উত্তাল বিক্ষোভের মুখে ক্ষমা চাইলেন হংকংয়ের নেতা

ঢাকা অফিস ॥ হংকংয়ে লাখো মানুষের উত্তাল বিক্ষোভের মুখে ক্ষমা চাইলেন নেতা ক্যারি লাম। এর আগে লাম বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল স্থগিতের ঘোষণা দিলেও বিক্ষোভকারীরা তা পুরোপুরি বাতিল করা এবং তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। রোববার লাখ লাখ বিক্ষোভকারী কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমে নেতা ক্যারি লামের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং বিতর্কিত বিলও পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানায়। এ পরিস্থিতিতেই এক বিবৃতিতে হংকং-এর জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ক্যারি লাম। সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিলটি নিয়ে সরকারের কার্যক্রম সমাজে বিতর্ক এবং বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এতে জনমনে হতাশা এবং ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “লাম  হংকংয়ের জনগণের কাছে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। সমাজে সমালোচনাকে সৎসাহস ও বিনয়ী মনোভাব নিয়ে গ্রহণ করে নেওয়া এবং আরো ভালভাবে জনগণের সেবা করার প্রতিশ্র“তিও দিয়েছেন।” বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূলভূখন্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে হংকং সরকারের প্রত্যর্পণ বিল পাসের পরিকল্পনা নিয়ে গত সপ্তাহ থেকে হংকংয়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ও সহিংসতা দেখা দিয়েছে। গণ আন্দোলনের মুখে হংকং সরকার ওই পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দিলেও  প্রতিবাদকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা হংকংয়ের ওপর বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় উদ্বেগ জানিয়েছে।

রোববার বিক্ষোভকারীদের কারো কারো হাতে ‘গুলি করো না, আমরা হংকংয়ের নাগরিক’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে। এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য নগরীতে গত বুধবার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলিট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। রোববার অনেকে পুরো পরিবার নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এদিন সেন্ট্রাল হংকংয়ের সড়কগুলো যেনো কালো রঙের সমুদ্রে পরিণত হয়। তারা প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের বিরুদ্ধে তাদের হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দেয়। তারা ‘পদত্যাগ করো’ ‘পদত্যাগ করো’ বলে স্লোগান দেয়। কেউ কেউ বিক্ষোভকারীদের উপর দমন অভিযান চালানো পুলিশদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি করছে। গত বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ বিক্ষোভকারী আহত হন। যুক্তরাজ্য ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হংকংকে হস্তান্তর করলেও, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শহরটির স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্র“তি আদায় করে নেয়। সাবেক এ ব্রিটিশ কলোনির কারণেই চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে। বহিঃসমর্পণ নিয়ে প্রস্তাবিত যে বিলটির কারণে হংকং রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে তাতে  আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে  ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হংকংয়ের যে কোনো বাসিন্দাকে তাইওয়ান, ম্যাকাউ কিংবা চীনের মূলভূখন্ডে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বেইজিংপন্থি হংকং সরকারের যুক্তি, বহিঃসমর্পণের সুযোগ না থাকায় হংকং চীনের অন্যান্য অংশের অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার লংঘন রুখতে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে হংকংয়ের আদালতকেই মামলা ধরে ধরে বহিঃসমর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত  দেওয়ার এখতিয়ারও বিলে দেওয়া হয়েছে, ভাষ্য তাদের।

অন্যদিকে, একে ব্যবহার করে চীন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিকদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে পারে বলে আশঙ্কা সমালোচকদের। আর বিরোধীদের আশঙ্কা, বিলটি কার্যকর হলে হংকংয়ের বেইজিংবিরোধী হিসেবে পরিচিতরা কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রণাধীন চীনের বিচার ব্যবস্থার জালে আটকা পড়বেন। বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গত রোববার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য, শিক্ষকসহ লাখো বাসিন্দা হংকংজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে। দুইদিনের মাথায় গত মঙ্গলবার আইন পরিষদের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়। যে কারণে পরদিন বুধবার বিলটি নিয়ে আইন পরিষদে দ্বিতীয় দফা বিতর্কের কথা থাকলেও সরকার তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বিক্ষোভের কারণে হংকং কার্যত অচল হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার আইন পরিষদ বন্ধ রাখে এবং সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে আরো বেশকিছু সরকারি দপ্তরও বন্ধ রাখা হয়। শুরুতে নেতা ক্যারি লাম বিলটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখালেও পরে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলে পিছু হটেন। তিনি তার সরকারের প্রতি জনগণের ‘বিরতি দাও ও চিন্তা কর’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রস্তাবিত বিলটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। “কাজের ঘাটতি ও বিতর্ক সৃষ্টি করা অন্যান্য বিষয়ের জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত,” বলেন তিনি। বিলটির ব্যাখ্যা ও জনগণকে বোঝাতে তার সরকারের উদ্যোগ ‘যথেষ্ট’ ছিল না বলেও লাম স্বীকার করে নেন।

বয়সসীমা নির্ধারণ না করে কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন

ঢাকা অফিস ॥ বয়সসীমা নির্ধারণ না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে গতকাল সোমবারও রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে পূর্বঘোষিত প্রতীকী অনশনে বসেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অনশন শুরুর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সদ্যবিলুপ্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, আমরা ১৩-১৪ বছর ছাত্র রাজনীতি করছি। আমাদের জীবনটা এই সংগঠনের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছি। দীর্ঘ সময় ধারাবাহিক কমিটি না দেওয়ায় একটা বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে। সেই গ্যাপটা হঠাৎ পূরণ করতে গিয়ে যদি ধারাবাহিক কমিটি ঘোষণা করা না হয়, তবে ছাত্রদল দুর্বল হয়ে পড়বে। ছাত্রদলের সাবেক এই সহসভাপতি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা বিরোধী দলে। তাই আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে এবং ছাত্রদলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি চাই। বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। আজ আমাদের যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থাকার কথা, সেখানে আমরা আমাদের দলীয় অধিকার আদায়ের জন্য পার্টি অফিসের সামনে অনশন করছি। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টদায়ক। ছাত্রদলকে দুর্বল করতে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে তামাশা করছে। ছাত্রদলকে নিয়ে যে অবৈধ প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে, তা আমরা মানি না। অবিলম্বে আমরা এই প্রেস রিলিজ প্রত্যাহার ও ধারাবাহিক কমিটির দাবি জানাচ্ছি, যোগ করেন গোলাম আজম সৈকত। বয়সের সীমা না রাখা, স্বল্পমেয়াদি কমিটি গঠনসহ তিন দফা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে গত ১২ জুন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিনব্যাপী বিক্ষোভ করেন সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির একাংশের নেতারা। পরে ওই দিন রাতে দাবি পূরণে সাবেক ছাত্রনেতাদের (ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বিএনপি গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যরা) আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন বিক্ষুব্ধরা। পরবর্তী সময়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সার্চ কমিটির সদস্য ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণে তাঁরাও আশ্বাস দেন আন্দোলনকারীদের। গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। আর কাউন্সিলে প্রার্থী হতে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়াসহ তিনটি শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে অভিযোগ গঠন ৩০ জুন

ঢাকা অফিস ॥ নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৩০ জুন দিন রেখেছে আদালত। এই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন আবেদন নাকচ করে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন সোমবার এই আদেশ দেন। সাইবার ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার বিকালে ঢাকার হাই কোর্ট এলাকা থেকে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ লাপাত্তা থাকার পর আগাম জামিন চাইতে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন তিনি।  আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সোনাগাজী থানায় পাঠানো হয়েছিল বলে সেখান থেকে পুলিশের একটি দল ঢাকায় এসে সোমবার সকালে পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের দায়িত্ব বুঝে নেন। দুপুরে একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় নেওয়া হয়।  মোয়াজ্জেমকে বেলা সোয়া ২টার পর আদালত কক্ষে নেওয়া হলে প্রথমে তাকে কাঠগড়ার বাইরে হেলান দিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায়। থানা থেকে আনার পর কখনোই তার হাতে হাতকড়া দেখা যায়নি।  সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন আইনজীবী এবং আদালতের পেশকার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ আসামিকে কাঠগড়ার ভেতরে নেওয়া হয়। মোয়াজ্জেমের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী সালমা সুলতানা। আর জামিন আবেদনের শুনানি করেন মো. ফারুক আহাম্মাদ। এ মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনও এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুননির সময় ওসি মোয়াজ্জেমকে আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। শুনানি শেষে বিচারক মোজাম্মেলের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে অবিযোগ তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া প্রতিবেদনকে অভিযোগপত্র হিসেবে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৩০ জুন দিন ঠিক করে দেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদন্ড হতে পারে। ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে জবানবন্দি নিয়েছিলেন। তার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হলে সারাদেশে আলোচনা শুরুর হয়। তখন ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন আইনজীবী সুমন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোয়াজ্জেম বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও করেছেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানালে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠান হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে। কিন্তু আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলে তা তামিল করা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ঠেলাঠেলি চলে। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমে পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। ফলে পুলিশ বাহিনী তাদের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে আদৌ আন্তরিক কি না- সেই প্রশ্ন তোলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। ঈদের আগে মোয়াজ্জেম হোসেনের একটি আগাম জামিনের আবেদন হাই কোর্টে জমা পড়লেও সেই শুনানি তখন হয়নি। ফলে আদালতেও তাকে দেখা যায়নি। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষে রোববার আদালত খুললে হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে নতুন করে আবেদন করেন এই পুলিশ পরিদর্শক। সেখান থেকে ফেরার সময়ই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

বগুড়ায় ধানের শীষের ভোট বেশি হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ইভিএমের সিদ্ধান্ত – রিজভী

ঢাকা  অফিস ॥ ‘মধ্যরাতের নির্বাচনের’ পরেও সরকারের ভেতর থেকে শঙ্কা দূর হচ্ছে না দাবি করে বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেহেতু বগুড়া-৬ আসনে ধানের শীষের ভোট বেশি সেহেতু প্রতিটি কেন্দ্রেই পরিকল্পিতভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলেও এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশি জালিয়াতি করা সম্ভব। এর আগেও (একাদশ নির্বাচন) ভোটের বদলে প্র্রিজাইডিং কর্মকর্তা ইভিএমে ভোট চুরি করেছে। অবিলম্বে এই ইভিএম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একাদশ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় বগুড়ার এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৪ জুন বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। এই আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। আওয়ামী লীগের টি জামান নিকেতা, বিএনপির জিএম সিরাজসহ কয়েকজন উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছে অনেকদিন ধরেই। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। সে সময় ভোটাররা ইভিএমে সন্তুষ্টির কথা জানালেও কয়েকটি কেন্দ্রে মেশিনে গড়বড়ের কারণে কিছুটা সমস্যাও হয়েছিল। পরে সিইসি নূরুল হুদা ইভিএমের ভুলক্রটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেছিলেন। রিজভী বলেন, অতীতে দেখা গেছে যে, ইভিএম জটিলতার জন্য ভোটাররা ভোট দিতে এসে লাইনে দিনভর দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে গেছে। ইভিএমের কোনো পেপার ট্রেইল না থাকায় ভোট দেওয়া-না দেওয়ার প্রমাণ থাকে না। বাংলাদেশে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল ইভিএম মেশিন দ্বারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দূরবর্তী স্থানে থেকেও ভোট ডাকাতি করা সম্ভব। দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনকে গ্রেফতার, তার বিরুদ্ধে ‘বানোয়াট’ মামলা দায়ের এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউদ্দিন সেন্টুকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী। ঈদের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রিজভী। নয়া পল্টনের কার্যালয়ে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অসুস্থতা থেকে ফিরে গতকাল সোমবারই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী সরকারকে সমালোচনামুক্ত রাখতে নানা ধরনের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিএনপির আরও অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রিজভীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের মর্জি ও প্রয়োজনে নানা মিথ্যা কাহিনি রচনা করে বিএনপির আরও অনেক নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীর নামে কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করছে। এ উদ্দেশ্যে নানা ধরনের মিথ্যা মামলায় তাদের জড়িয়ে গ্রেফতার করবে বলে আশঙ্কা তার। রিজভী বলেন, জুলুমশাহীর হিংস্র আঁচড়ে জর্জর এখন বিরোধী মত, পথ ও দলের নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, গত শনিবার বিএনপির নির্বাহী কমিটির নেতা হাসান মামুনকে বাসা থেকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। গত রোববার তাকে পটুয়াখালীতে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। আসলে সরকারের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ ও সমালোচনা করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। রিজভী আরও বলেন, কাল (গত রোববার) স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউদ্দিন সেন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি করছি।

ঐক্যফ্রন্টের কোন ইতিবাচক রাজনীতি নেই – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের কোন ইতিবাচক রাজনীতি নেই, ইতিবাচক সিদ্ধান্তও নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকায় পানি উন্নয়ন বিভাগের নদী শাসন কাজ ও পিপুলবাড়িয়ায় শেখ হাসিনা নার্সিং কলেজ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, যারা অতীতে বাজেট দেয়ার নামে মানুষকে আরো গরীব করেছে, মানুষকে আরো নিঃস্ব করেছে, সেই দলের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে সেটা ঠিক নয়। বিএনপি ও গণফোরাম বাজেট প্রতিক্রিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছে তা শুধু বিরোধীতার কারনেই বিরোধিতা। তাদের কোন ইতিবাচক রাজনীতি নেই। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার যে রূপকল্প দিয়েছে, এ বাজেট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ কাক্সিক্ষত লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, উন্নতশীল দেশের প্রয়োজনের জন্য যে বাজেট দেয়া হয়েছে সে বাজেট নিয়ে তারা অহেতুক সমালোচনা করছে। বর্তমান সরকার দেশের দুর্নীতি দমন ও উন্নয়নের জন্য যে কাজ করছে সেটাকেই সামনে রেখে এই বাজেট দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও শান্তির প্রতীক। সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জঙ্গি দমন হয়েছে, বিদ্যুত সমস্যার সমাধান হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুসহ মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে বাংলাদেশকে সম্মানীত করেছেন। পরিদর্শন কালে কাজিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অঘোষিত সোনা বৈধকরণে স্বর্ণ মেলা করছে এনবিআর

ঢাকা অফিস ॥ মজুদকৃত কাগজপত্রবিহীন বা অঘোষিত সোনা নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে বৈধ করায় উৎসাহ দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রথমবারের মত দেশব্যাপী ‘স্বর্ণ মেলা’র আয়োজন করতে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মেলায় এসে কাগজপত্রবিহীন সোনা ১ হাজার টাকা কর দিয়ে বৈধ করতে পারবেন। আগামী ২৩ জুন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মেলার উদ্বোধন করবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে মেলা চলবে দুই দিন। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া গতকাল সোমবার বলেন, ২৮ মে একটি পরিপত্র জারির মাধ্যমে দেশে মজুদকৃত কাগজপত্রবিহীন সোনা বৈধ করার সুযোগ দিয়েছি আমরা। সেখানে আয়করের পরিমাণও কমানো হয়েছে। শুধুমাত্র এক বারের জন্য ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ পাবেন। ব্যবসায়ীদের পরামর্শে আমরা মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছি। কারণ তারা আমাদের কাছে এসে অঘোষিত সোনার ঘোষণা দিতে চাই। তিনি বলেন, আয়কর মেলায় যেমন করদাতারা কর দিতে উৎসাহিত হোন, আশা করি তেমনি মেলায় এনবিআরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা কাগজপত্রবিহীন মজুদ সোনা বৈধকরণে উৎসাহিত হবেন। মোশাররফ হোসেন জানান, স্বর্ণ মেলা ছাড়াও আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত যেকোন আয়কর সার্কেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর পরিশোধ করে অঘোষিত স্বর্ণ বৈধ করা যাবে। মেলায় এসে মজুদকৃত অঘোষিত সোনা বৈধকরণে ব্যবসায়ীরা সাড়া দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মেলায় ব্যাংকের বুথসহ কর পরিশোধের আনুযঙ্গিক সুবিধাদি থাকবে। উল্লেখ্য, সোনা বৈধকরণে জারি করা এনবিআরের পরিপত্র অনুযায়ী-প্রতি ভরি সোনা ও সোনার অলংকারে ১ হাজার টাকা, হীরায় ৬ হাজার টাকা ও রূপায় ৫০ টাকা আয়কর দিতে হবে। ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত ও মজুদ করা সোনা, রূপা ও হিরা ঘোষণা দিয়ে কর দিতে হবে।

 

শেখ হাসিনা এখন আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ যোগ্যাতা, দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব আর বিচক্ষণতায় শেখ হাসিনা নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে গেছেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এখন ‘আওয়ামী লীগের চেয়েও বড়’।  দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে সোমবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য আসে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ‘প্রতিষ্ঠিত’ হয়ে গেছে; আর এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, ‘সারা পৃথিবীতে’। “শেখ হাসিনা নিজেই তার যোগ্যাতা দিয়ে, দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অতিক্রম করেছে। শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিত্ব দিয়ে, গৌরব দিয়ে, তার সাহস দিয়ে, তার বিচক্ষণতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন- ‘শি ইজ লারজার দ্যান আওয়ামী লীগ’।” নেতাকর্মীদের সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের পার্টি শেখ হাসিনার সমকক্ষ হতে পারেনি। কেন, কী দুর্বলতার কারণে? সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। দলের স্বার্থে কাজ করুন, দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। ইস্টার সানডের দিন শ্রীলংকায় গির্জা আর হোটেলে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মত ঘটনা যেন বাংলাদেশে না ঘটতে পারে, সে বিষয়েও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “সবাই যে কোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। এ দেশে হলি আর্টিজান ঘটেছে। হলি আর্টিজানের পরে এই ঢাকা শহরের অবস্থা কি ছিল? অনেক দিন মনে হয়েছিল, যেন মরা একটা ভুতুড়ে শহর। “শ্রীলংকায় যা ঘটেছে, বাংলাদেশে তা ঘটবে না- এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে।” আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ঐক্য আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এ হাতিয়ারই আমাদেরে যে কোনো আঘাত, আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।” কমিটি গঠনে কর্মীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের তিনি বলেন, “আমি আপনাদের একটা কথা বলব, ফাঁকি দেবেন না। জোড়া-তালি দিয়ে আওয়ামী লীগ করবেন না। দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের অবহেলা করে আওয়ামী লীগ টিকবে না। কোনো স্বার্থের বশে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করবেন না। “পকেট কমিটি কারও কাজে আসবে না। সুবিধাভোগীদের পার্টি আওয়ামী লীগ নয়, এটা মনে রাখতে হবে। দলের যখন আবার দুঃসময় আসবে, তখন দেখবেন সুবিধাভোগীরা, বসন্তের কোকিলরা হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বলিয়েও এদের খোঁজে পাওয়া যাবে না। এটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, যদি আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে চান।” মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাইদ খোকন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মির্জা আজম, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিসভায় ট্যারিফ কমিশন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৯ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর তেঁজগাওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত  বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রি পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠকের পরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময় প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার দিয়ে এই ট্যারিফ কমিশনের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯২ সালে ‘বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন আইন-১৯৯২’ নামে এর জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। পরে ব্যবসা বাণিজ্যের ধরণ বদল যাওয়ার প্রেক্ষিতে মোটা দাগে ৪টি বিষয়ের পরিবর্তন করে নতুন করে এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন আইনে পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে শফিউল আলম বলেন, প্রথমত, এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন করে একে ‘বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন’ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মূল ১৯৯২ সালের আইনের ৭ ধারা প্রতিস্থাপন করে কমিশনের কার্যপরিধি বাড়ানো হয়েছে। শুল্কনীতি পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট, জিএসপি ইত্যাদি শিল্প বাণিজ্যে বিনিয়োগ শুল্কনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য-এরকম অনেক বিষয় এখানে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কার্যপরিধিতে ব্যাপক পরবর্তন করা হয়েছে। তৃতীয়ত, পুরনো আইনের ৮ ধারার উপধারা (২) তে একটা ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারি ওপর উপধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, এই সংস্থাটি খুবই স্পর্শকাতর কাজেই তারা কোন প্রাপ্ত তথ্য যদি আগেই প্রকাশ করে দেয় তাহলে এটি ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় রকমের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য এদের ওপর একটি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে গোপনীয়তা রক্ষা করার। চতুর্থত, আইনের ১২ ধারাতে একটি পরিবর্তন এনে একটি ক্লজ যুক্ত করা হয়েছে-গবেষণা বা সমীক্ষা কাজে সহায়তার প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পরামর্শক এবং গবেষণা সহায়তাকারী নিয়োগ করতে পারবে। অর্থাৎ গবেষণার জন্য সংস্থাটি এখন কোন সহায়তাকারী ব্যবহার বা আউট সোর্সিং করতে পারেন না। সেখানে তারা গবেষক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কনসালটেন্ট নিয়োগ করতে পারবে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই প্রবিধানটি এখানে যুক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে শফিউল আলম জানান, গত রোববার বিমানের চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তাঁর হাতে এসেছে। বিনা পাসপোর্টে বিমানের একজন পাইলটের কাতার যাওয়ার প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গাফিলতি তদন্তে এই কমিটি করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের এখনো তদন্ত রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেখা হয়নি। তবে, যতটুকু আমার মনে পড়ে রিপোর্টে ইমিগ্রেশন পেরোতে যাওয়া যাত্রী এবং ক্রুদের জন্য ৫ থেকে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে, বাংলাদেশ জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ’র (ইকোসক) সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লি¬ষ্টদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ১৯১ টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ ১৮১টি ভোট লাভ করে। এছাড়া একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে বিশিষ্ট নাট্যকার, শিল্পী, লেখক, কলামিস্ট, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং ভাষা সংগ্রামী অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানায় মন্ত্রিসভা।

 

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি জাতিসংঘের

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত বিদ্বেষ নীতি’ অনুসরণের ফলে দেশটির রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে সহায়তা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা যায়। এই প্রথম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশ্নে জাতিসংঘ কঠিন কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা দিল। জাতিসংঘের এক চিঠির বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, সংস্থাটির আবাসনবিষয়ক সমন্বয়ক নাট অসবি মিয়ানমার সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অধিবাসী (আইডিপি) ক্যাম্পগুলোতে প্রতিশ্র“ত পরিবর্তন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো সেখানে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ছাড়াও সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেবে। সাত বছর আগে সহিংসতার কারণে রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বানানো ক্যাম্পগুলোতে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। গত ৬ জুন পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, এসব ক্যাম্পে আশ্রিতদের বিচরণের স্বাধীনতাসহ মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্র“তির স্পষ্ট অগ্রগতি হলেই কেবল আগামীতে জাতিসংঘের সহায়তা দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশটির গৃহীত নীতির ফলে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার ঝুঁকি বজায় রাখছে বলে চিঠিতে বলা হয়। ২০১৭ সালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিম থাকা ওইসব ক্যাম্প বন্ধ করার প্রতিশ্র“তি দেয়। ২০১২ সালের সহিংসতায় বাস্তুহারা মুসলিমদের বিচরণের স্বাধীনতা হরণ করে জোরপূর্বক ওই সব ক্যাম্পে দারিদ্র্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হয়। সে সময় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে পরিচালিত এক কমিশনের সুপারিশে মিয়ানমার পর্যায়ক্রমে ওই সব বাস্তুহারার জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাসহ তাদের নিজ গ্রাম বা তার কাছাকাছি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্র“তি দেয়। কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি এবং এখানকার বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার, জীবিকাব্যবস্থা, বিচরণের স্বাধীনতা সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়। মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ড. উইন ম্যায়েট আয়ে বরাবর জাতিসংঘের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পুরোনো ও নতুন করে নির্মিত ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দারা আগের মতোই অমর্যাদার শিকার হচ্ছে। তাদের জীবনযাপনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মিয়ানমারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্যাম্পগুলো বা তার আশপাশেই ক্যাম্পবাসীর জন্য স্থায়ী বসতি নির্মাণ করছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে এটাই স্পষ্ট যে, সরকারের জাতিগত বিদ্বেষ নীতি স্থায়ী হবে। এভাবে সরকার জাতিসংঘের অব্যাহত সহায়তা পাওয়ার প্রতিশ্র“তি লঙ্ঘন করছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বহু বছর ধরে জাতিগত সহিংসতার শিকার। ২০১২ সালের পর ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পরে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে মিয়ানমারে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে।

ভারত জুড়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ঢাকা অফিস ॥ পশ্চিম বঙ্গের ধর্মঘটী চিকিৎসকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ভারতজুড়ে একদিনের কর্মবিরতির পালন করছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) । গত সপ্তাহে কলকাতার নীলরতন সরকারি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে মারা যাওয়ার এক রোগী স্বজনদের হামলায় এক চিকিৎসক আহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইএমএ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। ভারতজুড়ে ডাকা এই কর্মবিরতির কারণে দেশব্যাপী চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইএমএ জানিয়েছে, কর্মবিরতি চলাকালে চিকিৎসকরা হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম ও ডায়গনোস্টিক সেন্টারে বহির্বিভাগের সেবা ও পূর্বনির্ধারিত অস্ত্রোপচার থেকে বিরত থাকবে। তবে এ সময় জরুরি বিভাগের সব সেবা অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে তারা। এর আগে পশ্চিম বঙ্গের আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনায় বসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও রোববার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসেন তারা। ছয় দিন ধরে টানা ধর্মঘটের পর ওই চিকিৎসকরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হন। আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাদের স্থানীয় সময় ৩টায় তার কার্যালয় নবান্নে যেতে বলেছেন। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের এক প্রতিনিধি বলেছেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসে যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার অবসান চাই। তবে ওই আলোচনা স্বচ্ছ হতে হবে, রুদ্ধদ্বার নয়। সব কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে হতে হবে।” তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও তাদের এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গণমাধ্যমের উপস্থিতি মানা না হলে বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, আন্দোলনকারীরা তা নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির রাজধানী নয়া দিল্লিতে আরেক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। রোববার দুপুরে ভারতের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল ইনিস্টিটিউট এআইআইএমএসের এক আবাসিক চিকিৎসককে এক রোগীর স্বজনরা মারধর করেছেন বলে গণমাধ্যমের খবর। এক বিবৃতিতে এআইআইএমএসের জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের এক সহকর্মীকে রোববার দুপুরে লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুর থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবে তারা। তবে এ সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগের সেবা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল গাঁজা ও মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে জামালপুর বিওপি’র টহল দল উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর পশ্চিমপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ১৫বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৪কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ২৫ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনের পরও দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবাঁধে আসছে মাদক

বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও পুলিশের খাতা শূন্য 

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ ১১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পনের পরও থেমে নেই দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার। ভারত থেকে অবাঁধে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ। বিজিবি’র অভিযানে ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা বেশ কিছু মাদক উদ্ধার হলেও পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার প্রায় শূন্য রয়েছে। গত ৬ মে কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে জেলার ২২২জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করেছে। এদের মধ্যে দৌলতপুর সীমান্তেরই রয়েছে ১১৭জন। মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনের পর মাদক ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবাঁধে মাদক পাচার করছে। তবে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র হাতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য মাদক ব্যবসায়ী বা পাচারকারী আটক হয়নি। তবে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের মানিকেরচরে চরচিলমারী বিজিবি বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪২) কে আটক করলে ভোররাতে সে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যায়। পরে তাকে আর আটক করতে পারেনি বিজিবি।

মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনের পর বিজিবি’র অভিযানে গতকাল সোমবার (১৭ জুন) পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে শুধুমাত্র দৌলতপুর সীমান্তে ৩৫৭ বোতল ফেনসিডিল, ৪৫.২কেজি গাঁজা ও ৬২২ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধার হয়েছে। এরমধ্যে ২জুন সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার স্বরুপপুর মোড় থেকে দৌলতপুর থানা পুলিশ রায়হানুল ইসলাম (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করার তথ্য রয়েছে। আর এসব মাদক উদ্ধার হওয়ায় প্রমান করে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে অবাঁধে মাদক আসছে। এদিকে দৌলতপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মো. আজম খান গত মাসের শেষের দিকে যোগদান করে নিজেকে সৎ অফিসার হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা করছেন। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী মতবিনিময় সভা করে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু মাদক উদ্ধার বা মাদক ব্যবসায়ী আটক অভিযান তেমন উল্লেখযোগ্য নয় বলে সচেতন মহলের অভিমত।

ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে

ঢাকা অফিস ॥ ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে পড়ে আর্জেন্টিনা ও প্রতিবেশী উরুগুয়ের কোটি কোটি বাসিন্দাকে বেশ কয়েক ঘণ্টা ভুগতে হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৭টার দিকে আর্জেন্টিনার গ্রিড ‘বিপর্যয়ে’ প্রায় পুরো দেশ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ের বড় একটি অংশও ও চিলির কিছু অংশ এই বিপর্যয়ের শিকার হয়। একই বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে ও চিলির কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে এমনটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আর্জেন্টিনার গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও ব্রাজিল এই বিপর্যয়ের গুরুতর প্রভাব এড়াতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে ‘নজিরবিহীন’ অভিহিত করে এর কারণে এখনও পরিষ্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাকরি। ঘটনার পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ ম্যধমে এক পোস্টে তিনি বলেন, “ঘটনাটি নজিরবিহীন। গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হবে।” রোববার সন্ধ্যার পর আর্জেন্টিনার ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয় বলে দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার জ্বালানিমন্ত্রী গুস্তাবো লোপেতেগি জানিয়েছেন, দেশের ‘আন্তঃসংযোগ সিস্টেমের’ ব্যর্থতার কারণেই বিদ্যুৎবিহীন অবস্থা শুরু হয়েছিল। এর মূল কারণ অজানা রয়ে গেছে এবং ১০-১৫ দিনের মধ্যেও পূর্ণ তদন্ত  শেষ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। “সিস্টেমের একটি ব্যর্থতার কারণে এটি হয়েছিল। আর্জেন্টিনা ও অন্যান্য দেশে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে,” বলেছেন তিনি। তিনি জানান, সিস্টেমের ব্যর্থতা কারণে শুরু হওয়া সমস্যার পর একের পর এক ঘটনা ঘটে সামগ্রিক বিপর্যয়ের কারণ হয়। আর্জেন্টিনার টিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশ বাদে অন্য সাতটি প্রদেশের সবগুলোই এই বিপর্যয়ের কবলে পড়েছিল। জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় টিয়েরা দেল ফুয়েগো এ বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের বাসিন্দারা বিশ্ব ‘বাবা’ দিবসের দিনটিতে ঘুম থেকে উঠে পুরো শহরকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দেখতে পান। বিদ্যুৎ না থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ট্র্যাফিক সিগন্যালগুলোতে বাতি না জ্বলায় পুরো শহরজুড়ে গাড়ি চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং দিনের অধিকাংশ সময় ধরে ফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ অচল হয়ে থাকে বলে দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেগুলোতে বলা হয়েছে।

আলমডাঙ্গায় মা হত্যা করল তার ৩ বছরের শিশু কন্যাকে

শাহ আলম মন্টু ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক মা তার ৩ বছরের শিশু কন্যাকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। গতকাল সোমবার ভোরে ঘরের দোতলার সিড়িঘরের পাশে অবস্থিত রান্না ঘরে নিয়ে সকলের অজ্ঞাতসারে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায়। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সনাতনপুর গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মামুন অর রশিদের স্ত্রী শামীমা খাতুন (৩৫)। তাদের ৩ সন্তান। ছোট সন্তান স্নেহা। বয়স মাত্র ৩ বছর। গতকাল ভোরে শামীমা খাতুন তার ঘুমন্ত শিশুকন্যা  স্নেহাকে ডেকে তুলে দোতলায় সিড়িঘরের পাশে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে বটি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। প্রতিবেশি ও শামীমার স্বামীর দাবি যে শামীমা খাতুন মানসিক রোগি। ইতোপূর্বেও তিনি এমন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন। সংবাদ পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জান মুন্সী, সেকেন্ড অফিসার এসআই জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে প্রেরন করে এবং ঘাতক মা শামিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে।

‘বালিশ দুর্নীতি’র প্রকৌশলী ছিলেন ছাত্রদলের নেতা – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কেনাকাটায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে যে প্রকৌশলীকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাত্রজীবনে তার বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সংসদে এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। এক সময় তিনি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপিও নাকি ছিলেন।” দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠার পর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটিও কাজ করছে। সেখানে একটি বালিশের পেছনে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা ব্যয় দেখানোর খবর গণমাধ্যমে আসায় এটা ‘বালিশ দুর্নীতি’ হিসেবে পরিচয় পেয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের পক্ষে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বালিশের প্রসঙ্গটি তোলেন। জবাব প্রধানমন্ত্রী ওই সরকার কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি বলেন, “তাকে সেখান থেকে সরানোও হয়েছে। যখনই তথ্য পেয়েছি, সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। যে দলেরই হোক, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।” এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির গঠন ও তাদের নানা কর্মকান্ডও তুলে ধরেন। “এখানে (বিএনপিতে) এমন এমন লোক রয়ে গেছে, জন্ম থেকেই তাদের চরিত্র দুর্নীতির। তার কারণও আছে। এই দলটি বিএনপি যিনি করেছিলেন সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে, পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার সাথে যিনি জড়িত, হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহিন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন।” শেখ হাসিনা বলেন, “অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিল জিয়া। ক্ষমতায় দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে উঠে তাদের চরিত্রটা জানা উচিৎ। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগ্রস্ততার মধ্যে থেকে উঠে আসা।” তিনি বলেন, “বালিশতত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সেখানে গড়ে উঠছে। সেখানে আর কিছু না পেয়ে পেল বালিশ। এটা কোন বালিশ?  কী বালিশ? সেটাও একটা প্রশ্ন। এটা কি তুলার বালিশ? কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা; নাকি সিনথেটিক তুলা? নাকি জুটের তুলা? “আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেলল কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার জোগানদারটা কে? সেটা আর বলতে চাই না।” গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির হোসেনের সুশাসন বিষয়ক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উনি যে দল থেকে এসেছেন, তার দলে কি ডিসিপ্লিনটা আছে? যার নিজের দলে সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। শৃঙ্খলা নেই। যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলা হয় খামোশ। তার থেকে কী আসা করা যায়? সুশাসন আছে বলেই দেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।”

সম্পূরক বাজেটের উপর সমাপনী আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংকে টাকা থাকলেও তা লুট হচ্ছে না

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকে টাকা থাকলেও তা লুট হচ্ছে না। ব্যাংকের টাকা যারা লুট করেছে তারা দেশান্তর অথবা দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি। অসুস্থ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের উপর সমাপনী আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, “বলা হচ্ছে, ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে, লুটে খাওয়ার টাকা নেই।” বিএনপি শাসনামলের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “ব্যাংক খাত যারা লুট করে নিয়ে গেছে, তারা দেশান্তর হয়ে পড়ে আছে অথবা দুর্নীতির দায়ে মামলায় কারাগারে বন্দি।  ব্যাংক থেকে নিয়ে তারা (টাকা) দেয়নি। এ রকম বহু ঘটনা আছে। সময় এলে এ ব্যাপারে আরও আলোচনা করতে পারব।” বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “বাজেট নিয়ে ভেতরে-বাইরে অনেক কথা হচ্ছে। কেউ কেউ এমনও বলছে, বাজেট নাকি কিছুই না। যারা এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন তাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন- বাজেট যদি সঠিক না হবে, তাহলে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এত উন্নতি করলো কী করে?” প্রধানমন্ত্রী বলেন,“ কেউ কেউ বলছেন, বাজেট দিয়েছেন বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তা যদি বলেন, তাহলে ২০০৮ সালে মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম আজকে সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার উপরে চলে গেছি। বাস্তবায়নের দক্ষতা না থাকলে এটা করলাম কীভাবে?” সম্পুরক বাজেটের উপর আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, “সরকারের উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়। আর এই প্রাক্কলন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণেই আমরা কিছুটা বেশি করি। রাজস্ব আদায়ে খানিকটা উচ্চাভিলাষী হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। “আমাদের সমৃদ্ধির পথে বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্ভবকে সম্ভব করা, অজেয়কে জয় করা, দুর্ভেদ্যকে ভেদ করারই গল্প। আমাদের উচ্চ বিলাস না থাকলে এসব অর্জন সম্ভব হত না। সম্পূরক বাজেটের আকারের ব্যাখ্যাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাস্তবতার কারণেই বাজেটে কিছুটা সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রতি বছরই এটা করা হয়। তিনি বলেন, “বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ অনুমান করেছিলাম। সংশোধিত বাজেটে তা আমরা ৮.১৩ শতাংশ হবে বলে আজ অনুমান করছি। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৬ শতাংশ নির্ধারণ হয়েছিল, এটি আমরা সাফল্যজনকভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হব বলে আশা করছি। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমান করা হলেও সংশোধিত মূল্যস্ফীতি ধারণা করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকার জন্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।” শেখ হাসিনা বলেন, “অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের অনেক দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। এটা দেখে সারা বিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানে যাই সেখানেই সেই কদরটা পাই। দেশবাসী সেই সম্মানটা পায়। কাজেই অযথা কিছু কথা বলে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আমরা কাজই না করলে দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে নেমে আসত না। আমরা এই ২১ ভাগ থেকে আরও নামিয়ে আনবো।”

ইবির অধীনে ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের অধীনে ফাযিল স্নাতক ও কামিল স্নাতকোত্তর ২য় বর্ষ (অনিয়মিত) পরীক্ষা-২০১৬ এবং ফাযিল স্নাতক ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০১৭ এর ফল প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। এসময় ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নিকট ফল হস্তান্তর করেন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ লাভলু। এবার ফাযিল ২য় বর্ষে (অনিয়মিত) ৮৪.১৯ শতাংশ এবং ফাযিল ৩য় বর্ষে ৯৮.১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এছাড়া কামিল (অনিয়মিত) পরীক্ষায় পাশ করেছে ৮৯.২০ শতাংশ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, ধর্মতত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আকবর হোসেন, অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, অধ্যাপক ড. মেহের আলী, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আলী হাসানসহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।  ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ লাভলু বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট (িি.িরঁ.ধপ.নফ) এ পাওয়া যাবে। প্রকাশিত ফল পুর্নবিবেচনা করতে হলে অগামী ৩০ দিনের মধ্যে আগ্রহীদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে হবে। প্রকাশিত ফল পরিবর্ধন, সংশোধন এবং বাতিলের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে সংরক্ষিত আছে।’

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ আজ

ঢাকা অফিস ॥ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কিনা, তা জানা যাবে আজ মঙ্গলবার। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার আদেশের জন্য রাখে। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। কায়সার কামাল পরে বলেন, “মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের দুই মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামীকাল আদেশের জন্য রেখেছেন আদালত।” ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।” খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে- এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ২১ অক্টোবর জেননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে যে মানহানির মামলা হয়, তার বাদীও এ বি সিদ্দিকী। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ খালেদাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গত ২২ মে জামিন আবেদন দুটি আদালতে উপস্থাপন করা হলে সোমবার শুনানির জন্য রাখা হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আবার নির্বাচন দাবি ফখরুলের

ঢাকা অফিস ॥ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আবার নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংসদ অবৈধ। জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়নি। তারা জনগণের ভোট ডাকাতি করেছে। সরকার দেশের সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় এক কর্মিসভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের বাজেট লুটেরাদের পকেটে যাচ্ছে। এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতেছে কিন্তু গণতন্ত্র পরাজিত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখানে কোথাও কোনো জবাবদিহি নেই। সরকারের কাউকে কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারে না। তারা যা খুশি তাই করে যাচ্ছে, যোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। নেতাকর্মীরা হয়তো মনে করছেন যে, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে কী লাভ হবে। অবশ্যই লাভ হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। আজকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই সংগ্রাম করতে হবে। হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আসগর আলীর সভাপতিত্বে কর্মিসভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল চার দিনের সফরে গত রোববার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসেন। তিনি উপজেলাগুলোতে সাংগঠনিক সফর করছেন।

১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় সদস্যদের তুমুল বিরোধিতা সত্ত্বেও চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০১৯’ পাসের মাধ্যমে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়। এই বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে সংসদ ৩৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ১৬৬ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় করার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের অর্থ অনুমোদনের জন্য ৫৮টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে ৪টি দাবির ওপর আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এগুলো হচ্ছে- জননিরাপত্তা বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে প্রদান করা হয়। অবশ্য সব ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোই কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০১৯’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সংসদে বিল উত্থাপনের ঘটনা এটাই প্রথম। সম্পূরক বাজেটের আওতায় ৩৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক দুই হাজার ৪৪৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়কে বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপরই রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৬০৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এছাড়া এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় সরকার বিভাগ খাতে এক হাজার ৫৪২ কোটি ৮৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ এক হাজার ২৭৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এক হাজার ১৮২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সম্পূরক বাজেটে সবচেয়ে কম ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন পেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৭ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ৮ কোটি ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ৩৩ কোটি ৭২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২২৯ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, সরকারি কর্ম কমিশন ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় দুই কোটি ৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৪২৮ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৪১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫১ কোটি ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ ৫৪ কোটি ১২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, জননিরাপত্তা বিভাগ ৬৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ দুই কোটি ৮৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৯৭২ কোটি ৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪৪ কোটি ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১১৫ কোটি ৯৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২১ কোটি ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয় ২২০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৮৭৬ কোটি ১৬ লাখ ১১ হাজার টাকা, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৩০৫ কোটি ৪৩ লাখ তিন হাজার টাকা, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ৬৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার টাকা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৮৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫৯ কোটি ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ৬৭৭ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫১ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, দুনীতি দমন কমিশন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৫৫ কোটি ২৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৬৭৪ কোটি ৭১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোনো প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবলমাত্র তাদের বরাদ্দই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এরই প্রেক্ষিত্রে সংসদে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়। চলতি অর্থ বছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হলেও বছর শেষে কাট-ছাঁটের পর এই বাজেট দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকায়। এদিকে সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর মোট ৫৮টি দাবির ওপর ২১৭টি ছাটাই প্রস্তাব আনা হয়। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন- জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মো. ফখরুল ইমাম, লিয়াকত হোসেন খোকা, পীর ফজলুর রহমান, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও রওশন আরা মান্নান এবং বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ ও গণফোরামের মোকাব্বির খান। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমালোচনার পাশাপাশি সম্পূরক বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি জানান।

দৌলতপুরে দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে মতবিনিময়

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সাথে তাঁর কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়া, দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. শাফিউল্লাহ, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. আজমল হোসেন। এসময় আগামী ২৬ জুন দৌলতপুরে দুদকের গণশুনানি সফল করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এরপর দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. আজমল হোসেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী ও দৌলতপুর থানার নবাগত ওসি মো. আজম খান এর সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করে দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।