ইবি থেকে সাংবাদিক সুজন কর্মকার’র ডিপ্লোমা অর্জন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) এর ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আই আই ই আর) পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স কোর্সে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার। ২৯ জুন ২০১৯ তারিখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ও আই আই ই আর এর পরিচালক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য, সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সকালের সময়, ডেইলি বাংলাদেশ, দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ও দৈনিক তৃতীয়মাত্রা পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি। এছাড়াও সুজন কুমার কর্মকার বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী, আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির ও ১৭ হাঁত উচ্চতা বিশিষ্ট কালী পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক, আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের প্রচার সম্পাদক, সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড এডুকেশন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৭ বলিউড অভিনেত্রী আটক

বিনোদন বাজারা ॥ মুম্বাইয়ের কাছে আলিবাগে দেহ ব্যবসা চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক নারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাত অভিনেত্রী। তাদের প্রত্যেকেই বলিউড মুভি বা ছোট পর্দায় অভিনয় করেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

জানা গেছে, আলিবাগের বিলাসবহুল বাড়িগুলিতে চলে রেভ-পার্টি। সেখানেই আসর বসে দেহ ব্যবসার। যাতে সামিল হন বলিউড ছবিতে দেখা যাওয়া দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির অভিনেত্রীরাও।

দেহ ব্যবসা চলে এমন দুই বাংলো চিহ্নিত করে তার নিরাপত্তারক্ষীদের জেরা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নির্দিষ্ট খবর পেয়ে দুই ‘দালাল’ এর নম্বর সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় পাল্টে ওই দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পুলিশ। নির্দিষ্ট সময়ে আলিগড়ের দুই বাংলোতে ‘ব্যবস্থা’ করা হবে। এরপরই অপেক্ষায় ছিল পুলিশ। সময় মত দালালসহ অভিনেত্রীরা এলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পার্টিতে মাদক বিক্রির অভিযোগেই গ্রেপ্তার হয়েছে নয়জনকে। এই ঘটনার পর থেকেই আবার আলোচনায় বলিউড ও অন্ধকার জগতের সম্পর্ক।

বাংলাদেশের প্রথম থ্রিডি ছবির নায়িকা জয়া

বিনোদন বাজারা ॥ নন্দিত সাহিত্যিক আহমদ ছফা। তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘অলাতচক্র’। বলা হয় এখানে তিনি দানিয়েলের জবানিতে নিজেকেই তুলে ধরেছেন। নিজের প্রেমিকারূপে সৃষ্টি করেছেন তায়েবা চরিত্রটি। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সেই উপন্যাস এবার রূপ নিচ্ছে চলচ্চিত্রে। তাতে প্রেমিকা তায়েবা চরিত্রে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষায় নির্মিত প্রথম থ্রিডি ছবি।

এ ছবির শুটিং হয়েছে থ্রিডি ক্যামেরায় ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তা নিয়ে। পুরো সিনেমা শেষ করার পর তিনি গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তারিত মুখ খুলবেন।

জানা গেছে, ৬০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান নিয়ে বিশেষ এই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন হাবিবুর রহমান। গত ২২ জুন থেকে এর শুটিং শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উপলক্ষে ছবিটি মুক্তি দেবেন পরিচালক।

হাবিবুর রহমান জানান, ‘বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম থ্রিডি চলচ্চিত্র এটি। শুটিং প্রায় শেষ হলেও, সম্পাদনা করতে সময় লাগবে। তাছাড়া এতে বাজেটও একটি বড় বিষয়।’

এই ছবিতে দানিয়েল চরিত্রে অভিনয় করছেন আহমেদ রুবেল। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে হাজির হবেন মামুনুর রশীদ, আজাদ আবুল কালাম, শিল্পী সরকার অপু, শফিউল আলম বাবু, নুসরাত জাহান জেরী, সৈয়দ মোশাররফ প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত বাংলাদেশি লেখক দানিয়েল ও ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রগতিশীল নারী তায়েবার মধ্যকার অস্ফুট ভালোবাসা, মানসিক টানাপোড়েন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি লেখক ‘অলাতচক্র’ উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেগুলো এবার উঠে আসবে নির্মাণাধীন এই চলচ্চিত্রে।

অপু বিশ্বাসের জন্য গাইবেন কনা

বিনোদন বাজারা ॥ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপাসহ দেশের প্রায় সকল নন্দিত গায়িকাদের গানের সঙ্গেই ঠোঁট মিলিয়েছেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। তাদের গাওয়া অনেক গান দিয়েই পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। এবার কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনাকে দেখা যাবে অপু বিশ্বাসের জন্য গাইতে। সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন অপু। সেই বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা।

জিয়াউদ্দিন আলমের সুরে জিঙ্গেলটি লিখেছেন আজিশা রহমান ইতি। এর মিউজিক আয়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। গত বৃহস্পতিবার মৌচাকের একটি স্টুডিওতে এই জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা।

‘সুন্দরী নারিকেল তেল’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে দেখা যাবে ঢালিউড কুইন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসকে। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন আকাশ আমিন। পোস্ট বক্স এজেন্সির এ বিজ্ঞাপনে চিত্রগ্রাহক হিসেবে রয়েছেন ইবাদ আলিম।

কনা এ জিঙ্গেলটি নিয়ে বলেন, ‘ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছি। সিনেমা ও অডিও গানের বাইরে জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেওয়ার আনন্দটাও অন্যরকম। এখানে গানে গানে একটি পণ্যকে তুলে ধরতে হয়। একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় থাকে।

ধারাবাহিকতায় আলম ভাইয়ের সুরে ‘সুন্দরী নারিকেল তেল’র বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলটিতে কণ্ঠ দিলাম। খুব ভালো হয়েছে কাজটি। এছাড়া প্রথম কোনো জিঙ্গেলে আমার কণ্ঠে ঠোঁট মেলাবেন জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। অসাধারণ একটি কাজ নিয়ে তিনি হাজির হতে চলেছেন। বিজ্ঞাপনটি আলোচনায় আসবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

নির্মাতা আকাশ আমিন জানান, ভক্তদের জন্য চমক নিয়ে ফিরছেন অপু বিশ্বাস। আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞাপনটিতে গ¬্যামারের রোশনাই ছড়াবেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় এই নায়িকা। নারিকেল তেলের এই টিভিসিটি চলতি মাসেই বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার শুরু হবে।

মম-জোভান যখন ফেলটুস

বিনোদন বাজারা ॥ এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম ও জোভান জুটি বেঁধে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকটির নাম ‘ফেলটুস’। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু ও পরিচালনা করেছেন রিফাত আদনান পাপন।

সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে নাটকটির গল্প তৈরি হয়েছে বলে পরিচালক জানান। এ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘গল্প পছন্দ না হলে আমি কাজ করি না। বছরজুড়ে অনেক অনেক নাটকে কাজ করতে হবে আমাকে এমন অভিনেত্রী নই আমি।

গল্প ভালো লাগলে কাজ করব, তা না হলে বিশ্রামে থাকব। অযথাই মানহীন গল্পে কাজ করে কাজের পরিমাণ বাড়াতে চাই না। এ নাটকের গল্প ভালো লেগেছে বলেই কাজটি করেছি। আমি আর জোভান আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি গল্পটি দর্শকের ভালোলাগার মতো দাঁড় করাতে। আশা করছি, ভালো লাগবে দর্শকের।’

জোভান বলেন, ‘এর আগেও মম ও আমি একসঙ্গে অভিনয় করেছি। ফেলটুস নাটকটিতে তার সঙ্গে কাজ করাটা উপভোগ করেছি। আশা করছি, এ গল্পই দর্শককে নাটকটি দেখার আগ্রহ সৃষ্টি করবে।’ নাটকটি আগামী ঈদে একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

অসুস্থ হয়েও শুটিং করছেন বুবলী

বিনোদন বাজারা ॥ জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিতে গত সপ্তাহ থেকে শুটিং করছেন চিত্রনায়িকা বুবলী। এ ছবিতে তার সহশিল্পী শাকিব খান। ২৫ জুন শুটিং সেটে শাকিব খানের কাঁধ থেকে পড়ে বুবলী মাথার বাম পাশে আঘাত পান।

আঘাত পেয়ে মাথা কেটে রক্তপাত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাত্র এক ঘণ্টা বিশ্রামের পর আবারও শুটিং করেন এ নায়িকা। শরীর ক্রমেই অসুস্থ হচ্ছিল, তবুও দায়বোধ থেকে তিনি শুটিং বন্ধ করেননি। সেদিন বাসায় ফিরে জ্বরও এসেছে। শনিবার শুটিং প্যাকআপ ছিল। জ্বর ও অসুস্থ শরীর নিয়ে রোববারও শুটিং করেছেন বুবলী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই টিমের কথা মাথায় রেখে কাজ করি। অসুস্থ হলেও আমার জন্য টিমের ক্ষতি হবে এটি আমি চাই না। তাই মাথাব্যথা এবং জ্বর নিয়েও শুটিং করছি। আমি মনে করি কাজে মনোযোগী হলে ফলাফল ভালো হবে। আশা করছি আমাদের এ ছবিও সবার পছন্দ হবে।’ ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি প্রযোজনা করছে দেশ মাল্টিমিডিয়া।

এ ছবি ছাড়া বুবলী ‘একটা প্রেম দরকার’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করছেন। ছবিটি পরিচালনা করছেন শাহীন সুমন। অন্যদিকে শাকিব খান প্রযোজিত আরও চারটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ছবিগুলো হচ্ছে ‘পাসওয়ার্ড-২’, ‘প্রিয়তমা’ ‘বীর’ ও ‘ফাইটার’।

শিগগিরই ছবিগুলোর শুটিং শুরু হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত রোজার ঈদে শাকিব খানের প্রযোজনা সংস্থা থেকে ‘পাসওয়ার্ড’ নামে একটি ছবি মুক্তি পায়। এ ছবিতেও শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা ছিলেন বুবলী। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পেয়েছে।

আমিশার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

বিনোদন বাজারা ॥ হৃতিক রোশানের সঙ্গে ‘কাহো না পেয়ার হে’ সিনেমায় অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল। এই সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল তার। আর প্রথম ছবিতেই জিতেছিলেন পুরস্কার। তারপর বেশ কিছু সিনেমায় সফলতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। কখনও কখনও হয়েছেন সমালোচিত। অনেকের মন চুরি করেছেন। এবার আমিশার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি এনেছেন প্রযোজক অজয় সিং।

পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে অজয় জানান, ভারতের রাচিতে আমিশা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে অভিনেত্রী তার প্রোডাকশন হাউসের জন্য আড়াই কোটি টাকা ধার নেন। এই টাকা ফেরত দেবার সময় উপযুক্ত সুদ দেবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে ভাগ দিতে চেয়েছিলেন আমিশা।

সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমিশা তার প্রোডাকশন হাউস থেকে একটি চেক পাঠায়। কিন্তু সেই চেকে টাকা ছিল না। বিষয়টি আমিশাকে কল করে জানাই। তবে অভিনেত্রী আমাকে টাকা দেবে না বলে জানান। একই সঙ্গে হুমকি দিতে থাকেন।

আমিশার এই আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান অজয়।

 

প্রাকৃতিকভাবে ফসলি জমির বালাই দমনের পদ্ধতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উন্নত বীজ, রাসায়নিক সারের ব্যবহারে যেমন বহু বছর ধরে বাংলাদেশের কৃষকরা অভ্যস্ত, তেমনি ফসল নিরাপদ রাখার জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহারও বহুল প্রচলিত। কিন্তু সব রাসায়নিক বস্তুরই ক্ষতিকর দিক আছে, যা আমাদের জমি ও প্রকৃতির যথেষ্ট ক্ষতি করে ফেলেছে এরই মধ্যে। সুতরাং রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প উপায় যদি উদ্ভাবন করা যায় তাকে বড় সাফল্যই বলতে হবে। সে সাফল্য পেয়েছেন মাগুরার কৃষকরা। কীট কিংবা বালাই নিধনের জন্য এখন কীটনাশকের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না। প্রাকৃতিকভাবেই ফসলি জমির ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ নিধন সম্ভব। মাগুরার বিভিন্ন মাঠে প্রাকৃতিকভাবে বালাই দমনের নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে এ রকমই মন্তব্য করছেন কৃষি বিভাগ ও কৃষি উন্নয়নে কর্মরত সংশ্লিষ্টরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, তিন ধরনের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বালাই নাশে স্থানীয় কৃষকরা এখন অনেকটাই সফল। যার প্রথম পর্যায়ে রয়েছে মাছিপোকা দমনে ফেরোমন ট্রাপের ব্যবহার।  ফেরোমন ট্রাপের পরই রয়েছে ফসলি জমি বিশেষ করে ধানক্ষেতে লাইভ পার্চিং ও ডেথ পার্চিংয়ের ব্যবহার এবং বন্ধু পোকার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন।

ফেরোমেন ট্রাপ ঃ

মনোসেক্স ফেরোমেন ট্রাপ হচ্ছে মাছি জাতীয় পোকা দমনের এক ধরনের ফাঁদ। সবজিসহ ফসলি ক্ষেতে প্লাস্টিকের বয়াম স্থাপন করে তার মধ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার গুলিয়ে স্ত্রী পোকার গায়ের গন্ধযুক্ত  ফেরোমেন স্থাপন করা হয়। ফেরোমেনের গন্ধে পুরুষ মাছি বয়ামের মধ্যে গিয়ে ডিটারজেন্ট গোলানো পানিতে পড়ে মারা যায়। ফলে  পোকার বংশ বিস্তার বন্ধ হয়ে যায়। কৃষি বিভাগ ও ইসডেফ ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গোটা জেলায় পোকা দমনে কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

লাইভ পার্চিং ও ডেথ পার্চিং ঃ

লাইভ শব্দের অর্থ জীবন্ত। পার্চ শব্দের অর্থ দাঁড় কিংবা অল্প উঁচু ও নিরাপদ আসন। সেক্ষেত্রে লাইভ পার্চিং অর্থ জীবন্ত দাঁড়। অন্যদিকে একইভাবে ডেথ পার্চিং অর্থ দাঁড়াচ্ছে মৃত কিংবা মরা দাঁড়। দাঁড় শব্দের সঙ্গে উড়ন্ত পাখির সম্পর্ক রয়েছে। এই দাঁড়ের সঙ্গে ধানিজমির পোকা দমনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। অতীতে কৃষকরা ধানিজমিতে পাখিদের জন্য কৃত্রিম দাঁড় তৈরি করত। তখন যে কোনো ধানক্ষেতের দিকে তাকালে গাছের মরা ডাল দিয়ে পাখিদের দাঁড় স্থাপনের দৃশ্য খুব সহজে  চোখে পড়ত। দাঁড় স্থাপনের লক্ষ্য ছিল একটিই, পাখিদের সহজে বসার ব্যবস্থা করা, যাতে মাজরা পোকাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

রাসায়নিক কীটনাশকের দাপটে এ প্রাকৃতিক কীট দমন পদ্ধতিটি হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খুশির সংবাদ হচ্ছে, এখন কৃষি বিভাগের উদ্যোগেই কৃষকদের নতুন করে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পোকা দমন পদ্ধতি ব্যবহারে। যে কারণে জেলার সর্বত্র চলতি আউশ-আমন মৌসুমে অধিকাংশ ধানক্ষেতে কৃষকদের এ দাঁড় পাততে দেখা যাচ্ছে।

পার্চিং পদ্ধতির দুটি ভাগ রয়েছে। এর একটির নাম দেওয়া হয়েছে লাইভ পার্চিং, অন্যটি ডেথ পার্চিং। লাইভ পার্চিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে ৩ মিটার দূরত্বে পাখিদের বসার জন্য রোপণ করা হচ্ছে ধনচে গাছ। কৃষি বিভাগের মতে, ধনচে গাছ একটু বড় হলেই সেখানে পাখিরা খুব সহজে বসতে পারে। এটি আগাছা না হওয়ায় ক্ষেতের কোনো ক্ষতি করে না। ধনচে গাছ রাইজোডিয়াম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে সরবরাহ করে। ফলে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় কম।  যেহেতু ধনচে গাছ জীবিত অবস্থায় পাখির মাধ্যমে পোকা দমনে দাঁড় হিসেবে কাজ করছে সুতরাং এর দ্বৈত সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ডেথ পার্চিং হচ্ছে মরা গাছের ডাল মাঠের মধ্যে পুঁতে দিয়ে একইভাবে পাখিদের বসার জায়গা করে দেওয়া। এ পদ্ধতি ব্যবহারের  ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২টি ডাল পুঁতে দিলেই হয়। এক্ষেত্রে কেউ কেউ ডালপালার পরিবর্তে শক্ত পাটকাঠি মাঠের মধ্যে পুঁতে দিয়ে পাখি বসার সাময়িক ব্যবস্থা করে দেন।

বন্ধুপোকা ঃ

সব পোকাই ফসলি ক্ষেতের জন্য ক্ষতিকর নয়। শস্যের ক্ষতিকারক  পোকার পাশাপাশি রয়েছে কিছু বন্ধুপোকা। বন্ধুপোকা নানাভাবে শক্র  পোকা দমন করে ফসলি ক্ষেতে বন্ধু হিসেবে কাজ করে। যে কারণে এদের বলা হয় বন্ধুপোকা। কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে আমাদের জীববৈচিত্র থেকে ক্ষতিকর পোকার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন বন্ধুপোকাও হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফসলের ক্ষেতে এখন বন্ধুপোকার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

আর এ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীকুন্ডিী গ্রামে প্রায় ১০০ একর সবজির ক্ষেতে বন্ধুপোকা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসডেপ কনসার্ন ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা দেড় মাসে এ এলাকার বেগুন, চালকুমড়া, পটল, শসাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে প্রায় ১৪ লাখ বন্ধুপোকা ছেড়েছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গাউছুল আযম স্বাধীন জানান, তারা শ্রীকুন্ডী এলাকার ১০০ একর জমিতে ৫০ হাজার আইব্রাকন ও ১৩ লাখ ট্রাইকোগ্রামাথ এ দুই জাতীয় বন্ধুপোকা ছেড়েছেন। এছাড়া লেডি বার্ড ব্রিটল নামে আরেক জাতীয় পোকা ছাড়া হয়েছে। আইব্রাকন জাতীয় বন্ধুপোকা মাজরা জাতীয় ক্ষতিকর পোকার শরীরে তাদের আল ফুটিয়ে ওই পোকার জীবনশক্তি নিঃশেষ করে দেয়, যা ফসলি জমিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ট্রাইকোগ্রামা জাতীয় বন্ধুপোকা একই পদ্ধতিতে সবজির ডগা ছিদ্রকারী ক্ষতিকর মাজরা পোকার ডিম নষ্ট করে দেয়। ফলে তাদের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কৃষকরা এ পোকা ছাড়ার ফলে উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এ পদ্ধতিতে পোকা দমন করলে ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ যেমন বাঁচে, তেমনি মৌমাছি জাতীয় পরাগায়ন সহায়ক পতঙ্গ সবজি মাচায় খুব সহজে চাক বাঁধে। আর তার ফলে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়।

ইসডেপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এসপিজিআর প্রকল্পের সহায়তায় তাদের ল্যাব থেকে প্রথমে ডিম সংগ্রহ করে আনছেন। পরে এ ডিম নিজেদের ল্যাবে দু’দিন  রেখে পোকার জন্ম হলে পোকাভর্তি বয়ামগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করছেন। এছাড়া এ বিষয়ে কৃষকদের দিচ্ছেন যথাযথ প্রশিক্ষণ।

এ ব্যাপারে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ফসলের ক্ষেতে ফেরোমেন ট্রাপ ও বন্ধুপোকার মাধ্যমে ক্ষতিকর  পোকা দমন কার্যক্রম ইসডেপের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ১০টি প্রদর্শনী খামারে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো বন্ধুপোকা ছাড়া হয়েছিল, যা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সরকারিভাবেই এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জানান,  জেলায় এ বছর ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে ডেথ পার্চিং ও লাইভ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে শতভাগ ধানিজমি এ পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

 

নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জমেনি গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের লড়াই। আড়াইশর কাছাকাছি রান তাড়ায় সেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। তাসমান পাড়ের দুই দেশের লড়াইয়ে অনায়াস জয় পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। লন্ডনের লর্ডসে শনিবার ৮৬ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪৩ ওভার ৪ বলে ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরু আর শেষে ছিল পেসারদের দাপট। শেষ ওভারে পরপর তিন বলে উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন ট্রেন্ট বোল্ট। তবে উসমান খাওয়াজা ও অ্যালেক্স কেয়ারির শতরানের জুটির ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দুই ওপেনার দ্রুত ফেরার পরও নিউ জিল্যান্ডকে কক্ষপথে রেখেছিলেন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। প্রতিপক্ষের সেরা দুই ব্যাটসম্যানের জুটি ভাঙার পর মিডল অর্ডারে ছোবল দেন মিচেল স্টার্ক। আসরে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি এই পেসার গতবারের রানার্সআপদের থামিয়ে দেন ৩৮ বল বাকি থাকতে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু করে প্রথম দুই ওভার মেডেন খেলে। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারাতে পারতো তারা। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে শর্ট কাভারে মার্টিন গাপটিলকে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান অ্যারন ফিঞ্চ। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। বোল্টের দারুণ এক ডেলিভারিতে ফিরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। সেই ওভারেই শূন্য রানে আউট হতে পারতেন উসমান খাওয়াজা। দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি গাপটিল। দশম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলে দারুণ এক বাউন্সারে ডেভিড ওয়ার্নারকে বিদায় করেন লকি ফার্গুসন। তার পরের ওভারে লেগ গালিতে স্টিভেন স্মিথের দারুণ এক ক্যাচ নেন গাপটিল। খাওয়াজার সঙ্গে কেবল জমে উঠেছিল মার্কাস স্টয়নিসের জুটি; তখনই আঘাত হানেন জিমি নিশাম। স্টয়নিসকে কট বিহাইন্ড করে পরের ওভারে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে থামান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। ৯২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা হতে পারতো আরও খারাপ। নিশামের বলে ৩৫ রানে খাওয়াজার ক্যাচ ছাড়েন টম ল্যাথাম। ক্রিজে গিয়েই শট খেলতে শুরু করেন অ্যালেক্স কেয়ারি। খাওয়াজাকে নিয়ে এগিয়ে নেন দলকে। শটের পসরা সাজিয়ে বসা কেয়ারিকে থামান অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। অস্ট্রেলিয়ার কিপার ব্যাটসম্যান ৭২ বলে ১১ চারে করেন ৭১ রান। ভাঙে ১০৭ রানের জুটি। ৬৩ রানে আবার ল্যাথামের হাতে জীবন পাওয়া খাওয়াজা প্যাট কামিন্সকে নিয়ে দলকে নিয়ে যান আড়াইশ রানের কাছে। ৫০তম ওভারে পরপর তিন বলে খাওয়াজা, মিচেল স্টার্ক ও জেসন বেরেনডর্ফকে বিদায় করেন বোল্ট। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। ৫১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার। তিনবার জীবন পাওয়া খাওয়াজা ১২৯ বলে পাঁচ চারে করেন ৮৮ রান। ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন কামিন্স। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন এনেও কাজ হয়নি। কলিন মানরোর জায়গায় সুযোগ পেয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ব্যর্থ হেনরি নিকোলস। গাপটিল ফিরেন থিতু হয়ে। দুই ওপেনারকেই বিদায় করেন বেরেনডর্ফ। তৃতীয় উইকেটে রস টেইলরকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন উইলিয়ামসন। অধিনায়ককে কট বিহাইন্ড করে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন স্টার্ক। এরপর আর কোনো জুটি গড়তে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। ৬০ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে দলটি গুটিয়ে যায় দেড়শ ছাড়িয়েই। স্টার্কের সঙ্গে উইকেট শিকারে যোগ দেন কামিন্স, স্মিথ, ন্যাথান লায়ন। তবে ২৬ রানে পাঁচ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আসল ক্ষতিটা করেন স্টার্কই। দারুণ ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই পেসার আসরে এখন পর্যন্ত নিলেন ২৪ উইকেট। শট খেলা কঠিন এমন উইকেটে ঝকঝকে ৭১ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন কেয়ারি। ৮ ম্যাচে সাত জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার চূড়ায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সমান ম্যাচে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পাওয়া নিউ জিল্যান্ড ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে। ভারতের বিপক্ষে তাদের একটি ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৪৩/৯ (ওয়ার্নার ১৬, ফিঞ্চ ৮, খাওয়াজা ৮৮, স্মিথ ৫, স্টয়নিস ২১, ম্যাক্সওয়েল ০, কেয়ারি ৭১, কামিন্স ২৩*, স্টার্ক ০, বেরেনডর্ফ ০, লায়ন ০*; বোল্ট ১০-১-৫১-৪, ডি গ্র্যান্ডহোম ৮-১-২৯-০, ফার্গুসন ১০-০-৪৯-২, সোধি ৬-০-৩৫-০, নিশাম ৬-০-২৮-২, স্যান্টনার ৩-০-২২-০, উইলিয়ামসন ৭-০-২৫-১)। নিউ জিল্যান্ড: ৪৩.৪ ওভারে ১৫৭ (গাপটিল ২০, নিকোলস ৮, উইলিয়ামসন ৪০, টেইলর ৩০, ল্যাথাম ১৪, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, নিশাম ৯, স্যান্টনার ১২, সোধি ৫, ফার্গুসন ০, বোল্ট ২*; বেরেনডর্ফ ৯-০-৩১-২, স্টার্ক ৯.৪-১-২৬-৫, কামিন্স ৬-১-১৪-১, লায়ন ১০-০-৩৬-১, স্মিথ ২-০-৬-১, ফিঞ্চ ১-০-৭-০, স্টয়নিস ২-০-১২-০, ম্যাক্সওয়েল ৪-০-১৮-০)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮৬ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যালেক্স কেয়ারি।

শাহিন আফ্রিদির বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পাকিস্তানের তরুণ পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটের এক ইনিংসের ৪৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন শাহিন আফ্রিদি। শনিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের লিডসে মাত্র ৪৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন শাহিন আফ্রিদি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী (১৯ বছর ৮৪দিন) ক্রিকেটার হিসেবে শাহিন আফ্রিদি ৪ চার উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন। এর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটার জন বিলিং (২০ বছর ১৪০দিন) বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে কমবয়সী ক্রিকেটার হিসেবে ৪ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েছিলেন। দুই দশক পর জন বিলিংয়ের সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন করে ইতিহাস লিখেছেন পাকিস্তানের তরুণ পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। কম বয়সী বোলারদের মধ্যে এক ইনিংসে চার উইকেট শিকারিদের তালিকায় তৃতীয় পজিশনে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ইংল্যান্ডের এই তারকা পেসার (২০ বছর ২০১ দিন) নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে চার উইকেট শিকার করেছিলেন। এই তালিকায় ভারতীয় সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং আছেন চার নম্বর পজিশনে। তিনি ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিপক্ষে (২১ বছর ৭৩দিন) চার উইকেট শিকার করেছেন। তবে পাঁচ নম্বর পজিশনে আছেন বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার শফিউল ইসলাম। তিনি ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে (২১ বছর ১৪২দিন) কমবয়সী ক্রিকেটার হিসেবে চার উইকেট শিকার করেছেন।

ভালো খেলছে মেসি, দাবি দি মারিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চার ম্যাচে এক গোল-লিওনেল মেসির নামের সঙ্গে পরিসংখ্যানটা ঠিক যায় না। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজেও মেনে নিয়েছেন কোপা আমেরিকায় সেরাটা দিতে পারছেন না। তবে আনহেল দি মারিয়ার মনে হচ্ছে তার জাতীয় দলের সতীর্থ ভালো খেলছেন। প্যারাগুয়ের সঙ্গে গ্র“প পর্বে ১-১ ড্র করা ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন মেসি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল সামনে রেখে দি মারিয়া জানালেন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার কাছ থেকে প্রত্যাশিত গোল না পেলেও খুশি তিনি। “আমি মনে করি, লিও খুবই ভালো করছে। সচারচর সে যত গোল করে, ততটা পারছে না কিন্তু আমি মনে করি, সে ভালো কাজ করছে।” “সে ছোটাছুটি করছে এবং তার সবটুকু দিচ্ছে। তাকে দৌড়ানোটা চালিয়ে যেতে হবে এবং পরে বাকিটা আসবে। আমি মনে করি, সে খুবই ভালো করছে।” আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় বেলো হরিজন্তেতে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ২০০৭ সালের পর প্রথম কোপা আমেরিকায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। সেবার ৩-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।  সেমি-ফাইনাল কঠিন পরীক্ষা হবে বলে মেনে নিচ্ছেন দি মারিয়া।  “ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচটি কঠিন। কিন্তু আমি মনে করি, প্রতিটি দলই আপনার জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে।”  “ব্রাজিল আমাদের সঙ্গে সমানে সমান খেলবে এবং স্বাগতিক সমর্থকদের সমর্থন পাবে। নিজেদের মতো করে আমাদের খেলার চেষ্টা করতে হবে; ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে যেটা করেছিলাম, সেটা করতে হবে। আশা করি, বিষয়গুলো আমাদের জন্য ভালোভাবে যাবে।”

মারামারিতে জড়িয়ে পড়া সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আইসিসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপে পাকিস্তান-আফগানিস্তান ম্যাচে মারামারিতে জড়িয়ে পড়া দুই দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভেন্যুর বাইরে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দেশের সমর্থকরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন। ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, কমপক্ষে দুইজন সমর্থককে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। মাঠকে ঘিরে থাকা বেষ্টনীর উপর দিয়ে সমর্থকদের লাফ দিতেও দেখা গেছে। পাকিস্তান ৩ উইকেটে ম্যাচ জেতার পরও সংঘর্ষ চলতে থাকে। কিছু সমর্থক ম্যাচের পর মাঠে ঢুকে পড়েন এবং কয়েকজনকে গ্যালারিতে একে অপরের সঙ্গে মারামারি করতে দেখা যায়। আইসিসির মুখপাত্র জানান, “সমর্থকদের মধ্যে  ক্ষুদ্র একটা অংশের হঠাৎ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। সেখানে নতুন আর কোনো ঘটনা যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে এখন আমরা ভেন্যুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছি।” “এ ধরনের আচরণ আমরা বরদাস্ত করব না, যে কোনো ধরনের সমাজ-বিরোধী আচরণ যা সমর্থকদের সিংহভাগের আনন্দকে নষ্ট করে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।”