চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইপিএলের হতাশা ভুলতে চান ভন ডাইক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ খুব কাছে গিয়েও লিগ শিরোপা জিততে না পারার হতাশা আছে স্বাভাবিকভাবেই। তবে ভেঙে না পড়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন লিভারপুলের ডিফেন্ডার ভার্জিল ভন ডাইক। ইউরোপ সেরার মুকুট পরে মৌসুমটা ভালোভাবে শেষ করতে চান নেদারল্যান্ডসের এই ফুটবলার। আগামী ১ জুন মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সকে ২-০ ব্যবধানে হারায় লিভারপুল। তবে একই সময় শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনের মাঠে ৪-১ গোলে ম্যানচেস্টার সিটি জেতায় শিরোপা স্বাদ আর পাওয়া হয়নি অল রেডদের। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় পেপ গুয়ার্দিওলার দল। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের দারুণ পথচলায় বড় অবদান ভন ডাইকের। ২৭ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাকের নেতৃত্বে লিগে ৩৮ ম্যাচের ২১টিতেই কোনো গোল হজম করেনি দলটি। অধরা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে আগামী মৌসুমে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ী এই ডিফেন্ডার। “সিটিকে অভিনন্দন, এক পয়েন্ট এগিয়ে থেকে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য। শিরোপার লড়াইটা অসাধারণ ছিল। আমি এর পুরোটাই উপভোগ করেছি।” “এর মানে এই নয় যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আশা করি সামনের বছর আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব এবং এর চেয়ে ভালোও করব।” “আমাদের ইতিবাচক দিকটা দেখতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে আমরা এখনও মাদ্রিদে (চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে) আছি। আশা করি উঁচুতে থেকে আমরা মৌসুম শেষ করতে পারব। আর সেটাই আমরা চেষ্টা করব ও করব।”

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ২২ মে থেকে

ঢাকা  অফিস ॥ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামি ২২ মে থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৯ মে। গতকাল সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন। এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এদিকে জানা গেছে, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কমলাপুর ছাড়াও পাঁচ স্থান থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এবার ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। টিকিট কালোবাজারিরোধে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরই টিকিট দেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক রাখতে ঈদের তিন দিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ¦ালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্য মালবাহী ট্রেন চলবে না। ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকটি মেইল ট্রেন চালানো হবে, তবে কোনো আন্তঃনগর নয়। রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ঈদে মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সবাই মিলে কাজ করছি। এবার টিকিট কিনতেও ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এবারই প্রথম ট্রেনের টিকিট স্টেশনের বাইরে বিক্রি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল ফিতরে রেলওয়ের সেবায় যুক্ত হবে ১২টি স্পেশাল ট্রেন। ১৩৮টি বগি দিয়ে সাজানো হবে স্পেশাল ট্রেনগুলো। নিয়মিত ৩৩টি আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে ১২টি স্পেশাল ট্রেন যুক্ত করে মোট ৪৫টি ট্রেনে ঈদে যাত্রীদের সেবা দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে ঈদ যাত্রায় বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ের সৈয়দপুর ও ঈশ্বরদী ওয়ার্কশপে বাড়তি বগি মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে। এছাড়াও দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে স্টেশনের ডিপোতে চলছে বগি মেরামতের কাজ। মেরামত কাজে রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলীরাও বেশ ব্যস্ত। ঈদুল ফিতরে রেলওয়ের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত কাউন্টার খোলা হচ্ছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য ২৩টি কাউন্টার খোলা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান ৩৩ আন্তঃনগর ট্রেনে মোট আসন ২৫ হাজার ১৭৯টি। এর সঙ্গে স্পেশাল ট্রেনে যোগ হবে অন্তত ৬ হাজার আসন। এ ছাড়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১১৬টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১১১টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সচল রয়েছে। ঈদে আরও দু’টি যুক্ত হবে। ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সরেজমিনে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুর গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন বগি মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। এছাড়াও ট্রেনের তথ্য পেতে ডিজিটালাইজ মেশিন বসানো হয়েছে প্লাটফর্মে। এটিএম মেশিনের মতো এখানে নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিয়ে ট্রেনের সব তথ্য জানতে পারবেন যাত্রীরা। ট্রেনের তথ্য পেতে ভোগান্তি পোহাতে হবে না যাত্রীদের। জানা গেছে, আগামি ২২ থেকে ২৬ মে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঈদ ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে ২৯ মে থেকে ২ জুন। সেই সঙ্গে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কমলাপুর ছাড়াও পাঁচ স্থান থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এবার আমরা ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। টিকিট কালোবাজারিরোধে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরই টিকিট দেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক রাখতে ঈদের তিন দিন আগে থেকে কনটেইনার ও জ¦ালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্য মালবাহী ট্রেন চলবে না। ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকটি মেইল ট্রেন চালানো হবে, তবে কোনো আন্তঃনগর নয়। রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ঈদে মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সবাই মিলে কাজ করছি। এবার টিকিট কিনতেও ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এবারই প্রথম ট্রেনের টিকিট স্টেশনের বাইরে বিক্রি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিকে হামলা-ভাংচুর

দামুড়হুদা প্রতিনিধি ॥ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার মুক্তি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সালমা খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সালমা খাতুন দামুড়হুদার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নজর আলী স্ত্রী। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। পরে ক্লিনিকের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সালমা খাতুনের স্বামী নজর আলী জানান, প্রসব বেদনা উঠলে স্ত্রীকে রোববার দুপুরে দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকেলে সেখানে ডা. সেলিমা আক্তার শিমু সিজারিয়ান করলে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সিজারের কিছুক্ষণ পরই সালমার পায়ুপথ নিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার শরীরে ৪ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রাতেই কুষ্টিয়া নিয়ে ভর্তি করার পর সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সালমা। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছলে দুপুরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা। তারা ক্লিনিকে হামলা ও ভাংচুর করে। এইদিকে এলাকাবাসী জানান, অযতœ-অবহেলায় ডেলিভারি করতে গিয়ে দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে এর আগেও এই ধরনের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা অনেক  ঘটেছে। এ বিষয়ে মুক্তি ক্লিনিকের ডা. সেলিমা আক্তার শিমুর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হজযাত্রীদের জেদ্দার ইমিগ্রেশন দেশেই হবে – ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হজের সময় সৌদি আরবের জেদ্দার ইমিগ্রেশনের কাজ এবার দেশে সম্পন্ন হয়েই যাত্রীরা হজে যাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এ সুবিধা চলতি বছর হজ পালনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর হজক্যাম্প পরিদর্শন করতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজের সময় ফ্লাইট মিস বড় সমস্যা না, এর চেয়ে বড় সমস্যা জেদ্দায় ইমিগ্রেশন করা। একজন হজযাত্রীকে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে খাবার এবং টয়লেটের সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা সৌদি সরকারকে এর সুরাহা করতে প্রস্তাব দেই, তারা সাড়া দিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা সার্বে করেছে, একটা এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনবার পরিদর্শন করেছে। চলতি বছরের ৫ জুলাই শুরু হতে যাওয়া হজযাত্রায় বাংলাদেশে বসেই হজযাত্রীরা সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আরও ৫টি সমস্যার কথা জানানো হলে সৌদি সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, হজের মৌসুমে হজক্যাম্পে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। কিন্তু ডর্মিটরি ও মসজিদ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা এবার এই কষ্ট দূর করতে চাই। হজ ফ্লাইটের আগেই মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কাজ শেষ হবে। একই সঙ্গে হজক্যাম্পে থাকা ১৪টি ডর্মিটরিতে এয়ারকুলারের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, অসাধু উপায় অবল্বম্বনের কারণে প্রতি বছর এজেন্সিগুলোকে শাস্তি দেওয়া হয়, যারা পরবর্তীতে হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। গত বছরে শাস্তি পাওয়া এজেন্সিগুলো এখনও আসতে পারেনি, বাকি সময়ের মধ্যে তাদের কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না। হজক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিসুর রহমান, হজক্যাম্পের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পিডব্লিউডির অতিরিক্ত সচিব আবদুল মজিদের নেতৃত্বে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দাম কম, পাকা ধানে আগুন দিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ

ঢাকা অফিস ॥ ধনের দাম কম হওয়ায় টাঙ্গাইলে এক কৃষক নিজের পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন। কালিহাতী উপজেলার ধানচাষি আব্দুল মালেক সিকদার রোববার এই প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা এলাকায় তিনি ধানক্ষেতে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আপনাআপনিই আগুন নিভে যায়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, টাঙ্গাইলে এখন প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ টাকায়। আর একমণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় সর্বনিম্ন পাঁচশ টাকা। ধান চাষের ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে: বীজ কেনা, বীজ বপন, জমি তৈরি, রোপন, সার-পানি দেওয়া, জমির পরিচর্যা, ধান কাটা, মাড়ানো, শুকানো ও পরিষ্কারকরণ। এ বিষয়ে মালেক সিকদার বলেন, জমি তৈরি থেকে শুরু করে ধান শুকানো পর্যন্ত এক শতাংশ জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে সর্বনিম্ন আড়াইশ টাকা। আর দুই শতাংশে উৎপন্ন একমন ধান। অর্থ দুই শতাংশ জমির একমণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় পাঁচশ টাকা। “তাই মনের দুঃখে পাকা ধানে আগুন দিয়েছি।” কালিহাতীর উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন পাকা ধানক্ষেত্রে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়া উচিত। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইছাপুর গ্রামের কৃষক ফটিক মিয়া বলেন, “একজন ধানকাটা কামলারে দেওন লাগে হয় ৮শ থেকে থেকে ৯শ টেকা। আর এহন হাটে ধানের দাম হইল ৫০০ টাকা মুন। প্রায় দুই মুন ধান বেইচ্চা এক কামলার টেকা দেওন লাগে। আবার মেলা সময় কামলাই পাই না।” উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত এলেঙ্গায় শ্রমিকের হাটে রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর থেকে আসা একজন শ্রমিক ৮শ থেকে ৯শ টাকায় প্রতিদিনের জন্য কাজে যাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তাদের তিন বেলা খাবারও দিতে হয়। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেল কৃষি কর্মকর্তা এএম শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। আর ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কৃষকের লোকসান হচ্ছে।

এমতাবস্থায় সরকারকে কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণ ও ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবেই কৃষক উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন। ধান ক্ষেতে আগুনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ বিকেলে বিষয়টি শুনেছি। কাল সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যাব।” তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এবং ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এদিকে, কালিহাতীর আউলটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মজনু নামের এক কৃষক তার ক্ষেতের পাকা ধান এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসী ধান কেটে অর্ধেক নিজে রেখে বাকি অর্ধেক ক্ষেত মালিককে দিয়ে দিচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। কালিাহাতী উপজেলার চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, “বীজতলা থেকে শুরু করে প্রতি মণ ধান ঘরে তুলতে হাজার টাকার উপরে খরচ হয়; কিন্তু ধান বিক্রি করছি তার অর্ধেক দামে। এবার আমরা পথে বসে গেছি।”

মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে আনতে পদে পদে হয়রানি শিকার হচ্ছে স্বজনরা

ঢাকা অফিস ॥ বিদেশে কর্মরত রয়েছে এদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী। আর বিদেশে কর্মরত ওসব কর্মীদের অনেকেই কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওসব ঘটনায় অনেকে মারাও যায়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে ওসব প্রবাসী কর্মীদের লাশ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ওসব প্রবাসী কর্মীর স্বজনরা দিনের পর দিন মন্ত্রণালয়ে ঘুরে নিজ খরচেও লাশ আনতে পারে না। ফলে বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মীর লাশ মাসের পর লাশ সংশ্লিষ্ট দেশেই পড়ে থাকছে। যা এক অমানবিক পরিস্থির জন্ম দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে বৈধ কর্মীর লাশ আনা বাবদ সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেয়ার বিধান থাকলেও ওই টাকা পেতেও নানা কাঠখড় পোড়াতে হয়। আর লাশ দেশে আনার পর সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ লাখ টাকা নিহত পরিবারকে দেয়ার আইন রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয় ওই টাকা দিতেও নানা টালবাহানা করে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেও নিহত স্বজনদের টাকা গুনতে হয়। টাকা না দিলে ক্ষতিপূরণের টাকা মেলে না। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশী কর্মীও বিদেশে মৃত্যুর পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও মৃত অনেকের পরিবারই নানা কারণে ক্ষতিপূরণ পায়নি। বিগত একযুগের বেশি সময়ে ৩২ হাজারেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে এসেছে। কিন্তু তার মধ্যে ১২ হাজারের বেশি পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়নি। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় মতে, আইনি জটিলতায় কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেরি হয়। আবার যদি কারোর অবৈধ পথে বিদেশে গিয়ে মৃত্যু ঘটে তার দায় নেয় না মন্ত্রণালয়। ফলে ওই লাশ স্বজনরা দেশে আনতে মন্ত্রণালয়ের কোন সহযোগিতাই পায় না। এমন অবস্থায় ওই লাশ আর দেশেই আসে না। অথচ বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশী কর্মীরা হরহামেশায়ই বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী কর্মীরা কাজ করছে। সম্প্রতি সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী কর্মী নিহত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিজ উদ্যোগে তাদের লাশ দেশে আনার কথা। কিন্তু লাশের স্বজনরা দিনের পর দিন মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তেমন কোন সহযোগিতা পায়নি। সূত্র জানায়, বিগত দশ বছর আগে সৌদি আরবেই মারা গেছে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী কর্মী। তাদের অনেকের লাশ দেশেই আনা হয়নি। মূলত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে লাশগুলো দেশে আসেনি। স্বজনরা নিজেদের টাকা ব্যয় করে হলেও লাশ দেশে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার গিয়েও কোন সহযোগিতা পাননি। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে প্রায় ৬ হাজার পরিবার অপেক্ষা করছে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মিললেও এখন পর্যন্ত কোন টাকাই পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বিদেশে যেসব কোম্পানিতে নিহত বাংলাদেশী কর্মীরা কাজ করেছে সেখান থেকেও কোন টাকা পাওয়া যায়নি। ওই টাকা আদায়ের জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন ও দূতাবাসের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোন কাজই করে না। সরকারি হিসেবে ২০০৫ থেকে পর্যন্ত ৩২ হাজার ৪৬৭ জন কর্মীর মরদেহ দেশে এলেও এখনো ১২ হাজার ২৪০ জনের পরিবার সরকারী ক্ষতিপূরণ পাননি। সূত্র আরো জানায়, প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় ৬ হাজার পরিবারের কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় হয়নি। তারমধ্যে সৌদি আরবে ৩ হাজার ১৪৬, ওমানে ৫১১, মালয়েশিয়ায় ৪৪৫, আবুধাবিতে ৪০৬টিসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক হাজার ক্ষতিপূরণের নথি আটকে আছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দাবি- আইনগত জটিলতায় কর্মস্থল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে দেরি হয়। তবে প্রবাসী কর্মীর মৃত্যুর পর কম সময়ে ক্ষতিপূরণ পেতে আইন উপদেষ্টা নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও  বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এদিকে শ্র ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে মৃত কর্মীদের দুই জায়গা থেকে ক্ষতিপূরণ পাবার কথা। প্রথমত বিদেশে কর্মরত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বেশিরভাগ কর্মীই ওই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ আইনের নানা প্যাঁচে ক্ষতিপূরণের টাকা বেশির ভাগ পরিবার পাচ্ছে না। যদিও দাবি উঠেছে বিদেশে কোন কর্মী দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের পরিবারকে সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আবার যেসব কর্মী বিদেশ যাবে তাদের নামে বাধ্যতামূলকভাবে ইন্সুরেন্স করতে হবে। যাতে পরিবারগুলো সরকারের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়, আবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ পায়। আর তাহলেই নিহত কর্মীর পরিবার একটা কিছু করে খেতে পারবে। কারণ এমনও পরিবার আছে যার একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিরই মৃত্যু হয়েছে। ওই পরিবার যাতে ভালভাবে চলতে পারে তার জন্য এসব দাবি বাস্তবায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যাদের পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। তাদের কাগজপত্র ছাড়াই নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেন সহজ হয় সেক্ষেত্রে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। কোন কর্মী মারা গেলে তার পরিবার যাতে সহজে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে তার জন্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান থেকে যতো দ্রুত সম্ভব ক্ষতিপূরণ উদ্ধারে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, লাশ আনা নিয়ে নানা বিষয় রয়েছে। এখানে অনেক আইনি জটিলতা আছে। বৈধ কর্মী হলে মন্ত্রণালয় থেকে লাশ আনা বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। লাশ দেশে আনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে আবেদন করলে পরিবারকে আরো ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

আইসিডিডিআর’বিতে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্বোধন

ঢাকা অফিস ॥ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সনাক্তকরণের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীস্থ আইসিডিডিআরবি-তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইস ফর অল পিএলসি এবং কানাডার ডায়াগনস আইএনসির সহযোগিতায় এ পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়। আজ থেকে আইসিডিডিআরবি-র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সর্বসাধারণের জন্য সর্বাধুনিক ফ্লেয়ার প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড রেটিনা অ্যানালাইসিস (কারা) নামের এই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি উন্মুক্ত হচ্ছে। ‘কারা’ একটি টেলি-অপথালমোলজি প্রযুক্তি যেটি প্রচলিত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমন্বয় করে সেবা দানের স্থানে রোগনির্ণয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। মুল্যসাশ্রয়ী এই পদ্ধতি একাধারে বিপুল সংখ্যক রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য উপযোর্গী। এটি ইতোমধ্যে হেলথ কানাডা, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং অন্যান্য মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনপ্রাপ্ত। ডায়াবেটিস রোগের সবচেয়ে গু রুতর জটিলতাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, যা সঠিক সময়ে সনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে রোগী স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের শিকার হতে পারেন। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) হিসাব মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং আরো প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের মধ্যে অনির্ণীত ডায়াবেটিস রয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির সুচনায় রোগীরা যেমন দ্রুত, সঠিক ও নিখুঁত ফলাফল পাবেন, তেমনি এটি ক্রমবর্ধমান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সনাক্তকরনে সহায়তা প্রদান করবে।

আইসিডিডিআর,বি-র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি পরীক্ষা করানো যাবে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে।

গাংনীতে সাংবাদিকদের সম্মানে এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনের ইফতার মাহফিল

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে সাংবাদিকদের সম্মানে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। গতকাল সোমবার গাংনী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিলের আগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন গাংনী উপজেলা পরিষদ মসজিদের প্রেস ঈমাম মাওলানা মহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল, গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম), বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক সিরাজুল ইসলাম স্যার, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকনের সহধর্মীনি লাইলা আরজুমান শিলা, গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাসার, সমাজ সেবিকা নুরজাহান বেগম, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলামিন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম, উপদেষ্টা তুহিন আরণ্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিজলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান মিজানুর রহমান, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইত্তেফাক সংবাদদাতা আমিরুল ইসলাম অল্ডামসহ মেহেরপুর জেলায় কর্মরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা।

পুলিশী আতংকে পুরুষ শূন্য গ্রাম

দৌলতপুরে একটি হত্যাকান্ডকে ঘিরে অর্ধশত বিঘা জমির কলাক্ষেত কর্তন : বাড়ি-ঘর ভাংচুর    

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি হত্যাকান্ডকে ঘিরে অর্ধশত বিঘা জমির কলাক্ষেত ও মেহগনি বাগান কেটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ভূমিষ্মাত করা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশের নীরব ভূমিকার কারনে হত্যাকান্ড পরবর্তী এ তান্ডবলীলা চলেছে। এদিকে গ্রেপ্তার আতংক ও পুলিশী নির্যাতনের ভয়ে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে একটি গ্রাম। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বিসিকে গ্রামে ও ছাতারিপাড়া মাঠে তান্ডবলীলা চালানো হয়। ভূক্তভোগিদের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত বুধবার (৮মে) বিকেলে কলাগাছ কাটা নিয়ে মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলমগীরের বাড়িতে দুই পক্ষ শালিসে বসেন। এর এক পর্যায়ে একপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে শালিসে থাকা মহিবুল মন্ডল (৩০) নামে এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে মহিবুল মন্ডল মারা যায়। মহিবুল মন্ডলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ছাতারিপাড়া মাঠে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম, পল্টু, শামীম হোসেন ও জাকিরুল ইসলমসহ ১০-১২ জন কৃষকের ৫০ বিঘারও বেশী জমির কলার কাদিসহ কলাক্ষেত কেটে ও মেহগনি বাগানের মেহগনি গাছ কেটে ভূমিষ্মাত করে নিহতের পক্ষের লোকজন। তৎক্ষনাত ফসল কর্তনের বিষয়টি দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানানো হলেও উল্টো দৌলতপুর থানা পুলিশ ওই সকল ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরের তান্ডবলীলা চালিয়ে সব ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ফলে পুলিশী আতংকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে গ্রাম। গতকাল সোমবার সকালে বিসিকে গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে পুরুষ শূন্য অবস্থা ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরের দৃশ্য চোখে পড়ে। আতংকগ্রস্থ দুই একজন নারীকে এলাকায় দেখা গেলেও তাদের চোখে মুখে আতংক ও উৎকন্ঠার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। রমেলা খাতুন ও মর্জিনা বেগম নামে দু’জন নারীর সাথে কথা বলে জানাযায়, মহিবুল নিহত হওয়ার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বর্তমানে তারা বাড়ি-ঘর ছাড়া অবস্থায় রয়েছে। পরে ছাতারিপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায় কেটে ভূমিষ্মাত করা প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে কলা ক্ষেত কর্তনের দৃশ্য। তবে কলা ক্ষেত কর্তনের বিষয়ে নিহত মহিবুলের ফুপাত ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নিজেরা নিজেদের কলাবাগান কেটে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। মহিবুল হত্যাকান্ড পরবর্তী সহিংসতা ও ফসল কর্তনের বিষয়ে মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর বলেন, আমরা হত্যাকান্ডের বিচার চাই। প্রকৃত যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। পাশাপাশি হত্যাকান্ড পরবর্তী ফসলহানি বা ফসল কর্তন যারা করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা হোক। এদিকে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মহিবুল হত্যাকান্ড ও ফসল হানির বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। হত্যাকান্ডের মামলার তদন্তকারী কর্তকর্তা দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজন এজাহার নামীয় আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। বাঁকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলামান রয়েছে। কলাক্ষেত কর্তন ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাকান্ড সংঘঠিত হওয়ার পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। ক্ষেতের কলা উদ্ধার করে মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

বাসের আগাম টিকিট বিক্রি  শুরু শুক্রবার

ঢাকা অফিস ॥ ঈদযাত্রায় বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে ১৭ মে থেকে। বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ। তিনি জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টারগুলো প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এবার প্রচন্ড গরমে যাতে কাউন্টারে আসা টিকিটপ্রত্যাশীরা ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য শামিয়ানা বা এর বিকল্পব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বেশি ভাড়া বন্ধে কড়াকড়ি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিতে না পারে, সে জন্য দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার চার্ট টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে বাস কোম্পানিগুলোকে। কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়ার বেশি ভাড়া নেন, প্রমাণ সাপেক্ষে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাস ভাড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, দূরত্ব অনুযায়ী বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। সে অনুযায়ী গত দুই বছরের ন্যায় বাসের এসি ও নন-এসি টিকিটের দাম এবারও থাকছে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে ছাত্রদলের অভিনন্দন

দীর্ঘদিন পর হলেও সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটি ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিথুন, সাধারণ সম্পাদক এস আর শিপন বিশ্বাস, যুগ্ম-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি, যুগ্ম-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রশান্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বীর মুক্তিযোদ্ধা উম্মত আলীর মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজ সংবাদ ॥ বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম উম্মত আলী আর নেই। তিনি গত ১২ মে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি প্রায় এক বৎসর যাবৎ দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য ছিলেন। ১৩ মে সকাল ১০টায় এই যোদ্ধার লাশ তাঁর গ্রামের বাড়ী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়ায় আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক-সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বাধীন সাংগঠনিক কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। রাষ্ট্রের পক্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে এবং কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফের পক্ষে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার উপস্থিতিতে গার্ড অব অনার প্রদান করেন জেলা পুলিশের একদল চৌকশ পুলিশ সদস্য। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমান্ডার মকবুল হোসেন, যুদ্ধাহত ইকবাল মাসুদ, সাবেক উপজেলা কমান্ডার খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা, যুদ্ধাহত মোশারফ হোসেন, উজানগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবুবীন ইসলাম, সহকারী কমান্ডার মহসিন মন্ডল, সাইদুর রহমান, শেখ আবু হানিফ, মুজিবুর রহমান, মিজানুর রহমান, মনির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, জিল্লুর রহমান, আঃ রাশেদ, ডাঃ মতিয়ার রহমান, লোকমান হাকিম, যুদ্ধাহত শফি উদ্দিন প্রমুখসহ প্রায় শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম উম্মত আরীকে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দৌলতপুরে কলেজ শিক্ষক পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজ শিক্ষক জগলুর রহমান পরিবারের উপর কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার বড়গাংদিয়া ঈদগাহ মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বড়গাংদিয়া নাসির উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল হক, সাবেক ইউপি সদস্য আকতার আলী, আব্দুল গফফার ও দৌলতপুর গার্লস কলেজের প্রভাষক ফজলুল হক। বক্তারা বলেন গত ২৮এপ্রিল পূর্ব শত্র“তার জের ধরে দৌলতপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক জগলুর রহমানকে একই এলাকার বিএনপি ক্যাডার ও সন্ত্রাসী কালু, গাফফার, জলিল শেখ, তানভীর শেখ, তারিখ শেখ সহ ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আবারও জগলুর রহমানের বড় ভাই আমিরুল ইসলামকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে আমিরুল ইসলাম ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলও হয়েছে। তবে হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা। তাই কলেজ শিক্ষক জগলুর রহমান ও ফজলুল হক পরিবার এলাকার শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের সচেতন নাগরিক হওয়া সত্বেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম আতংক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে নেওয়ার জন্য মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে আহ্বান জানানো হয়।

ঝিনাইদহে পরকীয়ার জেরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ পরকীয়ার জের ধরে সোমবার ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাদিখালী চরপাড়া গ্রামে জয়নুদ্দীন (৫০) মালিথা নামে এক কৃষককে খুন করেছে স্ত্রী ও তার ছোট ভাই। এ ঘটনায় নিহতর স্ত্রী আবেদা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছোট ভাই ছহির উদ্দীন পলাতক রয়েছে। নিহত জয়নুদ্দিন চরপাড়া গ্রামের সবোদ আলী মালিতার ছেলে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশিরা জানায় জয়নুদ্দিনের স্ত্রী আবেদা খাতুনের সাথে ছহির উদ্দিনের দীর্ঘ দিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ কারনেই ভাই এবং স্ত্রী মিলে তাকে হত্যা করেছে। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, দৌলতপুর ইউনিয়নের কাদিখালী চরপাড়া গ্রামের নিজ ঘরের বারান্দায় রোববার রাতে শুয়ে ছিলেন জয়নুদ্দীন। রাতের কোন এক সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে স্ত্রী আবেদা খাতুন ও ছোট ভাই ছহির উদ্দিন (ছইরে) মিলে জয়নুদ্দীনকে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনার পর থেকেই ছোট ভাই ছহির উদ্দীন পলাতক রয়েছে। হরিণাকুন্ডু থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সকল প্রকার জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্বের কমিটি বাতিল করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। গত ৭ মে বুধবার এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৌখিক নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মাদ শাহজাহানের সুপারিশক্রমে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩ বছর মেয়াদে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ এ কমিটির অনুমোদন দেন। নিন্মে পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হল সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সহ-সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সহ-সভাপতি এ্যাড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, সহ-সভাপতি মোঃ বশিরুল আলম চাঁদ, সহ-সভাপতি মোঃ আলাউদ্দিন (খান), সহ-সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী, সহ-সভাপতি এ্যাড. গোলাম মোহাম্মদ, সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ খান, সহ-সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি মোঃ রুহুল কুদ্দুছ, সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন আলী (রেজা), সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার সাজেদুর রহমান বাবলু, যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম আলম, যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী মিলন, যুগ্ম সম্পাদক কাজল মাজমাদার, যুগ্ম সম্পাদক এ কে বিশ্বাস বাবু, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মোজাফফর উজ্জামান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মঈন বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার সামসুজ্জাহিদ, কোষাধ্যক্ষ মোঃ জয়নাল আবেদীন প্রধান (সাধু), দফতর সম্পাদক শেহাব উদ্দিন, সহ-দফতর সম্পাদক মোঃ আলিমুল ইসলাম, সহ-দফতর সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক অধ্যক্ষ মনজুরুল আলম ডাবলু, সহ-প্রচার সম্পাদক খান এ করি অকুল, সহ-প্রচার সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আব্দুল হক, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হবি, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক শফিউর রহমান শফি, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আবু দাউদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল মজিদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. ইকবাল হোসেন, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শাতিল মাহমুদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. খাদেমুল ইসলাম, সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক গাজী গুলজার হোসেন, সহ সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাসান আলী (হাসানুজ্জামান), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা ফাহিমা রুমী, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুন্নাহার এ্যানী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শফিউল আলম টিটু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কবির, ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাবেদ আলী, সহ-ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম সাবু, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর আল আরেফীন বাবু, গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলফাজ উদ্দিন, সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শওকত হাসান বুলবুল, সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার রেন্টু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইমরান হোসেন সঞ্জু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিথুন, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ছরোয়ার হোসেন, সহ-শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান রঞ্জু, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান মিঠু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সেলিম উদ্দিন সেলিম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ লুৎফর রহমান লুৎফর, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাসুদ, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার দুলাল উদ্দিন দুলাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক ডাঃ আতাহার হোসেন তারা, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন মুরাদ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মোল্লা, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক কে এম আলম টমে, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হাজী রবিউল আউয়াল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মহসিন আলী, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন, সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবলু, শিশু বিষয়ক সম্পাদক মীর মমিনুর রহমান সুজন, সম্মানিত সদস্য এ্যাড. আমিরুল ইসলাম, সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, সম্মানিত সদস্য বেগম সেলিনা শহীদ, সম্মানিত সদস্য ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, সম্মানিত সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সম্মানিত সদস্য আলতাফ হোসেন, সম্মানিত সদস্য শহীদ সরকার মঙ্গল, সদস্য কুমকুম রহমান, সদস্য হারুন-অর-রশীদ, সদস্য নুরুল ইসলাম আনসার প্রমানিক, সদস্য সৈয়দ ফাহিম আহমেদ রুমী, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক লেবু, সদস্য হাফিজুর রহমান খোকন, সদস্য এস এম ওমর ফারুক, সদস্য আনিছুর রহমান টোকন, সদস্য হায়াত আলী, সদস্য অধ্যাপক ইউসুফ আলী, সদস্য খলিলুর রহমান, সদস্য জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, সদস্য মোঃ আজিবর রহমান, সদস্য মোঃ জাবেদ আলী, সদস্য সৈয়দ সাফায়েত হোসেন, সদস্য রহমত আলী রব্বান, সদস্য সাইফুদ্দিন টুলু, সদস্য এ্যাড. ফিদা হাসান (লাল), সদস্য আমিনুল ইসলাম চঞ্চল, সদস্য সামসুরুল হক লিংকন, সদস্য রাসেল কবির, সদস্য খন্দকার আতিকুজ্জামান আলমগীর, সদস্য খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন, সদস্য মোঃ রেজাউল করিম মিলন, সদস্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম আসাদ, সদস্য গোলাম সরোয়ার মাষ্টার, সদস্য মোহাম্মদ সালেহীন মিয়া, সদস্য খন্দকার সামসুজ্জোহা লাল্টু, সদস্য আল কামাল মোস্তফা, সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সদস্য অধ্যাপক আকমল হোসেন, সদস্য আব্দুল মজিদ মেম্বর, সদস্য হাজি মোজাম শেখ, সদস্য মোঃ আব্দুর রশীদ, সদস্য আব্দুস কুদ্দুছ, সদস্য বেগম রোজী খান, সদস্য আমজাদ হোসেন ডাবলু, সদস্য গোলাম মোস্তফা, সদস্য বিল্লাল হোসেন, সদস্য রেজাউল করিম, সদস্য আমিরুল ইসলাম, সদস্য অধ্যাপক মাহবুব লস্কর, সদস্য ফজলুল হক মেম্বর, সদস্য আশরাফুজ্জামান শাহীন, সদস্য মোঃ শফি আলম, সদস্য আব্দুর রব, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মমিনুর রহমান, সদস্য আব্দুল লতিফ লালন, সদস্য আব্দুল আজিজ, সদস্য ডাঃ আসাদুজ্জামান আরজু, সদস্য কাউছার বিশ্বাস, সদস্য শহিদুল ইসলাম, সদস্য মিজানুর রহমান, সদস্য ইছামত জোয়ারদার, সদস্য এনামুল কবির, সদস্য শাহজাহান আলী মাষ্টার, সদস্য রফিকুল আলম বিশ্বাস, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সদস্য এ জেড মুন্সি রশিদ রেজা (বাজু), সদস্য খান খালিদ হোসেন, সদস্য মোঃ মোস্তফা শরিফ, সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, সদস্য নাফিজ আহমেদ খান রাজু, সদস্য আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু, সদস্য মনিরুজ্জামান কাজল। এদিকে দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পাওয়ায় খুঁশি তৃণমূল নেতাকর্মীরা। পদ পাওয়া নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দলে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কর্মীদের বিশ্বাস অনুমোদিত কমিটিতে যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবে। প্রবীণ নবীনদের সমন্বয়ে কমিটি উপহার দেয়ায় বিএনপি চাঙ্গা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রমজানুল মোবারক

তাকওয়া অর্জন রমজানের গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানুল মোবারকের আজ ৮ম দিবস। এ মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়ার উদ্দেশ্য হিসেবে কুরআন মজিদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেন  তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ অর্থাৎ রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুমিন বান্দারা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারেন। আর তাকওয়ার বদৌলতে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট। রমজানের মাসের মুল শিক্ষায় সারা দিন না খেয়ে ষড়রিপুকে দমনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত খোদাভীতি অর্জন। আর সেই খোদাভীতিই হচ্ছে তাকওয়া। এই পবিত্র জিনিষটিকে মানুষ পুর্নাঙ্গভাবে রপ্ত করতে পেরেছে সেই সফলকামী। সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে মানুষেরা, নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন নর ও একজন নারী থেকে এবং  তোমাদেরকে জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি এ জন্য যে তোমরা পরস্পর পরিচিত হবে। নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে মুত্তাকি, সেই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদার মাপকাঠি তার তাকওয়া। যার চরিত্রে তাকওয়ার মাত্রা যেমন, আল্লাহ তায়ালার কাছে তার মর্যাদাও তেমন। তাকওয়া শব্দের অর্থ সাবধানতা ও সংযম। মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার অর্থ বলে বর্ণনা করা হয়। তবে মন্দ কাজ বর্জন যেমন জরুরী,  তেমনি ভালো কাজগুলো করাও তাকওয়ার অন্তর্গত। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের সমষ্টিই তাকওয়া। সাধারণভাবে তাকওয়া শব্দের অর্থ করা হয় আল্লাহর ভয়। মহান রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন সবাইকে হাজির হতে হবে। সে দিন দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস ও ভয়ই মানুষকে সাবধানী ও সংযমী করে তোলে। তাকওয়ার মর্ম বর্ণনায় হজরত উবাই ইবনে কা‘ব রাজিয়াল্লাহু আনহুর একটি উক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। হজরত ওমর ফারুক রাজিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে তাকওয়ার মর্ম বর্ণনার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, আমিরুল মুমেনিন, আপনি কি কখনো কাঁটা ঝোপের মধ্যদিয়ে পথ চলেছেন? সেখানে যেমন আপনাকে সবসময় সাবধানে নিজের শরীর ও কাপড় রক্ষা করে চলতে হয়, তাকওয়া ঠিক তেমনি সাবধানী আচরণ ও জীবনযাপনের নাম। বস্তুত আল্লাহর কাছে বান্দার জবাবদিহিতার অনুভূতিই তাকওয়া। ইসলামি শরিয়তে বান্দার করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তেমনি এসবের গুরুত্ব ও মাত্রার পর্যায়ক্রম নির্ণীত আছে। করণীয়গুলোকে আবশ্যকতার মাত্রার পর্যায়ভেদ অনুযায়ী ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়। আর বর্জনীয়গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় হারাম, মাকরুহ তাহরিমি, মাকরুহ তানজিহি ইত্যাদি পরিভাষা। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের মাত্রা অনুযায়ী তাকওয়ার স্তর বিন্যস্ত করা হয়। মুসলিম মনীষীরা তাকওয়ার তিনটি স্তর বর্ণনা করেনÑ প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা অবশ্য পালনীয় অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব, তা পালন করা এবং যা অবশ্য বর্জনীয় অর্থাৎ হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি, তা বর্জন করা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। তাকওয়ার নূন্যতম পর্যায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন এবং ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করা। কারো মধ্যে কমপক্ষে এতটুকু থাকলেও তিনি মুত্তাকি। বলা যায় একজন মুমিনের জন্য তাকওয়ার এই স্তরটি আবশ্যিক। নিম্নতম এই তাকওয়া নাজাতের জন্যও শর্ত। ফরজ ও ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নত গুলো পালন এবং হারাম ও মাকরুহ তাহরিমির পাশাপাশি মাকরুহ তানজিহ বর্জন তাকওয়ার মধ্যম স্তর। আর মুস্তাহাব গুলো পালনে এবং সন্দেহজনক কাজগুলো বর্জনে সচেষ্ট থাকা তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে এই রমজানের রোজার মাধ্যমে পুর্ণরুপে তাকওয়া অর্জনের সক্ষমতা দিন। আমিন।

খালেদার বিচারে কেরানীগঞ্জ  কারাগারে বসছে আদালত

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর বিচারে কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে তাকে ওই কারাগারে স্থানান্তরের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন এখন চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রয়েছেন। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দি থাকার পর গত গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতদিন নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারের পাশে স্থাপিত আদালতে আদালত বসিয়ে খালেদা জিয়ার অন্য বেশ কয়েকটি মামলার বিচার চলছিল। এখন সেগুলো কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে যাবে। খালেদা জিয়ার বিচারে আদালত স্থানান্তরে প্রজ্ঞাপন রোববার হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল সোমবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশিচত করেন। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ অন্য মামলাগুলোর বিচার হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। নাইকো দুর্নীতি মামলা ছাড়াও রাজধানীর দা রুস সালাম থানার নাশকতার ৮ মামলা, যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাসে অগ্নিকান্ডের মামলা এবং মানহানির অভিযোগে করা তিনটি মামলার বিচারে ঢাকার জজ আদালতের একটি এজলাস বসবে কেরানীগঞ্জের কারাগারে। কাজল বলেন, এগুলো ছাড়া আরও কয়েকটি মামলার বিচারও ওই আদালতে হবে। এই মামলাগুলোর বিচার এতদিন নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত এবং কারাগারে পাশে বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে চলছিল। ঢাকার জজ আদালতের মূল ভবন থেকে নিয়ে কারাগারের পাশে আদালত বসানোর ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাকে কারণ দেখিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়। বিএনপি বরাবরই বাইরে আদালত বসিয়ে বিচারের বিরোধিতা করে আসছে। পাশাপাশি পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রেখে ৭৪ বছর বয়সী খালেদাকে আরও অসুস্থ করে ফেলা হচ্ছে বলে দলটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন। এক বছর ধরে নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে তিন বছর আগে চালু হওয়া কেরানীগঞ্জের কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা সম্প্রতি জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারটি জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, খালেদাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে, যে কোনো সময়ই নেওয়া হবে।

ভেড়ামারায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রুমি খাতুন (৩৫), রাতুল (১৬)। গতকাল সোমবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে  ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রুমি খাতুন উক্ত এলাকার জহুরুল ইসলামের স্ত্রী এবং রাতুল একই এলাকার টুটুল আলীর  ছেলে। নিহতরা সম্পর্কে চাচী ও ভাতিজা। স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝড় শুরু হলে তারা দুইজন আমকুড়াতে যায়। এসময় বজ্রপাতে দুইজন গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত  ঘোষণা করেন।

ইবিতে ঈদের ছুটির পুনর্বিন্যাস

পবিত্র রমজান, বুদ্ধপূর্ণিমা, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে প্রদত্ত ১১ জুনের পরিবর্তে ১২ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসমূহ বন্ধ থাকবে। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ আগামী ১৮ মে বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অফিসসমূহ পূর্বঘোষিত ২৫ মে’র পরিবর্তে ২৭ মে থেকে বন্ধ হবে এবং পূর্বঘোষিত ১০ জুনের পরিবর্তে ১২ জুন খুলবে। আগামী ২৫ ও ২৬ মে অফিসসমূহ খোলা থাকবে। অফিস ও ক্লাসসমূহ ১৫ জুন থেকে যথারীতি চলবে। গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া খাতুন, প্রাগপুর বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার সুবোদ পাল, আদাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল, মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর, রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও স্থানীয় সুধীজন। সভায় অধিকাংশ বক্তা আইন শৃঙ্খলা কমিটির অন্যতম সদস্য দৌলতপুর থানার ওসি বা তার প্রতিনিধি আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেক বক্তা অভিযোগ করেন, দৌলতপুর থানার ওসি’র নিকট জরুরী প্রয়োজনে ফোন দেওয়া তিনি ফোন রিসিভ করেন না। এছাড়াও মরিচা ইউনিয়নের বালিরদিয়াড় ছাতারিপাড়া গ্রামের সদ্য সংঘঠিত মহিবুল মন্ডল হত্যাকান্ড নিয়ে মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। অনেক বক্তা সড়কে প্রাণ ঘাতক স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিং বন্ধের জোর দাবি জানান। শেষে সভার সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার দৌলতপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, চুরি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নির্বিঘœ করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন ।

কুমারখালীতে এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। এ উপলক্ষে আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মুখ্য আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক (উপ সচিব) মৃণাল কান্তি দে। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দশটি গ্র“পে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-কৃষি, মৎস্য-পরিবেশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সমাজকর্মী, ধর্মীয় নেতা, এনজিও কর্মী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীসহ ৮০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক  বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ এজেন্ডা তথা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) নানমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জিআইইউ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় “আমার গ্রাম আমার শহর” আদর্শকে ধারণ করে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।