নেতৃত্ব বাছাইয়ে প্রথম দফা ভোটে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল

ঢাকা অফিস ॥ প্রথম দফা ভোটের মাধ্যমে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদরা তাদের পরবর্তী শীর্ষ নেতা নির্বাচনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সে গোপন ব্যালটে এ ভোট হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পর এ ভোটের ফল জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিনের ভোটে দলটির শীর্ষ পদের ১০ প্রার্থীর মধ্যে যারা ন্যূনতম ১৭ সহকর্মীর সমর্থন পাবেন না, তারা এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়বেন। প্রার্থীদের সবাই ন্যূনতম ভোটের বাধা টপকাতে পারলে তাদের মধ্য থেকে বাদ পড়বেন সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশিষ্ট প্রার্থীদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে ফের ভোট হবে; এভাবে কয়েক দিনের সিরিজ ভোটের মাধ্যমে টোরি এমপিরা চূড়ান্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচিত করবে। ওই দুই জনের মধ্যে দলের পরবর্তী নেতা কে হবেন, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নিবেন দলের নিবন্ধিত সদস্যরা। জুলাইয়ের শেষদিকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচিত নেতা ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পদে বসার পাশাপাশি ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। সাংসদদের সমর্থন বিচারে বুধবার থেকে প্রচারাভিযান শুরু করা বরিস জনসনের পাল্লাই সবচেয়ে ভারী বলে জানিয়েছে বিবিসি। সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রচারে অক্টোবরের মধ্যেই যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে আনার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। কী করে এই পদক্ষেপ কার্যকর করবেন, সে সম্বন্ধে বিস্তারিত না জানালেও ‘চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট’ তার লক্ষ্য নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার প্রচার শুরু করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জনসনকে ‘গতকালের খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। “আজ আমাদের দরকার আগামীর নেতা। দরকার নেই পুরনো ধ্যানধারণার একই লোকগুলোকে, প্রয়োজন নতুন প্রজন্ম, নতুন আলোচ্য বিষয়,” বলেছেন তিনি। বরিসের পাশাপাশি সাংসদের পর্যাপ্ত সমর্থন নিয়ে জাভিদ, গোভ, ডমিনিক রাব ও জেরমি হান্ট সহজেই দ্বিতীয় দফার ভোটে পৌঁছাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাকি ৫ প্রার্থী- ম্যাট হ্যানকক, রোরি স্টুয়ার্ট, আন্দ্রিয়া লিডসম, মার্ক হার্পার ও এস্টার ম্যাকভেইও নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখা ও সুযোগ কাজে লাগানোর আশা করছেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে সম্মান অক্ষুণ রাখুন – কবিতা খানম

ঢাকা অফিস  ॥ নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, আপনারা যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তারা নির্বাচনি আচরণবিধি সুষ্ঠুভাবে অনুসরণ করার চেষ্টা করবেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে বরং নিজেদের সম্মান নিজেরা অক্ষুণœ রাখার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন আপনারা আপনাদের সম্মান রাখতে পারলেই ইসি আপনাদের সম্মান রাখার চেষ্টা করবে। আমরা সবসময়ই আপনাদের সম্মান রক্ষা করতে চাই। আমরা আপনাদের আরও সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনি এলাকায় এসে কোনও প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন না। পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসের অডিটরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিং ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকার সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মেদ, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আগামী ১৮ জুন আসন্ন কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন আপনারা নিজেরাই ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার। ভোট কেন্দ্রে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয় ঘটলে আপনাদেরই তা শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এমনকি যে কোনও ধরনের গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে আপনারা উপজেলা রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতামত গ্রহণ করতে পারবেন। আপনাদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। আপনাদের সততা ও নিষ্ঠা মহৎ হলে ভোটকেন্দ্রে আপনার মাধ্যমেই সঠিক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। অন্যথায় প্রার্থী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আপনাকে পেয়ে বসবে। মনে রাখবেন নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে ইসি তা কখনও মেনে নেবে না।

 

নদী বাঁচাতে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও এমপিদের সহযোগিতার আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা.আব্দুল মতিন বলেছেন, নদী বাঁচাতে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও এমপিরা সহযোগিতা করুন। যাতে নদীগুলোকে আমরা উদ্ধার করতে পারি। নদী উদ্ধার না হলে দেশ বাঁচবে না। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাপা ও ওয়াটার কিপারর্স বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘সরকারের নদী উদ্ধারে সাম্প্রতিক তৎপরতা: আদি বুড়িগঙ্গা ও সোনাই নদীর বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় এমপিরা ও রাজনৈতিক নেতারা যৌথভাবে সরকারের নদী বিষয়ক সব কাজ ব্যর্থ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা। নদী বাঁচাতে স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও স্থানীয় এমপিদের কাছে আমাদের অনুরোধ, দয়া করে নদী রক্ষায় সহযোগিতা করুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন। যাতে নদী গুলোকে আমরা উদ্ধার করতে পারি। নদী উদ্ধার না হলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। ওয়াটার কিপারর্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী ও বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে জনসম্পৃক্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সমূহের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নদীর সীমানা নির্ধারণের সিএস কিংবা আরএস ভিত্তিক ভুল ব্যাখ্যা প্রদান বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমিন মুর উপস্থিত ছিলেন।

সেরে উঠছেন রিজভী

ঢাকা অফিস  ॥ টানা ১৬ মাস ধরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবু কার্যালয় ছাড়েননি। কার্যালয়ের ভেতরে ছোট্ট একটি কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানেই তাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। বিএনপিপন্থী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার দেখভাল করছেন। কয়েক দিন বেড রেস্টে থাকার পর আগের চেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ রিজভী। তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে। পেটের সমস্যাও অনেকটা কেটে গেছে। তবে শারীরিক দুর্বলতা এখনও আছে। গত রোববার রিজভী দলীয় কার্যালয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তার কঠিন পেট ব্যথা শুরু হয়। পরে প্রচুর বমিও হয়। রক্তচাপজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর পর থেকে গত কয়েক দিন ধরেই তিনি স্যালাইন নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ আছে। রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, গত কয়েক দিন পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থবোধ করছেন। কয়েক দিনের মধ্যে বুধবার বিকালে প্রথম পানি পান করেছেন। গত কয়েক দিন ধরেই চিকিৎসকদের পরামর্শে সব ধরনের খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন তিনি। এদিকে অসুস্থ রিজভীকে দেখতে বুধবার রাতে নয়াপল্টন কার্যালয়ে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। রিজভী আহমেদকে দেখতে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি মিনিট পাঁচেক সময় রিজভী আহমেদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৬ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় দলের দাফতরিক কার্যালয়। সেখানে বিএনপির মহাসচিবের কক্ষ, সংবাদ সম্মেলনকক্ষ, দাফতরিক বিভাগ, একটি রান্নাঘর, তিনটি টয়লেটসহ ৬টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে রিজভী আহমেদ প্রায় সময়ই দফতর বিভাগের নিজের কক্ষে অবস্থান করেন। তাকে ঘিরে দিনের প্রায় সময়ই বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে থাকেন। রিজভী যেখানে বসে দাফতরিক কাজ করেন তার পেছনে (দক্ষিণে) একটি ছোট কক্ষে তিনি দিনে বিশ্রাম নেন আবার রাতে ঘুমান। তিনি সেই ছোট্ট কক্ষেই রাতে ঘুমান। রিজভী আহমেদ জানান, তার অসুস্থতা র্দীর্ঘদিনের। আশির দশকের শেষ দিকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলি তার মেরুদন্ড ভেদ করে যায়। সেই থেকেই তিনি কার্যত অসুস্থ। তিনি জানান, গুলি লাগার কারণে তার খাবার হজমে সমস্যা হয়। খাবার তার খাদ্যনালিতে আটকে যায়। চিকিৎসকদের ভাষায় এ রোগের নাম সাব-একিউট ইন্টেস্টেনাল অবস্ট্রাকশন। বিএনপির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ১৯৮৪ সালে রিজভী আহমেদের পেটে ও মেরুদন্ডে  গুলি লাগে। এ কারণে তার মাঝেমধ্যেই ব্যান্ড এডিকশন সৃষ্টি হয়। এ কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি এ কারণে আগেও বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, রিজভী আহমেদের যিনি অপারেশন করেছিলেন, তিনি দেশের খুব সিনিয়র একজন চিকিৎসক অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন। এবারও আমরা ওনার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছি। তিনি এসে দেখেও গেছেন। তিনি বলেছেন- আমরা যে চিকিৎসা ওনাকে দিচ্ছি তা ঠিক আছে। ডা. রফিক আরও বলেন, এ মুহূর্তে রিজভী আহমেদকে হাসপাতাল বা বাসায় নেয়ার তেমন প্রয়োজন নেই।

কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী

কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী পালকী রেষ্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারী মাওলানা মু. আরিফুল ইসলাম। জেলা সেক্রেটারী আলহাজ্ব শেখ এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন কুষ্টিয়া  জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী, সদস্য আলহাজ্ব মাওঃ নূর মোহাম্মাদ বিন হানিফ, মোঃ মোসহাব, কুমারখালী দক্ষিণ থানার সেক্রটারী মাওঃ মুস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি মু. ওমর ফারুক বিন গাজী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মু. আব্দুল মোমিন, মু. গোলাম তাওহিদ, মু. নজরুল ইসলাম, মু. জাহিদুল ইসলাম, মু. আরজ আলী, মুফতি বেলাল হুসাইন, মুফতি ফরিদ উদ্দিন আবরার, মাওঃ নাজমুল হাসান, হাফেজ তাওহিদুল ইসলাম প্রমূখ। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকার ঋণ নির্ভর বাজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক  দেওলিয়াত্বের প্রমাণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের ধোয়া তুলে  মোট বাজেটের এক পঞ্চমাংশ ঘাটতি রেখে অর্থমন্ত্রী অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি শিক্ষা ও গবেষনা খাতে আরো বেশী বাজেট রাখার দাবি করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ – জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত

ঢাকা অফিস  ॥ বাংলাদেশ প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন’ (সিআরপিডি) স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ১২তম সম্মেলনে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। আমরা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে প্রতিবন্ধীদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন’ (সিআরপিডি) ও এজেন্ডা ২০৩০ এর আলোকে প্রতিবন্ধী বিষয়ক জাতীয় নীতিমালাগুলোও হালনাগাদ করেছি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন প্রতিবন্ধী বিষয়ক একজন বিশেষ প্রবক্তা। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত ও বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি। সায়মা অটিজম ও প্রতিবন্ধীতার বিষয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশ, এতদঅঞ্চল ও এর বাইরে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও ফলপ্রসূ কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও এনজিওসহ বেসরকারি খাতগুলো সরকারের এসব প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকার বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, আসছে জুলাই মাস থেকে সরকার প্রায় ১৪ লাখ বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা দেবে, আর বর্তমানে ভাতাপ্রাপ্তদের এ সংখ্যা ১০ লাখ। ক্রীড়া ও উদ্ভাবনীসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবন্ধী যুবদের নানা সাফল্যগাঁথা তুলে ধরেন স্থায়ী প্রতিনিধি। এ বছর আবুধাবীতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ অলিম্পিকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দল ২২টি স্বর্ণ জয়ের যে সাফল্য দেখিয়েছে তাও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাস্কর ভট্টাচার্যের বিশেষ উদ্ভাবনী-অবদানের কথা উপস্থাপন করেন। ভাস্কর ভট্টাচার্য তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারটি ধরণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রথমবারের মতো অভিধান তৈরি করেছেন এবং ইতোমধ্যে এটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জন করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, যদিও ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি তথাপি প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তি বাস্তবায়নে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে আমাদের আরও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন, আর এ ক্ষেত্রে আমি উন্নয়ন সহযোগিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ সিআরপিডিতে অনুস্বাক্ষরকারী দেশেগুলোর মধ্যে প্রথম সারির একটি দেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ৬১/১০৬ এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন (সিআরপিডি) গৃহীত হয়।

পাবনায় বজ্রপাতে ৪ কৃষক নিহত

পাবনা প্রতিনিধি ॥ পাবনার দুই উপজেলায় ফসলের ক্ষেত্রে কাজ করার সময় বজ্রপাতে চার কৃষক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হালকা বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বেড়া থানার ওসি সাইদ মাহমুদ বলেন, নতুন ফারেঙ্গা এলাকায় যমুনার চরে বাদামক্ষেতে কাজ করছিলেন একদল কৃষক। এমন সময় বজ্রপাত হলে তিন কৃষক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিলপাশার গ্রামে এক কৃষক মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মাসুদ রানা। বেড়া উপজেলায় নিহতরা হলেন আবদুল মান্নান, আবদুস সালাম ও আনসার আলী। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নিহত কৃষকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেনি পুলিশ।

ঈদের ছুটি শেষে ইবি আজ খুলছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও অফিসসমূহ আজ (১৫ জুন) থেকে যথারীতি চলবে। পবিত্র রমজান, বুদ্ধপূর্ণিমা, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসমূহ গত ৪ মে থেকে এবং গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে অফিসসমূহ গত ২৭ মে থেকে বন্ধ ছিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

যুদ্ধ ঠেকাতেই ইরান সফরে এসেছি – শিনজো অ্যাবে

ঢাকা অফিস ॥ জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রাখতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে ইরান সফরকালে বুধবার তিনি এ আহ্বান জানান। যে কোন মূল্যে যুদ্ধ ঠেকাতে চান বলেও ঘোষণা দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর কোন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম তেহরান সফর। খবর এএফপি’র। তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। যুদ্ধ এড়ানো শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, সারা বিশ্বের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ যেকোন উপায়ে সশস্ত্র সংঘাত অবশ্যই এড়াতে হবে। আমরা কেউই যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ ও উত্তেজনা ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো। এবং এ কারণেই আমি এখানে এসেছি।’ গত বছরের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে এবং এটা নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এমনাবস্থায় ওয়াশিংটন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানো শুরু করে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট এই উত্তেজনা নিরসনে জাপান তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। ওই সংবাদ সম্মেলনে রুহানি বলেন, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানের ওপর যেসব অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তা বন্ধ করলে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল, ও মদ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল উপজেলার চিলমারীর মরারপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪২ বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে তেতুলবাড়িয়া বিওপি’র টহল দল একই দিন রাত ১১টার দিকে মথুরাপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১১ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ ও ৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

চুয়াডাঙ্গায় কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গায় হাতের শিরা কাটা অবস্থায় ঝুমা খাতুন (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের হাটকালুগঞ্জ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঝুমা চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম আবদুস সামাদ। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা আবদুস সামাদ ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এলাকায় তার নিজ বাড়িতে থাকেন স্ত্রী জুলেখা বেগম ও মেয়ে ঝুমা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান নিকটাত্মীয় এক রোগীকে দেখতে। সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, কলেজ ছাত্রী ঝুমার লাশ দেখে প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তিনি নিজে হাত কেটে আত্মহত্যা করেছে, না কি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কিছু তা তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই ইকরামুল হক জানান, নিহত কলেজছাত্রীর বাম হাতের শিরা কাঁটা রয়েছে। গলাতেও দাগ রয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক।

স্কুল কমিটির ক্ষোভ

দৌলতপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী স্কুলের গাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লক্ষিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রহিতুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় দু’লক্ষ টাকা মূল্যের ২টি শিশু গাছ গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিন সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ ছাড়াও শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্কুল সংলগ্ন বসবাসরত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯১ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার সময় পরিবেশ রক্ষার্থে এলাকার মানুষ বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেন। এখন সেসব গাছগুলি বড় বড় বৃক্ষে রূপান্তর হয়েছে। আর এই গাছগুলি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নজরে পড়লে সে গত ১৫মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দু’টি শিশু গাছ নিলামে বিক্রয় করার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ সদস্যদের না জানিয়ে গত ২৬ মে শিতলাই পাড়া গ্রামের মোঃ শাহাজুল ইসলামকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ মাত্র ২৬,৯১১/= (ছাব্বিশ হাজার নয় শত এগার) টাকায় বিক্রয় দেখানো হয়। এদিকে গাছ দু’টি ক্রয়ের দাবি করে গতকাল শুক্রবার প্রতুষ্যে বিদ্যালয় ছুটির দিনে গাছ দু’টি কাটার সময় এলাকাবাসী সাহাজুল ইসলামকে গাছ কাটতে বাঁধা দেয়। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রহিতুল ইসলাম গাছ বিক্রয়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গাছ বিক্রয় ও কাটার বিষয়টি সম্পুর্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানেন। গাছ বিক্রয় ও কাটার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, সরকারী বিধিসম্মত ভাবে দরপত্র আহবান করে গাছ দু’টি বিক্রয় করা হয়েছে। এদিকে গোপনে বিদ্যালয় চত্বরের প্রায় দু’লক্ষ টাকার শিশু গাছ মাত্র ২৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করা নিয়ে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ফুঁসে উঠেছে। তারা গোপনে গাছ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

বাজেট জনগণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে  গেছে – বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটকে উচ্চাভিলাষী মন্তব্য করে বিএনপি অভিযোগ করেছে, বাজেটের আকার দিন দিন বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকার। একইসঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবিরোধী বলেও দাবি করেছে দলটি। গতকাল শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সরকারের আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আনুষ্ঠানিক দলীয় প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল অর্থমন্ত্রী ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাসী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। এ বাজেট নিয়ে জনমনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তিনি বলেন, এ বাজেট জনগণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে গেছে। এটা গণবিরোধী বাজেট। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতি অর্থবছরে সরকারের বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। বাজেটের আকার কত বড় এ নিয়ে আর জনমনে কোন উচ্ছ্বাস নেই। কেননা প্রত্যেক বছর বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাট-ছাঁট করা হয় তাতে বিরাটাকার বাজেটের অন্তঃসারশূন্যতাই প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, চলতি বছর বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বর্তমান বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক উৎস থেকে ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যার সিংহভাগই ধরা হয়েছে এনবিআর থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এবার আরও বড় আকারের আদায়ের পরিকল্পনা। এটা রাতারাতি সম্ভব নয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে তাতে ঘাটতি বরং আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে দ্রুত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন তাজিক প্রেসিডেন্ট

ঢাকা অফিস ॥ তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমোন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতের দ্রুত উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে ভ্রাতৃপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমোন বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অফিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে স্বাগত জানান এবং কাউন্টার টেরোরিজম এবং সমম্বিত অভিযানের ব্যাপারে একত্রে কাজ করার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাজিকিস্তানে কনফারেন্স অন ইন্টারএ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম সম্মেলনে যোগ দিতে সরকারী সফরে এখন দুশানবে নগরীতে রয়েছেন। তাজিক প্রেসিডেন্ট তৈরি পোশাক খাতকে (আরএমজি) একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে যৌথ বিনিয়োগে একত্রে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বাসসকে আজ এ কথা জানান। ব্যবসা বাণিজ্য জোরদারের কথা তুলে ধরে তাজিক প্রেসিডেন্ট উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাজিকিস্তানের সহযোগিতা চান এবং তাজিক প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে একথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটপণ্য আমদানির জন্য তাজিকিস্তানের প্রতি আহবান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন- সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করে আসছে। উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন, দু’টি দেশ টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে এক সঙ্গে কাজ করবে। আবদুল হামিদ বলেন, উভয় দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন মতামত পোষণ করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরআগে রাষ্ট্রপতি গতরাত ৯টা ৫২ মিনিটে(স্থানীয় সময়) এখানে পৌঁছান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, তাজিক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিন, সেক্রটারি বাইলেটারাল এন্ড কনসুলার কামরুল আহসান, কূটনৈতিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাজিক রাজধানী দুশানবে এবং উজবেকিস্তানে সাতদিনের সফরে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ১৯ জুন দেশে ফিরবেন।

প্রস্তাবিত বাজেট ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাবে – বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট

ঢাকা অফিস ॥ প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়ন, গণমুখী, জনবান্ধব ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে জোটের সদস্যরা এসব কথা বলেন। সমাবেশে জোটের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতি মমত্ববোধ থেকে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চমকপ্রদ একটি বাজেট পেশ করেছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বেড়েছে। সমৃদ্ধির হার উচ্চাকাঙ্খী হলেও অতীতের ধারাবাহিকতায় তা অর্জন সম্ভব। বক্তারা দাবি করেন, এই বাজেটে ধনী-গরীবের বৈষম্য কমবে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কোনও চাপ পড়বে না। বাজেট বাস্তাবায়ন হলে জনগণের কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতি সাধিত হবে। এটি উন্নয়ন, গণমুখী ও জনবান্ধব বাজেট। বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, যারা এই বাজেটের সমালোচনা করছেন তারা সব সময়ই সরকারের সমালোচনায় মেতে থাকেন। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। তারা ভালো-মন্দ দেখেন না। তাদের জন্মই হয়েছে সমালোচনা করার জন্য। সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, চিত্রনায়িকা শাহনুর, কবি রবীন্দ্র গোপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

সৌদিতে সূর্যের আলোতে শ্রমিকদের কাজ নিষিদ্ধ

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি আরবে সূর্যের আলোতে শ্রমিকদের কাজ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূর্যালোকে কাজ না করার এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। শ্রমিকদের মানবিক দিক বিবেচনায় এনে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এ নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এ আদেশ মেনে চলতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ কনস্যুলেটও আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ।

ওসি মোয়াজ্জেমকে আটকাতে বেনাপোল সীমান্তে সতর্কতা

ঢাকা অফিস ॥ যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পালানো ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল বাশার বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে তার পাসপোর্ট নাম্বার দেওয়া হয়েছে । “ মোয়াজ্জেম যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে যেতে না পারেন।’ ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। ওই মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়ার পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ওই মামলায় গত ২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে এপ্রিলের শুরুতে ওসি মোয়াজ্জেমকে সোনাগাজী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের রংপুর রেঞ্জে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। তারপর আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল নিয়ে ফেনী পুলিশের সঙ্গে রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলির মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম। পরে ফেনী পুলিশই ওই পরোয়ানা তামিলের কাজ শুরু করে। ওসি মোয়াজ্জেম পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকেই বলা হলেও পরোয়ানা জারির দুদিন পর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে তার আবেদন জমা পড়ে। শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান বলেন, মোয়াজ্জেমের গ্রেপ্তারের আদেশ তার বাড়ি যশোরে পাঠানোর পর সীমান্তবর্তী শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানাকে তা অবহিত করা হয়েছে । এ ব্যাপারে তারা সতর্ক রয়েছেন। এদিকে মোয়াজ্জেমকে নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনার মধ্যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন ‘দেশেই আছেন’  এবং তার ‘বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’। শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তারের আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে জানিয়ছেন যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সেলিম রেজা। মোয়াজ্জেম হোসেনের বাবা ঝিনাইদহের বাসিন্দা হলেও কয়েক যুগ আগেই যশোর শহরের রায়পাড়ায় জমি কিনে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। ওই বাড়িতেই শৈশব কাটে মোয়াজ্জেমের। যশোরের বাড়িটিতে এখন তার দুই ভাই ও এক বোন মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আনসার উদ্দিন বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানার একটি কপিসহ কিছু নির্দেশনা বুধবার তাদের হাতে এসেছে।

প্রতিশ্র“তির সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেট অনেক ক্ষেত্রেই অসংগতিপূর্ণ – সিপিডি

ঢাকা অফিস ॥ প্রস্তাবিত বাজেট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্র“তির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাজেট-উত্তর পর্যালোচনায় এমন প্রতিক্রিয়া জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বাজেট বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা খুবই কম বলেও জানানো হয় এই বাজেট পর্যালোচনায়। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ঘাটতি পূরণে গতানুগতিক হিসাব মেলানো হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে চাপ তৈরি করতে পারে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সংস্কার ও নীতি যথেষ্ট নয় বলেও মনে করে সিপিডি। রাজস্ব আদায়টা একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। সেই কঠিন বাধাকে অতিক্রম করতে পারবে? সেটার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয়ত, আমরা বলেছিলাম ব্যাংকিং খাত। আয়-ব্যয় কাঠামোর ভেতরে, আর্থিক খাতের ভেতরে গেলে আরো দেখতে পাবেন, ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা বাড়বে। এবং সেই ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ক্ষেত্রে সরকার আরো বেশি নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছে আগামি অর্থ বছরে। সেইখানেও কিন্তু নতুন অর্থবছরে আমরা কিছু পাচ্ছি না। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ঠিক হয়নি জানিয়ে পর্যালোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, অঘোষিত আয় আর বেআইনি আয় আলাদা করা উচিত ছিল। মুদ্রার বিনিময় হার সংশোধন না করে কিছু রপ্তানি খাতে প্রণোদনা দেওয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মনে করে সিপিডি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ স্লোগানসংবলিত বাজেট পেশ করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এ ছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বচ্ছল ও উচ্চ আয়ের মানুষকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রেখে বাড়ানো হয়েছে সম্পদের ক্ষেত্রে সারচার্জের সীমা। যারা আয় করে তাদের জন্য সুবিধা দেওয়া হয়নি, অথচ সম্পদশালীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে গরীব মানুষের জন্য একটি প্রান্তিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনৈতিকভাবে যারা সুবিধাভোগী এবারের বাজেট আবারও তাদেরই পক্ষে গেছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে গরীব মানুষের পক্ষে বলা হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, এ ইশতেহার একটি সুলিখিত, সুচিন্তিত দলিল। যেটাকে সিরিয়াসলি নেই। ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মানীয় এ ফেলো বলেন, ব্যাংক খাত থেকে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তারা ব্যাংকিং কমিশন হোক চান না। কমিশন হলে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। তথ্য উপাত্তের সমস্যা আছে, সেগুলো প্রকাশিত হবে, জবাবদিহীতা বাড়বে। যারা এ খাত থেকে অন্যায্য সুবিধাগুলো নিয়েছেন, তারা এ পরিবর্তনগুলো আনতে দিতে চান না। বাজেট স্বচ্ছল-উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর গরীব মানুষের জন্য একটি প্রান্তিক ভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকছে। দেশের মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে বিকাশমান মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তরা এ বাজেট থেকে খুব বেশি উপকৃত হবে না। কারণ যারা উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না, বিদেশে গিয়ে এসব সেবা নিতে পারে না। তাদের জন্য আমরা কি মানসম্পন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের শিশুরা উচ্চমানের শিক্ষা পাচ্ছে কি-না। চিকিৎসা করাতে পারছে এটাই বড় বিষয়। দেশের মধ্যবিত্তদের জন্য আমরা কি করতে পারবো, সেটার উপর নির্ভর করছে, আমাদের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া। বিকাশমান মধ্যবিত্তরাই হলো চালিকা শক্তি। তাদের চিন্তা, চেতনা, উপার্জন, বুদ্ধিমত্তা এগুলোই হলো চালিকাশক্তি। সেই চালিকাশক্তিকে যদি সেভাবে পরিমাপ না করেন, তাহলে ইশতেহার চেতনা সম্পূর্ণ বিফল। এটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ, ভোটের ভিত্তি পরিপন্থি, এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়। দেবপ্রিয় ভট্টচার্য বলেন, যারা অর্থনৈতিক অপশাসনের সুবিধাভোগী, এ বাজেট তাদের পক্ষেই গেছে। কারণ পরিবর্তনের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অর্থনৈতিক কৌশল সেটা আমরা দেখিনি। কিন্তু এসব বিষয় ইশতেহারে ছিল, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছিল। সরকার যে টাকা বরাদ্দ করেছেন সেটা গরীব মানুষের কাছে যায়নি, আর খরচ করলেও সেটা গরীব মানুষের পক্ষে যায়নি। অনুষ্ঠানে সিপিডির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট উম্মে শেফা রেজবানা, মোস্তফা আমির সাব্বিহ, সারাহ সাবিন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুশানবেতে রাষ্ট্রপতিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ঢাকা অফিস ॥ ‘কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ‘হংসবলাকা’ দুশানবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। দুশানবেতে নামার পর রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান তাজিকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের চেয়ারম্যান এবং দুশানবের ডেপুটি মেয়র। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে ‘স্ট্যাটিক গার্ড’ ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমান বন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল আভেস্তায় যান রাষ্ট্রপতি। দুশানবেতে এই হোটেলে অবস্থান করবেন তিনি। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারে কাজ করে সিআইসিএ। কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতানে এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত। বর্তমানে ২৭টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। সদস্য দেশগুলো হল আফগান্স্তিান, আজারবাইজান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চায়না, মিশর, ভারত, ইরান, ইরাক,ইসরাইল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। এছাড়া বেলারুশ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্র এর পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অভিবাসনসংস্থা-আইওএম, লিগ অব আরব স্টেটস, অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ, পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি অব দ্যা টার্কিক স্পিকিং কান্ট্রিজ এরসিআইসি’র পর্যবেক্ষক। এশিয়াভিত্তিক এই সংস্থার বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছে তাজিকিস্তান। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব করে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুর সুলতান নাজারবায়েভ। এর প্রথম সম্মেলন হয় ২০০২সালে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ এই ফোরামের সদস্য হয়। প্রেস সচিব জানান, দুশানবেতে সম্মেলন শেষে রাষ্ট্রপতি উজবেকিস্তান সফর করবেন। সফর শেষে ১৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে আবদুল হামিদের।

বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কুয়েতে

ঢাকা অফিস ॥ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। গত ৮ জুন দেশটিতে ছায়ায় ৫২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রোদে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একইদিন, সৌদি আরবের আল-মাজমা শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়েতে চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে গত বুধবার (১২ জুন) এক ব্যক্তি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান। তীব্র রোদের কারণে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। কুয়েত ও সৌদি আরবে এ তীব্র তাপপ্রবাহ এত শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কুয়েতের গ্রীষ্মকাল এবার বেশ দীর্ঘ হতে চলেছে। এর মধ্যে, জুলাইয়ে সেখানকার তাপমাত্রা ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরবের আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আঘাত হানবে এ তাপপ্রবাহ। গত ৭ জুন ইরাকের মেসান প্রদেশে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হযেছে ৫৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার (১০ জুন) একই ধরনের তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছে ভারতও। আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট এল ডোরাডোর তথ্যমতে, ওই দিন বিশ্বের উষ্ণতম ১৫টি জায়গার মধ্যে আটটি ছিল ভারতে, বাকিগুলো ছিল পাশের দেশ পাকিস্তানে। ভারতের আবহওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার (১০ জুন) রাজস্থানের চুরু শহরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্যমতে, এ যাবৎকালে বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালিতে ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর ৯০ বছর পর, ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার এল আজিজিয়াতে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দাবি করা হলেও, তা নাকচ করে দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ

শর্তভঙ্গে উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ, শিক্ষা পরিবেশ বিঘিত

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দেশের শীর্ষস্থানীয় বৃহৎ সরকারী মহাবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে জেষ্ঠ্যতা লংঘন ও শর্ত জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের কর্মস্থলে যোগদান বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শিক্ষক অসন্তোষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, কলেজে উপাধ্যক্ষের বিদ্যমান শুন্যপদে নিয়োগের নিমিত্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পত্রেও অসঙ্গতি ও শর্ত জালিয়াতির বিষয় দৃষ্টি গোচর হওয়ায় তা অবহিত করে এই নিয়োগ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক বলছেন যা কিছু হয়েছে সরকারী বিধিমতে নিয়ম মেনেই হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, মো: মসলেম উদ্দিন ১৯৯৫ সালের ২২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ  নেন এবং উত্তীর্ন হন। পরে ১৯৯৬ সালের ২৪ জানুয়ারী তিনি কুষ্টিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করে এমপিও ভুক্তির অনুমোদন পান ১ মার্চ ১৯৯৭ সালে। অত:পর ১৫ জুন, ২০০৬ সালে বেসরকারী কলেজ থেকে বিসিএস আত্তীকরণ সুবিধা নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সর্বশেষ ৩০ মে ২০১৯ তারিখে উপ-সচিব শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক সরকারী আদেশপত্রে তাকে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ৪ জুন ২০১৮ থেকে নিয়োগ দানের কথা বলা হয়েছে যা বিধিসম্মত নয়; কারণ সরকারী একই প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পদে একসাথে দুইজনকে নিয়োগদান বিধি বহির্ভুত। উল্লেখ্য পূর্ববর্তী উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে দাপ্তরিকভাবে বদলি হন ৯জুন ২০১৮ তারিখে যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নথি সংরক্ষিত আছে।

আত্তীকরণ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্তির শর্তানুযায়ী শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মকালীন ১০বছর পূর্ণকরনসহ কর্মজীবনে কৃতিত্বপূর্ন অবদানের স্বাক্ষর রেখেছেন এমন বিশেষ বিবেচনার কোটা সুবিধা নিয়ে বে-সরকারী কলেজ থেকে সরকারী কলেজে নিয়োগ পর্যন্ত সকল স্তরে অসত্য তথ্য সরবরাহসহ অবৈধ প্রভাব কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন মো: মসলেম উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২৩ জুন ২০০৫ সালে বেসরকারী মহাবিদ্যালয় কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শতকরা ১০% আত্মীকরণ নিয়োগদানের বিজ্ঞাপন দেয় (দৈনিক ইত্তেফাক) পত্রিকায় প্রকাশিত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব শহিদুল ইসলামের সহায়তায় এবং তার ভাইঝি’কে বিয়ে করার শর্তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তপূরণ যোগ্যতা ছাড়াই এই সুবিধাপ্রাপ্ত হন। যদিও নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি সচিবের ভাইঝিকে বিয়ে করেন নি এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুনীর সাথে মেলামেশা করে প্রতারণা করার দায়ে ওই তরুনীর দেয়া অভিযোগে ২০০৭ সালে শিক্ষক মসলেম উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হররা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। পরে পক্ষগনের মধ্যে আপস মিমাংশায় সে যাত্রায় রেহায় পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালে আরও একটি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় তিনি জনরোষের শিকার হয়ে  গুরুতর আহত হন।

একইভাবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের আপত্তি জানিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের  সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দরখাস্তে অভিযোগ- অনৈতিক ও অবৈধ প্রভাব দেখিয়ে কর্মস্থলে সমকর্মীদের সাথে অসদাচরণ, ছাত্রীদের সাথেও অশালীন আচরণে অভিযুক্ত শিক্ষক উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলে কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। সে কারণে অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি তাদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মুঠোফোনে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্নরূপে অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য আপনাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী হিসেবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে এমন বিশেষ কোন যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে দেখিনি যে, তিনি এঅঞ্চলের বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারবেন। তাছাড়া কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ বিদ্যমান যা শিক্ষা পরিবেশ বিঘেœর সামিল। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই চুড়ান্ত বলে মানতে হবে।