সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত ইউনেস্কোর

ঢাকা অফিস ॥ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্য নির্দশন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কমিটির ৪৩তম সভায় ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনকে সম্প্রতি বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে ২১ সদস্য বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটিতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং চীন সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার নতুন সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে। আলোচনাকালে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকারী কিউবা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, চীন ছাড়াও আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, তিউনিসিয়া, তানজানিয়া, বুরকিনাফাসো, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতসহ ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র সরাসরি এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে। ইউনেস্কোর এ সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সরকার নেবে বলে কমিটিকে আশ্বস্ত করেন তিনি। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩তম সভা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ৩০ জুন শুরু হয়। চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

সভাপতি মোয়াজ্জেম ॥ সাধারণ সম্পাদক নিহারুল

কুষ্টিয়া ইলেকট্রিক্যাল এসোসিয়েশন’র ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইলেকট্রিক্যাল এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের এন.এস রোডে অবস্থিত স্থায়ী কার্যালয়ে এক সভা শেষে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেমকে সভাপতি ও নিহারুল ইসলাম নেন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট উক্ত কমিটি গঠিত হয়। কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, সহ-সভাপতি আবু হোসেন মিলন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রেজা (রাজা), ক্যাশিয়ার মির্জা মোঃ নুরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক মোতাকাব্বার হোসেন(রিংকু), নির্বাহী সদস্য মজিদুল ইসলাম, হাজী মোঃ আবুল কাশেম, বজলুল করিম (বাবু), সুজন মাহমুদ। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী সদস্যরা হলেন খোকসার সততা ইলেক্ট্রিক’র প্রোপাইটার কামাল হোসেন, কুমারখালীর জনতা লাইট হাউজের প্রোপাইটার তপন সেন, দৌলতপুরের ইলেক্ট্রিক নেটওয়ার্কের প্রোপাইটার হাসেম আলী, মিরপুর পোড়াদহের মীর হার্ডওয়্যারের প্রোপাইটার মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভেড়ামারার মের্সাস হান্নান ইলেক্ট্রিক এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স’র প্রোপাইটার আনোয়ার ইসলাম(বাবু) ও ইবি থানার হরিণারায়ণপুর হান্নান ইলেক্ট্রিক’র প্রোপাইটার মোঃ হান্নান। জানা গেছে আগামী দুই বছরের জন্য (২০১৯-২০২১) উক্ত কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

সনাতন ঠাকুরের আশ্রমে মহানাম শ্রবণ করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ

নিজ সংবাদ ॥ গোস্বামী দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী আরপাড়া সনাতন ঠাকুরের আশ্রমে মহানাম শ্রবণ করেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। ৫দিন ব্যাপী মহানামযজ্ঞানুষ্ঠানের শেষ দিনে গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নেতৃবৃন্দ মহানাম শ্রবণ ও আশ্রম পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার এর নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ডাঃ উৎপল সেন গুপ্ত, নন্দ কিশোর বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ রায় নাড়–, প্রচার সম্পাদক বাপ্পী বাগচী, সদস্য অমিত বাগচী, মনোহর দিয়া ইউনিয়ন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ প্রফুল্ল কর্মকার, গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার কর্মকার, আলামপুর ইউনিয়ন পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ হিমাংশু বিশ্বাস প্রমুখ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মধুসুদন প্রামানিক।

এরশাদের রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (জাপা) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় সারাদেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদগুলোতে বিশেষ প্রার্থনায় তার সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করেছেন। এছাড়া সকাল থেকে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা হয়েছে তার রোগমুক্তির জন্য। প্রার্থনায় সবাই পল্লীবন্ধুর দীর্ঘ জীবন কামনা করেছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এদিকে এরশাদের চিকিৎসার জন্য আর রক্তের প্রয়োজন জানানো হলে দলের অনেক নেতাকর্মী রক্ত দিতে আসেন। পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে আর রক্তের প্রয়োজন নেই। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিকিৎসার জন্য বি পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন, এ সংবাদে শত শত মানুষ পল্লীবন্ধুকে রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছেন। তারা নিজেরাই তালিকা করেছেন রক্তদাতাদের। ভিড় করেছেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ), জাপার চেয়ারম্যানের বনানীর ও দলের কাকরাইলের কার্যালয়ে। এদিকে এখনো অসংখ্য মানুষ পল্লীবন্ধু এরশাদকে বাঁচিয়ে রাখতে রক্ত দিতে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রক্তের ব্যবস্থা চিকিৎসদের কাছে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে এরশাদের চিকিৎসার জন্য আর রক্তের প্রয়োজন নেই। গণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পল্লীবন্ধু এরশাদের রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসী বিশেষ প্রার্থনা করায় ও এরশাদের চিকিৎসায় রক্ত প্রয়োজন এমন সংবাদে দেশবাসীর অভূতপূর্ব সাড়ায় অসীম কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

নয়ন বন্ডকে কারা সন্ত্রাসী বানিয়েছে সেটার তদন্ত চলছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বরগুনায় স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নয়ন বন্ডকে কারা আস্কারা দিয়ে ‘সন্ত্রাসী’ বানিয়েছে, সেটা খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর প্রধান সন্দেহভাজন নয়ন বন্ডের অতীতের নানা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। সন্ত্রাসের একাধিক মামলার আসামি নয়ন বিচার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়েছে বলেই স্থানীয়রা বলেছেন গণমাধ্যমকে। তবে গত মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানিতে নয়ন বন্ডরা এক দিনে তৈরি হয়নি- হাইকোর্টের এমন মন্তব্য আসে। বিচারকরা বলেন, একদিনে এই নয়ন বন্ডরা তৈরি হয় না। কেউ না কেউ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। কেউ না কেউ লালন-পালন করে ক্রিমিনাল বানায়। কারা নয়ন বন্ডদের তৈরি করেছে এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেটিরও তদন্ত চলছে। আমরাও বের করতে চাই কারা তাকে এমন বানিয়েছিল। বন্দুকযুদ্ধে নিয়ে হাইকোর্টের মন্তব্য প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- সমর্থন করি না। তবে নয়নের বিষয়ে যেটি হয়েছে সেটি ছিল আত্মরক্ষার স্বার্থে।

শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি নির্ধারণের দাবি

ঢাকা অফিস ॥ সর্বস্তরে শ্রমিকদের জন্য রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ নূন্যতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সদ্য পাস করা বাজেটে শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রেশন, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবাসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমরা খুবই হতাশ। এজন্য আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। তারা সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, সর্বস্তরের শ্রমিকদের বাঁচার জন্য জাতীয় নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, নিরাপদ কর্মস্থল, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে টিইউসি’র সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম খানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর নামে লুটপাট চলছে – নজরুল

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর নামে লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের এ মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণকে নিয়ে ভাবার সময় সরকারের এখন নেই। তারা লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত আছেন। লুটপাট বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতুর খরচ এখন ২১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর নামে লুটপাট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার মানুষের ভোটের অধিকার হনন করে ক্ষমতায় এসেছে বলেই আজ তারা জনগণের পকেট কাটা শুরু করেছে। মানুষের অতিপ্রয়োজনীয় গ্যাস, তার ওপর এখন ট্যাক্স বসানো হলো। বিএনপির এ নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে নিয়ে ভাবে না। তারা বাজেটে সুযোগ দিয়েছেন তাদের, যাদের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছেন। জনগণকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত হত্যা, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলছে। এ অবস্থায় কোনো দেশ চলতে পারে না। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে – পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। গতকাল শুক্রবার বরিশালের মুলাদী উপজেলার নদীভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে নাজিরপুরে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা জানান। ফারুক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের নদীগুলোর অস্বাভাবিক ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগের নানা বিষয়ও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এরআগে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি ভাঙন প্রতিরোধে জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক ও দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চল জোনের প্র্রধান প্রকৌশলী জুলফিকার আলী হায়দারকে নির্দেশ দেন। এদিন সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে স্পিডবোটে করে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেন প্রতিমন্ত্রী ফারুক শামীম। এ সময় তিনি মুলাদীর নাতিরহাট, সাহেবেরচর, রামারপোল ও ঘোষেরচর, জালালপুরের আড়িয়ালখাঁ এবং জয়ন্তি নদীর ভাঙন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও মুলাদী উপজেলার চেয়ারম্যান তরিকুল হাসান মিঠু খানসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

নদী নিরাপত্তার জাতীয় সংগঠন ‘নোঙর’ এর সম্মানিত সদস্য  শৈবাল আদিত্য

নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী কবি, নির্মাতা, সাংবাদিক ও সংগঠক শৈবাল আদিত্যকে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ এর ‘ কুষ্টিয়া জেলার’ সম্মানীত সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে ‘নোঙর’ কেন্দ্রীয় কমিটি৷

‘নোঙর’ প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংগঠক, কবি ও সাংবাদিক শৈবাল আদিত্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদ, খুলনা বিভাগের আহবায়ক, কন্ঠস্বর কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অঙ্গীকার চলচ্চিত্র সংসদ, কুষ্টিয়ার সভাপতি হিসেবে যুক্ত আছেন। পাশাপাশি তিনি ‘অনলাইন কুষ্টিয়া নিউজ’ নিউজ পোর্টাল এর এডিটর হিসেবে কর্মরত৷ নদী ও পরিবেশ নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’ কবি শৈবাল আদিত্য এর সুদীর্ঘ জীবন ও সাফল্য কামনা করছে। দেশজুড়ে নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে সারা দেশের নদী যোদ্ধাদের সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে  দেশব্যাপী ইতিমধ্যেই জেলা কমিটি গঠন করার কাজ শুরু করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুরে ছিনতাই মামলার পলাতক আসামী ছাত্রনেতা চঞ্চল আটক

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবেশে অটোরিক্সার মধ্যে থেকে লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই এবং মারধরের মামলায় পলাতক এক আসামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃত ওই আসামির নাম আতাউল হক চঞ্চল (২৮)। সে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড নওপাড়া বিশ্বাসপাড়ার আজিজ মাষ্টারের পুত্র এবং মিরপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আজাদুর রহমান আজাদের ছোট ভাই। মিরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর পৌরসভার নওপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে আটক করে। জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ জুলাই  কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের মশান তাতীবন্দ ফাঁকা এলাকায় অটোরিক্সার মধ্যে থেকে মাহাতাব উদ্দিন নামে এক এনজিও কর্মীকে অস্ত্রের মাধ্যমে হুমকি ও মারধর করে তার কাছে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রনেতা চঞ্চল সহ বেশ কয়েকজনের নামে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের হয়। যার মামলা নং ০৮, তারিখঃ ০৯/০৭/২০১৪ এবং জিআর নং ৯১/১৪। এ বিষয়ে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মামলায় ছাত্রনেতা চঞ্চলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, ছাত্রনেতা আতাউল হক চঞ্চলের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি, মারধর ও গাড়ী ভাঙচুর সহ স্থানীয় থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে।

মিরপুরের আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আ’লীগের নবায়ন ফরম পুরনের উদ্বোধন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দলীয় নবায়ন ফরম পুরনের শুভ উদ্বোধন হালসা বাজার রেলওয়ে প্লাটফর্ম মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আওয়ামীলীগের দলীয় ফরম পুরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আব্দুল হালিম বলেন, কোন অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রীড, যুদ্ধাপরাধী, মাদক সন্ত্রাসী ও কোন অপরাধীদের স্বাধীনতার সপক্ষের দল  এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম সুসংগঠিত দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে ঠাঁই নাই। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম মিলন চৌধুরীর পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবান আলী, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, মিরপুর উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মুসা, মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সদস্য জগেশ কুমার ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ মেম্বর, ১ নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি ডাঃ আজিজুল হক, সাধারন সম্পাদক হোসেন আলী, আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগের আহবায়ক রাশেদুজ্জামান পলাশ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাকিব আহমেদ, সাধারন সম্পাদক মুকেশ কুমার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফাজ্জেল হোসেন ভুটু, সাইফুল ইসলাম।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন ক্রীড়ানুরাগী পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে ক্রীড়ানুরাগী পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের ক্রীড়ানুরাগী পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে ১৫ সদস্য বিশিষ্ঠ এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে খাদেমুল বাশারকে আহ্বায়ক, হাসিবুর রহমান রিজুকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া রহুল বিশ্বাস, আলহাজ্ব উদ্দিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাফিজুর রহমান হাবু, আশরাফুর রহমান লিটন, সেলিম উদ্দিন, আনান, প্রকৌশলী জুয়েল রানা, আনোয়ার হোসেন আনান্দ, হেলাল উদ্দিন, রাজু আহমেদ শিপু, সুজন বিশ্বাস, শাহিনুর রহমান ও সুজন মাহমুদকে সদস্য করা হয়। এই আহ্বায়ক কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাজ্ঞ কমিটি হবে বলে আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উল্লেখ্য, হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস সহ সকল ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে রাখতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে যুব সমাজকে খেলামুখী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান ক্রীড়ানুরাগী পরিষদের নেতৃবৃন্দরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ৯৩ বোতল ফেনসিডিল ও ভারতীয় বিড়ি উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৯৩ বোতল ফেনসিডিল ও ১৮০০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়পুর বিওপি’র টহল দল ময়রামপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৪৮ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। অপরদিকে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে হালদারপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৮০০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আশ্রয়ন বিওপি’র টহল দল মুন্সিগঞ্জ নদীরপাড়ে অভিযান চালিয়ে ৪৫বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে বিজিবি’র এসব মাদক বিরোধী অভিযানে কোন মাদক ব্যবসায়ী বা পাচারকারী আটক হয়নি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। অথচ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যে নেত্রী সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন, আজ সেই নেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। জামিনযোগ্য মামলায় সম্পূর্ণ অনৈতিক, অমানবিক এবং বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে’। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতীকী অনশন’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই গণতন্ত্রের মুক্তি এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসা মানে খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তি হলে, সেটি হবে গণতন্ত্রের মুক্তি, গণমাধ্যমের মুক্তি, গণমানুষের মুক্তি’। দেশের কোথাও আইনের শাসন নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আজ দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। নিম্নআদালতে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সাজা দেয়া হলো, উচ্চআদালত সেটি হয়ে গেল ১০ বছর। অথচ তিনি এ মামলায় জামিনযোগ্য হলেও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। আবার দেখলাম, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে গুলির ঘটনার ২৫ বছর পর এ মামলায় নতুন করে চার্জশিট দিয়ে নতুন নতুন নাম দিয়ে রায় দেয়া হলো। যেখানে ৯ জনকে ফাঁসি, ২৫ জনকে যাবজ্জীবনসহ একাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হলো। এ রায় প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার নির্বাচিত না, তাই জনগণের জন্য তারা ভাবছে না। এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের পকেট কাটার মাধ্যমে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করার ভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে শাসকগোষ্ঠী। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে প্রতীকী অনশনে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ড্যাবের আহ্বায়ক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএফইউজের একাংশ সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

 

খালেদা জিয়া প্যারোল চাইলে সরকার দেখবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করলে সরকার সেটি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা আগেও বলেছি, প্যারোলের আবেদন করলে সরকারের সংশি¬ষ্ট বিভাগ সেটি বিবেচনা করবে। কী অবস্থায় প্যারোল চাওয়া যায় সেই গ্রাউন্ড খালেদা জিয়ার আছে কিনা সেটিও বিবেচনা করা হবে। বিএনপির এমপিদের শপথ, খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া সব মিলিয়ে বিএনপির সঙ্গে সরকার কোনো সমঝোতার পথে হাঁটছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, উন্নয়নে জ্বালা ধরে বলেই প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএনপি। সরকার নয়, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলটি। পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা মামলার রায় নিয়ে বিএনপির সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, যেকোনো মামলার রায় হলেই তারা সরকারের ওপর দোষ চাপায়। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলার রায় নিয়ে বিএনপির বক্তব্য পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এতে নতুন কিছু নেই।

কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্র“পের নির্বাচন সম্পন্ন

রশিদ-নরেন পরিষদের পূর্ণ প্যানেলের জয়লাভ

সুজন কর্মকার ॥ সুষ্ঠু-সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্র“প এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন (২০১৯-২০২২) সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্র“পের কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্র“পের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এ্যাডঃ সুধির কুমার শর্মা। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন এ্যাডঃ গোলাম সরওয়ার ও এ্যাডঃ প্রবীর কুমার স্যান্নাল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্র“প এর মোট ভোটার সংখ্যা ৩১৯টি। এরমধ্যে ৩০১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন (২০১৯-২০২২) এ নির্বাচনে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। এর মধ্যে দুপুর ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত নামায ও মধ্যান্ন ভোজের বিরতি ছিলো। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে আর ডিসি পার্থ প্রতিম শীল নির্বাচন পরিদর্শন করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশের কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরো জানাগেছে, জেলা ট্রাক মালিক গ্র“প এর মোট পদের সংখ্যা ২৯টি। এরমধ্যে সভাপতি ১জন, সহ-সভাপতি ৫ জন, সাধারণ সম্পাদক ১ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ২ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন, কোষাধ্যক্ষ ১ জন, দপ্তর সম্পাদক ১ জন, প্রচার সম্পাদক ১ জন এবং ১৬ জন নির্বাহী সদস্য। ২৯টি পদের বিপরীতে নির্বাচন হয় সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ ও নির্বাহী সদস্য পদে। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়েছেন সভাপতি পদে মোঃ আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক পদে নরেন্দ্রনাথ সাহা, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে গণেশ জোয়ার্দ্দার ও মোঃ আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এ.কে.এম.সিদ্দিকুর রহমান (হেলাল), দপ্তর সম্পাদক পদে মোঃ আসাদুর রহমান (লোটন) ও প্রচার সম্পাদক পদে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। ৫ জন সহ-সভাপতি পদের বিপরীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ৬জন। এরমধ্যে গরুর গাড়ী প্রতিকে ২৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব সিরাজুল হক, বাস প্রতিকে ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আখতারুজ্জামান, হাতি প্রতিকে ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ্ব এম.এ. মালেক, বাঘ প্রতিকে ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আশরাফ উদ্দিন নজু, সিংহ প্রতিকে ২৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আবু জাফর মোল্লা। অপরদিকে সহ-সভাপতি পদে বাইসাইকেল প্রতিকে ২৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন মোঃ তরিকুল ইসলাম তারিক। কোষাধ্যক্ষ পদে আম প্রতিকে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন স্বপন কুমার সাহা। অপরদিকে কুঁড়েঘর প্রতিকে ১৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন মোঃ সালাউদ্দিন।

১৬টি নির্বাহী সদস্য পদের বিপরীতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন ১৯জন। এর মধ্যে রশিদ-নরেন পরিষদের একতারা প্রতিকে এ.এন.এম.আ: হাই তপো ২৭২ ভোট, জগ প্রতিকে মাসুদুজ্জামান ২৭০ ভোট, হাতপাখা প্রতিকে গোলাম মহিউদ্দিন (দিলু) ২৭০ ভোট, ঘুড়ি প্রতিকে খাদেমুল ইসলাম ২৭৪ ভোট, দেওয়াল ঘড়ি প্রতিকে আরশাদ আলী প্রধান ২৭৩ ভোট, টেলিভিশন প্রতিকে জমসের আলী ২৭৩ ভোট, দোয়াত প্রতিকে আহসান হাবীব আসকর ২৭২ ভোট, চশমা প্রতিকে মতিউর রহমান ২৭৪ ভোট, কলস প্রতিকে আতিয়ার রহমান ২৭৩ ভোট, তালাচাবি প্রতিকে হাসানুজ্জামান ২৭১ ভোট, তরবারী প্রতিকে রাজু আহমেদ ২৭২ ভোট, ঢোল প্রতিকে আলী জিন্নাহ ২৭৩ ভোট, বটগাছ প্রতিকে মুজাহিদুল ইসলাম (বাবলু) ২৭০ ভোট, খেজুর গাছ প্রতিকে রেজাউল করিম ২৭৪ ভোট, আলমারী প্রতিকে তারাদাস ভৌমিক ২৬৯ ভোট ও ডাব প্রতিকে আইনুর রহমান টিটু ২৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে কাপ-পিরিচ প্রতিকে আতিয়ার রহমান রকেট ১৮ ভোট, রেঞ্জ প্রতিকে সেলিম উদ্দিন সর্দ্দার ১৮ ভোট ও টায়ার প্রতিকে রাকিব হাসান ১৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সুধির কুমার শর্মা ভোট গণণা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন।

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে সিপিসির নেতারা

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রতিশ্রতি

ঢাকা অফিস ॥ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) নেতারা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কিত মিনিস্টার সান তাও এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সান তাও বলেছেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অং সান সু চি ও তার পার্টির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, যাতে এই সমস্যাটার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রথম দল যেন মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য তারা সুচিসহ মিয়ানমানের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” বৃহস্পতিবার চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকেও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়। েেরাহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরতে পারার মতো পরিবেশ তৈরিতে চীন মিয়ানমারকে রাজি করানোর পদক্ষেপ নেবে বলে লি খ্য ছিয়াং বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন। ডনর্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তার বাস্তবায়ন করেনি। নজরুল ইসলাম বলেন, “চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সান তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের খুবই উচ্চ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, যা এই মুহূর্তে বিশ্বে বিরল। আগামীতে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ এবং সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সান তাও।” নজরুল ইসলাম বলেন, অদূর ভবিষ্যতে সিপিসির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে সান তাও জানিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়মী লীগের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। “তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এখন খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। চীন সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।” ১৯৯৩ সালে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে চীন সফরের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈঠকে বলেন, ওই সফরের পর থেকে দুই দলের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এটা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য আওয়ামী লীগ সবসময়ই চেষ্টা করবে। স্পিচ রাইটার বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মত বিষয়গুলোতে চীন ও বাংলাদেশের লক্ষ্য যে অভিন্ন, সে কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর দুইবার চীন সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ‘উনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছিলেন, একটা নতুন চীন হচ্ছে।’ এখন আমি সেই চীন দেখতে পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি থেকে ‘নতুন চায়না’ নামে একটা বই সম্পাদনা করা হচ্ছে। চীনের ভবিষ্যত নিয়ে সে সময় বঙ্গবন্ধু ডায়েরিতে যা লিখেছিলেন, ওই বইতে সেটা আছে।” বইটি প্রকাশিত হলে সান তাও সেটি চীনা ভাষায় অনুবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান নজরুল ইসলাম।

চীনের বীরদের প্রতি শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ চীনের জাতীয় বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের তিয়েনআন মেন স্কয়ারে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুদ্ধা নিবেদনের শুরুতেই দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপরে বিউগলে বাজানো হয় করুন সুর। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে চীন বিপ্লবে আত্মত্যাগকারীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তিয়েনআন মেন স্কয়ারে স্মৃতিসৌধ বানানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ। পাঁচদিনের সরকারি সফরে সোমবার চীন এসেছেন শেখ হাসিনা। ডালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বুধবার বেইজিং এসেছেন তিনি। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকালে বেইজিংয়ের দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন শেখ হাসিনা। বেইজিং সফরে এই গেস্ট হাউজেই অবস্থান করছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সন্মানে দেওয়া শি চিনপিংয়ের নৈশভোজেও অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বুধবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নয়টি চুক্তি, সমঝোতা ও লেটার অব এক্সেচেঞ্জে সই করা হয়।

 

খোকসায় সালিশে দেওয়া জবানবন্দির ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ্য সালিশে প্রতিবন্ধি কিশোরীর যৌন নির্যাতনের বর্ননা শুনা হল

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় প্রকাশ্য সালিশে প্রতিবন্ধি কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের বর্ননা শুনার ভিডিওটির আংশিক ভাইরাল করে মোবাইলে মোবাইলে পৌচ্ছে দিয়েছে একটি চক্র। সালিশের রায় সন্তোষজনক না হওয়া ও লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপন করা প্রতিবন্ধি কিশোরী ও তার মাকে পুলিশ উদ্ধার করে মামলা নিয়েছে। তবে পার পেয়ে যেতে বসেছে সালিশ কর্তারা।  জানা গেছে, উপজেলা সদরের থানাপাড়ার আমির আলীর ছেলে অন্তর প্রতিবেশী এক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে জোরপূর্বক পাট খেতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে। সেদিন দুপুরে স্থানীয়রা কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দিয়ে যায়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ঘটনার চারদিন পর গত সোমবার বিকালে গ্রাম্য মাতুব্বরেরা গ্রামে সালিশী বৈঠকের বসে। গ্রামের রাস্তার মোড়ে সালিশী বৈঠকে বিভিন্ন বয়সী কয়েকশ লোক জড়ো হয়। বিকেলে ঝকঝকে আলোয় যৌন নির্যাতনকারীর পাশে প্রতিবন্ধি কিশোরী ও তার মধ্যবয়সী স্বামী পরিত্যক্তা মাকে দাঁড় করানো হয়। নির্যাতিত কিশোরীর কাছে খোলামেলা প্রশ্নের উত্তর আদায়ের চেষ্টা করে মজলিশে বসা মাতুব্বরেরা। অবশেষে প্রতিবন্ধি কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত অন্তরকে চড়-থাপ্পর দিয়ে সালিশী বৈঠক শেষ করা হয়। কিশোরীর পরিবার এ রায়ে অসম্মতি জানালে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন সালিশী বৈঠকের মাতুব্বরেরা। মামলা না করার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সুযোগে একটি চক্র কৌশলে প্রকাশ্য সালিশে প্রতিবন্ধি কিশোরীর খোলামেলা জবানবন্দির ভিডিও ধারন করে। মুহুর্তের মধ্যে সেই জবানবন্দি মোবাইলে ভাইরাল করে দেওয়া হয়। ভিডিওতে অভিযুক্ত অন্তর তাকে বাড়ি থেকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘরবাড়ি ফেলে রেখে আত্মগোপন করে কিশোরীসহ তার পরিবার। পরে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে এনে নারী নির্যাতনের মামলা নিয়েছে। এ মামলার নাম থাকায় অন্তরকে ধরে কুষ্টিয়ায় সেফ কাস্টুডিতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। বুধবার থানা ক্যাম্পাস থেকে ৩শ মিটার দূরে কিশোরীর মহল্লায় সরেজমিন গিয়ে প্রতিবন্ধি কিশোরীর মায়ের ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। প্রতিবেশীরা কিশোরীর উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে সালিশী বৈঠক হয়েছিল কিশোরীর বাড়ি থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে টাইগারের বাড়ির মোড়ে। সালিশে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইমরান হোসেনসহ ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ একাংশের একাধিক নেতা। প্রতিবন্ধি কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের সালিশের রায় ঘোষনার বোর্ডের সভাপতি ছিলেন যুবলীগের একাংশের নেতা আল-আমীন বকুল। মহল্লার একাধিক মহিলা জানায় কয়েকশ লোকের উপস্থিতিতে ভরা সালিশী মজলিসে কিশোরীকে খুব বাজে বাজে প্রশ্ন করা হয়। এ ঘটনা তাদের পিড়া দিয়েছে। সংবাদের প্রয়োজনে খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পর নরেসরে বসে পুলিশ। কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা কিশোরী ও তার মাকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রতিবন্ধি কিশোরী ধর্ষনের এক সপ্তাহ পর বুধবার রাতে অন্তরকে আসামী করে একটি মামলা নেওয়া হয়। তবে এই মামলায় প্রকাশ্য সালিশে জবানবন্দি নেওয়া  ও তার ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জড়িতরা পার পেয়ে গেছে।    প্রতিবন্ধি কিশোরীর মা মামলা রেকর্ডের পর সাংবাদিকদের বলেন, এবার একটা পাপের বিচার হতে পারে। তবে মেয়ে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছে বলেও জানায়। অভিযুক্ত যুবক অন্তরের মা রোমানা জানায়, তার ছেলে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। সে মেয়েটার সাথে মাঠের মধ্যে কথা বলছিল। এমন সময় এক প্রতিবেশী মহিলা সেখান থেকে হাত ধরে নিয়ে এসে মেয়েটিকে বাড়িতে পৌছে দেয়। এরপর মেয়ে পক্ষ সালিশের আয়োজন করে। সেখানে তার ছেলেকে চড় থাপ্পর মারা হয়েছে। মামলা না করার জন্য তারা চাপ দেয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। অবশেষে তার ছেলের নামে অন্যায় করে মামলাও দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য খোকসা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমরান হোসেনর সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, এলাকার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি গিয়েছিলেন। তবে তিনি সালিশ করেনি। সালিশ করেছে মেয়ের ভাই ও অন্যরা।

সালিশী বৈঠকের সভাপতি আল আমিন বকুলের সাথে কথা বলা তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফার সালিশে তিনি মেয়ের এক ফুপাতো ভাইকে মারের (হামলার) হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। প্রতিবন্ধি কিশোরীকে জোর করে পাট খেতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার আংশিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। সালিশটি জনসমুখ্যে হয়েছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, মামলাটি সবে হাতে পেয়েছেন, বিষদ পর্যালোচনা করতে পারেনি। তবে এজাহারে নাম থাকা অন্তর বয়সে কিশোর হওয়ায় তাকে সেফ কাষ্টুডিতে রাখা হয়েছে। প্রমান হলে তবে এটাকে ধর্ষন বলা যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইকো পার্ক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

সুজন কর্মকার ॥ ইকো পার্ক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। সাংস্কৃতিক জনপদ কুষ্টিয়ার পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং সংস্কৃতিমনা কুষ্টিয়ার মানুষকে বিনোদনের একটি অন্যতম কেন্দ্র উপহার দিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মৃতি বিজড়িত উপজেলা কুমারখালীতে প্রখ্যাত সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, সাহিত্যিক আকবর হোসেন ও ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীন এর বাস্তুভিটার পাশেই গড়াই নদীর তীরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠছে কয়া ইকো পার্ক। ইতোমধ্যেই জায়গাটি ভ্রমণপিয়াসী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হতে শুরু করেছে। জায়গাটির ঐতিহাসিক ভৌগলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর সড়ক ও নদী উভয় পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অচিরেই যে ইকো পার্কটি কুষ্টিয়ার অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র কোন সংশয় নেই। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন ইকো পার্কটির উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি পার্কটিকে আরো আর্কষণীয় করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান (রাজস্ব), নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এ.বি.এম আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কুমারখালী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

কুমারখালীর আক্তারের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা

সরকারি গাড়ি আনতেও সাথে সেই দাগী আসামী

পুলিশের খাতায় পলাতক হত্যা মামলার আসামীর সাথে বিচারকের কি এত সখ্যতা! 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আক্তারুজ্জামান আক্তার। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার বাঁশগ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মি আজম মুন্সী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামী। পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক। অথচ ঢাকায় এই হত্যা মামলার আসামীকে সাথে নিয়ে এক বিচারক সরকার থেকে দেয়া নতুন গাড়ি গ্রহণ করছেন। সেই ছবি তুলে বিচারক তার নিজের ফেসবুক পেজেও দিয়েছেন। এটা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আক্তারের গ্রামের লোকজন। ওই বিচারকের নাম এসএম নাসিম রেজা। তিনি বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ২০১০ সালে কুষ্টিয়া ও পরে মেহেরপুরে চাকুরি করেন।

কুমারখালী থানা সুত্র জানিয়েছে, শুধু আজম মুন্সী হত্যা মামলায় নয় আক্তারের বিরুদ্ধে আরো হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও অপহরণের মত ঘটনায় মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি ওই বিচারকের সহযোগিতায় একটি অপহরণ মামলা থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন কুষ্টিয়া আদালত থেকে। তার আগে ওই বিচারককে বাড়িতে দাওয়াত করে এনে ভুরিভোজ করান আক্তার। পুকুরে মাছও ধরেন তিনি। বিষয়টি বাঁশগ্রামের লোকজন সবাই জানে। আক্তারের সাথে ওই বিচারকের বিভিন্ন সময় তোলা ছবিও রয়েছে।

বাগুলাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন,‘ আক্তারের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। তার ভাইও সন্ত্রাসী ছিল। আক্তারের সাথে চরমপন্থি দলের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল। পুলিশ এর আগে একটি বাড়িতে সন্ত্রাসীদের অবস্থান জেনে ঘীরে ফেলে। সারারাত বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ওই বাড়ি থেকে আক্তারসহ ৭জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬টি ভারি অস্ত্র উদ্ধার করে। এছাড়া অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যার মত নানা অপরাধের সাথে সে জড়িত। নাসিম রেজা নামে এক বিচারকের সাথে তার গভীর সখ্যতা। তার নাম ভাঙ্গিয়ে সে নানা অপরাধ করে বেড়ায়।’

স্থানীয়রা জানান, গত ২০ জুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রামে আওয়ামীলীগ সমর্থিত এক পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আজম মুন্সী নামে এক আওয়ামীলীগ সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা এবং অপর ২জনকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ২৭জনকে আসামী করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে মুসফিকুর রহমান জিল্লু। ওই হত্যা মামলার ৪নং আসামী আক্তারুজ্জামান আক্তার। মামলার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন আক্তারসহ মামলার অন্য আসামীরা। হত্যাকান্ডে ১৩ দিনেও কুষ্টিয়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে আক্তারকে ধরতে পারেনি।

হঠাৎ করেই ১ জুলাই রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই হত্যা মামলার ৪নং আসামী আক্তারুজ্জামান আক্তারের সাথে তোলা একটি ছবি পোষ্ট করেন। ‘নতুন গাড়ি পেলাম, সকলের দোয়া চাই’ লিখে পোষ্ট করা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ‘ঢাকা মেট্রো-গ ৪২-৭৮১৫’ নম্বর সিলভার রঙের কার গাড়ির সামনে দুই পাশে দুই যুবককে নিয়ে দাঁড়িতে আছেন অতিরিক্ত জেলা জজ এস এম নাসিম রেজা। ছবির বাম পাশে গেঞ্জি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার হত্যা মামলার পলাতক আসামী আক্তারুজ্জামান আক্তার বলে নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মিজানুর রহমান।

অফিসার ইনচার্জ এসএম মিজানুর রহমান জানান, আমরা শোনার সাথে সাথে হবিগঞ্জের পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং মামলা নথিপত্র হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ওখানকার পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কুমারখালী থানায় ২১জুন দায়ের হওয়া ১২নং হত্যা মামলার চার নম্বর আসামী আক্তারুজ্জামান। পুর্বেও তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সহিদুর রহমান জানান, কুমারখালী থানার ওসির সাথে আমাদের যোগাযোগ চলছে। তারা মামলার সকল কাগজ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। পুলিশ সবদিকে নজর রেখেছে। আসামিকে ধরতে আমরা কাজ করছি।’

স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, হিন্দু সম্পত্তি দখলসহ নানা অবৈধ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে আক্তার। ওই সব টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে। হত্যা মামলা থেকে বাঁচতেও কুমারখালী থানার ওসিকে ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে তিনি ২০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তারা নিতে রাজী হয়নি।

বিচারক নাসিম রেজার সাথে তীর গভীর সখ্যতা। ছুটি পেলেই আক্তারের বাড়ি আসেন তিনি। পুকুরে মাছ ধরাসহ ভুরিভোজ করেন। তার সহযোগিতা বিভিন্ন মামলা থেকে জামিন পাওয়াসহ খালাসও পেয়ে গেছেন। এ কারনে আক্তার আরো বেশি বেপরোয়া।

আক্তারের নিজের বাহিনী রয়েছে এলাকায়। তাদের প্রত্যেকের মটর সাইকেল কিনে দিয়েছেন তিনি। এসব ছেলেদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করানোর অভিযোগ রয়েছে। তার কয়েকজন সহযোগি মাদকসহ পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে। আক্তার এর আগে থানা , জেলা এমনকি স্বারষ্টন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল। তবে তার এক আত্মীয় পুলিশের কর্মকর্তা থাকায় সুবিধা নিয়ে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে অবসরে আছেন।

হত্যা মামলার আসামীর সাথে গভীর সখ্যতার বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা জানান, আমি হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ। সরকার আমাকে একটি নতুন গাড়ি দিয়েছে। দুই-তিন দিন আগে গাড়িটি আনতে আমি ঢাকায় যায়। ঢাকাতেই আক্তারের সাথে আমার দেখা হয়। সেখান থেকে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলে আমি নিজেই ফেসবুকে পোষ্ট করি। আমি জানতাম না আক্তার হত্যা মামলার পলাতক আসামি। আক্তারের সাথে কিভাবে পরিচয় হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই বিচারক বলেন, আক্তার আমার ছোট ভাইয়ের মত। আমি যখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন কুষ্টিয়ার বাঁশগ্রাম কলেজের এক শিক্ষক আমার সাথে পড়ত। ওই শিক্ষকের ছাত্র ছিলেন আক্তার। তার মাধ্যমে আক্তারের সাথে আমার পরিচয়। ঢাকাতেই আমার সাথে সে ঘুরেছে। এরপর সে কোথায় আছে আমার জানা নেই।’

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য বাগুলাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, আক্তারের পরিবারের সদস্যরা সবাই সন্ত্রাসের সাথে জড়িত। আক্তার নিজেই একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি। তার পিতা মৃত মনছুর আলীও একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি ছিলেন। ১৯৯৭ সালে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং বড় ভাই আব্দুস ছাত্তার হত্যা ও ছিনতাই মামলার আসামি ছিলেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি নিখোঁজ আছেন। তার চাচতো ভাইরাও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তাদের নামেও একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।তার কারনেই এলাকার মানুষ শান্তিতে নেই। আক্তারুজ্জামান আক্তারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।