অফিসারদের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন প্রতিনিধিরা

দৌলতপুরে সরকারী ৮ দপ্তরে এমপি’র প্রতিনিধি নিয়োগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সরকারী ৮ দপ্তরে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্যাডে ৭৫, কুষ্টিয়া-১/২৪ স্মারক নম্বরে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা স্বাক্ষর করে তার মনোনিত ৮জন ব্যক্তিকে সরকারী ৮ দপ্তরের প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে মো. তৌহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ অফিসে মো. ইসহাক আলী, দৌলতপুর কৃষি অফিসে সর্দার মোফাজ্জেল হক, দৌলতপুর যুব উন্নয়ন অফিসে আব্দুল কাদের, দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মো. হাসিনুর রহমান, দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মো. হায়দার আলী, দৌলতপুর সমাজসেবা অফিসে মো. টিপু নেওয়াজ ও দৌলতপুর মৎস্য অফিসে জিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে ‘দৌলতপুর উপজেলাধীন যে সকল সরকারী কার্যালয় আছে সেগুলোর মিটিং বা অফিসিয়াল কোন কাজে অনেক সময় আমার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য উপস্থিত থাকতে পারিনা। তাই উক্ত কার্যালয়গুলোতে আমার প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হলো। আমার অনুপস্থিতিতে উক্ত প্রতিনিধিবর্গ আপনার বিভিন্ন কার্যালয়ের মিটিং এবং অফিসিয়াল যোগাযোগ রক্ষা করবে’। এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর এমপি’র নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিসে গিয়ে অফিসারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেছেন। এনিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে এমপি’র নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হায়দার আলীর সাথে ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক কবিরাজের হাতাহাতি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয়কে ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র ডেকে নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এরআগের দিন সোমবার সকালে দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান ও সদ্য অবসরে যাওয়া ডিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষা সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজে গেলে এমপি’র প্রতিনিধি হায়দার আলী ও হাসিনুর রহমান ওই দুই শিক্ষককে শিক্ষা অফিসারের সামনে বসা চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেন। এসময় তারা দাম্ভিকতার সাথে বলেন, ‘আপনারা জানেন না আমরা এমপি’র প্রতিনিধি, আমাদের চেয়ার না দিয়ে আপনারা চেয়ারে বসে আছেন, আমাদের চেয়ার ছেড়ে দেন’। সেসময় প্রধান শিক্ষকদ্বয় নিজেদের অপমান বোধ করে চেয়ার ছেড়ে অফিস ত্যাগ করেন। এমনিভাবে প্রতিটি দপ্তরেই সার্বক্ষনিক এমপি’র প্রতিনিধিরা ঘোরাঘুরি করছেন আর সরকারী অফিসারদের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আর যেকোন বিষয়ে অফিসারদের কাজে খবরদারি করছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারী কর্মকর্তা জানান, সরকারী কাজে এমপি মহোদয়ের প্রতিনিধিরা যেভাবে নাক গলাচ্ছেন তাতে করে সরকারী কাজ কর্ম ছেড়ে প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে আমাদের অফিস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

তবে নিয়োগপ্রাপ্ত এমপি’র প্রতিনিধিদের অনেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে পূর্ব থেকেই জড়িত। কেউ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্তির নাম করে শত শত ব্যক্তিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আবার কেউ থানায় দালালি করে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন একাধিকবার এমন ব্যক্তিও রয়েছেন এমপি’র প্রতিনিধির তালিকায়।

এমপি’র প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি সরকারী কোন নীতিমালা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে এমপি স্যারের সাথে আলাপ করবো।

কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় আতাউর রহমান

ক্রেতা ঠকানোর প্রতিযোগিতা নয়, ন্যায্যমুল্যে পণ্য বিক্রি করুন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা অধিক মুনাফা লাভে ক্রেতাদেরকে ঠকিয়ে চলেছেন। দ্বিগুন, কোন কোন সময় তারও বেশি মূল্য হাকানো হয় বিভিন্ন পন্যে। বিক্রেতাদের এমন আচরণ কাম্য নয়। সাময়িক লাভে ক্রেতা ঠকানো এটি কোন ব্যবসায়ী নীতি হতে পারেনা। আমি মনে করি আপনারা ক্রেতা না ঠকিয়ে তাদেরকে ন্যায্যমুল্যে পণ্য বিক্রি করেন। এতে করে ব্যবসার পরিধি বাড়বে বই কমবেনা। তিনি গতকাল বুধবার বাদ মাগরিব কুষ্টিয়া শহরের পরিমল শপিংমলে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন আসন্ন রমজান কিংবা ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে  ক্রেতাদের সুবিধার্তে পণ্যের দাম কমিয়ে থাকেন। পণ্যের দাম কমাতে একপ্রকার প্রতিযোগিতায় নামে বিক্রেতারা। অথচ আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের আচরণ ভিন্ন। রমজান কিংবা ঈদকে সামনে রেখে অধিক মুনাফার আশায় পণ্যের মূল্য হাঁকান চড়া। ব্যবসায়ের যেন লক্ষই থাকে এই একটি মাসই তাদের মুনাফা বৃদ্ধির মক্ষম সুযোগ। এই ধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ক্রেতাদের ঠকানো যাবেনা। ক্রেতা ঠকিয়ে কেউ লাভবান হতে পারেনা। এসময় মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি আলহাজ্ব ওমর ফারুক ব্যবসায়ী নেতা তাহের প্রমুখ।

পরিদর্শনে গিয়ে সচিবের ক্ষোভ

কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণকাজে ধীরগতি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ কাজে ধীরগতি ও গাফিলতি পেয়েছে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ে ভবন নির্মাণ শেষ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে হস্তান্তরের কথা থাকলেও অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। গত শনিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এচিত্র দেখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল।  সেখানে জেলা শিল্পকলার একাডেমির কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়ার স্থানীয় পর্যায়ে সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিল্প-সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক সময়ে নির্মাণ শেষ করতে পারছে না সংশি¬ষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে শিল্প সংস্কৃতি চর্চার মারাত্বক ব্যাঘাত ঘটছে। শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ১৯৬১ সালে পৌরসভার পাশে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়। সেটি পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন হয়ে যায়। সেখানেই  জেলার সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসাবে কাজ করতে থাকে  জেলা শিল্পকলা একাডেমী। কণ্ঠসঙ্গীত, নৃত্যকলা, তালযন্ত্র, নাট্যকলা ও চারুকলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হয়। জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে স্থানীয়ভাবে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং চলচ্চিত্র, সাংষ্কৃতিক ও নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত কুষ্টিয়ার সংস্কৃতি চর্চা আরও গিত বাড়াতে আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোয়া এক এশর জমিতে অত্যাধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা উচ্চতার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম (শিল্পকলা) মিলনায়তন তৈরি হচ্ছে। মীর আকতার লিমিটেড নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের কথা রয়েছে। কিন্তু কাজে এতটাই ধীর গতি তাতে আরও এক বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ হবে কিনা সন্দেহ। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক  আমিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের কাজের গাফিলতি ও ধীরগতির ব্যাপারে বারবার বলা হয়েছে। তারপরও ঠিকাদার কোন কর্নপাত করে না। মন্ত্রণালয়েও এব্যাপারে জানানো হয়। গতকাল শনিবার সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব সরেজমিন পরিদর্শন যান। তিনি প্রকল্প এলাকায় কাজের নকশা ও বিবরণ লেখা সাইনবোর্ড না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে কাজের ধীর গতির ব্যাপারে জানতে চান। প্রকল্প পরামর্শক তারিক হাসান অ্যান্ড এসোসিয়েট লিমিডেটের পরামর্শক মাসুম ফেরদৌসের কাছে জানতে চান, তিনি কেন কাজের কোন ভুলক্রটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানাননি। সচিব ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুম ফেরদৌসকে বলেন, ‘আপনার চোখ আমাদের চোখ হবার কথা। কিন্তু হয়েছে ঠিকাদারের চোখের মতো। এছাড়া ছাদ ঢালাইয়ের কয়েক জায়গায় ষ্টিলের পাতের পরিবর্তে কাঠ ব্যবহারের বিষয়েও জানতে চান। কাজের অগ্রগতি ও প্রতিবেদনের কাগজ দেখতে চেয়েও তিনি পাননি। মাসুম ফেরদৌসও কোন সদুত্ত দিতে পারেননি।

এসময় কাজে ধীর গতি ও গাফিলতির বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির একাধিক কর্মকর্তা ও শিল্পী সচিবের কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা সুজন রহমান বলেন, গত এক বছর ধরে শহরে ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া বাসায় সংস্কৃতি চর্চা চালানো হচ্ছে। সেটাও কষ্টদায়ক। কোন রকম স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মীর আকতার লিমিডেটের এই প্রকল্পের সমন্বয়কারী আবু মুসা রঞ্জু বলেন, ভবন নির্মাণের কাজ ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হতে হয়তো ২০২০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। কাজের ধীরগতির ব্যাপারে তিনি বলেন, জমিতে কিছু স্থাপনা ছিল সেগুলো ভাঙতে সময় লেগে গিয়েছিল। এজন্য  দেরি হচ্ছে। পরামর্শক মাসুম ফেরদৌস দাবি করে বলেন, নকশা অনুযায়ী সব কাজ হচ্ছে। ধীরগতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগে জানানো হয়।

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়ক

সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি,  দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক নির্মাণের কাজ। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচলে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের দাবি, বিদ্যুতের খুটি দ্রুত সরানোর জন্য সংশি¬ষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের একাধিকবার বলা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এনিয়ে তিনিও শঙ্কায় আছেন। অপর দিকে সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়ক নির্মাণের পর খুটি সরালে সড়ক ভেঙে যাবার আশঙ্কা থাকে। সওজ সূত্র জানায়, ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুর্ননির্মাণ কাজ গত বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে শুরু হয়েছে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একাজ করছেন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। বর্তমান থাকা সড়কটির আরও প্রশস্ত করা হচ্ছে। যার প্রস্ত প্রায় ৪০ ফিট। সড়কটি প্রশস্তকরনের ফলে এর পাশে থাকা বিদ্যুতের খুটি সরানোর প্রয়োজন পড়ে। সার্ভে করে দেখা যায় ওজোপাডিকো ও পল¬ী বিদ্যুৎ মিলে অন্তত এক হাজার বিদ্যুতের খুটি সরানো লাগছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে ওজোপাডিকো সাড়ে ছয় কোটি ও পল¬ী বিদ্যুতের খরচ হচ্ছে পৌনে সাত কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ওজোপাডিকোকে ছয় কোটি টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। পল¬ী বিদ্যুৎকে দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা চলতি অর্থ বছরে দেয়া হতে পারে। এদিকে দ্রুত গতিতে সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এতে করে বেশির ভাগ জায়গায় সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুটি দাড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, কুমারখালী উপজেলার লাহিনী বটতলা থেকে দবির মোল¬ার রেলগেট পর্যন্ত অন্তত ১০টি ও আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ১০টি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মাঝে পড়ে গেছে। সবচেয়ে মারাত্বক ঝুঁকিতে রয়েছে লাহিনী মোড় এলাকায় কয়েকটি খুটি। বেশির ভাগ খুটি পল¬ী বিদ্যুতের আওতায়। এছাড়াও কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু খুটি সরানো বাকি রয়েছে। গত সোমবার দুপুরে সওজ ও বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলীরা যৌথভাবে সড়কের মাঝে মারাত্বক ঝুঁকিতে থাকা খুটি সনাক্ত করেন। সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জহরুল কন্সট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল হাশেম বলেন, কুমারখালী উপজেলার আওতাধীন সড়ক নির্মাণের সব কাজ ঈদের আগেই শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু সড়ক থেকে এখনও বিদ্যুতের খুটি সরানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে খুটি সরাতে গেলে সড়কে আবার খোড়া হবে। এতে সড়কের ক্ষতি হবে। সড়কের টেকসই কমে যাবে। তাছাড়া দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, খুঁটিগুলো সরানোর জন্য টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তারপরও সরানোর কোন উদ্যোগ নেই। এই সড়কে দিনে রাতে প্রচুর ট্রাক বাস চলাচল করে। যেকোন মূহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই শঙ্কায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতিদিনই বলা হয়। ওজোপাডিকো কুষ্টিয়া কার্যালয়ের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ৮০ ভাগ খুটি সরানো হয়ে গেছে। যেটুকু বাকি আছে সেটা রমজানের কারণে বিদ্যুত বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। এজন্য সরানো যাচ্ছে না। রমজানের পর বাকি খুটি সরানো হবে। কুষ্টিয়া পল¬ী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম (কারিগরি) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ওজোপাডিকোর সাথেই তাদের কিছু খুটি সড়কের মাঝে পড়ে গেছে। লাহিনীপাড়া এলাকার খুটিগুলো আগামী শনিবারের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠকে কাদের

ভারতের জনগণ যাকেই নির্বাচিত করুক তার সঙ্গেই বিদ্যমান সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের যে দল বা জোটকে সেদেশের জনগণ নির্বাচিত করবে সে দল বা জোটের সঙ্গেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের (স্টেট টু স্টেট) এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের। তাই, ভারতের জনগণ যে জোট বা দলকে নির্বাচিত করবে সেই জোট বা দলের সঙ্গে আমরা কাজ করব।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে আজকে আমার যে সাক্ষাত সেটা অনেকটাই সৌজন্য সাক্ষাত। ভারতের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। আরো নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেকটিভিটির বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে বাস চলাচল রয়েছে, ভারতের গোহাটি-আসামের সঙ্গে ও সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে এই সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চাই। এ সব বিষয় নিয়েই রিভা গাঙ্গুলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারত থেকে বাস ও ট্রাক আনা হয়েছে, আখাউড়া-কিশোরগঞ্জ, আখাউড়া থেকে ময়নামতি পর্যন্ত ফোরলেন ও ফেনী নদীর ও সেতু নির্মান বন্ধু প্রতিম দেশ দু’টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। দু’দেশই তাদের পারস্পারিক স্বার্থের জন্যই কাজ করে যাচ্ছে উলে¬খ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ভারতের যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশ দু’টির মধ্যে অমিমাংসিত যেসব সমস্যা রয়েছে, সে সমস্যা সমাধানের জন্যও সেই সরকারের কাছে সহযোগিতা আশা করি। তিনি বলেন, আশার যেখানে শেষ, সেখানে হতাশার শুরু এবং তা আরো গভীর হয়। আশা ছাড়লে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার সমাধান হতো না। চেষ্টা ছিল বলেই সে সমস্যার সমাধান হয়েছে। কোন সমস্যা সমাধানের জোর চেষ্টা থাকলে উভয় দিক থেকে সমঝোতার পথ প্রশস্ত হয়। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যেভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল হস্তান্তর হয়েছে, সীমান্ত সমস্যার সমাধান যেভাবে হয়েছে, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বন্টন সমস্যারও সমাধান সেভাবেই হবে। ভারতের নতুন সরকার এ সমস্যা সমাধান বাস্তব রূপ দেবেন, সেই আশা আমরা করি। ধানের ক্ষেতে আগুন দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ধানের ক্ষেতে আগুন দেয়ার বিষয়টি সাবোটাজ বা সরকারের সুনামহানি করার জন্য করা হচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কাদের বলেন, যে কোন বিষয়ে সংকট দেখা দিতে পারে, কিন্তু এভাবে ধানের ক্ষেতে আগুন জ্বালিয়ে সংকটের কোন সমাধান করা সম্ভব নয়। বিষয়টি জানানোর জন্যও সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলীয়ভাবেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তবসম্মতভাবে যে কোন সংকটের সমাধান করতে হবে। ধানের ক্ষেতে আগুন দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কাদের বলেন, সরকার এ সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। কারণ, সরকার কখনো চাইবে না যে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সরকার এ সমস্যা সমাধানে বাস্তব সম্মত উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আইনগত দিক থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, তা নির্বাচন কমিশন দেখবে। এ ব্যাপারে সরকারের কিছু বলার বা করার নেই। এর আগে রিভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চাল আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুণ হলো

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চালের ওপর বর্তমানে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বহাল রেখে রেগুলেটরি ডিওটি ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে চাল আমদানির ক্ষেত্রে মোট করভার ৫৫ শতাংশ (কাস্টমস্ ডিওটি ২৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিওটি ২৫ শতাংশ ও অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশে) উন্নিত করা হয়েছে। বুধবার (২২ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ-সংক্রান্ত একটি এসআরও জারি করেছে, যা গতকাল থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে চাল আমদানিতে মোট শুল্ক ছিল ২৮ শতাংশ। এখন সেটি প্রায় দ্বিগুণ করে ৫৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিনিয়র সচিব অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় তিন লাখ তিন হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এতে দেশীয় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। ফলে প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষাকল্পে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুশাসন অনুযায়ী চালের ওপর আমদানি শুল্ক কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রায় ৮ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়ম

ভয়ে মুখ খুলছে না কেউ

শীর্ষ চরমপন্থি নেতা মুকুলের সাথে কলেজ অধ্যক্ষের যৌথ ঠিকাদারি ব্যবসা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ৮ কিলোমিটারের বেশি একটি সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। তবে এ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করাসহ দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুলের সাথে যৌথভাবে সড়ক সংষ্কারের কাজটি করছে দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন। এ কারনে ব্যাপক অনিয়ম হলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাগেছে, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া জিসি ডাংমড়কা আরএন্ডএইচ সড়ক পূর্ণবাসন করণ কাজের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে টেন্ডার আহবান করা হয়। বন্যা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পল¬ী সড়ক অবকাঠামো পুনবার্সন প্রকল্প থেকে সড়কটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৩ টাকা। প্রায়  ৮কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে এ ব্যায় ধরা হয়। তবে চুক্তি হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৫ টাকায়।

জেভি (জয়েন্ট ভেনচার) তিনটি ঠিকাদারি ফার্মকে কাজটি দেয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়া ফার্ম তিনটি হলো এসএইচজে-এসকেএস ও এসএইচই-জেভি। এসএইচজে-সাইফুল ইসলাম জোদায়াদ্দার, চুয়াডাঙ্গা। এসকেএস-সাদেকুজ্জামান সুমন, দৌলতপুর ও এসএইচই- সৈকত এন্টারপ্রাইজ, কুষ্টিয়া সদর। সৈকত হচ্ছে চরমপন্থি নেতা মুকুলের ছেলে। এই নামে লাইসেন্স করে মুকুল ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ করে আসছে। বিষয়টি অনেকে জেনেও নিশ্চুপ রয়েছে।

যৌথভাবে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দেয়া হলেও কাজটি একাই বাস্তবায়ন করছেন দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন। এজন্য তিনি একাই এলজিইডির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে চরমপন্থি মুকুলসহ অন্য দুই ঠিকাদারের শেয়ার রয়েছে। মুকুলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সুমন কাজ করছে।

এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ ফেব্র“য়ারি চুক্তির পর ৫ মার্চ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি চলতি বছরের ১ আগষ্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাজের ৩০ ভাগের কিছু বেশি শেষ হয়েছে মাত্র।

সরেজমিন সড়কটি ঘুরে দেখা গেছে, কাজটি শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সমুন প্রভাব খাটিয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজটি চলছে। ট্রাক্টর দিয়ে সড়ক খুড়ে পুরাতন ডাস্ট ব্যবহার করেই সড়কটির কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া নিন্মমানের ইটসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটি সংষ্কার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। এলজিইডির প্রকৌশলীরাও সুমনের কাছে অসহায়।

দৌলতপুরে এলজিইডির কাজ করেন এমন এক ঠিকাদার বলেন, চরমপন্থি নেতা মুকুলের নাম ব্যবহার করে সড়কটির কাজ করছেন সাদিকুজ্জামান সুমন। পুলিশের খাতায় পলাতক গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা আমিনুল ইসলাম মুকুল জেলার সব সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে ঠিকাদারি কাজ করে যাচ্ছেন। তার ছেলে সৈকতের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে ভয়ভীতি দেখিয়ে বেশির ভাগ কাজ নিজের নামে করে নিচ্ছেন। তার হয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমনসহ অন্য আরো কয়েকজন ঠিকাদার কাজ করছেন। আর মুকুল এ কাজে সুমনের পার্টনার হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

দৌলতপুর উপজেলা এলজিইডির এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ সড়কের কাজ নিয়ে কিছু বলার মত অবস্থা নেই। অনেক কিছু দেখেও না দেখার ভান করে থাকতে হচ্ছে। ওই প্রকৌশলী আরো বলেন, সমুনের চাচা ছিলেন এলজিইডির যুগ্ম সচিব। সেই সময় থেকে সমুনের উত্থান। তিনি নামে বেনামে বহু কাজ করে আসছেন। চাচা অবসরে যাওয়ার পরও তার প্রভাব রয়েছে।’

স্থাণীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান,‘ কাজ ধীরগতিতে চলায় বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। অনেক জায়গায় মালামাল পড়ে আছে। কাজ একদিন হয়তো আবার দুইদিন বন্ধ থাকে। এতে করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে এটা কেউ মুখ খূলে বলতে পারছে না।’

কাজের ঠিকাদার ও দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান সুমন দাবি করে বলেন, আমি ও চুয়াডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম নামে একজন ঠিকাদার মিলে কাজটির জন্য দরপত্র দাখিল করি। পরে চরমপন্থি মুকুলের লোকজন ভয় দেখিয়ে তাকে এ কাজের পার্টনার করে। আমিই মূল ঠিকাদার। মুকুল নামে মাত্র ঠিকাদার। এ কাজে মুকুলের কোন ইনভেস্ট নেই। অভিজ্ঞতা ও অন্য কাজে সুবিধা পাওয়ার জন্য মুকুল তার ক্যাডার দিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজে পার্টনার হয়েছে। মুকুলের প্রভাব বিস্তার করে আমি কোন কাজ করছি না। সিডিউল মোতাবেক কাজ হচ্ছে বলে সুমন দাবি করেন।’

দৌলতপুর এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান বলেন, সাদিকুজ্জামান কাজটি করলেও তারে সাথে আরো দুই পার্টনার রয়েছে। সৈকত এন্টারপ্রাইজ (চরমপন্থি মুকুলের ছেলে) ও চুয়াডাঙ্গার সাইফুল ইসলাম নামে আরো দুই ঠিকাদার রয়েছে। আর কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না।’