বিএনপি নেতা এমএ শামিম আরজু স্মরনে দোয়া মাহফিল

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এমএ শামিম আরজুর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল এ উপলক্ষে মরহুমের কোর্টপাড়াস্থ বাসভবনে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের নেতা কর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, যুগ্ম-সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু, আব্দুল মঈদ বাবুল, খন্দকার শামসুদ জাহিদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর আল আরেফিন বাবু, জেলা যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, কল্লোল, ডিউক, মনোয়ার, জিল্লুর রহমান জনি, ফেরদোস সানি, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বকুল আলী,  দেবত্তম বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর রহমান রাব্বি, সাগির কৌরাইশি, রানা ও জেলা জাসাস নেতা শফিকুর রহমান টনা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাংবাদিক নুর আলম দুলালের পিতা-মাতা স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত

কাগজ প্রতিবেদক ॥ কোরানখানি, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের মধ্যদিয়ে এস এ টিভি, বাসস, ভোরের কাগজ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক নুর আলম দুলালের পিতা-মাতা স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত হয়েছে।  এ উপলক্ষ্যে গতকাল বাদ আছর পশ্চিম মজমপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে প্রয়াত পিতা আব্দুস ছাত্তার ও মাতা নুরজাহান বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত করেন মসজিদের ঈমাম মাওলানা আশরাফ আলী। দোয়া ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিস্জ্জুামান ডাবলু, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের স্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস ও ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালালসহ এলাকার মুসুল্লীগণ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদার বিচারে কারাগারে বিশেষ আদালত অসাংবিধানিক – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষ আদালত স্থাপনের বৈধতা শিগগিরই উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এই কথা জানান। তিনি বলেন, “এই আদালত স্থাপন করা সংবিধান পরিপন্থি। আমরা মনে করি, সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার একজন নাগরিককে দেয়া হয়েছে সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনার বৈধতা নিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবো। আমরা এটা করতেই থাকবো। কারণ আমাদের অন্য কোনো উপায় নাই। আমরা লড়ে যাবো। আদালতেও লড়বো, রাজপথেও লড়বো।” মওদুদ আহমদ বলেন, “আমরা গেছিলাম কালকে দেখে এসছি। কী নির্জন একটা অবস্থা সেখানে। কেরানীগঞ্জ একটা উপজেলা। সেখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা নাই। ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো আদালতের যে পরিবেশ থাকার প্রয়োজন, সেই ধরনের কোনো পরিবেশ সেখানে নাই। বই-পুস্তক নাই, লাইব্রেরী নাই। সেখানে কোনো রকমের আদালত পরিচালনা করার যে সুযোগ-সুবিধা স্বাভাবিকভাবে থাকে যে কোনো আদালতে সেখানে (কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার) নাই। “সেখানে আইনজীবীদের যাওয়া আসা যে চরম দুর্ভোগ-এটা আপনারা অবশ্যই বুঝতে পারছেন। ঘটনা ঘটবে এখানে কিন্তু সেখানে বিচার হবে। এটা আপনারা জানেন যে, সাধারণ মানুষের কাছেও এটা অত্যন্ত সহজ যে, সেখানে ঘটনা ঘটে আইনে বলে যে, সেখানে বিচার হতে হবে। কিন্তু সেখানে না আজকে কেরানীগঞ্জে করা হয়েছে।” কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনকে ‘ষড়যন্ত্র’ অভিহিত করে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত মুক্তি পান নাই সরকারের বিভিন্ন কলাকৌশল ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে। এখন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে যে, হাসপাতাল থেকে তাকে (খালেদা জিয়া) এখন কেরানীগঞ্জের কারাগারে নিয়ে যাওয়া। কারণ তারা (সরকার) চায় না যে, বেগম জিয়া মুক্ত হোক। “আমরা চেষ্টা করছি, আইনজ্ঞরা আইনতভাবে যতটুকু করা সম্ভবপর আমরা করছি। কিন্তু সরকারের কূটকৌশলের কারণে আমরা সফল হতে পারছি না। তারপরেও এই আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে এবং তার সাথে সাথে আমাদেরকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আন্দোলন ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি অর্জন করা সম্ভবপর হবে না- এটা আমরা বুঝি সকলে।” মওদুদ বলেন, “চকবাজরের একটা পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া একাকী জীবন-যাপন করেছেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পেেড়্ছন। তার এই অসুস্থতা, তার শরীরের এই অবনতির জন্য এই সরকারকে দায়ী করব আমরা। দেশের মানুষ মনে করে এই সরকারই দায়ী।” জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানবন্ধনে নাগরিক ঐক্যের আহ্ববায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক শওকত মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, কাদের গনি চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, চিকিৎসক অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শামসুল আলম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া. অ্যাডভোকেটে জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম, বিএনপির সাখাওয়াত হাসান জীবন, সাদেক আহমেদ খান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা বক্তব্য দেন।

 

রূপপুরের বালিশ

এখনই কোনো তদন্তে নামছে না দুদক

ঢাকা অফিস ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে এখনই কোনো তদন্তে নামছে না দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি করছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখে তারপরই দুদক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।  গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “উই অ্যার ওয়েটিং ফর দ্যা রিপোর্ট। যেহেতু মিনিস্ট্রি কাজ করছে, আমরা রিপোর্ট চাইব, আমরা রিপোর্ট দেখব, তারপরে যদি দেখি ইনগ্রেডিয়েন্টস আছে, সেখানে ডেফিনেটলি আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।” এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “কথা হল দুর্নীতি হয়েছে বা হয়নি। গণমাধ্যমের যে তথ্য সেখানে আমি দেখেছি- বালিশ, কেটলি এসব বিষয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের কিছু প্রসিডিউর আছে। একটা রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তো জাম্প দিতে পারি না। সেটা দেখতে হয়, বুঝতে হয়। “আমরা ইতোমধ্যে কথা বলেছি, জেনেছি যে অলরেডি দুটি কমিটি কাজ করছে। পত্রিকায় যে নিউজ সেটিও আমাদের কাছে এসেছে। এসব দেখে আমি একটা অর্ডার করেছি। অর্ডারটি হল- সেই তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। সবাই যদি একই জিনিস নিয়ে কাজ করতে থাকি, তাহলে জিনিসটা ভাল দেখায় না। তারা কী রিপোর্ট দেয়, সেই রিপোর্ট দেখে তখন ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণাধীন ভবনের আসবাবপত্রে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে গত রোববার মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি করে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, “গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মাণাধীন ৬টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ৬টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহবান করা হয়। প্যাকেজসমূহের প্রতিটির ক্রয়মুল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। “এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হতে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর হতে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের পাওনা পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরকারের অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি দুদক অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিলেও এবার তা কেন হবে না- সেই প্রশ্ন একজন সাংবাদিক রেখেছিলেন ইকবাল মাহমুদের সামনে। উত্তরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “শোনেন, আমাদের কতগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হঠাৎ করে আপনি জাম্প করবেন? সেখানে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। “এটা জাতীয় বিষয়, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু এটার বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যান্ত গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ। সো জাস্ট ওয়েট। টেলিভিশনে দেখলাম একজন মন্ত্রী বলছেন যে, বেতন-ভাতা এগুলো সঠিক নয়। বালিশের ক্ষেত্রে এ রকম একটা পরিস্থিতি তো হতেও পারে।”

 

তবুও নিশ্চুপ মোদি!

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে লোকসভা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে গত ১৯ মে। এরপর দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশ করা হয়। প্রায় সব জরিপে মোদির ফের ক্ষমতায় আসার আভাস দেয়া হয়েছে। এনিয়ে বিজেপিতে চরম উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত একপ্রকার নিশ্চুপ হয়ে আছেন নরেন্দ্র মোদি। সেইসঙ্গে নিশ্চুপ আছেন বিজেপি’র প্রধান অমিত শাহও। আমিত শাহের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, ‘সভাপতি যা বলার ২৩ মে আসল ফলের পরেই বলবেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুথ ফেরত জরিপে বিজেপি দলের অনেক নেতাই এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। তাদের অনেকেই মনে করছেন, বাস্তব যা পরিস্থিতি, তাতে ৩০০ আসন পার করা কঠিন। সে ক্ষেত্রে যদি সরকার গড়ার জন্যও আরও শরিক প্রয়োজন হয়, সে কারণে এখন থেকেই আগ বাড়িয়ে উত্তেজনা দেখানো ঠিক নয়। যেসব সমীক্ষা গতকাল এনডিএ-কে ৩০০ পার করিয়েছে, তাদের অনেকে আবার আসন-বিন্যাস দেখানো বন্ধ করেছে। এছাড়া হিসেবে গরমিল আসতেও শুরু করেছে। ফলে বিজেপি দফতরে সাজগোজ শুরু হলেও, নেতাদের উচ্ছ্বাস দেখাতে বারণ করা হয়েছে। তবে বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে ফের ব¬গ লিখেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। জেটলির যুক্তি, ‘যখন অনেক বুথ-ফেরত সমীক্ষা একই বার্তা দেয়, আসল ফলও সেই দিকেই এগোয়। এছাড়া তিনি বলেন, যদি এই সমীক্ষার সঙ্গে আসল ফল মিলে যায়, তা হলে ইভিএম নিয়ে বিরোধীরা যে ভুয়া প্রচার চালাচ্ছিল, সেটা অসার বলে প্রমাণিত হবে। আগামী ২৩ মে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

 

লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। রিজভী বলেন, দেশে লাখ লাখ তরুণ বেকার, কর্মসংস্থান নেই, ধানের ক্ষেতে আগুন, দূষিত পানি সরবরাহ, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ‘অথচ সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের গলাবাজি থামছে না, লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চাপাবাজি দিয়ে জনগণের ক্ষোভকে নেভানো যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ভয়াবহ দুঃশাসন ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর যে হিংস্র আচরণ চালাচ্ছে, তাতে বিশ্বের সব স্বৈরাচারের ইতিহাস হার মেনেছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও দখলবাজ-লুটেরারা দেশব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেপরোয়া নারী-শিশু নির্যাতন থেকে শুরু করে গুম, খুন, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুপ্তহত্যা এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় দেশের মানুষ এখন সর্বদা আতঙ্কিত জীবনযাপন করছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না করলে দেশ খাদের কিনারা থেকে পড়ে গিয়ে অতলে তলিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার আগুন নেভাতে হলে আমাদের রাজপথে আসন গ্রহণ করতে হবে। এর আগে বেলা ১১টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে এসে শেষ হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলসহ সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরকারের সাথে জনগণের যোগসূত্র তৈরি করা ঃ হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের সাথে যোগসূত্র তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের কাছে তুলে ধরা। জনগণের সাথে সরকারের সেতুবন্ধন তৈরি করা।’ তথ্যমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও অধিনস্ত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে নবনিযুক্ত তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন। নব নিযুক্ত তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয় সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। আমি চাই নতুন প্রতিমন্ত্রীর সাথে টিম ওয়ার্ক করে কাজ করতে। দুজনে মিলে কাজ করলে আমাদের কাজ করা অনেক সহজ হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এক সাথে মিলেমিশে কাজ করবো। সরকারের সাথে জনগণের যোগসূত্র তৈরি করবো।’ মন্ত্রণালয়ের কাজ করার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা কামনা করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ি আমি কাজ করতে চাই। কাজ করার ক্ষেত্রে সবাই আমাকে সহযোগীতা করবেন।’ অনুষ্ঠানে তথ্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশিদ, পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ন চন্দ্র শীলসহ সংস্থার প্রধান ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ্য থেকে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ নবনিযুক্ত তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন ই.বি শাখা উদ্যোগে এতিম শিশুদের ইফতার ও রাতের খাবার

বিতরণ গতকাল ১৫ই রমজান বারুইপাড়া দারুল হিকমাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহবোর্ডিং এ পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্দ্যোগে এতিম শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর ইফতার ও রাতের খাবার বিতরন করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রফেশনালদের নিয়ে গঠিত হয়েছে “পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন”। এটি খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রফেশনালদের একটি অন্যতম প্রিয় সংগঠন। পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামুলক সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছে। তারা জনসাধারনের মাঝে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পুরো মাহে রমজান এ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রায় ৩ হাজার সমাজের খেটে খাওয়া শ্রমজীবি বৃদ্ধ, রিক্সাচালক, দিনমজুর ও এতিমশিশুদের পুষ্টিকর ইফতার বিতরন করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এরই ধারাবাহিকতায় পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্দ্যগে বারুইপাড়া, মিরপুর, কুষ্টিয়ায় অবস্থিত এতিমখানায় এতিম শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর ইফতার ও রাতের খাবার বিতরন করেছে। পুষ্টিকর ইফতার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মাইনুর রেজা এবং সাধারন সম্পাদক এস. এম. সুমনসহ সকল সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতি বলেন, ”গ্রামের মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন একটি অনুষ্ঠান করতে পেরে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। আমরা এর ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। অনুষ্ঠানটির অর্থায়নের জন্য অনেক বড় ভাই-আপু এবং সংগঠনের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ”। সাধারন সম্পাদক বলেন, ”ভালবাসার পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন টিকে থাক আজীবন, নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করেছি, এখন ও করছি এবং সামনেও করবো ইনশাআল্লাহ”। উক্ত অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতমীম হাফেজ মো. বাশার বলেন, ”পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন আরও সামনে এগিয়ে যাক। তাদের উদ্দেশ্যগুলো যেন সফল হয় সেই প্রার্থনাই করি। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি”। ইফতারের পুর্বমুহুর্তে দোয়া অনুষ্ঠান হয়। এটি পরিচালনা করেন মুহতামীম হাফেজ মো. বাশার। পুষ্টিকর ইফতার ও রাতের খাবার পেয়ে শিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এই হাসি চির অম্লান থাকুক তাদের মাঝে এই কামনাই করি। এগিয়ে যাক পুষ্টিবিদ ফাউন্ডেশন, অপুষ্টিমুক্ত হোক বাংলাদেশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হালসায় সরকারীভাবে কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের হালসা খাদ্য গুদামে সরকারী বিধি মোতাবেক প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যশস্য ক্রয়ের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হালসা খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীন খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সংগ্রহ কমিটি’র (খাদ্য) সভাপতি এস এম জামাল আহমেদ৷ উদ্বোধন শেষে জামাল আহমেদ জানান, মিরপুর ও হালসায় আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষে সম্পূন্ন খাদ্য মন্ত্রনালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের বিধি মোতাবেক প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দর হিসেবে ১০৪০ টাকা মন ধান ক্রয় করা হবে৷ জামাল আহমেদ আরও জানান মিরপুর উপজেলায় ২৬৬ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে৷ গতকাল হালসা খাদ্য গুদামে ৫ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে৷ এছাড়াও সরকারী বিধি মোতাবেক চাউল ও গম সংগ্রহ চলবে ৷ এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত । মিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা সংগ্রহ কমিটি’র (খাদ্য) সদস্য ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমবাড়ীয়া ইউপি’র চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক ইসরাত জাহান, মিরপুর উপজেলা ত্রাণকর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মিলন  চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু দাউদ মেম্বর, ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন আহমেদ শিলু, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাকিব আহমেদ, যুবলীগ নেতা হিরোক জোয়ার্দ্দার, ডাঃ আল আমিন প্রমূখ৷ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হালসা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ৷

 

গার্ল-গাইডস এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া’র ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ গার্ল-গাইডস এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া’র আয়োজনে, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও গার্ল-গাইডস এসোসিয়েশনের কমিশনার জেবুন নিছা সবুজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন পোড়াদাহ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক, গার্ল-গাইডস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মেরিট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার শেফা সহ অনান্য অতিথিবৃন্দ।

ঝিনাইদহে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ডাকাতিয়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল ইসলাম শ্যামকুড় পশ্চিমপাড়ার হায়দার আলীর ছেলে। মহেশপুরের দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ইয়াছিন আলী জানান, সকালে ডাকাতিয়া এলাকা এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়ানতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে স্থানীয়রা বলছে, নিহত শফিকুল ইসলাম একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

মনপ্রতি এক হাজার ৪০টাকা নিশ্চিতসহ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় “কৃষি বাঁচাও-কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও” শ্লোগানে সরকারী ক্রয় কেন্দ্র খুলে নির্ধারিত ১ হাজার ৪০ টাকা প্রতি মণ ধানের দাম নিশ্চিত করে কৃষকের কাছ থেকে ধানক্রয়সহ ৫দফা দাবিতে মানববন্ধন ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের থানামোড়স্থ বকচত্বরে বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘সম্মিলিত কৃষি ও কৃষক স্বার্থ রক্ষা কমিটির’ উদ্যেগে অনুষ্ঠিত এই  কৃষক সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।  নেতৃবৃন্দ বলেন- কৃষকদের  বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের দাম নিয়ে দূর্বৃত্তায়িত চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে কৃষক। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের বাধ্য করে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে কৃষকের এই দুর্দশা মুক্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি নেতৃবৃন্দের। একই সাথে কৃষি পন্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির লক্ষে ৫দফা দাবিতে বলেন, প্রতি ইউনিয়নে কৃষি পন্য ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, কৃষক উৎপাদিত ফসলের যৌক্তিক লাভজনক মুল্য নির্ধারন, আখ চাষীদের বকেয়া টাকা পরিশোধসহ কৃষককে ফসল উৎপাদনের সকল যন্ত্রাংশ ক্রয়ে কৃষককে ভর্তুকি দিতে হবে। এসময় রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক কারশেদ আলমের সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুব আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য  মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ডঃ শহিদুজ্জামান, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পাটি সিপিবির সাধারন সম্পাদক কমরেড অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন, বাসদ কুষ্টিয়া জেলার আহবায়ক কমরেড শফিউর রহমান, ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি কমরেড ফজলুল হক বুলবুল, কমরেড হাফিজ সরকার, কৃষক নেতা ইসারুল ইসলাম, কৃষক নেতা আশরাফুল ইসলাম, কৃষক নেতা সাইদুর রহমান মন্টু, কৃষক নেতা নাসির উদ্দীন টোকন কমিশনার, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জাসদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম মকলু, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক শরিফ বিশ্বাস, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী হাসান আলী, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি কনক চৌধুরী, আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক নাসিরউদ্দীন, ছাত্র নেতা লাবনী সুলতানা, আব্দুল আজিজ, রাসিব রহমান প্রমুখ। সমাবেশ শেষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসককে দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।

রমজানে জাকাত আদায়ে বেশি নেকী

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ ইসলামি শরিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো জাকাত। সহায়-সম্বলহীন মানবতার অর্থনৈতি নিরাপত্তার গ্যারান্টি হলো জাকাত। আল কুরআনের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, প্রত্যেক নবীর উম্মতের ওপর নামাজের মতো জাকাতের বিধানও চালু ছিল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জাকাতের বিধান চালু করে আর্তমানবতার প্রতি চরম অনুকম্পা  প্রদর্শন করেছেন। জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ : জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্কে বিশিষ্ট অভিধানবেত্তা ইবন মানযূর ‘লিসানুল আরাব’ গ্রন্থে বলেন, জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও প্রশংসা করা। মু‘জামুল ওয়াসিত নামক অভিধান প্রণেতা বলেন- জাকাত অর্থ প্রবৃদ্ধি, ক্রমবৃদ্ধি, পবিত্রতা, সংশোধন ও কোনো জিনিসকে পরিষ্কার করা। জাকাত দিলে মাল পবিত্র হয় এবং জাকাত দানকারীর আত্মা ও মনও পবিত্র হয়। জাকাত মালকে বৃদ্ধি করে। এ বৃদ্ধি বাহ্যিক দৃষ্টিতেও হতে পারে, আবার অর্থগত ও তাৎপর্যগত দিক থেকেও হতে পারে। কাজেই পবিত্র করা ও বৃদ্ধি করা এই দুই অর্থেই জাকাতকে জাকাত বলা হয়। জাকাতের পারিভাষিক সংজ্ঞা : শরিয়তের পরিভাষায় জাকাত বলা হয়- শরিয়তের নির্দেশ ও নির্ধারণ অনুযায়ী নিজের মালের একাংশের  স্বত্বাধিকার  কোনো অভাবি গরিবের প্রতি অর্পণ করা এবং এর লাভালাভ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা। আল ইমাম নাবাবি (র:) বলেন- ধন ও মাল থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ বের করাকে জাকাত বলে। আল কুরআন ও হাদিসে জাকাত শব্দটি সাদাকাহ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ সুরাতুত তাওবার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ গ্রহণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন’। রমজান মাসের গুরুত্ব বুঝে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি জাকাত আদায় হয়ে থাকে। ধর্মপ্রাণ ধনবান ব্যক্তিরা এই মাসকে সামনে রেখেই তাদের জাকাত আদায়ে বেশি আগ্রহী দেখা যায়। কেননা এই মাসের সকল ইবাদতকে নেকীর দিক থেকে ৭০ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই এই মাসে আমলের পাল্লা ভারি করতেই সকল আমলের পুর্নতা লাভ করে থাকে।

জাকাতের নিসাব ও খাতগুলো : কারো কাছে ৫২.৫ তোলা রৌপ্য বা ৭.৫  তোলা স্বর্ণ বা উভয় বস্তুুর যেকোনো একটির অর্থের সমপরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকে তবে তাকে বছরান্তে ২.৫ শতাংশ হারে এবং বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত ফসলের ‘উশর তথা এক দশমাংশ ও সেচে উৎপাদিত ফসলের অর্ধ ‘উশর তথা ২০ ভাগের এক ভাগ জাকাত আল কুরআনে বর্ণিত খাতগুলোতে প্রদান করতে হবে। আল কুরআনে বর্ণিত খাতগুলো হলো- ১. ফকির (যার কিছুই নেই) ২. মিসকিন (যার কিছু আছে, তবে নিসাব পরিমাণ নয়) ৩. জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী ৪. (অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য ৫. দাসমুক্তির জন্য ৬. আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যার্থে ৭. ঋণমুক্তির জন্য ও ৮. মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অনটনে পতিত হয়েছেন)। জাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য : ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে জাকাতের স্থান তৃতীয়। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী সা: বলেন- ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা: আল্লাহর রাসূল। নামাজ কায়েম করা, জাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমজান মাসের  রোজা রাখা’। (সাহিহুল বুখারি, হাদিস নম্বর ৮)। জাকাত ফরজ এটি বিশ্বাস করাও ফরজ এবং আমল করাও ফরজ। বিশ্বাস না করলে কাফির বলে পরিগণিত হবে এবং আমল না করলে অর্থাৎ জাকাত আদায় না করলে কবিরা গুনাহ হবে। নবী সা:-এর ইন্তেকালের পর একটি  গোষ্ঠী জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানালে খলিফা হজরত আবু বকর (রা:) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন বলে ঘোষণা করেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব কত বেশি।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল কুরআনে ৩০ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ বার নামাজের পরপরই উল্লেখ করেছেন। যেমন- আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুন নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসূল সা:-এর আনুগত্য করো। সম্ভবত তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবে’। অনুরূপভাবে আল্লাহ সুরাতুল হজের ৪১ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতা প্রদান করি তবে তারা নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দান করবে’। জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হওয়ায় এটি আদায়ে যেমন অশেষ সওয়াবের কথা ঘোষিত হয়েছে, তেমনি আদায় না করলে ভয়াবহ পরিণতির কথাও বিধৃত হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুল বাকারার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য গচ্ছিত করে রাখে, আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না তাদের পীড়াদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও’। এ ব্যাপারে নবী সা:-এর হাদিসেও কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন- ‘আল্লাহ যাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন অথচ  সে তার জাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন ওই ধনসম্পদ তার জন্য একটি টাক মাথাওয়ালা বিষধর সাপে রূপান্তরিত হবে, যার (চোখ দুটোর ওপর) দু’টি কালো বিন্দু থাকবে এবং ওই সাপ তার গলদেশে পেঁচানো হবে। অতঃপর সাপটি ওই ব্যক্তির উভয় চোয়াল কামড়ে ধরে বলবে- আমিই  তোমার ধন-সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ভান্ডার। জাকাত গরিবের হক, অনুকম্পা নয়: ইসলামি দর্শন অনুযায়ী পৃথিবীর সমুদয় সম্পত্তির মালিক আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সুনির্দিষ্ট পন্থায়  ভোগাধিকার প্রদান করেছেন। সমুদয় সম্পত্তিতে সব মানুষের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ কাউকে কর্মক্ষম করেছেন এবং কাউকে কর্মে অক্ষম করেছেন। যারা কর্মক্ষম তাদের সম্পত্তিতে কর্মে অক্ষমদের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুয জারিয়াত এর ১৯ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে’। জাকাত সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে : জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। কেউ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলবে আর কেউ তীব্র ক্ষুধার জঠর-জ্বালা নিবারণের জন্য একমুঠো খাবার পাবে না এটি ইসলামে স্বীকৃত নয়। এ ধরনের বৈষম্য বিরাজমান থাকলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বহাল থাকতে পারে না। জাকাত কর্ম সংস্থান  তৈরি করত দারিদ্র বিমোচন করে : জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে দারিদ্যবিমোচন। এমন প্রক্রিয়ায় জাকাত দেয়া সমীচীন নয় যাতে গরিব গরিবই থেকে যায় এবং প্রতি বছর সে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে। একজন জাকাতদাতা কোনো গরিব ব্যক্তিকে ১০ কেজি চাল বা একটি শাড়ি বা কিছু টাকা বা এই জাতীয় কিছু দিলো, সে কয়েকদিনে টাকা বা চাল শেষ করে দিলো, কাপড়টি সে পরিধান করে পুরনো করে দিলো। ফলে  সে গরিবই থেকে গেল। জাকাতের অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান করা উচিত যাতে সে স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসার পরিচালনা করতে পারে। দরিদ্রকে কি পরিমাণ জাকাত দিতে হবে এ সম্পর্কে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ‘উমার (রা:) বলেন- ‘যখন তোমরা দিবে তখন ধনী বানিয়ে দাও’। জাকাত আদায় করা ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র জাকাত আদায় করে দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সমাজ উন্নয়নে ব্যয় করবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশে সরকারি আইন বা নির্দেশে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত আদায় হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৈৗদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, লিবিয়া, জর্দান, বাহরাইন, লেবানন, সুদান, কুয়েত ও ইয়েমেন। বাংলাদেশেও এ উদ্দেশ্যে জাকাত বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু এ বোর্ড মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ এ বোর্ডে জাকাত জমা দেয় না। ফলে আমাদের দেশে মসজিদ ভিত্তিক বা এলাকা ভিত্তিক (যেমনÑইউনিয়ন ভিত্তিক বা উপজেলা ভিত্তিক বা জেলা ভিত্তিক) আলিম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জাকাত বোর্ড গঠন করে পরিকল্পিত উপায়ে জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বা মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা  যেতে পারে।

কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া শহরের পালকি রেষ্টুরেন্টে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মাসুদ, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা ও সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান। ইফতার মাহফিলের সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজাদ জাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, সহ-সভাপতি চৌধুরী মুরশেদ আলম মধু, সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আক্তারুজ্জামান মাসুম, হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম শম্পা মাহমুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, জেলা গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান খান বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আব্দুল জলিল, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মহসিন আলী মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন নাগ চৌধুরী, সহকারী কমান্ডার শেখ আবু হানিফ, জাহিদ হোসেন, শহিদুল হক, কুমারখালি উপজেলার সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম নুরু, গোলাম রসুল, আহসান উল হক বাবলা, কায়য়ুম নাজাদ, খন্দকার লিয়াকত আলী, মধু, আবু হায়াত, আমিরুল ইসলাম, মুন্সি জাহাঙ্গীর আলম (যুদ্ধাহত), স্মাইল হোসেন, সাদেকু ইসলাম চাঁদ, প্রিন্সিপল শফিকুর রহমান, আহসান হাবিব দুলাল, শ্যামা প্রসাদ দত্ত, ডাঃ মতিয়ার রহমান, কুমারখালি প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য সুজন কুমার কর্মকার সহ দুই শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতার মাহফিলে অংশ গ্রহণ করেন। ইফতার পূর্বে দেশ-জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ মোমিনুর রহমান।

 হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ রবিউল করিমের ইন্তেকাল

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য, কুষ্টিয়া হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন শিক্ষক ও বিশিষ্ট হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ মোঃ রবিউল করিম গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের কোর্টপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না….রাজেউন)। সাবেক শিক্ষক ডাঃ মোঃ রবিউল করিমের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া হোমিও প্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ আতিয়ার রহমান। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় ২ সম্পাদকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক, এশিয়ান টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি, নবনাট্য সংঘ কুষ্টিয়া শাখার আহ্বায়ক, কুষ্টিয়া জেলা যুব প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজু, সাপ্তাহিক পথিকৃৎ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, সত্যখবর পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম শরিফসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা  হয়রানী মূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শহরের আড়ুয়াপাড়ার শিবশক্তি মন্দিরের সেক্রেটারী দত্তপাড়ার রমেশ নাথ চ্যাটারর্জী কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই পুলিশ এ মিথ্যা মামলা রুজু করেন। এ মামলা দায়ের পর থেকে সাংবাদিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকরা অনতিবিলম্বে দুই সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে স্বাধীন মত প্রকাশে সহায়তা করার আহবান জানান। এদিকে পত্রিকার দুই সম্পাদকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানী মূলক মামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে কুষ্টিয়া যুব প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজু, সেক্রেটারী অর্পণ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়া ইমন রুবেলসহ যুব  প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদ্বয়। তারা এই মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে দুই সম্পাদকসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে স্বাধীন মত প্রকাশে সহায়তা করার আহবান জানান।

পেশাজীবীদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন। ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, কবি, লেখক, সংগীত শিল্পী এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের পূর্বে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদরের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদ আসকারী, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, এটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম, দৈনিক জনকন্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, বিচারপতি মেজবাউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী, প্রকৌশলী ড. শামিমুজ্জামান বসুনিয়া, কৃষিবিদ মীর্জা আবদুল জলিল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, অর্থনীতি পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট (বিএফইউজে), ঢাকা ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর, আইসিটি ফোরাম, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং সেক্টর কমান্ডাস্ ফোরামের নেতৃবৃন্দ ইফতারে মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও পাটকল শ্রমিকদের  যৌক্তিক দাবী মেনে নিতে কুষ্টিয়ায় বিএনপির স্মারকলিপি প্রদান

কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব বন্ধ এবং সারা দেশের পাটকল শ্রমিকদের জাতীয় মুজরী কমিশন বাস্তবায়ন বকেয়া মজুরীসহ ৯ দফা দাবী ও অনান্য যৌক্তিক দাবী মেনে নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে  জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহানের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, একে বিশ^াস বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.শামীম উল হাসান অপু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউ রহমান পিন্টু, ধর্মীয় সম্পাদক শফিউল আলম টিটু, অন্যতম সদস্য আল কামাল মোস্তফা, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান ডিউক, বিএনপি নেতা এ্যাড. ইকবাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সম্পাদক বকুল আলী প্রমুখ। এদিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের কৃষকদের মূল্য দিতে হবে, তাদের উৎপাদনের নায্য মূল্য দিতে হবে। শ্রমিকদের মজুরি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষক যদি না বাঁচে, তাহলে  দেশ বাঁচবে না। কৃষককে রক্ষা করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, পাট আমাদের মৌলিক সম্পদ। এটাকে বাঁচাতে হবে। পাটকলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের বাঁচাতে হবে। পাটের উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। আরো মিল কারখানা চালু করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখছে – স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ বেশ শক্তিশালী উল্লেখ করে বলেছেন, গণতন্ত্র বিকাশে এরা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তার সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল সংসদ ভবনে আজ সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তারা সংসদীয় গণতন্ত্র, সরকারের জবাবদিহিতা, মানবাধিকার কমিশনের বিদ্যমান আইন ও কার্যাবলী এবং গণতন্ত্রের বিকাশে সুশীল সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাতে মিয়া সেপ্পো বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশন এবং কমিশনের বিদ্যমান আইন সম্পর্কে আলোকপাত করেন। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহে মানবাধিকার কমিশন যে সকল আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আইনে সংশোধনী আনা প্রয়োজন কিনা সে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্পিকার এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, মানবাধিকার কমিশনের আইন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। আইন মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন মর্মে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্থ করেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব¬াকেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোট্টা স্লাইটার, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেন্সটেইন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার চ্যাটারটন ডিকসন, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ফার্ষ্ট সেক্রেটারী (পলিটিক্যাল) এরিকা হ্যাজনস ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী । এছাড়া স্পিকার বলেন, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ বেশ শক্তিশালী। গণতন্ত্রের বিকাশে এরা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসময় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেনি বাংলাদেশ – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেনি বাংলাদেশ। বরং উল্টো তারাই আমাদের লোকজনকে ভিসা দিচ্ছে না। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেকেউ ভিসা না পেতে পারেন। ভিসা দেয়ার সময় অনেক কিছুই দেখা হয়। যেমন, কেউ সন্ত্রাস কিংবা উগ্রবাদে জড়িত কিনা। আবার ভিসা পেতে নানা কারণে দেরিও হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতেও দীর্ঘ সময় লাগে। তবে ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। ‘পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ’ বলে বিভিন্ন পত্রিকায় যে খবর ছাপা হয়েছে, তা ভুল আখ্যায়িত করে প্রতিবাদ পাঠানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়া হচ্ছে না- এমন তথ্য নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, এটি ঠিক, আমাদের কিছু অফিসারককে ভিসা দেয়া হচ্ছে না। বিশেষত, কনস্যুলার সেকশন। যারা ভিসা দেয়, তাদেরকেই ভিসা দেয়া হচ্ছে না। তাহলে কে কাজ করবে? তবে কেন দিচ্ছে না জানতে চাইলে জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওদেরকে জিজ্ঞেস করুন। আশা করি, যে কেসগুলো স্থগিত আছে, সেগুলো দ্রুত মিটে যাবে। এক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। পাকিস্তানের কোনো রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা প্রার্থী হিসেবে একজনকে পাঠিয়েছিলেন। সেটি কোনও কারণে গ্রহণ করা হয়নি। ‘তখন তারা একজন নতুন কাউকে দেবে, এটাই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু তারপর তারা কোনও লোক পাঠায়নি। তারা লোক পাঠালে আমরা অবশ্যই বিবেচনা করে দেখবো।’ এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে সব জায়গায় আমরা একসঙ্গে কাজ করছি জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়নি।

 

এ দেশে নারী নির্যাতন চলতে পারে না – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ নারী ও শিশু নির্যাতনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বর্তমান সরকার জঙ্গি দমন করেছে, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে এ দেশে নারী নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণ চলতে পারে না। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সিরাজগঞ্জে নির্মাণাধীন ট্রমা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের অপরাধীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বিচারের মাধ্যমে তাদের ফাঁসি দিতে হবে। তবেই এদেশে নারী, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধ হবে। তাড়াশের কলেজছাত্রী রুপা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিৎ মৃত্যুদন্ড। যারা ঘটনা স্বীকার করবে তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে ফাঁসি দিতে হবে। তাছাড়া এ অপরাধ কমানো সম্ভব না। এই খুনিদের কোনোভাবেই রেহাই দেয়া সম্ভব না। এর আগে ট্রমা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম হাসপাতালটির নাম ‘শেখ হাসিনা ট্রমা হাসপাতাল’ নামকরণের প্রস্তাব করেন। এ সময় নাসিম বলেন, শেখ হাসিনা ট্রমা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি হবে উত্তরাঞ্চলের দুর্ঘটনায় আহত মানুষের উন্নত চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারে সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়িতে নির্মাণাধীন এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ১৮ মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যমুনা নদীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করেছেন, মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন, চারলেন সড়ক নির্মাণসহ অনেক মেগা প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ করেছেন। মমতাময়ী এই নেত্রীর নামেই সিরাজগঞ্জে ট্রমা হাসপাতাল নামকরণ সময়ের দাবি। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এদিকে মুলিবাড়িতে জাতীয় নেতা শহীদ এম. মনসুর আলীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন নাসিম। পরে মনসুর আলীর স্মৃতিবিজড়িত কুড়িপাড়ায় রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন, সিরাজগঞ্জ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সুর্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী তালুকদার, প্রচার সম্পাদক শামসুজ্জামান আলো, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলাম, রাশেদ ইউসুফ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।