খালেদার নাইকো মামলার চার্জ শুনানি ফের পিছিয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানির তারিখ আবারো পেছানো হয়েছে। তার আইনজীবীদের করা সময় বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করে আদালত ৩০ মে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল রোববার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ দিন ধার্য করেন। অসুস্থতার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা যায়নি। চার্জ শুনানি যেহেতু আসামির উপস্থিতিতে হয়, তাই খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে এদিন চার্জ শুনানি সম্ভব নয়-জানিয়ে আদালতে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তাদালত তা মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। ওইদিন তিনি আদালতে না হাজির না হওয়ায় শুনানির জন্য ১০ এপ্রিল নতুন তারিখ ধার্য করা যদিও। যদিও ওইদিনও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে ৬ মে ও ১৯ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ পুরাতন কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করা হয়। সেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় সময়ের আবেদন করেন আইনজীবীরা। আদালত তা শেষবারের মতো মঞ্জুর করে ১ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। এর আগে ৩ মার্চ মামলার অপর আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, খন্দকার শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি হয়। ওই সময় খালেদা জিয়া ছাড়া সব আসামির পক্ষে চার্জ শুনানি শেষ হয়। তবে গত ৩ জানুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে বিচারককে আদালতের বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানান খালেদা জিয়া। নাইকো দুর্নীতি মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন আরও তিন আসামি। তারা হলেন- সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্স-এর সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। মামলার ১১ আসামির মধ্যে সাবেক সচিব শফিউর রহমান ২০১৮ বছরের ৫ মে মারা যাওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১০ জন। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের দন্ডে দন্ডিত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, গাঁজা ও গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট মাদক উদ্ধার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি। বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় জয়পুর বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ১৪ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় চিলমারী বিওপি বিজিবি’র টহল আলিমডোবা নামক স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ৬৫ বোতল ভারতীয় জেডি মদ ও ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। একইদিন রাত ১০টার দিকে জামালপুর বিওপি’র টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর কান্দিরপাড়া বাঁশ ঝাড়ের মধ্য থেকে ২৪ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করে। এছাড়াও শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল আকন্দপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ১০বোতল ভারতীয় জেডি মদ ও একহাজার পিস গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা এসব মাদকের মালিক বা জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আজাদ জাহান

উন্নয়নমুলক কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনি সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রত্যেকটি উন্নয়নমুলক কাজে সঠিক ভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে বিতর্ক সৃষ্টি করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া  জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থ করণ কাজের অগ্রগতি অনেক দুর এগিয়ে গেছে।  তবে আরো বেশি লোকবল কাজে নিয়োগ করে জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারেন তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান আরো বলেন, কুষ্টিয়া  জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই দেশের মধ্যে কুষ্টিয়া হয়ে উঠবে পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ একটি জেলা। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। সভায় পবিত্র রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর বর্তমানে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান তিনি এবং এমাসে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন প্রকার লোডশেডিং না থাকায় ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎকে ধন্যবাদ জানান। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগমের স্বেচ্ছাসেবকদের সেচ্ছায় সেবা প্রদানে নানান অনিয়ম এবং রোগীরা সহ তাদের আত্মীয় স্বজনরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, সরকারীভাবে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ বাড়লেই এনধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং হাসপাতালের সেবার মান বাড়বে। রোগীরা যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মিঠু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু,  জেল সুপার জাকের হোসেন, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ,  জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর, জেলা বন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসিনা বেগম, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

এতিমদের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ গণভবনে প্রাঙ্গণে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতিম শিশুরা ছাড়াও ইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, প্রতিবন্ধী শিশু ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহতরা। গতকাল রোববার গণভবন প্রাঙ্গণে সবাইকে নিয়ে এ ইফতারে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরাও এ ইফতারে উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে আয়োজনস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তিনি। এ সময় ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

রমজানুল মোবারক

রমজানে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ প্রত্যেক মুসলমানের কাছে এ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের ইবাদত বন্দেগির সওয়াব অন্য মাসের চেয়ে শতগুণ বেশি। অন্য মাসে যারা ইবাদত বন্দেগিতে অলসতা দেখান, তারাও এ মাসের ইবাদতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। সব মাসের মধ্যে রমজানকে বছরের সরদার বলা হয়েছে। এ মাসে সৎ কাজ করলে যেভাবে সওয়াব দেয়া হয়, একইভাবে ইসলাম বিরোধী কর্ম করলেও গুনাহের পাল্লা ভারী হয় এ মাসে। মুসলমানরা চান তাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী হোক। কোনো মুসলমান কামনা করেন না যে, এ মাসে আল্লাহ ও বান্দার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে তার নাম অপরাধীর খাতায়  লেখা হোক শুধু মানুষ খুন করলেই অপরাধ হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব, মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অতি মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ। নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মানবতাকে সঙ্কটে ফেলা কবিরা বা বড় গুনাহের মধ্যে পড়ে। এ গুনাহের জন্য শরিয়াহ বা ইসলামের ফয়সালা মতে তওবা করতে হয়। তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে কৃত্রিম সঙ্কট  তৈরি করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। রহমত, নাজাত, বরকত আশা করলে  কোনো মুসলমান ব্যবসায়ী এমন অন্যায় আচরণ করতে পারেন না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হয় এবং  রোজাদারদের জন্য শোভন আচরণ করা হয়। ছোলা, চিনি, মাছ, গোশতের বাজার স্থিতিশীল রাখা হয়। অথচ, বিপরীতভাবে দেখা যায় বাংলাদেশের বাজারের বেহাল অবস্থা। বাংলাদেশ ৮৬ শতাংশ মুসলমানের দেশ। এখানে রমজান মাসে কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজা, নামাজ, তারাবিহ আদায় করে থাকেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই রোজার মাসকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে সিয়াম পালন করেন। দেখা যায়, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অতি মুনাফালোভী হয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে ধর্নাঢ্য বনে যায়। তাদের জন্য এ আয় সম্পূর্ণভাবে হারাম। এটা অবৈধ ও অনৈতিক। এমনভাবে সঙ্কট সৃষ্টি করে আয় করাকে ধর্ম ও প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মেনে নেয়া হয় না। আইন ও ধর্মের দৃষ্টিতে তারা অপরাধী। এ অপরাধ যারা করে তাদের শাস্তি ধর্মে ও প্রচলিত আইনেও আছে। অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধিকে ব্যবসায় বলা যায় না,  সেটা লুণ্ঠন বা প্রতারণা। ইসলামে ব্যবসায়কে হালাল করা হয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারিকে হারাম করা হয়েছে।  যেকোনো ধর্মে ব্যবসায়ে অনৈতিক আচরণ এবং সমাজকে অস্থির করা অবৈধ। এসব অপরাধকে যারা অপরাধ মনে করে না, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কারখানা সব কিছু মানব কল্যাণের জন্য। যে ব্যবসায় মানবতা বিরোধী সেটা ব্যবসায় হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ব্যবসার নিয়ম মতো পরিচালনা করা,  যেন হারাম ও অবৈধ না হয়। প্রকৃত ব্যবসায়ের মধ্যে ১০ গুণ লাভ পাওয়া যায়। অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসায়ের গুনাহের পরিমাণও সেরূপ। ইসলাম ধর্ম মতে, সৎ মুসলমান ব্যবসায়ীর স্থান হবে সাহাবায়ে কেরাম রা:-এর সাথে। দুনিয়ার  লোভে না পড়ে আসুন, মানবতা ইসলাম ও রোজাদারদের সাহায্যে এগিয়ে আসি। এখানে শুধু মুসলমানদের কথা নয়। অন্যান্য ধর্মের যারা অনুসারী তাদেরকেও সঙ্কটে ফেলা যাবে না। তারাও আল্লাহর বান্দা। সৃষ্টির  সেরা মানুষ। ধর্ম বর্ণ ভাষা নির্বিশেষে কোনো মানুষকেই কষ্ট দেয়া যাবে না। সব ধর্ম, গোত্র ও শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের অনস্বীকার্য দায়িত্ব।

সমাজকে খাদ্যে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকার তুলনা নেই। ব্যবসায়ীরা দেশকে স্থিতিশীল ও অস্থিতিশীল দুটোই করতে পারেন।  দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, জাতির প্রতি স্নেহ মায়া মমতা থাকলে তারা কখনো সমাজ ও মানবতাবিরোধী কাজ করতে পারে না। মুনাফার নিয়ম মেনে ব্যবসায় করেও মানুষ প্রচুর অর্থের মালিক হচ্ছে। হালাল ও ন্যায্য ব্যবসায়ের সুখানুভূতি অন্যরকম। সে চিন্তা মাথায় রেখে ব্যবসায় করলে ইহকাল ও পরকাল দু’টিই শান্তি পূর্ণ হবে। সরকারের যত প্রচেষ্টা থাকুক না কেন, এ  ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে না এলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কখনো সফল হতে পারে না। তাই আশা করব, সরকারের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে এগিয়ে আসবেন।

আজ বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস আজ সোমবার। ‘আন্তর্জাতিক পদ্ধতির একক মৌলিকভাবে উত্তম’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে ওজন ও পরিমাপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা-বিআইপিএম-এর পরিচালক মার্টিন মিল্টন এবং বিআইএমএল এর পরিচালক এ্যান্থনি ডোনেলান বাণী দিয়েছেন। বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০১৯ উপলক্ষে জাতীয় মানসংস্থা হিসেবে বিএসটিআই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক অফিসগুলোতে আলোচনা সভা, বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রমাণ্য অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশ বেতাওে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও মেট্রোলজি দিবেসের গুরুত্ব বিষয়ক কথিকা প্রচার। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কদ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন ও  প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে সুসজ্জিত করা হবে। দিবসটি উদযাপনের লক্ষে তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন শিল্প সচিব আবদুল হালিম।

গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কাদের

এবার ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ খেলব

ঢাকা অফিস ॥ অসুস্থতা কাটিয়ে আড়াই মাস পর মন্ত্রণালয়ে ফিরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পূর্ণদ্যোমে কাজ শুরুর কথা বলেছেন, যাকে তিনি আখ্যায়িত করছেন ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ হিসেবে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর গতকাল রোববার প্রথম সচিবালয়ের কার্যালয়ে এসেই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ক সভা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানেই তিনি বলেন, “প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশাল্লাহ আমি এবার দ্বিতীয় ইনিংস খেলব।” ‘দ্বিতীয় ইনিংস’র ব্যাখ্যায় কাদের বলেন, “মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ শেষ করা, যানজট নিরসন, সড়কে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা, দ্বিতীয় ইনিংসে এগুলো হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করব ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব।” হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) আক্রান্ত ওবায়দুল কাদের গত ৩ মার্চ সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এনজিওগ্রামে কাদেরের হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। এরপর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে গত ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শেষে দুই মাস ১১ দিন পর গত বুধবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন সেতুমন্ত্রী। রোববার কাদের বলেন, “দুই মাস ১৬ দিন আগে সর্বশেষ আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি। এরপর অসুস্থ হয়ে অনেক দূরে ছিলাম। হয়তো পৃথিবী থেকেই অনুপস্থিত ছিলাম। সবার দোয়ায় আমি সুস্থ হয়েছি।” নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শারিরীকভাবে এখন সুস্থ হলেও শরীর অনেক দুর্বল। দুই মাস পরপর চেকআপে যেতে হবে। আগামী ১৬ জুলাই সিঙ্গাপুরে যেতে হবে। একটু সতর্কভাবে চলতে বলেছেন চিকিৎকরা। ভারি কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বারণ করেছেন। এক-দেড়মাস পর আবার পুরোদমে আগের মতই সব কাজ করতে পারব।” এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় সচিবালয়ে আসার পর ওবায়দুল কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশংসা করে বলেন, “আমি অনুপস্থিত থাকলেও এরা খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। টিম ওয়ার্ক চেয়েছিলাম, তা আমি পেয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশংসা করেছেন।” এরপর এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে কথা বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে জানিয়ে কাদের বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে এবারকার প্রস্তুতি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। আমাদের সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা দুটি রুট। একটা হচ্ছে ঢাকা-গাজীপুর-টাঙ্গাইল উত্তরাঞ্চলের। এখানে সংকটটা হয়, এখানে যানজট হয়। মানুষের দুর্ভোগ হয়। ঘরমুখী যাত্রীরা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে বাড়ি যান।” তিনি বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রামেও সমস্যা হয় মূলত তিনটি ব্রিজের কারণে। আমার অনুপস্থিতিতে কাঁচপুর ব্রিজের শুভ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আগামী ২৫ মে মেঘনা-গোমতি সেতু উদ্বোধন হবে। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রামে ঈদের সময় যে দুর্ভোগ- ভোগান্তি- এইগুলো কমে যাবে। সম্পূর্ণ সহনীয় মাত্রায় থাকবে- এটা আমরা বলতে পারি। আমাদের গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল অংশে.. এখানেও ভোগান্তি কম হবে।” স্বাস্থ্যগত কারণে নিজে প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় থাকতে না পারলেও কাজের অগ্রগতি থেমে থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।

স্টার্লিংয়ের হ্যাটট্রিকে ‘ট্রেবল’ জিতল ম্যানচেস্টার সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিগ কাপ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পর এফএ কাপের শিরোপাও ঘরে তুললো ম্যানচেস্টার সিটি। সেই সঙ্গে প্রথম ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের তিনটি প্রতিযোগিতারই  চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ল পেপ গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফাইনালে রাহিম স্টার্লিংয়ের হ্যাটট্রিকে ওয়াটফোর্ডকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় সিটি। ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতায় এটা তাদের ষষ্ঠ শিরোপা। এর আগে সবশেষ ২০১০-১১ মৌসুমে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। চ্যাম্পিয়নদের অপর তিন গোলদাতা হলেন দাভিদ সিলভা, কেভিন ডি ব্র“ইনে ও গাব্রিয়েল জেসুস। ম্যাচের ২৬তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় সিটি। রাহিম স্টার্লিংয়ের হেডে বাড়ানো বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দাভিদ সিলভা। বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ভিতরে ঢোকে। সিটির হয়ে এ বছরে সিলভার এটি প্রথম গোল। ক্লাবের হয়ে ২৭ ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন তিনি। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বরে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে শেষ গোল করেছিলেন সিলভা। ৩৮তম মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বের্নার্দো সিলভার দারুণ পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে টোকা দেন জেসুস। বল লক্ষ্যেই ছিল, শেষ মুহূর্তে গোল লাইনের উপর থেকে ডান পায়ের শটে স্কোরলাইনে নাম লেখান ইংলিশ মিডফিল্ডার স্টার্লিং। ৬১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কেভিন ডি ব্র“ইনে ব্যবধান বাড়ালে ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় সিটি। জেসুসের পাস পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোলটি করেন বেলজিয়ামের এই মিডফিল্ডার। সাত মিনিট পর আরেকটি পাল্টা আক্রমণে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন জেসুস। মাঝমাঠের কাছ থেকে ডি-ব্র“ইনের বাড়ানো বল ধরে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পে¬সিং শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে আরও দুবার জালে বল পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন স্টার্লিং। বাঁ দিক থেকে বের্নার্দো সিলভার দূরের পোস্টে বাড়ানো বল পে¬সিং শটে জালে জড়ান স্টার্লিং। ৮৭তম মিনিটে তার প্রথম শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ছুটে গিয়ে লক্ষ্যে পাঠান মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত খেলা স্টার্লিং। গত ২৪ ফেব্র“য়ারি এই মাঠেই চেলসিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে লিগ কাপ জিতে ইতিহাস গড়ার পথে চলা শুরু সিটির। আর গত রোববার শেষ দিনে গড়ানো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনের মাঠে ৪-১ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। এবার ওয়াটফোর্ডকে হারিয়ে অনন্য কীর্তি গড়ল ম্যানচেস্টারের দলটি।

এমবাপের জোড়া গোলে পিএসজির বড় জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। জালের দেখা পেলেন এদিনসন কাভানি ও আনহেল দি মারিয়া। তিন তারকার নৈপুণ্যে লিগ ওয়ানে দিজোঁকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পিএসজি। ঘরের মাঠে শনিবার রাতে ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। মার্চে লিগের প্রথম পর্বের দেখায়ও দলটিকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল টমাস টুখেলের দল। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণেই গোল আদায় করে নেয় পিএসজি। ইউলিয়ান ড্রাক্সলারের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে দারুণ বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান দি মারিয়া। পরের মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলেও অবদান রয়েছে আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের। একজনকে কাটিয়ে তার দূরের পোস্টে বাড়ানো ক্রসে হেডে জাল খুঁজে নেন কাভানি। আসরে এটি  উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের ১৮তম গোল। ২৫তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো; তবে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার তমা মুনিয়ের হেড পোস্টে বাধা পায়। ৩৬তম মিনিটে কাছ থেকে টোকা দিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপে। ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এমবাপে। মাঝমাঠ থেকে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বাড়ানো পাস পেয়ে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে বল জালে জড়ান দারুণ ফর্মে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড। আসরে ফরাসি এই ফুটবলারের এটি সর্বোচ্চ ৩২তম গোল। ৩৭ ম্যাচে ২৯ জয় ও চার ড্রয়ে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা পিএসজির পয়েন্ট হলো ৯১। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিলের পয়েন্ট হলো ৭৫।

ইউটিউবে মুক্তি পাচ্ছে পপি অভিনীত ‘দি ডিরেক্টর’

বিনোদন বাজার ॥ রোজার ঈদে সিনেমা মুক্তির তালিকায় রয়েছে চিত্রনায়িকা পপির ‘দি ডিরেক্টর’। যেখানে তার বিপরীতে রয়েছেন মোশাররফ করিম। সিনেমা মুক্তি মানেই বড়পর্দা। তবে এই সিনেমাটি কোনো হলে মুক্তি পাবে না। ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হবে ‘দি ডিরেক্টর’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান কামু।ইউটিউবে মুক্তি পাচ্ছে পপি অভিনীত ‘দি ডিরেক্টর’২০১৫ সালে এই সিনেমাটি সেন্সর পেলেও হল জটিলতার কারণে ইউটিউবে সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান পরিচালক। তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি কেন হল মালিকরা নিতে চাইছেন না আমি জানি না। কয়েক লাখ টাকা খরচ করতে হয় সিনেমা হলে মুক্তি দিতে গেলে। আবার সিনেমা হলের যে পরিবেশ তাতে সিনেমার পোস্টারে যে টাকা খরচ হয়, সেই টাকাই উঠে আসে না। এমনিতেই আমি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। অনেকবছর এটি নিয়ে অপেক্ষা করেছি। এখন মনে হলো মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। তাই ইউটিউবে মুক্তি দিচ্ছি।’সিনেমাতে আরো অভিনয় করেন মারজুক রাসেল, নাফা, কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, মোশাররফ করিম, সুইটি, নাফিজা, বাপ্পি আশরাফ, কামরুজ্জামান কামু প্রমুখ।

সংসার বাঁচাতে সিএনজি চালাচ্ছেন শিল্পী সরকার অপু!

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পী সরকার অপু সংসার চালাতে এখন হয়েছে সিএনজি চালক। তবে বাস্তবে নয় পর্দায় একজন সিএনজি চালক হিসেবে দেখা যাবে তাকে।অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন অসংখ্য নাটক, টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে। গুটিকয়েক সিনেমায়ও দেখা মিলেছে তার।অভিনেত্রী অপু কখনো স্ত্রী, মা, বোন, দাদি, নানিসহ বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করেন। তাই এবারো হয়নি তার ব্যতিক্রম। একেবারে ভিন্ন এক চরিত্রে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী। আর এই নতুন চরিত্রটি সবাইকে চমক লাগিয়েছে।নাটকের পোস্টারে সিএনজি চালকের বেশে দেখা মিলছে এই অভিনেত্রীর। পুরুষ সেজে সিএনজি চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।‘সিএনজি ড্রাইভার’ শিরোনামের নাটকটি পরিচালনা করেছেন রবিউল সিকদার। পরিবারের চাকা সচল রাখতে নিজের বেশ পরিবর্তন করে রাস্তায়ও নামেন অনেকে। তেমনই এক গল্প ‘সিএনজি ড্রাইভার’।এমন চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরতে তিনদিন ওয়ার্কশপ করেছেন তিনি। এই অভিনেত্রী জানান, নারী হয়ে সিএনজি চালানো চাট্টিখানি কথা নয়! চরিত্রটিকে নিজের মধ্যে ধারণ করে নিজেকে প্রস্তুত করেই কাজটি করতে চেয়েছি।’নাটকে অপু ছাড়াও অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, মিষ্টি জাহান, আজম খান, হিন্দোন রায়, আনসার আলী, রহিম সুমন, আলিফ, ফারুক ও সোহাগ প্রমুখ। শুক্রবার চ্যানেল আইতে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে নাটকটি প্রচার করা হয়।

 

চলে গেলেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ

বিনোদন বাজার ॥ না ফেরার দেশে চলে গেলেন মঞ্চ নাটক, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মায়া ঘোষ (৭০)।রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মায়া ঘোষের মৃত্যুর খবর বড় ছেলে দীপক ঘোষ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন মা। অবশেষে তিনি যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৌনে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। যশোরের নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ২০০০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মায়া ঘোষ। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। ২০০৯ সালের দিকে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কিন্তু ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে আবারও ক্যান্সার ধরা পড়ে তার শরীরে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে পুনরায় কলকাতার সরোজগুপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালে নেয়া হয়।তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৫ এপ্রিল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে যশোর কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়।১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রতাপকাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মায়া ঘোষ। তার বাবার নাম শংকর প্রসাদ গাঙ্গুলী।মঞ্চ নাটক, টিভি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে মায়া ঘোষের ছিল সরব উপস্থিতি। ১৯৮১ সালে ‘পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটিএন বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ডিবি’-তে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

 

ঈদে মুক্তি পাচ্ছে গোয়েন্দাগিরি

বিনোদন বাজার ॥ একদল টিনএজ ছেলেমেয়ে ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছে। তাদের একটি বিশেষ পরিচয় হচ্ছে তারা স্বপ্ন দেখে যে ভবিষ্যতে বড় গোয়েন্দা হবে। তাদের কারও আইডল শার্লক হোমস, কেউ আবার ফেলুদার ভক্ত, কেউ তিন গোয়েন্দা, কেউ জেমস বন্ডকে গুরু মানে।তাদের এবারের অভিযানটা শুরু হয় যখন মিডিয়াতে একটি পুরনো ভুতুড়ে বাড়ি নিয়ে হইচই পরে যায়। বনের মধ্যে অবস্থিত বাড়িটি নাকি অভিশপ্ত। অভিশপ্ত এই বাড়ির রহস্য উন্মোচনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই শখের গোয়েন্দারা।তাদের এই অভিযানে রহস্যের স্বাদ যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাওয়া যাবে টিনএজ খুনসুটি, টিনএজ রোমান্টিসিজম আরও কত কি! এমনই এক গল্পে ‘গোয়েন্দাগিরি’ নামের সিনেমা তৈরি করেছেন নাসিম সাহনিক।তিনি জানালেন, আসছে ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তি দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এরইমধ্যে ছবিটি সেন্সরে ছাড়পত্র পেয়েছে।এ ছবিতে অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিম চৌধুরী। ‘ম্যাংগোলি চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে’র উপস্থাপিকা হিসেবে আলোচনায় আসেন মিম। এরপর শাকিব খানের সঙ্গে ‘লাভ এক্সপ্রেস’ ও প্রসূন রহমানের সরকারি অনুদানের ছবি ‘সুতপার ঠিকানা’ নামে দু’টি ছবিতে অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হন মিম।মিম এ ছবিতে তার অভিনয় ও অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ছবিটির শুটিং এবং ডাবিংয়ের সময় বেশ মজা করেছি আমরা। সুন্দর একটা টিম ওয়ার্ক ছিলো। ‘গোয়েন্দাগিরি’ ছবিটির কাহিনী একেবারেই আলাদা। হরর থ্রিলারধর্মী। চিত্রনাট্যও অসাধারণ। এজন্যই কাজটি করেছি। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম গোয়েন্দা পিংকি।পিংকি অনেকটা জনপ্রিয় কমিক ক্যারাকটের ‘পিংকি’র মতো। বেশ চঞ্চল একটা মেয়ে। সারাক্ষণ ফেসবুকিং আর গসিপিং নিয়ে থাকে। সিডনি শেলডন আর শার্লক হোমসের ফ্যান সে।’মিম ছাড়াও এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কল্যাণ কোরাইয়া, সীমান্ত আহমেদ, শম্পা হাসনাইন, কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, টুটুল চৌধুরি, শিখা খান, তানিয়া বৃষ্টি, প্রিন্স প্রমুখ।পরিচালক বলেন, ‘আম্মাজান ফিল্মের ব্যানারে নির্মিত ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমাটি দর্শকদের রুচিশীল বিনোদন উপহার দেবে। চলচ্চিত্রটি শিশুকিশোরদের জন্য একটি ভালো আর্কাইভ হবে বলেও মনে করি আমি।’ছবিটির মুক্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার, ১৭ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের শহীদ জহির রায়হান মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ অ্যানি রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জনাব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি জনাব মুশফিকুর রহমান গুলজার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব জনাব বদিউল আলম খোকন, ইভালির সিইও জনাব মো. রাসেল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতির সাবেক সহ সভাপতি জনাব খোরশেদ আলম খসরু, প্রযোজক জনাব মোরশেদ খান হিমেল।অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও আম্মাজান ফিল্মসের কর্ণধার জনাব মামুনুর ইসলাম । অনুষ্ঠানটির সমন্বয়ে ছিলেন গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রের পরিচালক নাসিম সাহনিক।

নাটকে প্রথম ইমরান-কনা

বিনোদন বাজার ॥ ব্যক্তিগত জীবনে ইমরান মাহমুদুল ও দিলশাদ নাহার কনার সম্পর্কটা ভাই-বোনের মতো। গান নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলে আলোচনা। চলচ্চিত্রের গানে ইমরান ও কনার জুটির জয়জয়াকার। আছে অডিওতেও একাধিক শ্রোতাপ্রিয় গান। কিন্তু কোন নাটকের গানে এর আগে একসঙ্গে কণ্ঠ দেওয়া হয়নি এ জুটির।দু’জনের মনেই ছোট একটি আক্ষেপ ছিলো। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচে গেলো। প্রথম বারের মতো নাটকের গানে কণ্ঠ দিলেন বহু শ্রোতাপ্রিয় গানের জুটি ইমরান এবং কনা। ‘কথা দিলাম’ শিরোনামের গানটি ব্যবহৃত হয়েছে মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র ঈদের বিশেষ ‘আঙুলে আঙুলে’ নাটকে।মোশনরক এন্টারটেইনমেন্ট প্রডাকশনের এই নাটকটি দেখা যাবে ধ্রুব টিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে, এবারের ঈদে। গানে রোমান্সএ মাতবেন তাহসান এবং নুসরাত ইমরোজ তিশা। গানটির কথা লিখেছেন সুহৃদ সুফিয়ান আর সুর ও সঙ্গীতায়োজনে আহমেদ হুমায়ুন।এ প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘এই প্রথমবার আমি আর কনা আপু নাটকের গান করলাম। অডিও-সিনেমায় অনেক ডুয়েট গান করলেও এবারই প্রথম দু’জন নাটকের গানে। দারুণ একটা গান। ফুল এনার্জেটিক। শ্রোতাদর্শকরা নতুন কিছু পেতে যাচ্ছে এই গানের মাধ্যমে। আর কনা আপুর কথা কি বলবো, আমি তার কণ্ঠের প্রেমে পড়ে আছি অনেক আগে থেকেই। আমাদের দু’জনের অনেক শ্রোতাপ্রিয় গান আছে । আমার বিশ্বাস, এই গানটিও সেই তালিকায় খুব দ্রুত যুক্ত হবে।’কনা বলেন, ‘ইমরান গান জানা একজন শিল্পী। প্রথমবার ইমরান এবং আমি নাটকের গান গাইলাম, ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস শ্রোতাদেরও ভালো লাগবে।

দীপিকার এই পোশাক রণভীরের অনুপ্রেরণায়!

বিনোদন বাজার ॥ কান ফিল্ম ফেস্টিভালের রেড কার্পেটে বিশ্বের জনপ্রিয় তারকারা নজর কাড়েন তাদের জমকালো পোশাকের জন্য। আর বিশ্ব মিডিয়া অপেক্ষা করে তাদের নিয়ে মজার সব স্টোরি করতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।সবার চোখে এই ক’দিনের সব থেকে আলোচিত সাজে দেখা গেছে বলিউড তারকা দীপিকা পাডুকোনকে। তার পোশাক ও ফ্যাশন ভাবনা স্বামী রণভীর সিংয়ের কাছ থেকে এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।চারটি ভিন্ন সাজে দেখা গিয়েছে দীপিকাকে, এর মধ্যে লাল গালিচায় হাঁটার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় দিন অভিনেত্রী দীপিকা কচি কলাপাতা রঙের যে ঘাসের মতো ছড়ানো গাউন পরেছিলেন তা নিয়েও অনেকেই সমালোচনা করেছেন।শুক্রবার বিকেলে দীপিকা পিটার ডান্ডাসের একটি ক্রিম রঙের গাউন পরেছিলেন, সঙ্গে একটি বিশাল চকোলেট বাদামী রঙা বো। দীপিকা চুলের জন্য বেছেছিলেন পনিটেল স্টাইল। চোখে ঘন কাজল আর গাঢ় লিপিস্টিকে তাকে আলাদাই দেখাচ্ছিল অন্য সময়ের তুলনায়। তবে এই সাজও ভক্তদের খুব খুশি করতে পারেনি।তৃতীয়বার তিনি কান-এ ল’রিয়ালকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এই তারকা। বলিউডে রণভীর সিংয়ের অদ্ভুত সব পোশাক কালেকশন নিয়ে হরহামেশাই মজা করেন ভক্তরা।

আম সংরক্ষণের ঘরোয়া উপায়

কৃষি প্রতিবেদক ॥ স্বাদে, গন্ধে, পুষ্টিমানে ও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সব ফলের মধ্যে আম সবার ওপরে বলেই আমাকে ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই আমের উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে দেশের উত্তর, উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উন্নতমানের আম উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। আম একটি মৌসুমী ফল হওয়ায় মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়েও ইদানীং দেশের বাইরে বেশকিছু পরিমাণে আম রপ্তানি হচ্ছে। যা আমচাষিদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি খবর। অন্যদিকে, ভোক্তারা যদি মৌসুম শেষ হওয়ার পরেও বছরের অন্য সময়ে আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে পারেন তাহলে নিজেদের রসনা সহজে নিজেরাই মেটাতে পারবেন। মৌসুমে আম দীঘির্দন সংরক্ষণ করে রাখা কিংবা মৌসুমের পরেও আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে খাওয়ার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যেসব পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণের জন্য খুব বেশি জ্ঞানের বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আম নষ্ট হওয়ার অন্যতম দুটি কারণ হলো, আমের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন এবং অন্যটি, আমে অনুজীবের সংক্রমণ। আম ক্লাইমেকট্রিকজাতীয় ফল হওয়ায় আমের ভেতরে প্রতিনিয়ত জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এতে গাছে মুকুল থেকে একটি আম উৎপন্ন হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে একটি নিদির্ষ্ট সময় অতিক্রম করে ও এর অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন হতে থাকে। এর ফলে আম আসে পুষ্টতা ও পরিপক্বতা এবং অবশেষে সেটি পাকতে শুরু করে। এজন্য দেখা যায়, একটি আম কাঁচা অবস্থায় সংরক্ষণ করতে গেলেও সেটি দ্রুতই পেকে যায়। অন্য কারণটি হলোÑ আম সংগ্রহের পর যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আমে অনুজীবের সংক্রমণ হতে পারে। আম সংগ্রহের সময় যদি আমে আঘাত লাগে বা থেঁতলে যায় এবং বাইরের খোসায় বা ছাল ফেটে যায় তাহলে ওই স্থান দিয়ে আমের ভেতরে অনুজীবের সংক্রমণ ঘটে। অনুজীবের সংক্রমণে আমের কোষগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ও আম পচে যায়। বতর্মানে আম সংরক্ষণের একটি সহজ পদ্ধতি হলো, গরম পানিতে আম শোধন করে সংরক্ষণ করা। মৌসুমে পুষ্ট কাঁচা আম সংগ্রহ করে ৫৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস পরিষ্কার গরম পানিতে ৫-৭ মিনিটকাল মিনিট ডুবিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিয়ে ঘরের শুকনো ও ঠান্ডা স্থানে রেখে দিলে আম সাধারণ অবস্থার চেয়ে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিন বেশি রাখা সম্ভব হয়। অর্থাৎ গাছ থেকে সংগ্রহ করা যেসব পুষ্ট আম ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় সপ্তাহখানেক সংরক্ষণ করা যায়, সেসব আমই গরম পানিতে শোধন করে রাখলে আরও সপ্তাহ দুয়েক বেশি সময় ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায়ই সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এজন্য দুই লিটার ফুটন্ত পানির সাথে আরও দুই লিটার সাধারণ তাপমাত্রার পানি মিশালে পানির তাপমাত্রা ৫৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। ওই তাপমাত্রার গরম পানিতে পুষ্ট ও পরিষ্কার আম ৫-৭ মিনিট সময় ডুবিয়ে রাখতে হয়। এসময় আমগুলো মাঝেমধ্যে উল্টেপাল্টে দিতে হয়। এরপর আমগুলো পানি থেকে তুলে বাতাসে শুকিয়ে নিয়ে ও ছায়ায় রেখে সংরক্ষণ করতে হয়। গরম পানিতে শোধন করা আম ফ্রিজের নরমাল চেম্বারের সাধারণ তাপমাত্রায় রাখলে দুই সপ্তাহেরও বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। বাড়িতে রেখে খাওয়া কিংবা দূরে কোথাও আম পাঠাতে হলে গরম পানি পদ্ধতিতে আম শোধন করে সংরক্ষণ করলে বা পাঠালে তা ভালো থাকে। এতে আমের গুণাগুণ নষ্ট হয় না, শুধু আমের ভেতরের চলমান রাসায়নিক বিক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়া হয়, দীর্ঘদিন সতেজ রাখার জন্য। এখানে বলে রাখা ভালো, গরম পানিতে শোধন করা আম অবশ্যই পুষ্ট হতে হয়। এ আমের রংও দেখতে উজ্জ্বল হয়। অনেকেরই ধারণা যে, আমে ফরমালিন ব্যবহার করে আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়। ধারণাটি ভুল। আমে যেহেতু স্বল্প পরিমাণে ফরমালডিহাইডজাতীয় রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যা পরে ফরমালিনে পরিণত হয় তাই আমে ফরমালিন প্রাকৃতিকভাবেই থাকে, কৃত্রিমভাবে ফরমালিন দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে কেউ কেউ আম পাকানো বা আমের সবুজ রং হলুদ করতে ইথোফেন বা কাবার্ইড ব্যবহার করে থাকেন। ইথোফেন উদ্বায়ী এবং এটি ফলের খোসার রং পরিবর্তন করলেও ফলের ভেতরে প্রবেশ করে না এবং এর অবশেষ ফলে থাকে না। আর কাবার্ইড দিয়ে ফল পাকানো হলে এটিও খোসার রং পরিবর্তন করে। কাবার্ইড ফলের আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে এসিটিলিন গ্যাস নির্গত করে, যা ফলের রসের সঙ্গে মিশে ইথাইলনে রূপান্তরিত হয়। এসময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এ তাপেই ফলের খোসার রং পরিবর্তন হয় ও ফলের ভেতরের স্বাভাবিক রাসায়নিক কাযর্ক্রম ব্যাহত হয় বা ধীরগতির হয়। এসব আম যদি অপুষ্ট হয় তাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যায়। পুষ্ট হলে পচন শুরুর সময় কিছুটা দীর্ঘ হয়। গাছ থেকে আম পাড়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হয়, আম যেন আঘাতপ্রাপ্ত না হয় এবং বোঁটার কস বা আঠা যেন কোনো অবস্থাতেই আমের গায়ে না লাগে। কারণ বাতাসে ভেসে থাকা বা বাতাসে উড়ে আসা রোগজীবাণুুর স্পোর কস বা আঠার মধ্যে আটকে গিয়ে দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে। এতে আমে পচন ধরতে পারে। এজন্য গাছ থেকে আম পাড়ার পর বাছাই করে আঘাতপ্রাপ্ত ফাটা আম বাদ দিয়ে বাকিগুলো পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিলে বা গরম পানিতে শোধন করে নিলে আমের পচন যেমন রোধ করা যায়, তেমনি কয়েকদিন বেশি সময় সংরক্ষণের সুবিধাও পাওয়া যায়। গাছ থেকে পাড়া পুষ্ট ও পরিপক্ব আম পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে ও বাতাসে শুকিয়ে নিয়ে এবং পলিব্যাগে ভরে ফ্রিজের সাধারণ তাপমাত্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে আম নির্বাচনে একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়, আমের বোঁটার কাছে যেন কিছুটা হালকা হলদে রঙের আভাস দেখা যায়। অর্থাৎ যে আমগুলো ৫-৭ দিনের মধ্যেই পাকতে পারে সে সব আমই রাখতে হয়। সম্পূর্ণ সবুজ আম রাখলে এবং পরে বের করলে ওইসব আম আর পাকে না। বাইরেটা যেমন সবুজ থাকে ভেতরটাও তেমনি সাদাটে থাকে। বিভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করেও আম সংরক্ষণ করা যায়। প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতিতে আমের আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ভৌত পদ্ধতিতে বা রাসায়নিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- কাটা আমের টুকরা চিনির সিরায় সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া, আমের আচার, চাটনি, জ্যাম, জেলি, জুস, স্কোয়াশ, মোরব্বা, আমসত্ত্ব, আমচুর ইত্যাদি আকষর্ণীয় স্বাদ, গন্ধযুক্ত খাদ্য তৈরি করা যায়। অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রা ও আদ্রর্তায় বিশেষায়িত হিমঘরে বা কোল্ড স্টোরে আম সংরক্ষণ করা যেতে পারে চার থেকে সাত সপ্তাহের জন্য। এ জন্য হিমঘরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আদ্রর্তা ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ রাখতে হয়। এ ছাড়া বিশেষ উপায়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে ও কাবর্ন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। ভাতে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৪২-৪৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ও ৮৫-৯০ % আপেক্ষিক আদ্রর্তায় পুষ্ট আম সাত সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে বিভিন্ন জাতের আমের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ তাপমাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। অনেক জাতেই কম তাপমাত্রায় ক্ষত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে পাতলা খোসার বা ছালের আমে। এভাবে আম রেখে বাজারজাত করে খুব বেশি লাভ করা যায় না বলে, এখনো আমের জন্য বিশেষায়িত হিমঘরের প্রচলন দেখা যায় না।

বিশাল জয়ে বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের শুরুর দিকে বারবার হোঁচট খেয়ে পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন মিউনিখ শেষটা করল দুর্দান্ত। শেষ দিনে গড়ানো শিরোপা লড়াইয়ে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে বুন্ডেসলিগার মুকুট ধরে রেখেছে প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ রাউন্ডে ৫-১ গোলে জিতেছে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে একবার করে বল জালে পাঠান কিংসলে কোমান, ডাভিদ আলাবা, রেনাতো সানচেস, ফ্রাঙ্ক রিবেরি ও আরিয়েন রবেন। একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে বরুসিয়া মনশেনগ¬াডবাখকে ২-০ গোলে হারানো বরুসিয়া ডর্টমুন্ড হয়েছে রানার্সআপ। ডিসেম্বরে ডর্টমুন্ড ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেলে অনেকে শিরোপা লড়াই একরকম শেষ বলেই ধরে নিয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষের পথ হারানোর সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগায় বায়ার্ন। আর এপ্রিলে বরুসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে শীর্ষে উঠে আসে নিকো কোভাচের দল। গত সপ্তাহে লাইপজিগের মাঠে জিতলেই শিরোপা ঘরে রাখা নিশ্চিত হয়ে যেত বায়ার্নের; কিন্তু গোলশূন্য ড্র করে বসে তারা। সেই সঙ্গে বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে প্রায় এক যুগ পর শেষ দিনে গড়ায় শিরোপা লড়াই। সেখানে জিতে রেকর্ড টানা সপ্তমবার চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। শিরোপার হাতছানিতে মাঠে নামা বায়ার্ন চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায়। টমাস মুলারের পাস ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি মিডফিল্ডার কোমান। পরের ১০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও সফল হননি সের্গে জিনাব্রি ও রবের্ত লেভানদফস্কি। দুবারই দারুন ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপ। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড সেবাস্তিয়াঁ আলেয়ার কাছ থেকে করা গোরে সমতায় ফেরে অতিথিরা। তাদের সে স্বস্তি অবশ্য স্থায়ী হয়নি। তিন মিনিট পরেই আলাবার গোলে আবারও এগিয়ে যায় বায়ার্ন। মুলারের জোরালো শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল ফাঁকায় পেয়ে জালে ঠেলে দেন অস্ট্রিয়ান মিডফিল্ডার আলাবা। আর ৫৮তম মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান বাড়ান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সানচেস। ৭২তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরির দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বায়ার্নের। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দুজনের মধ্যে দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে গিয়ে বল জালে পাঠান ১০ মিনিট আগে বদলি নামা ফরাসি এই উইঙ্গার। রিবেরির মতো মৌসুম শেষে বায়ার্ন ছাড়তে যাওয়া আরেক ফরোয়ার্ড রবেন ৭৮তম মিনিটে গোল উৎসবে যোগ দেন। আগুয়ান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আলাবার বাড়ানো বল ধরে ফাঁকা জালে জড়ান ডাচ ফুটবলার রবেন। জার্মানির শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে রেকর্ড ২৯টি শিরোপা জিতল বায়ার্ন। ৩৪ ম্যাচে ২৪ জয় ও ছয় ড্রয়ে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করল তারা। সামনে সুযোগ এবার ঘরোয়া ডাবল জয়ের। আগামী শনিবার জার্মান কাপে লাইপজিগের মুখোমুখি হবে এই প্রতিযোগিতারও রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। ২৩ জয় ও সাত ড্রয়ে রানার্সআপ হওয়া ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ৭৬। ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে লাইপজিগ তৃতীয় ও ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছে লেভারকুজেন। বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ষষ্ঠ ও ভলফসবুর্ক সপ্তম হয়ে ইউরোপা লিগের গ্র“প পর্বের টিকেট পেয়েছে।

 

ইউভেন্তুসের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ দেখছেন বিদায়ী আল্লেগ্রি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এরই মধ্যে মাস্সিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি ঘোষণা দিয়েছেন মৌসুম শেষে চুকিয়ে দেবেন ইউভেন্তুসের পাট। তবে নিজে বিদায় নিলেও তুরিনের দলটির ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ দেখছেন ৫১ বছর বয়সী এই কোচ। সেরি আর আরেক বড় দল এসি মিলান ছেড়ে ২০১৪ সালে ইউভেন্তুসের দায়িত্ব নেন আল্লেগ্রি। ইতালিয়ান এই কোচের হাত ধরে গত পাঁচ মৌসুমেই লিগ শিরোপা জিতে দলটি। সেরি আ ও কোপা ইতালিয়া মিলিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য করলেও ইউভেন্তুসকে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাফল্য এনে দিতে পারেননি আল্লেগ্রি। দুটি ফাইনালে হারে তার দল – ২০১৫ সালে বার্সেলোনার কাছে এবং ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। এমনকি সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যোগ দিলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভাগ্য বদলায়নি ইউভেন্তুসের। এবারের প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়তে হয় নেদারল্যান্ডসের দল আয়াক্সের কাছে হেরে। আল্লেগ্রির বিশ্বাস আগামীতে সাফল্য মিলবে ইউভেন্তুসের। “আমি একটা জয়ী দল রেখে যাচ্ছি, যে দলটার সম্ভাবনা আছে ইতালিতে সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরেকটি দারুণ অভিযান শুরু করার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার সময়ে আমরা পুরো পথটা যেতে পারিনি।” “ইউভেন্তুসের সবচেয়ে ভালো কি হবে এবং ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। নিজেদের ভাবনাগুলো প্রকাশ করেছি। এরপর ক্লাব বিষয়টি মূল্যায়ন করেছে এবং এটাই সেরা সিদ্ধান্ত ছিল যে, আগামী মৌসুমে আমি আর ইউভেন্তুসের কোচ থাকব না।” “দুর্দান্ত খেলোয়াড় নিয়ে গড়া জমাট একটা দল আমি রেখে যাচ্ছি। যারা কৌশলগতভাবে এবং মানুষ হিসেবেও ভালো। কেননা, জিততে হলে আপনার ভালো ফুটবলারের সঙ্গে ভালো মানুষও প্রয়োজন।” আল্লেগ্রির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো দলের দায়িত্ব নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি জানালেন তড়িৎ কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। “হয়তো আমারও একটু বিশ্রাম দরকার। সম্ভবত ১৫ জুলাইয়ের পর অবধারিতভাবে কাজে ফেরার তাগাদা অনুভব করব এবং যে প্রস্তাবগুলো পেয়েছি সেগুলো পর্যালোচনা করব।”