগরীতে সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় রিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যে সড়কগুলোতে রিকশা বন্ধ করা হয়েছে সেখানে যাত্রী বা নাগরিকদের তেমন একটা ভোগান্তির চিত্র আমরা দেখতে পাইনি। নগরবাসীর চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গণপরিবহন রয়েছে। এছাড়াও দ্রুতই আমরা টিকিট সিস্টেম ফ্রাঞ্চাইজির বাস পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতো যাচ্ছি। আর পথচারীদের হাঁটার সুবিধার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করছি। তাই এসব রুটে ফের রিকশা চলবে তেমনটা আপাতত আমরা মনে করছি না। তবুও সাতদিন পার হলে আমাদের যে কমিটি আছে (ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোল অথরিটি-ডিটিসিএ), আমরা পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। গত রবিবার থেকে রাজধানীর দুইটি রুটের তিনটি সড়কে নিষিদ্ধ করা হয় রিকশা চলাচল। এর প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো রামপুরা-সায়েদাবাদ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন রিকশাচালকরা। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের রিজিওনাল ডিরেক্টর জন রুম উপস্থিত ছিলেন।

 

পুরুষ কিংবা নারী হিসেবে নিবন্ধিত হবে হিজড়ারা – কবিতা খানম

ঢাকা অফিস ॥  নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, এবার ভোটার তালিকায় নতুনত্ব হিসেবে থাকছে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া)। তারা ইচ্ছে করলে ভোটার তালিকায় পুরুষ কিংবা নারী যে কোনো একটিতে নিজেদের নাম অর্ন্তভুক্ত করতে পারবে। তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের যে ব্যক্তির মেয়েলি আচরণ বেশি তাকে মেয়ে হিসেবে এবং যার আচরণ পুরুষের মতো তাকে পুরুষের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হবে। এটি আমাদের কাছে পাবলিক ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কবিতা খানম বলেন, সাবধানতার সঙ্গে হালনাগাদ করতে হবে, যাতে কোনো তথ্য বাদ না পড়ে। কারণ এই তালিকার ওপরই নির্ভর করবে একজন নাগরিকের সব সুযোগ-সুবিধা। রানীনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম মাহবুবুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রুহুল আমীনসহ অন্যান্যরা।

 

এসআই আতিক পেলেন ভালো কাজের পুরষ্কার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মডেল থানার এস আই আতিকুর রহমান আতিক ভালো কাজের স্বীকৃতি সরূপ তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা পুলিশ। এ জন্য তাকে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে ক্রেষ্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এর নিকট হতে এ অর্জন করার পুরস্কার গ্রহন করেন এসআই আতিকুর রহমান আতিক। ইতিপূর্বে এসআই আতিকুর রহমান আতিক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালিন সময়ে তিনি ওই এলাকায় একের পর এক সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের চোখের ঘুম হারাম করে দেন। এলাকায় শান্তিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। আমলা ক্যাম্প  থেকে তিনি আলামপুর ক্যাম্প, পরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় যোগদান করেছেন। এখানেও তিনি বিভিন্ন অভিযানে সফলতা পেয়েছেন। এবার দিয়ে তিনি ৬ষ্ঠ বারের মতো এ পুরষ্কার অর্জন করেছেন। এস আই আতিকুর রহমান আতিক সন্ত্রাসী এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে বলেন, অপরাধীদের সাথে আমার কোন আপোষ নেই। সকলের সহযোগিতা, ভালবাসা এবং দোয়া আমার সাথে থাকলে ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখবো ইনশাল্লাহ।

সীমান্তবর্তী স্কুল ও কলেজে বিজিবি’র খেলাধুলা সামগ্রী বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে খেলাধুলা সামগ্রী বিতরন করেছে সীমান্তরক্ষী বিজিবি। গতকাল মঙ্গলবার ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. রফিকুল আলম, পিএসসি ও সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। এরমধ্যে রয়েছে কুতুবপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ধলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রাধাগোবিন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসমহল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাগপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বিলগাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, চাইডোবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ভাগজোত নবগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল, ভলিবলের নেট ও ক্রিকেট ব্যাট প্রদান করা হয়।

‘বিচার বিভাগ’ সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত – নিপুন রায়

ঢাকা অফিস ॥  পাবনার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলি ও বোমা হামলা মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে ‘বিচার বিভাগ’ সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় যান বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী। সেখানে দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সান্ত¡না দেন এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ মামলার ব্যাপারে উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেন আইনজীবীরা। এ সময় পাবনা আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, ‘খুব সিম্পল কথা, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হামলার ঘটনায় কারোই মৃত্যু হয়নি, তারপরও মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। যেখানে কোনো মৃত্যু ঘটে নাই, কোনো হত্যা ঘটে নাই, সেখানে মৃত্যুদন্ড। তাও একজন নয়, ৯ জন! তিনি বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং দেশে কোনো আইনের শাসন বলে কিছু নেই।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান, মীর হেলাল, ওবাইদুর রহমান চন্দন, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, ফারহানা আক্তার লুবনা, কাজী রওশন দিল আফরোজ, জাকির হোসেন, মাসুদ খন্দকার, পাবনা জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম স্বপন, জেলা যুবদলের সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিস আহমেদ, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আরিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখ। প্রসঙ্গত, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদ- দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। গত ৩ জুলাই দুপুরে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় ৫২ জন আসামির মধ্যে একজন মৃত্যুদ-প্রাপ্তসহ ১৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন এবং পাঁচজন বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণ করেছেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

নুসরাতের নিপীড়নের মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগগ্রহণ

ঢাকা অফিস ॥  ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির যৌন নিপীড়নের মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আগামী ১৭ জুলাই অভিযোগ গঠনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় আসামির উপস্থিতিতে আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন। গত ৩ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়। ১০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে একমাত্র আসামি সিরাজ-উদ-দৌলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফেনী পরিদর্শক শাহ আলম জানান, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে আটক করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পিবিআই ৯৬ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, যৌন হয়রানির মামলায় ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার সময় মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অডিও-ভিডিও রেকর্ডের দুটি কপি। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পিবিআই। রাফিকে হত্যার ঘটনার আগে যৌন হয়রানির মামলায় ১৯ জুন একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম অধ্যক্ষ সিরাজকে আদালতে হাজির করেন। তারও আগে গত ২২ মে অধ্যক্ষের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল জানান, ২৭ মার্চের যৌন হয়রানির মামলায় সিরাজ-উদ-দৌলাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। হত্যা মামলায় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে জবানবন্দিতে ২৭ মার্চ যৌন হয়রানীর বিষয়টি স্বীকার করেছে। যার কারণে এই মামলায় নতুন করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার প্রয়োজন হয়নি।

কুষ্টিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত মোঃ বাদশা আলম নামের এক পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া বড়বাজার ঘোড়ারঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কুষ্টিয়া সদর থানার এসআই আতিকুর রহমান আতিক। এসআই আতিকুর রহমান আতিক জানান, সেশন-৩৭২/১৩ এবং সেশন ৬৩০/১৫ মামলার দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ বাদশা আলম, পিতা মৃত নওশের আলী সাং-ঘোড়ারঘাট থানা-কুমারখালীকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় তিন আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় তিন আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামীদের উপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মোহাম্ম্দপুর গ্রামের আসাদুল হিড়ের দুই ছেলে মোঃ মান্নান ও আনিছুর রহমান এবং একই গ্রামের সামাদ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম।  আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের একটি দল জেলার মিরপুর থানার তাঁতিবন্ধ চারমাইল এলাকার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে দায়িত্ব পালনকালে তিন চাকা বিশিষ্ট আলগামন গাড়ি আটক করে তল্লাসীকালে গাড়িতে বিশেষ কায়দায় রাখা ১৯৪ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গাড়ির চালক ও দুইজন আরোহীকে করে জব্দকৃত মাদকসহ মিরপুর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মিরপুর থানা পুলিশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী আদালতে চার্জশীট জমা দেই। দীর্ঘ শুনানিন্তে আদালত আজ সকালে এই রায় দেন। কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন দিয়েছে। মাদক মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফলোআপ ঃ লাহিনী মধ্যপাড়ায় স্কুল ছাত্র রতন হত্যা

পাঁচ মাসেও কুলকিনারা পায়নি পুলিশ, ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার লাহিনী মধ্যপাড়া এলাকায় স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান রতন (১৬) হত্যা ঘটনায় জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখন পর্যন্ত খুনের কোন রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও খুনের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার বা কারণ অনুসন্ধান না করতে পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। বরং পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে স্কুল ছাত্র রতন হত্যা ঘটনায় তদন্তের নামে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরীহ মানুষদের হয়রানী করছে।

স্কুল ছাত্রের পিতা মোহম্মদ আজম জানান, আমি পুলিশকে স্থানীয় পাঁচটা বাড়ি উল্লেখ করে তদন্ত করতে বলেছি। তাদেরকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমার ছেলে হত্যার মুল রহস্য বের হবে। যেখানে আমার ছেলের লাশ পাওয়া গেছে ঐ বাড়ির কেউ না কেউ জড়িত। তিনি আরো জানান, পুলিশ উল্টো আমার বড়ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কোন তথ্য না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেয়। শুনেছি ঘটনার দিন রাতে ভোলা নামে স্থানীয় এক ভ্যানচালককে কে বা কারা কিছু নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্ধকারে ডাক দিলে পরবর্তীতে পরিচিত বুঝতে পেরে চলে যেতে বলে। এতদিন অতিবাহিত হলেও আমার ছেলের খুনিকে পুলিশ সনাক্ত করতে পারিনি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। স্থানীয়রা জানান,ঘটনার পরে নিহত রতনের দুঃসর্ম্পকের মামাতো ভাই রাশেদের আচরণ ছিল সন্দেজনক। এমনকি রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সে ভুল তথ্যদিয়ে সাধারন জনগনকে হয়রানী করছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় লাহিনী পাগলপাড়ার মুন্নুর চায়ের দোকানে জনসন্মুখে সে বলেছিল আমি ষ্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারি কারো ক্ষমতা নেই এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করা। শামিম নামে স্থানীয় একজন জানান, প্রশাসনকে তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকটি বাড়ির কথা বললেও তারা সেইসব বাড়ির ধারে কাছেও যায়নি। এটা আমাদের কাছে রহস্যজনক। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার জানান, রতন হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলছে। এই হত্যাকান্ডের কোন কুলকিনারা এখনো খুঁজে পায়নি। উল্লেখ্য,চলতি বছরের ১৩ ফেব্র“য়ারি সকালে নিখোঁজের একদিন পর সদর উপজেলার লাহিনী মধ্যপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান রতন (১৬) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রতন ঐ এলাকার টাইলস মিস্ত্রি আজম আলীর ছেলে। সে লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম  শ্রেণীর ছাত্র ছিল। পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রতন মঙ্গলবার (১২ ফেব্র“য়ারী) বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের লোকজন রতনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে  যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাই। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজ করে। রতনের কোন সন্ধ্যান না  পেয়ে বাবা আজম আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিখোঁজের জিডি করে। এমনকি পরেরদিন বুধবার সকাল থেকে রতনের সন্ধানের দাবিতে শহরের বিভিন্নস্থানে মাইকিং করে। পরবর্তীতে বেলা ১২টার দিকে স্থানীয়রা শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়ির বালুর নিচে চাপা দেয়া অবস্থায় রতনের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।  এ ঘটনার পড়ের দিন হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে রতনের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়রা।

দৌলতপুরে ‘উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে’ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং  

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥  কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠন’ বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ এবং সম্পৃক্ত করণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার উপজেলার আল্লারদর্গা নূরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজেরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান। তিনি দেশের বিদ্যুৎ, মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি, বছরের প্রথম দিনে বই বিতরণ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপ, স্বাস্থ্য সেবাসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সাফল্য এবং সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন নিয়ে আলোচনা করেন।  নূরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে প্রেস ব্রিফিং শেষে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক এ্যাড. এম.জি.মুহাম্মদ মন্টু, এটিএন নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার জালাল উদ্দীন, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক রনি আহাম্মেদ ও ৭১’বাংলা প্রতিনিধি আসানুল হক। প্রেস ব্রিফিং এর আগে তথ্য অফিসার কলেজের প্রায় তিন শত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সরকারে ‘সাফল্য ও উন্নয়ন’ বিষয়ে মতবিনিময় ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে  দৌলতপুরের সর্বস্তরের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় সুজন

ঢাকা অফিস ॥  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিকÑসুজন। গত ৩০ জানুয়ারির ভোট নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসা সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির কাছে এই দাবি জানান। ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ’ বিষয়ক এই সংবাদ সম্মেলনে ভোট ঘিরে নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। সুজনের দাবি, ওই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের ৪০ হাজার ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি আসনের ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। আর ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২৭টি কেন্দ্রে, ৯৮ শতাংশ ভোট পড়েছে ২০৪ কেন্দ্রে, ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ৩৫৮ কেন্দ্রে এবং ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে ৫১৬ ভোটকেন্দ্রে। অর্থাৎ ১ হাজার ৪১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৯৬ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে দাবি করে দিলীপ প্রশ্ন করেন, ভোটের জন্য নির্ধারিত সময়ে শতভাগ ভোটপড়া কি সম্ভব? একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল করলেও তা নাকচ করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি ইসির দেওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ফল অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ৬৯টি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই সংখ্যক কেন্দ্রে শতভাগ ভোটগ্রহণও স্বাভাবিক নয় বলে স্বীকার করেছেন সিইসি নূরুল হুদা। তবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে এখন আর করার কিছু নেই। দিলীপ কুমার বলেন, গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের ৩৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৯টি কেন্দ্রে প্রদত্ত (৬১.৭৫ শতাংশ) সব ভোট নৌকায় পড়েছে। “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক হারে ভোট পড়াকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন। অনেকের মতে, নির্বাচনের দিনের ভোটের চিত্রের সাথে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের সঙ্গে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অমিলের চিত্রও তুলে ধরা হয়। সুজন সমন্বয়ক দিলীপ বলেন, “আমরা সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পর পরই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত আসনভিত্তিক ফলাফল সংগ্রহ করেছিলাম। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের পূর্বে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে কিছু আসনে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।”

তিনি জানান, ঢাকা-১০ আসনে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণায় ৬৯.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে জানানো হলেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে তা বেড়ে ৭৩.০৯ শতাংশ দেখানো হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-১১ আসনে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় ৬০.৪৬ শতাংশ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৬২.৬৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় ৭৪.৪৪ শতাংশ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৭৬.৭২ শতাংশ এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে তাৎক্ষণিক ঘোষণায় ৯৩.২৪ শতাংশ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে ৯৪.৩৩ শতাংশে উন্নীত হয় বলে সুজনের দাবি। দুই ফলের অনিয়ম তুলে ধরে দিলীপ বলেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর বেসরকারি ফলাফলে প্রাপ্ত ভোট ‘শূন্য’ দেখানো হলেও কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখানো হয়েছে যে ওই প্রার্থী ২৪৩টি ভোট পেয়েছেন। ব্যালট পেপার ও ইভিএমে ভোট প্রদানের মধ্যে ভোটের পার্থক্য ২৯.৩৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি জানান, এবার নির্বাচনে ৩০০ আসনে মধ্যে ছয়টি আসনে সম্পূর্ণ ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। ৩০০ আসনে গড় ভোট পড়েছে ৮০.২০ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়া ২৯৪টি আসনের গড় ভোট ৮০.৮০ শতাংশ হলেও ইভিএমে গড় ভোট পড়েছে ৫১.৪২ শতাংশ। দিলীপ কুমার বলেন, “যে ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে,  তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ৭৫টি নির্বাচনী এলাকার ৫৮৭টি ভোটকেন্দ্রের প্রদত্ত সকল ভোট নৌকা প্রতীকে পড়েছে। আর ধানের শীষে জয়ী ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে অস্বাভাবিক কম ভোট পড়েছে।” শতভাগ ভোটগ্রহণের বিষয়টি অনুসন্ধানসহ গুরুতর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান দিলৗপ। সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, “এগুলো সুজনের তথ্য না, কোনো রাজনৈতিক দলের তথ্যও না। এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত তথ্য। বিদেশি বিভিন্ন অর্গানাইজেশন যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেগেটিভ রিপোর্ট করে, টিআইবি থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠন, তখন মন্ত্রীদের অনেকে বলে যে, তাদের তথ্যের উৎস সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ আছে। তবে এইটার ব্যাপারে তো সরকার বলতে পারবে না যে, উৎস সম্পর্কে সন্দেহ আছে।” ইসির এক সময়ের প্যানেল আইনজীবী শাহদীন বলেন, “সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট পার্টি ৭০ এর দশকের নির্বাচনে একমাত্র পার্টি হয়েও কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পায়নি। “আমরা মনে হয়, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছি। এখন এই ফলাফল দেখে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, এটা পাগল ছাড়া কেউ দাবি করতে পারবে না।” যে সব কেন্দ্র শতভাগ ভোট পড়েছে, সেখানে যে জালিয়াতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারককে এই ফলাফল দেখানো যথেষ্ট বলে মনে করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, “ফলাফলে নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি করেছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে গঠনের দাবিতে আমি সমর্থন করছি। সাংবিধানিক পদের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে অসদাচরণের অভিযোগের কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, তাহলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে পারেন।” বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এই তথ্যগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম। আমরা মনে করি এই নির্বাচনে চরম অনিয়ম হয়েছে। “এই সংবাদ সম্মেলেন থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ থাকবে, তিনি সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে এই অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে… যারা এর জন্য দায়ী বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” সুজন সম্পাদক বলেন, “নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুরোপুরি যদি ভেঙে যায়, তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তখন আমরা কেউ নিরাপদ থাকব কিনা, এই প্রশ্ন রইল।” একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের এত তথ্য থাকা সত্বেও এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে আর কোনো নির্বাচন করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, “এটার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচন দিয়ে আর কোনো নির্বাচন যেন না করা হয়। এই একটা দাবি থাকবে।” কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “অতীতে বাংলাদেশে অনেক অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে, গোঁজামিলের নির্বাচন হয়েছে। এবারে নির্বাচন কমিশন গোঁজামিলে না গিয়ে সোজামিলে চলে গেছে। সোজামিল মানে শতভাগ ভোট।” সংবাদ সম্মেলনে সুজন সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান সভাপতিত্ব করেন।

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় ট্রলার ডুবে বালু শ্রমিকের মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় নৌকা ডুবে লিটন ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বালু উত্তোলনের শ্রমিক ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মা নদীতে পাবনা সীমান্তে তারাপুর চরে এ ঘটনা ঘটে। লিটনের বাড়ি বগুড়া জেলায়। তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া রানাখড়িয়া এলাকায় নানা বাড়িতে  থেকে বালু শ্রমিকের কাজ করতেন। নৌকার মাঝি সজল বলেন, রানাখড়িয়া ঘাটের বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজের নৌকায় করে তারা কয়েকজন শ্রমিক তারাপুর চরে বালি উত্তোলন করছিলেন। হঠাৎ নৌকা একদিকে কাত হয়ে নদীর স্রোতে ডুবে যায়। এ সময় ইঞ্জিনের পাশে থাকা লিটন পানিতে তলিয়ে যায়। তিনজন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় লিটনের মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুরে নিয়ে আসেন। তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালু উঠাতে গিয়ে এক লিটন নামে এক শ্রমিক মারা গেছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে এলাকায় আনা হচ্ছে।

জনসংখ্যার ৭ ভাগ প্রতিবন্ধী

ঢাকা অফিস ॥  দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৭ ভাগেরও অধিক প্রতিবন্ধী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ জন। গতকাল মঙ্গলবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এ তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন, এ বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। এ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সাইট সেভারস, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ইনক্লুশন ওয়ার্কস’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থ বছরে জাতীয় বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ৫ হাজার ৫২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব অসহায় মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। মন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অটিজম, শারীরিক, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতা, দৃষ্টি, বাক, বুদ্ধি, শ্রবণ, শ্রবণ দৃষ্টি, সেরিব্রাল পালসি ও ডাউন সিনড্রোম ক্যাটাগরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ডেটাবেইস সফটওয়্যারে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। শনাক্তকরণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ল্যামিনেট পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হবে। সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিতে পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বিজ্ঞপ্তি

ঘুষ লেনদেনের অডিওর কণ্ঠ দুদক পরিচালক বাছিরের, তদন্তে প্রমাণিত

ঢাকা অফিস ॥  ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এনামুল বাছিরের কথোপকথনের যে অডিও রয়েছে সেটাতে এনামুল বাছিরের কণ্ঠ রয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। যদিও শুরু থেকে রেকর্ডের বক্তব্যগুলো কণ্ঠ নকল করে বানানো হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন এনামুল বাছির। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুদক থেকে বরখাস্ত হওয়া পরিচালক এনামুল বাছিরকে ফের তলব করা হয়েছে। আজ ১০ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনামুল বাছিরকে আরেকবার তলব করা হলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সেদিন হাজির হননি। দুদক সূত্র জানায়, ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে এনামুল বাছিরের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের পরিচালক ফানাফিল্ল্যাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম। ওই টিমের অন্য সদস্যরা হলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ও দুদকের সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ। দুদক সূত্র আরো জানায়, ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে এনামুল বাছিরের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের ব্যাপারে যে অডিও রয়েছে সেগুলো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) থেকে পরীক্ষা করেছে দুদক। এনটিএমসি এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এনটিএমসির পরীক্ষায় ওই অডিওর কথোপকথনে যে কণ্ঠ রয়েছে সেটা এনামুল বাছিরের বলে প্রমাণ হয়েছে। ওই প্রতিবেদন সামনে রেখে এনামুল বাছিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদকের অনুসন্ধান টিম। ডিআইজি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন এনামুল বাছির। অনুসন্ধান চলাকালে এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে একটি অডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।