ভারতের বিহারে তীব্র দাবদাহে ৪০ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের বিহার রাজ্যে তীব্র দাবদাহে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাজ্যটির আওরঙ্গাবাদ, গয়া ও নাওয়াদা জেলায় অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। এদের মধ্যে আওরঙ্গাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ জেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আওরঙ্গাবাদের সরকারি একটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ সুরেন্দ্র প্রাসাদ সিং জানিয়েছেন। “জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে অনেক লোক চিকিৎসাধীন আছে। যারা মারা গেছেন তাদের সবাই উচ্চ-তাপমাত্রাজনিত জ্বরে ভূগছিলেন,” বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এর পাশাপাশি হিট স্ট্রোকে গয়ায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এসব মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ রুপি করে সহায়তার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছর ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র তাপপ্রবাহের মোকাবিলা করছে। এরইমধ্যে উত্তর ভারতের চারটি শহর, রাজধানী দিল্লি, রাজস্থানের চুরু এবং উত্তর প্রদেশের বানডা ও এলাহাবাদের তাপমাত্রা ৪৮ সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। চলতি মাসের ২ জুন চুরুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা দুই দিন ধরে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বা এর ওপরে বিরাজ করলে তীব্র দাবদাহ ঘোষণা করা হয়। পারদ ৪৭ ডিগ্রিতে পৌঁছলে তাকে ‘মারাত্মক তীব্র দাবদাহ’ বলা হয়। এরমধ্যে বিহারে তীব্র এনসেফেলাইটিসেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে চলতি মাসে রাজ্যটির মুজ্জাফরপুর জেলায় ৭০টিরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মোদিও বৈঠক বয়কট মমতার

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে শনিবার নীতি আয়োগের পঞ্চম সরকারি কাউন্সিলের বৈঠক বয়কট করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দর সিং। এনডিটিভি জানিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম পরিকল্পনা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে রাজ্যেগুলোর মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকার করে মমতা বলেন, ‘এ বৈঠক ফলহীন, কারণ রাজ্যকে সমর্থন জোগানোর মতো কোনো আর্থিক ক্ষমতা নেই নীতি আয়োগের।’

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ নেতৃত্ব নির্ধারণে বয়সসীমা বাতিল দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের পূর্বনির্ধারিত অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রোববার বেলা ১১ টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বলেন, সার্চ কমিটিসহ দলের জেষ্ঠ নেতারা তাদের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছিলেন। যে কারণে আমরা বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূটি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত আমাদের দাবির বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। তাই আমরা আজ সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি। এর আগে ছাত্রদলের নেতাদের দাবির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে এবং সংকটের সমাধান করতে সার্চ কমিটি করে বিএনপি। এ কমিটির আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। তবে পরে সেই কর্মসূচি স্থগিত করার কথা জানান ছাত্রদল নেতারা। এ বিষযে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির বুধবার জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি যৌক্তিক। এ ছাড়া আমাদের দাবি ছিল- ছয় মাসের মধ্যে একটি কমিটি, আগামী জানুয়ারিতে এক বছরের জন্য একটি কমিটি গঠনের। তার পর থেকে ছাত্রদের দিয়ে নিয়মিত কমিটি করা হোক, যা আমরা গত মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে সার্চ কমিটিকে জানিয়েছি। তাদের আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও নতুন কমিটির সদস্য হওয়ার বয়সসীমা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ ও অনশন করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে ক্ষুব্ধ নেতাদের ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর ২৪ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। সূত্র জানায়, ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বিগত আন্দোলনে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নতুন কমিটি গঠনে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্রার্থী করার বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। সে হিসাবেও তো বয়স ৩৩-৩৫ বছরই থাকল। তা হলেও তো ছাত্র দিয়ে কমিটি গঠন হচ্ছে না। ছাত্রদল নেতারা বলেন, ৬ মাসের আহ্বায়ক কমিটি করে অন্তত সিনিয়রদের সম্মানজনকভাবে বিদায় দেয়া যেত। পর্যায়ক্রমে ছাত্রদের হাতে ছাত্রদল ফেরানোর উদ্যোগ নিলেই হতো। ছাত্রদল করতে গিয়ে যারা গুম হয়েছে, জেল খেটেছে, চাকরির বয়স হারিয়েছে, তাদের তো মনের সান্ত¡নার বিষয় আছে। আজকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ছাত্রদলের গত দুই কমিটির ১০-১৫ জন ছাড়া কাউকে কোনো অঙ্গসংগঠনে পদ দেয়া হয়নি- এটিই বাস্তবতা। আন্দোলনরত নেতারা বলছেন, দাবি পূরণে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুনরায় আন্দোলনও শুরু করবেন তারা। শনিবার রাতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা।

গাংনীতে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক কর্মশালা 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে কর্মশালার আয়োজন করে পিস প্রেসার গ্র“প (পিপিজি)-এর গাংনী উপজেলা শাখা। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সমাজ সেবক ইসরাইল হোসেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী জিএস সাজু। কর্মশালায় গোপালনগর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

গাংনীতে চাঁদার দাবীতে ব্যর্থ হয়ে ৪ শ্রমিককে পিটিয়ে আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে চাঁদার টাকা না পেয়ে ৪জন শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডাররা। হামলায় আহতরা হলেন, গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামের শ্রমিক সর্দার কামরুল ইসলাম, একই গ্রামের মুনছুর আলীর স্ত্রী শ্রমিক সামেনা খাতুন (৬০), সিদ্দিক আলীর স্ত্রী মানছুরা (৫৫)ও একই গ্রামের রাবেয়া খাতুন। গতকাল রোববার সকালের দিকে রামনগর গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে শ্রমিক সর্দার কামরুল ইসলাম গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকীরা প্রাথমিক চিকৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিল উদ্দীন জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় রামনগর গ্রামের মুকুলের বাড়ি থেকে কবরস্থানের রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। রবিবার রামনগর গ্রামের খেদ আলীর ছেলে শরিফুল,কাবের আলীর ছেলে কমল, লালন, নৈমুদ্দীনের ছেলে আমিরুল ও কচিমুদ্দীনের ছেলে আজিজুল হক আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি তাদের চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই রাস্তায় কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর হামলা করে। গাংনী উপজেলা  নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল জানান,সরকারী কাজে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে অভিযুক্তরা জানান- রাস্তার পাশেই আমাদের বসতবাড়ি। বাড়ির সীমানার মাটি কেটে রাস্তায় দেয়াকে কেন্দ্র করে   শ্রমিকদের সাথে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে হাবিল মেম্বার মিথ্যা অপবাধ দিয়েছেন।

আলমডাঙ্গার নওদা দুর্গাপুর খালে কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

শাহ আলম মন্টু ॥ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকার জনগণ আলমডাঙ্গার নওদা দুর্গাপুর মধ্যমাঠের খালে কালভার্ট নির্মাণ কাজ অনিয়মের জন্য  বন্ধ করে দিয়েছে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের নওদা দূর্গাপুর গ্রামের মাঠের খালের উপর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ওই কালভার্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দর্শনার এম আর এন্টারপ্রাইজ। ঈদের আগে রমজান মাসে কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। মাত্র ১টি গাইড ওয়াল নির্মাণ শেষ হয়েছে। এদিকে, কালভার্ট নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১১ জুন গ্রামবাসি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। গ্রামবাসির অভিযোগ- কালভার্টটি সেখানে ১৪ ফিট হওয়ার কথা সেখানে করা হচ্ছে সাড়ে ১৩ ফিট। ১২ মিলি রডের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে ১০ মিলি রড। গাইড ওয়ালে ৬ ইঞ্চি পর পর রড ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৮/৯ ইঞ্চি পর পর, যেখানে ১০ ইঞ্চি পর পর রড দেয়ার কথা, সেখানে প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ রড দেয়া হয়েছে ১৩ ইঞ্চি পর পর। ধুলা মিশ্রিত খুব নিম্নমানের পাথর ব্যবহার ও উন্নতমানের ঢালাই বালির পরিবর্তে ধুলো মিশ্রিত নিম্নমানের ফিলিং বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া পাথরঃ সিমেন্টের পরিমান ৩:১ এর পরিবর্তে ৫:১ ব্যবহার করা হয়েছে। ওই গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ঈদের আগের দিনের দেওয়া ঢালাই ৪ দিন পরও ভেঙ্গে পড়েছে। তাহলে বোঝেন কত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। ওই গ্রামের জিয়ারুল হক বলেন, কাজের ভালমন্দ দেখতে আলমডাঙ্গার ত্রাণ অফিসের কেউ যান না, কোন ইঞ্জিনিয়ারও  দেখভাল করেন না। ঠিকাদারের মিস্ত্রি যা ইচ্ছে হয় করে যায়।

বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ এক দশকে বিদেশে পাচার – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ গত এক দশকে যত অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে তার পরিমাণ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও বেশি বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীতে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, “গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে গেছে। এটা বর্তমান বাজেটে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তার চাইতেও বেশি।” এই অর্থ কারা পাচার করছে প্রশ্ন রেখে মওদুদ বলেন, “যারা এই সরকারের মদদপুষ্ট হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে তারাই এই কালো টাকা করেছে, দেশে বিনিয়োগ না করে তারা বিদেশে এই টাকা চালান করেছে। আজকে আপনি কানাডা যান, মালয়েশিয়া যান, নিউইর্য়কে যান, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যান। আপনি দেখবেন যে, বড় বড় মল, বড় বড় বাড়ি, বড় বড় দোকান, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রÑ সব আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থপাচার করে সেখানে তারা গড়ে তুলছে, ব্যবসা করছে।” জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। এই সরকারের পতন হলে ‘বাংলাদেশের মাটিতে থাকা খুব কঠিন হবে’ বুঝে নিজেদের জন্য তারা একটা বিকল্প ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট গত বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘এই বাজেট সরকারের সুবিধাভোগীদের জন্য’ বলে মন্তব্য করে বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি বলি, এই বাজেট, এটা জনসাধারণের জন্য না। এই বাজেটের মাধ্যমে দরিদ্র আরো দরিদ্র হবে, ধনী আরো ধনী হবে। “কালো টাকা সাদা করার এই ব্যবস্থা গত ১০ বছর যাবত এই সরকার রেখেছে। কেন? তাদেরই লোকজন, তাদেরই মদদপুষ্ট লোকেরা, তাদেরই স্বার্থান্বেষী যেসব ব্যক্তিরা আছেন তারাই এই কালো টাকার মালিক। এই কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বা ব্যক্তিদের, যারা অনেক কালো টাকা করেছেন এবং ‘আন্ডার দ্য কার্পেট’ অর্থ উপার্জন করেছেন সেই অর্থকে সাদা করার আবার একটা সুযোগ দেওয়া।” বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের জন্যও সকলকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তিনি বলেন, “আমরা বলতে চাই, আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। তবে তার সত্যিকারের মুক্তি আসবে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথেই বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। সেজন্য আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে, আমাদেরকে কর্মসূচি দিতে হবে এবং আমাদেরকে এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে করে সরকার বাধ্য হয় তাকে মুক্তি দিতে।” জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা বক্তব্য দেন।

 

ভারতের কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস কখনোই ছিলো না সুখকর। এ বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে ভারতের সঙ্গে ছয়বারের দেখায় কখনোই জিততে পারেনি পাকিস্তান। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি এবারও। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে টানা সপ্তম ম্যাচে হারল ১৯৯২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি ভারত। আগে ব্যাট করে তারা দাঁড় করায় ৩৩৬ রানের বড় সংগ্রহ। পরে বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রানের। যার বিপরীত নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। ৮৯ রানের বড় জয়ে বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত অপরাজিতই রইলো ভারত। ম্যাচে জিততে হলে গড়তে হবে ইতিহাস, ভাঙতে হবে নানান রেকর্ড। এমন ম্যাচে শুরুটা মনঃপুত না হলেও, দ্বিতীয় উইকেটে সামলে নিয়েছিলেন ফাখর জামান ও বাবর আজম। কিন্তু হুট করেই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ভারতের ছুড়ে দেয়া ৩৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে  নেমে ফর্মে থাকা ওপেনার ইমাম উল হক আজ পারেননি ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে, সাজঘরে ফিরে যান দলীয় ১৩ রানের মাথায়। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ফাখর ও বাবর মিলে গড়েন ১০৪ রানের জুটি। দুজন মিলে রান তুলছিলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। মনে হচ্ছিলো বেশ ভালো লড়াই হবে ম্যাচে। কিন্তু ২৪ ওভারের শেষ বল থেকে ২৭তম ওভারের শেষ বলের মধ্যেই সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে ভারত। এই ২৪ বলের মধ্যে মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ পাকিস্তানিকে প্যাভিলিয়নের টিকিট ধরিয়েছেন কুলদ্বীপ যাদভ-হার্দিক পান্ডিয়ারা। যার শুরুটা হয় বাবর আজমকে দিয়ে, যিনি ছুটছিলেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৪৮ রানের মাথায় কুলদ্বীপের ভেতরে ঢোকা একটি বল বুঝতে না পেরে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের তিন নম্বর ব্যাটসম্যান। বাঁহাতি চায়নাম্যান কুলদ্বীপের পরবর্তী শিকার আরেক সেট ব্যাটসম্যান ফাখর জামান। তিনি ফুললেন্থের এক ডেলিভারিকে অবিবেচকের মতো সুইপ খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন ফাইনলেগে দাঁড়ানো ইয়ুজভেন্দ্র চাহালের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে ৬২ রান করেন ফাখর। দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে থাকা পাকিস্তান অকূল পাথারে ডুবে যায় হার্দিক পান্ডিয়ার করা ২৭তম ওভারে। সে ওভারের চতুর্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো বিজয় শঙ্করের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন মোহাম্মদ হাফিজ। আউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৯ রান করতে সক্ষম হন মিস্টার প্রফেসর খ্যাত এ অলরাউন্ডার। হাফিজ ফেরার পরের বলেই ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সরাসরি বোল্ড হন শোয়েব মালিক। রানের খাতাই খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও বাঁহাতি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম। দুজন মিলে  যোগ করেন ৩৬ রান। ইনিংসের ৩৫তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ বলে ১২ রান করে আউট হন সরফরাজ। এর খানিক পরই নামে বৃষ্টি। বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ বিঘ্নিত হলে, খানিক সুবিধায় থাকে আগে ব্যাট করা দল- এটাই স্বাভাবিক। তবে উইকেট বাঁচিয়ে রেখে খেলতে পারলে পরে ব্যাট করা দলের সামনেও থাকে সমান সুযোগ। কিন্তু তা করতে পারেনি পাকিস্তান। যে কারণে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে তাদের সামনে দাঁড়িয়েছে পাহাড়সম লক্ষ্য। দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিতে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর, পাকিস্তানের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪০ ওভারে ৩০২ রানের। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ ছিলো ৩৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান। ফলে শেষের ৩০ বলে তাদের বাকি থাকে আরও ১০২ রান। বৃষ্টি আইনের অদ্ভুত মারপ্যাচে পরে পাকিস্তান ইনিংসের ওভার কমেছে ১০টি। কিন্তু রান কমেছে মাত্র ৩৫। এমন কঠিন সমীকরণ মেলানো সম্ভব ছিলো না দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিমের পক্ষে। তবু তারা নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করে সপ্তম উইকেটে মাত্র ৩৫ বলে যোগ করেন ৪৭ রান, দলকে পার করান দুইশ রানের কোটা, ব্যবধান কমান পরাজয়ের। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ইমাদ ৩৯ বলে ৪৬ ও শাদাব ১৪ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। বৃষ্টি আইনে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত। এর আগে টস জিতে ভারতকেই প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে কিছুটা সাবধানি ব্যাটিং করতে থাকে ভারতের দুই ওপেনার। এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকে তাদের। এক সময় এসে রান তোলার গতি প্রায় ৬ রানেরেটে গিয়ে পৌঁছায় ভারতের। শুরুতে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভারটা বেশ ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করলো দুই ভারতীয় ওপেনার লোকেশ রাহুল এবং রোহিত শর্মা।  যে কারণে প্রথম ওভারেই মেডেন নিয়ে নিলেন আমির। তবে পর্যবেক্ষণের পর তারা বুঝলো, এই বোলারকে একটু রয়ে-সয়েই খেলতে হবে। বাকিদের  কোনো সুযোগ দেয়া যাবে না। এই পণ করেই সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমেছিলেন রোহিত আর লোকেশ। সে কারণেই হয়তো শুরু থেকে পাকিস্তানের বাকি বোলারদের কোনো পাত্তাই দেননি ভারতের দুই ওপেনার। তাদের দু’জনের ব্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ সূচনা করে ভারত। শিখর ধাওয়ান না থাকার কারণে রোহিত শর্মার সঙ্গে ভারতীয় ইনিংসের সূচনা করেন লোকেশ রাহুল। এই দুই ওপেনারই বলতে গেলে পাকিস্তানি বোলারদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন। ২৩.৫ ওভার টিকেছিল ওপেনিং জুটি। তাতেই স্কোরবোর্ডে রান উঠে গেছে ১৩৬। অবশেষে ভারতীয় ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরান পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। ২৪তম ওভারের শেষ বলে ফ্রন্ট ফুটে এসে কাভারে খেলতে যান লোকেশ রাহুল। কিন্তু যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে ব্যাটে-বলে হয়নি। কাভার অঞ্চলে দাঁড়ানো বাবর আজমের হাতে সহজ ক্যাচে পরিণত হন ৭৮ বলে ৫৭ রান করা রাহুল। ৩টি বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় এই রান করেন লোকেশ রাহুল। এরপর পাকিস্তানি বোলারদের সাফল্যের খাতায় আর কোনো কিছুই যোগ হচ্ছিল না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায়। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ১৩৬ রানের জুটি গড়ার পর বিরাট কোহলির সঙ্গেও ৯৮ রানের বিশাল জুটি গড়ে  ফেলেন রোহিত শর্মা।  অবশেষে উইকেটের সঙ্গে সুপার গ্লু লাগিয়ে বসে যাওয়া রোহিত শর্মাকে ফেরান পাকিস্তানি পেসার হাসান আলি। ৩৯ তম ওভারে হাসান আলির বলটি শর্ট ফাইন লেগে স্কুপ করতে গিয়েই সোজা ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেলেন রোহিত। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে তার নামের পাশে খেলা হয়ে গেছে ১১৩ বলে ১৪০ রান। ১৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস। ২৩৪ রানের মাথায় পড়লো দ্বিতীয় উইকেট। রোহিত আউট হয়ে যাওয়ার পর হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে জুটি গড়েন বিরাট কোহলি। দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫১ রানের জুটি। এ সময়  মোহাম্মদ আমিরের তোপের মুখে টিকতে পারলেন না হার্দিক। ১৯ বলে ২৬ রান করে তিনি ক্যাচ দেন বাবর আজমের হাতে। মহেন্দ্র সিং ধোনি মাঠে  নেমেই ফিরে গেলেন মাত্র ১ রান করে। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে বিরাট  কোহলি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ আমিরের বলেই উইকেটের  পেছনে তিনি ক্যাচ দেন সরফরাজের হাতে। ওই সময় ৬৫ বলে ৭৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। শেষ দিকে বিজয় শঙ্কর ১৫ এবং ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন কেদার যাদব। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির ৪৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি এবং ওয়াহাব রিয়াজ  নেন ১টি করে উইকেট।

গাংনীর কোদাইলকাটি গ্রামে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টা পাল্টি অভিযোগ দায়ের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥  মেহেরপুরের গাংনীর কোদাইলকাটি গ্রামে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মান করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের অভিযোগ দায়ের আপোস মিমাংসা না হতেই এক পক্ষের প্রাচীর নির্মাণ শুরু। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন আগামী জুলাই মাসের ৫ তারিখে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা করার দিন নির্ধারন করা হয়েছে। জানা গেছে, গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কোদাইলকাটি গ্রামের বায়েজউদ্দিনের ছেলে শফিউদ্দিন ও মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান লালন, রেজাউল হক শরিকানা জমির মালিক। এরা নিজ নিজ অংশে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি শফিউদ্দিন তার বাড়ির পুরানো সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে নতুন করে তা নির্মাণ করতে গেলে মিজানুর রহমান লালন তার অংশের জমি ফেলে প্রাচীর নির্মান করতে বলায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শফিউদ্দিন। বিষয়টি স্থানীয় কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্প পর্যন্ত গড়ায়। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে গত শুক্রবার কুমারীডাঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান আমিন ডেকে জমির মাপযোগ করার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু জমি মাপযোগের শেষে বন্টনকৃত জমির পরিমান কম বেশি হওয়ায় উভয় পক্ষই না মানলে আমিন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে শফিউদ্দিন জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে চাইলে মিজানুর রহমান লালন গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরপরই শফিউদ্দিনও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল রবিবার ঘটনাস্থলে তদন্তে যান গাংনী থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই পক্ষের সাথে কথা বলে জমির সামনে (তথা) রাস্তা সংলগ্ন জায়গায় শফিউদ্দিনকে প্রাচীর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মিজানুর রহমান লালনকে বাড়ির পিছনের অংশের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী ৫ জুলাই দিন নির্ধারন করা হয়েছে। আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে সমাধান করা হবে।

মিজানুর রহমান লালন বলেন, আমরা নিজেরাই যদি প্রাচীর ভেঙ্গে দেবে তাহলে বিবাদমান জমিতে প্রাচীর না দেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ জানাবো কেন ? অথচ প্রতিপক্ষ নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নিজেরাই প্রাচীরের কয়েকটি ইট খুলে ফেলে উল্টো আমাদের নামে অভিযোগ দিয়েছে। এখানে কিছু বলার নেই।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে জয়পুর বিওপি’র টহল দল উপজেলার মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩২২ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

মানুষ যেন মান্নাকে ফোর টুয়েন্টি রাজনীতিবিদ না ভাবে – হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, মানুষ যেন আপনাকে ফোর টুয়েন্টি রাজনীতিবিদ না ভাবে। মাহমুদুর রহমান মান্না ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে ‘ফোর টুয়েন্টি বাজেট’ মন্তব্য করার প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। গতকাল রোববার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ মাহমুদুর রহমান মান্নাকে ফোর টুয়েন্টি রাজনীতিবিদ যেন না ভাবে, কারণ কারও সমালোচনা করতে হলেও তার মধ্যে ভদ্রতা, সভ্যতা ও শিষ্টাচার থাকা প্রয়োজন। আমি ভেবে পাই না উনি (মান্না) তো ছাত্র রাজনীতিও করেছেন, ঢাকসু ভিপি ছিলেন। উনি কীভাবে এমন ভাষায় কথা বলেন। সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, শেখ হাসিনা সরকার সমালোচনা গ্রহণও করে।’ সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, জাতীয় ঐকফ্রন্টের গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে অনুরোধ করবো, নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখুন। সরকার উচ্ছেদের আগে এই কাজটি খুব জরুরি।’

কুমারখালীতে ভোক্তা কমিটির মাসিক আলোচনা সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায়, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভোক্তা কমিটির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১ টায় নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে ভোক্তা কমিটির সদস্য ও মুরগি খামারিরা অংশগ্রহণ করে। কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাস এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভার শুরুতেই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা ও মাসিক আলোচনা সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র। খাদ্য নিরাপদতায় ও ভোক্তা কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং সহ নানাদিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আরিফুজ্জামান, ভোক্তা কমিটির সদস্য ও কুমারখালী বণিক সমিতির সভাপতি কেএম আলম টমে, সাংবাদিক হাবীব চৌহান, সদস্য শুকুমার বিশ্বাস, ভোক্তা কমিটির সদস্য প্রভাষক আরিফুজ্জামান, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য শিউলি খাতুন, সদস্য সীমা আক্তার প্রমূখ। আলোচনা সভায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, পশুখাদ্য আইন ও বিধি মোতাবেক লাইসেন্স গ্রহণ ও নিরাপদ পশুখাদ্য বিক্রয়, পশুখাদ্য বিক্রয়কারক হিসাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পেতে করণীয়, রাসায়নিক দূষণমুক্ত নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ব্যবস্থা সহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জবাই পদ্ধতি অনুশীলন, বাজারে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়া হ্রাস, উত্তম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, বাজারে রোগ-জীবানুর অনুপ্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ, শুধুমাত্র সুস্থ্য মুরগি ক্রয় ও বিক্রয়, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত মানসম্পন্ন খাদ্য ক্রয়, ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত মানসম্পন্ন ভিটামিন ও মিনারেল ক্রয়, ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত নিরাপদ ও পরিস্কার পানি ব্যবহার, প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধ, খাদ্য, ঔষধ ও পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যদ্বারা দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করা, মুরগির খামারকে পৃথকীকরণের মাধ্যমে সুরক্ষা, নিরাপদ উৎপাদন উপকরণ ব্যবহার, খামার ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম অনুসরণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি অনুশীলন সহ মুরগি পালনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও সচেতন করে তোলার মাধ্যমে ভোক্তার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়াও ২০১০ সালের মৎস্য ও পশুখাদ্য আইনের আওতায় খামারি ও ডিলারদের রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উল্লেখ্য, দেশের বেকার যুবক-যুব মহিলারা মুরগী খামার স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কারণে দিনে দিনে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে যাচ্ছে। তুলনামূলক দামে সস্তা হওয়ায়  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগী। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিন্মমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রারিক্তি ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। এ জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের লক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে ভোক্তা সাধারন, সিভিল সোসাইটি, মুরগী খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা, ডিলার ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার গতিপথ প্রদর্শনের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

উদীয়মান ও পরিচ্ছন সাংবাদিক রাশেদকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

নব-গঠিত কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন’র সাধারণ সম্পাদক উদিয়মান তরুন সাংবাদিক সময় টিভি’র জেলা প্রতিনিধি এসএম রাশেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা রাশেদের জন্য মানহানিকর। রাশেদ জেলার একজন পরিচ্ছন ও কর্মঠ সাংবাদিক। সুনামের সাথে তিনি তার দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হঠাৎ করে একটি একটি চক্র তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে ব্যার্থ হয়ে মনগড়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। রাশেদকে নিয়ে অপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়শেন’র নেতারা। একই সাথে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহবুব রহমান ও সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু এক বিবৃবিতে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিবৃতি দিয়েছেন নব-নির্বাচিত টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি হাসান, সাধারণ সম্পাদক সময় টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এসএম রাশেদ, কমিটির সহ-সভাপতি বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম দোলন, যুগ্ম সম্পাদক ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক এশিয়ান টিভির হাসিবুর রহমান রিজু, কোষাধ্যক্ষ যমুনা টিভির প্রতিনিধি মাহতাব উদ্দিন লালন, দপ্তর সম্পাদক সিএনএন বাংলা টিভির প্রতিনিধি ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু। নির্বাহী সদস্য বিটিভি প্রতিনিধি আবদুর রশীদ চৌধুরী, এসএ টিভির প্রতিনিধি নুর আলম দুলাল, চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, মাইটিভির প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, একুশে টিভির প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, বাংলা টিভির প্রতিনিধি লিটন-উজ-জামান, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি খ, তুহিন আহম্মেদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিনিধি শাহীন আলী, মোহনা টিভির প্রতিনিধি এসএম আকরাম, চ্যানেল নাইনের প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত ও দেশ টিভির প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

চিকিৎসকদের মমতা

দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, কাজে যোগ দিন

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যে চিকিৎসকদের ধর্মঘট ষষ্ঠ দিনে গড়ানোর আগে তাদের যৌক্তিক সব দাবী মেনে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তার সরকার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে  কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। ধর্মঘটরত চিকিৎসকদের শনিবার সচিবালয়ে তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু চিকিৎসকরা তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে অচলাবস্থার সমাধান করার পাল্টা প্রস্তাব দেন। জুনিয়র চিকিৎসকদের যৌথ ফোরামের এক বৈঠকের পর তাদের এক মুখপাত্র জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার কক্ষে তাদের প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতা ও গভীরভাবে শঙ্কিত বোধ করছেন, এ কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে তারা কোনো প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন না।  এরপর মমতা তাদের শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আরেকবার সময় দেন। কিন্তু ওই সময়ও ধর্মঘটী জুনিয়র চিকিৎসকরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাননি। সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, “অন্য কোনো রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নিতো, আমরা তা নেইনি।” পশ্চিম বঙ্গের চিকিৎসকরা টানা পাঁচ দিন ধরে ধর্মঘট করে আসছেন। ধর্মঘট প্রত্যাহারে ছয়টি শর্ত বেধে দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে ধর্মঘটকারীদের বিরুদ্ধে মমতার করা উক্তির জন্য তার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাদের সহকর্মী চিকিৎসকদের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া অন্যতম। এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে থেকে চলতি চিকিৎসক ধর্মঘটের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন চেয়েছে বলে শনিবার এনডিটিভিকে জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র।  কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি দিয়ে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করা যে কারো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার একজন রোগীর পরিবারের সদস্যরা দুই জন জুনিয়র চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত করার পর থেকে পশ্চিম বঙ্গের চিকিৎসকরা ধর্মঘট শুরু করেন। ক্রমে তা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

গাংনী থানায় নতুন ওসি হিসাবে ওবাইদুর রহমানের যোগদান

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকারকে মেহেরপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল  রোববার তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি মেহেরপুর জেলা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে। কি কারণে ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকারকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেহেরপুর জেলা পুলিশের ঐ সূত্র। এদিকে গাংনী থানার নতুন ওসি হিসেবে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ওবাইদুর রহমানকে পদায়ন করা হয়েছে। ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, তিনি (আজ) সোমবার দায়িত্বভার বুঝে নেবেন।

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও একজন। গতকাল রোববার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার ছালাভরা ও বিকেলে সদর উপজেলার লাউদিয়া এবং ক্যাডেট কলেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার মথনপুর গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার সুমন, হেলপার জনি, শৈলকুপার মহেশপুর গ্রামের গৃহবধু শাহনাজ বেগম ও কালীগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামের ইউনুস আলী। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, সকালে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক যশোরের নওয়াপাড়া থেকে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলো। পথে কালীগঞ্জ উপজেলার ছালাভরা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক জনি হোসেন ও হেলপার তৌহিদুল ইসলাম মারা যায়। অপরদিকে বিকেলে স্বামী শাহাবুদ্দিন জোয়ার্দ্দারের সাথে মটরসাইকেল যোগে ঝিনাইদহ শহর থেকে বাড়ি গাড়াগঞ্জ ফিরছিল স্ত্রী শাহানাজ বেগম। মোটর সাইকেলটি ক্যাডেট কলেজ এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই শাহানাজ বেগম নিহত হয়। আহত হয় স্বামী ডাবলু জোয়ার্দ্দার। একই সময় ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জ সড়কের লাউদিয়া নামক স্থানে রাস্তা পার হচ্ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ইউনুস আলী। এ সময় খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী গড়াই পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। পরে একটি মাটি বোঝায় ট্রাক্টর তাকে চাঁপা দিয়ে পালিয়ে যায়। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

আপিল বিভাগের উষ্মা প্রকাশ

ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়ে বড় 

ঢাকা অফিস ॥ দুদক তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের কথা স্বীকার করার পরও পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশন কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না, তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। ঋণ কেলেঙ্কারির মামলায় হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামের জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানিতে গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ দুদকের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।   আদালতে লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জেসমিন ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আবদুল মতিন খসরু। এক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে দুদক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুদকের পরিচালক এনামুল বাছিরের সঙ্গে সম্প্রতি ঘুষ লেনদেনের তথ্য ফাঁস করে আবারো আলোচনায় আসেন ডিআইজি মিজান। রোববার শুনানির পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “শুনানির অবস্থায় আদালত বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছেন আমার কাছে। বলেছেন, আপনাদের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো এলার্মিং দেশের জন্য। আমি বলেছি, তার বিরুদ্ধে পিউনিটিভ অ্যাকশন (শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) নেওয়া হয়েছে। তখন আদালত বলেছেন, কিসের পিউনিটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য পিউনিটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।” দুদকের আইনজীবী বলেন, “আমি বলেছি, ঘুষের জন্য অ্যাকশন নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না। তখন আদালত বলেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। এই মামলায় তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না? জবাবে বলেছি, আমার যে লোক আমি তাকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মামলায় তার অ্যারেস্ট হওয়ার কথা সে মামলাতে অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেওয়া হয়েছে এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। এই তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। নতুন একজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে নতুন করে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দুদক দেখছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।” ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর দুদক কর্মকর্তা খোন্দকার এনামুল বাছিরকে নিয়ে যেমন দুদক তদন্ত শুরু করেছে, তেমনি ডিআইজি মিজানুর রহমানকে নিয়েও তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়া এবং তদন্তাধীন বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সংবাদ মাধ্যমে কথা বলার ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের ‘চাপের পর’ তাকে ‘ফাঁদে ফেলতে’ অপরাধ জেনেও ঘুষ লেনদেনের কাজটি করেছেন বলে দাবি করেছেনে ডিআইজি মিজান। যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দেওয়ার দাবি তিনি করেছেন, তার হিসাবও দুদককে দেওয়ার জন্য তৈরি আছেন বলে জানান তিনি। নানা ঘটনায় আলোচিত ও বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার ‘অবৈধ সম্পদ’র অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন দুদকের পরিচালক এনামুল বাছির। ডিআইজি মিজান গত ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এর সপক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপও টেলিভিশনকে দেন তিনি, যা প্রচারও হয়। অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ একই সঙ্গে বলেছেন, ঘুষ দেওয়াও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে।

কুষ্টিয়া আইনজীবি সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে

নিজ সংবাদ ॥ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীল-উল ইসলাম বলেছেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে সংবিধানের ৩১আর্টিকেলে পরিস্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে দেশটি আইনের শাসনদ্বারা পরিচালিত হবে। এমন কথা বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন রাষ্ট্রে বলা নেই। তাই আইনজীবিদের বিষয়টি মাথায় রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। তিনি গতকাল রোববার সকালে কুষ্টিয়া আইনজীবি ভবনে তাঁর সাথে আইনজীবি সমিতির  নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অনুপ কুমার নন্দির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জোর্টের জিপি ও সিনিয়র আইনজীবি আসম আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ, সাবেক জিপি ও সিনিয়র আইনজীবি মাহবুবুর রহমান, আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে কুষ্টিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ সেই লক্ষ বাস্তবায়নে আইনের শাসন বাস্তাবায়ন আইনজীবিদের ভূমিকা রাখতে হবে।

নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত শেষ হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় ন্যায় বিচার করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই মামলার বিচার যত দ্রুত সম্ভব শেষ করবে সরকার। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় ধর্ষণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি ও অপরাধীদের সাজা নিশ্চিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে একই মাদরাসার ছাত্রী নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করা হয়। ভয়ভীতি দেখানোর পরও মামলাটি তুলে না নেয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে মাদরাসার ছাদের উপর সিরাজ উদদৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে পিবিআইয়ের দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই নবম ওয়েজ বোর্ডের রোয়েদাদ ঘোষণা – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই নবম ওয়েজ বোর্ডের রোয়েদাদ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নবম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়টি আমরা আর ঝুলিয়ে রাখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই নতুন ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করা হবে। এখন আমরা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে গেছি।’

ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের বৈঠক শেষে একথা বলেন। ওয়েজ বোর্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহবায়ক বলেন, ‘প্রত্যেকেই তারা তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বারবার বৈঠক ডেকে আর সময় ক্ষেপণ করা সমচিত নয়, প্রয়োজনও নেই। বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখাও বাস্তব সম্মত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘক্ষণ স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের আজকের এ বৈঠক শেষবারের মতো। এরপর আমরা নিজেরা বসবো, তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিষয়টি আলাপ আলোচনা করে তাঁর পরামর্শ নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো এবং অচিরেই নবম ওয়েজ বোর্ডের রোয়েদাদ ঘোষণা করবো।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, আশা করছি আর বেশি সময় লাগবে না। অচিরেই নবম ওয়েজ বোর্ডের রোয়েদাদ ঘোষণা করবো। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ হাসান, তথ্যসচিব আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে মোল্লা জালাল, শাবান মাহমুদ, আবু জাফর সূর্য, সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেনা সদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও  পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা ও আনুগত্য বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়ে সেনাসদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯ চলবে পাঁচদিন ধরে। পর্ষদে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ অফিসারগণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পদোন্নতি পাবেন’। প্রধানমন্ত্রী সকালে সেনাসদরে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর ১৯টি অভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন। ১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “যখন দেশে ফিরলাম তখন বলেছিলাম এই আত্মঘাতি অবস্থা আমরা চাই না। দেশের সর্বক্ষেত্রে শান্তি চাই। মনোবল ছিল দেশে ফিরেছিলাম। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি।” বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা আমাদের একটা অর্জন।” ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা প্রতিরক্ষা নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতার দূরদৃষ্টি ছিল। দেশের সেনাবাহিনী কেমন হবে সেই চিন্তাতেই তিনি নীতিমালা তৈরি করেছিলেন।” ফোর্সেস গোল ২০৩০ ওই নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্নখাতে উন্নয়ন চিত্র তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলে থাকার সময়ই তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। কোন খাতে কি ধরনের উন্নয়ন করা হবে পরিকল্পনাতে সেসব বিষয় ছিল। আগামী অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে দশমিক ২০ ভাগ হবে। পরবর্তীতে দুই অংকে নিয়ে যাব।” মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “প্রবৃদ্ধি যখন বাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তার সুফল পায় সাধারণ মানুষ। মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে। পাঁচ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা অগ্রগামী। এবারের ওআইসি সম্মেলনে আমাদের নারীর ক্ষমতায়নের মূল্যায়ন হয়েছে এবং প্রশংসা করেছে।” জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।