ঝিনাইদহে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎ পিষ্টে মায়ের মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বৈডাঙ্গা গ্রামে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎ পিষ্টে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায়। বৈডাঙ্গা গ্রামের সোলাইমান মিয়ার ছেলে সামিউল্লাহ (২) সকালে ঘরের পাশে খেলতে গেলে বিদ্যুৎ লাইনের তার ঘরের টিনের সাথে লিক থাকায় শিশুর শরীরে বিদ্যুৎ স্পর্শ করে এবং সাথে সাথে বিদ্যুৎ এ পরিনিত হয় সামিউল্লাহর শরীর। সন্তানের আওয়াজে মা ফরিদা খাতুন (২৫) ঘরের বাইরে যেয়ে দেখে সামিউল্লাহকে তারের সাথে আটকে আছে। সে সময় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ঘরে টানা দেওয়া জি আই তারে আটকে যায় মা ফরিদা এবং বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। শিশু সামিউল্লাহর দাদা ইসমাইল মিয়া অশ্র“ ভেজা কন্ঠে জানান ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পুত্রবধুকে হারাতে হল। শিশুটি বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গাংনীতে গণ-শুনানী অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ ‘গড়তে শিশুর ভবিষ্যৎ স্কুল হবে নিরাপদ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে শিশু বান্ধব বিদ্যালয় গঠন ও শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণ-শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা এনসিটিএফ  গণশুনানীর আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল। শুনানী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম, গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আহমেদ আলী, গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াছমিন, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, পিএসকেএসের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম কাজল ও গাংনী পৌর সিবিও কমিটির সভাপতি তারিফুল ইসলাম জীবন প্রমুখ।   গাংনী উপজেলা এনসিটিএফের যুগ্ম সম্পাদক নওশীন নিঝরের আহ্বানে পরিচালিত গণ-শুনানীতে মর্ডারেটেেরর দায়িত্ব পালন করে এনসিটিএফের সদস্য শিমুল হোসেন ও আয়েশা খাতুন। উপজেলার শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ও বিনোদন নিয়ে গণশুনানীতে নানা সমস্যা, সুপারিশ ও সম্ভাবনা এবং  সমাধান তুলে ধরে  আলোকপাত করে এনসিটিএফের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, পিএসকেএসের টেকনিক্যাল অফিসার  গোলাম কিবরিয়া,ইউনিয়ন সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান ও ফিল্ড ফ্যাসিলেটেটর আনজুমানারা খানম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক আদালতে মামলা প্রায় ৬০ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের পারিবারিক আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫৯ হাজার ৮৬০টি। আর সারা দেশে নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭টি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। সরকারি দলের সাংসদ হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, পারিবারিক আদালতে ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা ঢাকা জেলায় ৫ হাজার ৫০৯টি। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে এ ধরনের মামলা নেই। সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২১ হাজার ৮১৩টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৪ হাজার ২৩টি। ফৌজদারি মামলা ৭ হাজার ৬৫৫টি ও অন্যান্য (কনটেস্ট পিটিশন) মামলা ১৩৫টি। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৯৬ হাজার ১১৪টি; ফৌজদারি মামলা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৩টি ও অন্যান্য মামলা ৯৩ হাজার ১০৭টি। আর অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার মধ্যে  দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০টি ও ফৌজদারি মামলা ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৭০টি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, নতুন আদালত সৃষ্টি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ মামলা নিষ্পত্তিতে তদারকি বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে । ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে সরকারি দলের সাংসদ এম আদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সরকারের নানামুখী সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ইলিশ উৎপাদন ক্রমে বাড়ছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে তা বেড়ে ৫ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। জাটকার প্রাচুর্য ২০০৭-২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালে ২২ দিন ‘মা’ ইলিশ রক্ষায় ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ ‘মা’ ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২ টন। ২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে প্রতিবছরই ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। অর্থাৎ এ সময়ে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে ইলিশের মোট উৎপাদন বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

৪ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ খাওয়াবে ডিএসসিসি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ভিটামিন ‘প্লাস’ ক্যাম্পেইনের আওতায় নিজেদের এলাকায় প্রায় ৪ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল মঙ্গলবার ডিএসসিসি নগর ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন সভায় এমন তথ্য জানানো হয়। এবার ২ লাখ আই ইউ ইউনিটের লাল ক্যাপসুলের বদলে এক লাখ আই ইউ ইউনিটের নীল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে শিশুদের। ৬ মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের একটি নীল ক্যাপসুল এবং এক বছর এক দিন থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের দুটি করে নীল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ওরিয়েন্টেশন সভায় ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে ক্যাম্পেইন নিয়ে মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন জাতীয় পুষ্টি সেবা বিভাগের পরিচালক ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশুদের ওষুধ নিয়ে আমরা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে পারি না। এবার যে ক্যাপসুলগুলো আনা হয়েছে তার একটিরও গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এগুলো ডেনমার্ক থেকে আনা এবং কোপেনহেগেনের ল্যাবে পরীক্ষিত। ডিএসসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকায় অর্থ্যাৎ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় এক হাজার ৪৮৭টি কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ ক্যাপসুল’ খাওয়ানো হবে। দুই হাজার ৯৭৪ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১১২ জন সুপারভাইজার এতে নিয়োজিত থাকবেন। ৬ মাস থেকে ১২ মাস বয়সের ৫৫ হাজার ৯৫৫ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৪ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা আছে আমাদের। তিনি আরও বলেন, আমরা সুস্থ একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চাই। আজকের শিশুরাই যেন আগামীতে দেশের হাল ধরতে পারে সেজন্য বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ সবল রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।

ভোটের জন্য আমাদের বহু লোক জীবন উৎসর্গ করেছে – মতিয়া চৌধুরী

ঢাকা অফিস ॥ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে শেরপুরের নকলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে।  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের ৬৭টি ভোট কেন্দ্রে ওই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা চেলে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে ৬৭ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৭৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৭৫০ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এ উপজেলায় ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৫৩৫ জন। এদিকে সকাল ১০টায় বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের বানেশ্বর্দী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের জন্য জীবন দিয়েছি আমরা, ভোট দেব না তো কি করব? ভোটের জন্য আমাদের বহু লোক জীবন উৎসর্গ করেছে, ৩০ লক্ষ শহীদের জীবন গেছে। কাজেই সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করব না, সেই রাজনীতি করি না। মুনাফেক না আমরা। এদিন সকাল পৌণে ১০টায় তিনি একটি যাত্রীবাহী বাসযোগে শেরপুরের নকলায় পৌঁছে ভোট প্রদান করেই ফের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। এদিকে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম। মাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ৬৩৮ জন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ এ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। নকলা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, এ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২ হাজার ৬০ জন। এখন ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বাড়তে পারে। এ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ মোঃ বোরহান উদ্দিন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা জানান, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রতি কেন্দ্রে জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। উল্লেখ্য, এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ নৌকা এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোঃ বোরহান উদ্দিন লড়ছেন মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার চশমা এবং অপর প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেল তালা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আর মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা উম্মে কুলসুম রেনু প্রজাপতি, ফরিদা ইয়াসমিন কলসি ও লাকি আক্তার ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

তরুণরা চাকরি খুঁজবে না, দিতে পারবে – পলক

ঢাকা অফিস ॥ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশের তরুণরা চাকরি খুঁজবে না, বরং চাকরি দিতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারের স্টার্টআপ প্রকল্পের সভাকক্ষে উইমেন এন্ড ই-কমার্স এর উদ্যোগে ‘উইমেন ই-কমার্স নিশ্চিত করতে পারে সারা দেশের নারীর আর্থিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ দেশে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানি গঠন, ইনোভেশন ডিজাইন এন্ড এন্টারপ্রেনারশীপ একাডেমী প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পলক বলেন, আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নারী পুরুষের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে লার্নিং আর্নিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। ‘ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে সরকারসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশ আরো এগিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। উইমেন ই-কমার্সের সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম ও সুমাইয়া টেক এর স্বত্বাধিকারী রিপা আর জাহান।

দেশে প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার, বিপুল মজুদের অস্তিত্ব   

ঢাকা অফিস ॥ দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)। দীর্ঘ ২ মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জিএসবি’র কর্মকর্তারা। তারা জানান, সেখানে ভূগর্ভের ১ হাজার ৭৫০ ফুট নিচে ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে। যা দেশের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং বাংলাদেশে প্রথম আবিষ্কার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খননকাজে নিয়োজিত জিএসবি’র উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম  জানান, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে, সেসব খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। আর বাংলাদেশের লোহার ৬৫ শতাংশের উপরে। জয়পুরহাট বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। ইসবপুরে লোহার খনি আবিষ্কার বাংলাদেশে এটিই প্রথম। যার ব্যাপ্তি রয়েছে ৬-১০ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত। এখানে কপার, নিকেল ও ক্রুমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। ১১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলে। তিনি আরও জানান, ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ২০১৩ সালে এ গ্রামের ৩ কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্রধরে দীর্ঘ ৬ বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। এরপর ১৩৮০-১৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে আশার আলো দেখতে পাওয়া যায়। এ খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবি’র মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন। এ সময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে ১৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনির আবিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের এ স্তরটি পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এ সন্ধান পাওয়া যায়। উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইসবপুর গ্রাম। এ গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ৪ মাসের জন্য ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। জিএসবি’র উপ-পরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার) মাসুদ রানা  জানান, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। ৩০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ একটি দল ৩ শিফটে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আলীহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি গোলাম মওলা ও ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দারা  জানান, আমরা জানতে পারলাম এখানে লোহার খনি পাওয়া গেছে। এখান থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে এখানকার মানুষদের জীবনমান পাল্টে যাবে। কর্মসংস্থান হবে এখানকার মানুষদের। দেশের জন্যও লাভজনক হবে। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার সর্বস্তরের মানুষ। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের কাছে খনি বাস্তবায়নে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য – গয়েশ্বর রায়

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বিনা অপরাধে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিই এখন বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য। দেশে বিদেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে বেগম খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এ দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিজের অধিকার যদি অর্জন করতে হয় তাহলে ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে ন্যায়ের সংগ্রামে পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাঙালি থাকুক না কেন তারা সবসময় দেশের মানুষের পাশে থাকে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। সোমবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের মেহমান খানা রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় বিকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ স্পেন শাখা আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন। টেলিকনফারেন্সে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন কারাবন্দি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুন্নবী খান সোহেলের কন্যা জান্নাতুল ইলমী সূচনা। আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ স্পেন শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ঝন্টুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা জাকিরুল ইসলাম জাকির পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্পেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কায়ূম পংকী, স্পেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান খান জিয়া, সাবেক ছাত্রদল অর্গানাইজেশনের ইউরোপের আহ্বায়ক আবু জাফর রাসেল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শহিদুল আজিজ, মো. সেলিম, আবুল কালাম, নিজাম মুন্সী, আবদুল মুত্তালিব বাবুল, মাঈনুদ্দীন, আল মামুন, আবু বক্কর, পলাশ ব্যাপারী, অশ্রু , আক্তার হোসেন, অলিউর রহমান,সোহেল মজুমদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুন্নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

দেড় দশকে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে আড়াই গুণ

ঢাকা অফিস ॥ গত দেড় দশকে দেশে ইলিশের উৎপাদন আড়াই গুণের বেশি (বা ১৫৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ) বেড়েছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টনে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এ তথ্য জানান। আগামি ৫ বছরে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিন টন ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। জাটকা ধরা নিষিদ্ধকরণ, প্রজননের সময় ইলিশ ধরা বন্ধসহ সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। ফরিদপুর-১০ আসনের মনজুর হোসেনের আরেক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে সামুদ্রিক শুঁটকির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮২ মেট্রিক টন, যা দেশের উৎপাদিত মোট শুঁটকির প্রায় ৭৫ শতাংশ।

ঝিনাইদহে যুবককে গলাকেটে হত্যা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়াবহু গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে মঙ্গলবার সকালে সোহেল রানা (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সোহেল রানা কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুন্ডু গ্রামের বকতিয়ার আলীর ছেলে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, বানিয়াবহু গ্রামের মাঠের একটি পাট ক্ষেতে এক যুবকের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে পরিবারের  লোকজন এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। পুলিশের ধারনা অন্য  কোথাও থেকে ধরে এনে তাকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। কি কারনে এ হত্যা কান্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নিহতের মা রেখা বেগম জানান, তার ছেলে কালীগঞ্জের চাপালি গ্রামে একটা মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্বে পালন করে আসছিলেন। তিনি আরো জানান, তিন ছেলের মধ্যে সোহেল রানা তার দ্বিতীয় সন্তান।

গাংনীতে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে উপজেলা অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিভিন্ন প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য,  সাংবাদিক, ঈমাম, শিক্ষক প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পুষ্টি সেবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল  সাড়ে ১১ টার সময় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- গাংনী থানার নবাগত ওসি ওবাইদুর রহমান, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়্াসমিন, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম  প্রমুখ।  উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান আব্দুর রশীদের সঞ্চালনায়  অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, ফারুক আহমেদ, তোফায়েল হোসেন, ডা. স্বাধীন প্রমুখ। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আগামী ২২  জুন শনিবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস  ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের (সাবেক ২৭টি) ওয়ার্ডে  ক্যাম্পেইনের আওতায় ২১৯ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এবারে ৬-১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ১২ জন শিশুদের নীল রংয়ের ক্যাপসুল  এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী পর্যন্ত ২৯ হাজার ৮৪৫ জন শিশুদের লাল রঙয়ের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বামন্দীকে উপজেলা করার দাবীতে মানববন্ধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ব্যবসায়ী খ্যাত শহর বামন্দীকে উপজেলা করার দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বামন্দী বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধনের আয়োজন করে বামন্দী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। মানববন্ধনে নেতৃত্ব প্রদান করেন গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম জুয়েল, বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, সমাজ সেবক আমিরুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা পরিষদ সদস্য মুনছুর আলী,বামন্দী-নিশিপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাদি প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় সঞ্চালনা করেন ব্যবসায়ী চপল বিশ্বাস।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৪২৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৪২৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে জামালপুর বিওপি’র টহল দল উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর উত্তরমাঠ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ২৭৭বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। একইরাত ৪টার দিকে প্রাগপুর বিওপি’র টহল দল প্রাগপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে ৫৪ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও ২ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে সোমবার রাত ৯টার দিকে জয়পুর বিওপি’র টহল দল ময়রামপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৯৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশ’ন কার্যনির্বাহী কমিটি’র প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র কমিটি গঠনের পর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তমিজ উদ্দিন মার্কেটের ২য় তলায় কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের নব-নির্বাচিত সভাপতি বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি হাসান আলীর সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা। সভায় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে কমিটির নব-নির্বাচিত সদস্যরা বলেন জেলার পেশাগত টিভি সাংবাদিক এক ছায়াতলে আবদ্ধ হয়েছে। সব সময় তারা পাশাপাশি থেকে  জেলার সকল বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করে দর্শক প্রিয়তা অর্জন করে যাবেন। সাংবাদিকের পেশাগত যে কোন সংকটে এ কমিটির সদস্যরা এগিয়ে আসবে। অপসাংবাদিকতা রুখে জেলার সকল সাংবাদিক এক কাতারে কাজ করার আহবান জানান। সভায় সকল সদস্যের অনুমতিক্রমে বিভিন্ন বিষয় গৃহিত হয়। উল্লেখযোগ্য সংগঠনের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা, যৌথ ব্যাংক এ্যাকাউন্ট, সদস্যদের মাসিক চাঁদা নির্ধারণ ছাড়াও সংগঠনের মাসিক মিটিং সম্পর্কে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নির্বাহী কমিটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি এসএম রাশেদ, সহ-সভাপতি বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম দোলন, যুগ্ম সম্পাদক ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক এশিয়ান টিভির হাসিবুর রহমান রিজু, কোষাধ্যক্ষ যমুনা টিভির প্রতিনিধি মাহতাব উদ্দিন লালন, দপ্তর সম্পাদক সিএনএন বাংলা টিভির প্রতিনিধি ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু। বিটিভির জেলা প্রতিনিধি আবদুর রশীদ চৌধুরী, এসএ টিভির প্রতিনিধি নুর আলম দুলাল, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, মাই টিভির প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, একুশে টিভির প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, বাংলা টিভির প্রতিনিধি এম.লিটন-উজ-জামান, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম, চ্যানেল নাইনের প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি খ, তুহিন আহম্মেদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহীন আলী, মোহনা টিভির প্রতিনিধি এসএম আকরাম ও দেশ টিভির প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন।

দৌলতপুরে শিক্ষিকার ছড়ির আঘাতে স্কুল ছাত্র আহত : চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক স্কুল শিক্ষিকা তার স্কুলের ইমন নামের এক ছাত্রের চোখে ছড়ি দিয়ে আঘাত করে আহত করায় বর্তমানে ওই স্কুল ছাত্র চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এনিয়ে এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র আহত ইমনের মামা ইয়াদুল মমিন জানান, সোমবার দুপুরে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা মমতাজ বেগম সহপাঠী বন্ধুদের সাথে দুষ্টমি করার অপরাধে ছড়ি দিয়ে স্কুল ছাত্র ইমনের চোখে আঘাত করেন। এসময় সে চোখ চেপে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। পরে চোখ ফোলা অবস্থায় বাড়ি ফিরলে পরিবারের লোকজন তা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুঃখ প্রকাশ বিষয়ট নিরসন করেণ। চোখে ঝাপসা দেখা ও চোখের পাতা ফুলে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্কুলছাত্র ইমনকে নিয়ে তার বাবা আরামত হোসেন কুষ্টিয়া আগা ইউসুফ চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দিয়েছেন। স্কুলছাত্রের চোখে ছড়ি দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনা আংশিক সত্য। স্কুলের সবচেয়ে নিরিহ সহকারী শিক্ষিকা মমতাজ বেগম নমব শ্রেণীর ছাত্র ইমনকে মারার উদ্দেশ্যে তাকে মারেনি। তারা শ্রেণীকক্ষে দুষ্টমি করছিল, এসময় শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের হাতে থাকা ছড়ি উচিয়ে সকলকে চুপ হতে বলে মারতে উদ্যত হলে অনাকাঙ্খিতভাবে ইমনের চোখে লাগে। আর এটা তেমন গুরুতর নয়। ঘটনার পরপরই স্কুল ছাত্রের পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। চোখে আঘাতপ্রাপ্ত স্কুলছাত্র ইমনের পরে খোঁজখবর নিয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, পরে আর খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আদাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এদিকে স্কুলছাত্রের চোখে বেত্রাঘাত করে আহত করার ঘটনায় এলাকার অভিভাবকগণ ও সর্বসাধারণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজম খান, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ কুমার পাল, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, আদাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন, মথুরাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার হাসিম উদ্দিন হাসু, পিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক কবিরাজ, আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব, হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর, রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া খাতুন, প্রাগপুর বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার সুবোদ পাল, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল ও রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডলসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত সুধীজন। সভায় অধিকাংশ বক্তা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হলেও বিভিন্ন কৌশলে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদসহ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন নিশ্চুপ রয়েছে বলে হোগলবাড়িয়া ও পিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন।  শেষে সভার সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার দৌলতপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, চুরি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সকলে সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুনের সভাপতিত্বে মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্যাটকো মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ জুলাই

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতির মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামি ১৫ জুলাই। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে বিচারপতি আবু সৈয়দ দিলদার হোসেন এই আদেশ দেন। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক মন্ত্রী বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার, এম সাইফুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী (মানবতাবিরোধী মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর), চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম মারা গেছেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর গ্যাটকো মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন ও রুল দেন। ওই সময় থেকে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আর ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জাতীয় ফল মেলায় প্রায় ৮০ লাখ টাকার ফল বিক্রি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ফল মেলায় এবার প্রায় ৮০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। যা গতবারের তুলনায় ৩০ লাখ টাকা বেশি। রাজধানীর খামারবাড়িতে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা ২০১৯ এর সমাপনী দিনে আয়োজকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার আ.কা. মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে পুরষ্কার প্রদানের মাধমে কৃষি মন্ত্রণালয় এ আয়োজন সম্পন্ন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) সনৎ কুমার সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ড. এএসএম আনোয়ারুল হক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মীর নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শাহ মোহা: আকরামুল হক। উল্লেখ্য, রবিবার ‘পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টি সম্মত খাবার’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয় এ মেলা। ফল মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল, ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, প্রগতিশীল কৃষক, প্রতিষ্ঠান পর্যায় ও সর্বোচ্চ ফলদ বৃক্ষ রোপনকারী জেলাকে পুরষ্কৃত করা হয়। মেলায় সরকারি ৭টি ও বেসরকারি ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৮৪টি স্টলে বিভিন্ন জাতের ফল প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, কলাসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন বাহারি ফল প্রদর্শনের জন্য সরকারি স্টল হিসেবে প্রথম হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দ্বিতীয় হয়েছে যৌথভাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্র ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম হয়েছে খাগড়াছড়ির গ্রীন টার্চ এগ্রো, যৌথভাবে দ্বিতীয় হবিগঞ্জের মো. বদু মিয়া ও ঢাকার ভাই ভাই ফল বিতান এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে বরিশালের মেসার্স মা ফুড লিমিটেড ও ঢাকার স্বপ্না ফলের খাবার। ঢাকা শহরে বাড়ির ছাদে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ সফলতার জন্য পুরস্কার পান কামরাঙ্গীচরের সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও মাফিয়া বেগম এবং রায়ের বাজারের মো. আজিজ আহম্মেদ। ব্যক্তি উদ্যোগে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রথম পুরস্কার পান খাগড়াছড়ির হ্লাশিং মং চৌধুরী, পাবনার মোছা. নুরুন্নাহার বেগম দ্বিতীয় ও শেরপুরের মো. হযরত আলী তৃতীয় পুরষ্কার অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে রংপুরের নাশিক প্লান্ট এ- পট, নওগাঁর মানব সেবা সংগঠন ও জামালপুরের হাসনাহেনা নার্সারীকে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। জেলা পর্যায়ে ফলদ বৃক্ষ রোপণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃত স্বরুপ খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও বরগুনা জেলাকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাতীয় ফল প্রদর্শনী উপলক্ষে কৃষি তথ্য সার্ভিস আয়োজিত রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রীকে লাগলে সচিবদের দরকার কী – হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ আড়ংয়ের আউটলেটে অভিযান চালানোর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলির ঘটনায় সচিবদের সততা ও কর্মকা- নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্ট বলেছে, প্রধানমন্ত্রীকে সব কিছুতে হস্তক্ষেপ করতে হলে তাদের কাজ কী। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানির সময় গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। আবেদন নিয়ে শুনানির এক পর্যায়ে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন আদালতের উদ্দেশে বলেন, “আড়ংয়ে সাতশ টাকার পাঞ্জাবি কত টাকা রেখেছে দেখেছেন? এটা যে বন্ধ করতে গেছে তাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।” তখন আদালত বলে, “সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রীর কেন ডাইরেকশন দিতে হবে? সেক্রেটারিরা কি তাদের পকেটে ঢুকে গেছে? বন্ধের সময় বদলির আদেশ দিয়েছে। লজ্জাও নাই। কি বলবো প্রধানমন্ত্রী সব কিছুতে ইন্টারফেয়ার করলে এদের থাকার দরকার কী। কত নোংরামি! এ রকম করলেতো যারা সৎ অফিসার তারা ডিমোরালাইজড হয়ে যাবে; নিরুৎসাহিত হয়ে যাবে। যারা বন্ধের দিনে এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার ছিল।” ৩ জুন ঢাকার উত্তরার আড়ংয়ে অভিযান চালিয়ে পণ্যের দাম বেশি রাখার দায়ে জরিমানার ধরার পাশাপাশি আউটলেটটিকে একদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে পণ্যের দাম বেশি লেখার ভুল স্বীকার করার পর দোকানটি খুলে দেওয়া হয়। ওই দিনই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুরকে খুলনায় বদলির আদেশ দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আদেশ হওয়ার পর ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতভর সমালোচনা হয়। সেসময় ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরদিন সকালে তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ দাবি করেছেন, মনজুর শাহরিয়ারকে বদলির আদেশের পেছনে আড়ংয়ে অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। তার বদলির সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। পরে মনজুর শাহরিয়ারের বদলির আদেশের সমালোচনা করে এবং অভিযানের গুরুত্ব তুলে জাতীয় সংসদে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

১২ জুন সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রোজার সময়, তখনও আমি দেশের বাইরে ছিলাম। বেশ কিছু বড় বড় জায়গায় একজন অফিসার হাত দিল বলে তার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা হঠাৎ করে নেওয়া হল- এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। বরং আমি আজকেও বলে দিয়েছি যে, তাকে আবার ওই দায়িত্বেই দিতে হবে। খুব নামি-দামি জায়গা, তাদের যে কোনো খারাপ কিছু হবে না বা থাকবে না যারা ওটার মালিক তারাওতো এই গ্যারান্টি দিতে পারবে না।” শেখ হাসিনা বলেন, “সেখানে কেন পরীক্ষা করতে পারবে না, কেন সচেতন করতে পারবে না? এই অধিকারটা কেন থাকবে না? সাধারণ ছোটখাট সেগুলো ধরতে পারবে। আর বড় অর্থশালী, সম্পদশালী হলেই তাদের হাত দেওয়া যাবে না। তাদের অপরাধ অপরাধ না এটাতো হয় না।”

দুই মামলায় খালেদাকে ৬ মাসের জামিন

ঢাকা অফিস ॥ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাস করে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, “দুটি মামলাই জামিনযোগ্য। কিন্তু নিম্ন আদালত জামিন না দেওয়ায় আমরা হাই কোর্টে এসেছিলাম। হাই কোর্ট দুই মামলায় ছয় মাস করে জামিন দিয়েছেন।” তবে কারাবন্দী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় জামিন না পাওয়ায় এখনই তার মুক্তি হচ্ছে না বলে বিএনপির এই নেতা জানান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।” খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে- এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ২১ অক্টোবর জেননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে যে মানহানির মামলা হয়, তার বাদীও এ বি সিদ্দিকী। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ খালেদাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

ডিআইজি মিজানের শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ এক দুদক কর্মকর্তাকে ‘ঘুষ দেওয়ার কথা’ ফাঁস করে নতুন করে আলোচনায় আসা পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘আইন অনুযায়ী শাস্তির’ ব্যবস্থা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।  তিনি বলেছেন, “আপনারা তো সবই দেখছেন, ডিআইজি মিজান- সে অলরেডি সাসপেন্ড হয়েছে, ওএসডি হয়ে পড়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।” গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও সংস্থা সমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানকে। এর চার মাস পর তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক; এক হাত ঘুরে সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান গত ৮ জুন দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এর সপক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ একটি টেলিভিশনকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা ডিআইজি মিজান গত ১০ জুন বলেন, সব জেনেশুনেই তিনি কাজটি করেছেন ‘বাধ্য হয়ে’। “তিনি (বাছির) যে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, তা প্রমাণ করতে, তাকে ফাঁসানোর জন্য করেছি এবং নিজের সেইফটির জন্য করেছি।” অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সে সময় ডিআইজি মিজানের দিকে ইংগিত করে বলেন, ঘুষ দেওয়াও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, ডিআইজি মিজানের ব্যক্তিগত কোনো কাজের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। পুলিশ হিসাবে বাড়তি কোনো সুযোগও তিনি পাবেন না। দোষী প্রমাণিত হলে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে টিআইবি। তাকে গ্রেপ্তার না করায় উষ্মা প্রকাশ করে খোদ সর্বোচ্চ আদালত থেকে প্রশ্ন করা হয়- তাহলে কি ডিআইজি মিজান দুদকের চেয়ে বড়? ডিআইজি মিজানকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- সেই প্রশ্নটি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে রাখেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধান হচ্ছে।” পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি ডিআইজি মিজানুর রহমানের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোমবার ‘উচ্চ পর্যায়ের’ একটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মইনুর রহমান চৌধুরীর (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশনস) নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই কমিটি ‘ঘুষের অর্থের উৎস’ জানতে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এআইজি সোহেল রানা বলেন, “প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটিকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত তাদের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।