কালুখালীতে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ গতকাল ১২ জুন রাজবাড়ীর কালুখালীতে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধি নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম লুনা, কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আবু ফরহাদ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার (অ:দা) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আলিম, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম, মদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মৃধা, মৃগী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর মোল্লা, সাওরাইল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আলী, রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রতনদিয়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি খোন্দকার আনিসুল হক বাবু ও কালুখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান প্রমূখ বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচনায় অফিসার ইনচার্জ এসএম আবু ফরহাদ তিনি তার বক্তব্যে বলেন, অন্যান্য উপজেলার তুলনায় আমাদের কালুখালী উপজেলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু কিছু এলাকায় ছোট খাটো তুচ্ছ ঘটনা ঘটছে। ঘটার সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে। এসময় ইউপি চেয়ারম্যানদের বক্তব্যে তারা বলেন এখন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। আলোচনায় সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বলেন,  উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসব মূখর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য আমি সহ নিয়োগকৃত মেজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রার্থীসহ সকলকে মেনে চলতে হবে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সহ সকলকে সজাগ থাকতে বলেন। কোন স্থানে এরকম ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সকলকে আহবান জানান।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ অভিযানে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্প সফল অভিযান পরিচালনা করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ফেন্সিডিলসহ শাহীন আলম রকি শেখ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। বুধবার ভোররাতে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রকি শেখ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক শেখের ছেলে। ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মোঃ আমিনুল কবীর তরফদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মোহাম্মদপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ক্রয়-বিক্রয় করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২’শ ১১ বোতল ফেন্সিডিলসহ রকি শেখকে আটক করা হয়। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সিআইসিএ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ তাজিকিস্তান যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥  এশিয়ার ২৭টি দেশ নিয়ে গঠিত ফোরাম কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি দুশানবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, সম্মেলেনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যোগ দেবেন। মূল সম্মেলনের বাইরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বৈঠক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারে কাজ করে সিআইসিএ। কাজাখস্তানের রাজধানী নূর সুলতানে এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত। এই সংস্থার সদস্য দেশগুলো হল- আফগান্স্তিান, আজারবাইজান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চীন, মিশর, ভারত, ইরান, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। এছাড়া বেলারুশ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ইউক্রেইন এবং যুক্তরাষ্ট্র এর পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা-আইওএম, লিগ অব আরব স্টেটস, অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ, পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি অব দ্য টার্কিক স্পিকিং কান্ট্রিজ এর সিআইসির পর্যবেক্ষক। এশিয়াভিত্তিক এই সংস্থার বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছে তাজিকিস্তান। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব করেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ। এর প্রথম সম্মেলন হয় ২০০২ সালে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ এই ফোরামের সদস্য হয়। প্রেস সচিব জানান, দুশানবেতে সম্মেলন শেষে রাষ্ট্রপতি উজবেকিস্তান সফর করবেন। ১৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে আবদুল হামিদের।

সরকারি সার কারখানাগুলোর জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতিতে বাড়ছে গ্যাসের অপচয়

ঢাকা অফিস ॥  সরকারি সার কারখানাগুলোর জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে সার উৎপাদনে বাড়তি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত দুই বছরে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড সার উৎপাদন করেছে ৩ লাখ ১২ হাজার টন। কারখানা দুটি সাড়ে ১৯ হাজার এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার করে ওই পরিমাণ সার উৎপাদন করেছে কারখানা দুটি। অথচ পরিমাণ গ্যাস দিয়ে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার উৎপাদন করা সম্ভব। ওই হিসেবে সার কারখানা দুটিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশই অপচয় হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা গড়ে ২৩-২৫ লাখ টনের মধ্যে থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ১০ লাখ টনের নিচে। বিসিআইসির অধীন সার কারখানাগুলো চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। তবে ইউরিয়া সার দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে ব্যবহার করা গেলে খরচ কমানো সম্ভব। আর বিদেশে থেকে প্রতি টন সার আমদানিতে ১৮০-৩০০ ডলার খরচ হলেও দেশে উৎপাদনে খরচ হবে মাত্র ১০০ ডলার। সেক্ষেত্রে দেশের গ্যাস সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। চলমান কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া ওসব কারখানা সংস্কার করে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সূত্র জানায়, ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডে বর্তমানে দৈনিক ৬৪ দশমিক ৭ এমএমসিএফ বা বার্ষিক ১৯ হাজার ৪১০ এমএমসিএফ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যা দিয়ে দৈনিক মাত্র ১ হাজার ৫০ টন বা বার্ষিক ৩ লাখ ১৫ হাজার টন সার উৎপাদন হচ্ছে। অথচ একটি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সার কারখানায় একই পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন বা বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার উৎপাদন করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাত্র ৩৪ শতাংশ দক্ষভাবে ব্যবহার করছে কারখানা দুটি। বাকি প্রায় ৬৬ শতাংশই অপচয় হচ্ছে।

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সার কারখানাগুলোর সক্ষমতার পরিপূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের দ্বিতীয় ইউরিয়া সার কারখানা ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (ইউএফসিএল) বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৪ লাখ ৭০ হাজার টন। কারখানাটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ১৯৭০ সালে নরসিংদী জেলার ঘোড়াশালের পলাশে স্থাপিত হয়। ৪ লাখ ৭০ হাজার টন সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ২ লাখ টনের কাছাকাছি। আর পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড কারখানাটি চায়না-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নরসিংদী জেলার পলাশে স্থাপিত হয়। ওই ফ্যাক্টরির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। ফলে দুটি কারখানার সক্ষমতা বছরে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৩ লাখ টনের কিছু বেশি।এদিকে এ বিষয়ে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম এবং ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতি. দায়িত্ব) মো. রাজিউর রহমান মল্লিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি একই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সচিব মো. আসাদুর রহমানও।

এবার ডিআইজি মিজানের সম্পদ অনুসন্ধানে মঞ্জুর মোরশেদ

ঢাকা অফিস ॥ পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে এবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে। গতকাল বুধবার সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। ঘুষগ্রহণ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর এই নিয়োগ দেয়া হলো। খন্দকার এনামুল বাছির ২৩ মে কমিশনে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয়, ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদ ডিআইজি মিজানের দখলে রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজের নামে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৯৬ লাখ ৯২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে মিজানের সম্পদ রয়েছে ৯৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার। আর ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানের নামে রয়েছে তার ১ কোটি টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে দলিল মূল্যে ডিআইজি মিজানের সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং ব্যয় পাওয়া গেছে ৮৫ লাখ ১২ হাজার টাকার। আয়-ব্যয় বাদ দিয়ে ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকার। প্রসঙ্গত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে দায়মুক্তি দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার চুক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অডিও রেকর্ড দিয়ে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে এই টাকা দেন তিনি।

 তৈরি পোশাক রপ্তানি উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনা আরো বাড়ানো উদ্যোগ

ঢাকা অফিস ॥  দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে সরকার নগদ প্রণোদনাসহ নানা ধরনের কর অব্যাহতি দিচ্ছে। তারপরও ওই খাতের রপ্তানি উৎসাহিত করতে আরো এক ধাপ নগদ প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে নতুন অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। তাতে রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা বাবদ বার্ষিক খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার কোটি টাকায়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত ৪ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। মূলত শর্ত অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদিত কাপড় ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করার পর দেশে আয় এলে তার ওপর ৪ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া হয়। নতুন বাজারের জন্যও একই হারে প্রণোদনা দেয়া হয়। আগামি বাজেটে তা আরো ১ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিদেশ থেকে কাপড় এনে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করলে তার ওপর কোনো প্রণোদনা দেয়া হবে না। তবে তার বাইরে ইউরোপের বাজারে দেশীয় কাপড় ব্যবহারের শর্তে পোশাক রপ্তানিতে বিদ্যমান ২ শতাংশ প্রণোদনাও বহাল রাখা হচ্ছে। বর্তমানে পোশাক খাতে উৎসে কর ০.২৫ শতাংশ। পোশাকের বিভিন্ন সেবায় ভ্যাট ছাড়ও অব্যাহতি রয়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকার থেকে ৩৫টি রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ওসব রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা দেয়ার ফলে সরকারের বার্ষিক সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। আর পোশাক খাতে যায় তার ৮০ শতাংশ অর্থ। অর্থাৎ তৈরি পোশাক খাতে ব্যয় হয় নগদ প্রণোদনায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আগামি অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা বৃদ্ধির কারণে নগদ সহায়তা খাতে ব্যয় বাড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতেই সরকারের ব্যয় হবে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর সব মিলিয়ে বছরে সরকারের খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। এদিকে ব্যবসায়ীরা কোনো রকম শর্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়ার কথা বলেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পায় না। সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন করে সাড়ে ১৬ শতাংশ প্রণোদনার দাবি করছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি তারা প্রত্যাবাসিত আয়ের ওপর প্রণোদনা দেয়ার কথাও বলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক জানান, বিদ্যমান সুবিধা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য আমরা পোশাক রপ্তানির সব ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা চাই। কারণ নতুন বাজার খুব সীমিত। সেক্ষেত্রে সুবিধা বাড়ানো হলে সেটা খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে না।

দেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ বছর

ঢাকা অফিস ॥  গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষের আয়ু ৭০ দশমিক ৮ বছর আর নারী ৭৩ দশমিক ৮ বছর। ফলে পুরুষের থেকে নারীরা গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর ছিলো। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ৭১.৬, ২০১৫ সালে ৭০.৯, ২০১৪ সালে গড় আয়ু ছিলো ৭০ দশমিক ৭ বছর। ২০১৩ সালে গড় আয়ু ছিলো ৭০ দশমিক ৪ বছর। ২০০৮ সালে গড় আয়ু ছিলো ৬৬ দশমিক ৮ বছর। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্টাটিসটিক্স অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এ চিত্র উঠে এসেছে। আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যানে ভবনে এ প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, নারীদের রোগবালাই কম হয়। তারা উচ্চ রক্তচাপে কম ভোগেন। তাই তাদের গড় আয়ু বেশি। প্রতিবছর বিবিএস ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশ করে থাকে। এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে একজন মানুষের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, আয়ুষ্কাল, বিবাহের মতো অবধারিত বিষয়ের চিত্র ওঠে আসে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিবিএস জানায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগ। মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৯০৯ ডলার। এ ছাড়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। দেশে দারিদ্রের হার কমছে। ক্ষুধামুক্ত দেশ সব খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। এমএসভিএস প্রকল্পের ২০১৮ সালের জরিপে উঠে এসেছে এরকম চিত্র।

সরকার মানবাধিকার বিরোধী – সুলতানা কামাল

ঢাকা অফিস ॥  বাংলাদেশ রাষ্ট্র বা সরকার মানবাধিকারের বিপক্ষে বা বিরুদ্ধে অবস্থান করে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেছেন, আমরা সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলি। কিন্তু রাষ্ট্র বা বর্তমান সরকার আমাদের বিরুদ্ধাচারণ করে। এ থেকেই বোঝা যায় সরকার ‘মানবাধিকারবিরোধী’। গতকাল বুধবার রাজধানীর উইমেন্স ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল এ কথা বলেন। ‘কল্পনা চাকমার অপহরণের ২৩ বছর: ন্যায়বিচারের দাবি ও মামলার বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’ ও ‘বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক’। সুলতানা কামাল বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে যে আচরণের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই আচরণই আমরা দেশের একটি জনগোষ্ঠীর ওপর করছি। এমনকি একই পদ্ধতিতে, যা পাকিস্তান আমাদের ওপর করেছিল। আর যারা হত্যাকা- ঘটায় তারা অবশ্যই ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত থাকে। সেই ক্ষমতা রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো ধরনের হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর করুণ অবস্থা আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেশের মঙ্গলে কোনো সরকার আজ পর্যন্ত তেমন কোনো ভালো কাজ করতে পারেনি। অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন দেখালেও অভ্যন্তরীণ কোনো উন্নয়ন হয়নি। এসব কিছু আমাদের বলেই যেতে হবে। হয়তো একদিন তাদের টনক নড়তে পারে। ‘হিল উইমেন্স ফেডারেশন’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনিরা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য লুৎফুননেছা খান, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাখি দাস পুরকায়স্থ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, লেখক ও সাংবাদিক বিপ্লব রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা, সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ২৩ বছরেও কল্পনা চাকমাকে ফিরিয়ে দিতে পারলো না রাষ্ট্র। নির্বাচনের আগের দিন তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই। সরকার আদিবাসীদের কোনোভাবেই মূল্যায়ন করে না। পার্বত্যাঞ্চলে এখনো বাজারে গেলে তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। এখনো গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে পাহাড়িরা। ২৩ বছরে ৪৩ জন তদন্তকারী অফিসারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কল্পনা চাকমাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অদূর ভবিষ্যতেও এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে দায়িত্বহীন ও হতাশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেওয়া হয়। মাঝে কিছুদিন পাহাড়ে ভালো পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। যেখানে আদিবাসী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। এ সময় কল্পনা চাকমার অপহরণকারীদের বিচার নিশ্চিতকরণসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত কল্পনা অপহরণকারীদের এবং রুপন, সুকেশ, মনোতোষ ও সমর বিজয় চাকমার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা, আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা।

 

গীতিকার সিদ্দিকুর মারা গেছেন

খোকসা প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার সিদ্দিকুর রহমান ডায়মন্ড দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন (ইন্না …রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন। ঈদের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একপুত্র, স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকা ভুক্ত ‘ক’ শ্রেণির গীতিকার ছিলেন।

কুমারখালীতে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ কুমারখালী শাখার উদ্যোগে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ব্যাংক মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মাসুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পপতি আব্দুর রফিক বিশ্বাস, শাজাহান আলী মোল্লা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন। সিনিয়র কর্মকর্তা আবু হাসিবের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল মতিন। সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমিরুল ইসলাম, ইশরাত জাহান, শিক্ষার্থী তাসমিয়া তাবাসুম বুশরা ও আফরোজা আক্তার । অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য খুলনা বিভাগের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের দিক থেকে ব্যাংকের কুমারখালী শাখা দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে।

কালুখালীতে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

ফজলুল হক ॥ গতকাল বুধবার রাজবাড়ী জেলার কালুখালীতে উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠন বিষয়ে জনগণের উদ্বুদ্ধ ও সম্পৃক্ত করণের লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার তাহমিনা আক্তার। বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা খাতুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য আঃ করিম, জামির হোসেন জয়, শেখ মোহাম্মদ ফারুক, শওকত আলী খান, আবু জাফর খান ইউনিয়নের সাধারণ জনগণসহ কালুখালী প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার বলেন- বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার সুফলে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। তিনি বলেন অত্র উপজেলায় একটি বাড়ী একটি খামার, ১০ টাকা কেজি চাউল বিতরণ, নাগরিক সুবিধা, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, মাদকসহ সকল বিষয়ে উপজেলার সকল মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আর সচেতন হলে এসকল বিষয়ে আর কেউ মধ্যস্বত্বভোগী দুর্নীতি করার সুযোগ পাবে না। সর্বপরি তিনি জেলা তথ্য অফিসার কে এরকম আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিন এবং বলেন এসকল বিষয়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও আপনার সমস্যার কথা তুলে ধরবেন।

মুকুল সভাপতি ॥ আবুল কাশেম সাধারন সম্পাদক

বঙ্গবন্ধু পরিষদ  সোনালী ব্যাংক ইউনিটেরে বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক ইউনিটের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মুকুল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাশেম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া প্রধান শাখায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারন সভা শেষে নতুন কমিটির ঘোষনা দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু। এর আগে শুরু হওয়া বার্ষিক সাধারন সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুকুল হোসেন। শুরুতে প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টু টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার সকল নেতাকর্মীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে অনুপ্রানিত সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিননার নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতাকর্মীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সহসভাপতি এ্যাড, নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রণী ব্যাংক কুষ্টিয়ার প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দিন আহমেদ, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠাবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার সদস্য সচিব আবুল কাশেম। বক্তব্য রাখেন যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান বিকাশ, মনিরুল ইসলাম বাবু, সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিবিএ নেতা খন্দকার ওয়াদুদ হোসেন হেলাল, শহিদুল্লাহ শেখ, আদর্শ কলেজের প্রিন্সিপাল আলতাফ হোসেন, অগ্রণী ব্যাংকের সিবিএ নেতা জাহিদুল হক, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সভাপতি শাহিন উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক তুজামউল্লাহ বকুল,তৈয়বুর রহমান প্রমুখ। প্রধান বক্তা বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু বলেন, আজ বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক ইউনিটের সদস্যদের জন্য স্মরনীয় দিন। আজ যে কমিটি ঘোষনা করা হবে সেই কমিটির সদস্যদের সকলকে সাথে নিয়ে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের স্বার্থে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাইবো সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখা তাদের নেতৃত্বের গুনাবলি দিয়ে পুরো ব্যাংক সেক্টরকে নেতৃত্ব দিবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিষদের স্বার্থে কাজ করার আহবান জানান। তিনি জানান-বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল মালেক ও প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় নতুন কমিটির সদস্যরা মনোবল চাঙ্গা রেখে কাজ করে যাবেন বলে আশা রাখি। পরে তিনি ৫১সদস্য বিশিষ্ট সোনালী ব্যাংক কুষ্টিয়া ইউনিটের কমিটি ঘোষনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের সিবিএ নেতা ও  শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খোকসায় বাস উল্টে নিহত-১, আহত-২০

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের খোকসায় বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পরে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ২০ যাত্রী। গতকাল বুধবার সকালে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা পদ্মা-গড়াই পরিবহনের যাত্রীবাহী (ঢাকা মেট্রো ব-১১ ৪৮৪৪) বাসের চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খোকসার শিমুলিয়া গ্রামের কাছে খাদে পরে যায়। স্থানীয় জনতা ও ফায়ার ড্রিগেডের একটি ইউনিটের কর্মীরা দুর্ঘটনা করলিত বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে মোকাদ্দেস আলী (৪০) নামের এক যাত্রীকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত রাধূনী ছিলেন। সে খোকসার কমলাপুর গ্রামের মকছেদ আলীর পুত্র। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ২০ যাত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত যাত্রী মিজানুর ও আহম্মদ জানান, খারাপ রাস্তায় ড্রাইভারের বাসটি খুবই দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিল। যাত্রীরা অনেক বার তাকে সাবধান করেছিল। কিন্তু সে কোন কথা শোনেনি। দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালকের সাথে খোকসা বাসষ্ট্যান্ডে দেখা যায়। তবে তিনি নিজের নাম পরিচয় গোপন করেন। তিনি বলেন, রাস্তার কারণে বাসটির নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুদীপ কুমার দে জানান, মৃত অবস্থায় মোকাদ্দেস কে আনা হয়। এ ছাড়া অন্য আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা খুবই গুরুতর। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাফ্ফারা তাসনীন বলেন- দীর্ঘ দিনেও সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।  এসআই সিরাজুল জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি।

দৌলতপুরে বালি ভর্তি অবৈধ অর্ধশত ড্রাম ট্রাক আটকে দিয়েছে এলাকাবাসী

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পার্শ্বসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ বালি ভর্তি অবৈধ ড্রাম ট্রাক আটকে দিয়েছে এলাকাবাসী। উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা-সোনাইকুন্ডি সড়কের সোনাইকুন্ডি বাজারে গতকাল বুধবার বিকেলে বালি ভর্তি ১০চাকার ড্রাম ট্রাকগুলি আটকে দেয়। অভিযোগ সড়ক ভেঙ্গে খানা খন্দকে পরিণত হওয়ায় ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ট হয়ে এলাকাবাসী ড্রাম ট্রাকগুলি আটকে দেয়। সোনাইকুন্ডি বাজার কমিটির সভাপতি রাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে ড্রাম ট্রাক আটক অভিযান চলে। এলাকাবাসীর দাবি প্রতিদিন শতাধিক ১০চাকার বালি ভর্তি ভারী অবৈধ ড্রাম ট্রাক দৌলতপুরের পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে সরু ও সংকীর্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে খানা খন্দকে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ওইসব অবৈধ ড্রাম ট্রাকের কারনে দূর্ঘটনারও শিকার হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে অনেকের। যার কারণে এলাকাবাসী ড্রাম ট্রাক চলাচলের বিষয়ে কয়েকদফা প্রশাসনকেও জানিয়ে কোন কাজ না হওয়ায় মাইকিং করে গতকাল তারা বিকেলে রাস্তায় নেমে ড্রম ট্রাক আটক অভিযান চালায়। পরে দৌলতপুর যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সন্ধ্যায় আটক হওয়া অর্ধশত ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে ওইসব বৈধ ড্রাম ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচল করলে আবারও আটক করার হুমকি দেয় এলাকাবাসী।

মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ‘মিথ্যাচার’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিবিদদের ব্রিফিং শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মিয়ানমার বলেছে, বাংলাদেশের কারণে নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এ বিষয়ে এক পায়ে খাড়া!” মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তার আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়। গত মে মাসের শেষে জাপানে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনের একটি সেশনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ অসহযোগিতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার বিদেশি কূটনীতিকদের ডেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ব্রিফ করেন  পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার এরকম ‘ডাহা মিথ্যা’ কথা বলে। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে তাদের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু ৮০০ গ্রামের মধ্যে মাত্র দুটির পরিস্থিতি তারা ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। তারা ‘কথা রাখেনি’। মিয়ানমার বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে ‘মিস ইনফরমেশন’ ছড়ায় অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, “তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।” বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। “আমরা বলেছি, আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি।” যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

 

কুমারখালীতে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সহায়ক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কুমারখালী স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টায় ফিতাকেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম উদ্দিন। এর আগে মেলার মঞ্চে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক (উপ সচিব) মৃণাল কান্তি দে, সহকারি পুলিশ সুপার নুরানী ফেরদৌস দিশা, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো: সামছুজ্জামান অরুণ, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম মিজানুর রহমান, মেসার্স রানা টেক্সটাইল ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: এর পরিচালক শাহজাহান আলী মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন, শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ্ উদ্দিন খান তারেক, পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস, এম রফিকুল ইসলাম। সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেছেন, শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে তাঁত শিল্পনগরী খ্যাত কুমারখালীর উদ্যোক্তারা অনুপ্রাণিত হবেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরী হবে।

মোবাইলে ৫ টাকার বেশি লোন নয়

ঢাকা অফিস ॥ কথা বলার জন্য এখন থেকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো গ্রাহকদের ৫ টাকার বেশি ধার বা লোন দিতে পারবে না। বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এ বি এম হুমায়ুন কবির এ কথা জানান। গতকাল বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটরিয়ামে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ বিষয়ে গণশুনানি হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক। গণশুনানিতে গ্রাহকরা মোবাইল সেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। একজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, অপারেটরেরা ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার দিচ্ছে। ধার দেওয়ার পর অল্প করে যতবার টাকা রিচার্জ করা হচ্ছে ততবার টাকা কেটে নেওয়া হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সাধারণত মানুষ জরুরি প্রয়োজনে ধার নেয়। তাই এর পরিমাণ ৫ থেকে ১০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। এর জবাবে এ বি এম হুমায়ুন কবির বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৫ টাকার বেশি ধার না দিতে বলা হয়েছে। রাজকুমার সাহা নামা এক গ্রাহক জানতে চান, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও ন্যূনতম মেয়াদ ৮ দিন করা যায় কিনা? বিটিআরসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছে। পর্যবেক্ষণ শেষে মূল্য ও সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের সেবার মান নিয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেন, টেলিটক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সৌদি টেলিকম আসছে, টেলিটক যাতে আরো উন্নতর হয়। বিটিআরসির হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে প্রায় ২২টি প্রশ্ন এসেছে। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে। এসব অভিযোগের সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আজ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে। গতবছর সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। তিনি টানা ১০বার জাতীয় বাজেট পেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশে রেকর্ড গড়েন। ভ্যাট আইন কার্যকর ও বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল গঠনসহ বেশ কিছু নতুন বিষয় থাকতে পারে এবারের বাজেটে। ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হতে পারে ব্যাংকিংখাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্রসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে। ঘোষণা থাকতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তির। এবারের বাজেটে দেশের জনগণের ওপর নতুন কোন করচাপ তৈরি করতে চান না অর্থমন্ত্রী। এজন্য তিনি এবারের বাজেটে করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেবেন, যাতে করহার না বাড়িয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ করা যায়। এ বিষয়ে তিনি একাধিবার বলেছেন, ‘করের হার বাড়িয়ে কোন ধরনের করচাপ তৈরি হোক, এটা আমি চাই না। বরং করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে চাই।’ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য কানন কুমার রায় জানান, ‘আগামী এক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় করদাতা বাড়ানোর লক্ষে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে এবারের বাজেটে। বেকারদের জন্য প্রথমবারের মত ‘উদ্যোক্তা তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এছাড়া রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষে আগামী বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ থাকতে পারে।’ অর্থ-মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘তৈরি পোশাক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে যেভাবে প্রণোদনা পেয়ে আসছে, আরও কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।’ এদিকে, পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ঋণ ব্যবস্থার প্রস্তাব থাকবে এবারের বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর ১৪ হাজার ৫০০ কোটি,কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হবে ওসি মোয়াজ্জেম – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশের বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাকে ধরা যাচ্ছে না বিষয়টা ঠিক না। সে দেশেই আছে, যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হবে। গতকাল বুধবার কারা অধিদফতরে উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং ২০১৯ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ধরা যাচ্ছে না বিষয়টা ঠিক না। তার বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সে দেশেই আছে। আর যে কোনো মুহূর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়া আলোচিত পুলিশের ডিআইজি মিজান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিআইজি মিজান ঘুষ কেন দিয়েছে? নিশ্চয়ই তার কোনো দুর্বলতা আছে। তা না হলে সে ঘুষ কেন দেবে? দুর্বলতা ঢাকতে সে ঘুষ দিয়েছে। ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই অপরাধ। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এখনও প্রক্রিয়াধীন। এমনিতেই ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলছে। এর মধ্যে আবার ঘুষ কেলেঙ্কারি। এ কেলেঙ্কারি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামাতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেগম রওশন আরা মান্নানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের জনগণের কল্যাণে এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সংস্থা। কমিশন নিরপেক্ষভাবে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে। বর্তমানে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দফতরে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসছে। দুদক প্রাতিষ্ঠানিক টিমের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দফতরের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির স্বরূপ এবং কারণ উদ্ঘাটন করে তা প্রতিরোধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দফতরে সুপারিশ প্রেরণ করে। ফলে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় বা দফতরসমূহ তাদের প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে। দুদকের এরূপ কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দফতরে দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধে কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে। এ কর্মকৌশলের আওতায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণশুনানি আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি; ‘স্কুল-কলেজের সততা সংঘ’ গঠন এবং ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে । এসব ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে সাধারণ জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে দুর্নীতি প্রতিরোধে গ্রহণ করা যাবতীয় ব্যবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

ছাত্রদল নিয়ে বিএনপি উভয় সংকটে – গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ বয়সসীমা নির্ধারণ না করে চিরাচরিত ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন ও কমিটি নিয়ে বিএনপি উভয় সংকটের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। ছাত্রদলের আন্দোলন ও কমিটির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটা নিয়ে আমরা উভয় সংকটে। এই যে ওরা (ছাত্রদলের নেতাকর্মী) দীর্ঘদিন জেল খাটলো, মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো, অথচ ওদের অবদানের বিনিময়ে ওরা কী পাবে? ওদের কী মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও না। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না। তিনি বলেন, ছাত্রদল বিরাট একটি সংগঠন। এই সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ঐতিহ্য আছে। তবে অতীতের মতো ওদের আন্দোলনের ধারাবাহিক ঐতিহ্যটা নেই। কিন্তু তারপরও তারা প্রচেষ্টা করে। ছাত্রদলের কার্যক্রমের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ছাত্ররা কোথায় থাকবে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর তারা ক্যাম্পাসে যেতে পারে না। তাই তাদের কর্মকান্ডটা ক্যাম্পাসভিত্তিক কিংবা ছাত্রদের নিয়ে কর্মকান্ডটা তারা করতে পারছে না। ছাত্রদলের নিয়মিত কাউন্সিল হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউন্সিল হওয়ার মতো হয়তো পরিস্থিতি নেই, যে কারণে আমাদের কাউন্সিলগুলো বিলম্বিত হয়। এ কারণে অনেকের ছাত্রত্ব থাকে না। আর কাউন্সিল নিয়মিত হলে ছাত্ররা তাদের অবদান অনুযায়ী পুরস্কৃত হয়। ছাত্রদলের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১১ জুন) যেটা হয়েছে, সেটাকে আমি অস্বাভাবিক মনে করি না। কারণ বড় বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনে প্রতিযোগিতাগুলো অনেক সময় প্রতিহিংসারও রূপ নেয়। সুতরাং এটাকে বড় করে বা নেতিবাচক করে দেখার কিছুই নেই। তবে এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে- সেটা হলো, ওদের বোঝানো এবং এই বিষয়টা স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। আর তাদের মূল্যায়ন কিভাবে করা যায়, তা আমরা করবো। তাই আমি সবাইকে বলবো, এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেন। বিএনপি একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গয়েশ্বর বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলবো, উনি যেন নিজের চরকায় তেল দেন, তার চেহারাটা আয়নায় দেখুন। কারণ আমার সংগঠনকে তিরস্কার করে তার সংগঠনের দূরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সুতরাং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের ঘর গোছানোর কাজটা আগে করুন। ছাত্রদলের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী  কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা তাদের কথাগুলো শুনবো এবং সেই কথাগুলো শুনে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো। আমি বিশ্বাস করি, ওরা এটা বুঝবে। সুতরাং ওদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা এটার সমাধান করবো। প্রশ্ন উঠেছে যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপির কী লাভ হলো- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন কোনো দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব করার সময় নয়। আর আমি যদি দলীয় লাভের হিসেব করি তাহলো তো ঐক্য হবে না। কবে নাগাদ বিএনপি মাঠে নামবে- জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা তো মাঠে নামি। কিন্তু আমাদের মাঠে নামাটা নামার মতো কেউ দেখেনি। সেই দেখানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বিএনপির জন্ম বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে। আর যদি ঐক্য নাও হয়, তাহলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে? তাহলে তো জনগণের দল হিসেবে বিএনপি দায়িত্বশীল দল হলো না।আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতোটা সংগঠিত- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো সময় কোনো দল শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে এবং শতভাগ দল গুছিয়ে আন্দোলন করে না। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দলটা গুছিয়ে আসে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ নেই- ক্ষমতাসীন দলের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, আমরা মনে করি, আমার দেশে আমি বাস করি। সুতরাং আমার দেশের সমস্যা আমাকেই সমাধান করতে হবে।