কুমারখালীতে মরহুম আফতাব উদ্দীন স্মৃতি মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের বৃত্তি প্রদান

কুমারখালী অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া চাইল্ড হেভেন কিন্ডার গার্টেন স্কুলে গতকাল সোমবার সকালে মরহুম আফতাব উদ্দীন স্মৃতি মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের উদ্যোগে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে সমস্ত ছাত্র/ছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে তাদেরকে সম্মানীসহ সনদ প্রদান করা হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেমের সভাপত্বিতে এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন কয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হারুন অর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুম আফতাব উদ্দীন মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু সালেহ।

আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহব্বত হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গফুর, সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হক, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশকর আলী, আফতাব উদ্দিন, মারফত আলী মাস্টার, মোহাম্মদ আলী, মকবুল হোসেন বিশ্বাস, গিয়াস উদ্দিন গোলাপ, আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আজিজুল ইসলাম, নাজিম সুলতান, আব্দুল আজিজ, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, ইয়াকুব আলী, মনিরুল ইসলাম, মিঠুন বিশ্বাস, সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক, মিপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কলেজের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিংখাতে নৈরাজ্য বন্ধে বাজেটে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মেনন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করায় পুঁজিবাজার। অথচ এই পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এরশাদ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধস শুরু হয়, সেটি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালেও হয়েছে। এখনও পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যাদের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, এমন ব্যক্তিদেরও পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এরকম দশটি তালিকা রয়েছে যেগুলোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ এরা আইপিও এবং ফান্ড বৃদ্ধির নামে কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে আর্থিকখাতের অবদান সবচেয়ে বেশি, কিন্তু যদি সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে তাহলে এই খাত উন্নয়ন বা অবদান রাখবে কিভাবে, বলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। কৃষকেরা ধানের দাম পাচ্ছেন না, এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে মন্তব্য করে মেনন জানতে চান, কৃষকদের কাছ থেকে এক লাখ টন ধান নেওয়া হবে, বাকিটা মিল মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হবে, এটি কেন? তিনি বলেন, ছিয়ানব্বই সালে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ধান কেনা হয়েছিল বলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছিল। এবারও কুষ্টিয়ার একজন ডিসি ধান কিনেছেন এজন্য কৃষকরাও দাম পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, ভারতের এক-তৃতীয়াংশ ধান সরকার কিনে নেয়। আর আমাদের সরকার বলে আমরা এত গোডাউন পাবো কোথায়? সরকার এত বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করছে তাহলে কেন প্রতিটি ইউনিয়নে সাইলো করতে পারবে না। আর্থিক খাতের দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গেলে জিডিপির দুই দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন মেনন। দুদক নিয়ে তিনি বলেন, দুদক কি অবস্থায় আছে আমরা তা জানি। এখন সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতি করলেও অনুমতি ছাড়া তাদের ধরা যাবে না। অথচ প্রাইমারি শিক্ষকদের ধরতে অনুমতি লাগে না দুদকের। এই হচ্ছে দুদকের চেহারা। দুর্নীতি সমাজদেহে ভরে গেছে। তাই এ অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। ঋণ খেলাপির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি পার্লামেন্টে ঋণ খেলাপির বিষয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম, সেটি আলোচনায় আসেনি। ঋণ খেলাপিদের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে যাচ্ছে, তা আগে অবশ্যই পার্লামেন্টে আলোচনা করার দাবি জানান সাবেক এ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও মহানগর সদস্য বেনজীর আহমেদ।

নিম্ন মানের পণ্যে ‘ম্যানেজ’ হওয়ার সুযোগ নেই – শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নিম্ন মানের খাদ্যপণ্যের বিষয়ে কোনো আপস করবেন না বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেছেন, নিম্নমানের পণ্য নিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার সময় এখন আর নেই। বিএসটিআইর মানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার কার্যক্রম চলার মধ্যে গতকাল সোমবার বিএসটিআই মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন হুমায়ুন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএসটিআই সম্প্রতি পরীক্ষার পর জানায়, বাজারে থাকা ১৮টি কোম্পানির ৫২টি খাদ্যপণ্য নিম্ন মানের বলে পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা। এই ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি নামি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বিএসটিআইর পরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক রিট আবেদনে হাই কোর্ট সেই খাদ্যপণ্যগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই সব পণ্য উৎপাদন বন্ধ রাখার আদেশও আসে আদালত থেকে। বিশ্ব মেট্রেলজি দিবসের আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী বিএসটিআইর প্রশংসা করে বলেন, “ধন্যবাদ জানাই, তাদের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে জনগণের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, সাধারণ মানুষের অনেকেই জানত না নিম্নমানের সামগ্রী নিয়ে, তারা কিন্তু এখন নড়েচড়ে বসেছে।” পণ্যের মানের ক্ষেত্রে সরকার এখন দৃঢ় জানিয়ে তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল, যেটা ম্যানেজ করার সময়। ম্যানেজ করার সময়টা এখন চলে গেছে। ম্যানেজ করার আর কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিরো টলারেন্স।” বিএসটিআইর সক্ষমতা বাড়াতে মানসম্মত ‘টেস্টিং ইউনিট’ তৈরি করে দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সেগুলো দিয়ে আপনারা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এবং বিভাগে পৌঁছে যাবেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো উন্নতমানের গবেষণাগার করে দিয়েছি, আরও করব।” অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, “পণ্যর মান ঠিক রাখতে প্রতিটি জেলায় আমাদের অফিস স্থাপন করতে হবে। অফিসগুলোতে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সৎ হতে হবে।” অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বিএসটিআই মহাপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বক্তব্য রাখেন।

 

বিএনপির নারী সাংসদ হচ্ছেন রুমিন ফারহানা

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ সংসদে বিএনপির জন্যে নির্ধারিত একমাত্র সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন রুমিন ফারহানা। বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব থাকা এই আইনজীবী গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন। অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানা গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির কর্মকান্ডে বেশ সক্রিয়। পাশাপাশি টেলিভিশনে বিভিন্ন টক শোতেও তাকে নিয়মিত দেখা যায়। ঘোষিত তফসিলে ২১ মে বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ২৮ মে পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে ১৬ জুন। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে একটি আসনে একক প্রার্থী থাকেন বলে ভোটের আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় প্রার্থীকে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি দেখেন যে সব কাগজ ঠিক আছে, তবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।” একাদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন। বিএনপির নির্বাচিতরা আগে শপথ না নেওয়ায় তাদের জন্য নির্ধারিত একটি নারী আসন স্থগিত ছিল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়া বাকিরা একেবারে শেষ সময়ে শপথ নিলে তাদের জন্য নির্ধারিত একটি নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

ভেড়ামারার হিসনা নদী দখলদারদের দৌরাত্ম্যে আজ মৃত!

আল-মাহাদী ॥ যে নদী ছিল একসময় পূর্ণ যৌবনা, যার বুক চিরে চলার পথে নাবিকের বুক দুরু দুরু করে কাঁপত, সেই নদী এখন ছোটদের খেলার মাঠ, পশুর চারণভূমি আর কৃষকের ধানচাষের ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। খননের অভাবে বছরের পর বছর পলি পড়ে আর প্রকৃতিগত নানা কারণে হিসনা নদী আজ মৃত প্রায়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের কাঠেরপুল ও হিসনা ব্রীজ এলাকায় ভূমিদস্যুদের দখলের কারণে হিসনা নদী আজ মরে খালে পরিণত হয়েছে। হিসনা নদী দখলদারদের দৌরাত্ম্যে আজ মৃত। কাঠেরপুল ও হিসনা ব্রীজ এলাকায় হিসনা নদীর ধারে গড়ে উঠেছে বড় বড় বিল্ডিং, মসজিদ, স-মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হিসনা নদীটির বিভিন্ন অংশের দখল নিয়ে মালিকানা দাবি করে আসছে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত উন্মুক্ত নদী হলেও প্রভাবশালী এসব ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা দিয়ে সুফল নিতে হচ্ছে সাধারণ চাষিদের। এ ছাড়া মাছের প্রাচুর্যের জন্য খ্যাত এই নদীতে দখলদাররা বাঁধ দিয়ে পুকুর  কেটে মাছ চাষ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ মাছ ও সেচ দেওয়ার মতো  কোনো সুবিধাই পান না নদী থেকে। কিন্তু এই নদীটি দখলদারীদের কালো থাবা আর পুনঃখনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়ে সবুজ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পুরো হিসনা নদীর বুকে ফসলের চাষাবাদ, ফুটবল খেলা আর গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। হিসনা নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠছে বড় বড় বিল্ডিং, মসজিদ, স-মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দখলের কারণে বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য কোনো সময় হিসনা নদীতে মোটেই পানি থাকে না। তবে অনেক বছর আগে ভূমি অফিসের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির মাধ্যমে ভুয়া লিজের কাগজ তৈরি করার অভিযোগ আছে। প্রবীণ ব্যবসায়ী সামছুল বলেন, নদী মরে যাওয়ার কারণে জলপথের সব  যোগাযোগ বন্ধ। এই কাঠেরপুলে হিসনা নদীতে বড় বড় স্টীমারসহ বড় বড় নৌকা ভীড়তো। এক কালে এখানে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখন  যোগাযোগ নেই বললেই চলে। হিসনা নদী সংস্কার করা হলে অর্থনীতির চাকা ফের চালু হবে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, হিসনা নদী দখল ও খননের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে নদী রক্ষা কমিশনকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

 

রূপপুর আণবিক প্রকল্পে মহাদুর্নীতির খবরেও দুদকের তৎপরতা নেই – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ রূপপুর আণবিক প্রকল্পে মহাদুর্নীতির খবরেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো তৎপরতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, রূপপুর আণবিক প্রকল্পে বালিশ-কেটলিসহ প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কেনার মহাদুর্নীতির খবরে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত মালি-ড্রাইভারদের বেতন লাখ টাকার কাছাকাছি, যা শুধু নজিরবিহীনই নয় এটি একটি জাহাজ মার্কা দুর্নীতিরই দৃষ্টান্ত। ‘এখানে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবরে দুদকের কোনো তৎপরতা নেই। কারণ দুদক বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের দমন এবং ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি মোছার যন্ত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।’ বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশব্যাপী বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতি ও লুটপাটের যে মহৌৎসব চলছে, তাতে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জড়িত বলেই এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দুদক নখদন্তহীন নিশ্চল নির্বিকার প্রাণীর ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে জবাবদিহিতার টেকসই নীতি নেই বলেই লুটপাটের নীতিই প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এ জন্য ঋণখেলাপিদের আরও ঋণ দেয়া হচ্ছে, আর মধ্যরাতের ভোটের সহায়তাকারীদের বিনাসুদে গাড়ি-বাড়ি কেনার ঋণ দেয়া হচ্ছে। তাই মহাদুর্নীতির মাধ্যমে পকেট ভারী করাই হচ্ছে মিডনাইট সরকারের উন্নয়নের ভেতরের কাহিনি। রিজভী বলেন, দেশ যে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে তার প্রমাণ ব্যাংক বীমা, কয়লা-পাথর, শেয়ার মার্কেট গলাধঃকরণের পর এখন রূপপুর আণবিক প্রকল্পের সাগরচুরির দুর্নীতির খবরে বিস্মিত দেশবাসী। উন্নয়নের কথা বলে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়িত করা হচ্ছে মহাদুর্নীতির ওপর ভর করে।

আজ সাংবাদিক দুলালের পিতা-মাতা স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ এস,এ, টিভি, বাসস, ভোরের কাগজ, রেডিও টুডের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়ার কাগজ’র সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক নুর আলম দুলালের পিতা ও কুষ্টিয়া মজমপুর গেটের ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তারের ১২তম এবং মাতা নুর জাহান বেগমের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মরহুমের পশ্চিম মজমপুরস্থ ‘কতস্মৃতি’ নিজ বাসভবনে আজ মঙ্গলবার বাদ আছর দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত হওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩ জুলাই পিতা মরহুম আব্দুস ছাত্তার ও ২০১৪ সালের ৮ মে মাতা নুরজাহান বেগম ইন্তেকাল করেছিলেন।

গাংনীতে ইয়ূথ ইউনিটির ফলোআপ সভা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের গ্রামভিত্তিক দু’টি ইয়ূথ ইউনিটির (ফলোআপ)  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাইপুর ইউনিয়নের হেমায়েতপুর ও চাঁদপুর গ্রাম ইউনিটির ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুর ইউনিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে দুপুর ২টার সময় চাঁদপুর ইউনিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভা পরিচালনা দু’টি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী জিএস সাজু। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউনিটির সদস্যবৃন্দ।

কুষ্টিয়ার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের গণপদত্যাগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে ৬ জন গত ১৪ মে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, অভিভাবক সদস্য, বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি রয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মঈনুদ্দীন আহম্মেদ বলেন- বর্তমান প্রধান শিক্ষক একজন ভালো মানুষ। আমার হাতে তার নিয়োগ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান সভাপতি একজন অর্থ তছরূপকারী। শিক্ষকদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ শিক্ষার্থীদের প্রায়শঃ লাঞ্ছনা করে থাকে। সে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অর্থের সম্পদ বিক্রি করে তা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যে নিয়োগ হয়েছে আমি ওই নিয়োগ বোর্ডের একজন সদস্য। সম্পুর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সভাপতিও যথারীতি সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় তার নিজের কোনও প্রার্থী থেকে থাকতে পারে বা নির্বাচিত প্রার্থীর কাছ থেকে কোন সুবিধা নিতে না পারায় তিনি এই নিয়োগ বাতিল করতে বলেন। প্রধান শিক্ষক ওই নিয়োগ বাতিলে অপারগতা প্রকাশ করলে তার উপর সভাপতি ও তার পক্ষের কতিপয় সদস্য অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। এ ধরনের আচরণ না করার জন্য আমি সভাপতিকে জানায়। এ জন্যই আমার সাথে বাকী ৫ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। আমি এই সভাপতির দ্রুত অপসারণ দাবী করছি। অন্যথায় আমার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি অতিদ্রত ধবংশ হয়ে যাবে। এর জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশগড়ার অঙ্গীকারের সাথে একজন ক্ষুদ্র সংগঠক হিসেবে আমি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কল্যাণ চাই।

 

ছিনতাইয়ের টাকা, ধারালো অস্ত্র ও ভূয়া পরিচয়পত্রসহ শৈলকুপায় ডিবি ওসি আটক

শৈলকুপা প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ডিবি পুলিশের ভূয়া ওসি আটক হয়েছে। রবিবার উপজেলার ভাটই এলাকা থেকে তাকে শৈলকুপা থানা পুলিশ আটক করে। আটককৃত ব্যক্তি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর এলাকার মৃত তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে খোকন (৫৫)। শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জনান, রবিবার বিকেলে ভাটই বাজারের মিয়া মার্কেট এর সামনে থেকে খোকন নামের এক ভূয়া ডিবি ওসিকে আটক করা হয়েছে। সে আরো ৩ সহযোগিকে সাথে নিয়ে প্রাইভেট কারে করে ভাটই বাজারে আসে। এসময় ডিবি পুলিশের ওসি পরিচয়ে আরাপপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী নজরুলকে ভাটই বাজার থেকে চক্রটি আটক করে। পরে তার কাছে থাকা নগদ ত্রিশ হাজার দুইশত টাকা ছিনিয়ে নেয়। ডিবি পুলিশের ওসি পরিচয়দানকারী খোকনের আচরণ সন্দেহজনক হলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুুুুলিশকে খবর দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তার সহযোগি প্রতারক চক্রটি গাড়ী ঘুরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আয়ুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মাহফুজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভূয়া ডিবি ওসিকে আটক করে শৈলকুপা থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার কাছ থেকে ছিনতাই এর নগদ ত্রিশ হাজার দুইশত টাকা ও একটি ধারালো ড্রেগার আকৃতির ছোরা এবং ভূয়া পুলিশ পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে আরাপপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-২৯, তাং-১৯/০৫/১৯ খ্রিঃ ধারা-১৭০/৪১৯/৩৯৪/৪১১/৫০৬ পেনাল কোড রুজু হয়েছে। আটককৃত ভূয়া ডিবি ওসির সহযোগি আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বুথ ফেরত জরিপকে ‘গুজব’ বলে ওড়ালেন মমতা

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম অর্থাৎ, শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই সামনে এসেছে বুথফেরত জরিপের ফল। বিভিন্ন জরিপে বিভিন্ন ফল পাওয়া গেলেও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে এগিয়ে রয়েছে তা মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু এ বুথফেরত জরিপেকেই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তিনি ফের ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপের ফল মানেন না দাবি করে মমতা বলেন, ইভিএম এ কারচুপি করতে এবং জনমত বিকৃত করতেই এ সমীক্ষা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার করা হয়। রোববার লোকসভা নির্বাচনের শেষ হতেই একের পর এক সামনে আসতে শুরু করেছে বুথফেরত জরিপের ফল। বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে তা প্রচার করা হচ্ছে। জরিপের ফল নিয়ে চলছে বিশেষজ্ঞদের বিশে¬ষণ। কিন্তু এতেই আঘাত হানলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। নিজের টুইটারে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “এক্সিট পোল নিয়ে এ গুজবে আমি বিশ্বাস করি না। এটি হাজার হাজার ইভিএম-এ নথিভুক্ত ভোটের ফল বিকৃত করা কিংবা বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও সাহসী থাকার আবেদন জানাচ্ছি।” রোববার ভোট শেষের পর এক টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, এক্সিট পোলের ফলে তিনি বিশ্বাসী নন। তার মতে, এ জরিপ আগাগোড়াই ভুলে ভরা।

মিরপুরে খাদ্য ভিক্তিক পুষ্টি বিষয়ক তিন দিনের প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে খাদ্য ভিক্তিক পুষ্টি (ফলিত পুষ্টি) বিষয়ক তিন দিনব্যাপি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ হলরুমে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষনা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) এর আয়োজনে এ তিন দিনব্যাপি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষন কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অদিপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামানিক। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষনা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) এর উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম সিদ্দিকী, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, কেয়ার বাংলাদেশ এর কর্মকর্তা রাবেয়া আক্তার হেলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল হক, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহাগ রানাসহ অনান্য কর্মকর্তারা। তিন দিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলায় কর্মকরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্কুল-মাদ্রাসা শিক্ষক/ মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহীত, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও কর্মীসহ ৬০জন প্রশিক্ষনার্থী অংশগ্রহণ করেন।

রোজার জরুরি মাসআলা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ মাহে রমজান হিজরি বর্ষের নবম মাস। এই মাসকে আরবিতে সাইয়্যেদুশ্শুহুর বা আশহুর বলা হয়। অর্থাৎ সব মাসের শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাস নিঃসন্দেহে অন্য মাসসমূহ থেকে স্বতন্ত্র দাবি রাখে। সিয়াম সাধনা এ মাসের প্রধান আমল। রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধিতা, ধৈর্য, সাম্য, ত্যাগ ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় রোজা। এ ইবাদতের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হয়। আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনেও সাওম বা রোজা অপরিহার্য ও অনিবার্য ইবাদত। মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও  দৈহিক শৃঙ্খলা বিধান, পারস্পরিক সম্প্রীতি-সহানুভূতি এবং সামাজিক সাম্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সাওম বা রোজার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্ম সুনির্ধারিত ও মানব জাতির জন্য কল্যাণকর আমলে পরিপূর্ণ। তাই কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের যথাযথভাবে জেনে, শুনে, বুঝে রোজার আমল কর উচিত। এখানে রোজার অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি জরুরি মাসআলা বর্ণনা করা হলো।

নিয়ত : নিয়ত অর্থ মনের সংকল্প। আরবি বা বাংলাতে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয় বরং মনে মনে নিয়ত করলেই চলবে। ফরজ রোযার নিয়ত ফজরের আযানের আগে করতে হবে। সাহারী : সাহারী খাওয়া সুন্নাত এবং এর অনেক ফজিলতও রয়েছে। তাই ক্ষুধা না থাকা সত্বেও কিছু পরিমাণে খাবার খাওয়া উত্তম। তবে কেউ প্রবল নিদ্রার কারণে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে শুধু নিয়ত করেই রোজা রাখা যাবে। সাহারী না খেলেও রোজা ছাড়া যাবে না। ইফতারি : সারা দিন রোজা রাখার পর রোজা শেষ করবেন ইফতারির মাধ্যমে। ইফতারি করা ওয়াজিব। মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে ইফতারি করা সুন্নাত। অন্য যে কোন খাবার ও পানি দিয়েও ইফতার করা যাবে। খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম। কেননা আমাদের প্রিয় নবী (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ইফতারির নিয়ত : আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা ওয়া তাওয়াক্কালতু আলা রিজকিকা ওআফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন। অতপর, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে ইফতারি মুখে তুলতে হবে। রোজার প্রকারভেদ ও নিয়মাবলি ঃ কাযা রোজা : কাযা হচ্ছে বদলি, অর্থাৎ কেউ যদি এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে তাহলে তাকে পরে সেই ওয়াক্ত পড়াকে কাযা বলে। তদ্রুপ যে সমস্ত কারণে রোজার কাযা করা যায় সে সব  ক্ষেত্রে  তার জন্য অন্যদিন একটি রাজা রাখাই যথেষ্ট। কাফফারা : আর কাফফারা হছে একটির বদলে ৬০টি এবং ৬০টি রোজা একাধারে রাখতে হবে। যদি মাঝ থেকে একটি রোজা ছুটে যায় তবে আবার ৬০টি রোজা রাখতে হবে। তবে যদি ৬০টি রোজা একাধারে রাখতে সক্ষম না হয়, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে তৃপ্তি সহকারে ২ বেলা খাওয়াতে হবে, অথবা একজন মিসকিনকে ৬০ দিন ২ বেলা করে খাওয়াতে হবে। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু খেলে অথবা পান করলে তার ওপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে  দৈহিক মিলন ঘটলে তাদের ওপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। অনিচ্ছায় পানি/খাবার খেলে, গোসল বা অযুর সময় পেটে পানি চলে  গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমথুন/স্ত্রীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত ঘটলে   রোজা ভেঙে যাবে এবং তার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব হবে না। যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় : কানে বা নাকে ওষুধ দিলে, ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভর্তি বমি করলে বা অল্প বমি আসলে তা গিলে  ফেললে, কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কণ্ঠনালী পর্যন্ত পানি চলে গেলে, ধূমপান করলে, রোজা ভেঙে গেলে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কিছু খেলে, রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহারী খেলে, ইফতারের সময় হওয়ার পূর্বেই সময় হয়ে গেছে মনে করে সময় হওয়ার পূর্বেই ইফতার করলে, দুপুরের পর ফরজ রোজার নিয়ত করলে। যে সব কারণে রোযা ভাঙ্গে না : মেসওয়াক করলে, চোখে সুরমা বা কোনো ওষুধ দিলে, খুশবু লাগালে বা তার ঘ্রান নিলে, গরম বা তৃষ্ণার কারণে গোসল করলে বা বারবার কুলি করলে, মুখে থুতু আসলে এবং তা গিলে ফেললে, সাপ বা অন্যান্য  পোকামাকড় কামড় দিলে, রোজা অবস্থায় দাঁত ওঠালে কিন্তু রক্ত পেটে না  গেলে, অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর ধোঁয়া, ধুলাবালি বা পোকামাকড় প্রবেশ করলে রোজা ভাঙে না। কাযা রোজা : রোজার কাযার মাসায়েলগুলো হলো- রমজানে রোজা কাযা হলে রমজান শেষ হওয়ার পর যথাশিগগির কাযা রোজা আদায় করে নিতে হবে। বিনা কারণে দেরি করা গুনাহ। যে কয়েকটি রোজা কাযা হয়েছে তা একাধারে রাখা মুস্তাহাব। বিভিন্ন সময়েও রাখা যায়। কাযা রোজার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বেই নিয়ত করতে হবে। অন্যথায় কাযা রোজা সহিহ হবে না। সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করলে সেই রোজা নফল রোজা বলে গণ্য হবে। যদি একাধিক রমজানের রোজা কাযা হয়ে যায় তবে নির্দিষ্ট করে নিয়ত করতে হবে- আজ অমুক বছরের রমজানের কাযা রোজা আদায় করছি। আর কেউ যদি নফল রোজা রাখার নিয়ত করে তবে তার জন্য উত্তম হচ্ছে সে যেন কাযা রোজার নিয়ত করে, এতে নফলের নেকিও পেয়ে যাবে।

যে সব কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে : যদি কেউ শরিয়ত সম্মত সফরে থাকে তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে কাযা আদায় করে নিতে হবে। রোগমুক্তির পর যে দুর্বলতা থাকে, তখন রোজা রাখলে যদি পুনরায় রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে কাযা আদায় করে নিতে হবে। কোনো রুগী যদি রোজা রাখার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বা নতুন  রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে বা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। নারীদের হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় রোজা ছেড়ে দিতে হবে। তবে পবিত্র হওয়ার পর রোজা কাযা করে নিতে হবে।

যে সব কারণে রোযা মাকরুহ হয় কিন্তু ভাঙে না : বিনা প্রয়োজনে কোনো জিনিস চিবালে। খাবার তৈরির সময় স্বাদ নিলে। তবে কোনো চাকরের মনিব বা কোনো নারীর স্বামী যদি বদমেজাজি হয় তাহলে জিহবার আগা দিয়ে লবণ চেখে তা ফেলে দিলে রোজা মাকরুহ হবে না। যেকোনো ধরনের মাজন, কয়লা, গুল বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা মাকরুহ। গোসল করা ফরয কিন্তু এই অবস্থায় গোসল না করে সারাদিন থাকলে, কোনো রোগীর জন্য নিজের রক্ত দিলে, ক্ষুধা বা পিপাসার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করলে, ঝগড়া-ফ্যাসাদ বা গালিগালাজ করলে, মুখে অধিক পরিমাণ থুতু একত্রিত করে তা গিলে  ফেললে, গিবত করলে বা মিথ্যা বললেও রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। অনিচ্ছায় বা ভুলবশত কেউ রোজা অবস্থায় খাবার খেয়ে ফেললে পরবর্তিতে সে চিন্তা করল যে যেহেতু রোজা ভেঙেই ফেলেছি সেহেতু আজকে আর রোজা রাখবো না- এমনটি ঠিক নয়। ভুলে কিছু খেলে বা পান করলে রোজা নষ্ট হয় না, বরং যখনি তার রোজার কথা মনে পড়েছে তখন থেকেই সর্তক থাকবে যেন ইফতারের আগ পর্যন্ত এমনটি না হয়। আমাদের সকল মুমিন মুসলমানের উচিত আত্মশুদ্ধির ও গুনাহ মাফের মাস মাহে রমজানের কথা মাথায় রেখে সব ধরনের পাপকে বর্জন করা। আসলে যে সমস্ত পাপ কাজে আমরা লিপ্ত হই  সেগুলো কিন্তু একদমই খনিকের সর্বোচ্চ ১ মাসের রেশ আমাদের ভেতর থাকে। কিন্তু দেখুন মৃত্যুর পর যে জীবন সেই জীবনের কিন্তু কোনো মৃত্যু নেই। তাই আসুন একটু কষ্ট করে হলেও অন্তত এই মাসটির জন্য আমাদের সমস্ত পাপকে দূরে রাখি। আল্লাহ রোজার সমস্ত রহমত, বরকত ও মাগফিরাত আমাদের নসিব করুন ও সারা বছর রোজার মতো আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির শোক

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজের শ্বাশুড়ীর পরলোক গমন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ও জেলা দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামীর শ্বাশুড়ী শুভাষীণি চক্রবর্তি গতকাল  সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। গতকাল দুপুরেই তাঁর মরদেহ নিজ এলাকা কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বর্গীয় শুভাষীণি চক্রবর্তি পরলোক গমনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক বার্তায় তিনি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

আতাউর রহমান আতার শোক

কুষ্টিয়া ও জেলা দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামীর শ্বাশুড়ী

শুভাষীণি চক্রবর্তী পরলোক গমনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক বার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবি সমিতির শোক

কুষ্টিয়া ও জেলা দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামীর শ্বাশুড়ী

শুভাষীণি চক্রবর্তি পরলোক গমনে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ আবু সাঈদ এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

 

রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটির করা তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবকাশকালীন ছুটি শেষে ঈদের পর কোর্ট খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দুটি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত রোববার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরতদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্রের দাম এবং তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক। একটা বালিশের দাম ধরা হয়েছে ছয় হাজার টাকা। একটা পানি গরম করার কেটলি নিচ থেকে ওপরে তোলার খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। আমরা এখনই দুর্নীতির কথা বলছি না। এই অস্বাভাবিক দামের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই বলছে, এইটা একদম ডাকাতির মতো হয়েছে। আমরা এগুলা বলছি না। যেহেতু গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, ওঁদের তদন্ত কমিটি হলে হবে না। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার কথা বলছি। কারণ এটি না হলে এই সিস্টেমের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে বাংলাদেশের মানুষজন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সরব এই আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, এইরকম যা কিছু আছে সব তদন্ত হয়ে সারা দেশবাসীর সামনে আসা উচিত। তাহলে মানুষের আস্থা বাড়বে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে কেনাকাটার নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য সেখানে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০তলা আটটি ও ১৬তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। ২০তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা করে; ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। পাঁচ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেকট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা খরচ করে। একইভাবে প্রতিটি আয়রন কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে চার হাজার ১৫৪ টাকা, আর তা ভবনে ওঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা। এ ছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। প্রতিটি চুলা কিনতে খরচ করেছে সাত হাজার ৭৪৭ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা। এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের স্থানীয় ঠিকাদারি বিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

বটতৈল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সালাহউদ্দিন আর নেই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজ সেবক টাকিমারা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সালাহউদ্দিন (৬০) গত রবিবার দিবাগত রাত ২.৩০ মিনিটে ঢাকা পিজি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে—-রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সালাহউদ্দিন দীর্ঘ ১ মাস ব্রেন স্ট্রোক ও কিডনী রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে তাকে ঢাকা এ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, তার লাশ বারডেম হাসপাতাল হিমাগারে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে মরহুম শাহিন সালাহউদ্দিনের লাশ কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। প্রথমে কুষ্টিয়া শহরস্থ পূর্বমজমপুর বাড়িতে লাশ রাখা হবে। পরে তার গ্রামের বাড়ি বরিয়া-টাকিমারা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। তার একমাত্র ছেলে আলমাস সালাহউদ্দিন অষ্টেলিয়া থেকে গতকাল রাত দেড়টার ফ্লাইটের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে কুষ্টিয়া শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুম শাহিন সালাহউদ্দিন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সদস্য মিজানুর রহমান লাকীর দুলাভাই।

‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসনে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ব্যাখ্যা দেবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না-সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন নির্দেশনা নিয়ে ‘ভূল বোঝাবুঝির’ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যে আলাপচারিতা হচ্ছে এবং কিছুটা যদি ভুল বোঝাবুঝি হয়েও থাকে ব্যাপারটায়, তাদের বিবেচনায় আছে এবং আমার মনে হয় এটার ব্যাপারে ব্যাখ্যা পাবেন।” গত ১৬ মে হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, ‘ইদানিং’ কোনো কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া তাদের চ্যানেলে এবং কোনো কোনো প্রিন্ট মিডিয়া তাদের পত্রিকায় বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করছে, যা ‘একেবারেই অনভিপ্রেত’। “এমতাবস্থায়, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন/স্ক্রল করা হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।” দুই একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে বাংলাদেশে অধিকাংশ মামলার বিচার পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন যে ভাষায় ওই নির্দেশনা জারি করেছে, তাতে বিচার শেষে রায় হওয়ার আগে সাংবাদিকদের আর কোনো মামলার সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকে না। ফলে এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন; ল রিপোর্টার্স ফোরামসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। এই অবস্থায় সোমবার আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে কী ব্যবস্থা নেওয়ার আছে- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, “কোনো সমস্যা যদি হয়, তাহলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী। তার কাছে কোনো না কোনো নালিশ পাঠানো যেতে পারে এবং তার যথেষ্ট ক্ষমতা আছে। “তাছাড়া সংবিধানের মধ্য থেকেই তিনি বিবেচনা করতে পারেন। সেটা তার বিবেচ্য বিষয়। ষোড়শ সংশোধনীর ব্যাপারে যে শূন্যতা, সে শূন্যতার কারণে কোনো কিছুই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো যাবে না, এটা ঠিক না।”

নিজের গ্রামেই নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা 

থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পরপরই আবার বাড়িতে হামলা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিজ গ্রামের কতিপয় ব্যক্তির কারণে প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে আমাকে। ওরা আমাকে মাঠে-ঘাটে ও বাজারে যেতে দেয়না। রাস্তা দিয়ে চলার সময় সামনে পিছন থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাজারের কারো দোকানে চা খেতে গেলেও দোকানীকে গালিগালাজ করে এবং চা দিতে নিষেধ করে। তিন সন্তান সরকারি চাকরী করে। হামলার ভয়ে ওরা কেউই বাড়িতে আসেনা। আমিও একই আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া। মাঠে সামান্য কৃষি জমি আছে কিন্তু ওদের ভয়ে তা চাষ করতে যেতে পারিনা। গত কয়েকদিন হলো বাড়িতে এসেছি। তারপর থেকেই আবারো আমার উপর শুরু হয়েছে সামাজিক নির্যাতন-নিপীড়ন। যারা আমাকে নিয়মিত হেয়প্রতিপন্ন এবং সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন করছে ওরা সবাই পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের লোকজন।  এভাবেই আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়া ওরফে ফুল মিয়া। আমার দোষ আমি মুক্তিযোদ্ধা ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহিদ হোসেনের সঙ্গে চলাফেরা করি। আর জাহিদ হোসেনের সঙ্গে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদস্য ছোট ছেলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়া ওরফে ফুল মিয়া কুমারখালী থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ দিতে। আর অভিযোগ দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সুমনের লোকজন বলে পরিচিত জাহিদুল, দিলিপ, সেলিম ও টিটুসহ ৮-১০ জন লাঠিসোটা নিয়ে তার বাড়িতে হামলা করে এবং মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়াকেও কিলঘুষি মারে। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, বিরিকয়া গ্রামের একজন মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ দিয়ে গেছেন। তাকে সামাজিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, এলাকাছাড়া করতে নানাধরণের হুমকী ধামকী দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পর বাড়ি হামলা হয়েছে বলেও খবর পেয়েছি। তাৎক্ষণিক একজন সহকারি উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) পাঠিয়েছি। আগামী মঙ্গলবার সবাইকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। দেখি কি করা যায়। এ ব্যাপারে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন জানান, আমি ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা তারই আতœীয় স্বজন। ঘটনার দিন তিনি এলাকার একটি নির্মানাধীন মসজিদের কাজ বন্ধ করে দেয়ায় এলাকার লোজন তার উপর চড়াও হয়েছিল। আমি পুলিশের সাথে কথা বলে নিজে সেটা মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি। ঘটনা এটুকুই।

ভাড়া করা নেতৃত্বে চলছে বিএনপি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ভাড়া করা নেতৃত্ব চলছে। কর্নেল অলি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের দায়িত্ব নিতে চান গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের বিষয়ে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ইতোপূর্বেও ধার করা নেতা দিয়ে চলেছে। ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে প্রকৃতপক্ষে বিএনপি জোটের নেতৃত্ব ড. কামাল হোসেন সাহেবদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। সেটি এখনও বহাল আছে। বিএনপি এখন নতুন করে আবার নেতৃত্ব ভাড়া করবে কিনা সেটি বিএনপিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ তিনি বলেন, বিএনপি ইতোপূর্বেও নেতা ভাড়া করেছে। কারণ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে ঐক্যফ্রন্ট সেই ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি আছে। প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতে এখন বিএনপির নেতৃত্ব নেই। তারেক রহমান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দেশের বাইরে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেয়া সহজ নয়। সেই কারণেই অতীতে বিএনপির বহু সিদ্ধান্ত বাস্তব সম্মত ছিল না। বিএনপির নানাবিধ ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির আজকের এই দৈন্যদশা তাদের ক্রমাগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে। তারা প্রথমত গত নির্বাচন অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও করেনি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর যেভাবে তৎপর থাকার কথা ছিল, তাদের কোন প্রার্থীর তেমন তৎপরতা ছিল না। এছাড়া মনোনয় বাণিজ্য তো আছেই। তবে মনোনয়ন বাণিজ্য এখানে নয় লন্ডনে হয়েছে। এখানে যেগুলো হয়েছে সেগুলোও লন্ডন পর্যন্ত গেছে। বিএনপি রাজনৈতিক দৈন্যদশায় পৌঁছেছে বলেই অন্য দলের নেতারা তাদের জন্য ভাড়ায় যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করার সাহস পাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিএনপির নেতারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ কামড় লেগে জিহ্বায় ঘা হয়ে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন না। আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের বিশ্ববিদ্যালয় হানপাতালের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন খালেদার জিহ্বায় ঘা হয়েছে। সে কারণে তিনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছিলেন না, তবে এখন অনেকটা ভালো হয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে তিনি পরিপূর্ণভাবে ভালো হয়ে যাবে, তিনি স্বাভাবিক খাবার গ্রহন করতে পারবেন। কিন্তু খালেদার অসতর্কতাবশত জিহ্বায় কামড় লেগেছে একটা অনেকেরই হয়। জিহ্বা কামড় লেগে ঘা হয়। কিন্তু এটি এমন কোন রোগ নয় যে একেবারে জীবন শঙ্কা, যেভাবে বিএনপি নেতারা বলছেন। কামড় লেগে ঘা হয়েছে, বেঁচে থাকার বন্য ঝাউ খাচ্ছে এভাবে উপস্থাপন করা অপরাজনীতি।” সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত। বছরের পর বছর ধরে তার আইজীবীরা আদালতকে বার বার তারিখ পরিবর্তন করে হ্যারেজ করেছে। মামলার ক্ষেত্রে এতো সময় নেয়ার ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটেনি। স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ায় তার বিচার হয়েছে। বিচারের মাধ্যমে তার শাস্তি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে এই শাস্তি হয়নি। সুতরাং আইনকে প্রভাবিত করার সুযোগ নেই। এগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য। রূপপুরের ঘটনায় অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ইজুমি

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোহিতা অব্যাহত থাকবে

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি বলেছেন, জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। জাপানের রাষ্ট্রদূত গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে একথা বলেন। সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, জাপানের দূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যা গত বছরের চাইতে ৩৫ শতাংশ বেশি। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে জাপানে তার আসন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাপানের দূত বলেন, আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যাবে। জাপানের রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানান, জাপানের সহায়তার নির্মানাধীন কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আগ্রগতিতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে তার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তিনিও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের বিভিন্ন অবদনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের এক মহান বন্ধু। তিনি এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দেশে রূপসা সেতু নির্মাণে জাপানের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।