চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কেটে যুবকের মৃত্যু

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা মোমিনপুরে ট্রেনে কেটে শুকুর আলী (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোরে  মোমিনপুর স্টেশন সংলগ্ন এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক শুকুর আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের মাঝহাট গ্রামের দাউদ সর্দারের ছেলে। চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত শুকুর আলী মানুষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শনিবার সকালে সদর উপজেলার মোমিনপুর রেলস্টেশনের নিকটবর্তী নীলমণিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বরাবর লাইনের ওপর থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি শুকুর আলী আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে বিষয়টি রহস্যজনক।

প্রধানমন্ত্রীকে তোয়াশ জোয়ার্দ্দারের খোলা চিঠি

মিরপুর থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার জন্য কবুতর এক্সপ্রেস দাবী

হাবিবুর রহমান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে গোপালগঞ্জে ট্রেনে যাওয়ার জন্য একটি ট্রেন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুল ছাত্র। ঐ স্কুল ছাত্রের নাম তোয়াশ জোয়ার্দ্দার। সে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য এবং মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। গতকাল শনিবার ঐ স্কুল ছাত্রের পিতা মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির ঐ স্কুল ছাত্র তার খোলা চিঠিতে লিখেছে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পত্রের প্রথমে আমার সালাম নিবেন। আশাকরি আপনি আল্লাহর রহমতে খুব ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।” মাননীয় প্রধানমন্ত্রি, আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবুতরকে খুবই ভালো বাসতেন। আমিও কবুতরকে খুবই ভালোবাসি। আমি গত ২২ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে আমার বাবা, মা, বড়ভাই, চাচা ও চাচীসহ ৬জন মিলে পবিত্র ওমরাহ হজ্জ পালন করতে মক্কা ও মদিনাতে গিয়েছিলাম। মদিনাতে আমি  আমার বড় ভাই কবুতরকে গম খেতে দিয়েছি। সে কারনে আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন আমাদের মহানবী ও বঙ্গবন্ধুসহ সকলের প্রিয় কবুতর এক্সপ্রেস নামে ১টি আন্তঃনগর ট্রেন গোপালগঞ্জ থেকে ঈশ্বরদীগামী দ্রুত চালু করবেন। যাতে করে আমি ও আমার পরিবার সকলে মিলে মিরপুর ষ্ট্রেশন থেকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির ধনগ্রামে নানুর বাড়ী যেতে পারি। আপনি আমার নানুরমত প্লিজ দয়া করে আমার অনুরোধটি রাখবেন। আমি আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতনের ২য় শ্রেণির ছাত্র। আমার রোল নংঃ ০১।” ঐ স্কুল ছাত্রের পিতা মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার জানান, “ছোট বেলা থেকে সে বঙ্গবন্ধুর ভাষন শুনে। ৭ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ এর ভাষণ দেয় তোয়াশ। এছাড়া ২০১৮ সালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানেও বঙ্গবন্ধুর ভাষন দেয় সে।”   তিনি আরো জানান, তোয়াশের নানার বাড়ী গোপালগঞ্জে। তার খুব ইচ্ছা ট্রেনে করে গোপালগঞ্জে তার নানার বাড়ী যাবে। তাই সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছে। চিঠিটি গত ৪ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

মাদকদের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

ঢাকা অফিস ॥ জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের সংঘবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি বলেছেন, আমাদের সমাজের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আমরা এমডিজি অর্জনে সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। একইভাবে এসডিজি অর্জনেও সফলতা অর্জন করতে হবে। এজন্য সমাজের কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। জাতি-ধর্ম-বর্ণগত কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। আর সমাজ থেকে মাদক ও জঙ্গিবাদ দূর করতে তরুণদেরই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ মিলনায়তনে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস কো-চেয়ারম্যান অ্যারোমা দত্ত, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-তে ছয়দফা আন্দোলন, ’৬৯ গণঅভ্যূত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ না জিততো, তাহলে কী আমরা স্বাধীন হতে পারতাম? পারতাম না। সেই সময় যদি তরুণেরা দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা পালন করতে পারে, ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে এখনকার তরুণেরা কেন দেশের কল্যাণে ব্যবহার হবে না, কেন তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারবে না। আমি মনে করি, অবশ্যই পারবে। উল্লেখ্য, তরুণদের সম্পৃক্ত করে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর সহায়তায় ‘সম্প্রীতি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ প্রকল্পের শিক্ষণ বিনিময়ের লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ গণআন্দোলনের আশা সেলিমার

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ ভবিষ্যতে গণআন্দোলনের আশা করছেন। গতকাল শনিবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিজের এই আশার কথা জানান। সেলিমা বলেন, আজকে আপনারা যে বলেছেন, জনগণের সম্পৃক্ততা ক্রমশ বাড়ছে, উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। আমরা জানি, এই উত্তাপ গণআন্দোলনে রূপ নেবে। যে কোনো আন্দোলন যতক্ষণ গণআন্দোলনে রূপ না নেয়, সেই আন্দোলন কিন্তু ফলপ্রসূ হয় নাই। আপনারা দেখেছেন ’৬৯ এর আন্দোলন, আপনারা দেখেছেন আমাদের ’৯০ এর আন্দোলন। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সেলিমা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি বলেন, গণতন্ত্রের মুক্তি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষাকারী বলেন, সব কিছুর জন্য বাংলাদেশের একজন আছেন, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে প্রতিটি ঘরে ঘরে একটি আওয়াজই ধ্বনিত হচ্ছে, একটি আওয়াজই বার বার উচ্চারিত হচ্ছে- আমাদের দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মাতা কবে মুক্তি পাবেন? আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, তাকে আমরা মুক্ত করবোই। যেভাবে হোক আমরা সকলে মিলে একসাথে দেশনেত্রীকে মুক্ত করব। এই শপথ নিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে বিএনপি সমর্থক কৃষিবিদদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব এগ্রিকালচারিস্ট (এএবি) এর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেলিমা। সংগঠনের আহ্বায়ক রাশিদুল হাসান হারুনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জি কে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামীমুর রহমান শামীম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ইব্রাহীম খলিল, এএবি‘র অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক বাদল সরকার, রজব আলী, শফিকুল ইসলাম, হাসান জাফির তুহিন, আতিকুল ইসলাম, সাহাদত হোসেন চঞ্চল প্রমুখ।

চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩৫ বছর করার দাবিতে অবস্থান

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এক দল চাকরিপ্রত্যাশী। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’ ব্যানারে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসের টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয় শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী। সংগঠনটির মুখপাত্র ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, “আমরা সকাল থেকে এখানে অবস্থান নিয়েছি। সারাদেশ থেকে চাকরি প্রত্যাশিরা আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমরা আমাদের দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এখানে অবস্থান করব।” সরকারি চাকরিতে ঢোকার বয়স ৩৫ বছরে উন্নীত করতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি পূরণে দশম সংসদে সংসদীয় কমিটি সুপারিশ জানালেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। দশম সংসদে সেই প্রস্তাব উত্থাপন হলেও কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। ইমতিয়াজ বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পরপর তিন বার সুপারিশ করার পরও কেন সরকার এটাকে উপেক্ষা করছে? “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গত ৭ বছর ধরে এই আন্দোলন করে আসছি। তাই আবারও সরকারের কাছে দাবি করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের এ দাবি মেনে নিয়ে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করে দিন।”

 

এরশাদের অবস্থার উন্নতি, তবে কঙ্কামুক্ত নয় – জি এম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সিএমএইচে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই জি এম কাদের।   তবে তিনি বলেছেন, এরশাদকে এখনই আশঙ্কামুক্ত বলছেন না চিকিৎসকরা। ৯০ বছর বয়সী এরশাদ গত ২২ জুন থেকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মাঝে তার অবস্থার এতটা অবনতি ঘটেছিল যে চিকিৎসার জন্য বিদেশও নেওয়া যাচ্ছিল না। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাদের প্রতিদিন দলীয় চেয়ারম্যানের শরীরিক অবস্থার বিবরণ সাংবাদিকদের জানাচ্ছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গতকাল হেমো ডায়া ফিল্টারেশন, হেমো পারফিউশনের মাধ্যমে কিডনি ডায়ালাইসিস হয়েছে উনার (এরশাদের)। বাড়তি টক্সিন ফিল্টারেশন হওয়ায় অবস্থা ভালোর দিকে। তবে শঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসকরা আশা করছেন, আগামী দুদিনের মধ্যে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেছেন, আর দুই-তিন দিনের মধ্যে উনার আরও উন্নতি হলে উনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন।” মাইডোলিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদের ফুসফুস ও কিডনিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই শুক্রবার ভোরে তার ডায়ালাইসিস শুরু হয়। এরশাদের শরীরে জমে থাকা পানি বের করার পাশাপাশি তাকে রক্তও দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় পার্টি এরশাদকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে চাইলেও সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাতে সায় দেননি। বৃহস্পতিবার এরশাদের শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ওই হাসপাতালে পাঠানো হলে রাতে চিকিৎসকরা জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা এরশাদকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে ‘বিপজ্জনক।’

 

হরতাল সফলের আহ্বান বাম গণতান্ত্রিক জোটের

ঢাকা অফিস ॥ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা আজ রোববারের হরতাল সফল করতে দেশের সবাইকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণশুনানিতে আমাদের বক্তব্য অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অযৌক্তিভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সিএনজির দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন ব্যয় বাড়বে। শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোই শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোই বিদ্যুতের দাম বাড়বে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পপণ্যসহ কৃষি ও সেচে ব্যয় বাড়বে। এভাবে ব্যয় বাড়ার ফাঁদে পড়ে জনগণ নিপীড়িত হবে। তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কমায় ভারতে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার এলএনজি, এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীদের পকেট ভারী করার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রেখেছে। এ সময় অবিলম্বে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাজার দামের অর্ধেকে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা। একইসঙ্গে রবিবারের হরতালে কোনও প্রকার উসকানি না দিতে সরকারকে হুঁশিয়ার করা হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেনÑবাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সিপিবি’র সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।

প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছে বিএসএফের প্রতিনিধি দল

ঢাকা অফিস ॥ বর্ডার হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে বিএসএফের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিএসএফের সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টুআইসি অরুন কুমার বর্মা। ভারতীয় প্রতিনিধি দলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সেলিম রেজা। এর আগে এ বিষয়ে গতকাল শনিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে প্রতিনিধিদলটি এ সফরে আসছে। সফরটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্য পর্যায়ের ১৫ জন কর্মকর্তা তাদের স্ত্রী/স্বামীসহ প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সফর করছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। এছাড়াও প্রতিনিধিদলটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বিজয়কেতন জাদুঘর, প্রয়াস, হাতিরঝিল ও কক্সবাজার পরিদর্শন করবে। এর আগে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ তরুণ কর্মকর্তা তাদের স্ত্রী/স্বামীসহ ভারতের দিল্লি, আগ্রা ও কলকাতা সফর করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর জেনারেল আজিজ আহমেদ তার প্রথম বিদেশ সফরকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধানকে এ ধরনের সফরের পরামর্শ দেন। এই সফর দুই দেশের অভিন্ন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াবে এবং দুই সেনাবাহিনীর মধ্যকার সহযোগিতা ও আন্তঃকার্যকারিতা সম্প্রসারণ করবে।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৩৩বোতল ফেনসিডিল ও ৫বোতল মদ উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জয়পুর বিওপি’র টহল দল মহিষকুন্ডি মাঠে অভিযান চালিয়ে ৩৩বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও ৫বোতল ভারতীয় উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ  আটক হয়নি।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারাদেশে গণফোরামের বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামি ৯ জুলাই (মঙ্গলবার) সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে গণফোরাম। গতকাল শনিবার বিকালে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ এই তথ্য জানান। গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে গণফোরাম আগামি মঙ্গলবার সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছে। তিনি জানান, আগামি ৯ জুলাই ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা ৭ জুলাইয়ের হরতাল কর্মসূচিকে গণফোরাম সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান মোশতাক আহমেদ।

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের আহত-৪, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজ সংবাদ ॥ গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় হামলার শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ধলাহরা চন্দ্র এলাকার এক আওয়ামী পরিবার। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্প্দাক  আবু দাউদ ও তাঁর স্ত্রী সন্তানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক টিক্কা জোয়ার্দ্দার ও তাঁর ঘনিষ্ঠজন ধলাহরা চন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ার রহমানের সমর্থক। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলার শিকার আবু দাউদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান গত উপজেলা নির্বাচনে আবু দাউদ ও তার নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থী নায়েব আলী জোয়ার্দ্দারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এই অপরাধে নৌকার বিপক্ষে কাজ করা বিএনপি নেতা টিক্কা জোয়ার্দ্দার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ার রহমান আবু দাউদ ও তাঁর কর্মী সমর্থকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। নির্বাচনের পর থেকেই আতঙ্কে গা ঢাকা দেন আবু দাউদ ও তার কর্মী সমর্থকরা। শুক্রবার আবু দাউদের বাবার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে আসেন তারা। বিকেল ৪টায় বাড়িতে এ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল চলছিল। এসময় হঠাৎ করেই টিক্কা জোয়ার্দ্দার ও মতিয়ার রহমানের ক্যাডার বাহিনী তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে আবু দাউদ, তাঁর স্ত্রী নুরজাহান, ছেলে আল আমীন ও ভাই হাসান আলী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে শনিবার আবু দাউদ ও তার কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধণ করেছে প্রতিপক্ষরা। এনিয়ে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

দৌলতপুরে ভারতীয় তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি কু-চক্রি মহল!

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে একটি কুচক্রি মহল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ইউসুফপুর গ্রাম এলাকার ভারতীয় তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ তুলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পায়তারা করছে বিএনপি-জামাতপন্থী কতিপয় মুক্তিযোদ্ধারা। এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা কমান্ডার কামাল হোসেন দবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিচলিত হয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন মুক্তিযোদ্ধাদের এত সম্মানের চোখে দেখছে সেখানে আমার এই উপজেলার কতিপয় বিএনপি জামাতপন্থী ভারতীয় তালিকাভূক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচার কিভাবে চালায় আমার বোধগম্য হয় না। সাবেক এই কমান্ডারের কাছে ইউনিয়ন কমান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরোও বলেন, আমি যখন কমান্ডের দায়ীত্বে ছিলাম তখন প্রতিটা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো মন্দ খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য একজন করে প্রতিনিধি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখচ্ছি সেই প্রতিনিধিরা ইউনিয়ন কমান্ডের নামে সাধারন মুক্তিযোদ্ধের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে প্রস্তুতকৃত তালিকায় অর্ন্তভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যারা এই ধরনের অভিযোগ করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি তাহলে আর কেউ এমন সাহস পাবেনা বলে জানান তিনি। এব্যাপারে ভারতীয় তালিকাভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে অশ্র“সজল চোখে তিনি বলেন, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের ৪৭ বছর পরে এসে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ তুলেছে কিছু নামধারী মুক্তিযোদ্ধা। আমি একজন ভারতীয় তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা যে তালিকা প্রস্তুত হয়েছিল ভারতীয় ট্রেনিং সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সময়ে। কিন্তু আজ আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ তুলছে তারা তৎকালীন বি.এন.পি-জামাত সরকারের সময়ে সাধারন গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। আড়িয়া ইউনিয়ন কমান্ড নামে পরিচয়দানকারী মোঃ আজগর আলী ভুলুর কাছে এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নামে স্বাক্ষরিত যে অভিযোগ ভারতীয় তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে সেটার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা এমনকি আমি সেখানে ছিলামও না তাহলে আমি কিভাবে ঐ অভিযোগ পেপারে স্বাক্ষর করবো। তিনি আরোও বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে আরেকজন ভারতীয় তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মত নিচু মানুষিকতা কখনো রাখিনা আমি বলে তিনি বলেন।

আলমডাঙ্গায় বিদ্যুতায়িত হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আহত-২

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের  বেলগাছি গ্রামে বিদ্যুতায়িত হয়ে ১জন গৃহবধুর মৃত্যু ও তার ছেলে ও নাতী আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১ টার দিকে বৃষ্টির সময় কাপড় নেড়ে দেবার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানাগেছে, আলমডাঙ্গার বেলগাছি উত্তরপাড়ার মৃত তক্কেল মন্ডলের স্ত্রী জবেদা  বেগম (৭০) দুপুরে বৃষ্টির সময় তাদের বাড়ীর বৈদ্যুতিক তারে কাপড় নেড়ে দেয়াবস্থায় কাপড় তুলতে গেলে তার লিক থাকায়  ভেজা কাপড়ে হাত দেবার সাথে সাথে বিদ্যুতায়িত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার বড় ছেলে কুরবান আলী মাকে ঐভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে মাকে জড়িয়ে ধরলে সেও মার সাথে আটকে থাকে। এ সময় কুরবানের ছেলে লালন (২৪) তার পিতা ও দাদীকে ঐভাবে দেখে সেও তাদের ধরলে সেও আটকে যায়। খবর পেয়ে প্রতিবেশি জাকির আলী এসে মেইন সুইচ বন্ধ করে তাদের উদ্ধার করে ততক্ষনে জবেদা বেগম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরন করে। অন্য দুইজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা মা ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এ সংবাদ  লেখা পর্যন্ত দুইজনের অবস্থা আশংকামুক্ত বলে পরিবার সুত্রে জানা  গেছে। গতকাল বাদ মাগরিব জবেদা বেগমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে বলে জনাগেছে।

 

প্রশাসন ও সাধারণ জনতার হস্তক্ষেপে খোরশেদ গংদের মিশন ব্যর্থ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন এর নিকট থেকে জোরপূর্বক ইস্তেফা-পত্র লিখে নিয়ে তার অফিস কক্ষের চাবি গোছা কেড়ে নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামসুল হককে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম এমন চক্রান্তের কথা জানতে পেরে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কুষ্টিয়া মডেল থানা, আলামপুর পুলিশ ক্যাম্প ও কুষ্টিয়া র‌্যাব ক্যাম্পে এ চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি সাধারন জনতার মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে খোরশেদ গংরা প্রশাসন ও সাধারন জনতার প্রতিরোধে পিছু হাটতে বাধ্য হয়। সুত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষককে যেকোন মূল্যে অপসারন করতে হবে এই লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র করতে থাকে খোরশেদ আলম গংরা। এই চক্রান্তকারী চক্রের সাথে এলাকার কিছু অর্থলোভী  নামমাত্র ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যুক্ত আছে। সুত্র আরো জানায়, খোরশেদ আলম বিএনপির থানা পর্যায়ের একজন নীতি নির্ধারক। ১ নং আলামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল মিলকে ধবংস করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন খোরশেদ কিভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয় সেটা অনেকেরই প্রশ্ন। স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় কোন রাজনীতির জায়গা না। এটা কোন ব্যবসার প্রতিষ্ঠানও না। এটা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ছেলে মেয়েরা লেকাপড়া করে। তাদের সামনে যদি তাদেও শিক্ষককে অপদস্ত করা হয় তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। এভাবে চললে স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধংশ হয়ে যাবে। তারা উল্টো খোরশেদ আলমকেই সভাপতির পদ থেকে বহিস্কারের দাবি তোলেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান,সভাপতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে সেই চেয়ারে তাকে বসাতে চাই। প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, আমি একজন সাধারন শিক্ষক। মানুষকে সুশিক্ষা দেয়া আমার কাজ। আমরা মান সন্মান নিয়ে বাঁচি। আমাদের একমাত্র পুঁজি সন্মান। সেই সন্মান তারা ছিনিয়ে নিচ্ছে। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনিই এর বিচার করবেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয় এবং প্রধান শিক্ষকের সন্মান রক্ষার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দেশজুড়ে নৈরাজ্য, দায়ী ক্ষমতাসীনরা – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষমতাসীনরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “সারাদেশে আজকে তারা (ক্ষমতাসীন) একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। আপনারা দেখছেন, দিনে-দুপুরে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় বেরিয়েছে প্রতি ঘণ্টায় ১২ জন লোক মারা যাচ্ছে, নিহত হচ্ছে। হয় সড়ক দুর্ঘটনায় অথবা হত্যা করার মধ্য দিয়ে। দেশে ধর্ষণ বেড়েছে, ডাকাতি বেড়েছে, লুটপাট বেড়েছে। মানুষের জীবনের এখন আর কোনো নিরাপত্তা নেই।” বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে সারাদেশ একটা কারাগারে পরিণত হয়েছে। এখানে একটি বিচার বিভাগ আছে, এ বিচার বিভাগের কাছে আমরা কোনো বিচার পাই না। এই বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকারের করায়ত্ত। আপনারা দেখেছেন, পাবনাকে কয়েকদিন আগে ১৯৯৪ সালে একটি ট্রেনে হামলার বিষয় নিয়ে যে রায় হয়েছে- এটা আমার মনে হয় না যে, কোনো সভ্য সমাজে, আইনের শাসনের দেশে এই ধরনের একটা ন্যক্কারজনক রায় হতে পারে।” তিনি বলেন, “আজকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। একেবারে শূন্যের কোঠায় এসে গেছে। উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। মেগা প্রজেক্ট, মেগা দুর্নীতি। আজকে পত্র-পত্রিকা খুলে দেখবেন, ব্যাংকগুলো থেকে কীভাবে টাকা চলে যাচ্ছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার একমাত্র কারণ হচ্ছে তারা এলএনজি আমদানি করতে চায়। এই এলএনজি আমদানি করে সেখানে যে ভর্তুকি দেবে, সেই টাকা জনগণের পকেট থেকে নিতে চায়।” এ নিয়ে বাম দলগুলোর রোববারের হরতালে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “কারণ এটা জনগণের দাবি, জনগণের দাবিকে অবশ্যই আমরা সবসময় সমর্থন করব।” খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, ‘‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে এই সরকার এটা প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্রকে আটক রাখতে চায়। কারণ দেশনেত্রী গণতন্ত্রের প্রতীক। যে নেত্রী তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাকে তারা অন্যায়ভাবে তাকে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। ঠিক একই ধরনের মামলা আপনাদের নেতা-নেত্রী, আপনাদের অনুসারী, তাদেরকে জামিন দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের দেশনেত্রীকে আপনারা জামিন দিচ্ছেন না। এটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি।” আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া ও দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে মানবববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ফখরুল। মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি শামসুল হুদা, নবী উল্লাহ নবী, মোশাররফ হোসেন খোকন, মীর হোসেন মীরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব বক্তব্য রাখেন।

 

হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম নেই – ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম নেই জানিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেছেন, হজযাত্রার শুরুতেই আমি বলেছি অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেই কথা মতো এখনও সবকিছু ভালো আছে। বিমানের কোনো ফ্লাইট এখন পযর্ন্ত বাতিল হয়নি। আশা করছি সামনে কোনো সমস্যা হবে না। হাজিদের খেদমতে আমরা সচেতন। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাজিদের বিষয়টি সব সময় খেয়াল রাখেন। তাই এখানে আমাদের ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে সবকিছু দেখভাল করেন, সেখানে কাজ না করার কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, প্রথমদিন হাজিদের এই সুবিধা দিতে না পারলেও দ্বিতীয় দিন থেকে হাজিদের ইমিগ্রেশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে হাজিদের কষ্ট অনেকাংশে কমে গেছে। আগে সৌদিতে এই ইমিগ্রেশন শেষ করতে সময় লাগতো ৬-৭ ঘণ্টা। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন হজ ক্যাম্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমসহ আরো অনেকে। নির্বিঘেœ চলাচল করছে হজ ফ্লাইট: বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গত দুই দিনে ৭১৫৬ জন পৌঁছেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ১৬৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫৪৯১ জন গেছেন। ২১টি ফ্লাইটে নির্বিঘেœ তারা সৌদি আরব পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, হজযাত্রী পরিবহনে ৬ জুলাই রাত ২টা পযর্ন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি ও সৌদি এয়ারলাইন্স ১০টি ফ্লাইটে পরিচালনা করেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার হজ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ৫৯৮টি হজ এজেন্সির হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন হজযাত্রীর সৌদি আরব যাবেন। ৪ জুলাই হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স। হজ শেষে দেশে ফেরাতে ফ্লাইট শুরু হবে ১৭ আগস্ট, চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যযন্ত। হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বিঘেœ হজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হজ যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘœ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশ ও চীনের মতৈক্য

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা সমস্যাকে আর ফেলে না রেখে এর দ্রুত সমাধান করার বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘একমত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। গত শুক্রবার বিকালে বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলে, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, এটার দ্রুত সমাধান করতে হবে। এটাকে আর ফেলে রাখা যাবে না। দুই বছর হয়ে গেছে (প্রত্যাবাসন) চুক্তি হয়েছে। ওই ব্যাপারে কোনও দ্বিমত নেই এবং সমাধান কীভাবে হবে সে ব্যাপারেও দ্বিমত নেই যে এদেরকে (রোহিঙ্গা) তাদের দেশে (মিয়ানমারে) ফিরে যেতে হবে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় দুই বছর ধরে। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তার বাস্তবায়ন করেনি। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বয়ে চলা বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন আগেই জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ প্রাধান্য পাবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষামতাধারী চীন বরাবরই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে চীনের উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্র“তি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব। বৃহস্পতিবার চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকেও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে চীন মিয়ানমারকে রাজি করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে লি খ্য ছিয়াং বৈঠকে প্রতিশ্র“তি দেন। এরপর গত শুক্রবার দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কিত মিনিস্টার সান তাও তাদের দলের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রতিশ্র“তি দেন। বিকালে বেইজিংয়ের দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়। পরে শি চিনপিংয়ের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেন শেখ হাসিনা। আলোচনার বিষয়ে জানাতে গিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ এখন ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এটা যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে পরিবেশ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, এটা প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য চায়নিজ সরকার ও প্রেসিডেন্টের গুডউইল আশা করছি আমরা। চীনের প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, চায়না আগেও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে কাজ করে যাচ্ছিল এবং এখনো কাজ করে যাবে। উনাদেরও উদ্দ্যেশ্য- যাতে রোহিঙ্গারা দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের যে মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিষয়টি দেখেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করতে পারেন বলে চীন সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, হয়তো আরেকটা সম্ভাবনা দেখা দেবে। শি চিং পিংয়ের কিছু প্রশ্ন ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরভাবে সমস্যাটার বিভিন্ন অবয়ব তুলে ধরেছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, দ্রুত এটার সমাধান করতে হবে। শহীদুল হক বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ এখন একত্রে কাজ করবে এবং তারাও মিয়ানমারের ওপরে তাদের গুডউইল ব্যবহার করবে। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে যে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে আবার তাদের ওপর অত্যাচার হতে পারে। সে কারণেই তারা ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না। এ বিষয়ে চীন যেন তাদের ‘গুডউইল’ ব্যবহার করে, সেই অনুরোধ তিনি শি চিন পিংকে করেন। জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরের মধ্যে আছে। ফলে ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার ‘সম্ভাবনা খুবই কম’ বলে তিনি মনে করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, চীনের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেই চেষ্টা তারা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। ওঁরা বলেছেন, চায়নার কাছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুজনেই বন্ধু। কেউ কম কেউ বেশি না, দুজনেই সমান বন্ধু। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চায়না দুজনের স্বার্থই দেখবে- এটা তিনি নিশ্চিত করেছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে শি চিন পিংয়ের ‘সত্যিকারের বন্ধুত্ব’ অব্যাহত থাকবে বলেও বৈঠকে প্রতিশ্র“তি দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। শহীদুল হক বলেন, আলোচনার সময় তিনি দুই পক্ষের যে ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ দেখেছেন, সেটা ‘অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক’, বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শি চিন পিং যখন নৈশভোজ শেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন উনি বলেছেন, ‘পরস্পরের প্রতি আমরা সত্যিকারে বন্ধু হয়েই থাকব’। এটা থেকে ওভারঅল দুই নেতৃত্বের মধ্যে যে সম্পর্ক, সেটা প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ২০১৪ থেকে মোট তিন দফা এ দুই নেতার বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন। এবারের বৈঠকের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, একটা ডিফরেন্ট ইক্যুয়েশন এবং কেমিস্ট্রি প্রকাশ পেয়েছে। সেটা বিশেষ করে ডিনারের সময়, একটা ইনফরমাল সিটিংয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে আলোচনা হয়েছে। একইসাথে আমরা দেখেছি, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব ম্যাচিউরড ন্যারেটিভ এসেছে। যেমন শি চিন পিং বলেছেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। আমরা দুই প্রতিবেশীই উন্নয়নের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফেইজে আছি। শি চিন পিং বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশেরও চায়নার থেকে শেখার আছে। চায়নারও বাংরাদেশ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে এই উন্নয়নের। দুই নেতাই বারবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল জনগণের উন্নয়ন। শি চিন পিং বারবার বলেছেন, আমাদের কিছু অভিন্ন বোঝাপড়া আছে, এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লেভেলে। আমরা একে অন্যের প্রাধান্য, চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে পারি। পররাষ্ট্র সচিবের ভাষায়, এটাই একটি সম্পর্কের ‘পরিপক্কতার অভিব্যক্তি’। চায়না বলেছে যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে চায়না সবসময় আছে এবং সবসময় থাকবে। দিনের পর দিন এটা আরো গভীর ও শক্তিশালী হবে। দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সম্পর্ক যেন আরো উচ্চতায় যায় সেজন্য ওঁরা চেষ্টা করবেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ ছাড়াও চারটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশে চীনাদের আরও বিনিয়োগ করা উচিত বলে বৈঠকে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। চাইনিজ প্রেসিডেন্ট খুবই সেনসেটিভভাবে এই জিনিসটা গ্রহণ করেছেন এবং উনি বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে অবগত। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করব, যাতে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে। ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপন এবং ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা চান শেখ হাসিনা। জবাবে শি চিন পিং বিষয়গুলো বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। চীনের জন্য বাংলাদেশে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হয়েছে জানিয়ে অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলেও চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জবাবে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য চীনের বিনিয়োগকারীদের ‘উৎসাহিত’ করছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২০১৬ সালে শি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় যে ২৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন তরান্বিত করা এবং ঋণের শর্তগুলো ‘একটু সহজ’ করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতাই জাতিসংঘে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। বিসিআইএম করিডোরের ওপর খুব গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেছেন, ইন্ডিয়ার সাথে যৌথভাবে কাজ করে বিসিআইএম করিডোরটা জীবন্ত করতে হবে। তাতে বাংলাদেশ, চায়না, ইন্ডিয়া ও মিয়ানমারের জন্য নতুন একটা বাজার উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের পর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরাও বৈঠক করেন। সেখানেও রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ কমিশন খাওয়ার দেশ – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ কমিশন খাওয়ার দেশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, পাথরকে ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করলে আমরা বিদেশে রফতানি করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তো সে দেশ নই। আমরা তো কমিশন খাওয়ার দেশ। আমাদের নাকি ওয়াটার বোটে করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করতে হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড সোলিডারিটি কমিটির আয়োজিত উত্তর কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম ইল সাংয়ের স্মরণ সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় পাথর উত্তোলনের জন্য একটা প্রজেক্ট করা হয়েছিল। সে সময় তারা অনেক সমস্যায়, জটিলতায় পড়েছিল। আমি এ কথাগুলো বিএনপি সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুল ইসলামকে বলেছিলাম। তিনি হেসে বলেছিলেন, ওটা একটা ফকিরের দেশ। এরা আবার আমাদের এখানে কী করবে? সেই উত্তর করিয়া আমাদের দেশের মাটির গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করেছে। তিনি আরও বলেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বললেন উত্তর কোরিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে দেও, তখনও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কারণ, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আছে। ট্রাম্পের কথায় যুদ্ধ হলে, আমাদের অস্তিত্ব কী থাকতো? আমরা সবকিছু করতে পারছি, বুঝতে পারছি কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কোনও কথা বলছি না। বাংলাদেশ শান্তিকামী দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড সোলিডারিটি কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ, কোরিয়ার ডিপিআর রাষ্ট্রদূত পাক সং ইয়প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যপক মেসবাহ কামাল এবং অর্থনীতিবিদ ড. অশোক গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়, আমরা যা বলি তাই করি – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নদী তীরবর্তী যেসব এলাকা দখলমুক্ত হয়েছে, সেগুলো আবার কেউ দখলের চেষ্টা করবে বলে আমি মনে করি না। আর কেউ যদি অবৈধ দখলের চিন্তা করেন, তবে ভুল করবেন। কারণ আগের সরকার আর বর্তমান সরকার এক নয়। আমরা যা বলি তাই করি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের খোলামোড়া ঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজধানীর চারপাশে থাকা নদীর তীরগুলো দখলমুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। এরপরও কেউ যদি পুনরায় নদীর তীর দখলের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর তীর দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একে একে সব নদী দখলমুক্ত করা হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৬ জুলাই থেকে নদীবন্দর এলাকায় ৩ হাজার ৮০৩টি আরসিসি সীমানা পিলার, রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা ও রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, এক কিলোমিটার কিওয়াল, আড়াই কিলোমিটার ওয়াকওয়ে অন পাইল নির্মাণ করা হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এগুলোর স্থাপন কাজ শেষ হবে। এছাড়া, ৮৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র অন্য একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ২০২২ সালের জুন মাস নাগাদ ওই প্রকল্পের আওতায় নদীর তীরে ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ১০ হাজার ৮২০টি সীমানা পিলার, তিনটি ইকোপার্ক, ১৯টি আরসিসি জেটি, ১০০টি আরসিসি সিঁড়ি, ৪০৯টি বসার বেঞ্চ, ৪৪ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। নদী দখলের বিষয়ে এর আগে রাষ্ট্র কোনও পদক্ষেপ নেয়নি উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নদীগুলো দখল করা হয়েছে, বিষয়টি আমি মানতে নারাজ। আমি বলবো, ইতোপূর্বে রাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শুধু নদী দখল নয়, আমাদের নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। দখলদারদের হাতেই সবকিছু তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্র কোনও ভূমিকা নেয়নি বলেই নদীগুলো দখল হয়ে গেছে। মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপনের নামে নদীর তীর দখল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ইসলামি চিন্তাবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, অবৈধ জায়গায় মসজিদ হতে পারে না। তাই আমরা অবৈধস্থানে স্থাপিত মসজিদগুলো অপসারণ করে অন্য একটি স্থানে স্থাপনের ব্যবস্থা করছি। নদীর তীর দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে যারা বাধা দিতে আসবেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের পরিণাম অনেক ভয়াবহ হবে। আগামি ১০ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাসহ সব নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ প্রমুখ।

খাদ্য সংগ্রহ অভিযানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ধানের নায্য মূল্য নিশ্চিত করতে খাদ্য শষ্য সংগ্রহ অভিযানে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল শনিবার নওগাঁয় জেলা লোকাল গভর্নমেন্ট এ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো. শাহনেওয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হন বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের নায্যমূল্য নিশ্চিত করে তাদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় সে জন্য দেশের অধিক ধান উৎপাদিত এলাকায় ৫ হাজার মেট্রিকটন ক্ষমতাসম্পন্ন প্যাডী সাইলো নির্মাণে সরকারের আগ্রহী। জেলা লোকাল গভর্নমেন্ট এ্যাওয়ার্ড প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন কাজের মূল্যায়ন করা না হলে কাজের স্পৃহা হারিয়ে যাবে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিদের জনসেবা নিশ্চিত করতে আরও উৎসাহিত করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত উপজেলা পর্যায়ে ৯ ক্যটাগরীতে এবং জেলা পর্যায়ে ১১ ক্যাটাগরীতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বাণিজ্যিক আইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ মনোনিবেশ করবে – প্রধান বিচারপতি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসা সহজে করতে বাণিজ্যিক সালিসি, চুক্তি এবং বাণিজ্যিক আইন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মনোনিবেশ করবে। ‘কমার্শিয়াল লিগ্যাল প্র্যাকটিস এন্ড রিসেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ‘-শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃায় প্রধান বিচারপতি গতকাল শনিবার এ কথা বলেন। আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্য বিচারপতি ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের জন্য সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তৃতা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর আবাসিক প্রতিনিধি সুন্দীপ মুখার্জী। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাণিজ্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল অংশ। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক লেনদেন অনেক কারণে উৎসাহ দেয় না। আইনজীবী এবং বিচারকদের দেশের বাণিজ্যিক আইন ও সর্বশেষ উন্নয়ন-এর সঙ্গে ভাল পরিচিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার সহজতর উন্নতির জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা অবিলম্বে চালু করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাণিজ্যিক আইন প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা বা সালিসি মাধ্যমে মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা বাংলাদেশে অস্বীকার করা হয় না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসি আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থনৈতিক বিরোধের দৃঢ়তার মধ্যে আন্তজার্তিক আইনের সুযোগ ও গুরুত্বকে এখন বিস্তৃত করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের কোন অঞ্চলকে শিল্প বা কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের সাথে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বাণিজ্যিক সালিসি প্রভাবের এলাকা থেকে আজকে বাদ দেয়া হয় না। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাণিজ্যিক বিরোধগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলির বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরে সালিসি বিষয়ে আইনের আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করার জন্য সর্বদা চাহিদা ছিল। বাংলাদেশ পুরনো সালিসি আইন, ১৯৪০ বাতিল করে নতুন সালিসি আইন প্রনয়ন করে। এ সেমিনার বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সালিসি, চুক্তি এবং চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে, বাংলাদেশে ব্যবসা সহজে এবং বাণিজ্যিক আইন ইত্যাদি চ্যালেঞ্জগুলিতে মনোনিবেশ করবে বলে প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন। বিচারপতি ইমান আলী বলেন, আরবিট্রেশন প্রক্রিয়ায় আইনী কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব। আদালতে না যেয়েও বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব। তা স্থানীয় ও আন্তজার্তিক উভয়ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।