আইএসের দৃষ্টি এবার আফ্রিকার দিকে

ঢাকা অফিস ॥ একের পর এক খেলাফত হারিয়ে মধ্যপ্রচ্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীর অভিযানে গত মার্চে ইরাক-সিরিয়ায় নিজেদের শেষ ঘাঁটিও হারিয়েছে আইএস। পাঁচ বছরের মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন আইএসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি। এতে তিনি নিজের অনুসারীদের নতুন বার্তা দিয়েছেন। খবর দ্য ইকোনমিস্টের। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ হারালেও কার্যক্রম স্থগিত করছে না আইএস। বরং মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে তারা এখন ঝুঁকছে আফ্রিকার দিকে। মালি ও বুরকিনা ফাসোর বিদ্রোহী দলগুলো আইএসের সঙ্গে জোট বাঁধছে। ভিডিও বার্তায় এমন খবর জানিয়েছেন বাগদাদি নিজেই। নতুন এই জোটকে স্বাগতও জানিয়েছেন তিনি। বৃহত্তর সাহারা অঞ্চলে আইএসের নেতা আবু ওয়ালিদ আল-সাহরাওয়ির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাগদাদি। এমন অবস্থায় তাই প্রশ্ন উঠছেই, তবে কি মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে আইএস? গত বছর আফ্রিকায় জঙ্গি হামলায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের হামলায় যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আফ্রিকায় জঙ্গি হামলায় কেবল এক বছরেই তার কাছাকাছি সংখ্যক মানুষের প্রাণ গেছে। আফ্রিকায় জঙ্গি মোকাবিলায় নিয়োজিত পশ্চিমা সেনার সংখ্যা খুব দ্রুতই অন্য যেকোনো অঞ্চলে নিয়োজিত সেনা সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে প্রায় সাত হাজার সেনা নিয়োজিত করেছে। ফ্রান্স প্রায় সাড়ে চার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। জার্মানি ও ইতালি উভয়েই এক হাজার করে সেনা মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া কানাডা, স্পেন, এস্তোনিয়া ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোও আফ্রিকায় জঙ্গি মোকাবিলায় সেনা পাঠাচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়, বরং আফ্রিকার বেশ অনেকটা অংশজুড়েই আইএস ও তাদের জঙ্গি কার্যক্রম বিস্তৃত হয়ে পড়ছে। পূর্বে সোমালিয়া থেকে শুরু করে পশ্চিমে আটলান্টিক পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে আইএসের কার্যক্রম।

 

হাসপাতালে খালেদা জিয়া পায়েশ নয়, জাউ খাচ্ছেন ঃ জমির উদ্দিন

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে পায়েশ নয় জাউ খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন।’ দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করেছেন তা নজিরবিহীন। এধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল। বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে; যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনো রকম জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। ‘অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।’ জমির উদ্দিন সরকার আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শুন্যতা দেখা দিয়েছে; যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি (খালেদা জিয়া) বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। ‘সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে তার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেগম জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য একজন বন্দির মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এ বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রূপটিই ফুটে ওঠে বলে মন্তব্য করেন জমির উদ্দিন সরকার।

কাজলা পাড়ে বেড়ে উঠা শিশু আব্দুল হামিদের গল্প

গাংনী প্রতিনিধি ॥ নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের ছোট একটি জেলা মেহেরপুর। জেলাটি আকারে ছোট হলেও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক  থেকে এ জেলা বেশ গৌরবের। ঐতিহ্যবাহী এ জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে  চলেছে কাজলা নদী। কাজলা পাড়ে বেড়ে উঠা শিশুটি এখন গীতিকার আব্দুল হামিদ। গীতিকার আব্দুল হামিদ ১৯৫২ ইং ১০ মে শালিকা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম সবদেল হোসেন। মাতার নাম সুফিয়া খাতুন। গীতিকার আব্দুল হামিদ নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবার বাড়ি সাহারবাটী গ্রামে। আব্দুল হামিদ ছোট বেলা থেকে গান লেখার প্রতি ছিল ঝোক। সে এক সময় লেখা-পড়ার জন্য খাতার কিনলেও। ওই খাতায় সবার অজান্ডে গান লিখতেন। পরে তার বন্ধুরা গান লেখার বিষয় আঁচ করতে পেরে অনুপ্রেরণা যোগায়। আব্দুল হামিদ বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারের একজন নিয়মিত গীতিকার হিসাবে কাজ করছেন। বর্তমান তিনি বয়সে বৃদ্ধ হলেও লেখা-লেখি তার থামেনি। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা কাজলা নদীর পাড়ে বসেই তিনি অধিকাংশ গান লিখেছেন। এ প্রসঙ্গে গীতিকার আব্দুল হামিদ জানান, গান লিখতে-লিখতেই আমার বেঁড়ে উঠা। তাই জীবনের শেষ সময়টুকু গানই যেনো লিখে যেতে পারি।

 

গাংনীতে ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যদের সভা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের গ্রামভিত্তিক দু’টি ইয়ূথ ইউনিট সদস্যদের (ফলোআপ)  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাইপুর ইউনিয়নের শালদহ ও আনন্দবাস গ্রাম ইউনিটির সদস্যদের ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে আনন্দবাস ইউনিটের সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে বিকেল ৪টার সময় শালদহ ইউনিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভা পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী জিএস সাজু। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউনিটির সদস্যবৃন্দ।

 

খালেদা জিয়ার কারাগার বদল সরকারের ষড়যন্ত্র – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার উদ্যোগ সরকারের একটি অংশের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মেনে নেয়া হবে। এটি মানবতাবিরোধী কাজ। ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’, বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ড হয়ে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস- চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আ’লীগকে কথা শোনানোর ব্যবস্থা করব – মির্জা আব্বাস

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আন্দোলন না করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কিনা সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই।’ খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার। এজন্য তার মুক্তি দাবি করছিল। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান স্পিকারের

ঢাকা অফিস ॥ তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে ভবিষ্যৎ বিশ্বে টিকে থাকা অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’ গতকাল শনিবার পীরগঞ্জে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ‘তথ্য প্রযুক্তি ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, কারিগরি বা কর্মমুখী শিক্ষা হচ্ছে এমন এক ধরনের শিক্ষা, যা শিক্ষার্থী তার জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে কোনও একটি পেশা সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারে। এ শিক্ষাগ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে আর চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সে নিজেই স্বাধীনভাবে কারিগরি বা কর্মমুখী পেশার মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেকার যুবকদের তথ্য-প্রযুক্তি ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ লাভের মাধ্যমে বেকারত্ব থেকে মুক্তির পথ দেখাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিএমএ মমিনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মন্ডল, পৌর মেয়র আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিউর রহমান মিলন মন্ডল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা আলম রিনা প্রমুখ। এরআগে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী, প্রধানমন্ত্রীর স্বামী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার ১০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পীরগঞ্জে তার কবর জিয়ারত করেন স্পিকার।

ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মানবতার একমাত্র ধর্ম শান্তি এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মন্ত্রী গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেটে বুদ্ধ পূর্ণিমা-২০১৯ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সিলেট নগরীর আখালিয়ার নয়াবাজারে অবস্থিত ব্রাহ্মশাসন বৌদ্ধ বিহারে বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, ভিক্ষু পিন্ডদান, মধ্যাহ্ন ভোজ, আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্জলনের আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বলেন, মায়ানমারে মুসলমানদের ওপর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের নির্যাতন খুবই বেদনাদায়ক। এটা প্রমাণ করে, মানুষ ধর্মের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধ মানব জাতির অহংকার। তিনি সারাজীবন মানব জাতির কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি অহিংস ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তার এই নীতি আমাদের মধ্যে জাগ্রত করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, মানুষে মানুষে হিংস্বা, বিদ্বেষ, সংঘাত পরিহার করতে হবে। সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই- সেই মানবতার জয়গান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে মানবতার জয়গান গাইতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য ভাষা বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. জ্ঞানরতœ মহাথেরোর সভাপতিত্ব সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি অরুন বিকাশ চাকমা। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া। সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক উৎফল বড়ুয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাধন কুমার চাকম, চট্টগ্রাম বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের লোকপ্রিয় মহাথের, সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ সংঘানন্দ থের, চট্টগ্রাম বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ বোধিরতœ ভিক্ষু, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমার ইলিয়াছ, ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ড মহিলা কাউন্সিলর রেবেকা বেগম রেনু প্রমুখ। এর আগে মন্ত্রী সিলেটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভায় যোগ দেন। গতকাল শনিবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের নতুন এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন উদ্বোধন করেন। এ সময় হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। ওসমানী হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে রোগ নির্ণয়ের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইমেজিং) ও সিটিস্ক্যান মেশিন প্রায় তিন বছর ধরে বিকল অবস্থায় ছিলো। ২০১৬ সালের জুনের দিকে নষ্ট হয়ে পড়ে মেশিন দু’টি। নতুন এমআরআই ও সিটিস্ট্যান মেশিন চালু করার রোগীদের এই দুর্ভোগ দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা। গতকাল শনিবার মেশিন দুটির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চাপ কমাতে সিলেটে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আরো একটি হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে মানসম্পন্ন ডাক্তার ও নার্সের অভাব রয়েছে এ মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন বলেন, দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টেরও অভাব রয়েছে। এদেশে টেকনিক্যাল কাজের জন্য লোক পাওয়া যায় না। তাই সরকার কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। মোমেন বলেন, ওসমানী হাসপাতাল ৯০০ শয্যার, কিন্তু এ হাসপাতালে সবসময় রোগী ভর্তি থাকেন ২ হাজার ৪০০ জন। এ ছাড়া রয়েছে ডাক্তার ও নার্স সংকট। ফলে অনেকসময় কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় প্রাচীন ভবন আবু সিনা ছাত্রাবাসের জায়গায় নির্মানাধীন সিলেট জেলা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষে হলে ওসমানীতে রোগীর চাপ কিছুটা কমবে। একটি মহল এ হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এসময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমানসহ প্রশাসন ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ৫ম সভায় যোগ দেন। দুপুরে তিনি নগরীর রায়নগরস্থ সরকারি শিশু নিবাসে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেন।

কুষ্টিয়া স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ  

আর্থিক সন্তুুষ্ট না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতির ’ অন্ধকুপহত্যা’ কল্পকাহিনী রচিত

নিজ সংবাদ ॥ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে আর্থিকভাবে সন্তুুষ্ট না হওয়া বা নিজের মনোপুত ব্যক্তি উক্ত পদে নিয়োগ না পাওয়ায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে কল্পকাহিনী রচনা করে সর্বত্র ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদ্যালয়ের অর্থ তসরুপ, জনসম্মুখে একজন শিক্ষককে অপদস্ত করা, হাত থেকে বিদ্যালয়ের চাবি ছিনিয়ে নেয়া, সাধারণ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অহেতুক নির্যাতনের ফিরিস্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিস্ট দপ্তর সুমহে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে। জানা যায়, গত ১৩ মে বিদ্যালয়ে শুন্যপদে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে একটি বিধি মোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সর্বচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ও প্রথম হওয়া ব্যক্তি আলমগীর হোসেনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষককে ক্ষমতা অর্পণ পুর্বক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতিতে একটি রেজুলেশন প্রস্তুত পুর্বক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুত্রটি জানায়, বর্তমানে সভাপতি খোরশেদ আলম উক্ত রেজুলেশনে তার স্বাক্ষরটি জাল-জালিয়াতি বলছে এবং প্রধান শিক্ষক উৎকোচের বিনিময়ে উক্ত আলমগীর হোসেনকে উক্ত পদে নিয়োগ দিতে প্রথম করিয়ে দিয়েছেন। অথচ ৫-১২-২০১৭ তারিখে এবং ৩০-৮ খ্রীঃ তারিখের সভাপতি খোরশেদ আলমের স্বাক্ষরের সাথে ১৩ মে ২০১৯ খ্রীঃ তারিখের তেমন কোন পার্থক্য নেই। সুত্রটি বলছে, লিখিত পরীক্ষা চলাকালীন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। তা হলে তার স্বাক্ষরটি কিভাবে জাল হলো। এ ছাড়া গত ২৭ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটির সভা ব্যতিরেকে সালিশ মধ্যস্বস্তার নামে এক পাক্ষিক গণ জমায়েতের মধ্যদিয়ে প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনকে নিদারুন অপদস্থ করা হয়। চলতি বছর প্রধান শিক্ষক হটাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সভাপতির বরাবর ছুটির জন্য গত ২৯ এপ্রিল আবেদন দুর্নীতিবাজ সভাপতি খোরশেদ আলম প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনের নিকট চাঁদা দাবী করে। উপায়ন্ত না দেখে প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত হিসাব রূপালী ব্যাংক স্বস্তিপুর শাখা হিসাব নং- ৯৩৪৬ অফিস সহায়ক আতিয়ার রহমানকে দিয়ে উক্ত টাকা উত্তোলন করিয়ে সভাপতিকে প্রদান করেন। এ ছাড়াও সভাপতি তথা কথিত তদন্তের নামে গত ১৫ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের উপর নির্যাতন চালানোসহ তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা তসরূপ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অথচ তিনি প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনের বিরুদ্ধে সেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ডাঃ হলওয়লের রচিত ‘ অন্ধকুপ হত্যা’র মত একটি কাল্পনিক রচনা করে চলেছেন। সত্য না হয়েও ডাঃ হলওয়েল যেমন রচনা করেছিলেন, ১২ বাই ৮ ফিট একটি কক্ষের মধ্যে নবাব ১২৫ জন ইংরেজ সেনাকে আটকে রেখে নির্মমভাবে হত্যা করে। অথচ নবাবের মৃত্ব্যর পর ওই মাপের ঘরে ১২৫ জনতো দুরে থাক ৩০ জন লোকও আটে না। আসলে নবাবকে অভিযুক্ত করার জন্য ডাঃ হলওয়েল এরুপ কল্পকাহিনী রচনা করেছিলেন তার জীবনীতে তিনি উল্লেখ্য করেছিলেন। একই ভাবে সভাপতি খোরশেদ আলম স্বাক্ষর করেও বিদ্যালয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন যার সাথে বাস্তবাতার কোন মিল নেই। এ ব্যপারে মুঠোফোনে সভাপতি খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ সবই মিথ্যা। ১৩ তারিখের রেজুলেশনে তিনি ব্ল্যাঙ্ক স্বাক্ষর করেছিলেন। আর চাদাবাজী ও শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনাটি সঠিক নহে বলে জানান।

প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ‘নিরুত্তর’ মোদী

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার শাসনামলের ৫ বছর মেয়াদে প্রথমবারের মত একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। কিন্তু সেখানে তিনি একটি প্রশ্নও গ্রহণ না করে নিরুত্তর থেকেছেন। সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ। ২০১৪ সালে মোদী প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর এখন আরেকটি লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার মুখে। এ সময়ে এসে প্রথমবারের মতো সাংবাদিক বৈঠক করেও তাই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেলেন তিনি । সাংবাদিক বৈঠকের নিয়ম মেনে মোদী প্রশ্নের জবাব দেবেন বলে মনে করা হলেও তা গুড়ে বালি হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন আসতেই হাত দিয়ে অমিতের দিকে ইশারা করতেও দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীকে। লোকসভার সপ্তম তথা শেষ দফার ভোটের আগে শুক্রবার অমিত শাহকে নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে হাজির হন নরেন্দ্র মোদী। চলতি ভোটপ্রক্রিয়ার মাঝে চ্যানেলে চ্যানেলে সাক্ষাত্কার দিলেও সাংবাদিক বৈঠক এর আগে করেননি তিনি। এনিয়ে মোদীকে প্রশ্নও করেছিলেন বিরোধীরা। কেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে ভয় পান মোদী? উঠেছিল এমন প্রশ্ন। এরপরই সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেল মোদীকে। কিন্তু সম্মেলনে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে মোদী কেবল নিজের সরকারের অর্জনগুলোই বলে গেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তিনি বলেন, “আমাকে আশীর্বাদ করার জন্য দেশকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি। আমি অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। কিন্তু দেশ আমার পাশে থেকেছে।” ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের গর্বের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ব্যাপ্তিটাও বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে কথা শুরু করেন। মোদী সরকারের ১৩৩টি প্রকল্পে কীভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হয়েছে, শক্তিশালী সরকার থেকে বিজেপির প্রচারের জৌলুস তুলে ধরেন তিনি। দীপ্ত কণ্ঠে  ঘোষণা করেন, তিনশ’র বেশি আসন নিয়ে ফিরছে মোদী সরকার। অমিতের পরই কথা বলতে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনিও দাবি করেন, লোকসভা ভোটে এবার ৩০০-র বেশি আসন পাচ্ছে বিজেপি। ফের সরকার গড়বে এনডিএ।  কিছুক্ষণ সরকার নিয়ে কথা বলেই থেমে যান মোদী। সম্মেলনে দর্শক হয়ে থেকে সাংবাদিকদের হতাশ করেছেন তিনি। ঘণ্টাখানেকের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন মাত্র মিনিট দশেক। বাকি সময়ে তিনি ছিলেন শ্রোতার ভূমিকায়। কোনও প্রশ্নেই মুখ খোলেননি তিনি। এর ব্যাখ্যায় মোদী বলেছেন, দলের দায়বদ্ধ কর্মী তিনি। সভাপতি অমিতের ডাকা বৈঠকে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেবেন না। প্রশ্ন করে মোদী বলেন, পার্টির সভাপতি উপস্থিত থাকতে আমি কেন? মোদীর এ প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “সব প্রশ্নের উত্তরই মোদীজিকে দিতে হবে তার মানে নেই। আর প্রশ্নগুলোও সব বোগাস।”

দৌলতপুরে এক মাসেও সন্ধান পাওয়া যায়নি হ্যাবলের

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললো তারপরও সন্ধান পাওয়া যায়নি হ্যাবলের। গত ২১ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া হাইস্কুল মাঠ থেকে সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে হ্যাবল মালিথা (৪৮) কে আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় হ্যাবল মালিথার মেয়ে মেরিনা আক্তার হাসি দৌলতপুর থানায় একটি জিডি করেছেন এবং তার ছেলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছেন। জিডি ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত সিরাজ মালিথার ছেলে হ্যাবল মালিথাকে গত ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাদা পোশাকধারী কতিপয় ব্যক্তি প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে হ্যাবলকে অস্ত্রের মুখে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরসহ সম্ভাব্য সব স্থানে সন্ধান চালিয়ে তার খোঁজ মিলেনি। এঘটনার ৩দিন পর ২৪ এপ্রিল দৌলতপুর থানায় একটি জিডি করা হয় যার নং ১০৫৯। হ্যাবল মালিথা নিখোঁজের ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে তার ছেলে আকাশ আহমেদ অভিযোগ করেন, সীমান্তবাসী হওয়ায় বিনা কারনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময় হ্যাবল মালিথাকে হয়রানি করে থাকে। যার কারনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করার সিদ্ধান্ত নেয় হ্যাবল মালিথা। এর আগেই তাকে সাদা পোশাকধারীরা আটক করে নিয়ে যায়। সন্ধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে নিখোঁজ হ্যাবল মালিথার পরিবার।

গুরুকুল’র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইফতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গুরুকুল’র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইফতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের আলো কমিউনিটি সেন্টারে এই ইফতার ও দোয়া সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গুরুকুল’র পরিচালক তথ্যপ্রযুক্তিবীদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর এর সভাপতিত্বে  ইফতার সমাবেশে মোট ৮০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমিনুল হক রতন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ড. আমানুর আমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহীন সরকার, কুষ্টিয়া যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদসহ কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গুরুকুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে ইফতারির খিচুড়ি খেয়ে মহিলাসহ ১৫জন অসুস্থ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ইফতারির বাশি খিচুড়ী খেয়ে ১৫ অসুস্থ হয়েছে। অসুস্থ্যরা হলেন, গাংনী উপজেলার বামন্দী শহরের বাসিন্দা শাহাজাহান আলীসহ তার পরিবারের ১৫জন। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বামন্দী শহরে  এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বামন্দী শহরের শাজাহান আলী তার বাড়িতে ৬শ মানুষের জন্য ইফতারি করানোর জন্য খিচুড়ির আয়োজন করেছিলেন। ওই খিচুড়ি কিছু বাড়তি ছিল। শাজাহানের পরিবার গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে বাশি খিচুড়ি খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বামন্দী শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে। শাজাহান আলীর মেয়ে তাসলিমা খাতুন   জানান,বর্তমান সবাই সুস্থ রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় নবনাট্য সংঘের আয়োজনে সাংগঠনিক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥  নবনাট্য সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের ফুডজোন পার্টি সেন্টারে নবনাট্য সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক হাসিবুর রহমান রিজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবনাট্য সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন বিশাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মুরাদ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া কোর্টের জিপি অ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাজী তরিকুল ইসলাম মানিক,  জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেব-উন-নেসা সবুজ, কুষ্টিয়া  প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সাগর, সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, যুগ্ম সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু, দপ্তর সম্পাদক লিটনউজ্জামান লিটন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তৌহিদী হাসান শিপলু, নির্বাহী সদস্য ডাঃ মোকাদ্দেস হোসেন সলিম, কুষ্টিয়ায় কাগজ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক নূর আলম দুলাল প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নবনাট্য সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এম  সোহাগ হাসান। আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে ইফতার করা হয়।

কুষ্টিয়ায় স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার কুষ্টিয়া শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ এরিয়া কমিটির সভাপতি সাজ্জাউল করিমের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জনতা ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়া এরিয়া অফিসের এজিএম মোঃ মিনহাজ উদ্দিন, কর্পোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ধীরাজ কুমার সাহা, এরিয়া অফিসের শামসুল হক (এসপিও), আলমগীর হোসেন ( এসপিও), শাহানারা খাতুন (এসপিও), মতিয়ার রহমান (এসপিও), স¦াধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান চঞ্চল, জনতা ব্যাংক  চৌড়হাস  বাজার শাখার ম্যানেজার আবু তাহের, আল্লারদর্গা শাখার ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন, ভেড়ামারা শাখা ম্যানেজার আবুল শরিফ, কুমারখালী শাখার ম্যানেজার হাবিবুর রহমান, খোকসা শাখার ম্যানেজার বদিউজ্জামান বাবুল, ডাংমড়কা শাখার ম্যানেজার মুজিবুল আলম, সুকান্ত বিপণী শাখার ম্যানেজার ইউসুফ আলী, রাজার হাট শাখা ম্যানেজার শাহিন চৌধুরী, বারখাদা শাখার ম্যানেজার জাকারিয়া ইসলাম, আরসি আরসি ষ্ট্রীট কোর্টপাড়া শাখার আশেকুর রহমান (এসপিও) সহ জনতা ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়ার সকল শাখার কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বড় বাজার শাখার সেকেন্ড অফিসার মুজাহিদুল ইসলাম ও আরসিআরসি ষ্ট্রীট শাখার অফিসার আসাদুজ্জামান।

কুমারখালীতে দলিল লেখককে প্রাণনাশের হুমকি!

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি ও তার বাড়িঘরলুট পাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনা ঘটেছে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি ও তার বাড়িঘর লুটপাট করেছে একই এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান মুতাই, লিটু, শামীম, আনসার, শহিদুল, তুহিন নামে কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এঘটনায় দেলোয়ার হোসেন কুমারখালী থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেলোয়ার হোসেনের বসতবাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। দেলোয়ার হোসেন জানান, মোস্তাফিজুর রহমান মুতাই এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তাই আমি আজ এলাকা ছাড়া। গত শুক্রবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মোস্তাফিজুর রহমান মুতাই, লিটু, শামীম, আনসার, শহিদুল, তুহিন নামে কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনীরা গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে আমার বসবাড়ি লুটপাট করে বাড়িতে প্রায় একলক্ষ টাকা মালামাল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা এবং আমার দুই ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। মোস্তাফিজুর রহমান মুতাই মির্জাপুর গ্রামের চিহ্নিত রাজাকার ময়েন উদ্দিনের ছেলে। ময়েন উদ্দিন কুমারখালীর উপজেলার ১৭ নং তালিকাভুক্ত রাজাকার। আর তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুতাই যুবকলীগ নেতা বলে এলাকায় পরিচিত থাকায় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এদিকে কুমারখালী থানার (ওসি) মিজানুর রহমান থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুষ্টিয়ায় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ায় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়ার আয়োজনে এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটির নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজাদ জাহান। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজাদ জাহান। তিনি বলেন, দ্রুত গতিতে দেশ এগিয়ে চলেছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আজাদ জাহান আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপক (টেলিকম) মোঃ মিজানুর রহমানের পরিচালনায়, এ সময় নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এ.বি.এম.আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, রিজু তামান্না, বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপক (ট্যাকনিকেল, মাইক্রোয়েব) মোঃ সাজজাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রফিকুল আলম, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতেখাইরুল ইসলাম, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়ার প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ও বিটিসিএল কুষ্টিয়ার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রমজানুল মোবারক

রমজানে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ প্রত্যেক মুসলমানের কাছে এ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের ইবাদত বন্দেগির সওয়াব অন্য মাসের চেয়ে শতগুণ বেশি। অন্য মাসে যারা ইবাদত বন্দেগিতে অলসতা দেখান, তারাও এ মাসের ইবাদতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। সব মাসের মধ্যে রমজানকে বছরের সরদার বলা হয়েছে। এ মাসে সৎ কাজ করলে যেভাবে সওয়াব দেয়া হয়, একইভাবে ইসলাম বিরোধী কর্ম করলেও গুনাহের পাল্লা ভারী হয় এ মাসে। মুসলমানরা চান তাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী হোক।  কোনো মুসলমান কামনা করেন না যে, এ মাসে আল্লাহ ও বান্দার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে তার নাম অপরাধীর খাতায় লেখা হোক শুধু মানুষ খুন করলেই অপরাধ হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। আল্লাহর সৃষ্টিরসেরা জীব, মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অতি মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ। নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মানবতাকে সঙ্কটে ফেলা কবিরা বা বড় গুনাহের মধ্যে পড়ে। এ গুনাহের জন্য শরিয়াহ বা ইসলামের ফয়সালা মতে তওবা করতে হয়। তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। রহমত, নাজাত, বরকত আশা করলে কোনো মুসলমান ব্যবসায়ী এমন অন্যায় আচরণ করতে পারেন না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হয় এবং রোজাদারদের জন্য শোভন আচরণ করা হয়। ছোলা, চিনি, মাছ, গোশতের বাজার স্থিতিশীল রাখা হয়। অথচ, বিপরীতভাবে দেখা যায় বাংলাদেশের বাজারের বেহাল অবস্থা। বাংলাদেশ ৮৬ শতাংশ মুসলমানের দেশ। এখানে রমজান মাসে কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজা, নামাজ, তারাবিহ আদায় করে থাকেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই রোজার মাসকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে সিয়াম পালন করেন। দেখা যায়, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অতি মুনাফালোভী হয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে ধনাঢ্য বনে যায়। তাদের জন্য এ আয় সম্পূর্ণভাবে হারাম। এটা অবৈধ ও অনৈতিক। এমনভাবে সঙ্কট সৃষ্টি করে আয় করাকে ধর্ম ও প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মেনে নেয়া হয় না। আইন ও ধর্মের দৃষ্টিতে তারা অপরাধী। এ অপরাধ যারা করে তাদের শাস্তি ধর্মে ও প্রচলিত আইনেও আছে। অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধিকে ব্যবসায় বলা যায় না, সেটা লুণ্ঠন বা প্রতারণা। ইসলামে ব্যবসায়কে হালাল করা হয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারিকে হারাম করা হয়েছে। যেকোনো ধর্মে ব্যবসায়ে অনৈতিক আচরণ এবং সমাজকে অস্থির করা অবৈধ। এসব অপরাধকে যারা অপরাধ মনে করে না, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কারখানা সব কিছু মানব কল্যাণের জন্য। যে ব্যবসায় মানবতা বিরোধী সেটা ব্যবসায় হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ব্যবসার নিয়ম মতো পরিচালনা করা, যেন হারাম ও অবৈধ না হয়। প্রকৃত ব্যবসায়ের মধ্যে ১০ গুণ লাভ পাওয়া যায়। অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসায়ের গুনাহের পরিমাণও সেরূপ। ইসলাম ধর্ম মতে, সৎ মুসলমান ব্যবসায়ীর স্থান হবে সাহাবায়ে কেরাম রা:-এর সাথে। দুনিয়ার লোভে না পড়ে আসুন, মানবতা ইসলাম ও রোজাদারদের সাহায্যে এগিয়ে আসি। এখানে শুধু মুসলমানদের কথা নয়। অন্যান্য ধর্মের যারা অনুসারী তাদেরকেও সঙ্কটে ফেলা যাবে না। তারাও আল্লাহর বান্দা। সৃষ্টির সেরা মানুষ। ধর্ম বর্ণ ভাষা নির্বিশেষে কোনো মানুষকেই কষ্ট দেয়া যাবে না। সব ধর্ম, গোত্র ও শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের অনস্বীকার্য দায়িত্ব। সমাজকে খাদ্যে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকার তুলনা নেই। ব্যবসায়ীরা  দেশকে স্থিতিশীল ও অস্থিতিশীল দুটোই করতে পারেন। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, জাতির প্রতি স্নেহ মায়া মমতা থাকলে তারা কখনো সমাজ ও মানবতাবিরোধী কাজ করতে পারে না। মুনাফার নিয়ম মেনে ব্যবসায় করেও মানুষ প্রচুর অর্থের মালিক হচ্ছে। হালাল ও ন্যায্য ব্যবসায়ের সুখানুভূতি অন্যরকম। সে চিন্তা মাথায় রেখে ব্যবসায় করলে ইহকাল ও পরকাল দু’টিই শান্তি পূর্ণ হবে। সরকারের যত প্রচেষ্টা থাকুক না কেন, এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে না এলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কখনো সফল হতে পারে না। তাই আশা করব, সরকারের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে এগিয়ে আসবেন।

খাদ্য শস্য রপ্তানি হবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ – জি এম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ উদ্বৃত্ত চাল বিদেশে রপ্তানি করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ‘বড় মাশুল দিতে হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। তিনি বলছেন, এখন চাল রপ্তানি করা শুরু করলে দুর্যোগের সময়ে বহু দরেও বাজার থেকে আর চাল কেনা যাবে না। গতকাল শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের মজুরি সমস্যা নিয়ে কথা বলতে আসেন কাদের। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত থাকায় ৫ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন বোরো চাল রপ্তানির চিন্তা রয়েছে সরকারের। কাদের বলেন, “দেশে যে পরিমাণ উদ্বৃত্ত চাল থাকুক না কেন, এ মুহূর্তে চাল এক্সপোর্ট করা হবে খুব স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত। যে কোনো বড় দুর্ঘটনার সময় দেশকে হয়ত এ জন্য বড় মাশুল দিতে হতে পারে।

“আমরা বলছি না, চাল রপ্তানি বন্ধ করা উচিৎ। কৃষি, কৃষক ও খাদ্য মজুদের কথা চিন্তা করে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার ছিল। আমি বলব, এ মুহূর্তে খাদ্য শস্য রপ্তানি হবে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।” দেশে এখন কী পরিমাণ উদ্বৃত্ত চাল আছে, তা জানাতে পারেননি কৃষিমন্ত্রী। তবে সরকার যে হিসাবই দিক না কেন, তা সঠিক পরিসংখ্যান ‘নয়’ বলে মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির নেতা। তিনি বলেন, “সরকারি পরিসংখ্যানে তথ্য সঠিক হয় না। দেশে এখন দুর্ভিক্ষ শুরু হলে কিন্তু মার্কেট থেকে পয়সা দিয়েও চাল কেনা যাবে না।” এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। ন্যায্য দাম না পেয়ে নিরুৎসাহী কৃষককে ধানে আগুন দিতেও দেখা গেছে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে। সরকার মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান কেনে বলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। পরে তিনি সরকারের কাছে তিন দফা দাবিও উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা, বেসরকারি মালিকাধীন গুদামগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ধান সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত করে তোলা। জি এম কাদেরের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আদেলু রহমান আদেল, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নাজমা আক্তার।

ইউপি সদস্যসহ আটক দুই

খোকসায় মন্দির ও সমাধীস্থল গুড়িয়ে দিয়ে আশ্রমের জমি দখল

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসার গ্রামে প্রভাবশালী চক্র কালী মন্দির ও সমাধীস্থল গুড়িয়ে দিয়ে আশ্রমের জমি দখল নিয়ে শাক বুনেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক ইউপি সদস্যসহ দুই জনকে পুলিশ আটক করেছে।  উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের উথলী গ্রামে বাউল সাধক রূপ কুমার অধিকারীর আশ্রম। আশ্রমের মূল ঘরের সামনে বাউল সাধকের বাবা রাম গোপাল ও মা উমা অধিকারীর সমাধীস্থল। তার পাশেই  ছোট্ট একটি কালী মন্দির। তাতে টিনের ছাউনি আর পাটকাঠির বেড়া। সমাধিস্থল দুটি আটসাট করে ঘেরা ছিল। দুই বছর আগে সাধক রূপ কুমার অসুস্থ্য হয়ে পরলে আশ্রমের জমির আংশিক মালিকানা দাবি করে প্রভাবশালী বাদশা মন্ডল। এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্ততায় ৪৮ হাজার টাকায় রফা হয়। এর মধ্যে বাদশাকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে রূপ কুমার মারা যায়। আশ্রমের জমি দখল নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে প্রভাবশালী চক্রটি। সাথে যোগ দেয় জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম নয়ন। থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে আশ্রমের কালী মন্দির ও সাধক রূপ কুমারের বাবা মায়ের সমাধী গুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে বপণ করা হয় শাকের বীজ। পরদিন গতকাল শনিবার সকালে আশ্রমের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনের নামে খোকসা থানায় মামলা করা হয়। মামলার বাদি হয়েছেন আশ্রমের সেবায়েত সমীর বিশ্বাস। এ ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম নয়ন ও বাদশা মন্ডলকে পুলিশ আটক করেছে। হামলার বর্ণনা দিলেন প্রতিবেশী বৃদ্ধা গীতা রানী, চতুর্থ শ্রেণির স্কুল ছাত্র নীরব, মজির্না, রবিউলসহ অনেকেই। শুক্রবার তখন দুপুর ১টা। গ্রামের লোকেরা জুমার নামাজে মসজিদে গেছেন। এমন সময় নয়ন মেম্বর ও বাদশা মন্ডলসহ ৮/১০ লোক এসে প্রথমে আশ্রমের জরাজীর্ণ কালী মন্দিরটির চালা ভেঙ্গে ফেলে। এরপর সাধক রূপ কুমারের বাবা মায়ের সমাধীর বেড়া ভেঙ্গে জমি কুপিয়ে সমান করে। পরে বাদশার লোকজন সেখানে শাকের বীজ বপণ করে রেখে যায়।

আশ্রমের সেবায়েত মামুন হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে প্রভাবশালী বাদশা ও নয়ন মেম্বরের নেতৃত্বে প্রথমে আশ্রমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে দুপুরে এইসব লোকেরা আশ্রমে হামলা চালিয়ে কালী মন্দির ও সাধকের বাবা ও মায়ের সমাধী স্থল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। আটক ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম নয়ন বলেন, তারা মন্দির বা প্রতিমা ভাঙ্গেননি। যেটি ভাঙ্গা হয়েছে সেখানে ৩/৪ বছর আগেই পূজা বন্ধ হয়ে গেছে। আর জমির মালিক বাদশা। আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তার জানান, আশ্রমের আশে পাশের ২৮ শতক জমির মালিক ছিল রূপ পাগলের বাবা। কিন্তু প্রভাবশালীরা অনেক আগেই জমি দখল নিয়ে কাগজ তৈরী করে নেয়। আশ্রমের মন্দির ও সমাধীর জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রভাবশালী এ চক্র। ভবানীগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে প্রথমে আশ্রম উচ্ছেদের চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ একাধিক বার অভিযান করেছে। পরে নিজেদের লাঠির জোর খাটিয়ে মন্দির ও সমাধী ভেঙ্গে জমি দখল নিয়েছে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএস মেহেদী মাসুদ বলেন, আশ্রমে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে জমির মালিকানার দাবিদার বাদশা মন্ডল ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আরিফুল ইসলাম নয়নকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটকে অভিযান চলছে।

মিরপুর যুবককে কুপিয়ে হত্যা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মিজানুর রহমান (২৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ।

নিহত মিজানুর রহমান গাইবান্ধা জেলার খামার বোয়ালী গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। সে পোড়াদহ এলাকায় সৌর বিদ্যুতের কাজ করতেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর  দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ওই যুবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে  ঘটনায় সাথে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা যায়নি বলেও জানায় ওসি।