বিজেপিবিরোধী মহাজোট হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটাভুটি হয়েছে গতকাল। এটি সামনে রেখে দেশটিতে বিজেপিবিরোধী মহাজোট সরকার গঠনের উদ্যোগ জোরাল হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতীসহ বেশকিছু বিরোধীদলীয় নেতা ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিজেপিবিরোধী জোট গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। ঐক্য গঠনের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পদে ছাড় দিতেও রাজি থাকার কথা বলেছে কংগ্রেস। দলের সিনিয়র নেতারা বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রধানমন্ত্রী পদ দাবি করব। তবে ঐক্যের প্রয়োজনে এতে ছাড় দিতে কোনো আপত্তি নেই। ২৩ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার আগে বিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা জোরাল করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডু। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে  বৈঠক করেন তিনি। এদিকে এনডিটিভি জানায়, নাইডু গত ৮ মে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ২১ মে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় একমত পোষণ করেন। দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান নাইডু বলেন, গেরুয়া বিরোধী যেকোনো দলকেই বৃহত্তর জোটে স্বাগত জানানো হবে। গত শুক্রবার তিনি এমন ইঙ্গিতও দেন, প্রয়োজনে নিজেদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) সঙ্গেও জোট গঠন করবেন তিনি। নাইডু বলেন, সব দলকেই আমাদের বৃহত্তর জোটের অংশ হতে স্বাগত জানাব। তবে মহাজোট পরিকল্পনায় শরিক হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে টিআরএস। দলীয় প্রেসিডেন্ট চন্দ্রশেখর রাওয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আইনপ্রণেতা বিনোদ কুমার জানান, নির্বাচনের ফল পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী ২১ মে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য  বৈঠকের অংশ হবে না টিআরএস। বিনোদ কুমার বলেন, চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কোনো বৈঠকের অংশ হতে পারব না আমরা। এদিকে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে রাজনৈতিক বিশে¬ষক দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী কংগ্রেসকে বাদ রেখে শুধু আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষে  জোট বেঁধেও অন্তত ২৭২ আসন নিয়ে সরকার গঠন যেমন কঠিন, তেমনই কংগ্রেস এবং তার ইউপিএ শরিকরা মিলে ২৭২ আসন জিতে সরকার গড়তে পারবে, তেমনটাও এখনই জোর দিয়ে বলা যায় না। এর আগে মমতার ডাকে ব্রিগেডে ২৩টি বিরোধী দলের সভায় যোগ দিয়েছে কংগ্রেস। তবু বলতেই হবে, যে সব রাজ্যে বিজেপির মোকাবেলায় কংগ্রেস প্রধান শক্তি, সেখানে তাদের এগিয়ে দিয়ে অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রাধান্য দেয়ার তাত্ত্বিক ফর্মুলা সর্বত্র মসৃণভাবে কাজ করেনি। পশ্চিমবঙ্গে তো নয়ই, সবচেয়ে বেশি আসন যেখানে, সেই উত্তরপ্রদেশেও মায়াবতী-অখিলেশ জোটের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের লড়াই এড়ানো সম্ভব হয়নি।

কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবসায়ীর জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক চাউল ব্যবসায়ীর জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল রবিবার বিকেলে পচৗড়হাস ফয়সাল মার্কেটে এ অভিযান চালায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রিজু তামান্না। ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, “পণ্যের পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় আইন ভঙ্গ করার দায়ে ফয়সাল মার্কেটের ব্যবসায়ী আবুল খায়েরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট কর্মকর্তা সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি উপস্থিত সকলকে উক্ত আইনটি মেনে চলার জন্য আহবান জানান। সেই সাথে এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের বুকে ইরানের গুলি!

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক সংঘাতের প্রতি টানের কারণে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সহিংস সংঘাতে জড়াতে অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন জন বোল্টন। তার সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে একটি কলামও লিখেছিলেন তিনি। যুদ্ধের প্রতি জন বোল্টনের এমন আগ্রহের কারণে এবার তাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেয়ারধর্মী দৈনিক দ্য ওনিয়ন। পত্রিকাটিতে জন বোল্টনের রক্তাক্ত একটি ছবি ছাপানো হয়েছে, যাতে অনেকটা এই রকম প্রতীকী রূপ দেয়া হয়েছে যে, বোল্টন এক হাতে বুক চেপে ধরে কোনোরকমে কংগ্রেস ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস ভবনে গিয়ে বোল্টন দাবি করছেন, তার বুকে ইরান থেকে ছোড়া গুলি লেগেছে। রম্য ম্যাগাজিনটির ওই ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, ঘনিষ্ঠজনদের বোল্টন বলছেন, তিনি যখন নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন তখন ইরান থেকে ছোড়া একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশের মাধ্যমে মূলত একটি বার্তা দিতে চেয়েছে দ্য ওনিয়ন। ইরানের সঙ্গে এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি যে মার্কিন জনগণ পছন্দ করছে না, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে এ ব্যাঙ্গচিত্রের মাধ্যমে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ টেলিভিশনের উপস্থাপক টাকার কার্লসনও বোল্টনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বোল্টনের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে ক্রিসমাস, থ্যাংকস গিভিং কিংবা জন্মদিন পালনের উৎসবের মতো।

 

কুমারখালিতে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন ও বিড়ি ভোক্তা সমিতির মানববন্ধন স্মারকলিপি পেশ

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন ও বিড়ি ভোক্তা সমিতির যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিড়ি শিল্পকে কুঠির শিল্প ঘোষনা, বিড়ির ওপর অর্পিত সকল কর প্রত্যাহারসহ সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার বিকালে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের বাসভবনের সামনে শহরের শহীদ গোলাম কিবরিয়া সড়কে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের বৃহত্তর কুমারখালি-খোকসা আঞ্চলিক সভাপতি মোঃ কাঞ্চন মল্লিক, বিড়ি ভোক্তা সমিতির বৃহত্তর কুমারখালি-খোকসা আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা। শেষে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংসদ সদস্যের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহন করেন গোলাম কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য আবু সাঈদ জনি।

গাংনীতে ধান ক্রয়ের দাবীতে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন

গাংনী প্রতিনিধি  ॥ অবিলম্বে খোলা বাজারে কৃষকের ধান সরকারী নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়, সকল কৃষি ঋণ মওকুফ করে বিনা সুদে মৌসুমী ঋণ কৃষকদের প্রদানের দাবীতে মেহেরপুরের গাংনীতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে গাংনী উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টি। মানববন্ধনে নেতৃত্ব প্রদান করেন মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড মজনুল হক মজনু, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য কমরেড হাশেম আলীসহ পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।  মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানকালে মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ বলেন- এবারে রেকর্ড মাত্রায় বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। এই সময়ে ধান উৎপাদন করতে কৃষকের সর্বোচ্চ বিনিযোগ করতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে কৃষকেরা উদয় অস্ত পরিশ্রম করে আমাদের আহার জোগাচ্ছে অথচ তারা ধানের ন্যায্য মূল্যে থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অবিলম্বে এই মেহেরপুর জেলায় জরুরী ভিত্তিতে ইউনিয়নে-ইউনিয়নে ধান ক্রয় কেন্দ্র চালু করে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। ধানের বাজার থেকে মধ্যস্বত্বভোগীকে বিতাড়িত করে স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ এই অঞ্চলের চাষীদেরকে রক্ষা করবে।

কালুখালীতে দর্জি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সেলাই মেশিনসহ উপকরন বিতরণ

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে উপজেলার মৃগী ইউপির কলকলিয়া বড়ইচড়া পাবসস লিঃ এর উপকারভোগী মহিলা সদস্যদের মাঝে ২৫দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন, আয়রন, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায় জাইকা এর আয়োজনে ২৫দিন দর্জী বিষয়ক আয় বৃদ্ধিমূলক কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ বড় কলকলিয়া পাবসস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ১০টায় কলকলিয়া বড়ইচড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ সদর উদ্দিন সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল হক জোয়াদ্দার এসকল উপকরণ বিতরণ করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সোসিওলজিষ্ট (জাইকা) এলজিইডি রাজবাড়ী মোঃ জামাল উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী (জাইকা) এলজিইডি রাজবাড়ী এসএম শামিউল ইসলাম, সিও কালুখালী আব্দুল মোতালেব ও স্থানীয় সাজেদাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি নিয়ে ‘অপরাজনীতি’ চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা – ছাত্রলীগ সম্পাদক

ঢাকা  অফিস ॥ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ফেসবুকে কাদা ছোড়াছুড়ির প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেছেন, এই ‘অপরাজনীতি’ চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা। সম্মেলনের এক বছর পর গত সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়। বিবাহিত, চাকরিজীবী, মাদকাসক্ত ও মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগ থাকা অনেককে কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। পদপ্রাপ্ত অনেক নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে ফেসবুক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধদের দাবির মুখে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব কমিটিতে স্থান পাওয়া ১৭ জনকে ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরও ফেইসবুকে এই আলোচনা থামছে না। বিক্ষুব্ধরা কমিটিতে স্থান পাওয়া ৯৭ জনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। এরমধ্যে গত শনিবার বিক্ষুব্ধদের কর্মসূচিতে সামনের কাতারে থাকা নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ফেসবুকে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী বলেন, সবার কাছে একটা জিনিস স্পষ্ট বলছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে- এটা বলার ভাষা নেই, অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অপরাজনীতি বন্ধ হোক-এটা আমরা চাই। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, এরপর আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে মানহানির মামলা করেছে। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর কয়েকজনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার লিখিত দালিলিক প্রমাণ চান গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, যে প্রমাণ দেবে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। একজনও আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ দেয়নি। যে অভিযোগ করবে আমাদের সংগঠনের যে ফোরাম রয়েছে সেখানে প্রথমে কথা বলবে, এখানে যদি ন্যায়বিচার না পায় তাহলে তারা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলবে। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি, কিসের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব? দুটি বিষয় স্পষ্ট করছি, যদি আমাদের কাছে কোনো তথ্য-উপাত্তসহ কেউ লিখিত অভিযোগ করে আমরা তাদের দালিলিক প্রমাণ দেখে ক্রস চেক করে ওই শূন্যস্থান পূরণের জন্য তাদের এখানে যোগ্যতা অনুসারে অন্তর্ভুক্ত করব। ছাত্রলীগে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি চান না উল্লেখ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা একেবারে পরিবারের মতো থাকতে চাই। ভুল-ভ্রান্তির জায়গা ছিল, আমরা বসব কথা বলব আমরা সকল ভুল-ভ্রান্তির অবসান চাই। তিনি বলেন, “যদি কোনো যোগ্য কিন্তু পদবঞ্চিত থেকে থাকে তাহলে তাদের প্রদানের জন্য নেত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এজন্য যে অভিযোগ করবে তাকে অবশ্যই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত প্রমাণ দিতে হবে। এটাই নিয়ম। গত শনিবার গভীর রাতে টিএসসিতে বিক্ষুব্ধ নারী নেত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ নাকচ করেন গোলাম রাব্বানী। গতকাল (গত শনিবার) রাতে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি, যা হয়েছে সেটা ‘হট টক’, বলেন তিনি।

অশিক্ষা-কুশিক্ষা দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার জাতিকে ধ্বংস করছে – ড. মঈন

ঢাকা অফিস ॥ একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াই যথেষ্ট উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আজ যদি কেউ বলে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও নকল দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশে এ কাজটিই করছে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি? গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। মঈন খান বলেন, একটি পুরনো কথা আছে, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’। এ কথাটি আজও সত্য। বলা বাহুল্য, অনেকে মনে করেন, ইউরোপ-আমেরিকা-চীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হওয়ার পেছনে আছে তাদের সম্পদ ও সমরাস্ত্র। কথাটি সঠিক নয়। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনে। কাজেই একটি জাতির উন্নতির সোপান যে একমাত্র শিক্ষা, সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বলেন, সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন পরিচালিত র‌্যাংকিং ব্যবস্থায় এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারেনি। এ র‌্যাংকিংয়ের জরিপ করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি- এ চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে। দ্বিতীয়-তৃতীয় অবস্থানে আছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিংগাপুর ও হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম। সার্বিকভাবে চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি ও হংকংয়ের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে। এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে এ র‌্যাংকিংয়ের তালিকায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই সেখানে। মঈন খান বলেন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একসময় আমরা গর্ব করতাম, যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তার নাম এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেও নেই। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে হাজারের মধ্যেও কেন নেই- সেটা আজ জাতির কাছে বড় প্রশ্ন।

গাংনীতে দু’টি পৃথক ঘটনায় ২জনের মৃত্যু – ১জন আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পৃথক স্থানে এবং ভিন্ন ঘটনায় মহিলাসহ ২জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো একজন মহিলা। গতকাল রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের করমদী গ্রামে সাপের দংশনে মোফাজ্জেল হোসেন কালু (৪০) নামের এক কৃষক মারা গেছে। আহত হয়েছে মধ্য বয়সী প্রতিবেশী এক মহিলা। নিহত কৃষক মোফাজ্জেল হোসেন কালু করমদী গ্রামের মৃত আব্দুল গনি মালিথা ছেলে। আহত ওই মহিলা প্রতিবেশী কাবের আলীর স্ত্রী। রোববার দুপুরে মোফাজ্জেল হোসেন কালু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক (সদস্য) মেম্বার ফজলুল হক জানান, রবিবার ভোররাতে কালু ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। একটি বিষধর সাপ ঘুমন্ত কালুকে কামড় দেয়। এ সময় সে চিৎকার দিলে,প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বামন্দী শহরের একটি ক্লিনিকে নেয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়াও একই ভোরে প্রতিবেশী কাবের আলীর স্ত্রীকে সাপে কামড় দেয়। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেই সাথে দংশনকারী সাপটি আটকিয়ে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খাদিজা খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। সে গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ই¯্রাফিল হোসেনের স্ত্রী। রোববার সন্ধ্যায় স্বামীর ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খাদিজা আত্মহত্যা করে। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির কাজ-কর্ম নিয়ে খাদিজাকে তার শ্বাশুড়ি বকাবকি করেন। এনিয়ে শ্বাশুড়ির উপর অভিমানে খাদিজা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বল ইরানের কোর্টে, যুদ্ধ চায় না সৌদি আরব

ঢাকা অফিস ॥ বল এখন ইরানের কোর্টে। তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না সৌদি আরবও। তবে সৌদি তেল সম্পদের ওপর গত সপ্তাহের হামলার পর সব শক্তি দিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। রোববার সৌদি আরবের প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের। ইয়েমেনের হুতি গ্র“পের দাবি, মঙ্গলবার সৌদি আবরেব তেল পাম্প স্টেশনে ড্রোন হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে রিয়াদ। হামলাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমুদ্র উপকূলে সৌদি আরবের দুটি তেল ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চার দিন পর করা হয়। ইরান অবশ্য এ হামলার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বলেন, সৌদি আরব চায় না এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হোক। তিনি বলেন, এই যুদ্ধটি প্রতিরোধ করার জন্য যা করা প্রয়োজন তা আমরা করব এবং এটাও নিশ্চিত করতে চাই যে অন্য পক্ষও যাতে যুদ্ধটি থেকে বিরত থাকে। সৌদি এ বিষয়টি সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাড়া দেবে এবং পাশাপাশি এটি নিজের এবং অন্যদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, বলেন তিনি।

বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে – আমু

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শেখ হাসিনা তার আরামকে হারাম করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবকিছুই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গত রোববার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আমু। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। অর্থনৈতিক মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে যখন তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করছেন, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর এই দেশের ইতিহাসকে পেছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাংলাদেশকে একটি অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী বাংলাদেশ বানানো এবং নব্য পাকিস্তান সৃষ্টির পথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা হয়। আওয়ামী লীগের এ বর্ষীয়ান নেতা বলেন, শেখ হাসিনার অর্জন এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া। শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় রক্তপাত ছাড়া দেশকে সামরিক শাসনমুক্ত করেছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা জানি কোনো দেশে যদি সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে, সেই দেশে বিনা রক্তপাতে, বিনা যুদ্ধে ক্ষমতা নেওয়া যায় না। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই সামরিক জান্তা স্বৈরশাসকের হাত থেকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়েছে। আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন, দেশ দিয়েছেন। এই দেশের সীমানা সমস্যা সমাধানের আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এই দেশের স্থল সীমানা, জলের সীমানা ছিল না। সেই সীমানার সমস্যা সমাধান, সীমানা নির্ধারণ করলেন শেখ হাসিনা। তিনি ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়ন করলেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ৩৫ বছরের রণাঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করলেন। মাতৃভাষা বাংলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক হারুন হাবীব। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ, অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ।

দলকে গতিশীল করতে পৌর ও প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি শক্তিশালি করতে হবে

আলমডাঙ্গায় নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমপি  ছেলুন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময়কালে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন এমপি বলেন দলকে ঢেলে সাজাতে এবং গতিশীল করতে পৌর সভাসহ সকল ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে কাজ করতে হবে। এতে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়বে। তিনি ভারতে চিকিৎসা শেষে গতকাল আলমডাঙ্গায়  নেতাকর্মিদের সাথে আলাপকালে এই কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা  চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শাহ আলম, দেলোয়ার  হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান  জোয়ার্দার অনিক। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু, সহ-সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহিদুল হক মুহিত, উপ্র-প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা তুহিন, জেলা পরিষদ সদস্য আসাবুল হক ঠান্ডু, সমির কুমার দে, পৌর আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল হক তবা, জয়নাল আবেদীন, ইউপি  চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, জেলা যুবলীগের সদস্য কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক, সাইফুর রহমান পিন্টু, সাকিব, সৈকত, সাকিল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজান, অটল প্রমুখ।

“জ্ঞানতাপষ ড. মুহম্মদ শহীদুলহ গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড পেলেন ব্যারিস্টার গৌরব চাকী

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার গৌরব চাকী নিজ পেশার পাশাপাশি মানব সেবায় অবদান রাখার জন্য “জ্ঞানতাপষ ড. মুহম্মদ শহীদুল¬াহ গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড-২০১৯” অর্জন করেছেন। ১৮ই মে শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও গুড গভার্নন্যান্স এন্ড হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় মানব সেবায় অবদান রাখার জন্য ব্যারিস্টার গৌরব চাকীর হাতে গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন বিচারপতি মোঃ আব্দুস সালাম মামুন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদুল হারুন (অতিঃ সচিব-অর্থ মন্ত্রণালয়), লায়ন মোঃ গণি মিয়া (সভাপতি- বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ), মোঃ আতা উল¬াহ খান  (চেয়ারম্যান, বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন), শাহ আলম চুন্নু  (চেয়ারম্যান, গুড গভার্নন্যান্স এন্ড হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি), কবি নুরুল ইসলাম বিপিএম, (উপ-পুলিশ কমিশনার, আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা), মোঃ হুমায়ন কবির  (লেখক-প্রকাশক), এ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, (সাবেক যুগ্ম সম্পাদক-সুপ্রীম কোর্ট বার) প্রমূখ।

 

কুমারখালীতে সিলিং ফ্যানসহ শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ

কুমরখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এডিপি’র অর্থায়ণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সিলিং ফ্যানসহ শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো: আব্দুর রহিম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জালাল উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুর রশীদ, সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষার্থীদের হাতে ছাতা, স্কুলব্যাগ, টিফিনবক্স, সিলিং ফ্যান, ফুটবল, ভলিবল, জার্সি, ক্রিকেট ব্যাট, ক্রিকেট বল তুলে দেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে অতিথিরা বলেছেন, মেধা বিকাশের লক্ষ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এ জন্য শিক্ষকদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাবগুলো বন্ধ না থাকে। শিক্ষার্থীরা যেন এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করতে পারে সেই সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে।

ঝিনাইদহে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে অস্ত্র ও গুলিসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ী হবিবর রহমান (৪০) কে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোররাতে মহেশপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পূর্বপাড়ার মতিয়ার রহমানের ছেলে। গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার জানতে পারে মহেশপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রামে অস্ত্র কেনা বেচা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে ওসি সামছুজ্জোহা, এসআই আবুজার গিফারী, এএস আই আব্দুল হাকিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। এসময় হবিবর রহমানকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাসী করে একটি ওয়ান শুট্যার গান ও ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত হবিবর ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র এনে দেশে বিক্রি করছিল বলে  তিনি আরো জানান।

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে – ইনু

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে। প্রয়োজনে অর্ধেক দাম আগাম দিয়ে কৃষকের গোলায় ধান রাখা ও সরকারী গুদামে সরবরাহের পর বাকি অর্ধেক দাম পরিশোধ করার পদ্ধতি চালু করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সরকার নির্ধারিত ১০৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয়ের’ দাবিতে জাতীয় কৃষক জোট আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি একথা বলেন। জাতীয় কৃষক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক রতন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. হাবিবুর রহমান শওকত প্রমুখ। জাসদ সভাপতি বলেন,আপাতত চাল আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। দেশের চাহিদা অতিরিক্ত উৎপাদিত চাল রপ্তানির ব্যবস্থা করার কথা ভাবতে হবে। শিরীন আখতার এমপি ধানের মূল্য নিয়ে মধ্যস্বত্ত্বভোগী, দালাল, ফড়িয়া, চাতাল মালিক, চালকল মালিক, চাল আমদানীকারকসহ বড় বড় ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট যেন কোনো কারসাজী করতে না পারে সেজন্য সরকারকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

কৃষক বাঁচাতে চাল আমদানি বন্ধ করা হবে – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেশের কৃষকদের বাঁচাতে চাল আমদানি বন্ধ করা হবে এবং ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রফতানি করা হবে।’ গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল ইআরডি সম্মেলন কক্ষে আগামী ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে কৃষি ও এর উপখাতগুলোতে সরকারের বরাদ্দ ও বিশেষ গুরুত্ব প্রস্তাব বিষয়ে সুপারিশমালা প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রীকে কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এ সুপারিশমালা প্রদান করেন। সেখানে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এ বছর দেশে লক্ষণীয়ভাবে অনেক বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। বিষয়টি শুধু আমাদের বেলায়ই নয়, প্বার্শবর্তী দেশগুলোতেও খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে। সে কারণে দেশের বাইরে খাদ্যশস্যের চাহিদা কম। সেখানে ডিমান্ড থাকলে আমরা রফতানি করতাম।’ তবে এ বছর আমদানির চেয়ে চাল রফতানি করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। সবজির মতো চালও ভর্তুকি দিয়ে রফতানি করা হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চলতি বছর ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম। আমরা প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে চাল রফতানি করতে পারি এবং সেই উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করব।’ এ বিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। দেশে ধানের দাম কম পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ কৃষকের নিজের ক্ষেতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। দেশের কৃষকদের এ সমস্যা থেকে বাঁচাতে বাইরের দেশে থেকে চাল আমদানি বন্ধ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারিভাবেই চাল আমদানি বন্ধ করব। অবশ্যই রেস্ট্রিক্ট করব।’ অর্থমন্ত্রী যোগ করেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে যা যা করা দরকার তাই করব। সেগুলোর প্রতিফলন আপনারা দেখতে পাবেন। ’ ভর্তুকি দিয়ে সবজি রফতানি করায় সবজির উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সবজি নয়, যে বছর যে পণ্য বেশি উৎপাদন হবে, সেগুলো রফতানি করব আমরা। তাহলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ব্যবধান হবে না। কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদন করে যদি উৎপাদনের খরচই না পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকরা নিরুৎসাহিত হবেন। এ বিষয়টি সরকারকে দেখতে হবে। উৎপাদন দেখতে হবে, উৎপাদনের জন্য সহায়ক যা আছে, এগুলোরও সমাধান দিতে হবে। এটা সরকারের নেতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।

চলমান মামলা নিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা নেই – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চলমান মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট করতে বাধা নেই জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তবে মামলা হয়েছে কিন্তু কার্যক্রম চলছে না সেটা নিয়ে মতামত দেয়া যাবে না। গতকাল রোববার সচিবালয়ে সুইজারল্যান্ড ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ নয়- সুপ্রিম কোর্টের এমন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের একটি বিষয় পরিষ্কার বলতে চাই, সাব-জুডিস (বিচারাধীন মামলা) কথাটার একটা অর্থ আছে। সাব জুডিস বলতে আমি যেটা বুঝি সেটা আগে বলি, এরপর ওটা পরিষ্কার করি। সাব-জুডিস হচ্ছে- এমন মামলা, যেটা বিচারাধীন আছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না। মামলা যেটা বিচারাধীন আছে, কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না এমন মামলার ব্যাপারে মতামত দেয়ার বিষয়টিই বলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তারা বলেছেন- এই ব্যাপারে মতামত না দিতে।’ তিনি বলেন, ‘একটা মামলা চলছে, সেটার ব্যাপারে রিপোর্টিং বন্ধ করতে- আমরা মনে হয় না, সুপ্রিম কোর্ট এই কথা বলেছে। আপনারা মামলার রিপোর্টিং করতে পারেন, তবে যে মামলাটা বিচারধীন আছে সেই মামলাটা নিয়ে আপনারা মতামত দেন তাহলে যেটা হবে সেটা হচ্ছে- মিডিয়াতেই একটা ট্রায়াল হয়ে যাবে। বিজ্ঞ বিচারক বা বিচারপতির এই ব্যাপারে একটু চাপ সৃষ্টি হয় সেজন্য তারা এই কথাটা বলেছেন।’ আনিসুল হক বলেন ‘আমি যে বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার করে দিতে চাই। রিপোর্টিং আর মতামত আলাদা করতে হবে। আলাদাভাবে দেখতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘যে মামলা চলছে সেই মামলার রিপোর্টিং করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু যে মামলা কার্যক্রম চলছে না কিন্তু একটা মামলা আছে, এই মামলার বিষয়ে কোনো মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘ওনারা (বিচারপতি) আমাদের ডিরেক্টলি বলেননি। আমি ওনাদের কথা থেকে এটা বুঝেছি।’ সুপ্রিম কের্টের বিজ্ঞপ্তিতে কিন্তু এভাবে বলা নেই- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওনাদের ওখানে তো আনিসুল হক নামে কোন ল’ইয়ার ছিল না’ – বলেই হেসে ফেলেন মন্ত্রী। এরপর তিনি বলেন, ‘কিন্তু মর্মার্থ হলো এটাই। আমি যা বললাম। আপনারা যদি মনে করেন এটার ব্যাপারে আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত চান, আপিল বিভাগকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার মনে হয়, আমি যা বললাম ওনারা তাই বলবেন। কারণ ওনারা কোর্টে যে কথা বলেছেন, সেই কথা যেটা আমার কানে এসেছে সেই কথায় আমি এইটুকুই বুঝেছি।’

ফের ‘মারধর’, রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে হামলা ও মারধরের অভিযোগে গভীর রাতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর উপস্থিতিতেই তাদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। গত ১৩ মে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার দিন থেকেই পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশের নেতারা নানাভাবে অসন্তোষ ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ছাত্রলীগের এই অংশের একাধিক নেতা বলেছেন, কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে এবং মধুর ক্যান্টিনে কমিটি ঘোষণার রাতে মারামারির সুরাহা করতে বিক্ষুব্ধ অংশের ১০-১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার রাত ২টার দিকে টিএসসির ভেতরে যান। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের অনুসারীরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম লিপি আক্তারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর তর্ক শুরু হয়। রাব্বানীর অনুসারীরা তখন লিপিসহ তার সঙ্গী নেতাদের ওপর হামলে পরে এবং মারধর করে বলে এই অংশের নেতাদের অভিযোগ।  তারা বলছেন, বিএম লিপি আক্তারের পাশাপাশি শামসুননাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নতুন কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিপু ইসলাম তন্বী, ছাত্রলীগের বিগত কমিটির উপ অর্থ সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও নতুন কমিটি উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফরিদা পারভীন, একই হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নতুন কমিটির উপ ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের নতুন কমিটির উপ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা, ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত জেরিন দিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপসম্পাদক এমদাদ হোসেন সোহাগ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক আজমীর শেখ রাতের ওই ঘটনায় লাঞ্ছিত হয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধরা। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই সেখানে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। রাব্বানী ‘স্যরি’ বলে ‘ভুল স্বীকার’ করলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধরা তাদের অবস্থান চালিয়ে যান সারা রাত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ ও অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ভোর ৫টার দিকে বিএম লিপি সাংবাদিকদের বলেন, “যেটা হয়েছে মধ্যরাতে আমাদের সাথে আমি আসলে এটা বলতে পারব না। মেয়ে হিসেবে আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা, তিনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক, আমি তার কাছেই সব বলব। আমরা যারা এখানে আছি, আমরা সবাই লাঞ্ছিত হয়েছি। আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে।” ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও ওই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন লিপি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, “পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের মধ্যে ঝামেলা লেগেছিল। আমি নিবৃত্ত করতে গিয়েছিলাম। হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পদবঞ্চিতরা এটাকে এখন একটি ইস্যু করতে চাচ্ছে।” ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভোর ৫টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।

৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বন্টন

ঢাকা অফিস ॥ সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর মন্ত্রিসভায় প্রথম পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই পরিবর্তনে নতুন কেউ মন্ত্রিসভায় যোগও হননি; কেউ বাদও পড়েননি। শুধু দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগাভাগি হয়েছে। আর প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান হয়েছেন বদলি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এখন শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক এই মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ইসলামকে স্থানীয় সরকার বিভাগে রেখে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টচার্য্যকে শুধু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এই দুটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন হাছান মাহমুদ। তার সহকারী হিসেবে এখন যোগ দিচ্ছেন পেশায় চিকিৎসক মুরাদ হাসান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা সাজান তিনি।

কুষ্টিয়ায় নদ-নদী,খালে তিন হাজার দখলদার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার নদ-নদী ও খালের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত তিন হাজার দখলদার রয়েছে। ফলে নদ-নদী ও খালের প্রবাহ স্বাভাবিক নেই। পানি উন্নয়নবোর্ড ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এসব দখলদারদের চিহিৃত করেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জেলার ছয়টি উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া কার্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করে এতালিকা তৈরি করেছে।

ভূমি কার্যালয় ও পাউবোর করা দখলদারদের তালিকাগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার কুষ্টিয়া শহরের জিকে ঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ধারে দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হয়েছে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন,‘নদ-নদী ও খাল বেদখল রয়েছে। তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে যৌথ বৈঠক করে অভিযানে নামা হয়েছে। যেকোন উপায়ে নদ-নদী ও খালের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কার্যালয় সূত্র জানায়, মার্চ মাসে প্রত্যেক উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি) কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে দখলদারদের তালিকা চাওয়া হয়। তবে কেউই তেমন সাড়া দেয় না। পরে কঠোর ভাষায় চিঠি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, তালিকা না পাঠালে পরবর্তিতে যদি দখলদার পাওয়া যায় তবে তার দায় তাকেই (কমিশনার) নিতে হবে। এরপর ছয়টি উপজেলা থেকে দখলদার তালিকা আসতে থাকে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুল হক বলেন, ছয়টি উপজেলা থেকে প্রথমে দুটি উপজেলার তালিকা পাওয়া যায়। সেটা খুবই সামান্য। সন্তুষ্ট না হয়ে আবার তাগিদ দেওয়া হয়। তালিকার বাইরে আরও অনেক দখলদার রয়েছে। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ছয়টি উপজেলা ও পাউবোর পূর্নাঙ্গ তালিকা হাতে পান।

জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয় থেকে পাওয়া দখলদারদের তালিকায় রয়েছে পদ্ম নদী, গড়াই নদী ও কয়েকটি বিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় এসব নদ-নদীর বাইরেও বেশি দখল করে আছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ছোট বড় খালগুলো। জেলার ছয় উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাদের পাঠানো তালিকায় প্রায় ৪০০ জন দখলদারের নাম উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দখল রয়েছে ভেড়ামারায় অন্তত ২০০জন। সেখানে হিসনা নদী দখল করে পাকা দালানও করা হয়েছে। বাকি দুই’শ জন পাঁচ উপজেলার দখলদার।

সরেজমিন হিসনা নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর উভয় পাড়ে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর বুকে পানি না থাকায় কোন কোন জায়গায় ধান চাষ করা হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা একটা নদী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় হিসনা নদীতে বড় বড় ট্রলার চলেছে।  নদীর বর্তমান অবস্থা দেখে সেই কথা কেউ বিশ^াস করবে না। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ বলেন, ভেড়ামারাতে হিসনা নদীতে অন্তত ২ শতাধিক দখলদারের নামের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর সংখ্যা আরও হবে। বিভিন্ন সময়ে দখল হয়ে গেছে নদীটি। নদীতে পানি প্রবাহ কম। কোন কোন জায়গায় বাধও দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকায় পদ্মা নদী, গড়াই নদী ও সেচ প্রকল্পের ছোট বড় খাল দখল করে আছে অন্তত ২ হাজার ৯২১ জন দখলদার। বেশির ভাগই পাকা ও আধাপাকা টিনের বসত ঘর। কোন কোন জায়গায় টিনের দোকান রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে বাস ও ব্যবসা করে আসছে তাঁরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি খাল সংকুচিত হয়ে গেছে। সেগুলো খনন কাজ শুরু হয়েছে। খালের জায়গা যারা দখল করে আছে তাদের নোটিশ করা হয়েছে। খাল খননের সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক কমিটি কুষ্টিয়া শাখার সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান মজু বলেন, ‘আমি প্রায়ই সকালে গড়াই ও পদ্মা নদীর পাড় দিয়ে হাটতে বের হয়। কিন্তু নদীর দিকে তাকালে দখল ও দুষণ দেখে কষ্ট লাগে। দখলদারদের তালিকা যখন করা হয়েছে, তাহলে তাদের চিহিৃত করা গেছে। এখন তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কুষ্টিয়ায় দখল ও দুষনের মাত্রা খুবই ভয়াবহ। আমি নিজে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। তিনিও কুষ্টিয়ার ব্যাপারে অবগত আছেন।’

উচ্ছেদ শুরু ঃ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া গড়াই নদের তীরে জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অন্তত ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী।

গত শনিবার সকাল আটটা থেকে বেলা এগারটা পর্যন্ত শহরের থানাপাড়া জিকে ঘাট এলাকায় কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর নিচে পশ্চিমপাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানকালে ৩০টি ছোট বড় টিনশেডের আধাপাকা ঘর উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে কুষ্টিয়া সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ অংশ নেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, দশ দিন আগে প্রত্যেক অবৈধ বাসিন্দাকে নোটিশ করা হয়েছিল। এরমধ্যে কেউ ই জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র  দেখাতে আসেনি। বরং বাসিন্দারা নিজ দায়িত্বে তাদের মালামাল দুই এক দিন আগে সরিয়ে অন্যত্র চলে যায়। আইন মোতাবেক অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। শুধু উচ্ছেদ করেই শেষ নয়, এখানে যাতে পুনরায় দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্তক নজর থাকবে। সদর উপজেলার আরও অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। বেলা সাড়ে দশটায় সেখানে পরিদর্শনে যান কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। তিনি জানান, নদ-নদী,খাল ও বিল যারা অবৈধভাবে দখল করে আছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা জুড়ে অভিযান চালানো হবে। নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে যা যা করার তার সবই করা হবে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনার কয়েকটির মধ্যে রাতের বেলায় মাদক সেবন হতো। স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেওয়ায় মাদকের আড্ডাও গুড়িয়ে গেল।