কালুখালীর কালিকাপুর ইউপিতে আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটোর নির্বাচনী গণসংযোগ

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ১৮ জুন কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো) গণসংযোগ করেছেন। বিকাল ৪টায় কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কালুখালী জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের, জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু, কালিকাপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান, প্রভাষক বজলুর রশিদ, কালিকাপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন বাচ্চু, ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন, হাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক আয়ুব আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর রুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, ইউপি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজির হোসেন সহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো) বলেন, পারিবারিক ইতিহাসে আমার পরিবার ইতোপূর্বে অত্র এলাকায় সুনাম রয়েছে। জনগণ আমার পরিবার ও আমাকে ভালোবেসে থাকলে অবশ্যই আমার নির্বাচনী প্রতীক আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে আমারকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে। আমি নির্বাচিত হলে এই কালিকাপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার সকল মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাবো।

 

রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে – বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা  অফিস ॥ রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বাজারে রফতানি করা বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য- তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ওষুধ, আলু এবং সবজির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে বর্তমানে রাশিয়ায় কিছু পরিমাণে তৈরি পোশাক, পাট, হিমায়িত চিংড়ি এবং আলু রফতানি হলেও এর মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। গত শুক্রবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) সদরদফতরে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ‘মেমোরেনডম অব করপোরেশন বিটুইন দি ইউরেশিয়া ইকোনোমিক কমিশন অ্যান্ড দি গভর্নমেন্ট অব দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কথা বলেন। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের পক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রী পদমর্যাদার কমিশনটির বোর্ডের সদস্য মিজ তাতিয়ানা ভলোভিয়া। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বাজারে রফতানি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় এবং রাশিয়া ইইসি’র আওতায় গঠিত কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় এককভাবে রাশিয়ার পক্ষে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়াসহ ইইসিভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি বাজার সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার লক্ষে প্রস্তাবিত সহযোগিতা চুক্তিটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া এই সহযোগিতা চুক্তির আওতায় একটি মেমোরেনডম অব করপোরেশন গঠিত হবে। যার মূল ভূমিকা হবে বাংলাদেশ ও ইইসি’র মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিহ্নিত ১৯টি সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করা। এর ফলে রাশিয়াসহ ইইসি দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। টিপু মুনশি বলেন, স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিটি কার্যকর করার লক্ষ্যে অতিদ্রুত উভয় দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সহযোগিতার অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরেশিয়ান ইকোনোমিক কমিশনের সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এছাড়া ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেশন অব চেম্বারস অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিজনেসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন। সভায় রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সম্ভাবনা এবং কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাবে। জানা গেছে, পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের (রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, আরমেনিয়া এবং কিরগিজস্তান) সমন্বয়ে ইউরেশিয়া ইকোনোমিক কমিশন গঠিত। যা ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

গেল মাসে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড

ঢাকা অফিস ॥ এবারের ঈদের আগে যে পরিমাণ অর্থ প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন, তা আগে কখনও আসেনি। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশে, তা মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম রেমিটেন্সে রেকর্ড হওয়ার তথ্য জানিয়ে গতকাল সোমবার বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ এমনিতেই ভালো ছিল। রোজা এবং ঈদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই রেমিটেন্স বাড়ছে। চলতি অর্থ বছর (২০১৮-১৯) শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন (১ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। যদি তা হয়, তাও বছরের হিসাবে রেমিটেন্সের নতুন রেকর্ড হবে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি ছিল। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো। রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গতকাল সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। গত ৭ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে মূলত রেমিটেন্স বাড়ার কারণে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গতকাল সোমবার প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। এর বছর আগে ৩১ মে ডলার-টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ৭০ পয়সা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মমতাজউদদীন আহমদকে শেষ শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মমতাজউদদীন আহমদের জানাজায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, নাট্যকার, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজা শেষে প্রয়াত মমতাজউদদীন আহমদের মরদেহে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে দুই সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে গত রোববার না-ফেরার দেশে চলে যান কিংবদন্তি নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ। প্রথিতযশা এ নাট্যকার দীর্ঘ ৩২ বছরের বেশি সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেছেন। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আসা দেশের ব্যক্তিরা তাঁকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেছেন, জানিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ নাট্যকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের তাঁকে পথিকৃৎ বলা যায়। তিনি পথ দেখিয়েছেন মঞ্চনাটকে, অভিনয়ে, নাটক রচনায়। শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুণীজনদের কর্ম ও জীবন সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তিনি (মমতাজউদদীন) ছিলেন অত্যন্ত সাদালপী। নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। মঞ্চনাটক রচনায় যে পথ তিনি দেখিয়েছেন দেশের নাট্যাঙ্গন তাকে অনুসরণ করবে, অনুকরণ করবে- এটাই আমরা আশা করি। তার মৃত্যুতে আমাদের হিউজ লস হয়ে গেল, তিনি ছিলেন একটা বিগ অ্যাসেট। তার মৃত্যুর ক্ষতি সহজে পূরণ হবে না। বিরল প্রতিভার অধিকারী ভাষাসংগ্রামী এই নাট্যকার ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সাধাসিদে। এসময় ‘শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে’ কীর্তিমান ব্যক্তিদের স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের পক্ষ থেকে তাদের কর্মকান্ড আর্কাইভ করে রাখার দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আর্কাইভ অধিদপ্তর আছে। বিষয়টি যাতে কার্যকর থাকে- এ ব্যপারে আমি অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রো ভিসি মুহাম্মদ সামাদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, রামেন্দু মজুমদার, রহমতুল¬াহ, খায়রুল আলম সবুজ ও সালাউদ্দিন লাভলু এ সময় সেখানে ছিলেন। অভিনেতা ও নাট্যকার সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ওনার যে কর্ম, ওনার যে সৃষ্টি, এবং ব্যক্তিগত জীবনে উনি একেবারেই অন্যরকম স্বতন্ত্র একজন মানুষ ছিলেন। খুব সহজেই আলাদা করে ওনার কাজ চোখে পড়তো। সাংস্কৃতিক সংগঠক ম. হামিদ মমতাজউদদীন আহমদকে সব নাট্যকর্মীর শিক্ষক অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু কলেজের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি সমস্ত নাট্যকর্মীরই সাধারণ শিক্ষকে পরিণত হয়েছিলেন। আরেক অভিনেতা কে এস ফিরোজ বলেন, মমতাজউদদীন আহমদকে কিছু বলে বোঝানো যাবে না। উনি একজন অসাধারণ নাট্যকার। পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাজউদদীন আহমদের ছেলে তিতাস মাহমুদ বাবাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সবার উদ্দেশে বলেন, পারিবারিকভাবে মনে করি আমার বাবা অত্যন্ত সফল বর্ণিল এবং বর্ণাঢ্য একটা জীবন পেয়েছেন। সেই জীবন পাওয়ার জন্য আপনারা সবাই সহযোগিতা করেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন, আপনাদের সবার কাছে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশিষ্ট নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ। রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়ার সময় রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে যুক্ত হওয়া মমতাজউদদীন শিক্ষকতার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটিতে একজন উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করেন। তার রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’।

ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, বরং এবার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, সম্ভবত আর মাত্র একদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার প্রতি রইল আগাম ঈদের শুভেচ্ছা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ হবে এবার। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার। কারণ, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। কারণ, গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আপসহীন প্রত্যয়দৃঢ়, অকপট ও প্রতিবাদী দেশনেত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যই বন্দি করে রাখা হয়েছে একটা চিরস্থায়ী জমিদারি শাসন কায়েম রাখার জন্য। এ পরিস্থিতিতে একদলীয় বাকশালী সরকারের কবলে পড়ে দেশ এখন এক চরম নৈরাজ্যজনক অবস্থার মধ্যে নিপতিত। তাই বেশির ভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। এ ছাড়া ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঘরে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। বেশির ভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং তাঁদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকরা এখনো বেতন-বোনাস পাননি। তাঁদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসীর টাকা আসত বাংলাদেশে, এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। তাঁদের কোনো কাজ নেই, আয়ও নেই। তাঁদের ঘরেও ঈদের আনন্দ নেই। শেয়ারবাজার বারবার ধসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজিসহ সব নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাঁদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তাঁরা বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া অথবা কারাগারে, তাঁদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বলছিলেন রিজভী আহমেদ। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান দুঃশাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার, নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার, তাদের পরিবারেও ঈদের আনন্দ নেই। সুতরাং স্বস্তির ঈদ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও নির্যাতিত মানুষদের প্রতি ইতিহাসের সেরা তামাশা। সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নিম্ন আদালত থেকে ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে সরকার জঙ্গিদমনের নামে যা করছে তা পরিকল্পিত নাটক কি না তা নিয়ে। রিজভী বলেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেছেন-গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন পলাতক রয়েছেন। ২০১৬ সালের ওই হামলার পর গ্রেফতার ৫১২ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০০ জন জামিনে রয়েছেন। জামিনে থাকা জঙ্গিদের মধ্যে অধিকাংশ এখন পলাতক। র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনে জাতি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। তিনি বলেন, জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? আমরা জানি নিম্ন আদালত সম্পূর্ণরূপে সরকারের করায়ত্ত্বে! গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। তাহলে জঙ্গিরা কিভাবে জামিন পান? সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকারের লেখা বইয়ের বক্তব্য প্রত্যাহার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিষ্কার। এর আগে কখনো আদালতকে ব্যবহার করে আবার কখনো গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে মুক্তমনের বিবেকবান কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এমপি অধ্যক্ষ  সোহরাব উদ্দিনের পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥  গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া সদর আসনের  সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন ও বিশিষ্ট পরিবহন ব্যবসায়ী শিহাবউদ্দিনের পিতা মরহুম হাজী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ও মাতা মরহুম আছিয়া বেগম স্মরণে ইফতার ও  দোয়া মাহফিল  অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরতলী পুরাতন আলফা মোড়ে পশ্চিম মজমপুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসাতুল আবরায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বড় মসজিদের সাবেক  পেশ ইমাম, পশ্চিম মজমপুর জামে মসজিদের সভাপতি সিহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম,  কোষাধ্যক্ষ তারেক, পেশ ইমামসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মওলানা হাফেজ ইবাদুর রহমান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ঢাকা অফিস ॥ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার ইংল্যান্ডের ওভালে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩০ রান করে তাদের ২১ রানে হারায় বাংলাদেশ। ই জয়ের পর সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার রাতে মক্কায় ওমরাহ পালনের পর গত রোববার মদিনায় গিয়ে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর রওজা জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। মদিনা থেকে জেদ্দায় ফিরে ফিনল্যান্ড গেছেন তিনি। ফিনল্যান্ড সফর শেষে ৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতি উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত  হয়েছে । গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া  প্রেসক্লাবের আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক আজকের সূত্রপাত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আক্তার হোসেন ফিরোজসহ বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেক্রেটারিসহ নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য ও  সাংবাদিকবৃন্দ। ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে মহান আল্লাহর কাছে নাজাতের জন্য মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। কুষ্টিয়া  প্রেসক্লাবের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং সকল সদস্য উপস্থিত থেকে  মহান আল্লাহতালার কাছে রমজান মাস নাজাতের এই শেষ  দশদিনে আমরা পেতে পারি মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আ.ফ.ম নূরুল কাদের। নাজাতের দশ দিন হাজার মাসের  থেকে বেশী নেকী অর্জনের দিন।

আলমডাঙ্গায় দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময় ও বদ্ধভূমি পরিদর্শনে এমপি ছেলুন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার  দিকে আলমডাঙ্গায় দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে সৌজন্য মতবিনিময় করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক  জোয়ার্দার ছেলুন। তিনি আলমডাঙ্গা বদ্ধভূমির সেডের নির্মান কাজ পরিদর্শন শেষে নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। উপজেলা আওয়ীলীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের উপস্থাপনায়  অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, সাবেক ছাত্র নেতা এ্যাডঃ বিল্লাল হোসেন, উপজেলা  ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার সালমুন আহম্মেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, থানা অফিসার ইনচার্য মুন্সি আসাদুজ্জামান, কুমারি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, পৌর কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সদস্য মতিয়ার রহমান ফারুক, প্রেসক্লাবের সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হামিদুল ইসলাম আজম, যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু, টগর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা, সাকিব, সৈকত, হাসান, সুরুজ, রকি, হাসান, সজিব, পিয়াস, রোমান প্রমুখ।

দৌলতপুরে এমপি’র উপস্থিতিতে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশার উপস্থিতিতে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলার ফিলিপনগর খাদেম দারোগার মোড়ে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী, দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সজিব আল মারুফ, দৌলতপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন, কৃষক প্রতিনিধি দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার তৌহিদুল ইসলাম, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক কবিরাজ ও মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর, আদাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনসহ স্থানীয় কৃষক। গতকাল ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে ১২মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এরআগে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে ৮৫ মেট্রিক টন ধান কাছ থেকে ক্রয় করা হয়। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত মোট ৯৭ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে মোট ১৩৯ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে।

স্যুটকেসে পাওয়া গেল ব্যবসায়ীর মাথা-পা বিহীন লাশ

ঢাকা অফিস ॥ টাঙ্গাইলে স্যুটকেসের ভেতর থেকে নিখোঁজ এক ব্যবসায়ীর মাথা ও পা বিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাজীপুর মহিলা মাদ্রাসার পাশ থেকে স্যুটকেসটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মহর আলী (৪০) টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াবুচনা গ্রামের মৃত জামাল বেপারীর ছেলে। মহর বেড়াবুচনা বউ বাজারে ‘ফাহিম ফার্নিচার’ নামে একটি দোকান চালাতেন বলে তার চাচাতো ভাই ইয়ারুল ইসলাম জানান। ওসি বলেন, গত রোববার বিকাল থেকে মহর আলী নিখোঁজ ছিলেন। সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাজীপুর মহিলা মাদ্রাসার পাশে একটি স্যুটকেসের ভেতর তার লাশ দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। মৃতদেহের দেহ থেকে মাথা ও দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। মাথা ও পা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্ততি চলছে বলে ওসি জানান।

ড. মোফাজ্জেল হকের হাত থেকে ঈদবস্ত্র পেয়ে অসহায় মানুষের অভিব্যক্তিআল্লাহ আপনাকে বাঁচাইয়া রাখুক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুস্থদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, দৌলতপুরের মাটি ও মানুষের প্রিয় সন্তান ড. মোফাজ্জেল হক। তিনি গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে এসব বস্ত্র বিতরণ করেন। ঈদের আগ মুহুর্তে এমন সহায়তা পাওয়ায় খুঁশি এসব অসহায় মানুষ। বস্ত্র পেয়ে উপস্থিত অসংখ্য মানুষ মোফাজ্জেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন এলাকায় অনেক মানুষই তো রয়েছে সবাইতো আর এমন উপকারে আসেনা। সবাই যদি এমন হতো তাহলে আমারা এমন বস্ত্র কষ্টে থাকতাম না। আল্লাহ আপনাকে দান করার ক্ষমতা দিয়েছে। আল্লাহ আপনাকে অনেক দিন বাঁচাইয়া রাখুক।

এসময় ড. মোফাজ্জেল হক বলেন আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি মানুষকে সহায়তা করার। আল্লাহ তৌফিক দিলে এভাবেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

এসময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগনেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

এক দিনের জন্য হলো না টানা ৯ দিনের ছুটি

ঢাকা অফিস ॥ দুই সরকারি ছুটির মধ্যে এক দিন অফিস খোলা থাকায় ঈদের আগে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে ছুটির আমেজ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আনেকেই গতকাল সোমবার অফিস করেই বাড়ির পথ ধরেন বলে জানা গেছে। আর, যারা শেষ কর্মদিবসে ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন, তাদের ‘জরিমানা’ হিসেবে আগের তিন দিন ছুটির খাতায় যুক্ত হয়েছে। তাই এবার শেষ দিন ছুটি কাটানো চাকরিজীবীর সংখ্যা নিতান্তই কম। এবার ঈদের ছুটির আগে ও পরে সাপ্তাহিক ছুটি, লাইলাতুল কদরের ছুটির মধ্যে পড়েছে একটি কর্মদিবস। ৩ জুনের এই দিনটি ছুটি হলে টানা নয় দিনের ছুটি মিলতো সরকারি চাকরিজীবীদের। শবে কদরের ছুটির আগে ৩১ মে ও ১ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২ জুন গত রোববার শবে কদরের ছুটি ছিল। কিন্তু, গতকাল সোমবার অফিস করতে হয় চাকুরেদের। রোজা ২৯টি হলে এবার ঈদ হবে আগামীকাল বুধবার (৫ জুন)। আর ৩০টি হলে ঈদ হবে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ জুন)। ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) থেকে। ৫ তারিখ ঈদ হলে ছুটি থাকবে ৪, ৫ ও ৬ জুন অর্থাৎ মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতি। এরপর শুক্র ও শনিবার অর্থাৎ ৭ ও ৮ জুন দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি। আর ৬ জুন ঈদ হলে ঈদের ছুটি একদিন বেড়ে ৭ জুন পর্যন্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ঈদের ছুটি হবে ৪, ৫, ৬ ও ৭ জুন। অর্থাৎ ৭ জুনের ঈদের ছুটি পড়বে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রইছ উদ্দিন বলেন, দুই সরকারি ছুটির মধ্যে যারা ছুটি নেন, তাদের ছুটি আগের বা পরের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হবে। তাই এ দফতরের কেউ গতকাল সোমবার ছুটি নেননি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার শেষ কর্মদিবসে ছুটি নেওয়াদের তালিকা একেবারেই কম। তথ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, একদিন ছুটি কাটালে আগের তিন দিনের সঙ্গে যোগ হবে। এজন্য অল্প লোকই ছুটি নিচ্ছেন। তবে, ছুটি না নিলেও অনেকে অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যাবেন। কারণ শেষ দিন কাজ কম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দফতরে উপস্থিতির সংখ্যা অন্য দিনের মতোই। শেষ দিন অফিস করছেন তারা। সাধারণত, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিন (প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় হচ্ছে না) দর্শনার্থীদের পাস বন্ধ থাকে। ফলে সচিবালয়েও তেমন ভিড় নেই।

আ. লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় – তোফায়েল

ঢাকা অফিস ॥ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ভোলা সদর আসনের সংসদ সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে হয় লুটপাট। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে নদী ভাঙনরোধে টাকা এলেও কাজ হয়নি। ভোলার নদী ভাঙনরোধে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমদোনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি পাস হলে ভোলা স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। মেঘনার পাড়ে গড়ে তোলা হবে পর্যটন কেন্দ্র। গতকাল সোমবার ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে ঈদবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণে বিদেশি অর্থায়নের জন্য বিভিন্ন দেশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অর্থ সংগ্রহ হলেই স্বপ্নের এ সেতুর কাজ শুরু হবে। এটি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক পথে বরিশাল হয়ে ঢাকা যাওয়া যাবে। গ্রামে গ্রামে এখন আর অভাব নেই উলে¬খ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকারের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ¬ব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ।

ঈদ শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে  দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিপণন কর্মী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।

-সম্পাদক

সৌদি থেকে ফিনল্যান্ডে গেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের শেষ গন্তব্য ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন। তিনি পাঁচদিনের এক সরকারি সফরে সেদেশে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে লুফথানসা এয়ারের একটি বিমান বেলা ১টা ১০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ফিনল্যান্ডের হেলসিনকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের হেলসিনকি যাওয়ার পথে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় চারঘন্টার যাত্রাবিরতি করেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে তিনদিনের এক সরকারি সফর শেষে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আর্ন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিনল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ফিনল্যান্ডে সফরকালে শেখ হাসিনা ৪ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর সাথে বৈঠক করবেন। ৭ জুন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিনল্যান্ড ত্যাগ করবেন। পরের দিন তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ২৮ মে প্রধানমন্ত্রী টোকিও’র উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সফরের প্রথমভাগে তিনি জাপান সফর করেন। শেখ হাসিনার চারদিনের জাপান সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে দু’দেশের মধ্যে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জাপানে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ শীর্ষক নিক্কেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, তাঁর সম্মানে আয়োজিত একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি ভোজসভায় অংশ নেন। এছাড়াও এ সফরকালে হলি আর্টিজেনের ঘটনায় নিহত জাপানী নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা পৃথকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। ৩১ মে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবের উদ্দেশে জাপান ত্যাগ করেন। তিনি মক্কায় ১৪তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন ২০১৯ তে অংশ নেন। তিনদিনের সৌদি আরব সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মক্কায় ওআইসি ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনে যোগ দেন, পবিত্র ওমরা পালন করেন এবং মদিনায় মহানবী হজরত মুহম্মদ সা. এর রওজা মুবারক জিয়ারত করেন।

পরিবহন মালিকদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সড়কে ও পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা নেই। এটা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের চ্যালেঞ্জ। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। জনগণ ভুক্তভোগী। আমরা এটার প্রতিকার করব। পরিবহন মালিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে যানজট ও জনজট এখন দুর্বিষহ। ঢাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা চলছে। বছরের পর বছর ধরে এটা চলতে পারে না। তবে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা জনগণকে কথা দিয়েছিলাম এবার ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করব। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছি। এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে মাত্র চার ঘণ্টায় যাতায়াত করা যায়। এটা আগে কল্পনাও করা যেত না। এটা অবশ্যই আমাদের সাফল্য। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলেই মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক হয় না। পরিবহন সেক্টরেরও শৃঙ্খলা প্রয়োজন। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এবং আমার কাছে যতটা খবর আসে তাতে মনে হচ্ছে, পরিবহন সেক্টরে কোনো শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ নেই। পরিবহন মালিকরা শুধু ঢাকাতেই নয়, জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। তাদের লোভ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যদিও এখানে প্রভাবশালী বক্তিরা জড়িত থাকায় এটা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়, তবে আমরা অবশ্যই এসব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনব। ঈদের পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকাকে নিয়ে আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মরহুম মেয়র আনিসুল হক এ বিষয়ে একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। ঈদের পর আমরা ঢাকা মহানগরের সড়ক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে নিয়ে বৈঠকে বসব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিঙ্গাপুর, টোকিওসহ উন্নত রাষ্ট্রের শহরগুলোর সড়কে আমাদের চেয়েও বেশি গাড়ি চলে। তবে সেখানে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় কোনো ধরনের যানজট তৈরি হয় না। যত বিশৃঙ্খলা আমাদের ঢাকা শহরে। যানজটমুক্ত নগরী গড়তে আমাদের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক ও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা বিএনপির চরম ব্যর্থতা বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। কাদের সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনাদের দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে বন্দি। আপনারা তাঁর মুক্তির জন্য রাজনৈতিকভাবে কী কর্মসূচি পালন করেছেন? আপনারা সরকার ও আদালতের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করতে পেরেছেন? আপনারা কি চরমভাবে ব্যর্থ নন? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠায়নি। আদালতের রায়ে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে আমার জানতে ইচ্ছে করছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা কী করছেন? অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি কোনো উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক স্পেস পাচ্ছে। তাদের কোনো কর্মসূচি পালনের বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তারা স্বাধীনভাবে সব ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কোনো সক্ষমতা আছে কি না, এটা নিয়েই আমার প্রশ্ন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা রাজনীতি থেকে বিদ্বেষমূলক শব্দগুলো পরিহার করতে চাই। বিদ্বেষের রাজনীতি ত্যাগ করে গঠনমূলক ইতিবাচক রাজনীতির ধারা চালু করতে চাই। এতে বিরোধী দলেরও এগিয়ে আসা উচিত।

 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে দিশা টাওয়ারে গতকাল ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের চৌধুরী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিডিএলজি মৃনাল কান্তি দে, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল কাদির, মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন,  ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সহ-সভাপতি মোকারম, দিশা টাওয়ারের পরিচালক রবিউল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস  চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম : কার্ডধারীরা পেয়েছে ৮ কেজি করে

দৌলতপুরে ভিজিএফ’র চাল নেতা-কর্মীদের বাড়িতে

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরিদ্র অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দরিদ্র অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দের এ চাল আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হয়েছে। আর ভিজিএফ কার্ডধারী অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে মাত্র ৭-৮কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এতে ভিজিএফ কার্ডধারীসহ সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৌলতপুরে এবছর জনপ্রতি ১৫কেজি করে ১১হাজার ২৭৭ জন দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ভিজিএফ কার্ডধারীর জন্য ১৭৯.১৫৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়। সে লক্ষে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজ নিজ ইউনিয়নের চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান। চাল বিতরণকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাদের শতকরা ৩০ ভাগ চালের কোটা দাবি করে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানবৃন্দ দলীয় কোটার ৫০ মেট্রিক টন ভিজিএফ’র চাল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বাঁকী চাল জনপ্রতি ৭-৮ কেজি করে দরিদ্র অস্বচ্ছল ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে সরবরাহ করেন। এনিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, আমরাও আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান। তারপরও ভিজিএফ’র চাল ৩০% দলীয় নেতা-কর্মীদের দিয়ে বাঁকী চাল দরিদ্র কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করছি। এদিকে রবিবার সকালে উপজেলা বাজার এলাকা দিয়ে ৪-৫টি ভ্যান ভর্তি হয়ে ভিজিএফ’র চাল স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে। সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভিজিএফ চাল বিতরণ সংক্রান্ত সভায় দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি’র প্রতিনিধি সরদার তৌহিদুল ইসলাম ভিজিএফ’র চালের ৩০% কোটা দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য বরাদ্দ করে নেন। মোট বরাদ্দ থেকে ৫০.০৭ মেট্রিক টন চাল দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য অবৈধভাবে জোর করে বরাদ্দ নেওয়ার কারনে ভিজিএফ কার্ডধারীদের প্রাপ্ত বরাদ্দ কমে যায়। যার কারনে ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে জনপ্রতি ৭ কেজি থেকে ৮ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হয়। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা গ্রামের রমেজান নামে এক বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে মাত্র ৭ কেজি চাল দিয়েছে। একই অভিযোগ করে গোয়ালগ্রামের দাউদ হোসেন নামে এক ভিজিএফ কার্ডধারী ব্যক্তির। রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু চাল কম দেওয়ার দায় স্বীকার করে বলেন, ভিজিএফ কার্ডধারী সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ ভিড় করলে কার্ডধারীদের চাল কম দিয়ে বিনা কার্ডের মানুষের মাঝে তা সরবরাহ করা হয়েছে। ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, আমার কাছে এমন অভিযোগ এসেছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরে রবিবার রিফায়েতপুর ইউনিয়নে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়ে ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে ১৫ কেজি করে চাল বিরণ করা হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ দলীয় কোটার ৩০% চালের বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঈদুল ফিতর মুসলিম সমাজের অনণ্য একটি শিক্ষা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। আজ সেই ঈদের দিন আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। পুরো রোজার মাস শেষে মুসলিম সমাজে ঈদের আগমন অন্য রকমের একতটি অনুভুতি ও শিক্ষা দিয়ে যায়। এই অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ঈদের শিক্ষায় আমরা যদি আমাদের জীবন সত্যিকারের মুল্যায়িত করতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ এই বিশ্ব পরিমন্ডল সব কিছুই সরল গতিইে এগিয়ে যেত। থাকতো কোন ভেদাভেদ, কোন মনোমলিন্য ও দুঃখ কষ্টে বালাই। ঈদ ইসলামের দু’টি প্রধান অনুষ্ঠান। ঈদের শুরু কিভাবে হয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দু’টি ঈদের শুরু হলো এভাবে- যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় গেলেন, তখন তিনি দেখলেন যে তারা দু’টি অনুষ্ঠান পালন করে। সেই দু’টি অনুষ্ঠান বদলে দিয়ে তিনি এ দু’টি ঈদের ব্যবস্থা করলেন। একটি হলো সফলভাবে রোজা শেষ করার আনন্দ। আরেকটি হচ্ছে হজের যে অনুষ্ঠান, যাতে বিশ্ব মুসলিম শরিক হচ্ছে মক্কায় তারই পাশাপাশি সারা বিশ্বের মুসলিমদের যুগপৎভাবে ঈদ পালন। অর্থাৎ মক্কায় হজ হচ্ছে এবং সারা দুনিয়ায় ঈদ উৎসব হচ্ছে। আবার এর সাথে ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। হজরত ইব্রাহিম আ: কে তার ছেলেকে কোরবানি করতে বলে আল্লাহ তায়ালা যে মহা পরীক্ষা করেছিলেন, সেই পরীক্ষায় তাঁর যে বিজয়, সেটাকে সামনে রেখে এ ঈদের ও হজের অনুষ্ঠান করা হলো।

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, রাসূল সাঃ ওই দু’টি অনুষ্ঠান বদলে দিলেন কেন? আগের অনুষ্ঠানগুলোর ভিত্তি ছিল পারস্যের অনুকরণে। পারস্য তৎকালীন অন্যতম সুপার পাওয়ার ছিল। তাদের জাতির মধ্যে ওই অনুষ্ঠানগুলো ছিল। এসব অনুষ্ঠান মূলত কিছুটা প্রকৃতি ভিত্তিক ছিল। সে কারণে রাসুল সাঃ এসব অনুষ্ঠান তেমন পছন্দ করেননি। এ অনুষ্ঠানগুলোতে প্রকৃতিকে বেশি সম্মান দেখানো হচ্ছিল। সে জন্য তিনি এ পরিবর্তনটি করলেন। এর থেকে আমাদের মনে রাখতে হবে যে মুসলিমদের  যে অনুষ্ঠানমালা হবে, তাতে এ মূলনীতিই খেয়াল রাখা উচিত।

ইসলাম আনন্দ উৎসবকে স্বীকার করেছে। যেমন রাসূল সাঃ এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে নতুন কোনো অনুষ্ঠান চালু নাও করতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে তাদের ওই দু’টি অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বিকল্প দু’টি নতুন অনুষ্ঠান দিয়েছেন। এ থেকে আরেকটি নীতি পাওয়া যায়, তা হলো- মানুষের যে সত্যিকার প্রয়োজন সে প্রয়োজনকে উপলব্ধি করতে হবে, স্বীকার করতে হবে এবং মানতে হবে। তা করতে গিয়ে যদি দেখা যায়, প্রচলিত পদ্ধতিগুলো ভালো নয়, তাহলে তার বিকল্প দিতে হবে। রাসূল সাঃ এ কার্য থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তার বিকল্পও দিতে হবে। এ বিষয়ে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। আজকে মানুষের মধ্যে আনন্দের যে প্রয়োজন রয়েছে, তা রাসূল সাঃ স্বীকার করেছিলেন। স্বীকার করেই তিনি এ দু’টি অনুষ্ঠান দেন এবং তার নাম  রেখেছেন ‘ঈদ’ তথা আনন্দ, উৎসব। তিনি অন্য নাম রাখতে পারতেন। অথচ তিনি ঈদ নাম রাখলেন কেন? একে আনন্দ উৎসবের সাথে সম্পর্ক করলেন কেন? সেটিও আরেক তাৎপর্যপূর্ণ দিক। এটি প্রমাণ করে, রাসূলু সাঃ বিখ্যাত হাদিস হচ্ছে, ইসলামে  কোনো বৈরাগ্যবাদ নেই। এ ছাড়াও কুরআন মজিদে বৈরাগ্যবাদকে নিন্দা করা হয়েছে। এবং ইসলাম বৈরাগ্যবাদের ধর্ম নয়। বৈরাগ্যবাদ কোনো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নয়। এ থেকে আমরা বলতে পারি ইসলামি সংস্কৃতির শুরুটা কী রকম হবে, তা আমরা ঈদ থেকে পাই। রাসূল সাঃ যে ঈদের ব্যবস্থা করলেন, তাতে তিনি ঈদের দিনটি শুরু করলেন নামাজ দিয়ে। তিনি ঈদুল ফিতরের দিন খাওয়া-দাওয়া করতে বললেন, নতুন কাপড়-চোপড় পরতে বললেন, বেড়াতে উৎসাহিত করলেন। বেড়ানোকে ও দাওয়াত দেয়াকে উৎসাহিত করলেন। কিন্তু সাথে সাথে তিনি ঈদের দিনটি শুরু করতে হবে সালাত দিয়ে, এ ব্যবস্থা রাখলেন। আগের দিনে আরব দেশের আমাদের মতো এত দেরিতে ঈদ হতো না। সেখানে ঈদ হয়ে যেত খুব ভোরে। তখন সূর্য ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যে ঈদের নামাজ পড়া হয়ে যেত। নামাজ পড়েই বাকি কাজে লেগে যেত। এটাও ইসলামি সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে। এর বৈশিষ্ট্য হলো আমাদের আনন্দ অনুষ্ঠানের ভিত্তি হতে হবে আল্লাহকে স্মরণ করা সেটা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সালাত দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যান্য অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে আল্লাহর স্মরণে। তাই যেকোনো সুন্দর অনুষ্ঠান যদি আমরা করি ও তার শুরু হওয়া উচিত আল্লাহকে মনে করার মধ্য দিয়ে। এ বৈশিষ্ট্য আরো প্রমাণ করে, রাসূল সাঃ যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তাতে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। এর মধ্যে কোনো অপসাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অবকা নেই। সেখানে সব কিছুই সুন্দর। এর মধ্যে স্থান নেই কোনো ধরনের পূজার। তা মানুষেরই হোক বা প্রকৃতিরই। আমাদের দেশের ঈদ যেভাবে পালিত হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু বলা দরকার। প্রথমত, ঈদে বেড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। খাওয়া- দাওয়া, পোশাক-আশাকে এসব ব্যাপার ঠিক আছে। কিন্তু যেটুকু ঠিক নেই তা হলো, পাশ্চাত্যেরই  প্রভাবে আমাদের মধ্যে অনেক অশালীন পোশাকের প্রচলন হয়েছে। এটা দূর করা সহজ ব্যাপার নয়। এ প্রসঙ্গে একটি কথা এখানে বলা প্রয়োজন। দুনিয়ায় যেকোনো সংশোধন দাওয়াত দিয়েই সম্ভব। মানুষের মন জয় করতে হবে। মনকে জয় করেই সংশোধন আনতে হবে। কারণ, একটি ইসলামি রাষ্ট্র হবে, সেই রাষ্ট্র আইন করে এগুলো করবে, সেটা যথেষ্ট জটিল প্রক্রিয়া। তা কতটা করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকে যায়। সেটা করতে পারলে ভালো। সংবিধান মোতাবেক একটি দল ক্ষমতায় এসে সংসদে আইনের মাধ্যমে এগুলো করতে পারলে ভালো। কিন্তু সেটাই করা কতটা সম্ভব হবে তা জানি না এবং এর জন্য অপেক্ষা করার  কোনো প্রয়োজন নেই। মূল জিনিস হলো সমাজের সংশোধন। কল্যাণ করতে হবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যদি মুসলিম জাতির ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা দাওয়াতে বেশি সময়  দেন, ইসলামের মূল ধারা, মূল্যবোধকে যদি তারা বুদ্ধিমানের মতো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেন বন্ধুবান্ধবের কাছে, নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যে তাহলে এ সংস্কার সম্ভব বলে  মনে করি।

দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

ঢাকা অফিস ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদে তিনি দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একটি বিবৃতিতে বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। তিনি বলেন, ঈদ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সব মানুষকে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে সৌহার্দ-সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের মহিমান্বিত আহ্বানে শান্তি-সুধায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষের হৃদয়। অপর আরেকটি বিবৃতিতে দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরে তিনি দেশবাসীর মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করেন। ঈদের দিন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এ দিন রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কূটনীতিক ব্যক্তিত্ব এবং দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এছাড়া, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সকল গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীর শান্তিময় ও আনন্দ মুখর ঈদ কামনা করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সকলকে আমি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার আহ্বান জানাই। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঈদ উৎসব সার্বজনীন। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য এ ঈদকে আনন্দমুখর রাখতে সরকার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।