মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধের নতুন অভিযোগ জাতিসংঘ তদন্তকারীর

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থিতিশীল প্রদেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের মানবাধিকার লংঘন করে নতুন যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের এক তদন্ত কর্মকর্তা। মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে মিয়ানমারের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ইয়াঙ্গি লি এ অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক সাঁড়াশি অভিযানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটি থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত টপকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ওই অভিযানে ব্যাপক খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে বলে পরে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন। ইয়াঙ্গুনের সরকার এসব বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। বিধ্বস্ত রাখাইন ও চিন প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে এখনো জাতিগত বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত আছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি প্রদেশ দুটির বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের যাতায়াত ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত ২২ জুন রাখাইন ও চিন প্রদেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বন্ধ করতে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয়। ‘শান্তি বিঘœ এবং অবৈধ কর্মকান্ডের সমন্বয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার’ রুখতে মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশ দেয় বলে জানিয়েছে টেলিনর গ্র“প। রাখাইন ও চিনে মোবাইল ফোন ‘ব্ল্যাক আউটের’ মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সম্ভবত বড় ধরনের কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে গত সপ্তাহে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন লি। মঙ্গলবার তিনি ওই আশঙ্কার বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে হাজির করেন। “রাখাইন প্রদেশের উত্তরে ও দক্ষিণাঞ্চলীয় চিন প্রদেশের একাংশে আরাকান আর্মির সঙ্গে (সেনাবাহিনীর) যে সংঘর্ষ গত কয়েক মাস ধরে চলছে, তা বেসামরিকদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। তাতমাদাও (মিয়ানমার সেনাবাহিনী) ও আরাকান আর্মির অনেক কাজই মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে; মানবাধিকার লংঘনের পাশাপাশি সম্ভবত এগুলো যুদ্ধাপরাধের মাত্রাও ছুঁয়েছে,” বলেন তিনি। পালেতোয়ার ১২ নির্মাণশ্রমিক এবং বাংলাদেশ সীমান্তের কাছ থেকে ৫২ গ্রামবাসীসহ অনেক বেসামরিক লোককে আরাকান আর্মি অপহরণ করেছে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে জানান লি। অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাসাজশ আছে এমন সন্দেহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও রাখাইনের অসংখ্য বাসিন্দাকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আটক অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছে বলেও দাবি তার। এপ্রিলে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বাঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত রোহিঙ্গাদের ওপর গুলি ছুড়েছিল বলেও জানান জাতিসংঘের এ বিশেষজ্ঞ। চলতি বছর সহিংসতার কারণে ৩৫ হাজারের মতো লোক পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুন বলেছেন, তার দেশের সরকার অগাস্ট পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এবং সংকট সমাধানে চেষ্টা করছে।

 

আমি আর কংগ্রেস সভাপতি নই – রাহুল গান্ধী

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে বিদায় নিলেন রাহুল গান্ধী। গত ২৩ মে ভোটের ফল প্রকাশের দুই দিনের মাথায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন রাহুল। ওই সিদ্ধান্ত বদলের জন্য তাকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রাহুল বুধবার দলীয় সভাপতির পদে না থাকার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “আমি আর কংগ্রেস সভাপতি নই। আমি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছি। সিডব্লিউসির (কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি) উচিত দ্রুতই বৈঠকে বসা এবং নতুন কংগ্রেস সভাপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” গত লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৫২টি আসনে জয় পায় কংগ্রেস। অপরদিকে ৩০৩ আসনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নির্বাচনে এই পরাজয়ের  নৈতিক দায় নিয়ে ২৫ মে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় পদত্যাগপত্র জমা দেন রাহুল। সে সময় তার পদত্যাগপত্র নাকচ করে উল্টো রাহুলকে দলের সব পর্যায়ে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দিয়েছিল ওয়ার্কিং কমিটি। এরপর কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রাহুলের প্রতি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তিনি যাতে এই দায়িত্ব চালিয়ে যান সেজন্য দিল্লিতে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ধর্নায়ও বসেন কর্মী-সমর্থকরা। রাহুলকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে দুই দিন আগে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তাদের কারও কথায় কান দিলেন না ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী গান্ধী-নেহেরু পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল।

‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে লাভবান হবে বাংলাদেশ’

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও উন্নয়ন হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) মিলনায়তনে ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা’-শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. গওহর রিজভী বলেন, বিগত দশকে বাংলাদে-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, লোক-সংযোগ প্রভৃতি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ-ভারত আরো যৌথভাবে কাজ করবে এবং সম্পর্ক আরও উন্নতি হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের হলেও আগামী দিনে এটাই হবে বৈশ্বিক সংকট। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সবারই ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি। মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেছে। ‘এ সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের হলেও আগামীতে এটাই হবে বৈশ্বিক সংকট। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সবারই ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।’

প্রশাসনের শৃঙ্খলা ভাঙলে শাস্তি – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শৃঙ্খলা ভাঙলে তাদের শাস্তি পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০১৭-১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ফরহাদ বলেন, “আমরা খুব শক্ত করেই বলতে চাই- প্রশাসনে একটি শৃঙ্খলা আছে, যারা প্রশাসনের এই শৃঙ্খলা ভাঙবেন তাদেরকে কিন্তু শাস্তি পেতে হবে।” সবাইকে শুদ্ধাচার চর্চা করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা শুদ্ধাচার চর্চা করছেন না, তাদের জন্য আমি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে চাই- প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, আমরা কোনোভাবে দুর্নীতিকে বরদাশত করব না। “দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল, দুর্ব্যবহারকেও আমরা বরদাশত করব না, এই সরকার বরদাশত করবে না।” জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানদের মধ্য থেকে এবার বিয়াম ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মুজিবুর রহমান [বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) হিসেবে কর্মরত] শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া গ্রেড-১ থেকে দশম গ্রেডভুক্ত ক্যাটাগরিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখার উপসচিব মো. তমিজুল ইসলাম খান এবং গ্রেড-১১ হতে গ্রেড-২০ ভুক্ত ক্যাটাগরিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের অফিস সহায়ক মো. জাকির হোসেন ভূইয়া শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন। পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে সনদ এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পুরষ্কার হিসেবে তুলে দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে আমরা বেশ এগিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। “আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মেধা, মনন, দেশপ্রেম, সৃজনশীলতার প্রয়োগ ঘটিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর অবদান রাখবেন,” জনপ্রশাসনের কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন ফরহাদ। “বর্তমান সরকার জনপ্রশাসনকে যেভাবে নির্দেশনা ও শুদ্ধাচারের মধ্য দিয়ে এই জায়গায় আনতে সক্ষম হয়েছে, সরকারের স্বদিচ্ছাটাই এখানে কিন্তু ফুটে উঠেছে। কাজের প্রতি আমাদের এক ধরনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে।” প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কিছু অনিয়ম ও ক্রটি ছিল। আমরা অনিয়ম অনেকাংশে দূর করতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গিবাদের মতো আমরা দুর্নীতিতেও জিরো টলারেন্স। “আমরা সম্মিলিতভাবে শুদ্ধাচার চর্চা ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সমূলে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে চাই। তবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা নির্মাণে আমরা কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে সক্ষম হব।” জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর এম আসলাম আলম ছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বরগুনায় রিফাত ফরাজী ৭ দিন রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ বরগুনা শহরে প্রকাশ্য রাস্তায় শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার আসামি রিফাত ফরাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক গাজী মো. সিরাজুল ইসলাম বুধবার এ আদেশ দেন। বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের প্রধান সহযোগী। তার ভাই রিশান ফরাজীকেও পুলিশ খুঁজছে। মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। আর ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীকে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান। বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুধবার দুপুরে রিফাত ফরাজীকে আদালতে হাজির করে দশ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানি শেষে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে (২৩) স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিফাতের মৃত্যু হয়। হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীর নাম বলেন। ওই ভিডিওতে কালো শার্ট ও জিন্সের সঙ্গে চোখে কালো সানগ্লাস পরিহিত যে যুবককে রামদা হাতে রিফাত শরীফকে কোপাতে দেখা যায়, তিনিই রিফাত ফারজী বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। রিফাত ফরাজী বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে। তার বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হামলা, ভাংচুর, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে। এছাড়া দলবল নিয়ে পুলিশের একজন এসআইয়ের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রিফাত। রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পরদিন তার বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় যে মামলা করেন, সেখানে সেখানে ১ নম্বরে নয়ন ও ২ নম্বরে রিফাত ফরাজীর নাম ছিল। পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অলি ও তানভীর ১ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

তারেকের নির্দেশ মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির কার্যালয়ে বিক্ষোভের সময় ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনাবলীর জন্য ক্ষমা চেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের নিচতলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্র দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন লিখিত বিবৃতি পড়েন শুনান। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ছাত্র দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাবলী আমাদের ব্যথিত এবং মর্মাহত করেছে। এই ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। সংঘটিত বিষয়ে আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। একইসঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনুগত থেকে শ্রদ্ধাভাজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশাবলী পালনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। গত ৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ২০০০ সালের পরের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। বয়সসীমা উঠিয়ে দেওয়ার দাবিতে ১০ জুন থেকে বিক্ষোভ করে আসছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একাংশ। পরদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করেন তারা। এরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে তুহিনসহ বিক্ষোরত ছাত্র দলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকি, ছাত্র দলের ভেঙে দেওয়া কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইকতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল¬াহ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আবদুল মালেক ও সাবেক কমিটির সদস্য আজীম পাটোয়ারি। ছাত্র দলের বিক্ষুব্ধদের এরকম কর্মসূচির মধ্যে গত ২৩ জুন ছাত্র দলের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করে ছাত্র দলের সাবেক নেতাদের নিয়ে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। ১৫ জুলাই ছাত্র দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিক্ষোভের কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সংকট নিরসনে বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বসার দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তাদের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই বিক্ষুব্ধরা এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়াসহ সংঘটিত ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনায় জড়িত না থাকার দাবি করেন বহিষ্কৃতরা। লিখিত বিবৃতিতে তুহিন বলেন, দলের অনুগত এবং বিশ্বস্ত কোনো কর্মী এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও মনে হচ্ছে না। এলোমেলো পরিস্থিতির কারণে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। তুহিন বলেন, ছাত্রদলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাদের ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। এ ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এটা অনাকাঙ্খিত ও কারো জন্য কাম্য নয়। দলের অনুগত এবং বিশ্বস্ত কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও মনে হচ্ছে না। এলোমেলো পরিস্থিতির কারণে সংগঠিত বিষয়ে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনুগত থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাবলি পালনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, যোগ করা হয় লিখিত বক্তব্যে। বিবৃতিতে বহিষ্কৃত ১২ নেতাসহ ২৬ জনে স্বাক্ষর রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বহিষ্কৃতদের বাইরে শামসুল আলম রানা, কাজী মুক্তার, শফিকুর ইসলাম শফিক, আজিজুর রহমান আজিজ, সাইদুর রহমান রয়েল, মাহফুজুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, নাসির উদ্দিন সরকার সাওন ও সুলতান জুয়েলসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গায় অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি মাঠ থেকে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দামুড়হুদা থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান উপজেলার পীরপুরকুল¬া গ্রামের সোনাতলা মাঠ থেকে গতকাল বুধবার বেলা ১১টা দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের বয়স ৭৫ বছর বলে পুলিশ ধারণা করলেও তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি। ওসি বলেন, সোনাতলা মাঠটি একেবারেই ভারত সীমান্তবর্তী; এ মাঠে ভারত এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা চাষাবাদ করে। সকালে স্থানীয়রা ওই মাঠে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। তিনি বলেন, মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। অসুস্থজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন অমুক্তিযোদ্ধা বয়স লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একজন অমুক্তিযোদ্ধা বয়স লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে আড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার ইউসুপ গ্রামের (বর্তমানে  ঘোড়ামারা) মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল বয়স লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, আব্দুল জলিল কখনই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি। ২০১৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ছিলো ১৮ আগষ্ট ১৯৬৮ ইং অর্থাৎ ৩ থেকে ৪ বছর। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নং-৫০০০২০৮১৩৩৫৩। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের কোন বৈধ কাগজপত্রও থাকার প্রশ্নও উঠে না। অথচ তার ছেলে আহসান হাবিব লেলিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ৫০জন্য সদস্য স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি আব্দুল জলিলের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম তালিকাভুক্তি বাতিল করে তার বিরুদ্ধেআইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। যাতে আর কেউ জাতির বীর সন্তানদের অসম্মান করার সাহস না পায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে আজ

ঢাকা অফিস ॥ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে আজ বৃহষ্পতিবার। আগামি ১২ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথ নিয়ে যাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রথযাত্রা উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠান মালায় রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামানায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়ন। বৃহস্পতিবার ইসকন আশ্রমে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

জাসদ নেতা আহাম্মদ আলী পিতার দাফন সম্পন্ন

আমলা অফিস ॥ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মিরপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী’র পিতা ডা: জহুরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের পুরাপাড়া কবরস্থানে তার জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহম্মেদ, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোরুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামসুল আরেফিন অমুল্য, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, যুগ্ম-সাধারন কারশেদ আলম, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি একলেমুর রেজা সাবান জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাহাদুর শেখ প্রমুখ। জানাযায় আওয়ামীলীগ, জাসদের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরাসহ আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১২টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ১০২ বছর। তিনি ৬ পূত্র, ৪ কণ্যা নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। জাসদ নেতা আহাম্মদ আলীর পিতার মৃত্যুতে জাসদ সভাপতি ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু এমপিসহ জাসদ ও এর অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গভীর শোক প্রকাশ করেন।

ষ্টেশনের যাত্রীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থাপনায় মনির খান সংঘ

নিজ সংবাদ ॥ দেশের প্রায় সবখানে যখন পানি সমস্যা সমাধানের পথে, অথচ অবহেলিত অবস্থাতে ছিলো কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়া রেল ষ্টেশনটি। দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের পানির জন্য আশে-পাশের চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে পানির পান করতে হতো। যা ষ্টেশনে আসা নতুন কোন যাত্রীর জন্য ছিলো বেশ কঠিন ও ভোগান্তির। অথচ কুষ্টিয়া কোর্টপাড়ায় রেল ষ্টেশন একটি অতি প্রাচীন ও ব্যস্ততম ষ্টেশন। যাত্রীদের এমন দূরাবস্থা নজরে আসে দেশের বৃহৎ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মনির খান সংঘের। বুধবার মনির খান সংঘের অর্থায়নে যাত্রীদের বিশুদ্ধ খাবার পানি সমস্যা সমাধানের জন্য ষ্টেশনের ওপর বসানো হয়েছে একটি পানির ড্রাম । যার মধ্যদিয়ে প্রতিদিন এখানে আসা যাত্রীরা সহজেই পানি পান করতে পারবে। এছাড়াও প্রতিদিন পানির ড্রামটি পরিস্কার, পানি রাখার জন্য ও ড্রামটি দেখভাল করার স্থানীয় একটি ছেলেকে রাখা রয়েছে। সাংবাদিক ও সমাজ কর্মকার কাজী সোহান (শরীফ) জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিশুদ্ধ পানি সমস্যাতে ভূগছিলেন এখানে আসা যাত্রীরা। পানির জন্য অনেক সময় অনেক যাত্রী ট্রেনও মিস করতে হয়েছে। তবে আজ থেকে আর এ সমস্যা থাকলো না। তিনি আরোও বলেন, মনির খান সংঘের কল্যাণে এই সমস্যা সমাধান হয়েছে, যা সবার কাছে নজির হয়ে থাকবে। এসময় মনির খান সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কুষ্টিয়ার দিগন্তের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহাগ মাহমুদ খান বলেন,  দেশের অন্যতম কুষ্টিয়ার কোর্ট এষ্টেশনে আসা যাত্রীদের জন্য পানি সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পেরে আমরা মনির খান সংঘ পরিবার গর্বিত। আমরা সব সময় চেষ্টা করি সমাজের অসহায়, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক কাজ করে আসছি। আমরা মনির খান স্যারকে ভালোবাসি, তার গায়কী কণ্ঠকে ভালোবাসি, তার ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসি। যারই পরিপেক্ষিতে এই মনির খান সংঘ আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা এই সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করছি। অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোসহ মানবিক কর্মকান্ডে আমরা নিয়োজিত থাকবো। এসময় তিনি উপস্থিত সবাইকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মনির খান সংঘের সাথে কাজ করার আহবান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহকারী সাধারন সম্পাদক সজীব শেখ, কুমারখালী রিপোর্টাস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রাজ্জাক, স্বদেশ বার্তার সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, মনির খান সংঘের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সেলিম রেজা, কুষ্টিয়া জেলা আহবায়ক মাসুদ রানা, সদস্য পলাশ, রিপন, তুহিন, তৃনা, তমা, স্বপন সহ কুষ্টিয়া জেলা মনির খান সংঘের সদস্যবৃন্দ। উল্লেখ্য যে মনির খান সংঘ অসহায় শিক্ষার্থীদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরন, টিউবওয়েল স্থাপন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ সামাজিক উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন কাজ করে আসছে।

॥ নাজীর আহমদ্ জীবন ॥

মোহাম্মদী না ইব্রাহিমী মদীনা না মক্কা

“আমি যাদের বেলায় ইচ্ছা করি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেই; আর প্রত্যেক জ্ঞানীর ওপর বেশী জ্ঞানীÑমহাজ্ঞানী সত্তা আছে।” (১২:৭৬ আয়াত)

এমনই একজন মর্যাদা প্রাপ্ত ও জ্ঞানী সত্তা হলেন বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ)। তাই তিনি, আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কর্তৃক “বারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকা” প্রাপ্ত হন যা শেষ জামানার মানুষের শান্তি ও মুক্তির পথ। গত ৪Ñ৭Ñ২০১৬ তে আন্তর্জাতিক  শান্তি সংস্থা ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে ইসলামকে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে। আজ এ অশান্তিময় বিশ্বে শান্তির জন্য আমাদের জানতে হবে ইসলাম ও মোহাম্মদ (সাঃ) কে নতুন জ্ঞানে নতুন আলোকে ইমাম (রঃ) এর চিন্তা জ্ঞান ও দর্শন এর মাধ্যমে।

ইসলাম রূপ আধ্যাত্মিক মহাসাগরে পৃথক  দুইটি  আধ্যাত্মিক সাগরের উত্তলন স্রোতধারা বহমান। একটি “মোহাম্মদী” অন্যটি  “ইব্রাহিমী”। শরীয়তের দৃষ্টিতে একটা অন্যটার সাথে মিশে আছে ধর্মীয় কারণে। কিন্তু মারিফাত এর ভিতরের দিক থেকে এ দুই  ধারা নিজ নিজ আধ্যাত্মিক স্রোত ধারায় বহমান। যা তাদের  স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ঠ্যে কোনদিন এক হবার নয়। কারণ  হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আর ইব্রাহীম নবী দুইজন পৃথক নবী।  তাই “মোহাম্মদী” আর “ইব্রাহিমী” দু’টি আলাদা বিষয়। মারিফাতের ভিতরের বিষয়। নিজ নিজ কলেমা ও প্রভু প্রেমে তারা স্বতন্ত্র। বারোশরীফের সূফী সাধক তাই দুঃখ করে বলেছিলেনÑ “সাদা আর সবুজ হ’ল না”। কারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, এমন ভাবে মিশে আছে। সাদা হ’ল ইব্রাহিমী প্রতীক।

নবী হযরত ইব্রাহিম, মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের আদি পিতা। কিন্তু মুসলমানরা উনাকে যতটা সম্মান দেয় ও মানে অন্যরা করে না। কারণ; আমাদের নবীকে ইব্রাহিমী মানতে ও প্রচার করতে বলা হয়। তারই ফলশ্র“তি হ’ল পবিত্র ঈদুল আযহা; কোরবানী’ হজ্ব, ওমরা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায। এভাবে সেদিন ইব্রাহিমী দিয়ে মোহাম্মদীকে ঢেখে ফেলা হয়। চৌদ’শ বছর পর যা উম্মোচন করে; আল্লাহর দয়ায় ও রাসূলের নির্দেশে “মোহাম্মদী” প্রচার করে গেলেন হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ)।

নবী ইব্রাহীম, আল্লাহর নির্দেশে পুত্র কোরবানী করেন। তাই, আমরা পশু কোরবানী করে থাকি। আওলাদে রাসূল বারো শরীফের ইমাম (রঃ) ছিলেন রাসূল প্রেমিক। তিনি, কুষ্টিয়াস্থ কোর্টপাড়া, বারোশরীফ দরবারে ১২-ই জেলগজ্জ্ব ১২ শরীফের দিনে রাসূল (সঃ) এর নামে কোরবানীর প্রচলন করে গেছেন। মাওলানা  থানবী (রঃ) বলেছেন যে; নিজের নামে কোরবানী দেয়া অপেক্ষা রাসূল (সাঃ), ও তাঁর পবিত্র সহধর্মীনি; বড় পীর ও নিজ পীর মুর্শিদের পক্ষ থেকে কোরবানী দাও, এতে  অনেক বেশী ফায়দা আছে। রাসূল (সাঃ) তাঁর প্রিয় উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানী করেছেন বলে জানা যায়। তাই তাঁর প্রিয় উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় রাসূলের নামে কোরবানী দেয়া।

হজ্ব হ’ল নবী ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী হাজেরার কিছু বিষয়ের অপসরণ ও স্মৃতি চারণ। সৌদী ওহাবীরা মক্কায় ইব্রাহীম নবীর সব কিছু বহলা তবিয়তে রেখেছে। আর মদীনায় রাসূল (সাঃ) স্মৃতি বিজড়ীত সব কিছুই বিনষ্ট করেছে। যেমনÑমিনায় (মিনা অর্থ ইচ্ছা করা) গিয়ে হাজীগণ প্রতিকী শয়তানকে তিনবার পাথর মারে দু’ইদিন। সেখানে প্রতিকী স্তম্ভ  তৈয়ার করেছে সৌদী ওহাবিরা যার নাম  হল জামরাতুল কুব্রা; জামরাতুল উস্তা; জামরাতুল-সুগরা। জিজ্ঞাসা করি এতে কি সত্যই শয়তান পালায় বা মনের শয়তান যায়? মা’ হাজেরার অনুসরণে সাফা ও মারওয়া সাতবার দৌরাতে হয়। যাকে সায়ী করা বলে।

যদি ও একে ‘যাহার’ বলা হয় তবে এর উচ্চতা সেরুপ নয়। তাই লর্ড বার্টিন একে তার বইয়ে টিলা বলেছেন। উভয় টিলার মধ্যে সামান্য দূরত্ব তবুও ওহাবীরা ছাদ দ্বারা যুক্ত করেছে, যাতে রৌদ্রে কষ্ট না হয়। আর মদীনায়  রাসূলের স্মৃতিগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। যে ‘মদীনাকে’ আল্লাহ ‘আরদুল¬াহ’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর যমনী’ বলেছেন। (সূরা নীসা) মসজিদে নব্বী নির্মানের পর আল্লাহ বলেছেনÑ“রাসূলের ঘর’ কেবল স্বীকৃতি দেন নাই   ‘কেবলার।’ কারণ সময়টা ইব্রাহিমী। রাসূল মদীনাকে ‘হারাম’ অর্থাৎ সম্মানীত ঘোষণা করেছেন। মক্কা ও মদীনা-দুই-নবীর দুইটা আলাদা পবিত্র স্থান। তাই রাসূল মক্কায় কোন মসজিদ নির্মাণ করেন নাই। মক্কা অপেক্ষা মদীনাকে বেশী ভাল বেসেছেন এবং মক্কা অপেক্ষা দ্বিগুণ রহমত ও বরকত চেয়েছেন আল্লাহর কাছে। রাসূলের শাফায়াত প্রথম পাবেন মদীনাবাসীগণ। ওয়াহীবদের এ অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের জন্য রাসূলের যাবতীয় পবিত্র জিনিস যেমন ঃ কদম মোবারক, দীড়ী মোবারক; চুল মোবারক; তরবারী মোবারক; আরও অনেক কিছু তুরস্কের নবী প্রেমিক সুলতানগণ নিয়ে গিয়ে যতœসহকারে বিখ্যাত “তাপ্কাপি প্রসাদে” সংরক্ষণ করেছেন।

মদীনা আর মক্কার পার্থক্য আছে আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক। ‘ইসলাম’ অর্থ যে শান্তি তা মদীনায় বিরাজমান। রাসূল  বলেছেন; মদীনা রহমত এর শহর যা অতি পবিত্র। মক্কায় গাড়ির হর্ণ বাজে; মদীনায় বাজে না, না জানি নবীজী বিরক্ত হন। মক্কার মানুষ রাগি ও কাটখোট্টা, মদীনার মানুষ অমায়িক ও বন্ধু বৎসল ও অতিথী পরায়ণ। মক্কায় দ্রব্যমূল্য বেশী, মদীনায় কম। মক্কায় জুতাচুরি হয়; চোর বদমায়েশ অনেক, মদীনায় তা নাই। এমন শান্ত স্নিগ্ধ, নীরব ও কোলাহল মুক্ত শহর পৃথিবীতে নাই। মনে হয় এটা বেহেস্তের বাগান; শান্তির স্থান।

ইসালামের রঙ সবুজ। তাই সৌদী আরব, বাংলাদেশ; পাকিস্তানের পতাকায় সবুজের আধিক্য। রাসূল (সাঃ) এর রওজা মোবারক সবুজ গম্বুজ। সৌদীরা বলে; সবুজ রঙ আল্লাহর মহিমার সাক্ষ্য বহন করে। তাই এদেশ রাস্তা দ্বীপেÑবিল বোর্ডে ইংরেজীতে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকে “মৎববহবৎু রং বফরফধহপব ড়ভ ঃযব মষড়ৎু অষষধয”. অর্থাৎ সবুজ রং  আল্লাহর মহিমার স্বাক্ষর বহন করে। এদেশে গণতন্ত্র নেই, আছে বংশগত রাজতন্ত্র। এখানে পীরÑওলীÑআওলিয়া বলে কেউ দাবি করলে তার স্থান কারাগারে। রাসূল (সাঃ) এর পবিত্র জন্মদিন এ ছুটি নাই। পালন করা হয় না। শবে-বরাত ও শবে-মিরাজে ছুটি নাই। ছুটি কেবল দুই ঈদে, আর জাতীয় দিবস ২৩শে সেপ্টেম্বর। নামায শেষে যৌথ মোনাজাত এদেশে নেই। ঈদের নামায পড়া হয় সকালে সূর্য ওঠার পর পর। সৌদীদের বড় গুণ এরা নিজের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ করে না। একে অপরকে সম্মান দিয়ে কথা বলে। বড় দোষ বিদেশীদের বেশী পাত্তা  দেয় না। এদের মধ্যে সালাম বিনিময় আর চুমা দেয়ার মধ্যে রয়েছে ভাতৃত্বের নিদর্শন। এরা পরনিন্দা পরচর্চা করে না। গীবত ও গায় না। কারণ পবিত্র হাদীসে আছে গীবত গাওয়া আর মরা মানুষের মাংস খাওয়া সমান। সৌদী চরিত্রের সবচেয়ে বড় দোষ এর নারী লোভী। তাই এরা বিয়ে করে বেশী। সৌদি আরবে অনেক বিত্তশালী ও যুবরাজ মদ খাওয়াকে ডাল ভাত মনে করে। এরা আজ ভোগ  বিলাসে ঢূবে গেছে। তাই, আজ ওদের কাছে ইসলাম ধম শিক্ষা নেবার কিছু নেই। সব ওহাবী চিন্তাধারায় চলে। এর কেবল ধর্মের বাহ্যিক আবরণে চলে। আধ্যাত্মিকতা ও রাসূল প্রেম এর জানে না। যে রাসূলের ওছিলায় পেয়েছে তেলে খনি, আর সোনার খনি সেই রাসূলকে ওরা চিনে না। ইসলামের দুইটি পবিত্র স্থান ওখানে না থাকলে কেউ যেত না। তাই দুঃখ করে বলতে হয়ঃ তারই ধনে হইয়া ধনী/তারে কিঞ্চিত মানি।

ইবিতে গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট (ছাত্রমৈত্রী ও ইউনিয়ন) বুধবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ডায়না চত্বর থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে শেষ হয়। মিছিল শেষে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুরুজ্জামান সবুজ ও ছাত্রমৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে ছাত্র ইউনিয়ন ও  মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিক ও আবদুর রউফ। বক্তাগণ বলেন বিশ্ববিদ্যালয়য় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন তথা গবেষণা। চারশ শিক্ষক ও  ষোলহাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য তারা মোট বাজেটের পাঁচ শতাংশ গবেষণা খাতে বরাদ্দের দাবি জানান। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৭ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৮০ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ০.৫৮ শতাংশ। যদিও এখাতে বরাদ্দ চাহিদা ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

দৌলতপুরে বিভিন্ন স্কুলে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনলাইনে যশোর বোর্ডের সার্ভারে সকাল সাড়ে ৮টার পর প্রশ্ন দেওয়া হলে তা ডাউনলোড করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে ফটোকপি করা হয়। দৌলতপুরের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফটোকপি মেশিন না থাকায় বোর্ডের প্রশ্ন সার্ভার থেকে ডাউনলোড করে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ফটোকপি করে পরীক্ষা শুরু করতে বেলা ১১টা পার হয়ে যায়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়ে চরম বিপাকে। সকাল ১০টার পরীক্ষা ১১টা বা তার পরে শুরু হলে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ আর ঠেলাঠেলিতে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবশে বিঘিœত হয়। সেই সাথে নষ্ট হয় শিক্ষার পরিবেশ। এছাড়াও বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফটোকপির দোকান থেকে প্রশ্ন ফটোকপি করতে গেলে সেখান থেকে অনেক সময় প্রশ্ন ফাঁস হয়ে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের নিকট পৌঁছে যায়। এছাড়াও দূর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশী সমস্যার সন্মুখীন হয়। চরাঞ্চলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন ফটোকপি করতে তাদের বালির ভেতর কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অন্যত্র প্রশ্ন ফটোকপি করে পরীক্ষা নিতে হয়। তাছাড়ও অনেক সময় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকলে প্রশ্ন ফটোকপি করাও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। এতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার মনোবল যেমন নষ্ট হয় এবং পরীক্ষা নিতে গিয়ে শিক্ষকবৃন্দ মানষিক সমস্যায় ভুগেন। তাই বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য এবং সুবিবেচনার জন্য বোর্ড কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। গতকাল উপজেলার বিভিন্ন হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায় বেলা ১১টার পরও অনেক স্কুল পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। মহিষকুন্ডি হাইস্কুলের এক শিক্ষক জানান, যশোর বোর্ডের সার্ভার থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে ফটোকপির পর পরীক্ষা শুরু করতে প্রতিদিনই বেলা ১১টা পার হয়ে যায়। তিনি এ পদ্ধতির আরও আধুনিকীকরণ করার দাবি জানান। একই অভিযোগ দূর্গম চিলমারী চরের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষকসহ দৌলতপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের।

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ বিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের প্রথম সভা

নিজ সংবাদ ॥ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়াতে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের ১ম সভা গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. ইসমত আরার পরিচালনায় উক্ত সভায় ৫টি অনুষদের ডিনসহ ৮ টি বিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বহি: সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। বহি: সদস্য হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ইবি আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন। সভায় ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য অনুষদ ও বিভাগের বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রত্যেকটি প্রোগ্রামের বিধি ও কারিকুলাম অনুমোদন, অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, ছাত্র আচরণবিধি ও পরীক্ষা শৃঙ্খলাবিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। সভায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন ও মান সম্মত শিক্ষা বিস্তারে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যগণের মতামতের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। উল্লেখ্য, আজ বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ও বিওটির সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সুপারিশ করেছে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কমিটি শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছে। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি আবদুস শহীদ বলেন, ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছি। এছাড়া বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পের কাজের গতি ও গুণগত মান বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া অর্থের স্বচ্ছতার জন্য অভ্যন্তরীণ অডিট ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করে। এ বিষয়ে আবদুস শহীদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেখানে বেশকিছু প্রকল্পে কমিটির কাছে ধীর গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। যার কারণে কমিটি এসব প্রকল্পের গতি বাড়াতে বলেছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের যেন অপচয় না হয়, যার জন্য যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজের গুণগত মান বাড়াতে এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবল বাড়াতে কমিটি সুপারিশ করে বলে সংবাদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল¬াহ হারুন, ফজলে হোসেন বাদশা, আহসান আদেলুর রহমান এবং ওয়াসিকা আয়শা খান অংশ নেন।

শনিবার দোয়া মাহফিল

কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সম্পাদক লাভলু ও যুবলীগ নেতা আলীমের মা বছিরুন নেছার দাফন সম্পন্ন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া চৌড়হাস এলাকার মৃত সবেদ আলীর স্ত্রী এবং কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাভলু ও শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক যুবলীগ নেতা আব্দুল আলীমের মা বছিরুন নেছার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল ১০ টায় চৌড়হাস ঈদগাহ গোরস্থানে নামাজে যানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

এ সময় কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী সেলিনুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহাজুল সাজু, সদস্য মমিজুর রহমান মমিজ, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রপের সাধারণ সম্পাদক বাবলু, স্থানীয় কাউন্সিলর, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মরহুম বছিরুন নেছা মঙ্গলবার রাত ১০ টায় চৌড়হাস স্টেডিয়ামের সামনে নিজ বাসভবনে বাধ্যর্কজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না..রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মরহুম বছিরুন নেছা ৫ পুত্র সন্তান ও ২ কন্যা সন্তানসহ অশংখ্য শুভাকাঙ্খি রেখে গেছেন। মরহুম বছিরুন নেছার পুত্ররা হলেন কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাভলু, আব্দুস সাত্তার, শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক যুবলীগ নেতা আব্দুল আলীম, আব্দুস সেলিম ও মহায়মিলন। কন্যারা হলেন ফরিদা ও ফিরোজা। মরহুমের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, শনিবার বাদ যোহর নিজ বাড়িতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত দোয়া মাহফিলে সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে রাজপথে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের যখন ওষ্ঠাগত তখন কোনো কারণ ছাড়াই ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মানুষের ওপর যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। রিজভী বলেন, জনগণের পকেট কেটে সরকারি লোকদেরকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিতেই জনগণের ওপর গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির অনৈতিক ও অমানবিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিষ্ঠুর আদেশের ফলে সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা সরকারের এই বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল এবং সেই ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করার মাস্টারপ¬্যান বাস্তবায়ন করতেই গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ মাস আগেই মিথ্যা ও সাজানো মামলায় জড়িয়ে সরকার অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে। তিনি এ সময় বলেন, আমি আবারও অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। এর আগে মিছিলে অংশ নেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল¬াহ হাসান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ জি এম শামসুল হক, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান মিহির প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

হজের প্রথম ফ্লাইট আজ

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যাচ্ছেন সোয়া লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে হজের প্রথম ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। প্রতিবারের মতো রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এবারই প্রথম ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে পে¬নে উঠবেন যাত্রীরা, ফলে সৌদি আরব গিয়ে থাকবে না কোনো বাড়তি ঝামেলা। এদিকে এবছর যাতে কোনো দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিমানে হজযাত্রীদের যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গমনের ২৪ ঘণ্টা আগে ২শ মার্কিন ডলার ও যাত্রার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা পরিবর্তনের জন্য ৩শ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বাড়তি মাশুল আদায়ের বিধান করেছে এয়ালাইন্সটি। এ ছাড়া নির্ধারিত ফ্লাইটে না গেলে টিকিটের অর্থও ফেরতযোগ্য হবে না। হাব জানিয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরব যাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। তন্মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ ব্যালটি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৬ হাজার ৪০১ নন-ব্যালটি হজ করতে যাচ্ছেন। বিমানের তথ্যমতে, এবার হজ মৌসুমে শিডিউলসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। অবশিষ্ট যাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ালাইন্স। এবার প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্পন্ন করা হবে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় এবছরের হজযাত্রা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল¬াহ। সকাল সোয়া ৭টার উদ্বোধনী ফ্লাইট বিজি-৩০০১ জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে। এ ছাড়া একই দিন হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল সোয়া ১১টায়, বিজি-৩২০১ বিকেল সোয়া ৩টায়, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ও শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত সোয়া ৮টায় হাজিদের নিয়ে যাত্রা করবে বিমান। জানা যায়, হজ মৌসুমে দু’মাসব্যাপী ৩০৪টি ডেডিকেটেড ও ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রি-হজে মোট ১৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড ১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। পোস্ট হজে ১১৫টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড ৮৬ ও শিডিউল ২৯)। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯টি ও সিলেট থেকে ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, এবছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়ন সময় হবে প্রায় ৭ ঘণ্টা। বিমান পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটগুলোর চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে। বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, হজযাত্রী পরিবহন করতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে বিমান। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করি, এবার হজযাত্রীদের কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

 

সমতাভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

ঢাকা অফিস ॥ সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে সমতাভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দারিদ্র দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, শরণার্থী, অভিবাসন সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা সমস্যা সমাধানে সংসদীয় কূটনীতি একটি শক্তিশালী মাধ্যম বলে উলে¬খ করেন তিনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার মস্কোয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দ্য স্টেট দুমা অব দ্য ফেডারেল অ্যাসেম্বলি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন আয়োজিত দ্য সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ডেভেলপমেন্ট অব পার্লামেন্টারিজম ২০১৯ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সের ‘ইন্টার-পার্লামেন্টারি কো-অপারেশন: প্রিন্সিপালস, ট্রেন্ডস অ্যান্ড ইনস্টিটিউট’ সেশনের বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার। গতকাল বুধবার দুপুর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জনগণের অধিকার সুরক্ষায় বিশ্বের সব রাজনীতিবিদদের একই ভাষায় সোচ্চার হতে হবে। যে রাজনীতির অভিন্ন রূপ হতে হবে অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমতা ও শান্তির ভিত্তিতে কল্যাণময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা। এ সময় তিনি সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে সমতাভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্পিকার বলেন, অর্থনীতি, কারিগরি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিবর্তন লক্ষণীয়। বৈশ্বিক পরিবর্তনের ধারায় ইতিবাচক ফলাফল আনয়নে সব সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের সুফল ও ইতিবাচক মূল্যবোধ হতে হবে ‘সমাজে কেউ পিছিয়ে থাকবে ন ‘ তবেই গণতন্ত্র টেকসই হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে আন্তঃসংসদীয় ফোরামে জটিল সমস্যাগুলো আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় মৈত্রী গ্র“প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও স্পিকার উল্লেখ করেন। ড. শিরীন শারমিন বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী সংসদ গড়ে তোলা সম্ভব। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের পরপরই বাংলাদেশ আইপিইউ, সিপিএ, পিইউআইসিসহ আন্তঃসংসদীয় বিভিন্ন ফোরামের সদস্য হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, সমতাভিত্তিক অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত থাকে। যা ছিলো বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন। দ্য স্টেট দুমা অব দ্য ফেডারেল অ্যাসেম্বলি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ভাইয়াচে¯¬াভ ভোলোদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেশনে মরক্কো, কোরিয়া, ইরানসহ অন্যান্য দেশের পার্লামেন্টের স্পিকাররা বক্তব্য দেন। সেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য একাদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু, মো. জিল¬ুল হাকিম এবং অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্র“তি সুইডেনের

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ তৈরি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা স্লাইটার। গতকাল বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তার এই প্রতিশ্র“তি আসে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। আগামী ফেব্র“য়ারিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘থার্ড গে¬াবাল মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স অন রোড সেফটি’। সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে যোগ দিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদেরকে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে মানসম্পন্ন সুইডিস বাস সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।