গাংনীতে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

গাংনী  প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামে  আসাননুর খাতুন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা আত্মহত্যা করেছেন। বৃদ্ধা আসাননুর জোড়পুকুরিয়া গ্রামের আসমত আলীর স্ত্রী। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ ঘরের আড়ার সাথে বৃদ্ধা আসাননুর খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে প্রতিবেশীরা আসাননুরের গলাই শাড়ী পেঁচানো লাশ তার নিজ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। সে মানসিক রোগী ছিল। এ কারণে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও সে দু’বার আত্মহত্যা করতে গিয়ে ঁেবচে যায়।

ঝিনাইদহে সংবাদপত্র বিক্রয় কর্মীদের মাঝে গেঞ্জি বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে কর্মরত সংবাদপত্র বিক্রয়কর্মীদের মাঝে গেঞ্জি বিতরণ করলেন দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের জেলা প্রতিনিধি ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য কে এম সালেহ। তিনি শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফেতর উপলক্ষে ২৫জন সংবাদপত্র বিক্রয়কর্মীর হাতে গেঞ্জি তুলেদেন। এর আগে তিনি তাদের মাঝে প্রচন্ড তাপদাহ এবং আসন্ন বর্ষাকাল উপলক্ষে ২৫টি ছাতা উপহার দিয়েছেন। সংবাদপত্র বিক্রয়কর্মীরা এই গেঞ্জি এবং ছাতা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন ইত্তেফাকের প্রতিনিধি শাহানূর আলম, ডেইলি এশিয়ান এইজ এর প্রতিনিধি কাজী আলী আহম্মেদ লিকু, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও প্রতিদিনের কথা প্রত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সুলতান আল একরাম, দেশের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি কাজী মোহাম্মদ আলী পিকু প্রমূখ।

ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধে বাজেটে অঙ্গীকার চান মেনন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগামী বাজেটে ঘুষ, দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য বন্ধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। তা না হলে সরকারের সব অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে। বাজেটে অর্থমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটির সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, বর্তমান সরকারের নানা ক্ষেত্রে যে অর্জন, তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে এই অর্জন ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ঘুষ, দুর্নীতির কারণে সরকারের অর্জন ‘লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়’ এই অবস্থার শিকার হবে। এ ব্যাপারে সরকার ও সরকারি দলের দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া এক বিবৃতিতে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, পাটকল শ্রমিকেরা তাদের বকেয়া সপ্তাহ পাওনাসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনার পাটকল শ্রমিকসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিংদী ও ঢাকার বাওয়ানী ও করিম জুট মিলের শ্রমিকেরা রাস্তায় আন্দোলন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাটকল করপোরেশন গত ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া সপ্তাহ পরিশোধ এবং মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। ইতিমধ্যে বকেয়া সপ্তাহের পরিমাণ বেড়ে ১২ সপ্তাহে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১ রমজান থেকে পাটকল শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় অবস্থান করছেন এবং সড়কেই ইফতার করছেন। কিন্তু এর প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ নেই। রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবির কোনো সুরাহা না করে পাটকল করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাদের খেয়াল খুশিমতো মিল চালাচ্ছে। তাদের একগুঁয়েমির কারণে ধ্বংসের পথে ঐতিহ্যবাহী পাট ও পাট শিল্প। পাট ও পাট শিল্পের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা মেনে নিয়ে শিল্পের অসন্তোষ দূরীকরণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইন। সভায় বক্তব্য দেন নগর পার্টির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, মো. তৌহিদ, বেনজির আহমেদ, মুর্শিদা আখতার, জাহাঙ্গীর আলম, শাহানা ফেরদৌসী, আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

কালুখালীর রতনদিয়ায় বার্ষিক সার্বজনীন কালীপুজা অনুষ্ঠিত

ফজলুল হক ॥ গতকাল শনিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে উপজেলার রতনদিয়া প্রাচিনতম কালীবাড়ী সার্বজনীন কালী মন্দির প্রাঙ্গনে বার্ষিক কালীপুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রপাঠের মধ্যে দিয়ে পুজা অর্চনা শুরু করেন পুরহিত বাবু সঙ্কর চক্রবর্তী । এসময় মন্দিরের সভাপতি সঞ্জয় কুমার হালদার, সাধারন সম্পাদক গৌতম কুমার বিশ্বাস, কষাধ্যক্ষ বিপ্লব কুমার দাস সহ রমেশ, উত্তম দাস, বাধন বিশ্বাস, অভয় মজুমদার, সুমন চক্রবর্তী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহ্য বাহী প্রাচিন তম এ কালীপুজায় ২টি ছাগল পশু বলি দেওয়া হয়।

দৌলতপুরে সাংবাদিক  জাহাঙ্গীর  আলমের পিতার দাফন সম্পন্ন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিনিয়র সাংবাদিক  জাহাঙ্গীর আলমের পিতার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বাদ আছর নামাজে জানাযা শেষে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। দৈনিক আজকালের খবর ও বাংলাদেশ বার্তার দৌলতপুর প্রতিনিধি এবং দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের পিতা আব্দুল করিম হালসানা (৮০) বার্ধক্য জনিত কারণে গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (্ইন্নালিল্লহি—- রাজিউন)। বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ এলাকার ডাকপাড়া জামে মসজিদ মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযা নামাজে সাংবাদিক, স্থানীয় মুসল্লি ও সুধীজন অংশ নেয়। উপজেলার প্রাগপুর  ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি গ্রামের মররহুম ওসমান হালসানার ছেলে আব্দুল করিম হালসানা মৃত্যু কালে ২পুত্র, ৫ কন্যা ও স্ত্রীসহ  আত্মীয় স্বজন এবং অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে  গেছেন। এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ সহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংসের হুমকি ইরানের

ঢাকা অফিস ॥ ইরানের রেভল্যুশনারী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নাকচ করেছে এবং ঊর্ধ্বতন এক ইরানি ধর্মগুরু যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী উপসাগরের দিকে অগ্রসর হওয়ার মধ্যে এ হুমকি এল। ইরানের গার্ড বাহিনী এবং কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ ইউসুফ তাবাতাবাই-নেজাদের এমন প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার মধ্যপন্থি মিত্রদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনোরকম আলোচনার প্রস্তাবে সায় দিতে নিরুৎসাহিত করারই চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের নেতাদেরকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। পারমাণবিক কর্মসূচি পরিহার করা নিয়ে ইরানকে এ আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, ইরানের সঙ্গে টান টান উত্তেজনার এ সময়ে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনাও ট্রাম্প নাকচ করেননি। ইরানকে হুঁশিয়ার করতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রণতরী আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। বৃহস্পতিবারই এ তরী মিশরের সুয়েজ ক্যানেল পেরিয়ে গেছে। কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে আমেরিকান বি-৫২ বোমারু বিমান এরই মধ্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ইরান এ সমস্ত পদক্ষেপ তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এক ‘মনস্তাত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আগেই। এবার পাল্টা হুমকি দিয়ে ইরানের ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ তাবাতাবাই-নেজাদ বলেছেন, “তাদের শতকোটি ডলারের বহর মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েই ধ্বংস করে দেওয়া যায়।” ইরানের ইসফাহান শহর থেকে নেজাদের এ উদ্ধৃতি তুলে ধরেছে দেশটির আইএসএনএ বার্তা সংস্থা। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি হচ্ছেন এই নেজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে তিনি আরো বলেছেন, “তারা কোনো পদক্ষেপ নিলে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পড়বে।” অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুনারি গার্ড বাহিনীর রাজনীতি বিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বলেছেন, “আমেরিকার সঙ্গে  কোনোরকম আলোচনা হবে না। আর তারা আমাদের বিরুদ্ধে  কোনো সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সাহসও করবে না।”

গাংনীতে ধর্ষণ মামলার আসামী আটকের পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ও গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ মামলার প্রধান আসামী ইয়াকুব আলী ওরফে কাজল (২৬) নিহত হয়েছেন। নিহত কাজল গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের গাঁড়াডোব গ্রামের জালাল উদ্দীন ওরফে হাবুর ছেলে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পুলিশের ২জন সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গাঁড়াডোব গ্রামের একটি বাঁশবাগানে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কাজল নিহত হয়। গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান,বহু কু-কর্র্মের হোতা কাজল তার সঙ্গীদের নিয়ে এলাকায় ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে আসছিল। তাকে আটকের পর সঙ্গীদের কাছে অস্ত্র আছে এমন কথা স্বীকার করে সে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে সাথে নিয়ে পুলিশের একটিদল গাঁড়াডোব গ্রামের একটি বাঁশবাগানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গীরা গুলি ছুড়তে-ছুড়তে পালিয়ে যায়। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে কাজলের বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় পুলিশের দু’কনস্টেবল আহত হয়। কাজলসহ আহত দু’পুলিশকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার এমকে রেজা কাজলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শার্টারগান ও  ২ রাউন্ড গুলি এবং ১টি রামদা উদ্ধার করা হয়। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম)   জানান,ইয়াকুব আলী কাজল কয়েক মাস আগে গাঁড়াডোব পোড়াপাড়ার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এ পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিল। এরপর গত বুধবার বিকেলে ধলা গ্রামের এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেয়। তার কু-প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ করে। পরে ওই রাতেই তাকে ধলা গ্রাম থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একটি গণ-ধর্ষণের মামলা রয়েছে। এসিড নিক্ষেপ করার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। লাশ উদ্ধার করে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে কাজলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোদি ভারত বিভাজনের গুরু 

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে সাত দফার মধ্যে আর দুই দফার ভোট বাকি। শেষ দুই ধাপের ভোট নিয়ে উত্তেজনা যখন চরমে তখনই বোমাটা ফাটালো যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘টাইম’ ম্যাগাজিন। ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি। তার পাশে হেডলাইন- ‘ইন্ডিয়াজ ডিভাইডার ইন চিফ’ অর্থাৎ ভারতের বিভাজনের হোতা। ম্যাগাজিনের যে প্রতিবেদনের কারণে এই কভার করা হয়েছে, তা লিখেছেন আতীশ তসির। প্রতিবেদনটির হেডলাইন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র কি আর পাঁচ বছরের জন্য মোদির সরকারকে সহ্য করতে পারবে?’ অথচ এখন থেকে মাত্র চার বছর আগেও একবার তাকে নিয়ে প্রচ্ছদ করা হয়েছিল। সেখানে তাকে তুলে ধরা হয়েছিল ভারতের ‘নতুন যুগের সংস্কারক হিসেবে’। খবর এনডিটিভির। টাইমের প্রতিবেদনে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তার সেই নীতির সঙ্গে মোদির বর্তমান চিন্তাভাবনার তুলনা করেছেন লেখক। এমনও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বহুত্ববাদের ভারতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার কোনো চেষ্টাই করেননি। এমনকি এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে গুজরাটের ঐতিহাসিক দাঙ্গার কথাও। সেই দাঙ্গায় অসংখ্য প্রাণহানির কথা। পুরো প্রতিবেদনেই হিন্দু-মুসলিমের সম্পর্ক নিয়ে মোদিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তার হিন্দুত্বের মনোভাব আর অ-হিন্দুত্বে বিদ্বেষ ছড়ানো নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। মোদি জমানায় অর্থাৎ ২০১৪ সালের পর থেকে আমেরিকার কোনো ম্যাগাজিনে এ ধরনের মোদিবিরোধী লেখা স্থান পায়নি। আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই বজায় ছিল মোদি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় বসার পর থেকেই। এর আগে নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল ২০১২ সালে। তখন তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রতিবেদনে নরেন্দ্র মোদিকে এক বিতর্কিত চরিত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং কূটরাজনীতিক। আবার ২০১৯-এ ভারতে যখন ভোটযুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, তখনই এ ধরনের এক প্রতিবেদন এবার মোদির ক্ষমতায় ফেরা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল।

সভাপতি গোলাম সাকলায়েন, সাঃ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা

সোনালী  ব্যাংক কুষ্টিয়ার নতুন কমিটি

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, প্রিন্সিপাল অফিস চত্বর, কুষ্টিয়াতে সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া প্রিন্সপাল কমিটির সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠনের এক সভা সংগঠনের সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ কর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি হিসাবে ঝিনাইদহ – মাগুড়া অঞ্চলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, কুষ্টিয়া জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিন, উপদেষ্টা আঃ মোমেন উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের ফুলের তোড়া প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত এবং বঙ্গবন্ধু ও তাঁঁর পরিবারের সদস্যসহ ১৫ ই আগষ্ট কাল রাতে নিহত সকল শহীদদের আতœার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন আমিনউদ্দীন। গীতা পাঠ করেন বিনয় কৃষ্ণ কর। বক্তব্য রাখেন আবুল কাশেম, গোলাম মোস্তাফা, গোলাম সাকলায়েন, মনিরুল ইসলাম, কিশোর কুমার দে প্রমূখ। টেলি কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় কমিটীর সভাপতি ও জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আলাউদ্দীন অনুষ্ঠানের সফলতা ও একটি শক্তিশালী নতুন কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। সকলের মতামত স্বাপেক্ষে নতুন প্রজন্মের হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশের উদাহরন এবং কেন্দ্রের সকল ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পরিতোষ বিশ্বাস তার বক্তবে উল্লেখ করেন। সাধারন সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী থাকায় গোপন ভোটে গোলাম মোস্তাফা বিজয়ী হওয়ায় গোলাম সাকলায়েন সভাপতি ও গোলাম মোস্তাফাকে সাধারণ সম্পাদক করে  সর্ব সম্মতিক্রমে কমিটি ঘোষনা করে সভাপতি সভার সমাপ্তি  ঘোষনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া দহকুলা সমিতির আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া দহকুলা সমিতির আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শান্তিনগর কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ভবনে ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া দহকুলা সমিতির আত্মপ্রকাশ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত জেলা রেজিষ্ট্রার ডঃ মুন্সি শাহজাহান বাদশার সভাপতিত্বে ইফতার ও দোয়া  মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বসবাসরত কুষ্টিয়া দহকুলা গ্রামের প্রায় শত কৃতি সন্তান। এসময় সেখানে অনেকেই বলেন, যে মায়ের গ্রামে আমাদের জন্ম,যেখানে আমাদের শৈশব, কৈশোরে কেটেছে চরম দূরন্তপনায়,আর গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেঁটেছি সারাবেলায়। কিন্ত আজ জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঢাকার রাজপথে আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে আমাদের নিজস্ব একটি প্লাটফর্ম যার নাম “আমরা সবাই দহকুলার সন্তান” ও ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া দহকুলা সমিতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, আনবিক শক্তি কমিশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাইফ উদ্দিন, বিসিক ডাইরেক্টর ও যুগ্ন সচিব ডঃ আবদুস সালাম, এনবিআরের সচিব কাজী ফরিদ উদ্দিন, কোরবাল ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আয়ুব আলী রস্তন, দিলকুশা সিটি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক রেজাউল করিম, কবি ও ফ্যাশন ডিজাইনার ফাতেমা হক মুক্তা মনি, ডঃ আহসান হাবিব,ডঃ আনোয়ার হোসেন,এ্যাডঃ খন্দকার জহিরুল হক, দহকুলা সমিতি ঢাকার সাধারন সম্পাদক মোঃমতিয়ার রহমান,এ্যাডঃ শিহাব উদ্দিন,এ্যাডঃ গিয়াস কবির,সাহিদুজজামান নাসু, শেখ আয়ুব আলী, আক্তারুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন,জাহাঙ্গীর,সাজ্জাদ,ইশরাতজাহান,এ্যাডঃ আলীম,মাহাবুল,আরিফ,মাসুদ রানা,আল আমিন মন্ডল,কাজী টিংকু,মুক্তার,রাজু,আব্দুল মতিন,আমানউল্লাহ,ওয়ালস,তরিকুল,জাহিদ,বাপ্পি,ইমরান ওলিল,কাজল খন্দকার,কাজী মিরাজ উদ্দীন,কনক,শোভন,টোকন,রাজু,তুহিন জোয়ারদার,মীর শামীম,মীর সুলতান, লিটন, সবুজ, রুবেল,মিশু,লালন,আরিফ শরিফুল,কুদ্দুস ডাঃ নুরুজজামান,জুয়েল রানা,শরীফ,আমির আলী সহ দহকুলার আরো অনেক কৃতি সন্তান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শীর্ষক ৩দিন ব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ সমাপণী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ৫ম পর্যায় শীর্ষক ৩দিন ব্যাপী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপণী অনুষাঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সমাপণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মৌসুমী মৌসুমী সুলতানার  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, সভাপতি বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, প্রফুল্ল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কমিটি ঝিনাইদহ জেলা শাখা। তিন দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে ১০৬ জন প্রশিক্ষনার্থী অংশ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে একটি করে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

গাংনীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই নাজিমুদ্দীন নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ছাড়াই লাশ দাফনের  ঘটনায় এলাকাবাসি ও মুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দীনের পরিবারের মধ্যে মিশ্র প্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ জানান,বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। শনিবার দুপুরে গার্ড অফ অনার ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়। গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুন্তাজ আলী জানান,প্রশাসনের গাফিলতির কারণে বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়। বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দীনের ছেলে ইমাজ উদ্দীন লিটন বলেন, আমার পিতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোন কথা বলনো না। কথা বললে, ইউএনও অফিস থেকে বাবার নামে যে সুযোগ-সুবিধা আসে। সেটাও বন্ধ হতে পারে। গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানাজা স্থলে পৌঁছে এ বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছে। আগে থেকে জানালে এমন ঘটনা ঘটতো না। এ বিষয়ে তিনি মর্মাহত বলে জানান। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন,গার্ড অফ অনার ছাড়া সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, এ ঘটনায় কারোর গাফিলতি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ঐ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে। আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল। “সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।”

“শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।” বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম। সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে। সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, “তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা  বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।” “আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছিৃ। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসিৃ। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।” “দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না। এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।”

রমজানুল মোবারক

রমজান ইবাদতের মাস

আ,ফ,ম নুরুল কাদের ॥ আল্লাহর আদেশ পালন যেমন ইবাদত, আল্লাহর নিষেধ বর্জনও তেমনি ইবাদত। সময়ের বিবেচনায় ইবাদতের বিশেষ কোনো মওসুম আছে কি? ইবাদত সর্বদা অর্থাৎ সারা বছরের, সব সময়েই ইবাদত করে যেতে হবে। ইবাদত দিনে ও রাতে, সকালে ও বিকেলে, আজ ও কাল, প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণ; ইবাদত সর্বদা ও সর্বক্ষণ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মানাই তো ইবাদত। তাহলে আল্লাহর নির্দেশ কখনো মানব, কখনো মানব না; কোনো ক্ষেত্রে মানব, কোনো ক্ষেত্রে মানব না- তা কি হয়! তা কি হতে পারে? নিশ্চয়ই না। তবে ইবাদতের একটা বিশেষ মওসুম আছে; তা হলো রমজান মাস। এ মাসে ইবাদতের ভালো বীজ বপন করতে পারলে ফসল বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক হয়, উৎকৃষ্ট মানের হয়! ফলন হয় ৭০ থেকে ৭০০ গুণ; এমনকি তারও বেশি! আবার এ মাসে এমন একটি রাত আছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম (কদর : ৩)। সব ইবাদতেরই উদ্দেশ্য বান্দাহর মধ্যে তাকওয়া পয়দা করা (বাকারা : ২১)। তবে রমজান মাসের রোজা ও তাকওয়ার সম্পর্ক অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি (বাকারা : ১৮৩)। তাকওয়ার শাব্দিক অর্থ আল্লাহভীতি। প্রচলিত অর্থে তাকওয়া হলো এমন এক আত্মিক গুণ, যা মানুষকে আমলে সালেহ করতে উদ্বুদ্ধ করে, আগ্রহী করে, উৎসাহিত করে, অনুপ্রাণিত করে এবং যেসব কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিষেধ রয়েছে সেগুলো করা থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে। ইবাদতের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি পয়দা করা। আর মানবিক গুণাবলি বলতে প্রধানত পবিত্র ও সুন্দর চিন্তা করা, ধৈর্য ও পরমত সহিষ্ণুতা অবলম্বন করা, আদল ও ইহসানের নীতি অনুসরণ করা, মানুষের কল্যাণ কামনা ও কল্যাণ সাধন করা, মানুষের সাথে সদা সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার করা, হিংসাবিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে চলা, সর্বতোভাবে সত্যাশ্রয়ী হয়ে চলা, ফিতনা-ফাসাদ বর্জন ও গর্ব-অহঙ্কার মুক্ত থাকা, মাত্রাতিরিক্ত লোভ-লালসা ত্যাগ করা, গিবত ও বুহতান না করার অভ্যাস গড়ে তোলা, লেনদেনে স্বচ্ছ থাকা, কথা ও কাজে মিল রাখা, সব ধরনের জুলম-অত্যাচার থেকে নিজেকে সংযত রাখা। বর্তমান দুনিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬০ কোটি। এদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের এক আল্লাহতে ও আখিরাতে বিশ^াসই নেই। ফলে উল্লিখিত ইবাদতের চাষবাসে তাদের কোনো প্রকার ইচ্ছা-আগ্রহ বলেও কিছুই নেই। অর্থাৎ তাদের ইবাদতকারী হিসেবে গণ্যই করা চলে না। অনেক মুসলিম আছে যারা কিছু কিছু ইবাদতের চাষ করে বটে, কিন্তু তাদের ইবাদতের বীজগুলোই হয়তো বা পোকায় খাওয়া। অনেকে আছে যারা তাদের ইবাদতের জমিকে ভালোভাবে খননই করে না, অনেকে তাদের ইবাদতের ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করে না। আবার অনেকে এমন আছে যারা ক্ষেতের আগাছাগুলো সাফ করে না। ফলে তাদের ইবাদত নামীয় ফসলটি নানাবিধ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত। তবে সব মুসলিমের ইবাদতে রোগের মাত্রা বা ভয়াবহতা সমান নয়। এক রকম নয়। কারো কারো রোগ দুরারোগ্য, আবার কারো কারো রোগ হয়তোবা সহজেই নিরাময়যোগ্য। কারো ইবাদত ক্যান্সারে আক্রান্ত, কারো ইবাদত ডায়াবেটিসে জর্জরিত, আবার কারো ইবাদত শ্বাসকষ্টে পর্যুদস্ত। আর সর্দি-কাশি তো রীতিমতো নৈমিত্তিক ব্যাপার। অল্প কিছু মুসলিম ছাড়া বেশির ভাগের ইবাদতই রুগ্ন, অসুস্থ। নানাবিধ ব্যাধিতে আক্রান্ত। ইবাদতে উল্লিখিত রোগ-ব্যাধি থাকাতে ফলন ভালো হয় না। এ ধরনের ইবাদতের যথাযথ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা আবশ্যক। অন্যথায় ইবাদত নামীয় ফসলটি রোগমুক্ত ও সুস্থ-সবল থাকে না, থাকতে পারে না। রমজান মাসের রোজা তেমনি এক চিকিৎসা ব্যবস্থা বা চিকিৎসা পদ্ধতি, যা প্রতি বছরান্তে একবার ঘুরে আসে বান্দাহর দরজায়; আর বান্দাহর রুগ্ন ইবাদতের চিকিৎসায় লেগে যায়। ইবাদতকে রোগমুক্ত করে বা রোগের পরিমাণ হ্রাস করে অথবা রোগের ভয়াবহতা লাঘব করে। তাই রমজান মাসের রোজা বান্দাহর জন্য এক অনন্য অসাধারণ নিয়ামত, যার শুকরিয়া আদায় করা কঠিন। রোজার মাস আসার আগে থেকেই বান্দাহর মধ্যে একটা প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, মানসিক প্রস্তুতির একটা রিহার্সাল শুরু হয়ে যায়। যত ধরনের বদ-অভ্যাস, কু-অভ্যাস আছে তা ত্যাগ করার একটি অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। যেমন মদ-জুয়ার অভ্যাস থাকলে এখন আর নয়, মিথ্যা ও গিবতের মতো মন্দ কাজ থেকে হয়ে যায় তওবা, ঝগড়া-বিবাদ তো রীতিমতো বস্তাবন্দী। মসজিদে আসা বেড়ে যায়, কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি পায়, নফল নামাজও অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পায়; তাহাজ্জুদ আদায় প্রায় নিয়মিত হয়ে যায়, তারাবিহর মতো কষ্টের আমলও বাদ দিতে নারাজ। দিনের বেলায় খানাপিনার তো প্রশ্নই ওঠে না। দিনান্তে একজনকে ইফতার করাতে পারলে আনন্দের সীমা থাকে না, গরিব মিসকিনের প্রতি সাহায্য-সহানুভূতির হাত প্রশস্ত হয়ে যায়; এ ক্ষেত্রে কেমন যেন একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। কত বড় পরিবর্তন! রীতিমতো জীবন পদ্ধতির চেহারাটাই পাল্টে যায়। মুসলিম সমাজের সর্বত্র একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কী বৈপ্লবিক পরিবর্তন! এ তো নিঃসন্দেহে রমজান মাসের রোজারই অবদান। বছরের ১১টি মাসের এ লম্বা সময়ে মুসলমানদের ইবাদতকে ঘুণে ধরে বসে; ঘুণে খেয়ে বসে। রমজান শেষে তারা ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। শুধু নামাজের কথা যদি বলি তাহলে দেখা যাবে- অনেকে নামাজ ছেড়েই দিয়েছে, কেউ কেউ এক বেলা পড়ে তো অন্য বেলা পড়ে না, কেউ কেউ মসজিদ ছেড়ে ঘরে নামাজ পড়া শুরু করেছে, এমন অনেকে আছেন যারা এখন আর নফল নামাজ পড়ে না, তাহাজ্জুদ পড়ে না, কুরআন তিলাওয়াতও ছেড়ে দিয়েছেন। নামাজের বাইরে অন্য আমলের কথা যদি বলি তাহলে দেখা যাবে- মদ ও জুয়া, সুদ ও ঘুষ, মিথ্যা ও গিবত, অন্যায় ও অশ্লীলতা, জুলুম ও অবিচার আবার পুরোদমে চলছে। শয়তান তার কাজকর্ম বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালার এত মেহেরবানি যে, রমজান মাস এলেই ইবাদতের ঘুণগুলো অনেকটাই ঝরে পড়ে যায়; ইবাদতের রোগগুলো অনেকটাই নিরাময় হয়ে যায়। শয়তানও শিকলবন্দী হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে।  এখন চিন্তা করুন, রমজান মাসের রোজা আমাদের জন্য কত বড় নেয়ামত, যা প্রতি বছরই মানুষের দরজায় এসে সালাম ঠোকে। আর আমরা আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার বিরাট একটা সুযোগ লাভ করি। আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য, আর রোজার পুরস্কার আমি নিজেই দেবো।’ সব ইবাদতের পুরস্কারের মালিকই তো হলেন স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আল-আলামীন। তাহলে রোজার পুরস্কারের কথা আলাদা করে বলার তাৎপর্য কী? এর কারণ হলো- রোজা এমন একটি ইবাদত যা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কেউ জানতে পারে না, যদি না সে তাকে জানায়। তাই রোজা নামক আমলটি একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। আল্লাহর রাসূল সা: বলেন : ‘রোজা ঢালস্বরূপ’, যা সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে রোজাদারকে রক্ষা করে। যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন যোদ্ধাকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, রমজান মাসের রোজাও তেমনি রোজাদারকে সব ধরনের অপকর্ম থেকে হেফাজত করে। কারণ রোজাদারের জন্য শিক্ষাই হলো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনর্থক কথা না বলা, কখনো বলতে হলে সত্য ও ন্যায় কথা বলা, দিনরাত যথাসাধ্য আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে মগ্ন থাকা, আখিরাতে নাজাতের চিন্তায় মশগুল থাকা, অন্যের কঠোর কথার জবাবও নরম ভাষায় দেয়া, সবার জন্য পবিত্র ও সুন্দর চিন্তা করা, অন্যের কল্যাণে আনন্দিত হওয়া, অন্যের প্রতি আদল ও ইহসান করা, সব ধরনের অন্যায়, অসত্য ও অশালীন কাজ থেকে বিরত থাকা; এসব বৈশিষ্ট্যই রোজাদারের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে; রোজাদারকে সব ধরনের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

অনুপ্রবেশকারীদের দরকার নেই: হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ইন্টারনেশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের সাত সাংগঠনিক জেলার বর্ধিত সভায় তিনি বলেন, “পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে সংগঠনের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। অনেক সুবিধাবাদীরাও সংগঠনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।” “আজ এখানে যারা এসেছেন, তারা তৃণমূলের নেতা। আপনাদের নিয়েই আওয়ামী লীগ। আপনাদের জানাচ্ছি, এই অনুপ্রবেশকারীদের আমাদের সংগঠনে দরকার নেই। যারা ঢুকেছিল, ধীরে ধীরে তাদেরকে বের করে দিতে হবে। সেই কার্যক্রম আমাদের শুরু করতে হবে।” সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।  নেতাকর্মীদের বিনয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহসুদ বলেন, “ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। বিনয় মানুষকে মহান করে। বিনয়ী মানুষকে সবাই ভালোবাসে। ঔদ্ধত্য মানুষ পছন্দ করে না। আমাদের নেতকর্মীদের মাঝে যেন উদ্ধত আচরণ না থাকে।” বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপিতে কোনো আদর্শ নেই। তারা ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট। ভাড়া করা নেতাদের নিয়ে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তাদের ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য নেই। ঐক্যফ্রন্টও এখন ভেঙে যাচ্ছে।” আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডাকাতদলের ৯ সদস্য আটক

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের নয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে ডুমুরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেনÑ নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন লাউতলা গ্রামের অলী উল্লাহ’র ছেলে ইউছুফ (৩৮), সেনবাগ উপজেলার বিজপাড় গ্রামের মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে বেলাল হোসেন (৪৫), কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাঁশতলী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে খোকন মিয়া (৩২), ফেনী জেলার দাগনভূইয়া উপজেলার বেকের বাজার গ্রামের মুমিনুল হকের ছেলে আজাদ হোসেন (২৫), একই জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া গ্রামের কসাই সেলিমের ছেলে নূরুল ইসলাম (২২), সোনাগাজী উপজেলার কুঠিরহাট গ্রামের মৃত আব্দুল সালামের ছেলে জাবেদ হোসেন নূরুল ইসলাম (৩৫), দাগনভ্ইূয়া উপজেলার উত্তর আলীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে আলিক উল্লাহ শাকিল (২০), একই গ্রামের মৃত আলী আকবর এর ছেলে আলী হোসেন মিঠু (২২), ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম ছনুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মহিউদ্দিন (২২)। চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, সংঘবদ্ধ ডাকাতরা আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্য। শুক্রবার রাতে চান্দিনা-বদরপুর সড়কের ডুমুরিয়া ব্রিজ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে আটক করি। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, ছোড়া, কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা সহ বিভিন্ন থানায় বহু ডাকাতি মামলা রয়েছে।

নারী নির্যাতনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের বলেই পার পেয়ে যাচ্ছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশে পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যারা এ কাজগুলো করছে, তারা অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের লোক। আর ক্ষমতাসীন দলের লোক বলেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা (নির্যাতনকারীরা) সরকারের আনুকূল্য পাচ্ছে। আর আনুকূল্য পাচ্ছে বলেই এ সামাজিক অপরাধ সরকার ঠেকাতে পারছে না। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এ অভিযোগ করেন রিজভী। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী। অথচ কী দুর্ভাগ্যের বিষয়- পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যখন থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছেন তখন থেকে তারা এটা করছে। আর নারী নির্যাতন নির্মূল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু নির্মূল করা তো দূরে থাক, আমরা অনেক সময় উসকানি দিতে দেখেছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ সালাউদ্দিন আহমেদের গুম দিবস। আজকে তিনি ভারতে কেন? কারণ তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং কয়েকবার এমপিও ছিলেন। ‘কিন্তু এক অন্ধকারের মৃত্যুকূপের মধ্যে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে। আজ সেখানে তিনি এক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এখন তার নামই হয়ে গেছে গুম সালাউদ্দিন।’ রিজভী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস জীবন দিয়েছিলেন। আর আড়াই হাজার বছর পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন। এরপরও তার মাথাকে নত করা যায়নি। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

সর্বোচ্চ ১২,৪১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গতকাল শনিবার সর্বোচ্চ ১২,৪১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচন্ড তাপদাহ থেকে দেশবাসীকে স্বস্তি দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। পিডিবি সারাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি জিরো লেভেলে নামিয়ে আনতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা মেটাতে আমরা সক্ষম। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে দিনের পিক আওয়ারে আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ি বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন কয়েকটি প্রকল্পে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুৎ আরো স্থিতিশীল হবে। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াট করে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। আমরা আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আবহাওয়া অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, খুলনা বিভাগ এবং ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহ আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। সারাদেশে দিনে ও রাতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৯ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১২,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, ২৫ এপ্রিল উৎপাদিত হয়েছিল ১২,০৬৭ মেগাওয়াট এবং ২৪ এপ্রিল উৎপাদিত হয়েছিল ১২,০৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫৩ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে যাবে। সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ করেছে।

রাজধানীতে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার জালনোটসহ তিনজন গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-মো: জীবন ওরফে সবুজ (২৮), জামাল উদ্দিন (৩২) ও বাবুল ওরফে বাবু (২৪)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার ও জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার গাড়ি চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন পূর্ব রসুলপুর এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে জীবন ওরফে সবুজ ও জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছে থাকা ৭ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই টিম ওইদিন সন্ধ্যায় চকবাজারের ইসলামবাগে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জাল নোট ও বিপুল পরিমান জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ বাবুল ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা জাল টাকা তৈরি করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন  স্থানে সরবরাহ করতো। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দেশে ফিরলেন মিয়ানমারে বিমান দুর্ঘটনায় আহত ১০ জন

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারে দুর্ঘটনায় পড়া বিমানের পাইলট, যাত্রীসহ দশজন দেশে ফিরেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ইয়ঙ্গুন থেকে তাদের নিয়ে শুক্রবার রাত পৌনে ১১টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে চারজন দুর্ঘটনায় পড়া বিমানের যাত্রী ছিলেন। এছাড়া ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজটির দুই পাইলট এবং দুইজন কেবিন ক্রু এবং দুই গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ফিরেছেন তাদের সঙ্গে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সচিব মো. মহিবুল হক, অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেন, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল বিমানবন্দরে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের খোঁজ খবর নেন। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পাইলটকে নেওয়া হয়েছে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। এছাড়া একজন অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। বাকিরা নিজেদের ইচ্ছায় বাসায় চলে গেছেন। প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আহতদের সাথে কথা বলেছি। তাদের যে কোনো ধরনের চিকিৎসার ভার বিমান বহন করবে।” ঢাকা থেকে ২৯ জন যাত্রী, চারজন ক্রু ও দুজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩৫ জন আরোহী নিয়ে বুধবার বিকালে মিয়ানমারের পথে রওনা হয়েছিল বিমানের ফ্লাইট বিজি ০৬০। কিন্তু ইয়াংগনে নামার সময় উড়োজাহাজটি বজ্রঝড়ের কবলে পড়ে এবং অবতরণের পর রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। বিমানের আরোহীদের সবাই ওই দুর্ঘটনায় কমবেশি আঘাত পান, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানের ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি। আরোহীদের মধ্যে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছিল ইয়াঙ্গুনের দুটি হাসপাতালে। শুক্রবার তাদের সবাইকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকরা। আহত যাত্রীদের মধ্যে অনেকে মিয়ানমারে চাকরি বা ব্যবসা করেন। তারা সেখানেই থেকে গেছেন বলে শাকিল মেরাজ জানান। ওই উড়োজাহাজের ২৯ যাত্রীর মধ্যে ১৫ জন ছিলেন বাংলাদেশি। বাকিরা চীন, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ভারত, কানাডা ও ফ্রান্সের নাগরিক। এভিয়েশন সেইফটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজে আগুন না ধরলেও ফিউজিলাজ ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে। ফরোয়ার্ড প্যাসেঞ্জার ডোরের পেছনে এবং রিয়ার সার্ভিস ডোরের ঠিক পেছনে কাঠামো ভেঙে গেছে। উড়োজাহাজের তলাও ফেটে গেছে। ডান পাশের ডানও জোড়া থেকে ভেঙে গেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সাংবাদিকদের বলেন, “বৈরি আবহাওয়ার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়েছিল। তারপরও তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বলতে পারব কেন ঘটনাটা ঘটেছে।

ইবিতে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সরকারী কর্মব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি সংক্রান্ত এক মত বিনিময় সভা ১১ মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান-এর সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী) প্রধান অতিথি এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ও এপিএ ফোকাল পয়েন্ট মোঃ নওয়াব আলী খান চুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা উপস্থাপন এবং সভাটি সঞ্চালনা করেন। সবশেষে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুর্শেদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. জুলফিকার হোসেন, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস শাহীদ মিয়া, এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)’র পরিচালক প্রফেসর ড. কে এম আব্দুস ছোবহান। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, সভাপতিবৃন্দ, হল প্রভোস্টবৃন্দ এবং অফিস প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী) বলেন, আমাদের দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মাঝে সুন্দর ব্যবস্থাপনা রুপরেখা দরকার। বিভাগ, হল, দপ্তরগুলো এক বছরে কী কী করবে তা উল্লেখ করে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে এবং বছরশেষে সেগুলোর মূল্যায়ন হবে। আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের লক্ষ্য রুপকল্প-২০২১ আর আমাদের লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো হবে না, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এমন আন্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন স্কিল বৃদ্ধির উপরে ভাইস চ্যান্সেলর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা যে যে জায়গায় আছি সে জায়গায় কাজটা ঠিকমতো করার কমিটমেন্ট আমাদের থাকতে হবে। স্ব-স্ব অবস্থানে আমরা যদি দায়িত্বশীল থাকি তাহলে কোন ক্ষেত্রেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আর পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, আমরা যেন কাজ ফাঁকি না দিই, এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র আমাদেরকে অর্থ দিচ্ছে কিন্তু বিনিময়ে আমরা কী দিচ্ছি সে বিষয়ে নিজেকে পরীক্ষায় নেবার সুযোগ আমাদের এসেছে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রায়ই বলে থাকেন, লীডারশীপ এবং টীমওয়ার্ক-এর সুন্দর সমন্বয়েই কেবল সফলতা সম্ভব। আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।