মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে সাধারণ নির্বাচনে তার দলের বিপুল বিজয়ে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন এবং সে দেশের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে তার দলের বিপুল বিজয়ে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা ফোনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেন, ‘আপনার গতিশীল নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) বিপুল ভাবে জয়লাভ করায় বাংলাদেশের সরকার, জনগণ, আমার দল এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ পাচঁ মিনিটের এই টেলিফোন সংলাপে প্রধানমন্ত্রী এই বিজয়কে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, এই বিজয়ে আপনার প্রতি ভারতের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ আপনার এই বিজয়ে খুশি হবে এবং অঞ্চলের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রন জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এর আগে শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ককে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেয়। এটি হয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন প্রদানে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতোমধ্যেই একটি সু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মডেল হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আগামীতে এই সম্পর্ক আরো উচ্চতর এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী ভারতের জনগণের অব্যাহত সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য, অব্যাহত সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বলেন, ‘মান্যবর আপনার সুবিধামত সময়ে বাংলাদেশে আপনাকে অভ্যর্থনা জানাতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

‘চৌকিদার’ মোদী আরও বিক্রম নিয়ে থাকছেন ক্ষমতায়

ঢাকা অফিস ॥ সাত ধাপের দীর্ঘ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার পর বুথ ফেরত জরিপের ফলাফলকে বিরোধীরা পাত্তা না দিলেও সেটাই সত্যি হতে চলেছে; ভারতের মসনদে থাকছেন নরেন্দ্র মোদী এবং আরও শক্তিশালী হয়ে। বিতর্কিত নানা অধ্যায় ছাপিয়ে নিজেকে ‘চায়েওয়ালা’ পরিচয় দিয়ে পাঁচ বছর আগে ভোটের লড়াইয়ে জিতে দিল্লির মসনদে বসেছিলেন মোদী; এবার ভোটের আগে শাসক পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেকে ‘চৌকিদার’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট গণনায় দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস পরিবারের প্রতিনিধি অভিজাত রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে ‘চৌকিদার’  মোদীতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার।

প্রাথমিক ফল দেখে উচ্ছ্বসিত মোদী বলেছেন, আবারও জিতল ভারত। “আমরা বেড়ে উঠেছি একসঙ্গে, সমৃদ্ধি এনেছি একসঙ্গে, এক সঙ্গে থেকেই আমরা শক্তিশালী ভারত গড়ব, যা হবে সবার জন্য। ভারত আবারও জিতে গেল,” টুইট লিখেছেন তিনি। ভোটের পুরোটা সময় কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলো মোদীবিরোধী জোয়ার  তৈরির চেষ্টা করলেও তা যে কাজে আসেনি তা দেখা যাচ্ছে ফলাফলে।  ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে তামিলনাড়ুর একটি বাদে সবকটি আসনে এবার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দল বা জোটকে পেতে হবে ২৭২টি আসন। দুপুর নাগাদ যে ফল প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখলে মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ যে ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকে না। তিনশর বেশি আসনে জিতে যাচ্ছে এনডিএ জোট; ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে তারা। গতবার শুধু বিজেপির আসন ছিল ২৮২টি, এবার তাদের পদ্মফুল ৩০০’র বেশি আসনে জয়ী হচ্ছে, জোটের আসন ছাড়িয়ে যাচ্ছে সাড়ে তিনশ। এবার কংগ্রেস নেতৃত্বধীন জোট ইউপিএ ৯০টি আসনে এবং ১১৪টি আসনে অন্যান্য দল জয় পেতে পারে বলে আভাস মিলছে। ২০১৪ সালের চেয়ে কংগ্রেসের আসন বাড়লেও তা মোদীকে হটানোর মতো নয় কোনোভাবেই। ২০১৪ সালে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪টি আসন, যা ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে পরাজয়।  এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদীকে হারাতে একাট্টা হয়েছিল বিভিন্ন আঞ্চলিক দল, কংগ্রেস তো ছিলই। বিশেষ করে ভোটের প্রচারে রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোদীর কথার লড়াই বেশ জমে উঠেছিল। কিন্তু সব বাক্যবাণকে পেছনে ফেলে শেষতক মোদী ম্যাজিকেই বাজিমাত। কয়েকটি আসনে হারলেও তার বিজেপি এবং জোট এনডিএই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছে, এই ফলাফলের মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিজেপির পক্ষে ভোট টানতে মোদী একাই যথেষ্ট। যদিও সমালোচকরা বলছেন, মোদী অর্থনীতির যে ব্যাপক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন তা কখনোই পূরণ করা সম্ভব তো হবেই না, পাশাপাশি তার নেতৃত্বে ভারতে আরও বেশি ধর্মভিত্তিক মেরুকরণ ঘটবে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব দূর করার ক্লান্তিকর লড়াই চালিয়ে আসা কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীই এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু তার দলের যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব ছিল না, সে বিষয়ে আগেই আভাস দিয়ে রেখেছিলেন বিশ্লেষকরা। ভোটের আগে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে কার্যকর জোট গড়তে ব্যর্থতার মধ্যে দিয়েই মূলত শতবছরের বেশি বয়সী দলটির দুর্বলতা পরিষ্কার হয়ে যায়। গান্ধী পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশের আমেথিতেই পিছিয়ে পড়েছেন রাহুল; যদিও কেরালার আসনে এগিয়ে তিনি। বড় দুই দল জিততে না পারলে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। বুথ ফেরত বিভিন্ন জরিপে অবশ্য সে সম্ভাবনা একেবারেই উড়ে গিয়ে বিজেপির জয়ের আভাসই মেলে, যদিও মোদী বিরোধী সেই আভাস মানতে নারাজ ছিলেন। ভারতের লোকসভা নিরবাচনে উত্তর প্রদেশ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়ে থাকে, উত্তর প্রদেশ জয় মানেই পুরো নির্বাচনেই জয়। ২০১৪ সালের মতো এবার অবশ্য উত্তর প্রদেশে বিজেপির একচেটিয়া প্রাধান্য থাকছে না। উত্তর প্রদেশে মোদীকে ঠেকাতে বহুদিনের তিক্ততা ভুলে বিস্ময়করভাবে একাট্টা হয়েছিল বহুজন সমাজপার্টি (বিএসপি) ও সমাজবাদী পার্টির (এসপি)। মূলত তাদের ‘মহাজোটই’ এবার বিজেপির আসনে ভাগ বসাতে যাচ্ছে। তবে তা যে মোদীকে ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হবে না তা ভোটের ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে। ২০১৪ সালে উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে বিজেপির ছিল ৭১টি। এবার সবশেষ খবর পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের ৫৬ আসনে এগিয়ে বিজেপি। বিএসপি ও এসপির জোট ২৩টি এবং কংগ্রেস একটি আসনে এগিয়ে। যার সঙ্গে মোদীর বাকযুদ্ধ এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনার খোরাক হয়েছিল, সেই মমতার পশ্চিমবঙ্গেও এবার গতবারের তুলনায় বলতে গেলে অভাবনীয় ফল এসেছে বিজেপির। মমতার তৃণমূল আর কংগ্রেসের আসনে এবার ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। এ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২০১৪ সালে বিজেপির ছিল দুটি, এবার সেখানে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে তারা। বিপরীতে মমতার তৃণমূলের আসন কমে আসছে ২২টিতে, গেলবার ছিল ৩৪টি। আর এবার কংগ্রেসের আসন তিনটি কমে একটি হচ্ছে। এ রাজ্যে প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট ২০১৪ সালে ২টি আসনে জিতলেও এবার ফিরছে শূন্য হাতে। সারাদেশে জয়ের বিপরীতে দক্ষিণের পাঁচটি রাজ্যের চারটি- অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু ও কেরালায় হারতে হচ্ছে বিজেপির। এসব রাজ্যের ৯১টি আসনের মধ্যে শেষ খবর পর্যন্ত বিজেপি জোটের অর্জন আটটি আসন। বিজেপি যে নিরঙ্কুশ বিজয় পাচ্ছে, সেটা এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভোটের এই ফলাফল সত্যিকার অর্থে কী আভাস দিচ্ছে? বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের দৃষ্টিতে, প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্যারিশমা এই ফলাফলের মধ্যে দিয়ে অটুট রইল। “তিনিই বিজেপির পক্ষে তিনিই যে ভোট টানেন সেটা আবারও প্রমাণ হলো। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানেই তাকে ভোট দেওয়া- মোদীর এই মন্তব্য কার্যকর হয়েছে, তা ভোটের ফলাফলেই প্রমাণিত।”  দ্বিতীয়ত, সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগাযোগের সব ধরনের আধুনিক প্রক্রিয়া ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে বিজেপি দল হিসেবে শক্তি অর্জন করেছে, তা এখন অতিক্রম করা যে খুবই কঠিন, যার প্রমাণ ভোটের প্রচারে মিলেছে বলে সৌতিকের মত । তিনি বলেন, ভোটের প্রচারে বিজেপি যেভাবে অত্যন্ত কৌশলীভাবে জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন এবং ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেছে, তার বিপরীতে বিরোধী দলগুলো কার্যকর বক্তব্য হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। “বিজেপির শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে কংগ্রেসকে এখন নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে হবে। এজন্য শত বছরের প্রচীন দলটিকে এখন কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে দক্ষ নেতা এবং তুণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। “শহর ও গ্রামে কর্মসংস্থানের যে সঙ্কট, সেটা কখনোই ভোটে জেতার জন্য শক্তিশালী বার্তা হতে পারে না, যেখানে মোদী ‘জাতীয়াবাদের’ মতো ভাষা দিয়ে বাজিমাত করেছেন।”

মূল চ্যালেঞ্জগুলো কী

কৃষির সঙ্কট, বাড়তে থাকা বেকারত্ব আর অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ভারতের ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়ার শঙ্কা- সব মিলিয়ে সম্ভবত অর্থনীতিই হয়ে দাঁবে মূল চ্যালেঞ্জ। একদিকে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন অন্যদিকে পণ্যৌর দাম কমে যাওয়া- এই দ্ুেয় ভারতের কৃষি খাতে বিরাজ করছে এক ধরনের স্থবিরতা। বিপুল পরিমাণ ঋণে জড়িয়ে দিশেহারা বহু কৃষক। মোদীর শাসনামলে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি কিছু ক্ষেত্রে গতিহীন হয়ে পড়েছে। প্রবৃদ্ধি আটকে আছে সাত শতাংশে। তাছাড়া এবছরই সরকারের ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি পতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৭০ এর পর দেশে বেকারত্বের হার বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।  এবারের নিরবাচনকে অনেকেই দেখেছেন ভারতের নিজস্ব পরিচয় এবং সংখ্যালঘুদের জন্য লড়াই হিসেবে। মোদীর গেল পাঁচ বছরে হিন্দু জাতীয়তাবাদই মূল ধারা হয়ে উঠেছে। এ সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা গরু পাচারের অভিযোগ তুলে বহু মুসলিমকে পিটিয়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। গত ফেব্র“য়ারিতে ভারতশাসিত কাশ্মিরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গ্র“পের আত্মঘাতী হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হওয়ার পর জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিপিএলে দল পেলেন আফিফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টি-টোয়েন্টি অভিষেকে পাঁচ উইকেট নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। পরে ভালো করেছেন ব্যাটিংয়েও। এই সংস্করণে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করছেন কার্যকর অলরাউন্ডার হিসেবে। সেই পথ চলায় এবার ডাক পেলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগ-সিপিএলে। খেলবেন সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে। আফিফ সিপিএলে বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল¬াহ খেলেছেন ক্যারিবিয়ানদের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে। গত আসরে দল পেলেও টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ। এবারের আসরে ড্রাফটে ছিলেন বাংলাদেশের ১৯ ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে দল পেলেন কেবল ১৯ বছর বয়সী আফিফ। ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আফিফ। আপাতত সেই ম্যাচেই থমকে আছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী কিংসের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল তার। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত ৩১ ম্যাচ খেলে ২১.২০ গড় ও ১২৩.২৪  স্ট্রাইক রেটে ৫০৯ রান করেছেন আফিফ। ফিফটি দুটি, সর্বোচ্চ ৬৫। ২৩ গড়ে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। পাঁচ উইকেট পেয়েছেন একবারই।

খেল দেখিয়ে ছিটকে পড়লেন হেমা মালিনী

বিনোদন বাজার ॥ ভোটের মাঠে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন চমক দেখিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী। একেক কেন্দ্রে একেক রকম চমক। কোথাও হেলিকপ্টারে আবার কোথাও কাঁস্তে হাতে গমক্ষেতে। মথুরাতেও দেখিয়েছেন নতুন চমক। এসব চমকের উদ্দেশ্য একটিই- ওরা যেন বোঝে হেমা তাদেরই লোক। ভোটের এ মোহিনী প্রচারে রীতিমতো ট্রাক্টরে চালকের আসনেও উঠে বসেছিলেন।কিন্তু নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন হেমা মালিনী।বিজেপি দলের প্রার্থী হয়ে উত্তরপ্রদেশের মথুরা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার ভারতের ভোট গণনার বেসরকারি ফলে পিছিয় আছেন হেমা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) থেকে কুনওয়ার নরেন্দ্র সিং তাকে ধরাশায়ী করেছেন। খবর আনন্দবাজার ও এনডিটিভির।উত্তরপ্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৫৫টি। অন্যদিকে বিএসপি, এসপি ও আরএলডি জোট পেয়েছে ২৩ আসন। কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ২ আসন

সমালোচিত সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে যা বললেন নুহাশ হুমায়ূন

বিনোদন বাজার ॥ সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে বেশ সমালোচিত হচ্ছেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদপুত্র নুহাশ।‘রানিং রাফি’ নামে সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয় ওই বিজ্ঞাপনটি।বিজ্ঞাপনটির ঘটনাপ্রবাহ পাহাড়ি এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি সম্পর্কের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।বিজ্ঞাপনটি অনলাইনে প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুহাশকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।একের পর এক তীর্যক মন্তব্য জমা পড়ে এই তরুণ নির্মাতাকে ঘিরে।এসব সমালোচনা ও বিতর্কের মাঝেই বিজ্ঞাপনটির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন নুহাশ হুমায়ূন।তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই- আমি আপনাদের কথা শুনছি, শিখছি আর পরিণত হচ্ছি ।’গত বুধবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া একটি পোস্টে এমন বিজ্ঞাপন নির্মাণের জন্য ক্ষমা চান নুহাশ।পাঠকের জন্য নুহাশের সেই স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-‘আমার নির্মিত নতুন একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আমি এর সঙ্গে কিছু যোগ করতে চাই।এই বিজ্ঞাপনটি আমি নির্মাণ করেছি; কিন্তু এটার মূল ভাবনা আমার ছিল না। থার্ড পার্টি যখন কনসেপ্টটা দেয়, আমার কাছে ভালো লাগে। কনসেপ্টটা হলো পরিবার নিয়ে। একটা প্রত্যন্ত গ্রাম। যেখানে মুসলিমরা হলো সংখ্যালঘু।এটা রমজান মাসের ওপর ফোকাস করা একটা বিজ্ঞাপন। কিন্তু এর মূল ভাবনা শুধু রমজানের রোজা রাখায় সীমাবদ্ধ না। এটা একাত্মতা আর বন্ধনেরও গল্প।আমার কাজটি যেন বাস্তবসম্মত হয়, তাই আমি আমার টিমে এথনিক কমিউনিটি থেকে প্রতিনিধি রেখেছিলাম।কিন্তু যেহেতু বিজ্ঞাপনের প্রথমে লেখা দেখায়-‘অ ঘঁযধংয ঐঁসধুঁহ ঋরষস’, তাই পরিচালক হিসেবে এর সব দায়িত্ব আমারই।এই বিজ্ঞাপনটা আমিই নির্মাণ করেছি, গল্পটাও আমার পছন্দ হয়েছে। এর স্ক্রিপ্ট আমি পরিমার্জন করেছি, যেই সোর্স থেকে তথ্য পেয়েছিÑ তাও বিশ্বাস করেই ব্যবহার করেছি।এই বিজ্ঞাপনের সব দায়দায়িত্ব মাথায় নিয়েই, আমি গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কাছে। যারা বিজ্ঞাপনটি দেখে কোনোভাবে কষ্ট পেয়েছেন অথবা যাদের কাছে মনে হয়েছে আমি চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছি। আমি বিনীতভাবে জানাতে চাই, কাউকে কষ্ট দেয়া বা আঘাত করা কখনই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর সমস্যা মিডিয়াতে তেমনভাবে সামনে আসে না।আমরা সেসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞাপনটা নির্মাণ করেছি খুব সরলীকরণ করে, দেখে ভালো লাগবে এমন একটা গল্প নিয়ে।যেখানে অবশ্যই আগে চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সেইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসা প্রয়োজন ছিল।অনেক মানুষ আমাকে তাদের মতামত জানাচ্ছেন। কিছু ভাল, কিছু খারাপ আর কিছু বেশ কঠিন। অবশ্যই এইসব মতামত আমাকে নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরো অনেক দায়িত্ববান ও যতœশীল করে তুলবে।আমি এটাও দেখলাম অনেকেই এখানে টেনে আনছেন আমার পরিবারকে, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন আমাকে।যেই ছেলেটি বিজ্ঞাপনের প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন- তাকেও নোংরাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এসব ঘৃণা প্রকাশ মূল বিষয়ের সঙ্গে সংগতিহীন।এই বিজ্ঞাপনের গল্পটি আমার ভালো লেগেছিল। কারণ এটার মূল ভাবনা ছিল একাত্মতা প্রকাশ। আমার ভাবতে খুব খারাপ লাগছে, এই বিজ্ঞাপনটা কোনোভাবে বিভেদ তৈরি করছে! কোনোভাবেই সেটা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।যারা এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে লিখছেন, কথা বলছেন আর ভালোমন্দ যাই ভাবছেন- আমি আপনাদের জানাতে চাই- আমি আপনাদের কথা শুনছি, শিখছি আর পরিণত হচ্ছি।’প্রসঙ্গত নুহাশ হুমায়ূনের তুমুল সমালোচিত ও বিতর্কিত সেই বিজ্ঞাপনচিত্রতে দেখানো হয় এমন এক পাহাড়ি অঞ্চল যেখানে আজান শোনা যায় না, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু।রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় সেই পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের আজানের সময় জানিয়ে দেয় এক পাহাড়ি কিশোর রাফি।যাকে দৌড়ে গিয়ে বাঙালি মুসলমানদের ইফতার ও সেহরির সময় জানিয়ে দিতে দেখা যায়।বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর অনেকেই এর ঘটনাপ্রবাহ পাহাড়ি এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন। বিজ্ঞাপনে দেখানো পাহাড়ের মানুষের জীবনধারার কিছু অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি অনেকের।এমন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করায় সমালোচিত হন এর নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন।

 

তাজিন আহমেদ চলে যাওয়ার এক বছর

বিনোদন বাজার ॥ গত বছরের ২২ মে না ফেরার দেশে চলে যান অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। গুণী এ অভিনেত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন। এরপর সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ভোরের কাগজ, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। মায়ের হাত ধরেই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন তাজিন। নাটকের দল ‘নাট্যজন’-এর হয়ে তিনি মঞ্চে কাজ শুরু করেন। ২০০০ সালে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। টিভি নাটকে অভিনয় করে অল্প সময়েই অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তা পান তাজিন আহমেদ। টিভি নাটকে তার যাত্রা শুরু হয় দিলারা জলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল। তাজিন আহমেদ বেতার এবং টেলিভিশনে উপস্থাপনাও করেছেন। অভিনয়ে আসার কয়েক বছর আগে নিজেকে উপস্থাপনায় সম্পৃক্ত করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘চেতনা’ নামক অনুষ্ঠানে। এরপর আরো অনেক অনুষ্ঠানেরই উপস্থাপক হিসেবে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। তবে এনটিভিতে ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন তাজিন আহমেদ টানা এক যুগ। লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ অভিনেত্রী বেশ কিছু নাটক লিখেছেন ও পরিচালনাও করেছেন। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

 

কানে দ্যুতি ছড়ালেন সোনম

বিনোদন বাজার ॥ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, কঙ্গনা রানাওয়াত ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের পর কান চলচ্চিত্র উৎসবের লাল গালিচায় রূপের দ্যুতি ছড়ালেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর আহুজা। গত কয়েক বছরের মতো এবারও চলচ্চিত্রের এই মহাযজ্ঞে হাজির হলেন তিনি।র‌্যালফ অ্যান্ড রুসোর ডিজাইন করা সাদা পোশাক গায়ে হাজির হন অনিলকন্যা। গলায় পরেছিলেন চপার্ডের সবুজ নেকলেস। রূপের যাদুতে সবার নজর কেড়েছেন তিনি।সোমবার (২০ মে) প্রথম কানের আসরে অংশ নেন সোনম। তবে মঙ্গলবার (২১ মে) লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও ব্র্যাড পিটের ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন হলিউড’র স্ক্রিনিংয়েও যান তিনি। পা মাড়ান লাল গালিচায়।এবার কানে লরিয়ালের দূত হিসেবে সোনম হাজির হন। তার আগে কানের লাল গালিচায় দেখা গেছে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, হিনা খান, কঙ্গনা রানাওয়াত ও হুমা কোরাইশি ও ডায়না পেন্টিকে।উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠে, আসর চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

দুই কমেডি ধারাবাহিকে মিলি

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী ফারহানা মিলিকে এবারের ঈদে দুটি সাতপর্বের ঈদ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ে দেখা যাবে। দুটি ধারাবাহিকেরই কাজ তিনি এরই মধ্যে শেষ করেছেন। একটি কায়সার আহমেদের নির্দেশনায় ‘প্রেমের দুষ্টুচক্র’ এবং অন্যটি অসীম গোমেজের ‘রং চা’। ‘প্রেমের দুষ্টুচক্র’ ধারাবাহিকটির শুটিং হয়েছে রাজধানীর উত্তরাসহ আশপাশের এলাকায়। ‘রং চা’র শুটিং হয়েছে সিলেটে। ফারহানা মিলি বলেন, ঈদের নাটক তাই দুটি নাটকই কমেডি ঘরানার গল্প নিয়ে নির্মিত। দর্শকের বিনোদনের কথা ভাবনায় রেখেই কায়সার ভাই এবং অসীম দা দুটি ধারাবাহিক বেশ যতœ নিয়েই নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। আমরা যারা অভিনয় করেছি তারাও দু’টি নাটকে অভিনয় বেশ উপভোগ করেছি। আশা করা যায় দর্শক দুটো নাটকই বেশ আগ্রহ নিয়েই উপভোগ করবেন। ফারহানা মিলি আরো জানান, ‘রং চা’ ঈদ ধারাবাহিকটিতে তাকে নতুন এক চরিত্রে দর্শক দেখতে পাবেন একেবারেই নাটকের শেষপ্রান্তে। অভিনেতা এফ এস নাঈম ও মিলিকে শেষপ্রান্তে দর্শক নতুন করে আবিষ্কার করবেন।

এমবাপে-নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত পিএসজি কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দলের দুই তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত নন পিএসজির কোচ টমাস টুখেল। আক্রমণভাগের সেরা দুই ফুটবলারের ক্লাব ছাড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। রোববার চলতি মৌসুমের ইউএনএফপি (ফ্রেঞ্চ প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশন) লিগ ওয়ানের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নেওয়ার সময় পিএসজি বা ‘নতুন কোনো প্রকল্পে অন্য কোথাও’ আরও দায়িত্ব নিতে চান বলে জানান ২০ বছর বয়সী এমবাপে। এতে তার দল ছাড়া নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়। অন্যদিকে, ২০১৭ সালের অগাস্টে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে নেইমার পিএসজিতে যোগ দেওয়ার কিছু দিন পর থেকেই তার সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে নতুন সব সম্ভাবনার খবর আসতে শুরু করে। দিনে দিনে তা আরও বেড়েছে। কোচ হিসেবে দুই শিষ্যকে আগামী মৌসুমেও পেতে চান বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান টুখেল। “একজন কোচ হিসেবে আমি চাই তারা এখানেই থাকুক। কিন্তু এটা ফুটবল, আমরা বোকা নই।” “অনেক ক্লাবই অনেক খেলোয়াড়কে নিতে চায়। আর দল-বদলের বাজার উন্মত্ত। কিন্তু যদি আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, হ্যাঁ, আগামী মৌসুমে তারা এখানে থাকুক, আমি চাই। কিন্তু যদি তারা না থাকে, আমরা সমাধান খুঁজে নেব।”

নজরুল সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন আর নেই

বিনোদন বাজার ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান নজরুল সংগীতশিল্পী খালিদ হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মারা যান তিনি।খালিদ হোসেনের ছেলে আসিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে খালিদ হোসেনের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে ভুগছেন খালিদ হোসেন। বয়সের সঙ্গে বাড়ে কিডনির জটিলতা , সমস্যা হচ্ছিল ফুসফুসেও। পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা ধরনের সমস্যা তো ছিলোই।খালিদ হোসেনের চিকিৎসার সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। সেই অনুদানেই চলছিল তার চিকিৎসা। কিন্তু বেঁচে ফেরা হলো না তার। চিরদিনের জন্য চলে গেলেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে।’১৯৩৫ সালের ৪ ডিসেম্বর জন্ম খালেদ হোসেনের। ছোটবেলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে থাকতেন তার পরিবার। দেশ বিভাগের পর মা-বাবার সঙ্গে কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় চলে আসেন তিনি। এরপর ১৯৬৪ সাল থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।নজরুল সংগীতের শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি একুশে পদক পেয়েছেন ২০০০ সালে। এছাড়া পেয়েছেন নজরুল একাডেমি পদক, শিল্পকলা একাডেমি পদক পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।খালিদ হোসেনের গাওয়া নজরুল সংগীতের ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। আরও আছে একটি আধুনিক গানের অ্যালবাম ও ইসলামি গানের ১২টি অ্যালবাম।খালিদ হোসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে সংগীত নিয়ে প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। নজরুল ইনস্টিটিউটে নজরুল সংগীতের আদি সুরভিত্তিক নজরুল স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

কুমারখালীতে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন

কুমরখালী প্রতিনিধি ॥ “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) মুহাম্মদ নূর এ আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার দেবাশীষ কুমার দাস, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ, কে, এম শাহ্ নেওয়াজ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমশের ইকবাল রহমান, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাসুদ রানা, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।   কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে (২৬ টাকা কেজি) ধান সংগ্রহের তথ্য প্রচার করা হলে সকাল থেকেই কৃষকেরা ধান নিয়ে হাজির হন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ধানের মান ও কৃষি কার্ড যাচাই করেন। এ সময় ইউএনও সরাসরি কৃষক-কৃষানীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মোবারক শেখ নামের একজন কৃষকের হাতে ধানের মূল্য বাবদ চেক তুলে দেওয়ার মধ্যদিয়ে ধান সংগ্রহণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষনা করেন।  এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন, ধান চাষের প্রতি কৃষকদেরকে উৎসাহিত করতে ন্যায্য মুল্যে ধান সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ জন্য শুধুমাত্র সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হবে। আর যদি কোন দালাল কিংবা ফরিয়ারা ধান সংগ্রহ অভিযান কে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ খোঁজেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, কৃষকদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই, সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। এ সময় কৃষকদের উন্নয়নে সরকারি  নানা সুযোগ-সুবিধার তথ্য তুলে ধরেন তিনি। কৃষক মোবারক শেখ জানান, ধান চাষের খরচ বাড়ছে, আর ধানের মুল্য কমছে। তাহলে কৃষক বাঁচে কি করে। এ জন্যই হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে যদি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে ধান সংগ্রহ করা হয়, তাহলে কোন অসুবিধা হবে না। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবার কুমারখালীর ১১টি ইউনিয়নের ৩৩০ জন কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি মূল্যে ৩ হাজার ৩’শ মন (১৩২ মে:টন) ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

 

জার্মান দলে নেই চোটে পড়া ক্রুস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোটের কারণে মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ও গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে আগামী মাসে হতে যাওয়া ইউরো বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচে পাচ্ছে না জার্মানি। চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে আছেন প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ারও। তবে প্রাথমিকভাবে তাকে নিয়েই বুধবার ২২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ ইওয়াখিম লুভ। মাংসপেশিতে চোট পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রুস। আর বার্সেলোনার গোলরক্ষক টের স্টেগেন হাঁটুর চোটে ভুগছেন। পায়ের পেশির চোটের কারণে বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষক নয়ার বুন্ডেসলিগায় দলের শেষ কয়েক ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে আগামী শনিবার হতে যাওয়া লাইপজিগের বিপক্ষে জার্মান কাপের ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্র“প পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া জার্মানির উয়েফা নেশন্স লিগের অভিষেক আসরটা ভালো কাটেনি। ‘এ’ লিগ থেকে অবনমন হয়ে গেছে তাদের। অবশ্য ইউরো ২০২০ এর বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শুরুটা ভালো করেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ‘সি’ গ্র“পে আগামী ৮ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলারুশের মাঠে খেলবে জার্মানি। তিন দিন পর ঘরের মাঠে এস্তোনিয়ার মুখোমুখি হবে তিনবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।

কাপ ফাইনালে বার্সা দলে নেই টের স্টেগেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কোপা দেল রের ফাইনালে নিয়মিত গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে পাচ্ছে না বার্সেলোনা। হাঁটুর চোটে পড়া জার্মান এই ফুটবলারের পরিবর্তে খেলতে পারেন ইয়াসপের সিলেসেন। ঘরোয়া ডাবল জয়ের লক্ষ্যে আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় কাপ ফাইনালে ভালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। প্রতিযোগিতায় রেকর্ড টানা পঞ্চম শিরোপা জয়ের হাতছানি রয়েছে এরনেস্তো ভালভেরদের দলের সামনে। ফাইনালে টের স্টেগেনকে বদলির তালিকাতেও রাখেননি ভালভেরদে। চলতি মৌসুমে দলের হয়ে ৪৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে ইউরো বাছাইপর্বে বেলারুশ ও এস্তোনিয়ার বিপক্ষে আগামী মাসে হতে যাওয়া দুই ম্যাচের জার্মানি দলেও জায়গা পাননি টের স্টেগেন।

বাংলাদেশ: আকাশ ছোঁয়ার হাতছানি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্বপ্ন যখন দেখব, বড় কেন নয়? দেশ ছাড়ার আগে বলে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কি সেই স্বপ্ন? অনুমান করে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। চূড়া ছোঁয়ার দুঃসাহস নিয়ে এবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কাজটা কঠিন। ভীষণ কঠিন। আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। পেরুতে হবে অনেক বন্ধুর পথ। তবু বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। স্বপ্নের আগে অবশ্য আছে লক্ষ্য। অন্তত সেরা চারে থাকা। সহজ নয় সেটিও। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাট। অনেককে চমকে দিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। আরও বিস্ময় উপহার দিয়ে সেমি-ফাইনালে খেলেছে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তবে ওই দুবারই ফরম্যাট ছিল চমক দেওয়ার জন্য তুলনামূলক সহজ। গ্র“প পর্বে একটি-দুটি জয়, অন্য ম্যাচের ফল পক্ষে আসা মিলিয়ে ধরা দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। কিন্তু বিশ্বকাপে এবার ১০ দল খেলবে পরস্পরের সঙ্গে। ভিন্ন ভিন্ন উইকেটে ভিন্ন শক্তি ও সামর্থ্যরে প্রতিপক্ষকে সামলানো, দীর্ঘ সময় ধরে একাগ্রতা ধরে রাখা, নানা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, প্রতিটি ধাপেই অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ। দলের বড় শক্তি একই সঙ্গে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতা। গড় বয়সের হিসেবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম তরুণ দল বাংলাদেশ। আবার ম্যাচ খেলার বিবেচনায় সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলগুলির একটি। একই দলে দুটির সমন্বয় যথেষ্টই বিরল। বাংলাদেশ দলে এটি সম্ভব হয়েছে, কারণ দলের মূল ক্রিকেটাররা সেই ১৮-১৯ বছর বয়স থেকে একসঙ্গে খেলছেন। অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে দলকে পরের স্তরে নিয়ে যেতে পেরেছেন। চেষ্টা করছেন আরও ওপরে তুলতে। দলের চার ক্রিকেটারের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ, আরও দুইজনের তৃতীয় বিশ্বকাপ। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলার ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর থেকে ধরা দিয়েছে আরও অভাবনীয় সব সাফল্য। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন একাধিক বিশ্বকাপে। নেতৃত্বের মতো তার বোলিংও দলের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও তিনি দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলার। নিজের শেষ বিশ্বকাপ রাঙাতে নিশ্চয়ই কমতি রাখবেন না। তাড়না থাকবে অন্যদেরও। সাকিব আল হাসানের বিশ্বকাপ রেকর্ড খুব খারাপ নয়, তবে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে নিজের ছাপ সেভাবে রাখতে পারেননি এখনও। ওজন কমিয়ে, নিবিড়ভাবে অনুশীলন করে এই অলরাউন্ডার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে করতে চান বড় কিছু। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল¬াহকে নিয়েও বলা যায় একই কথা। গত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডেতে বিশ্ব ক্রিকেটেরই সবচেয়ে সফল ও ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একজন তামিম। নিজের ব্যাটসম্যানশিপকে এই সময়টায় নিয়ে গেছেন তিনি নতুন উচ্চতায়।

গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি জয়ে অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। সেই ধারা ধরে রেখেছেন পরেও। দলের প্রয়োজনের সময় বরাবরই চওড়া তার ব্যাট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসগুলোর বেশ কটিই এসেছে তার ব্যাট থেকে। মাহমুদউল¬াহ গত বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছিলেন দুটি সেঞ্চুরি করে। বিশ্বকাপের পর অবশ্য চার নম্বরে জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে পরে নতুন ভূমিকায়ও মানিয়ে নিয়েছেন দারুণভাবে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সময়ের সেরা ফিনিশারদের একজন তিনি। বাংলাদেশের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারই বড় আসরে বড় কিছুর প্রস্তুতি নিয়েছেন দারুণভাবে। তারাই বিশ্বকাপে দলের স্বপ্নসারথী।

সিনিয়রদের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার নিজের দিনে গড়ে দিতে পারেন পার্থক্য। মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর নির্ভর করা যায় নিশ্চিন্তে। কোনো এক স্পেলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন রুবেল হোসেন। সাইফ উদ্দিন উন্নতির প্রমাণ দিচ্ছেন প্রতিনিয়মত। সঙ্গে অন্যরাও যদি নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করতে পারেন, লক্ষ্য পূরণ বা স্বপ্ন ছোঁয়া, অসম্ভব নয় বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পথচলার ধারা অবশ্য এবার আশা দেখাতে ভয় জাগায়। একবার ভালো, পরের বার খারাপ, এই ধারাবাহিকতা ছিল আগের পাঁচটি বিশ্বকাপে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়ের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৩ বিশ্বকাপ ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠা, সেখানে সেই সময়ের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল দল। ২০১১ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে মেলেনি প্রত্যাশিত সাফল্য। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের ইতিহাস। এবার? গত কয়েক বছরে এই দল অনেক পূর্ব ধারণাই বদলে দিয়েছে। দেশের ক্রিকেটে এনে দিয়েছে দারুণ সব সাফল্য। বিশ্বকাপের মতো আসরে হতে পারে অনেক কিছুই। স্বপ্ন অনেক সময় ধরা দেয় সত্যি হয়ে, কখনও আবার গুঁড়িয়ে যায় নিমর্মভাবে। তবে দলটির সামর্থ্য, সাম্প্রতিক বছর গুলোয় অগ্রগতি সাহস দেখায় আকাশ ছুঁতে।