সংরক্ষিত নারী আসন

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ

ঢাকা অফিস ॥ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির ভাগে পড়া একটি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলটির একক প্রার্থী থাকায় এখন তার সংসদ সদস্য হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রয়াত ভাষা সংগ্রামী অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানা গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির কর্মকান্ডে বেশ সক্রিয়। পাশাপাশি টেলিভিশনে বিভিন্ন টক শোতেও তাকে নিয়মিত দেখা যায়। সাপ্তাহিক ইত্তেহাদের সম্পাদক অলি আহাদের গড়ে তোলা দল ‘ডেমোক্রেটিক লীগ’ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় জোটে ছিল। দলটি এখনও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক। বাবার গড়ে তোলা ওই দলে নাম লেখাননি রুমিন ফারহানা। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে তাকে সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্মসচিব আবুল কাসেম। এ সময় রুমিন ছাড়াও বিএনপির মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৮ মে, ভোট ১৬ জুন। তবে এই নির্বাচনে একটি আসনে একক প্রার্থী থাকায় আর ভোট হবে না। সেক্ষেত্রে রুমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ২৮ মে বিকালে রুমিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রুমিন শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বনানীতে নিজের বাবা অলি আহাদের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবরও জিয়ারত করেন তিনি। চলতি সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র একজন রয়েছেন।

দৌলতপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে মদ ও গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল আলীমডোবা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ১১ বোতল ভারতীয় জেডি মদ ও ২৫ বোতল ম্যাগডুয়েল মদ উদ্ধার হয়েছে। অপরদিকে একই বিওপি’র টহল দল সোমবার রাত ১১টার দিকে চরপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ১৫ বোতল ভারতীয় জেডি মদ ও ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। তবে এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়

শিক্ষিকাকে ধর্ষনের দায়ে প্রধান শিক্ষকের যাবজ্জীবন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর থানায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষিকাকে ধর্ষনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সী মোঃ মশিয়ার রহমান আসামীর উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক শরিফুল ইসলাম মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের মৃত রহমান মোল্লার ছেলে। সে মুজিবনগর আ¤্রকানন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ধর্ষনের শিকার ঐ শিক্ষিকা একই বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষনের শিকার ঐ শিক্ষিকা ২০১৬ সালের ১৩ মে মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে অভিযুক্ত শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সাথে কুষ্টিয়া আসেন। কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার এলাকায় আল আমিন আবাসিক হোটেলে মামা-ভাগিনা পরিচয়ে আলাদা আলাদা কক্ষ ভাড়া নেন। ঐদিন ভোরবেলা শরিফুল ইসলাম ঐ শিক্ষিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এসময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে হত্যার হুমকীও দেওয়া হয় ঐ শিক্ষিকাকে। ধর্ষণের কারনে শিক্ষিকা গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক  কৌশলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায়  ভুক্তভোগি শিক্ষিকা বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে একমাত্র আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানিন্তে আদালত গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালানা করেন কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি এ্যাড.আকরাম হোসেন দুলাল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভা

২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে। একইসাথে স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রায় ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার এডিপিও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সেই তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ অন্যান্য গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী অর্থবছরে জন্য খাত ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিহন খাতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা,যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ। অন্যান্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে-শিক্ষার প্রসার ও গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩ ৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা যা মোট এডিপির ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জনে কৃষিখাতে খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম দশ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬টি, জেডিসিএফ প্রকল্প ১টি এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে ৮৯ টি। অন্যদিকে সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২টি। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২টি এবং বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এছাড়া বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৪১টি। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের নামে অহেতুক ও অতিরিক্ত জমি নেওয়া যাবে না। ফসলী জমিতে হাত দেয়া যাবেনা। যেসব প্রকল্প সমাপ্ত হচ্ছেনা, সেগুলো কেন হচ্ছেনা প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। প্রয়োজনে সহায়তা দিয়ে হলেও শেষ করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জানান, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন (জুলাই-থেকে) ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৭ হাজার ৩০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ, ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।

ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ আটকে গেল হাই কোর্টে

ঢাকা অফিস ॥ ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছে হাই কোর্ট। ওই সার্কুলার স্থগিত চেয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের করা এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে মনজিল মোরসেদ নিজেই শুনানি করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন মো. মনিরুজ্জামান। আদেশের পর মনজিল মোরসেদ বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ওই সার্কুলারকে আদালত ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। “পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ মে আদালতে গিয়ে বলেছিলাম, এ সার্কুলারটি স্থগিত করা হোক। সে সময় শুনানিতে আদলত বাংলদেশের ব্যাংকের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেছিল এ ধরনের সার্কুলার হয়েছে কিনা। বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হল, এ ধরনের কেনো সার্কুলার হয়নি। “আদালত সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন মঞ্জুর না করে বলেছিল, তালিকা দিতে হবে। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত তাদের সময় দেয় আদালত। এর প্রেক্ষিতে ১৬ মে বিকেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারটা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেটিই রোববার আমরা চ্যালেঞ্জ করে স্থগিত চেয়েছি।” মনজিল মোরসেদ বলেন, “২ শতাংশ দিয়ে তারা ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে মুক্তি পাবে, সিআইবি তে নাম থাকবে না, তখন ব্যাংক থেকে নতুন করে আবার হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যবে। যাতে ব্যাংকের মেরুদন্ড ভেঙে যাবে। “এর প্রেক্ষিতেই আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম যে, সার্কুলারটা মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক। আদালত ২৪ জুন পর্যন্ত এ সার্কুলারের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছে। ওই দিন পরবর্তী আদেশ হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তালিকা দেওয়ার পরে।” আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলার নিয়ে কী বলেছে জানতে চাইলে মনজিল বলেন, “মন্তব্য তো করেছেন অনেক। বলেছেন এই সার্কুলার বাংলাদেশের ব্যাংকের দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন। আরেকটা বলেছেন যে, যারা ঋণ খেলাপি, তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য ব্যাংক উঠেপড়ে লেগেছে। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পাচার করা হচ্ছে, অথচ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নাই। আবার যদি তারা সুযোগ পায় তাহলে তারা আরও এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে।” সরকার ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিলেও ব্যাংকগুলো যে তা মানছে না- সে বিষয়টিও শুনানিতে এসেছে বলে মনজিল মোরসেদ জানান। তিনি বলেন, “তারা তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও মানছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দেশ্যই দেখা যাচ্ছে, যারা লুটপাট করছে টাকা পয়সা লোন নিয়ে পরিশোধ করছে না তাদেরকে সাপোর্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংক নেয়। এটাই বলেছে আদালত।” হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এখন পর্যন্ত এ রকম কোনো নির্দেশনা পাইনি।”

সরকারি ভাবে ধান ক্রয়

কুষ্টিয়ায় ইউএনও’র তৎপরতায় বেকায়দায় সিন্ডিকেট ও ফড়িয়ারা

নিজ সংবাদ ॥ অন্যান্য বছর কুষ্টিয়ায় জেলায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ঘোষনা দিলেও তা ছিল শুধু কাগজে-কলমে। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষক নিশ্চিত হওয়ার পরই তার নিকট থেকে ধান কিনছেন। ইউএনও’র এ উদ্যোগে সিন্ডিকেট ও ফড়িয়ারা বেকায়দায় পড়েছে। তাদের প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সারা দিনে তিনটি ইউনিয়ন ঘুরে ২২০জন কৃষকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেন ইউএনও। এ সময় খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা তার সাথে ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এ বছর কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলা থেকে কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় দেড় হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রনালয় থেকে স্থাণীয় খাদ্য অফিসে  চিঠি আসার পর থেকেই স্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদ ও ফড়িয়ারা ধান দেয়ার জন্য পাঁয়তারা শুরু করে। এর আগের বছরগুলোতেও এসব ধান কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা সরকারি গোডাউনে ধান সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা অর্থ হাতিয়ে নেয়।

তবে এবছর সারা দেশে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ধানের বাজার পড়ে যায়। কৃষকরা যাতে সঠিক বাজারদর পায় সে জন্য সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে। সেই মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে প্রান্তিক কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনটি ইউনিয়ন থেকে ধান কেনা হয়েছে। আইলচারা, পাটিকাবাড়ি ও হরিপুর ইউনিয়নে ধান কিনতে যান উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য অফিস ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা।  ২২০জন কৃষকের কাছ থেকে ১২০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। ২৬ টাকা কেজি দরে এসব ধান বিক্রি করেন কৃষকরা।

ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ছাড়াও জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সাহা, বড় বাজার খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও জগতি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিন্দ্য কুমার দাশসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক রবিউল ইসলাম ও মহররম বলেন, সরকারের উদ্যোগে হতাশ কৃষক কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছে। ধান কেনার পরিমান বাড়াতে হবে। চাল কিনে মিলাররা যেভাবে লাভ করছে কৃষকরা চরম খাটনি করেও তার অর্ধেকও লাভ পাচ্ছে না। সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’

বড় বাজার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বিগত সময়ে সিন্ডিকেটের কারনে আমরা অসহায় ছিলাম। এবার কোন সিন্ডিকেট ও ফড়িয়ার দৌরাত্ম নেই। সুন্দরভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে ধান কেনা হচ্ছে। এতে আমাদের কিছুটা কষ্ট হলেও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটছে। এ কারনে আমরা কষ্ট করতেও রাজী আছি। আর আমরা নিজেদের খরচ দিয়ে ধান গোডাউনে নিয়ে আসছি। কৃষকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়াও নেয়া হচ্ছে না।’

ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, ফড়িয়া ও সিন্ডিকেটের কাছ থেকে এক ছটাক ধানও কেনা হবে না। তাই নিজে উপস্থিত থেকে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনছি। যাতে করে সব কৃষক না হলেও অন্তত কিছু কৃষক যেন বেশি দামে ধান বিক্রি করে লাভ করতে পারে। তবে ধান কেনার পরিমান বাড়ানো হলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতো। সব কৃষকই এ সুবিধা পেত।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, ধান নিয়ে কাউকে নয়ছয় করতে দেয়া হবে। দলের কোন লোকজনকে সুবিধা ভোগ করতে দেয়া হবে না। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে।’

তবে ইউএনও’র এ তৎপরতায় অনেকে নাখোশ হলেও প্রকৃত কৃষকরা খুশি। এর আগে সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়ন থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়। গ্রামে গিয়ে সরাসরি ধান কেনার বিষয়টি জেলায় বেশ সাড়া ফেলেছে। শুধু এ বছরই নয় আগামীতে যাতে প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করে ধান কেনা হয় সে দাবি করেছেন কৃষকরা।

মর্যাদা ক্ষুণœ ও বিচার প্রভাবিত হওয়ার মতো সংবাদ প্রত্যাশিত নয় – সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশে বারণ করে হাই কোর্ট প্রশাসনের বার্তা আসার পর গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আদালতের মর্যাদা ক্ষুণœ ও বিচার প্রভাবিত করার মতো খবর প্রত্যাশিত নয়। এডিটরস গিল্ডসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রী দেখা করে আসার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের এই বিজ্ঞপ্তি এল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সব সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা ক্ষুণœ হয় এবং বিচারকার্য প্রভাবিত হয়, এমন সংবাদ পরিবেশন বা প্রচার প্রত্যাশিত নয়।” “বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে বিগত ১৬ মে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি স্পষ্টীকরণ করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হল,” বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। ১৬ মে হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ইদানিং’ কোনো কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া তাদের চ্যানেলে এবং কোনো কোনো প্রিন্ট মিডিয়া তাদের পত্রিকায় বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করছে, যা ‘একেবারেই অনভিপ্রেত’। “এমতাবস্থায়, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করা হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।” দুই-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাংলাদেশে অধিকাংশ মামলার বিচার পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো। কিন্তু হাই কোর্ট প্রশাসন যে ভাষায় ওই নির্দেশনা জারি করে, তাতে বিচার শেষে রায় হওয়ার আগে সাংবাদিকদের আর কোনো মামলার সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকে না। ফলে এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন; ল রিপোর্টার্স ফোরামসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ওই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়। এরপর সোমবার আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাকৃবি গবেষকের সাফল্য

পাঙাশে হবে আচার ও পাউডার

কৃষি প্রতিবেদক ॥  গরিবের আমিষ নামে পরিচিত পাঙাশ মাছ। বাজারে অন্য  যে কোনো মাছের তুলনায় পাঙাশের দাম কম থাকায় দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের আমিষের চাহিদা এই মাছ দিয়ে পূরণ করে থাকে। কিন্তু মাছের খাদ্যসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় একদিকে পাঙাশ চাষিরা লোকসান গুনছেন অন্যদিকে অনেকে পাঙাশ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাঙাশ মাছ থেকে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন করা প্রয়োজন। আর পাঙাশ থেকে নতুন পণ্য উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা করে পাঙাশের শুটি মজাদার পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তার গবেষক দল। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে ড. নওশাদ বলেন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মিঠা পানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন প্রকল্পের আওতায় আমরা দুই বছর ধরে গবেষণা করছি। এই গবেষণার হাত ধরেই পাঙাশ মাছের সব পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে স্বল্প খরচে লোভনীয় স্বাদ ও গন্ধের মচমচে পাঙাশের আচার ও পাউডার উদ্ভাবন করতে পেরেছি। পাঙাশের আচার সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণ রান্নার যন্ত্রপাতি ও তৈজসপত্র দিয়েই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে এই মচমচে পাঙাশ আচার তৈরি করা যাবে। আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় প্রায় এক বছরের অধিক সময় কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। আচারটিতে শতকরা ৩৭ ভাগ আমিষ, ২৮ ভাগ স্নেহ, ১৬ ভাগ মিনারেল ও ১১ ভাগ ফাইবার পাওয়া যাবে। আচারে পাঙাশের তেল অক্ষুন্ন থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকিও কমবে। এক কেজি পাঙাশ থেকে ৩৫০ গ্রাম পাঙাশ আচার পাওয়া যাবে। যা উৎপাদন করতে সর্বমোট ১২০-১৫০ টাকা খরচ পড়বে এবং ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব হবে। পাঙাশের পাউডার সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঙাশ একটি চর্বিযুক্ত মাছ। এর চর্বি ও আমিষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ উপযোগী করে পাঙাশ পাউডার তৈরি করা হয়েছে। পাঙাশের পাউডারও প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। পাঙাশের পাউডার দিয়ে আচার, ভর্তা, স্যুপ, নুডুলস, তরকারি খিচুরি ইত্যাদি বানানো যায়। এ ছাড়াও একে পাউডার দুধ বা নবজাতকের খাবার, বেকারি পণ্য, বিস্কুট, চিপস্ বা অন্যান্য যে কোনো খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ানো যায়। এক কেজি পাঙাশ থেকে ২০০-২৫০ গ্রাম পাউডার তৈরি করা সম্ভব। মাত্র ১.৫০ টাকা মূল্যের ৩ গ্রাম পাউডার দিয়ে একজনের খাওয়ার উপযোগী স্যুপ বা নুডুলস তৈরি করা সম্ভব। পাঙাশের পাউডারে ৪৫ ভাগ আমিষ, ৩২ ভাগ চর্বি, ১ ভাগ মিনারেল ও ৯ ভাগ ফাইবার পাওয়া যাবে। প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম বলেন, বর্তমানে অন্যান্য মাছের উৎপাদন ও জোগান বেড়ে যাওয়ায় পাঙাশের বাজারমূল্য পড়ে গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঙাশের উৎপাদন ছিল ৭.৫ লাখ টন বর্তমানে উৎপাদন কমে ৩.৫ লাখ টনে নেমে এসেছে। আমাদের উদ্ভাবিত পণ্য দুটি সম্পর্কে পাঙাশ চাষিদের প্রশিক্ষণ  দেয়া হবে। এতে করে তারা আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হবেন তেমনি আরও অনেকই পাঙাশ চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন যা আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। পণ্য দুটি খুব শিগগিরই বাজারে পাওয়া যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জুনায়েদের টুইটে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে থেকেও বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শেষ মুহূর্তে এসে বাদ পড়েছেন জুনায়েদ খান। দল থেকে বাদ পড়ার পর টুইট করেন পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার। টুইট বার্তায় জুনায়েদ খান বলেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই না। সত্য কথা তেতো হয়।’ জুনায়েদ খানের করা টুইট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সমর্থকরা পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক মন্তব্য করছেন। শুধু জুনায়েদ খানই নন, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন ওপেনার আবিদ আলী ও ফাহিম আশরাফ। তাদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও আসিফ আলী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ব্যাটসম্যানরা দারুণ খেললেও একদমই সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তানের বোলাররা। বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা কাটাতেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আমির ও বাঁহাতি পেসার ওয়াহাব রিয়াজকে যুক্ত করেছে পিসিবি। সোমবার দুপুরে বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়ে টুইট করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পেসার মোহাম্মদ আমির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আলহামদুল্লিহ বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমি আমার শতভাগ দিয়ে দেশের মান রক্ষা করার চেষ্টা করব। আমাদের সব দর্শকদের ধন্যবাদ। আমাদের জন্য দোয়া করবেন বিশ্বকাপে যেন ভালো খেলতে পারি। ’ আগামী পরশু দিন তথা ২৩ মে পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডে খেলোয়াড় পরিবর্তন আনার সুযোগ রেখেছে আইসিসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলে বড় পরিবর্তন আনলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চূড়ান্ত দল: সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), ফখর জামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, আসিফ আলি, শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, হারিস সোহেল, হাসান আলি, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ হাসনাইন।

 

আচরণ নিয়ে নেইমারের সঙ্গে বসবেন ব্রাজিল কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মাসে শুরু হতে হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার আগে ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমারের সঙ্গে তার আচরণগত সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন কোচ তিতে। এই মুহূর্তে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সমান তিনটি করে ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন পিএসজির তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। ফরাসি ফুটবলে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুই ম্যাচের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রেনের বিপক্ষে ফরাসি কাপের ফাইনালে সমর্থকের সঙ্গে বাজে আচরণ করে। আর এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসজির মধ্যে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বের ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় তাকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করে উয়েফা। এক সংবাদ সম্মেলনে ২৭ বছর বয়সী নেইমারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিতে। “ নেইমার একটা ভুল করল, যা ছিল তার দোষ। আমি এ ব্যাপারে নেইমারের সঙ্গে কথা বলব। আমি তার সঙ্গে শিক্ষা সম্পর্কে কথা বলব।” “আমি ব্রাজিলের কোচ হিসেবে নেইমারের সঙ্গে কথা বলব, একই সঙ্গে একজন মানুষ হিসেবেও; কথা হবে শিক্ষা ও আচরণরীতি নিয়ে।” “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হলো নেইমারের সঙ্গে একটা মত বিনিময় করা।… একজন খেলোয়াড়ের আচরণগত যে কোনো সমস্যাই শিক্ষা বিষয়ক হিসেবে বিবেচিত হবে।” বাংলাদেশ সময় আগামী ১৫ জুন সকালে কোপা আমেরিকায় বলিভিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

 

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলে আর্চার-ডসন-ভিন্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগে ঘোষিত বিশ্বকাপ দলে তিনটি পরিবর্তন এনেছে ইংল্যান্ড। আলোচনায় থাকা বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া গতিময় পেসার জফরা আর্চারকে দলে নিয়েছে ইসিবি। জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন ও ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্স। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত ইংল্যান্ডের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার কিছু দিন পরই মাদক গ্রহণের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় বাদ পড়েন অ্যালেক্স হেলস। জায়গা হারিয়েছেন ডেভিড উইলি ও জো ডেনলি। ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগে টানা বোলিং করার সামর্থ্য আছে আর্চারের। টি- টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে মূলত নজর কাড়েন তিনি। আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তবে কিছু কিছু স্পেলে দেখিয়েছেন সামর্থ্যরে ঝলক। গত মার্চে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন ২৪ বছর বয়সী আর্চার। মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেলার পর ডাক পেলেন বিশ্বকাপ দলে। পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডেনলি। তার জায়গায় ইসিবি বেছে নিয়েছে গত অক্টোবরে সবশেষ ওয়ানডে খেলা ডসনকে। বাঁহাতি স্পিনার দেশের হয়ে খেলেছেন মোটে তিনটি ওয়ানডে। হেলসের জায়গায় অনুমিতভাবেই দলে এসেছেন ভিন্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে উপহার দিয়েছিলেন দুটি ভালো উদ্বোধনী জুটি। আগামী ৩০ মে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত আইসিসিকে না জানিয়ে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনতে পারবে দলগুলো। এরপর থেকে পরিবর্তন আনতে নিতে হবে আইসিসির অনুমতি। বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড দল: ওয়েন মর্গ্যান (অধিনায়ক), মইন আলি, জফরা আর্চার, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, টম কারান, লিয়াম ডসন, লিয়াম প¬ানকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, জেমস ভিন্স, ক্রিস ওকস, মার্ক উড।

মাশরাফিকে নিয়ে কুম্বলের অসাধারণ মন্তব্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাশরাফি বিন মুর্তজা দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বদলে গেছে বাংলাদেশ। উত্তরোত্তর দলের উন্নতি হচ্ছে। বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন টাইগাররা। আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে। লাল সবুজ জার্সিধারীদের ব্যাপারে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করতে যাওয়া অন্য দলগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তার এমন সতর্কবার্তার নেপথ্যে মাশরাফিই। একজন আদর্শ নেতার যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, সবই বিদ্যমান মাশরাফির মধ্যে। তিনি যেন যেন জিয়নকাঠি। তার স্পর্শে বদলে যান খেলোয়াড়রা। পাল্টে যায় তাদের শরীরী ভাষা। আর সেই কারণে ম্যাশের নেতৃত্বে ভিন্ন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি প্রতিনিয়তই দেখে আসছে ক্রিকেট বিশ্ব। সঙ্গত কারণে টাইগার দলপতির উচ্চকিত প্রশংসা করতে দ্বিধাবোধ করেন না ক্রিকেটের রথী মহারথীরা। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন সাবেক ভারতীয় কিংবদন্তি কুম্বলেও। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল নিয়ে নিজের বিশে¬ষণ হাজির করেছেন তিনি। তা উপস্থাপন করতেই মাশরাফির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এ ক্রিকেটার। ক্রিকেটনেক্সটের সঙ্গে এক কথোপকথনে কুম্বলে বলেন, বাংলাদেশকে আপনি হালকাভাবে নিতে পারেন না। গেল কয়েক বছর ধরে দলটি দুর্দান্ত খেলছে। সাধারণত, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেগ পেতে হয় তাদের। এবারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে সেটিই ওদের চ্যালেঞ্জ। মাশরাফিকে একজন আদর্শ নেতার খেতাব দিয়ে তিনি বলেন, মাশরাফি মুর্তজা একজন খুব ভালো নেতা। সে দলকে একত্রিত করে রাখতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ও যখন দলকে নেতৃত্ব দেবে, তখন ভিন্ন বাংলাদেশ দেখতে পাবেন। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যত সাফল্য পেয়েছে অধিকাংশই মাশরাফির অধীনে। তার অসামান্য নেতৃত্বে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে টাইগাররা। সবশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে তারা। এবারের আসরে সেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চান মাশরাফি বাহিনী। এটিই হতে যাচ্ছে নড়াইল এক্সপ্রেসের শেষ বিশ্বকাপ।

এবার ওমর সানী-মৌসুমী

বিনোদন বাজার ॥ বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল এক সময়। তবে উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। তবে সম্প্রতি বেতার আবার সেই জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য কাজ শুরু করেছে। দেশের শোবিজ তারকাদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচার করে যাচ্ছে। তারকারাও আগ্রহ নিয়ে বেতারের নাটক কিংবা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। প্রথমবার বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করলেন জনপ্রিয় সিনে জুটি ওমর সানী ও মৌসুমী।আগামী ঈদের দুটি আড্ডানুষ্ঠানে তারা অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠান দুটির নাম হল ‘সিনে রং’ ও ‘উত্তরণ’। দুটি অনুষ্ঠানেই এ তারকা জুটির সিনেমায় আগমন থেকে শুরু করে তাদের অভিনয় জীবনের নানা বাঁকের কথা উঠে এসেছে।প্রথমবার বেতার অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘আরও আগেই বেতারে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সময় সমন্বয় করতে না পারার কারণে বিলম্ব হয়েছে। অনুষ্ঠান দুটি মূলত আড্ডাকেন্দ্রিক। আমি আর মৌসুমী অভিনয় এবং ব্যক্তিজীবনের অনেক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’এ অনুষ্ঠান দুটি ঈদের দিন বাংলাদেশ বেতারে প্রচার হবে। অন্যদিকে বর্তমানে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন না মৌসুমী। এদিকে ওমর সানী নতুন দুটি ছবিতে অভিনয় করছেন। এগুলো হল ‘মধুর ক্যান্টিন’ ও ‘রৌদ্র ছায়া’।

ঈদে আসছে আঁখি আলমগীরের নতুন গান

বিনোদন বাজার ॥ ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই। এরই মধ্যে ঈদ উপলক্ষে গান প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়েছেন সঙ্গীতশিল্পীরা। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরও আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একটি নতুন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।গানের শিরোনাম ‘তোমারই কারণে’। অনুরূপ আইচের লেখা এ গানের সুর করেছেন ফাজবীর তাজ তন্ময়। সঙ্গীতায়োজন করেছেন শাহরিয়ার রাফাত।নতুন গান প্রসঙ্গে আঁখি আলমগীর বলেন, ‘গানের কথাগুলো চমৎকার। সহজ কথার গান। গীতিকার অনুরূপ আইচের লেখা গান আমার সবসময়ই ভালো লাগে। তার কথার গানে কণ্ঠ দিতে পেরে ভালো লাগছে। পাশাপাশি সুর এবং সঙ্গীতায়োজনও ভালোলাগার মতো। রেকর্ডিংয়ের সময় বেশ উপভোগ করেছি। ঈদ উৎসবে গানটি প্রকাশের কথা রয়েছে। আশা করছি, গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’স্টুডিও ভার্সনে ভিডিও আকারে গানটি অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে টেলিভিশনের পাশাপাশি স্টেজ অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করছেন এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। আগামী ঈদে টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে গাইবেন তিনি।ঈদের পর নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে আঁখি আলমগীরের।

শিগগিরই বাড়ি ফিরতে পারবেন এ টি এম শামসুজ্জামান

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকগণ সোমবার বিকালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দেন।রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বরেণ্য এই অভিনেতা শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ। তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে বিছানা ছেড়ে উঠছেন, দাঁড়াতে পারছেন এবং স্বাভাবিক খাবারও খাচ্ছেন। শিগগিরই এ টি এম শামসুজ্জামান বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন চিকিৎসকগণ।হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মতিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রোগীর সুস্থতার খবর জানাতে পেরে ভালো লাগছে। সোমবার বিকালে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর বাড়ি ফিরতে পারবেন।এ টি এম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনি জামান জানান, দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি কেবিনে যাচ্ছেন। সারাক্ষণ তাঁর কাছাকাছি থাকতে পারব জেনে খুব ভালো লাগছে। তিনি যেন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ও কাজে ফিরতে পারেন, দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। র্কে জানতে সকালে গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। এসময় তিনি সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং পরিজন ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।প্রায় মাসখানেক আগে ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা। অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়ায় রাতেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। ফের তাকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আন্ত্রিক জটিলতায় ভুগছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামান। তার অন্ত্রে প্যাঁচ লাগায় খাবার, তরল, পাকস্থলীর অ্যাসিড বা গ্যাস বাধাপ্রাপ্ত হয়ে চাপ বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এর চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার করা হলে নতুন জটিলতা দেখা দেয়। এখন তিনি ক্রমেই সুস্থ হচ্ছেন।

কানে কঙ্গনার জৌলুস

বিনোদন বাজার ॥ সাগরপাড়ে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে বর্তমানে খুব ভিড়। একের পর এক ক্যামেরায় ধরা দিচ্ছেন ভারতীয় অভিনেত্রীরা। দীপিকা-প্রিয়াঙ্কার পর ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতও। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে হাজির হন। প্রথমদিনের লুকে কাঁধ খোলা শাড়িতে দারুণ লেগেছে কঙ্গনাকে। দু’হাতের কবজি পর্যন্ত ছিল ফিকে লাল রঙা অপেরা ঢঙের হাতমোজা। চুলগুলো পরিপাটি করে একপাশে পাকানো পুরনো দিনের ঢঙে। এক কথায় বর্ণনা করলে রাজকুমারীর আবহ ফুটে উঠেছে এই সাজগোজে। পুরনো দিনের ফ্যাশনের কথা মনে করিয়ে দেয় ফালগুনী শেন পিককের ডিজাইন করা সোনালি সিল্কের কাঞ্জিভরম শাড়ি ও কর্সেট। কড়া পানীয়র ব্র্যান্ড গ্রে গুসের প্রতিনিধি হিসেবে কান সৈকতে এসেছেন কঙ্গনা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কানে এলেন তিনি। গত শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে দেখা গেছে তাকে। এরপর পরেছেন আঁকাশি-গোলাপি ফুলের মিশেলে লং গাউন। সঙ্গে ছাড়া রেখেছিলেন সোনালি কোঁকড়া চুল। পায়ে ছিল হাই হিল। বুক খোলা এই লুকে তাকে লেগেছে ভীষণ আবেদনময়ী। এছাড়াও এবার কানের গালিচায় তিনি সাদা রংয়ের সফট জর্জেটের কারুকাজমন্ডিত পোশাক পরেও সবার নজর কেড়েছেন। কঙ্গনার আরেকটি পোশাক ছিল একেবারে ভিন্ন। পরেছিলেন সাদা রংয়ের লম্বা গাউন। আর এই ছবিটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে কঙ্গনার ভক্তরা ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘তুমি রেড কার্পেটের জন্যই জন্মেছ।’ কান উৎসবের জন্য ১০ দিনে পাঁচ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। এ জন্য জিমে ব্যাপক ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাকে। ‘পাঙ্গা’ ছবিতে কাবাডি খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওজন বাড়াতে হয়েছিল কঙ্গনাকে। এই ছবিসহ নিজের নতুন কাজ, ‘মণিকর্ণিকা’র অভাবনীয় সাফল্য, পায়ের তলায় শক্ত মাটি না পাওয়া পর্যন্ত কাঠখড় পোড়ানোর সত্যি গল্প, নতুন প্রজন্মের জন্য পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে কথা বলেন তিনি। কানে কঙ্গনা রনৌত ভারতীয় প্যাভিলিয়নে টেকনিশিয়ানদের যে দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার ভেতর দিয়ে কাজ করতে হয়, সেই বিষয়ের ওপর বক্তৃতা দেন। ওই সময় তিনি জাতীয়তাবাদ নিয়েও কথা বলেন। ফ্রান্সের কান শহরের পালে দে ফেস্তিভাল ভবনে গত ১৪ মে উৎসবের ৭২তম আসরের উদ্বোধন হয়। সাগরপাড়ে এই বৈশ্বিক আসর চলবে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত।

মিলার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা

বিনোদন বাজার ॥ নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, মামলা মোকদ্দমাসহ নানা কর্মকান্ডে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন সংগীত শিল্পী মিলা ও তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারি। এক আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নানা কর্মকান্ডে পুনরায় আলোচনায় ফিরছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সংগীত শিল্পী মিলার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করেছেন তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। সংগীত শিল্পী মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার ও মানহানি অভিযোগে তিনি মামলাটি করেছেন।

 

মৎস্যকন্যার সাজে লাল গালিচায় ঐশ্বরিয়া

বিনোদন বাজার ॥ প্রতি বছরই পোশাকের চমক নিয়ে কানের লাল গালিচায় হাজির হন বলিউডের নন্দিত অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তাই এবারও তার পোশাক দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হলো। কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭২তম আসরের লাল গালিচা মাড়িয়েছেন এই সাবেক বিশ্বসুন্দরী।সুবর্ণ-সবুজ রঙের মৎস্যকন্যার আদলে তৈরি পোশাক গায়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। হাত নাড়িয়ে ভক্তদের অভিবাদনও জানান তিনি। এ সময় ৭ বছরের মেয়ে আরাধ্য বচ্চন তার সঙ্গে ছিল।এর আগে রোববার (১৯ মে) বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ এ আসরে অংশ নিতে মেয়েকে নিয়ে ফ্রান্স পৌঁছান ঐশ্বরিয়া।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মা-মেয়ের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমরা এখন এখানে। ধন্যবাদ এবং সব ভালোবাসা কান ২০১৯’র জন্য।’ ঐশ্বরিয়া দেরি করলেও তার আগে কানের লাল গালিচায় দেখা গেছে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, হিনা খান, কঙ্গনা কঙ্গনা রানাওয়াত ও হুমা কোরাইশিকে। এছাড়া এরই মধ্যে রূপের জ্যোতি ছড়াতে কানে উপস্থিত হয়েছেন সোনম কাপুর আহুজা।প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে ৭২তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠে, আসর চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।