ভালো আছেন এটিএম শামসুজ্জামান স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন

বিনোদন বাজার ॥ রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থান উন্নতি হয়েছে। এছাড়া তিনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন। এর আগে তাকে নলের মাধ্যমে খাবার খাওয়ানো হতো।মঙ্গলবার বিকালে এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই সালেহ জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।সালেহ জামান বলেন, এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গত সোমবার থেকে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন।এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব ধরনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এটিএম শামসুজ্জামান। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত শনিবার তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছে।গুণী এ অভিনেতা ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও গল্পকার। অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন।

 

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে কুমারখালী উপজেলা ও পৌর বিএনপির অভিনন্দন

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটি ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কুমারখালী উপজেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. গোলাম মহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আল কামাল মোস্তফা ও কুমারখালী পৌর শাখার সভাপতি কেএম আলম টমে, সাধারণ সম্পাদক হাজী মনোয়ার হোসেন। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী আন্দোলনে  জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় ব্যবসায়ীকে মারপিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কলেজ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী জুলফিকার আলীর প্রতিষ্ঠানে চাঁদার দাবিতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটসহ ওই ব্যবসায়ীকে মারপিটের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে ব্যবসায়ীরা। ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সামনে কলেজ বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন চলাকালে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ভেড়ামারা বাজারের বিতর্কিত ও চিহ্নিত সুদের কারবারি কার্তিক কুন্ডুর ছেলে কর্ণ’র নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কলেজ বাজারের ওই দোকানদারকে মারপিট, ভাংচুর ও লুটপাট শেষে দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানানো হয়। কর্ণসহ তাদের বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারী দেন বক্তারা। এ সময় বক্তব্য রাখেন ভেড়ামারা পৌরসভার কাউন্সিলর ফিরোজ আলী মৃধা, নাইমুল হক, কলেজ বাজার শিল্প ও বনিক সমিতি’র সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম ডাবলু প্রমুখ।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের বরণ ও বর্তমান চেয়ারম্যানের বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকালে উপজেলা অডিটরিয়ামে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাম্মি ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ, বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল আলিম, নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম রাসেল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরতি দত্ত, বিদায়ী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তহুরা খাতুন, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার এ্যাসিল্যাল্ড ফাতেমাতুজ্জহরা, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ঘোড়শাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছুদ পারভেজ লিন্টন, সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন, নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন, সাগান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল মামুন, সুরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন জোয়ার্দ্দার, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম, ফুরসন্ধি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক ও সূধীবৃন্দ। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে সকলের উদ্দেশ্যে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা-দুর্নীতির কারণেই সমবায় এগোয় না – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা  অফিস ॥ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, মাথাভারি প্রশাসন থাকা এবং গতিশীল নেতৃত্বের অভাবেই সমবায় বা মিল্কভিটা এগোতে গতি পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, সমবায় যারা করে, তারাই মূল শক্তি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সম্পদের সুষম বণ্টনের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। যাতে করে শোষক শ্রেণির সৃষ্টি না হয়। এজন্য তিনি সর্বক্ষেত্রে সিলিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্কভিটা) বিশেষ সাধারণ সভা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন শেষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপশাসনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর বিগত ১০ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মাথাপিছু আয়, নিজস্ব সক্ষমতা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের মর্যাদার সর্বক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে সমবায়ের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না এবং তারই অন্তর্গত মিল্কভিটার কোনো পরিবর্তন নেই। স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিল্কভিটা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পেয়েছি। এই নেতিবাচক ধারণা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ইতিবাচক জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব। যেসব বাধা-জটিলতার কারণে মিল্কভিটা এগোতে পারছে না, সেসব সমস্যা অপসারিত করা হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান হাবীবসহ মিল্কভিটার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডবি¬উটিও’র সাহায্য চায় বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ একটি নি¤œমধ্যম দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর বাণিজ্য সংক্রান্ত যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তা মোকাবেলায় ঢাকা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডবি¬উটিও) সহায়তা কামনা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিল¬ীতে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেন, গত ২০০৪ সালের সাধারণ সভায় ৫৯/২০৯ ভোটে যে রেজুলেশন গৃহীত হয়েছিল তার আলোকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি লাভের পর যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ডবি¬উটিও-র তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বাণিজ্য মন্ত্রীদের এক বৈঠকে টিপু মুন্সি উলে¬খ করেন, ডবি¬উটিও-র সঙ্গে যেকোন সিদ্ধান্ত, বিধান এবং সমঝোতা চুক্তি উন্নয়নশীল ও স্বল্প উন্নত দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সুযোগ বৃদ্ধির আলোকে হওয়া উচিৎ। তিনি এ সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক নিশ্চিতে ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিকটতম অতীতে ডবি¬উটিও-র সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না এবং এটি ডবি¬উটিও-র সকল সদস্য দেশ বিশেষত উন্নয়নশীল দেশ সমূহের পূর্ণঙ্গ অংশগ্রহণ সমর্থন করে না। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী সুরেশ প্রভুর সভাপতিত্বে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য মন্ত্রী ও ভাইস-মিনিস্টারবৃন্দ এ সময় বক্তব্য তুলে ধরেন। গত সোমবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠকের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলন শুরু হয়। বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, ডবি¬উটিও-র বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুনির চৌধুরী, ট্যারিফ কমিশনের সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ এবং ডবি¬উটিও-র বাংলাদেশের উপপরিচালক মো. খলিলুর রহমান। বাণিজ্য মন্ত্রী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অবিষ্মরণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং স্বল্প উন্নত দেশ থেকে যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে তা তুলে ধরেন। আপিল বিভাগের বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত রেজুলেশন অনুমোদনের কথা উলে¬খ করে টিপু মুন্সি বলেন, বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থায় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ ডবি¬উটিও-কে বিরোধ নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে মনে করে, যদিও বাংলাদেশ এখনও কোন বিরোধে জড়ায়নি। তিনি এ সময় অবিলম্বে আপিল বিভাগের খালি পদ পূরণে রাজনৈতিক পর্যায়সহ সকল পর্যায়ের গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ততা থাকার প্রয়োজনীয়তা উলে¬খ করেন। এ ব্যাপারে তিনি ডবি¬উটিও সদস্য দেশগুলোর মাঝে নীতিমালা সংরক্ষণে একটি চুক্তির আহ্বান জানান। ডবি¬উটিও-র ২২ টি উন্নয়নশীল ও স্বল্পউন্নত সদস্য রাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী ও ভাইস মিনিস্টারা দুই দিনের এই বৈঠক অংশগ্রহণ করেন। দেশগুলো হলো, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, বার্বাডোজ, বেনিন, ব্রাজিল, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, চাদ, চীন, মিশর, গুয়েতেমালা, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, জামাইকা, কাজাকিস্তান, মালাউই, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, ওমান, সৌদিআরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক এবং উগান্ডা। বাসস।

বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে বিএনপির ইফতার পার্টি

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে এ ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় ইফতার মাহফিলে আসা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন- মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস, জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি, চীনের রাষ্ট্রদূত ঝেং ঝু, ডেপুটি হেড অব মিশন চেন উই, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মেরি অ্যানিক বোরডিন, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি চিফ মিশন জোয়েল রিফম্যান, কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়েট প্রেফনটেন, পালিটিক্যাল কাউন্সিলর বেরি ব্রিস্টম্যান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দামরিম ওজতুর্ক, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার, ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) রাজেস উইক, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রহিম ওরাজ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পু, রেডক্রসের হেড অব ডেলিগেশন ইফতিয়ার আসানালব, ইউইইউর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কংস্টামসন বার্ডাকিস প্রমুখ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কাতার, লিবিয়া, শ্রীলংকা, রাশিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক, ভুটান, নেদারল্যান্ড, ইরান, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। আমন্ত্রিত কূটনীতিকরা সংরক্ষিত আসনে বসার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর মোহাম্মদ নাসির, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী, রিয়াজ রহমান, এনামুল হক চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার তাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ দলের নেতাদের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের পরিচয় করিয়ে দেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল¬াহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল¬াহ, সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক আসিফ নজরুল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, শাহদীন মালিক, ড. বোরহান উদ্দিন ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন। সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, তৌফিক ইমরোজ খালিদী, শ্যামল দত্ত, মতিউর রহমান চৌধুরী, সাইফুল আলম, আবু তাহের ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন।

 

কেরানীগঞ্জ কারাগারে খালেদা জিয়ার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারকে জাদুঘরে রূপান্তরের কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেই খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে। খালেদা জিয়া রোজাও রাখছেন। কেরানীগঞ্জ কারাগারে জেল কোড অনুযায়ী তার সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী নব নির্বাচিত বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক ও পরিচালকদের সাথে  বৈঠক করেন। ‘খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন করতেই কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হচ্ছে’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন করতে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হচ্ছে, এ অভিযোগ ঠিক নয়। তাকে জেল কোডের বাইরেও মানবিক কারণে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন,‘খালেদা জিয়া কারাগারে একা থাকতে পারবেন না বলেই তার চাহিদা অনুযায়ী একজনকে তার সাথে দেওয়া হয়েছে। নিরাপরাধ মেয়েটি খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেল খাটছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার সব কালপিটরা ধরা পড়েছে। তাদের আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এখন আদালতে তাদের বিচার হবে। তবে, এ কথাটি আমরা বলতে পারি, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো আছে। ঈদের আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়ে বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে অনেক গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে না। প্রতি বছরই সমস্যা হয়, বিজিএমইএ সমাধান করে, এগুলো নিয়ে তারা আগামী ১৯ তারিখে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে।

গোপন বৈঠক থেকে আলমডাঙ্গা জামায়াতের ৪৮ নারী নেতা-কর্মী আটক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় গোপন বৈঠকের সময় জামায়াতে ইসলামীর ৪৮ নারী নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে কিছু বই। আটককৃতদের আলমডাঙ্গা থানায় নেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের জাহিদুর রহমান টিটুর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে ওই বাড়ি থেকে জামায়াতের ৪৮ নারী নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।’ তিনি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ওই বাড়ি থেকে পুলিশ কিছু বই উদ্ধার করেছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, আকটকৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কী কারণে তারা এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঈদের ৭ দিন আগে মহাসড়ক মেরামতের কাজ শেষ করার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন ঈদুল ফিতরে মহাসড়কে যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ৩২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশি¬ষ্ট সব প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঈদের সাত দিন আগে মহাসড়ক মেরামতের কাজ শেষ করতে। গত ৯ মে মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব লিয়াকত আলী স্বাক্ষরিত নির্দেশনা সংশি¬ষ্ট সব প্রকৌশলীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদে নির্বিঘœ যাতায়াত ও যানজটমুক্ত করতে সাত দিন আগে মহাসড়ক মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সব সড়ক জোন ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে (সব সড়ক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশি¬ষ্ট সবাইকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও ঢাকার তিনটি প্রধান বাস টার্মিনালে যাতায়াত সচল রাখতে বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে ভিজিলেন্স টিম গঠন করার কথাও বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী সচিব লিয়াকত আলী বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে ৩২ দফা নির্দেশনা দিয়ে সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এদিকে, জাইকার অর্থায়নে চলমান চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সংযোগ সড়ক ও পোর্ট কানেকটিং সড়কের কার্পেটিং লেয়ারের কাজ ঈদের আগেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চসিক কনফারেন্স হলে নাগরিক উদ্যোগ এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন। এ দুই সড়কের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করার কথা উলে¬খ করে মেয়র বলেন, সড়ক দুটির কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য আমি নিয়মিত পরিদর্শন করি। এই প্রকল্পে যারা দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন, তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করি এবং কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য আমি তাদেরকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছি। নগরের ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত আগ্রাবাদ সংযোগ সড়কের বেপারীপাড়া থেকে পোর্ট কানেকটিং রোডের দক্ষিণাংশ এবং পোর্ট কানেকটিং রোডের নিমতলা থেকে ওয়াপদা পর্যন্ত রাস্তার পূর্বাংশে বর্তমানে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে বলে সভায় জানানো হয়। রাস্তা দুটি গাড়ী চলাচলের উপযোগী করতে এবং বর্যা মৌসুমে জনচলাচলে ভোগান্তি লাঘবে চসিক কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান মেয়র। এর আগে নাগরিক উদ্যোগ এর আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সুজন চসিক মেয়রের কাছে ১৪টি দাবি উত্থাপন করেন। এ দাবিগুলোর মধ্যে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এবং নিমতলা বিশ্বরোডের অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার আহবান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী মো. ইলিয়াছ, মো. কামাল মেম্বার, হাজী হোসেন কোম্পানী, হাবিবুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুল আজিম, এজাহারুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন বাহাদুর, মো. শাহজাহান, পংকজ চৌধুরী কংকন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, সোলেমান সুমন, সমীর মহাজন লিটন, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, সফি আলম বাদশা, স্বরূপ দত্ত রাজু, মো. ওয়াসিম, মাহফুজ চৌধুরী, শিশির কান্তি বল, শেখ সরওয়ার্দী এলিন, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, এম ইমরান আহমেদ ইমু, দীপংকর সোম, মনিরুল হক মুন্না, হাসান মুরাদ প্রমুখ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তদন্তে প্রমানিত

এসআই সাইফুলসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

দৌলতপুরে মিথ্যা মাদকের মামলা দিয়ে সাংবাদকর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মিথ্যা মাদকের মামলা দিয়ে স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদকর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে তা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ ও দালালচক্রের প্ররোচনায় দৌলতপুর থানার এসআই সাইফুল ও তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী এবং এএসআই আসাদ সীমান্ত এলাকার সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান সাগর ওরফে সাকবর আলীকে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। এছাড়াও এসআই সাইফুল ও তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী এবং এএসআই আসাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে বিস্তর অভিযোগ করেছেন।

তদন্তকালে উপস্থিত এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সংবাদকর্মী সাকবর আলী জানান, গত ৫জানুয়ারী বিকেলে দৌলতপুর থানার এসআই সাইফুল এবং তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী ও এএসআই আসাদ উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল ফকিরের আস্তানার পেছন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬ বস্তা ভর্তি ৪২০বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন ৬ জানুয়ারী এসআই সাইফুল ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে স্থানীয় দালালচক্রের পরামর্শে একই এলাকার সাকের আলী মেম্বরের বাড়ির পেছন থেকে মাত্র ৭১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে ৬জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ৩নং আসামী করা হয় সংবাদকর্মী সাকবর আলীকে। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নিরাপরাধ সংবাদকর্মী সাকবর আলীর নামে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ওই সকল পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম (তদন্ত) ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। তদন্তকালে মামলার স্বাক্ষী উজ্বল, হাসমত ও শামীমসহ এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিকট ঘটনার বর্ণনা দেন। বর্ণনায় মামলার সাথে কোনভাবেই সাকবর আলী জড়িত না এবং সবসময়ই মাদকের তার বিরুদ্ধে অবস্থান বলে তারা জানায়। আর মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারনে সীমান্তে অবাধ মাদক বাণিজ্যে এসআই সাইফুল এবং তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী ও এএসআই আসাদের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। যার কারনে সাকবর আলীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের পথের কাটা দুর করে। তদন্তকালে এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে এভাবে বর্ণনা দেন। এছাড়াও সীমান্তের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ওই ৩ পুলিশের চরম সখ্যতা ও সর্বদা অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকার বিষয়টি সীমান্তের সকলেই অবগত। এবিষয়টিও গতকালের তদন্তে বেরিয়ে আসে। এলাকাবাসীর দাবি মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর সাথে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ইবিতে ঈদের সংশোধিত ছুটি

পবিত্র রমজান, বুদ্ধপূর্ণিমা, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে প্রদত্ত ১১ জুনের পরিবর্তে ১২ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামী ১৮ মে বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অফিসসমূহ পূর্বঘোষিত ২৫ মে থেকে ১০ জুনের পরিবর্তে ২৭ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ ও ২৬ মে অফিসসমূহ খোলা থাকবে। অফিস ও ক্লাসসমূহ ১৫ জুন থেকে যথারীতি চলবে। গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুমারখালিতে নারীর অধিকার শক্তিশালীকরণে সমন্বয় সভা

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে অনুষ্ঠিত হলো নারী ও কন্যাদের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে এর আয়োজন করে মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমারখালি উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার বিশ^াসের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন মুক্তির প্রকল্প সমন্বয়ক জায়েদুল হক মতিন, কুমারখালি থানার এসআই আন্নু খাতুন, সদকী ইউনিয়ন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা।

  ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) এর জীবন ও দর্শন

“মোহাম্মদ ভূমি’ এ সবুজ বাংলার;‘পূণ্যভূমি কুষ্টিয়া’ থেকে  শেষ জামানার মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য যে মানব দরদী সাধক বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন স্থানে জাতি, ধর্ম, ধনী, গরীব নির্বিশেষে মানুষকে ভালবেসে দিয়েছিলেনÑবারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকার দাওয়াত, তিনি হলেন আল¬াহ্র এক বিশিষ্ট ওলী, মহান রাসূল প্রেমিক আওলাদে রাসূল, শেষ জামানার শেষ ইমাম ও মোজাদ্দেদÑহযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ)। কোরআনেÑওলী বা ওয়ালী শব্দটির অর্থ “আল্লাহর বন্ধু”।  “ওলী” তিনিই যিনি কঠোর সাধনার দ্বারা রিপুর তাড়না থেকে নিজেকে রক্ষা করে, আল্লাহর নিকট নিজ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং বন্ধন মুক্তি করতে পারেন ও বহু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। ওলীদের হাতে নিখিল বিশ্বের শাসন ব্যবস্থা ন্যস্ত থাকে। যাকে বলা হয় আধ্যাত্মিক প্রশাসন।” (ইসলামী বিশ্বকোষ) ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ ‘আতরের শিশি হাতে থাকলে তার সুগন্ধ একটু হাতে লাগবেই। সে সুগন্ধ ছড়াবে। লোহা যতক্ষণ আগুনের মধ্যে থাকে ততক্ষণ সে আগুনের গুণে গুণান্বিত থাকে। আল¬াহর ওলীরা এরূপ”।  বই, কিতাব পড়ে আলেম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করা যায়, ওলী হওয়া যায় না। ওলীত্বের সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ দান করেন। তাই ইমাম গায্যালী বলেছেন ঃ “আমি বিস্মিত হয় বারবার কেন একজন ডাক্তার ওলী হয় না আল¬াহর।” মাওলানা জামী, বলেছেনঃ আল¬াহর প্রেমে মওগণকে তুচ্ছ মনে করো না, তারা ধনাগার ও রাজমুকুটহীন বাদশাহের দল।” বলা হয়েছেঃ আল্লাহ ওয়ালাদের অবর্তমানে ও তাঁদের রাজত্ব অক্ষ্ন্নু থাকে। আল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার ওলীর সাথে শত্র“তা পোষণ করে তার প্রতি আমার যুদ্ধ ঘোষণা”। (বুখারী)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর প্রারম্ভে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি উম্মতের স্বার্থে তার দ্বীনের (ইসলাম) সংস্কার সাধন করবেন।” (আবু দাউদ) মোজাদ্দেদ কোন দাবী করার বিষয় নয়, করে দেখানোর বিষয়। যার দ্বারা ঐ সময় ইসলামের সত্য সুন্দর রূপটির বিকাশ ঘটবে এবং যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সক্ষম হবেন তিনিই মোজাদ্দেদ।” তাই ১৪’শ হিজরীর সূচনায় ১লা মহরমের চাঁদ দেখে বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ ঝড়ের পর চাঁদ উঠেছিল ১৪’শ এর চাঁদ। যারা দেখেছেন তারা বলছিল যে, তাকানো যাচ্ছিল না। চাঁদ এবার সত্য উঠেছে। বহু বছর পর, ১০০০ বছর পর, আবার ১০০০ বছর আলো দিবে।”

সাধনা জীবনের একটা সময় উনার কাটে ময়মনসিংহের মধুপুর জঙ্গলে। ঐ সময় শরীয়ত মেনে বহু এবাদত করে বহু বইÑকিতাব পড়ে দেখলেন আল্লাহ প্রাপ্তি হ’ল না। ঐ সময় কোরআনের এক আয়াত “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তার দিকে ‘ওছিলা’ অন্বেষণ কর এবং তার পথে প্রাণপন চেষ্টা কর যেন তোমরা সুফল প্রাপ্ত হও”। (সূরাঃমায়েদা) এ আয়াত পড়ার পর তিনি মুর্শিদ ধরার প্রয়োজন অনুভব করেন। কথায় বলে, লাইন ছাড়া চলে না রেলগাড়ী। সেটা পেলেন চট্টগ্রামে মাইজভান্ডার শরীফে মরহুম মাওলানা আহমদুল্লাহ এর কাছে রানাখোল গ্রামে তার খলিফার কাছে মুরিদ হতে। মুরিদ হবার পর সাধনার পরিবর্তন হ’ল। কঠোর সাধানায় মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড়পীর সাহেব খেলাফত দেন। এরপর খাজাবাবা দেন। নকশবন্দ ও মোজাদ্দেদী তরীকায় ও খেলাফত পান। এতসব পাবার পরও শান্তিপেলেন না। আরো কঠোর সাধনায় অস্থিচর্মসার হলেন। এবার পেলেন পরম অর্জন।

পেলেন ১৯৭৫ এর ১৬ শাবান সোমবার ৮ই ভাদ্রÑ২৫শে আগষ্ট বারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকা। ১৯৮৪ তে পেলেন বারো শরীফের সর্বোচ্চ সম্মান শেষ জামানার শেষ ইমাম ও মোজাদ্দেদ উপাধি।

তাঁর চিন্তা দর্শন ঃ তাঁর চিন্তদর্শন বা থটস্ ছিল ধর্মকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুগধর্মী সংস্কার মুখী। বলেছিলেন; আজ ১৪’শ বছর পূর্বের প্রচলিত সব বিধিবিধান হুবুহু যদি আমরা এ সময়ে চালাতে চায় তা হবে বাড়বাড়ী ও গোড়ামীর নামান্তর। তাই ইসলামের মূল বিষয় গুলো ঠিক রেখে প্রয়োজন সংস্কার। তাঁর ধর্মীয় দর্শন ছিলঃ প্রেম। তাই এবাদতে প্রেম না থাকলে সেই এবাদত ফল আনতে পারে না। রাসূল প্রেম ছাড়া আল্লাহ পওয়া যায় না।

সমাজ দর্শন ঃ  বলেছিলেন সমাজ ও যুগের পরিবর্তনে প্রথার পরিবর্তন আল্লাহ নিজে করেছেন। তিনি সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কার করে সমাজ হতে দুর করতে চেয়েছিলেÑঅন্যায়, শোষণ ও ধর্মান্ধতা।

প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার বারো  শরীফ দরবারে মেয়েরা বাদ আছর ও ছেলেরা বাদ এশা দরুদ ও সালাম পাঠ করে। এ দরবারে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা ফাতেহা শরীফা। সব ধর্মের মানুষের জন্য এ দরবার এ মোহাম্মদী। শুধূ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বা পবিত্র হয়ে আসতে হবে। আল্লাহ আমাদের দয়া করুন।

ইমাম (রঃ) এর পবিত্র শহীদী দিনের স্মরণে কবিতা ঃ

“রাসূল প্রেমের প্রেমিকের গাইতে দিল না যারা গান/তুমি তাদের ভালই চিন ওগো প্রভু হে মহান/কি অপরাধ ছিল বল তার প্রেম করেছিল সে রাসূল আল্লাহর/ মোহাম্মদী মতাদর্শ প্রচার করেছিল বলেই কি তার এত অপরাধ?/

সিফ্ফিনের যুদ্ধে শহীদ হলেন রাসূল প্রেমিক ওয়ায়েশ ক্বরণী/মোহাম্মদীর জন্য শহীদ হলেন মাস্উদ হেলাল ভাই।”

ধান কাটা ও কেনাবেচা শুরু

কুষ্টিয়ায় বোরো ধানের ফলন ভালো, দাম কম পাওয়ায় হতাশ কৃষক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় রবি মৌসুমে বোরো ধান কাটা ও কেনাবেচা শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফলন ভালো পাচ্ছে কৃষক। কিন্তু গত বছরের তুলনায় দাম কম পেয়ে হতাশ তাঁরা। গত বছর মৌসুমের শুরুে েেয ধান বিক্রি হয়েছে ৭৪০ টাকা মণ দরে, সেই ধান এবার বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, এবার বোরোর ফলন ভালো হলেও বাজার কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। দাম না পেলে কষ্ট করে আাবাদ করা ধান চাষ থেকে কারা বিমুখ হবেন। বাজার মন্দার বিষয়টি খতিয়ে দেখা অতীবও প্রয়োজন। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় যেকোন ফসল আবাদের জন্য মাটির গুনগত মান খুবই ভালো। এজন্য কৃষকেরা বেশি পরিমাণ জমিতে ধান আবাদ করে থাকে। ফলনও ভালো পায়। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ৯০ ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ হয়েছিল। আবহাওয়া ভালো ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ করেছে কৃষক। জেলার কয়েকটি বাজারেও নতুন ধান উঠেছে। কৃষকেরা ধান বিক্রি করতে হাটে হাটে ঘুরছেন। জেলার মধ্যে ধানের সবচেয়ে বড় হাট সদর উপজেলার আইলচারা ধানের হাট। এখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর চালের মোকাম খাজানগর এলাকার চাল ব্যবসায়ীরা ধান কিনে থাকে। আইলচারা হাটে সপ্তাহের দুই দিন ধান কেনাবেচা হয়। এই হাটে গত বছরের আজকের দিনে (১৩ মে) বোরো ধান মণ প্রতি বিক্রি হয়েছিল ৭৪০ টাকা। সোমবার হাটে বোরো ধানের উঠেছিল মণ প্রতি ৬৮০ টাকা। মৌসুমের শুরুতে এমন দাম পেয়ে হতাশ কৃষক। আইলচারা হাটে ইঞ্জিনচালিত নসিমন ও ট্রলিতে করে কৃষকেরা হাটে ধান নিয়ে হাজির হয়। এসময় কৃষকেরা বলেন, হাটে ধানের আমদানি বাড়লেও দাম বাড়ছে না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। তখন আমদানী আরও বেড়ে যাবে, সঙ্গে দাম আরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর কৃষকেরা দ্রুত টাকা পাবার আশায় ধান কাটার সাথে সাথেই বিক্রির জন্য হাটে ছোটেন। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করে ঘরে তুলতে (জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে মাড়াই শেষ করে) প্রায় ১৫ হাজার ৮৪৪ টাকা খরচ হয়েছে। ধান ও বিচালি বিক্রি করে ঘরে আসছে প্রায় ১৯ হাজার ৪৫০ টাকা। অর্থ্যাৎ চার মাস জমিতে খাটুনিতে বিঘা প্রতি প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। এই লাভ দিয়ে কিছুই হয় না। জেলা বাজার তদারকি কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার আইলচারা হাটে স্থানীয়ভাবে সরু ধান বিক্রি হয়েছে মণ প্রতি ৭৮০ টাকা দরে, মাঝারী ধান বিক্রি হয়েছে ৬৮০ টাকা দরে ও মোটা ধান বিক্রি হয়েছে মণ প্রতি ৫৮০ টাকা দরে। কুষ্টিয়ায় মাঝারি ধানের আবাদই বেশি হয়ে থাকে। গত বছরের আজকের দিনে একই হাটে সরু, মাঝারী ও মোটা ধান মণ প্রতি বিক্রি হয়েছিল যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, ৭৪০ টাকা ও ৬৮০ টাকা দরে। বাজারে দাম বৃদ্ধি না পেলে কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন এই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মোমেন বলেন, তিনি এবার ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। পুরোটায় কেটে ঘরে তুলেছেন। হাটে দাম না পেয়ে হতাশ তিনি। এবার অতিরিক্ত খরার কারণে সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরোর উৎপাদন খরচও  পড়েছে বেশি। গত বছর মৌসুমের শুরুতে চড়া দামে ধানবিক্রি করে লাভবান হয়েছিলেন। এবার তা ভিন্ন। এক বিঘায় লাভবান হচ্ছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। একই উপজেলার মিরপুর এলাকার চাষী আশরাফুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন,‘রোদে পুড়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান চাষ করা হয়। অথচ কোন দাম পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। কৃষকের দিকে কেউ খেয়াল রাখে না। তবে কৃষি সম্প্রাসারণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিকের পরামর্শ কৃষকদের কৌশলী হতে হবে। দাম যেহেতু কম সেহেতু ধান বিক্রি না করে বাড়িতে কয়েকদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারে কৃষক। দাম বাড়লে সেসময় বিক্রি করার পরামর্শ দেন। তবে দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন জায়গায় কথা বলে থাকেন। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, কৃষকের ধানের নায্য মূল্যে নিশ্চিত করতে হাটগুলোতে তদারকি বাড়ানো হবে।

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও ইফতার

নিজ সংবাদ ॥ রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২০১৯ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাদ আছর রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ সদস্য সচিব শামসুর রহমান বাবু, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার মানবিক ও সামাজিক অনুষদ ডীন প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মোঃ ইকবাল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ ডীন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুরশেদ, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টার পরিষদ সদস্য শাহাবুব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুর রহমান, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ জহুরুল ইসলাম। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র আইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান সরকার। ইফতার পূর্বে দোয়া পরিচালনা করেন বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু সাঈদ মোহম্মদ আলী। আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে পদবঞ্চিতদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাকা অফিস ॥ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। তা না করা হলে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু বলেন, “বিগত দিনগুলোতে যারা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগে নিস্ক্রিয়, সাবেক চাকরিজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে আজীবন বহিষ্কৃতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের পদায়ন ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে আমাদের ব্যথিত করেছে।” আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি ভেঙে দিয়ে আরও খোঁজ-খবর নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। দাবি মানা না হলে অনশন, বিক্ষোভ ও একযোগে পদত্যাগ করা হবে বলে হুমকি দেন নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিপু ইসলাম তন্বী। ছাত্রলীগের শামসুন্নাহার হল শাখার সভাপতি তন্বী ডাকসুরও সদস্য। সম্মেলনের এক বছর পর সোমবার ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অর্ধশত নেতাকর্মী; যাদের কেউ পদ পাননি, কেউবা কাঙ্খিত পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ। সংবাদ সম্মেলন শুরুর পরপরই সেখানে হামলা চালিয়ে তা পন্ড করে দেয় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া পদ পাওয়া শতাধিক নেতা। এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগ। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- সোমবার ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন সাহাদাত এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন। তাদেরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও নবগঠিত কমিটির উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সোমবার সংবাদ সম্মেলনের সময় যারা হামলা করেছে তাদেরকে দিয়েই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা এই কমিটি মানি না।” ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুক পোস্টে ছাত্রলীগ সভাপতি কঠোর সমালোচনা করেছেন সংগঠনটির নেত্রী জেরিন দিয়া। ছাত্রলীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জেরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কমিটি নিয়ে সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। জেরিন বলেন, “আমরা এই কমিটি চাই না। আমরা আপার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে দেখা করতে চাই। ওনারা যেভাবে বলতেছে এই কমিটি আপা দিয়েছেন, আসলেই আপা কতটা জানেন সে বিষয়ে জানতে চাই। কাউকে হেয় বা ডুবানো আমাদের উদ্দেশ্য না।” সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নবগঠিত কমিটির উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফরিদা পারভিন,  উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, উপ-পাঠাগার সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা, উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদক শ্রাবনী শায়লা, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক খাজা খয়ের সুজন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তানভীর সৈকত, আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল শুভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদাকে হাজির না করায় পিছিয়েছে গ্যাটকো মামলার শুনানি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবার পিছিয়ে ১৮ জুন নতুন তারিখ রেখেছে আদালত। কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত দুই নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে বসে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেন এই নতুন দিন ঠিক করে দেন। খালেদার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, মঙ্গলবার  এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ছিল। তবে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। এজন্য বিচারক মামলার শুনানি আজকের মতো মুলতবি রেখে নতুন করে দিন ধার্য করেছেন। দুদকের উপ-পরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৩ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল হুদা। চার দলীয় জোট সরকারের নয় মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, আকবর হোসেন, আব্দুল মান্নান ভুইয়া এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রাহমান কোকো মারা গেছেন। আর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, আকবর হোসেনর স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, প্রাক্তন নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গে¬াবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লি. (গ্যাটকো) এর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, প্রাক্তন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় ১০ ও সাত বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে বিএসএমএমইউ চিকিৎসাধীন।

 

ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আর দূরত্ব নেই – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভ্যাট আইন কার্যকর নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচে গেছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার মুখে ভ্যাট আইন এতদিন ধরে কার্যকার না করতে পারার মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট দেওয়ার আগে গতকাল মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই দাবি করেন তিনি। কয়েক দফায় পেছানোর পর নতুন অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামি ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সব পণ্য বিক্রির উপর অভিন্ন হারে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিতে ২০১২ সালে আইনটি করেছিল সরকার। ২০১৬ সালের ১ জুলাই তা কার্যকরের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক বছর পিছিয়ে ২০১৭ সাল থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালে এসে আবার বিরোধিতার মুখে পড়ে ভ্যাট আইন; তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আইনের কার্যকারিতা আরও দুই বছর পিছিয়ে দেন। আইনটি কার্যকরের সময় ঘনিয়ে আসার পরও তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতারা বলছিলেন, কোন পণ্যে কত শতাংশ ভ্যাট বসবে, তা নিয়ে তাদের অস্পষ্টতা কাটছে না। অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার এনবিআর কর্মকর্তাদের পাশে রেখে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীদের আর কোনো ‘আপত্তি নেই’। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছুটা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছিল; সেটি পুরোপুরি ‘কেটে গেছে’। বৈঠকে থাকা এফবিসিসিআইর বিদায়ী সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন,  দেশের উন্নয়নে আমরা অর্থমন্ত্রীর পাশে আছি। উনি আমাদের বলেছেন, কোনো পণ্যে ট্যাক্স বৃদ্ধি পাবে না। তবে ট্যাক্সের আওতা আরও বাড়বে। ভ্যাটের কারণে পণ্যের দাম বাড়ুক, এটা অর্থমন্ত্রী চান না। অর্থমন্ত্রীও বলেন, আসছে বাজেটে কোনো পণ্যে ভ্যাটের হার বাড়বে না বরং কমবে। সব পণ্যের জন্য একই হারে ভ্যাট নির্ধারণ না করার পক্ষপাতি ছিলেন আগের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছিলেন, ভ্যাটের হার হবে কয়েক স্তরের, আর এ বিষয়ে ২০১৯ সালে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। পণ্য ভেদে ভ্যাটের হারের ধরন কী হবে- বাজেটের আগে তা খোলাসা করতে চাননি মুহিতের উত্তরসূরি মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আইনগত কারণে ভ্যাট আইনের সব তথ্য এখন প্রকাশ সম্ভব নয়। কোন পণ্যে কী হারে ভ্যাট বসবে, ব্যবসায়ীরা তা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছি, বিদ্যমান যেসব আইন আছে, তাতে বাজেট ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোন পণ্যে কত শতাংশ হারে ভ্যাট বসবে, সে তথ্য প্রকাশের কোনো নিয়ম নেই। বাজেট ঘোষণার আগে এসব তথ্য প্রকাশ করা যায় না। তবে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে পেরেছেন দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং ব্যবসায়ীবান্ধব আইন হবে। সেটা বোঝানোর পর ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। যার ফলে এনবিআরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আর কোনো দূরত্ব নেই। আগামী ১ জুলাই থেকেই ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা ‘সর্বাত্বক সহযোগিতা’র প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সব কিছু জনবান্ধব আর দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে সুন্দরভাবে করা হবে। ভ্যাট দিতে কেউ কষ্ট পাবে না, সব কিছুই করা হবে উইন-উইন অবস্থানে। ভ্যাট আইনের বিরোধিতায় মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানিরাই সোচ্চার ছিলেন, তারা সড়কেও নেমেছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন কার্যকরের পর যদি কোথাও কোনো সীমাবদ্ধতা ধররা পড়ে, তবে তা সময়োপযোগী করার পদক্ষেপ নেবে সরকার। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা থাকলে তা পরবর্তীতে সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কাম্য। তিনি বলেন, ভ্যাট আইন সংস্কারে এফবিসিসিআই ও এনবিআরের যৌথ উদ্যোগে একটি ওয়ার্কিং গ্র“প গঠন করা হবে, যারা ভ্যাট আইন সংস্কারে ভবিষ্যতে কাজ করবে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এই বৈঠকে এফবিসিসিআই নতুন সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র চাইলে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব – ইনু

ঢাকা অফিস ॥ ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র চাইলে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনু এ কথা বলেন। জাসদ সভাপতি বলেন, রাষ্ট্র ইচ্ছে করলে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখেছি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার দেখেছি। আগুন-সন্ত্রাস দমন দেখেছি। এসব যদি সম্ভব হয়, তাহলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন করা সম্ভব হবে না কেন? রাষ্ট্র চাইলে এটাও সম্ভব। ধর্ষক ও নিরর্যাতনকারীর সঙ্গে তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তিকে ধর্ষণ-নির্যাতনসহ সব সামাজিক অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যার বিরুদ্ধে শূন্যসহিষ্ণু অবস্থান নেওয়ার পরও পুলিশ প্রশাসনের যে অফিসাররা, যে রাজনৈতিক নেতারা ধর্ষক-নির্যাতক-খুনিদের সাথে হাত মেলায়, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নারী ও শিশুরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে। ঢাকা মহানগর জাসদের যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান শওকত, সহ-সভাপতি সফি উদ্দিন মোল¬া, শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. নুরুন্নবী, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবীব শামীম প্রমুখ।

‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের আগে ‘ভুয়া’ ব্যবহার করা যাবে না – হাইকোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ কাউকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ না বলতে এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটির আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার না করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বলেছে, কেউ এর বত্যয় ঘটালে তাকে তলব করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল সংক্রান্ত এক রিট মামলার শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের এই অভিমত আসে। রাষ্ট্রপক্ষে এ সময় আদালতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল¬াহ আল মাহমুদ বাশার। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছে, কোনো ব্যক্তি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করতে পারেন। কিন্তু তিনি তো মুক্তিযোদ্ধা নন। এ ধরনের ব্যক্তির কারণে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার করলে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়। আদালত সতর্ক করে বলেছে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তা হোক বা গণমাধ্যমের কোনো কর্মী হোক বা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া হোক- কেউ যেন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার না করেন। বাশার বলেন, হাই কোর্ট আজ সবার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন, যদি এর ব্যত্যয় ঘটে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়, তাহলে প্রয়োজনে ওঁরা তলব করতে পারেন। ২০০২ সালের মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের ৭ (ঝ) ধারা উলে¬খ করে আদালত বলেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তি যদি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া সনদ নিয়ে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে, তাহলে সেটা ওই ব্যক্তির অপরাধ বা দোষ। প্রয়োজনে সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার এ ভুলের কারণে সামগ্রিকভাবে সকল মুক্তিযোদ্ধার যে অবদান, যে সম্মান, সেটাকে কটাক্ষ করে ‘ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহার করা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বৈ আর কিছু নয়।