ট্রাম্প প্রশাসনকে নিয়ে ব্রিটিশ দূতের ইমেইল ফাঁসের তদন্ত শুরু

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘অকর্মা’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পাঠানো ইমেইল কিভাবে ফাঁস হল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান টম টুগেন্ডহ্যাট বলেছেন, এভাবে তথ্য চুরি করে তা প্রকাশ করা আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন। এর পেছনে যে-ই থাকুক তার বিচার করা হবে। তার একথার পরই বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিল সরকার। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকায় ফাঁস হওয়া ইমেইল বার্তাগুলোকে ‘অনিষ্টকর’ বললেও সেগুলোকে বেঠিক বলেনি। হোয়াইট হাউজও এখনো এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলবে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ ‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকা রোববার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ডেরকের ওই ইমেইল বার্তাগুলো প্রকাশ করেছে। ফাঁস হওয়া ওইসব বার্তায় ডেরক ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউজকে ‘একেবারেই অকার্যকর ও বিভক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

“ট্রাম্প প্রশাসন যে আরো স্বাভাবিক হবে, আরো কার্যকর হবে, প্রত্যাশামাফিক কাজ করবে, কূটনৈতিকভাবে আরো বিচক্ষণ হবে বা আরো করিৎকর্মা হয়ে উঠবে- তা আসলেই বিশ্বাস করা যায় না” বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ টোরি এমপি টুগেন্ডহ্যাট বিবিসি রেডিও ফোরের ‘দ্য ওয়ার্ল্ড দিস উইকেন্ড’ এ বলেছেন, “এ ফাঁসের ঘটনা খুবই মারাত্মক। কূটনীতিকদেরকে অবশ্যই নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে খুবই সুরক্ষিতভাবে যোগাযোগে পারদর্শী হতে হবে।” তবে কিম ডেরককে সমর্থন করে তিনি এও বলেন, “ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীলতা নয় বরং ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছা এবং স্বার্থেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন।” ওদিকে, ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে স্যার কিম ডেরকের মন্তব্য নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছেন। ডেরককে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পদের অযোগ্য বলে মন্তব্য করে ফারাজে বলেছেন, “তিনি যত দ্রুত সরে যাবেন ততই মঙ্গল।” অনেকে আবার ডেরককে সমর্থনও করেছেন। ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী ডেভিড গাউক বলেছেন, “একজন রাষ্ট্রদূত দেশকে সত্য এবং সৎ উপদেশ দেবেন সেটিই কাম্য।” তার বার্তাগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়াটা বিব্রতকর বলে উল্লেখ করলেও গাউক বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে সত্যবাদিতাটাই আশা করা উচিত।”

মারা গেলেন বাড়ির দেয়াল ভেঙে হাসপাতালে নেয়া সেই নুরুল

ঢাকা অফিস ॥ সার্জারির মাধ্যমে ওজন কমাতে গিয়ে মারা গেলেন পাকিস্তানের নুরুল হাসান। সোমবার লাহোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। খবর ডেইলি পাকিস্তানের। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে হাসপাতালের চিকিৎসক মুয়াজ বলেন, ‘আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একটি সমস্যার কারণে মারা যান নুরুল হাসান।’ তবে নুরুল হাসানের পরিবার বলছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাবপ্রদেশের বাসিন্দা নুরুল হাসানের ওজন ছিল ৩৩০ কেজি। গত জুন মাসে লাহোর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সাদিকাবাদ গ্রাম থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধার করা হয় নুরুল হাসানকে। ওজনের কারণে নুরুল এতটাই স্থূলকায় ছিলেন যে, তাকে তার বাড়ির দরজা দিয়ে বের করা যায়নি। দেয়াল ভেঙে তাকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডেইলি পাকিস্তান জানায়, শরীরের ওজন কমিয়ে আনতে নুরুল হাসানের কয়েক দফা সফল সার্জারি করা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে নুরুল হাসান লাহোরের শালিমার হাসপাতালে একটি সার্জারি করিয়েছিলেন। এর আগে পাঞ্জাবে তার চিকিৎসা চলছিল। পরে চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সক্ষমতা না থাকায় নুরুল হাসানের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাবেদ বাজওয়া। তাকে পাঞ্জাব থেকে লাহোরের ওই হাসপাতালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দফা সার্জারির পর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পাকিস্তানের সবচেয়ে ওজনের এ ব্যক্তি।

পুরুষের মন পেতে আঙুল ভেঙে পা ছোট রাখা হতো নারীদের!

ঢাকা অফিস ॥ নারীর সৌন্দর্য তার পায়ে- এমনটি মনে করা হতো চীনে। যে নারীর পা যত ছোট, সে তত সুন্দরী। চীনে এমন রীতিই চলে আসছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। ছোট পায়ের নারীদের প্রতি আকর্ষিত হতেন পুরুষরা। যে কারণে এমন নারীকে বিয়ে করতে প্রতিযোগিতায় নামতেন ধনীরা। ঠিক সে কারণেই ধনীর ঘরে বিয়ে দিতে নির্মমভাবে মেয়েদের পা ছোট করে রাখার কুপ্রথা চালু ছিল প্রাচীন চীনে। প্রথাটি এতই ভয়ঙ্কর ছিল যে, কৃত্রিমভাবে পা ছোট রাখতে আঙুল ভেঙে দেয়া হতো তিন-চার বছর বয়সী কন্যাশিশুদের। চৈনিক ইতিহাস বলছে- পা নরম রাখতে প্রথমে উষ্ণ ভেষজ ও পশুর রক্তে পা ভিজিয়ে রাখা হতো কন্যাশিশুদের। কেটে ফেলা হতো নখ। তার পর ঘটত সেই পৈশাচিক কান্ডটি। কোমলমতি কন্যাশিশুদের পায়ের আঙুলগুলো নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভেঙে ফেলা হতো। এর পর পরিয়ে দেয়া হতো লোহার জুতা, যেন পা আর না বাড়ে। হাড় ভাঙার যন্ত্রণায় এসব শিশু কাতরাতে থাকলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ ছিল না স্বজনদের। শক্ত ব্যান্ডেজে আঙুল ভাঙা পা মুড়ে ফেলা হতো। ব্যান্ডেজ এমনভাবে বাঁধা হতো, যাতে ভাঙা হাড়গুলো কখনই জোড়া না লাগে। এভাবেই বছরের পর বছর এই ব্যান্ডেজ বাঁধা বিকৃত পা নিয়েই বড় হতে থাকত শিশুরা। এরই মধ্যে তাদের অনেকের পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ত, কারও কারও রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে পায়ে পচন ধরত। তবু রেহাই পেত না তারা। উল্টো খুশিই হতেন পরিবারের লোকজন। কারণ পায়ে পচন ধরলে আঙুল খসে পড়ে যাবে, তাতে পা আরও ছোট লাগবে। ইতিহাস বলছে, এসব সংক্রমণ ও পচনের কারণে অনেক তরুণী মৃত্যুবরণ করতেন। তবু থেমে ছিল না এই ভয়ঙ্কর প্রথাটি। দ্রুত পচনের জন্য অনেকে নাকি ব্যান্ডেজ বাঁধার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কাপড়ের মধ্যে কাচের টুকরো বা আলপিন লাগিয়ে দিত, যাতে যত দ্রুত সম্ভব পায়ে পচন ধরে। আঙুল ভেঙে মেয়েদের পা এভাবে ছোট রাখার একটিই উদ্দেশ্য- পুরুষের মন পাওয়া। মেয়েদের পা ছোট রাখতে বাধ্য করার এই কুপ্রথাটি কবে বা কীভাবে চালু হয়েছিল, সে নিয়ে রয়েছে একটি মিথ। চীনের ইতিহাস বলছে, ১২৭৯ সালে সং বংশের রাজত্বকালে রাজদরবারের নর্তকীদের মধ্যে প্রথম এ প্রথা চালু হয়। ঐতিহাসিকের মতে, ৯৭৫ সালে ট্যাং বংশের রাজত্বকালের লিখিত পুঁথিতেও পা ছোট রাখার রীতির উল্লেখ রয়েছে। কথিত আছে, এক নর্তকী সুন্দর, ছোট পা দেখে মোহিত হয়ে যান সেই সময়ে এক রাজা। তার পর থেকেই ছোট পায়ের হিড়িক পড়ে যায়। অভিজাতদের মধ্যেও এ বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর ধনী পরিবারে মেয়ের বিয়ে দিতে সাধারণ মানুষেরাও পা ছোট রাখার প্রথায় জড়িয়ে পড়ে। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে চীনে মোট নারী জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরই পা ছোট ছিল। শুধু অভিজাতদের মধ্যেই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ। তবে ১৬৪৪ সাল থেকে মাঞ্চু চিং বংশ ক্ষমতায় এলে পা ছোট করে রাখার কুপ্রথা নিষিদ্ধ হয়। তার বদলে নৌকার মতো দেখতে উঁচু হিলের জুতা চালু হয়।

তবু এ প্রথা থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না চীনা অধিবাসীদের। ১৯০০ সালের পর থেকে এই নির্মম প্রথার বিরোধিতা করতে শুরু করেন দেশটির মুসলমানরা। রাজতন্ত্রের অবসানের পর চীনে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯১২ সালে আইন করে পা ছোট করার কুপ্রথা নিষিদ্ধ হয়।

সাংবাদিক হাসান আরেফিন’র ইন্তেকাল

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক নতুন কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হাসান আরেফিন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহেৃরাজেউন। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। হাসান আরেফিনের ছেলে ফিরোজুল ফেরদৌস জানান, গতকাল সকালে নগরীর মিরপুরের বাসায় তার বাবার বুকে ব্যাথা শুরু হলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে, সহকর্মী, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের (পিজেএফ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ঢাকা রির্পোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। হাসান আরেফিনের ছেলে ফেরদৌস জানান, নামাজে জানাযা শেষে তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার জলিসা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বেধড়ক পিটুনির পর বলানো হল ‘গো মাতা কি জয়’

ঢাকা অফিস ॥ হাটে গবাদি পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন ২৪ জনের একটি দল। পথিমধ্যে তারা আক্রমণের শিকার হলেন গো রক্ষকদের। অভিযোগ, তাদের রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে ‘গো মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্য প্রদেশে। খবর এনডিটিভির। এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে দেশটির সামাজিক মাধ্যমে। ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, ঘটনার শিকার ওই ২৪ ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের একটি পশু মেলাতে রবিবার গবাদি পশু নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্য প্রদেশের খন্ডওয়া জেলায় গো-রক্ষকের একটি দল নির্যাতন চালায়। ঘটনার শিকার ২৪ জন মধ্যপ্রদেশের খন্দওয়া, সেহোর, দেওয়াস ও হার্দা জেলার।এদের মধ্যে ৬ জন মুসলমান। ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখা যায়, দলের ১৫ জনের হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে ওই অবস্থাতেই চলতে বাধ্য করা হয়। তখনও তাঁদের মুখে তখন শোনা যাচ্ছে ‘গো মাতা কি জয়’। ভিডিওটিতে আরও দেখা যায়, সাদা শার্টের ব্যক্তি মোবাইলে সবার মুখের ক্লোজআপ ছবি বা ভিডিও নিচ্ছে। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যানুসারে, ওই এলাকায় গরু রক্ষা বিষয়ক নজরদারিকারীদের ১০০ সদস্য আছে। তারা সাভালিকেড়া গ্রামের। তাদের অভিযোগ করেছে, এসব মানুষ ২০টি গবাদিপশুকে জবাই করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট শিবদয়াল সিং বলেছেন, ওইসব মানুষ গবাদিপশু নিজেদের বলে দাবি করেন। কিন্তু তারা তাদের এ দাবি প্রমাণ করতে পারেন নি। ২৪ জনের মধ্যে একজনও তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেন নি। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্যাতন চালানো ওইসব গো রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। এনিয়ে তদন্ত চলছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

জাপা নেতা ফিরোজ রশীদের বাসায় পুত্রবধূ গুলিবিদ্ধ

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের বড় ছেলে কাজী শোয়েব রশীদের স্ত্রী মেরিনা শোয়েব গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফিরোজ রশীদের ধানমন্ডির বাসাতেই গুলির ঘটনা ঘটে। পরে মেরিনাকে পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মেরিনার বাবা সাংবাদিকদের বলছেন, তার মেয়ে আর জামাইয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। অন্যদিকে মেরিনার মেয়ের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, এটা ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’। মেরিনা ও শোয়েবের বিয়ে হয় প্রায় দুই যুগ আগে। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ের বয়স ২০ বছর, আর ছেলের বয়স ১০ বছর। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ধানমন্ডির ওই বাসার চার তলার ফ্ল্যাটে ঘটনার সময় মেরিনা-শোয়েব দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ে, ফিরোজ রশিদের স্ত্রী ও তার এক ভাই ছিলেন। “মেয়ে আমাদের বলেছেন, ঘটনার সময় তার বাবা বাসায় ছিলেন না। তাদের বক্তব্য হল, তাদের মা তার বাবার কক্ষে গিয়ে তার পিস্তল নিয়ে নিজেই গুলি করেছেন। পিস্তলটি আমরা জব্দ করেছি।” মেরিনার বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারি পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে হাসপাতালে তিনি একটি টেলিভিশনকে বলেছেন, “ঘটনা হইছে মেয়ের সাথে তার হাজবেন্ডের বনিবনা হয় না। পারিবারিকভাবে বোঝেন না একটু উশৃঙ্খলভাবে হয়ত হাজবেন্ড চলে, হেও চলে, এর মধ্যে তাদের মধ্যে বনাবনতি নাই, এইরকমও হইতে পারে।” এ বিষয়ে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বা তার ছেলে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশিদের বক্তব্য জানতে পারেনি। ল্যাবএইড হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান লেনিন জানান, আহত মেরিনাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 ইউএনওকে উত্ত্যক্ত করে তরুণ কারাগারে

ঢাকা অফিস ॥ নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানমকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে এক তরুণকে এক মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দন্ডিত শিমুল শেখ (২৫) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বারআনি গ্রামের মাহতাব শেখের ছেলে। দুর্গাপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ইউএনও ফারজানা খানম রোববার  বিকেলে ঢাকা থেকে বিআরটিসির বাসে করে কর্মস্থল দুর্গাপুরে আসছিলেন। পথে শ্যামগঞ্জ মোড় থেকে শিমুল ওই বাসে ওঠেন। “বাসে ওঠার পর থেকেই তিনি ইউএনও ফারজানা খানমকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করেন। ইউএনও নিজে ও বাসচালকের সহকারী শিমুলকে নিষেধ করলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে ইউএনও থানায় জানালে বাসটি দুর্গাপুর বাসট্যান্ডে  থামার পর শিমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত শিমুলকে এক মাসের কারাদন্ড দেয়।” তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের বর্ধিত দাম মেনে নিতে হবে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে আন্দোলন না করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নিতে হবে। আর কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো জরুরি- সে বিষয়ে সরকারের যুক্তিগুলোও তুলে ধরেন তিনি। সরকার গত ৩০ জুন সব পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.৮ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিলে তার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে আধাবেলা হরতাল করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বিএনপি ও তাদের কয়েকটি শরিক দলও সেই হরতালে সমর্থন দেয়। সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এলে একজন সাংবাদিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর প্রতিবাদে আন্দোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের আগে ঠিক করতে হবে, তাদের গ্যাসের প্রয়োজন আছে কি না। আমরা যদি দেশের উন্নতি করতে চাই, এই এনার্জি একটা বিষয়। আপনারা যদি লক্ষ্য করেন, ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি কতটুকু বেড়েছে? আর আমরা এখন জিডিপি ৮.১ শতাংশ পর্যন্ত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এর কারণ আমরা এনার্জির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি।” শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে পারলেও বাংলাদেশকে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। আর এলএনজি আমদানির জন্য খরচও বেশি পড়ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেখানে দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, এটা যদি না বাড়ানো হয়, তাহলে আপনাদের কাছে দুটো পথ আছে। হয় আমরা এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়ে এনার্জির ক্ষেত্র সংকুচিত করে ফেলব, তাতে উন্নতি হবে না। আর যদি সত্যিই অর্থনৈতিক উন্নতি চান, …তো এটা তো মেনে নিতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন করতে হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে, সার উৎপাদন করতে হলে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ হতে হলে সরকারকে এলএনজি আমদানি করতেই হবে। এলএনজি আমদানি করতে আমার কত টাকা খরচ হয়, সেই হিসাবটাতো আগে জানতে হবে। প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে আমাদের খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। সেটা আমি দিচ্ছি ৯.৮০ টাকায়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করতে গিয়ে যারা ভারতে দাম কমানোর প্রসঙ্গ তোলেন- তাদের উদ্দেশে দুই দেশের গ্যাসের দামের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতে প্রতি ঘণমিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালীতে স্থানভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা, শিল্পে ৪০ থেকে ৪২ টাকা, সিএনজি ৪৪ টাকা আর বাণিজ্যিকে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। আর বাংলাদেশে  প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গৃহস্থালীতে ১২.৬০ টাকা, শিল্পে ১০.৭০ টাকা সিএনজি ৪৩ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ২৩ টাকা। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা এলএনজি নিয়ে এসে যেটা ৬১.১২ টাকা, সেটা আমরা দিচ্ছি ৯.৮০ টাকায়। তারপরেও আন্দোলন! আন্দোলনে একটা মজার বিষয় আছে, বাম আর ডান মিলে গেছে এক সুরে, এই তো? ভালো। চলতি অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেখান থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে এ নিয়ে যাব। আমার এনার্জি লাগবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ লাগবে। এখন লোডশেডিং নেই, সবাই বেশ আরাম আয়েশে আছে বলেই ভুলে গেছে অতীতের কথা। দশ বছর আগে কী অবস্থা ছিল?” আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ অনুষ্ঠানেও বলেন, গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে তিনি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেননি। তার ভাষায়, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সেবার ‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে’ ক্ষমতায় আসেন। সেই বিএনপি সরকারের সময় ভারতকে পাইপ লাইন দিয়ে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার সুযোগ না দেওয়াও ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন আজকের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি থাকলে কী করতাম? পাইপ লাইনে তো গ্যাস নিতে দিতামই, আমি আমার ভাগটা রেখে দিতামৃ যে আমাকে দিয়ে তারপর নিতে হবে। তখন যদি মিয়ানমার থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস আনতে পারতাম, আর অর্থনৈতিক কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে আমাদের এখন এলএনজি আমদানি না করলেও চলত। কারণ সেখানে প্রচুর গ্যাসের রিজার্ভ আছে।” সেই গ্যাস এখন পাইপলাইনে করেই চীনে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের কতগুলি বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব যদি ভুল করে, বা সরকার যদি ভুল করে, তার খেসারত জনগণকে দিতে হয়।” এখন যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে, তারপরও বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্দোলন যেহেতু করেছি, তাহলে একটা কাজ করি, যে দামে কিনব, সেই দামে বেচব। ৯টাকার বদলে ৬১ টাকা দরে বেচব।” গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে সরকার প্রধান বলেন, “সমস্ত ট্যাক্স মাফ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের কাছে যাতে সহজলভ্য হয়, আমি সেই ব্যবস্থাটা করেছি। তারপরও উনারা হরতাল ডাকেন, আন্দোলন করেন। খুব ভালো, বহুদিন পর হরতাল পেলাম তো, পরিবেশের জন্য ভালো, ধন্যবাদ।”

ধর্ষণ রোধে পুরুষদের সোচ্চার হতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ প্রতিরোধে পুরুষদের সোচ্চার হতে বললেন। তিনি বলেছেন, কেবল নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া উচিত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে যা যা করার দরকার বা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার হলে সরকার তা-ই করবে। ধর্ষকদের শাস্তি দিতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর বলে জানান তিনি। সম্প্রতি নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকার ধর্ষণ রোধে আরও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য হচ্ছে ধর্ষণ সব সময় সব দেশে আছে। তবে এখন মেয়েরা সাহস করে কথাটা বলে। একটা সময় সামাজিক লজ্জার কারণে বলতে পারত না। সম্প্রতি রাজধানীর ওয়ারীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হওয়া শিশু সায়মার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীকে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করেছে এবং সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ যারা করে, তারা মানুষ নাÑ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ধর্ষণ রোধে পুরুষ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুরুষ সমাজকেও বলব, ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে, পুরুষ সমাজেরও একটা আওয়াজ তোলা উচিত।’ পুরুষদেরও কিছু করা উচিত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? নির্যাতিত হয়ে সব চিৎকার করবে আর নির্যাতনকারীর স্বজাতি যারা আছে তাদেরও এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করি।’

‘আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ আসে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন, অযথা সমালোচনা করতে বারণ করেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দশ দলের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হয়েছে অষ্টম। এ নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে হতাশা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লাসের ভরাট অংশের দিকেই তাকাতে বলছেন। বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি খুশি। চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গও আসে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট ভালোবাসেন। ক্রিকেট দলের খোঁজ নিয়মিত রাখেন বলেই এক সাংবাদিক প্রসঙ্গটা তোলেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কিন্তু খেলা দেখেছি। অনেক রাত পর্যন্ত। অফিশিয়াল কাজ যেমন করেছি, খেলাও দেখেছি। হয়তো একবার দেখতে পেরেছি, একবার পারিনি। যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলা দেখেছি। আমি তো আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাব, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কিন্তু এসেছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে।’ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করেছে, ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও আছে, ‘আমরা যে এত দূর যেতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কিছু খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান এরা বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না। খেলা এমন একটা জিনিস, অনেক সময় কিন্তু ভাগ্যও লাগে। সব সময় যে সবকিছু ঠিকমতো হবে, একই রকম হবে, সেটা নয়। ক্রিকেটাররা সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পেরেছে, আমি এটার প্রশংসা করি।’ সেমিফাইনালে শুধু চারটি দল খেলতে পারে, এই বাস্তবতা বোঝার আহ্বান ছিল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে, ‘এতগুলো দেশ খেলেছে। এর মধ্যে চারটা দেশ মাত্র সেমিফাইনালে উঠেছে। তাহলে কি আপনারা বলবেন বাকিরা সবাই খুব খারাপ খেলেছে? আমরা নিজেরাই নিজেদের ছোট করেন কেন? নিজেদের এত খারাপ বলি কেন? বরং আপনারা এটা বলেন, যে একেকজন জাঁদরেল জাঁদরেল খেলোয়াড়, দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত, তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের ছেলেরা খেলতে পেরেছে। তাদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব তো আমি দেখি না।’ তাঁর প্রথম সরকারের সময় বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জিতেছিল, বিশ্বকাপে গিয়েছিল, সেসবও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী, ‘আরও একটা জিনিস খেয়াল করেন। আসলে খেলোয়াড় হিসেবে আসছে কারা, আপনি খেলোয়াড় পাচ্ছেন কোত্থেকে, কত জন পাচ্ছেন। প্রথম যখন সরকারে ছিলাম, আমাদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আমাদের মনোযোগ ছিল, আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন বিভিন্ন খেলাধুলায় মনোযোগী হয়। সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ছোট থেকে অভ্যস্ত করে করে, অনুশীলন করে করে, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগানো হয়েছে। তাদের তৈরি করা হয়েছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ কিন্তু ভালো করছে। এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীর ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি আবেগটাও প্রকাশ পেয়ে যায়, ‘এখানে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। দোষ যদি দিতেই হয়, ওই চারটি দল (যারা সেমিফাইনালে গেছে) বাদ দিয়ে বাকি সব দলকেই দোষ দেন। খালি বাংলাদেশকে দোষ দেবেন না। আমি আমার ছেলেদের কখনো নিরুৎসাহিত করি না। আমি বরং ফোন করে ওদের বলি, খেলো তোমরা, তোমরা ভালো খেলেছ। ৩৮১ রান তাড়া করে (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) বাংলাদেশ ৩৩৩ রান করল। আপনারা চিন্তা করে দেখেন। তাহলে আপনারা খারাপ বলবেন কীভাবে? আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না।’

 

শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলার রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি এবং বোমা হামলা মামলার রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতার ট্রেনে হামলা সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের এ রায় জাতিকে বিস্মিত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা যেকোনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, আমরা সবসময়ই সন্ত্রাসের ঘটনায় নিন্দা করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সুষ্ঠু বিচার চেয়েছি। ‘কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় সব নেতাকর্মীকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তিন বছর পর অভিযোগপত্র দিয়ে ২৫ বছর পর রায় দেয়া হলো। ‘এতে প্রমাণ হয়, এ রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,’ যোগ করে মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, শুধু ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য একের পর এক গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে, বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে চিরতরে নির্বাসিত করার আয়োজন সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের আশ্রয়ের শেষস্থল বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা, একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রভাতী শাখা (শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ২০১৯ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ৮ জুলাই সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সহ-ধর্মিনী ও কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মোসা: জাকিয়া সুলতানা। কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ’র প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের উপাধাক্ষ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না তাসনিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার ও রিজু তামান্না। এ সময় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে জবানবন্দি

ধর্ষণের পর সায়মাকে হত্যার কথা স্বীকার হারুনের

ঢাকা অফিস ॥ সাত বছরের শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি হারুন অর রশীদ। গতকাল সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে হারুনকে আদালতে হাজির করে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করে পুলিশ। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জবানবন্দিতে আসামি হারুন বলেছেনÑ ওয়ারীতে খালাতো ভাই পারভেজের বাসায় থাকতেন তিনি। পারভেজের রঙের দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পারভেজের এক বছর বয়সী ছেলের ওষুধ নিয়ে আসেন তিনি। এরপর বাসা থেকে বের হওয়ার পর পারভেজের অষ্টম তলা ফ্ল্যাটের বাসার সামনে সামিয়াকে দেখতে পান। সামিয়া পারভেজের বাসায় আগেও এসেছে। পারভেজের ছেলের সঙ্গে সামিয়া খেলাধুলা করত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. আরজুন আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছেন, সামিয়া হারুনকে বলেন, “চাচ্চু আমাকে ছাদটা দেখাইয়া নিয়ে আসেন। ” তখন হারুন সামিয়াকে নিয়ে ছাদে ওঠেন। একপর্যায়ে সামিয়াকে নয় তলার ফাঁকা কক্ষে নিয়ে যান হারুন। সেখানে হারুন ধর্ষণের চেষ্টা করলে সামিয়া চিৎকার করেন। তখন তার গলাটিপে ধরে অচেতন করে ফেলেন। সেখান থেকে সামিয়াকে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন হারুন। পরে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে সামিয়া নিশ্চুপ হয়ে গেলে ওই কক্ষে থাকা রশি দিয়ে সামিয়াকে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। জবানবন্দিতে হারুন আরও বলেছেন, সামিয়াকে হত্যা করার পর লাশ রেখে খালাতো ভাই পারভেজের বাসায় যান। তখন মাগরিবের আজান দেয়। তিনি গোসল সারেন। পরে বাসার নিচে এসে এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। রাত ১১টা দিকে নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যান। বাড়ি যাওয়ার পর মোবাইলের সিম ফেলে দেন। সামিয়াকে ধর্ষণ করে হত্যা করার কথা সেই রাতে তার বাবা-মাকে বলেন। পরে তিনি তাঁর ফুপুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এর আগে হারুনকে পুলিশ কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে ওয়ারীর বনগ্রাম মসজিদের সামনের ভবনের নির্মাণাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় সায়মার লাশ। সে সিলভারডেল স্কুলের ছাত্রী ছিল। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সায়মার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন সোহেল মাহমুদ। পরে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এ আলামত আমরা পেয়েছি।’

দৌলতপুর সীমান্তে গরু উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি একটি গরু উদ্ধার করেছে। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল চিলমারী সীমান্তের ১৫৭/২-এস সীমান্ত পিলার সলগ্ন বাংলাদেশের ৪০০ গজ অভ্যন্তরে মরারপাড়া মাঠ থেকে গরুটি উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া গরুর মালিককে পাওয়া যায়নি বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে চোরাকারবারি চক্র ভারত থেকে গরুটি চুরি করে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশকালে বিজিবি’র টহল দলের সমনে পড়লে তারা গরুটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে গরুটি কুষ্টিয়া শুল্ক বিভাগে জমা দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়ায় ঢাকা বিশবিদ্যালয় এক্স স্টুডেন্ট এসোশিয়েশন’র কার্যালয় উদ্বোধন

কুষ্টিয়ায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এক্স স্টুডেন্ট এসোশিয়েশন (ডুসাক) কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। রবিবার রাত ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দি লাইব্রেরী ও অব বালি ভবনের নীচ তলায় ডুসাক সভাপতি শামসুল আলম টুকুর সভাপতিত্বে এই কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ডুসাক সদস্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। এসময় সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার (পিবিআই) ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদুর রহমান ও একেএম জহিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরীসহ কুষ্টিয়া জেলায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারী কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকাসহ নানা শ্রেনী পেশায় নিযুক্ত ডুসাক সদস্যবৃন্দ। ঘরোয়া পরিবেশে বর্ণিল আয়োজনে ফিতা ও কেক কেটে উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ডুসাক পরিবারের নির্ধারিত একটি স্থান হিসেবে প্রাথমিকভাবে এই কার্যালয় ব্যবহৃত হবে। তবে আগামীতে ডুসাকের স্থায়ী ঠিকানা খুঁজতেও অনুসন্ধানী প্রয়াস চলছে বলে আশ^স্ত করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। এসময় তিনি এই ভবনের ২য় তলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের গড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও চলমান ‘লাইব্রেরী অব বালি’ নামের একটি দাতব্য গ্রন্থাগার পরিদর্শন করে বলেন, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কুষ্টিয়া অন্যান্য জেলার তুলনায় এগিয়ে থাকলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও অনেক গুণগত পরিবর্তন আসা দরকার বিশেষ করে সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে প্রয়োজনীয় প্রাজ্ঞতা বিকাশে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই।  ডুসাক সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান এখন থেকে ডুসাক পরিবারের সকল সদস্যদের আগমনের মধ্যদিয়ে কার্যালয়টি প্রাণ চাঞ্চল্যে পরিপূর্ন করার আহ্বান করেন। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন সকল সদস্য।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা জাসদ নেতৃত্বের প্রতিনিধি সভা

কুষ্টিয়া জেলা জাসদের আয়োজনের বৃহত্তর কুষ্টিয়া তথা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা জাসদের নেতৃবৃন্দদের অংশগ্রহনে দলীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের শাপলা চত্বরস্থ পালকি রেষ্টুরেন্টে কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি হাজি গোলাম মহনিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শফি উদ্দিন মোল্যা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ ওবাইদুর রহমান চুন্নু, সাংগঠনিক সম্প্দাক আব্দুল আলীম স্বপন, কেন্দ্রীয় যুবজোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবীর স্বপন, সদস্য সাহাবুব আলী, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসদের সভাপতি সবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তাকছিরুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা জাসদের সভাপতি ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চাঁদু, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী শ্রী অসিত কুমার সিংহ রায়, প্রচার সম্পাদক কারশেদ আলম, মিরপুর উপজেলার জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, ভেড়ামারা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, কুমারখালী উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. জয়বেদ বিশ^াস প্রমুখ। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশব্যাপী হত্যা-খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, প্রকাশ্য দিবালোকে নিয়ন্ত্রনহীন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, আকণ্ঠ নিমজ্জিত ঘুষ, দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে জনজীবনের জানমাল নিরাপত্তাহীনতায় বিপর্যস্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০লাখ শহীদের আত্মদান ২লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্যদিয়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ এক গুমট পরিস্থিতির মুখে গণতান্ত্রিক রাজতৈনিক চর্চা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম নতুন করে বৃদ্ধি করে জনগণের ঘারে চাপানো সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণ নেবে না। বি.ই.আর.সি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো জ্বালানি বিষয়ে জনগণের উপর সরকার বা অন্য কেউ যাতে অযৌক্তিক, অন্যায় কোন কিছু চাপিয়ে দিতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণের স্বার্থ দেখা। আইনে আছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোম্পানিসমূহ লাভজনক অবস্থায় থাকলে কোন অবস্থায়ই দাম বাড়ানো যাবে না। কিন্তু বি.ই.আর.সি আজ জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। সম্পূর্ণরূপে জনস্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীরা লেবাস পাল্টে ক্ষমতাসীনদের লেবাসের আড়ালে আরও বেপরোয়া ও আগ্রাসী হয়ে দেশকে জঙ্গী আতংকে ঠেলে দিয়েছে। এসব অপশক্তির বিনাশ ও প্রতিরোধ করে পরিস্থিতির উত্তরোনে দেশব্যাপী সার্বজনীন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রগামী দেশের চলমান ধারাকে অব্যহত রাখতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান করেন নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় ‘শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ‘শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনার গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম  হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আইসিটি ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আর তাই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদের শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মো: আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে  সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী,  জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুছাব্বিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাহেরা নাজনীন প্রমুখ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহযোগীতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সকল উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সকল সহকারী প্রোগ্রামার, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষক, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এরশাদপুত্র এরিককে হুমকি, থানায় জিডি

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে শাহাতা জারাব এরশাদ এরিককে (এরিক এরশাদ) তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এরিক এরশাদের পক্ষে জিডি করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আখতার। জিডিতে বলা হয়, ‘আমি মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার, পিতা মরহুম শাফায়ে হোসেন, পরিচালক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট, আমার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ থাকায়, তার ছেলে শাহাতা জারাব এরশাদ এরিককে কে বা কারা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।’ জিডিতে তার মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ করে আরও বলা হয়েছে, ‘আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের পরিচালক হিসেবে এরিকের সব ভালো-মন্দ দেখাশোনার দায়-দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়।’ এরশাদ-বিদিশা দম্পতির একমাত্র সন্তান এরিক এরশাদ। বাবা-মার ছাড়াছাড়ির পর পালাক্রমে উভয়ের সঙ্গে থাকেন এরিক। তবে নিরাপত্তার কারণে বেশির ভাগ সময় বাবার সঙ্গে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করতেন তিনি।

মায়ের কষ্ট লাঘব হলো

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের দেয়া হুইল চেয়ারে এখন থেকে স্কুলে যাবে প্রতিবন্ধী আরবি

নিজ সংবাদ ॥ আরবি খাতুন। বয়স ৬ বছর। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। তবে আরবির কষ্ট ছিল সে হেটে স্কুলে যেতে পারত না। মায়ের কোলে চেপে এক কিলোমিটার এলাকা পাড়ি দিয়ে তাকে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হতো। তবে তার কষ্ট লাঘব হয়েছে। আরবি পেয়েছে নতুন একটি হুইল চেয়ার। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আরবির বিষয়টি জানতে পেরে শহরে নিয়ে এসে একটি নতুন হুইল চেয়ার কিনে দিয়েছেন।

আরবিদের বসবাস মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের জিকে ক্যানেল পাড়ায়। বাবা দিনমজুর। অভাবের সংসার।  গত বছরের মার্চে বাড়ির সামনে সড়কে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা শেষে পা ফিরে পান। তবে হাঁটার শক্তি হারিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রন্থ পা নিয়ে চলাফেরা করতে অসুবিধায় পড়ে শিশু আরবি।

প্রতিদিন মায়ের কোলে চেপে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় তাকে। মাকেও সময় দেয়া লাগে। মায়ের কোলে চেপে স্কুলে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া হয়। এরপর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত আরবি’র পরিবারকে খবর পাঠায়। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের একটি সার্জিক্যাল হাউজে নিয়ে নতুন একটি হহুল চেয়ার উপহার দেন। এ সময় আরবির মা হাঁসি খাতুন ও বাবা রাজু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

হাঁসি খাতুন বলেন, অর্থের অভাবে হুইল চেয়ার কেনার সাধ্য ছিল না। তাই প্রতিদিন মেয়েকে নিজের কোলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতাম। তবে এখন সুবিধা হলো। কষ্ট অনেক কমবে। আরবিও চলাফেরা করতে পারবে নিজের মত। তিনি পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান।

হুইল চেয়ার পেয়ে আরবি বলেন, এখন থেকে নতুন হুইল চেয়ারে করে স্কুলে যেতে পারব। এক জায়গায় বসে থাকা লাগবে না। এক পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। তাই এথন কষ্ট অনেক কমে যাবে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, শিশু আরবির বিষয়টি জানতে পেরে খুব খারাপ লাগে। তাই তাকে একটি হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছি। যাতে আগামীতে সে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করতে পারে। নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে। আগামীতেও তার পড়ালেখার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে আমার পক্ষ থেকে।’

‘রিজওনাল সেমিনার অন ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশব্যাপী প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ শিক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে, এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ-মেয়াদি অর্থের যোগান দেয়া সম্ভব হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘রিজওনাল সেমিনার অন ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন’ শীর্ষক ৪ দিনের এক সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আমাদের সরকার একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে পলিসি সাপোর্ট, আইনগত সংস্কার, অবকাঠামো র্নিমাণসহ নানাবিধ সহযোগিতা দিয়ে আসছে।’ তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম দূর করে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।’ পুঁজিবাজারে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার এখনও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীর উপর নির্ভরশীল। তিনি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে দৈনন্দিন লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দক্ষ বিনিয়োগ গোষ্ঠি গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেট (বিএএসএম) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাস করতে বিএসইসি দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে একথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘এর আওতায় বিভাগীয় শহরগুলোতে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সকল জেলা সদরে অনুষ্ঠিত হবে।’ পুঁজিবাজারে খেয়াল খুশি মত বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘মূলত, বিনিয়োগকারীরাই হল বাজারের মূল চালিকাশক্তি। তাই তাদের সচেতনার বিষয়টি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত।’ তিনি বলেন,‘ জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন প্রত্যেকের বিনিয়োগ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ে, অন্যদিকে নিশ্চিত হয় বাজারের স্থিতিশীলতা।’ এই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করেই আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে দেশব্যাপী বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দেয়, বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীসহ, পুঁজিবাজার সংশি¬ষ্ট সকল অংশীজনের বিনিয়োগ দক্ষতা ও কলা- কৌশল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে।’ ‘এতে অন্যান্য প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দিকটি অধিকতর নিশ্চিত হয়ে বিকশিত একটি পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে এবং এই পুঁজিবাজার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ-মেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম উৎস হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেমিনারে ভারত, জাপান, ফিলিপাইন, নেপাল, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং আইসল্যান্ডের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন। সেমিনারে দেশের উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। পুঁজি বাজারের সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত ডিভিডেন্ড আয়ের সীমা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। নতুন ফিক্সড ইনকাম ফিন্যানসিয়াল প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শর্ট সেল এবং রিস্ক বেইস ক্যাপিটাল সংক্রান্ত দুইটি বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বিএসইসি’র (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জনবল বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কমিশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বিএসইসির কর্মচারিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণীত প্রণোদনা প্যাকেজের সফল বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশী কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইমপ্যাক্ট ফান্ড গঠনের জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বর্তমান সরকার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এর ফলে ছোট ও মাঝারি আকারের কোম্পানি পুঁজি উত্তোলন করতে পারবে এবং স্টার্ট-আপ কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের দারিদ্র বিমোচনে তাঁর সরকার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্প-উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সকল শর্ত পূরণ করেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার সাড়ে ৬ শতাংশের উপরে এবং গত অর্থ-বছরে তা ৮ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০২৩-২৪ সালের মধ্যে আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ও উল্লেখযোগ্য চিত্র ভাষণে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার কমে এখন ২১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। গত দশ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ৫ কোটির বেশি মানুষ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণসহ যোগাযোগ ও টেলিযোগাযোগ খাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। সরকারের বেসরকারী খাতকে উৎসাহিত করায় দেশে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের মধ্যে- নারী-পুরুষ, গ্রাম-শহর ও অঞ্চল ভিত্তিক বৈষম্য কমে আসছে। সরকার প্রধান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী জিডিপি’র ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম দেশ। বাংলাদেশ ২০১৭ সালে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় ছিল। তিনি বলেন, প্রাইসওয়াটার হাউজ কুপারস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে ২৮তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ২য় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল নীতি-২০১৪ প্রণয়ন করেছি। যার আওতায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর ফলে, এ সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মস্থান সৃষ্টি হবে আরও ১ কোটিরও বেশি মানুষের।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা বিশ্বাস করি পুঁজি বাজারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ও বিনিয়োগে অংশীদার করা সম্ভব। কারণ, যত বেশি মানুষ পুঁজি বাজারে সম্পৃক্ত হবে, আমাদের শিল্পায়ন তত বেশি ত্বরান্বিত হবে।’ তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এশিয়া প্যাসিফিক ইকনোমিক কো-অপারেশনের ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরস ট্রেনিং ইনিশিয়েটিভ (এপিইসি-এফআরটিআই) এর আওতায় বিএসইসি ও এডিবি কর্তৃক আয়োজিত এই সেমনিারের আলোচনা থেকে দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপকৃত হবেন। একে অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হয়ে নিজ নিজ দেশের পুঁজিবাজারের ভিতকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস পাবেন। বর্তমান সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার মাধ্যমে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা কাদের সিদ্দিকীর

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তার বেরিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা বৃহত্তম রাজনৈতিক এ মোর্চায় ভাঙন দেখা দিল। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ রাজনীতিবিদ। আগের রাতে দলের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টে থাকবেন না, এটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু দিন ধরে গুঞ্জন চলছিল। আজ সেটি বাস্তবে রূপ নিল। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাদশ সংসদে শরিকদের না জানিয়ে বিএনপি ও গণফোরামের সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও প্রধান দল বিএনপির কাছ থেকে ‘প্রত্যাশামাফিক’ উত্তর না পাওয়ায় জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ সময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী এই সাত মাস জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আনুষ্ঠানিকভাবে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের অফিসে একটি অসমাপ্ত বৈঠক ছাড়া কখনও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাতে মনে হয় কোনো কালে, কখনও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন হয়নি।’ তিনি বলেন, এমতাবস্থায় দেশের জনগণের প্রকৃত পাহারাদার হিসেবে গঠিত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বসে থাকতে পারে না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণকে পাশে নিয়ে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরুর অঙ্গীকার করছি আমরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন উপস্থিত না থাকায় গত ১০ জুন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভা মুলতবি করা হয়। এর পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও মুলতবি সভা আর আয়োজন করা হয়নি। কাদের সিদ্দিকীর দাবি, বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ বেড়েছে। ঐক্যফ্রন্টের এমন কর্মকান্ডে তাদের নেতা কাদের সিদ্দিকীকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলেই মনে করেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটেই গত বৃহস্পতিবার দলের বর্ধিত সভায় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার দাবি তোলেন দলের নেতাকর্মীরা। এর আগেও নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলে জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, রোববার রাত ১১টায় সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকছে না কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সোমবার সকালে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন কাদের সিদ্দিকী। এর পরই ফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তো ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের কাছে। ১০ জুন ফ্রন্টের বৈঠক হয়েছে। কথা ছিল সেই বৈঠকে ব্যাখ্যা দেবে। কাদের সিদ্দিকী চিঠি দিয়েছেন। সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছে- সেটি তো আমরা জানি না। এই সিদ্ধান্ত কে নিল, কেউ বলতে পারে না। আমি নিজেও স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, আমি জানি না। আমাদের নেতাও জানেন না। আমরা সবাই জানি, ড. কামাল হোসেন শীর্ষনেতা, কিন্তু তার কাছে তো আমরা জানতে চেয়েছি, কিন্তু তিনিও বলতে পারেন না। এসব কারণেই আমরা ফ্রন্ট ছাড়ছি।’ ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গঠন হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রথমে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া মিলে ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী।

এরশাদের অবস্থা অপরিবর্তিত – জি এম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সিএমএইচে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। গতকাল সোমবার দুপুরে বনানীতে এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ওনার অবস্থা অপরিবর্তিত। স্বাভাবিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছেন। তার লাংস ভালোভাবে ফাংশন করছে বলে ডাক্তাররা ধারণা করছেন।” তিনি বলেন, ব¬াড প্রেশার, হার্ট বিট স্বাভাবিক রয়েছে, ভাইটাল সাইন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এরশাদের রক্তে প্লাটিলেট কম, প্রতিদিনই ইনজেক্ট করতে হচ্ছে। গত ২২ জুন থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি থাকা এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় বলে জানিয়েছে জাপা। গত শনিবারের পর এরশাদের শারীরিক অবস্থা ‘অপরিবর্তিত রয়েছে’ বলে জানান তিনি। এক ধরনের বিরল ব্লাড ক্যান্সার মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে (এমডিএস) আক্রান্ত এরশাদ সিএমএইচে ভর্তির পর তার ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে ডায়ালাইসিস দেওয়া শুরু হয়। শনিবার থেকে দেওয়া হচ্ছে হেমো ডায়াফিল্টারেশন ও হেমো পারফিউশন। এতে রক্তের বিষাক্ত পদার্থগুলো বের হয়ে এসেছে বলে জানান কাদের। অশীতিপর এরশাদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে তিনি সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আসেন। সিএমএইচে ভর্তির পর জাতীয় পার্টি উন্নত চিকিৎসার জন্য এরশাদকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে চাইলেও সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা ‘বিপজ্জনক’ বলে তা নাকচ করেছেন।

কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার অধিকাংশ দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল রাত ৮টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে ফোরামের সভাপতি মুজিবুল শেখ’র সভাপতিত্বে এ সভায় নব-গঠিত ফোরামের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আলোচনায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী ২০ জুলাই ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্যসহ সকল সদস্যের একটি পরিচিতি সভা করার সিন্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এডিটরস্ ফোরামের সদস্য আনিস্জ্জুামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দি টিচার পত্রিকার সম্পাদক, ফোরামের সদস্য শরীফ বিশ্বাস, ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু ও দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকার সম্পাদক এ্যাডঃ পি এম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। সার্বিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি