কালুখালীর তোফাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রস্তুতি

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালী উপজেলার প্রপার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তোফাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বপ্নের ৫০ বছর পুর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে তোফাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।  এ উপলক্ষ্যে আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরের দিন বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এক প্রস্তুতিমূলক সভার আহবান করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত থাকবেন তোফাদিয়ার কৃতিসন্তান বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, সিআইডি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার লিঃ এর নির্বাহী পরিচালক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও তোফাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান খান, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ কায়ছার আলী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি দেওয়ান মোঃ আবু ওবায়েদ হোসেন সেতু, জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খোন্দকার আনিসুল হক বাবু, জাকির হোসেন মোল্লা, দেওয়ান আরাফাত হোসেন, মোসলেম উদ্দিন মিয়া, ডাঃ হারুন অর রশিদসহ বিদ্যালয়ের কৃতিবৃত্ত শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও সূধীজন।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিঃ কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে ”তাকওয়া অর্জনে রোজার ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহ্ফিল

“তাকওয়া অর্জনে রোজার ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিযা শাখার আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠান ব্যাংক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপক মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড: মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ। আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের  প্রফেসর ডঃ আব্দুল্লাহ, প্রফেসর ড.কামরুল হাসান, কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল তারিকুর রহমান। ইফতার অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অত্র শাখার এসপিও হাফেজ মোঃ কামরুল আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফেজ মো: শফিকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের গ্রাহক, সুধীজনসহ ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। শহীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার সব মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ইফতার অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এই ব্যাংক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে শহর বিএনপির অভিনন্দন

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া  জেলা বিএনপির একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটি ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একে বিশ্বাস বাবু, আলী আশকর মল্লিক পিন্টু, সভাপতি, ১ নং ওয়ার্ড, জিন্নাহ শেখ, সাধারণ সম্পাদক, ১নং ওয়ার্ড  মাসুদ পারভেজ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক ১০নং ওয়ার্ড  হাসানুজ্জামান, সভাপতি ১৩নং ওয়ার্ড আরিফুল হক সুমন, সাধারণ সম্পাদক ১৩নং ওয়ার্ড, রফিকুল ইসলাম, সভাপতি ১৪নং ওয়ার্ড, মিল্টন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ১৪ নং ওয়ার্ড, আমিরুল ইসলাম, সভাপতি ১৫নং ওয়ার্ড, মজনু হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, ১৫ নং ওয়ার্ড, খন্দকার মিয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ১৬নং ওয়ার্ড, আসাদুজ্জামান শিপন, সাধারণ সম্পাদক ১৭ নং ওয়ার্ড, আতাউর রহমান মিঠু, সভাপতি ১৮ নং ওয়ার্ড, মশিউর রহমান লাল, সাধারণ সম্পাদক ১৮ নং ওয়ার্ড , আব্দুল সালাম, সভাপতি ১৯নং ওয়ার্ড, এ্যাড. ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ১৯ নং ওয়ার্ড, আব্দুল বারেক, সভাপতি, ২০নং ওয়ার্ড, আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক, ২০ নং ওয়ার্ড, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক ২১ নং ওয়ার্ড। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হযরত ফারুক (রহ:) এর পবিত্র ওরশ মোবারক

ইয়া আল্লাহ আয়া রাসূল্লাহ আয়া আদম ইনসানে নূরের আলো ফয়েজে আল কোরআন আউলিয়া কূনের শিরোমনি হযরত ফারুক (রহ:) এর পবিত্র ওরশ মোবারক। অনুষ্ঠান সূচীর মধ্যে রয়েছে, দুপুর ২ টা। পবিত্র শিন্নি বিতরণ ৩ টা থেকে রাত পর্যন্ত। ২৯ জুন শনিবার কুষ্টিয়া কুঠিপাড়া আকমল হোােসন কচি ও চর কুটিপাড়া স্বাধীন আলী মন্ডল। এক দিনে এক সময়। চৈত্রের ২য় শনিবার কুষ্টিয়া মিলপাড়া মশিউর রহমান। ২৮ বৈশাখ শনিবার কুষ্টিয়া সুখনগর রাজা মিয়া। পহেলা বৈশাখের প্রথম শনিবার কুষ্টিয়ার জগতি সাবিনা ইয়াসমীন। সর্বস্তরের সজ্জনপ্রিয় সকলেই আমন্ত্রিত। সৌজন্যে আউলিয়া স্কুলের শিরোমনি হযরত ফারুক (রহ:) এর আশেকান জীবন আহমেদ ০১৯৩৭-৬৭৪৯০১ । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফীল

কুষ্টিয়ায় “জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে” আলেমদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফীল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে কুষ্টিয়া শহরের উপজেলা মোড় হোটেল নূর’র হলরুমে বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফীল অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ফারুক আযম জিহাদীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস। প্রধান আলোচক ছিলেন মুফাস্সীর পরিষদের সাবেক জেলা সভাপতি বিশিষ্ট আলেম আলহাজ্ব মাওলানা একে এম এনামুল হক শাফী। বক্তব্য রাখেন মুফাস্সীর পরিষদের সাবেক জেলা সেক্রেটারী মাওলানা নাজমুল হক সাবেরী, বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ কুষ্টিয়া  জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম চুন্নু মাষ্টার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুছ আলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ফারুক সিদ্দিকী, সহ বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের জেলা  নেতৃবৃন্দ। পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ কুষ্টিয়া  জেলা সেক্রেটারী মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী। সভা শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া মোনাজাত করে মাওলানা এনামূল হক শাফী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার

পছন্দের ডিজাইনের পোষাক বানাতে দর্জী বাড়িতে ভীড়

রাজন আহমেদ ॥ আর মাত্র ক’দিন বাদেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আর ঈদের আনন্দ শতভাগ উপভোগ করতে নতুন পোষাকের বিকল্প নেই। তাইতো নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত অনেকেই। ইতোমধ্যে অনেকেই গজ কাপড় কিনে পছন্দের ডিজাইনের পোষাক বানাতে দর্জী বাড়িতে ভীড় জমিয়েছে অনেকেই। বিশেষ করে নারীরা পোশাকে নিজেকে সাজাতে গজ কাপড় কেনা শেষে ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। কাপড়ের রং আর শেপ মিলিয়ে অনেকেই লেইছ কিনেছেন। সেই সাথে ম্যাচিং করে ওরনা, সালোয়ার তো আছেই। তাই ভিরভাট্টা এড়াতে শহরের অলিগলিসহ বিভিন্ন মার্কেটের টেইলার্সগুলোতে পোষাকের অর্ডার দিচ্ছে অনেকে। তবে এখন শহরের বেশিরভাগ দর্জি দোকানগুলোতে পোশাক তৈারীর অর্ডার নেয়া প্রায় শেষ। অর্ডারি কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দর্জি দোকানের কারিগররা। দিন-রাত পোষাকের কাটিং ও ডিজাইনের পোষাক তৈরিতে ব্যস্ত তারা। পোড়াদাহের পাইকারী কাপড়ের বাজারসহ শহরের অন্য বিপণীবিতানগুলোতে দেশি সুতা কাপড়ের পাশাপাশি নানা রকমের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। গজ কাপড়ের দোনগুলোতে  গিয়ে জানাযায়, এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাতান, সিল্ক জর্জেট, প্রিন্টের জর্জেট, লিলেন, খাদি, অরগেন্ডির সাথে চুমকি আর সুতার কাজের চিকেন  জুটকটন। এসব কাপড়ের মধ্যে গার্জিয়াস বানাতে কাতানের তুলনা নেই। কুষ্টিয়া শহরের বস্ত্রশোভা  দোকানের বিক্রয়কর্মী উজ্জল হোসেন বলেন, বাজারে প্রতি গজ সুতি কাতান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর সিনথেটিক কাতান বিক্রি হয় ৩৫০ টাকায়। জুট কটন কাপড় প্রতি গজ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, চিকেন কাপড় প্রতি গজ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, অরগেন্ডির উপর কাজ করা কাপড় প্রতিগজ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতির মধ্যে বাটিক আর টাইডার কাপড় প্রতি গজ ৯ থেকে ৪০০ টাকা, সিল্ক টাইডার ২০০ টাকা ও জর্জেটের বাটিক ৪০০ টাকার মধ্যে। এদিকে কাপড়ের পাইকারী কেনাকাটায় জেলার অন্যতম বৃহত বাজার পোড়াদহে রোজার আগে থেকেই থানকাপড়, শাড়ি, সালোয়ার কামিজের কাপড়, বোরকার কাপড়, বিছানার চাদর, পর্দাসহ সব ধরনের কাপড় ও লুঙ্গি বিক্রি শুরু হয়। এদিকে শহরের টেইলার্সগুলোতে ঘুরে দেখা যায় পোশাক তৈরির অর্ডার দিতে মেয়েদের উপচেপড়া ভির। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিত ক্রেতা, তারপরও ঈদ উপলক্ষ্যে এখন সিরিয়াল পাওয়াটাই কঠিন। শহরের এন এস রোডের আলামিন টেইলার্সে পোষাক তৈরির অর্ডার দিতে আসা কলেজ ছাত্রী চুমকি খাতুন বলেন, আমি নিয়মিত এখানে অর্ডার দিই, কারণ এখানকার কারিগরের সেলাই ও কাজ নিখুত। কয়েকদিন পর ঈদ, আর ঈদে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাবো তাই পছন্দের ডিজাইনের পোশাকের অর্ডার দিতে এসেছি। এদিকে অনেকেই মোবাইল থেকে কাটিংমাষ্টারকে সালোয়ার কামিজ আর ব্লাউজের নকশা দেখাতে ব্যস্ত। এখানকার কাটিং মাস্টার জানান, গরমের কারনে সুতি পোশাকের ফরমায়েস বেশি মিলছে এখন। সালোয়ার কামিজ তৈরিতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পোষাকের নকশা ও কাপরের প্রকারভেদে মজুরী ভিন্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে আসছে ঈদের আনন্দ শতভাগ উপভোগ করতে পোষাকের দিকে ঝুকছে সবাই।

আগামী অর্থ বছরে জাতীয় সংসদের জন্য ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ আগামী অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রাক্কলিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩০তম সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রাক্কলিত এ বাজেট গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সভায় ২০১৮-২০১৯ এর সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করা হয়। এছাড়া ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন করা হয়। কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক সভায় অংশগ্রহণ করেন। চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করেন। সভায় সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নতুন পদ সৃষ্টিসহ পদোন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে কমিটি। সভায় সংসদের লেক সংস্কারের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব। সভার শুরুতে ২৯তম সংসদ সচিবালয় কমিশন বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করার পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করা হয়। সভার আলোচ্যসূচী উপস্থাপন করেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: শহীদ উল্লা খন্দকারসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

খোকসায় নিরাপদ উপায়ে সবজী ও ফল চাষ এবং সংগ্রহোত্তর কৃষক-কৃষাণী প্রশিক্ষণ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকস্ায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ উপায়ে সবজী ও ফল চাষ এবং সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কৃষক/কৃষাণীদের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষন ও সনদ পত্র বিতরন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার ৩০জন কৃষক-কৃষানী প্রশিক্ষন শেষে সনদপত্র বিরতন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের হটিকালচার ইউন এর পরিচালক চন্ডিদাস কুন্ডু। সভাপত্বি করেন উপজেলা কৃষি অফিসার সবুজ কুমার সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শুশান্ত কুমার প্রামানিক, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলা কৃষি অফিসার বিষ্ণপদ সাহা, মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ, খোকসা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শেখ সাইদুল ইসলাম প্রবীন, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও কৃষক প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

ইবি প্রশাসনের শোক

আইন অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলীর ইন্তেকাল

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে কর্মরত সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক-পৃথক শোক-বার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলীর মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন, বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল, বিশ^বিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম (জোহা) এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদুর রহমান। সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলী ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাত আনুমানিক ২টায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না….রাজিউন)। গতকাল বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর জামে মসজিদে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম. আব্দুল লতিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, বর্তমান প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিচুর রহমান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাসহ বিশ^বিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির নেতৃবৃন্দ জানাযায় অংশ নেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শিল্পী খালিদ হোসেন

নিজ সংবাদ ॥ নজরুল সংগীতের বরেণ্য শিল্পী, গবেষক, স্বরলিপিকার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতগুরু খালিদ হোসেন তাঁর মা রাহিমা খাতুনের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে তৃতীয় জানাজা শেষে তাঁর  দাফন সম্পন্ন হয়। বরেণ্য এই শিল্পীর দাফন অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এর আগে সন্ধ্যায় খালিদ হোসেনের মরদেহ কুষ্টিয়ায় তার নিজ বাড়ি কোর্টপাড়ায় এসে পৌছলে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শেষবারের মত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফ উদ্দিন নজু, আব্দুর রশিদ চৌধুরী প্রমুখ। বুধবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মারা যান তিনি। খালিদ হোসেনের ছেলে আসিফ হোসেন জানান মৃত্যুকালে খালিদ হোসেনের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্?রোগে ভুগছেন খালিদ হোসেন। বয়সের সঙ্গে বাড়ে কিডনির জটিলতা , সমস্যা হ”িছল ফুসফুসেও। পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা ধরনের সমস্যা তো ছিলোই। খালিদ হোসেনের চিকিৎসার সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। সেই অনুদানেই চলছিল তার চিকিৎসা। কিন্তু‘ বেঁচে ফেরা হলো না তার। চিরদিনের জন্য চলে গেলেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে।’ ১৯৩৫ সালের ৪ ডিসেম্বর জন্ম খালেদ হোসেনের। ছোটবেলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে থাকতেন তার পরিবার। দেশ বিভাগের পর মা-বাবার সঙ্গে কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় চলে আসেন তিনি। এরপর ১৯৬৪ সাল থেকে ঢাকায় ¯’ায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নজরুল সংগীতের শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি একুশে পদক পেয়েছেন ২০০০ সালে। এছাড়া পেয়েছেন নজরুল একাডেমি পদক, শিল্পকলা একাডেমি পদক পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।খালিদ হোসেনের গাওয়া নজরুল সংগীতের ছয়টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। আরও আছে একটি আধুনিক গানের অ্যালবাম ও ইসলামি গানের ১২টি অ্যালবাম।খালিদ হোসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডে সংগীত নিয়ে প্রশিক্ষক ও নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। নজরুল ইনস্টিটিউটে নজরুল সংগীতের আদি সুরভিত্তিক নজরুল স্বরলিপি প্রমাণীকরণ পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

রমজানের বৈশিষ্ট্য সমূহ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে হুজুরে আকরাম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতকে রমজান শরিফের ব্যাপারে এমন পাঁচটি বিশেষ  বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো উম্মতকে প্রদান করা হয়নি। ১. রোজাদারের মুখ থেকে যে গন্ধ  বেরোয় তা আল্লাহ পাকের কাছে কস্তুরী থেকেও বেশি পছন্দনীয়। ২. রোজাদারের জন্য সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে এবং ইফতারের সময় পর্যন্ত তারা দোয়া করতে থাকে। ৩. প্রতিদিন জান্নাতকে রোজাদারের জন্য সুসজ্জিত করা হয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘আমার নেক বান্দারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট পশ্চাতে  রেখে অতি শিগগিরই আমার কাছে আসবে’। ৪. রমজানে দুর্বৃত্ত শয়তানকে বন্দী করা হয়। ফলে সে রমজানে ওই সব অন্যায়ের দিকে ধাবিত হতে সক্ষম হয় না যা রমজান ছাড়া অন্য সময়ে করে। ৫. রমজানের শেষ রাতে আল্লাহ পাক রোজাদারদের মাগফিরাত দান করেন।  সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ রাত কি শবে-মাগফিরাত না শবে কদর? হুজুর সা: ইরশাদ করলেন- ‘না বরং নিয়ম হলো এই যে, শ্রমিক যখন তার কাজ শেষ করে তখন তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়া হয়’। অপর হাদিসে হজরত মুহম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন- ‘যদি মানুষ জানতো যে রমজানের সত্যিকার মাহাত্ম্য কি? তবে আমার উম্মত আকাংখা করত যেন সারা বছর রমজান হয়’। আর একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান মোবারকের রোজা অন্তরের খুঁত এবং সন্দেহ দূরীভূত করে। হজরত ওমর রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেছেন- ‘রমজানুল মোবারকে আল্লাহ পাকের স্মরণকারী ব্যক্তিকে মাফ করা হয়। আর আল্লাহ পাকের মহান দরবারে প্রার্থনাকারী বঞ্চিত হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রমজানের প্রত্যেক রাত্রে একজন  ফেরেশতা এই ঘোষণা করে, ‘হে কলাণকামী এদিকে মন দাও, কল্যাণের পথে অগ্রসর হও। হে অন্যায়কারী এবার বিরত হও। চক্ষু খোল।’ এরপর সেই ফেরেশতা বলে : আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী যাকে ক্ষমা করা যায়? আছে কি কোনো তওবাকারী যার তওবা কবুল করা যায়? আছে কি  কোনো প্রার্থনাকারী যার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যায়? অর্থাৎ রোজাদরের যেকোনো নেক দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন। যে সিয়াম সাধনায় রত, যে আল্লাহ পাকের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে পালন করছেন রোজার ব্রত, তার সব প্রার্থনা আল্লাহ পাকের দরবারে গ্রহণ করা হয়, তার যাবতীয় প্রয়োজনের আয়োজন করা হয়। এমনকি একখানি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- আল্লাহ পাক তাঁর আরশ বহণকারী  ফেরেশতাদের নির্দেশ দান করেন, ‘তোমাদের নিজস্ব ইবাদত মুলতবি রাখ এবং  রোজাদারদের দোয়ার সময় আমিন বলতে থাক’। রমজানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো : আল্লাহ নিজ হাতে রোজাদারের পুরস্কার দান করবেন। আল্লাহ পাকের ইরশাদ- ‘সকল নেক কাজের সওয়াবই দশগুন হারে হয়ে থাকে। কখনো তা পঁচিশ গুন পর্যন্ত হয়ে থকে। আবার একটি নেক কাজের বদলে ৭০০ গুন সওয়াবও লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু রোজা সকল নেককাজ থেকে স্বতন্ত্র। এই নেক কাজের সম্পর্ক বিশেষভাবে আমারই সাথে। তার বদলা আমিই দান করব। বান্দা তার পানাহারের আগ্রহ আমার জন্যই দমন করে থাকে। সুতরাং আমি নিজ হাতে তার মূল্য বা পুরস্কার দান করব’ ( হাদিসে কুদসি, মুসলিম শরিফ)। রমজানের আর একটি বৈশিষ্ট সম্পর্কে আবু হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৩ নম্বর হাদিস)। আবু  হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস শুরু হলে আসমানের দরজাগুলো উম্মুক্ত করে দেয়া হয়, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলে বন্দী করা হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৪ নম্বর হাদিস)। রোজাদারদের আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজাটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট। এ প্রসঙ্গে বোখারি শরিফের দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদের ১৭৬১ নম্বর হাদিসে সাহল রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,  বেহেশতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এটি দিয়ে রোজাদররা (বেহেশতে) প্রবেশ করবে। রোজাদার ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (কিয়ামতের দিন রোজাদরকে ডেকে) বলা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর একজন লোকও সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই তা বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে ওই দরজা দিয়ে আর  কেউ প্রবেশ করতে না পারে। উপরোক্ত আলেচনায় দেখা যায়, রমজান অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এই বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে এ মাসকে সামর্থের প্রান্ত পর্যন্ত কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রত্যেকটি মুসলমান সচেষ্ট হলেই কামিয়াবি সম্ভব।

পাঞ্জাবের ধানক্ষেতে আগুনের ছবি বগুড়ার বলে প্রচার – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের পাঞ্জাবে ধানক্ষেতে আগুনের ছবি বাংলাদেশের বগুড়ার বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। দাম না পেয়ে ধান নিয়ে কৃষকদের সঙ্কটের মধ্যে টাঙ্গাইলে এক কৃষকের পাকা ধানে আগুন দেওয়ার পর বগুড়াসহ আরও স্থানে এমন ঘটনা ছবি সোশাল মিডিয়ায় আসার প্রেক্ষাপটে এ দাবি করলেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক আলোচনা হানিফ বলেন, “ফেইসবুকে ধানের ক্ষেতে আগুনের ছবি দেওয়া হয়; বলা হয়, বগুড়ায় ধানের ক্ষেতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা খবর নিয়েছি বগুড়ায় আগুন দেওয়া হয়নি। ভারতের পাঞ্জাবে ধানক্ষেতে আগুন লেগেছিল। ওই দেশের সরকার সেটা নেভানোর চেষ্টা করেছিল। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেই ছবি বগুড়ায় ধান ক্ষেতে আগুন বলে প্রচার করা হচ্ছে।” উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারবিরোধী এই উসকানি দেওয়া হচ্ছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, একইভাবে পাটকল শ্রমিকদেরও উস্কে দেওয়া হচ্ছে। এসবের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে হানিফ বলেন, “এর আগে তারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে সরকার উৎখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন এই ধরনের পথ বেছে নিয়েছে।” ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জনগণ সহ্য করবে না। “আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে দাবি জানাই, যারা এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।” বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারীরর অগ্রযাত্রা ও স্বদেশ গড়ায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদের সহায়ক শক্তি জামায়াত-বিএনপি। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে অধর্মের কাজ করে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াত কৃষি, শিল্পকে ধ্বংস করেছিল, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছিল। শেখ হাসিনা এই জঙ্গিবাদকে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন। তারপরও এদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এদের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।” আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুলতানা শফির সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পড়ে শোনান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মহিলা বিষয়ক সম্পদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

গাংনীতে ছাদ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের করমদী গ্রামে বাড়ির গেটের ছাদ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে রাবেয়া খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গৃহবধূ রাবেয়া ওই গ্রামের মৃত ওসমান আলীর স্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির গেটের ছাদ ভেঙ্গে পড়ে রাবেয়ার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান,রাবেয়া সকালের দিকে বাড়ির গেটের ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় গেটের ফাটা ছাদ ভেঙ্গে তার মাথায় পড়লে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে  প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুরে চাঁদার দাবীতে ক্যানসার রোগীকে পেটালো যুবলীগ নেতা বাবু : স্ত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে নাজমুল হুসাইন (৩২) নামে এক ক্যানসার রোগীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন যুবলীগ নেতা গাজী সালাউদ্দীন বাবু ও তার ক্যাডার বাহিনী। বুধবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাড়েরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় নাজমুল হুসাইন দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে উপজেলার একই গ্রামের মৃত সামসুজ্জোহার ছেলে। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আহত নাজমুল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, গত এক মাসে আগে একই গ্রামের হাসেম মালিথার ছেলে দৌলতপুর যুবলীগ নেতা গাজী সালাউদ্দীন বাবু তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে নাজমুলকে হত্যার হুমকি দেয় বাবু। নাজমুল প্রাণের ভয়ে বাবুকে এক লক্ষ টাকা দিয়ে তখন মুক্তি পায়। এ ঘটনার ১৫ দিন পর বাবু ফের নাজমুলের কাছে আবারও পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে অস্ত্র বা মাদক দিয়ে নাজমুলকে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেয় বাবু। সেই সাথে নাজমুলের স্ত্রীকে গণধর্ষণের হুমকিও দেয় বাবু ও তার ক্যাডাররা। চাঁদার পাঁচ লক্ষ টাকা না দেয়ায় গত বুধবার বিকেলে বাবু তার ক্যাডারদের নিয়ে নাজমুলের বাড়িতে গিয়ে নাজমুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। পরে বাড়ির লোকজন নাজমুলকে বাবুর হাত থেকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজমুল দৌলতপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কুষ্টিয়ায় মুফাস্সীর পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফীলে আতা

সন্ত্রাস মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলেমদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে

কুষ্টিয়ায় মুফাস্সীর পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফীল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে “জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে” আলেমদের ভূমিকা শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তিনি আলেমদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকার আপোষহীন। ডিজিটাল দেশ গঠনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। কওমী মাদ্রাসার সনদ দিয়ে সরকার আলেম সমাজের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সন্ত্রাস মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলেমদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গুণীজনদের আবাসভূমি কুষ্টিয়া। এই কুষ্টিয়ার মাটি ও মানুষের কল্যাণে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ জাতীয় মুফাস্সীর পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসীর পরিষদের কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ সহ-সভাপতি মাওলানা নাসির ইকবাল বিন শাফী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তারিকুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসীর পরিষদ কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল কাদের জিহাদী, মুফাস্সীর পরিষদের সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল মুজাহিদ। বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সিদ্দিকী, মাওলানা বোরহান উদ্দিন জমিরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা একে এম এনামূল হক শাফী, সাবেক সভাপতি মুফাস্সীর পরিষদ,কুষ্টিয়া। পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় মুফাস্সীর পরিষদ,কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফারুক আযম জিহাদী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

লক্কর-ঝক্কর গাড়ি যেন না নামে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ঈদযাত্রা আরামদায়ক না হলেও যেন স্বস্তির হয়, এজন্য সজাগ থাকতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আন্তঃজেলায় নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ঈদ এলেই লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নামানো হয়, এটা যেন করা না হয়। এমনটি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর বনানী বিআরটিএ ভবনে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিবিঘœ করতে ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেক- হোল্ডারদের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এ আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। গত ঈদের মত সড়কের পরিস্থিতি যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আইন যেটি সংসদে পাস হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বসে যুক্তিযুক্ত সমাধান করা হবে। আইনমন্ত্রী এটা বিশেষভাবে দেখবেন। আইনানুগভাবে সড়ক পরিবহন বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি বাস মালিক ও গাড়ি চালকদের অনুরোধ করবো, সড়কে গাড়ি যেন নিয়ম-শৃংখলা মেনে চলে। যেন মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়, এটা খেয়াল রাখতে হবে। আন্তঃজেলায় নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদ এলেই লক্কর-ঝক্কর গাড়ি নামানো হয়, এটা যেন করা না হয়। গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও এলেঙ্গা ফ্লাইওভার ২৫ মে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই ফ্লাইওভার ও চার আন্ডারপাস চালু হওয়ায় এবারে উত্তরের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে। নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই মেঘনা ও গোমতি সেতুর কাজ সম্পন্ন করায় জাপানি কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ সম্পন্ন করা একটি বিরল ঘটনা। ফলে রাষ্ট্রের সাশ্রয় হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনসহ হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কুষ্টিয়ায় লোকসান গুনছে কৃষক

সরকারকে চাল দিয়ে কেজিপ্রতি ১০ টাকা লাভ পাচ্ছে চাল ব্যবসায়ীরা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বোরো ধান আবাদ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু সেই ধান থেকে চাল উৎপাদন করে সরকারের কাছে বিক্রি করে অধিক লাভবান হচ্ছেন চাল ব্যবসায়ীরা। তাঁরা কেজি প্রতি ১০ টাকা লাভ পাচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, সরকার কৃষকের দিকে নজর কম দিয়ে ব্যবসায়ীদের ধনী বানাচ্ছে। তাদের দাবি, যে হারে সরকার চাল কিনছে সেই হারে ধানও কিনতে হবে। নতুবা সরকারীভাবে যে মূল্য (কেজিপ্রতি ২৬ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা বাইরেও নির্ধারণ করা হোক। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় রবি মৌসুমে বোরো আবাদে সবচেয়ে বেশি মোটা জাতের চালের ধান আবাদ করা হয়। সরকার বোরো সংগ্রহও করে বেশি। চলতি মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ৩৬ টাকা কেজি দরে বোরো চাল সংগ্রহ করছে। জেলায় ২৯ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন কেনা হচ্ছে। তারমধ্যে সদর উপজেলাতেই ৩৩৬ মিল মালিক ২৩ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করছে। আগামী ৩১ আগষ্টের মধ্যে চাল কেনা সম্পন্ন করা হবে। চালকল মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, বোরো চাল তৈরিতে মোটা ধানের জাত যেমন বিআর-২৮,কাজললতা ও শুভলতা ধান কেনা হয়। গত রোববার আইলচারা বাজারে এসব ধান বিক্রি হয়েছে মণ প্রতি ৬০০ টাকা। ধান কেনাসহ মিলে আনার পরিবহন খরচ ২৫ টাকা, শ্রমিক ২০ টাকা ও মিল চার্জ ৩৫ টাকা মিলে খরচ হয় আরও ৮০ টাকা। প্রতি মণ ধান থেকে চাল উৎপাদন হয় ২৬ কেজি। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ হচ্ছে কেজি প্রতি ২৬ টাকা। এই উৎপাদিত চাল তাদের কাছ থেকে সরকার কিনছে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে। অর্থ্যাৎ তারা কেজি প্রতি ১০ টাকা লাভ পাচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকের দেওয়া তথ্যমতে, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করে ঘরে তুলতে (জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে মাড়াই শেষ করে) প্রায় ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে গড়ে ২০ মণ করে। বাজাওে ৬০০ টাকা মণ হিসাবে সব ধান বিক্রি করে পাচ্ছে ১২ হাজার টাকা। লোকসান হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৪ টাকা। সহজ এই হিসাবে রোদে পুড়ে চার মাস ধরে কৃষককে বোরো আবাদ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সেখানে ঘরে বসে কেজি প্রতি ১০ টাকা হিসাবে লাভ করে কোটি কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে আয় করছেন চাল ব্যবসায়ীরা। কুষ্টিয়া পৌরসভা বাজারে খুচরায় এখন মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২৭ টাকা। সরু চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা এবং মাঝারি চাল ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে পুরাতন চাল বিক্রি হচ্ছে প্রত্যেক প্রকারে কেজি প্রতি আরও ৪ টাকা করে বেশি দরে। ক্ষোভপ্রকাশ করে কৃষকেরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় মিল মালিকেরা এখনই জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় ধান কিনে গুদামজাত করে ফেলছে। বিভিন্ন জেলায় ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তারা এধান কিনে নিচ্ছে। সুযোগ বুঝে সেই ধান পরবর্তীতে ধীরে ধীরে চাল উৎপাদনে যাবে। এতে কম টাকায় কিনে চাল উৎপাদন করবে। কৃষকদের দাবি, সরকার ২৬ টাকা প্রতিকেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনছে। কিন্তু সেটা খুবই নগন্য। তাই খোলা বাজারেও সরকারের এই দাম (২৬ টাকা) নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। যাতে কৃষকদের কেউ ঠকাতে না পারে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন,সরকার যে দামে ধান কিনছে  সেই দামই বাজারে নির্ধারণ করে দিলে কৃষক বাঁচবে। হয়তো এতে করে চালের দাম কিছুটা বাড়বে। অন্যদিকে কোটি কোটি কৃষকও লাভবান হবে। জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধানের দাবি, জেলায় যে পরিমাণ বোরো চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে তা সব মিল মালিকদের মধ্যে ধারণ ক্ষমতা অনুপাতে বন্টন করে দেওয়া হয়। এতে একজন মিলমালিক গড়ে ৪০ টন করে বরাদ্দ পান। এই চাল উৎপাদন করতে মাত্র দশ দিন লাগে। কিন্তু বাকি দিনগুলোতে উৎপাদন করা চাল বাইরে বিক্রি করতে গেলে লোকসানে পড়তে হয়।

 

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সকলের দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত ও আইন-শৃংখলা বজায় রাখতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃচস্পতিবার গণভবনে এক ইফতার মাহফিলে বক্তৃতাকালে বলেন, ‘রমজান হলো দোয়া কবুলের মাস। আমরা চাই আপনারা বাংলাদেশ যে পথে অগ্রসর হচ্ছে আমরা যেনো সে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও দেশের আইন-শৃংখলা বজায় রাখতে পারি, সেজন্য দোয়া করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিচারপতি, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসমারিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জনগণের জীবনে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সমাজ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত থাকুক।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি- ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় এ নীতি মেনে চলি এবং সকলের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।’ সবাইকে আগাম ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু বিদেশ সফরের কারণে ঈদ উৎসবের সময় তিনি দেশে থাকতে পারছেন না। ৭ জুন দেশে ফিরবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত যে, বেশ কিছু বিদেশ সফর থাকায় ঈদে আমি দেশে থাকতে পারছি না। প্রথমে আমি জাপান যাবো, এরপর ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আমি সৌদি আরব যাবো এবং সেখান থেকে আমি ফিনল্যান্ড যাবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ঈদের সময় থাকতে পারছি না, সেহেতু এ ইফতার মাহফিল থেকে আমি আগেভাগে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমার আন্তরিক ঈদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা সকলের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য এবং দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। ইফতারের আগে দেশ ও জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের চিরশান্তি ও আত্মার মাগফেরাত এবং প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেও মোনাজাত করা হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এইচ টি ইমাম, নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ ও কূটনৈতিক কোরের ডিনরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ এবং ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ইফতারে যোগদান করেন।

দেশে মানুষ মারার ব্যবসা করতে দেয়া হবে না – ইনু

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল দেয়া ব্যক্তিদের প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘খাদ্য ও ওষুধে ভেজালকারী, মাছ-মাংস-ফল-সবজিতে কেমিক্যাল মিশ্রণকারীদের জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মতো দমন করতে হবে। দেশে মানুষ মারার ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।’ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাসদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশে মানুষ মারার ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। কোনও অজুহাত শুনতে চাই না, ওয়াসার পানিতে দূষণ বন্ধ করতেই হবে। দূষণমুক্ত বিশুদ্ধ নিরাপদ পানি দিতে না পারলে পানির বিল নেওয়া স্থগিত রাখতে হবে। এসময় তিনি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে কারসাজি করা ব্যক্তিদের দমন করতে সারাবছর অভিযান চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতার, ঢাকা মহানগর জাসদের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আখতার প্রমুখ।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।

 

দৌলতপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু : আহত-১

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে একজন। তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারপূর্ব ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ বোর্ডপাড়া গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, স্বামী আরিফ হোসেন (৪০) নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ অন করার সময় বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে আরিফ হোসেনের গায়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তার স্ত্রী নুপুর খাতুন (৩২) তাকে বাঁচাতে গেলে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনই ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরিফ হোসেনের মামাত ভাই প্রতিবেশী আব্দুল গনি (২৫) আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পিয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একই সাথে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু মর্মান্তিক ও খুবই দু:খজনক ঘটনা।